বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তিন ফরম্যাটে নতুন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আজ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির বোর্ড সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তর নাম অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। অন্তত আগামী এক বছরের জন্য তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন শান্ত।
এর আগেও শান্ত তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে প্রতিবারই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন। শুরুটা হয়েছিল গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে। লিটন দাস বিশ্রামে থাকায় তাকে অধিনায়ক করা হয়েছিল।
এ ব্যাপারে পাপন বলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। কালকে পর্যন্ত যেটা কথা হয়েছে; ওর চোখের সমস্যা এখনও যায়নি। কাজেই আমাদের সামনে শ্রীলঙ্কা সিরিজ আছে, তারপর আরেকটা সিরিজ আছে; বিশ্বকাপ আছে। আসলে তাকে পাবো কিনা আমরা নিশ্চিত না। ’
অবশ্যই ও আমাদের প্রথম পছন্দ অধিনায়ক হিসেবে সবসময়ই ছিল, এখনও আছে। দুর্ভাগ্যবশত যেহেতু একটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, এটার মধ্যে আমরা থাকতে চাচ্ছি না। কাজেই আমরা সিদ্ধান্ত আর দেরি করতে চাইনি। এখন থেকে বিশ্বকাপের খুব বেশি দেরি নেই, এই সময়ে যেন ভালোভাবে দলটা চলতে পারে; সেজন্য এই নামটা (শান্ত) আমরা ঘোষণা করে দিয়েছি।'
প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে লিপু
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তার নেতৃত্বে জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে বাকি দুই নির্বাচক হিসেবে থাকবেন আব্দুর রাজ্জাক ও হান্নান সরকার।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও খেলার ছন্দে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বমঞ্চে নিরাপত্তা ইস্যুতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতিতে ক্রিকেটারদের দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে না রেখে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি বিশেষ কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
উল্লেখ্য যে, ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পর থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত হয়। আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিলেও বিসিবি তার অবস্থানে অটল থাকে। ফলস্বরূপ গত শনিবার সন্ধ্যায় আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাংলাদেশের এমন কঠোর অবস্থান এবং বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থেকে ছিটকে পড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ দলের বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা নেই। এই দীর্ঘ ফাঁকা সময়ে জাতীয় দল এবং জাতীয় দলের পুলে থাকা ক্রিকেটারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতেই সপ্তাহব্যাপী এই কন্ডিশনিং ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ক্যাম্পটি মূলত খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখা এবং দীর্ঘ বিরতির জড়তা কাটিয়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেবে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্রিকেটার নিজ নিজ এলাকায় পরিবারের সাথে ছুটি কাটাচ্ছেন, তবে ১ ফেব্রুয়ারির আগেই তাদের ঢাকায় রিপোর্ট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মাসেই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিসিএল শুরুর আগে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ঝালাই করে নিতে এই ক্যাম্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে আরও একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছে বোর্ড। মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই সাময়িক শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে এবং ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখতে ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপরই এখন প্রধান নজর দিচ্ছে বিসিবি। এটি ক্রিকেটারদের জন্য যেমন প্রস্তুতির সুযোগ, তেমনি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়নেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের দাপট বজায় রেখে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আজ বুধবার সুপার সিক্সের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয়ের স্বাদ পেয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। এই জয়ের পর বিকেলে অন্য এক ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ে বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ গাণিতিকভাবে নিশ্চিত হয়ে যায়। বাংলাদেশের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসও বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট পেয়েছে।
