রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

টাইগারদের তিন ফরম্যাটে নতুন অধিনায়ক শান্ত

ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২১:০২

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তিন ফরম্যাটে নতুন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আজ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির বোর্ড সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তর নাম অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। অন্তত আগামী এক বছরের জন্য তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন শান্ত।

এর আগেও শান্ত তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে প্রতিবারই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন। শুরুটা হয়েছিল গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে। লিটন দাস বিশ্রামে থাকায় তাকে অধিনায়ক করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে পাপন বলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। কালকে পর্যন্ত যেটা কথা হয়েছে; ওর চোখের সমস্যা এখনও যায়নি। কাজেই আমাদের সামনে শ্রীলঙ্কা সিরিজ আছে, তারপর আরেকটা সিরিজ আছে; বিশ্বকাপ আছে। আসলে তাকে পাবো কিনা আমরা নিশ্চিত না। ’

অবশ্যই ও আমাদের প্রথম পছন্দ অধিনায়ক হিসেবে সবসময়ই ছিল, এখনও আছে। দুর্ভাগ্যবশত যেহেতু একটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, এটার মধ্যে আমরা থাকতে চাচ্ছি না। কাজেই আমরা সিদ্ধান্ত আর দেরি করতে চাইনি। এখন থেকে বিশ্বকাপের খুব বেশি দেরি নেই, এই সময়ে যেন ভালোভাবে দলটা চলতে পারে; সেজন্য এই নামটা (শান্ত) আমরা ঘোষণা করে দিয়েছি।'

প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে লিপু

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তার নেতৃত্বে জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে বাকি দুই নির্বাচক হিসেবে থাকবেন আব্দুর রাজ্জাক ও হান্নান সরকার।


জয় দিয়ে সাফ শুরু বাংলাদেশের

জয় পেয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ মার্চ, ২০২৪ ১৯:২৯
ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশের নারীরা। নেপালের কাঠমান্ডুর চেসাল স্টেডিয়ামে খেলার প্রথমার্ধেই দুই গোল খেয়ে বসে নেপাল।

শুরু থেকেই দাপটের সঙ্গে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সংঘবদ্ধ এক আক্রমণের প্রদর্শনিতে প্রথমার্ধের ২৪ মিনিটে বাংলাদেশ গোল পায়। সাথী মুন্ডার দারুণ এক মুভে থ্রু বল ঠেলে দেন প্রতিপক্ষের গোল বক্সের ভেতর। নেপালের গোলরক্ষক গোল বাঁচাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতি দ্রুতগতিতে বক্সে প্রবেশ করে প্লেসিংয়ে গোল করেন।

৫ মিনিট পর গোলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন প্রীতি নিজেই। বক্সের বাম দিকে দিয়ে আক্রমণে ছিলেন বাংলাদেশের আরেক খেলোয়ার আলফি। গোলরক্ষক তাকে থামাতে গিয়ে গিয়ে ফেলে দেন মাটিতে। ফলে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। স্পট কিক থেকে বাংলাদেশকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন প্রীতি। এভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পর স্বাগতিক নেপাল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেদ করেতে পারেনি। বারবার তাদের আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। খেলার ৬২ মিনিটের মাথায় আরিফার করা ক্রসে সুরভী প্রীতির প্লেসিং করা বল ফিরে আসে জালের পাশে লেগে। এরপর নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলায় গোল পায়নি আর কোনো দল।

এবারের সাফ-১৬ টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশ নিয়েছে। এক ম্যাচ শেষে সমান তিন পয়েন্ট করে অর্জন করেছে ভারত ও বাংলাদেশ। ৫ মার্চ বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে।


এককভাবে ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় সৌদি আরব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

একক প্রার্থী হিসেবে ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় সৌদি আরব। দেশটি ইতোমধ্যে সে লক্ষে কাজ শুরু করেছে।

গত অক্টোবরে একক বিডার হিসেবে শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ এই দেশটির নাম এসেছিল। ওই সময় ফিফার ডেডলাইন শেষ হবার প্রাক্কালে অস্ট্রেলিয়া লড়াই থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়।

