বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ওয়ানডেতে ওভার কমানোর পক্ষে থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি এবি ডি

আপডেটেড
২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ১৬:৪৯
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ১৬:৪৯

তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টিই এখন বেশি জনপ্রিয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। যে কারণে ওয়ানডে ফরম্যাটে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছিও ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালে। ফরম্যাটটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবার নতুন তত্ত্ব নিয়ে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স। তিনি দুটি টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে, অর্থাৎ ৪০ ওভারে ওয়ানডে ম্যাচ নামিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এ প্রসঙ্গে মিস্টার থ্রি-সিক্সটি ডিগ্রি খ্যাত তারকা বলেন, ‘আমি (এবারের) বিশ্বকাপে অনুভব করেছি- খেলাটা আমার কাছে ধীরগতির লেগেছে। ৫০ ওভারের খেলাটাকে ৪০ ওভারের খেলায় রূপান্তর করা যেতে পারে। শুধু খেলাটা একটু ছোট করা আরকি। হয়তো দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হতে পারে, যেখানে প্রথম টি-টোয়েন্টির পর বিরতি থাকবে। প্রথম ম্যাচ শেষে রানগুলো যোগ হবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে।’

একই সঙ্গে বিরতির পর একাদশ পরিবর্তনের সুযোগ রাখারও পরামর্শ ভিলিয়ার্সের, ‘দ্বিতীয় ম্যাচে দলগুলো সুযোগ পাবে দলে বদল আনার। তো আপনি ১৫ জনের স্কোয়াড বাছাই করবেন। সেখান থেকে দ্বিতীয় ম্যাচে ধরুন, বাড়তি স্পিনার নামালেন। প্রথম ম্যাচ শেষে ৩০ রান পিছিয়ে থাকলে আপনি হয়তো অতিরিক্ত ব্যাটার নামিয়ে আগ্রাসী হলেন। আমার মনে হয়, এটা চমৎকার দৃশ্য হতে পারে।’

মোটকথা ওয়ানডে ফরম্যাটে অবশ্যই পরিবর্তন দরকার বলে মত সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়কের, ‘এমনকি দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য আরেকটা টসও হতে পারে। অথবা এভাবে হতে পারে যে, যারা প্রথমে ব্যাট করেছে, তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পরে ব্যাট করতেই হবে। আমার মনে হয়, এটার মধ্যে ভালো রোমাঞ্চ আছে। আমি অনুভব করি, আইসিসির কিছু না কিছু বদল আনা দরকার ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। আমি মনে করি, ফরম্যাটটা বড় চাপের মধ্যে আছে। ২০ ওভারের খেলা বিনোদনদায়ক। সবাই টি-টোয়েন্টি ভালোবাসে। ৫০ ওভারের বদলে দুইটা টি-টোয়েন্টির জায়গা আছে তাই। ৫০ ওভারের ফরম্যাট থাকবে, ওয়ানডে বিশ্বকাপও থাকবে, কিন্তু এভাবে কিছু বিনোদন আনা গেল। আমি মনে করি, এটা দর্শকদের জন্য খুবই বিনোদনদায়ক হবে। দুই টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে সময় কিছুটা কমিয়েও আনা যাবে। সৃজনশীল হোন, ক্রিকেটবিশ্বে এখন সৃজনশীল হওয়ার সময়।’

এর আগে ওয়ানডে ফরম্যাটকে দুভাগে ভাগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার, রবি শাস্ত্রী সহ আরও অনেকে।

বিষয়:

সাকিব-তামিমের মহাকাব্য রচনার দিন!

আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৩
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

আজ বুধবার মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। যেখানে মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স আর ফরচুন বরিশাল। আরেকটু স্পষ্ট করলে তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান। এই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে দশম আসরের ফাইনালের দ্বিতীয় দল। যে জিতবে, সে-ই ফাইনাল খেলবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে। হেরে যাওয়া দল বাড়ি যাবে বিদায়ের বিউগল শুনতে শুনতে। তাই দুই দলের জন্যই বিপিএলের মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ এটি। অন্যদিকে এই ম্যাচে যে জিতবে, সাকিব-তামিম কথিত দ্বৈরথে সে-ই তো ‘চ্যাম্পিয়ন’!

গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা তামিম ইকবালকে আউট করলেন সাকিব। এরপরই হাত মুষ্টিবদ্ধ কনুই ঝাঁকি দিয়ে উদযাপন করলেন। দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা। ব্যাটিংয়ে নেমেই চড়াও হতে থাকেন সাকিব। মেহেদী মিরাজকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন বদলি ফিল্ডার প্রীতমের কাছে। এবার ক্যামেরা তামিম ইকবালের দিকে, সাকিবের সেই উদযাপন ফিরিয়ে দিলেন তিনি।

সে ম্যাচে শেষ ওভারের তৃতীয় বলে এক উইকেটের জয় পেয়েছিল রংপুর। জমজমাট সেই ম্যাচের আলোচনা ছাপিয়ে, ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সাকিব-তামিমের উদযাপন। আজ বুধবার আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন সাকিব-তামিম। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আরেকবার দেখা যাবে সাকিব-তামিমের এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

এখন প্রশ্ন হলো শক্তির বিচারে কে কতটা এগিয়ে? এখানে অবশ্য একক আধিপত্য দেওয়ার সুযোগ নেই কাউকে। কারণ দুই দলই নিজেদের সেরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে আজ।

তবে শেষ দুই ম্যাচে হেরে কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকারই কথা রংপুর রাইডার্সের। রংপুরের আরেকটি চিন্তার কারণ হতে পারে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। শেষ দুই ম্যাচেই ব্যর্থ ছিল রংপুরের অধিকাংশ ব্যাটার। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তো শঙ্কা জেগেছিল স্বল্প রানে অলআউট হওয়ার। কিন্তু জিমি নিশামের কল্যাণে সেটা আর হয়নি। তাই এই ম্যাচের আগে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে বেশ মনোযোগী হতে হবে।

