টাইগার ক্রিকেট টিমের বিস্ফোরক ওপেনার হিসেবে অভিষেক হয়েছিল তার। ওয়ানডে থেকে শুরু করে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার হিসেবে সেই অভিষেকের পর থেকেই অটোচয়েজ তিনিই। বয়স ৩৪ বছর হলেও আরও কিছুদিন জাতীয় দলে তামিমের অবস্থান নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন ছিল না। সেই তামিম নিজেই ঘোষণা দিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের, থামল ৩৮৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আর ১৫ হাজার রানের ক্যারিয়ার।
মাঝে মাঝে ফর্ম নিয়ে ভুগলেও দলে তামিমের অবস্থান নিয়ে সেভাবে গুরুতর প্রশ্ন ওঠেনি কখনো। সেই তামিম ইকবাল বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান সিরিজের মাঝপথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন। অথচ ঘরের পাশে তথা ভারতে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাকি আর মাত্র তিন মাস।
সংবাদ সম্মেলনেস তামিম স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, বুধবার আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অর্থাৎ সিরিজের বাকি দুই ম্যাচও খেলছেন না তামিম।
এই ঘোষণার ফলে তামিমের ওয়ানডে ক্যারিয়ার থামল ২৪১ ম্যাচে। এসব ম্যাচের ২৩৯টি ইনিংস থেকে তিনি রান করেছেন ৮ হাজার ৩১৩। গড় ৩৬ দশমিক ৬২, স্ট্রাইক রেট ৭৮ দশমিক ৫৪। ওয়ানডেতে ১৪টি শতকের সঙ্গে তামিমের রয়েছে ৫৬টি অর্ধশত রানের ইনিংস। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছেন সিলেটে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন ১৫৮ রান।
ওয়ানডের বাইরে তামিম ৭০টি টেস্ট খেলেছেন। টেস্টে ১৩৪ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৫ হাজার ১৩৪ রান। গড় ৩৮ দশমিক ৮৯, স্ট্রাইক রেট ৫৭ দশমিক ৯৯। এই ফরম্যাটে ১০টি শতক আর ৩১টি অর্ধশতক হাঁকানো তামিমের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ২০৬ রানের। ক্যারিয়ারের একমাত্র এই ডাবল সেঞ্চুরি তামিম করেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে, খুলনায়।
এর বাইরে তামিম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ৭৮টি। মোট ৭৮ ইনিংসে ২৪ দশমিক ০৮ গড়ে তার রান ১ হাজার ৭৫৮। স্ট্রাইক রেট ১১৬ দশমিক ৯৬। এই ফরম্যাটে সাতটি অর্ধশত রানের সঙ্গে একটি শতকও রয়েছে তার। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিরুদ্ধে করেছিলেন ১০৩ রান।
সব মিলিয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৩৮৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তামিমের সংগ্রহ ১৫ হাজার ২০৫ রান। অবসর ভেঙে ফিরে না এলে এখানেই শেষ হচ্ছে তামিমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে প্রধান করে জাতীয় দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি জানায়, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই প্যানেলের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫৩ বছর বয়সী হাবিবুল বাশার এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ বছর পুরুষ দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন এবং নারী দলের নির্বাচক হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিদায়ী প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
নতুন এই প্যানেলে আগে থেকেই সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হাসান শান্ত। তার সাথে নতুন মুখ হিসেবে নির্বাচক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। ৩৯ বছর বয়সী নাঈম ইসলাম প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৪টি সেঞ্চুরি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ শতকের রেকর্ডের অধিকারী। অন্যদিকে, ৩৮ বছর বয়সী নাদিফ চৌধুরীও দীর্ঘ ২০ বছরের খেলোয়াড়ি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং এর আগে বিসিবির বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে হাবিবুল বাশার বাংলাদেশের হয়ে ১৮টি টেস্ট ও ৬৯টি ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার গৌরব অর্জন করেন। অভিজ্ঞ ও নতুনদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্যানেল আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রতিভা অন্বেষণ ও জাতীয় দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং এর ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনে, যার বড় শিকার হয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবারের টুর্নামেন্ট দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে খরচ কমাতে এবং যাতায়াত সীমিত করতে ছয়টি ভেন্যুর পরিবর্তে টুর্নামেন্টটি এখন মাত্র দুটি শহরে—লাহোর ও করাচিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আটটি দলের অংশগ্রহণে এবারের পিএসএল লাহোর, মুলতান, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার এবং ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে মানুষের চলাচল সীমিত রাখতেই ভেন্যু কমিয়ে আনা হয়েছে। এমনকি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে লাহোরে নির্ধারিত জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও বাতিল করা হয়েছে। নাকভি স্পষ্ট করেছেন যে, একদিকে জনগণকে চলাচলে সাশ্রয়ী হতে বলে অন্যদিকে স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের সমাগম ঘটানো বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তিসঙ্গত নয়।
