শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক ১৪৩৩
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত বলছি

বাংলাদেশের বোলিং এবং ব্যাটিং সাম্রাজ্য শক্তিশালী

চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত
প্রকাশিত
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৯:২৯

মিরপুরে চলছে বৃষ্টির লুকোচুরি। প্রথম ধাপে প্রায় দুই ঘণ্টা বৃষ্টি নামার পর দ্বিতীয় ধাপে এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটের মতো। মধ্যখানে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে একবার খেলা শুরুর কথা থাকলেও বেরসিক বৃষ্টি আবার অপেক্ষা বাড়ায়। এতে আর মাঠে নামা হয়নি ক্রিকেটারদের। তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কাছে হার মানে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে রেফারি। রাত ৮টা ২৬ মিনিটের দিকে আসে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের প্রথম কোনো ম্যাচ পরিত্যক্ত হলো। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পরিত্যক্ত হওয়া মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে এটি।

ক্রিকেটের চিরচেনা শত্রু বৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়েই আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বেলা ২টায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বরাবরের মতো টসের দিকে চোখ থাকবে দুই দলের। দুই দলই চায় আজকের ম্যাচটা জিতে সিরিজ জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস।

বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড উভয় দল তিন ম্যাচের এই সিরিজটিকে রিজার্ভ বেঞ্চ পরখ করে দেখার মিশন হিসেবে নিয়েছে। উভয় দলই নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রেখে নামছে ম্যাচে। নিউজিল্যান্ড দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার অপরিচিত হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা নয়। ১৫ জনের সবারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এদিক থেকে বাংলাদেশ দলকে এগিয়ে রাখতে হবে। এই সিরিজ দিয়ে তামিম ইকবাল ফিরছেন। আফগানিস্তান সিরিজে হঠাৎ অবসর ঘোষণা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, কোমরের চোটের কারণে এশিয়া কাপ থেকে ছুটি নেয়া এবং পুনর্বাসন সম্পন্ন করে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন বাঁহাতি এ ওপেনার। নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াডে ফিরে এসেছেন অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। মাহমুদউল্লাহ দীর্ঘ অফ ফর্মের কারণে দলের বাইরে ছিলেন।

নিউজিল্যান্ড সিরিজে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মেহেদি হাসান মিরাজ এবং তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামকে। সাকিবের অনুপুস্থিতিতে প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব ব্যাটার লিটন দাস। বাংলাদেশ দল এবং তাঁর জন্য এ সিরিজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, টাইগার রিজার্ভ বেঞ্চে একজনও ভালো মানের বিকল্প ওপেনার নেই। নাঈম শেখ টানা ম্যাচ খেলে রান করতে পারেননি। এনামুল হক বিজয় টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় নেই।

প্রথম ম্যাচ যেহেতু বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। তাই আজকের ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপের ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। আর সে লক্ষ্যে ব্যাটসম্যানদেরকেই দায়িত্বটা নিতে হবে। উইকেট কামড়ে পড়ে থাকলে রান আসবেই এই উইকেটে- আগের দিন তা দেখিয়েছেন ইয়াং-নিকোলস। পরিকল্পনা হয়ে গেছে, এখন প্রয়োগ করতে হবে মাঠে। বড় পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারলে হয়তো যেকোনো কিছুই সম্ভব।

এবার একটু পরিসংখ্যানের দিকে মনোযোগ দেয়া যাক। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড এ পর্যন্ত ৩৯টি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জয় ১০টিতে অন্যদিকে ব্ল্যাক ক্যাপসদের জয় ২৮টিতে। আর এই সিরিজের প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের ১০ জয়ের মধ্যে ৮ জয় দেশের মাটিতে। আর দুটি জয় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। অ্যাওয়েতে বাংলাদেশ কোনো ম্যাচ জয়লাভ করতে পারেনি।

নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের এই কন্ডিশনে ধাতস্থ হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি। এ কন্ডিশনে খেলাটা বরাবরই কঠিন তাদের জন্য। প্রথম ওয়ানডেতে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি তারা। তাই নজর থাকবে আজকের ম্যাচে। ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে। তবে কন্ডিশন যাই হোক না কেন, কিউই ফাস্ট বোলাররা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, সেটি সবসময় হাড়ে হাড়েই টের পেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগের বল ও সুইং সামলাতে তালগোল পাকিয়ে হিমশিম খেয়েছেন সবাই।

