বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

অস্ট্রেলিয়াকে রেকর্ড হার উপহার দিয়ে শুরু নিউজিল্যান্ডের

আপডেটেড
২২ অক্টোবর, ২০২২ ১৬:৫৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর, ২০২২ ১৬:৫৪

২০১১ সালের পর কোনো সংস্করণেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। গত নভেম্বরে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে অসহায় হার, এরপর টি-টোয়েন্টিতে এবারই প্রথম দেখা। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রেকর্ডটাও ভালো নয় কেইন উইলিয়ামসনদের, ১৬ ম্যাচে ১০ হারের বিপরীতে জয় ৪টি!

কিন্তু এসবই আজ সিডনিতে সুপার টুয়েলভে দুই দলের ম্যাচের আগের কথা। ম্যাচের পরের কথা এই, অস্ট্রেলিয়াকে এত অসহায় বানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আর কেউ হারাতে পারেনি! ৮৯ রানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসেবে তাদের সবচেয়ে বড় হার।

যা যা করার দরকার, নিউজিল্যান্ড তা শুরু থেকেই দারুণভাবে করেছে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ফিন অ্যালেনের এনে দেওয়া ঝোড়ো শুরুর (১৬ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় ৪২) পর ডেভন কনওয়ের দারুণ আগ্রাসী কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত ইনিংস (৫৮ বলে ৭ চার ২ ছক্কায় ৯২) আর শেষ দিকে জিমি নিশামের ক্যামিওতে (১৩ বলে ২ ছক্কায় ২৬) ২০১ রানের লক্ষ্য দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে – প্রথম পর্বে কোনো দলই ২০০ করতে পারেনি, সুপার টুয়েলভে প্রথম ম্যাচেই তা দেখে ফেলল বিশ্বকাপ।

জবাবে অস্ট্রেলিয়াকে মনে হচ্ছিল প্রথম পর্বে খেলতে হওয়া কোনো দল! ২০০ রানের জবাবে যা যা করা উচিত নয়, অস্ট্রেলিয়া তার সবই করেছে! পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে রান ৩৭/৩। ৫০ পার হয়েছে অষ্টম ওভারের শেষ বলে, এর দুই বল পর দলীয় ৫০ রানেই গ্লেন ফিলিপসের চোখধাঁধানো ক্যাচের শিকার মার্কাস স্টইনিস। ফিফটি-টিফটি দূরের কথা, ৩০-এর ঘরেই যেতে পারেননি কোনো অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। ২০ পেরোতে পেরেছেন দুজন – গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও প্যাট কামিন্স।

ইনিংসের অর্ধেক পেরোতে না পেরোতেই (১০ ওভার ২ বল) যখন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের অর্ধেক ড্রেসিংরুমে ফিরে গেছে, তা-ও দলকে মাত্র ৬৮ রানে রেখে, এ ম্যাচে জয়-হার নিয়ে সংশয় সম্ভবত তখনই আর কারও ছিল না। শেষ পর্যন্ত যে ১১১ রান পর্যন্ত গেছে সে ম্যাক্সওয়েল আর কামিন্সের দুই বিশ পেরোনো ইনিংসের সৌজন্যেই।

তাতে রেকর্ড হার তো আর ঠেকানো হয়নি! ২০১২ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭৪ রানে হারই এতদিন ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় হার।


তানজিদ ঝড়ে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ

আপডেটেড ১১ মার্চ, ২০২৬ ২২:০৭
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের উড়িয়ে দিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১১৪ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটের এক বিশাল জয় তুলে নেয় টাইগাররা। তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে মাত্র ১৫ দশমিক ১ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই বিশাল জয়ের মাধ্যমে সিরিজের শুভ সূচনার পাশাপাশি নিজেদের আধিপত্যের জানান দিল স্বাগতিক বাংলাদেশ।

১১৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তানজিদ তামিম। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফাহিম আশরাফের ওপর চড়াও হয়ে তিনি ১৫ রান সংগ্রহ করেন। বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি মাত্র দুই ওভারেই ২৫ রান তুলে ফেলার পর দলীয় ২৬ রানে হোঁচট খায় স্বাগতিকরা। ব্যক্তিগত ৪ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হন সাইফ হাসান। তবে শুরুতে উইকেট হারানো বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি তানজিদের ওপর। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে জুটি বেঁধে দ্রুতগতিতে জয়ের পথ তৈরি করেন তিনি।