তবে ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান। তিনি জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে যদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান সংকট স্বাভাবিক হয়ে আসে, তবে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে গ্যালারিতে দর্শক প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। আপাতত সম্পদের অপচয় রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই দর্শকহীন গ্যালারিতেই চলবে মাঠের লড়াই। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।
বার্সেলোনার বিশ্বখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে আসা লিওনেল মেসি বা লামিনে ইয়ামালদের উত্তরসূরি হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন বাংলাদেশের নরসিংদীর কিশোর মেহেদী হাসান রিদম। রায়পুরার এই ফুটবল প্রতিভা বর্তমানে ইতালির রোমে অপেশাদার ক্লাব সেক্সা ফ্লামিনিয়া লাবারোর হয়ে নিজের দক্ষতা ঝালাই করছেন।
ফুটবলীয় ঐতিহ্যের টানে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমানো রিদমের লক্ষ্য এখন বার্সেলোনার বার্ষিক 'একাডেমি ওয়ার্ল্ড কাপ'। এই আসরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের উদীয়মান ফুটবলারদের প্রতিভা যাচাই করা হয়, যেখান থেকে যোগ্যদের লা মাসিয়ায় সরাসরি প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।
আসন্ন এই টুর্নামেন্টে ইতালি, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সঙ্গে অংশ নিচ্ছে লুক্সেমবার্গ, আর রিদম মনোনীত হয়েছেন লুক্সেমবার্গ দলের হয়ে খেলার জন্য। অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে এই দলের একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মাঠে নামবেন।
রিদমের বাবা আসাদ মিয়া জানান, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের আগাম একটি চুক্তি হয়েছে, যার ভিত্তিতে টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে রিদমকে লা মাসিয়া একাডেমিতে রেখে দেওয়া হতে পারে। নিজের ফিটনেস ও দক্ষতার উন্নতির জন্য রিদম বর্তমানে ইতালিয়ান কোচ মাসিমিলিয়ানো কোলেত্তা এবং ব্যক্তিগত মরক্কান কোচের অধীনে নিবিড় অনুশীলনের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলছেন।
স্বপ্নযাত্রার এই সন্ধিক্ষণে রিদম নিজে যেমন আত্মবিশ্বাসী, তেমনি তার পরিবারও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে স্পেনে যাওয়ার জন্য। ইতালিতে বেড়ে উঠলেও দেশের প্রতি টান অটুট রয়েছে এই ফুটবলারের। তার বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ এলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। আপাতত স্পেনের মাটিতে নিজের ফুটবল জাদুতে বার্সেলোনা কর্মকর্তাদের নজর কাড়তে মুখিয়ে আছেন নরসিংদীর এই কিশোর।
নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে জাপান। শনিবার (২১ মার্চ) টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দেশ অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গত চার আসরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো 'নাদেশিকো'রা এই মুকুট নিজেদের করে নিল।
হট ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামা অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের জন্য এই হার ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, বিশেষ করে যখন গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন রেকর্ডসংখ্যক ৭৪,৩৫৭ জন দর্শক। নারী এশিয়ান কাপের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড, তবে ঘরের মাঠের এই বিশাল সমর্থন সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত জাপানের দাপটের কাছে হার মানতে হয়েছে স্বাগতিকদের।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের পর ২০২৬ সালেও ট্রফি জিতে জাপান এশিয়ান ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান আবারও প্রমাণ করল। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় প্রথমার্ধের ১৭তম মিনিটেই, যখন জাপানি ফরোয়ার্ড মাইকা হামানো ডি-বক্সের কাছ থেকে চমৎকার এক টার্নে জোরালো শট নিয়ে বল জালে জড়ান। অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ম্যাকেঞ্জি আর্নল্ড ঝাঁপিয়েও সেই বলের নাগাল পাননি। পিছিয়ে পড়ার পর ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া সমানে সমান লড়াই করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয়। দলটির তারকা স্ট্রাইকার স্যাম কারকে পুরো সময় কড়া মার্কিংয়ে আটকে রাখে জাপানি রক্ষণভাগ এবং ক্যাটলিন ফোর্ডও বেশ কিছু সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে 'ম্যাটিল্ডাস'রা। বদলি খেলোয়াড় এমিলি ভ্যান এগমন্ডের একের পর এক আক্রমণ জাপানি ডিফেন্ডাররা রুখে দেন এবং একদম শেষ মুহূর্তে আলানা কেনেডির দুর্দান্ত একটি হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সেভ করেন জাপানি গোলরক্ষক আয়াকা ইয়ামাশিতা। ম্যাচ শেষে রেকর্ড গড়া দর্শকদের সামনে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলাররা কান্নায় ভেঙে পড়েন, অন্যদিকে সপ্তম ফাইনাল খেলে তৃতীয়বারের মতো উল্লাসে মাতে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জাপান।