আসন্ন ভারত ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের জন্য ম্যাচ অফিশিয়ালদের নাম ঘোষণা করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। ২০ জনের এই তালিকায় প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি আম্পায়ার হিসেবে ছেলেদের বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করবেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। ফলে প্রথমবারের মতো আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করবেন বাংলাদেশি কোনো আম্পায়ার।
গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ম্যাচ অফিশিয়ালদের নাম ঘোষণা করে সংস্থাটি। আম্পায়ারদের এমিরেটস এলিট প্যানেলের ১২ জন এবং আইসিসি উদীয়মান আম্পায়ার প্যানেলের চার সদস্য সহ মোট ১৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।
যে ম্যাচ অফিশিয়ালদের তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি, তারা শুধু লিগপর্বের দায়িত্ব পালন করবেন। আইসিসি এলিট প্যানেল থেকে আছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিস্টোফার গ্যাফানি, শ্রীলঙ্কার কুমার ধর্মসেনা, দক্ষিণ আফ্রিকার মারাইস ইরাসমাস, ইংল্যান্ডের মাইকেল গুহ, ভারতের নিতিন মেনন, অস্ট্রেলিয়ার পল রাইফেল, ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওর্থ ও রিচার্ড কেটেলবোরো, অস্ট্রেলিয়ার রোড টাকার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোয়েল উইলসন, পাকিস্তানের আহসান রাজা ও দক্ষিণ আফ্রিকার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক।
এলিট প্যানেলের বাইরে থেকেও আছেন ৪ আম্পায়ার। তারা হলেন- বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, অস্ট্রেলিয়ার পল উইলসন, ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হোয়ার্ফ ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিস ব্রাউন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই থাকছেন সৈকত। যদিও চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে। আহমেদাবাদে আগামী ৫ অক্টোবর গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের আসর। সেই ম্যাচে দায়িত্ব নেবেন শ্রীনাথ। মাঠের আম্পায়ার থাকবেন মেনন ও ধর্মসেনা এবং টিভি আম্পায়ার পল উইলসন।
এর আগে চলতি বছর নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসির নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসরে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন সৈকত। একাধিকবার ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। সবশেষ ইমার্জিং এশিয়া কাপেও ছিলেন এই বাংলাদেশি। কিছুদিন আগে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যেকার সিরিজে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন তিনি।
এছাড়া ম্যাচ রেফারি হিসেবে থাকবেন নিউজিল্যান্ডের জেফ ক্রো, জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি পাইক্রফট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিচি রিচার্ডসন ও ভারতের জাভাগাল শ্রীনাথ।
আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভাটি মুলতবি করা হয়েছে। বৈঠকে বিসিবি তাদের পূর্বের অবস্থানে অনড় থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে, আইসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে টুর্নামেন্টের সূচি ইতিমধ্যে ঘোষিত হয়ে যাওয়ায় এখন ভেন্যু পরিবর্তন করা বেশ জটিল, তাই তাঁরা বিসিবিকে তাঁদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটারদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ধরণের আপস করতে রাজি নয় বলে পুনরায় আইসিসিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
এই ভার্চুয়াল সভায় বিসিবির পক্ষ থেকে এক শক্তিশালী প্রতিনিধিদল অংশ নেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। বিসিবি নেতৃত্ব আইসিসিকে আবারও অনুরোধ জানিয়েছে যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে—বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। তাঁরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ক্রিকেটীয় পরিবেশের চেয়ে খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে বিশ্বকাপের ভাগ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।
এই সংকটের নেপথ্যে গত রোববার বিসিবিকে পাঠানো আইসিসির নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগের একটি চিঠির তথ্য সামনে এসেছে। আজ দুপুরে বাফুফে ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান যে, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ নিজেরাই বাংলাদেশ দলের ভারত সফরের ক্ষেত্রে তিনটি বড় ধরণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে। প্রথমত, পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে রাখা নিয়ে ভারতে যে ধরণের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তা দলের জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশি সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ভারতের গ্যালারিতে বা রাজপথে চলাফেরা করেন, তবে তাঁদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতার সুযোগে ভারতীয় ভূখণ্ডে দলের নিরাপত্তা আরও বিঘ্নিত হতে পারে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতে, আইসিসির