বুধবার, ২২ মে ২০২৪

আজহারউদ্দিন, ওয়ান অব দ্য ক্লাসিয়েস্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:০৬

তৎকালীন অন্ধ্র প্রদেশের (বর্তমানে তেলেঙ্গানা) রাজ্যের হায়দরাবাদে নিজাম শহরে জন্মগ্রহণকারী মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন শৈশব থেকেই তার ক্রিকেট খেলার অতুলনীয় প্রতিভা নজর কারে অনেকেরই। তার লেগ সাইডে কবজি স্ট্রোক দেখে বিশ্ব খ্যাতিমান ক্রিকেটার জহির আব্বাস, গ্রেগ চ্যাপেল এবং বিশ্বনাথের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯৮১ সালে হায়দরাবাদের হয়ে প্রথম শ্রেণি ক্রিকেট আত্মপ্রকাশ করেন এবং তার ঠিক তিন বছর পর ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮৪ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তিনি তার প্রথম তিনটি ম্যাচে তিনটি সেঞ্চুরি করে একটি রেকর্ড করেন, যা আজও অটুট। ১৯৯০ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে করা ১২১ রানের আক্রমণাত্মক লড়াইয়ের কথা সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে চিরকাল। ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক গ্রাহাম গুচ ৩৩৩-এর ইনিংস করার ফলে ভারত বিপাকে পড়েছিল। উত্তরে ভারত শুরুটা ভালো করতে পারেনি, পাঁচ নম্বরে আজহার যখন ব্যাট করতে নামেন তখন ভারত ফলোঅনের সম্মুখীন ছিল। তিনি মাত্র ৮৮ বলে ১২১ রানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছিলেন। যদিও তিনি ভারতকে জেতাতে পারেননি। খেলারটি পর ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার ভিক মার্কস, অবজার্ভারে তার কলমে লিখেছিলেন ‘তার দেখা সবচেয়ে চমকপদ টেস্ট সেঞ্চুরি’।

প্রধানত আজহার একজন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, তার স্লিপ কর্ডোন এবং আউটফিল্ডে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে জন্য পরিচিত ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, এক প্রকার জোর করিয়ে অবসর নেওয়ার সময় তার বয়স ৩৭ বছর হলেও তখনো তিনি ভারতের সেরা ফিল্ডার ছিলেন। যদিও তার শর্ট বল খেলতে একটু অসুবিধে হলেও তার চমৎকার স্ট্রোক-প্লে তাকে সর্বদা সাবলীল খেলতে সাহায্য করেছিল। তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ২২টি সেঞ্চুরি ৪৫ শতাংশ গড়ে করেছিলেন এবং ওয়ানডেতে তার গড় ছিল প্রায় ৩৭ শতাংশ। ফিল্ডার হিসাবে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৫৬টি ক্যাচ নিয়েছিলেন। তিনি তার খেলোয়াড়ি জীবন মোট ৯৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি তার সর্বোচ্চ ১৯৯ রান করেন। তিনি প্রথম খেলোয়াড় যিনি ৩০০ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন। এখন অবধি তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার, যার প্রথম তিনটি টেস্টের প্রত্যেকটিতে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব রয়েছে। তিনি এই কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকের সিরিজে করেছিলেন। ১৯৮৪ সালে কলকাতায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১০ রানের হাত ধরে তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন এবং ২০০০ সালে ব্যাঙ্গালুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১০ রানের হাত ধরে সমাপ্ত হয়। এখনো অবধি তিনিই একমাত্র ভারতীয় এবং বিশ্বের পঞ্চম ব্যাটসম্যান যিনি তার প্রথম ও শেষ টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি করার এই কৃতিত্ব করতে পেরেছেন।


যুক্তরাষ্ট্র সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২২ মে, ২০২৪ ০১:১০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে খেলতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে গেছে বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাটিংয়ে খুব বেশি রান করতে না পারার পর প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারেনি তারা। মঙ্গলবার রাতে প্রিইরে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান করে বাংলাদেশ। পরে ওই রান তাড়া করতে নেমে তিন বল আগেই জয় পায় যুক্তরাষ্ট্র।

টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে আবারও একাদশে ফেরানো হয় লিটন দাসকে। যদিও সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ১ চার ও সমান ছক্কায় ১৫ বলে ১৪ রান করেন জাশদ্বীপ সিংয়ের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। সৌম্য সরকারের সঙ্গে ৩৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ছিল তার।

দুই ওপেনার অবশ্য ফিরে যান স্রেফ চার বলের ব্যবধানে। ৩ চারে ১৩ বলে ২০ রান করে বাউন্ডারি লাইনের কাছাকাছি মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান তিনি। দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

তিনিও অবশ্য ব্যর্থ হন। ১১ বল খেলে স্রেফ ৩ রান করে স্টিভেন টেইলের বলেই স্টাম্পিং হন তিনি। শুরুতে ধরে খেলার চেষ্টা করা সাকিব আল হাসানও বড় রান করতে পারেননি। ১২ বল খেলে ৬ রান করে রান আউটের শিকার হন তিনি। ইনিংসের শুরু ভালো না হলেও শেষটা দারুণ করে বাংলাদেশ।

এর কৃতিত্ব তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৪৭ বলে ৬৭ রান করেন তারা। ২ চার ও ১ ছক্কায় ২২ বলে ৩১ রান করে আউট হয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। হৃদয়ের থেকে ব্যাট থেকে আসে হাফ সেঞ্চুরি। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ বলে ৫৮ রান করেন তিনি।

রান তাড়ায় নেমে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটির দেখা পায় যুক্করাষ্ট্র। দুই ওপেনারের মধ্যে মনাক প্যাটেল ১২ বলে ১০ ও স্টেবন টেইলর ২৯ বলে ২৮ রান করেন। তিনে খেলতে নামা আন্দ্রিয়াস গুইস ১৮ বলে ২৩ রান করেন।