তানজিদ ও শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৩৮ বলে ৫১ রানের একটি কার্যকর জুটি গড়েন। মাত্র ৩২ বলে নিজের ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং চালিয়ে যান তানজিদ। দলের রান ১০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ব্যক্তিগত ২৭ রানে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে আউট হন শান্ত। তবে ততক্ষণে বাংলাদেশের জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৭ রানের এক অবিস্মরণীয় ও অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের বিজয় ত্বরান্বিত করেন তানজিদ তামিম। তাঁর ঝড়ো ইনিংসে ৫টি ছক্কা ও ৭টি চারের মার ছিল। অভিজ্ঞ লিটন দাসকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত সাবলীলভাবে খেলা শেষ করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

এর আগে মাঠের লড়াইয়ে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তান। নাহিদ রানা এবং মেহেদী হাসান মিরাজের সাঁড়াশি বোলিংয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। পাকিস্তান দল ৩০ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। বোলারদের এমন চমৎকার সাফল্যের পর ব্যাটারদের বীরত্বে পুরো ম্যাচটি টাইগারদের জন্য এক উৎসবের দিনে পরিণত হয়। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আগামী ম্যাচগুলোতে আরও বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


অ্যাতলেটিকোর কাছে টটেনহামের বিধ্বস্ত হার, ১৭ মিনিটের মাথায় গোলরক্ষক পরিবর্তন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টটেনহাম হটস্পারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যাত্রা এখন ঘোরতর সংকটের মুখে। তরুণ গোলরক্ষক আন্তোয়ান কিনস্কির একের পর এক অমার্জনীয় ভুলের খেসারত দিয়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ থেকে ৫-২ গোলের বিশাল হার নিয়ে ফিরতে হয়েছে ইংলিশ ক্লাবটিকে। এর ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন ম্লান হওয়ার পাশাপাশি টটেনহাম কোচ ইগোর টিউডরের কৌশল ও সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

খেলার শুরুটা ছিল টটেনহামের জন্য এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্ন। লিগ ম্যাচে টিকে থাকাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে কোচ যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন, তা দলের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনে। ২২ বছর বয়সী গোলরক্ষক কিনস্কিকে নামানোর সিদ্ধান্ত ছিল পুরোপুরি আত্মঘাতী। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় তাঁর একটি ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে মার্কোস লরেন্তে অ্যাতলেটিকোকে এগিয়ে দেন। ১৪ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার মিকি ফন দে ফেনের পিছলে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান। তবে এর মাত্র ৯২ সেকেন্ড পর কিনস্কি যে ভুলটি করেন, তা ফুটবল ভক্তদের হতবাক করে দিয়েছে। একটি দুর্বল ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কিনস্কি বলটি সরাসরি উপহার দেন জুলিয়ান আলভারেজকে, যা জালে জড়াতে কোনো কষ্টই করতে হয়নি এই আর্জেন্টাইন তারকার। এমন পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত কিনস্কিকে মাত্র ১৭ মিনিটের মাথায় মাঠ থেকে তুলে নিয়ে অভিজ্ঞ গুগলিয়েলমো ভিকারিওকে নামাতে বাধ্য হন কোচ টিউডর।

গোলরক্ষক বদলালেও অ্যাতলেটিকোর জয়যাত্রা থামাতে পারেনি স্পাররা। ২২ মিনিটের মাথায় রবিন লে নরমান্দের এক দুর্দান্ত হেডে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে টটেনহাম। বড় হারের শঙ্কায় থাকা দলটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লড়াইয়ে ফেরার কিঞ্চিৎ ইঙ্গিত দিয়েছিল। পেদ্রো পোরো ও ডমিনিক সোলাঙ্কে গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনলেও আলভারেজ নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় টটেনহাম। রক্ষণের চরম সমন্বয়হীনতা আর শুরুর নাটকীয়তা মিলিয়ে সফরকারীদের জন্য ম্যাচটি ছিল এক চূড়ান্ত গ্লানির।

মজার বিষয় হলো, এদিন গ্যালারিতে বসে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটির এই ভরাডুবি প্রত্যক্ষ করেছেন তাদেরই সাবেক সফল কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। সমর্থকরা পচেত্তিনোকে সাদর অভ্যর্থনা জানালেও মাঠে বর্তমান কোচ ইগোর টিউডরের অসহায়ত্ব ছিল প্রকট। টানা চারটি হারে ইগোর টিউডরের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে এবং তাঁর নিয়োগের মাত্র ২৯ দিনের মাথায় বিদায়ের সুর বেজে উঠতে শুরু করেছে। এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকতে হলে ফিরতি লেগের ম্যাচে অবিশ্বাস্য কোনো অলৌকিক কিছু করে দেখানো ছাড়া টটেনহামের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।


