রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতিহাস গড়া হলো না ভারতের, সিরিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৩ ২১:১৮

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শুরু পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দল পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টিতে প্রথম দুই ম্যাচ হেরেও সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়তে পারেনি। তবে এবার ভারতের সামনে সেই ইতিহাস বদলে দেয়ার সুযোগ এলেও শেষ পর্যন্ত আর তা হয়ে ওঠেনি। রোভম্যান পাওয়েলের দল ভারতকে কুপোকাত করে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ৩-২-এ সিরিজ জিতে নিয়েছে। এর ফলে ২০১৭ সালের পর যেকোনো সংস্করণেই প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দ্বিপক্ষীয় কোনো সিরিজ হারল ভারত।

গত রোববার রাতের যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল অঘোষিত ফাইনালে। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে ভারত। দুই তরুণ ওপেনার শুভমন গিল ৯ ও জশস্বী জয়সাওয়াল ৫ রানে সাজঘরে ফিরলে শুরুতেই বিপদে পড়ে দলটি। এরপর তিনে নামা সূর্যকুমার যাদব ৪৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। যেখানে চারটি চারের শট ও তিনটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। দারুণ ফর্ম দেখানো তরুণ তিলক ভার্মা করেন ২৭ রান। লোয়ারে স্যামসন (৯ বলে ১৩) ও হার্ডিক পান্ডিয়ারা (১৮ বলে ১৪) ভালো করতে না পারায় রান বড় হয়নি দলটির।

জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২ রানে প্রথম উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১০৭ রান তোলে। সহজ করে ফেলে ম্যাচ। দলটির ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ৫৫ বলে ৮৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কা মারেন তিনি। তার সঙ্গে জুটি গড়া নিকোলাস পুরান খেলেন ৩৫ বলে ৪৭ রানের ইনিংস। একটি চার মারলেও চারটি ছক্কা তোলেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। তিনি ফিরলে শেই হোপ ১৩ বলে ২২ রান করে দলকে দুই ওভার থাকতে জয় এনে দেন। ভারতের হয়ে উইকেট দুটি শিকার করেন আরশদীপ সিংহ ও তিলক ভার্মা। হ্যাটট্রিকের সুযোগ হারানো ক্যারিবীয় পেসার রোমারিও শেফার্ড ৩১ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই তার সেরা বোলিং। শেফার্ড সিরিজটা শেষ করলেন ৯ উইকেট নিয়ে।

তবে এমন হারকে ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছের ভারতের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। ম্যাচশেষে তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে কী করা উচিত, সেটি বুঝতে আমাদের যথেষ্ট সময় আছে। মাঝে মাঝে হারই ভালো, কারণ এটি আপনাকে অনেক কিছু শেখাবে। অবশ্যই যা ভুল করেছেন সেটি আড়াল হবে না, কিন্তু আমার মনে হয় এর ইতিবাচক দিক হচ্ছে- দল হিসেবে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। এ কারণে সব ছেলের নামই আলাদা করে নেব আমি।’

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে সমস্যা খুঁজে পেয়েছেন কোচ রাহুল দ্রাবিড়। ভারত এই সিরিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হেঁটেছিল। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে, সিনিয়রদের বিশ্রাম দিয়ে তারা জুনিয়রদের পরখ করতে চেয়েছিল। যার ফলেই এমন সিরিজ হার। ম্যাচের পর ভারতের প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়ও স্বীকার করেছেন, অতিরিক্ত পরীক্ষাই ভারতকে ডুবিয়েছে।

সঙ্গে যোগ করলেন, ‘এখন টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোতে ইদানীং বড় বড় স্কোর হচ্ছে। আপনি যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে তাকান, আলজারি জোসেফ ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেও মারতে পারে। অতএব, ওদের সেই গভীরতা আছে। স্পষ্টতই সেই জায়গা থেকে আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আমাদের সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। এই সিরিজ থেকে এটাই শিক্ষা যে, আমাদের ব্যাটিং গভীরতা তৈরি করতে হবে।’


নির্বাচিত

হোপের অপরাজিত ১৬২ রানে ভারতকে হারাল উইন্ডিজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

অধিনায়ক শাই হোপের অপরাজিত ১৬২ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শনিবার নিউ চন্ডিগড়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ খেলায় ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারীরা। এর আগে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করা ভারত টানা তৃতীয়বার টস জিতে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রান তাড়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। তবে লোকেশ রাহুলের সেঞ্চুরিতে ভারতের গড়া ৩৫১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ১০ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখেই অনায়াসে টপকে যায় ক্যারিবীয়রা; যার ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করল স্বাগতিকরা।