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বিশ্বমঞ্চে সবার আগে জায়গা করে নেওয়া দলগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে বুধবার ইরানের ফুটবল প্রধান মেহদি তাজ স্পষ্ট করেছেন যে তারা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছেন না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরান আমেরিকাকে বয়কট করবে কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।
বর্তমানে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল তুরস্কে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালনা করছে এবং সেখানে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জর্ডান থেকে সরিয়ে নেওয়া চার জাতির একটি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ২৭ মার্চ নাইজেরিয়া এবং চার দিন পর কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার সাথে আলোচনা করছে যেন তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন যে জুনে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিশরের বিপক্ষে ইরানের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে মেক্সিকো পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল ফিফার। ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে তারা ইরানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে তবে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ঘোষিত মূল সূচি অনুযায়ীই খেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা এখনো প্রত্যাশা করছে।
আফগানিস্তানের কাবুলে একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন প্রাণ হারানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবার সরব হয়েছেন আফগান ক্রিকেটের উদীয়মান তারকা এএম গজনফার। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলার অপেক্ষায় থাকা এই তরুণ স্পিনার ভারতকে আফগানিস্তানের 'সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অকৃত্রিম বন্ধু' হিসেবে অভিহিত করে বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে দিল্লির সরাসরি সহায়তা ও হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন।
১৯ বছর বয়সী গজনফার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র যেখানে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার শেষ অবলম্বন ছিল, সেখানে এমন আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে আফগানিস্তানের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময় এবং এর পুনরাবৃত্তি হলে তা পাকিস্তানের জন্য ভয়াবহ ফলাফল বয়ে আনবে।
একই ঘটনায় এর আগে রশিদ খান এবং নাভিন-উল-হকের মতো তারকা ক্রিকেটাররাও কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। রশিদ খান এই হামলাকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং নাভিন বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নজিরবিহীন ও নৃশংস বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে করা এই অভিযোগগুলোকে পাকিস্তান সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসলামাবাদ দাবি করেছে যে তারা কোনো বেসামরিক স্থাপনায় নয়, বরং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুধুমাত্র সন্ত্রাসী আস্তানা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে। গজনফারসহ অন্য ক্রিকেটাররা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এই মানবিক বিপর্যয় রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিক তদন্তে নামছে সরকার। কেন এবং কোন পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ এই মেগা ইভেন্টে অংশ নিতে ব্যর্থ হলো, তার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মিরপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্রীড়া কূটনীতির ব্যর্থতা নাকি অন্য কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি এর পেছনে দায়ী, সেটিই হবে এই তদন্তের মূল লক্ষ্য।
