শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
১০ বৈশাখ ১৪৩৩

রাহুল-কোহলির জোড়া সেঞ্চুরিতে রান পাহাড়ে ভারত

আপডেটেড
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৪৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৪২

রিজার্ভ ডেতে নেমে খেই হারাল পাকিস্তান। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার যেখানে শেষ করেছিলেন সেই ছন্দেই শুরু করেন কোহলি-রাহুল। এ দুজনের সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি নাসিম শাহ-শাহিন আফ্রিদিরা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে অবিচ্ছিন্ন ২৩৩ রানের জুটি গড়েই দলকে বড় পুঁজি এনে দেন এ দুই ব্যাটার।

গতকাল সোমবার নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। রাহুল ১০৬ বল খেলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১১১ এবং কোহলি ৯৪ বলে ৬টি চার ও ২ ছক্কায় ১২২ রান করেন। জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ৩৫৭ রান।

উইকেট কিছুটা ভেজা থাকলে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পায়, তবে কলম্বোতে আজ সেটার সিকি ভাগও কাজে লাগাতে পারেননি পাকিস্তানি পেসাররা। উল্টো লাইন-লেন্থ হারিয়ে নিজেদের খুঁজেছেন শাহিন আফ্রিদি-নাসিম শাহরা। সেই সুযোগ দুই হাত ভরে নিয়েছেন বিরাট কোহলি-লোকেশ রাহুল।

এর আগে গত রোববার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় রেখেই টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাক অধিনায়ক বাবর। সেদিন ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছিল ভারত। প্রথম পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৬১ রান সংগ্রহ করে তারা। এশিয়া কাপের এবারের আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দেখায় ব্যর্থ ছিল ভারতের টপ অর্ডার। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে পাত্তাই পাননি রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিরা। সেই প্রতিশোধের পণ করেই যেন আজ মাঠে নেমেছিলেন দুই ওপেনার শুভমান গিল ও রোহিত! দুই ওপেনার ঝোড়ো ফিফটিও করেন। এর পেছনে পাকিস্তানের বাজে ফিল্ডিংও কম দায়ী নয়। শুরু থেকে মিস ফিল্ডিং আর ক্যাচ মিসের কারণে এমন উড়ন্ত সূচনা পায় রোহিত বাহিনী।

উড়ন্ত সূচনার পরও ম্যাচের একপর্যায়ে স্বরূপে ফেরেন পাক পেসাররা। দ্রুত দুই ওপেনারকে তুলে নেন। পাক পেসাররা ছন্দে ফেরার পর ২৫তম ওভারের প্রথম বলের পরই হানা দেয় বেরসিক বৃষ্টি। এই সময়ে ২৪.১ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান। ৮ রান নিয়ে উইকেটে ছিলেন বিরাট কোহলি। অপর অপরাজিত ব্যাটার লোকেশ রাহুলের সংগ্রহ ১৭ রান। এরপর আর খেলা মাঠে গড়ায়নি।

রিজার্ভ ডেতে খেলতে নেমে মারমুখী ব্যাটিং করতে থাকেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার রাহুল ও কোহলি। বলা যায় এই ব্যাটারের কাছে অসহায় আত্মসর্মপণ করে পাক বোলিং ইউনিট। এদিন দ্রুততম ১৩ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বিরাট কোহলি। এই রেকর্ড গড়ার পর পরই ওয়ানডেতে নিজেদের ৪৭তম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। এর আগে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন লোকেশ রাহুল।

পাকিস্তানের পক্ষে শাহিন আফ্রিদি ও শাদাব খান ১টি করে উইকেট পান। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে ২০০৫ সালে নিজেদের মাঠে ৯ উইকেটে ৩৫৬ রান করেছিল ভারত।


শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৩০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হেরে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলেও পরের ম্যাচেই দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ফলে শেষ ম্যাচটি রূপ নেয় সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তার ইনিংসে ভর করে আড়াইশর বেশি রান তোলে স্বাগতিকরা। পরে বোলারদের দাপটে, বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানের ফাইফারে, প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে এনে ৫৫ রানের জয়ে পায় টাইগাররা। রানের হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটি সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। প্রতিপক্ষকে ৫৫ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে ২০১৩ সালে মিরপুরে ৪৩ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন শান্ত। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৪ ওভার ৫ বলে ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার হন মুস্তাফিজ।

২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বাউন্সারে টপ এজ তুলে দিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন হেনরি নিকোলস। ৪ রান করা এই ওপেনারের বিদায়ে ৮ রানেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।