এ বছরের শেষে ফিফা কংগ্রেসে স্বাগতিক দেশের নাম ঘোষণা করা হবে।

সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের (এসএএফএফ) সভাপতি ইয়াসির আল মিসেহাল জানিয়েছেন, দেশটির দ্রুত রূপান্তরের কারণে বিড সফল হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সম্পর্কে সৌদি ফুটবল প্রধান বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের ফুটবল গল্প বিশ্বের কাছে তুলে ধরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষ ও নারী ফুটবলে আমরা অভূতপূর্ব উন্নতি করেছি। পুরো বিশ্বকে আমাদের এই চমৎকার যাত্রার সাথে যোগ করতে বিডে উন্মুক্ত আমন্ত্রণ থাকবে।’

বিডিংয়ে একক প্রার্থী থাকলেও ফিফার আইনানুযায়ী টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হলে সৌদি আরবকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিডে অংশ নিতে হবে। সৌদি আরবের বিডের মূল স্লোগান হলো, ‘ক্রমবর্ধমান। একসাথে।’

এখানে রাজ্য, তার জনগন ও বিশ্ব ফুটবলের মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরীর বন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।

২০২১ সালের পর থেকে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতির জন্য সৌদি আরব প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবার জন্য দেশটির যুবরাজ ক্রীড়াঙ্গনকে মূল মন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাতে সৌদি আরব ইতোমধ্যে লাভবানও হয়েছে।

ফুটবল, ফমূর্লা ওয়ান, গলফ, বক্সিংয়ের বেশ কিছু বড় ইভেন্ট সম্প্রতি সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌদি পেশাদার লিগে পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড তারা কিনে নিয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের এসব বড় ইভেন্টের মাধ্যমে দেশটির পর্যটন শিল্পেরও উন্নতি হয়েছে।

ফিফার গাইডলাইন অনুযায়ী বিশ্বকাপের স্বাগতিক হতে হলে একটি দেশকে অবশ্যই মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

ধারণা করা হচ্ছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতই জুন-জুলাইয়ে প্রচন্ড গরমের কথা বিবেচনা করে ২০৩৪ বিশ্বকাপও নভেম্বর-ডিসেম্বরে আয়োজিত হবে। এই প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বর্ধিত কলেবরের টুর্ণামেন্ট কোনো একটি একক দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।


ভারতের পরবর্তী ধোনি জুরেল!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্টেই ইংলিশ বোলারদের করেছেন নাস্তানাবুদ। দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন উইকেটের পেছনেও। পুরস্কার হিসেবে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। এরপর থেকেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে ধ্রুব জুরেল। সুনীল গাভাস্কারের পর এবার অনিল কুম্বলের প্রশংসাও জুটেছে তাঁর কপালে। রাঁচি টেস্টের নায়কের প্রশংসা ‘লিটল মাস্টারের’ মতোই করেছেন ভারতের সাবেক কোচ।

মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন এই তরুণ ক্রিকেটার। দারুণ বিচক্ষণতার পরিচয় দেন উইকেটের পেছনেও। তাই মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন গাভাস্কার। এবার ভারতীয় কিংবদন্তির কথাই প্রতিধ্বনি করেছেন কুম্বলেও। বলেছেন, ভারতের পরবর্তী ধোনি জুরেল।

ধোনির সঙ্গে তুলনা করে কুম্বলে বলেন, ‘ধোনি তার ক্যারিয়ারকে যে পর্যায়ে নিয়েছে তার সব রকম গুণাবলি জুরেলের মধ্যে রয়েছে। সে শুধু ডিফেন্সিভের সময় নিজের কৌশলের পরিচয় দেয়নি, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েও দেখিয়েছে। সে প্রথম ইনিংসের শুরুতে স্নায়ুর পরীক্ষা দেওয়ার পর শেষ দিকে বড় বড় ছক্কা হাঁকিয়েছে।’

রাঁচি টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৯০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে জুরেল অপরাজিত ছিলেন ৩৯ রানে। উইকেটের পেছন থেকে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছিলেন জিমি অ্যান্ডারসনের। রান আউট করেছিলেন বে ডাকেটকে।


অনেক অভিনন্দন নতুন চ্যাম্পিয়ন বরিশালকে

আপডেটেড ২ মার্চ, ২০২৪ ০০:০৩
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

প্রায় দেড় মাসের ক্রিকেট মহাযজ্ঞ। গ্রুপ পর্বের কঠিন সমীকরণ, এলিমিনেটর এরপর কোয়ালিফায়ার; ফাইনালটা তাই সহজ ছিল না বরিশালের জন্য। তবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থেকেই পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে এসেছিল কুমিল্লা। আর কুমিল্লার পরিসংখ্যান ছিল আরও ভয়ঙ্কর।