সুপার সিক্সের টেবিলে এই মুহূর্তে সবার উপরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নিগার সুলতানাদের রানরেট এখন ১.১৫০। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের পয়েন্ট সুপার সিক্সে যোগ হয়েছে। সুপার সিক্সের সেরা চারটি দলের জন্য এ বছরের জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দরজা উন্মোচিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে বাংলাদেশ প্রথম দল হিসেবে জায়গা করে নিল।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানের বড় পুঁজি পায় বাংলাদেশ। এটি নারী টি-টোয়েন্টিতে টাইগ্রেসদের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার দিলারা আক্তার প্রথম বলে বিদায় নিলেও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি দলের হাল ধরেন। এই জুটি ৮২ বলে ১১০ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। জুয়াইরিয়া ৪৫ বলে ৪টি ছক্কায় ৫৬ রান করেন, যা টি-টোয়েন্টিতে কোনো বাংলাদেশি নারী ব্যাটারের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড। অন্য প্রান্তে সোবহানা মোস্তারি আরও মারমুখী হয়ে ৪২ বলে ৫৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। শেষ দিকে রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ হয়।
১৬৬ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় থাইল্যান্ড। পেসার মারুফা আক্তার ইনিংসের প্রথম বলেই থাই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠিয়ে বিপর্যয় শুরু করেন। থাইল্যান্ড ১০ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৬১ রান তুললেও প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। শেষ ৫ ওভারে জয়ের জন্য তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৭৫ রান, যা তাদের ব্যাটারদের পক্ষে টপকানো সম্ভব ছিল না। শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ড ১২৬ রানেই থামে। বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা আক্তার ২৫ রানে ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া রিতু মনি ও স্বর্ণা আক্তার প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
বাছাইপর্বের শুরু থেকেই দাপুটে পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশের মেয়েরা গ্রুপ পর্যে নামিবিয়া, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সুপার সিক্সে এসেছিল। আজকের জয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন সত্যি হলো নিগার সুলতানার দলের। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কন্ডিশনে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দেশের নারী ক্রিকেটের এই অভাবনীয় সাফল্যে ক্রীড়াঙ্গনে বইছে আনন্দের জোয়ার।
আগামী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের অংশগ্রহণ কিংবা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ বয়কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা গুঞ্জন চললেও, প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখছে না সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকেই মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে লঙ্কান সরকার। বিশেষ করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠেয় ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই ম্যাচের জন্য বিশেষ এলিট সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সুরক্ষায় যে কমান্ডো ইউনিটগুলো কাজ করে, এবার তাদেরকেই অংশ নেওয়া দলগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হবে। খেলোয়াড়রা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে পুনরায় বিমানে ওঠা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারার আওতায় থাকবেন। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনিল কুমারা গামাগে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টটি সফলভাবে আয়োজন করা তাদের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তান দল ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়। শ্রীলঙ্কায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ২০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ দল নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতে খেলতে না চাওয়ায় আইসিসি তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, তারা আগামীকাল বা আগামী সোমবারের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
আঞ্চলিক এই অস্থিরতার মাঝেও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। এসএলসি সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে স্পষ্ট করেছেন যে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বা রাজনৈতিক বিরোধে জড়াতে চান না। তাঁর মতে, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—সব দেশই শ্রীলঙ্কার পরম বন্ধু। ফলে তারা কেবল একটি ক্রীড়া আসর সফল করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন। দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর গত বছরের সীমান্ত সংঘর্ষ এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কলম্বোর এই এলিট নিরাপত্তা প্রস্তুতিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন বিশ্ববাসীর নজর পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার অ্যারন জোন্সকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তাঁর বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের পাঁচটি ভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে তাঁর খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, জোন্সের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো মূলত বার্বাডোজে ২০২৩-২৪ মৌসুমে আয়োজিত ‘বিম-১০’ টুর্নামেন্টকেন্দ্রিক। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লুআই) আওতাভুক্ত এই টুর্নামেন্টে ফিক্সিংয়ে সরাসরি জড়িত থাকা, অন্য কাউকে প্ররোচিত করা এবং কোনো সন্দেহজনক প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা সময়মতো কর্তৃপক্ষকে না জানানোর মতো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি সরাসরি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে তদন্ত চলাকালে তথ্য গোপন ও কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ২.৪.৪ ও ২.৪.৭ অনুচ্ছেদে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বর্তমানে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে শ্রীলঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র দলের একটি নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। ক্যাম্পের ১৮ জন সদস্যের মধ্য থেকে পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাঁকে চূড়ান্ত ১৫ জনের দলে রাখা প্রায় নিশ্চিত ছিল। আইসিসি তাঁকে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শনের জন্য ১৪ দিন সময় দিয়েছে। সংস্থাটি আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি একটি ব্যাপক ভিত্তিক তদন্তের অংশ এবং ভবিষ্যতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া অ্যারন জোন্স যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে এ পর্যন্ত ৫২টি ওয়ানডে এবং ৪৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যেমন সিপিএল, বিপিএল এবং এমএলসিতেও তিনি নিয়মিত খেলেছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে দলের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের দুর্নীতির দায়ে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আপাতত সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে হবে এই তারকা ব্যাটারকে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটের লিগ পর্ব এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় পরিণতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। গত রাতে একই সময়ে শুরু হওয়া শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে প্রতি মুহূর্তেই পয়েন্ট টেবিলের চিত্র বদলেছে, যা দর্শকদের উপহার দিয়েছে টানটান উত্তেজনা। ৩৬ দলের এই বিশাল আসরে লিগ পর্বের লড়াই শেষে টেবিলের শীর্ষে থেকে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। গানার্সদের পাশাপাশি দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহাম হটস্পার, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্টিং সিপি এবং ম্যানচেস্টার সিটি। শেষ রাউন্ডে আর্সেনাল ৩-২ গোলে কাইরাত আলমাতিকে হারিয়ে নিজেদের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে, অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ ২-১ গোলে পিএসভি আইন্দহোভেনের বিপক্ষে জয় পেয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে।
তবে ইউরোপীয় পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত রিয়াল মাদ্রিদ এবং পিএসজির জন্য রাতটি ছিল বেশ হতাশাজনক। তিন নম্বরে থেকে শেষ রাউন্ডে নামা রিয়াল মাদ্রিদ বেনফিকার মাঠে ৪-২ গোলে হেরে সরাসরি শেষ ষোলোর দৌড় থেকে ছিটকে গিয়ে নবম স্থানে নেমে গেছে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের এবার শেষ ষোলোতে উঠতে হলে প্লে-অফ রাউন্ডের বাধা টপকাতে হবে। একইভাবে ঘরের মাঠে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার ফলে প্লে-অফে খেলতে হবে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজিকে। ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ, বায়ার লেভারকুজেন এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোকেও সেরা আটে জায়গা না পাওয়ায় এখন দুই লেগের প্লে-অফ খেলে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে হবে।
লিগ পর্বের শেষ রাতের অন্যতম বড় চমক ছিল বেনফিকার ঘুরে দাঁড়ানো। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে গোলরক্ষকের একটি অবিশ্বাস্য গোলে তারা নাটকীয়ভাবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে। প্লে-অফে ৯ থেকে ২৪ নম্বরে থাকা ১৬টি দল মুখোমুখি হবে, যেখান থেকে জয়ী আটটি দল সরাসরি শেষ ষোলোর আটটি দলের সঙ্গে পরবর্তী রাউন্ডে যোগ দেবে। প্লে-অফ সমীকরণে রিয়াল মাদ্রিদ বা ইন্টার মিলানকে লড়তে হতে পারে বেনফিকা বা বুদে/গ্লিম্টের বিপক্ষে এবং পিএসজি বা নিউক্যাসলের মুখোমুখি হতে পারে মোনাকো অথবা কারাবাখ। বায়ার লেভারকুসেন বা আতালান্তার বিপক্ষে ডর্টমুন্ডের লড়াই হওয়ারও জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