এরপর অ্যারণ জোন্স ও নিতিশ কুমারও রান করতে পারেননি। তবে দলটির হয়ে ভিত ধরেন করি অ্যান্ডারসন ও হারম্রিত সিং। তবে পরের জুটিতেই জয়ের নিশানা খুঁজে পায় যুক্তরাষ্ট্র। একপ্রান্ত আগলে থাকা কোরি অ্যান্ডারসন ২৫ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গী হারম্রিত ১৩ বলে ৩৩ রানের ঝড় তোলেন। দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তারা দুজন।


ফোডেনের গোলে ম্যানসিটির ইতিহাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

শেষ দিকে এসে প্রিমিয়ার লিগের লড়াই ছড়াচ্ছিল চরম উত্তেজনা। লড়াইয়ে ছিল পেপ গার্দিওয়ালার ম্যানচেস্টার সিটি আর মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। লড়াই গিয়ে ঠেকলে শেষ দিনে। ২০ বছর আগের শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াই আর্সেনালের সামনে। আর ১৩৫ বছরের রেকর্ড ভাঙার ইতিহাস ম্যানসিটির সামনে। জমজমাট সেই লড়াইটা শেষ হয়েছে; আর এতে শেষ হাসিটা হেসেছে ম্যানসিটিই। প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা চতুর্থ লিগ শিরোপা জয়ে প্রিমিয়ার লিগের ১৩৫ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে গার্দিওয়ালার শিষ্যরা। এর আগে কোনো দলই টানা চার মৌসুম প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিততে পারেনি।

মৌসুমে নিজেদের শেষ লিগ ম্যাচে গতকাল সিটিজেনরা ৩-১ গোলে হারিয়েছে ওয়েস্টহ্যামকে। জোড়া গোল করেছেন ফিল ফোডেন আর রদ্রি করেছেন একটি গোল। সফরকারীদের হয়ে একটি গোল শোধ করেছেন মোহাম্মেদ কুদুস।

এই জয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে থেকে লিগ জিতল সিটি। ৩৮ ম্যাচে সংগ্রহ ৯১ পয়েন্ট। তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালও নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকই করেছে। এভারটনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। কিন্তু সিটি জিতে যাওয়ায় পয়েন্টের ব্যবধান আর কমাতে পারেনি তারা। এ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের অষ্টম এবং টানা চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলল ম্যানসিটি। শেষ কীর্তিটি লিগের ইতিহাসেই আর কারও নেই।

ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে গতকাল শিরোপা জেতার মিশন নিয়েই মাঠে নামে সিটি। জয় ভিন্ন অন্য কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না তাদের সামনে। এমনকি ড্র করলেও হতে পারত বিপদ। কারণ তাতে আর্সেনালের সমান পয়েন্ট হতো তাদের। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে শিরোপা যেত গানারদের কাছেই। কিন্তু সিটি তা হতে দেয়নি।

গ্যালারিভর্তি নিজেদের দর্শকদের সামনে গতকাল শুরুটা দারুণ হয় সিটির। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন ইংলিশ তারকা ফিল ফোডেন। বার্নান্দো সিলভার কাছে থেকে পাওয়া বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি তিনি। ১৮তম মিনিটেই নিজের দ্বিতীয় গেলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। ডকুর কাছে থেকে পাওয়া বলে ফোডেনকে গোল বঞ্চিত করতে পারেনি ওয়েস্টহ্যামের তিন ডিফেন্ডার মিলেও।

দুই গোলে এগিয়ে থাকা সিটির স্বস্তি কেড়ে নেন ওয়েস্টহ্যামের স্ট্রাইকার কুদুস। সতীর্থের কর্নার-কিকে বল পেয়ে দারুণ ফ্লিকে সিটি গোলরক্ষক ওর্তেগার মাথার ওপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন কুদুস।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে সফরকারীদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন রদ্রি। ৫৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে সিলভার বাড়িয়ে দেওয়া বলে নেওয়া তার বুলেটগতির শট প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালকে ফাঁকি দিয়ে জালে প্রবেশ করে। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওয়েস্টহ্যাম। ফলে শিরোপা জেতার স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটি।


মেহেদীর চোখে চ্যালেঞ্জটাই বেশি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রানই আসল কথা। তাই ব্যাটাররাও চেষ্টা করেন সেভাবেই খেলার। প্রথম পাওয়ার-প্লের ছয় ওভারে ৩০ গজের বাইরে মাত্র দুই জন ফিল্ডার থাকায়, ব্যাটারদের টার্গেটটা থাকে এ সময়েই। বড় কিছু শট খেলে রান বাড়িয়ে নেওয়ার। তাই এ সময় বল করাটা স্বাভাবিকভাবেই চ্যালেঞ্জিংই হয় বোলারদের জন্য। বাংলাদেশের অফ স্পিনার শেখ মেহেদী হাসানও জানালেন সেরকম কথাই।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ কাজটা নিয়মিতই করতে হয় মেহেদীকে। এখন পর্যন্ত যে ৪৫ ইনিংসে বোলিং করেছেন, ২৭ বারই এক প্রান্ত থেকে উদ্বোধন করেছেন এ ২৯ বছর বয়সি। সফলও হয়েছেন, ক্যারিয়ারে তার ৩৮টি উইকেটের ২০টিই এসেছে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারের মধ্যে। রান আটকাতেও বেশ সফল তিনি; ক্যারিয়ারে ইকোনমি রেট ৬.৩৮ হলেও প্রথম ৬ ওভারে মেহেদী মাত্র ৫.৬৭ করে রান দিয়েছেন।

বিসিবির প্রকাশিত এক ভিডিওতে পাওয়ারপ্লেতে বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেহেদী বলেছেন চ্যালেঞ্জের কথা, ‘উপভোগ করা থেকে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি সেখানে। যেহেতু পাওয়াপ্লেতে (বোলিং), (আর) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট (হচ্ছে) রানের খেলা। এখানে যত কম রানে আটকানো যায় আর কি বোলিং করে। ওই চ্যালেঞ্জটাই বেশি থাকে। উপভোগ (করা) থেকে চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে।’

