দেবাশীষ দেবু, সিলেট
মেয়েদের এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। আর এবার মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্ট তারা খেলবে ঘরের মাঠে। চেনা মাঠ, চেনা আবহাওয়ার সঙ্গে থাকবে গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সমর্থন। সব মিলিয়ে দলের লক্ষ্য একটাই-শিরোপা ধরে রাখা। এই লক্ষ্য নিয়েই আজ টুর্নামেন্ট শুরু করবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।
আজ সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে মেয়েদের এশিয়া কাপ। বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড ছাড়াও টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর আগে শুক্রবার শেষবারের মতো নিজেদের ঝালাই করে নিয়েছেন জ্যোতি-সালমারা। দুপুরে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে দল।
অনুশীলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। আগের দিন সালমা জানিয়েছিলেন নির্দিষ্ট কোনো টার্গেট নয়, ম্যাচ বাই ম্যাচ ভালো করতে চান তারা। তবে শুক্রবার কোনো রাখঢাক না রেখেই নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন জ্যোতি। অধিনায়কের লক্ষ্য দুটি- ভালো খেলা আর ট্রফি ধরে রাখা। ‘আমরা ভালো খেলতে চাই।’ জ্যোতি বলে গেলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ভালো খেলছিও। সেটা ধরে রাখতে চাই। এই ট্রফিটা আমাদের ছিল। সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করব। ভালো খেললেই সেটা সম্ভব।’
প্রতিপক্ষ নিয়েও ভাবছেন না জ্যোতি, ‘অন্য টিম নিয়ে আমাদের ভাবনার কিছু নেই। আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে চাই। প্ল্যান মতো কাজ করতে পারলে আমরা সফল হব।’
মেয়েদের সবচেয়ে বেশি খেলা হয় সিলেটের মাঠেই। অনুশীলন ক্যাম্পও হয় এখানে। ফলে সিলেটই তাদের ‘হোম গ্রাউন্ড’ জানিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘এখানে আমরা সবসময় খেলি। এই হোম ভেন্যুর সুবিধা কাজে লাগাতে চেষ্টা করব। আমরা যেহেতু এখানে বেশি খেলি তাই এখানকার সবকিছুই আমাদের পরিচিত।’
ঘরের মাঠে খেলায় সুবিধা যেমন আছে, তেমন আছে চাপও। থাকে দর্শকের প্রত্যাশার চাপও। তবে এসব চাপ একেবারেই আমলে নিতে চান না জ্যোতি, ‘নিজের ঘরে খেলার কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের টার্গেট ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলা। আলাদা কোনো পরিকল্পনাও নেই আমাদের। যখন যে পরিস্থিতি আসে সে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হবে। আমি ভালো ফর্মে আছি, সেটা ধরে রাখতে পারলে টিমের জন্য ভালো হবে। অন্যদেরও সেরাটা দিতে হবে।’
মাঠ চ্যালেঞ্জ নয়, প্রতিপক্ষ নিয়েও ভাবনা নেই। তাহলে চ্যালেঞ্জ কী? জ্যোতির উত্তর, ‘চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুরো টিম মিলে ভালো পারফর্ম করা। এটা না করতে পারলে সাফল্য আসবে না। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিনটি ক্ষেত্রেই ভালো করতে হবে এবং সবাইকে পারফর্ম করতে হবে।’
এই শরতেও সিলেটে প্রচণ্ড গরম। দিনভর কাঠফাটা রোদ। তবে আবহাওয়ার এই বৈরিতা তেমন সমস্যা হবে না জানিয়ে বলে জানিয়েছেন জ্যেতি, ‘আবহাওয়া নিয়ে চিন্তা করছি না। আবুধাবিতে আরও গরম ছিল। আমরা সেখানে কিছুদিন আগেই খেলে এসেছি। ওখানে কোনো সমস্যা হয়নি। কেউ চোটে পড়েনি। এখানেও আমরা চাইব সবাই যাতে পুরো ফিট থাকে।’ ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা পেসার জাহানারা আলমের দলে ফেরাও বাড়তি শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানালেন তিনি।
দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট প্রধান কোচ এ কে এম মাহমুদ ইমনও। সেটি ধরে রাখতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। কোচের ভাষায়, ‘দল উন্নতি করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। গত কয়েকটি টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলছি। সব খেলোয়াড় ছন্দে আছে। ফলে এখানেও ভালো কিছু হবে বলে আশা করছি।’
কোচ মনে করেন বাংলাদেশ দল এখন যে অবস্থানে আছে তাতে অন্য টিমকে নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। বরং নিজেদের সেরাটা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। এশিয়া কাপের আগে প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট কোচ।
তিন সপ্তাহ, দশটি কর্পোরেট দল আর অসংখ্য নাটকীয় মুহূর্তের পর শেষ হলো ঢাকা মাভেরিক্স আয়োজিত ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি সিজন-০৩-এর গ্রুপ পর্ব। শনিবার শেষ দিনেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল। শেষে ঠিক হয়েছে কাপ ও প্লেট সেমিফাইনালের আট দল।
কাপ সেমিফাইনালে স্বাগতিক বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স খেলবে বাংলাদেশ লয়ার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে। অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও উইকেন্ড স্পোর্টস ফ্যামিলি। প্লেট সেমিফাইনালে লড়বে ইউসিবি বনাম টিম আর্কিটেক্টস এবং এইচএসবিসি বনাম ঢাকা ক্রিকেটার্স।
অপরাজিত স্বাগতিকেরা:
গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে গ্রুপ 'এ'-র শীর্ষে থেকেছে তারা। শেষ ম্যাচে ঢাকা প্লেয়ার্সের বিপক্ষে ২৩১ রান তুলে ৮৩ রানের জয়। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক শেজাদ। ৫২ বলে ৭৭ রানের ইনিংসের পর বল হাতেও নিয়েছেন উইকেট। দর্শকেরা তাঁর নাম দিয়েছেন 'ক্যাপ্টেন কুল'।
দুই সেঞ্চুরি, এক দিনের ব্যবধানে:
এই আসরে ব্যাটারদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। এইচএসবিসির অনয় কুমার বিশ্বাস জেটিআইয়ের বিপক্ষে ৫২ বলে ১০৭ রান করেন, ছক্কা মারেন ১০টি। এটি আসরের প্রথম সেঞ্চুরি। পরদিনই জবাব দেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মো. সাইদুল ইসলাম নিশান। এইচএসবিসির ২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন তিনি, আর দল জেতে মাত্র ১৪.৪ ওভারে। এটিই এখন পর্যন্ত আসরের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
রেকর্ডের পাতায় আছে ইউসিবিও। ঢাকা প্লেয়ার্সের বিপক্ষে ২৭৫ রান তুলে ২০৬ রানের বিশাল জয় পেয়েছে তারা। এটি আসরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ও সবচেয়ে বড় জয়।
শেষ দিনের নাটক:
শনিবার সকালে প্লেট সেমিফাইনালের জন্য টিম আর্কিটেক্টস ও জেটিআইয়ের ম্যাচটি ছিল কার্যত নকআউট। কম রানের এই ম্যাচে টিম আর্কিটেক্টস অলআউট হয় মাত্র ৯৯ রানে। জবাবে জেটিআই ৫ ওভারে ২৩/২ তোলার পর খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ডিএলএস পদ্ধতির হিসাবে টিম আর্কিটেক্টস জেতে মাত্র ১ রানে। এদিন ভাগ্য ছিল তাদের পক্ষে।
দুপুরে গ্রুপ 'বি'-র দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে:
এইচএসবিসিকে হারিয়ে কাপ সেমিফাইনালের শেষ টিকিট পায় বাংলাদেশ লয়ার্স ক্রিকেট ক্লাব। আর গ্রুপ 'বি'-র শীর্ষ স্থান নিশ্চিত করেছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।
মাঠে উৎসবের আবহ:
কর্পোরেট অ্যামেচার টুর্নামেন্ট হলেও আয়োজনে ছিল পেশাদার ছোঁয়া। রাতের ম্যাচে ফ্লাডলাইট, পাইরো আর ডিজের সংগীতে মেতেছে গ্যালারি। বিসিবির অফিসিয়াল আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, আর মাল্টি-ক্যামেরায় টি স্পোর্টস ও ঢাকা মাভেরিক্স ইউটিউব চ্যানেলে খেলা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে।
সেমিফাইনাল ও ১৪ নভেম্বরের গ্র্যান্ড ফাইনাল হবে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে। কে জিতবে ফ্রস্ট ব্লাস্টের তৃতীয় আসরের শিরোপা, তা দেখার অপেক্ষায় কর্পোরেট ক্রিকেটের দর্শকেরা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মূল্য চুকিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য নির্ধারিত ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারী দল মাত্র ৩৫ দশমিক ১ ওভারেই অনায়াস জয় তুলে নেয়। এ পরাজয়ে ঘরের মাঠে টানা টেস্ট জয়ের ধারা ভাঙার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণ স্বাগতিকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ল।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান তুললে জবাবে ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৫ রানে, যার সুবাদে ২৭ রানের কার্যকর লিড পায় টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন স্বাগতিক ব্যাটাররা। মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে যায় দলের ইনিংস। উইন্ডিজ স্পিনার রস্টন চেইস মাত্র ৩৬ রান খরচায় তুলে নেন ৫ উইকেট, যা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চম ফাইফার। অপর স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান শিকার করেন ৪টি উইকেট। দলের টপ অর্ডারের করুণ চিত্র ফুটে ওঠে প্রথম পাঁচ ব্যাটারের সম্মিলিত রানে; তাঁরা সবাই মিলে সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন মাত্র ২৭ রান।
এর আগে শনিবার সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের অবশিষ্ট খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই জাকের আলি ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালান নাঈম হাসান। স্পিনারদের বিরুদ্ধে সুইপ শটের চমৎকার ব্যবহারে টেল-এন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় স্কোরে আরও ৫৮ রান যোগ করেন তিনি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৩ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকেই। এ ছাড়া শেষভাগে হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম ৮ রান করে এবং শরিফুল ইসলাম ৭ রান সংগ্রহ করেন।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখান সফরকারী দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। তাঁরা মাত্র ১১ ওভারেই দলীয় অর্ধশতক এবং ১৯তম ওভারে এক শ রান পার করেন। ব্যক্তিগত ৪৯ রানে ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন শরিফুল এবং এরপর তেজনারাইন চন্দরপলকে ফেরান হাসান মাহমুদ। তবে একাধিক ক্যাচ ফসকে যাওয়া এবং বাংলাদেশের নেওয়া চারটি এলবিডব্লিউ রিভিউয়ে ‘আম্পায়ার্স কল’ থাকায় বারবার রক্ষা পান ক্যারিবীয়রা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলেন ব্র্যান্ডন কিং। তাঁকে সঙ্গ দিয়ে ২৭ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন কাভেম হজ।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের মাটিতে টাইগারদের টানা পাঁচ টেস্ট জয়ের ধারাবাহিকতার ইতি ঘটল; যার মধ্যে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি জয় ছিল। অন্যদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে অবশিষ্ট পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতে জয় ও একটিতে ড্র নিশ্চিত করার এক জটিল হিসাবের সামনে দাঁড়াতে হলো বাংলাদেশকে।
ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে ২৫ বছরের সম্পর্কের ইতি টানতে যাচ্ছে ল্যাঙ্কাশায়ার। ২০২৭ মৌসুমের জন্য তার চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্টি ক্লাবটি। এতে হতাশ ও বিস্মিত ৪৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তবে খেলা চালিয়ে যাবেন, নাকি অবসরে যাবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
বিবিসির পডকাস্ট ‘টেইলেন্ডার্স’-এ অ্যান্ডারসন জানান, দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার আশায় ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাকে জানানো হয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাকে রাখছে না ল্যাঙ্কাশায়ার। ক্লাবটির লক্ষ্য আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে ডিভিশন ওয়ানের শিরোপার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।
চলতি মৌসুমে বল হাতে সফল ছিলেন অ্যান্ডারসন। অধিনায়কত্বের পাশাপাশি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টুতে ১৭.৬৮ গড়ে নিয়েছেন ৫০ উইকেট। তবে দল মৌসুম শেষ করেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে।
ক্লাবের বিদায় জানানোর প্রক্রিয়াতেও ক্ষুব্ধ অ্যান্ডারসন। তাকে না জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে চুক্তি নবায়ন না করার খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিব্রত হন তিনি। তার ইচ্ছা ছিল ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়েই ক্যারিয়ার শেষ করার। অ্যান্ডারসন বলেন, ‘শেষটা কেমন হবে, তা আমি জানি না। তবে আমি চেয়েছিলাম ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়েই ক্যারিয়ার শেষ করতে। আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে কি না, সেটাও জানি না। সময়ই বলে দেবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের সময়ও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এই পেসার। এবার কাউন্টি ক্লাবের সিদ্ধান্তে নিজের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী মৌসুমে অন্য কোনো কাউন্টি দলে খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইয়র্কশায়ারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
অ্যান্ডারসনের বিদায়ের ধরন নিয়ে সমালোচনা করেছেন তার সাবেক সতীর্থ স্টুয়ার্ট ব্রড। তিনি বলেন, ‘ল্যাঙ্কাশায়ার যেভাবে বিষয়টি সামলেছে, তা আমার ভালো লাগেনি। কাজটি সঠিকভাবে করা হয়নি। আমার মতে, এটি অসম্মানজনক। একজন কিংবদন্তি বা ক্রিকেটের মহান খেলোয়াড়কে এর চেয়ে ভালো বিদায় দেওয়া উচিত।’
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে এসেছে, যেখানে শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে চরম হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছেন। আর্জেন্টিনার ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হয়েছে।
লন্ডনের জমকালো মঞ্চে পুরস্কার জয়ের পথে কেইন মোট ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট অর্জন করেন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপ্পে পেয়েছেন ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট। ৮৮১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ভোটের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। শীর্ষ তিনের পরবর্তী অবস্থানগুলোতে ৭২৬ পয়েন্ট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি এবং ৬১২ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানটি নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়া আরেক আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ মাত্র ১১ পয়েন্ট পেয়ে ১০০ জন বিচারকের সার্বিক বিবেচনায় ২২তম স্থানে জায়গা পেয়েছেন।
ফিফাভুক্ত দেশগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত ১০০ জন বিশেষজ্ঞ সাংবাদিকের প্রত্যক্ষ ভোটে এই ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নির্ধারিত হয়। ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত খেলোয়াড়দের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিচারকেরা নিজেদের বিবেচনায় সেরা ১০ জনকে নির্বাচন করেন। ভোটাদাতাদের প্রথম পছন্দের খেলোয়াড়ের জন্য ১৫, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ১২, তৃতীয় স্থানে ১০, চতুর্থ স্থানে ৮ এবং পঞ্চম স্থানের জন্য ৭ পয়েন্ট বরাদ্দ ছিল; এছাড়া ষষ্ঠ থেকে দশম স্থান পর্যন্ত যথাক্রমে ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট প্রদান করা হয়। কেইন সর্বোচ্চ ৪০ জন সাংবাদিকের প্রথম পছন্দের ভোট পান এবং এমবাপ্পেকে শীর্ষস্থানে রাখেন ২৩ জন প্রতিনিধি, যা মূলত শেষ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে ট্রফি নির্ধারণী ব্যবধান গড়ে দেয়।