আতালান্তার মাঠে বায়ার্নের গোল উৎসব, হ্যারি কেইনকে ছাড়াই দাপুটে জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ইতালির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে টিকে থাকা আতালান্তার বিদায় ঘণ্টা যেন প্রথম লেগেই বেজে উঠল। ঘরের মাঠে বাভারিয়ানদের শক্তিমত্তার সামনে রীতিমতো খড়কুটোর মতো উড়ে গেল স্বাগতিকরা। মঙ্গলবার রাতে জিউইস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে ফুটবল খেলেছে বায়ার্ন মিউনিখ। দলের প্রধান গোলমেশিন হ্যারি কেইনকে ছাড়াই প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যুহ চুরমার করে ৬-১ ব্যবধানে বিশাল জয় তুলে নিয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা। বল দখল থেকে শুরু করে সুক্ষ্ম আক্রমণ—প্রতিটি বিভাগেই বায়ার্ন এদিন এমন দাপট দেখিয়েছে যে আতালান্তা পুরো ম্যাচে দিশেহারা হয়ে ছিল।

খেলার শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণের পসরা সাজায় সফরকারীরা, যার ফলও আসে হাতেনাতে। ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ তে এগিয়ে গিয়ে জয়ের ভিত মজবুত করে ফেলে বায়ার্ন। ১২তম মিনিটে ক্রোয়াট ডিফেন্ডার জোসিপ স্ট্যানিসিচ গোল করে উৎসবের সূচনা করেন। এর মিনিট দশেকের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে নিপুণ আড়াআড়ি শটে ব্যবধান বাড়ান মাইকেল ওলিসে। এরপর ২৫ মিনিটে ওলিসের সহায়তায় বক্সে ঢুকে তৃতীয় গোলটি করেন জার্মান উইঙ্গার সার্জি গ্যানাব্রি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গ্যানাব্রির আরেকটি জোরালো শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না আসলে বিরতির আগেই হালি পূরণ করতে পারত বাভারিয়ানরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও বায়ার্নের সেই আগ্রাসী ফুটবল অব্যহত ছিল। ৫২ মিনিটে কলম্বিয়ান তারকা লুইস দিয়াজের জোগান দেওয়া বল থেকে নিকোলাস জ্যাকসন স্কোরশিটে নাম তোলেন। ১২ মিনিট পর গতি আর ক্ষিপ্রতার প্রদর্শনীতে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ফরাসি তারকা ওলিসে। গোল উৎসবের মিছিলে নাম লেখাতে সময় নেননি বদলি নামা জামাল মুসিয়ালাও; জ্যাকসনের পাস থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৬-০ করেন তিনি। অন্যদিকে স্বাগতিক আতালান্তার পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত বিবর্ণ। পুরো ম্যাচে ৩০ শতাংশেরও কম সময় বল দখলে রাখা ইতালিয়ান দলটি কেবল আটটি আক্রমণ করতে পেরেছিল। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ইনজুরি টাইমে মারিও পাসালিচের গোলটি ছিল কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

বায়ার্নের এই পর্বতসম জয়ের ফলে ফিরতি লেগের আগেই তাঁদের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। ২৫টি শটের বিপরীতে ১৩টি লক্ষ্যে রাখা এবং সারাক্ষণ প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার এই কৌশল বায়ার্নকে আবারও শিরোপার দৌড়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। আগামী ১৮ মার্চ ফিরতি লেগের ম্যাচে বায়ার্ন নিজেদের মাঠে আতালান্তাকে আতিথ্য দেবে। বিশাল এই ব্যবধান কাটিয়ে নকআউটে টিকে থাকা আতালান্তার জন্য এখন এক প্রায় অসম্ভব মিশনে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে ইউরোপসেরার মঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখ আবারও তাদের রাজকীয় ফর্মের জানান দিল।


স্লটের শততম ম্যাচে ইস্তানবুলে বিধ্বস্ত লিভারপুল, হারের বৃত্তে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্নে স্লটের অধীনে লিভারপুলের কোচিং জীবনের শততম ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হতাশায় নিমজ্জিত হলো। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তুর্কি ক্লাব গ্যালাতাসারেইর বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে অলরেডরা। ইস্তানবুলের রামস পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ছিল লিভারপুলের ফুটবল। কোচ হিসেবে মাইলফলক স্পর্শের এই বিশেষ দিনটি মাঠের খেলায় কোনো উৎসবের আমেজ দিতে পারেনি ডাচ কোচকে। বরং গত সেপ্টেম্বরের লিগ পর্বের হারের পুনরাবৃত্তি আবারও লিভারপুলকে খাদের কিনারায় নিয়ে দাঁড় করাল।

