সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
২ চৈত্র ১৪৩২

উড়ন্ত সূচনায় খুশি জ্যোতি

এভাবেই লং অন দিয়ে ৬ মেরে দলকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ছবি: ফোকাস বাংলা
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২২ ০৮:৩৬

দেবাশীষ দেবু, সিলেট

চ্যাম্পিয়নদের মতোই এশিয়া কাপ শুরু করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে থাইল্যান্ডকে। ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

গতকাল শনিবার সিলেটে উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে এমন উড়ন্ত সূচনা করতে পেরে খুশি বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

মেয়েদের পারফরম্যান্সে খুশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও। ফাইনালই তার লক্ষ্য বলে জানালেন। গতকাল সকালে সিলেটে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করে পরে পুরো ম্যাচ দেখেন বিসিবি প্রধান।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ ভালো লেগেছে। আমরা যদি বিশ্ব র‍্যাংকিং দেখি বাংলাদেশ বোধ হয় ৯ নম্বরে। এরপর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে। এই দলগুলো কাছাকাছি মানের।’

‘যেহেতু কাছাকাছি মানের দল আর গতবার তারা বিশ্বকাপ খেলেছে সেহেতু তারা খুব শক্তিশালী একটা প্রতিপক্ষ আমাদের জন্য। সে জন্য একটা ভয় পাচ্ছিলাম, একটা টাইট ম্যাচ হবে কি না। কিন্তু যেভাবে তারা খেলেছে, যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা খেলেছে খুবই ভালো লাগছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক দিন ধরেই ভালো খেলছে। কিন্তু আমরা সে দিকে তাকাচ্ছি না। এই দলটা তো এবার প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না। এর আগেও কোয়ালিফাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে, এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সাফ গেমসে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে গোল্ড মেডেল পেয়েছে। তারা তো ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করছে।

এভাবে ভালো খেলতে থাকলে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম টার্গেট সেমিফাইনাল। এরপর ফাইনাল। ফাইনালেও ভালো খেলার আশা করছি। এই পথে ভারতই বড় বাধা হতে পারে জানিয়ে পাপন বলেন, ‘ভারত দল গত এক বছরে অনেক ইম্প্রুভ করেছে। তারা ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে হারাচ্ছে ইদানীং, একই সঙ্গে বাংলাদেশও অনেক ইম্প্রুভ করে গত কয়েক দিনে। তাই ম্যাচটা টাইট হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’

এদিকে টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো করতে পেরে খুশি টাইগ্রেস দলপতি নিগার সুলতানা জ্যোতি। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে ম্যাচসেরা হওয়া শামীমারও প্রশংসা করলেন জ্যোতি। তিনি বলেন, আমাদের সব সময় পরিকল্পনা থাকে আমরা যেন পাওয়ার প্লেটা ইউজ করতে পারি। শামীমা আপু খুব অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। পাশাপাশি পিংকি খুব ভালো সাপোর্ট দিয়ে গেছে। আমরা কিন্তু এটাই চাই। আমার কাছে মনে হয় ভালো একটা স্টার্ট। বোলারদের প্রশংসাও ঝরলো জ্যোতির কণ্ঠে। বলেন, বোলাররা কিন্তু সবসময় ভালো করে। আমরা যেভাবে প্ল্যান করেছিলাম তাদেরকে একশর নিচে রাখতে পারি। সেই ক্ষেত্রে বোলাররা আরও বেশি ভালো করেছে। যেমন পাওয়ার প্লেতে আমরা কিন্তু বাউন্ডারি যেতে দেইনি। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সিলেটের উইকেটে বল লো হচ্ছে জানিয়ে টাইগ্রেস অধিনায়ক বলেন, উইকেট ভালো তবে একটু লো হচ্ছে। আমার কাছে মনে হয় ডে বাই ডে আরও উন্নতি হবে। আমরা যেহেতু এখানে খেলে গেছি, তাই আমাদের কাছে এত আনকমফোরট্যাবল ছিল না। শুরুটা ভালো হওয়ার প্রভাব টুনার্মেন্টের পরের ম্যাচগুলোতে পড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, একটা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুরো টুর্নামেন্ট আপনি কি করতে যাচ্ছেন, সেটার একটা টোন সেট করে। এ ছাড়া টিমটাকেও এই জয় চাঙা করে তুলবে।


বাতিল হয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’

