শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বিপিএল ছাড়লেন মালিক ও ইব্রাহিম

আপডেটেড
২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৭:২৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৭:২৯

চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দশম আসরে আর খেলবেন না ফরচুন বরিশালের পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক। ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিপিএলের ঢাকা পর্ব শেষ করে দুবাই যান মালিক। সিলেট পর্বে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ছিলো তার। কিন্তু চলতি বিপিএলে মালিক আর খেলবেন না বলে নিশ্চিত করেছে বরিশাল।

বিবৃতিতে বরিশাল জানিয়েছে, ‘এই মৌসুমের জন্য শোয়েব মালিক বিপিএল ছেড়েছেন।’

এবারের বিপিএলে বরিশালের হয়ে মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেছেন মালিক। ব্যাট হাতে ২৯ রান ও বল হাতে ২ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

এদিকে, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রীলংকার মাটিতে তিন ফরম্যাটের সিরিজের জন্য আফগানিস্তানের হয়ে খেলতে গতকাল ঢাকা ছাড়েন বরিশালের ইব্রাহিম জাদরান। বরিশালের হয়ে ২ ম্যাচ খেলে ২৩ রান করেছেন তিনি।

মালিক ও ইব্রাহিমের পরিবর্তে আগামীকাল দলের সঙ্গে যোগ দেবেন পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার আহমাদ শেহজাদ ও আকিফ জাভেদ। বিপিএলে বরিশাল বার্নার্স ও ঢাকা ডোমিনেটরসে খেলার অভিজ্ঞতা আছে ব্যাটার শেহজাদের। বিপিএলে সর্বমোট ৩০ ম্যাচে ১টি সেঞ্চুরিতে ৯৬০ রান করেছেন তিনি। এবারই প্রথম বিপিএলে খেলবেন বাঁ-হাতি পেসার জাভেদ। ৪৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৪৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত ৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠস্থানে আছে বরিশাল। আগামী শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মুখোমুখি হবে তামিম-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর বরিশাল।

বিষয়:

নির্বাচিত

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আগামী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ল্যাটিন আমেরিকার এই জায়ান্টদের মোকাবিলা করতে হবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। শেষ আটের এই রণকৌশল সাজাতে গিয়ে দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি বরং আগের ম্যাচের মূল কাঠামোর ওপরই ভরসা রাখতে চাইছেন তিনি।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

কৌশলগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা: মিশরের বিপক্ষে এক সময় ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ানোর যে মানসিকতা আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফ। স্কালোনি মনে করেন, পুরো ম্যাচে দল আধিপত্য বজায় রেখেছিল। তবে গোলের সুযোগ নষ্ট করা এবং রক্ষণভাগের কিছু বিচ্যুতি নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন থাকলেও তিনি দলের মূল ফর্মেশন পরিবর্তন করতে আগ্রহী নন।

রক্ষণভাগের ডান প্রান্ত নিয়ে সংশয়: একাদশে বড় পরিবর্তন না থাকলেও রাইট-ব্যাক পজিশন নিয়ে এখনো কিছুটা দোটানায় আছেন কোচ। গত ম্যাচে নাহুয়েল মোলিনা প্রত্যাশানুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি, অন্যদিকে গঞ্জালো মন্টিয়েল বদলি হিসেবে নেমে রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। ফলে এই স্থানে কে শুরু করবেন, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

আক্রমণভাগে লাওতারো না কি আলভারেস: স্ট্রাইকার পজিশনটি এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। গত ম্যাচে হুলিয়ান আলভারেস নিষ্প্রভ থাকলেও লাওতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দ্বিতীয় গোলে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জয়সূচক গোলে নিখুঁত অ্যাসিস্ট করে লাওতারো এখন শুরুর একাদশে ফেরার জোরালো দাবিদার।

অনুশীলন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: আগামী কয়েক দিনের নিবিড় অনুশীলনে কোচ স্কালোনি বিভিন্ন খেলোয়াড়ের সমন্বয় এবং ফর্ম যাচাই করবেন। মূলত অনুশীলনের পারফরম্যান্স দেখেই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করা হবে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এক বা দুটির বেশি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ:
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক); নাহুয়েল মোলিনা/গঞ্জালো মন্টিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেস/লাওতারো মার্তিনেজ।