যদিও মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খেলা হওয়ায় কিউইদের বিপক্ষে ‌‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ নেওয়ার চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের। তিনজন স্পিনার আর দুই পেসার রেখে একাদশ সাজাতে পারেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ নিক পোথাস। ডান ও বাঁহাতি অফ স্পিনারের সঙ্গে রাখা হতে পারে লেগি রিশাদ হোসেনকে। কারণ, তাঁকেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। বিশ্বকাপেও বিকল্প বোলার কোটায় রাখা হতে পারে তাঁকে। বৃষ্টিভেজা কন্ডিশনে তিন পেসার নিয়েও খেলতে পারেন স্বাগতিকরা। পরীক্ষা আর পরখ করে দেখার সিরিজ হলেও ফলাফল কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের জয় চাই-ই চাই।

আর প্রেডিকশনের কথা যদিও বলতেই হয়, তাহলে আমি বাংলাদেশের জয় দেখছি। যদিও মাঠের কাজটা টাইগারদের করে দেখাতে হবে। মাঠে সব বিভাগ ঠিকঠাক পারফর্ম না করলে অতীত পরিসংখ্যান, চেনা দর্শক আর কন্ডিশনের কিছুই যায়-আসে না।

আসলে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে গত ১৩ বছরে কোনো ওয়ানডে ম্যাচে হারেনি বাংলাদেশ। কিংবদন্তি ড্যানিয়েল ভেট্টরিকে দিয়ে হোয়াইটওয়াশের শুরু, পরে কাইল মিলসেকে একই ফল উপহার দিয়েছেন মুশফিকুর রহিমরা। বিশ্বকাপ দলের আট ক্রিকেটারকে বিশ্রামে রেখে খেলতে আসা নিউজিল্যান্ড দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লকি ফার্গুসনকেও কি সেই ঐতিহ্যের স্বাদ দিতে চলেছে বাংলাদেশ? সেটি আজ দেখার পালা।


নির্বাচিত

ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলাজনিত মামলার রায় ২২ ডিসেম্বর

শ্বকাপজয়ী এই মহানায়কের চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছিল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ২০২০ সালে মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত অবহেলাজনিত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় শুনানি শেষে আগামী ২২ ডিসেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন বিচারক।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই মহানায়কের চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার ম্যারাডোনার কন্যা এবং অভিযুক্তদের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই শুনানিপর্বের সমাপ্তি ঘটে।

শুনানির শেষ দিনে আদালতে আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার বাবা তাঁর প্রাপ্য ন্যায়বিচার পাবেন, যেমনটা অন্য যে কারও পাওয়া উচিত।’

অন্যদিকে মামলার মূল অভিযুক্ত ও প্রয়াত তারকার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকে নিজের ওপর আরোপিত দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নির্দোষ।’ শুনানিতে লুকের আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন যে ম্যারাডোনার মৃত্যুর কোনো পূর্বাভাস আগে থেকে পাওয়া সম্ভব ছিল না এবং এ মামলায় চিকিৎসক লুকেকে কেবল ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে লুকের পক্ষ থেকে অডিও রেকর্ড, গবেষণাপত্র ও ময়নাতদন্তের ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করা হলে ম্যারাডোনার স্বজনেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

আদালতের শুনানিতে লুকে উল্লেখ করেন, ‘ম্যারাডোনার সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ ছিল বলে আমাকে আক্রমণ করা সহজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘একমাত্র ডিয়েগোই আমাকে রক্ষা করতেন।’ কিংবদন্তির প্রতি নিজের অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর গভীরভাবে যত্ন নিতাম, তাঁকে ভালোবাসতাম। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ ও বন্ধু।’

মস্তিষ্কে একটি জটিল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতার প্রক্রিয়ায় থাকার সময় ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ৬০ বছর বয়সী ম্যারাডোনার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ফুসফুসে পানি জমা এবং হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর প্রমাণ মেলে।

গত এপ্রিলে শুরু হওয়া এই বিচারিক কার্যক্রমে ৭০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্রসিকিউশন সাত আসামির মধ্যে ছয়জনের জন্য ৪ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রার্থনা করেছে, যার মধ্যে ব্যক্তিগত চিকিৎসক লুকের জন্য চাওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ১২ বছরের সাজা।