আপডেটেড ১৬ মার্চ, ২০২৬ ১৪:৪৭
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ সালের ফুটবল ক্যালেন্ডারের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা বিজয়ী আর্জেন্টিনার মধ্যকার ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক বিকল্প প্রস্তাবের পর ভেন্যু নির্বাচন এবং তারিখ নিয়ে দুই মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা ও কনমেবলের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত ঐক্যমত্য না হওয়ায় এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সিডিউল নিয়ে জটিলতা এই ম্যাচ বাতিলের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই অঞ্চলের বিদ্যমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে আয়োজক সংস্থাগুলো ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। বিকল্প হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচটি আয়োজনের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই প্রস্তাবের বিষয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল। বার্নাব্যুতে খেলার বিষয়ে আর্জেন্টিনার অনীহা এবং ভেন্যু নিয়ে ভিন্নমতের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে পড়ে।

ম্যাচটি সফলভাবে আয়োজন করতে উয়েফা আরও বেশ কিছু বিকল্প প্রস্তাব সামনে এনেছিল। তারা সমান সংখ্যক দর্শক বণ্টনের শর্তে মাদ্রিদে খেলার প্রস্তাব দেয় এবং এমনকি ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে দুটি ম্যাচ আয়োজনের ধারণাও দিয়েছিল—যার একটি হওয়ার কথা ছিল মাদ্রিদে এবং অন্যটি বুয়েনস আয়ার্সে। এছাড়া নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতেও ম্যাচটি আয়োজনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে উয়েফার দেওয়া এসব প্রস্তাবের কোনোটিই আর্জেন্টিনা গ্রহণ করেনি। আর্জেন্টিনা চেয়েছিল ম্যাচটি আগামী ফুটবল বিশ্বকাপের পর কোনো একটি সময়ে আয়োজন করা হোক। কিন্তু স্পেনের আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে বিশ্বকাপের পরে কোনো ফাঁকা সময় বের করা সম্ভব ছিল না।

শেষ পর্যায়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কেবল ৩১ মার্চ ম্যাচটি খেলার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর ছিল না। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান না আসায় উয়েফা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ফিনালিসিমা বাতিলের ঘোষণা দেয়। উয়েফা তাদের বিবৃতিতে কাতারের আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ফিনালিসিমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার ফুটবল বিশ্ব স্পেনের তরুণ প্রজন্মের নান্দনিক ফুটবল আর আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ দলের এক ধ্রুপদী লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকলেও, মাঠের সেই উত্তেজনা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন ফুটবল প্রেমীরা। শেষ পর্যন্ত দুই পরাশক্তির এই লড়াইটি এখন কেবলই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের তালিকায় চলে গেল।


অ্যানফিল্ডে রিচার্লিসনের শেষ মুহূর্তের ম্যাজিক: লিভারপুলের স্বপ্নভঙ্গ, দাপুটে জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পথে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের জয়রথ থামিয়ে দিয়েছে টটেনহাম হটস্পার। টানা হারের বৃত্তে থাকা স্পাররা হারের মুখ থেকে ফিরে এসে ১-১ গোলে ড্র করেছে অলরেডদের সঙ্গে। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলিয়ান তারকা রিচার্লিসনের জাদুকরী গোলে মূল্যবান এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় টটেনহাম। এই ড্রয়ের ফলে লিভারপুলের আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্নে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

রোববার রাতে ঘরের মাঠে টটেনহামের বিপক্ষে শুরু থেকেই দাপট দেখায় লিভারপুল। ম্যাচের ১৮ মিনিটেই লিড নেয় ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। ডমিনিক সোবোসলাইর দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক ফেরাতে ব্যর্থ হন টটেনহাম গোলরক্ষক গুগলিয়েলমো ভিকারিও। এই গোলের মাধ্যমে সোবোসলাই চলতি মৌসুমে তার চতুর্থ ফ্রি-কিক গোল পূর্ণ করেন, যা তাকে লিভারপুলের ইতিহাসে ডেভিড বেকহাম ও লরেন রবার্টের মতো কিংবদন্তিদের রেকর্ডের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। প্রথমার্ধে লিড ধরে রেখে লিভারপুল জয়ের পথেই ছিল।

তবে বিরতির পর ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় টটেনহাম। লিভারপুলের বিপক্ষে টানা ষষ্ঠ হারের শঙ্কায় থাকা স্পারদের ত্রাতা হয়ে আসেন বদলি খেলোয়াড় রিচার্লিসন। ম্যাচের অন্তিমলগ্নে র‌্যান্ডাল কোলো মুয়ানির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে লিভারপুলের অতন্দ্র প্রহরী আলিসন বেকারকে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলের সাথে সাথেই উল্লাসে ফেটে পড়ে টটেনহাম শিবির। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ইগো টিউডরের অধীনে পাঁচ ম্যাচে এটিই টটেনহামের প্রথম পয়েন্ট, যা তাদের অবনমন অঞ্চল থেকে কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিল। বর্তমানে ৩০ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে লিভারপুল।