অপর ওপেনার উইল ইয়াং কিছুটা থিতু হলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ২৫ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন ইয়াং। ৫৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের ভরসা ছিলেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম, কিন্তু মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ তুলে শরিফুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন। ১৩ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

৬১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া নিউজিল্যান্ডকে সামলানোর চেষ্টা করেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। কেলি দারুণ ব্যাটিং করে ৬৮ বলে ফিফটি পূরণ করেন। তবে ৫৯ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হয়ে বিদায় নিলে ভেঙে যায় ৪৭ রানের জুটি।

এরপর আব্বাসকে বোল্ড করেন শরিফুল ইসলাম। ৩৬ বলে ২৫ রান করা এই ব্যাটারের বিদায়ে ১২৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে সফরকারীরা। পরে ডিন ফক্সকর্ফট কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৭৫ রান করলেও তা কেবল ব্যবধান কমিয়েছে।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারান সাইফ হাসান। উইলিয়াম ও’উরকের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে শূন্য রানেই ফেরেন তিনি।

তানজিদ হাসান তামিমও সুবিধা করতে পারেননি, ৫ বলে ১ রান করে আউট হন। ৯ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন শান্ত ও সৌম্য সরকার, কিন্তু ২৬ বলে ১৮ রান করে আউট হন সৌম্য।

চতুর্থ উইকেটে শান্ত ও লিটন কুমার দাস মিলে গড়েন বড় জুটি। ধীরে শুরু করলেও পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১৬০ রানের জুটি গড়ে তোলেন তারা, যা দলের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে। লিটন ৭৬ রান করে আউট হন।

ফিফটির পর সেঞ্চুরি পূরণ করেন শান্ত, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরান। ১১৯ বলে ৯টি চার ও ২টি ছয়ে ১০৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি।

এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ রান করেন। শরিফুল ইসলাম ১ এবং তানভীর ইসলাম শূন্য রানে আউট হন। তাওহীদ হৃদয় ৩৩ ও মুস্তাফিজুর রহমান ৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

তৃতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (হৃদয় ৩৩*, মোস্তাফিজ ৩*; সাইফ ০, তানজিদ ১, সৌম্য ১৮, লিটন ৭৬, শান্ত ১০৫, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভীর ০)

নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে ২১০/১০ (লিস্টার ২*; নিকোলস ৪, ইয়াং ১৯, ল্যাথাম ৫, কেলি ৫৯, আব্বাস ২৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লেনক্স ২, ও’রুর্ক ১, ফক্সক্রফট ৭৫)

ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী


ইয়ামালের চোটের রাতে বার্সার জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

স্প্যানিশ লা-লিগার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে সেল্টা ভিগোকে - গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা হানসি ফ্লিকের দল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে পরিষ্কার পয়েন্টে এগিয়ে গেল। বর্তমানে ৩২ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৮২ পয়েন্ট, যেখানে সমান ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৩। লিগের হাতে আর মাত্র ৬টি ম্যাচ বাকি থাকতে বার্সার এই জয় শিরোপা জয়ের পথকে অনেক বেশি প্রশস্ত করেছে।

ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে দলের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালের পা থেকে। ম্যাচের ৪০ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিকে বার্সাকে লিড এনে দেন ইয়ামাল। তবে গোল উদযাপনের আনন্দ স্থায়ী হয়নি; হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এরপর চিকিৎসকদের সহায়তায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়।

ইয়ামালের এই আকস্মিক চোট বার্সেলোনা স্পেন জাতীয় দলউভয় শিবিরের জন্যই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী মাসেই মৌসুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচএল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সা। এছাড়া জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে ইয়ামালের ফিটনেস নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতীয় দলের কোচও। উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে লা লিগায় ১৬টি গোল ১১টি অ্যাসিস্ট করে ইয়ামাল দলের আক্রমণের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

ম্যাচ শেষে সতীর্থ পেদ্রি ইয়ামালের দ্রুত সুস্থতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, ইয়ামালের চোট কতটা গুরুতর তা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। দলের এই তরুণ তারকার দ্রুত ফিরে আসা বার্সেলোনার লিগ শিরোপা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে লিগ টেবিলের তিনে ভিয়ারিয়াল অবস্থান করলেও শিরোপা লড়াই এখন মূলত বার্সা রিয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ এই জয় বার্সেলোনাকে ট্রফি জয়ের দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।


PUBG MOBILE-এর নতুন উদ্যোগ: ঢাকায় ‘পেসার হান্ট’ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