এরপরও পাওয়ারপ্লের বোলিংটা উপভোগ করতে পারলে সেটি দলের জন্যই ভালো, মনে করিয়ে দিয়ে মেহেদী বলেছেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি থাকে পাওয়ারপ্লেতে। উপভোগ (করার সুযোগ) তো একদমই থাকে না। (এরপরও) সেখানে যদি উপভোগ করতে পারি, তাহলে দলের লাভটাই বেশি হয়।’

২০১৮ সালে অভিষেক হলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলতে প্রায় ২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল মেহেদীকে। মেহেদী ফিরে এসেছেন আবার। তবে ফেরাটা সহজ ছিল না জানিয়ে মেহেদী বলেছেন, এবারের বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত একটা চ্যালেঞ্জও নিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ আছে (বিশ্বকাপে)। প্রথম রাউন্ড শেষ করে পরের রাউন্ডে আগে যাওয়া।’

বলেছেন আরেকটি ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথাও, ‘আমি সাধারণত যেভাবে পারফরম্যান্স করি, ওভাবে করতে চাই না বিশ্বকাপে। এর চেয়ে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই।’

বাংলাদেশ দলের ফিনিশিংয়ের দায়িত্বটা এখন সামলাতে হচ্ছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই। পরীক্ষিত এ পারর্ফমার দলের বিপদে ইনিংস তৈরির দায়িত্ব যেমন সামলাতে পারেন, তেমনি পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষ দলের বোলিং লাইনআপ এলোমেলো করতে পারেন। তাইতো মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংকেই ভালো লাগে মেহেদীর, ‘৭-৮ নম্বরে নিজেকে তৈরি করে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া ছিল, তখন থেকে ফিনিশার হিসেবে রিয়াদ ভাইয়ের ব্যাটিংটা খুব ভালো লাগত। শুধু এরকমই আর কী। সাকিব ভাই আইডল বলতে পারেন। রিয়াদ ভাইয়ের ব্যাটিং ভালো লাগে।’


গোল মেশিন রবার্ট লেওয়ানডস্কি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

গোল করাই যেন তার নেশা। যেখানে পা রেখেছেন সেখানেই গোল করেছেন। আর এতে উপাধি হিসেবে জুটেছে ‘গোল মেশিন’। বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ, জার্মান সুপার কাপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপসহ ক্লাব ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য প্রায় সকল ট্রফিই আছে তার ঝুলিতে। ফুটবল বিশ্বে তিনি এখন এক বিস্ময়ের নাম। সফল এ ফুটবলারের নাম রবার্ট লেওয়ানডস্কি।

স্কুলে থাকতেই লেওয়ানডস্কি বেশ দক্ষ ছিলেন বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল ও ফুটবলে। হবেইবা না কেন? খেলাধুলা তো তার জিন থেকে পাওয়া; জন্মটাই একটা ক্রীড়ামোদি পরিবারে। মা ইওনা পোল্যান্ডের হয়ে ভলিবল খেলতেন। আর বাবা ক্রজিসটফ পোল্যান্ডের নামকরা ফুটবল ক্লাব হুটনিক ওয়ারশের হয়ে ফুটবল খেলতেন, জুডোতে ছিলেন জুনিয়র ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন। মায়ের পদচিহ্ন অনুসারী বোন মিলেনাও দক্ষ ভলিবল খেলোয়াড় হয়ে উঠলেন। আর লেওয়ানডস্কি শেষমেশ বাবার মতো ফুটবলকেই ভালোবেসে আঁকড়ে ধরেছিলেন।

এক্কেবারে রোগা-পটকা এক ক্ষুদে বালক। সমবয়সিদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ও হাড্ডিসার ছিলেন বলে সহজেই চোখে পড়তেন। তবে সেইদিনের খাঁটো- হাড্ডিসার বালকটি বড়ো হয়ে বনে গেলেন ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার। আজ তো ফুটবলবিশ্বে লেওয়ানডস্কি এক বিস্ময়ের নাম!

আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নটা মূলত তার বাবার স্বপ্ন ছিলো, সারাজীবন সেই স্বপ্নকে নিজের করে লালন করেছেন লেওয়ানডস্কি। ‘তুমি খুব ছোট, তুমি ফুটবলে পারবে না’ এই কথাটা তাকে সবাই বলত। কিন্তু লেওয়ানডস্কি জানতেন তিনি ঠিকই পারবেন, তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে তাকে পারতে হবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই হাটুর ইনজুরিতে লেজিয়া দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। মায়ের সহযোগিতায় সেটা খুব সহজেই কাটিয়ে উঠেন তিনি। এরপর আর অবশ্য লেওয়ানডস্কিকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিশতম জন্মদিনের আগেই তিনি তার দেশ পোল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে নেমে যান।

২০০৯ সালে পজনানের হয়ে শুরুর এরপর ডর্টমুন্ড অধ্যায়ের পর বায়ার্ন মিউনিখে সফল আট বছরের গল্প রচনা করে এখন পাড়ি জমিয়েছেন স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনায়।

পুরো নাম: রবার্ট লেওয়ানডস্কি

জন্ম: ২১ আগস্ট ১৯৮৮ সাল।

জন্মস্থান: ওয়ার্সও, পোল্যান্ড।

রাশি: সিংহ রাশি।

প্রিয় খেলা: ফুটবল।

প্রিয় খাবার: ফ্রুট টার্ট।

প্রিয় পানীয়: শ্যাম্পেইন।

প্রিয় রং: সাদা।

প্রিয় ফুটবলার: গার্ড মুলার।

প্রিয় ফুটবল দল: পোলান্ড ফুটবল দল।

প্রিয় সতীর্থ: ফ্রানকোভস্কি, ফেরান তোরেস।

প্রিয় গাড়ি: বেন্টলি ফ্লাইং স্পউর।

প্রিয় স্টেডিয়াম: আলিয়াঞ্জ এরিনা, মিউনিখ।

প্রিয় জায়গা: সমুদ্র সৈকত।

প্রিয় শখ: ভ্রমণ, সাইকেল চালানো।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: অ্যাডিডাস।