মামলার মূল আইনি বিতর্কের বিষয় ছিল, অস্ত্রোপচার পরবর্তী পুনর্বাসনের সময় রোগীকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে না রেখে ভাড়া বাড়িতে রাখার সিদ্ধান্তটি চিকিৎসাগত গাফিলতি ছিল কি না। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা যুক্তি তুলে ধরেন যে ওই বাসভবনে প্রয়োজনীয় হাসপাতালের শয্যা, জরুরি ডিফিব্রিলেটর কিংবা তাৎক্ষণিক রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মতো অত্যাবশ্যকীয় ব্যবস্থার অনুপস্থিতি চিকিৎসকদের চরম দায়িত্বহীনতারই প্রমাণ। একাধিক চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন, মৃত্যুর পূর্বে ম্যারাডোনার শরীরে তরল জমা, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং হৃৎস্পন্দনের বিপজ্জনক বৃদ্ধির মতো লক্ষণগুলো স্পষ্ট হলেও পরিচর্যাকারী দল তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।


নির্বাচিত

এসি মিলানকে বিধ্বস্ত করে বোর্নমাউথের ইতিহাস গড়া জয়

ইউয়েফা ইউরোপা লিগে ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে ইংলিশ ক্লাব এএফসি বোর্নমাউথ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউয়েফা ইউরোপা লিগে ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে ইংলিশ ক্লাব এএফসি বোর্নমাউথ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দলটি।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজেদের ঘরের মাঠ ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ ম্যাচে প্রথমার্ধের ৩২ মিনিটের মধ্যেই দুই পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় বোর্নমাউথ। দলের হয়ে গোল দুটি করেন জাস্টিন ক্লাইভার্ট ও মার্কাস টেভারনিয়ার। এর মাঝে বোর্নমাউথের খেলোয়াড়কে আঘাত করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিলানের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক মাইক মাইনান। ম্যাচের শেষ ভাগে দূরপাল্লার নজরকাড়া এক ফ্রি-কিকে মিলানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মরক্কোর উইঙ্গার আমিন আদলি।

খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে ছিল স্বাগতিকরা। অষ্টম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস কনি ডি উইন্টারের হাতে লাগলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন ক্লাইভার্ট।

এরপর রায়ান ক্রিস্টি ও ইভানিলসনদের কয়েকটি প্রচেষ্টা মাইনান প্রতিহত করলেও ২৮তম মিনিটে রুবেন আমোরিমের দলকে বড় ধাক্কা দেন এই গোলরক্ষক নিজেই। বোর্নমাউথের জেমস হিলকে মেজাজ হারিয়ে ধাক্কা ও মুখে আঘাত করার দায়ে রেফারি মাইনানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান এবং স্বাগতিকদের অনুকূলে দ্বিতীয় পেনাল্টির নির্দেশ দেন। বদলি হিসেবে নামা মিলানের তরুণ গোলকিপার লোরেনজো তোরিয়ানিকে পরাস্ত করে চমৎকার শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন টেভারনিয়ার।

দ্বিতীয়ার্ধেও ১০ জনের মিলানের ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে বোর্নমাউথ। ক্লাইভার্ট ও ক্রিস্টিরা একাধিক সুযোগ তৈরি করে ব্যবধান বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। অবশেষে ৮৪তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে রক্ষণ প্রাচীর ফাঁকি দিয়ে নেওয়া চমৎকার এক ফ্রি-কিকে গোল করে দলের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন আমিন আদলি।

বিষয়:

নির্বাচিত

প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব পেল যুক্তরাষ্ট্র

উদ্বোধনী আসরের পর থেকে প্রতি চার বছর অন্তর নিয়মিতভাবে এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পুরুষদের ফুটবলে বৈশ্বিক আসর আয়োজনের সফল অভিজ্ঞতার পর এবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৮ ফিফা নারী ক্লাব বিশ্বকাপের স্বত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফুটবলের আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের সেরা ১৯টি নারী ক্লাব দল নিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোন কোন ভেন্যু ও শহরে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উদ্বোধনী আসরের পর থেকে প্রতি চার বছর অন্তর নিয়মিতভাবে এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াবে।

ইতিমধ্যেই উদ্বোধনী এই টুর্নামেন্টে সাতটি দল তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। দলগুলো হলো ইংল্যান্ডের আর্সেনাল, স্পেনের বার্সেলোনা, মেক্সিকোর আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের গোথাম এফসি, ব্রাজিলের করিন্থিয়ান্স, চীনের উহান জিয়াংদা এবং উত্তর কোরিয়ার নেগোহ্যাং এফসি।