ভোটের সার্বিক তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া অন্য খেলোয়াড়েরা হলেন পিএসজির খভিচা কাভারাসখেলিয়া (৫৪১ পয়েন্ট), উসমান দেম্বেলে (৪১৮ পয়েন্ট), ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড (৩৭৮ পয়েন্ট), বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসে (২৯৬ পয়েন্ট) ও পিএসজির ফাবিয়ান রুইজ (২০১ পয়েন্ট)। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য তারকাদের মধ্যে জুড বেলিংহাম একাদশ, পাউ কুবারসি দ্বাদশ, আশরাফ হাকিমি ত্রয়োদশ, ভিতিনিয়া চতুর্দশ, ডেকলান রাইস পঞ্চদশ, ফেরান তোরেস ষোড়শ এবং রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সপ্তদশ স্থান লাভ করেন। তালিকার পরবর্তী ধাপে মার্ক কুকুরেয়া, জোয়াও নেভেস ও উইলিয়ান পাচোর পর যৌথভাবে গ্যাব্রিয়েল ও মার্তিনেজ অবস্থান করেন। বাকিদের মধ্যে নুনো মেন্দেস, লুইস দিয়াজ, মার্কিনিওস, দায়ো উপামেকানো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, হুলিয়ান কুইনোনেস এবং যৌথভাবে সাদিও মানে ও উইলিয়াম সালিবা শীর্ষ ত্রিশের তালিকা পূর্ণ করেছেন।
মূলত রক্ষণ সামলানোই যাঁর প্রধান দায়িত্ব, সেই মরক্কান ফুলব্যাক আশরাফ হাকিমি মাঠে অবতীর্ণ হলেন দুর্ধর্ষ গোলদাতার ভূমিকায়। তাঁর দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক ও জোড়া অ্যাসিস্টের ওপর ভর করে ফরাসি লিগ ওয়ানে লা হার্ভেকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এই দাপুটে পারফরম্যান্সে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নবম জয়ের দেখা পেল লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
প্রতিপক্ষের মাঠে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল পিএসজি; ম্যাচের ১৮তম মিনিটে ফরোয়ার্ড জশ মাজার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক লা হার্ভে। তবে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেয়নি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। আট মিনিটের মাথায় হাকিমির নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে পিএসজিকে সমতায় ফেরান মিকা গডটস। এর রেশ কাটতে না কাটতেই দুই মিনিটের মাথায় হাকিমি নিজেই নিশানা ভেদ করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
বিরতির পর হাকিমির আক্রমণাত্মক রূপ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া এক চমৎকার ফ্রি-কিকে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান তিনি। চলতি মৌসুমে এর আগে গোলের খাতা খুলতে না পারা এই তারকা ৬২তম মিনিটে সনি মায়ুলুর করা চতুর্থ গোলে ভূমিকা রাখার পর ৬৯তম মিনিটে নিজের বহুল কাঙ্ক্ষিত হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন, যার মধ্য দিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত হয়।
মৌসুমের শুরুতে প্রথম তিন ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া পিএসজির জন্য এই জয়টি লিগে টানা ষষ্ঠ এবং সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নবম জয়। এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট ঝুলিতে পুরে লিগ ওয়ানের একক শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্যারিসের পরাশক্তিরা, যেখানে তাদের চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে অলিম্পিক লিল।
আন্তর্জাতিক নারী বিশ্বকাপ ফুটবলের সামগ্রিক প্রাইজমানি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও পুরুষদের বিশ্বকাপের সঙ্গে আর্থিক সমতা নিশ্চিতের যে লক্ষ্য ছিল, তার চেয়ে এটি এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের আসরে দলগুলোর জন্য সর্বমোট ১০ কোটি ডলারের কিছু বেশি অর্থ বরাদ্দ ছিল। ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী আসরে এই অঙ্ক বাড়িয়ে ২২ কোটি ডলার করা হচ্ছে; যা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত পুরুষদের বিশ্বকাপে দেওয়া আর্থিক পুরস্কারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি।
সদ্য সমাপ্ত ৪৮ দলের ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে ফিফা রেকর্ড ১৫০ কোটি ডলার আয়ের ঘোষণা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এবং ‘স্কাই’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর ব্রাজিলের মাটিতে হতে যাওয়া নারী বিশ্বকাপ পুরুষদের আসরের চেয়ে এখনো আর্থিকভাবে বেশ পিছিয়ে রয়েছে এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পূর্বঘোষিত লিঙ্গ সমতার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এটি সফল হতে পারেনি। পুরুষদের সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য মোট প্রাইজমানি রাখা হয়েছিল ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এর আগে ২০২৩ সালে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির জটিলতার সময় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ইনফান্তিনো। সে সময় অধিকাংশ সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ধরে নিয়েছিল যে পুরুষদের টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব কিনলেই নারী বিশ্বকাপের স্বত্ব এমনিতেই পাওয়া যাবে। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই ২০২৬ সালের পুরুষ এবং ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে প্রাইজমানির ক্ষেত্রে সমতা আনা।’ ফিফা সভাপতি আরও বলেছিলেন, ‘আমরা নিজেরাই এই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। ফিফা কেবল মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেও এগিয়ে আসছে... তবে দুঃখের বিষয় হলো ইন্ডাস্ট্রির সবাই এই পথে হাঁটছে না। আমার প্রিয় বন্ধু সম্প্রচারক এবং স্পন্সরদের এই বিষয়ে আরও অনেক কিছু করতে হবে।’
বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ইনফান্তিনোর সেই ক্ষোভ অবশ্য বাণিজ্যিক অংশীদার ও বাজারকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি, বরং অনেকের মধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল। কারণ, বৈশ্বিক নারী ফুটবলে ফিফার তহবিলের চেয়ে অনেক দেশের ঘরোয়া ফুটবলেই অপেক্ষাকৃত বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছিল। তবে প্রাইজমানির ক্ষেত্রে ব্যবধান না ঘুচলেও দলগুলোর প্রস্তুতি ভাতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলো পুরুষদের সমান অর্থ পাবে এবং দলপ্রতি এই বরাদ্দের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ২৫ লাখ ডলার নিশ্চিত করেছে ফিফা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেট শিকারের অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন আফগানিস্তানের লেগস্পিনার রশিদ খান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় খেলায় চার ওভার বল করে ২৯ রানে এক উইকেট নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই ইতিহাস রচনা করেন তিনি। নারী ও পুরুষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ২০০ উইকেটের এই বিরল মাইলফলক স্পর্শ করা বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার এখন এই আফগান তারকা।
ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে রান তাড়া করতে পাঠিয়ে ইনিংসের নবম ওভারে উইকেটকিপার-ব্যাটার তাদিনওয়ানাশে মারুমানিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে পাঠান রশিদ। আর এই উইকেটের মাধ্যমেই রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম নতুন করে লেখান তিনি। ২৮ বছর বয়সী এই রিস্ট স্পিনার নিজের ক্যারিয়ারের ১২০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এসে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন। এ সময় তাঁর বোলিং গড় ছিল মাত্র ১৩ দশমিক ৯৬ এবং ইকোনমি রেট ৬ দশমিক ১৩, যা টি-টোয়েন্টির মতো মারকুটে ফরম্যাটে তাঁর অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়।
মারুমানির নেওয়া উইকেটটি ছিল এশিয়ার মাটিতে রশিদের ১৫০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি উইকেট; যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৯টি উইকেট তিনি শিকার করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠে। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগসহ স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সার্বিক পরিসংখ্যানেও তিনি শীর্ষে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকেই সামগ্রিক টি-টোয়েন্টিতে ৭০০ উইকেটের ল্যান্ডমার্ক ছাড়িয়ে ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে নিজের অবস্থান পাকা করেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের অক্টোবরে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছিল রশিদ খানের। এক দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে নিজেকে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ও বিপজ্জনক বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার টিম সাউদিকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হয়েছিলেন রশিদ। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই শতক উইকেটের নতুন ইতিহাস গড়লেন এই আফগান মহাতারকা।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর টায়ার ‘ই’র শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এসে ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে লাল-সবুজের যুবারা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার আয়োজনে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের অংশগ্রহণে হওয়া এই বৃহৎ আসরে সামগ্রিকভাবে ১৩০তম অবস্থান নিয়ে নিজেদের বৈশ্বিক অভিযান সমাপ্ত করল বাংলাদেশ দল।
শিরোপার লড়াইয়ে শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই মোইর দুর্দান্ত এক গোলে প্রথম লিড নেয় তারা। পিছিয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ দল নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার আগেই চার মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ১৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেনেল। দ্রুত দুই গোল হজম করে শুরুতেই বড় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার জোর প্রচেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় খেলার ২৩তম মিনিটে তাকিব দারুণ এক গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন। এতে ম্যাচে ফেরার উজ্জ্বল সম্ভাবনা জেগে ওঠে এবং লাল-সবুজের শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে সেই গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি।
গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই তিন মিনিট পর অর্থাৎ ২৬তম মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিককে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মোই। এরপর খেলার ৩৯তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে দলের ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি। মোইয়ের এই দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকেই মূলত ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক টায়ার ‘ই’র চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে বোলারদের এনে দেওয়া স্বস্তি ধরে রাখতে পারলেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে নাঈম হাসানের দুর্দান্ত স্পিনে ক্যারিবীয়দের দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দিন শেষে ৬ উইকেটে মাত্র ৭৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ফলে হাতে আর মাত্র ৪ উইকেট রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সামগ্রিক লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। আগের দুই দিনের ধারাবাহিকতায় এদিনও আলোকস্বল্পতার কারণে আগেভাগেই দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করতে হয়। এদিন মাত্র ৬৩ দশমিক ৫ ওভার খেলা সম্ভব হয়েছে এবং তিন দিন মিলিয়ে নষ্ট হয়েছে ৬০ ওভারের বেশি খেলা।
এর আগে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসের তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সকালে তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস দেখেশুনে খেলে ৬২ রানের জুটি গড়ে স্বাগতিকদের অপেক্ষা বাড়ান। ব্যক্তিগত অর্ধশতক হাঁকিয়ে ১৬৪ বলে ৫৬ রান করা চন্দরপলকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান পেসার শরিফুল ইসলাম। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে গ্রিভস ও রস্টন চেইস গড়েন ৫১ রানের জুটি। লাঞ্চের ঠিক আগের ওভারে ১০৬ বলে ৪৬ রান করা গ্রিভসকে এলবিডব্লিউ করে এই জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান। মধ্যাহ্নবিরতির পর দ্বিতীয় সেশনে আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি সফরকারীরা; শেষ ৪ উইকেট হারায় মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে, যার তিনটিই তুলে নেন নাঈম। এতে ক্যারিবীয়দের ইনিংস ২৪৫ রানে শেষ হয় এবং একপ্রান্তে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন চেইস। সফরকারীদের লেজ মুড়ে দিয়ে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পথে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ৫০তম উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন অফস্পিনার নাঈম।
২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ব্যর্থতার পরিচয় দেন বাংলাদেশের শীর্ষ সারির ব্যাটাররা। দলীয় সূচনাতেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম বিদায় নেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ভুল লাইনে ব্যাট চালিয়ে যথাক্রমে বোল্ড ও এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তাওহীদ হৃদয়ও একটি অপ্রয়োজনীয় বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন। এর মাঝে ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়ায় ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েন মুমিনুল হক; চতুর্থ উইকেটের পতনের পর তাঁর কনকাশন বদলি হিসেবে উইকেটে নামেন জাকের আলি অনিক। তবে অন্যপ্রান্তে লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজও দ্রুত বিদায় নিলে মাত্র ৫৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে গভীর সংকটে পড়ে দল।
চরম বিপর্যয়ের মুখে সপ্তম উইকেটে দলের হাল ধরেন নাঈম হাসান ও কনকাশন সাব জাকের আলি। দিনের বাকি সময়ে আর কোনো বিপদ ঘটতে না দিয়ে দেখেশুনে ব্যাটিং করে অবিচ্ছিন্ন ২৬ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন তাঁরা। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত দুজনই ১৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে রস্টন চেইস তিনটি ও জোমেল ওয়ারিক্যান দুটি উইকেট নেন। ম্যাচের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের মতো পুঁজি এনে দিতে এখন এই দুই অপরাজিত ব্যাটারের ওপরই মূল নির্ভরতা স্বাগতিকদের।
দেশের নারী ক্রিকেটকে তৃণমূল পর্যায় থেকে এগিয়ে নিতে আটটি বিভাগে প্রধান কোচ, সহকারী কোচ ও টিম ম্যানেজার নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সম্প্রতি তৃণমূল পর্যায়ে স্কুল ক্রিকেট চালুর ঘোষণার পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে কোচিং স্টাফ নিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি বিসিবি দিয়েছিল, তা এবার বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আটটি বিভাগের জন্য মোট পাঁচজন নারী এবং তিনজন পুরুষকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি বিভাগের জন্য সহকারী কোচ ও দল পরিচালনার জন্য ম্যানেজারের নামও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিভাগীয় এই দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা সাবেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের লেভেল-১ কোচিং সনদ রয়েছে, তাঁদের ওপরই আস্থা রেখেছে ক্রিকেট বোর্ড। এর মাধ্যমে মাঠের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক তারকাদের কোচিং ও ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে নারী ক্রিকেটারদের দক্ষতা ও পাইপলাইন মজবুত করার উদ্যোগ নিয়েছে বোর্ড।