গেমিং ও ক্রিকেটের এক অনন্য মেলবন্ধনে নতুন এক উদ্যোগ নিয়ে এসেছে PUBG MOBILE। ‘আগামীর Speed Star’ শিরোনামের এই অফলাইন আয়োজনের মাধ্যমে দেশের তরুণদের মধ্যে থেকে দ্রুতগতির ফাস্ট বোলার খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়েছে তারা।

বর্তমানে ই-স্পোর্টস দুনিয়ায় PUBG MOBILE বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দেশের দলগুলো নিয়মিত অংশ নিয়ে বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গেমিং অভিজ্ঞতাকে আরও স্থানীয় করতে সম্প্রতি ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ–এর কণ্ঠে বাংলা ভয়েজ প্যাক যুক্ত করা হয়েছে গেমটিতে।

এবার সেই ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাকে বাস্তবের মাঠে নিয়ে আসতেই আয়োজন করা হয়েছে ‘Speed Star’ প্রতিযোগিতা। ঢাকার তিনটি স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই তিন দিনব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের বোলিং গতি ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ২৩ এপ্রিল টিএসসি এবং ২৪ এপ্রিল ধানমন্ডি লেক এলাকায় আয়োজনের তথ্য জানা গেছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের সর্বোচ্চ গতির বোলারকে দেওয়া হবে ট্রফি। পাশাপাশি পুরো আয়োজনের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ গতি তুলতে পারবেন, তার জন্য থাকছে আকর্ষণীয় গ্র্যান্ড প্রাইজ হিসেবে একটি স্মার্টফোন।

গেমিং কমিউনিটি ও ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই আয়োজন ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে তরুণদের মধ্যে এটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যারা গেমিং ও ক্রিকেট—দুই ক্ষেত্রেই নিজেদের প্রমাণ করতে আগ্রহী।

ইভেন্ট সম্পর্কিত বিস্তারিত সময়সূচি ও আপডেট জানতে PUBG MOBILE-এর অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে নজর রাখতে বলা হয়েছে।


লেভারকুসেনকে হারিয়ে জার্মান কাপের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

জার্মান কাপের (ডিএফবি পোকাল) সেমিফাইনালে বায়ার লেভারকুসেনকে - গোল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বায়ার্ন মিউনিখ। বুধবার রাতের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বায়ার্নের হয়ে গোল দুটি করেছেন হ্যারি কেন লুইস দিয়াজ। এই জয়ের ফলে দীর্ঘ কয়েক মৌসুম পর আবারও এই টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে জায়গা করে নিল বাভারিয়ানরা। মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য বজায় রেখে তারা বার্লিনের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে লেভারকুসেনের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে বায়ার্ন। তবে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক মার্ক ফ্লেকেন গোলবারে ছিলেন অত্যন্ত সজাগ। তিনি পুরো ম্যাচে মোট ৮টি নিশ্চিত গোল সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। তবে বায়ার্নের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে গিয়ে ২২তম মিনিটে পরাস্ত হয় লেভারকুসেন। লুইস দিয়াজের সাথে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিং থেকে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন বায়ার্ন অধিনায়ক হ্যারি কেন।

এক গোলে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার লেভারকুসেন। দ্বিতীয়ার্ধে তারা বায়ার্নের রক্ষণে বেশ কয়েকবার ভীতি ছড়িয়েছিল। বিশেষ করে নাথান টেল্লার নেওয়া একটি বুলেট গতির শট গোল হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় বলটি রুখে দিয়ে বায়ার্নকে বিপদমুক্ত করেন। নয়্যারের এই গুরুত্বপূর্ণ সেভটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং লেভারকুসেনের ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন ফিকে করে দেয়।

ম্যাচ যখন শেষের পথে, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলটি পায় বায়ার্ন। সেন্টার ব্যাক কিম মিন-জের বাড়ানো চমৎকার এক থ্রু পাস খুঁজে নেয় লিয়ন গোরেৎজকাকে। গোরেৎজকা নিজে শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ডি-বক্সের ভেতর থাকা লুইস দিয়াজকে পাস দেন। কলম্বিয়ান এই ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে - ব্যবধানের জয় এবং দলের ফাইনাল নিশ্চিত করেন। এই গোলের পর লেভারকুসেনের আর ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট ছিল না।

২০১৯-২০ মৌসুমের পর এই প্রথম বায়ার্ন মিউনিখ জার্মান কাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। গত কয়েক বছর টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে বিদায় নেওয়ার আক্ষেপ ঘুচিয়ে তারা এখন শিরোপা জয়ের দৌড়ে রয়েছে। ফাইনালে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ হবে স্টুটগার্ট ফ্রেইবার্গের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল। ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে নিজেদের সেরাটা দিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বাভারিয়ানরা।