অন্যদিকে শেষ দুই ম্যাচেই জয় পেয়ে মানসিকভাবে বেশ স্বস্তিতে আছে বরিশাল। বরিশালের বড় শক্তির জায়গা তামিম ইকবালের বড় ইনিংস খেলা আর কেইল মায়ার্সের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। সঙ্গে সাইফুদ্দিনের দুর্দান্ত বোলিং বাড়তি পাওয়া বরিশালের জন্য।

শেষ দুই ম্যাচেই তামিম ইকবাল দারুণ দুটি ইনিংস খেলেছেন। তুলে নিয়েছেন দুটি অর্ধশতক। বরিশালের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তামিমের ব্যাটের। মানে বেশ ইফেক্টিভ ছিল তামিমের ইনিংস দুটি। যেটি পুরো টুর্নামেন্টেই খুব একটা দেখা যায়নি। রংপুরের বিপক্ষেও সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চাইবে তামিম এবং বরিশাল।

অন্যদিকে বিপিএলের মাঝপথ থেকেই আগুনে ব্যাট করছিলেন সাকিব আল হাসান। প্রত্যেক ম্যাচেই সাকিবের স্ট্রাইকরেট ছিল ১৫০-এর ওপরে। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচেই হাসেনি সাকিবের ব্যাট। পায়নি রানের দেখা। তাই এ ম্যাচে সাকিবের ওপর থাকবে বাড়তি চাপ। তবে এমন চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা আছে সাকিবের।

সাকিব-তামিমের লড়াইয়ে অবশ্য বাড়তি চোখ থাকবে বরিশালের ডেভিড মিলার আর রংপুরের নিকোলাস পুরানের দিকে। একই তুলনায় নাম আসতে পারে রংপুরের জিমি নিশাম আর বরিশালের কেইল মায়ার্স। দেশিদের মধ্যে চোখ থাকবে বরিশালের মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাইফুদ্দিন, মেহেদী মিরাজ। আর রংপুরের শেখ মাহেদী আর নুরুল হাসান সোহানের দিকে।

সবমিলিয়ে কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। দুই দলের শেষ লড়াইয়ের মতো দর্শকরাও চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকবে এই ম্যাচের দিকে সাকিব-তামিমের আরেকটি জমজমাট লড়াই দেখার জন্য। অবশ্য এই ম্যাচে মাঠে নামবে আরও দুই পাণ্ডব মাহমুউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুর রহিম। তাই দেশের ক্রিকেট আজ বিভক্ত হয়ে যাবে দুই দলে। তবে ভালো খেলেই ফাইনালে যেতে হবে হয় সাকিবকে অথবা তামিমকে।


মেসি কোপা খেলবেন নাকি অলিম্পিক?

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:৩৭
ক্রীড়া ডেস্ক

ব্রাজিলের বিপক্ষে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের উল্লাস। অলিম্পিক ফুটবলের বর্তমান স্বর্ণজয়ীদের বিদায় করে প্যারিস অলিম্পিকে নাম লিখে নিয়েছে লা আলবিসেলেস্তারা। অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলারদের টুর্নামেন্ট হলেও অলিম্পিকের নিয়ম অনুযায়ী তিনজন বেশি বয়সি ফুটবলারকে খেলানো যাবে গেমস ফুটবলে। লিওনেল মেসিও কি তাহলে সেই তিনজনের একজন?

মূলত এই আলোচনা উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ হ্যাভিয়ের মাচেরানোর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সবারই জানা, লিওনেল মেসির খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হলেন মাচেরানো। বার্সেলোনায় একসঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছেন তারা। জাতীয় দলেও ছিলেন সতীর্থ। এমনকি ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে মেসি-মাচেরানো মিলে জিতেছিলেন স্বর্ণ পদক। অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর সেই মাচেরানো বলে দিয়েছেন, মেসির জন্য অলিম্পিকের দরজা উন্মুক্ত। আর্জেন্টিনার টিওয়াইসি স্পোর্টসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মাচেরানো জানান, ব্রাজিলকে হারিয়ে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার পর তাকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন মেসি। বলেছেন, মাচেরানোর দল অলিম্পিকে খেলার যোগ্য দাবিদার।

মাচেরানো একই সঙ্গে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মেসি এবং ডি মারিয়ার কথা জানিয়ে মাচেরানো বলেন, ‘একজন কোচ হিসেবে আমি চাইব অবশ্যই তারা দুইজন অলিম্পিকে খেলুক। আমি তাদেরকে অলিম্পিকে খেলার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তবে আমরা জানি, তাদের অন্য দায়বদ্ধতা আছে। যার ফলে অলিম্পিকে খেলাটা তাদের জন্য কঠিনই বটে।’

মূলত মাচেরানো কোপা আমেরিকার কথাই বলেছেন। প্যারিস অলিম্পিক শুরুর কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে এবার কোপা আমেরিকা ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে একজন ফুটবলারের পক্ষে কোপা আমেরিকা এবং অলিম্পিক- দুটিতে অংশ নেওয়া প্রায় অসম্ভব।’

ব্রাজিলের রিচার্লিসন এ কাজটা করেছিলেন। ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেলেছিলেন তিনি। এর কিছুদিন পরই জাপানের টোকিওয় অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমস ফুটবলের ফাইনালেও ব্রাজিলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এমনকি অলিম্পিকে স্বর্ণও জয় করে তার দল। এমনকি রিচার্লিসনের ক্লাব এভার্টন তাকে দুই টুর্নামেন্টেই খেলার অনুমতি দিয়েছিল।

লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে এই অনুমতি পাওয়াটাও কঠিন। এরই মধ্যে ইন্টার মিয়ামি কোচ জেরার্ড (টাটা) মার্টিনো তাদের দলের প্যারাগুয়াইন ফুটবলার দিয়েগো গোমেজের উদাহরণ টেনে মেসিকে জানিয়ে দিয়েছেন, অলিম্পিক এবং কোপা আমেরিকার যেকোনো একটাকে বেছে নিতে। ২০১৬ সালে যেমন বার্সেলোনা নেইমারকে দুই টুর্নামেন্টে খেলার অনুমতি দেয়নি। ব্রাজিল তাকে অলিম্পিকে খেলিয়েছিল এবং প্রথম সেলেসাওদের অলিম্পিকের স্বর্ণ উপহার দেন। সে হিসেবে মেসির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে হাজির হয়েছে তিনি কোপা আমেরিকা খেলবেন নাকি অলিম্পিকে খেলবেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।


লিটনের দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে ফাইনালে ভিক্টোরিয়ান্স

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৩
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এলিমিনেটর ম্যাচে গতকাল মুখোমুখি হয়েছিল ফরচুন বরিশাল আর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই চট্টগ্রামের বিপক্ষে হেরেছিল তামিমের বরিশাল। এলিমিনেটর ম্যাচ জিতে সেই প্রতিশোধ নিল বরিশাল। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে অনেকটা একপেশেভাবেই এই জয় পেয়েছে তারা। পাঁচ ওভার এক বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বড় জয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছেন তামিম-মুশফিকরা।

খাতা-কলমে এগিয়ে থেকেই চট্টগ্রামের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল ফরচুন বরিশাল। সেটাকে তারা মাঠেও প্রমাণ করেছে। মূলত কেইল মায়ার্স, জেমস ফুলার, ডেভিড মিলার আর ওবেদ ম্যাককয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় বেড়েছে তাদের শক্তি। কারণ বরিশালের বোলিং ইনিংসে চট্টগ্রামকে চেপে ধরতে বড় ভূমিকা ছিল কেইল মায়ার্স, ওবেদ ম্যাককয় আর জেমস ফুলারের। এই তিনজনের শিকার ৫ উইকেট। চট্টগ্রাম যখনই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, তখনই প্রতিরোধ গড়েছে তারা।

বরিশালের এই জয়ে বড় অবদান ছিল কেইল মায়ার্সের। বল হাতে ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট। ব্যাট হাতেও ঝড় তুলেছিলেন ২২ গজে। মাত্র ২৫ বলেই তুলে নিয়েছিলেন অর্ধশতক। শাসন করেছিলেন চট্টগ্রামের বোলারদের। মায়ার্সের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩ চার ৫ ছক্কায়। ইনিংসের শুরুতেই সৌম্য সরকার আউট হলেও তামিমের সঙ্গে গড়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। যেটি বরিশালকে জয়ের পথ দেখিয়েছে।

অধিনায়ক তামিম ইকবালের ইনিংসগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বরিশালের জন্য। শেষ দুই ম্যাচেই তামিম খেলেছেন দায়িত্বশীল ইনিংস। এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৪৩ বলে অপরাজিত ছিলেন ৫২ রানে। তামিম মাঠ ছেড়েছেন দলকে জিতিয়েই। তামিমের ব্যাট আশা হয়ে উঠেছে বরিশালের জন্য। ইতোমধ্যে তামিমও অবস্থান করছেন রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার শীর্ষে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হারের অন্যতম কারণ ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। ওপেনার জস ব্রাউন আর অধিনায়ক শুভাগত হোম ব্যতীত রান পাননি কেউই। গত ম্যাচে একা হাতে চট্টগ্রামকে রক্ষা করেছিলেন তানজিদ তামিম। কিন্তু এ দিন তামিম ব্যর্থ হলে দলের হাল ধরতে পারেননি কেউই। যে কারণে হেরে বিদায় নিতে হলো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে।

প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মাঠে নেমেছিল রংপুর রাইডারস আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রংপুরের শুরুটা ভালো হয়নি। ১০৪ রানেই হারিয়েছিল পাঁচ উইকেট। কিন্তু রংপুরকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন জিমি নিশাম একাই। মাত্র তিন রানের জন্য পূরণ করতে পারেননি বিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। অপরাজিত ছিলেন ৯৭ রানে। কুমিল্লার বোলারদের শাসন করেছেন চওড়া ব্যাটে। শেষ ৪ ওভারেই নিয়েছেন ৬৮ রান। যেখানে শেষ ওভার থেকেই করেছেন ২৮ রান।

জিমি নিশামের ঝড়ের জবাবটা ঠিকঠাক মতোই দিয়েছেন লিটন দাস আর তৌহিদ হৃদয়। এই দুজন মিলেই পঞ্চমবারের মতো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ফাইনালে তুলল। ইনিংসের প্রথম বলেই সুনীল নারিন আউট হলেও ভেঙে পড়তে দেননি ব্যাটিং লাইনআপ। শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছেন এই দুই তারকা। দুজন মিলে গড়েন ১৪৩ রানের জুটি। পুরো সময়জুড়ে অপেক্ষা করেছেন খারাপ বলের। সুযোগ দেননি রংপুরকে। তৌহিদ হৃদয় খেলেন ৪৩ বল থেকে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। শুরুর দিকে ধীরগতির ব্যাটিং করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক হতে থাকেন লিটন দাসও। ৮৩ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস।

মজার বিষয় হলো বিপিএলের শুরুর দিকে রান খরায় ভুগছিলেন লিটন দাস, তৌহিদ হৃদয় দুইজনই। বেশ সমালোচনা হয়েছিল লিটনকে নিয়ে। কিন্তু শেষদিকে এসে এই দুইজনই ভরসা হয়ে উঠেছে কুমিল্লার। দুজনই নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুমিল্লার ব্যাটিং লাইনে। গতকাল তাদের ব্যাটিংয়ে ভর করেই রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেল কুমিল্লা। বিশেষ করে লিটন দাসের চোখ জুড়ানো ব্যাটিং। এই ইনিংসে লিটনের কাভার ড্রাইভগুলো ছিল দেখার মতো। লিটন-হৃদয়ের এমন ব্যাটিং কুমিল্লাকে আশা দেখাচ্ছে পঞ্চম শিরোপা জয়ের।