একই রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অন্য এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দৌড়ে থাকা দুই শক্তিশালী দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও অ্যাস্টন ভিলা। ব্রুনো ফার্নান্দেসের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ৩-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে রেড ডেভিলরা। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে কাসেমিরোর গোলে লিড নেয় ইউনাইটেড। যদিও ৬৪ মিনিটে রস বার্কলি গোল করে ভিলাকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্বাগতিকরা। ৭১ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহা এবং ৮১ মিনিটে বেঞ্জামিন সেসকোর লক্ষ্যভেদী শটে জয় নিশ্চিত হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।

এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের তিনে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৩০ ম্যাচে ৫৪। অন্যদিকে চতুর্থ স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার সংগ্রহ ৫১ পয়েন্ট। ম্যানইউর এই দাপুটে জয় তাদের ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল আসরে খেলার পথ অনেকটা মসৃণ করে দিয়েছে। অন্যদিকে একই রাতে লিভারপুলের ড্র এবং ভিলার হার লিগ টেবিলের সমীকরণকে আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের লড়াই ঠিক করে দেবে কারা শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট হাতে পাবে।


রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক জাদুতে সেভিয়াকে বিধ্বস্ত করল বার্সেলোনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। লিগের ২৮তম রাউন্ডের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার অসামান্য হ্যাটট্রিকে সেভিয়াকে ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে কাতালানরা। গত রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ৫০ হাজারেরও বেশি উল্লাসিত দর্শকের সামনে দাপুটে ফুটবল খেলে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। এই জয়ের ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৪ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল বার্সেলোনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে সেভিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে বার্সেলোনা। দলের পক্ষে গোল উৎসবের সূচনা করেন রাফিনিয়া। ম্যাচের ২১তম এবং ৩৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। বিরতির ঠিক আগে ৪০ মিনিটের মাথায় দানি ওলমো দুর্দান্ত এক গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। যদিও প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ওসো সেভিয়ার হয়ে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন, তবে দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার আক্রমণের ধার কমেনি।

বিরতি থেকে ফিরে এসে ম্যাচের ৫১ মিনিটে নিজের একক নৈপুণ্যে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রাফিনিয়া। চলতি লিগ মৌসুমে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক, যা দলের জয়কে প্রায় নিশ্চিত করে দেয়। এরপর ৬০ মিনিটের মাথায় পর্তুগিজ তারকা জোয়াও ক্যানসেলো দলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করলে সেভিয়া পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। খেলার অন্তিমলগ্নে জিব্রিল সো সফরকারী সেভিয়ার হয়ে আরও একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৫-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

এই জয়টি বার্সেলোনার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আগামী বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে তারা শক্তিশালী নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে। সেই বড় ম্যাচের আগে এই জয় ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া এই জয়ের মাধ্যমে ঘরের মাঠে টানা ১৪টি লিগ ম্যাচ জেতার এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল বার্সেলোনা। বর্তমানে ২৮ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা, যেখানে সমান ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে, পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে ২৮ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৪তম স্থানে পড়ে রইল সেভিয়া। তাদের পরবর্তী লড়াই ঘরের মাঠে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে।


বার্সেলোনার মসনদে আবারও হুয়ান লাপোর্তা: ২০৩১ সাল পর্যন্ত থাকছেন ক্লাবটির দায়িত্বে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন হুয়ান লাপোর্তা। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভিক্টর ফন্টকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। কাতালান টেলিভিশন চ্যানেল টিভিথ্রি-এর জরিপ ও প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ সংগঠক মোট ভোটের ৬৬ শতাংশ পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই জয়ের ফলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে কাতালান ক্লাবটির শীর্ষ পদে আসীন থাকছেন তিনি।