নিরাপত্তা দলের এই পর্যবেক্ষণগুলোই প্রমাণ করে যে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য মোটেও অনুকূল নয়। যেখানে আইসিসি নিজেই ঝুঁকির কথা স্বীকার করছে, সেখানে বিসিবি কোনোভাবেই ক্রিকেটারদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিসিবি কর্মকর্তারা মনে করছেন, আইসিসি একদিকে ঝুঁকির কথা বলছে, আবার অন্যদিকে সূচির দোহাই দিয়ে ভারতকে ভেন্যু হিসেবে বহাল রাখতে চাইছে—যা একটি দ্বিমুখী আচরণ। বর্তমানে বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে এই দরকষাকষি তীব্র রূপ নিয়েছে। সামনের কয়েক দিনের মধ্যে আইসিসি বাংলাদেশের এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে নতুন কোনো প্রস্তাব দেয় কি না, সেটিই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিসিবি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, উপযুক্ত নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা ভেন্যু পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত টাইগাররা ভারতে পা রাখছে না।
লিওনেল মেসির জাদুকরী প্রভাব এখন আর শুধু ফুটবল মাঠের সবুজ গালিচাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি আছড়ে পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের পানীয় নিয়ে মেসির এক ছোট্ট স্বীকারোক্তি কোকা-কোলা কোম্পানির বাজারমূল্য মুহূর্তেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘লুজু টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা জানান, তিনি মাঝেমধ্যে ক্লান্তি দূর করতে বা রিল্যাক্স করতে রেড ওয়াইনের সঙ্গে ‘স্প্রাইট’ মিশিয়ে পান করেন। মেসির এই সাধারণ একটি ব্যক্তিগত পছন্দের কথা প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিশ্ববাজারে স্প্রাইটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা কোম্পানির শেয়ার দর এক লাফে ৪.৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মেসির এই ‘স্প্রাইট প্রেমের’ প্রভাবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কোকা-কোলার বাজারমূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার সমান। এই ঘটনাটি এক বিশাল কৌতুকপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে কারণ লিওনেল মেসি দীর্ঘকাল ধরে কোকা-কোলার প্রধান বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী ‘পেপসি’-র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ। প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচারণায় সরাসরি যুক্ত থাকা সত্ত্বেও স্প্রাইটের প্রতি তাঁর এই ব্যক্তিগত ভালো লাগার কথা জানানো কোম্পানিটিকে অপ্রত্যাশিত এক বিশাল বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে বেশ হাস্যরসের ছলে মেসি বলেন, “আমি ওয়াইন পছন্দ করি, তবে সচরাচর ওয়াইনের সঙ্গে স্প্রাইট মিশিয়ে খাই। এতে নেশাটা একটু দ্রুত কাজ করে!” মেসির মতো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং স্বাস্থ্যসচেতন অ্যাথলেটের কাছ থেকে এমন অকপট ও মজার স্বীকারোক্তি ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ও উন্মাদনা তৈরি করেছে। এর আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইউরো কাপের সংবাদ সম্মেলনে কোকা-কোলার বোতল সরিয়ে দিয়ে পানির বোতল তুলে ধরলে কোম্পানিটি বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছিল। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে ঘটল ঠিক তার উল্টো চিত্র, যা ‘মেসি ইফেক্ট’ নামে এখন গ্লোবাল ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে।
মেসির এই শখের কথা জানাজানি হওয়ার পর উৎসাহী ভক্তরা আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য খুঁজে বের করেছেন। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ক্রীড়াবিদ হওয়া সত্ত্বেও মেসি ব্রাজিলের ‘কুইন্টা ডি মর্গাদো’ নামের একটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যের রেড ওয়াইন পছন্দ করেন, যার একেকটি বোতলের দাম মাত্র ৩০ ডলারের আশেপাশে। কোটি কোটি ডলারের মালিক হয়েও এত সস্তা ওয়াইন বেছে নেওয়ায় মেসির সাধারণ জীবনযাপন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার জোয়ার বইছে। তবে ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি মেসির নিজস্ব ‘লিওনেল কালেকশন’ নামে একটি প্রিমিয়াম ওয়াইন ব্র্যান্ডও রয়েছে, যার একেকটি বোতলের দাম ৬০ ইউরোর বেশি। মূলত ফুটবল মাঠের জাদুকরের সাধারণ এক কথাই যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এমন বিশাল কম্পন তৈরি করতে পারে, সেটিই এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার প্রধান বিষয়।
স্প্যানিশ ফুটবলের পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদে জাবি আলোনসো যুগের আকস্মিক যবনিকা ঘটল। সৌদি আরবের জেদ্দায় গত রোববার রাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে ৩-২ গোলে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা হারানোই মূলত কাল হয়ে দাঁড়াল এই স্প্যানিশ কোচের জন্য। সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ক্লাব এবং জাবি আলোনসো উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্লাবের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে রিয়াল কাস্তিয়া ও একাডেমি দলের সফল প্রশিক্ষক এবং ক্লাবের সাবেক ফুটবলার আলভারো আরবেলোয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বড় এই রদবদলের ফলে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে এক নতুন লড়াইয়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
