সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ভারতকে ২৬৬ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

৮০ রানের ইনিংস খেলার পথে সাকিব আল হাসানের একটি শট। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২০:১৭

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও তাওহিদ হৃদয়ের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরির পর টেল-এন্ডারদের দৃঢ়তায় এশিয়া কাপ সুপার ফোর পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান করেছে বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারে সাকিব ৮০ ও হৃদয় ৫৪ রান করেন। ব্যাটিং অর্ডারে নিচের দিকে নাসুম আহমেদ ৪৪, মাহেদি হাসান অপরাজিত ২৯ ও অভিষিক্ত তানজিম হাসান অপরাজিত ১৪ রান করেন। এখন ২৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করছে ভারত।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুক্রবার নিয়মরক্ষার ম্যাচে টসে ভারতের বিপক্ষে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে সাজানো একাদশে দলের হয়ে ইনিংস শুরু করেন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে অভিষেক হওয়া তানজিদ হাসান ও লিটন দাস।

প্রথম দুই ওভারে তিনটি চার মেরে ইনিংসের যাত্রা করেন তানজিদ। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে পেসার মোহাম্মদ সামির বলে বোল্ড হন ওপেনিংয়ে ফেরা লিটন। ২ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।

পরের ওভারের প্রথম বলে শারদুলের বলে ইনসাইড এজ বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অভিষেক ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের মালিক তানজিদ। ১২ বলে ১৩ রান করেন তিনি।

তিন নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি এনামুল হক। শারদুলের বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ১১ রানে ৪ রান করা এনামুল হক বিজয় ক্যাচ দিলে দলীয় ২৮ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

পাঁচ নম্বরে নামেন আগের তিন ম্যাচে ওপেনার হিসেবে নামা মেহেদি হাসান মিরাজ। শারদুলের করা দশম ওভারে দু’বার জীবন পান তিনি। জীবন পেয়েও প্যাটেলের শিকার হয়ে ২৮ বলে ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।

দলীয় ৫৯ রানে মিরাজের বিদায়ের পর বড় জুটির চেষ্টা করেন অধিনায়ক সাকিব ও তাওহিদ হৃদয়। উইকেটে সেট হতে সাবধানে খেলতে থাকেন তারা। ২৪তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ স্পর্শ করে । ২৬তম ওভারে প্যাটেলের চতুর্থ ডেলিভারিতে ছক্কা মেরে ওয়ানডেতে ৫৫তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৬৫ বল খেলা সাকিব।

হাফ-সেঞ্চুরির পরও বেশ ভালোই খেলছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু ৩৪তম ওভারে শারদুলের বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮৫ বলে ৮০ রান করা সাকিব। পঞ্চম উইকেটে হৃদয়ের সঙ্গে ১১৫ বলে ১০১ রানের জুটি গড়েন ২৮ রানে উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুলের হাতে জীবন পাওয়া সাকিব।

সাকিব ফেরার পরের ওভারে জাদেজার বলে লেগ বিফোর আউট হন সাত নম্বরে নামা শামীম হোসেন (১)। এতে দলীয় ১৬১ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সপ্তম উইকেটে নাসুমের সাথে ৩২ রানের জুটি গড়ার পথে ওয়ানডেতে পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন হৃদয়। অর্ধশতকের পর সামির বলে পুল করে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮১ বলে ৫৪ রান করা হৃদয়।

হৃদয় ফেরার পর বাংলাদেশকে সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে গেছেন তিন টেল এন্ডার নাসুম, মাহেদি ও তানজিম। অষ্টম উইকেটে মাহেদি-নাসুম ৩৬ বলে ৪৫ এবং নবম উইকেটে ১৬ বলে অবিচ্ছিন্ন ২৭ রান তুলেন মাহেদি-তানজিম। এতে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

৬টি চার ও ১টি ছক্কায় নাসুম ৪৫ বলে ৪৪, ৩টি চারে ২৩ বলে মাহেদি অপরাজিত ২৯ এবং ১টি করে চার-ছক্কায় ৮ বলে অপরাজিত ১৪ রান করেন তানজিম। ভারতের শারদুল ৩টি ও সামি ২টি উইকেট নেন।


আগামীকাল থেকে বিপিএলে বাড়বে উত্তেজনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএলে) প্লে অফ পর্ব শুরু হচ্ছে। পয়েন্ট টেবিলের একেবারে ওপরে থাকা চারটি দল খেলবে এই পর্ব। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান পাওয়া দলের খেলায় জয়ী দল অনায়াসে চলে যাবে ফাইনালে। অপরদল অপেক্ষা করবে তৃতীয় স্থান ও চতুর্থ স্থানের খেলায় জয়ী দলের সঙ্গে খেলার জন্য।

উল্লেখ্য, তৃতীয় স্থান ও চতুর্থ স্থানের খেলায় যে দল হারবে তারা বিদায় নেবে টুর্নামেন্টের বাকি খেলাগুলো থেকে। মূলত আসরের উত্তেজনা ধরে রাখতেই এমন পদ্ধতিতে ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্টেগুলো খেলা হয়।

আগামীকাল সোমবার দুপুরে এলিমিনিটর ম্যাচে লড়বে পয়েন্ট তালিকার তিন ও চার নম্বর দল বরিশাল ও চট্টগ্রাম। এই ম্যাচে জয়ী দল কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করবে। আর পরাজিত দল বিদায় নেবে টুর্নামেন্ট থেকে।

আগামীকালই সন্ধ্যায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে রংপুর ও কুমিল্লা। সেখান থেকে জয়ী দল চলে যাবে ফাইনালে। অবশ্য এই ম্যাচে হারলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে পরাজিত দলের। ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে এলিমিনেটরে জয়ী দলের মুখোমুখি হবে তারা।

প্লে-অফের সব ম্যাচ আয়োজিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। প্লে-অফ ও ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১ মার্চ।


বোলার থেকে ব্যাট হাতে কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল সাগর

মাত্র ১৬ বছর বয়সে করাচির হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। এর পরের গল্পটা কেবলই নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার। প্রায় দুই যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষে পাকিস্তান দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি কে এতক্ষণে বোধ হয় বুঝে গিয়েছেন। বলছি পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘বড় মিয়া’ খ্যাত জাভেদ মিয়াঁদাদের কথা।

১৯৫৭ সালের ১২ জুন করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন মিয়াঁদাদ। ক্রিকেটের প্রতি তার প্রচণ্ড টান ছিল ছোটবেলা থেকেই। বাবা করাচি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করার সুবাদে সেই টানে লাগে জোয়ার। ক্রিকেটের মহাতারকা হওয়ার পেছনে হাতটিও ছিল তার বাবারই। কেননা, বাল্যকালে পিতার থেকেই নিয়েছেন ক্রিকেটের হাতেখড়ি।

