ইনজুরি আর নেইমার; যেন একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। তরুণ এই ফুটবলারের মাঝে অপার সম্ভাবনা ছিল ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হওয়ার। কিন্তু প্রতিবারই সেই সম্ভাবনার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইনজুরি। চোটের কারণে মাঠে থাকার চেয়ে মাঠের বাহিরেই তাকে বেশি সময় কাটাতে হয়েছে।
এমনও পরিস্থিতির সম্মুখীন তাকে হতে হয়েছে যে, এক চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে না ফিরতেই আবার চোটের কারণে তাকে ফের যেতে হয়েছে মাঠের বাইরে। সেটিও লম্বা সময়ের জন্য। অনেক বড় বড় টুর্নামেন্ট থেকেও তার ছিটকে যাওয়ার নজির রয়েছে বেশ কয়েকটি।
এবারে তেমনই এক ইনজুরি নেইমারের কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে কোপা আমেরিকার আগামী আসরে খেলতে পারার।
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের সময় গোড়ালির চোটে পড়েন নেইমার। আর সেই চোটই তাকে ছিটকে দিচ্ছে আসন্ন কোপা আমেরিকা থেকে। ব্রাজিল দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্রাজিলের রেদে৯৮ রেডিওকে দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার বলেন, ‘নেইমারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকঠাক মতো পার না করে তাকে কোপায় খেলার জন্য যদি তাড়াহুড়ো করা হয় তবে সেটি ঝুঁকির কারণ হবে। আর এমন অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেওয়ার কোনো মানেই হয় না। আমরা আশা করছি আগামী বছরের আগস্টে মাঠে ফেরার জন্য ও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। ৯ মাসের আগে ওর ফেরা নিয়ে কথা বলাটা জলদি হয়ে যায়। হাঁটুর লিগামেন্টে অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসনের জন্য একটু সময় লাগবেই, এটা বৈশ্বিক ধারণা। জৈবিক এ সময়কে মাথায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ, লিগামেন্ট পুনর্গঠনের জন্য শরীর এতটুকু সময় নেয়।’
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী বছরের কোপা আমেরিকার পর্দা উঠবে ২০ জুন থেকে। টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১৪ জুলাই। আসন্ন এই টুর্নামেন্টে ‘ডি’ গ্রুপে ব্রাজিলের সঙ্গী কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ে। আর বাছাইপর্ব থেকে কোস্টারিকা ও হন্ডুরাসের মধ্যে যেকোনো এক দল খেলবে এই গ্রুপে।
টেস্ট ক্রিকেটের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতেই পরাজিত করে এক মহাকাব্যিক জয় উদযাপন করল বাংলাদেশ। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকা অজিদের বিপক্ষে নয় নম্বর দল হিসেবে টাইগারদের এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে বিধ্বস্ত হওয়ার স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার অজিদের ডেরায় দাপট দেখিয়ে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা বিধ্বংসী বোলিংয়ের মাধ্যমে এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত তৈরি করেন। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ রানের গণ্ডি পেরোনোর আগেই অর্থাৎ মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে দেয় সফরকারীরা। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদর্শন করেন। তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক শতক এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকের ওপর ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে।
প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে চরম চাপের মুখে ফেলে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে অজি ব্যাটাররা কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও পেসার হাসান মাহমুদ ও স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং তোপে তা ধোপে টেকেনি। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ক্যামেরন গ্রিন শতক হাঁকিয়ে দলকে লিড এনে দিলেও মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে তা বড় হতে পারেনি। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
স্বল্প রানের এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক বাকি পথ সহজেই পাড়ি দেন। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্যাঙ্গারু বাহিনীকে তাদেরই ডেরায় নাস্তানাবুদ করে এক ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৮৪ রানে অলআউট করে দিয়েছে টাইগাররা। ফলে ডারউইনে প্রথমবার অজিদের বিপক্ষে টেস্ট জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৫৭ রান। হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিং এবং মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন জাদুর সামনে এক ক্যামেরন গ্রিন ছাড়া আর কোনো অজি ব্যাটার রুখে দাঁড়াতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানের বিশাল পাহাড় গড়েছিল। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিন সকালে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও মিরাজের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। মিরাজ একে একে অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে দিয়ে একাই ৫ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বিশেষ করে লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অজি ইনিংসের যবনিকা টানেন তিনি।
