রোববার, ২৩ জুন ২০২৪

অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, দ্য ফাইনেস্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:২৫

অ্যাডাম ক্রেইগ গিলক্রিস্টের জন্ম ১৪ নভেম্বর ১৯৭১ অস্ট্রেলিয়ার বেলিংএন, নিউ সাউথ ওয়েলসে। তার ডাকনাম গিলি ও চার্চ। তিনি একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট খেলোয়াড়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে ১৯৯২ সালে। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে গিলক্রিস্টের। নিজের প্রথম মৌসুমে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন তিনি। ৩০.৪৪ ব্যাটিং গড়ে ২৭৪ রান করেছিলেন নিজের প্রথম মৌসুমে। পরের মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসে তিনি খুব একটা সুযোগ পাননি নিজেকে মেলে ধরার। তাই ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান গিলক্রিস্ট। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম মৌসুমে ২৬.৫৩ ব্যাটিং গড়ে ৩৯৮ রান করে ব্যাট হাতে তুলনামূলক ব্যর্থ হলেও উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে ৫৫টি ডিসমিসাল করেন তিনি, যা ওই মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল। এ ছাড়াও তিনি এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম খেলেন ১৯৯৬ সালে এবং টেস্ট ম্যাচ ক্রিকেটে অভিষেক ১৯৯৯ সালে। তিনি ২০০০ সাল থেকে উভয় ধারার অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়মিত অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ ও রিকি পন্টিংয়ের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

গিলক্রিস্ট একজন আক্রমণাত্মক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এবং কার্যকর উইকেট রক্ষক, জাতীয় দলের জন্য তিনি দুটি দায়িত্ব পালন করেন। তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেট রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তার স্ট্রাইক রেট ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় সর্বোচ্চ এবং টেস্ট ক্রিকেটে তিনি দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক। গিলক্রিস্ট পিচে প্রতিবাদ করার জন্য আলোচিত এবং বেশ কয়েকবার এ জন্য ম্যাচ ফি জরিমানা দিয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি ওয়াকিং করার জন্য বিখ্যাত এবং নিজেকে আউট মনে করলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিপরীতে হেঁটে চলে যান।

পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে গিলক্রিস্ট অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় দলের হয়ে ৯০টি টেস্ট এবং ২৫০টি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পঞ্চাশ রানের অধিক ইনিংস খেলার বিরল রেকর্ডের অধিকারী। (১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭ সালে)।


ক্যারিবীয়দের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ব্যাটিং আর দ.আফ্রিকার সংহারপূর্ণ বোলিংয়ের লড়াই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

ক্রিকেটের মারকাটারি সংস্করণ টি-টোয়েন্টি। ব্যাটে-বলের ধুন্ধুমার লড়াইয়ের এবারের বিশ্ব আসরের এখন পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে; স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের মূলমন্ত্র অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ব্যাটিং। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার টানা জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের সংহারপূর্ণ বোলিং। হারতে হারতেও বোলারদের নৈপুণ্যে ম্যাচ জিতেছে প্রোটিয়ারা। তাই সুপার এইটে এ দুই দলের একটা ধুন্ধুমার লড়াই দেখতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় সেই লড়াই দেখা যাবে। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসির সম্প্রচার করবে।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন পর্যন্ত টানা ৬ ম্যাচে অপরাজিত প্রোটিয়ারা। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবগুলোই জয়ের পর সুপার এইটের দুই ম্যাচও জয় দিয়ে রাঙিয়েছে তারা। তাই বেশ আত্মবিশ্বাসী এইডেন মার্করামের দল। সবগুলোতে না জিতলেও বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে ক্যারিবীয়ানরাও। হেরেছে শুধু সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ধাক্কা সামলে পরের ম্যাচেই আবার যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দিয়েছে। ফিরে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস।

দুই দলের লড়াইটা যে সমানে সমান হবে সেটার জানান দিচ্ছে মুখোমুখি পরিসংখ্যান। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ২২ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দলই সমান ১১টি করে ম্যাচ জিতেছে। তবে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চারবারের দেখায় তিনবার জিতেছে তারা। প্রথমবার জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৭, ২০০৯ ও ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে সবশেষ দেখার স্মৃতি পোড়াবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে শক্তির বিচারে দুই দলই সমানে সমান, কেউ কাউকে নাহি ছাড়ে। শাই হোপ, নিকোলাস পুরান, জনসন চার্লস, রোভম্যান পাওয়েল, শেরফান রাদারফোর্ড ও আন্দ্রে রাসেলদের নিয়ে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন যেকোনো দলের জন্যই আতঙ্কের। তবে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই রেজা হেন্ডরিক্স, কুইন্টন ডি কক, হেনরি ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, এইডেন মার্করামদের নিয়ে গড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে থাকবে তাদের অলরাউন্ডার শক্তির জন্য। আন্দ্রে রাসেল, রোভম্যান পাওয়েল, রোস্টন চেজরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তবে বোলিংয়ে এগিয়ে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নরকিয়া, কেশাব মাহারাজরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

দুই দলেরই লড়াইটা এখন সেমিফাইনাল খেলার। সে লক্ষ্যে অবশ্য স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাই। সুপার এইটে ২ ম্যাচ খেলে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট পেয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রকে ১৮ রানে ও ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়েছে তারা। অন্যদিকে দুই ম্যাচ খেলে একটি জয় ক্যারিবীয়দের। টেবিলের শীর্ষে থাকলেও এখনও সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়নি প্রোটিয়াদের। সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে বা গ্রুপের অন্য ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ড হারলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারলেও প্রোটিয়াদের সুযোগ আছে সেমিফাইনাল খেলার। ইংল্যান্ড যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারে তাহলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই সেমি খেলবে তারা। আর যদি জেতে তাহলে হিসাব কষতে হবে রান রেটের। রান রেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে প্রোটিয়ারা। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান রেট ১.৮১৪, দক্ষিণ আফ্রিকার ০.৬২৫ এবং ইংল্যান্ডের ০.৪১২। তবে রান রেটের হিসাব না কষে টানা সপ্তম জয়ের স্বাদ নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে চায় প্রোটিয়ারা।

দলের অধিনায়ক এইডেন মার্করাম বলেন, ‘টানা ছয় ম্যাচ জিতে আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের লক্ষ্য জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা।’

গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ড হারলে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু নিজ নিজ ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি জিতে যায়, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে রান রেট বিবেচনা করতে হবে অন্য দুই দলকে।

রান রেট নিয়ে চিন্তা না করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনটাই জানিয়েছেন ক্যারিবীয় ওপেনার শাই হোপ, ‘আমাদের রান রেট ভালো আছে। এ জন্য আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে না জিতলে এই রান রেট কাজে আসবে না, যদি অন্য ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইংল্যান্ড জিতে যায়। এ জন্য আমাদের প্রধান কাজ হলো- জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া। এই কাজটি আমাদের আগে করতে হবে।’


ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ঝঙ্কারের সামনে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবারের বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজকও তারা। তবে সেসব ছাড়িয়ে দুই দলের লড়াইটা এখন সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখার। সুপার এইটে ইতোমধ্যেই দুটি করে ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড আর যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের শেষ ম্যাচে বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত সাড়ে ৮টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। বাংলাদেশ বেতার খেলার সরাসরি ধারাবিবরণী সম্প্রচার করবে।