ঘটনার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সে সময় বিসিবির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেয় যে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে অবশ্যই নির্ধারিত ভেন্যু ভারতেই খেলতে হবে। এই অচলাবস্থার একপর্যায়ে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে মূল আসরে অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘ক্রীড়া কূটনীতির অভাব’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট শক্তির অনুপস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ব্যর্থতার পেছনের প্রকৃত কারণ কী ছিল, কোথায় সমন্বয়ের অভাব ছিল কিংবা কেন কূটনৈতিকভাবে আইসিসিকে রাজি করানো সম্ভব হয়নি—এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি শীঘ্রই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন যারা এই বিষয়ের প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করবে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্রিকেট বোর্ড এবং এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। দেশের ক্রিকেটের মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সরকার কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের ফলে ক্রিকেট বোর্ডে কোনো প্রশাসনিক রদবদল বা নতুন কোনো নীতিমালা তৈরি হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হওয়াকে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের মাটিতে পরবর্তী আন্তর্জাতিক সিরিজের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সোমবার বিসিবির পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। কিউইদের বিপক্ষে এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। বিশেষ করে বিশ্বকাপ বয়কটের ঘটনার পর এই সিরিজের মাধ্যমেই বাংলাদেশ দল আবারও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছে, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি বড় খবর।
বিসিবির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে পা রাখবে। সফরের শুরুর দিনগুলোতে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিউইরা ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় পাবে। এরপর ১৭ এপ্রিল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচের মাধ্যমে মাঠের লড়াই শুরু হবে। একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২০ এপ্রিল। ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি খেলতে দুই দল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যাবে, যেখানে ২৩ এপ্রিল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কিউইদের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে।
ওয়ানডে সিরিজের লড়াই শেষ হওয়ার পর শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ২৭ এপ্রিল প্রথম টি-টোয়েন্টি এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলতে দুই দল আবারও ঢাকায় ফিরে আসবে এবং ২ মে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের পর্দা নামবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ ফ্লাডলাইটের আলোয় সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের এই সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পরপরই কিউইদের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই টাইগারদের শক্তির বড় পরীক্ষা নেবে। এছাড়া টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার কারণে এই সিরিজটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিসিবির কর্মকর্তারা। ঘরের মাঠের চেনা কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ধারা বজায় রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে বিসিবি ও জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেল। এই সিরিজের মাধ্যমে মাঠের ক্রিকেটে নতুন উত্তেজনা ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাম্প্রতিক সাফল্য, বিশেষ করে সাফ ফুটসালের অভিষেক আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের পর এবার ঘরোয়া ফুটবলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দীর্ঘ ১৬ বছরের খরা কাটিয়ে বাফুফের ফুটসাল কমিটি আবারও ঘরোয়া পর্যায়ে ফুটসাল লিগ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এবারের আসরের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, সাবিনা খাতুনদের মতো নারী ফুটবলারদের জন্য প্রথমবারের মতো ঘরোয়া ফুটসাল লিগের দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
দেশের ফুটসালে সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক আসর বসেছিল ২০০৮ সালে। সে সময় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোকে নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ব্রাদার্স ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত দেড় দশকে আর এই খেলাটি ঘরোয়া পর্যায়ে মাঠে গড়ায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও দেশের ভেতরে কোনো কাঠামো না থাকায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির পথ অনেকটাই রুদ্ধ ছিল। এই স্থবিরতা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে বাফুফে নারী ও পুরুষ—উভয় বিভাগের জন্যই নতুন করে লিগ আয়োজনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