তবে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। তিনি ১০৯ বলে ফিফটি এবং পরবর্তীতে ২০১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ১০৪ রানের শতক হাঁকান। যদিও তাসকিন আহমেদ তাঁকে ৯৫ রানে একবার জীবন দিয়েছিলেন, কিন্তু শতক ছোঁয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি গ্রিন। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩ উইকেট তুলে নিয়ে অজিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেন। সব মিলিয়ে এই টেস্ট ম্যাচে হাসানের শিকার সংখ্যা এখন ৯টি।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে ফেরার পর মিচেল স্টার্কের ৪৩ রানের ছোট জুটিও বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তাসকিন আহমেদ স্টার্ককে ফিরিয়ে দিয়ে বড় লিডের সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ৫৬ রানের লিড নিতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ ঐতিহাসিক এই জয়ের জন্য বাংলাদেশের এখন দরকার মাত্র ৫৭ রান। ডারউইনের মাঠে প্রথম সেশন থেকে শুরু করে প্রতিটি মুহূর্তেই বাংলাদেশ তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। এই রোমাঞ্চকর টেস্টের ফলাফল এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
লিঙ্গ নির্ধারণী পরীক্ষায় শরীরে পুরুষ হরমোনের উপস্থিতি বেশি পাওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জান্নাত বেগম এবং নৌবাহিনীর কবিতা রায়কে নারী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতা থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এই দুই অ্যাথলেটের অর্জিত জাতীয় রেকর্ডসহ অতীতের সব পদক আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে এই দুই অ্যাথলেটের লিঙ্গ নির্ধারণী শারীরিক পরীক্ষা শুরু করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ আট মাস পর গত ১১ মে এই পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয় এবং ১৬ মে মেডিকেল বোর্ড তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করে। বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী জান্নাত বেগম এবং ১৯ বছর বয়সী কবিতা রায়ের শরীরে যৌন বিকাশজনিত বৈচিত্র্য (XY DSD) ধরা পড়েছে। এছাড়া উভয়েরই পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস রয়েছে এবং গোনাড বা জননগ্রন্থি ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত হওয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য একজন অ্যাথলেটের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ nmol/L-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে, জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯.৬৬ nmol/L, যা নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বেশি। অন্যদিকে, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬.৫০ nmol/L, যা সীমার চেয়ে সাড়ে ৬ গুণেরও বেশি। এই শর্ত পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় চিকিৎসাশাস্ত্র ও বিশ্ব সংস্থার বিধি মোতাবেক তাদের নিষিদ্ধ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার ফলে জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে অর্জিত দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি সোনা, ১টি রুপা ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে অর্জিত ১টি সোনা, ১টি রুপা ও ২টি ব্রোঞ্জ পদকও বাতিল করেছে ফেডারেশন। সেই সঙ্গে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাতিলকৃত এই পদকগুলো আইন অনুযায়ী ওই ইভেন্টগুলোর পদক তালিকায় পরবর্তী স্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মাঝে পর্যায়ক্রমে পুনর্বণ্টন করা হবে।
ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় এক অভাবনীয় চুক্তির মাধ্যমে জামশেদপুর এফসির মালিকানা হস্তান্তর করেছে টাটা স্টিল। দলের খেলোয়াড় ও কোচদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে মাত্র ১০০ ভারতীয় রুপি বা প্রায় ১ ডলারের প্রতীকি মূল্যে ক্লাবটিকে গোয়ার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল দল চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উত্তরের শহর জামশেদপুর তাদের একমাত্র শীর্ষ সারির ফুটবল ক্লাবটিকে হারালেও দলের সদস্যদের পেশাদার ক্যারিয়ার সচল রাখার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই নামমাত্র মূল্যের চুক্তির অধীনে জামশেদপুর এফসিতে থাকা ১২ জন ফুটবলার এবং ২ জন কোচের চুক্তি সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। টাটা স্টিলের করপোরেট সার্ভিসেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি. বি. সুন্দর রামাম জানিয়েছেন, দলের সঙ্গে যুক্ত খেলোয়াড় এবং কোচদের ফুটবল খেলা অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিতেই মালিকানা রূপান্তরের এই বিশেষ উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। ২০২১-২২ মৌসুমের লিগ উইনার্স শিল্ড এবং সুপার কাপ জয়ী এই ক্লাবটি বন্ধ না করার জন্য সমর্থক ও খেলোয়াড়রা আবেগঘন আবেদন জানালেও শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