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় মাত্র ৪ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতে বড় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল ভারত। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়; তৃতীয় উইকেটে এই দুজনের ১৩৭ রানের জুটিতে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠে দল। রোহিত ৮৫ বলে ৯২ রান করে শতক হাতছাড়া করার আক্ষেপ নিয়ে ফিরলেও দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে পেসার জেইডেন সিলসের বলে আউট হন গায়কোয়াড়। এরপর উইকেটে এসে ক্যারিয়ারসেরা বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল। নিজের নবম ওয়ানডে শতক হাঁকিয়ে ইনিংসের শেষ ১২ বলে একাই ৪২ রান তুলে অপরাজিত ১২৯ রান করেন তিনি। শেষ দিকে নামান ধীরের ২১ বলে ৩০ এবং আংশুল কামবোজের ৯ বলে ১৭ রানের ক্যামিওতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৫১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত।

৩৫২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম ওভারে ওপেনার জন ক্যাম্পবেলকে হারালেও একটুও দমে যায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় উইকেটে তরুণ আমির জাঙ্গুকে সঙ্গে নিয়ে ১০৯ রানের শক্ত জুটি গড়ে দলের শক্ত ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক হোপ; যার সুবাদে পাওয়ার প্লেতেই ১ উইকেটে ৭৮ রান তোলে সফরকারীরা। জাঙ্গু ৬৭ রান করে রানআউট হওয়ার আগে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। এরপর শেরফানে রাদারফোর্ড ২৪ রান করে দ্রুত বিদায় নিলেও হোপের সঙ্গে আরও একটি ৫৬ রানের জুটিতে প্রয়োজনীয় রানের গতি সচল রাখেন।

মিডল অর্ডারে কিমো পল ও ম্যাথু ফোর্ড দ্রুত ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন শাই হোপ। শেষ দিকে গুডাকেশ মোটির ১৪ বলে ১৯ রানের অবদানে ৪৯তম ওভারেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা হোপ ১৪৩ বলে ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৬২ রানের রাজকীয় ইনিংস উপহার দেন। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম উইকেটরক্ষক-অধিনায়ক হিসেবে কোনো ম্যাচে দেড় শতাধিক বা ১৫০-এর বেশি রান করার এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এই ক্যারিবীয় দলনেতা।


নির্বাচিত

প্রীতি ম্যাচে ভারতকে ৪ গোলে হারাল ব্রাজিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক ভারতকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শনিবার রাতে ভারতের কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এই ম্যাচে শুরু থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখে কার্লো আনচেলত্তির দল। পুরো ম্যাচে কোনো বড় প্রতিরোধ গড়তে না পারা ভারতীয় দলের বিপক্ষে সেলেসাওদের হয়ে দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন বদলি ফরোয়ার্ড স্যামুয়েল লিনো এবং প্রথমার্ধে একটি করে গোল করেন তরুণ তারকা এস্তেভাও ও স্ট্রাইকার পেদ্রো।

খেলার শুরু থেকেই ভারতীয় রক্ষণভাগকে চেপে ধরে আক্রমণের গতি বাড়ায় ব্রাজিল এবং ২৮তম মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় তারা। মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এস্তেভাও। এরপর প্রথমার্ধের বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে ৪২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। এবারও গোলের রূপকার ছিলেন সেই এস্তেভাও; তাঁর বাড়ানো বল ধরে পেদ্রোর নেওয়া শট ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে সফরকারীরা।

বিরতির পর আক্রমণভাগে বৈচিত্র্য আনতে তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে স্যামুয়েল লিনোকে মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি। বদলি নেমেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন এই ফরোয়ার্ড। খেলার ৫৮তম মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্স ভেঙে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে গোলরক্ষকের বাঁ পাশ দিয়ে নিখুঁত প্লেসমেন্টে স্কোরলাইন ৩-০ করেন লিনো। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করে ব্রাজিলের ৪-০ ব্যবধানের রাজকীয় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

এদিকে চোটের কারণে কলকাতার এই ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি অন্যতম প্রধান তারকা উইঙ্গার রাফিনহার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত আগের ম্যাচে ডান পায়ের উরুর পেশিতে আঘাত পাওয়ার পর শারীরিক পরীক্ষায় তাঁর সামান্য পেশির ফোলা ধরা পড়েছিল; ফলে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে এই ম্যাচে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় দলের মেডিকেল বিভাগ। তবে তাঁর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ভারতীয় দলের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির খেলাই উপহার দিয়েছে লাতিন পরাশক্তিরা।