ম্যাচের একদম শুরুর দিকেই ধাক্কা খায় সফরকারী দল। খেলার মাত্র সাত মিনিটে গ্যালাতাসারেইর একটি কর্নার থেকে চমৎকার হেডে গোল করেন মিডফিল্ডার মারিও লেমিনা। এ সময় লিভারপুলের রক্ষণভাগের ফুটবলারদের মধ্যে এক ধরণের নির্লিপ্ততা দেখা যায়, যা ম্যাচ শেষে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফ্লোরিয়ান উইর্টজ বেশ কয়েকটি গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করলে ম্যাচে ফেরার লড়াই কঠিন হয়ে পড়ে স্লটের দলের জন্য। ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত নিয়মিত গোলরক্ষক আলিসন বেকারের অনুপস্থিতিতে পোস্ট সামলান জর্জি মামারদাশভিলি। তাঁর কয়েকটি অসামান্য সেভ না হলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধ ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর প্রভাবে মুখর। গ্যালাতাসারেইর ভিক্টর ওশিমেন জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে ভিএআরের হস্তক্ষেপে তা বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনায় ক্ষণিকের জন্য ইব্রাহিম কোনাটের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স কিছুটা স্বস্তি পেলেও পরে গোল বাতিলের সেই তিক্ত স্বাদ লিভারপুলকেও পেতে হয়। কোনাটে হেড করে সমতা ফিরিয়েছেন ভেবে উৎসবে মাতলেও প্রযুক্তির পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে বলটি তাঁর হাতে লেগেছিল। হ্যান্ডবল হওয়ার অপরাধে গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি।

এই পরাজয়ের ফলে গত কয়েক ম্যাচ ধরে চলা লিভারপুলের বাজে ছন্দ আরও প্রকট হয়ে উঠল। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে তারা প্রথম লেগ শেষ করল। গ্যালাতাসারেই প্রথম লেগের জয় ও আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে আগামী বুধবার অ্যানফিল্ডে নামবে। লিভারপুলের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের মাঠে দুই গোলের ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে স্লটের শিষ্যদের এখন দ্বিতীয় লেগকে ঘিরে নতুন রণকৌশল সাজাতে হবে। সব মিলিয়ে অ্যানফিল্ডের ফেরার লড়াই এখন উত্তেজনার চরমে পৌঁছেছে।


লামিনে ইয়ামালের শেষ মুহূর্তের ম্যাজিকে হার এড়াল বার্সেলোনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা কাকে বলে, তার এক চরম নিদর্শন দেখল সেন্ট জেমস পার্কের ফুটবল ভক্তরা। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে জয়ের একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়েছিল স্বাগতিক নিউক্যাসল ইউনাইটেড। কিন্তু খেলার একদম শেষ কিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিউক্যাসলের জয় কেড়ে নেন বার্সেলোনার তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। ১-১ গোলের এই রোমাঞ্চকর ড্রয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই এখন সমতায় ফিরল, যার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে আগামী বুধবার বার্সেলোনার মাঠ ন্যু ক্যাম্পে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে বেশ দাপুটে ফুটবল খেলেছে ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল। আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণে টানটান উত্তেজনার মাঝে ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন হার্ভি বার্নেস। তাঁর অনবদ্য এক গোলে লিড নেওয়ার পর গ্যালারিজুড়ে নিউক্যাসল সমর্থকদের গগনবিদারী উল্লাস বলে দিচ্ছিল, তারা বার্সা বধের উৎসবে মাততে তৈরি। ১৯৯৭ সালে বার্সার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী টিনো আসপ্রিলাও এদিন গ্যালারিতে বসে হর্ষধ্বনি দিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই জয়োল্লাস বিষাদে রূপ নিতে সময় লাগেনি।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়েরও শেষ মিনিট চলছিল তখন। বার্সেলোনার বদলি খেলোয়াড় দানি ওলমোকে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন নিউক্যাসলের ডিফেন্ডার মালিক থিয়াও। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে বল জালে জড়ানোর কঠিন দায়িত্ব পড়ে ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালের ওপর। চরম স্নায়ুচাপ সামলে নিখুঁত কিকে স্বাগতিক গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। গোলটির সাথে সাথে রেফারির শেষ বাঁশি বাজলে হারের হাত থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এবং স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।

বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, মাঠের খেলা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তিনি বলেন, তাঁর দল বলের দখল বারবার হারিয়েছে এবং বেশ কিছু সাধারণ ভুল করেছে, যার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ ছিল নিউক্যাসলের। তবে বিপদের মুহূর্তে রক্ষণভাগ যেভাবে সংঘবদ্ধ লড়াই করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। ১-১ গোলে সমতা থাকার কারণে এখন দ্বিতীয় লেগে দুই দলের জন্যই সুযোগ সমান রইল। ন্যু ক্যাম্পের ফেরার লড়াইয়ে বার্সেলোনা এখন নিজেদের ভুলগুলো শুধরে পরবর্তী পর্বে পা রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। সব মিলিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই রোমাঞ্চ আরও এক সপ্তাহের জন্য দীর্ঘায়িত হলো।


ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগে নাম লিখিয়েছেন সাকিব, মাঠ মাতাবেন রয়্যাল ব্রাসেলসের হয়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মুকুটে যোগ হচ্ছে আরও একটি নতুন পালক। ইউরোপের মাটিতে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাওয়া ‘ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগ’ (ইইউটি-২০)–এ বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বেলজিয়ামের মাটিতে আয়োজিত এই নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তিনি প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘রয়্যাল ব্রাসেলস’ দলের। সাকিবের অন্তর্ভুক্তি টুর্নামেন্টের প্রথম আসরকে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ভিন্ন এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই লিগের মূল খেলোয়াড় ড্রাফট আগামী ২৪ মার্চ ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি সম্পন্ন করেছে রয়্যাল ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষ। মূলত তাঁর বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও বিশাল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই দল ঘোষণার অনেক আগে থেকেই তাঁকে নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা। তবে সাকিবের পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটের আরও বেশ কয়েকজন মহারথীকে এই লিগে দেখা যাবে। ইতিমধ্যে সরাসরি চুক্তির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নির্ভরযোগ্য ব্যাটার রসি ফন ডার ডুসেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্ধর্ষ অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের মতো নামী সব তারকারা।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন এই টি-টোয়েন্টি রোমাঞ্চের পর্দা উঠবে এবং টানা এক সপ্তাহ মাঠের লড়াই শেষে ১৪ জুন ব্রাসেলসেই অনুষ্ঠিত হবে মেগা ফাইনাল। টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচই বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের মাটিতে আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে মোট ছয়টি দল, যা বেলজিয়ামের ছয়টি প্রধান শহর—ব্রাসেলস, অ্যান্টওয়ার্প, ঘেন্ট, লুভেন, লিজ ও ব্রুগেস-এর প্রতিনিধিত্ব করবে। বড় বড় সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকাদের আগমনে ইউরোপের বুকে ক্রিকেটের এক নতুন জাগরণ ঘটবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে জুনের এই আসরে সাকিবের হাত ধরে রয়্যাল ব্রাসেলস কতটুকু দাপট দেখাতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবেন দেশের অগনিত ভক্ত।


দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ আইপিএল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শুরু হচ্ছে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলের উন্মাদনা। তবে আসন্ন আইপিএলের সূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানিয়েছে, এবারের আসরটি এককভাবে নয়, বরং দুই ধাপে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। আগামী মাসে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনের কারণে নীতিনির্ধারকরা এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সম্প্রতি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই আইপিএলের প্রথম ২০ দিনের আংশিক সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। ভারতের কয়েকটি রাজ্য যথা—পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু ও কেরালায় রাজ্যসভার নির্বাচনের সূচি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ধাপে পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেল স্টার স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছিল যে, ২৮ মার্চ থেকে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিসিআই সেই লক্ষ্য মাথায় রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে।

এবারের আইপিএলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নামবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। সর্বশেষ আসরের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপার স্বাদ পায় তারা। তবে গতবারের আনন্দ উদ্‌যাপনের সময় বেঙ্গালুরুর ঘরের মাঠ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। অতিরিক্ত ভিড়ে পদদলিত হয়ে ১১ জন সমর্থকের করুণ মৃত্যু হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এই মাঠে খেলা বন্ধ ছিল। আইনি জটিলতা কাটিয়ে এবং কঠোর নিরাপত্তার শর্ত মেনে এবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পাঁচটি ম্যাচ আয়োজনের সবুজ সংকেত মিলেছে।

আরসিবির বাকি দুটি ‘হোম’ ম্যাচ বা ঘরের লড়াই হবে ছত্তিশগড়ের রায়পুরের বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বেঙ্গালুরুর মাঠে আইপিএল ফিরতে যাওয়া ভক্তদের জন্য একই সাথে স্বস্তি ও রোমাঞ্চের। মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখে এবার মাঠে ফিরছে দলগুলো। নির্বাচনের আমেজ আর ক্রিকেটের মহোৎসব সব মিলিয়ে একটি ভিন্নধর্মী আইপিএলের প্রহর গুনছে ভক্তরা। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে মাঠের লড়াইয়ের চূড়ান্ত রূপরেখা।


বিশ্বকাপের সেরা একাদশ প্রকাশ করল আইসিসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ভারতের সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পুরো আসরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে চ্যাম্পিয়ন দলের ক্রিকেটাররা। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই সমান নৈপুণ্য দেখিয়ে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি আসরসেরা একাদশেও সর্বাধিক ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছে ভারত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ঘোষিত বিশ্বকাপের সেরা একাদশে ভারতের চারজন ক্রিকেটার স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিশান, হার্দিক পান্ডিয়া ও জসপ্রিত বুমরাহ।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। দুই শতকের সাহায্যে তিনি করেন ৩৮৩ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম ও লুঙ্গি এনগিদিও জায়গা পেয়েছেন সেরা একাদশে।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার এবং জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানিও স্থান পেয়েছেন আসরসেরা একাদশে।