জামশেদপুর এফসি বিক্রি হয়ে যাওয়ার এই চুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে দুইবারের জাতীয় লিগ বিজয়ী গোয়ার ক্লাব চার্চিল ব্রাদার্স। জামশেদপুর এফসির স্পোর্টিং লাইসেন্স গ্রহণ করার মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশক পর আবারও ভারতের শীর্ষ ফুটবল লিগ আইএসএলে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই দলটি। শীর্ষ লিগে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ক্লাবটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যেখানে অন্যরা পতন বা শেষ দেখেছে, সেখানে তারা এটিকে একটি নতুন সূচনার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে নিজেদের যোগ্য জায়গায় ফিরে এসেছে।
মালিকানা হস্তান্তরের এই আনুষ্ঠানিকতার মাঝেই জামশেদপুর এফসি বর্তমানে চলমান ডুরান্ড কাপে তাদের খেলা অব্যাহত রেখেছে এবং টুর্নামেন্টটিতে তারা ইতোমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কোয়ার্টার ফাইনালের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে শক্তিশালী মোহনবাগান। আইএসএলে মালিকানা বদল হলেও আপাতত ডুরান্ড কাপের এই ম্যাচ ঘিরেই দলের খেলোয়াড় ও কোচদের সার্বিক মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে।
গত এক দশকে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বেশ কিছু সাফল্য এলেও এর আগে দেশের কোনো নারী ফুটবল ক্লাব এশিয়ান পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায়নি। এবারই প্রথমবারের মতো রাজশাহী স্টারস এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। আগামীকাল মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে আজ বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের স্বপ্নের কথা জানিয়েছে ক্লাবটির কর্মকর্তারা।
ঘরোয়া ফুটবলে এবারই প্রথম অংশগ্রহণ করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করার পরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলার সুযোগ পেয়েছে রাজশাহী স্টারস। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতির বিষয়ে ক্লাবটির সভাপতি মোখসেদুল রহমান বাবু জানান, দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই জাতীয় দলের হওয়ায় এবং তাদের নিয়মিত ক্যাম্প ও অনুশীলন থাকায় এক সপ্তাহের অনুশীলন খুব একটা সমস্যা হবে না। নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে বেশ আশাবাদী সভাপতি এই আসরের গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
দলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা মিয়ানমারের একটি ক্লাবের হয়ে চুক্তিবদ্ধ থাকায় এএফসি আসরে রাজশাহী স্টারসের হয়ে মাঠে নামতে পারছেন না। তাকে মিস করলেও বর্তমান দল নিয়ে ভালো কিছু করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজশাহী স্টারস এখন শুধু একটি ক্লাব নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তারা দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
এএফসি আসরে রাজশাহী স্টারসের গ্রুপে প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ভারতের ইস্ট বেঙ্গল, মালয়েশিয়ার সাবাহ এফএ এবং গুয়ামের রোভার্স। পরের পর্বে যেতে হলে দলকে অবশ্যই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে, যেখানে তাদের মূল বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ভারতের ইস্ট বেঙ্গলকে। দলটির অধিনায়ক শিউলি আজিম মনে করেন, ইস্ট বেঙ্গলের বিপক্ষে লড়াইটি সমানে সমান হবে এবং মাঠে যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে। অন্যদিকে, প্রায় তিন বছর পর নারী ফুটবলে ফিরে আসা কোচ ছোটন ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের সাম্প্রতিক হারের প্রেক্ষাপটে এই আসরকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে নিচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে কৌশলে নীরব থেকেছেন।