মিয়াঁদাদের সাদা পোশাকে অভিষেক হয় ১৯৭৬ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টের, প্রথম ইনিংসেই হাঁকিয়েছিলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তিনি যে ক্রিকেটে রাজত্ব করতে এসেছিলেন সেটার জানান দিতে দেরি করেননি পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি। অভিষেক টেস্টের তৃতীয় ম্যাচেই হাঁকিয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। ক্রিকেটের অভিজাত এই ফরম্যাটে ছয়টি ডাবল সেঞ্চুরি করে নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে। টেস্টে সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরি করা দশজনের একজন তিনি। ঝুলিতে আছে ২৩টি শতকের পাশাপাশি ৪৩টি অর্ধশতক। ডানহাতি এই ব্যাটার তার পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৮৯ ইনিংসে ৫২.৫৭ গড়ে করেছেন ৮ হাজার ৮৩২ রান। অবসর নেওয়ার সময় দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন ‘বড়ে মিয়াঁ’। পরবর্তীতে অবশ্য এই রেকর্ডটি চলে যায় ইউনিস খানের দখলে।

শুধু টেস্টেই থেমে থাকেনি তার ব্যাট। প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করেছেন ওয়ানডে ক্রিকেটেও। নির্দিষ্ট দিনে যেকোনো বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে তার ব্যাট হয়ে উঠত যেন খাপখোলা তলোয়ার। অসংখ্য ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিয়েছেন পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই। ওয়ানডেতে ২৩৩ ম্যাচে ৪১.৭০ গড়ে করেছেন ৭ হাজার ৩৮১ রান। আট শতকের সঙ্গে আছে আট অর্ধশতক।

দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন সফলতার সঙ্গে। পাকিস্তানের সবচেয়ে কমবয়সী অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে জয় পেয়েছেন ১৪ ম্যাচে। হার মাত্র ৬ ম্যাচে। তবে টেস্টের মতো ওয়ানডেতে এতটা সফল ছিল না তার নেতৃত্ব। ৬২ ম্যাচে জয় পেয়েছেন মাত্র ২৬ ম্যাচে।

১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকের ইতি টানেন এ পাকিস্তানি ব্যাটিং কিংবদন্তি। জীবনের শেষ ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ৩৮ রানে।

তবে মজার ব্যাপার হলো, ব্যাট হাতে ২২ গজ শাসন করা এ কিংবদন্তি তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেগস্পিনার হিসেবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্বও আছে তার ঝুলিতে।


নেইল বাইটিং ফিনিশ হোক, সেটি দর্শক সমর্থকদের প্রত্যাশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে। প্লে-অফের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মুখোমুখি হবে ফরচুন বরিশাল। এ ম্যাচটি হবে আরেকটি ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের চেয়েও কঠিন। হারলেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে এবারের আসর থেকে। এমন শক্তির বিচারে কে কতটা এগিয়ে আছে?

মুখোমুখি দেখায় সুখস্মৃতিটা অবশ্য চট্টগ্রামেরই। গ্রুপ পর্বে দুই দেখায়ই শুভাগত হোমের দল হারিয়েছে তামিমের বরিশালকে। তাই মানসিকভাবে বেশ খানিকটা এগিয়ে থাকবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এ ম্যাচেও তারা ধরে রাখতে চাইবে আগের দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স। সেই সক্ষমতাও আছে চট্টগ্রামের। শেষ দুই ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে ভালো করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। রানে ফিরেছে টম ব্রুসও। দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ২০২৩ সালে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানো মোহাম্মাদ ওয়াসিম। এটা বেশ আশা জাগানিয়া চট্টগ্রামের জন্য।

তবে চট্টগ্রামের জন্য আছে একটি দুঃসংবাদও। বিপিএল খেলতে আসছে না ফিল সল্ট আর কুশাল মেন্ডিস। শেষ ম্যাচগুলোতে চট্টগ্রামের ওপিনংয়ে সমস্যা দেখা গেছে। তানজিদ তামিম রান পেলেও তার সঙ্গে নামা সৈকত কিংবা জস ব্রাউন দুজনই পরিচয় দিয়েছে ব্যর্থতার। ফিল সল্ট আর মেন্ডিস আসলে এ সমস্যাটা সমাধানের একটা সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু এখন আর সেটা হচ্ছে না।

অন্যদিকে শেষ দুই ম্যাচে যখন বরিশাল হেরেছিল সেই সময়ের চেয়ে বর্তমানে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে বরিশালে। পরিবর্তন এসেছে চট্টগ্রামেও। ওই দুই ম্যাচেই চট্টগ্রামের স্কোয়াডে ছিল ইনফর্ম আভিস্কা ফার্নান্দো আর নাজিবুল্লাহ জাদরান। এই দুজনই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ম্যাচের। কিন্তু এলিমিনেটর ম্যাচে তাদের সার্ভিস পাচ্ছে না চট্টগ্রাম। যেটা বরিশালের জন্য একটি ভালো দিক।

গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই বরিশাল ডেথওভারে গিয়ে ম্যাচের লাগাম হারিয়েছে। এর পেছনে কারণ ছিল মূলত তাদের ডেথওভারের জন্য ভালো বোলার না থাকা। ইতোমধ্যেই সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। ওবেদ ম্যাককয়, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন সেখানে আলো ছড়াচ্ছেন। এটিও বরিশালের শক্তি বাড়াতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

বরিশালের ব্যাটিং সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যেই ত্রাতা হয়ে এসেছেন কেইল মায়ার্স। ব্যাট হাতে ভয়ঙ্কর এই ক্যারিবিয়ান। ইতোমধ্যেই নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই সেই আলো তিনি দেখিয়েছেন। পাশাপাশি এলিমিনেটর ম্যাচের আগে দলের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে টি-টোয়েন্টিতে কিলার খ্যাত ডেভিড মিলার। তার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই এবং তিনি যোগ দিলে খাতা-কলমের হিসাবে বরিশালের স্কোয়াড কতটা শক্তিশালী হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরেকটি সুসংবাদ হলো মিলার ছাড়াও নতুন একজনের সঙ্গে চুক্তি করছে বরিশাল। নাম প্রকাশ না করলেও যেটা ইতোমধ্যেই জানিয়েছে বরিশাল। নিঃসন্দেহে সেটা আরও শক্তিশালী করবে তামিম ইকবালদের।