নির্বাচিত

চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে স্পেনের হ্যাটট্রিক জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা নেশনস লিগে নিজেদের মাঠে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ওভেইদোতে অনুষ্ঠিত ‘এ-৩’ গ্রুপের এই ম্যাচে তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালের শুরুর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর বাকি দুই গোল করেন অধিনায়ক রদ্রি এবং বদলি নামা মিকেল মেরিনো। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৪১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। একই সঙ্গে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান এককভাবে ধরে রেখেছে স্প্যানিশরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা স্পেনকে ষষ্ঠ মিনিটেই লিড এনে দেন ১৯ বছর বয়সী বার্সেলোনা তারকা লামিন ইয়ামাল। ডানপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে সতীর্থ দানি ওলমোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাসে জায়গা তৈরি করে চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান তিনি; যেখানে বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগই পাননি টটেনহ্যামের চেক গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কি। এরপর স্পেনের পেদ্রির নিচু শট এবং ওলমোর দূরপাল্লার একটি হাফ-ভলি চমৎকার দক্ষতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে চেক কিপার ব্যবধান বাড়তে না দিলেও ৩৫তম মিনিটে স্পেনের চাপেই দ্বিতীয় গোলটি আসে। পেদ্রির পাস থেকে রবার্তো ফার্নান্দেজের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার আটকে দেওয়ার পর আলগা বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রদ্রি, যা ইউরো ২০২৪-এর পর জাতীয় দলের হয়ে এই অধিনায়কের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইয়ামালের জায়গায় ভিক্টর মুনোজ এবং অ্যালেক্স বায়েনার বদলে ক্রিস্টাল প্যালেস উইঙ্গার ইয়েরেমি পিনোকে মাঠে নামায় স্পেন। তবে ম্যাচের ৭০তম মিনিটে চমৎকার এক পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায় চেক প্রজাতন্ত্র; সতীর্থ অ্যাডাম হোজেকের পাস ধরে অত্যন্ত দুরূহ কোণ থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন জিরি স্লামা। এর কিছুক্ষণ পর ৭৯তম মিনিটে রেঞ্জার্স ফরোয়ার্ড রায়ান নাদেরি স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে উদযাপনে মেতেছিলেন; কিন্তু আক্রমণের শুরুতে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার রবিন লে নরমান্দকে লুকাস চার্ভ ফাউল করার কারণে ভিডিও পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।

খেলার শেষ দিকে সফরকারী চেক প্রজাতন্ত্র বড় ধাক্কা খায়। ৮৫তম মিনিটে ফার্নান্দেজকে অবৈধভাবে ফেলে দেওয়ায় ডিফেন্ডার লাদিস্লাভ ক্রেচি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে শেষ সময়টুকু ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় চেকদের। প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় কম থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেয় স্পেন। ভিক্টর মুনোজের আক্রমণ গোলরক্ষক কিনস্কি রুখে দিলেও ফিরতি বল জালে জড়িয়ে আর্সেনাল মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো দলের ৩-১ ব্যবধানের সহজ জয় নিশ্চিত করেন।


নির্বাচিত

নেশনস লিগে ক্রোয়েশিয়ার মাঠে ইংল্যান্ডের গোলবন্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা নেশনস লিগে ক্রোয়েশিয়ার ঘরের মাঠে তাদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে ৭-০ গোলের এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। শনিবার রাতে দেশটির রিজেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এ-৩’ গ্রুপের ম্যাচে আক্রমণভাগের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে এই স্মরণীয় জয় পায় থমাস টুখেলের শিষ্যরা। ২০২৫ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে স্থানীয় সমর্থকদের বর্ণবাদী আচরণের কারণে ম্যাচটি সাধারণ দর্শকদের জন্য রুদ্ধদ্বার ছিল; তবে গ্যালারিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া ৬ সহস্রাধিক স্কুলশিক্ষার্থীর সামনেই নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম বড় লজ্জা পায় স্বাগতিকরা। এই দাপুটে জয়ে ইংল্যান্ড গ্রুপ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং আগামী বুধবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেলে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলবে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের চেপে ধরে ইংল্যান্ড এবং একের পর এক ধারালো আক্রমণে অষ্টম মিনিটেই ডেডলক ভাঙে। জুড বেলিংহ্যামের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে নিজের ৮৮তম আন্তর্জাতিক গোল পূর্ণ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এর কিছুক্ষণ পর লুইস হলের থ্রু বল ধরে অ্যান্থনি গর্ডন সুযোগ পেলেও ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ তা ঠেকিয়ে দেন। তবে ২১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংল্যান্ড; ডানপ্রান্ত থেকে বুকায়ো সাকার বাড়ানো ক্রসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গর্ডন বাড়িয়ে দিলে খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহ্যাম। এরপর ৩৯তম মিনিটে জারেল কুয়ানসাহর ক্রসে পা ছুঁইয়ে তিন ম্যাচে নিজের তৃতীয় গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন গর্ডন। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে ক্রোয়েশিয়ার মাতেও কোভাচিচ তিনজনকে কাটিয়ে ছয় গজ দূর থেকে গোল মিস করলে সমতায় ফেরার আশা নষ্ট হয় স্বাগতিকদের; উল্টো প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে বেলিংহ্যামের বাড়ানো পাসে লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান ৪-০ করেন সাকা।

দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে অর্থাৎ ৫২তম মিনিটে সাকার সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাসের পর এলিয়ট এন্ডারসনের নিচু ক্রসে স্লাইড করে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোল করেন হ্যারি কেইন। ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের বিপর্যয় অব্যাহত রেখে ৬৮তম মিনিটে স্বাগতিক ডিফেন্ডার জোসিপ স্তানিসিচের ভুল পাস কেড়ে নিয়ে কেইনের ফিরতি পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন সাকা। যদিও পরে মাত্র এক গজ দূর থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন এই আর্সেনাল তারকা। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ৮৭তম মিনিটে বদলি নামা মর্গান রজার্স প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ালে ৭-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় থ্রি লায়নদের।

পুরো ম্যাচজুড়েই ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের পারস্পরিক বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। কেইন ও সাকা দুজনেই জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি করে অ্যাসিস্ট করেন; অন্যদিকে বেলিংহ্যাম এক গোল করার সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও তিনটি গোল। তাদের সঙ্গে গর্ডনের এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট এবং রজার্সের শেষ মুহূর্তের গোলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টুখেলের দল।


নির্বাচিত

বুরকিনা ফাসোর জালে আর্জেন্টিনার সাত গোল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের বিদায়ী আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি। ঘরের মাঠে অধিনায়কের সেই স্মরণীয় বিদায়কে সামনে রেখে প্রীতি ম্যাচে দুর্দান্ত এক গোলবন্যা বইয়ে দিল আর্জেন্টিনা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬২তম দল বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে ৭-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আন্তর্জাতিক এই উইন্ডোতে মেসিকে বাইরে রেখে দল সাজালেও বলিভিয়াকে চার গোলে হারানোর পর এবার আফ্রিকার দলটির জালে প্রথমার্ধেই ৫ গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল জড়িয়ে একচেটিয়া জয় নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা আর্জেন্টিনা দ্রুতই লিড আদায় করে নেয়। খেলার শুরুর দিকেই ডি-বক্সের ভেতরে ডিফেন্ডার অগাস্টিন জিয়ায়কে ফাউল করেন বুরকিনা ফাসোর ডিফেন্ডার মুমুনি দিয়ালো, যার ফলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজের নেওয়া প্রথম শটটি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রাজাক গুইরা ফিরিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি; ফিরতি সুযোগে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন লাউতারো। বলিভিয়ার পর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তাঁর ৪২তম গোল; যার মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সাবেক তারকা সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন। এই তালিকায় ৫৪ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা এবং ১২৫ গোল নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন মেসি। লাউতারোর গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের অষ্টম মিনিটে ঘটে আরেক নাটকীয়তা; বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন ডিফেন্ডার মুমুনি দিয়ালো। এরপর ম্যাচের ১২ মিনিট পার হওয়ার আগেই জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের খাতা খোলেন তরুণ ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি; বক্সে ঢুকে জোরালো কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি।

আগের ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে যেভাবে খালি জায়গা খুঁজে নিয়ে চমৎকার গোল করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই ম্যাচের চতুর্থ গোলটি এনে দেন মিডফিল্ডার নিকো পাস। আর বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে দলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন হুলিয়ান আলভারেজ; ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নান্দনিক গোলের পর জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল তাঁর পরবর্তী গোল। ফলে প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের জয় কার্যত নিশ্চিত করে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরে দ্বিতীয়ার্ধেও একই আধিপত্য বজায় রেখে আক্রমণ চালিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে দুর্দান্ত এক ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের অভিষেক আন্তর্জাতিক গোলের স্বাদ পান তরুণ ফরোয়ার্ড ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। এরপর ম্যাচের ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে জিউলিয়ানো সিমিওনে দলের পক্ষে সপ্তম ও শেষ গোলটি করলে ৭-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। অধিনায়কের বিদায়ী আয়োজনের প্রাক্কালে তরুণ খেলোয়াড়দের এমন ঝলমলে পারফরম্যান্স আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ ফুটবলের জন্য দারুণ আশার সঞ্চার করেছে।


নির্বাচিত

১০২ রানে অলআউট বাংলাদেশ, এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জও হাতছাড়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

জাপানের নাগোয়ায় প্রবাসী সমর্থকদের হতাশ করে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনীতে মাত্র ১৭ দশমিক ৩ ওভারে ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে লাল-সবুজের দল। ফলে ৬৩ রানের এই শোচনীয় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো পুরুষ ক্রিকেটে কোনো ধরনের পদক ছাড়াই শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

শনিবার সকালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুতেই বাংলাদেশি স্পিনারদের ঘূর্ণিতে বড় বিপদে পড়েছিল অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত শ্রীলঙ্কা। দুই প্রান্ত থেকেই স্পিন আক্রমণ চালিয়ে মাত্র চার ওভারের মধ্যে ২১ রানে লঙ্কানদের চার ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা স্পিনার আলিস আল ইসলাম নিজের প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন, যেখানে ১৮ বলের মধ্যে ১২টিই ছিল ডট বল। এ ছাড়া অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসান তাঁর পূর্ণ ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচায় দুটি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেন এবং স্পিনার সাইফ হাসান প্রথম স্পেলে দুই ওভারে দেন ১৮ রান।