পেশাদার ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন ইতালির ইউরোজয়ী তারকা স্ট্রাইকার চিরো ইমোবিলে। শুক্রবার তাঁর বর্তমান ফরাসি ক্লাব প্যারিস এফসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই অবসরের খবরটি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সুদীর্ঘ ও সফল ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা এখন থেকে নিজের পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চান বলে ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইতালিয়ান ক্লাব বোলোগনা থেকে ফরাসি ক্লাব প্যারিস এফসিতে যোগ দিয়েছিলেন ইমোবিলে। সেখানে লিগ ওয়ানে ১২টি ম্যাচ খেলে তিনি দুটি গোল করতে সক্ষম হন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি ও সাফল্য আরও ব্যাপক। ইতালির জাতীয় দলের হয়ে ৫৭টি ম্যাচ খেলে ১৭টি গোল করেছেন তিনি। বিশেষ করে ২০২০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী ইতালি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি, যেখানে তিনি আসরে দুটি গোল করার পাশাপাশি দলকে শিরোপা জেতাতে বড় অবদান রেখেছিলেন।
ইমোবিলের ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সোনালি সময় কেটেছে ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে। এই ক্লাবের হয়ে আট মৌসুমে ৩৪০টি ম্যাচ খেলে ২০৭টি গোল করে তিনি লাৎসিওর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এই রোমান ক্লাবের হয়ে তিনি একটি কোপা ইতালিয়া এবং দুটি ইতালিয়ান সুপার কাপের শিরোপাও জিতেছেন। ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও তিনি বেশ সফল; নিজের ক্যারিয়ারে মোট চারবার ইতালিয়ান লিগ সিরি আ-র শীর্ষ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
২০২০ সালে সিরি আ-তে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩৬ গোল করে গঞ্জালো হিগুয়েনের রেকর্ডে ভাগ বসানোর পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ ‘ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু’ জয় করেছিলেন ইমোবিলে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৯৯টি ক্লাব ম্যাচে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৩০৬টি। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে তিনি নিজ দেশের জুভেন্টাস, পেসকারা, জেনোয়া ও তুরিনোর পাশাপাশি জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, স্পেনের সেভিয়া ও তুরস্কের বেসিকতাসের মতো স্বনামধন্য ক্লাবগুলোতেও খেলেছেন।
২০২৬-২৭ মৌসুমের স্প্যানিশ লা লিগা শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে বরাবরের মতোই শিরোপার লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তারের অপেক্ষায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। গত ৯৫টি লা লিগা মৌসুমের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই তিনটি ক্লাবই বেশিরভাগ শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে এই প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যহীনতা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে, যেখানে ২০০১-০২ এবং ২০০৩-০৪ মৌসুমে কেবল ভ্যালেন্সিয়াই এই তিন পরাশক্তির একচেটিয়া আধিপত্য কিছুটা ভাঙতে সক্ষম হয়েছিল।
গত টানা দুই মৌসুমে বার্সেলোনার পেছনে থেকে রানার্সআপ হওয়া রিয়াল মাদ্রিদ এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারে নিজেদের ঐতিহ্যের দিকে ফিরে গেছে। কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রত্যাবর্তন দলটির জন্য এক বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মরিনহোর বাস্তববাদী ও রক্ষণাত্মক কৌশলের পাশাপাশি ভিনিসিয়াস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম, কিলিয়ান এমবাপে এবং নতুন যুক্ত হওয়া বার্নার্ডো সিলভাকে নিয়ে গড়া রিয়ালের তারকায় ঠাসা স্কোয়াড প্রতিপক্ষের জন্য এক বড় আতঙ্ক। এর সঙ্গে মার্ক কুকুরেয়া ও ডেনজেল ডামফ্রিসের মতো তারকাদের অন্তর্ভুক্তি দলটির ট্যাকটিক্যাল শক্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তাদের সাফল্যের নতুন যুগে প্রবেশ করতে সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে, তবে তারকা স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডোভস্কির বিদায় তাদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। ম্যানেজার হ্যান্সি ফ্লিক তার হাই-প্রেসিং কৌশল এবং লামিনে ইয়ামাল, রাফিনহা, ফেরান তোরেসের সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া অ্যান্থনি গর্ডন ও করিম আদেয়িমিকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজালেও দলে একজন নিয়মিত গোলদাতার অভাব প্রকট। লেভানডোভস্কির বিকল্প হিসেবে তারা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের জুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়, যার ফলে নিখাদ স্ট্রাইকার ছাড়াই তাদের এবারের শিরোপা লড়াইয়ে বেশ খানিকটা ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে।