টি-টোয়েন্টিতে এবারই প্রথম নিজেদের বিপক্ষে খেলতে নামবে ইংল্যান্ড আর যুক্তরাষ্ট্র। তাই মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই কাউকেই। তবে শক্তির বিচার, ক্রিকেটারদের প্রোফাইল-পরিসংখ্যান-অভিজ্ঞতা কিংবা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স; সবদিক থেকেই এগিয়ে থাকবে ইংলিশরা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। বড় ম্যাচের চাপ নেওয়ার অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ তারা।

ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন বর্তমানে বেশ ছন্দে আছে। দায়িত্ব নিয়ে খেলার সামর্থ্যও আছে তাদের। টপঅর্ডারে ফিল সল্ট, জস বাটলার, জনি বেয়ারস্টোরা নিজেদের দিনে বিশ্বসেরা। মিডল অর্ডারে মঈন আলি কিছুটা ভুগলেও হ্যারি ব্রোক, লিয়াম লিভিস্টোনরা আছে দারুণ ছন্দে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল তারা।

বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের এখন বড় ভরসার নাম লেগস্পিনার আদিল রশিদ। এবারের বিশ্বকাপে নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিপক্ষের রান আটকে চাপ তৈরি করে উইকেট আদায়ের কাজটা তিনি বেশ ভালো করতে পারেন। রিচ টপলি, জোফরা আর্চার, স্যাম কারেনরা বিশ্ব সমাদৃত বোলার। সুতরাং এখানেও ইংলিশদের আধিপত্য বেশ।

সুপার এইটের দুই ম্যাচেই তাণ্ডব চালিয়েছে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। প্রথম ম্যাচে টপঅর্ডার আর দ্বিতীয় ম্যাচে মিডল অর্ডাররা। তৃতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকেও মুখোমুখি হতে হবে এমন কিছুর। সেখানে খুব একটা সুবিধা করার কথা নয় যুক্তরাষ্ট্রের।

সুপার এইটে এখন পর্যন্ত ২টি করে ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে এক ম্যাচ জিতেছে ইংলিশরা। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেও দ্বিতীয় ম্যাচে ধরাশায়ী হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। অন্যদিকে দুই ম্যাচের দুটিতেই পরাজিত হওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপপর্বে চমক দেখালেও, সুপার এইটে নিজেদের সেরাটা দিতে পারছে না তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৮ রানে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। তবে শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র।

সুপার এইটের দুই ম্যাচের একটিতে হেরে যাওয়ায় সেমির দৌড়ে ভালোভাবে টিকে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই ইংল্যান্ডের। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতলে ও অন্য ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারলে সেমির টিকিট পাবে ইংলিশরাই।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে গেলেও সেমির সুযোগ থাকবে ইংল্যান্ডের। সেক্ষেত্রে যেতে হবে জটিল সমীকরণে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হারতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তখন রান রেটে এগিয়ে থাকলে সেমিতে খেলার সুযোগ থাকছে ইংল্যান্ডের। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান রেট ১.৮১৪, ইংল্যান্ডের ০.৪১২ ও যুক্তরাষ্টের -২.৯০৮।

আবার যদি গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পায়, তখন দক্ষিণ আফ্রিকাসহ এই তিন দলের রান রেট বিবেচনা করা হবে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ৪ পয়েন্টের সঙ্গে ০.৬২৫ রান রেট প্রোটিয়াদের। তাই শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে কেউ হারলেই সেমির টিকিট পেয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছে না ইংল্যান্ড। ওপেনার ফিল সল্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই আমাদের। এ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে দল। যাতে রান রেটও বাড়িয়ে নেওয়া যায়। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা আমাদের।’

সেমিফাইনালের আশা ছাড়ছে না যুক্তরাষ্ট্রও, জয়ের জন্যই মাঠে নামবে তারা। দলের ওপেনার আন্দ্রিস গাউস বলেন, ‘শেষ ম্যাচে জিতলেও সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা থাকবে আমাদের। যদি রান রেট ভালো থাকে। কিন্তু আগে জিততে হবে। আমাদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। তার পরও অন্যান্য ম্যাচের মতো আমরা এবারও জয়ের জন্যই মাঠে নামব।’


ভারতের আত্মবিশ্বাসের অনুরণন ভাঙতে হবে বাংলাদেশকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

ইতিহাস বলে ২২ গজে যতবারই মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ আর ভারত, ততবারই ছড়িয়েছে উত্তেজনার পারদ। মাঠের খেলায় রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় অনেকটা রাইভাল দলে পরিণত হয়েছে এখন বাংলাদেশ-ভারত। মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গ্যালারি থেকে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে। দুই দলের সমর্থকরা মেতে উঠেছে উন্মাদনায়। এমন আরেকটি দিন কাল। বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ আর ভারত। অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি সম্প্রচার করবে।

উত্তেজনা ছাড়িয়ে এ ম্যাচে বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য থাকবে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখা। ভারতের বিপক্ষে হোঁচট খেলেই বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যাবে টাইগারদের। তাই এ ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র লক্ষ্যই থাকবে জয় এবং জয়। তবে সেটি যে সহজ হবে না, সেটার জানান দেয় দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স।

দীর্ঘদিন ধরেই ব্যর্থতার চাদরে মোড়ানো টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও চলমান ছিল ব্যর্থতার সেই ধারা। ফলে হার দিয়েই শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সুপার এইট পর্ব। বিপরীতে দারুণ ছন্দে আছে ভারত। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবগুলোই জিতেছিল তারা। সেই ধারা ধরে রেখেছে সুপার এইটেও; প্রথম ম্যাচে আফগানদের হারিয়েছে বেশ বড় ব্যবধানেই। তাতে বেশ আত্মবিশ্বাসীই ভারত শিবির।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানও এগিয়ে রাখছে ভারতকেই। ক্রিকেটের এ সংক্ষিপ্ত সংস্করণে একে অপরের বিপক্ষে ১৩ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ-ভারত। এর মধ্যে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে টাইগাররা। বিশ্বকাপে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারবার দেখা হয়েছে দুই দলের। সব ম্যাচই জিতেছে টিম ইন্ডিয়া।

এ ম্যাচে দুই দলের জন্যই বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়াবে ক্লান্তি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় পরে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। টাইগারদের চেয়ে একটু বেশি সময় পেয়েছে ভারত। কিন্তু এক জায়গায় পিছিয়ে তারা। ভ্রমণের ক্লান্তি পোহাতে হবে ভারতকে। দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে বার্বাডোজ থেকে অ্যান্টিগায় আসতে হবে তাদের। কিন্তু ভেন্যু পরিবর্তন বা ভ্রমণ করতে হবে না টাইগারদের।

একে তো ফর্মহীনতায় ভুগছে বাংলাদেশ; তার ওপর ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ইতোমধ্যেই ডেথ ওভার কিংবা ইনিংসের শুরুর দিকে ভয়ংকর রূপ দেখাচ্ছে জাসপ্রিত বুমরাহ। স্লোয়ারে ব্যাটারদের নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছে হার্দিক পান্ডিয়া। নতুন বলে সুইংয়ের পসরা সাজিয়ে বসাচ্ছেন আর্শদ্বীপ সিং। স্পিনেও ভয়ংকর ভারত।