চারবারের ফাইনাল খেলায়, প্রতিবারই তারা ঘরে তুলেছে ট্রফি। তবে সেসব পরিসংখ্যানকে পাত্তাই দেয়নি তামিমরা। প্রথমবারের মতো ট্রফি জয়ের আশা পূরণ করল বরিশালবাসীর। প্রথমবারের মতো ট্রফি ছুঁয়ে দেখল মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

উত্তাপ ছড়ানো ফাইনালে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পুড়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কুমিল্লার লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ। ভালো শুরুর পরও ইনিংস লম্বা করতে পারেনি কোনো ব্যাটার। অনেকটা উইকেট বিলিয়ে এসেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। শেষদিকে এসে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে চার বারের চ্যাম্পিয়নরা। পাওয়ার-প্লের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় তারা। জেমস ফুলার আর কেইল মায়ার্সের স্লোয়ারে বোকা বনে গেছেন কুমিল্লার টপঅর্ডার। শুরুর ৩ উইকেটই এ দুইজনের। কৃতিত্ব আছে বরিশালের ফিল্ডারদেরও। তারাও সুযোগ দেননি কুমিল্লার ব্যাটারদের। জনসন চার্লসকে ফিরিয়ে ম্যাচের আধিপত্য নেয় বরিশালের ম্যাককয়। ম্যাচে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল মেহেদী মিরাজের রান আউট। দুর্দান্ত সরাসরি থ্রো থেকে শুরুতেই ফিরিয়ে দেন মঈন আলিকে।

কুমিল্লার জন্য কিছুটা ভরসার প্রতীক হয়েছিলেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। কিন্তু সাইফুদ্দিনকে উইকেট বিলিয়ে আসেন তিনি। শেষদিকে আশা দেখাচ্ছিলেন আন্দ্রে রাসেল। উইকেটে নেমে ঝড় তোলেন তিনি। ১৯তম ওভারে ফুলারকে ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে ২১ রান নেন তিনি। শেষ বলে ১ রান নিয়ে প্রান্ত পরিবর্তন করে স্ট্রাইকে থাকেন তিনি। কিন্তু শেষ ওভারে সাইফুদ্দিনের দুর্দান্ত বলে কোনো বাউন্ডারিই হাঁকাতে পারেননি তিনি। এই ওভারে কিপ্টে বোলিংয়ে বরিশালের লক্ষ্যকে বড় হতে দেননি সাইফুদ্দিন।

অধিনায়ক তামিম ইকবালও বেশ অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলির পুরোটাই ঢেলে দিয়েছেন এই ম্যাচে। ম্যাচের অবস্থা দেখে পরিবর্তন এনেছেন বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে। যেটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে কুমিল্লাকে অল্প রানে বেঁধে রাখতে।

জবাবটা বেশ ভালোভাবেই দিয়েছে বরিশালের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর মেহেদী হাসান মিরাজ। বরিশালকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছেন তারা। দুজনে মিলে ৭৬ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথ দেখিয়েছেন। রান সংগ্রাহকের তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তামিম। ২৬ বল থেকে খেলেছেন ৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ এবং দুর্দান্ত ইনিংস। সমান ৩ চার আর ৩ ছক্কায় সাজিয়েছেন নিজের ইনিংস। মেহেদী হাসান মিরাজও ছিলেন সাবলীল ২৬ বল থেকে করেছেন ২৯ রান। এক ওভারের ব্যবধানে এ দুই ব্যাটার ফিরে গেলে সুযোগ তৈরি করতে পারত কুমিল্লাও। কিন্তু হাফ চান্সকে পূর্ণতা দিতে না পারায় সেটা আর সম্ভব হয়নি।

৩০ বল থেকে ৪৬ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে রেখে যান কেইল মায়ার্স। আর বন্দরে নোঙর ফেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর ডেভিড মিলার। মাঝখানে ১৩ রানের ইনিংস খেলে ফিরে যান মুশফিকুর রহিম। মিলারের চারে ৬ উইকেটের জয়ে প্রথম শিরোপা ছুঁয়ে দেখল বরিশাল।

বরিশালের এই জয়ে বড় অবদান ছিল ট্রাম্প কার্ড কেইল মায়ার্সের। ৩০ বল থেকে খেলেছেন ৪৬ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। যেটি শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছে বরিশালকে। বল হাতেও তিনি ছিলেন বরিশালের ভরসার প্রতীক। ৪ ওভারে ২৬ রান খরচে শিকার করেছিলেন ১ উইকেট। মায়ার্সের ওই উইকেটই মোমেন্টাম এনে দিয়েছিল বরিশালের। যে কারণে ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনিই।