কোয়ালিফায়ারে বরিশাল, চট্টগ্রামের বিদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পর বোলিংয়েও পথ খুঁজে পায়নি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। অন্যদিকে দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে ফরচুন বরিশাল। ৭ উইকেটের বড় জয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে তামিম ইকবাল বাহিনী।

বিপিএলে সোমবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দলের হয়ে ২২ বলে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন ব্রাউন। জবাবে খেলতে নেমে ১৪ ওভার ৫ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বরিশাল।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সৌম্য সরকারকে হারায় চট্টগ্রাম। সিলভার ডাক খেয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কাইল মায়ার্সকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন তামিম ইকবাল।

২৬ বলে ৫০ রান করে মেয়ার্স সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ৯৯ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। এরপর চারে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করেছিলেন ডেভিড মিলারও। তবে ১৩ বলে ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি এই প্রোটিয়া হার্ডহিটার ব্যাটার।


আগামীকাল থেকে বিপিএলে বাড়বে উত্তেজনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামীকাল থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএলে) প্লে অফ পর্ব শুরু হচ্ছে। পয়েন্ট টেবিলের একেবারে ওপরে থাকা চারটি দল খেলবে এই পর্ব। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান পাওয়া দলের খেলায় জয়ী দল অনায়াসে চলে যাবে ফাইনালে। অপরদল অপেক্ষা করবে তৃতীয় স্থান ও চতুর্থ স্থানের খেলায় জয়ী দলের সঙ্গে খেলার জন্য।

উল্লেখ্য, তৃতীয় স্থান ও চতুর্থ স্থানের খেলায় যে দল হারবে তারা বিদায় নেবে টুর্নামেন্টের বাকি খেলাগুলো থেকে। মূলত আসরের উত্তেজনা ধরে রাখতেই এমন পদ্ধতিতে ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্টেগুলো খেলা হয়।

আগামীকাল সোমবার দুপুরে এলিমিনিটর ম্যাচে লড়বে পয়েন্ট তালিকার তিন ও চার নম্বর দল বরিশাল ও চট্টগ্রাম। এই ম্যাচে জয়ী দল কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করবে। আর পরাজিত দল বিদায় নেবে টুর্নামেন্ট থেকে।

আগামীকালই সন্ধ্যায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে রংপুর ও কুমিল্লা। সেখান থেকে জয়ী দল চলে যাবে ফাইনালে। অবশ্য এই ম্যাচে হারলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে পরাজিত দলের। ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে এলিমিনেটরে জয়ী দলের মুখোমুখি হবে তারা।

প্লে-অফের সব ম্যাচ আয়োজিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। প্লে-অফ ও ফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১ মার্চ।


বোলার থেকে ব্যাট হাতে কিংবদন্তি জাভেদ মিয়াঁদাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল সাগর

মাত্র ১৬ বছর বয়সে করাচির হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। এর পরের গল্পটা কেবলই নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার। প্রায় দুই যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষে পাকিস্তান দলের কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি কে এতক্ষণে বোধ হয় বুঝে গিয়েছেন। বলছি পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘বড় মিয়া’ খ্যাত জাভেদ মিয়াঁদাদের কথা।

১৯৫৭ সালের ১২ জুন করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন মিয়াঁদাদ। ক্রিকেটের প্রতি তার প্রচণ্ড টান ছিল ছোটবেলা থেকেই। বাবা করাচি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করার সুবাদে সেই টানে লাগে জোয়ার। ক্রিকেটের মহাতারকা হওয়ার পেছনে হাতটিও ছিল তার বাবারই। কেননা, বাল্যকালে পিতার থেকেই নিয়েছেন ক্রিকেটের হাতেখড়ি।

মিয়াঁদাদের সাদা পোশাকে অভিষেক হয় ১৯৭৬ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টের, প্রথম ইনিংসেই হাঁকিয়েছিলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তিনি যে ক্রিকেটে রাজত্ব করতে এসেছিলেন সেটার জানান দিতে দেরি করেননি পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি। অভিষেক টেস্টের তৃতীয় ম্যাচেই হাঁকিয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। ক্রিকেটের অভিজাত এই ফরম্যাটে ছয়টি ডাবল সেঞ্চুরি করে নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে। টেস্টে সর্বোচ্চ ডাবল সেঞ্চুরি করা দশজনের একজন তিনি। ঝুলিতে আছে ২৩টি শতকের পাশাপাশি ৪৩টি অর্ধশতক। ডানহাতি এই ব্যাটার তার পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৮৯ ইনিংসে ৫২.৫৭ গড়ে করেছেন ৮ হাজার ৮৩২ রান। অবসর নেওয়ার সময় দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন ‘বড়ে মিয়াঁ’। পরবর্তীতে অবশ্য এই রেকর্ডটি চলে যায় ইউনিস খানের দখলে।

শুধু টেস্টেই থেমে থাকেনি তার ব্যাট। প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করেছেন ওয়ানডে ক্রিকেটেও। নির্দিষ্ট দিনে যেকোনো বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে তার ব্যাট হয়ে উঠত যেন খাপখোলা তলোয়ার। অসংখ্য ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিয়েছেন পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই। ওয়ানডেতে ২৩৩ ম্যাচে ৪১.৭০ গড়ে করেছেন ৭ হাজার ৩৮১ রান। আট শতকের সঙ্গে আছে আট অর্ধশতক।

দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন সফলতার সঙ্গে। পাকিস্তানের সবচেয়ে কমবয়সী অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে জয় পেয়েছেন ১৪ ম্যাচে। হার মাত্র ৬ ম্যাচে। তবে টেস্টের মতো ওয়ানডেতে এতটা সফল ছিল না তার নেতৃত্ব। ৬২ ম্যাচে জয় পেয়েছেন মাত্র ২৬ ম্যাচে।

১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকের ইতি টানেন এ পাকিস্তানি ব্যাটিং কিংবদন্তি। জীবনের শেষ ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ৩৮ রানে।

তবে মজার ব্যাপার হলো, ব্যাট হাতে ২২ গজ শাসন করা এ কিংবদন্তি তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন লেগস্পিনার হিসেবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্বও আছে তার ঝুলিতে।


নেইল বাইটিং ফিনিশ হোক, সেটি দর্শক সমর্থকদের প্রত্যাশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে। প্লে-অফের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মুখোমুখি হবে ফরচুন বরিশাল। এ ম্যাচটি হবে আরেকটি ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের চেয়েও কঠিন। হারলেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে এবারের আসর থেকে। এমন শক্তির বিচারে কে কতটা এগিয়ে আছে?