ব্যাটিংয়েও দুর্দান্ত ছন্দে টিম ইন্ডিয়া। সুরিয়া কুমার, রিশাব পান্থ, হার্দিক পান্ডিয়ারা দায়িত্ব নিচ্ছেন। সেটাকে ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছে রোহিত, কোহলিদের অভিজ্ঞতা। সবমিলিয়ে দারুণ ছন্দে টিম ইন্ডিয়া।

টপ অর্ডার ব্যাটাররা ফর্মে ফেরার পথে থাকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার ভালো সুযোগ এখনো আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

ভারতের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে বোলারদের। সেই সঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে ব্যাটারদেরও। বিশেষ করে পাওয়ার-প্লেকে কাজে লাগাতে হবে ভালোভাবে।


অদম্য অস্ট্রেলিয়ার হুমকি আফগানিস্তান

আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৪ ২২:০৩
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

এ মুহূর্তে বিশ্বক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য বেশ ভালোভাবেই জানান দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। একই বছরে আইসিসির দুটি শিরোপা ঘরে তুলে তাদের লক্ষ্য এখন তৃতীয় শিরোপার দিকে। সে লক্ষ্যে অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া। টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত অজিরা। অন্যদিকে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত করেছে আফগানিস্তান। এবারের বিশ্বকাপেও দারুণ শুরু পেয়েছিলেন তারা। এবার অস্ট্রেলিয়া জয়রথকে থামিয়ে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্য রশিদ খানের দলের। লক্ষ্য পূরণে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভেলতে রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় মাঠে নামবে দুই দল। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি সম্প্রচার করবে।

গ্রুপ পর্বে দারুণ শুরু করেছিল আফগানিস্তান; কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে সেই ছন্দ হারিয়ে খুঁজছে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেও একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে আফগানদের। তবে এ দুই ম্যাচেই তাদের ব্যর্থতার বড় কারণ ব্যাটারদের রান না পাওয়া।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবগুলোই জিতেছে তারা। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করেছে অজিরা। জয়ের ধারায় থাকা অস্ট্রেলিয়া বেশ আত্মবিশ্বাসী। আফগানদের হারাতে পারলেই সেমিফাইনালে এক দিয়ে রাখবে তারা।

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও এগিয়ে অস্ট্রেলিয়াই। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এই ফরম্যাটে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ম্যাচটি ৪ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

গ্রুপ পর্বে আফগানদের সফলতার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল দুই ওপেনারের। রহমানুল্লাহ গুরবাজ আর ইব্রাহিম জাদরান ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন দলকে। এরপর বোলাররা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে সে রকম কিছু করতে পারেননি তারা। ফলে ব্যর্থ হয়েছে আফগানিস্তানও। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে হলে দায়িত্ব নিতে হবে তাদের।

তবে বোলিংয়ে সেরা ছন্দে আছে আফগানিস্তান। বিশেষ করে আফগান পেসার ফজল হক ফারুকি। এবারের বিশ্বকাপের সেরা উইকেট শিকারি তিনি। ঝুলিতে পুরেছেন ১৫টি উইকেট। নতুন বলে দুর্দান্ত ফারুকি ডেথ ওভারেও ভয়ংকর। আফগানদের পোস্টারবয় রশিদ খান তো আছেই। ব্যাটাররা একটু ভালো করতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে আফগানরা।

অন্যদিকে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই সেরা সময় পার করছে অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড ওয়ার্নার আর ট্রাভিস হেডের উদ্বোধনী জুটি যেকোনো দলের জন্যই ভয়ংকর। টুর্নামেন্টজুড়েই ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে তারা। পাওয়ার-প্লেকে কাজে লাগিয়ে ভালো শুরু এনে দিচ্ছেন। আর সেটা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বাকি ব্যাটাররা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মিচেল মার্শ, মার্কাস স্টয়নিচ, টিম ডেভিড, ম্যাথিউ ওয়েডদের নিয়ে গড়া লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ অজিদের।

বোলিং আক্রমণে যেকোনো দলের জন্যই হুমকি জস হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, মার্কাস স্টয়নিচ, মিচেল মার্শ, অ্যাডাম জাম্পাদের নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ। ধ্বংসলীলা চালানোর সক্ষমতা আছে তাদের। নতুন বলে মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউডরা গতির সঙ্গে সুইং দিয়ে ভরকে দেন ব্যাটারদের। সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে আফগান ব্যাটারদের।


ব্যাটিং-বোলিংয়ের উত্তাল এবং তাণ্ডবলীলা চালাবে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

গ্রুপ পর্বে দুই দলের অবস্থান ছিল মেরুর দুই প্রান্তে। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবগুলোই জিতে সুপার এইটে কোয়ালিফাই করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে বিদায়-শঙ্কা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত সুপার এইট নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। তবে সুপার এইট পর্ব জয় দিয়েই শুরু করেছে দুই দল। লক্ষ্য এবার দ্বিতীয় জয়ের উৎসবে মেতে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যেই আগামীকাল শুক্রবার মুখোমুখি হবে সাদা বলের ক্রিকেটের দুই ভয়ংকর দল দক্ষিণ আফ্রিকা আর ইংল্যান্ড। সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এবারের বিশ্বকাপে যে আরেকটা ক্রিকেট মহারণ দেখতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ২২ গজে উত্তাপ ছড়াবে ইংলিশ আর প্রোটিয়ারা। মাঠের লড়াইয়ের ঝাঁজটা ভেসে আসবে গ্যালারি থেকে টেলিভিশন সেটের সামনে।

সাদা বলের ক্রিকেটে; বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিধ্বংসী ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দলই। নিজেদের দিনে যেকোনো বোলারদের তুলোধোনা করার সক্ষমতা রাখে তারা। সেসব প্রমাণ মিলেছে অহরহ। এবারের বিশ্বকাপেও দেখা মিলেছে তার কিছুটা ঝলক। তাই স্পষ্ট করে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই কোনো দলকেই।

ফিল সল্ট, জস বাটলার, জনি বেয়ারস্টো, মঈন আলি, হ্যারি ব্রোক, লিয়াম লিভিংস্টোনদের নিয়ে গড়া ইংলিশ ব্যাটিং লাইন যেমন শক্তিশালী, তেমনি বেশ লম্বাও। জোফরা আর্চার, স্যাম কারেন, মার্ক উড, রিচ টপলিদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ যেকোনো দলের জন্য আতঙ্কের কারণ হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন কন্ডিশনে অধিনায়কের ভরসার হাতকে শক্ত করবে আদিল রশিদ, মঈন আলি, লিয়াম লিভিংস্টোনরা। সুতরাং ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই বেশ শক্তিশালী ইংলিশরা।

কুইন্টন ডি কক, রেজা হেন্ডরিক্স, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, হেনরি ক্লাসেন, ট্রিস্তান স্টাবস, মার্কো ইয়ানসেন প্রত্যেকেই বড় শট খেলার এবং ম্যাচের মোড় ঘোরানোর সক্ষমতা রাখে। ইতোমধ্যেই নিজেদের সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে অনেকবার। প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ের গভীরতাও বেশ বড়। কাগিসো রাবাদা, মার্কো ইয়ানসেন, আনরিখ নরকিয়াদের নিয়ে গড়া প্রোটিয়াদের পেস আক্রমণ গুঁড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো ব্যাটিং লাইনকে। আর স্পিনে ভরসার প্রতীক হবেন কেশাব মাহারাজ, তাবরিজ শামসি, এইডেন মার্করামরা।