এবারের লিগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্লাবগুলোর জন্য বেশ কিছু কঠোর ও নতুন শর্ত আরোপ করেছে বাফুফে। বাফুফের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ক্লাব এই লিগে অংশ নিতে আগ্রহী, তাদের জন্য নারী ও পুরুষ উভয় দল গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ক্লাব চাইলেই কেবল এক বিভাগে অংশ নিতে পারবে না। এর পাশাপাশি দলগুলোকে আগামী অন্তত দুই মৌসুম নিয়মিতভাবে এই লিগে খেলার লিখিত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। ফুটবলারদের নিরাপত্তা ও লিগের মান নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে ৫ লাখ টাকা গ্যারান্টি মানি হিসেবে বাফুফের অনুকূলে পে-অর্ডার করতে হবে, যা লিগের নিয়ম ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তীতে ফেরতযোগ্য।
দলের নামকরণের ক্ষেত্রেও বাফুফে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে দল গঠন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পত্র জমা দিতে হবে। বাফুফের ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটি আগ্রহী দলগুলোর আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আগামী ২ মে থেকে এই ফুটসাল লিগ শুরু করার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাফুফের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নারী ফুটবলাররা যখন আন্তর্জাতিক ফুটসালে দাপট দেখাচ্ছেন, তখন ঘরোয়া লিগের এই ঘোষণা তাদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ঘরোয়া ফুটবলে নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু না হওয়ার যে দীর্ঘ সংস্কৃতি রয়েছে, তার মাঝে ২ মে ফুটবল মাঠে গড়ায় কি না, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে কিছুটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন না জানালেও, বাফুফে আশা করছে বড় ক্লাবগুলো দ্রুতই তাদের দল গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবেদনের আওতায় আসবে। সব মিলিয়ে মে মাসেই ফুটসালের এক নতুন উন্মাদনা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের ফুটবল ভক্তরা।
সাবেক মালিক রোমান আব্রামোভিচের আমলে খেলোয়াড় দলবদলে আর্থিক অনিয়ম ও 'গোপন পেমেন্ট' প্রদানের দায়ে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব চেলসি। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ক্লাবটিকে রেকর্ড ১ কোটি পাউন্ড জরিমানা করার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য একটি স্থগিত ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মূলত ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে খেলোয়াড় কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্লাবের পক্ষ থেকে নিবন্ধনহীন এজেন্ট ও তৃতীয় পক্ষকে অর্থ প্রদানের প্রমাণ পাওয়ায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এডেন হ্যাজার্ড, স্যামুয়েল ইতো, উইলিয়ান, রামিরেজ এবং ডেভিড লুইজের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের দলবদলের সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লক্ষ পাউন্ড গোপন অর্থ লেনদেন করা হয়েছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা এটিও স্পষ্ট করেছে যে, এই আর্থিক কেলেঙ্কারির পেছনে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা তৎকালীন কোচদের কোনো ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা পাওয়া যায়নি। চেলসির বর্তমান মালিক টড বোহলি ২০২২ সালে ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণের পর অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে এই অসংগতিগুলো খুঁজে পান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্বেচ্ছায় প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে সব তথ্য রিপোর্ট করেন।
চেলসি কর্তৃপক্ষ তদন্তে স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা করায় এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় বড় ধরনের শাস্তি থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছে তারা। বিশেষ করে লিগ টেবিল থেকে পয়েন্ট কাটার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত না নিয়ে জরিমানার অংকটি ২ কোটি পাউন্ড থেকে কমিয়ে ১ কোটি পাউন্ডে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে মূল দলের জন্য ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞাটি আপাতত স্থগিত রাখা হলেও ক্লাবের একাডেমির ওপর তাৎক্ষণিক ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে একাডেমি খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে এই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্লাবকে আরও ৭ লক্ষ ৫০ হাজার পাউন্ড অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হবে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে চেলসি ক্লাব থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তারা শুরু থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নিয়ম মেনে চলা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে তারা সমস্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে। চেলসি ভক্তদের জন্য এটি একটি দুশ্চিন্তার বিষয় হলেও পয়েন্ট কাটা না যাওয়ায় ক্লাবটির আগামী দিনের লড়াইয়ে অন্তত মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে একাডেমির ওপর আসা এই নিষেধাজ্ঞা ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পাইপলাইন তৈরির ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করতে পারে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও খেলোয়াড় যাচাই-বাছাইয়ের অন্তিম লগ্নে এসে বড় ধরনের চমক দেখালেন ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচগুলোর জন্য ২৬ সদস্যের শক্তিশালী সেলেসাও স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই তালিকায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতি। প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকায় ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন উঠেছিল যে, অবশেষে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফিরছেন এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়াই দল সাজিয়েছেন আনচেলত্তি, যা নেইমার ভক্তদের জন্য এক বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘোষিত এই স্কোয়াড নিয়ে ব্রাজিলের পরবর্তী গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে আগামী ২৬ মার্চ বোস্টনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। এর মাত্র পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ৩১ মার্চ অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আরেকটি কঠিন লড়াইয়ে নামবে আনচেলত্তির শিষ্যরা। নেইমারকে বাদ দিলেও এই দলে তরুণ তুর্কি এন্ড্রিকের প্রত্যাবর্তন দলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক শিষ্য এন্ড্রিককে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার জাতীয় দলে ডাকলেন আনচেলত্তি। এন্ড্রিকের পাশাপাশি এবারই প্রথম সেলেসাও জার্সিতে সুযোগ পেয়েছেন ফ্ল্যামেঙ্গোর লিও পেরেইরা, গালাতাসারেইয়ের গ্যাব্রিয়েল সারা, ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো এবং তরুণ প্রতিভা রায়ান। এছাড়া রক্ষণে অভিজ্ঞতা বাড়াতে আবারও ফেরানো হয়েছে দানিলো ও ইবানেজকে।
দলে নেইমারের অনুপস্থিতি এবং ইনজুরি আক্রান্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে মুখ খুলেছেন কার্লো আনচেলত্তি। স্কোয়াড ঘোষণার পর তিনি জানিয়েছেন যে, খেলোয়াড়দের বর্তমান ফিটনেসকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগো গোয়েস ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন থেকে ছিটকে যাওয়ায় তিনি দলে নেই। এছাড়া এডার মিলিটাও, ব্রিনো গুইমারেস ও এস্তেভাওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রাও চোটের কারণে স্কোয়াডের বাইরে রয়েছেন। আনচেলত্তি বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে দীর্ঘ ভ্রমণ এবং উচ্চশক্তির ম্যাচ খেলার জন্য যারা শতভাগ ফিট আছেন, কেবল তাদেরই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নেইমারের বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, ফিটনেস জটিলতা ও সাম্প্রতিক সময়ে সান্তোসের হয়ে একটি ম্যাচ মিস করায় তাকে নিয়ে ঝুঁকি নেননি কোচ।
নতুন এবং পুরোনো খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া এই দলে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন অভিজ্ঞ অ্যালিসন বেকার, এডারসন এবং বেন্তো। রক্ষণভাগে অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিয়োস এবং ওয়েসলিকে রাখা হয়েছে। মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যাসেমিরো, ফ্যাবিনিয়ো, অ্যান্দ্রে সান্তোস এবং গ্যাব্রিয়েল সারার মতো তারকাদের। অন্যদিকে আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা ও এন্ড্রিকের সঙ্গে থাকছেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, জোয়াও পেদ্রো, লুইজ হেনরিক, ম্যাথিউস কুনহা এবং রায়ান।
আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেইমারকে ছাড়াই ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই পরীক্ষা আনচেলত্তির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে দলের মূল কাঠামো দাঁড় করাতে এই দুটি প্রীতি ম্যাচকে অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখছেন সেলেসাও কোচ। নতুন চার মুখ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের কতটুকু মানিয়ে নিতে পারে এবং এন্ড্রিকের ফেরা ব্রাজিলের গোলখরা কাটাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে নেইমারহীন এই ব্রাজিল দল বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তির বিপক্ষে কেমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আগামী এপ্রিলে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করার পর বর্তমানে নিগার সুলতানা জ্যোতিরা অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছেন, আর এরই মাঝে লঙ্কানদের বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম দুই দল কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যা উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