কম্বিনেশনের খোঁজে টাইগাররা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল সাগর

দরজায় কড়া নাড়ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের এই ছোট সংস্করণের মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে মার্তিন মুল্লুকে। ক্রিকেটের নতুন এ দেশের কন্ডিশন কিংবা উইকেট সম্পর্কে ধারণা নেই কোনো দেশেরই। তবে টাইগারদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বকাপের ঠিক আগে তিন ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের আয়োজন করেছে। যার প্রথমটি মাঠে গড়াবে আজ মঙ্গলবার রাত ৯টায়। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্স ‘হিউস্টনে’। ম্যাচের চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

এ ম্যাচে বাংলাদেশের দুঃসংবাদ একটাই; পেসার তাসকিন আহমেদের অনুপস্থিতি। বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগেই জানা গিয়েছিল সাইডস্টেন ইনজুরিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলা হবে ঢাকা এক্সপ্রেসের। তাসকিন মিস করতে পারেন বিশ্বকাপের শুরুর দিকের কয়েকটি ম্যাচও।

বিশ্বকাপের দল ঘোষণা হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই; মূল লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে টাইগারদের এটাই শেষ প্রস্তুতি সিরিজ। এরপর আছে শুধু দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। তাই এ সিরিজে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন দলের সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে বের করা; ১৫ সদস্যের স্কোয়াডের বাইরের কোনো ক্রিকেটারকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে।

পেস আক্রমণে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বর্তমানে টাইগারদের পেস আক্রমণ যেকোনো দলের জন্যই কিছুটা হলেও চিন্তার কারণ। তাই বাংলাদেশের স্কোয়াড কিংবা বিশ্বকাপের কন্ডিশন; দুইটাই বলছে বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়েই মাঠে নামবে। বাংলাদেশ যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় না যায়, তাহলে তাসকিনের অনুপুস্থিতিতে মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম আর তানজিম হাসান সাকিবকে দেখা যাবে একাদশে।

তবে এ ম্যাচে কন্ডিশন বাংলাদেশের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কারণ ম্যাচটি শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়। আর সময়ের হিসাব বলছে বাংলাদেশে তখন ঘরির কাটা থাকবে ১০টার ঘরে। সাধারণত এ সময়ে কোনো সিরিজ খেলে না বাংলাদেশ। এটার কথা চিন্তা করেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি রাখা হয়েছিল সকাল ১০টায়।

শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৯তম।

তবে এ ম্যাচটা তানজিম হাসান সাকিবের জন্য হবে নিজেকে প্রমাণের বড় মঞ্চ। নতুন কন্ডিশনে তাসকিনের পরিবর্তে সুযোগ পেলে তিনি কেমন করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কম্বিনেশন খুঁজতে পরিবর্তন আসতে পারে ব্যাটিং অর্ডারেও। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ব্যাটিংয়ে প্রিয় তিন নম্বর পজিশনটা ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে সাকিব আল হাসানকে। এক ধাপ করে নিচে নেমে যেতে হবে সবাইকে।

এককথায় সারাংশ টানলে বলা যায়, রেজাল্ট কিংবা বড় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সঠিক কম্বিনেশন খোঁজাটাই মূল লক্ষ্য হবে টাইগারদের।


যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আজ মাঠে নামছে টাইগাররা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবার এই মহা আসরের যৌথ আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথমবার কোনো সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজ খেলে ওই দেশের আবহাওয়া-উইকেট সম্পর্কে একটা পাবে বাংলাদশে ক্রিকেট দল।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিটি ম্যাচ আজ টেক্সাসের হিউস্টনের প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হবে।

শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ধারে-কাছেও নেই। তবে কন্ডিশনের খাতিরেই শান্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই সিরিজ।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তার আগে এই তিন ম্যাচের সিরিজে নিজেদের পরখ করে নেওয়ার সুযোগ নাজমুল হোসেন শান্তদের।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বলে একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো দল তা বলা যাবে না। এক সময় নিউজিল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার কোরে অ্যান্ডারসনও আছেন এই দলে। উপমহাদেশীয় মোনাঙ্ক প্যাটেল, আলি খানের মতো ক্রিকেটাররাও হুঙ্কার ছড়াতে পারেন!

তিন ম্যাচের এই সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ দুই দিন অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দু’দিন বিশ্রামের পর গত রোববার প্রথমদিনের মতো অনুশীলন করেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

গত ১৫ মে দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয় বাংলাদেশ। পৌঁছায় বাংলাদেশ সময় ১৭ মে শুক্রবার ভোরে। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি শুরু হচ্ছে আজ। বাকি দুটি ম্যাচ হবে ২৩ ও ২৫ মে। সিরিজ শেষে ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেই আইসিসি নির্ধারিত ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে তারা মাঠে নামবে। ১ জুন ভারতের বিপক্ষে হবে দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ।

বিশ্বকাপের লড়াই শুরুর আগে সবমিলিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের প্রস্তুতির জন্য পাচ্ছে ৫টি ম্যাচ। ৮ জুন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শান্তদের বিশ্বকাপ। বাকি তিন ম্যাচের প্রতিপক্ষ- দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপাল। প্রথম দুটি ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে বাকি দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজে।


ব্যক্তি আলোনসোর কারণেই এতটা সফল লেভারকুসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বে অ্যারেনায় উড়ছে উৎসবের রং। বুন্দেসলিগার শিরোপা তো ৫ ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করে ফেলেছিল, কাল লিগের শেষ দিনে নিজেদের মাঠে অগসবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হাতে পেয়েছে ট্রফি। সেই ট্রফি হাতে নেওয়ার আগেই একটি ইতিহাস হয়ে গেছে লেভারকুসেন। অগসবুর্গকে হারানোর মধ্য দিয়ে প্রথম দল হিসেবে পুরো মৌসুম অপরাজিত থেকে বুন্দেসলিগা জয়ের রেকর্ড গড়েছে জাবি আলোনসোর দল।