তবে ইংল্যান্ডের চেয়ে একটা জায়গায় কিছুটা পিছিয়ে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলে অতিরিক্ত অলরাউন্ডার খেলায় বোলিং ইনিংসে যতটা অপশন পাবেন ইংলিশ অধিনায়ক জশ বাটলার, ঠিক ততটা পাবেন না প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম।

মুখোমুখি দেখায়ও লড়াইয়ের ঝাঁজটা দেখা যায় সমানে সমান। এখন পর্যন্ত ২৫ বারের দেখায় সমান ১২টি করে ম্যাচ জিতেছে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে টি-টোয়েন্টির বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি পরিসংখ্যান কথা বলছে প্রোটিয়াদের পক্ষেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ বারের দেখায় ৪টিতে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিপরীতে ২টিতে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পরিসংখ্যানই সব নয়। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও বড় একটি প্রভাব রাখে। সেখানেও কেউ কাউকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়েছে ইংলিশরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেওয়া ১৮১ রানের টার্গেট ১৫ বল বাকি থাকতে স্পর্শ করে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৮ রানে হারায় প্রোটিয়ারা। ওপেনার কুইন্টন ডি ককের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান করে তারা। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬ উইকেটে ১৭৬ রানের বেশি করতে দেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। তাই দলই আত্মবিশ্বাসী জয় নিয়ে।

টানা দ্বিতীয় জয়ে চোখ রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার কথা জানান ইংলিশ অধিনায়ক বাটলার, ‘প্রথম ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। আশা করি, এই পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকবে। টানা দ্বিতীয় জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব আমরা।’

একই লক্ষ্যের কথা জানালেন প্রোটিয়া অধিনায়ক মার্করামও, ‘গ্রুপ পর্বে আমরা সব ম্যাচ জিতেছি। সুপার এইটেও জয় দিয়ে শুরু করেছি। আমাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামব।’


ক্যারিবীয়দের ধ্রুব ব্যাটিং প্রতিরোধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

ক্রিকেটের মারকাটারি সংস্করণের বিশ্বযুদ্ধের এবারের আসর বসেছে মার্কিন মুল্লুক আর ক্যরিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে। বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই দেশই। সুপার এইটও নিশ্চিত করেছে তারা। কিন্তু বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বের শুরুটা তাদের ভালো হয়নি। দুই দলই হেরেছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয়ের খোঁজে একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামবে। শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি সম্প্রচার করবে।

বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ায় গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই তারা খেলেছে নিজ নিজ দেশে। আর এতে বেশ চমকও দেখিয়েছে তারা। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে সুপার এইটে জায়গা করে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে পা ফসকে হেরেছে দুই দলই।

প্রথম ম্যাচে ১৮০ রানের পুঁজি দাঁড় করিয়ে ১৫ বল বাকি থাকতেই ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্যদিকে ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেমেছিল ১৭৬ রানে।

এবারই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইতোমধ্যে ওয়ানডে ফরম্যাটে একবার দেখা হয়েছে দুই দলের। সেখানে অবশ্য জয়ের পাল্লা ভারী ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩৯ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শক্তির বিচারে যে কেউ বাজি রাখবে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের পক্ষেই। বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চমক দেখালেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এ সংস্করণে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নও ক্যারিবীয়রা। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও কথা বলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারার আগে টানা আট ম্যাচে অপরাজিত ছিল তারা। এ ম্যাচটিও হবে ক্যারিবিয়ানদের ঘরের মাঠেই। যে মাঠের নাড়ি-নক্ষত্র সবই জানা রোভম্যান পাওয়েলদের। সবকিছুই কথা বলছে তাদের পক্ষে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এ ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো ছন্দে আছে যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে হারানোর পর চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তাদের বড় শক্তির জায়গা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা। এবং পুরো দলের শারীরিক এবং মানসিক নিবেদন। তাই আরেকটি চমক তারা দেখালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

এ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংয়ের ইনজুরি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি মাঠ ছেড়েছিলেন সাইডস্টেনের ইনজুরি নিয়ে।

ব্র্যান্ডন কিং ইনজুরিতে থাকলেও ছন্দে আছেন দলের বাকি ব্যাটাররা। নিকোলাস পুরান, জনসন চার্লস, আন্দ্রে রাসেল, শেরফান রাদারফোর্ডরা নিজেদের দিনে একাই ম্যাচ বের করে আনতে পারে। বোলিংয়েও যথেষ্ট শক্তিশালী ক্যারিবীয়রা। তবে তাদের বড় শক্তির জায়গা অলরাউন্ডাররা।

শেষ ম্যাচে বোলিংয়ে ছন্নছাড়া ছিল ক্যারিবীয়রা। এ বিভাগেও উন্নতির ছোঁয়া লাগাতে পারেন ড্যারেন সামির শিষ্যরা। পাশাপাশি মনোযোগী হতে হবে ফিল্ডিংয়েও। তাহলেই ধরা দিতে পারে প্রথম জয়।


অস্ট্রেলিয়ার রণহুংকারের জবাব চোখে চোখ রেখে দিতে পারে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

প্রথমবারের মতো ২০ দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্রিকেটের মারকাটারি সংস্কৃরণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০ দলের সেই লড়াই এখন নেমে এসেছে ৮ দলে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে আরও বাড়ছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। শেষ আটের সবগুলো দলেরই লক্ষ্য এখন সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন পরে দ্বিতীয় পর্বে খেলা বাংলাদেশও আছে সেই লক্ষ্য পূরণের অপেক্ষায়। সে জন্য অবশ্য টাইগারদের দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ মাইটি অস্ট্রেলিয়া। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টায় ডেভিড ওয়ার্নারদের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। এন্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দুই মহাদেশের দুই দলের লড়াই। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি সম্প্রচার করবে।

শক্তির বিচার, অতীত পরিসংখ্যান কিংবা কাগজে-কলমের হিসাবে দুই দলের লড়াইটা অসমান। র‌্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ আছে ৭ ধাপ পিছিয়ে ৯ নম্বরে। মুখোমুখি দেখায়ও এগিয়ে অস্ট্রেলিয়াই। ১০ দেখায় অজিদের জয় ৬ ম্যাচে। বাকি চার ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। সেটিও ঘরের মাঠে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে। বিশ্বকাপে চারবার দেখা হয়েছিল বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়ার। সেখানে সবগুলো জয়ই লেখা আছে অস্ট্রেলিয়ার খাতায়।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই নিজেদের সেরা সময় পার করছেন অজি ক্রিকেটাররা। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবগুলোই জয়ে রাঙিয়েছে অজিরা। প্রথম ম্যাচে ওমানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেন ডেভিড ওয়ার্নাররা। এরপর ইংল্যান্ডকে হারায় ৩৬ রানে। তৃতীয় ম্যাচে রীতিমতো তাণ্ডব চালায় নামবিয়ার বিপক্ষে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে তারা।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪ রানে হারলেও শেষ দুই ম্যাচে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস আর নেপালকে। তিন ম্যাচ জিতে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ দুই ম্যাচ খেলেছে যুক্তরাষ্ট্রে আর দুই ম্যাচ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। তবে চার ম্যাচেই উইকেটের আচরণ ব্যাটিং সহায়ক ছিল না।