এর আগে ফিফার সম্প্রসারিত ফরম্যাটে পুরুষদের ক্লাব বিশ্বকাপও এককভাবে আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে পিএসজিকে হারিয়ে চেলসি শিরোপা জিতেছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌথভাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এবং পুরুষদের ক্লাব বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্নের অভিজ্ঞতার আলোকেই পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফিফার নারী ফুটবল বিষয়ক প্রধান সারাই বারেম্যান বলেছেন, ‘ফিফার শীর্ষস্থানীয় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চমৎকার সক্ষমতা, সেখানে নারী ফুটবলের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ এবং উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো– সব মিলিয়ে দেশটিকে সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলেছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দলে ফিরলেন লিটন ও তাসকিন

টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। পাশাপাশি দলে জায়গা পেয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

আগামী ২৮ অক্টোবর শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ। চোটের কারণে দলে নেই পেসার নাহিদ রানা। বাংলাদেশের লক্ষ্য, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজে দুই ম্যাচেই জয় তুলে নেওয়া। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর, সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশের স্কোয়াড: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাঈম হাসান।

বিষয়:

নির্বাচিত

গুরুতর চোটে কভারাতসখেলিয়ার মৌসুম শেষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড কভিচা কভারাতসখেলিয়া মারাত্মক হাঁটুর চোটে পড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরের তৃতীয় ম্যাচে তাঁর ডান পায়ের অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে গেছে। ফলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের বাকি সময়ে তাঁর আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া এই তারকার ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিএসজি কর্তৃপক্ষ।

বার্সেলোনার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ের ম্যাচে চোটের কবলে পড়েন কভারাতসখেলিয়া। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে প্রতিপক্ষের জাভি এস্পার্তের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ের সময় ডান হাঁটুতে বড় ধরনের আঘাত পান তিনি। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে পিএসজির চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে শিগগিরই তাঁর ডান হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হবে। এরপর শুরু হবে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁর ফেরার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না জানালেও চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে সাধারণত অন্তত ৯ মাস সময় লাগে।

ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে এমন বড় ধাক্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই জর্জিয়ান তারকা। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে হতাশা ও আবেগ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষ করে আমার সঙ্গেই কেন এমন হলো? আমি এটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।’ তাঁর এই পোস্ট ভক্ত ও ফুটবল মহলে গভীর সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।

কভারাতসখেলিয়ার এই দুঃসময়ে তাঁকে মানসিক শক্তি জোগাতে এগিয়ে এসেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়ে লিখেছেন, ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন লড়াইগুলো প্রায়শই পর্দার আড়ালে ঘটে, যা অনেকেই দেখতে পায় না। তিনি কভারাকে মনে করিয়ে দেন, যে সামর্থ্যের জোরে তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন, এই কঠিন মুহূর্ত যেন সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরাতে না পারে। রোনালদো তাঁকে নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, তাঁর সেরা দিন এবং বড় অর্জনগুলো এখনো সামনেই অপেক্ষা করছে।


নির্বাচিত

আফগানদের কাছে হেরে শূন্য হাতে ফিরল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে শূন্য হাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৪২তম ওভারে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেট হারিয়ে অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। আফগানরা ইনিংসের ১২০ রান তোলার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার যাবতীয় সমীকরণ শেষ হয়ে যায়। এই জয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে রহমত শাহর দল।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগাতে পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে দল, যেখানে চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন এবং সাইফ হাসান ছাড়া কেউই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি। পঞ্চম উইকেটে এই দুজন গড়েন ৯৩ রানের জুটি। ইমন ৯৬ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ এবং সাইফ ৮২ বলে ৪১ রান করেন। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের কোটায় পৌঁছাতে না পারায় ১৬০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। আফগানিস্তানের পক্ষে রশিদ খান একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট; এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই নেন দুটি করে উইকেট।

১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই আফগানদের চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দলীয় ৩৯ রানের মাথায় ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬) ও সেদিকউল্লাহ অটলকে (৪) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রান যোগ করে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন ইব্রাহিম জাদরান ও অধিনায়ক রহমত শাহ। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মিডউইকেটে পেছনের দিকে লাফিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে ইব্রাহিমকে ফেরান শান্ত। তবে এরপর নতুন ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শহীদিকে সঙ্গে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বাকি পথ পাড়ি দেন রহমত।

বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন দুই অপরাজিত আফগান ব্যাটার। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক রহমত শাহ। অন্যদিকে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ সর্বোচ্চ ২টি এবং মুস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট লাভ করলেও তা দলের পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।


নির্বাচিত

বার্নাব্যুতে রিয়ালের গোল উৎসব, টানা তিন জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের দাপট ধরে রেখে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। পুরো ম্যাচজুড়ে ৬৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১১টি অন-টার্গেট শট নিয়ে আধিপত্য বজায় রাখে হোসে মরিনিয়োর দল। রিয়ালের হয়ে একটি করে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা, আর্দা গুলার, কিলিয়ান এমবাপে ও ইয়ান দিয়োমান্দে। অন্যদিকে ম্যাচের শেষদিকে লাইপজিগের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন টিডিয়াম গোমিস।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে থাকা রিয়াল ১৬তম মিনিটে আর্দা গুলারের দারুণ এক পাসে গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে, যেখানে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এমবাপে। এর কিছুক্ষণ পর খেলার ধারার বিপরীতে ২৮তম মিনিটে লাইপজিগ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও ডি-বক্স থেকে নেওয়া জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। পরের মিনিটে ভিনিসিয়ুসের একটি লক্ষ্যভেদী শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন লাইপজিগ গোলরক্ষক মার্টেন ভ্যানডাভোর্ট। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে ওয়ান-অন-ওয়ানে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর শট কোর্তোয়া রুখে দেওয়ার ঠিক পরপরই ডেডলক ভাঙে রিয়াল। ফেদে ভালভার্দের কাটব্যাক পেয়ে নেওয়া গুলারের শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে এলে গোলমুখে ছুটে গিয়ে হালকা টোকায় বল জালে জড়ান বার্নার্দো সিলভা। চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রিয়ালে নাম লেখানোর পর এটিই তাঁর প্রথম গোল।

বিরতির পরও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। জুড বেলিংহ্যামের ক্রসে এমবাপের হেড গোললাইন থেকে আলতো ছোঁয়ায় জালে জড়িয়ে দেন তরুণ তুর্কি আর্দা গুলার। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে দলের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন এমবাপে। ভিনিসিয়ুসের বদলি হিসেবে নামা দিয়োমান্দের পাস ডি-বক্সের সামনে পেয়ে দারুণ এক জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা তিন ম্যাচেই গোলের দেখা পাওয়া এমবাপের চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ১২তম গোল। এর দুই মিনিট পর ৮৫তম মিনিটে গোমিস লাইপজিগের হয়ে এক গোল শোধ করলেও তার রেশ কাটতে না কাটতেই ৮৭তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর বুলেট গতির ভলিতে সাবেক ক্লাবের জালে বল জড়িয়ে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন দিয়োমান্দে।

এ নিয়ে সবশেষ তিন ম্যাচেই চারটি করে গোল করার পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ চার ম্যাচে জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। এই ছন্দ আগামী রোববার লা লিগায় বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় নামার আগে মরিনিয়োর দলকে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে, যেখানে লিগ টেবিলের ৬ পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচাতে মাঠে নামবে তারা। এদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে রিয়াল। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষ তিন অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পিএসজি, অ্যাস্টন ভিলা ও লিভারপুল।


নির্বাচিত

চ্যাম্পিয়নস লিগ: বায়ার্ন ও আর্সেনালের রোমাঞ্চকর ড্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউরোপীয় দুই পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। ঘরের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের ৮১ মিনিট পর্যন্ত বায়ার্ন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শেষদিকের গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয় তারা। এই ড্রয়ের ফলে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে গত আসরের রানার্সআপ আর্সেনাল। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন নেমে গেছে ১৪তম স্থানে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় সফরকারী আর্সেনাল। খেলা শুরুর দশম মিনিটে পাস দেওয়ার চেষ্টায় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা। তবে সেই অস্বস্তি কাটিয়ে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায় গানাররা। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের বাড়ানো লম্বা পাস ধরে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে কোণাকুণি শটে বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন এবেরেচি এজে। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় গোলের সিদ্ধান্ত আসে। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে বায়ার্ন সময় নেয় মাত্র দশ মিনিট। ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে হ্যারি কেইনের বাড়ানো লম্বা থ্রু পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান পায়ের নিয়ন্ত্রিত শটে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করেন কানাডিয়ান ডিফেন্ডার আলফোনসো ডেভিস।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬১তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বক্সে আর্সেনালের ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বারের উঁচিয়ে রাখা হাতে কেইনের শট লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ক্যারিয়ারের ৫৮তম গোলটি করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। আর্সেনালের বিপক্ষে এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ২৩তম ম্যাচে ১৬তম গোল। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রতি মৌসুমেই ক্লাবটির বিপক্ষে গোল পাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি, যার বেশিরভাগই ছিল টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলার সময়। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন কেইন। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা ১১ ম্যাচে গোল করে সর্বোচ্চ রেকর্ডের একক মালিক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যা স্পর্শ করতে কেইনের প্রয়োজন আর মাত্র একটি ম্যাচ।