নির্বাচনের দিনটি বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য ছিল দ্বিগুণ আনন্দের। একদিকে মাঠের লড়াইয়ে সেভিয়াকে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত করে বড় জয় পায় বার্সা, যেখানে রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক ছিল প্রধান আকর্ষণ। মাঠের সেই সাফল্যের রেশ থাকতেই প্রথম দলের অনেক ফুটবলার সরাসরি ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সারা কাতালুনিয়া জুড়ে হাজার হাজার সমর্থক সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমান। জয়ের ব্যাপারে লাপোর্তা এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই তিনি স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে বিজয় উদযাপনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি সেরে রেখেছিলেন বলে স্প্যানিশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এবারের নির্বাচনের প্রচারণা ছিল বেশ উত্তপ্ত। প্রতিদ্বন্দ্বী ভিক্টর ফন্ট বারবার লিওনেল মেসির ক্লাব ছাড়ার প্রসঙ্গ এবং লাপোর্তার সঙ্গে মেসির তিক্ত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে লাপোর্তা অত্যন্ত কৌশলে তার প্রচারণা সাজিয়েছিলেন ক্লাবের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মাঠের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে। তিনি সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ক্লাবের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য তার চেয়ে যোগ্য কেউ নেই। শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার সদস্যরা তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রেখেছেন।

উল্লেখ্য যে, হুয়ান লাপোর্তা ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা ছিল ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময়। এরপর ২০২১ সালে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ক্লাব পরিচালনা করছেন। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই নতুন মেয়াদে লাপোর্তার সামনে এখন প্রধান কাজ হবে বার্সেলোনার ঋণের বোঝা কমিয়ে আনা এবং বিশ্ব ফুটবলের রাজসিংহাসনে ক্লাবটিকে পুনরায় সুপ্রতিষ্ঠিত করা। কাতালান সমর্থকরা আশা করছেন, লাপোর্তার নেতৃত্বে বার্সেলোনা আবারও সাফল্যের সোনালী যুগে ফিরে যাবে।


পাকিস্তানকে হারিয়ে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি বাংলাদেশের

আপডেটেড ১৬ মার্চ, ২০২৬ ১১:৪৫
ক্রীড়া ডেস্ক

পলিটিক্যাল কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা না হলেও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে বাংলাদেশের কামব্যাক হয়েছে বেশ দুর্দান্ত। হোমে নিজেদের দর্শকদের সামনে ফার্স্ট দ্বিপাক্ষিক সিরিজটিই জিতে নিল বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে পরবর্তী টার্গেট ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার রেসে এক স্টেপ এগিয়ে গেল টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর সিরিজ জয়ের ফলে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়েও বড় পজিশন ইমপ্রুভ করেছে বাংলাদেশ।

সিরিজের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্তভাবে। ফার্স্ট ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেলেও সেকেন্ড ম্যাচে বেশ বাজেভাবে হেরে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে ডিসাইডিং থার্ড ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ১১ রানের জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলেই ওডিআই র‍্যাংকিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে ৯ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর র‍্যাংকিংয়ের ১০ নম্বরে থাকলেও রেটিং পয়েন্টের ডিফারেন্স ছিল মাত্র ১। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ, যা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯-তে। অন্যদিকে ৭৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে নেমে গেছে ক্যারিবীয়রা। সিরিজ হারলেও পাকিস্তান তাদের ৪ নম্বর পজিশন ধরে রেখেছে, তবে তাদের রেটিং পয়েন্ট ১০৫ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০২-এ।

আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডিরেক্টলি কোয়ালিফাই করার জন্য এই র‍্যাংকিং ইমপ্রুভমেন্ট খুবই ভাইটাল। আগামী বছরের ৩১ মার্চ র‍্যাংকিংয়ের ওপর ভিত্তি করে ডেটলাইন চূড়ান্ত হবে কোন দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র‍্যাংকিংয়ের টপ ৮ দল ডিরেক্টলি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি আরেকটি হোস্ট নেশন নামিবিয়াও ডিরেক্ট এন্ট্রি পাবে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা র‍্যাংকিংয়ের টপ ৮-এর মধ্যে থাকতে পারে, তবে র‍্যাংকিংয়ের ৯ নম্বর দলও ডিরেক্টলি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। সেই সমীকরণে বাংলাদেশকে অন্তত টপ ৯-এর মধ্যে থাকতে হতো এবং বর্তমানে তারা সেই পজিশন সিকিউর করেছে।

এদিকে সিরিজের থার্ড ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিগ স্ক্রিন দেখে থার্ড আম্পায়ার রিভিউ চেক করার সময় প্রপার রুলস মেইনটেইন করেননি বলে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান টিম। তবে যাবতীয় ডিবেট পেছনে ফেলে সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য বড় কনফিডেন্স হিসেবে কাজ করবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে এই সাকসেস বাংলাদেশের জন্য নেক্সট ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ালিফিকেশন পাথ অনেক সহজ করে দিল। র‍্যাংকিংয়ের এই পজিশন ধরে রাখতে পারলে ডিরেক্টলি বিশ্বকাপে খেলার বড় সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।


পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে নাটকীয় লড়াই শেষে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ায়। শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। বোলিংয়ে ছিলেন রিশাদ হোসেন। প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি শাহিন আফ্রিদি। তৃতীয় বলে তিনি দুই রান নিলেও পরের দুই ডেলিভারিতে আবারও রান আটকে দেয় বাংলাদেশ। শেষ বলে উইকেট হারায় পাকিস্তান। ডাউন দ্য উইকেটে এসে বল মিস করলে লিটন দাস স্টাম্পিং করেন শাহিন আফ্রিদিকে। তাতেই ১১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে বাংলাদেশের দেওয়া ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। এরপর নাহিদ রানাও দ্রুত উইকেট পেয়ে চাপ বাড়ান। মাত্র তিন ওভারের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।

পরে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আবদুল সামাদ ও গাজী ঘোরি। তবে তাদের জুটি ভেঙে দেন নাহিদ রানা। এরপর আগা সালমান লড়াই চালিয়ে যান এবং ছক্কা মেরে শতক পূর্ণ করেন। তিনি ৯৮ বলে ১০৬ রান করেন। তবে শেষদিকে তাকে আউট করেন তাসকিন আহমেদ, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন চারটি উইকেট নেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাও।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন ওপেনার তানজিদ হাসান। তিনি ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

তানজিদের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ১০৫ রান যোগ করেন সাইফ হাসান, যিনি করেন ৩৬ রান। দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেনের সঙ্গে তানজিদ গড়েন আরও ৫৩ রানের জুটি। পরে তাওহিদ হৃদয় ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন এবং লিটন দাস করেন ৪১ রান।

শেষদিকে আফিফ হোসেন ও হৃদয়ের ছোট কিন্তু কার্যকর জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ২৯০ রানে।

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।


আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন সরফরাজ আহমেদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার সরফরাজ আহমেদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল প্রায় দুই দশকের এক বর্ণাঢ্য ও গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারের।

করাচিতে জন্ম নেওয়া সরফরাজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে। এর তিন বছর পর ২০১০ সালে তিনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও অভিষেক করেন। পাকিস্তানের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি একদিনের ম্যাচ এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তিনি মোট ৬ হাজার ১৬৪ রান সংগ্রহ করেছেন। তার ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে ৬টি শতরান ও ৩৫টি অর্ধশতক। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতেও তিনি ছিলেন অনন্য; নিয়েছেন ৩১৫টি ক্যাচ এবং করেছেন ৫৬টি স্টাম্পিং।

সরফরাজ আহমেদ তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অধিনায়কত্বেই পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। এছাড়া তার অধীনে দলটি টানা ১১টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।

তবে সরফরাজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জয় করে পাকিস্তান। তিনি পাকিস্তানের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে এই শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর আগে ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফলে জুনিয়র ও সিনিয়র—উভয় পর্যায়ে বৈশ্বিক শিরোপা জেতা একমাত্র পাকিস্তানি অধিনায়ক হিসেবে তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।

ব্যক্তিগত রেকর্ডেও সরফরাজ ছিলেন সমান উজ্জ্বল। ২০১৯ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্ট ম্যাচে ১০টি ক্যাচ নিয়ে তিনি পাকিস্তানের হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। এছাড়া ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শতরান করার মাধ্যমে পাকিস্তানের একমাত্র উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে সেই বিশেষ কীর্তি স্থাপন করেন।

২০২৩ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচটিই ছিল পাকিস্তানের জার্সিতে সরফরাজের শেষ উপস্থিতি। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবেগপ্রবণ হয়ে সরফরাজ বলেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হাতে তোলা—প্রতিটি মুহূর্তই তার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই প্রস্থান পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে।


দুইজন কম নিয়ে লড়েও হারেনি বায়ার্ন মিউনিখ, নাটকীয় ড্রয়ে ফিরল স্বস্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

জার্মান ফুটবল লিগে বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয় ম্যাচে কোনোমতে হার এড়িয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম এবং পরবর্তীতে দলের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। অধিকাংশ সময় ১০ জন এবং শেষ দিকে ৯ জন নিয়ে লড়াই করেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে পারা বায়ার্নের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বায়ার্ন মিউনিখ। ষষ্ঠ মিনিটে স্বাগতিক লেভারকুজেনকে এগিয়ে দেন স্প্যানিশ মধ্যমাঠের খেলোয়াড় আলেইশ গার্সিয়া। গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া বায়ার্ন বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে তেমন ধার দেখাতে পারছিল না। উল্টো প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে সেনেগালের ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন প্রতিপক্ষের একজনকে বিপজ্জনকভাবে বাধা দিলে ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তায় রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।

