বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানের যেমন লক্ষ্য হতে পারে

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৫৬

কলম্বোতে আজ ভারত-পাকিস্তানের মহারথ। আজ জিতলেই ফাইনালের টিকিট পেয়ে যাবে বাবর আজমের দল। এদিকে সুপার ফোরে আজকেই প্রথম ম্যাচ ভারতের। এমন ম্যাচে টস হেরেছে ভারত। টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাক অধিনায়ক বাবর আজম। তবে ২৪ ওভারের বেশি খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো না। কারণ ২৫তম ওভারের প্রথম বলের পরই বৃষ্টি হানা দিয়েছে। ফলে খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন আম্পায়াররা।

যদি এরপর আর ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ না পায় ভারত। তাহলে ডিএল মেথডে ম্যাচের ফলাফল বের করতে পাকিস্তানকে নূন্যতম ২০ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বাবর আজমের দলের জন্য লক্ষ্যমাত্রা হবে ১৮১ রান।

এশিয়া কাপের এবারের আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দেখায় ব্যর্থ ছিল ভারতের টপ অর্ডার। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে পাত্তাই পাননি রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিরা। আজ সুপার ফোরের ম্যাচে যেন প্রতিশোধের পণ করেই মাঠে নেমেছিলেন দুই ওপেনার শুভমান গিল ও রোহিত! দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দুজনেই তুলে নিয়েছেন ফিফটি। অবশ্য ফিফটি হাঁকানোর পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি দুজনের কেউ। ২৪.১ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান। ৮ রান নিয়ে উইকেট আছেন বিরাট কোহলি। অপর অপরাজিত ব্যাটার লোকেশ রাহুলের সংগ্রহ ১৭ রান।

বাংলাদেশ ম্যাচের একাদশ নিয়েই ভারতের বিপক্ষে নামছে পাকিস্তান। একাদশে আছেন চার পেসার অর্থাৎ শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হ্যারিস রউফের সঙ্গে একাদশে নেওয়া হয়েছে পেস অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফকে। অফ ফর্মে থাকলেও একাদশে টিকে গেছেন ওপেনার ফখর জামান। অন্যদিকে ভারতের একাদশে আছেন যাসপ্রিত বুমরাহ ও লোকেশ রাহুল। শ্রেয়াস আইয়ার খেলছেন না। তার জায়গায় লোকেশ রাহুল।


ফিফা পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং: শীর্ষে এমবাপ্পে, মেসি দ্বিতীয় স্থানে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩১
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল কি কেবলই জালে বল জড়ানো বা ড্রিবলিংয়ের প্রদর্শনী? আধুনিক ফুটবল বলছে—না। মাঠের একজন খেলোয়াড় কতটুকু দৌড়ালেন, বিপক্ষ দলের আক্রমণভাগের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করলেন কিংবা সঠিক সময়ে সঠিক পাসটি দিলেন কি না—এখন থেকে তার প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব রাখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা উন্মোচন করেছে তাদের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ‘ফিফা পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং’।

সৌদি আরবের খ্যাতনামা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকো (Aramco)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় চালু হওয়া এই ব্যবস্থাটি ফুটবলারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের দীর্ঘদিনের প্রথাগত ধারণাকে আমূল বদলে দেবে।

কেন এই পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং

এতদিন পর্যন্ত একজন ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করা হতো তার করা গোল সংখ্যা বা অ্যাসিস্ট দিয়ে। কিন্তু একজন ডিফেন্ডার বা হোল্ডিং মিডফিল্ডার গোল না করলেও ম্যাচে যে অসামান্য প্রভাব ফেলেন, তা অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকে যেত। ফিফা পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং এই ‘অদৃশ্য’ অবদানকেই সামনে আনবে।

ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান এবং আর্সেনালের কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার এই প্রকল্পের মূল কারিগর। তার মতে, "ফুটবল এখন ডেটা বা তথ্যের খেলা। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চেয়েছি যা ভক্তদের জানাবে কেন একজন খেলোয়াড় গোল না করেও ম্যাচের সেরা হতে পারেন।"

কীভাবে নির্ধারিত হবে স্কোর

এই পদ্ধতিতে আউটফিল্ড খেলোয়াড় এবং গোলরক্ষকদের জন্য আলাদা আলাদা বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড রাখা হয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে খেলোয়াড়দের ০ থেকে ১০-এর স্কেলে নম্বর দেওয়া হবে।

১. আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের জন্য (তিনটি বিভাগ):

  • অ্যাটাকিং (Attacking): কেবল গোল নয়, বরং প্রতিপক্ষের বক্সে কতবার আতঙ্ক সৃষ্টি করলেন, ডি-বক্সের ভেতর কতটা জায়গা তৈরি করলেন—এসবই এখানে গুরুত্ব পাবে।
  • ক্রিয়েটিভিটি (Creativity): একজন খেলোয়াড়ের দূরদৃষ্টি (Vision) এবং তার দেওয়া পাসের নির্ভুলতা বিশ্লেষণ করা হবে। আক্রমণের সুযোগ তৈরির ক্ষমতা এখানে মুখ্য।
  • ডিফেন্ডিং (Defending): প্রতিপক্ষের আক্রমণ আগেভাগে পড়ার ক্ষমতা (Anticipation), ইন্টারসেপশন এবং ট্যাকল করার দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই স্কোর দেওয়া হবে।

২. গোলরক্ষকদের জন্য (দুটি বিভাগ):

  • গোল রক্ষা (Defending the Goal): অবিশ্বাস্য সেভ এবং গোললাইনের ওপর তার ক্ষিপ্রতা।
  • বল দখলে দক্ষতা (In Possession): আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষককে গোলপোস্টের ‘লিবারো’ বলা হয়। তিনি নিচ থেকে খেলা গড়ে দিতে কতটা পারদর্শী, তার ওপর ভিত্তি করে এই নম্বর দেওয়া হবে।

কঠোর নিয়ম ও দ্রুত ফলাফল

ফিফা জানিয়েছে, এই র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।

  • ২০ মিনিটের শর্ত: কোনো খেলোয়াড়কে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে ম্যাচে অন্তত ২০ মিনিট খেলতে হবে।
  • তাত্ক্ষণিক আপডেট: ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের স্কোর বিশ্বজুড়ে ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
  • ধারাবাহিকতা: প্রতিটি রাউন্ড শেষে ‘সেরা ১০০’ জনের তালিকা এবং টুর্নামেন্ট শেষে একটি চূড়ান্ত সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হবে।

পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বসেরা ১০

বর্তমান পারফরম্যান্স ডেটা ও ফিফার অ্যালগরিদম অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ‘প্রভাবশালী’ ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল করার পাশাপাশি তার আক্রমণের তীব্রতা তাকে শীর্ষে রেখেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বিশ্বজয়ী লিওনেল মেসি, যার ক্রিয়েটিভিটি স্কোর এখনও বিশ্বসেরা।

চলুন একনজরে দেখে নিই ফিফা পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ের বর্তমান শীর্ষ ১০:

র‍্যাঙ্ক

খেলোয়াড় (দেশ)

অ্যাটাকিং

ক্রিয়েটিভিটি

ডিফেন্ডিং

সামগ্রিক অবস্থান

০১

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)

৮.৭১

৭.৫২

৪.৭১

শীর্ষে

০২

লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)

৮.৪৫

৭.০৫

৪.৫৩

রানার-আপ

০৩

আরলিং হালান্ড (নরওয়ে)

৮.০৪

৪.৮৪

৫.৩১

গোল মেশিন

০৪

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)

৭.৪১

৫.০১

৪.৮৪

নির্ভরযোগ্য

০৫

মানজাম্বি (সুইজারল্যান্ড)

৭.৩২

৬.৯২

৪.৭৫

ডার্ক হর্স

০৬

জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড)

৭.৩০

৬.৪১

৫.৮৭

অল-রাউন্ডার

০৭

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)

৭.২০

৭.১৭

৪.৬৫

ড্রিবলিং কিং

০৮

কিনিওনেস (মেক্সিকো)

৬.৯৮

৬.৮৫

৫.৩১

উদীয়মান

০৯

উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স)

৬.৯৭

৬.৯১

৪.৮৮

গতির রাজা

১০

সামারভিল (নেদারল্যান্ডস)

৬.৭৮

৭.১১

৫.১৩

টেকনিক্যাল

ফুটবল বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে খেলোয়াড়দের ট্রান্সফার মার্কেট বা দলবদলের বাজারেও বিশাল প্রভাব পড়বে। ক্লাবগুলো এখন শুধু গোল দেখে নয়, বরং পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ের ডেটা দেখে খেলোয়াড় কিনবে। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম ‘ফুললি ডেটা-ড্রিভেন’ বা তথ্যনির্ভর বিশ্বকাপ।

মাঠে ঘাম ঝরানো ফুটবলারদের প্রতিটি ড্রপ এখন থেকে প্রযুক্তির তুলাদণ্ডে মাপা হবে। ফলে ভক্তদের কাছে ফুটবল হয়ে উঠবে আরও স্বচ্ছ, আরও গাণিতিক এবং আরও রোমাঞ্চকর!