দুর্দান্ত একটা আসর পার করলেন তামিম ইকবাল। সামনে থেকে পথ দেখিয়েছে বরিশালকে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ, এলিমিনেটর ম্যাচ আর ফাইনালে তার ব্যাট হেসেছে, সুখের হাসি। আসের সর্বোচ্চ ৪৯২ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাই নিজের ব্যক্তিগত ঝুলিতে ভরেছেন দুটি পুরস্কার। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পাশাপাশি হয়েছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ও।

নিষ্প্রভ ঢাকার দুর্দান্ত শরিফুল ইসলাম। গ্রুপ পর্বে ঢাকা বাদ পড়লেও ২২ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছেন আসরের সেরা উইকেট শিকারি। সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার গেছে ঢাকার ওপেনার নাঈম শেখের ঝুলিতে।


বিপিএল এ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন বরিশাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরচুন বরিশাল।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার দশম আসরের ফাইনাল খেলায় এ জয় পায় দলটি। দলের মতো অধিনায়ক হিসেবে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন তামিম ইকবালও।

শুরুতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান করে কুমিল্লা। জবাবে ১৯ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বরিশাল। ৩৯ রান করেছেন তামিম।

ম্যাচ শুরুর আগে রাজধানীর বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শোক জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে লঙ্কানরা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

প্রায় দশ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা পৌঁছান লঙ্কানরা। বিশ্রাম শেষে এরপর বিকেলের ফ্লাইটে সিলেটে যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসরা। যদিও আজ শুক্রবার আসার কথা ছিল শ্রীলঙ্কা দলের, কিন্তু এক দিন আগেই চলে এসেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে টেস্ট, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল শ্রীলঙ্কা। তারপর পৃথক সংস্করণে খেলতে তারা বহুবার সফরে এসেছেন।

সূচি অনুযায়ী সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৪ মার্চ শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তাদের বহরে এসেছে ২৭ জন। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পরবর্তী দুই ম্যাচ ৬ ও ৯ মার্চ। সিলেটে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। সেখানে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৩, ১৫ ও ১৮ মার্চ হবে তিন ম্যাচ। তার পর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে সফর শেষ করবে শ্রীলঙ্কা। প্রথম টেস্টটি ২২ মার্চ সিলেটে শুরু হবে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট চট্টগ্রামে শুরু হবে ৩০ মার্চ।


ডোপিংকাণ্ডে ৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ পগবা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণের দায়ে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার পল পগবাকে গত বছরের সেপ্টেম্বরেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এবার স্থায়ীভাবে এলো সেই নিষেধাজ্ঞা। সেটাও চার বছরের জন্য। আগামী চার বছর ক্লাব কিংবা জাতীয় দল: কোনো ধরনের ফুটবলই খেলতে পারবেন না এ জুভেন্তাস তারকা। তবে রায়ের বিরুদ্ধে ক্রীড়া আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকছে পগবার।

গত বছরের ২০ আগস্ট সিরি আয় উদিনেসের-জুভেন্তাস ম্যাচের পর ডোপ টেস্টে পগবার শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া যায়। টেস্টোস্টেরন এমন একটি হরমোন যা একজন ক্রীড়াবিদের সহনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। এর জেরে ১১ সেপ্টেম্বর পগবাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। চূড়ান্ত এ রায় ঘোষণার আগে আরেকটি নমুনার কাউন্টার অ্যানালাইসিস করা হলে সেখানেও একই ফল আসে।

এরপর পগবার বিরুদ্ধে ৪ বছরের নিষিদ্ধের অনুরোধ জানায় ইতালির প্রসিকিউটর কার্যালয়। যেটা অ্যান্টি-ডোপিং ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) আপিল করার সুযোগ আছে পগবার।

চার বছরের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় ফ্রান্স তারকার ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলছেন অনেকেই। গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে চার বছরের চুক্তিতে জুভেন্তাসে যোগ দেন পগবা। ইনজুরির কারণে মৌসুমের অনেকটা সময়ই মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমেও এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচই খেলেছেন তিনি।

বিষয়:

নিষিদ্ধ রোনালদো, গুনতে হবে বড় জরিমানাও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যে শাস্তি পেতে যাচ্ছেন, এমনটা জানা গিয়েছিল আগেই। বাকি ছিল শুধু শাস্তির পরিমাণ ঘোষণার। এবার সেটাও জানিয়ে দিলেন সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস কমিটি। এক ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এই পর্তুগিজ তারকাকে। পাশাপাশি জরিমানা গুনতে হবে ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল।

তবে এ শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ রাখেনি কমিটি। যার অর্থ, আল নাসরের সামনের ম্যাচে (বৃহস্পতিবার রাতে) খেলতে পারবেন না ৩৯ বছর বয়সি এ তারকা। সৌদি আরবে খেলতে যাওয়ার পর দর্শকদের আচরণে বিরক্ত হয়ে রোনালদো মেজাজ হারিয়েছেন একাধিকবার। তবে আল শাবাবের বিপক্ষে ম্যাচে তার প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ দৃষ্টিকটু। ম্যাচের সময় শাবাবের এক দল দর্শক ‘মেসি মেসি’ শব্দে আওয়াজ তুললে এক পর্যায়ে তাদের দিকে তাকিয়ে বাজে অঙ্গভঙ্গি করেন রোনালদো।

সে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আর-রিয়াদিয়া জানিয়েছে, ওই দিনের ঘটনা বিষয়ে রোনালদোর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস কমিটি। রোনালদো কমিটিকে জানান, তিনি কোনো দৃষ্টিকটু আচরণ করেননি। যা করেছেন, তা ইউরোপীয় ফুটবলে সাধারণ ব্যাপার। আর সব ক্লাব ও খেলোয়াড়ের প্রতিই তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে।

জরিমানার ৩০ হাজার রিয়ালের মধ্যে ১০ হাজার রিয়াল দিতে হবে সৌদি ফুটবল ফেডারেশনকে। আর অভিযোগ প্রস্তুতকরণ খরচবাবদ আল শাবাবকে ২০ হাজার রিয়াল। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কমিটি।

মেসি-রোনালদোর এই ঈর্ষা শেষ হওয়ার নয়। তাই রোনালদো যেখানেই যাচ্ছেন, মেসির ‘ভুত’ যেন তাড়া করছে তাকে। এমন ঘটনায় সম্প্রতি মেজাজও হারিয়ে ফেলছেন রোনালদো। গত রোববার রাতেও আল শাবাব সমর্থকদের 'মেসি, মেসি' স্লোগানে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি সিআরসেভেন। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর কানের পেছনে হাত নিয়ে সেই স্লোগান শুনছেন এমন ভঙ্গি করেন রোনালদো। এরপর আল-শাবাব সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেই জয় উদযাপন করেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।

বিষয়:

লঙ্কানদের মি. ক্যাপ্টেন কুল, অর্জুনা রানাতুঙ্গা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

গল্পটা যেন ঠিক সিনেমাকেও হার মানায়। ছয় ভাইয়ের সংসার। বাবা রেগি রানাতুঙ্গা রাজনীতিবিদ, মা স্কুলশিক্ষক। ছয় ছেলেকে মানুষ করতে অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিতে হয় বাবা-মাকে। আর্থিক টানাপড়েন বলতে যা বোঝায়, সেটা না থাকলেও প্রায়ই রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হতে হয় ছয় ভাইকে। ১৯৬৩ সালের এক ডিসেম্বরে জন্ম রানাতুঙ্গার। ছয় ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। বাবার রাজনৈতিক জীবন, ছয় ভাইকে নিয়ে মায়ের সংগ্রাম- সবটাই তিনি দেখেছেন চোখের সামনে থেকে। হয়তো কখনো আক্ষেপ করেছেন। ভেবেছেন, জীবনটা আরও সহজ হতে পারত। কিন্তু, দমে যাননি। বরং শৈশব-কৈশোরের কাঠিন্য, তাকে ভবিষ্যতের একজন সত্যিকারের সিংহ হিসেবেই গড়ে তুলেছে। তাই তো, যে ছেলের পরিবারকে একদিন রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়েছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে, সেই ছেলেই একদিন দেশকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটা আনন্দে ভাসান। দেশকে এনে দেন নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।

১৯৮২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় রানাতুঙ্গার। সে ম্যাচে ৫৩ বলে ৪২ রান করে রান আউট হন তিনি। সে বছরই টেস্ট ক্রিকেটেও তার অভিষেক হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। প্রথম টেস্টেই ৫৪ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন তিনি।