গ্রুপ পর্ব পাড়ি দিতে বাংলাদেশের ত্রাণকর্তা ছিল বোলাররাই। প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে রেখেছে অল্প রানেই। পেস এবং স্পিন দুই বিভাগেই সমানতালে দেখিয়েছে নিজেদের দক্ষতা। মুস্তাফিজ-তাসকিন-সাকিবদের পেসের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং সাম্রাজ্যে হানা দিয়েছেন তরুণ লেগস্পিনার রিশাদ হোসাইন। এ ম্যাচেও গুরুদায়িত্ব থাকবে তাদের ওপরই।

তবে শুধু বোলিং দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। সে জন্য জ্বলে উঠতে হবে ব্যাটারদেরও, সঙ্গে ফিল্ডিংয়েও রাখতে হবে বাড়তি নজর। কিন্তু বাংলাদেশের চিন্তার বিষয় এই জায়গাতেই। দীর্ঘদিন ধরেই ফর্মে নেই বাংলাদেশের টপঅর্ডার ব্যাটাররা। প্রতি ম্যাচেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। রান পাচ্ছেন না লিটন, নাজমুল শান্তরা। সেই দলেই যোগ দিয়েছেন তানজিদ তামিমও। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের সামনে দায়িত্ব নিতে হবে তাদেরও। নতুবা জয়ের আশা ফিকে হয়ে যাবে টাইগারদের।

তবে বাংলাদেশের জন্য সুখবর হলো, অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের রানে ফেরা আর বোলারদের লড়াইয়ের মানসিকতা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশকে জিততে হলে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে।

অন্যদিকে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিংয়ে ভয়ংকর রূপ দেখাচ্ছে ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, মার্কাস স্টয়নিসরা। বিশেষ করে উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ার প্লেকে কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দারুণ শুরু এনে দিচ্ছে ডেভিড ওয়ার্নার আর ট্রাভিস হেড। এরপর বাকি ব্যাটাররা সেই ধারা অব্যাহত রাখছেন। এতেই দলের স্কোর বড় হচ্ছে।

বোলিংয়েও ভয়ংকর অজি পেসাররা। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউডরা দেখাচ্ছেন তাদের গতির দ্যুতি। মার্কাস স্টয়নিসের ভ্যারিয়েশনের সঙ্গে জাম্পার স্পিন পথ দেখাচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে।


বিশ্বজয়ী ভারতের সামনে চমক দেখানো আফগানিস্তান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জমজমাট লড়াই এখন প্রায় শেষদিকে। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ব্যাট-বলের লড়াইটা জমবে এবার ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে। গ্রুপ পর্ব শেষে সেরা আট দলের লক্ষ্য এখন সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ভারত আর আফগানিস্তান। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় মাঠে নামবে দুই দল। বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি সম্প্রচার করবে।

এশিয়ার ক্রিকেটের নতুন শক্তি আফগানিস্তান। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ইতোমধ্যেই। বড় দলগুলোকে হারানোর সুখস্মৃতিও আছে তাদের ঝুলিতে। সাদা বলের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আফগানরা লড়াইটা করে চোখে চোখ রেখে। যেকোনো দলকে চমকে দেওয়ার ব্যাটিং-বোলিং সামর্থ্য আছে তাদের। অন্যদিকে এশিয়ার ক্রিকেট তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম শক্তিশালী দল ভারত। শোকেসে আছে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেরই বিশ্বজয়ের ট্রফি। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই দুর্দান্ত রোহিত শর্মারা।

গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্মে ছিল দুই দলই। এ-গ্রুপে চার ম্যাচের সবগুলোতেই জয়ের উৎসব করেছিল ভারত। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে রোহিত শর্মার দল। পরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১৯ রানের পুঁজি নিয়েও ৬ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ জয়ের পর নিজেদের তৃতীয় খেলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করে ভারত। কানাডার বিপক্ষে ভারতের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। এতে ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে টিম ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে এ-গ্রুপে উগান্ডাকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে আফগানিস্তান। পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চমক দেয় আফগানরা। তৃতীয় ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করে রশিদ খানের দল। অবশ্য শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৪ রানে হেরে গ্রুপ রানার্স আপ হয় আফগানিস্তান।

গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়কের রহস্যময় উইকেটে খেলেছে ভারত। এবার সুপার এইটের ম্যাচগুলো খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে চার দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বার্বাডোজে পৌঁছায় ভারতীয় দল। সেখানকার উইকেট এবং আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা। তবে এদিক থেকে এগিয়ে থাকবে আফগানিস্তান। গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই তারা খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। তাই সেখানকার আবহাওয়া এবং কন্ডিশনের সঙ্গে ইতোমধ্যেই বেশ পরিচিত তারা। যেটা তাদের একটু বাড়তি সুবিধা দেবে এ ম্যাচে।

গ্রুপ পর্বে ব্যাট-বল হাতে দারুণ পারফর্ম করেছে ভারত। বিশেষভাবে বোলারদের পারফম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৯৬ রানে গুটিয়ে দেয় ভারতীয় বোলাররা। পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে ১২০ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়ে বাবর-রিজওয়ানদের ১১৩ রানে আটকে দেয় জসপ্রিত বুমরাহ-হার্দিক পান্ডিয়ারা।

বোলাররা ভালো করলেও ব্যাটিংয়ে ভারতের একমাত্র চিন্তার কারণ বিরাট কোহলির অফফর্ম। তিন ইনিংসে কোহলির রান যথাক্রমে ১, ৪ ও ০। তবে দলের সেরা ব্যাটারের এমন ফর্ম নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশনে ভারতকে টেনে নিয়ে গেছে পেসাররা। যুক্তরাষ্ট্রের কন্ডিশনই এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে বুমরাহ-আর্শদীপদের। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশন কিছুটা স্পিন সহায়ক। তাই কন্ডিশন বিবেচনায় এ ম্যাচে পরিবর্তন আসতে পারে ভারতের একাদশে। সে ক্ষেত্রে গ্রুপ পর্বে অপেক্ষমাণ ম্লান থাকা মোহাম্মদ সিরাজ কাটা পড়তে পারেন। হার্দিক পান্ডিয়ার দুর্দান্ত ফর্ম পেস বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে না। স্পিন কন্ডিশনকে মাথায় রেখে দলে যুক্ত হতে পারেন কুলদীপ যাদব আর অক্ষর প্যাটেল অথবা রবীন্দ্র জাদেজার একজন।

অন্যদিকে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে আছে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি। উগান্ডা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতরানের জুটি গড়েন দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। এখন পর্যন্ত ৪ ইনিংসে গুরবাজ ১৬৭ ও জাদরান ১৫২ রান করেছেন। চলতি বিশ্বকাপের এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও গুরবাজ।

বোলিংয়েও সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন আফগানিস্তানের পেসার ফজল হক ফারুকি। ৪ ইনিংসে ৮০ রানে ১২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। উগান্ডার বিপক্ষে ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন ফারুকি। রশিদ খানও তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন ভালোভাবেই।

তাই ভারতকে যে ভালোভাবেই চ্যালেঞ্জ জানাবে আফগানিস্তান সেটা বোঝার বাকি নেই।


সুপার এইটে বাংলাদেশ: ঈদে ডাবল আনন্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