চার মাসেই চেলসি অধ্যায় শেষ হলো লিয়াম রসেনিয়রের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসিতে লিয়াম রসেনিয়রের অধ্যায় মাত্র চার মাসেই শেষ হলো। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চেলসি কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে ছয় বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে দায়িত্ব নিলেও টানা ব্যর্থতার দায়ে শেষ পর্যন্ত তাকে বিদায় নিতে হলো। এফএ কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোচের ওপর আস্থা হারিয়ে এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

রসেনিয়রের অধীনে চেলসির পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তার তত্ত্বাবধানে খেলা ২৩টি ম্যাচের মধ্যে ১১টি জয় থাকলেও ১০টিতেই হার এবং ২টিতে ড্র রয়েছে, যা ক্লাবের ইতিহাসে কোনো স্থায়ী কোচের জন্য অন্যতম খারাপ পরিসংখ্যান। বিশেষ করে গত মাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে - গোলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই দলটির ছন্দপতন শুরু হয়। এর ফলে ১৯১২ সালের পর প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল করতে না পেরে হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে ব্লুজরা।

চেলসির সাম্প্রতিক ফর্ম এতটাই নিচে নেমে গিয়েছিল যে, শেষ আটটি ম্যাচের সাতটিতেই তারা হারের মুখ দেখেছে। টানা পরাজয়ের এই ধারা চেলসিকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ প্রতিযোগিতার লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে দিয়েছে, যার ফলে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সম্ভাবনাও এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। সবশেষ ব্রাইটনের কাছে হারের পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে চেলসির নীতি-নির্ধারকরা জরুরি বৈঠকে বসেন এবং ৪১ বছর বয়সী এই কোচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদিন কৌশল বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নমনীয় থাকলেও শেষ ম্যাচে পরাজয়ের দায় সরাসরি খেলোয়াড়দের ওপর চাপান রসেনিয়র। ব্রাইটনের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সকে তিনিঅগ্রহণযোগ্যঅমার্জনীয়বলে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে খেলোয়াড়দের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতার ব্যাপক ঘাটতি ছিল। এদিকে ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে চেলসির সহ-মালিক বেহদাদ এগবালি এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টর পল উইনস্ট্যানলি উপস্থিত থেকে সরাসরি খেলা পর্যবেক্ষণ করেন। সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভ এবং মালিকপক্ষের অসন্তোষের মুখে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো এই ইংলিশ কোচকে।


আর্সেনালকে টপকে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। বার্নলিকে - গোলে হারিয়ে আর্সেনালকে পেছনে ফেলে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। অথচ মাত্র ১১ দিন আগেও গানাররা পয়েন্টের ব্যবধানে সিটির চেয়ে এগিয়ে ছিল। বোর্নমাউথের কাছে হার এবং সিটির বিপক্ষে সরাসরি লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয় মিকেল আর্তেতার দলের সেই বড় লিড কেড়ে নিয়েছে।

বর্তমানে ৩৩ ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটি আর্সেনালউভয় দলের পয়েন্টই এখন সমান ৭০। এমনকি দুই দলের জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যানও হুবহু এক। তবে আর্সেনালের ৬৩ গোলের বিপরীতে সিটির গোল সংখ্যা ৬৬ হওয়ায় তারা গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে। গানারদের টানা ছন্দপতনের সুযোগ পূর্ণভাবে কাজে লাগিয়ে লিগের লাগাম এখন নিজেদের হাতে নিয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।

বার্নলির মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিটিজেনদের হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটেই তিনি দলকে লিড এনে দেন। লিড পাওয়ার পর পুরো ম্যাচে সিটি আরও ২৮টি শট নিলেও জালের দেখা পায়নি। ম্যাচ শেষে গার্দিওলা জানান, অনেক সুযোগ তৈরি হলেও খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তির কারণে ফিনিশিং আশানুরূপ হয়নি। আরও গোল পেলে শিরোপা দৌড়ে তারা অনেকটা নির্ভার থাকতে পারতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে দুই দলেরই আর মাত্র ৫টি করে ম্যাচ বাকি আছে। যদি উভয় দল তাদের সবকটি ম্যাচে জয় পায়, তবে সিজন শেষে দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮৫। সেক্ষেত্রে গোল ব্যবধান বা গোল সংখ্যাই নির্ধারণ করবে চ্যাম্পিয়ন কে হবে। সিটির গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ নষ্ট করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন ফুটবল বিশ্লেষক গ্যারি নেভিল। তার মতে, শিরোপা নির্ধারণে এই ছোট ছোট মিসগুলো শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।


বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আগ্রহী হ্যান্সি ফ্লিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বার্সেলোনার প্রধান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ক্লাবটির সঙ্গে নতুন চুক্তি করার স্পষ্ট ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ থাকলেও তিনি ন্যু ক্যাম্পেই দীর্ঘ সময় থাকতে চান এবং এখানেই নিজের বর্ণাঢ্য কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানার পরিকল্পনা করছেন। বুধবার সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ৬১ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ জানান, বার্সেলোনাতেই তিনি তার ক্যারিয়ারের শেষ ধাপ কাটাতে চান এবং বর্তমানে ক্লাবটির পরিবেশে তিনি খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

গত ২০২৩-২৪ মৌসুমে কোনো শিরোপা ছাড়া শেষ করার পর বার্সার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফ্লিক। তার অধীনে দলটি দ্রুত নিজেদের হারানো ছন্দ ফিরে পায় এবং প্রথম মৌসুমেই লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপারকোপা জয়ের গৌরব অর্জন করে। চলতি মৌসুমেও তার অধীনে বার্সেলোনা দারুণ পারফর্ম করছে। লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে কাতালানরা। লিগের হাতে থাকা বাকি সাত ম্যাচ থেকে পয়েন্ট সংগ্রহ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগা শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে তারা।

ঘরোয়া ফুটবলে অভাবনীয় সাফল্য পেলেও ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার খরা এখনো কাটেনি। গত ১১ বছর ধরে ক্লাবটি এই মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জিততে পারেনি। ফ্লিকের অধীনেও গত দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি; গত বছর সেমিফাইনাল এবং এবার কোয়ার্টার ফাইনালে থেমেছে তাদের যাত্রা। ২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী এই কোচ এখন বার্সেলোনার হয়ে ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বার্সাকে আবারও ইউরোপের সিংহাসনে বসানো সম্ভব।

বার্সা প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা ইতোমধ্যে ফ্লিককে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে ইউরোপিয়ান আসর থেকে বিদায় নিলেও কোচের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ফ্লিক জানান, শিরোপা জয়ের পাশাপাশি তার আরেকটি বড় ইচ্ছা হলো ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর সেখানে কোচ হিসেবে ডাগআউটে থাকা। তবে তিনি বাস্তববাদী হয়ে এও বলেছেন যে, দীর্ঘ সময় ক্লাবে টিকে থাকা মূলত দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং জয়ের ওপর নির্ভর করবে।

বার্সেলোনাকে ইউরোপের শীর্ষে ফেরাতে শক্তিশালী দল গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন হ্যান্সি ফ্লিক। তিনি মনে করেন, আগামী বছরগুলোতে বড় শিরোপা জিততে হলে দলবদলের মৌসুমে খেলোয়াড় কেনাবেচার ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সঠিক প্রতিভার সমন্বয়ে একটি নিখুঁত দল গঠন করতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে তিনি মনে করেন। আপাতত লিগ শিরোপা নিশ্চিত করার লক্ষ্য থাকলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বার্সার সাথেই নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চান এই ফুটবল মাস্টারমাইন্ড।


এমবাপ্পে-ভিনিসিউসের গোলে রিয়ালের স্বস্তির জয়: ব্যবধান কমল বার্সার সঙ্গে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টানা চার ম্যাচে জয়হীন থাকার পর অবশেষে জয়ের ধারায় ফিরেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তারা ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আলাভেসকে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিউস জুনিয়রের গোলে এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনল লস ব্লাঙ্কোসরা। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় এবং লিগে পয়েন্ট হারানোর পর এই জয়টি রিয়াল শিবিরের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য রিয়ালের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। প্রথম দিকে আলাভেস বেশ কয়েকবার স্বাগতিকদের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে, যা বার্নাব্যুর দর্শকদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করেছিল। তবে ম্যাচের ৩০ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার নেওয়া একটি শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে লিড পায় রিয়াল। ফেব্রুয়ারির পর লা লিগায় এটিই ছিল ফরাসি তারকার প্রথম গোল, যা চলতি মৌসুমে তার মোট গোলসংখ্যাকে ২৪-এ নিয়ে গেছে।

বিরতির ঠিক আগে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ডিফেন্ডার এদের মিলিতাওয়ের চোট। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী তার এই সমস্যা খুব একটা গুরুতর নয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। দীর্ঘ ছয় ম্যাচ গোলখরায় থাকার পর এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড চমৎকার এক দূরপাল্লার শটে গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে আলাভেস একটি গোল শোধ করলেও তা রিয়ালের পুনরুত্থান আটকাতে পারেনি।