ম্যাচের ১৩তম ওভার পর্যন্ত চাপে থাকলেও বল কিছুটা পুরোনো হতেই ১৪তম ওভারে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনা মাত্রই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ওই ওভারের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারিসহ একাই ২৫ রান দিয়ে বসেন মুস্তাফিজ। এরপর লঙ্কান ব্যাটার সাহান আরচিগে ও থারিন্দু রত্ননায়েকে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন; মুস্তাফিজের দ্বিতীয় ওভারে ১১ এবং রিশাদ হোসেনের এক ওভারে ২১ রানসহ ১৩ থেকে ১৮ ওভারের মধ্যেই শ্রীলঙ্কা তুলে নেয় ৮৩ রান। শেষ দিকে থারিন্দু রত্ননায়েকে মাত্র ৩২ বলে ৬৫ রানের তাণ্ডব চালিয়ে মুস্তাফিজের তৃতীয় ওভারে আউট হন এবং শেষ ওভারে সাইফ হাসান আরও দুটি উইকেট নিলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।

১৬৬ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। দলের মোট চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন, যার মধ্যে প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনার শূন্য রানে বিদায় নেন। আগের ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া অধিনায়ক লিটন দাস এবার মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাকের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়েন। অভিজ্ঞ ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে নয় নম্বরে নামা নাসুম আহমেদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬ রান, ইয়াসির আলি রাব্বির ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমনের ২০ রানের সুবাদে দল কোনোমতে দলীয় শতরান পার করে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রত্ননায়েকে, বিজয়াকান্ত বিয়াসকান্ত এবং ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট শিকার করে নিজেদের ব্রোঞ্জ জয় নিশ্চিত করেন।


নির্বাচিত

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সিরি আ’র সেরা কোচ আলভিনি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইতালিয়ান শীর্ষ ফুটবল লিগ সিরি আ-তে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের যৌথ সেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন ফ্রোসিনোনের প্রধান কোচ মাসিমিলিয়ানো আলভিনি। লিগের নতুন মৌসুমের প্রথম পাঁচটি ম্যাচে দলের ধারাবাহিক ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর ফ্রোসিনোনের ঘরের মাঠ বেনিতো স্তিরপে স্টেডিয়ামে সাসুওলোর বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে আলভিনির হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

কোচদের কৌশলগত ও কারিগরি দক্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং দলের সামগ্রিক খেলার ধরন বিবেচনা করে শীর্ষ ক্রীড়া সাংবাদিকদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ জুরি প্যানেল এই বিজয়ী নির্বাচন করেছে। নতুন মৌসুমের প্রথম থেকে পঞ্চম রাউন্ড পর্যন্ত দলগুলোর সার্বিক ফলাফল এবং মাঠে নান্দনিক ও কার্যকর ফুটবল প্রদর্শনীই ছিল এই মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।

আলভিনির দিকনির্দেশনায় দ্বিতীয় বিভাগ থেকে সদ্য শীর্ষ লিগে উঠে আসা ফ্রোসিনোনের এমন চমৎকার শুরুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সিরি আ লিগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুইজি দে সিয়েরভো। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই মাসিমিলিয়ানো আলভিনির অধীনস্থ ফ্রোসিনোনে নিঃসন্দেহে পুরো লিগের সবচেয়ে আনন্দদায়ক ও প্রশংসনীয় চমকগুলোর একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ফ্রোসিনোনে স্কোয়াডের তরুণ ইতালিয়ান প্রতিভাদের বিকাশে কোচের ভূমিকারও প্রশংসা করেন দে সিয়েরভো। তিনি জানান, আলভিনি দলটির সম্ভাবনাময় স্কোয়াড থেকে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। কোচের কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর খেলোয়াড়েরা পুরোপুরি আস্থা রাখায় দলটি একই সঙ্গে গতিশীল, ফলপ্রসূ ও উপভোগ্য ফুটবল উপহার দিয়ে লিগের শুরুতেই ফুটবলবোদ্ধাদের নজর কেড়েছে।


নির্বাচিত

জয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু মোহামেডানের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফুটবলের নতুন মৌসুমে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শুক্রবার চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ফকিরেরপুল ইয়ং মেন্স ক্লাবকে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে সাদা-কালো শিবির। এই জয়ের সুবাদে লিগের নতুন আসরে শুভসূচনা করল দলটি।