অন্যদিকে সেরা ফর্মে রয়েছে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এই মুহূর্তে বিপিএলের সেরা রান সংগ্রাহক তিনি। শেষ ম্যাচেও দুর্দান্ত করেছেন। ফিনিংশে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনজুরি শেষে সেরা ছন্দ নিয়েই ফিরেছেন সাইফুদ্দিনও। আস্থার প্রতিদান দিচ্ছিন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

তবে গ্রুপ পর্বে বরিশালকে অনেক বেশি যুদ্ধ করতে দেখা গেছে চট্টগ্রামের দুই পেসার বিলাল খান আর শহিদুল ইসলামকে খেলতে। শেষ ম্যাচে তো শহিদুল একাই কোমর ভেঙে দিয়েছিল বরিশালের। তার স্লোয়ারে বেশ বিভ্রান্ত হতে দেখা গেছে বরিশালের ব্যাটারদের। অন্যদিকে বিলাল খানের ছিল ইয়র্কার। তাই এলিমিনেটর ম্যাচের আগে এই দুই জায়গায় বেশ ভালো হোমওয়ার্ক করতে হবে তামিমদের।

শক্তির বিচারে দুই দল কাছাকাছি থাকলেও কিছুটা এগিয়ে আছে বরিশালই। বিশেষ করে তাদের নতুন খেলোয়াড় যোগ দেওয়ায় শক্তি বাড়বে স্কোয়াডে। তাই খাতা-কলমের হিসাবে শেষ ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা বেশি বরিশালেরই। চট্টগ্রামকে হারিয়ে কোয়ারিফায়ার খেলতে চাইবে তামিমরা। তবে চমক দিতে চাইবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সও। যেভাবে তারা গ্রুপ পর্বে চমকে দিয়েছে। বরিশালকে ছাড় দিতে নারাজ থাকবে তারাও।


যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ক্রীড়াবিদ হলেন মেসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মেসি ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আমেরিকা কাঁপছে মেসি ঝড়ে। বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকার বাঁ-পায়ের জাদু দেখতে গ্যালারিতে থাকে উপছে পড়া ভিড়। মেসির আগমনে ফুটবলের বিপ্লব ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকায় সময়টাও বেশ ভালোই কাটছে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির। ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দিয়েই দলটিকে জিতিয়েছেন লিগস কাপ।

বিশ্বকাপ জয়ী মেসির ঝুলিতে এখন অর্জনের অভাব নেই। এবার সেই ঝুলিতে যোগ হলো নতুন এক অর্জন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে আমেরিকার এক নম্বর জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ হলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। এই অর্জনে মেসি পেছনে ফেললেন টাইগার উডস, মাইকেল জর্ডান, কোবি ব্রায়ান্ট, লেব্রন জেমসের মতো লিজেন্ডদের।

একটি স্পোর্টস রিসার্চ পোলিং কোম্পানি এসএসআরএসের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসিই এখন আমেরিকার এক নম্বর ক্রীড়াবিদের জায়গা দখল করলেন। এই কোম্পানির পোলিং ডাটা চালু করার পর থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার কোনো ফুটবলার এই তালিকায় শীর্ষে থাকলেন।

প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসেই প্রকাশ করে জরিপের ফলাফল। তবে শুধু এক মাস নয়, ২০২৩ সালের পুরো চতুর্থ কোয়ার্টার (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ধরে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন মেসি।

বিষয়:

তামিম যে ব্যাটিং সাম্রাজ্যের নেতা আবার প্রমাণ করলেন

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:৩১
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) জন্য দিনটা ছিল অন্য রকম। চরম উত্তেজনার সমীকরণ মেলানোর ম্যাচ। সেটাও আবার চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ফরচুন বরিশালের। যে ম্যাচে বরিশালে খেলছেন জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়। অন্যদিকে কুমিল্লায় খেলছেন টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা সব ক্রিকেটার। এই ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যেও ছিল অন্য রকম কৌতূহল। ছুটির দিনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না মিরপুরের শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

এই ম্যাচে হারলে জটিল অঙ্কের মারপ্যাঁচে পড়তে হতো বরিশালকে। তাই প্লে-অফ নিশ্চিতে অনেকটা বাঁচা-মরার ম্যাচ ছিল তামিম-মুশফিকদের। তবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জন্য এটা ছিল কেবলই নিয়ম রক্ষার ম্যাচ। জয় পেলে বড় জোর দুই নম্বর থেকে টেবিলের এক নম্বরে যেতে পারত। আর খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের উচ্ছ্বাস থাকত। এ ছাড়া এই ম্যাচ থেকে কুমিল্লার পাওয়ার তেমন কিছুই ছিল না।

তবে কোনো হিসাব-নিকাশ মেলাতে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না অধিনায়ক তামিম ইকবালের। তাই দলকে জিতিয়ে পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেই নিশ্চিত করেছে প্লে-অফ। সব মিলিয়ে ১২ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করল বরিশাল। এই জয়ে খুলনা টাইগার্সের ক্ষীণ আশার নৌকাকে সাগরে ডুবিয়ে শেষ চারে চলে গেল ফরচুন বরিশাল।

২০১৯ বিপিএলের ফাইনাল। শুরুতে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেই ম্যাচে কুমিল্লার হয়ে ওপেনিং করতে নামেন তামিম ইকবাল। খেলেন বিপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস। তামিম ইকবাল যে বড় ম্যাচের পারফর্মার সেটা প্রমাণ করলেন আবারও। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৪৮ বলে খেলেছেন ৬৬ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস। যেই ইনিংস বরিশালকে দেখিয়েছে জয়ের বন্দর। শুরুতে উইকেট হারানোর পর তামিম পরিচয় দিয়েছেন দায়িত্বশীলতার। কেইল মায়ার্স আর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে গড়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি জুটি।

তামিম ইকবাল যে শুধু এই ম্যাচেই পারফর্ম করেছেন বিষয়টি এমন না। পুরো বিপিএলজুড়েই তিনি পারফর্ম করেছেন। কিন্তু সেগুলো খুব বেশি আলোর মুখ দেখেনি। মানে ম্যাচ শেষ করে কিংবা এক ইনিংসে সেঞ্চুরি করেই লাইম লাইটে আসেনি তামিম। তবে নিয়মিত অবদান রেখেছেন দলের জন্য। যার কারণেই কুমিল্লার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রান সংগ্রাহকের তালিকার সবার ওপরে উঠে গেছেন তিনি। ১২ ম্যাচ থেকে তামিম ইকবালের রান ২৯১। বাকি ম্যাচগুলোতেও যদি তামিম ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে তাহলে সেটা বরিশালকে বেশ স্বস্তি দেবে।