দ্বিতীয়ার্ধেও নাটকের শেষ ছিল না। ৬১ মিনিটে হ্যারি কেইন বল জালে পাঠিয়ে দলকে উল্লাসে মাতালেও কিছুক্ষণ পরেই সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়। ভিডিও প্রযুক্তিতে দেখা যায়, গোল করার আগে হ্যারি কেইনের হাতে বল লেগেছিল, ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে বায়ার্ন হাল ছাড়েনি। ৬৯ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান লুইস দিয়াস। সমতায় ফেরার পর যখন বায়ার্ন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই ৮৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় গোলদাতা লুইস দিয়াসকে।

শেষ কয়েক মিনিট ৯ জন নিয়ে লেভারকুজেনের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হয়েছে বায়ার্নকে। পুরো ম্যাচে লেভারকুজেন ১৮টি শট নিয়ে বায়ার্নকে ব্যতিব্যস্ত রাখলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগ আগলে রাখতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। বায়ার্নের ১০টি শটের মধ্যে চারটি লক্ষ্যে থাকলেও সেগুলো খুব একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেনি। এই ড্রয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানটি আরও মজবুত করল বায়ার্ন মিউনিখ। ২৬ ম্যাচ শেষে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা সবার উপরে রয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সংগ্রহ ৫৮ পয়েন্ট।


আল-খালিজকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল আল নাসর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সৌদি প্রো লিগের শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে বড় জয় তুলে নিয়েছে আল নাসর। শনিবার রাতে লিগের ২৬তম রাউন্ডের ম্যাচে আল-খালিজকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করল রিয়াদ ভিত্তিক দলটি।

দাম্মামের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন ফাহদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আল নাসরের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল স্বাগতিক আল-খালিজ। যদিও এই ম্যাচে দলের প্রধান তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো উপস্থিত ছিলেন না, তবে তার অভাব বুঝতে দেননি বাকি ফুটবলাররা। কোচ জেসুস গোলরক্ষক পিন্টো ম্যাথিউসের সঙ্গে রক্ষণভাগে ইনিগো মার্টিনেজ, মোহাম্মদ সিমাকান, আবদুলিলাহ আল-আমরি ও নাওয়াফ বুশালকে নিয়ে রক্ষণভাগ সাজিয়েছিলেন। মাঝমাঠ ও আক্রমণ সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন কিংসলে কোম্যান, মার্সেলো ব্রোজোভিচ, আইমান ইয়াহিয়া, জোয়াও ফেলিক্স, অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল এবং আবদুল্লাহ আল-হামদান।

খেলার শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে থাকা আল নাসর প্রথম গোলের দেখা পায় ৩১তম মিনিটে। মার্সেলো ব্রোজোভিচের নিখুঁত এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত লক্ষ্যভেদে দলকে এগিয়ে দেন আবদুল্লাহ আল-হামদান। প্রথমার্ধের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে আল নাসর। ৫৪ মিনিটে আইমান ইয়াহিয়া দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ম্যাচের সবটুকু আলো কেড়ে নেন পর্তুগিজ তারকা জোয়াও ফেলিক্স। ৭৩ মিনিটে নিজের প্রথম এবং ৭৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আল-খালিজের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল। তার চমৎকার গোলের মধ্য দিয়ে ৫-০ ব্যবধানে বিশাল জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আল নাসর।

এই জয়ের পর ২৬ ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে সৌদি প্রো লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটি আরও মজবুত করল আল নাসর। তাদের ঠিক পেছনেই ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে আল হিলাল। অন্যদিকে, বড় হারের স্বাদ পাওয়া আল-খালিজ ৩০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১১তম স্থানে রয়েছে।


এলচেকে উড়িয়ে বার্সেলোনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে রিয়াল মাদ্রিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মাঝমাঠের জাদুকর ফেদেরিকো ভালভার্দের দুর্দান্ত ফর্মে ভর করে স্প্যানিশ ঘরোয়া ফুটবল আসরে বড় জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবারের এই লড়াইয়ে এলচেকে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান আরও কমিয়ে এনেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে ২৮ লড়াই শেষে রিয়ালের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৬৬ পয়েন্ট, যা বার্সেলোনার চেয়ে মাত্র এক কম। যদিও এক লড়াই কম খেলেছে কাতালান দলটি।