অনেক আগে থেকেই লেভারকুসেনের স্প্যানিশ কোচের ওপর ঝরছে প্রশংসার বৃষ্টি। গতকাল যেন সেটা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। আরেকবার শিরোপা-উৎসব শেষে লেভারকুসেনের কোচ আলোনসোকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন দলটির ডিফেন্ডার জোনাথন টাহ্‌। কীভাবে আর আলোনসোর কোন গুণে লেভারকুসেন এমন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠল, এতটা সফলতা পেল সে রহস্যই কাল ভেদ করলেন টাহ্‌। ট্রফি হাতে উৎসব শেষে জার্মান এই ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘এই দলের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। এতগুলো বছর পর এখানে কিছু জিততে পেরে আমি সত্যি খুব খুশি।’

হামবুর্গ থেকে টাহ্‌ লেভারকুসেনে নাম লিখিয়েছেন ২০১৫ সালে। গত মৌসুমের মাঝ থেকে খেলছেন আলোনসোর অধীনে। গত মৌসুমে একের পর এক ম্যাচ হেরে লেভারকুসেন যখন খাদের কিনারে, আলোনসোকে আপতকালীন কোচ করে এনেছিল দলটি। এরপর গত মৌসুমে দলকে ষষ্ঠ স্থানে রেখে লিগ শেষ করেছিলেন। আর এবার কী রূপকথা রচনা করেছেন, সেটা সবারই জানা।

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বুন্দেসলিগা জেতা লেভারকুসেনের সামনে এখন আরও দুটি শিরোপার হাতছানি-জার্মান কাপ ও ইউরোপা লিগ। এই দুটি শিরোপা জিততে পারলে পুরো মৌসুম অপরাজিত থাকার নতুন আরেক কীর্তিও গড়বে লেভারকুসেন। আলোনসোর হাত ধরে এমন সাফল্য কীভাবে এসেছে, সেটা জানাতে গিয়ে টাহ্‌ বলেছেন, ‘জাবি আলোনসো অসাধারণ একজন কোচ। সেটা ট্যাকটিক্যালি এবং ব্যক্তি দুই দিক দিয়েই। এ কারণেই আমরা এতটা সফল।’ আলোনসোর প্রশংসা করতে গিয়ে নিজেদের কথাও বললেন টাহ্‌, ‘ভালো খেলোয়াড় ভালো কোচ তৈরি করে। আমার অসাধারণ একটি স্কোয়াড আছে। আমাদের এখানকার প্রতিদিনের আবহই খুব ভালো। এমন সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।’


ব্রাজিলের হৃৎপিণ্ড থিয়াগো সিলভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বয়সটা ৩৫-এর কোটা পেরিয়েছে বছর তিনেক আগেই। অথচ এখনো প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে থমকে দেন বছর বিশের তরুণের ক্ষীপ্রতায়। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হয়েও ক্যারিয়ারে এখনো লালকার্ড দেখেননি। রিও ডি জেনিরো থেকে শুরু হওয়া যাত্রাটা মিলান, প্যারিস ঘুরে এখন থেমেছে লন্ডনে। সার্জিও রামোস কিংবা ভ্যান ডাইকের মতো খ্যাতি তার নেই, লড়াইটা তিনি করেন নিজের সাথেই। চেষ্টাটা থাকে নিজেকে ছাড়িয়ে যাবার। তিনি থিয়াগো সিলভা, ব্রাজিল রক্ষণের কাণ্ডারি।

জোগো বোনিতোর দেশ ব্রাজিল। যুগে যুগে বিশ্ব ফুটবলকে ব্রাজিল উপহার দিয়েছে পেলে, গ্যারিঞ্চা, রোনালদো, রোনালদিনহো, নেইমারদের মতো ফুটবলশিল্পীদের; কিন্তু সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার? লুইস পেরেইরা, আদাইর, লুসিওতে এসে থমকে যেতে হয়। মাথা চুলকে আর কোনো বৈশ্বিক তারকার নাম মনে পড়ে না। লুসিওর রেখে যাওয়া মশালটাই এক দশক ধরে বহন করে চলেছেন থিয়াগো সিলভা। জাতীয় দলে প্রথমবার আসার পর থেকে আজও রক্ষণভাগকে আগলে রেখেছেন নিবিড় যত্নে।

ছোটবেলায় অন্য দশটা ব্রাজিলিয়ান বালকের মতোই রিও ডি জেনিরোর অলিগলিতেই ফুটবল খেলতে খেলতেই বেড়ে ওঠা থিয়াগো সিলভার। কিন্তু ছোটবেলায় কোনো ক্লাবই তাকে নিতে চায়নি। স্থানীয় ক্লাব মাদুরেইরা, ওদারিয়া কিংবা বোতাফোগো সব খানেই ট্রায়াল দিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এমনকি বোতোফোগোতে কোচরা তাকে দেখতেই চাননি। অবশেষে স্থানীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ভালো খেলার সুবাদে নজরে আসেন এক ফুটবল স্কাউটের। তিনিই তাকে সুযোগ করে দেন নিচের সারির ক্লাব ফুটেবলের হয়ে খেলার।

ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল মিডফিল্ডার হয়ে। ফুটবলের হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে খেলতে খেলতেই নজরে আসেন ইউরোপের। তাকে দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে পোর্তো আর এফসি রোমা। তবে ব্রাজিল আর পর্তুগালের সংস্কৃতি, ভাষা একই হওয়ায় তরুণ ব্রাজিলিয়ানদের জন্য ভরসার পাত্র পর্তুগিজ ক্লাবগুলো। থিয়াগো সিলভাও সুযোগ লুফে নিতে দেরি করেননি, রোমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ২০০৪ সালে পাড়ি জমান পোর্তোতে। এরপর রাশিয়া, ব্রাজিল, ইতালি ফ্রান্স ঘুরে পাড়ি জমান লন্ডনে। ২০২২-২৩ মৌসুমে পিএসজি থেকে এক বছরের জন্য যান চেলসিতে; কিন্তু সেখানেই কাটিয়ে দেন চার বছর। এবার দেশ ব্রাজিলে ফিরছেন আবারও।