বরিশালকে পথ দেখাচ্ছেন আরও একজন খেলোয়াড়। তিনি ক্যারিবিয়ান হার্ডহিটার কেইল মায়ার্স। ব্যাট এবং বল দুই বিভাগেই অবদান রাখছে বরিশালের জয়ে। কুমিল্লার বিপক্ষেও বল হাতে ৩ ওভারে দিয়েছেন মোটে ১৭ রান। ব্যাট করেছেন ২৫ রান।

দিনের প্রথম ম্যাচে বরিশাল জয় পাওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল শুধুই নিয়ম রক্ষার। এ ম্যাচে জয়-পরাজয়ে কোনো লাভ-ক্ষতিই নেই খুলনা টাইগার্স কিংবা সিলেট স্ট্রাইকার্সের। কারণ সিলেটের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে আগেই। বরিশালের জয়ে খুলনার তরিও ভিড়েছে একই বন্দরে।

চাপহীন এমন ম্যাচেও ব্যর্থ ছিল খুলনা টাইগার্সের ব্যাটিং লাইন-আপ। আগে ব্যাট করে ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করতে পেরেছিল মোটে ১২৮ রান। যার মধ্যে দুজন মিলেই করেছেন ৭৩ রান। খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন আফিফ হোসেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেছেন ওয়েন পার্নেল। ১৫ রানের ঘরও ছুঁতে পারেনি আর কেউ। বিপিএলের শেষ দিকে এসে খুলনার এমন ব্যর্থতায়, ভালো শুরুর পরও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কারণ। কিপ্টে বোলিংয়ে খুলনার কোমড় ভেঙে দেন বেনি হাওয়েল আর সামিত প্যাটেল। হাওয়েল একাই শিকার করেন ৩ উইকেট।

১২৮ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট স্ট্রাইকার্স। ৬ রান তুলতেই ফেরত যান দুই ওপেনার। এরপর দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর ইয়াসির আলী। দুজনে মিলে গড়েন ৭০ রানের জুটি। যেই জুটিতে ভর করেই জয়ের পথে এগিয়ে যায় বরিশাল। ১৭তম ওভারে নাহিদুলের ক্যাচ বানিয়ে ইয়াসিরকে ফেরান হোল্ডার। এর আগেই অবশ্য ৪৩ বল থেকে ৪৬ রান করে সিলেটকে বন্দরের পথ দেখান তিনি। ২ ছক্কা আর ৪ চারে সাজানো ছিল তার ইনিংস। বাকি কাজটা শেষ করেন অধিনায়ক মিঠুন (১৯) আর বেনি হাওয়েল (১২)। সিলেট জয় পেয়েছে ৬ উইকেটে।

শেষ ম্যাচে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়েই আসর শেষ করল সিলেট স্ট্রাইকার্স। অন্যদিকে হারের বৃত্তে থেকে তেতো স্বাদ নিয়ে বাড়ি ফিরল খুলনা টাইগার্স।


১৫ বছর পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো অস্ট্রেলিয়া

আপডেটেড ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:০৮
বাসস

প্যাট কামিন্সের অলরাউন্ড নৈপুন্য ও এডাম জাম্পার লেগস্পিনে এক ম্যাচ থাকতেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করেছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৭২ রানে হারিয়েছে তারা।

এর আগে প্রথম টি-টোয়েন্টি ৬ উইকেটে জিতেছিলো অস্ট্রেলিয়া। ফলে ২০০৯ সালের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো অজিরা।

অকল্যান্ডে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩ বলে ৩২ রানের সূচনা পায় অস্ট্রেলিয়া। ৭ বলে ১১ রান করে নিউজিল্যান্ডের পেসার লুকি ফার্গুসনের শিকার হন ওপেনার স্টিভেন স্মিথ।

দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক মিচেল মার্শকে নিয়ে ২৭ বলে ৫৩ রানের এক জুটি গড়েন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। মারমুখী মেজাজে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ২২ বলে ৪৫ রান করা হেডকে আউট করেন পেসার বেন সিয়ার্স।

হেড আউট হবার পর অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা তেমন সুবিধা করতে পারেননি। মার্শ ২৬, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৬, জশ ইংলিশ ৫, টিম ডেভিড ১৭ ও ম্যাথু ওয়েড ১ রানে আউট হন।

১৩৮ রানে ৭ম উইকেট পতনের পর অষ্টম উইকেটে ২৮ বলে ৩৩ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন কামিন্স ও নাথান এলিস। ৫টি চারে ২২ বলে ২৮ রান করেন কামিন্স। ১১ রানে অপরাজিত থাকেন এলিস। নিউজিল্যান্ডের ফার্গুসন নেন ১২ রানে ৪ উইকেট।

সিরিজে সমতা ফেরাতে ১৭৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের তোপে সপ্তম ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেন ৬, উইল ইয়ং ৫, অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৭ ও মার্ক চাপম্যান ২ রান করেন।

পঞ্চম উইকেটে ৩২ বলে ৪৫ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ডকে চাপমুক্ত করেন গ্লেন ফিলিপস ও জশ ক্লার্কসন। দলীয় ৭৪ রানে ক্লার্কসনকে ব্যক্তিগত ১০ রানে আউট করে জুটি ভাঙ্গেন স্পিনার জাম্পা।

এরপর আরও ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১০২ রানে অলআউট করে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন জাম্পা। জাম্পা ৩৪ রানে ৪টি ও কামিন্স ১৬ রানে ২ উইকেট নেন। অলরাউন্ড নৈপুন্যের সুবাদে ম্যাচ সেরা হন কামিন্স।

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া।


প্লে-অফে বরিশাল, খুলনার বিদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিনায়ক তামিম ইকবালের ব্যাটে ভর করে কুমিল্লাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরচুন বরিশাল। ৩ ছক্কা ও ছয় চারের মারে সাজানো ইনিংসে ৪৮ বলে ৬৬ রান করেন টাইগার এই ওপেনার।

আজকের ম্যাচের আগে বিপিএলের প্লে-অফের টিকিট কেটেছে রংপুর রাইডার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। অন্য স্থানটির জন্য লড়াইয়ে ছিল ফরচুন বরিশাল ও খুলনা টাইগার্স। বরিশালের জয়ে আশাভঙ্গ হয়েছে খুলনার। এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে এনামুল হক বিজয়ের দলের। আজ দিনের পরের ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি কার্যত নিয়মরক্ষায় রূপ নিলো।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় টস জিতে কুমিল্লাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তাইজুলদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাট হাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি কুমিল্লার ব্যাটাররা। শেষ দিকে জাকের আলির ১৬ বলে ৩৮ রানের ক্যামিওতে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানের পুঁজি গড়ে তারা। রান তাড়ায় ছন্দপতন ছিল বরিশালের ইনিংসেও। শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিকের ফিফটির সুবাদে ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বরিশাল।