১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে যখন শ্রীলঙ্কা সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয়, তখন কিন্তু দলটা শক্তিমত্তার দিক থেকে মোটেও বাকিদের চেয়ে কিংবা ফাইনালের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে ছিল না। দলটাকে আসলে এগিয়ে দিয়েছিলেন এই অর্জুনা ও তার দৃঢ় মনোবল।

৯৩টি টেস্ট আর ২৬৯টি ওয়ানডেতে ৩৫-এর আশপাশে গড় নিয়ে ব্যাট করেছেন। সব মিলিয়ে রান করেছেন ১২ বা ১৩ হাজার। ডানহাতি মিডিয়াম পেসে উইকেট পেয়েছেন ১০০-এরও কম। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেন তিনি।

২০০৮ সালে নির্বাচিত হন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) চেয়ারম্যান। জানুয়ারিতে নিয়োগ পান তিনি, কিন্তু ডিসেম্বরেই আবার তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পুরো নাম- অর্জুনা রানাতুঙ্গা।

জন্ম- ১ ডিসেম্বর ১৯৬৩ সাল।

জন্মস্থান- সিংহলি, শ্রীলঙ্কা।

রাশি: ধনু।

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট।

প্রিয় খাবার: বিরিয়ানি।

প্রিয় পানীয়: চা।

প্রিয় রং: সাদা।

প্রিয় ক্রিকেটার: ভিভ রিচার্ডস।

প্রিয় ক্রিকেট দল: শ্রীলঙ্কা।

প্রিয় সতীর্থ: সনাথ জয়াসুরিয়া।

প্রিয় গাড়ি: অডি।

প্রিয় শখ: গান শোনা, ক্রিকেট খেলা।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: পিউমা।


বিপিএল মহাযজ্ঞ: ট্রফি তুমি কার, কুমিল্লার না বরিশালের!

আপডেটেড ১ মার্চ, ২০২৪ ১১:৫৪
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

আজ শুক্রবার মাঠে গড়াবে বহু আকাঙ্ক্ষার বিপিএলের ফাইনাল মহারণ। জমজমাট ফাইনালের উত্তেজনায় কাপছে মিরপুরের শেরে-বাংলা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পঞ্চম ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাফিসা কামালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অন্যদিকে এর আগে তিনবার ফাইনালে গেলেও ট্রফি খরা কাটেনি বরিশালের। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাঠে নামবে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল। তারকায় ভরপুর কুমিল্লা-বরিশাল দুই দলই। তাই লড়াইটাও হবে ধুন্ধমার।

মজার বিষয় হলো, দুই দলই ফাইনালে এসেছে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরকে হারায় কুমিল্লা আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে হারায় বরিশাল। আর এই দুই ম্যাচেই ব্যর্থ ছিল রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপ। ফাইনালের আগে ফটোশেসনে দেখা মিলেনি দুই দলের অধিনায়ককেই। কুমিল্লার সহ-অধিনায়ক জাকের আলি আর বরিশালের সহ-অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ সেরেছেন ফটোসেশনের আনুষ্ঠানিকতা। সেখানেই তারা আভাস দিয়েছেন কঠিন লড়াইয়ের। ভালো খেলেই ট্রফি জয় করতে চান জাকির আলি। দুইবার ফাইনাল খেলেও ট্রফি খরার আক্ষেপ ঘোচাতে চান মিরাজ।

জাকের আলি তিনি বলেন, ‘ভালো খেলেই আমরা ট্রফি জয় করতে চাই। কুমিল্লা ফাইনাল খেলে অভ্যস্ত। তাই দল হিসেবে আমরা জানি কীভাবে বড় পারফরম্যান্স করতে হয়। ওইদিকেই ফোকাস থাকবে। ওই অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করব। যেহেতু ম্যাচটি ফাইনাল, অবশ্যই বরিশাল ভালো খেলেই এত দূর এসেছে। আমরা প্রতিপক্ষ হিসেবে সব দলকেই সম্মান করি। ফাইনালেও এর ব্যতিক্রম হবে না।’