২০২৫ সালের মে মাসে জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন থেকে অত্যন্ত রাজকীয়ভাবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এসেছিলেন জাবি আলোনসো। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে তিনি লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে বার্সেলোনার চেয়ে ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দুর্দান্ত এক সূচনা করেছিলেন। তবে গত দুই মাস ধরে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছিল না তাঁর। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা কয়েকটি হার এবং ঘরোয়া লিগে শীর্ষস্থান হারিয়ে বার্সেলোনার চেয়ে ৪ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ায় তাঁর ওপর ম্যানেজমেন্টের চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। সুপার কাপের ফাইনালে বার্সার কাছে হার সেই অসন্তোষকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়, যার ফলে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বিদায় নিতে হলো।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ কিছু অস্থিরতাও আলোনসোর বিদায়ের পেছনে কাজ করেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ক্লাব সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোনসোর সম্পর্ক দিন দিন তিক্ত হয়ে উঠছিল। অনেক তারকা ফুটবলারই তাঁর কঠোর এবং সূক্ষ্ম কৌশলগত দর্শনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছিলেন না, যা মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলছিল। গত নভেম্বর মাসে এক সাক্ষাৎকারে আলোনসো নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, রিয়ালের মতো ক্লাবে প্রতিটি মুহূর্তের প্রত্যাশার চাপ সামলানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। শেষ পর্যন্ত এই মানসিক চাপ এবং কৌশলগত অমিলই তাঁর বিদায়ের পথ প্রশস্ত করল। তবে ক্লাব তাঁদের বিবৃতিতে জাবি আলোনসোকে ‘রিয়াল কিংবদন্তি’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর কাজের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
আলোনসোর স্থলাভিষিক্ত হওয়া আলভারো আরবেলোয়া রিয়ালের ফুটবল সংস্কৃতির সাথে নিবিড়ভাবে পরিচিত। তিনি রিয়ালের যুব একাডেমি এবং রিজার্ভ দল ‘কাস্তিয়া’-তে কোচ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে ২০২২-২৩ মৌসুমে রিয়ালের অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জেতানোর পর থেকেই তাঁকে মূল দলের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। আরবেলোয়ার এই নিযুক্তি মূলত ক্লাবের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তরুণ প্রতিভার ওপর আস্থা রাখারই বহিঃপ্রকাশ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য গতি থামিয়ে রিয়ালকে পুনরায় লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দৌড়ে ফিরিয়ে আনা তাঁর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হবে।
রিয়াল মাদ্রিদের ‘উত্তপ্ত হট সিটে’ বসে আরবেলোয়া এখন তাঁর নতুন রণকৌশল সাজানোর কাজ শুরু করেছেন। ভক্তরা আশা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে দলের সিনিয়র এবং জুনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় তৈরি হবে এবং রিয়াল পুনরায় তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে। জাবি আলোনসোর বিদায় যেমন সমর্থকদের মনে কিছুটা বিষাদের জন্ম দিয়েছে, তেমনি আরবেলোয়ার আগমন নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই কোচ কত দ্রুত দলকে জয়ের ধারায় ফিরিয়ে এনে বার্সেলোনার আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। রিয়ালের পরবর্তী ম্যাচগুলোই বলে দেবে এই বড় রদবদল ক্লাবটির জন্য কতটা ফলপ্রসূ হলো।
সিলেট পর্বের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অবশেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরছে। গতকাল সোমবার রাতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে টুর্নামেন্টের প্রথম অংশ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। এবারের আসরটি শুরুতে তিনটি ভেন্যুতে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রাম পর্ব বাদ দেওয়া হয়, যার ফলে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে টানা ২৪টি ম্যাচ সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন লিগ পর্বের শেষ ভাগ এবং প্লে-অফের ভাগ্য নির্ধারিত হবে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ঢাকা ফেরার আগেই টুর্নামেন্টের প্লে-অফের লাইনআপ অনেকটা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। গতকাল রাতে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের ফলে ইতোমধ্যে তিনটি দল প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৮ ম্যাচে ৬টি জয় নিয়ে ১২ পয়েন্ট অর্জন করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। এছাড়া সিলেট টাইটান্সও তাদের প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে। এখন লিগ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে মূলত লড়াই হবে চতুর্থ বা শেষ স্থানটির জন্য।