কেইনের এমন ব্যক্তিগত অর্জনের দিনে বায়ার্ন যখন পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ ডেকলান রাইস। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ভিক্টর গিয়োকেরেসের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় ওয়ান-টু পাসে বল নিয়ে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে বায়ার্নের জালে জড়ান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তাঁর এই সমতাসূচক গোলেই শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় দুই জায়ান্টের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই।


নির্বাচিত

নিকো পাজের নৈপুণ্যে ইউনাইটেডকে হারাল কোমো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক আসর খেলতে আসা ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কোমোর ঘরের মাঠ জিউসেপ্পে সিনিগালিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন আর্জেন্টিনার তরুণ তারকা নিকো পাজ। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে জোড়া গোল করার পাশাপাশি একটি গোলেও সরাসরি অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে নবম স্থানে উঠে এসেছে কোমো, আর টানা ব্যর্থতায় ২০তম স্থানে নেমে গেছে এরিক টেন হাগের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে কোমো। খেলা শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ এক বাঁকানো শটে দলকে এগিয়ে নেন পাজ। সে সময় ইউনাইটেড ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ার সামনে থাকলেও তিনি শটটি প্রতিহত করতে পারেননি এবং পরাস্ত হন গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। প্রথমার্ধে এই ব্যবধান বজায় রেখে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৪৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। পাজের বাড়ানো নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ল্যামেন্সের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান আনাস্তাসিওস দুভিকাস। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর টানা তিন ম্যাচে তৃতীয় গোল।

এরপর একক দক্ষতায় ব্যবধান ৩-০ করেন ম্যাচসেরা পাজ। ডান পাশের টাচলাইনের কাছে ইউনাইটেডের কার্লোস বালেবার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে প্রায় ৩০ মিটারের বেশি পথ কোণাকুণি এগিয়ে গিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান এই আর্জেন্টাইন। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় কাইকি ব্রুনোর বাড়ানো ক্রসে হেডের মাধ্যমে কোমোর হয়ে চতুর্থ গোলটি আদায় করেন সেন্টারব্যাক জ্যাকোবো রামোন। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে আমাদ দিয়ালোর ক্রস থেকে জশুয়া জির্কজি ইউনাইটেডের পক্ষে একটি গোল পরিশোধ করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।

ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে জড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত সপ্তাহে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে প্রথম মিনিটেই গোল হজম করেছিল তারা। ফলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার টানা দুই ম্যাচে শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে গোল হজম করা প্রথম ইংলিশ ক্লাব হওয়ার বিব্রতকর নজির গড়েছে ইউনাইটেড। এ ছাড়া টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বশেষ ১১টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে তারা। বিপরীতে, জাতীয় দলে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে মাঠে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন নিকো পাজ।


নির্বাচিত

লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ‘দেলুপি’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

উত্তর আমেরিকার মর্যাদাপূর্ণ তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্যের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’। যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম পরিচালিত এই সিনেমাটি। এর আগে মাত্র তিন দিন আগেই তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন অভিনেতা চিরনজিৎ বিশ্বাস।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নতুন অর্জনের খবরটি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা তাওকীর নিজেই। তিনি জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় উৎসবের মূল মঞ্চে ‘দেলুপি’র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। তবে আনুষঙ্গিক কারণে বাংলাদেশ থেকে চলচ্চিত্রের কলাকুশলীদের কেউ সশরীরে লন্ডনে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি উপভোগ করার এবং আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে দেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিচালক।

লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জায়গা পাওয়ার আগেও বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসিত হয়েছে ‘দেলুপি’। ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ আসর নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল সিনেমাটি। এছাড়া ইতালির কারাভান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পরও এর স্বতন্ত্র গল্প ও বাস্তবসম্মত দৃশ্যভাষার জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিল চলচ্চিত্রটি।

প্রযোজনা সংস্থা ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘দেলুপি’র কাহিনি গড়ে উঠেছে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেখানে নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এবং তার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের নানা দিক এতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে কোনো পেশাদার অভিনয়শিল্পীর বদলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় মানুষরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

চলচ্চিত্রটিতে চিরনজিৎ বিশ্বাস ছাড়াও অভিনয় করেছেন অদিতি রায়, রুদ্র রায় ও জাকির হোসেনসহ খুলনার স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সংকট, নদীকেন্দ্রিক জনপদের লড়াই এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের নির্মোহ চিত্রায়ণের মাধ্যমে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমাকে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও লিভারপুলের রোমাঞ্চকর জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে রোমাঞ্চে ঠাসা এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে অলরেডরা। প্রথম আধঘণ্টার মধ্যে দুই গোল হজম করে চরম চাপে পড়লেও মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোড়া গোল এবং ১৮ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড রিও এনগুমোহার চমৎকার নৈপুণ্যে নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।

অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরুটা লিভারপুলের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। খেলার মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের একটি দুর্বল হেডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের জালে বল পাঠান ভিয়ারিয়ালের জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর ২৯তম মিনিটে সার্জি কারদোনা লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় সফরকারী স্প্যানিশ ক্লাবটি, যার ফলে চরম বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক শিবির।

তবে দুই গোল হজম করে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে লিভারপুল। খেলার ৩৬তম মিনিটে কস্তাস সিমিকাসের কর্নার কিক থেকে দর্শনীয় এক হেডে ব্যবধান ২-১ করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা ইনজুরি সময়ে তরুণ রিও এনগুমোহারের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাউহো। বিরতিতে যাওয়ার আগেই সমতায় ফিরতে পেরে ড্রেসিংরুমে মানসিক স্বস্তি পায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় লিভারপুল। ৬৫তম মিনিটে এনগুমোহার অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়ে বাড়ানো পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন মিনিট পর (৬৮তম মিনিটে) ফ্লোরিয়ান ভির্টজের চমৎকার এক গোলে স্কোরলাইন ৪-২ করে লিভারপুল; চলতি মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে এটিই ছিল ভির্টজের প্রথম গোল।

ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। ৮৭তম মিনিটে আয়োসে পেরেসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-৩ এ নামিয়ে আনেন ভিয়ারিয়ালের তানি ওলুওয়াসেই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও লিভারপুল রক্ষণভাগকে আর পরাস্ত করতে পারেনি। পুরো ম্যাচে নজর কেড়েছেন ১৮ বছর বয়সী এনগুমোহা; দুটি গোলে সরাসরি সহায়তা করার পাশাপাশি ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগে প্রতিনিয়ত ভীতি ছড়িয়ে দলের এই স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের মূল কারিগর হয়ে ওঠেন তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারাল পিএসজি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমাঞ্চে ঠাসা হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করেছে পিএসজি। মঙ্গলবার রাতে প্যারিসের ঘরের মাঠে দুই দফা পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতায় ফিরেছিল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। তবে শেষ দিকে মাত্র পাঁচ মিনিটের ঝড়ে দুটি গোল আদায় করে নিয়ে স্বাগতিক পিএসজি জয় নিশ্চিত করে। এর ফলে ইউরোপসেরার মঞ্চে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা; অন্যদিকে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল বার্সেলোনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করে পিএসজি। খেলার প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল তারা, তবে জর্জিয়ান উইঙ্গার খভিচা কাভারৎসখেলিয়ার জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। শুরুর এই আক্রমণের পর ২০তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ফরাসি তারকা ওসমান দেম্বেলে, যাঁর বদলি হিসেবে নামেন ফেরান তোরেস। এর কিছুক্ষণ পরই চোটের কারণে বার্সেলোনাও তাদের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খায়। তবে ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন ডেজিরে ডুয়ে। নিজেদের অর্ধে লামিনে ইয়ামাল বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে সেই সুযোগে বক্সের বাইরে থেকে নিচু জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে পিএসজিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