আর্জেন্টিনা শিবির বর্তমানে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ধারা বজায় রেখে সেমিফাইনালে পা রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। লিওনেল মেসির জাদুকরী ফর্মের পাশাপাশি দলের তরুণ তুর্কিদের কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদী আলবিসেলেস্তেরা।


নির্বাচিত

রেকর্ডের রাজা এমবাপ্পে, বিশ্বকাপে নতুন উচ্চতায় ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩০

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে ২-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্স। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলের গোলে জয় পাওয়ার পাশাপাশি ফুটবল বিশ্ব একগুচ্ছ নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে ফরাসিরা যেমন সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে, তেমনি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসের চূড়ায় পৌঁছেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড ও পরিসংখ্যানগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

ফরাসি দলের অনন্য অর্জন


মরক্কোকে হারিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) সেমিফাইনাল খেলার অনন্য গৌরব অর্জন করল ফ্রান্স। ফুটবল ইতিহাসে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে এই নজির গড়ল দিদিয়ের দেশমের দল। এটি ফ্রান্সের সামগ্রিকভাবে অষ্টম সেমিফাইনাল, যা ব্রাজিলের সমান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাদের সামনে রয়েছে কেবল জার্মানি (১২টি সেমিফাইনাল)।

রেকর্ডের বরপুত্র এমবাপ্পে
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং এই ম্যাচেই তিনি করেন ২০তম বিশ্বকাপ গোল। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে একটি করে গোল করার অবিশ্বাস্য গড় ধরে রেখেছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির (২১ গোল) পরেই তার অবস্থান। এমবাপ্পের এই গোলসংখ্যা কিংবদন্তি পেলের চেয়েও অনেক বেশি।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একই আসরে দুই জন খেলোয়াড় ৮টি করে গোল করার রেকর্ড গড়লেন। বর্তমানে মেসি ও এমবাপ্পে উভয়েই ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। তবে ৩টি অ্যাসিস্ট থাকার কারণে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির (১টি অ্যাসিস্ট) চেয়ে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে।
১৯৬৬ সালের পর এমবাপ্পে বিশ্বের প্রথম ফুটবলার, যিনি টানা দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট) রেখেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে ১০টি গোলের পর ২০২৬ আসরে এখন পর্যন্ত তার সরাসরি অবদান ১১টি (৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট)। এটি ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের করা ১৩টি গোলের অবদানের পর এক আসরে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ সাফল্য।
ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে ১০০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখা প্রথম ফুটবলার হলেন এমবাপ্পে। বর্তমানে তার মোট অবদান ১০১টি (৬৪টি গোল ও ৩৭টি অ্যাসিস্ট)। এছাড়াও বিশ্বকাপে এমবাপ্পে এ পর্যন্ত ৮টি 'উইনিং গোল' করেছেন, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ।

বিধ্বংসী জুটি ও ২০০২-এর ছায়া:
এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ৮টি এবং দেম্বেলে ৫টি গোল করেছেন। একই আসরে এক জোড়া সতীর্থের ৫ বা তদূর্ধ্ব গোল করার ঘটনা এটি গত অর্ধশতকে মাত্র দ্বিতীয়বার। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদো (৮ গোল) ও রিভালদো (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েছিলেন। এছাড়াও এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রয়ী মিলে ২৩টি গোলে অবদান রেখেছেন, যা ২০০২-এর ব্রাজিলীয় ত্রয়ীর চেয়ে ৩টি বেশি।

পেনাল্টি সেভের বিশ্বরেকর্ড

ম্যাচের প্রথমার্ধে এমবাপ্পের পেনাল্টি শট রুখে দিয়ে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। ১৯৬৬ সালের পর (টাইব্রেকারসহ) বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৪টি পেনাল্টি রক্ষার বিশ্বরেকর্ডে ইকার ক্যাসিয়াস ও ডোমিনিক লিভাকোভিচদের সঙ্গে ভাগ বসালেন বুনো। অন্যদিকে, ফ্রান্সের হয়ে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফল করার পর এই প্রথমবার ব্যর্থ হলেন এমবাপ্পে।