মিরপুরের মাঠে লিগ পর্বের আর মাত্র ৬টি ম্যাচ বাকি রয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের লড়াই দিয়ে ঢাকা পর্বের সূচনা হবে এবং একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্স। ১৬ জানুয়ারি প্রথম ম্যাচে দুপুর ২টায় রংপুর রাইডার্স লড়বে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে এবং সন্ধ্যা ৭টায় হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। লিগ পর্বের শেষ দিন অর্থাৎ ১৭ জানুয়ারি দুপুর ১টায় রংপুর রাইডার্স খেলবে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে এবং সন্ধ্যা ৬টায় শেষ ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস মোকাবেলা করবে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। এই ম্যাচগুলোর ফলাফলই নির্ধারণ করে দেবে প্লে-অফের চতুর্থ দলটি কারা হচ্ছে। এরপর শুরু হবে শিরোপার চূড়ান্ত লড়াই। আগামী ১৯ জানুয়ারি প্লে-অফ পর্ব শুরু হবে, যেখানে দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হবে এলিমিনেটর ম্যাচ এবং সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে লড়বে টেবিলের শীর্ষ দুই দল। এরপর ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় গ্র্যান্ড ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে বিপিএলের এবারের আসরের।
ঢাকার দর্শকদের জন্য এই শেষ পর্বটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে চলেছে, কারণ প্রতিটি দলই এখন তাদের সেরা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মধ্যে চতুর্থ দল হিসেবে টিকে থাকার যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে, তা মিরপুরের গ্যালারিতে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঢাকা পর্ব সফল করতে প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্লে-অফ ও ফাইনালের টিকিট নিয়েও সাধারণ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, মিরপুরের স্লো পিচে স্পিনাররা বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন, যা টুর্নামেন্টের মোড় যেকোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কোন চারটি দল প্লে-অফের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় এবং কার হাতে ওঠে বিপিএলের মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা। আকাশছোঁয়া উত্তেজনা নিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ড। এবারের বিশ্বকাপে ডাচরা মূলত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর বেশি আস্থা রেখেছে। গত বাংলাদেশ সফরে দলের অংশ না থাকলেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ফেরানো হয়েছে রুলফ ফন ডার মারউই, বাস ডি লিড, মিচেল লেভিট এবং জ্যাক লায়ন-ক্যাশেটকে। ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো ক্ষুদ্রতর এই সংস্করণে ফিরেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার কলিন অ্যাকারমান। এছাড়াও সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে ১০ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে নজর কাড়া ৩৪ বছর বয়সী সিমার টিম ফন ডার গুগটেন এবং নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করা লোগান ফন বিককেও দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলে নতুন অভিজ্ঞদের আগমনে জায়গা হারাতে হয়েছে বেশ কিছু নিয়মিত মুখকে। বাংলাদেশ সিরিজে থাকা তেজা নিদামানুরু, টিম প্রিঙ্গল ও বিক্রমজিৎ সিংকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। এছাড়াও চেড্রিক ডে ল্যাঙ্গে, সেবাস্তিয়ান ব্রাট, ড্যানিয়েল ডোরাম, শারিজ আহমাদ এবং রায়ান ক্লেইনকেও দলের বাইরে রাখা হয়েছে। নির্বাচকরা মূলত উপমহাদেশের কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারেন এমন অলরাউন্ডার ও বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণ তৈরির দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ফেরানো ডাচদের মাঠের লড়াইয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে খেলবে নেদারল্যান্ডস। এই গ্রুপটি বেশ কঠিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ ডাচদের লড়তে হবে শক্তিশালী পাকিস্তান ও ভারত ছাড়াও নামিবিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। স্কট এডওয়ার্ডসের নেতৃত্বে ডাচরা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। কলম্বোর মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। অভিজ্ঞ ডাচ বাহিনী যদি গ্রুপ পর্বে বড় কোনো অঘটন ঘটাতে পারে, তবে টুর্নামেন্টের সমীকরণ আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে।
নেদারল্যান্ডস স্কোয়াড:
স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক), কলিন অ্যাকারমান, নোয়াহ ক্রোস, বাস ডি লিড, আরিয়ান দত্ত, ফ্রেড ক্লাসেন, কাইল ক্লেইন, মাইকেল লেভিট, জ্যাক লায়ন-ক্যাশেট, ম্যাক্স ও’ডাউড, লোগান ফন বিক, টিম ফন ডার গুগটেন, রুলফ ফন ডার মারউই, পল ফন মিকেরেন এবং সাকিব জুলফিকার।