বার্সেলোনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জুলিয়ান আলভারেজকে ধরে রাখার মাধ্যমে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ এবারের শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করেছে। ম্যানেজার ডিয়েগো সিমিওনের দলে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে মর্টেন হিউলমান্দ, লি কাং-ইন এবং আলেজান্দ্রো গ্রিমালদোর মতো খেলোয়াড়েরা যুক্ত হয়েছেন এবং ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে চুক্তিভুক্ত করার বিষয়টিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রিয়াল ও বার্সার পাশাপাশি অ্যাতলেটিকোর এই শক্তিশালী স্কোয়াড মৌসুমের শীর্ষ দলগুলোর জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে, তবে শিরোপার এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মরিনহোর প্রত্যাবর্তনই সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে পড়ে বিধ্বস্ত হওয়া অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের দুইশর নিচে আটকে দিয়ে বিদেশের মাটিতে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অজিরা বেশ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া এবং তারা এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে একপেশে হতে চলা এই টেস্ট ম্যাচটি এখন দারুণ রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে এবং ২২৮ রানের এক বিশাল লিড পায়। দলের পক্ষে তানজিদ হাসান দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন। শনিবার তৃতীয় দিনের খেলার শুরুতে বাংলাদেশ লাঞ্চের পরপরই অলআউট হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৩ মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা অস্ট্রেলিয়ান পেসার জশ হ্যাজলউড একাই তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের ৪টি উইকেট তুলে নেন এবং সব মিলিয়ে এই ইনিংসে তিনি ৬ উইকেট শিকার করেন।
বিশাল লিডের চাপে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ৩৭ রানেই ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্র্যাভিস হেডকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। এরপর মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলে চা বিরতির পর লাবুশেনকে (৩১) বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। বিকেলের সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠা স্টিভ স্মিথকে (৪৪) নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ বানিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরান অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।
দিনের শেষভাগে এসে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি দলের হাল ধরেন এবং সাবধানে খেলে লিডের ব্যবধান কমাতে থাকেন। তৃতীয় দিন শেষে তারা ৯৪ বলে ৩৯ রানের একটি অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে তুলেছেন, যেখানে গ্রিন ৪৩ এবং ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। আগামীকাল চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়া চাইবে গ্রিন, ক্যারি এবং বেউ ওয়েবস্টারের মতো ব্যাটারদের নিয়ে বড় ইনিংস খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বোলাররা যদি প্রথম দিনের মতো জ্বলে উঠে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারেন, তবে শান্তদের জন্য এই ম্যাচে এক ঐতিহাসিক জয় অপেক্ষা করছে।
স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বার্সেলোনা ছেড়ে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই-এ (পিএসজি) যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে তিনি পিএসজিতে পাড়ি জমাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফরাসি ক্লাবটির সাথে তোরেস ইতোমধ্যে পাঁচ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। সেখানে তিনি আবারও তাঁর প্রিয় কোচ লুইস এনরিকের অধীনে খেলার সুযোগ পাবেন, যাঁর সাথে তিনি এর আগে স্পেন জাতীয় দলেও সফলভাবে কাজ করেছেন।
এই ট্রান্সফারটি বার্সেলোনার জন্য আর্থিকভাবে বেশ লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে তোরেসকে দলে নেওয়ার সময় যে বাড়তি বোনাস প্রদানের শর্ত ছিল, এই বিক্রির ফলে সেই দায়বদ্ধতা থেকে কাতালান ক্লাবটি মুক্তি পাচ্ছে।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে তোরেসকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরোতে দলে ভিড়িয়েছিল বার্সেলোনা। বর্তমানে পিএসজির সাথে দুই ক্লাবের সভাপতি ও ক্রীড়া কর্মকর্তাদের মধ্যে মৌখিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধুমাত্র পিএসজির মেডিকেল টিমের অধীনে তোরেসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাকি। সেখানে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হবে।
পিএসজির আক্রমণভাগে তোরেসের অন্তর্ভুক্তি দলটির শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। মাঠের তিনটি ভিন্ন পজিশনে খেলার দক্ষতা থাকায় কোচ লুইস এনরিকের রণকৌশলে তোরেস একজন অপরিহার্য খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। বার্সেলোনার হয়ে সাড়ে চার বছরে তিনটি লা লিগাসহ বেশ কিছু শিরোপা জিতেছেন তোরেস। ক্লাবটির জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ৬৫টি গোল ও ২৩টি অ্যাসিস্ট করার গৌরবময় রেকর্ড রয়েছে এই তারকার।
চীনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির জন্য ২৪ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টের জন্য দেশের সেরা প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে এই শক্তিশালী দল গঠন করা হয়েছে। ঘোষিত এই দলে ৩ জন গোলরক্ষক, ৮ জন ডিফেন্ডার, ৬ জন মিডফিল্ডার এবং ৭ জন ফরোয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এশিয়া কাপের এই আসরটি অনূর্ধ্ব-২১ জুনিয়র হকি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে এই টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফল অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দলে স্থান পাওয়া উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন মো. মাহমুদ হাসান ও মো. রায়হানুল ইসলাম। ডিফেন্সে সুমন্ত চাকমা ও মো. সাব্বির রহমানের মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়েরা জায়গা পেয়েছেন। মিডফিল্ড সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন মো. তানভীর রহমান সিয়াম ও মো. আশরাফুল আলমের মতো তরুণ তুর্কিরা। ফরোয়ার্ড লাইনে গোল করার গুরুদায়িত্ব পালন করবেন মো. জনি ইসলাম ও মো. ইসমাইল হোসেনসহ অন্যরা।
সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে এই দল নির্বাচন করা হয়েছে। চীনে যাত্রার আগে দলটি নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেবে। জুনিয়র এই হকি দলের হাত ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আরও একটি সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ ২৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে খেলতে নেমে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অভাবনীয় দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সফরকারীরা। ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে দিন শেষ করা বাংলাদেশের লিড এখন ১৫৩ রানের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টেস্ট শতকের ইতিহাস গড়ে তানজিদ তামিম এখন ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ম্যাচের শুরু থেকেই অজি বোলারদের শাসন করে ৬৪তম ওভারে ১৮৮ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করেন তানজিদ। নাথান লায়নের বল লং অফে ঠেলে দিয়ে ব্যক্তিগত ১০০ রান পূর্ণ করার পর হেলমেট খুলে আবেগী উদযাপনে মাতেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ ইনিংসে ভেঙে গেছে দীর্ঘ ২১ বছর আগে সাবেক ওপেনার হান্নান সরকারের করা ৭৬ রানের রেকর্ড, যা ছিল অজিদের মাটিতে কোনো বাংলাদেশির ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। তানজিদ শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বলে ১০১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তাঁর এই অনবদ্য ইনিংসের প্রশংসা ঝরেছে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের কণ্ঠে। চ্যানেল সেভেনে পন্টিং বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটা করার চেয়ে ভালো আর কোনো জায়গা নেই। সেটাও মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে।’
ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের পেসারদের দখলে। হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা ৫৫ রানে ৬ উইকেটের তোপে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। এটি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি পেসারের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের ঘটনা। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনও দুটি করে উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে দাপুটে ব্যাটিং শুরু করে। ওপেনার সাদমান ইসলাম ২০ রানে বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান ১০২ রানের একটি শক্তিশালী জুটি গড়ে তোলেন। মুমিনুল দুর্ভাগ্যবশত ৪৯ রানে জশ হ্যাজলউডের শিকার হলেও তানজিদ ছিলেন অটল।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ইতিবাচক ব্যাটিং বাংলাদেশের লিডকে সমৃদ্ধ করে। ৮৪ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে শান্ত সাজঘরে ফিরলেও ততক্ষণে বাংলাদেশের লিড একশ ছাড়িয়ে যায়। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও ৩৬ রানের কার্যকরী অবদান রাখেন। দিনের শেষভাগে মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের নতুন বলের আক্রমণ সামলে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রানের জুটি গড়েন। মিরাজ ৩২ ও হাসান ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সাথে আলাপকালে তানজিদ বলেন, ‘আমার জন্য খুবই বিশেষ কিছু। কারণ, এখানে এবারই প্রথম এসেছি। দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি পাওয়া আমার জন্য খুবই বিশেষ ব্যাপার।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার মার্ক ওয়াহ ফক্স ক্রিকেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তানজিদের ইনিংসকে ‘অসামান্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পন্টিং আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশের নিচু বাউন্সের উইকেটে খেলে বড় হওয়া একজন তরুণের জন্য ডারউইনের কন্ডিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও তানজিদ অভাবনীয় পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