বরিশালের বিপক্ষে কুমিল্লার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৪০ রান   

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ৪১তম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪০ রান করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলের পক্ষে ১৬ বলে সর্বোচ্চ ৩৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন সাত নম্বরে নামা জাকের আলি।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কুমিল্লার দুই ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন ও অধিনায়ক লিটন দাস।

১৮ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রান করা নারাইনকে শিকার করেন ক্যারিবীয় পেসার ওবেড ম্যাককয়। ২টি বাউন্ডারিতে ১২ বলে ১২ রান করে স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে আউট হন লিটন।

দুই ওপেনারের পর সাজঘরে ফিরেন চার নম্বরে নামা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও। তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হন ১ রান করা অঙ্কন।

৪০ রানে ৩ উইকেট পতনের পর কুমিল্লাকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয় ও মঈন আলি। ৩টি চারে ২৫ রান করা হৃদয়কে থামিয়ে ৩০ বলে ৩৬ রান যোগ হওয়া জুটি ভাঙ্গেন ম্যাককয়।

দলীয় ৭৬ রানে হৃদয় ফেরার পর বিপদ বাড়ে কুমিল্লার। ৯৭ রানে সপ্তম ব্যাটারকে হারায় তারা। মঈন ২৩, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল ১৪ ও ম্যাথু ফোর্ড শূণ্যতে ফিরেন।

অষ্টম উইকেটে মোহাম্মদ এনামুলের সাথে ১৫ বলে ২৭ এবং নবম উইকেটে তানভীর ইসলামকে নিয়ে ৭ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৬ রান যোগ করে কুমিল্লাকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন উইকেটরক্ষক জাকের আলী । শেষ ৩ ওভারে ৪২ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ১৪০ রানের সংগ্রহ পায় কুমিল্লা। ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৬ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন জাকের। বরিশালের তাইজুল ৩টি, ম্যাককয় ও সাইফুদ্দিন ২টি করে উইকেট নেন।


প্রতিভা দিয়েই বিশ্ব জয় করেছিলেন রোনালদো দ্যা গ্রেট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

১৯৭৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরে জন্ম রোনালদো লুইস নাজারিও ডি লিমার। রোনালদোর পরিবার ছিল খুবই দরিদ্র। এতটা দরিদ্র ছিল যে, জন্মের পর তার নাম রেজিস্ট্রেশন করতে দুই দিন অপেক্ষা করতে হয় বাবা-মাকে। তবে রোনালদোর জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসে ১১ বছর বয়সে। পরিবারের দারিদ্র্য যখন চরম শিখরে, জীবনের সবচাইতে বড় অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটে, তার বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়! অর্থনৈতিক সমস্যায় তাই বাদ দিতে হয় লেখাপড়াও। দু-মুঠো খাবারের তাগিদে রোনালদো স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে নেমে পড়েন জীবন সংগ্রামে। হ্যাঁ, এই ছোট্ট বয়সেই অর্থ উপার্জনের জন্য বেছে নেন রাস্তায় রাস্তায় ফুটবলের প্রতিযোগিতা চালানো। বেঁচে থাকার তাগিদে ফুটবলের মধ্যেই ভালোবাসা খুঁজে পান। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই রোনালদো হয়ে যান স্থানীয় ক্লাবগুলোর নিয়মিত সদস্য। একসময় স্থানীয় ক্লাব সাও ক্রিস্তোভাওয়ে খেলার সময় ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের বিখ্যাত ক্লাব ক্রুইজেরোর নজরে আসেন। জীবনের গতিপথ পাল্টে যায় এখানেই। এরপর ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথীবির বিখ্যাত সব ক্লাবে। সফলতার সঙ্গেই শেষ করেছেন সেসব পাঠ।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ১৯৯৪ সালের ২৩ মার্চ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হয় রোনালদোর। তবে গোল পাননি সে ম্যাচে। জাতীয় দলের হয়ে রোনালদো প্রথম গোলের দেখা পান ১৯৯৪ সালে আইসল্যন্ডের বিপক্ষে। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে রোনালদো দ্যা গ্রেট পেলের পর সর্বোচ্চ ৯৮ ম্যাচে ৬২টি গোল করেন। রোনালদো লিমার সবচাইতে বড় শক্তি ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের সেরা পারফরম্যান্স করা। ১৯৯৭ এবং ১৯৯৯ দুই কোপা আমেরিকায় গোল করেছেন। ১৯৯৭ কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ৯৯-এর কোপা আমেরিকার হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। মোট ৩টি বিশ্বকাপ দলে নাম ছিল রোনারদোর (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২)। তবে খেলা হয়েছে ২টি বিশ্বকাপে। ব্রাজিলের তিনটি ইন্টারন্যাশনাল শিরোপা জয়ে অবদান ছিল রোনালদোর। দুই বার হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, দুই বার সর্বোচ্চ গোলদাতা, একবার রানার্সআপ। আর যে তিনটি ফাইনাল খেলেছেন তার প্রত্যেকটিতেই গোল করেছেন। ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন ফুটবল থেকে। তবে ফুটবলের সঙ্গেই থেকে গেছেন তিনি।

পুরো নাম- রোনালদো লুইস নাজারিও ডি লিমা।

জন্ম- ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬ সাল।

জন্মস্থান- রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল।

রাশি: কন্যা।

প্রিয় খেলা: ফুটবল।

প্রিয় খাবার: ব্রাজিলিয়ান মাংস, মাছ।

প্রিয় পানীয়: বিয়ার।

প্রিয় রং: কালো, সাদা।

প্রিয় ফুটবলার: পেলে।

প্রিয় ফুটবল দল: ব্রাজিল।

প্রিয় সতীর্থ: রিভালদো।

প্রিয় গাড়ি: রোলস রয়েস।

প্রিয় শখ: ভ্রমণ, গান শোনা।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: নাইকি।


বিপিএলকে কাজে লাগানোর উপায় জানালেন রমিজ রাজা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সাধারণত কোনো দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজনের পেছনে বড় কারণ থাকে জাতীয় দলের পাইপলাইন তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাথায় রেখে নতুন প্রতিভার অন্বেষণ করা। কিন্তু এ কাজ কতটুকু হচ্ছে বা কতটুকু করতে পারছে বিসিবি, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রশ্ন থেকে যায় বিপিএল থেকে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন নিয়ে। এবার বিপিএলকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য সে উপায় বাতলে দিলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রমিজ রাজা।