মুখোমুখি দেখায় সুখস্মৃতিটা অবশ্য চট্টগ্রামেরই। গ্রুপ পর্বে দুই দেখায়ই শুভাগত হোমের দল হারিয়েছে তামিমের বরিশালকে। তাই মানসিকভাবে বেশ খানিকটা এগিয়ে থাকবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এ ম্যাচেও তারা ধরে রাখতে চাইবে আগের দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স। সেই সক্ষমতাও আছে চট্টগ্রামের। শেষ দুই ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে ভালো করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। রানে ফিরেছে টম ব্রুসও। দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ২০২৩ সালে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানো মোহাম্মাদ ওয়াসিম। এটা বেশ আশা জাগানিয়া চট্টগ্রামের জন্য।

তবে চট্টগ্রামের জন্য আছে একটি দুঃসংবাদও। বিপিএল খেলতে আসছে না ফিল সল্ট আর কুশাল মেন্ডিস। শেষ ম্যাচগুলোতে চট্টগ্রামের ওপিনংয়ে সমস্যা দেখা গেছে। তানজিদ তামিম রান পেলেও তার সঙ্গে নামা সৈকত কিংবা জস ব্রাউন দুজনই পরিচয় দিয়েছে ব্যর্থতার। ফিল সল্ট আর মেন্ডিস আসলে এ সমস্যাটা সমাধানের একটা সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু এখন আর সেটা হচ্ছে না।

অন্যদিকে শেষ দুই ম্যাচে যখন বরিশাল হেরেছিল সেই সময়ের চেয়ে বর্তমানে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে বরিশালে। পরিবর্তন এসেছে চট্টগ্রামেও। ওই দুই ম্যাচেই চট্টগ্রামের স্কোয়াডে ছিল ইনফর্ম আভিস্কা ফার্নান্দো আর নাজিবুল্লাহ জাদরান। এই দুজনই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ম্যাচের। কিন্তু এলিমিনেটর ম্যাচে তাদের সার্ভিস পাচ্ছে না চট্টগ্রাম। যেটা বরিশালের জন্য একটি ভালো দিক।

গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই বরিশাল ডেথওভারে গিয়ে ম্যাচের লাগাম হারিয়েছে। এর পেছনে কারণ ছিল মূলত তাদের ডেথওভারের জন্য ভালো বোলার না থাকা। ইতোমধ্যেই সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। ওবেদ ম্যাককয়, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন সেখানে আলো ছড়াচ্ছেন। এটিও বরিশালের শক্তি বাড়াতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

বরিশালের ব্যাটিং সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যেই ত্রাতা হয়ে এসেছেন কেইল মায়ার্স। ব্যাট হাতে ভয়ঙ্কর এই ক্যারিবিয়ান। ইতোমধ্যেই নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই সেই আলো তিনি দেখিয়েছেন। পাশাপাশি এলিমিনেটর ম্যাচের আগে দলের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে টি-টোয়েন্টিতে কিলার খ্যাত ডেভিড মিলার। তার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই এবং তিনি যোগ দিলে খাতা-কলমের হিসাবে বরিশালের স্কোয়াড কতটা শক্তিশালী হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরেকটি সুসংবাদ হলো মিলার ছাড়াও নতুন একজনের সঙ্গে চুক্তি করছে বরিশাল। নাম প্রকাশ না করলেও যেটা ইতোমধ্যেই জানিয়েছে বরিশাল। নিঃসন্দেহে সেটা আরও শক্তিশালী করবে তামিম ইকবালদের।

অন্যদিকে সেরা ফর্মে রয়েছে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এই মুহূর্তে বিপিএলের সেরা রান সংগ্রাহক তিনি। শেষ ম্যাচেও দুর্দান্ত করেছেন। ফিনিংশে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনজুরি শেষে সেরা ছন্দ নিয়েই ফিরেছেন সাইফুদ্দিনও। আস্থার প্রতিদান দিচ্ছিন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

তবে গ্রুপ পর্বে বরিশালকে অনেক বেশি যুদ্ধ করতে দেখা গেছে চট্টগ্রামের দুই পেসার বিলাল খান আর শহিদুল ইসলামকে খেলতে। শেষ ম্যাচে তো শহিদুল একাই কোমর ভেঙে দিয়েছিল বরিশালের। তার স্লোয়ারে বেশ বিভ্রান্ত হতে দেখা গেছে বরিশালের ব্যাটারদের। অন্যদিকে বিলাল খানের ছিল ইয়র্কার। তাই এলিমিনেটর ম্যাচের আগে এই দুই জায়গায় বেশ ভালো হোমওয়ার্ক করতে হবে তামিমদের।

শক্তির বিচারে দুই দল কাছাকাছি থাকলেও কিছুটা এগিয়ে আছে বরিশালই। বিশেষ করে তাদের নতুন খেলোয়াড় যোগ দেওয়ায় শক্তি বাড়বে স্কোয়াডে। তাই খাতা-কলমের হিসাবে শেষ ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা বেশি বরিশালেরই। চট্টগ্রামকে হারিয়ে কোয়ারিফায়ার খেলতে চাইবে তামিমরা। তবে চমক দিতে চাইবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সও। যেভাবে তারা গ্রুপ পর্বে চমকে দিয়েছে। বরিশালকে ছাড় দিতে নারাজ থাকবে তারাও।


যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ক্রীড়াবিদ হলেন মেসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মেসি ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আমেরিকা কাঁপছে মেসি ঝড়ে। বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকার বাঁ-পায়ের জাদু দেখতে গ্যালারিতে থাকে উপছে পড়া ভিড়। মেসির আগমনে ফুটবলের বিপ্লব ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকায় সময়টাও বেশ ভালোই কাটছে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির। ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দিয়েই দলটিকে জিতিয়েছেন লিগস কাপ।

বিশ্বকাপ জয়ী মেসির ঝুলিতে এখন অর্জনের অভাব নেই। এবার সেই ঝুলিতে যোগ হলো নতুন এক অর্জন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে আমেরিকার এক নম্বর জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ হলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। এই অর্জনে মেসি পেছনে ফেললেন টাইগার উডস, মাইকেল জর্ডান, কোবি ব্রায়ান্ট, লেব্রন জেমসের মতো লিজেন্ডদের।

একটি স্পোর্টস রিসার্চ পোলিং কোম্পানি এসএসআরএসের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল মেসিই এখন আমেরিকার এক নম্বর ক্রীড়াবিদের জায়গা দখল করলেন। এই কোম্পানির পোলিং ডাটা চালু করার পর থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার কোনো ফুটবলার এই তালিকায় শীর্ষে থাকলেন।

প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসেই প্রকাশ করে জরিপের ফলাফল। তবে শুধু এক মাস নয়, ২০২৩ সালের পুরো চতুর্থ কোয়ার্টার (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ধরে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন মেসি।

বিষয়:

তামিম যে ব্যাটিং সাম্রাজ্যের নেতা আবার প্রমাণ করলেন

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:৩১
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) জন্য দিনটা ছিল অন্য রকম। চরম উত্তেজনার সমীকরণ মেলানোর ম্যাচ। সেটাও আবার চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ফরচুন বরিশালের। যে ম্যাচে বরিশালে খেলছেন জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়। অন্যদিকে কুমিল্লায় খেলছেন টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা সব ক্রিকেটার। এই ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যেও ছিল অন্য রকম কৌতূহল। ছুটির দিনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না মিরপুরের শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

এই ম্যাচে হারলে জটিল অঙ্কের মারপ্যাঁচে পড়তে হতো বরিশালকে। তাই প্লে-অফ নিশ্চিতে অনেকটা বাঁচা-মরার ম্যাচ ছিল তামিম-মুশফিকদের। তবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জন্য এটা ছিল কেবলই নিয়ম রক্ষার ম্যাচ। জয় পেলে বড় জোর দুই নম্বর থেকে টেবিলের এক নম্বরে যেতে পারত। আর খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের উচ্ছ্বাস থাকত। এ ছাড়া এই ম্যাচ থেকে কুমিল্লার পাওয়ার তেমন কিছুই ছিল না।

তবে কোনো হিসাব-নিকাশ মেলাতে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না অধিনায়ক তামিম ইকবালের। তাই দলকে জিতিয়ে পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থান তৈরি করেই নিশ্চিত করেছে প্লে-অফ। সব মিলিয়ে ১২ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করল বরিশাল। এই জয়ে খুলনা টাইগার্সের ক্ষীণ আশার নৌকাকে সাগরে ডুবিয়ে শেষ চারে চলে গেল ফরচুন বরিশাল।

২০১৯ বিপিএলের ফাইনাল। শুরুতে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেই ম্যাচে কুমিল্লার হয়ে ওপেনিং করতে নামেন তামিম ইকবাল। খেলেন বিপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস। তামিম ইকবাল যে বড় ম্যাচের পারফর্মার সেটা প্রমাণ করলেন আবারও। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৪৮ বলে খেলেছেন ৬৬ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস। যেই ইনিংস বরিশালকে দেখিয়েছে জয়ের বন্দর। শুরুতে উইকেট হারানোর পর তামিম পরিচয় দিয়েছেন দায়িত্বশীলতার। কেইল মায়ার্স আর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে গড়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি জুটি।

তামিম ইকবাল যে শুধু এই ম্যাচেই পারফর্ম করেছেন বিষয়টি এমন না। পুরো বিপিএলজুড়েই তিনি পারফর্ম করেছেন। কিন্তু সেগুলো খুব বেশি আলোর মুখ দেখেনি। মানে ম্যাচ শেষ করে কিংবা এক ইনিংসে সেঞ্চুরি করেই লাইম লাইটে আসেনি তামিম। তবে নিয়মিত অবদান রেখেছেন দলের জন্য। যার কারণেই কুমিল্লার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রান সংগ্রাহকের তালিকার সবার ওপরে উঠে গেছেন তিনি। ১২ ম্যাচ থেকে তামিম ইকবালের রান ২৯১। বাকি ম্যাচগুলোতেও যদি তামিম ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে তাহলে সেটা বরিশালকে বেশ স্বস্তি দেবে।

বরিশালকে পথ দেখাচ্ছেন আরও একজন খেলোয়াড়। তিনি ক্যারিবিয়ান হার্ডহিটার কেইল মায়ার্স। ব্যাট এবং বল দুই বিভাগেই অবদান রাখছে বরিশালের জয়ে। কুমিল্লার বিপক্ষেও বল হাতে ৩ ওভারে দিয়েছেন মোটে ১৭ রান। ব্যাট করেছেন ২৫ রান।

দিনের প্রথম ম্যাচে বরিশাল জয় পাওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল শুধুই নিয়ম রক্ষার। এ ম্যাচে জয়-পরাজয়ে কোনো লাভ-ক্ষতিই নেই খুলনা টাইগার্স কিংবা সিলেট স্ট্রাইকার্সের। কারণ সিলেটের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে আগেই। বরিশালের জয়ে খুলনার তরিও ভিড়েছে একই বন্দরে।