১২তম খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্যাডলি ভ্যান শ্যালকওয়াইক, যিনি পুরো আসরে ১৩টি উইকেট নিয়েছেন।

বিশ্বকাপের সেরা একাদশ:

সাহিবজাদা ফারহান, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), ইশান কিশান, এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), হার্দিক পান্ডিয়া, উইল জ্যাকস, জেসন হোল্ডার, জসপ্রিত বুমরাহ, লুঙ্গি এনগিদি, আদিল রশিদ ও ব্লেসিং মুজারাবানি।

১২তম খেলোয়াড়: শ্যাডলি ভ্যান শ্যালকওয়াইক।


শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথ: ট্রফি উন্মোচনে দুই দলের অধিনায়ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার ঠিক একদিন আগে মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি। দুই দেশের মর্যাদাপূর্ণ এই সিরিজকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক এই ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের নবনিযুক্ত ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এবং পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। দুই অধিনায়কের উপস্থিতিতে দৃষ্টিনন্দন ট্রফিটি যখন দর্শকদের সামনে আনা হয়, তখন দুদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মাঝে অন্যরকম এক উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।

আগামীকাল বুধবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ায় বাংলাদেশ দলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য থাকবে কন্ডিশন ও দর্শকদের সমর্থন কাজে লাগিয়ে দারুণ শুরু করা। অন্যদিকে, শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে আসা পাকিস্তানও এই সফর থেকে ইতিবাচক ফল পেতে বদ্ধপরিকর। মাঠের প্রস্তুতি সেরে দুদলের খেলোয়াড়রাই এখন লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সিরিজ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে কথা বলেছেন টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ট্রফি উন্মোচন শেষে সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য প্রচুর ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে, যা তাঁদের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বড় একটি সুবিধা। তিনি প্রতিটি সিরিজ ও ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দলের উন্নতির জন্য এটি একটি বড় সুযোগ বলে মনে করেন।

আগামীকালের উদ্বোধনী ম্যাচের পর একই ভেন্যুতে সিরিজের পরবর্তী দুটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে এশিয়ার এই দুই ক্রিকেট শক্তির লড়াই ঘিরে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘ বিরতির পর সাদা বলের এই ক্রিকেটে টাইগাররা ঘরের মাঠে কেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ম্যানসিটি ও লিভারপুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দ্য ম্যাজিক অব এফএ কাপ আবারও ফুটবল ভক্তদের জন্য এক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত নিয়ে এসেছে। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের ড্রয়ে বর্তমান সময়ের ইংল্যান্ডের দুই প্রধান পরাশক্তি ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ড্রয়ের পর দেখা গেছে, প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা দুই জায়ান্ট দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথে একে অন্যের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিপূর্বে এই প্রতিযোগিতায় ১৫টি শিরোপা ভাগাভাগি করা দল দুটির লড়াই এবারও অন্যরকম এক আবহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে খেলা হওয়ায় সিটি নিজেদের মাঠে অলরেডদের আতিথ্য দেওয়ার বড় সুবিধা পাচ্ছে।

ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এই আসরটি হারের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসার এক বড় সুযোগ। গত দুই আসরে ক্রিস্টাল প্যালেস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ফাইনালে হেরে তারা রানার্স-আপ হিসেবেই সন্তুষ্ট ছিল। এবার সেই গ্লানি ভুলে টানা চতুর্থবারের মতো ফাইনালে যাওয়ার পথে শক্তিশালী লিভারপুলকেই ডিঙাতে হবে পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের। চলতি মৌসুমে দুই দলের মুখোমুখি দেখায় কিন্তু দাপট ছিল সিটিরই। প্রিমিয়ার লিগের দুই দেখাতেই গার্দিওলার দল যথাক্রমে ৩-০ এবং ২-১ গোলে লিভারপুলকে হারিয়েছে। তবুও নকআউট আসরে বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে রুখে দেওয়া মোটেও সহজ হবে না।

অন্যান্য হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের মধ্যে লন্ডনের দলগুলোর পথ কিছুটা মসৃণ মনে হচ্ছে। ১৪ বারের রেকর্ড শিরোপাধারী আর্সেনালকে শেষ আটে লড়তে হবে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে। চেলসির কপাল আরও প্রসন্ন বলে ধারণা করা হচ্ছে; তারা মুখোমুখি হবে চলতি আসরের বিস্ময়কর দল ও বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন র্যাংকিংধারী দল পোর্ট ভেলের। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম লিগ ওয়ানের কোনো দল হিসেবে পোর্ট ভেল কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়ে রেকর্ড গড়েছে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড আতিথ্য দেবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ লিডস ইউনাইটেডকে।