চাঁদপুরের মাঠে খেলার শুরুর দিকে আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করেছিল ফকিরেরপুল ইয়ং মেন্স। ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিট মোহামেডানের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালায় তাদের আক্রমণভাগ; তবে তাদের সেই আধিপত্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি মোহামেডান। খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের ১৮তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোলের দেখা পায় তারা। উজবেকিস্তানের ফুটবলার মুজাফফারের নেওয়া নিখুঁত কিক থেকে বক্সে ভেসে আসা বলে দর্শনীয় হেডে বল জালে জড়ান জাহিদুল ইসলাম শান্ত। শান্তর এই একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে মোহামেডান।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গোল পরিশোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফকিরেরপুল। একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার জোর চেষ্টা চালায় তাদের ফরোয়ার্ডরা। তবে মোহামেডানের সুসংগঠিত ও সতর্ক রক্ষণভাগের সামনে বারবার খেই হারায় ফকিরেরপুলের আক্রমণগুলো। শেষ পর্যন্ত রক্ষণের দৃঢ়তা বজায় রেখে ১-০ গোলের জয় ধরে রেখেই পূর্ণ পয়েন্ট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান।

এদিকে প্রিমিয়ার লিগে দিনের অপর ম্যাচগুলোতেও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই দেখা গেছে। অন্য ম্যাচে চট্টগ্রাম সিটিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি। অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং পিডব্লিউডি এফসির মধ্যকার দিনের অপর ম্যাচটি ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে নিষ্পত্তি হয়েছে।


নির্বাচিত

২২ বছর পর জিম্বাবুয়েতে খেলবে ইংল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ২২ বছরের ব্যবধান ঘুচিয়ে আবারও জিম্বাবুয়ের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র ও সূচি অনুযায়ী, হারারে স্পোর্টস ক্লাবে নিজেদের চতুর্থ গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামবে ইংলিশরা। আগামী ২০২৭ সালের ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দল। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এই বৈশ্বিক আসরে ইংল্যান্ড পড়েছে ‘বি’ গ্রুপে; যেখানে তাদের অপর পাঁচ সঙ্গী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড এবং বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা ষষ্ঠ দলটি।

ইংল্যান্ড সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেছিল ২০০৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটীয় সম্পর্কে স্থবিরতা বিরাজ করে। মূলত ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে রবার্ট মুগাবে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ম্যাচ বয়কট করেছিল নাসের হুসেইনের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দল। ফলে ম্যাচটি ছেড়ে দেওয়ায় জিম্বাবুয়ে পূর্ণ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বকাপের ‘সুপার সিক্স’ পর্বে উন্নীত হয় এবং ইংল্যান্ড ছিটকে পড়েছিল। সেই তিক্ত ঘটনার পর আইসিসির কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দুই দল মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল; ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েকে ৫০ রানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড।

দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে নটিংহ্যামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রথমবারের মতো দুই দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পুনরায় চালু হয়। এর পাশাপাশি চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিল ইংল্যান্ড যুব দল; এমনকি দেশটির মাটিতেই ভারতের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটিও খেলেছিল তরুণ ইংলিশরা, যা জিম্বাবুয়েতে ইংল্যান্ডের সিনিয়র দলের ফেরার পথ সুগম করে।

ক্রিকেটীয় এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ থেকে ২০৩১ চক্রের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামেও (এফটিপি) জিম্বাবুয়ের মাটিতে ইংল্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়ে উভয় দেশের বোর্ডের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অনুমোদনের জন্য আগামী মাসেই এই ভবিষ্যৎ সফরসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে, যা দুই দেশের ক্রিকেটীয় কূটনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনবে।


নির্বাচিত

ফ্রান্স-ইতালি হাইভোল্টেজ লড়াই ১-১ গোলে ড্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের মাঠে ইতালির বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে ফ্রান্সকে। ম্যাচে ডিফেন্ডার দায়োত উপামেকানো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। এই ড্রয়ের ফলে জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণের পর কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে পয়েন্ট খোয়াল ফরাসিরা। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণ ও বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য বজায় রেখেছিল ফ্রান্স; পুরো ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১৮টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যার বিপরীতে সফরকারী ইতালির নেওয়া ১৪টি শটের মধ্যে কেবল দুটি ছিল গোলপোস্টের লক্ষ্যে।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গোলশূন্য। খেলার নবম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ তৈরি করেছিল সফরকারী ইতালি; তবে ফাঁকায় বল পেয়েও ফরাসি গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন স্ট্রাইকার মইসে কিন। এরপর দুই দলই নিয়মিত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চালালেও গোলের পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। অবশেষে ৩৭তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের একটি শটের মাধ্যমে ম্যাচে প্রথমবারের মতো ইতালির গোলপোস্টে লক্ষ্যভেদ করে ফ্রান্স। বিরতিতে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে অর্থাৎ ৪০তম মিনিটে ইতালির পিও এস্পোসিতো সুযোগ পেলেও শট লক্ষ্যে রাখতে না পারলে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