ফ্রেঞ্চ কাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বড় ধরণের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত আসরের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আন্ডারডগ প্যারিস এফসির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। পিএসজির জন্য এই পরাজয়টি ছিল বেশ তিতকুটে, কারণ তাদেরই তৈরি করা সাবেক অ্যাকাডেমি খেলোয়াড় জোনাথান আইকোনের একমাত্র গোলেই হার মানতে হয়েছে ফরাসি জায়ান্টদের। এই হারের ফলে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ফ্রেঞ্চ কাপের শেষ ৩২-এর গণ্ডি পার হতে ব্যর্থ হলো ১৬টি শিরোপাজয়ী এই দলটি। এমনকি ঘরের মাঠে ২০২২ সালের পর এই প্রথম টুর্নামেন্টে পরাজয়ের স্বাদ পেল লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের মধ্যে সমানে সমান লড়াই চললেও প্যারিস এফসি বেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল প্রদর্শন করে। প্রথমার্ধে আলমানি গোরির একটি বিপজ্জনক শট ঠেকিয়ে পিএসজিকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক লুকাস শাভেলিয়ের। অন্যদিকে পিএসজির আক্রমণভাগ এদিন বারবার সুযোগ নষ্টের মহড়ায় লিপ্ত হয়। ভিতিনহা এবং ব্র্যাডলি বারকোলা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। অতিথি দলের গোলরক্ষক ওবেদ এনকামবাদিও ছিলেন চীনের প্রাচীর হয়ে; তিনি খভিচা কভারাৎসখেলিয়া ও গনসালো রামোসের বেশ কয়েকটি জোরালো শট রুখে দিয়ে নিজের দলের ক্লিনশিট বজায় রাখেন। উসমান দেম্বেলেও বেশ কয়েকবার হানা দিয়েছিলেন কিন্তু ওবেদের দক্ষতায় প্রতিবারই ব্যর্থ হয় তাঁর প্রচেষ্টা।
খেলার যখন ১৬ মিনিট বাকি, ঠিক তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তটি আসে। মাঝমাঠ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে বদলি হিসেবে নামা ইলান কেব্বাল বক্সের ডানপাশ দিয়ে এক নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন জোনাথান আইকোনের উদ্দেশ্যে। আইকোনে অত্যন্ত সাবলীলভাবে বল জালে জড়িয়ে প্যারিস এফসিকে লিড এনে দেন। পিএসজির জন্য এটি ছিল এক চরম পরিহাসের বিষয়, কারণ আইকোনে তাঁর ক্যারিয়ারের হাতেখড়ি নিয়েছিলেন এই ক্লাবেই। গোল হজম করার পর পিএসজি মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে এবং ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায়। তবে তরুণ তারকা ওয়ারেন জাইরে-এমেরির নেওয়া জোরালো শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে দর্শকদের কান্নার রোল পড়ে যায়।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত দেসিরে দুয়ো ও ভিতিনহা গোল করার প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও তাঁদের শটগুলো গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। মাত্র আট দিন আগে লিগ ওয়ানে এই একই প্রতিপক্ষকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল পিএসজি, কিন্তু কাপের নকআউট পর্বে এসে তাঁরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলো। এই পরাজয়টি পিএসজির জন্য ২০২৬ সালের শুরুতেই একটি বড় ধরণের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সফলতম দল হিসেবে এমন বিদায় ম্যানেজমেন্ট ও সমর্থকদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। এখন এই বিপর্যয় কাটিয়ে লিগ ওয়ানে মনোনিবেশ করাই হবে ক্লাবটির প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে, বড় এই জয়টি প্যারিস এফসির জন্য এক অবিস্মরণীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বেলারুশিয়ান টেনিস মহাতারকা আরিনা সাবালেঙ্কা ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের মাধ্যমে নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন। তবে এবারের জয়টি কেবল খেলার মাঠের সাফল্যের কারণেই নয়, বরং পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দেওয়া তাঁর একটি রহস্যময় বক্তব্যের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ইউক্রেনের মার্তা কসতিউককে সরাসরি ৬-৪, ৬-৩ সেটে উড়িয়ে দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের ২২তম একক শিরোপাটি হাতে তুলে নেন মেয়েদের টেনিসের এক নম্বর এই তারকা। টুর্নামেন্টে কোনো সেট না হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জনের পর তিনি যখন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ান, তখন তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত জীবনের এক নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিজয়ী ভাষণ দেওয়ার সময় সাবালেঙ্কা প্রথমে তাঁর কোচিং স্টাফ ও টিমকে ধন্যবাদ জানান। এরপর তিনি সরাসরি প্লেয়ার্স বক্সে থাকা তাঁর বয়ফ্রেন্ড, ব্রাজিলিয়ান উদ্যোক্তা ও ওকাবেরির সিইও জর্জিওস ফ্রাঙ্গুলিসকে উদ্দেশ্য করে এক বিশেষ মন্তব্য করেন। হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমার বয়ফ্রেন্ডকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি আশা করছি খুব শীঘ্রই তোমাকে ভিন্ন কোনো নামে ডাকতে পারব। চলো তোমার ওপরে কিছুটা বাড়তি চাপ দেওয়া যাক।’ তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয় এবং টেনিস ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন জাগে—তবে কি এই তারকা জুটি খুব শীঘ্রই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন? সাবালেঙ্কার এই ‘বাড়তি চাপ’ দেওয়ার কথাটি মূলত আংটি বদল বা বাগদানের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে এখন ব্যাপক জল্পনা চলছে।