আাগামী ৪ এপ্রিল এই চারটি হাই-ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। শিরোপা জেতার শেষ ধাপে যাওয়ার আগে সিটি-লিভারপুলের এই সংঘাত ভক্তদের জন্য হয়ে উঠবে চরম উত্তেজনার এক কেন্দ্রবিন্দু। লন্ডনের ক্লাবগুলো যখন বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই ছোট দলগুলো এক বিশাল বড় অঘটন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন এই চার মেগা লড়াইয়ের দামামা বাজতে শুরু করেছে।


কিল-ঘুষি-লাথির মহাতাণ্ডব: ব্রাজিলে ফাইনাল ম্যাচে ২৩ লাল কার্ডের নতুন বিশ্বরেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে মাঠ বা গ্যালারি রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার খবর নতুন কিছু নয়, তবে ব্রাজিলের ‘ক্যাম্পেওনাতো মিনেইরো’ টুর্নামেন্টের ফাইনালে যা ঘটেছে, তা আধুনিক ফুটবলের সমস্ত নজিরকে ছাড়িয়ে গেছে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলোয়াড়দের মধ্যে ভয়াবহ মারামারি ও তাণ্ডবের ঘটনায় এক নজিরবিহীন বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উগ্র আচরণের শাস্তি হিসেবে রেফারি মোট ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়েছেন, যা ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ক্রুজেইরো এবং অ্যাতলেতিকো মিনেইরোর মধ্যকার এই শিরোপার লড়াই শেষ পর্যন্ত কুস্তির ময়দানে রূপ নেওয়ায় হতবাক ফুটবল বিশ্ব।

ম্যাচটির উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল, কারণ ক্রুজেইরো তখন ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে জয়ের প্রহর গুনছিল। খেলার একদম শেষ মুহূর্ত, অর্থাৎ ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার মাত্র ৩০ সেকেন্ড আগে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। ক্রুজেইরোর স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান অ্যাতলেতিকো গোলরক্ষক এভারসন। ঘটনার এক পর্যায়ে চরম সহিংস হয়ে ওঠেন এভারসন; তিনি ক্রিস্টিয়ানকে টেনে মাটিতে ফেলে দেন এবং তাঁর ওপর চড়ে বসে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মুহূর্তেই বারুদ জ্বলে ওঠে।

মাঠে কর্তব্যরত রেফারি দৌড়ে এসে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু উত্তেজনার পারদ আরও বাড়ে যখন ক্রুজেইরোর এক খেলোয়াড় আচমকা পেছন থেকে গোলরক্ষক এভারসনকে জোরালো ধাক্কা দেন এবং তিনি গোলপোস্টে আঘাত পেয়ে লুটিয়ে পড়েন। এরপরই যেন রণক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয় খেলার মাঠ। দুই দলের খেলোয়াড়রা যে যাকে পেরেছেন বেধড়ক কিল, ঘুষি এবং লাথি মারতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা বদলি খেলোয়াড় এবং উভয় দলের সাপোর্ট স্টাফরাও মাঠের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে তখন বিশৃঙ্খলা। শেষ পর্যন্ত বিশাল নিরাপত্তাবাহিনী ও সামরিক পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং প্রায় দশ মিনিট বন্ধ থাকার পর ম্যাচটি পুনরায় শুরু হয়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় খেলা শেষ হওয়ার পর। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পর্যালোচনা করে রেফারি মোট ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে অ্যাতলেতিকোর তারকা খেলোয়াড় হাল্কসহ দলের ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিজয়ী দল ক্রুজেইরোর ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ডের কবলে পড়েছেন। এই নজিরবিহীন সাজার মাধ্যমে ভেঙে গেছে ১৯৫৪ সালের সেই পুরোনো ২২ লাল কার্ডের বিশ্বরেকর্ড। এমন লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনার পর ব্রাজিলের ফুটবল মহলে এবং ক্লাবগুলোর প্রশাসনিক পর্যায়ে এখন বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


অনিশ্চয়তায় শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান সিরিজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান তীব্র সামরিক উত্তজনা আর ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও। বিশেষ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মধ্যকার আসন্ন সীমিত ওভারের সিরিজটি নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত উভয় দেশের ক্রিকেট বোর্ড বর্তমানে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার দিকগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন বলে ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে আভাস দিয়েছে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আরব আমিরাতের মাঠগুলোতে এই সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দুই দলের লড়াইয়ের শুরুটা হওয়ার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে, যার প্রথম তিনটি ম্যাচ ১৩, ১৫ এবং ১৭ মার্চ শারজাহতে আয়োজনের সূচি ছিল। এরপর ২০, ২২ ও ২৫ মার্চ দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচের লড়াই চূড়ান্ত ছিল। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে সংঘাত তীব্রতর হওয়ার পর থেকে এই আয়োজন সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এমন সংঘাতময় পরিবেশে কোনো ধরণের বড় ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না কোনো পক্ষই।