এ যেনো ডাবল আনন্দ।আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। এমন উৎসবের দিনে দেশবাসীর আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নেপালকে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। 'ডি' গ্রুপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পর সুপার এইটে গেল চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। বাংলাদেশ ২১ রানে জয়ী হয় আজকের ঈদের দিনে।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাটাররা খুব বড় পুঁজি এনে দিতে পারেননি। কিন্তু এমন উইকেটে সেটাই ছিল যথেষ্ট! শুরুতে বল হাতে দাপট দেখালেন তানজিম হাসান সাকিব।

শেষের কাজটা সুনিপুণভাবে করেন মোস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান। তাতে নিশ্চিত হয়ে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সুপার এইটে খেলা। আর্নস ভ্যালে স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১০৬ রানের পুঁজি নিয়েও নেপালকে ২১ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। নেপালের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়ার নায়ক তানজিম। ডানহাতি এই পেসারকে দিয়ে ৪ ওভারের টানা স্পেল করান বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিমও তাকে হতাশ করেননি। ২ মেডেনসহ স্রেফ ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি।

নেপালকে আটকাতে হলে শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করতে হতো। যদিও প্রথম দুই ওভারে কোনো উইকেট পায়নি। তবে তৃতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হানেন তানজিম হাসান সাকিব। দ্বিতীয় বলে কুশল ভুর্তলকে ফুলটস ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ডানহাতি এই পেসার। তার চতুর্থ বলটি মিডঅফের ওপর দিয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন অনিল শাহ। কিন্তু ধরা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। ডাবল উইকেটের ওভারটি তানজিম শেষ করেন মেডেন দিয়ে।

চতুর্থ ওভারে অবশ্য খরুচে ছিলেন তাসকিন। ১১ রান খরচ করেন তিনি। তবে পঞ্চম ওভারে এসে নেপালের অধিনায়ক রোহিত পৌড়েলের উইকেট তুলে নেন তানজিম। এর আগে যদিও দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় দুজনের মধ্যে। সেই রেশ টিকল না খুব বেশিক্ষণ। তানজিমের বলে পয়েন্টে থাকা রিশাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১ রান করা রোহিত।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আসিফ শেখকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। আর নিজের শেষ ওভারের শেষ বলে সন্দ্বীপ জরাকে শিকার করেন তানজিম। রোহিতের মতো সন্দ্বীপও ধরা পড়েন পয়েন্টে থাকা রিশাদের হাতে।

বিপর্যয়ে থাকা নেপালের এরপর হাল ধরেন কুশল মল্লা ও দীপেন্দ্র সিং ঐরী। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে পঞ্চম উইকেটে ৫২ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন তারা। সেই জুটি ভাঙে শান্তর হাতে এসে। ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে মল্লার (২৭) দারুণ এক ক্যাচ নেন তিনি। পরের ওভারে গুলশান ঝাকে ফেরান তাসকিন। ১৯তম ওভারে এসে কোনো রানই দেননি মোস্তাফিজ। একইসঙ্গে শেষ বলে শিকার করেন ২৫ রান করা দীপেন্দ্রর উইকেট। ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ৭ রান খরচে ২ উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার। শেষ ওভারে এসে প্রথম দুই বলেই দুই উইকেট নেপালের ৮৫ রানে ইনিংসের ইতি ঘটান সাকিব।

ডি গ্রুপ থেকে এর আগে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের সঙ্গী হতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সম্পাল কামির বাউন্সার ডাউন দ্য উইকেটে এসে পুল করতে যান তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু টাইমিং ঠিকঠাক হয়নি, বোলারের কাছেই ক্যাচ দেন তিনি। প্রথম ওভার থেকে আসে স্রেফ ৩ রান।

দ্বিতীয় ওভারেও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এবার বোল্ড হয়ে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দীপেন্দ্র সিংয়ের বলে আউট হওয়ার আগে ৫ বলে ৪ রান করেন তিনি।

মাঝে দুই ওভার বাদ দিয়ে আবার উইকেট এনে দেন সম্পাল। নিজের তৃতীয় ওভারে এসে লিটন দাসকে ফেরান তিনি। তার বলে পুল করতে গিয়ে আসিফ শেখের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। ১২ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

পাওয়ার প্লের আগেই তাওহীদ হৃদয়কেও হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। রোহিত পোডেলকে সুইপ করতে গেলে বল বাতাসে ভেসে যায়। হৃদয়ের দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন সন্দীপ লামিচানে। ৭ বলে ৯ রান করে আউট হন হৃদয়।

পাওয়ার প্লেতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের জুটিটিই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় ভরসা। দুজন মিলে দলকে দিচ্ছিলেন ভালো কিছুর বার্তাও। কিন্তু হুট করেই ফের ঘটে ছন্দপতন!

কিন্তু ২০ বলে দুজনের ২২ রানের জুটি ভাঙে হতাশার রান আউটে। সাকিব আল হাসান ফুলটস বল পাঠিয়েছিলেন এক্সট্রা কাভারে। দৌড়ও শুরু করেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ তার মনে হয় বলের কাছাকাছি আছেন ফিল্ডার। সাকিব ফেরত পাঠান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। কিন্তু তিনি ফেরার আগেই নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভাঙে। ১৩ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরত যান রিয়াদ।

তার আউট হওয়ার পর মাথায় হাত দিয়ে হতাশায় বসে পড়েন সাকিব। কিন্তু এরপর নিজেও দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস টানতে পারেননি। রোহিত পোডেলের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ২২ বলে ১৭ রান করেন সাকিব। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।

১৪তম ওভারের প্রথম বলে সন্দীপ লামিচানে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তানজিম হাসান সাকিবকে। রিভিউ নিয়ে ওই বলে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু পরের বলে আরও এক গুগলিতে বোল্ড হয়ে যান ৫ বলে ৩ রান করে।

এরপর বাংলাদেশের জন্য শেষ ভরসা ছিলেন জাকের আলি। অনেকগুলো বলও খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু জাকেরও লামিচানের গুগলি না বুঝতে পেরে বোল্ড হয়ে যান। ২৬ বল খেলে ১২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

তার বিদায়ের পর রিশাদ একটু আশা জাগিয়েছিলেন। কুশল ব্রুথালকে ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা ও দ্বিতীয়টিতে চার হাঁকান তিনি। ওই ওভার থেকে আসে ১৩ রান। কিন্তু পরের ওভারের প্রথম বলেই লং অফে ক্যাচ দেন রিশাদ।

বাংলাদেশের একশ রানের আশাও তখন মনে হচ্ছিল দূরের কল্পনা। তবে শেষ উইকেট জুটিতে মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ ১৪ বলে ১৮ রান করলে একশ ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ। ‍তৃতীয় বলে মোস্তাফিজ রান আউট হলে জুটি ভাঙে। ১৫ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন তাসকিন। নেপালের হয়ে দুই উইকেট করে নেন সম্পাল, লামিচানে, রোহিত ও দীপেন্দ্র।

ব্যাটারদের ব্যর্থতাকে ঢেকে দিয়ে শেষ পর্যন্ত আলো ছড়ালেন বোলাররা। যার ফলে প্রথম আসরের পর আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলার সুযোগ পেল বাংলাদেশ। ঈদের দিনে এমন বাড়তি আনন্দই তো চেয়েছিলেন সমর্থকরা।

কিংস্টনে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভার ৩ বলে ১০৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন সাকিব আল হাসান। জবাবে খেলতে নেমে ১৯ ওভার ২ বলে ৮৫ রানে অলআউট হয় নেপাল।