লঙ্কান নারী ক্রিকেট দল ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে। সফরের শুরুতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে, যা একটি বিশেষ কারণে দেশের ক্রিকেটে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ আয়োজিত হবে রাজশাহীতে। আগামী ২০ এপ্রিল সিরিজের প্রথম ওয়ানডে মাঠে গড়াবে। পরবর্তী দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ২২ ও ২৫ এপ্রিল। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ওয়ানডে সিরিজটি কেবল দুই দলের লড়াই নয়, বরং এই ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো কোনো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজিত হতে যাচ্ছে, যা উত্তরের এই শহরের ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এক বড় পাওয়া। প্রতিটি ম্যাচ সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে।
ওয়ানডে সিরিজের লড়াই শেষ করে ২৬ এপ্রিল উভয় দল সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। সেখানে তারা তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ এপ্রিল। এরপর ৩০ এপ্রিল দ্বিতীয় এবং ২ মে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আয়োজিত হবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবগুলো ম্যাচ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজ শেষে ৩ মে শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা ঢাকা ত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দেশে ফেরার পর থেকেই নিবিড় অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে। ঈদের ছুটির পর এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি তাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে চেনা কন্ডিশনে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো ফলাফল করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি আরও সুসংহত করতে চায় টাইগ্রেসরা। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নারী ক্রিকেটের সম্পর্ক যেমন আরও মজবুত হবে, তেমনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রসার ঘটবে বলে আশা করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে এপ্রিলের এই সিরিজটি নারী ক্রিকেটের দর্শকদের জন্য এক দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ সময় উপহার দেবে।
২০২৬ সালের ফুটবল ক্যালেন্ডারের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা বিজয়ী আর্জেন্টিনার মধ্যকার ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক বিকল্প প্রস্তাবের পর ভেন্যু নির্বাচন এবং তারিখ নিয়ে দুই মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা ও কনমেবলের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত ঐক্যমত্য না হওয়ায় এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সিডিউল নিয়ে জটিলতা এই ম্যাচ বাতিলের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই অঞ্চলের বিদ্যমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে আয়োজক সংস্থাগুলো ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিকল্প হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচটি আয়োজনের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই প্রস্তাবের বিষয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল। বার্নাব্যুতে খেলার বিষয়ে আর্জেন্টিনার অনীহা এবং ভেন্যু নিয়ে ভিন্নমতের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে।
ম্যাচটি সফলভাবে আয়োজন করতে উয়েফা আরও বেশ কিছু বিকল্প প্রস্তাব সামনে এনেছিল। তারা সমান সংখ্যক দর্শক বণ্টনের শর্তে মাদ্রিদে খেলার প্রস্তাব দেয় এবং এমনকি ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে দুটি ম্যাচ আয়োজনের ধারণাও দিয়েছিল—যার একটি হওয়ার কথা ছিল মাদ্রিদে এবং অন্যটি বুয়েনস আয়ার্সে। এছাড়া নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতেও ম্যাচটি আয়োজনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে উয়েফার দেওয়া এসব প্রস্তাবের কোনোটিই আর্জেন্টিনা গ্রহণ করেনি। আর্জেন্টিনা চেয়েছিল ম্যাচটি আগামী ফুটবল বিশ্বকাপের পর কোনো একটি সময়ে আয়োজন করা হোক। কিন্তু স্পেনের আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে বিশ্বকাপের পরে কোনো ফাঁকা সময় বের করা সম্ভব ছিল না।
শেষ পর্যায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কেবল ৩১ মার্চ ম্যাচটি খেলার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর ছিল না। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান না আসায় উয়েফা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ফিনালিসিমা বাতিলের ঘোষণা দেয়। উয়েফা তাদের বিবৃতিতে কাতারের আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ফিনালিসিমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার ফুটবল বিশ্ব স্পেনের তরুণ প্রজন্মের নান্দনিক ফুটবল আর আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ দলের এক ধ্রুপদী লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকলেও, মাঠের সেই উত্তেজনা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন ফুটবল প্রেমীরা। শেষ পর্যন্ত দুই পরাশক্তির এই লড়াইটি এখন কেবলই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের তালিকায় চলে গেল।