মানহীন বিদেশি খেলোয়াড়দের পেছনে না ছুটে বিপিএলে উদীয়মান ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর সেটা করলেই এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদের জন্য উপকৃত হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট। এমনটাই মনে করেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী এ ক্রিকেটার। পাকিস্তানে চলমান পিএসএলের পরিবর্তে বিপিএলে আসার কারণটাও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি পিসিবির চেয়ারম্যান থাকাকালে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন পিএসএলে। যার সুফল এখন পাচ্ছে পাকিস্তান। উঠে আসছে তরুণ ক্রিকেটাররা। রমিজ রাজা পিএসএলে চালু করেছিলেন ইমার্জিং ক্রিকেটার কোটার নিয়ম। যে নিয়মে প্রতি দলের একাদশে ২৩ বছরের কম বয়সি খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

রমিজ রাজা বলেন, ‘আমি জানি না এখানে (বিপিএল) ইমার্জিং ক্রিকেটাররা কয়জন খেলে। তবে পিএসএলে অন্তত একজন ইমার্জিং ক্রিকেটার বাধ্যতামূলক। তাই শেষ ৫-৬ বছরে অনেক ক্রিকেটার উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে ওয়াসিম জুনিয়র একজন, যিনি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন। আব্বাস সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলেছে। সেও একজন উঠতি তারকা। তরুণদের জন্য এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত বিপিএলে।’

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় বিপিএলে। একমাত্র চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স বাদে কোনো দলই সুযোগ দিতে চান না তরুণ ক্রিকেটারদের। এবারের বিপিএলে ২/১ জন বাদে যুবদলের ক্রিকেটাররা দল পাননি। অথচ কয়দিন আগেই এশিয়া কাপ জয় করে আসলেন তারা।

পিসিবির সাবেক এ চেয়রাম্যান বলেন, তরুণদের জন্য বড় সুযোগ এ ধরনের পরিস্থিতি, যেখানে মঈন আলি, নারিন, রাসেলরা খেলছেন। তাদের মতো ক্রিকেটারদের কাছ থেকে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন।’

মূলত বিপিএলের দর্শকদের ক্রিকেটপ্রেম দেখেই পিএসএল রেখে বিপিএল মাতাতে এসেছেন এই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার।

রমিজ রাজা বলেন, ‘দর্শকদের কারণে বাংলাদেশ অন্য সবার চেয়ে ব্যতিক্রম এবং এটাই কারণ আমার এখানে আসার। বিশ্বে খুব কম দেশই আছে, যেখানে এমন দর্শক হয়। পিচও অন্যান্যবারের তুলনায় বেশ ভালো।’

এবারের বিপিএলে শেষ পর্যন্ত থাকবেন রমিজ রাজা। ২ মার্চ নিজ দেশে ফিরে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন পিএসএল নিয়ে।

বিষয়:

শেষটা রাঙাতে বরিশাল শিবিরে এল নতুন সৈনিক

আপডেটেড ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৬
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

আশায় আশায় দিন যে গেল, আশা পূরণ হলো না। এন্ড্রু কিশোরের গানের এই লাইন দুটির সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল ফরচুন বরিশালের। এবারের বিপিএলটা তারা শুরু করেছিল বড় আশা নিয়ে। দুই আসরের রানার্সআপ হওয়ার আক্ষেপ মেটাতে দলেও ভিড়িয়েছিল বেশ বড় বড় নাম। কিন্তু বরিশালের সেই আশার বাতি নিভিয়ে দিয়েছে কখনও বিদেশি খেলোয়াড়রা চুক্তি ভঙ্গ করে, আবার কখনও ইনজুরির কালো থাবা।

ডেথ ওভারের জন্য দলে ভিড়িয়েছিল স্পেশালিস্ট পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমিরকে। বিপিএলের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু চুক্তি ভঙ্গ করে আইএল টি-টোয়েন্টি খেলতে পাড়ি জমান আরব আমিরাতে। শেষদিকে এসে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিল আফগান পেসার নাবিন-উল-হকের। কিন্তু তাকে নিয়েও আছে শঙ্কা। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার এস এ টোয়েন্টি শেষে বরিশাল নতুন করে চুক্তি করে দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার কেশাব মাহারাজ আর ইংলিশ ওপেনার টম ব্যান্টনের সঙ্গে।

ইনজুরির থাবায় মাত্র এক ম্যাচ খেলেই দেশে ফিরতে হয়েছে তাদেরও। আজ কুমিল্লার বিপক্ষে মাঠে নামবেন প্লে-অফের সমীকরণ মেলানোর ম্যাচে। তাই বরিশালের আশা পূরণের মঞ্চে এবারও দেখা মিলছে আশা না পূরণের শঙ্কা।

আজ বেশ নির্ভার হয়েই শেষ ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে মাঠে নামবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কারণ ইতোমধ্যেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে গেছে কুমিল্লার। সেটাও টেবিলের দুই নম্বর পজিশনে থেকে। তাই শেষ ম্যাচে কুমিল্লার একাদশে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে দলের কয়েকজন প্লেয়ারকে।

তবে বরিশালের জন্য এই ম্যাচটি বেশ কঠিন। কারণ এই ম্যাচেই মিলবে প্লে-অফের সমীকরণ। এই ম্যাচ নিয়ে তাই বেশ সতর্ক তামিম ইকবালরা। ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে উড়িয়ে এনেছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার জেমস ফুলারকে। আজকের একাদশেও দেখা যেতে পারে তাকে। কোনো জটিল অঙ্কের হিসাব মেলাতে না চাইলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বরিশালের।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই বরিশালের ব্যর্থতার বড় অংশজুড়ে ছিল বোলিং ব্যর্থতা আর ক্যাচ মিসের মহড়া। শেষ ম্যাচেও রংপুরের বিপক্ষে হেরেছে জিম্মি নিশামের ক্যাচ মিস করেই। ১২তম ওভারে নিশামের ওই ক্যাচটা নিতে পারলে অন্যরকম হতে পারত ম্যাচের রেজাল্ট। হয়তো এমন কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না তামিম-মুশফিকদের। কুমিল্লার বিপক্ষে ক্যাচ নিয়ে বেশ সিরিয়াস থাকতে হবে বরিশালকে। এমন সুযোগ কুমিল্লাকেও দিলে বিপদের ঘনঘটা অপেক্ষা করছে বরিশালের জন্য।