মিশরের গোল বাতিলের ক্ষেত্রে ফিফার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার নকআউট পর্বের ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মিশরের একটি গোল বাতিল করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে খোদ ফিফার বিশেষজ্ঞরাই প্রশ্ন তুলছেন। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনাকারী অভিজ্ঞ মেক্সিকান রেফারি ফার্নান্দো গুয়েরেরো।

ভিএআর প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ
ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মিশরের সামনে। কিন্তু ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার দীর্ঘ ভিএআর রিভিউ শেষে ফাউলের অজুহাতে মিশরের গোলটি বাতিল করেন। ফার্নান্দো গুয়েরেরোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তটি নিতে গিয়ে ফিফার নিজস্ব ভিএআর (VAR) প্রটোকল বা নিয়ম চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন, ভিএআর-এর ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ নিয়ম অনুযায়ী এই গোলটি বাতিলের কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ বলটি উদ্ধার করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পেয়েছিল এবং তারা অন্তত তিনবার বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছিল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ডিফেন্ডিং দল যখন বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বাস্তবসম্মত সুযোগ পায়, তখন আগের কোনো সম্ভাব্য ফাউলের জন্য ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

ম্যাচের ওপর প্রভাব ও মিশরের ক্ষোভ


বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মিশর ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে। এই পরাজয়ের পর মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এই ম্যাচটিকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মিশরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং তারকা খেলোয়াড়দের টিকিয়ে রাখতেই এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি মাঠেই খেলোয়াড়দের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।

কে এই ফার্নান্দো গুয়েরেরো


যিনি এই রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সেই ফার্নান্দো গুয়েরেরো বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একজন রেফারি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার ঐতিহাসিক ফাইনালে তিনি ‘সাপোর্ট ভিএআর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই টুর্নামেন্টে তিনি ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি দলের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন, যার মধ্যে জাপান বনাম স্পেন এবং বেলজিয়াম বনাম মরক্কোর মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলো উল্লেখযোগ্য।
আর্জেন্টিনা ও মিশরের এই ম্যাচটি শেষ হলেও এর রেফারিং নিয়ে আলোচনা থামছে না। একজন বিশ্বমানের রেফারিং বিশেষজ্ঞের এমন তথ্যনির্ভর সমালোচনা ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মিশরের দাবি, মাঠের এই ভুল সিদ্ধান্তই তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।


ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে তদন্তের দাবি উঠেছে। মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একদল আইনপ্রণেতা এ বিষয়ে তৎপরতা শুরু করেছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে একটি চিঠি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বকাপের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার্থে এই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক বলে মনে করছেন তারা।

বিশেষ করে ‘বালোগান’ নামক একটি আলোচিত ঘটনায় ফিফার রহস্যজনক ভূমিকার বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত সপ্তাহে একটি ম্যাচে বালোগান সরাসরি লাল কার্ড পেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সিদ্ধান্তকে "অন্যায়" বলে মন্তব্য করেন। এর পরেই ফিফা একটি বিশেষ আইনি ধারার দোহাই দিয়ে ওই খেলোয়াড়ের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়, যা ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের আগে ট্রাম্প ফিফা সভাপতির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং "একটি বড় অন্যায়ের অবসান ঘটানোর" জন্য ইনফান্তিনোকে ধন্যবাদ জানান। তবে ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো দাপ্তরিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, ফিফার এমন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে "নজিরবিহীন, অবিশ্বাস্য এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য" বলে উল্লেখ করেছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে রেফারিং, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্পন্সরদের হস্তক্ষেপ নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, সেসব বিষয়কেও তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা।


আর্জেন্টিনার জয়ের ম্যাচকে ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ বললেন জোসে মরিনিয়ো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪৮
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে বর্তমান শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে মিশর। তবে আলবিসেলেস্তেদের এই অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের চেয়েও এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার-এর বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর-এর রহস্যজনক ভূমিকা। মিশরের একটি গোল বাতিল হওয়া এবং পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে মিশরের কোচ হোসাম হাসানের ক্ষোভ প্রকাশের পর এবার ফিফা ও রেফারির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন হোসে মরিনহো, অ্যালান শিয়েরার ও গ্যারি ক্যাসপারভের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা।

রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসির সাবেক প্রখ্যাত কোচ জোসে মরিনিয়ো রেফারি ও ভিএআর-এর এই কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যখন আপনি এই আর্জেন্টিনা দলটির বিপক্ষে খেলবেন, তখন ২-০ গোলে এগিয়ে থাকাও যথেষ্ট নয়। কারণ, আপনি মাঠে শুধু ১১ জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে খেলছেন না। আপনি খেলছেন রেফারির বাঁশির বিরুদ্ধে, আপনি খেলছেন ভিএআর রুমের বিরুদ্ধে, এমনকি আপনি খেলছেন এই টুর্নামেন্টের পুরো পাতানো চিত্রনাট্যের বিরুদ্ধে!’

অন্যদিকে, রেফারিংয়ের মান নিয়ে ফিফাকে ধুয়ে দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত দাবাড়ু ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গ্যারি ক্যাসপারভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘মিশরের দুর্দান্ত একটি গোল বাতিল করা হলো অনেক দূরের এক ফাউলের অজুহাতে। অথচ কয়েক মিনিট পর ঠিক একই রকম পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার গোল বাতিল করা হলো না!’ ক্যাসপারভ ফিফাকে একটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত তামাশা’ বলে অভিহিত করেন, যারা কেবল বড় তারকাদের বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতে ব্যস্ত।

ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরারও ভিএআর-এর এই দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, ‘হয় দুটোই ফাউল, না হলে একটাও ফাউল নয়। কিন্তু তারা (ফিফা) তো আমাদের বলেছিল যে তারা ম্যাচের ভেতর নতুন করে রেফারিং করবে না!’ পাশাপাশি সাবেক আর্সেনাল তারকা ইয়ান রাইটও মিশরের এই ক্ষোভ ও আক্ষেপকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে সমর্থন জানিয়েছেন।


আর্জেন্টিনাকে জেতাতে রেফারিংয়ের মাধ্যমে ‘জুলুমের’ অভিযোগ মিসরের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের আক্ষেপে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মিসরকে। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ফারাওরা পরাজিত হলেও মাঠের উত্তেজনা এখন ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল বিশ্বে। রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি মিসরের মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকো অভিযোগ করেছেন যে, ম্যাচটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।

মিসরীয়দের প্রধান ক্ষোভের কারণ ছিল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৬২তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল বাতিল হওয়া। ভিএআরের সহায়তায় রেফারি লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করলেও মিসরীয়দের দাবি ছিল সেখানে কোনো ফাউলই হয়নি। বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়ে যখন যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। মিসরের অভিযোগ, সেই গোলটি হওয়ার ঠিক আগে তাদের একজন খেলোয়াড় ফাউলের শিকার হলেও রেফারি কিংবা ভিএআর তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি। ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জিকো বলেন, ‘আজ রেফারির পারফরম্যান্স শুধু খারাপ ছিল না, তিনি আমাদের ওপর পরিষ্কার জুলুম করেছেন। ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গেছে। আমার মনে হয়েছে, তিনি কোনোভাবেই চাননি আমরা ম্যাচটি জিতি।’ একপর্যায়ে আরও কঠোর ভাষায় তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমার মনে হয়েছে ম্যাচটির ফল আগেই ঠিক করা ছিল। আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকেই একের পর এক বাঁশি আমাদের বিপক্ষে যেতে শুরু করে। আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের আগাম অভিনন্দন জানিয়ে রাখছি। আজ যা দেখলাম, তাতে অন্তত আমার সেটাই মনে হয়েছে।’

এই হারের প্রতিবাদে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এখন দাপ্তরিক লড়াই শুরু করেছে এবং ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। তারা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ইএফএ সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফাকে জানিয়েছেন যে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। আবু রিদা তার চিঠিতে দাবি করেন, ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার দলকে যেন ২০২৬ বিশ্বকাপের পরবর্তী কোনো ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া না হয়। আবু রিদার ভাষায়, ‘রেফারির একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমরা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।’

মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও রেফারিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এর পেছনে বাণিজ্যিক ও বিপণন স্বার্থের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন যে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। হোসাম হাসান বলেন, ‘আমাদের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো, আমি জানি না। এটি কোনোভাবেই ন্যায্য সিদ্ধান্ত ছিল না। পুরো পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হয়েছে, লিওনেল মেসিকে যেকোনো মূল্যে এই টুর্নামেন্টে ধরে রাখার একটি প্রচ্ছন্ন ইচ্ছা রয়েছে। কারণ এর সঙ্গে বিশাল বাণিজ্যিক ও বিপণন স্বার্থ জড়িত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ আমরা দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছি। কিন্তু ফুটবল আমাদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। হয়তো তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আর মেসি টুর্নামেন্টে থাকলে স্পন্সর ও বিপণনের জন্য সেটি বেশি লাভজনক। তাই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। আজ রেফারি মিসরের প্রতি প্রকাশ্য অবিচার করেছেন। এখানে কোনো স্পোর্টিং জাস্টিস ছিল না। আমার মনে হয়েছে, মাঠের ফুটবলের বাইরেও অন্য কিছু বিষয় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে।’

ম্যাচটি একসময় পুরোপুরি মিসরের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শেষ ১১ মিনিটের নাটকীয়তায় ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের গোলে অবিশ্বাস্যভাবে জয় পায় আর্জেন্টিনা। বিদায়ের পর অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হোসাম হাসান বলেন, ‘আমি মিসর এবং সমগ্র আরব বিশ্বের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমরা সবাইকে আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম এবং যত দূর সম্ভব যেতে চেয়েছিলাম। আমার খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে, তাদের নিয়ে আমি গর্বিত। আমাদের স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব। আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছুর জন্য।’ এই পুরো ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এখন রেফারিং ও ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


কলম্বিয়াকে বিদায় করে ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলায় গোলের দেখা না মেলায় টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে কলম্বিয়াকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। দক্ষিণ আমেরিকান দেশটিকে ৪-৩ ব্যবধানে বিদায় করে শেষ আটের টিকিট পেল সুইসরা। শ্বাসরুদ্ধকর এই পেনাল্টি শুটআউটে কলম্বিয়া দুটি শটে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়, অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড এক শটে গোল না পেলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে।

দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছাল সুইজারল্যান্ড। এর আগে ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত আসরে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল, তবে এবার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। ৭২ বছর পর শেষ আটে ওঠা সুইসদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ শক্তিশালী আর্জেন্টিনা।

পেনাল্টি শুটআউটে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কুচো হার্নান্দেজের শটটি রুখে দেন। দলের পক্ষে রুবেন ভার্গাস জয়সূচক পেনাল্টি গোলটি করেন। যদিও এর আগে সুইজারল্যান্ডের আকাঞ্জি বল জালের বাইরে পাঠিয়েছিলেন এবং কলম্বিয়ার ডেভিনসন সানচেজও গোল করতে ব্যর্থ হন, তবুও শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশ্চিত হয় ইউরোপীয় দলটির।

ভ্যাঙ্কুভারে হাজার হাজার আবেগপ্রবণ সমর্থকের উপস্থিতিতে কলম্বিয়া লড়াই শুরু করলেও সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের ২১তম মিনিটে গুস্তাভো পুয়ের্তার একটি চমৎকার বাঁকানো শট কোবেল রুখে দিলে প্রথম গোলবঞ্চিত হয় কলম্বিয়া। অন্যদিকে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসও ফাবিয়ান রিডার এবং ড্যান এনডোয়ের আক্রমণ প্রতিহত করে প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখেন।

ম্যাচের দ্বিতীয় অংশে দুই দলের কোচ একাধিক পরিবর্তন আনলেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কলম্বিয়ার প্রধান তারকা লুইস দিয়াজকে পুরো ম্যাচে বোতলবন্দি করে রাখে সুইস ডিফেন্ডাররা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কলম্বিয়ার জন লুকুমির একটি হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসলে ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে মোড় নেয়। আগামী পর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড, যারা মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।


লজ্জার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বড় ধাক্কা খেলেন লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার আর্জেন্টিনা ও মিশরের লড়াইয়ে পেনাল্টি মিস করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

ম্যাচের ১৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় মিশর। গোলটি করেন ইয়াসের ইব্রাহিম। এর কিছুক্ষণ পরই আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। ১৯ মিনিটে বক্সের ভেতর নিকলাস তালিয়াফিকোকে ফাউল করা হয়। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