২০২৪ সালে জর্জিওস ফ্রাঙ্গুলিসের সঙ্গে সাবালেঙ্কার প্রেমের সম্পর্কটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকে সাবালেঙ্কার প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারিতে ফ্রাঙ্গুলিসের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোর্টে সাবালেঙ্কার বিধ্বংসী মেজাজ থাকলেও মাঠের বাইরে এই জুটির রসায়ন সবসময়ই আলোচনার বিষয় ছিল। ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের এই শিরোপা জয়ের দিনে সাবালেঙ্কার এমন প্রকাশ্য ও রোমান্টিক ইঙ্গিত বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, টেনিস ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি এক বড় পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই তারকা টেনিস খেলোয়াড় ও সফল ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শোনার জন্য। মূলত খেলার সাফল্যের আনন্দ আর ব্যক্তিগত জীবনের রহস্যময় ঘোষণা মিলিয়ে ব্রিসবেনের রাতটি সাবালেঙ্কার জন্য স্মরণীয় হয়ে রইল।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। একই দলের জার্সিতে একই সাথে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েছেন আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী পুত্র হাসান ইসাখিল। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে এই পিতা-পুত্রের পথচলা কেবল একটি বিরল ঘটনাই নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্সেও তাঁরা অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। অভিষেক ম্যাচেই ইসাখিলের করা ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং চতুর্থ উইকেটে বাবার সাথে গড়া ৫৩ রানের কার্যকর জুটি নোয়াখালীকে টুর্নামেন্টের দলগত সর্বোচ্চ ১৮৪ রান সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪১ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি, যেখানে নবী ও ইসাখিলের রসায়ন ছিল সবচাইতে বড় আলোচনার বিষয়।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ৪১ বছর বয়সী মোহাম্মদ নবী এবং তাঁর তরুণ পুত্র ইসাখিলের কথোপকথনে এক চমৎকার ও আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে। ইসাখিল যখন সাংবাদিকদের জানান যে তাঁরা একে অপরের বন্ধুর মতো, তখন নবী সহাস্যে যোগ করেন যে তিনি কেবল ট্রেনিংয়ের সময়ই অনেক কড়া এবং সেখানে কোনো ওজুহাত তিনি সহ্য করেন না। ছেলেকে একজন জাত পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে নবী নিজের সবটুকু অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিচ্ছেন। অভিষেকে নামার আগে তিনি ইসাখিলকে টানা ৯০ মিনিট ধরে বোলারদের ধরন এবং সাইড-আর্ম স্টিকের মাধ্যমে বেশ কঠিন প্রস্তুতি করিয়েছেন। মাঠে খেলা চলাকালীনও নবী প্রতি মুহূর্তেই তাঁর ছেলেকে গাইড করছিলেন যে বোলার কী ধরণের বল করতে পারেন, যা ইসাখিলের ব্যাটিংকে অনেক বেশি সহজ করে তুলেছিল।
নিজের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে ইসাখিল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং স্পষ্টবাদী। অনেকে তাঁকে তাঁর বাবার অনুকরণকারী মনে করলেও তিনি পরিষ্কার করেছেন যে তাঁর খেলার ধরণ সম্পূর্ণ জন্মগত এবং নিজস্ব। নবীও এই বিষয়ে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন যে তাঁর ছেলে কাউকে নকল করে না, বরং তাঁর খেলার একটি স্বতন্ত্র ধারা রয়েছে। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি মিস করা নিয়ে এই তরুণের মনে কোনো আক্ষেপ নেই, কারণ তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দলের স্কোরকে বড় করা। বর্তমানে ঘরোয়া ক্রিকেটে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া ইসাখিলের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো ভবিষ্যতে বাবার সাথে আফগানিস্তান জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা। মোহাম্মদ নবীর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ছেলের সাথে একই একাদশে খেলা ছিল দীর্ঘদিনের লালিত এক স্বপ্ন, যা বিপিএলের এই আসরে সার্থকভাবে বাস্তবে রূপ নিল।
নতুন বছর ২০২৬-এর শুরুটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। গত বছরের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখলেও মাত্র ১১ দিনের মাথায় রেড ডেভিলদের সেই আশা কার্যত ধুলোয় মিশে গেছে। গত রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে দলটি। এফএ কাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার ব্রাইটনের কাছে হারের তিক্ত স্বাদ পেল ইউনাইটেড। রুবেন আমোরিমকে বরখাস্ত করার পর যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ড্যারেন ফ্লেচারের শেষ ম্যাচেও তা কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হলো তারা।
ম্যাচের ১২ মিনিটেই ব্রায়ান গ্রুডার গোলে এগিয়ে যায় ব্রাইটন। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে লড়লেও প্রথমার্ধে সাফল্যের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়োর্ধের ৬৫ মিনিটে ম্যানইউর বিষাদ আরও বাড়িয়ে দেন তাঁদেরই সাবেক খেলোয়াড় ড্যানি ওয়েলবেক। গ্রুডার পাস থেকে এক দুর্দান্ত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এটি ছিল তাঁর শৈশবের ক্লাবের বিপক্ষে অষ্টম গোল। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বেঞ্জামিন সেসকোর গোল ইউনাইটেড সমর্থকদের মনে কিছুটা আশার আলো জ্বালালেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি। এর ওপর ১৮ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা শিয়া লেসি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ইউনাইটেডের বিপর্যয় পূর্ণতা পায়।