তবে বরিশালের জন্য আশার কারণও হতে পারে ওই বোলিং আক্রমণই। শেষ ম্যাচে বড় রানের উইকেটে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর যেভাবে চেপে ধরেছিল রংপুরকে, সেটা অন্যরকম শক্তি জোগাবে বরিশালকে। দুর্দান্ত বোলিং করা কেশাব মাহারাজ চলে গেলেও জেমস ফুলারের স্লোয়ারও বেশ কার্যকরীই হবে বাংলাদেশের উইকেটে। যেমনটা দেখা যাচ্ছে তারই স্বদেশি জিম্মি নিশামের বলে। এ ছাড়াও ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত করছে কেইল মায়ার্স। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালানোর পর বল হাতেও পরাস্ত করছেন ব্যাটারদের।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে এখন বরিশালের কাছে একটাই উপায় আছে, কুমিল্লাকে মরণকামড় দেওয়া। কুমিল্লা যদি শেষ ম্যাচে নিয়মিত একাদশের কিছু প্লেয়ারকে বিশ্রাম দেয়, সে ক্ষেত্রে আরেকটু সহজ হবে বরিশালের জন্য। তবে বরিশালকে প্রস্তুতি নিতে হবে সেরা শক্তির প্রতিপক্ষ মোকাবিলা করার জন্যই।


হোটেলবয় থেকে ২২ গজ শাসন করা রাজা ভিভ রিচার্ডস

আপডেটেড ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:১৪
ক্রীড়া ডেস্ক

১৯৫২ সালের ৭ মার্চ অ্যান্টিগার সেন্ট জনসে ম্যালকম এবং গ্রেটেল রিচার্ডসের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন স্যার আইজ্যাক ভিভিয়ান আলেকজান্ডার রিচার্ডস। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসতেন। তার দুই দাদা মারভিন এবং ডোনাল্ডকে দেখেই ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী হয়েছিলেন ভিভ। তিনি তার বাবা এবং অ্যান্টিগার সাবেক অধিনায়ক প্যাট ইভানসনের সঙ্গে অনুশীলন করতে শুরু করে দেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে তিনি একটি রেস্তরাঁর কাজে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তবে সেই রেস্তরাঁর মালিক ছিলেন ভীষণই ভালো মনের মানুষ। তিনি ভিভকে একটি ক্রিকেট কিট উপহার দেন। এরপর তিনি সেন্ট জনস ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের আরও একটি প্রতিভা ছিল। তিনি ফুটবলটাও যথেষ্ট ভালো খেলতেন। অ্যান্টিগা এবং বারবুডার হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলও খেলেছেন। এবং তিনিই ছিলেন একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি ক্রিকেট এবং ফুটবল দুটোরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেছেন।

১৯৭৪ সালের নভেম্বর মাসে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ভিভিয়ান রিচার্ডসের। পরের বছরই শ্রীলংকার বিপক্ষে অভিষেক হয় ওয়ানডেতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সফল অধিনায়ক ছিলেন ভিভ রিচার্ডস। ৫০টি টেস্ট ম্যাচে তিনি জাতীয় ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেন এবং এর মধ্যে ২৭টি ম্যাচে তিনি জয়লাভ করেন। মাত্র আটটি ম্যাচে তার দল হেরেছিল।

পুরো নাম- স্যার আইজাক ভিভিয়ান আলেকজান্ডার রিচার্ডস।

জন্ম- ৭ মার্চ ১৯৫২ সাল।

জন্মস্থান- সেন্ট জোন্স, এন্টিগুয়া।

রাশি: মীন।

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট।

প্রিয় খাবার: পেপ্পার পট, ভাজা মাছ।

প্রিয় পানীয়: রাম (অ্যালকোহল)।

প্রিয় রং: লাল, সাদা।

প্রিয় ক্রিকেটার: শচীন টেন্ডুলকার।

প্রিয় ক্রিকেট দল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রিয় সতীর্থ: রয় ফ্রেডেরিক্স।

প্রিয় গাড়ি: অডি।

প্রিয় শখ: ভ্রমণ, ক্রিকেট খেলা, ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলা দেখা, গান শোনা।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: অ্যাডিডাস।


বাংলাদেশের ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র জাহিদ হাসান এমেলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

১৯৮৭ সালে জন্মটা পিরোজপুরের এক ফুটবল পাগল পরিবারে। বাবা চাইতেন জাতীয় দলের হয়ে ফুটবল খেলবে ছেলে। তাই ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রতিই জমা সব ভালোবাসা। বাবার স্বপ্নও পূরণ করেছেন। ২০০৫ সালে সাফ ফুটবলের আসরে ভুটানের বিপক্ষে অভিষেক হয় লাল-সবুজ জার্সিতে। অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে, বলে প্রথম ছোঁয়াতেই পেয়েছিলেন গোল। এরপর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৪টি ম্যাচ। নামের পাশে যোগ করেছেন ১৫টি গোল। বলছি সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলির কথা। যিনি পায়ের নিখুঁত ছোঁয়ায় পথ দেখাতেন বাংলাদেশকে। যার পায়ের কারুকার্যে হিমশিম খেতে হতো প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের। ২০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বেশ দাপট দেখিয়েছেন ক্লাব ফুটবলেও। দেশের প্রায় সব ক্লাবের জার্সিই গায়ে জড়িয়েছেন তিনি। ক্লাব ফুটবলের ঝুলিতে আছে ৫টি শিরোপাও। ২০২১-২২ মৌসুম দিয়ে বিদায় জানান পেশাদার ‍ফুটবলকে। ফুটবলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলেছেন দৈনিক বাংলার ক্রীড়া প্রতিবেদক নাজমুল সাগর

প্রশ্ন: খেলোয়াড়ি জীবন শেষে এখন কী করছেন…?

এমিলি: খেলা শেষ করেছি বেশিদিন হয়নি। আমি শেষ ২০২১-২২ মৌসুমেও খেলেছি। একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড় আসলে পরবর্তী সময়ে খেলার বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারে না। যেহেতু মাত্রই খেলা ছেড়েছি, তাই এখন পর্যন্ত কোনো জায়গায় জয়েন হইনি।

প্রশ্ন: খেলায়াড়ি জীবনটাকে কীভাবে মিস করছেন…?