ফাইনালে জমজমাট লড়াইয়ের আশা বরিশালের সহ-অধিনায়ক মেহেদী মিরাজের। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেদিন যারা ভালো খেলবে তারা জিতবে। কুমিল্লা সব সময়ই অনেক বড় দল। তাই প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা চ্যালেঞ্জিং হবে। আশা করছি, ভালো একটা ম্যাচ হবে, সবাই উপভোগ করবে। কারণ, আমাদের দলও অনেক শক্তিশালী। আমাদের দলেও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, দেশের বাইরে যারা আছে, তারাও খুব ভালো খেলোয়াড়।’ বিপিএলের নবম আসরেও ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফরচুন বরিশাল আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেবার ফাইনালে ১ রানের হার পুড়িয়েছিল সাকিবের নেতৃত্বে খেলা বরিশালকে। এবার সেই প্রতিশোধ নিতে চাইবে তামিম ইকবালরা।

দুই দলের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাপ থাকবে দলের অভিজ্ঞ ও নির্ভারযোগ্য খেলোয়াড়দের ওপর। তবে দুই দলেই এমন কিছু পারফর্মার রয়েছেন যারা হতে পারেন এক্সফ্যাক্টর। সেক্ষেত্রে বরিশালের তালিকায় থাকবে, কেইল মায়ার্স, ডেভিড মিলার, জেমস ফুলার আর সাইফুদ্দিনের নাম। অন্যদিকে কুমিল্লার তালিকায় আছে, আন্দ্রে রাসেল, মঈন আলি, আলিস ইসলাম, তৌহিদ হৃদয় কিংবা জাকের আলি। তবে যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক ট্রফি উঠবে নতুন কোনো অধিনায়কের হাতে। যারা এর আগে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জয় করেনি।


ফাটাফাটি লড়াই হবে ফাইনাল মহারথে

আপডেটেড ১ মার্চ, ২০২৪ ০০:০৬
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

বহু আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনাল মহারণ মাঠে গড়াবে আজ শুক্রবার। দেশের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের জ্বরে তাই কাঁপছে পুরো দেশ। মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও বইছে ভিন্ন আমেজ। ভিন্ন সাজে সাজছে হোম অব ক্রিকেট।

ফাইনালে পঞ্চম ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাফিসা কামালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অন্যদিকে এর আগে তিনবার ফাইনালে গেলেও ট্রফিখরা কাটেনি বরিশালের। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে মাঠে নামবে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল। তারকায় ভরপুর কুমিল্লা-বরিশাল দুই দলই। তাই লড়াইটাও হবে ধুন্ধুমার। যেটার আভাস দিয়েছেন ফাইনালের আগে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে আসা দুই দলের সহ-অধিনায়ক; মেহেদী হাসান মিরাজ আর জাকের আলি অনিক।

মজার বিষয় হলো, এই দুই দলই ফাইনালে এসেছে একটি দলকেই হারিয়ে। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুরকে হারায় কুমিল্লা আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে হারায় বরিশাল। আর এই দুই ম্যাচেই ব্যর্থ ছিল রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপ।

বিপিএলের নবম আসরেও ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ফরচুন বরিশাল আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেবার বরিশালকে নেতৃত্ব দিয়েছিল সাকিব আল হাসান। পরিবর্তন ছিল বরিশালের বেশকিছু খেলোয়াড়েরও। আর কুমিল্লাকে নেতৃত্ব দিয়েছিল ইমরুল কায়েস। ফাইনালের জমজমাট লড়াইয়ে ১ রানের হার পুড়িয়েছিল সাকিবের নেতৃত্বে খেলা বরিশালকে। এবার নিশ্চয়ই সেই প্রতিশোধ নিতে চাইবেন তামিম ইকবালরা।

এবার চলুন দুই দলের ফাইনালে খেলার পরিসংখ্যানে একটু নজর দেওয়া যাক। বিপিএলে ৬ বার অংশ নিয়ে ৪ বারই ফাইনাল খেলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং প্রতিবারই পেয়েছে চ্যাম্পিয়নের স্বাদ। অর্থাৎ ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য কুমিল্লা। অন্যদিকে সব মিলিয়ে ৩ বার ফাইনাল খেলেছে বরিশাল। কিন্তু একবারও ছুঁয়ে দেখা হয়নি ট্রফি। তবে অন্যান্য আসরের তুলনায় এবার বেশ শক্তিশালী তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাদের নিয়ে গড়া বরিশাল।

দুই দলের এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাপ থাকবে দলের অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের ওপর। তবে দুই দলেই এমন কিছু পারফর্মার রয়েছেন, যারা হতে পারেন এক্সফ্যাক্টর, ঘুরিয়ে দিতে পারেন ম্যাচের মোড়। সে ক্ষেত্রে বরিশালের তালিকায় থাকবে কেইল মায়ার্স, ডেভিড মিলার, জেমস ফুলার আর সাইফুদ্দিনের নাম। গ্রুপ পর্ব এলিমিনেটর ম্যাচে ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রমাণ করেছেন তারা। বিশেষ করে কেইল মায়ার্স আর সাইফুদ্দিন। দুজনই আছেন সেরা ছন্দে।