ওয়েস্ট ইন্ডিজে ঈদ পালন করলেন সাকিব-মুস্তাফিজরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এখন অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেন্ট ভিনসেন্টেই পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

ঈদের দিন নামাজ আদায় শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করেছেন ক্রিকেটারদের একাংশ। মাতৃভূমি থেকে অনেক মাইল দূরে সতীর্দের সঙ্গেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন তারা। সেখানে হাস্যউজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে সাকিব আল হাসান-মুস্তাফিজুর রহমানদের।

অবশ্য খুব একটা বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না ক্রিকেটাররা। কেননা আগামীকাল ভোরেই নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে টাইগারদের। এই ম্যাচে জয় পেলেই সুপার এইট নিশ্চিত হবে তাদের। তাই সেরাটাই দিতে চাইবেন সবাই।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাচ শেষে অবশ্য সাকিব আল হাসান জানিয়েছিলেন, নেপালকে হারিয়ে দেশবাসীকে ঈদের আনন্দ উপহার দিতে চান। এখন দেখার বিষয় মাঠের খেলায় বাংলাদেশ দল সেটা প্রমাণ করতে পারে কি না।


রোমাঞ্চেভরা খেলায় শেষ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা সেটা দেখা গেল আরেকবার। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপ সেটার প্রমাণ দিচ্ছে বারবারই। বিশ্ব ক্রিকেটে নেপাল এখনো শিশু; অন্যদিকে সেই বয়স পেরিয়ে কৈশর-যৌবন ছাড়িয়ে এখন বৃদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা। মাঠে নামার আগে তাই সবার চোখেই একক ফেবারিট ছিল প্রোটিয়ারাই। কিন্তু মাঠের খেলায় তাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিল নেপাল। ইতিহাস গড়ার খুব কাছে গিয়েও ফিরেছে খালি হাতে। মাত্র এক রানের হারে মন ভেঙেছে নেপালিদের। মনে মনে এখন তারা আওড়াতেই পারে- এত কাছে আছ তুমি, তবু কেন দূরে মনে হয়।

অন্যদিকে ‘ডি’ গ্রুপে টানা চার জয় দিয়েই গ্রুপপর্ব শেষ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হেসে-খেলে হারিয়েছিল তারা। কিন্তু পরের তিন ম্যাচেই কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে প্রোটিয়ারা। শেষ দুই ম্যাচে তো হারতে হারতেই জিতে গেল তারা।

টি-টোয়েন্টিতে এর আগে কখনোই সাক্ষাৎ হয়নি এই দুই দলের। সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভ্যালে স্টেডিয়ামে প্রথম সাক্ষাতে নেপালকে ১ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রোটিয়াদের মাত্র ১১৫ রানে আটকে দেয় নেপাল। শেষ ওভারের শেষ বলে ২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি নেপাল; থেমেছে ১১৪ রানে। তিন ম্যাচে দ্বিতীয় পরাজয়ে নেপালের বিদায়ও নিশ্চিত হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের পাল্লা ঝুঁকে ছিল নেপালের দিকে। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল দুই রান। বার্টম্যানের বল ব্যাটে না লাগলেও স্ট্রাইকে থাকা গুলশান ঝা দৌড় শুরু করলেন। তখন বল নিয়েই থ্রো করেছিলেন কুইন্টন ডি কক। বলটি গিয়ে গুলশানের পিঠে লাগলে সেটা পেয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন ক্লাসেন।

১৭ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে এককভাবে এগিয়ে থাকা নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটা জমিয়ে তোলে প্রোটিয়া লেগ স্পিনার তাবরাইজ শামসি। তার স্পিন বিষেই নীল হয়েছে নেপাল। থিতু ব্যাটারদের ফিরিয়ে এশিয়ার দেশটির জয়ের স্বপ্নে ধুলিস্যাৎ করে দেন।

ম্যাচের ১৭ ওভার শেষে স্কোর ছিল ৯৮ রানে ৩ উইকেট। জয়ের জন্য ১৮ বলে প্রয়োজন ১৮ রান। পরের ওভারেই জোড়া আঘাতে নেপালকে বিপদে ফেলেন তাবরাইজ শামসি। তুলে নেন শুরু থেকে জয়ের পথ দেখানো আসিফ শেখ (৪২) ও দীপেন্দ্র সিং এইরির (৬) উইকেট। পরের ওভারে এনরিখ নরকিয়া মাল্লার (১) উইকেট নিলে থ্রিলারে পরিণত হয় ম্যাচ।

তবে সোম্পাল কামি নরকিয়াকে ছক্কা হাঁকিয়ে শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড় করায় ৮ রানের। সেই সমীকরণ বেশ ভালোভাবেই ডিফেন্ড করেছেন প্রোটিয়া বোলার বার্টম্যান। প্রথম দুই বল ডট দিয়ে চাপে ফেলে দেন নেপালকে। তৃতীয় বলে গুলশান ৪ মেরে সেটা কিছুটা দূর করেন। পরের বলে দুই রান নিয়ে জয়ের আরও কাছে চলে যায়। কিন্তু পঞ্চম বলে ডট দিয়ে শেষ বলের সমীকরণে দিশা হারিয়ে ফেলে নেপাল। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে তারা থামে ১১৪ রানে।

১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা শামসি। একটি করে নিয়েছেন আনরিখ নরকিয়া ও এইডেন মার্করাম। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে উইকেট হারানোর মিছিলে নাম লেখান দক্ষিণ আফ্রিকাও। এইডেন মার্করামও কাবু হয়েছেন নেপালের স্পিন ঘূর্ণিতেই। খোলস ছেড়ে বের হতে পারেননি কোনো ব্যাটারই। দলের পক্ষে ৪৯ বল থেকে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন রিজা হেনড্রিকস। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার এই রানের পেছনে বড় অবদান ছিল ট্রিস্টান স্টাবসেরও। শেষ দিকে ২ চার আর এক ছক্কায় ১৮ বল থেকে ২৭ রান করেন তিনি। নেপালের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন কুশল ভুর্তেল। এ ছাড়া বাকি তিন উইকেট নেন দীপেন্দ্র।


ঈদের আনন্দ ডাবল হতে পারে বাংলাদেশের জয়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। প্রস্তুত শেষ সমীকরণের মঞ্চও। নেপালের বিপক্ষে বড় অঘটন না ঘটলেই সুপার এইচে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ। ডি-গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভ্যালে স্টেডিয়ামে। যে মাঠে বাংলাদেশ নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল। খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

বিশ্বকাপের শুরুতে বাংলাদেশকে নিয়ে যতটা সমালোচনা হয়েছিল, তার সবটাই মিলিয়ে গেছে বিশ্বকাপে টাইগারদের পারফরম্যান্স দেখে। প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পরের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিততে জিততেও হেরে গিয়েছিল। অবশ্য সে ম্যাচে আম্পায়ারদেরও কিছুটা দায় ছিল। পরের ম্যাচেই আবারও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।

সবশেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সুপার এইটের আরও কাছে চলে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের এবারের আসরের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা টাইগারদের জন্য এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ ম্যাচে নেপালকে হারালেই সেই স্বপ্ন পূরণ হবে বাংলাদেশের। হারলেও সম্ভাবনা থাকবে কিন্তু তখন হিসাব মেলাতে হবে নেট রানরেটের। সেখানেও অবশ্য বাংলাদেশই এগিয়ে আছে। আর শেষ ম্যাচে যদি নেদারল্যান্ডস শ্রীলঙ্কার কাছে হারে তাহলে কোনো হিসাবই কষতে হবে না বাংলাদেশের।