এমিলি: দেখুন একজন প্লেয়ারের ক্যারিয়ার আসলে বেশি দিনের না। একজন খেলোয়াড়র যখন খেলা খেলা শেষ করে, তখন সেই আসলে বুঝতে পারে; ওইটার কষ্টটা কতটুকু। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটা সময় আপনাকে খেলা ছাড়তেই হবে। অবশ্যই ফুটবল মাঠকে প্রচণ্ডভাবে মিস করি।

প্রশ্ন: মনে দাগ কাটার মতো মজার কোনো ঘটনা…?

এমিলি: দেশের হয়ে যে গোলগুলো করেছি সেটাই আসলে মজার। বিশেষ করে ২০০৫ সালের সাফে ভুটানের বিপক্ষে আমার প্রথম গোল।

প্রশ্ন: দেশের ফুটবলকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন…?

এমিলি: মাঝখানে ফুটবলে খারাপ সময় ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক ভালো করছে। মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে, ছেলেরা অনেক ভালো করছে। বেশ কিছু তরুণ ‍ফুটবলার উঠে আসছে। এটা ফুটবলের একটা পজিটিভ দিক। তবে এটাকে চলমান রাখতে হবে।

প্রশ্ন: তৃণমূল থেকে ফুটবলার তুলে নাকি প্রবাসী ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়া। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন…?

এমিলি: আমার কাছে মনে হয় দুইটাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী ফুটবলারদের দরকার আছে। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার আমাদের ফুটবলার তৈরি করা। সেটার দিকে আমাদের নজর নেই। তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের কাজ খুবই কম হচ্ছে। যার কারণে খুবই কম ফুটবলার তৈরি হচ্ছে। সেই জায়গায় জোর দেওয়া উচিত ছিল।

প্রশ্ন: খেলোয়াড় তৈরি না হওয়ার পেছনে দায় কাদের…?

এমিলি: দেখুন প্লেয়ার তৈরির কাজ বাফুফের না। কিন্তু তাদের কিছু গাইডলাইন থাকা উচিত। ফুটবলার তৈরি করা ক্লাবগুলোর কাজ। বড় বড় টিমগুলোর কিন্তু জুনিয়র টিম আছে। যেখান থেকে প্রতিবছর জুনিয়র প্লেয়াররা সিনিয়র দলে আসে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই কালচার নেই। এই কালচার যতদিন তৈরি করা যাবে না, ততদিন আমাদের দেশে প্লেয়ার তৈরি হবে না। এগুলো খুবই জরুরি। আমি যদি বাফুফেতে কাজ করি তাহলে ক্লাবগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করব জুনিয়র টিম তৈরি করা।

প্রশ্ন : মাঝের সময়টাতে ফুটবল অন্ধকারে ছিল। এর পেছনে আপনি কী কারণ দেখেন…?

এমিলি: দেখুন ৮০/৯০-এর দশকে মানুষের বিনোদনের একটা মাধ্যম ছিল ফুটবল। আমাদের সময়েও ফুটবল কিছুটা জমজমাট ছিল। এরপর ফুটবলে খারাপ সময় শুরু হয়। কারণ আমাদের জেলা লিগ হয় না, পাইওনিয়ার লিগ হয় না, আমাদের ক্লাব ফুটবলে জুনিয়র লিগগুলো হয় না। ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে গেলে এবং তৃণমূল থেকে ফুটবলার তুলে আনতে এগুলো খুবই জরুরি। এখন তো ডিজিটাল যুগ, ওই জায়গা নিয়েও আমাদের কাজ হয় না। আমরা সালাহউদ্দিন ভাই, আলফাজ ভাই, গাউজ ভাইয়ের খেলা দেখে, নাম শুনে বড় হয়েছি। আমাদের নাম শুনেও হয়তো কিছু প্লেয়ার তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন জেনারেশন তৈরি হচ্ছে না যাদের নাম শুনে পরবর্তী জেনারেশন তৈরি হবে। ক্লাব ফুটবলের কালচার আগের মতো তৈরি করতে হবে। এবং এটাতে ক্লাবগুলোর দায়িত্ব অনেক। জেলা লিগগুলো নিয়মিত করা উচিত। কারণ মূল প্লেয়ারগুলো জেলা থেকেই আসবে। এটা নিয়ে কাজ করা খুব জরুরি।

প্রশ্ন: ফরোয়ার্ডরা কেন গোল পাচ্ছে না…?

এমিলি: স্ট্রাইকার আসলে কেউ তৈরি করতে পারে না। আপনি যদি মনে করেন স্ট্রাইকার খেলবেন, তাহলে ছোটবেলা থেকেই আপনাকে নিজেকে তৈরি করতে হবে। এবং আপনাকে সবসময় মনে রাখতে হবে আপনার মূল কাজ গোল করা। ক্লাব ফুটবলে স্ট্রাইকাররা গোল পাচ্ছে না। যে কারণে জাতীয় দলে সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের জায়গাটা হচ্ছে না।

প্রশ্ন: ক্লাব ফুটবলে কীভাবে উন্নতি করা যায়…?

এমিলি: দেখুন আমরা বলি, আমাদের দেশে প্রফেশনাল লিগ হয়। কিন্তু আসলে সেটা কতটা প্রফেশনাল আমরা তা দেখি না। বসুন্ধরা কিংস ছাড়া বাকি দলগুলো কেউই প্রফেশনালের জায়গায় নেই। কারও হোম ভেন্যুই নেই। ট্রেনিং গ্রাউন্ড নেই। এগুলো আরও আগে হওয়া উচিত ছিলো।

প্রশ্ন: কোচিং ক্যারিয়ারে আসার সম্ভাবনা কেমন…?

এমিলি: সত্যি কথা বলতে, আমার কোচ হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। আমি সংগঠক হিসেবে কাজ করতে চাই।

প্রশ্ন: ফুটবলে ছোটবেলার স্মৃতি…?

এমিলি: আমরা ৫ ভাই প্রফেশনাল ফুটবল খেলেছি ঢাকাতে। আমরা ২/৩ ভাই একসঙ্গে জাতীয় দলেও খেলেছি। আব্বা চাইতেন আমরা সবাই ফুটবল খেলি। আমরা স্পোর্টস ফ্যামিলি। তো ওইখান থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। অন্য খেলার প্রতি কখনোই আকর্ষণ ছিল না।

প্রশ্ন: ফুটবলে আমরা বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে পারি না…?

এমিলি: অবশ্যই, আমার কিন্তু একটা ফুটবল পাগল জাতি। হয়তো মানুষ ওইভাবে ফুটবলকে ফলো করে না। কিন্তু বিশ্বকাপ হলে ফুটবলের বাইরে মানুষ চিন্তা করতে পারে না। আমরা যদি পরিকল্পনা করে এগোতে পারি, তাহলে একসময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে।


banner close