উরুগুয়ের আন্তর্জাতিক তারকা ভালভার্দে বর্তমানে তার ফুটবল জীবনের অন্যতম সেরা সময় পার করছেন। শেষ তিন লড়াইয়ে এটি ছিল তার পঞ্চম লক্ষ্যভেদ। প্রথমার্ধের ৩৮তম মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে দেন জার্মান রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী আন্তোনিও রুদিগার। ভালভার্দের নেওয়া একটি জোরালো শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত নিশানায় লক্ষ্যভেদ করেন রুদিগার।

বিরতির ঠিক আগে আবারও ভালভার্দের চমক। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে গিয়ে সতীর্থের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে ডি-বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। বিরতির পর ৬৬তম মিনিটে ডিন হুইসেনের চমৎকার এক মাথার ছোঁয়ায় রিয়ালের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০। খেলার শেষ দিকে ৮৫তম মিনিটে রিয়ালের হয়ে প্রথমবার বড়দের দলে মাঠে নামা তরুণ প্রতিভা মানুয়েল আনহেল প্রতিপক্ষের একটি বল ঠেকাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন।

তবে খেলার শেষ মুহূর্তে দর্শকদের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন তুর্কি তরুণ আর্দা গুলার। নিজের সীমানা থেকে বিপক্ষ দলের গোলরক্ষককে অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখে দূরপাল্লার এক অবিশ্বাস্য শট নেন তিনি। গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বলটি জালের ঠিকানা খুঁজে নিলে গ্যালারিতে উৎসবের জোয়ার বয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া প্রতিপক্ষের একটি জোরালো আক্রমণ প্রতিহত করলে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় মাদ্রিদ ক্লাবটির। এই জয়ের মাধ্যমে শিরোপার লড়াইয়ে বার্সেলোনার ওপর প্রবল চাপ তৈরি করল আনচেলত্তির শিষ্যরা।


১৬ বছর বয়সেই প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়লেন ডোম্যান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্সেনালের হয়ে মাঠে নামার পর থেকেই একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিচ্ছেন ম্যাক্স ডোম্যান। ১৬ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ এবং আর্সেনালের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে শুরুর একাদশে খেলার রেকর্ড আগেই গড়েছিলেন। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নাম লিখিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি।

গতকাল (শনিবার) রাতে ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে এভারটনের বিপক্ষে মাঠে নামে আর্সেনাল। ম্যাচজুড়ে অসংখ্য আক্রমণ করেও সফরকারী দলের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা, যা গ্যালারিতে হতাশা ছড়াচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন ডোম্যান। প্রথমে ভিক্টর গিওকেরেসের গোলে সহায়তা করেন এবং পরে অতিরিক্ত সময়ে নিজে গোল করে দলের ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন গিওকেরেস। এরপর যোগ করা সময়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া এভারটন একটি ফ্রি-কিকের সময় গোলরক্ষকসহ আর্সেনালের অর্ধে চলে আসে। সেই সুযোগে বল পেয়ে অসাধারণ গতিতে প্রতিপক্ষের অর্ধে ছুটে গিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান ডোম্যান। গোলটির পরেই আর্সেনালের খেলোয়াড়রা উৎসবে মেতে ওঠেন। মাত্র ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে ডোম্যান প্রিমিয়ার লিগে নতুন ইতিহাস রচনা করলেন।

এর আগে প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটি ছিল এভারটনের জেমস ভনের দখলে। ২০০৫ সালে তিনি ১৬ বছর ২৭০ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন। ডোম্যান তাকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিলেন। এই তালিকার পরের স্থানগুলোতে রয়েছেন জেমস মিলনার (১৬ বছর ৩৫৬ দিন), ওয়েইন রুনি (১৬ বছর ৩৬০ দিন), রিও এনগুমোহা (১৬ বছর ৩৬১ দিন), সেস ফ্যাব্রেগাস (১৭ বছর ১১৩ দিন) এবং মাইকেল ওয়েন (১৭ বছর ১৪৩ দিন)।

ম্যাচ শেষে তরুণ শিষ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন আর্সেনাল ম্যানেজার মিকেল আর্তেতা। তিনি বলেন, “এটি এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত। ম্যাচের আগে আমরা জয়ের জন্য যে ক্লান্তিহীন আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলাম, খেলোয়াড়রা তা করে দেখিয়েছে। এমিরেটসে আমাদের একসঙ্গে কাটানো সেরা মুহূর্তগুলোর মধ্যে এটি একটি। আমার মনে হয়, সে (ডোম্যান) স্টেডিয়ামে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। সে শুধু গোলই করেনি, পুরো খেলার চিত্র পাল্টে দিয়েছে। এই বয়সে এমন চাপের মুহূর্তে এটা স্বাভাবিক নয়।”