বিরতির পর ফিরে ম্যাচে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে বার্সেলোনা। ৫৫তম মিনিটে ফারমিন লোপেজের বাড়ানো নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে লক্ষ্যভেদ করেন তরুণ ফুটবলার জাভি এসপার্ট, যা সিনিয়র দলের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল। সমতায় ফেরার পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। ৭২তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ এক হেডে পিএসজিকে আবারও ২-১ গোলে এগিয়ে দেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ। নিয়মিত লেফট-ব্যাক নুনো মেন্দেসের অনুপস্থিতিতে ইয়ামালকে পাহারায় রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করা হার্নান্দেজকে গোল করার কিছুক্ষণ পরই মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লুইস এনরিকে।

তবে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বার্সেলোনা। খেলার ৭৯তম মিনিটে পিএসজির বদলি মিডফিল্ডার ওয়ারেন জাইরে-এমেরি উঁচু বল নিয়ন্ত্রণে মারাত্মক ভুল করে বসেন। সেই সুযোগে বল কেড়ে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান লামিনে ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে এটি ছিল এই স্প্যানিশ উইঙ্গারের দশম গোল এবং একই সঙ্গে এই গোলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে বার্সেলোনা।

ম্যাচে সমতা ফেরার পর শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য আগ্রাসী রূপ ধারণ করে পিএসজি। ৮১তম মিনিটে বুক দিয়ে বল চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার বাঁকানো শটে জাল কাঁপান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া। তাঁর এই দর্শনীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৬তম মিনিটে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে বার্সেলোনার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ। ফলে ৪-২ ব্যবধানের স্মরণীয় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে প্যারিসের দলটি।


নির্বাচিত

ফোডেনের হ্যাটট্রিকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে হারাল ম্যান সিটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিয়মিত গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকে বিশ্রামে রেখেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে গোলের উৎসবে মেতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গ্রিসের ক্লাব এএইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে এনজো মারেস্কার দল। সিটিজেনদের এই বড় জয়ের রাতে একাই হ্যাটট্রিক উপহার দিয়েছেন ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ফিল ফোডেন। দলের জয়ে বাকি দুটি গোল করেছেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রায়ান শেরকি। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরে যাওয়ার পর এই জয়ে ইউরোপের শীর্ষ মঞ্চে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ম্যানচেস্টার সিটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে গ্রিক ক্লাবটির ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখে সিটি। খেলার দ্বাদশ মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা; এনজো ফার্নান্দেজের চমৎকার ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন, যা সিটির জার্সিতে তাঁর প্রথম গোল। এরপর ৩৪তম মিনিটে রিকো লুইসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর বল পেয়ে জোরালো কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মারেস্কার শিষ্যরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে এএইকে এথেন্স। ৫২তম মিনিটে পরিকল্পিত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন দলটির ডিফেন্ডার স্তাভরোস পিলিওস। তবে সফরকারীদের সেই স্বস্তি স্থায়ী হতে দেননি ফোডেন ও শেরকি জুটি। গোল হজমের মাত্র পাঁচ মিনিট পর (৫৭তম মিনিটে) ফোডেনের সাজিয়ে দেওয়া পাস পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন ফরাসি উইঙ্গার রায়ান শেরকি, যা সিটিকে আবারও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেয়।

এরপর ম্যাচের বাকি সময়টা ছিল পুরোপুরি ফিল ফোডেনের নিয়ন্ত্রণে। ৬৫তম মিনিটে লুইসের বাড়ানো আরেকটি পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। পরবর্তীতে ৭৬তম মিনিটে বদলি নামা রায়ান ম্যাকঅডুর ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। মৌসুমের শুরুতে প্রায় ১০ মাস গোল না পেয়ে ছন্দহীনতায় ভোগা ২৬ বছর বয়সী এই তারকা গত সপ্তাহান্তে ইপসউইচ টাউনের পর এবার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করলেন, যার ফলে শেষ দুই ম্যাচেই তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল চারে।

ম্যাচে দলের মূল ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ড পুরো সময় বেঞ্চে বসে কাটালেও আক্রমণভাগে কোনো ঘাটতি বুঝতে দেননি অন্য খেলোয়াড়েরা। নরওয়েজিয়ান তারকার জায়গায় শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার ফ্লয়েড সাম্বা, যিনি ইতিহাদের বড় মঞ্চে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। হালান্ডকে ছাড়া তরুণ ও নিয়মিত খেলোয়াড়দের এই সমন্বিত পারফরম্যান্স সিটির ড্রেসিংরুমে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।


নির্বাচিত

banner close