বিরতির পর আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় ফ্রান্স, তবে ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা দুর্দান্ত ডাবল সেভে দেজিরে দুয়ে ও দেম্বেলের নিশ্চিত দুটি শট রুখে দিয়ে স্বাগতিকদের হতাশ করেন। পরবর্তীতে মাইকেল ওলিসের একটি প্রচেষ্টাও ফিরিয়ে দেন এই গোলরক্ষক। তবে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি ইতালির; সতীর্থ রায়ান চেরকির ফ্রি-কিক থেকে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের মুখ থেকে বুলেটগতির জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার ওলিসে। কিন্তু স্বাগতিকদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৮তম মিনিটে বক্সের বাইরে ফরাসি মিডফিল্ডার লুকা দা কুনহা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে ইতালিকে সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি।

সমতায় ফেরার পর জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া আক্রমণ চালাতে গিয়ে উল্টো বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে ইতালিয়ান স্ট্রাইকার কিনকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফরাসি ডিফেন্ডার উপামেকানো। বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলে ড্র মেনেই মাঠ ছাড়তে হয় জিদানের দলকে। এই ড্র সত্ত্বেও নেশন্স লিগের ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপে তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফ্রান্স; অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালি।


নির্বাচিত

ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আসরের প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল হজম করা থমাস ডুলির শিষ্যরা শেষ ম্যাচে এসে চরম রক্ষণ বিপর্যয়ে পড়ে। এই বড় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টানা তিন ম্যাচ হেরে শূন্য হাতেই আসিয়ান কাপ মিশন শেষ করল জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের দল। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতেও নিজেদের হারিয়ে খুঁজেছে বাংলাদেশ; প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অপেক্ষাকৃত ভালো খেলেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমে প্রথম কয়েক মিনিট গোছানো ফুটবল খেললেও দ্রুতই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ দল। খেলার ১১তম মিনিটে ওলে রোমেনির বাড়ানো পাসে ইন্দোনেশিয়াকে প্রথম এগিয়ে নেন লে বেকার এবং ২০তম মিনিটে তিনি ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৩২তম মিনিটে রিজকি রিদোর বাড়ানো বল থেকে ব্যবধান ৩-০ করে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে সুকির মাপা ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ এ নামিয়ে আনেন বাংলাদেশের শাহরিয়ার ইমন। তবে ঠিক পরের মিনিটেই প্রতিআক্রমণ থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে স্কোরলাইন ৪-১ করেন লে বেকার। এরপর ৪২তম মিনিটে লে বেকার ব্যক্তিগত চতুর্থ গোলটি করেন এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডিফেন্ডার হাবনার লক্ষ্যভেদ করলে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধেই ছয় গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধেও ইন্দোনেশিয়ার একের পর এক আক্রমণের মুখে পড়ে। তবে রক্ষণ কিছুটা সামলে নেওয়ার কারণে ম্যাচের ৮৯ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আসল নাটকীয়তা শুরু হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও যোগ করা অতিরিক্ত ৭ মিনিটের মধ্যে, যেখানে দুই দল মিলিয়ে মোট চারটি গোল দেখে দর্শকেরা। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে ব্যবধান ৭-১ করেন ভিকেরি। এর ঠিক পরের মিনিটে অর্থাৎ ৯১তম মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে ফারহান আলী ওয়াহিদ একটি গোল শোধ করে ব্যবধান ৭-২ করেন। তবে যোগ করা সময়ের শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়ার ডিফেন্ডার কেভিন ডিকস এবং ম্যাচে নিজের পঞ্চম গোল করে লে বেকার স্কোরলাইন ৯-২ এ নিয়ে বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।

এই শোচনীয় পরাজয়ের ফলে তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরে কোনো পয়েন্ট অর্জন না করেই গ্রুপ টেবিলের তলানিতে থেকে বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশকে। অন্যদিকে তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী পর্বে পা রেখেছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। গ্রুপের অপর দুই দলের মধ্যে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া এবং ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থেকে আসর শেষ করেছে সিঙ্গাপুর।


নির্বাচিত

রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্ককে হারাল পর্তুগাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে জাতীয় দলে তৈরি হওয়া চরম অস্থিরতা ও নাটকীয়তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব মাঠের খেলায় পড়তে দেয়নি পর্তুগাল। বৃহস্পতিবার উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ডেনমার্ককে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের জয়ের ধারা ধরে রেখেছে পর্তুগিজরা। দলের প্রধান কোচ জর্জে জেসুস আবারও সাইডবেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর ক্ষুব্ধ হয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এই মহাতারকার আকস্মিক ক্যাম্প ত্যাগের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় মাঠে নেমে একঝাঁক তরুণ তারকার ওপর ভর করে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় পর্তুগাল।

রোনালদোর অনুপস্থিতিতে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া তরুণ স্ট্রাইকার গনসালো রামোসের নৈপুণ্যে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় পর্তুগাল। খেলার ১৩তম মিনিটে রামোসের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জোয়াও কানসেলো। তবে এর দশ মিনিট পর ২৩তম মিনিটে মিকেল ডামসগার্ডের গোলে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় ডেনমার্ক। সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি স্বাগতিকরা; ডেনিশদের গোলের ঠিক দুই মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ২৫তম মিনিটে ব্যক্তিগত গোলে পর্তুগালকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন রামোস।