এছাড়া মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে এই ম্যাচে মাঠে নামেন। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের (১৭ বছর ২৩৯ দিন) পর তিনি বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার হওয়ার মর্যাদা পেয়েছেন।

ফ্রান্সের জয়ের ধারা:
আর্জেন্টাইন রেফারিদের পরিচালনায় বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলেছে ফ্রান্স এবং সবকটিতেই তারা জয়লাভ করেছে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের রেফারিদের অধীনে এটি কোনো দেশের জন্য সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড।

বর্তমানে ১৬ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে ফ্রান্স এখন শিরোপার প্রধান দাবিদার। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন বনাম বেলজিয়াম ম্যাচের বিজয়ী দল। এই আসরে আধুনিক ফুটবলের যে গতি ও কৌশলের মিশেল দেখা যাচ্ছে, তা অতীতের ৪ বা ৫ গোলে গোল্ডেন বুট জেতার ইতিহাসকে পুরোপুরি পাল্টে দিচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন এক রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।


নির্বাচিত

মরক্কোর রূপকথা থামিয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলের ছয় মিনিটের বিধ্বংসী ঝড়ে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে দিদিয়ের দেশমের দল। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা তিন আসরে সেমিফাইনালে ওঠার বিরল কীর্তিও গড়েছে লে ব্লু।

শুরু থেকেই ফরাসি আধিপত্য

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে ফ্রান্স। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, তবে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৫তম মিনিটে নুসাইর মাজরাউইয়ের ফাউলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর ২৮তম মিনিটে স্পট-কিক নেন এমবাপ্পে। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত দক্ষতায় শটটি প্রতিহত করে দলকে রক্ষা করেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্স শট নেয় ১৩টি, বিপরীতে মরক্কোর ছিল মাত্র একটি প্রচেষ্টা। তবে বুনুর অসাধারণ গোলকিপিংয়ের কারণে বিরতিতে গোলশূন্য সমতা বজায় থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। অবশেষে ৬০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করে জট খুলে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৬৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওসমানে দেম্বেলে। এমবাপ্পের তৈরি করা আক্রমণ থেকে নিচু শটে জালে বল পাঠিয়ে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফরাসিরা।

মরক্কোর রূপকথার সমাপ্তি

আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন মরক্কো পুরো ম্যাচে ফ্রান্সের রক্ষণভাগে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। ৮৩তম মিনিট পর্যন্ত তারা গোলমুখে কার্যকর কোনো শটই নিতে পারেনি। ম্যাচজুড়ে শটের হিসাবে ২১-৪ এবং অন-টার্গেট শটে ৮-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। মরক্কোর সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এমবাপ্পের পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোল রক্ষা করেন তিনি।

এমবাপ্পের নতুন ইতিহাস

এই ম্যাচে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে তিনি একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) অন্তত আটটি করে গোল করার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপের প্রায় শতবর্ষের ইতিহাসে মাত্র নয়জন ফুটবলার এক আসরে আট বা তার বেশি গোল করতে পেরেছেন। সেই বিরল তালিকায় এমবাপ্পে একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি এই কীর্তি টানা দুই আসরে দেখিয়েছেন। এছাড়া গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে রয়েছেন তিনি। সমান আট গোল থাকলেও বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির চেয়ে এগিয়ে আছেন ফরাসি অধিনায়ক।

ওসমানে দেম্বেলে টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম গোল করেন এই ম্যাচে। ফলে ২০০২ সালের ব্রাজিলের পর গত ৫০ বছরে একই বিশ্বকাপে অন্তত দুই খেলোয়াড়ের পাঁচ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়ল ফ্রান্স। ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো করেছিলেন ৮ গোল এবং রিভালদো করেছিলেন ৫ গোল।

টানা তিন বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল

এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ফ্রান্স।

  • ২০১৮: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন
  • ২০২২: রানার্সআপ
  • ২০২৬: সেমিফাইনাল

ফ্রান্সের এই ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের আধিপত্যের নতুন প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এমবাপ্পের চোট নিয়ে স্বস্তি