৩৬ দলের এই আসর থেকে মোট ১২টি দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। কাইরাত আলমাতি, ভিয়ারিয়াল, স্লাভিয়া প্রাহা এবং আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট আগেই বিদায় নিশ্চিত করলেও শেষ দিনে তাদের সঙ্গী হয়েছে মার্সেই, নাপোলি, আয়াক্স, পিএসভি আইন্দহোভেন, অ্যাথলেটিক বিলবাও এবং কোপেনহেগেনের মতো পরিচিত নামগুলো। টেবিলের তলানিতে থাকা এই দলগুলোর ইউরোপীয় যাত্রা এখানেই শেষ হলো। এখন বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনের নজর থাকবে প্লে-অফ রাউন্ডের দিকে, যা নির্ধারণ করে দেবে ইউরোপসেরার লড়াইয়ের নকআউট পর্বের পূর্ণাঙ্গ চিত্র। মূলত নতুন এই ফরম্যাট দলগুলোর মধ্যে প্রতিটি গোলের জন্য লড়ার যে তাগিদ তৈরি করেছে, তাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমাঞ্চ এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেছেন, খেলাধুলা শুধু কোমলমতি শিশুদের মনকেই প্রফুল্ল রাখে না, খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব। তিনি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে নরসিংদী সাটিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২৬তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন।
নরসিংদী সাটিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস আলী ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মনোয়ার হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার এ.এস.এম আব্দুল খালেক, নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি খবিরুল ইসলাম বাবুল, সাটিরপাড়া কালী কুমার ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তালেব, গভর্নিংবডির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি আশরাফ মাহমুদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক দেব প্রসাদ সাহা, সিনিয়র শিক্ষক রাশেদুল আলম, আকলিমা আক্তার, সহকারী শিক্ষক অহিদুজ্জামান অপু, সিনিয়র শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ, বশীর আহমদ খান, হিরু মিয়া ও তপন কুমার আচার্যসহ অন্যরা।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘নরসিংদী জেলায় উন্মোক্ত খেলার মাঠের সংখ্যা খুবই কম, তাই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মাঠগুলো যাতে বিনষ্ট না হয় সেইদিকে সকলের দৃষ্টি রাখার জন্য আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিরা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা অধরাই রয়ে গেল পোলিশ টেনিস তারকা ইগা শিয়াটেকের। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মেলবোর্নে পা রাখলেও কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হতে পারেননি তিনি। আজ বুধবার মেলবোর্ন পার্কের রড লেভার অ্যারেনায় কাজাখস্তানের এলেনা রিবাকিনার কাছে সরাসরি সেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন বিশ্বের সাবেক এক নম্বর এই তারকা। এই পরাজয়ের মাধ্যমে ওপেন যুগে ষষ্ঠ নারী হিসেবে চারটি ভিন্ন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার এক অনন্য মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলো শিয়াটেকের।
সেরা আটের এই লড়াইয়ে টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে থাকা শিয়াটেককে ৭-৫, ৬-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছেন রিবাকিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজয়ীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। প্রথম সেটে দুজনেই একে অপরের সার্ভিস ব্রেক করলেও শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ৭-৫ গেমে সেটটি নিজের করে নেন রিবাকিনা। বিশেষ করে ১২তম গেমে ০-৩০ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেট জয় করাটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয় সেটে কাজাখ তারকা আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এবং শিয়াটেককে কোনো সুযোগ না দিয়ে মাত্র এক গেম ছেড়ে দিয়ে ৬-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
২৪ বছর বয়সী ইগা শিয়াটেক বর্তমানে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন। ঘাসের কোর্টে সাফল্যের পর মেলবোর্নের দ্রুতগতির হার্ড কোর্টে নিজের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে নেমেছিলেন তিনি। তবে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, বাইরের প্রত্যাশার চাপ এড়িয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চান তিনি। কিন্তু রিবাকিনার মতো আক্রমণাত্মক প্রতিপক্ষের শক্তিশালী সার্ভ এবং গেম রিডিংয়ের সামনে আজ শিয়াটেকের সার্ভিস ও ব্যাকহ্যান্ডে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজের সার্ভিস গেমগুলো রক্ষা করতে না পারাই তার বিদায়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ২৬ বছর বয়সী এলেনা রিবাকিনা আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে মেলবোর্নের কোর্টে অন্যতম সেরা দাবিদার ভাবা হয়। ২০২২ সালের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন রিবাকিনা গত বছরও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে খেলেছিলেন। রানার্সআপ হওয়ার সেই আক্ষেপ ঘোচাতে এবার তিনি মরিয়া। সেমিফাইনালে রিবাকিনার প্রতিপক্ষ হতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এক খেলোয়াড়। শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে জেসিকা পেগুলা ও আমান্ডা আনিসিমোভার মধ্যকার লড়াইয়ে জয়ী টেনিসারের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবেন কাজাখস্তানের এই অপ্রতিরোধ্য তারকা। শিয়াটেককে হারানোর পর রিবাকিনা এখন শিরোপার দৌড়ে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে লঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো টর্নেডো চালিয়ে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল সফরকারী ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের রেকর্ড গড়া বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং জো রুটের ধ্রুপদী ব্যাটিংয়ে ৫৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ইংলিশরা। গত মঙ্গলবারের এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল হ্যারি ব্রুকের দল, যা ২০২৩ সালের পর বিদেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়। আগের ম্যাচে এই উইকেটকে ‘সবচেয়ে বাজে’ বলে মন্তব্য করলেও, এদিন সেই মাঠেই ব্যাট হাতে লঙ্কানদের শাসন করেন ব্রুক।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। ওপেনার বেন ডাকেট মাত্র ৭ রানে বিদায় নেন এবং মেইকশিফট ওপেনার রেহান আহমেদও ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে তৃতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। জ্যাকব বেথেল ও জো রুট মিলে ১২৬ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। উইকেটরক্ষক ব্যাটার বেথেল ৭২ বলে ৬৫ রান করে আউট হলে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। এরপরই শুরু হয় ব্রুক-রুট মহাকাব্য। এই দুই ব্যাটার ১১৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৯১ রানের জুটি গড়েন, যার অধিকাংশ রানই আসে ব্রুকের ব্যাট থেকে।
হ্যারি ব্রুক এদিন ৬৬ বলে ১৩৬ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১১টি চার ও ৯টি ছক্কার মার। তিনি মাত্র ৫৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির ইয়ন মরগানের রেকর্ডে ভাগ বসান। মজার বিষয় হলো, রুট যখন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তখন ব্রুক ছিলেন হাফসেঞ্চুরিতে, কিন্তু ইনিংসের শেষ ৩৪ বলে ব্রুক একাই তোলেন ৯৮ রান। অন্য প্রান্তে অভিজ্ঞ জো রুট ১০৮ বলে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৫৭ রান।
৩৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুটা করেছিল ঝোড়ো গতিতে। পাওয়ার প্লের প্রথম ১০ ওভারেই ১০৪ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান করে বিদায় নেন। তবে দ্রুত রান তুললেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যায় চারিথ আসালাঙ্কার দল। লঙ্কানদের হয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান ২৩ বছর বয়সী পভন রত্ননায়েক। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি ১১৫ বলে ১২১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন। কিন্তু অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় কোনো সমর্থন না পাওয়ায় ৪৬.৪ ওভারে ৩০৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সফল ছিলেন জেমি ওভারটন, লিয়াম ডসন, উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ; তারা প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর ব্রুক-রুটের ব্যাটিং নৈপুণ্যে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা। বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে এই সিরিজ জয় ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য এক নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে লড়াই করেও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে খেই হারিয়ে হতাশ হতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে।
আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম প্রাণপুরুষ এবং বিশ্বকাপজয়ী তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে তার আবেদন এখনও অমলিন। আসন্ন আরেকটি বিশ্বকাপের হাতছানি থাকলেও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায়কে বিদায় জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি। সম্প্রতি স্প্যানিশ দৈনিক 'এএস'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি, অবসরের নেপথ্য কারণ এবং সমসাময়িক ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া জানান, জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইচ্ছা মনে সুপ্ত থাকলেও তিনি মনে করেন তার জন্য নির্ধারিত বৃত্তটি পূর্ণ হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের পরপরই অবসরের কথা ভাবলেও সতীর্থদের অনুরোধে তিনি ২০২৪ কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যান। ডি মারিয়ার ভাষায়, জাতীয় দলের হয়ে যা কিছু অর্জন করার ছিল, তার সবই তিনি পেয়েছেন এবং এখন সময় এসেছে নতুন প্রজন্মের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়ার। কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে বিদায় নেওয়াটাকে তিনি একটি সুন্দর সিনেমার সমাপ্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ক্যারিয়ারে কাতার বিশ্বকাপসহ মোট ৩৭টি শিরোপা জিতলেও ডি মারিয়ার কাছে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়টি সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। ২৮ বছরের দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটিয়ে