এই পরাজয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য বেশ কিছু নেতিবাচক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। ১৯৮১-৮২ মৌসুমের পর এই প্রথমবার দলটি লিগ কাপ ও এফএ কাপ—উভয় ঘরোয়া টুর্নামেন্টের প্রথম বাধা পার হতে ব্যর্থ হলো। এর ফলে বর্তমান মৌসুমে তারা সব মিলিয়ে মাত্র ৪০টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে, যা গত ১১১ বছরের ইতিহাসে তাদের সর্বনিম্ন ম্যাচ খেলার রেকর্ড। এখন স্থায়ী কোচ হিসেবে ওলে গুনার সুলশার কিংবা মাইকেল ক্যারিক—যার হাতেই দায়িত্ব উঠুক না কেন, তাঁকে শুধুমাত্র প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে মনোযোগ দিতে হবে। তবে সেখানেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, কারণ শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ম্যানইউ বর্তমানে ১৭ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে দিনের অন্য ম্যাচে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির হ্যাটট্রিকে পোর্টসমাউথকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভক্তদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক রোমাঞ্চকর ‘এল ক্ল্যাসিকো’ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে বার্সেলোনা। এই জয়ের মাধ্যমে বার্সা গত অক্টোবরে লা লিগায় রিয়ালের কাছে হারের মধুর প্রতিশোধ নিল। একই সাথে ২০১১ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বছর এই টুর্নামেন্টের শিরোপা ধরে রাখার এক অনন্য গৌরব অর্জন করল কাতালান জায়ান্টরা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে সমানে সমান লড়াই চললেও প্রথমার্ধের নাটকীয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচের পাঁচ গোলের চারটিই হয়েছে প্রথম ৪৫ মিনিটে, যার মধ্যে তিনটি গোল এসেছে নির্ধারিত সময়ের পরের ইনজুরি টাইমে।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে রাফিনহার নিপুণ ফিনিশিংয়ে লিড নেয় বার্সেলোনা। তবে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে চমৎকার একক প্রচেষ্টায় রিয়ালকে সমতায় ফেরান ব্রাজিলিয়ান তারকা রদ্রিগো। নাটকের তখনো অনেকটা বাকি ছিল; মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে রবার্ট লেভানডোভস্কির দর্শনীয় চিপ শটে আবারও এগিয়ে যায় বার্সা। কিন্তু রিয়ালও দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না; বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে এক কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলায় গনসালো গার্সিয়া গোল করে স্কোরবোর্ডে ২-২ সমতা ফিরিয়ে আনেন। দুই দলের এমন আক্রমণাত্মক ফুটবল গ্যালারিতে থাকা হাজার হাজার দর্শককে মুগ্ধ করে।
দ্বিতীয়ার্ধেও উত্তেজনার পারদ কমেনি। ৭৩তম মিনিটে রাফিনহার একটি শট রিয়াল ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর গায়ে লেগে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে লিড নেয় বার্সা। এর কিছুক্ষণ পরই চোট কাটিয়ে ফেরা কিলিয়ান এমবাপেকে মাঠে নামায় রিয়াল মাদ্রিদ, কিন্তু তিনি ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বার্সেলোনা। তবে রিয়ালের একের পর এক আক্রমণ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন বার্সা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে বার্সেলোনা তাদের ক্লাবের ইতিহাসে ১৬তম সুপার কাপ ট্রফিটি ঘরে তোলে। এই ঐতিহাসিক জয় বার্সার নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভেন্যু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখনো নিরসন হয়নি, তবে এ বিষয়ে নতুন কিছু বিকল্প প্রস্তাব সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় টুর্নামেন্ট শুরু হতে তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকলেও অনিশ্চয়তা কাটছে না। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে বিসিবি তাদের সব ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার জন্য আইসিসির কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে। তবে আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর পরিবর্তে ভারতের অভ্যন্তরেই বিকল্প এবং তুলনামূলক নিরাপদ ভেন্যু খোঁজার চেষ্টা করছে।
ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ক্রিকবাজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি এবং বিসিসিআই ইতোমধ্যে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাই থেকে সরিয়ে চেন্নাই এবং থিরুভানান্থাপুরামে আয়োজন করা যায় কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই দুটি রাজ্য সংস্থাই ম্যাচগুলো আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে আটটি পিচ প্রস্তুত থাকায় তারা খুব সহজেই বাড়তি ম্যাচগুলো আয়োজন করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে। যদিও বিসিবি শ্রীলঙ্কায় খেলার দাবিতে অনড়, তবে আইসিসি মনে করছে টুর্নামেন্ট শুরুর এই শেষ মুহূর্তে অন্য দেশে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