৭৭তম মিনিটে ডান গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। তবে ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, চোট গুরুতর নয়। তিনি বলেন, "আমি ভালো আছি। গোড়ালিতে সামান্য চোট পেয়েছি। ভয়ের কিছু নেই।"

ফরাসি দলও নিশ্চিত করেছে যে সেমিফাইনালে তার খেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, "আমরা যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, সেখানে পৌঁছেছি। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।"

অন্যদিকে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি বলেন, "আমরা শুধু মরক্কোর নয়, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের স্বপ্নও বহন করেছি। আজ হেরেছি, কিন্তু ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।" সাবেক ফ্রান্স মিডফিল্ডার প্যাট্রিক ভিয়েরা বর্তমান দলটিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড ইয়ান রাইটের মতে, "ফ্রান্সই এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল। তাদের দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া কঠিন।"

সেমিফাইনালে আগামী মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করেছে ফরাসিরা, হজম করেছে মাত্র ২টি। তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে তাদের প্রয়োজন আর মাত্র দুটি জয়।


নির্বাচিত

ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে নোয়াখালীর তরুণের থানায় অভিযোগ

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা বনাম মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক বিতর্ক এবার সুদূর বাংলাদেশেও এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচে চরম রেফারিং ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার সভাপতি, মূল ম্যাচ রেফারিসহ ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ক্ষুব্ধ তরুণ। একই সঙ্গে এই বিতর্কিত রেফারিংয়ের কারণে ফুটবল ভক্তদের যে মানসিক ক্ষতি হয়েছে, তার বিপরীতে ফিফার কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগকারী তরুণের নাম মো. রাকিব (২২), যিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে তিনি সুনির্দিষ্ট এই লিখিত অভিযোগটি নিয়ে সুধারাম মডেল থানায় হাজির হন।

তবে স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রের এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তাদের আইনি এক্তিয়ারের বাইরে হওয়ায় অভিযোগটি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

লিখিত অভিযোগে রাকিব উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বড় পর্দায় তিনি তাঁর প্রিয় দল মিসরের সমর্থনে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি দেখছিলেন। ম্যাচ চলাকালে কর্তব্যরত রেফারি ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি নির্দিষ্ট দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়েছেন, যার সরাসরি খেসারত হিসেবে তাঁর প্রিয় দল মিসর পরাজিত হতে বাধ্য হয়েছে।

অভিযোগে তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, ম্যাচের মূল দায়িত্ব পালনকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ম্যাচ পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন। রাকিবের দাবি, পুরো ম্যাচ জুড়েই অন্যায্য পেনাল্টি প্রদান, মিসরের একটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল বাতিল এবং মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নিজেদের মতো করে প্রভাবিত করা হয়েছে। এর ফলে তিনি নিজে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মিসরের অসংখ্য অন্ধ সমর্থক চরমভাবে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই মানসিক যন্ত্রণার জের ধরেই তিনি ফিফার কাছে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওই তরুণ রাতে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক একটি ক্রীড়া ও নীতিগত বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো ধরনের এক্তিয়ার বা সুযোগ নেই। এই আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তরুণকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং তিনি চাইলে ফিফার নিয়মানুযায়ী বা কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রাকিব সাংবাদিকদের জানান, বিতর্কিত ওই ম্যাচটি দেখার পর থেকে তিনি এবং তাঁর সাথে থাকা অন্য সমর্থকেরা মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন এবং ক্রীড়াঙ্গনে এই অন্যায়ের সুনির্দিষ্ট বিচার হওয়া উচিত। যেহেতু পুলিশ আইনি কারণে তাঁর অভিযোগটি গ্রহণ করেনি, তাই তিনি হার না মেনে একই অভিযোগ নিয়ে খুব দ্রুত স্থানীয় আদালতের দ্বারস্থ হবেন এবং প্রয়োজনে এই অন্যায্য রেফারিংয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় মানববন্ধনসহ নানামুখী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন।


নির্বাচিত

ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে ৫ রেফারিই আর্জেন্টিনার, মেসিকেও ‘রেফারি’ করার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পাঁচজন অফিশিয়ালের সবাই আর্জেন্টিনার নাগরিক। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফরাসি সমর্থকরা এই প্যানেল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করে বলছেন, ম্যাচটিতে লিওনেল মেসিকেই প্রধান ‘রেফারি’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।