আট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রেশমা আক্তার আদুরী, সহকারী কোচ নাদেজা মুনতাহা এবং টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন মাকসুদা লিজা। খুলনা বিভাগে প্রধান কোচ হয়েছেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আয়েশা রহমান শুকতারা, সহকারী কোচ তাজিয়া আক্তার এবং ম্যানেজার হিসেবে থাকছেন সুলতানা ইয়াসমিন। রাজশাহী বিভাগে প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলাবেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার পান্না ঘোষ, সহকারী কোচ মোহাম্মদ সান এবং ম্যানেজার ইমরুল কায়েস। চট্টগ্রাম বিভাগে কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ ইসমাইল, সহকারী কোচ পারমিতা দত্ত এবং ম্যানেজার মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী।
অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আখতারুজ্জামান নয়ন, সহকারী কোচ মাহমুদুল হায়দার এবং ম্যানেজার মুর্শিদা নাজনীন। রংপুর বিভাগে প্রধান কোচ আরিফা জাহান বীথি, সহকারী কোচ মুর্শেদা খাতুন সোমা এবং ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মনিকা আক্তার আশা। সিলেট বিভাগে প্রধান কোচ হয়েছেন আল ওয়াদুদ সুইট, সহকারী কোচ শাহনাজ পারভীন এবং ম্যানেজার সেলিনা আক্তার চৌধুরী। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মৃদুলকে, সহকারী কোচ লিলি রানী বিশ্বাস এবং ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন সুজন। বিসিবির এই কাঠামোগত পদক্ষেপ বিভাগীয় পর্যায় থেকে মানসম্পন্ন নারী ক্রিকেটার তুলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে চলমান ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালে দারুণ সাফল্য দেখিয়ে ‘ই’ টায়ারের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে আফ্রিকান দেশ গ্যাবনকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের নিজ স্তরের শিরোপা নির্ধারণী চূড়ান্ত মঞ্চে জায়গা করে নিল বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা।
বয়সভিত্তিক এই বিশেষ বৈশ্বিক আসরে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এইট-এ-সাইড’ অর্থাৎ আটজন খেলোয়াড় নিয়ে এবং দুই অর্ধে ২০ মিনিট করে মোট ৪০ মিনিট সময়সীমায়। গ্যাবনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে শুরু থেকেই সতর্ক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বাংলাদেশ দল। খেলার ১৪তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন রাতুল। নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে এই এক গোলের লিড দক্ষতার সঙ্গে ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে তারা।
গ্যাবনকে হারানোর আগে একই দিন দুপুরে কোয়ার্টার ফাইনালে আরেক পরাশক্তিকে পর্যুদস্ত করে বাংলাদেশ। শেষ আটের ওই ম্যাচে ইউরোপের দল মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল লাল-সবুজের যুবারা। একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয় দলটি।
উল্লেখ্য, আজারবাইজানে আয়োজিত ফিফার এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের ১৮৯টি দেশ মোট ৩২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নিচ্ছে। প্রাথমিক পর্বে বাংলাদেশ শক্তিশালী ‘সি’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ৩২টি গ্রুপের পঞ্চম স্থানে থাকা সমমানের ৩২টি দলকে নিয়ে ‘ই’ টায়ারের এই নকআউট পর্ব পরিচালিত হচ্ছে। এই পর্বে টানা চারটি জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশ এখন ফাইনালের মঞ্চে। ফিফা বিভিন্ন টায়ারের মাধ্যমে এই আসর থেকে মোট ছয়টি চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণ করবে।
আগামী নভেম্বরে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চলতি বছরের শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আগামী ১৪ নভেম্বর এশিয়ান পরাশক্তি জাপান এবং ১৭ নভেম্বর স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর দল পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ মেগা আসরের প্রস্তুতি হিসেবে স্কোয়াডে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন সেলেসাও কোচ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন পাঁচ তরুণ ফুটবলার। তাঁরা হলেন ক্রুজেইরোর জোনাথন জেসুস, করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজ, ম্যানচেস্টার সিটির অ্যালান এবং ইউক্রেনীয় ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কের দুই খেলোয়াড় মারলন গোমেজ ও অ্যালিসন সান্তানা।
নতুনদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানান, নতুন খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের নিজস্ব বিশেষ গুণাবলি রয়েছে। বিশেষ করে জোনাথন জেসুসকে শক্তিশালী, ক্ষিপ্র ও বুদ্ধিমান ডিফেন্ডার এবং মারলন গোমেজকে অত্যন্ত গতিশীল হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বড় টুর্নামেন্টের আগে নতুনদের মাঠে দেখা ও চেনা দলের জন্য জরুরি। অন্যদিকে ঘরোয়া লিগের শিরোপা লড়াইয়ে থাকা ফ্ল্যামেঙ্গো ও পালমেইরাসের ক্লাবসূচির ক্ষতির কথা বিবেচনা করে তাদের কোনো খেলোয়াড়কে এবারের স্কোয়াডে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। তবে অন্যান্য ঘরোয়া ক্লাব থেকে সর্বোচ্চ একজন করে খেলোয়াড় দলে নেওয়ার নীতি অনুসরণ করেছেন আনচেলত্তি।
ঘোষিত স্কোয়াডে গোলরক্ষক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বেন্তো (আল নাসর), লুকাস পেরি (তুরিনো) ও কোরিতিবার পেদ্রো মরিস্কো। রক্ষণভাগে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস ও ইন্টার মিলানের কার্লোস আগুস্তোর পাশাপাশি রয়েছেন আর্থার দিয়াস, ডগলাস সান্তোস, জাইর কুনহা, জোনাথন জেসুস, ভেন্ডারসন, ভিটর রেইস ও ওয়েসলি। মধ্যমাঠে ব্রুনো গুইমারেস, আন্দ্রে সান্তোস ও জোয়াও গোমেজের মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আন্দ্রে লুইজ, দানিলো, গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পো ও মারলন গোমেজ। অন্যদিকে শক্তিশালী আক্রমণভাগে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এন্ড্রিকের সঙ্গে আছেন বার্সেলোনার রাফিনিয়া, চেলসির এস্তেভাও, বোর্নমাউথের রায়ান এবং দুই নতুন মুখ অ্যালান ও অ্যালিসন সান্তানা।
সিঙ্গাপুরে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বরের মধ্যে পুরো দল অনুশীলনে যোগ দেবে বলে আশা করছেন আনচেলত্তি। এর আগে সর্বশেষ ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল সেলেসাওরা। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। পরবর্তীতে নিজেদের পরের ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল ব্রাজিল।
সৌদি প্রো লিগে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে চোখধাঁধানো এক হ্যাটট্রিক করে নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারের ১০০০ গোলের মাইলফলকের আরও নিকটে পৌঁছে গেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বৃহস্পতিবার রাতে রিয়াদের আল-আউয়াল পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত আট গোলের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে আল খুলুদকে ৫-৩ ব্যবধানে পরাজিত করেছে আল নাসর। এই ম্যাচে তিন গোল করার পর পেশাদার ফুটবলে পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ডের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৯৮৫–তে; অর্থাৎ কাঙ্ক্ষিত এক হাজার গোলের ইতিহাস স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ১৫টি গোল।
ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতে অবশ্য কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল আল নাসর। খেলার ১৬তম মিনিটে জুলিয়েন ডমিঙ্গেজের গোলে প্রথম লিড পায় সফরকারী আল খুলুদ। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে আল নাসর; ২৪তম মিনিটে অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের লক্ষ্যভেদে সমতায় ফেরে তারা। এরপর ৩৮তম মিনিটে সাদিও মানে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে আল খুলুদের পক্ষে অ্যান্তোইন আসোম্বা গোল করলে ২-২ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের লড়াই।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় রোনালদোর একক আধিপত্য। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে সতীর্থের পাস ধরে প্রথম গোল করার পর ৭২তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান তিনি। এরপর ৮১তম মিনিটে দারুণ এক ক্রসে হেডের মাধ্যমে লক্ষ্যভেদ করে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সিআরসেভেন। তাঁর এই তাণ্ডবে মুহূর্তেই স্কোরলাইন ৫-২ করে ফেলে আল নাসর। খেলার শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে ডমিঙ্গেজ আল খুলুদের হয়ে আরেকটি গোল পরিশোধ করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমায় এবং ৫-৩ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
আল নাসরের জার্সিতে এটি ছিল রোনালদোর সপ্তম এবং বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ৬৭তম হ্যাটট্রিক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪টি, পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ১০টি, আল নাসরে ৭টি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্তাসে তিনটি করে হ্যাটট্রিক অর্জন করেছেন। এই তালিকায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক সংখ্যা ৬২টি। অন্যদিকে পেশাদার ফুটবলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে নিজের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করে দুইয়ে থাকা মেসির (৯৩৬ গোল) চেয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে ৪৯ গোলে নিয়ে গেলেন রোনালদো।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রোনালদো দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং নিজের অবদানে সন্তুষ্টির কথা জানান। এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২৮-এ। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে আল কাদসিয়া, আর দ্বিতীয় স্থানে থেকে শিরোপার লড়াই জমিয়ে রেখেছে রোনালদোর আল নাসর।