বিরতির পর ফিরে খেলার ৫৩তম মিনিটে রাসমুস হয়লুন্দের গোলে পুনরায় ২-২ সমতায় ফেরে ডেনমার্ক। গোল করার পর প্রতিপক্ষের ডাগআউটের দিকে তাকিয়ে রোনালদোর আইকনিক ‘সিউ’ উদযাপন করে গ্যালারিতে আলোড়ন তোলেন এই ডেনিশ স্ট্রাইকার। তবে পর্তুগিজদের টানা আক্রমণ রুখে দেওয়া ডেনিশ ডিফেন্সের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজের মাপা ফ্রি-কিক থেকে কাছের পোস্টে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিতিনহা। পরবর্তীতে ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্স লক্ষ্যভেদ করলে ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।

চলতি নেশনস লিগে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছেন কোচ জর্জে জেসুস। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রোনালদো একাদশে থাকলেও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করায় দ্বিতীয়ার্ধেই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল; পরবর্তীতে নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিটই তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়, যার পরিণতিতে দল ছাড়েন তিনি। অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের মধ্যেও দল হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা পর্তুগাল আগামী রোববার ঘরের মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে খেলে নিজেদের আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করবে এবং একই সময়ে ডেনমার্ক মাঠে নামবে ওয়েলসের বিপক্ষে।


নির্বাচিত

ক্লপের অধীনে জার্মানির প্রথম জয়, ডাচদের স্বস্তির ড্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা নেশনস লিগে সার্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রধান কোচ হিসেবে নিজের প্রথম জয়ের দেখা পেলেন জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লপ। বৃহস্পতিবার রাতে মিউনিখের অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায় সার্বিয়াকে আতিথ্য দেয় জার্মানরা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র এবং পরবর্তীতে গ্রিসের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল ক্লপের দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই জার্মানির প্রথম জয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ মিডফিল্ডার টম বিশফ নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন এবং বিরতির পর ৬১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান উইর্টজ। জাতীয় দলের ডাগআউটে প্রথম জয় পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ক্লপ জানান, এই জয়টি তাঁর ব্যক্তিগত আর্কাইভে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং দল যেভাবে খেলেছে সেভাবেই তিনি ভবিষ্যৎ ফুটবলের রূপরেখা সাজাতে চান।

একই রাতে গ্রুপের অপর হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল উড়তে থাকা গ্রিস। ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলের বড় লিড নিয়েছিল গ্রিকরা। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে ফর্টিস লোনিডিস প্রথম গোল করার পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গ্রিসের পক্ষে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জর্জিওস মাসোরাস। তবে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি জাভি হার্নান্দেজের দল। দ্বিতীয়ার্ধের এক ঘণ্টার মাথায় ডাচরা এক গোল শোধ করে খেলায় প্রাণ ফিরিয়ে আনে এবং নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র এক মিনিট আগে মিডফিল্ডার টিজানি রেইন্ডার্স গোল করে নেদারল্যান্ডসকে ২-২ ব্যবধানের এক স্বস্তিদায়ক ড্র এনে দেন।

ম্যাচটিতে শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া করে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারালেও গ্রুপ শীর্ষের অবস্থান ধরে রেখেছে গ্রিস। তিন ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ সর্বোচ্চ ৭ পয়েন্ট। অন্যদিকে নাটকীয়ভাবে ড্র করে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস এবং সার্বিয়াকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট পাওয়া জার্মানি অবস্থান করছে তালিকার তৃতীয় স্থানে।

এদিকে নেশনস লিগের অপর ম্যাচে ডেনমার্ককে হারিয়ে শুভসূচনা করা নরওয়ে কার্ডিফে গিয়ে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে। ম্যাচের একাদশ মিনিটে তরুণ উইঙ্গার অস্কার ববের গোলে নরওয়ে এগিয়ে গেলেও বিরতির ঠিক আগে ড্যানিয়েল জেমসের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ওয়েলস। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অর্থাৎ ৪৬তম মিনিটে গোল বাঁচানোর চেষ্টায় নরওয়ের ডিফেন্ডার হেগেম সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা। ওই ফাউল থেকে পাওয়া ফ্রি-কিক কাজে লাগিয়ে চমৎকার এক গোলে ওয়েলসকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন নেকো উইলিয়ামস। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে চলতি ২০২৬ সালে নিজেদের প্রথম জয়ের স্বাদ পায় ওয়েলস, যা নেশনস লিগের দুই আসর মিলিয়ে দীর্ঘ সাত হার ও এক ড্রয়ের পর তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক সাফল্য।


নির্বাচিত

banner close