চলমান আসরে মূল রেফারি ও দুই লাইন্সম্যান একই দেশের হওয়ার ঘটনা বেশ কয়েকবার দেখা গেলেও, সাধারণত চতুর্থ ও পঞ্চম রেফারি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভার) অন্য দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। তবে টুর্নামেন্টের ৯৬টি ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ার পর এবারই প্রথম মাঠ ও মাঠের বাইরের পাঁচজন রেফারিই একই দেশের, তথা আর্জেন্টিনার অন ডিউটি থাকছেন, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

উল্লেখ্য, বিগত দুটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে দিয়েছিল ফ্রান্স। অন্যদিকে, গত আসরের ফাইনালে ফরাসিদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। দুই দলের এমন চিরবৈরী ফুটবলীয় ইতিহাসের কারণে ফরাসি শিবিরের আশঙ্কা, আর্জেন্টিনার রেফারিরা তাদের দলের বিপক্ষে কোনো ধরনের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ফ্রান্স বনাম মরক্কো ম্যাচটির মূল রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ফাকুন্দো তেলো। সহকারী হিসেবে তার সঙ্গে থাকছেন জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চেদ। এছাড়া চতুর্থ রেফারি এবং রিজার্ভ রেফারি হিসেবে থাকবেন যথাক্রমে দারিও হেরেরা এবং ক্রিশ্চিয়ান নাভারো।

দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত ফাকুন্দো তেলো মাঠে কড়া হাতে ম্যাচ পরিচালনার জন্য বেশ বিখ্যাত। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো বনাম পর্তুগাল ম্যাচে মরক্কোর ফুটবলার ওয়ালিদ চেদিরাকে লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। একই বছর আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে বোকা জুনিয়র্স ও রেসিং ক্লাবের মধ্যকার একটি ম্যাচে একাই ১০টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড রয়েছে তার। তবে ফ্রান্সের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তেলোর এবারই প্রথম।

কাকতালীয়ভাবে, এবারের আসরে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের ম্যাচে যিনি প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেই ফ্রাঁসোয়া লেতেসিয়ার মূলত ফ্রান্সের নাগরিক। ওই ম্যাচে তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বা ‘টেনে’ খেলানোর পাল্টা অভিযোগ উঠেছিল।

তবে সেসব যুক্তিতে কান দিচ্ছেন না ফ্রান্সের গণমাধ্যম ও সমর্থকরা। দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ফিফার কোনো লজ্জা নেই’। পাশাপাশি এক ফরাসি ফুটবল ভক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ফিফা এক কাজ করুক, মেসিকেই এই ম্যাচের রেফারি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দিক।’


নির্বাচিত

মেক্সিকোর নতুন ফুটবল কোচ রাফায়েল মার্কেজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই থেকে ছিটকে গেছে মেক্সিকো। সেই বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদে পরিবর্তন এনেছে তারা। মেক্সিকোর কিংবদন্তি ফুটবলার রাফায়েল মার্কেজকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন (এফএমএফ) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে নতুন কোচ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

৪৭ বছর বয়সী মার্কেজ আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেক্সিকো দলের প্রধান হিসেবে ডাগআউটে থাকবেন। তিনি সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে দলের দায়িত্বে থাকা হাভিয়ের আগিরের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। অবশ্য ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকেই সহকারী কোচ হিসেবে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মার্কেজ। তখন থেকেই গুঞ্জন ছিল যে আগিরের পর তিনিই হতে যাচ্ছেন মেক্সিকোর পরবর্তী উত্তরসূরি।

মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই মার্কেজকে এই বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই রূপান্তরের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় দলের ভেতর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ফুটবলারদের মানোন্নয়ন করা এবং আগামী দিনের সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া।

আপাতত মেক্সিকো দলের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ সূচি নির্ধারিত নেই। তবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডো চলাকালীন নতুন কোচ হিসেবে ডাগআউটে অভিষেক হতে পারে মার্কেজের।

মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয় রাফায়েল মার্কেজকে। দেশের হয়ে মোট পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার এক বিরল কীর্তি রয়েছে তাঁর। এছাড়া খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৯ সালের কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০০৩ ও ২০১১ সালের গোল্ড কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

ক্লাব ফুটবলেও তাঁর ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যে মোড়ানো। ফরাসি ক্লাব মোনাকোর হয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে যাত্রা শুরু করার পর তিনি স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় এক দীর্ঘ ও সফল সময় পার করেন। কাতালান এই ক্লাবটির হয়ে তিনি দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। নিজ দেশে অ্যাটলাস ও লেওন ক্লাবের হয়েও তিনি দারুণ সময় কাটিয়েছেন।

ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর কোচিং পেশায় যুক্ত হন মার্কেজ। শুরুতে রিয়াল আলকালার বয়সভিত্তিক দল পরিচালনা করেন। এরপর বার্সেলোনার রিজার্ভ দল ‘বার্সা আতলেতিক’-এর প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়ে দুই মৌসুমে ৮২টি ম্যাচের মধ্যে ৪০টিতেই জয় ছিনিয়ে এনে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। এবার সেই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাকে তিনি কাজে লাগাবেন মেক্সিকো জাতীয় দলের অগ্রযাত্রায়।

উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে শেষ ১৬-র রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল মেক্সিকোকে। তবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য সামনে রেখেই রাফায়েল মার্কেজকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়োগ দিল দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।


নির্বাচিত

গোল না খাওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়ার সামনে স্পেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলতি ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পেন এমন একটি বিশ্বরেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যা গত ৯৬ বছরের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বের কোনো দেশ করে দেখাতে পারেনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা স্প্যানিশরা এই বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত নিজেদের জালে একটি গোলও জড়াতে দেয়নি।

চলমান আসরে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই কমবেশি গোল হজম করেছে, যেখানে একমাত্র ব্যতিক্রম লুইস ডে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ তো বটেই, নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচ পার করার পরও নিজেদের গোলবার সম্পূর্ণ অক্ষত রাখতে পেরেছে লা রোহারা।

গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে শেষ ১৬-র লড়াই পর্যন্ত প্রতিপক্ষের কোনো স্ট্রাইকারই স্পেনের রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি। গোলকিপার উনাই সিমনের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং স্প্যানিশ ডিফেন্সের ইস্পাতকঠিন দেয়ালের সামনে এসে বারবার পরাস্ত হয়েছে প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে পুরো টুর্নামেন্টে কোনো গোল না খেয়ে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপ হওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনা ফুটবল বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। স্পেন যদি তাদের এই রক্ষণাত্মক ধারা বজায় রেখে ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তবে এটি হবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ডিফেন্সের রেকর্ড।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর এখন পুরো ক্রীড়াবিশ্বের নজর একটাই প্রশ্নের দিকে—লুইস ডে লা ফুয়েন্তের দলের এই অভেদ্য দুর্গ কোন দল প্রথম ভাঙতে সক্ষম হয়, নাকি কোনো গোল না হজম করেই বিশ্বজয়ের এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায় রচনা করবে স্পেন।


নির্বাচিত

বিদায় নিয়েও ফিফা থেকে ২২৮ কোটি টাকা পাচ্ছে মিশর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের একদম দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল মিশর। ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আফ্রিকার পরাশক্তিরা যখন ফেভারিটদের বিদায়ের পথ তৈরি করছিল, তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত কামব্যাকে লিওনেল মেসিরা ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নেন। ফলে মোহাম্মদ সালাহদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায়।

টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও এবারের বিশ্বকাপ অভিযানটি মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের দেখা পেয়েছে তারা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও লম্বা সময় মাঠের নিয়ন্ত্রণ রেখে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতার ছাপ রেখেছে দলটি।

মাঠের এই লড়াইয়ে বেশ কয়েকটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে মিশরীয়রা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো একক আসরে পাঁচটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না দলটির। এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই খরা কাটার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে ৮ বার জালে বল পাঠিয়ে এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছে তারা।

ক্রীড়াক্ষেত্রের এই সফলতার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক প্রাপ্তিও নিশ্চিত করেছে মিশর। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) মোট ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২২৮ কোটি টাকা) প্রাইজমানি পেতে যাচ্ছে।