এই জয়টি রিয়ালের জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর আগে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল এবং লা লিগায় জিরোনা ও মায়োর্কার বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে তলানির দিকে থাকা আলাভেসের জন্য এটি আরও একটি হতাশার রাত হিসেবে গণ্য হচ্ছে; গত ৯ ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে লিগের অবনমন অঞ্চলের চাপ তাদের ওপর আরও বৃদ্ধি পেল।

বর্তমানে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় ৩২ ম্যাচ শেষে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে এক ম্যাচ কম খেলে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে শীর্ষে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। লিগের শিরোপা লড়াই এখনো বার্সার অনুকূলে থাকলেও, টানা ব্যর্থতার পর রিয়ালের এই জয় লিগের বাকি ম্যাচগুলোকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। আগামী ম্যাচগুলোতে রিয়ালের লক্ষ্য থাকবে এই জয়ের ধারা বজায় রেখে বার্সেলোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করা।


বিশ্বকাপের আরও টিকিট ছাড়ছে ফিফা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা থেকে টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের সবগুলোর টিকিট পুনরায় বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এবার ১, ২ ও ৩ নম্বর সাধারণ ক্যাটাগরির পাশাপাশি ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ নামে সম্পূর্ণ নতুন ও উচ্চমূল্যের একটি বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। ফিফার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে একদিকে যেমন টিকিটের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আসন বণ্টন ও দাম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

টিকিট বিক্রির এই নতুন প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক সমর্থক এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভক্তদের অভিযোগ, ফিফা উন্নতমানের আসনগুলো পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে সরিয়ে রেখেছিল এবং সাধারণ সমর্থকদের অপেক্ষাকৃত কম সুবিধাজনক স্থানে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও সমালোচনা চলছে। গত ডিসেম্বর মাসে যেখানে টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার, এপ্রিলের নতুন ধাপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলারে।

ফিফার প্রাথমিক বিক্রয় ধাপে ক্যাটাগরি-৩ এর টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হয়েছিল ১৪০ ডলার থেকে। তবে দ্বিতীয় দফায় টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নতুন ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ যুক্ত করার ফলে টিকিটের দাম এখন সাধারণ দর্শকদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফিফা এই মূল্যবৃদ্ধি এবং আসন সরিয়ে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে বিশ্বকাপের কিছু নির্দিষ্ট ম্যাচের টিকিট বিক্রি নিয়ে উদ্বেগের তথ্যও সামনে এসেছে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিট প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না। সোফাই স্টেডিয়ামের প্রায় ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ হাজার ৯৩৪টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। একইভাবে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের টিকিট বিক্রির হারও তুলনামূলক কম বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের টিকিটের দাম বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ১২০ থেকে ২ হাজার ৭৩৫ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের জন্য দাম ধরা হয়েছিল ১৪০ থেকে ৪৫০ ডলার পর্যন্ত। ফিফা আশা করছে, নতুন দফায় টিকিট ছাড়ার পর গ্যালারিগুলো পূর্ণ হবে এবং দর্শকদের মাঝে পুনরায় চাঞ্চল্য ফিরবে। তবে টিকিটের উচ্চমূল্য এবং ক্যাটাগরি বিভাজন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।


মুস্তাফিজের দলের মালিকানা কিনলেন ফুটবল তারকা জুড বেলিংহ্যাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম এবং বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান এখন একই শিবিরে যুক্ত হলেন। ক্রিকেটের প্রতি দীর্ঘদিনের অনুরাগের জায়গা থেকে বেলিংহ্যাম ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের দল বার্মিংহাম ফিনিক্সের আংশিক মালিকানা কিনেছেন। এই দলেই গত মার্চ মাসের নিলাম থেকে ১ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় নাম লিখিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ফলে বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা এবং বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের প্রধান স্তম্ভকে এখন একই ডাগআউটে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বার্মিংহাম ফিনিক্সের মালিকানা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াটি বেশ আকর্ষণীয়। দলটির মালিকানায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নাইটহেড ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এবং ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব—উভয় পক্ষ থেকে ০.৬ শতাংশ করে নিয়ে মোট ১.২ শতাংশ মালিকানা পেয়েছেন বেলিংহ্যাম। এই শেয়ার কিনতে ২২ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে গুনতে হয়েছে ১ মিলিয়ন পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। আজ ২২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই মালিকানা হস্তান্তরের ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