স্পট কিক নিতে আসেন মেসি নিজেই। তিনি শট নেন ডান দিকে। কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর ঠিক দিকেই ঝাঁপ দেন। বল ঠেকিয়ে দেন তিনি। ফলে গোল পাওয়া হয়নি আর্জেন্টিনার।

এই নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার পেনাল্টি মিস করলেন মেসি। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও তার পেনাল্টি সেভ হয়েছিল। সেই ম্যাচে অবশ্য আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জিতেছিল।

শুটআউট বাদ দিলে, এক বিশ্বকাপে দুইবার পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় এখন মেসি। তার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মোট চারটি পেনাল্টি মিস হলো বিশ্বকাপে। এটিও একটি রেকর্ড।

এবারের বিশ্বকাপের আগে রেকর্ডটা ছিল যুগ্মভাবে ঘানার সাবেক স্ট্রাইকার আসামোয়া জিয়ান ও মেসির। দুজনেরই ২টি করে পেনাল্টি মিস ছিল। এবারের বিশ্বকাপে দুই পেনাল্টি মিস করে সে রেকর্ডটা একান্তই নিজের করে নিয়েছেন মেসি। আজ পেনাল্টি মিস করে তিনি গড়লেন আরও এক বিব্রতকর বিশ্বরেকর্ড।


হারের হতাশার মাঝেও বিশাল প্রাইজমানি নিয়ে বাড়ি ফিরছে ব্রাজিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার হতাশা থাকলেও আর্থিকভাবে বিশাল অঙ্কের পুরস্কার নিয়েই বাড়ি ফিরছে ব্রাজিল। ফিফার নির্ধারিত প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) কোষাগারে যোগ হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মার্কিন ডলারে ২ কোটি ৫৫ লাখের সমান। মাঠের পারফরম্যান্সের দুঃখ কাটাতে না পারলেও এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তাদের প্রাপ্তির খাতা বেশ ভারী করেছে।

ব্রাজিলের এই বিশাল আয়ের পেছনে রয়েছে ফিফার চমৎকার পুরস্কার ব্যবস্থা। নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এর বাইরে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিটি দলকে দেওয়া হয়েছে আরও ১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ১৫ লাখ ডলার আগে থেকেই প্রস্তুতি ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল। সব মিলিয়ে এই দুই খাতের অর্থ একত্রিত করে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ১২৪ টাকা ধরে ব্রাজিলের মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৩১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এবারের বিশ্বকাপে ফিফা সর্বমোট ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা, পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করছে। এই বিশাল অঙ্কের বাজেট ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এই প্রাইজমানি কাঠামোর শীর্ষস্থানে থাকা চ্যাম্পিয়ন দল পাবে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা বা ৫ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া রানার্সআপ দল প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা, তৃতীয় স্থান অধিকারী দল প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দল প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা ঘরে তুলবে।

বিশ্বকাপে সেলেসাওদের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল ভক্তরা ব্যথিত হলেও, সিবিএফের কোষাগারে যোগ হওয়া এই কয়েকশ কোটি টাকা তাদের ভবিষ্যৎ ফুটবলকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ফেডারেশনের কর্তারা মনে করছেন, এই বিপুল অর্থ ভবিষ্যতে ব্রাজিলের সামগ্রিক ফুটবল কাঠামোর উন্নয়ন, তৃণমূলের প্রতিভার বিকাশ এবং আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদী ও উন্নত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের লাল কার্ড-জনিত নিষেধাজ্ঞায় থাকা ফুটবলারকে ফেরাতে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে। সেই ফোলারিন বালোগানকে নিয়েই মার্কিনিরা আজ (মঙ্গলবার) বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লুকাকু-ডি ব্রুইনার বেলজিয়াম।

সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে নামার আগে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নজর ছিল পুরো বিশ্বের। আসরজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলে আকর্ষণ জাগানো দলটি অবশ্য আসরে নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচে ছন্দে ছিল না। উল্টো বেলজিয়ামের উন্নত ফুটবলের সামনে ছিল অসহায়, মার্কিনিদের একের পর এক ভুলও তারা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের ভুলেই হয়েছে দুটি গোল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় নিশ্চিতের পথে বেলজিয়ামের হয়ে চার্লস ডি কেটেলার জোড়া গোল এবং হান্স ভেনাকেন ও রোমেলু লুকাকু একটি করে গোল করেন। এর আগে মালিক টিলম্যান এক গোল করে সমতায় ফিরিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রকে। প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে আসা বেলজিয়াম গত ১২ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো শেষ ষোলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করল। একইসঙ্গে টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ধারাও বজায় রাখল তারা।

সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার ইংগলউডে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। সেই ম্যাচের বিজয়ীরা সেমিফাইনালে খেলবে ফ্রান্স অথবা মরক্কোর বিপক্ষে।

এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো টানা তিনটি ম্যাচ জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০০২ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি তারা। এছাড়া ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে জয়ের পর থেকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টানা সপ্তম পরাজয় এটি। ইউরোপের দলের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। একমাত্র জয়টি ছিল রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে।

ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই ডি কেটেলারে গোল করে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন। চলতি বিশ্বকাপে এটিই প্রথম ম্যাচ, যেখানে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে টিলম্যান নিজের টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ফ্রি-কিক গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান। তবে কিক-অফের মাত্র ৬১ সেকেন্ড পরই আবার গোল হজম করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো বেঞ্চের সামনে রাখা বোতলের র‌্যাকে লাথি মারেন, ছিটকে যায় চারটি পানির বোতল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের মারাত্মক ভুল থেকে তৃতীয় গোল পায় বেলজিয়াম। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রোমেলু লুকাকু দলের চতুর্থ গোলটি করেন।


বিশ্বকাপের শেষ চার ম্যাচের নতুন বল ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল—টুর্নামেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ চারটি ম্যাচকে সামনে রেখে নতুন অফিশিয়াল ম্যাচ বল উন্মোচন করেছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ‘ট্রিওন্ডা ফাইনাল’ নামের এই নতুন বল দিয়েই নির্ধারিত হবে এবারের আসরের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

গত বছরের অক্টোবরে উন্মোচিত হওয়া মূল ‘ট্রিওন্ডা’ বলের একটি বিশেষ উন্নত সংস্করণ হলো এই নতুন বলটি। প্রযুক্তিগত দিক থেকে আগের বলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও এর বাহ্যিক নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্বকাপের শেষ চার ম্যাচের বিশেষ গুরুত্ব এবং জয়ের প্রতীকী যাত্রাকে ফুটিয়ে তুলতে কালো রঙের ভিত্তির ওপর সোনালি রঙের নকশায় ট্রফির প্রতিচ্ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বলটিকে একটি আলাদা আভিজাত্য দিয়েছে।

নতুন এই বলটিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬টি স্বাগতিক শহরের নাম চমৎকারভাবে স্থান পেয়েছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর ভেন্যু ডালাস, আটলান্টা, মায়ামি ও নিউজার্সিকে বলের গায়ে বিশেষভাবে হাইলাইট করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশেষ ত্রিভুজাকৃতির গ্রাফিক নকশার মাধ্যমে বোস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস, মেক্সিকো সিটি, সিয়াটল, টরন্টোসহ বাকি স্বাগতিক শহরগুলোর নামও যুক্ত করা হয়েছে।

নকশার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বলটি অত্যন্ত আধুনিক। এতে ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে বলের প্রতিটি স্পর্শের তথ্য রিয়েল-টাইমে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। এর ফলে অফসাইড বা বল স্পর্শের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হবে। নতুন এই বল নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এই বিশেষ সংস্করণ তিন স্বাগতিক দেশের ঐক্য ও ফুটবলের প্রতি আবেগের প্রতীক এবং বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের পায়ে এটি নতুন ইতিহাস রচনা করবে।


না ফেরার দেশে আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থান পর্বের অন্যতম তারকা বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। (মূল খবরে তাঁকে ডানহাতি পেসার বলা হলেও, তিনি মূলত বাঁহাতি পেসার ছিলেন)। বিরল ও প্রাণঘাতী এক রোগের সঙ্গে দীর্ঘ দুই বছর লড়াই করার পর মঙ্গলবার ৩৮ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে আফগানিস্তানের ক্রীড়াঙ্গনসহ পুরো ক্রিকেট বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাপুর জাদরান ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) নামক একটি বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত জানুয়ারি মাস থেকে ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মাঝে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরবর্তীতে আবারও অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সাবেক এই আফগান পেসার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন ভাই ও আফগানিস্তান জাতীয় দলের আরেক সাবেক ক্রিকেটার দৌলত জাদরান। শোক প্রকাশ করে তিনি লেখেন, "আমার প্রিয় বন্ধু ও ভাই শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে আমি ভেঙে পড়েছি। এই ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।" তাঁর মৃত্যুতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) সহ বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর আফগানিস্তান জাতীয় দলকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন শাপুর জাদরান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের জার্সিতে বল হাতে তিনি মোট ৮০টি উইকেট শিকার করেন। ২০২০ সালে দেশের হয়ে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সফরসহ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) খেলেছিলেন পরিচিত এই মুখ।