চাপহীন এমন ম্যাচেও ব্যর্থ ছিল খুলনা টাইগার্সের ব্যাটিং লাইন-আপ। আগে ব্যাট করে ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করতে পেরেছিল মোটে ১২৮ রান। যার মধ্যে দুজন মিলেই করেছেন ৭৩ রান। খুলনার হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেছেন আফিফ হোসেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেছেন ওয়েন পার্নেল। ১৫ রানের ঘরও ছুঁতে পারেনি আর কেউ। বিপিএলের শেষ দিকে এসে খুলনার এমন ব্যর্থতায়, ভালো শুরুর পরও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কারণ। কিপ্টে বোলিংয়ে খুলনার কোমড় ভেঙে দেন বেনি হাওয়েল আর সামিত প্যাটেল। হাওয়েল একাই শিকার করেন ৩ উইকেট।

১২৮ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট স্ট্রাইকার্স। ৬ রান তুলতেই ফেরত যান দুই ওপেনার। এরপর দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর ইয়াসির আলী। দুজনে মিলে গড়েন ৭০ রানের জুটি। যেই জুটিতে ভর করেই জয়ের পথে এগিয়ে যায় বরিশাল। ১৭তম ওভারে নাহিদুলের ক্যাচ বানিয়ে ইয়াসিরকে ফেরান হোল্ডার। এর আগেই অবশ্য ৪৩ বল থেকে ৪৬ রান করে সিলেটকে বন্দরের পথ দেখান তিনি। ২ ছক্কা আর ৪ চারে সাজানো ছিল তার ইনিংস। বাকি কাজটা শেষ করেন অধিনায়ক মিঠুন (১৯) আর বেনি হাওয়েল (১২)। সিলেট জয় পেয়েছে ৬ উইকেটে।

শেষ ম্যাচে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়েই আসর শেষ করল সিলেট স্ট্রাইকার্স। অন্যদিকে হারের বৃত্তে থেকে তেতো স্বাদ নিয়ে বাড়ি ফিরল খুলনা টাইগার্স।


১৫ বছর পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো অস্ট্রেলিয়া

আপডেটেড ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:০৮
বাসস

প্যাট কামিন্সের অলরাউন্ড নৈপুন্য ও এডাম জাম্পার লেগস্পিনে এক ম্যাচ থাকতেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করেছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৭২ রানে হারিয়েছে তারা।

এর আগে প্রথম টি-টোয়েন্টি ৬ উইকেটে জিতেছিলো অস্ট্রেলিয়া। ফলে ২০০৯ সালের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো অজিরা।

অকল্যান্ডে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩ বলে ৩২ রানের সূচনা পায় অস্ট্রেলিয়া। ৭ বলে ১১ রান করে নিউজিল্যান্ডের পেসার লুকি ফার্গুসনের শিকার হন ওপেনার স্টিভেন স্মিথ।

দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক মিচেল মার্শকে নিয়ে ২৭ বলে ৫৩ রানের এক জুটি গড়েন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। মারমুখী মেজাজে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ২২ বলে ৪৫ রান করা হেডকে আউট করেন পেসার বেন সিয়ার্স।

হেড আউট হবার পর অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা তেমন সুবিধা করতে পারেননি। মার্শ ২৬, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৬, জশ ইংলিশ ৫, টিম ডেভিড ১৭ ও ম্যাথু ওয়েড ১ রানে আউট হন।

১৩৮ রানে ৭ম উইকেট পতনের পর অষ্টম উইকেটে ২৮ বলে ৩৩ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৪ রানের সংগ্রহ এনে দেন কামিন্স ও নাথান এলিস। ৫টি চারে ২২ বলে ২৮ রান করেন কামিন্স। ১১ রানে অপরাজিত থাকেন এলিস। নিউজিল্যান্ডের ফার্গুসন নেন ১২ রানে ৪ উইকেট।

সিরিজে সমতা ফেরাতে ১৭৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের তোপে সপ্তম ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেন ৬, উইল ইয়ং ৫, অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৭ ও মার্ক চাপম্যান ২ রান করেন।

পঞ্চম উইকেটে ৩২ বলে ৪৫ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ডকে চাপমুক্ত করেন গ্লেন ফিলিপস ও জশ ক্লার্কসন। দলীয় ৭৪ রানে ক্লার্কসনকে ব্যক্তিগত ১০ রানে আউট করে জুটি ভাঙ্গেন স্পিনার জাম্পা।

এরপর আরও ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১০২ রানে অলআউট করে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন জাম্পা। জাম্পা ৩৪ রানে ৪টি ও কামিন্স ১৬ রানে ২ উইকেট নেন। অলরাউন্ড নৈপুন্যের সুবাদে ম্যাচ সেরা হন কামিন্স।

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া।


প্লে-অফে বরিশাল, খুলনার বিদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিনায়ক তামিম ইকবালের ব্যাটে ভর করে কুমিল্লাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফরচুন বরিশাল। ৩ ছক্কা ও ছয় চারের মারে সাজানো ইনিংসে ৪৮ বলে ৬৬ রান করেন টাইগার এই ওপেনার।

আজকের ম্যাচের আগে বিপিএলের প্লে-অফের টিকিট কেটেছে রংপুর রাইডার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। অন্য স্থানটির জন্য লড়াইয়ে ছিল ফরচুন বরিশাল ও খুলনা টাইগার্স। বরিশালের জয়ে আশাভঙ্গ হয়েছে খুলনার। এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে এনামুল হক বিজয়ের দলের। আজ দিনের পরের ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি কার্যত নিয়মরক্ষায় রূপ নিলো।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় টস জিতে কুমিল্লাকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বরিশাল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তাইজুলদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাট হাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি কুমিল্লার ব্যাটাররা। শেষ দিকে জাকের আলির ১৬ বলে ৩৮ রানের ক্যামিওতে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানের পুঁজি গড়ে তারা। রান তাড়ায় ছন্দপতন ছিল বরিশালের ইনিংসেও। শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিকের ফিফটির সুবাদে ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বরিশাল।