ক্রিকেট বিশ্বে ওয়ানডে ফরম্যাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের বিতর্কের মাঝে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত। তাঁর মতে, ওয়ানডে ক্রিকেট হারিয়ে যাবে না, বরং এটি আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে; তবে তার জন্য যত্রতত্র আয়োজিত ভিত্তিহীন দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ইতি টানতে হবে। প্রতিটি ফরম্যাটকে দর্শকদের কাছে অর্থবহ ও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন আইসিসি-র এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
পিটিআই-কে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সঞ্জোগ গুপ্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রেক্ষাপটহীন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ দিয়ে ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছামতো নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজের যুগ শেষ করতে হবে। কারণ প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো বিষয় ছাড়া কোনো দেশই ক্রিকেটকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে পারবে না।’ তাঁর মতে, এই চারটি মৌলিক স্তম্ভ—প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা—নিশ্চিত করতে পারলে ওয়ানডে ফরম্যাট আরও বিকশিত হবে।
সঞ্জোগ গুপ্তের দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র বর্তমান কাঠামো ধরে রাখা কোনোভাবেই আইসিসি-র লক্ষ্য হতে পারে না। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও মর্যাদা আধুনিক বিশ্বের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মাঝে টিকিয়ে রাখতে হলে একে আধুনিক দর্শকের কাছে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য কখনোই শুধু বর্তমান অবস্থাটা ধরে রাখতে হবে- এমন হওয়া উচিত নয়। আপনি যদি প্রবৃদ্ধি অর্জন না করেন, তাহলে আপনি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবেন।’
ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে আইসিসি-র প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করলেও, সঞ্জোগ গুপ্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ওয়ানডে বা টেস্টের গুরুত্ব কোনোভাবেই ম্লান হতে দেওয়া যাবে না। তিনি মনে করেন, নতুন বাজারে ক্রিকেটের বিস্তার যেন অন্য দুই ফরম্যাটের অর্থনীতি ও দর্শক-সম্পৃক্ততার ক্ষতি না করে, সেদিকে আইসিসি সজাগ দৃষ্টি রাখবে।
লাল বলের অভিজাত ক্রিকেটে মাত্র যাত্রা শুরু করা তানজিদ হাসান তামিম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছেন। ডারউইনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডদের মতো বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি হাঁকিয়েছেন বীরত্বপূর্ণ এক সেঞ্চুরি। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ডারউইনের একই মাঠে ফিরে বাংলাদেশ আজ যেন এক নতুন সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করল। পেসার হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী ৬ উইকেটের পর তানজিদ হাসানের এই শতক ম্যাচটিকে ইতোমধ্যেই ঐতিহাসিক রূপ দিয়েছে।
নিজের ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে নেমে তানজিদ আজ ভেঙে দিয়েছেন দীর্ঘ ২১ বছরের একটি পুরোনো রেকর্ড। ২০০৩ সালে সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৭৬ রান করেছিলেন, যা এতদিন পর্যন্ত টেস্টে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল। তানজিদ আজ সেই রেকর্ড ছাপিয়ে ক্যাঙ্গারুর দেশে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করার বিরল গৌরব অর্জন করলেন। ৬৪তম ওভারে ১৮৮ বলে ৮টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান। নাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর হেলমেট খুলে অজি দর্শকদের অভিবাদনের জবাবে আবেগী উদযাপনে মাতেন ২৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ওপেনার।
এর আগে অভিষেকের প্রথম টেস্টে তানজিদের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল মাত্র ২৬ রানের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সুযোগটি পেয়ে আর হাতছাড়া করেননি এই তরুণ ব্যাটার। কঠিন কন্ডিশনে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেওয়ার পর তা ঠান্ডা মাথায় দারুণভাবে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৬ ম্যাচে ৫টি শতক ও ৬টি অর্ধশতকের পরিসংখ্যানই বলে দেয়; ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বেশ পরিপক্ব।