ফিফার নির্ধারিত আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি ফেডারেশনকে প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক খরচ বাবদ ২.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে কোয়ালিফাই করার জন্য নিশ্চিত হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। পরবর্তীতে আসরের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে মিশরের ঝুলিতে জমা পড়েছে সর্বমোট ১৮.৫ মিলিয়ন ডলার।


নির্বাচিত

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে নরওয়ে শিবিরে অসুস্থতার হানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী শনিবার মায়ামিতে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নরওয়ে শিবিরে দেখা দিয়েছে চরম দুশ্চিন্তা। দলের একাধিক ফুটবলার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবারের এই কোয়ার্টার ফাইনালে জয়লাভ করতে পারলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে নরওয়ে।

দলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিয়লান্ড অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দলের ভেতর কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে দলীয় চিকিৎসককে এখন অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। নিয়লান্ডের ধারণা, দলের ছুটির সময়ে হয়তো কোনো খেলোয়াড় সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তিনি আশাবাদী যে, শনিবারের আগেই সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই তারা মাঠে নামতে পারবেন।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকেই নরওয়ে দলকে দীর্ঘ ভ্রমণের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বস্টনে আসর শুরু করার পর নিউজার্সি, আবার বস্টন, এরপর ডালাস এবং শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলতে পুনরায় নিউজার্সিতে ভ্রমণ করতে হয়েছে তাদের। নরওয়ের সংবাদমাধ্যমের মতে, টানা এই বিমানযাত্রা ও ব্যস্ত সূচির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খেলোয়াড়দের ওপর। ইতোমধ্যে অসুস্থতার কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ফরোয়ার্ড জর্গেন স্ট্রান্ড লারসেন এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে মার্কাস হোলমগ্রেন পেডারসেন মাঠে নামতে পারেননি।

শুধু খেলোয়াড়রাই নন, ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪-১ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের কোচ স্তালে সোলবাক্কেনকেও কিছুটা অসুস্থ অবস্থায় দেখা গেছে। তবে তিনি বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুতর বলে মনে করছেন না। কোচ জানান, মূলত লারসেনের জ্বর হয়েছিল এবং দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কাশি ও গলার সমস্যা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ বিমানযাত্রা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশকে এর জন্য দায়ী করে তিনি বলেন, ৫০ জনের বেশি সদস্যের একটি দলে এমন ছোটখাটো অসুস্থতা হওয়াটা অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা।


নির্বাচিত

বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি দলে তিন পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর দীর্ঘ চার মাস বিরতি দিয়ে আবারও বিশ ওভারের ক্রিকেটে মাঠে নামছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে এই দলে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলে থাকা গ্রায়েম ক্রেমার, ব্রেন্ডন টেইলর ও টনি মুনিয়ঙ্গার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার নিউম্যান নিয়ামহুরি, টপঅর্ডার ব্যাটার মিল্টন শুম্বা এবং বেন কারান।

দলের নেতৃত্বে যথারীতি থাকছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে তার দল। নতুন সুযোগ পাওয়া ২০ বছর বয়সী নিয়ামহুরি সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ও প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ পারফর্ম করে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে, ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ফিরেছেন মিল্টন শুম্বা।

চলমান ওয়ানডে সিরিজ শেষে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে আগামী ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

জিম্বাবুয়ের ১৫ সদস্যের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড:

সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাদান্দে, টিনোটেন্ডা মাপোসা, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তাশিঙ্গা মুসেকিওয়া, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিয়ন মায়ার্স, রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামহুরি ও মিল্টন শুম্বা।


নির্বাচিত

এফবিআইয়ের তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের পর টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর লিওনেল মেসিরা। কিন্তু মাঠের এই অসামান্য সাফল্যের মাঝেই মাঠের বাইরে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। সংস্থাটির বোর্ডের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক লা নাসিওনের বরাত দিয়ে স্প্যানিশ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম মার্কা এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এএফএ-র সভাপতি ক্লাউডিও চিকি তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এই সংস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ ডলার লেনদেন করেছে, তা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। আমেরিকার মাটিতে কোনো ব্যাংক জালিয়াতি কিংবা অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করাই এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য। এই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি’ নামক একটি থিয়েটার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, যারা গত কয়েক বছর ধরে এএফএ-র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংগ্রহ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।