মূলত আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশের পর থেকেই বিসিবি খেলোয়াড়দের মানসিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টাইগারদের লড়াই করার কথা। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি নির্ধারিত আছে। আইসিসি আজ সোমবার এই ভেন্যু জটিলতা নিরসনে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, যার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে টাইগারদের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত গন্তব্য।
ইংলিশ ফুটবল ঐতিহ্যের অন্যতম আসর এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে এক দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে লেস্টার সিটি। গত শনিবার চেলটেনহ্যাম টাউনের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে টুর্নামেন্টের চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেছে দলটি। এই ম্যাচে লেস্টার সিটির অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরী। দীর্ঘ দিন পর নিজের পছন্দের পজিশন অর্থাৎ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলার সুযোগ পেয়ে হামজা তাঁর প্রতিভার পূর্ণ স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে দল যেমন জয় পেয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও তিনি সবার নজর কেড়েছেন। আগামী সোমবার ড্রয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চতুর্থ রাউন্ডে লেস্টারের পরবর্তী প্রতিপক্ষ কে হতে যাচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা লেস্টার সিটিকে ২৩ মিনিটেই লিড এনে দেন জাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড প্যাটসন দাকা। তাঁর দারুণ ফিনিশিংয়ে অতিথিরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্টেফি মাভিদিদি। ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলেও হামজারা অত্যন্ত কৌশলে সেই লিড ধরে রাখতে সক্ষম হন। যদিও স্বাগতিক চেলটেনহ্যাম টাউন বেশ কয়েকবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু লেস্টারের রক্ষণভাগের দৃঢ়তার সামনে তারা গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয়।
পুরো ৯০ মিনিট মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো হামজা চৌধুরী এই ম্যাচে পরিসংখ্যানের দিক থেকেও ছিলেন সবার শীর্ষে। তিনি ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯৫ বার বল স্পর্শ করেছেন, যা তাঁর সক্রিয়তার প্রমাণ দেয়। মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তিনি দুবার গোলমুখে শট নিয়ে প্রতিপক্ষকে তটস্থ রাখেন। রক্ষণভাগেও হামজা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী; তিনি তিনটি সফল ট্যাকল করার পাশাপাশি দুবার প্রতিপক্ষের পা থেকে বল উদ্ধার করেন। বিশেষ করে একটি নিশ্চিত গোলের শট ব্লক করে তিনি দলের ক্লিনশিট বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেন। তিনবার ফাউলের শিকার হওয়া সত্ত্বেও হামজা তাঁর পেশাদারিত্ব ও লড়াকু মানসিকতা বজায় রেখে লেস্টারকে এক সহজ জয় উপহার দেন।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন)-এর এক উত্তেজনাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে মিসর। এই জয়ের ফলে আইভরি কোস্টের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল এবং টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় নিতে হলো। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচে মিসরের হয়ে তৃতীয় ও জয়সূচক গোলটি করেন দলের প্রাণভোমরা এবং লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহ। ম্যাচ শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় সালাহ এই জয়কে একটি ‘পারফেক্ট জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি খেলোয়াড়ই দেশের জন্য তাঁদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করছেন এবং এই জয় অগ্রযাত্রার পথে বড় এক ধাপ।
এই গোলটির মাধ্যমে ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে একটি নতুন রেকর্ড যোগ করেছেন মোহাম্মদ সালাহ। আফকনের ইতিহাসে তিনি এখন পর্যন্ত ১১টি ভিন্ন জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, এই গোলের সুবাদে তিনি মিসরীয় জাতীয় দলের বর্তমান কোচ হোসাম হাসানের আফকনে করা ১১ গোলের রেকর্ডের সঙ্গে সমতায় পৌঁছেছেন। এখন টুর্নামেন্টে মিসরের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হাসান এল-শাজলির ১২ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে সালাহর প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল। সালাহর এমন বিধ্বংসী ফর্ম মিসরের সমর্থকদের নতুন করে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
আগামী বুধবার মরক্কোর তানজিয়ারে টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী সেনেগালের মুখোমুখি হবে মিসর। এটি ফুটবল বিশ্বের জন্য অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত একটি ম্যাচ হতে চলেছে, কারণ ২০২১ সালের আফকন ফাইনালেও এই দুই দলই একে অপরের মোকাবিলা করেছিল। সালাহ জানিয়েছেন যে, প্রতিপক্ষ হিসেবে সেনেগাল অত্যন্ত কঠিন হলেও তাঁরা তাঁদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। দলের প্রতিটি সদস্যই এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং কেউ কোনো সুযোগ ছেড়ে দিতে রাজি নন। পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন সালাহ বনাম সেনেগালের সেই রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।