পুরো নাম: থিয়াগো এমিলিয়ানো দা সিলভা

জন্ম: ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪।

জন্মস্থান: দি জানেইরু, ব্রাজিল।

রাশি: কন্যা রাশি।

প্রিয় খেলা: ফুটবল।

প্রিয় খাবার: পর্তুগিজ খাবার।

প্রিয় পানীয়: ফ্রুট জুস।

প্রিয় রং: কালো, সাদা।

প্রিয় ফুটবলার: রবার্তো কার্লোস।

প্রিয় ফুটবল দল: ব্রাজিল, ফ্লুমিনেন্স।

প্রিয় সতীর্থ: নেইমার জুনিয়র, ডেভিড লুইস, দানি আলভেজ।

প্রিয় গাড়ি: বিএম ডব্লিউ

প্রিয় স্টেডিয়াম: মারাকানা স্টেডিয়াম, ব্রাজিল।

প্রিয় শখ: গান শোনা, ওয়ার্ক আউট।

প্রিয় জুতার ব্র্যান্ড: নাইকি।

বিষয়:

জার্মান ফুটবলসম্রাট বেকেনবাওয়ার  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

জার্মান ভদ্রলোক প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন মিডফিল্ডার হিসেবে। কোয়ার্টার আর সেমিফাইনালে ১টি করে গোলও করেন। পুরো টুর্নামেন্টে ৪ গোল করে ব্রোঞ্জ বল জেতেন। তবে এরপরেও ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায়। ফাইনালে হেরে গেলেও সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা জিতে নেন তিনি।

১৯৭০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের। এই বিশ্বকাপে বেকেনবাওয়ার খেলেন ডিফেন্ডার হিসেবে। ৪৯ মিনিটেই ২ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৬৮ মিনিটে গোল করে বেকেনবাওয়ারই ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন জার্মানিকে। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জেতেন জার্মানি; কিন্তু সেমিতে আবারও ইতালির কাছে হেরে যায়।

পরপর দুই বিশ্বকাপে ব্যর্থতা তাকে পোড়ানোরই কথা। তবে তিনি হাল ছাড়লেন না। ৭৪ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলেন এবং জার্মানি বিশ্বকাপ জেতে। সেই টুর্নামেন্টে সিলভার বল জেতেন বেকেনবাওয়ার। ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’– তাকে শতবারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি, তিনবারের প্রচেষ্টাতেই সফল হয়েছিলেন।

এই পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দুজন খেলোয়াড় তিনবার করে বিশ্বকাপের অলস্টার দলে সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৬৬, ১৯৭০ আর ১৯৭৪ বিশ্বকাপের অল স্টার দলে সুযোগ পাওয়ায় তিনি সেই দুজন খেলোয়াড়ের একজন। এত গেল তার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের কথা। কোচ হিসেবেও শুরুতে সর্বোচ্চ সফলতার খুব কাছে গিয়েও মিস করেছেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বীরত্বের কাছে হার মেনে তার দল রানার্স আপ হয়েছিল। ৪ বছর পর আবার প্রতিপক্ষ সেই একই ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। এবার জিতে নিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দুজন মানুষ ‘খেলোয়াড় এবং কোচ’ দুই হিসেবেই বিশ্বকাপ জিতেছেন। ইনি সেই দু’জন মানুষের একজন। ক্লাব ক্যারিয়ারের কথা বাদ দিই কীভাবে? বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে জার্মান ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বুন্দেসলিগার শিরোপা জিতেছেন চার বার। ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমানে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জিতেছেন পরপর তিনবার (১৯৭৩-৭৬)। খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি অর জিতেছেন ২ বার ( ১৯৭২,১৯৭৬)। এত কিছু জানার পর আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসার কথা মানুষটা কে?

মানুষটা হচ্ছেন ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, জার্মানির ইতিহাসের অবিসংবাদিত সেরা ফুটবলার। ১৯৪৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া বেকেনবাওয়ারকে নেতৃত্বের গুণাবলির জন্য তাকে কাইজার বা সম্রাট নামেও ডাকা হতো। তাকে আধুনিক সুইপারের উদ্ভাবক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যেকোনো একাদশ করতে চাইলে পেলে কিংবা ম্যারাডোনার বিকল্প হয়তো পাবেন, হয়তো কোয়ালিটিতে তাদের সমতুল্য হবে না কিন্তু একেবারে ফেলেও দিতে পারবেন না। কিন্তু একাদশে বেকেনবাওয়ারের বিকল্প খুঁজে পাবেন না সেটা বলে দেওয়া যায়। ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড সকারের নির্বাচিত সর্বকালের সেরা একাদশে পেলে ম্যারাডোনার চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে ছিলেন বেকেনবাওয়ার। এমনি এমনি তো আর তিনি সম্রাট নন!