ব্যাংক নথিপত্র পর্যালোচনা করে গোয়েন্দারা দেখেছেন, আমেরিকার শীর্ষ ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান—সিটিব্যাংক, সিনোভুস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান এবং পিএনসি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অন্তত ২৬০ মিলিয়ন ডলার লেনদেন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ মিলিয়ন ডলার এমন কিছু নামসর্বস্ব কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে, যেগুলোর অর্থের উৎস এবং গন্তব্য নিয়ে চরম ধোঁয়াশা রয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসি এবং ফ্লোরিডার তিনজন শীর্ষস্থানীয় ফেডারেল প্রসিকিউটর এই অর্থ কেলেঙ্কারির প্রাথমিক তদন্তভার পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে এএফএ-র এই সন্দেহজনক আর্থিক কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগকারী ব্যবসায়ী গুইলারমো তোফোনি এফবিআইয়ের কাছে নিজের জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, আমেরিকার বিচার বিভাগ এই বিষয়ে আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলের সরকারের সাবেক কর্মকর্তাদেরও তলব করার কথা বিবেচনা করছে।


নির্বাচিত

আর্জেন্টিনাকে অপরাজেয় মনে করছে না সুইজারল্যান্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ৭২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ১২০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় ইউরোপের এই দলটি। আগামী রোববার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো শেষ আটে ওঠা সুইসদের সামনে এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি।

শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও আর্জেন্টিনাকে হারানো সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন। ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলাটা তাদের জন্য এক বিশেষ সুযোগ হলেও আর্জেন্টিনা কোনোভাবেই অপরাজেয় নয় এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তারা মাঠে নামবেন। তবে দলের অভিজ্ঞ সুইস ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন যে, লিওনেল মেসির মতো তারকাসমৃদ্ধ আর্জেন্টিনার সামর্থ্য ও শক্তি সম্পর্কে তারা পুরোপুরি সচেতন।

কোয়ার্টার ফাইনালের এই মেগা লড়াইয়ের আগে ইনজুরি সমস্যা সুইস শিবিরের জন্য অবশ্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাঁটুর চোটের কারণে কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলতে না পারা দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইয়োহান মানজাম্বির খেলা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। কোচ ইয়াকিন জানিয়েছেন, পুরোপুরি ফিট না হলে মানজাম্বিকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না তারা। এছাড়াও মিশেল এবিশার ও লুকা ইয়াকেজ চোটের কারণে এখনো মাঠের বাইরে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে কিছুটা চাপেই রয়েছে সুইজারল্যান্ড।


নির্বাচিত

ইংল্যান্ডের কাছে ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে ভারতের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হারের লজ্জায় ডুবেছে ভারত। গত মঙ্গলবার ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে গৌতম গম্ভীরের শিষ্যরা। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ২০১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। এই রান তাড়া করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের তোপের মুখে পড়ে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত মাত্র ১১.৪ ওভারে ৭৬ রানে গুটিয়ে যায়।

এই বিশাল হারের মাধ্যমে ভারত তাদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি নতুন করে লিখেছে। এর আগে ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানের হারটি ছিল তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়। শুধু বড় ব্যবধানে হারই নয়, দলটির ব্যাটিং লাইনআপও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ২০০৮ সালের পর এটিই ভারতের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৪ রানে অলআউট হয়েছিল তারা, যা টি-টোয়েন্টিতে এখনো তাদের সর্বনিম্ন স্কোর।

বড় হার এবং সর্বনিম্ন স্কোরের পাশাপাশি আরও একটি বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে ভারত। মাত্র ১১.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সবচেয়ে দ্রুত অলআউট হওয়ার লজ্জাজনক নজির স্থাপন করেছে দলটি। এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭.২ ওভারে অলআউট হওয়ার ঘটনাটি ছিল তাদের সবচেয়ে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড। সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষের এই ম্যাচটি ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম এক হতাশার দিন হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


নির্বাচিত

banner close