আর্জেন্টিনাসহ যেসব দেশ নিশ্চিত করল ২০৩০ বিশ্বকাপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের নজর এখন পরবর্তী ২০৩০ বিশ্বকাপের দিকে। ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্ণ হতে যাওয়া বিশেষ এই আসরটি নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ফিফা। তিন মহাদেশের মোট ৬টি দেশে আয়োজিত হবে ২০৩০ বিশ্বকাপ। আসরের মূল আয়োজক হিসেবে থাকছে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। এছাড়া বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ।

১৯৩০ সালে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন ছিল উরুগুয়ে এবং রানারআপ ছিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘কনমেবল’-এর সদর দপ্তর। সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই এই তিন দেশকে আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করেছে ফিফা। আয়োজক হওয়ার সুবাদে এই ৬টি দেশই ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ সরাসরি কোয়ালিফাই করলেও প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতি বজায় রাখতে তারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেবে।

ফিফার প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬টি দেশের ১৮টি শহরের ২১টি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘতম এই টুর্নামেন্টটি ২০৩০ সালের ৮ জুন শুরু হয়ে শেষ হবে ২১ জুলাই। অর্থাৎ প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই ফুটবল মহোৎসবের মধ্য দিয়ে একই সঙ্গে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা—তিনটি মহাদেশ বিশ্বকাপের জোয়ারে ভাসবে। ঐতিহাসিক এই আয়োজনের মাধ্যমে ফুটবলের বিশ্বজনীন আবেদনকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় ফিফা।


আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে সুপার কম্পিউটারের চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ রাতে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও প্রথমবারের মতো শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেওয়া মোহামেদ সালাহর মিশর। একদিকে রেকর্ড আর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইতিহাস গড়া ‘ফারাও’ খ্যাত মিশরীয়রা। লড়াই শুরুর আগে মাঠের বাইরের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে ফুটবল বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা ‘অপটা’-র সুপার কম্পিউটার। তাদের বিশ্লেষণে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে প্রায় ২৫ হাজার বার কৃত্রিম সিমুলেশন চালিয়ে সুপার কম্পিউটার জানিয়েছে, এই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তাদের হিসেবে আর্জেন্টিনার জেতার সম্ভাবনা ৬৯.১ শতাংশ, যা দলটিকে এই ম্যাচের নিরঙ্কুশ ফেভারিটে পরিণত করেছে। বিপরীতে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের স্বাদ নেওয়া মিশরের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১২.৩ শতাংশ। বাকি ১৮.৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর। অর্থাৎ পরিসংখ্যানের পাতায় মিশরের চেয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে মেসিরা।

কাগজে-কলমে মিশর অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও দলটির তুরুপের তাস হতে পারেন মোহামেদ সালাহ। ফুটবল বিশ্ব অতীতে অনেক বড় বড় অঘটন দেখেছে, তাই সালাহর নেতৃত্বে মিশরীয়রা নতুন কোনো রূপকথা লিখবে কি না, সেই আশায় বুক বাঁধছে ভক্তরা। তবে এই ম্যাচের ফলাফলে পরিসংখ্যানের বাইরেও বড় একটি নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে ফুটবলারদের ক্লান্তি। নকআউট পর্বের আগের ম্যাচে দুই দলকেই ১২০ মিনিটের ম্যারাথন লড়াই চালিয়ে আসতে হয়েছে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের সেই শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য দুই দলই সবচেয়ে কম বিরতি পেয়েছে।

তীব্র ক্লান্তি আর চোটের আশঙ্কা এই ম্যাচের কৌশল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। ফিটনেস সমস্যার কারণে অনেক সময় ফেভারিট দলগুলো ছন্দ হারিয়ে ফেলে, আর সেই সুযোগটিই নিতে চাইবে সালাহবাহিনী। সব মিলিয়ে আজকের রাতটি হতে যাচ্ছে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের। আর্জেন্টিনা কি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখবে, নাকি সুপার কম্পিউটারের হিসাব উল্টে দিয়ে ইতিহাসের নতুন পাতায় নাম লেখাবে মিশর, এখন সেই রোমাঞ্চের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সারা বিশ্বের কোটি ফুটবল ভক্ত।


banner close