নেপালের চেয়ে হিসাব-নিকাশে এগিয়েই আছে বাংলাদেশ। এবারের বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলে এখনো কোনো জয়ের দেখা পায়নি নেপালিরা। অন্যদিকে দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ আছে সুপার এইটের কাছে। শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারানোয় আরও আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা।

বাংলাদেশের চিন্তার একটাই কারণ ব্যাটিং সমস্যা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান রানে ফেরায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে টাইগার শিবির। কিন্তু লিটন-শান্তর অফফর্ম এখনো পুরোপুরি চিন্তামুক্ত করতে পারছে না। বিশেষ করে সুপার এইটের আগে অন্তত তাদের রানে ফেরাটা জরুরি।

বোলিংয়ে বাংলাদেশ যোজন যোজন এগিয়ে নেপালের চেয়ে। কারণ এই মুহূর্তে সেরা ছন্দে আছে বাংলাদেশের বোলাররা। গতির আগুন ঝড়াচ্ছে পেসার তাসকিন আহমেদ। তার সঙ্গে স্লোয়ার-বাউন্সারে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছে তানজিম হাসান সাকিব। স্পিনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণ লেগস্পিনার রিশাদ হোসাইন। তাকে সহযোগিতা করছে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। ফিল্ডিংয়েও অন্য সময়ের চেয়ে ভালো করছে টাইগাররা। চোখ রাঙানি দিচ্ছে প্রতিপক্ষকে। মাঠে জয়ের ক্ষুধার জানান দিচ্ছে শরীরি ভাষায়।

তবে নেপালকে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই; দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেটা করেছে সেটা দেখার পর অন্তত। প্রোটিয়া ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলেছিল নেপালি বোলাররা। আর্নস ভ্যালে স্টেডিয়ামে মাত্র ১১৫ রানেই আটকে দিয়েছিল প্রোটিয়াদের। পরে সেই রান তাড়া করে জয়ের কাছেও চলে গিয়েছিল তারা। কিন্তু নীল হয়েছে সেই স্পিন বিষেই। তাবরিজ শামসির এক ওভারেই সব এলোমেলো হয়ে গেছে তাদের। এক রানে হেরেছে নেপাল।

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস, নেপাল-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দেখে বোঝার বাকি নেই আর্নস ভ্যালে স্টেডিয়ামের আচরণ। স্পিনারদের সহায়তা করতে জুড়ি মেলা ভার তার। সেক্ষেত্রে এ ম্যাচেও বোলিংয়ে বাংলাদেশের কাণ্ডারি হতে পারেন রিশাদ হোসাইন। একাদশেও আসতে পারে পরিবর্তন। উইকেটের কথা চিন্তা করে, সেক্ষেত্রে বাদ পড়তে পারেন জাকির হোসাইন। তার বদলে দেখা যেতে পারে শেখ মাহেদীকে। এ ম্যাচে স্পিন আক্রমণে নেপাল যদি হয় কাটা। তবে বাংলাদেশ সেই কাটা দিয়েই বের করবে কাটা। বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচটি হবে ঈদের ভোরে। নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের ঈদের খুশিকে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। জয় দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করার লক্ষ্যই থাকবে টাইগারদের। অবশ্য বাংলাদেশকেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন নেপালের অধিনায়ক রোহিত পাডকৌল। বাংলাদেশকে হারিয়েই গ্রুপ পর্ব শেষ করতে চায় তারা।


অস্ট্রেলিয়ার কাছে স্কটল্যান্ডের পাত্তাই পাওয়ার কথা নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপের এবারের আসরের অন্যতম আলোচিত গ্রুপটি হলো ‘বি’। এর পেছনের বড় কারণ ইংল্যান্ডের বিদায়ের শঙ্কা। তাদের কাঁদিয়ে অনেকটা সুপার এইট নিশ্চিত করেই ফেলেছিল স্কটল্যান্ড। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সুপার এইটের লড়াই জমিয়ে তুলেছে ইংলিশরা। তবে এখনো সুযোগ আছে স্কটিশদের সামনে। সে জন্য অবশ্য তাদের দিতে হবে কঠিন পরীক্ষাই। রোববার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প নেই তাদের। সেই লক্ষ্যেই ভোর সাড়ে ৬টায় অজিদের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্কটল্যান্ড। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন সামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। খেলার চলতি ধারাবিবরণী সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

বিশ্বকাপের শুরুটা মন্দ হয়নি স্কটল্যান্ডের। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করার পর নামিবিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে এবং ওমানের সঙ্গে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে স্কটল্যান্ড। ফলে সুপার এইটের দৌড়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে তারা। বি-গ্রুপে ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে স্কটল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটাই তাদের শেষ ম্যাচ। সুপার এইটের সমীকরণ মেলানোর ম্যাচও বটে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচ থেকে অন্তত ১ পয়েন্ট পেলেই সুপার এইটের টিকিট পাবে স্কটল্যান্ড। তবে কোনো পয়েন্টই না পেলে আর ইংল্যান্ড যদি রাত ১১টায় নামিবিয়াকে হারায় তাহলে তাদের কোনো সমীকরণই থাকবে না।

পয়েন্ট ভাড়াভাগি কিংবা রানরেট নিয়ে ভাবতে চায় না স্কটিশরা। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠতে চায় তারা। দলের ওপেনার জিওর্জি মুনশি বলেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়। এ ম্যাচে অজিদের বিপক্ষে সেরা ক্রিকেট খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাই আমরা। সুপার এইটে খেলার ভালো সুযোগ আমাদের সামনে। আশা করছি, আমরা পারব।’

তিনি এ কথা বললেও খাতা-কলম, শক্তি-সামর্থ্য অতীত পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা; এ ম্যাচের স্পষ্ট ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া। ইতোমধ্যে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচই জয় দিয়ে রাঙিয়েছে অজিরা। সেই তালিকায় নাম ছিল ইংল্যান্ডের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলেরও। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল অস্ট্রেলিয়া। শিরোপার বড় দাবিদারও তারা। এ ‍মুহূর্তে নিজেদের সেরা ছন্দে আছেন ক্রিকেটাররা। অ্যাডাম জাম্পা, অ্যাস্টন আগার, মার্কাস স্টয়নিস, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্সদের নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ যেকোনো দলকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। সেই প্রমাণ ইতোমধ্যেই দিয়েছে তারা।

ব্যাটিংয়ে কতটা বিধ্বংসী ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শরা সেটারও প্রমাণ দিয়েছে। পাশাপাশি মার্কাস স্টয়নিচ, টিম ডেভিড, ম্যাথিউ ওয়েডরা দায়িত্ব নিতেও যথেষ্ট পারদর্শী। ফিল্ডিংয়েও জুড়িমেলা ভার অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের।

তিন বিভাগেই স্কটিশদের চেয়ে ঢের এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ম্যাচ জিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেই সুপার এইট নিশ্চিত করতে চাইবে তারা। তবে জশ হ্যাজলউড যে বক্তব্য দিয়েছিলেন সেটা নিছকই মজারছলে ছিল সেটা জানিয়েছেন প্যাট কামিন্স।


banner close