জুড বেলিংহ্যাম ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে পরিচিত। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার আগে তিনি উরচেস্টারশায়ারের হ্যাগলি ক্রিকেট ক্লাবে জুনিয়র পর্যায়ে নিয়মিত ক্রিকেট খেলেছেন। এমনকি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন যে, সুযোগ পেলে তিনি ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক বেন স্টোকসের সঙ্গে জায়গা বদল করতে চান। মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটার হওয়া না হলেও মালিক হিসেবে ক্রিকেটের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তার সেই পুরোনো শখ এবার নতুন মাত্রা পেল।

আগামী ২১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ১০০ বলের এই জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পঞ্চম আসর, যা ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও বেলিংহ্যামের মালিকানাধীন এই দলে আরও খেলবেন ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল ও ক্রিস উড, পাকিস্তানের উসমান তারিক এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ডোনোভান ফেরেইরার মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা। আসরটির প্রথম সংস্করণে রানার্স আপ হওয়া বার্মিংহাম ফিনিক্স এবার নতুন মালিক ও শক্তিশালী দল নিয়ে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। মুস্তাফিজের মতো তারকা ক্রিকেটার দলে থাকায় এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিয়ে বাংলাদেশি দর্শকদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ দেখা দিচ্ছে।


লিস্টার সিটির চরম বিপর্যয়: তৃতীয় বিভাগে নেমে গেল হামজার দল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

একসময়ের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব এবার ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর বা লিগ ওয়ানে নেমে গেছে। মঙ্গলবার ঘরের মাঠ কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে হালের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর দলটির এই অবনমন নিশ্চিত হয়। টিকে থাকার লড়াইয়ে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না লিস্টার সিটির সামনে, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় লিগ থেকে তাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে যায়।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ১৮তম মিনিটে লিয়াম মিলারের গোলে পিছিয়ে পড়ে লিস্টার। তবে বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫২ মিনিটে জেমস জাস্টিনের পেনাল্টি এবং ৫৪ মিনিটে লুক থমাসের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। এই অগ্রগামিতা লিস্টার শিবিরে সাময়িক আশার আলো দেখালেও ৬৩ মিনিটে ওলি ম্যাকবার্নির সমতাসূচক গোল সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

এই ড্রয়ের ফলে লিস্টার সিটি পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে এবং তারা নিরাপদ অঞ্চল থেকে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে। লিগে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি থাকায় গাণিতিকভাবেও তাদের পক্ষে অবনমন এড়ানো আর সম্ভব নয়। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের সামনে এসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার হামজা চৌধুরী এই বিপর্যয়ের জন্য ক্লাব ও খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।

লিস্টারের এই পতন ফুটবল বিশ্বে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে, কারণ মাত্র ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে তারা রূপকথার মতো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল। সেই দলের তারকা জেমি ভার্ডি ও রিয়াদ মাহরেজদের সাফল্য এবং ২০২১ সালের এফএ কাপ জয়ের স্মৃতি এখন কেবলই অতীত। গত চার মৌসুমের মধ্যে এটি ক্লাবটির তৃতীয় অবনমন; ২০২৩ ও ২০২৫ সালে প্রিমিয়ার লিগ থেকে নামার পর এবার তারা সরাসরি তৃতীয় স্তরের লিগে পৌঁছে গেল।

দলের এই শোচনীয় অবস্থা নিয়ে কোচ গ্যারি রোয়েট তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, কোনো ক্লাব কেবল এক-দুই ম্যাচের ব্যর্থতায় অবনমিত হয় না, বরং পুরো মৌসুমের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই এর জন্য দায়ী। তিনি এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্লাবকে ভবিষ্যতে নতুন করে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এখন ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই কতদিন দীর্ঘ হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