ব্রাজিলের মাটিতে মারাকানা স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল আর্জেন্টিনার জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। সেই ফাইনালে নিজের করা জয়সূচক গোলটিকে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে ডি মারিয়া বলেন, ক্লাব পর্যায়ে অনেক সাফল্য পেলেও দেশের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না জেতার যে মানসিক চাপ ছিল, সেই জয়টি তা চিরতরে ঘুচিয়ে দিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপ জয়কে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগের বড় পুরস্কার হিসেবে দেখেন, তবে প্রতিটি শিরোপাই তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব ফুটবলের দুই ধ্রুবতারা লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পার্থক্য নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। উভয় খেলোয়াড়ের সঙ্গেই দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ পাওয়া ডি মারিয়া বলেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছিলেন কঠোর পরিশ্রম এবং এক নম্বর হওয়ার নেশায় বুঁদ হওয়া একজন অতি-পেশাদার ফুটবলার। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি লকার রুমে আড্ডার মাঝেও মাঠে নেমে নিজের ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিতে পারতেন। রোনালদোর দীর্ঘ সময় ধরে একই মান বজায় রাখার ক্ষমতার প্রশংসা করলেও ডি মারিয়ার মতে, মেসির যুগে জন্মানোর কারণে রোনালদোর জন্য নিজের লক্ষ্য পূরণ অনেক সময় আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বর্তমানে রোজারিও সেন্ট্রালের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড তার ক্যারিয়ারের অর্জিত প্রতিটি সাফল্যকেই কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের ফল বলে মনে করেন। ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলীয় সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ডি মারিয়া বিশ্বাস করেন, তিনি তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন এবং এখন নতুনদের এগিয়ে যাওয়ার সময়। তার এই স্মৃতিচারণা আবারও ফুটবল ভক্তদের মনে করিয়ে দিল আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা, যেখানে তার পা থেকে আসা গোলগুলো বারবার বিশ্বজয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের লিগ পর্ব এখন রোমাঞ্চকর এক চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্টের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী আজ একটি মাত্র রাতেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে লিগ পর্বের চূড়ান্ত ফলাফল। ৩৬টি দলের এই লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো চিত্র পরিষ্কার হয়নি, বরং ৩০টি দলই আজ মাঠে নামছে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে। ফুটবল বিশ্বের এই মহানাটকের এক রাতের ফলাফলই পারে কোনো মাঝারি সারির দলকে সরাসরি 'সুপার এইটে' তুলে আনতে, আবার কোনো বড় পরাশক্তিকে ঠেলে দিতে পারে ঝূঁকিপূর্ণ প্লে-অফের লড়াইয়ে। এমনকি কোনো কোনো দলের জন্য অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্ট থেকে সরাসরি বিদায়ের করুণ বাস্তবতা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান নিয়ম অনুসারে, লিগ পর্বের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি শেষ ১৬-তে বা রাউন্ড অফ সিক্সটিনে জায়গা করে নেবে। এরপর ৯ থেকে ২৪ নম্বর স্থানে থাকা দলগুলোকে খেলতে হবে দুই লেগের প্লে-অফ ম্যাচ, যেখান থেকে জয়ী দলগুলো মূল পর্বে যোগ দেবে। আর টেবিলের নিচের দিকে থাকা ১২টি দলের জন্য এবারের ইউরোপীয় আসর সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত এই কঠিন সমীকরণে কেবল দুটি দল নিজেদের সেরা আটে থাকা নিশ্চিত করেছে—যাদের মধ্যে রয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল এবং জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে, আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্লাভিয়া প্রাগ, ভিয়ারিয়াল ও কাইরাত আলমাটি ইতোমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াই আজ মূলত আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর্সেনাল তাদের শেষ ম্যাচে জয় কিংবা ড্র করতে পারলেই টেবিলের এক নম্বর দল হিসেবে লিগ পর্ব শেষ করবে। তবে গানার্সরা যদি হেরে যায় এবং বায়ার্ন মিউনিখ বড় ব্যবধানে জয় পায়, তবেই কেবল বায়ার্নের সুযোগ থাকবে শীর্ষে ওঠার। এদিকে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদও আজ বড় সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। নিজেদের ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সমীকরণ মিলে গেলে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসদের। রিয়াল ছাড়াও লিভারপুল, বার্সেলোনা, পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি এবং ইন্টার মিলানের মতো শক্তিশালী দলগুলো এখনও সরাসরি শেষ ১৬-তে নাম লেখানোর দৌড়ে টিকে আছে।