আর্তেতা আরও জানান, ৭৪ মিনিটে ডোম্যানকে বদলি হিসেবে নামানোর সময় তিনি তাকে বলেছিলেন, “যাও, নিজের মতো খেলো এবং আমাদের জিতিয়ে আনো। আমরা তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানতাম এবং সে তার প্রতিফলন দেখিয়েছে।”

এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ৩১ ম্যাচে ৭০। তারা দুইয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেল। একই দিনে ম্যানচেস্টার সিটি ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় আর্সেনালের এই ব্যবধান আরও বেড়েছে। তবে পেপ গার্দিওলার দল আর্সেনালের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে।


আইপিএলের টানে পিএসএল ছাড়লেন মুজারাবানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তান সুপার লিগকে (পিএসএল) বিদায় জানিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) যোগ দিলেন জিম্বাবুয়ের তারকা পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। পিএসএলের দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে খেলার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুজারাবানির এই আকস্মিক দলবদলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, মুজারাবানি ইতোমধ্যে তার সিদ্ধান্তের কথা ইসলামাবাদ ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবার কলকাতা নাইট রাইডার্সও এই জিম্বাবুইয়ান পেসারকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কলকাতা মূলত মুজারাবানিকে দলে নিয়েছে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায়। ২০২৬ সালের আইপিএল নিলামে কলকাতা ৯ কোটি ২০ লাখ ভারতীয় রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনেছিল। তবে গত ডিসেম্বরে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিসিসিআই) দেশটির ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের দাবির মুখে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কলকাতাকে নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে মুস্তাফিজ পিএসএলের দল লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।

মুজারাবানি এর আগে পিএসএলে মুলতান সুলতানসের হয়ে শিরোপা জিতেছিলেন। যদিও এবারের নিলামের শুরুতে তিনি কোনো দল পাননি। পরে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শামার জোসেফকে ছেড়ে দিলে মুজারাবানিকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নেয়।

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আইপিএল ও পিএসএলের সূচি একই সময়ে পড়ায় খেলোয়াড়দের নিয়ে দুই লিগের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়ছে। গত বছরও একই ঘটনা ঘটেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার করবিন বশ পিএসএলে পেশাওয়ার জালমির হয়ে নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দেন। এ কারণে পিএসএল কর্তৃপক্ষ তাকে এক মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল।

মুজারাবানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছিল। তার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ পিসিবি আইনি পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্লেসিং মুজারাবানি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন। তার দল জিম্বাবুয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তিনি ছয় ম্যাচে ১৩টি উইকেট নিয়েছিলেন এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের বড় জয়ে চারটি উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


উড়ন্ত ডুপ্লান্টিস, পঞ্চমবারের মতো ভাঙলেন বিশ্ব রেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেও যেন থামার কোনো লক্ষণ নেই আর্মান্ড ‘মন্ডো’ ডুপ্লান্টিসের। অবিশ্বাস্য গতি এবং পোলের নিখুঁত ব্যবহারে এই সুইডিশ পোল ভল্টার একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব রেকর্ড ভাঙলেন।

সুইডেনের উপসালায় নিজের নামাঙ্কিত প্রতিযোগিতা ‘মন্ডো ক্লাসিক’-এ ৬.৩১ মিটার (২০ ফুট, ৮ ১/৪ ইঞ্চি) উচ্চতায় লাফিয়ে সফল হয়েছেন ডুপ্লান্টিস। ২০২০ সালে প্রথমবার রেকর্ড ভাঙার পর থেকে তিনি প্রতিবারই এক সেন্টিমিটার করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। গত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং তার আগের বছর প্যারিস অলিম্পিকেও তিনি রেকর্ড গড়েছিলেন।

২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে এটি ছিল তার টানা ৩৮তম জয়। তার চেয়ে বেশিবার বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার কৃতিত্ব রয়েছে কেবল ইউক্রেনের কিংবদন্তি সের্গেই বুবকার। বুবকা ১৯৮০ থেকে ৯০-এর দশকে আউটডোরে ১৭ বার এবং ইনডোরে ১৮ বার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন।

ডুপ্লান্টিসের ঝুলিতে তিনটি আউটডোর বিশ্ব খেতাব এবং দুটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক রয়েছে। আগামী সপ্তাহে তিনি পোল্যান্ডে বিশ্ব ইনডোর প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, যেখানে তার সামনে টানা চতুর্থ শিরোপা জয়ের হাতছানি।


banner close