ধোনির অবসরের ইঙ্গিত দিলেন কোহলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভারতীয় ক্রিকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনি নামটি জ্বলজ্বল করবে আজীবন। ধোনির নেতৃত্বেই শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে ভারত। ভারতের জার্সিতে বহু ম্যাচের জয়ের নায়ক তিনি। যেমন ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনি দলনেতা হিসেবেও পথ চিনিয়েছেন গোটা দলকে। চনমনে ধোনি উইকেটের পেছন থেকেও ভয় দেখিয়েছেন প্রতিপক্ষকে; গড়েছেন অনেক রেকর্ডও।

ইতোমধ্যেই জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি। ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ভারতীয় এই কিংবদন্তি। তারপর থেকে শুধু আইপিএল টুর্নামেন্টেই ধোনিকে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু সেটাও আর কতদিন? বয়সটা যে তেতাল্লিশ ছুঁইছুঁই, ১৯৯৯ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট দিয়ে শুরু এখন ২০২৪ সাল। ২৫ বছরের লম্বা ক্যারিয়ার।

তাই প্রতিবছরই আইপিএল আসে, আর প্রতিবারই প্রশ্ন ওঠে! এবারই কি শেষ? গত কয়েক আসরে এমন প্রশ্ন অসংখ্যবার শুনেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রতিবারই তার জবাব ছিল, না। চলতি আসরে অবশ্য চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন না তিনি। তাই পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে বা সংবাদ সম্মেলনেও আসা হয় না তার।

আইপিএল এখন শেষের দিকে। গতকাল বাঁচা-মরার লড়াইয়ে চেন্নাইয়ের মুখোমুখি হয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ধোনির সঙ্গে এটাই কি শেষ ম্যাচ? বিরাট কোহলির মনেও উঁকি দিচ্ছে সেই প্রশ্ন। ইঙ্গিত দিলেন এবারের আসর শেষেই হয়তো অবসর নিতে পারেন ধোনি।

কোহলি বলেন, ‘ভারতের যেকোনো স্টেডিয়ামে তাকে খেলতে দেখাটা বড় বিষয়। আমি আর তিনি হয়তো শেষবারের জন্য একসঙ্গে খেলছি। এটা একটা বিশেষ ব্যাপার। আমাদের দুর্দান্ত কিছু স্মৃতি রয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে বেশ কিছু দারুণ পার্টনারশিপ রয়েছে। আমাদের একসঙ্গে দেখতে পাওয়াটা সমর্থকদের কাছে বড় বিষয়। মানুষ বলে কেন তিনি ২০ ওভার, ৫০ ওভার পর্যন্ত খেলা টেনে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি ভারতের হয়ে কয়টা ম্যাচ ফিনিশ করেছেন!’

ভারতের বর্তমান এ তারকা বলেন, ‘সম্ভবত তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি কী করতে চলেছেন, সেটা জানেন। সেখান থেকেই তিনি ম্যাচ ফিনিশ করতেন। আমার কাছে এটা মাসল মেমরি। তিনি জানেন, তিনি যদি ম্যাচ ৫০ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারেন, তাহলে ম্যাচ বের করে ফেলবেন।’

কোহলি আরও বলেন, ‘আমার মানসিকতা আবার একটু আলাদা। আমি ভাবতাম, চলো ৪৯তম ওভারে (ওয়ানডেতে), ১৯তম ওভারে (টি২০-তে) ম্যাচ ফিনিশ করে ফেলি। তিনি যদি আমার সঙ্গে ব্যাট করেন তাহলে তার চিন্তাভাবনা আলাদা হবে। তিনি শেষ ওভারে ম্যাচ নিয়ে যাবেন- যেখানে প্রতিপক্ষ দল কাঁপতে থাকবে ভয়ে।’


মাঝমাঠের হৃৎপিণ্ড পল পগবা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০১৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে বড় অবদান ছিল দলটির মিডফিল্ডার পল পগবার। ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর সে ম্যাচে গোলও করেছিলেন তিনি। নিজের পায়ের কারুকার্য দিয়ে মন জয় করে নেন ফুটবলপ্রেমীদের। ফ্রান্সে যত অভিবাসী ফুটবলার খেলেছেন তিনিও তাদের মধ্যেই একজন।

১৯৯৩ সালে পগবার জন্ম ফ্রান্সের লানি-সুর-মার্ন অঞ্চলে। তবে পগবার বাবা-মা গিনির অধিবাসী। বড় দুই ভাই ম্যাথিয়াস পগবা আর ফ্লোরেন্তিন পগবার জন্মের পর পুরো পরিবার সহ ফ্রান্সে পাড়ি জমায় এই গিনিয়ান পরিবার। ছোট বেলা থেকেই ফ্রান্সের মাটিতে ফুটবল খেলে বেড়ে উঠেছেন। নজর কাড়েন বড় বড় ক্লাবগুলোর।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে, পগবার ফুটবলে আনুষ্ঠানিক হাতেখরি ফরাসি ফুটবল ক্লাব রোয়াসি-অঁ-ব্রিয়ের যুব দলের হয়ে। এরপর সেখান থেকে পাড়ি জমান তর্সি, ল্য আভ্র এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব দলের হয়ে। সেখান নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নেন ইউনাইটেডের মুল দলে। সেখান পাড়ি জমান জুভেন্তাসে। পড়বার ক্যারিয়ারের ভালো সময়টা কাটে এখানেই। ২০১৬ সালে ১০৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আবার সেই ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরেন এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার। কিন্তু এরপর আর তেমন কিছুই করতে পারেনি।

ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে দুর্দান্ত খেলতে থাকেন পগবা। দলটির হয়ে বিশ্বকাপও জেতেন তিনি। সেটার পুরস্কার হিসেবেই ২০১৩ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সেই অভিষেক হয় ফ্রান্স জাতীয় দলে। তবে পগবা হুট করেই জাতীয় দলে ডাক পায়নি; জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিল নির্দিষ্ট পক্রিয়া অনুরসরন করেই। পগবা ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৬, ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৭, ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৮, ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২০ সহ প্রায় সব অনূর্ধ্ব দলেই খেলেছেন।

ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের মুল দলের হয়েই খেলেছেন দুইটি বিশ্বকাপ। ফ্রান্সের হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতার পর জাতীয় দলের হয়েও এই বয়সেই খেলে ফেলেছেন ৬০টি ম্যাচ, করেছেন ১০টি গোল। জিতেছেন সবচেয়ে আরাধ্য ট্রফি বিশ্বকাপও। এরই মধ্যে ফ্রান্সের মাঝমাঠের হৃৎপিণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