কেবল শীর্ষে ওঠাই নয়, টেবিলের মাঝের সারিতে থাকা দলগুলোর জন্য লড়াইটি এখন টিকে থাকার। মার্সেই, লেভারকুজেন, নাপোলি এবং বেনফিকার মতো দলগুলো চেষ্টা করছে সেরা ২৪-এর মধ্যে থেকে প্লে-অফ নিশ্চিত করতে। প্রতিটি গোল এবং প্রতিটি পয়েন্ট আজ পুরো টেবিলের চেহারা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। লিগ পর্বের এই শেষ দিনটি কোনো সাধারণ ম্যাচডে নয়, বরং এটি ৩৬টি দলের দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিশ্রমের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই রাতটি হতে যাচ্ছে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের রাত, যেখানে ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে দেবে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের আগামীর গতিপথ। কোনো দলের জন্য আজ হবে আনন্দের উৎসব, আর কারো জন্য হয়তো ঝরবে বিদায়ের অশ্রু।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে দেশের ভেতরে নানা বিতর্ক দীর্ঘদিনের পুরোনো হলেও এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের মানহানির মুখে পড়েছে টুর্নামেন্টটি। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ক্রিকেট ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’-এর এক সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় বিপিএলকে বিশ্বের সবচেয়ে তলানির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইসিসি স্বীকৃত বিশ্বের ১০টি প্রধান ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ওপর ভিত্তি করে করা এই র্যাঙ্কিংয়ে বিপিএলের অবস্থান হয়েছে দশম। ক্রিকেটের মান, ব্যবস্থাপনা এবং গ্রহণযোগ্যতা—সব দিক বিবেচনা করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে যা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
‘দ্য ক্রিকেটার’ তাদের এই র্যাঙ্কিং তৈরির ক্ষেত্রে চারটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করেছে। এগুলো হলো—বিনোদনের মান, খেলার গুণগত মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং সামগ্রিক অবস্থান। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশ্বের ১০টি শীর্ষ লিগের মধ্যে চালানো এই তুলনামূলক বিশ্লেষণে বিপিএল তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতেই ১০ নম্বরে অবস্থান করছে। কেবল স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগ ১০ নম্বরে থাকায় বিপিএল এই একটি খাতে নবম স্থানে নাম লেখাতে পেরেছে। তবে সামগ্রিক বিচারে বিশ্বের অন্য সব বড় লিগের তুলনায় বিপিএলকে অনেকটাই পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
এই তালিকায় অনুমিতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ব্যয়বহুল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ হিসেবে ভারতের আইপিএল শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন আসর এসএ টি-টোয়েন্টি। ক্রিকেটের মান ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার বিচারে আইপিএল এক নম্বরে থাকলেও বিনোদনমূল্যের দিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকান লিগটিকে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে ব্রিটিশ এই ম্যাগাজিন। এছাড়া বিগ ব্যাশ, দ্য হানড্রেড, এমনকি পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটও বিপিএলের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও বিপিএলের চেয়ে সেটির মানকে উন্নত বলে ধরা হয়েছে।
বিপিএল কেন এত নিচে অবস্থান করছে, তার কারণও ব্যাখ্যা করেছে ‘দ্য ক্রিকেটার’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপিএল এবং লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) পেছনে প্রধান নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে নিয়মিত আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগ। ম্যাগাজিনটির মতে, বিপিএলের সঙ্গে শুরু থেকেই বিভিন্ন সময়ে ফিক্সিং ও বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ জড়িয়ে আছে, যা এর বিশ্বস্ততা এবং গ্রহণযোগ্যতাকে তলানিতে নিয়ে গেছে। এছাড়া বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারানো এবং আয়োজনের দুর্বলতাও এই র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিপিএল নিয়ে এমন নেতিবাচক প্রতিবেদন আসার পর দেশের ক্রিকেট মহলে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা এবং টুর্নামেন্টের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিপিএলকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। যদিও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বরাবরই একে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা লিগ হিসেবে দাবি করে আসছিল, তবে ব্রিটিশ এই ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন সেই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। মূলত দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পেশাদারিত্ব বাড়ানোর মাধ্যমেই কেবল বিপিএলকে এই অপমানজনক অবস্থান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী এককের কোয়ার্টার ফাইনালে ১৮ বছর বয়সী আমেরিকান উদীয়মান তারকা ইভা জোভিচকে পাত্তাই দিলেন না আরিনা সাবালেঙ্কা। বর্তমান বিশ্বসেরা এই টেনিস তারকা সরাসরি সেটে ৬-৩ ও ৬-০ গেমের বিশাল জয়ে টুর্নামেন্টে সবার আগে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন। মেলবোর্ন পার্কের উত্তপ্ত আবহাওয়ায় শুরু থেকেই নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন এই বেলারুশিয়ান তারকা।