কর্পোরেট জায়ান্টদের লড়াই: মাঠ মাতাচ্ছে ‘ফ্রস্ট ব্লাস্ট ১০০’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বর্তমানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘বসুন্ধরা সুপার গলফ ফ্রস্ট ব্লাস্ট ১০০’ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ঢাকা ম্যাভেরিক্স-এর আয়োজনে এই প্রতিযোগিতায় দেশের শীর্ষ আটটি স্বনামধন্য কর্পোরেট দল অংশ নিচ্ছে। ১০০ বলের এই নতুন ও আকর্ষণীয় ফরম্যাটটি খেলোয়াড় এবং দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। টুর্নামেন্টটি কৌশলগত লড়াই এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের এক অনন্য প্রদর্শনী হিসেবে এরই মধ্যে ক্রীড়ামোদীদের নজর কেড়েছে।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন ম্যাচে বড় জয়ের দেখা পেয়েছে শক্তিশালী দলগুলো। এর মধ্যে সিটি ব্যাংক ডোপ স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ২৩৬ রানের বিশাল পুঁজি গড়ে ৯৩ রানের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে। অন্য এক ম্যাচে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স মাত্র ৮৮ বল খেলে ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়। এছাড়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৬৫ রানে এবং বান্দো ডিজাইন লিমিটেড ১৮ রানের ব্যবধানে নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও এই টুর্নামেন্টটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, যেখানে বেশ কয়েকজন ব্যাটার সেঞ্চুরি করে মাঠ মাতিয়েছেন। আশিক উল আলম নাঈম মাত্র ৪০ বলে ১০৬ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে সবার দৃষ্টি কেড়েছেন। এছাড়া ফারহান শোভন ১০১ রান, নিলয় আহসান অপরাজিত ১০১ রান, শৈকত ১০০ রান এবং হৃদয় ১০১ রান করে সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে রান তোলার এই প্রতিযোগিতা টুর্নামেন্টের বিনোদন ও উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও বোলাররা তাদের বিশেষ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। সামিউল ইসলাম মাত্র ২০ রান খরচ করে ৫টি উইকেট শিকার করে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বোলিং ফিগার অর্জন করেছেন। এছাড়া এস এম তৌফিকুল হক নয়ন ৩টি এবং শানিয়ান তানিম ২টি উইকেট নিয়ে নিজ নিজ দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ব্যাটসম্যানদের দাপটের মাঝেও বোলারদের এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিং ম্যাচগুলোতে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করছে।

এই জমকালো আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বসুন্ধরা সুপার গলফ এবং ‘পাওয়ার্ড বাই’ হিসেবে যুক্ত আছে গোল্ড’স জিম। টুর্নামেন্টের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কাজ করছে টি স্পোর্টস ও দৈনিক বাংলা এবং গিফট পার্টনার হিসেবে রয়েছে জুলকান। প্রতিদিন বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এই খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজক সংস্থা ঢাকা ম্যাভেরিক্স-এর পক্ষ থেকে সব ক্রীড়াপ্রেমীকে সশরীরে মাঠে এসে এই বিশেষ কর্পোরেট ক্রিকেট লড়াই উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


নাপোলি ও লুকাকুর মধ্যকার দীর্ঘদিনের দূরত্বের অবসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বেলজিয়ামের তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু এবং ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির মধ্যকার চলমান ভুল বোঝাবুঝির সফল অবসান ঘটেছে। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে ক্লাবের সাথে নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছেছেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। এর আগে গণমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, ইনজুরি থেকে ফেরার প্রক্রিয়ায় ক্লাবের নির্দেশনা না মানায় লুকাকুর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে নাপোলি কর্তৃপক্ষ। তবে সাম্প্রতিক আলোচনার পর সেই জটিলতা কেটে গেছে এবং উভয় পক্ষই এখন ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের জন্য চলতি মৌসুমটি মোটেও সুখকর ছিল না। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে তিনি লম্বা সময় ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন এবং এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি ম্যাচে অংশ নিতে পেরেছেন। সর্বশেষ গত ৬ মার্চ তোরিনোর বিপক্ষে তাকে মাঠে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই চোটের পুনর্বাসনের জন্য তিনি নিজের দেশ বেলজিয়ামে অবস্থান করছিলেন। ইতালিতে ফিরতে দেরি হওয়ায় ক্লাবের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল যে তিনি অনুশীলনে ফেরার অনুরোধ উপেক্ষা করছেন, যা নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়।

সমস্যা নিরসনে সম্প্রতি ইতালির নেপলসে ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন লুকাকু। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাপোলির স্পোর্টিং ডিরেক্টর জিওভান্নি মান্না এবং লুকাকুর ব্যক্তিগত এজেন্ট। অত্যন্ত গঠনমূলক ও শান্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইনজুরি পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। আলোচনা শেষে ক্লাব কর্তৃপক্ষ লুকাকুকে বেলজিয়ামে থেকেই তার বর্তমান চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি চালিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রদান করেছে।

নাপোলি ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লুকাকু এবং ক্লাবের মধ্যকার সব ভুল বোঝাবুঝির এখন স্থায়ী সমাধান হয়ে গেছে। মূলত চোটের ধরন এবং সেরে ওঠার গুরুত্ব বিবেচনা করেই তাকে বেলজিয়ামে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পরিকল্পিতভাবে এগোলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই লুকাকু পুরোপুরি ফিট হয়ে আবারও মাঠে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমঝোতার ফলে ক্লাবের আক্রমণভাগে শক্তির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


banner close