যদিও এখন পর্যন্ত আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) বা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) থেকে সিরিজ স্থগিতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বাস্তব পরিস্থিতির কারণে তারা অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশের পথেই ঝুঁকছেন। সংঘাতের এলাকা এড়িয়ে কোনো বিকল্প দেশে সিরিজটি সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে মাঠ প্রস্তুত করা এবং সব ধরণের লজিস্টিক ও প্রচারক স্বত্ব গুছিয়ে আনা আয়োজকদের জন্য এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ। বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের জন্য নির্বিঘ্নে দুবাই বা শারজাহ যাতায়াত করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

আফগানিস্তানের জন্য এই সফরটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় উপলক্ষ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে হতাশাজনক বিদায়ে বিপর্যস্ত আফগান দলটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন করে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইব্রাহিম জাদরানকে। ওপেনার জাদরানের নেতৃত্বে এই সিরিজটি দিয়েই নতুন এক শুরুর স্বপ্ন দেখছিল তারা। তবে যুদ্ধের কালো ছায়া এখন সেই অপেক্ষাকে দীর্ঘায়িত করল। এর আগেও মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার রেশ ধরে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ-২-এর গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে, যেখানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল নেপাল ও ওমানের মতো দলের। সব মিলিয়ে ক্রিকেটের এই মুহূর্তের স্থবিরতা সমর্থকদের মনে বড় ধরণের হতাশা সৃষ্টি করেছে।


খালি হাতেই এশিয়ান কাপ মিশন শেষ করল বাংলাদেশের মেয়েরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে খেলতে নামা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অভিযান শেষ হলো হারের তিক্ত স্মৃতি নিয়ে। গ্রুপপর্বে শক্তিশালী চীন ও উত্তর কোরিয়ার পর আজ সোমবার শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হারলেও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে করা আগের পারফরম্যান্সের তুলনায় আজ মাঠে অনেক বেশি ইতিবাচক ও লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে টানা তিন পরাজয়ে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই শূন্য হাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে এই দাপুটে জয়ে আসরের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে উজবেকিস্তান।

ম্যাচের শুরু থেকেই গতির লড়াইয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের চাপে রাখার চেষ্টা করে উজবেক ফুটবলাররা। খেলার মাত্র ১০ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে শুরুর এই ধাক্কা কাটিয়ে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও তাঁর সতীর্থরা। বিশেষ করে চীনের বিপক্ষে ম্যাচের মতো আজকেও ঋতুপর্ণা বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার একটি শট নিয়েছিলেন যা প্রায় গোল হয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু উজবেক গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য দক্ষতায় গোলবঞ্চিত হতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে বাংলাদেশ তাদের রক্ষণভাগ সামলে রেখেছিল, যার ফলে এক গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুদল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও বাংলাদেশ বেশ কিছুক্ষণ প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিল। গোলরক্ষক মিলি আক্তার টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোর মতো আজকেও বেশ কিছু দারুণ সেভ করে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন। তবে ম্যাচের ৬২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি হজম করার পরই যেন বাংলাদেশের পুরো রক্ষণব্যুহ তছনছ হয়ে যায়। ম্যাচের শেষ আধঘণ্টায় খেই হারিয়ে ফেলে পিটার বাটলারের দল। ৬২ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ একে একে আরও তিনটি গোল হজম করে। উজবেকিস্তানের পক্ষে জোড়া গোল করেন দিলদোরা নোজিমোভা এবং অন্য দুটি গোল করেন দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা ও নিলুফার কুদ্রাতোভা।

গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স করা গোলরক্ষক মিলি আক্তার তিন ম্যাচে সর্বমোট ১১টি গোল হজম করলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শক্তিশালী সব প্রতিপক্ষের ভিড়ে বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য এই আসরটি ছিল মূলত অভিজ্ঞতা অর্জনের বড় এক সুযোগ। পার্থের মাঠে হারের বিষণ্ণতা থাকলেও প্রথমবারের মতো এশিয়ার সেরা বারো দলের কাতারে লড়ার গৌরব নিয়ে দেশ ফিরছেন সাবিনা-আফিদারা। এখন সবার প্রত্যাশা, এশিয়ান কাপের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে বাংলাদেশের মেয়েরা।


banner close