ম্যাচের প্রথম সেট থেকেই জোভিচকে চাপে রাখেন সাবালেঙ্কা। শুরুতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলেন। জোভিচ কিছু সময়ের জন্য লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও অভিজ্ঞ সাবালেঙ্কার শক্তিশালী সার্ভ ও নিখুঁত ফোরহ্যান্ডের সামনে টিকতে পারেননি। দ্বিতীয় সেটে সাবালেঙ্কা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। শুরুতেই প্রতিপক্ষের সার্ভ ব্রেক করে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন। পুরো সেটে জোভিচকে কোনো পয়েন্ট জেতার সুযোগ না দিয়েই ৬-০ ব্যবধানে 'ব্যাগেল' উপহার দিয়ে ম্যাচটি দ্রুততম সময়ে শেষ করেন সাবালেঙ্কা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাবালেঙ্কা তার তরুণ প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি। তিনি বলেন, স্কোরবোর্ডে জয়টি সহজ মনে হলেও মাঠের লড়াই মোটেও সহজ ছিল না। ইভা জোভিচ একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় এবং তার লড়াকু মনোভাব সাবালেঙ্কাকে নিজের সেরাটা দিতে বাধ্য করেছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শিরোপাজয়ী সাবালেঙ্কা এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার পথে রয়েছেন। গত চার বছরের মধ্যে এটি তার তৃতীয় সম্ভাব্য শিরোপা জয়ের সুযোগ। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ হবেন কোকো গফ অথবা এলিনা স্বিতোলিনা। বর্তমানে যে ছন্দে তিনি রয়েছেন, তাতে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট হিসেবেই তাকে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের একটি ঐতিহাসিক ‘ব্যাগি গ্রিন’ টুপি রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ব্যবহৃত এই বিশেষ টুপিটি অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের এক নিলামে ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ব্র্যাডম্যানের ব্যবহৃত কোনো টুপির ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড। এই নিলামটি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট প্রেমী ও সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে কারণ দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে এই মহামূল্যবান স্মারকটি একটি ভারতীয় পরিবারের কাছে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষিত ছিল।
এই বিশেষ ব্যাগি গ্রিনটির ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। ১৯৪৮ সালের সেই সিরিজের সময় ব্র্যাডম্যান টুপিটি ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীরাঙ্গা ওয়াসুদেব সোহোনিকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। এরপর সোহোনির পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে এটি তালাবদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষণ করে আসছিল। নিলাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘লয়েডস অকশনার্স অ্যান্ড ভ্যালুআরস’-এর চিফ অপারেটিং অফিসার লি হেমস জানিয়েছেন, এই টুপিটি দেখার বিষয়ে সোহোনি পরিবারের নিয়ম ছিল অত্যন্ত কঠোর। পরিবারের কোনো সদস্যের বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলে তাকে কেবল মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য এই অমূল্য রত্নটি দেখার অনুমতি দেওয়া হতো। দীর্ঘ সাড়ে সাত দশক এভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর অবশেষে এটি নিলামের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলো।
নিলামে বিক্রি হওয়া এই টুপিটি অত্যন্ত চমৎকার অবস্থায় রয়েছে। টুপির ভেতরের অংশে ‘ডিজে ব্র্যাডম্যান’ এবং ‘এসডব্লিউ সোহোনি’—উভয় ক্রিকেটারের নামই হাতে লেখা রয়েছে। যদিও ক্রেতা তার পরিচয় গোপন রেখেছেন, তবে জানা গেছে যে ঐতিহাসিক এই স্মারকটি প্রদর্শনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার একটি জাদুঘরে রাখা হবে। এর আগে ২০২০ সালে ব্র্যাডম্যানের ১৯২৮ সালের অভিষেক সিরিজের একটি ব্যাগি গ্রিন সাড়ে চার লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল, যা এতদিন পর্যন্ত তার দামি টুপির তালিকায় শীর্ষে ছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে পোকা খাওয়া ও কিছুটা নষ্ট হয়ে যাওয়া তার অন্য একটি টুপি ৩ লাখ ১১ হাজার ডলারে বিক্রি হয়।
ক্রিকেট বিশ্বের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হিসেবে স্বীকৃত ডন ব্র্যাডম্যান ১৯২৮ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে মাত্র ৫২টি টেস্ট খেলে ৯৯.৯৪ গড়ে ২৯টি সেঞ্চুরি করেছিলেন। তার অসামান্য অর্জনের কারণেই তার ব্যবহৃত যেকোনো সামগ্রীর প্রতি সংগ্রাহকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকে। তবে ব্যাগি গ্রিন টুপির ক্ষেত্রে সামগ্রিক বিশ্বরেকর্ডটি এখনও প্রয়াত শেন ওয়ার্নের দখলে। ২০১৯-২০ সালের অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের জন্য ওয়ার্নের একমাত্র ব্যাগি গ্রিনটি ১০ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তবে ব্র্যাডম্যানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের নিরিখে আজকের এই নিলামটি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।