পুরো নাম: পল লাবিল পগবা

জন্ম: ১৫ মার্চ ১৯৯৩ সাল।

জন্মস্থান: লানি-সুর-মার্ন, ফ্রান্স।

রাশি: মীন রাশি।

প্রিয় খেলা: ফুটবল, বাস্কেটবল।

প্রিয় খাবার: ফরাসি খাবার।

প্রিয় পানীয়: জুস।

প্রিয় রং: সাদা।

প্রিয় ফুটবলা: ডেভিড বেকহ্যাম।

প্রিয় সতীর্থ: কিলিয়ান এমবাপ্পে।

প্রিয় স্টেডিয়াম: স্তাদ দ্য ফ্রান্স, ফ্রান্স।

প্রিয় ফুটবলার: কিলিয়ান এমবাপ্পে।

প্রিয় ফুটবল দল: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ফ্রান্স ফুটবল দল।

প্রিয় গাড়ি: ব্রেন্টলি চেন্টাগায়া।

প্রিয় শখ: কার্টুন দেখা।

প্রিয় স্থান: প্যারিস।

প্রিয় জুতার ব্র্যান্ড: নাইকি।


মেসির চুক্তিপত্রের দাম ১১ কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

শৈশবেই মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। ১৩ বছর বয়সী মেসির বাঁ-পায়ের জাদুতেই বুঁদ হয়ে পড়েছিল ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো। বিস্ময় জাগানীয়া এ কিশোরের দিকে তখন নজর বড় বড় ক্লাবগুলোর স্কাউট এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টরদের। সেই তালিকায় ছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাসও। সেদিনের কিশোর মেসির মধ্যেই তিনি দেখতে পেয়েছিলেন আজকের মেসিকে। এমন একটি প্রতিভাকে হারানোর দুঃসাহস তিনি করেননি। চুক্তির কাগজপত্র না থাকায় একটি ন্যাপকিন পেপারেই সারেন কাজ।

বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির সেই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার ন্যাপকিন পেপারটি তোলা হয়েছিল নিলামে। ঐতিহাসিক সেই ন্যাপকিন পেপারটি গড়েছে আরেক ইতিহাস; ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি হলো মেসির স্বাক্ষরিত সেই ন্যাপকিন।

একটি সাধারণ ন্যাপকিন পেপার। খাওয়ার পর হাত মুছে বিনা সঙ্কোচে ফেলে দেন অনেকেই। কিন্তু সেই ন্যাপকিনেই যদি থাকে লিওনেল মেসির স্বাক্ষর? তাও আবার একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী বহন করছে যে পেপারটি, তার মূল্য যে আকাশছোঁয়া হবে, সেটা ছিল জানা কথা।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসির বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে একটি হোটেলে আলোচনায় বসেছিলেন বার্সেলোনার তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাস। তখনও মেসিকে সই করানোর বিষয়ে কাগজপত্র তৈরি হয়নি। কিন্তু আর্জেন্টাইন ক্ষুদে ফুটবলারের প্রতিভা বুঝতে একটুও অসুবিধা হয়নি রেক্সাসের। কোনো মতেই এমন ফুটবলারকে সই করানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি রেক্সাস।

সেই হোটেলের একটি ন্যাপকিন পেপারেই মেসিকে দিয়ে প্রাথমিক স্বাক্ষর করিয়ে নেন। ন্যাপকিন পেপারটির লেখার বক্তব্য অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর ২০০০ সালে বার্সেলোনার হয়ে প্রথমবার কোনো চুক্তিতে সই করেছিলেন মেসি। সেখানে রেক্সাস ছাড়াও হোসে মিঙ্গুয়েলা এবং আর্জেন্টিনায় মেসির এজেন্ট হোরাসিও গ্যাগিওলি ছিলেন। রেক্সাস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মেসিকে নিজের তত্ত্বাবধানে যত্নে রাখবেন।

পরে এক সাক্ষাৎকারে রেক্সাস জানিয়েছিলেন, হাতের কাছে আর কিছু না পেয়েই ন্যাপকিন পেপারে স্বাক্ষর করিয়েছিলেন মেসিকে। মেসির বাবাকে রাজি করিয়েছিলেন এই বলে যে, তার নাম থাকলে বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে এই স্বাক্ষরের।

এত দিন সেই ন্যাপকিন অ্যান্ডোরার একটি ভল্টে লুকিয়ে রাখা ছিল। হোরাসিও গ্যাগিওলির তত্ত্বাবধানেই ছিল পেপারটি। এর মধ্যেই মেসি বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হয়ে ওঠেন। বেশ কয়েক বছর হলো সেই ক্লাব ছেড়েও দিয়েছেন।

এত দিনে সেই ন্যাপকিন পেপারকে ব্রিটিশ নিলাম হাউজ বোনহামসের মাধ্যমে নিলামে তুললেন গ্যাগিওলি। নিলামে এর ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ৩ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা)। সেই ন্যাপকিন পেপারটি শেষ পর্যন্ত বিক্রি হলো ৭ লাখ ৬২ হাজার পাউন্ডে।

বিষয়:

ঝড়ে লণ্ডভণ্ড স্টেডিয়াম, ‘অনিশ্চিত’ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সিরিজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ভয়াবহ ঝড় হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঝড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ জন। এই ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্স। এখানেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের।

আগামী ২১, ২৩ ও ২৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ম্যাচগুলো। তবে ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি পিটার ডেল্লা পেন্না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, এই ম্যাচগুলো হওয়া এখন অনিশ্চিত।

তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হওয়া এখন অনিশ্চিত হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বড় একটি ঝড় হয়ে গেছে হিউস্টনে। সম্প্রতি তৈরি করা প্রেইরি ক্রিকেট কমপ্লেক্সের বেশিরভাগ স্থাপনাই তাতে ধ্বংস হয়ে গেছ।’

এর আগে বিশ্বকাপের উদ্দেশে গত ১৫ মে রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান সাকিব-মাহমুদুল্লাহরা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, নেপাল ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ৮ জুন শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে টাইগাররা। এরপর গ্রুপ পর্বে ১০ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৩ জুন নেদারল্যান্ডস এবং ১৭ জুন নেপালের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।


banner close