বরিশালের বিপক্ষে কুমিল্লার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৪০ রান   

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ৪১তম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪০ রান করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলের পক্ষে ১৬ বলে সর্বোচ্চ ৩৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন সাত নম্বরে নামা জাকের আলি।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কুমিল্লার দুই ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন ও অধিনায়ক লিটন দাস।

১৮ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রান করা নারাইনকে শিকার করেন ক্যারিবীয় পেসার ওবেড ম্যাককয়। ২টি বাউন্ডারিতে ১২ বলে ১২ রান করে স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে আউট হন লিটন।

দুই ওপেনারের পর সাজঘরে ফিরেন চার নম্বরে নামা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও। তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হন ১ রান করা অঙ্কন।

৪০ রানে ৩ উইকেট পতনের পর কুমিল্লাকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয় ও মঈন আলি। ৩টি চারে ২৫ রান করা হৃদয়কে থামিয়ে ৩০ বলে ৩৬ রান যোগ হওয়া জুটি ভাঙ্গেন ম্যাককয়।

দলীয় ৭৬ রানে হৃদয় ফেরার পর বিপদ বাড়ে কুমিল্লার। ৯৭ রানে সপ্তম ব্যাটারকে হারায় তারা। মঈন ২৩, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল ১৪ ও ম্যাথু ফোর্ড শূণ্যতে ফিরেন।

অষ্টম উইকেটে মোহাম্মদ এনামুলের সাথে ১৫ বলে ২৭ এবং নবম উইকেটে তানভীর ইসলামকে নিয়ে ৭ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৬ রান যোগ করে কুমিল্লাকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন উইকেটরক্ষক জাকের আলী । শেষ ৩ ওভারে ৪২ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ১৪০ রানের সংগ্রহ পায় কুমিল্লা। ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৬ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন জাকের। বরিশালের তাইজুল ৩টি, ম্যাককয় ও সাইফুদ্দিন ২টি করে উইকেট নেন।


প্রতিভা দিয়েই বিশ্ব জয় করেছিলেন রোনালদো দ্যা গ্রেট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

১৯৭৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরে জন্ম রোনালদো লুইস নাজারিও ডি লিমার। রোনালদোর পরিবার ছিল খুবই দরিদ্র। এতটা দরিদ্র ছিল যে, জন্মের পর তার নাম রেজিস্ট্রেশন করতে দুই দিন অপেক্ষা করতে হয় বাবা-মাকে। তবে রোনালদোর জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসে ১১ বছর বয়সে। পরিবারের দারিদ্র্য যখন চরম শিখরে, জীবনের সবচাইতে বড় অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটে, তার বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়! অর্থনৈতিক সমস্যায় তাই বাদ দিতে হয় লেখাপড়াও। দু-মুঠো খাবারের তাগিদে রোনালদো স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে নেমে পড়েন জীবন সংগ্রামে। হ্যাঁ, এই ছোট্ট বয়সেই অর্থ উপার্জনের জন্য বেছে নেন রাস্তায় রাস্তায় ফুটবলের প্রতিযোগিতা চালানো। বেঁচে থাকার তাগিদে ফুটবলের মধ্যেই ভালোবাসা খুঁজে পান। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই রোনালদো হয়ে যান স্থানীয় ক্লাবগুলোর নিয়মিত সদস্য। একসময় স্থানীয় ক্লাব সাও ক্রিস্তোভাওয়ে খেলার সময় ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের বিখ্যাত ক্লাব ক্রুইজেরোর নজরে আসেন। জীবনের গতিপথ পাল্টে যায় এখানেই। এরপর ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথীবির বিখ্যাত সব ক্লাবে। সফলতার সঙ্গেই শেষ করেছেন সেসব পাঠ।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ১৯৯৪ সালের ২৩ মার্চ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হয় রোনালদোর। তবে গোল পাননি সে ম্যাচে। জাতীয় দলের হয়ে রোনালদো প্রথম গোলের দেখা পান ১৯৯৪ সালে আইসল্যন্ডের বিপক্ষে। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে রোনালদো দ্যা গ্রেট পেলের পর সর্বোচ্চ ৯৮ ম্যাচে ৬২টি গোল করেন। রোনালদো লিমার সবচাইতে বড় শক্তি ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের সেরা পারফরম্যান্স করা। ১৯৯৭ এবং ১৯৯৯ দুই কোপা আমেরিকায় গোল করেছেন। ১৯৯৭ কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ৯৯-এর কোপা আমেরিকার হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। মোট ৩টি বিশ্বকাপ দলে নাম ছিল রোনারদোর (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২)। তবে খেলা হয়েছে ২টি বিশ্বকাপে। ব্রাজিলের তিনটি ইন্টারন্যাশনাল শিরোপা জয়ে অবদান ছিল রোনালদোর। দুই বার হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, দুই বার সর্বোচ্চ গোলদাতা, একবার রানার্সআপ। আর যে তিনটি ফাইনাল খেলেছেন তার প্রত্যেকটিতেই গোল করেছেন। ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন ফুটবল থেকে। তবে ফুটবলের সঙ্গেই থেকে গেছেন তিনি।

পুরো নাম- রোনালদো লুইস নাজারিও ডি লিমা।

জন্ম- ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬ সাল।

জন্মস্থান- রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল।

রাশি: কন্যা।

প্রিয় খেলা: ফুটবল।

প্রিয় খাবার: ব্রাজিলিয়ান মাংস, মাছ।

প্রিয় পানীয়: বিয়ার।

প্রিয় রং: কালো, সাদা।

প্রিয় ফুটবলার: পেলে।

প্রিয় ফুটবল দল: ব্রাজিল।

প্রিয় সতীর্থ: রিভালদো।

প্রিয় গাড়ি: রোলস রয়েস।

প্রিয় শখ: ভ্রমণ, গান শোনা।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: নাইকি।


banner close