অন্যদিকে কুমিল্লার তালিকায় রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, মঈন আলি, আলিস ইসলাম, তৌহিদ হৃদয় কিংবা জাকের আলি। আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে খুব বেশি বলার কিছু নেই। তার শক্তিমত্তার কথা সবারই জানা। বিশেষ করে ২০১৯-২০২০ ফাইনালের কথা মনে থাকার কথা সবারই। সেবার পুরো টুর্নামেন্টে গড়পড়তা পারফরম্যান্স করা রাসেল জ্বলে উঠেছিলেন সেমিফাইনাল আর ফাইনালে। একাই জিতিয়েছিলেন রাজশাহীকে। তৌহিদ হৃদয় ব্যাটিং সামর্থ্য দেখিয়েছেন। ইতোমধ্যেই আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।

ফাইনালে কুমিল্লার বড় শক্তির জায়গা হবে তাদের অলরাউন্ডাররা। বিশেষ করে সুনীল নারিন, আন্দ্রে রাসেল আর মঈন আলি। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব মাতানো এই তারকারা যেমন দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে, তেমনি ভয়ংকর বোলিংয়ে। আর মিরপুরের উইকেট তো সুনীল নারিনের জন্য স্বর্গরাজ্য। রাসেলের স্লোয়ারও বেশ কার্যকরী মিরপুরের পিচে।

তরুণ ক্রিকেটাররাও কুমিল্লার জন্য দারুণ কিছু করতে পারেন। সেখানে থাকবে শেষ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়া অনূর্ধ্ব দলের খেলোয়াড় বর্ষণ, জাকের আলি অনিক, মুশফিক হাসানদের নাম।

অন্যদিকে বরিশালের বড় শক্তির জায়গা তাদের ব্যাটিং লাইনআপ এবং অভিজ্ঞতা। সর্বশেষ ম্যাচে বরিশাল ৯ জনের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে খেলেছে। কুমিল্লার চেয়ে যোজন ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে বরিশালের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা। যে দলে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ডেভিড মিলারদের মতো খেলোয়াড়; সেখানে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার কোনো কথাই নেই। যেটা বড় ম্যাচে এগিয়ে রাখবে বরিশালকে।

ফাইনালে বাড়তি দায়িত্ব থাকবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুরর রহিমের। সেই প্রথম আসর থেকে বিপিএলে নিয়মিত এ দুই ক্রিকেটার। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে তারা। কিন্তু দলীয় সাফল্যের ঝুলি এখনো শূন্য তাদের। সবগুলো আসর খেলেও কেউই পাননি ট্রফির ছোঁয়া। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই মহীরুহ এবার খেলছেন একই দলে। একসঙ্গেই তাই দুজনের সামনে সুযোগ শিরোপার তিয়াস মেটানোর। সেটা করতে তাই নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দেবেন তারা।

সবশেষে ফাইনালে যে দলই চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, ট্রফি উঠবে নতুন কোনো অধিনায়কের হাতে। যারা এর আগে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি জয় করেননি।


এশিয়ার ‘ব্র্যাডম্যান’ কিংবদন্তি জহির আব্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৯৪৭ সালের ২৪ জুলাই শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ জহির আব্বাস কিরমানী (জহির আব্বাস)। শিয়ালকোটে জন্ম হলেও, শৈশব, বেড়ে ওঠা আর ক্রিকেটে হাতেখড়ি সব করাচিতেই। করাচির জল, আলো, বায়ু গায়ে লাগিয়েই তরতর করে বেড়ে উঠেছে এশিয়ার ‘ব্র্যাডম্যানখ্যাত’ জহির আব্বাসের ক্রিকেটার হওয়ার রঙিন স্বপ্ন। তার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে অবশ্য রঙ ধরিয়েছে পরিবারই। সবসময়ই উদার সহযোগিতা পেয়েছেন পরিবার থেকে। তার বাবা গোলাম সাব্বিরের প্রার্থনা ছিল, ‘যেদিন আমার ছেলে এই মাঠে (লর্ডসে) খেলতে পারবে, সেদিনই এখানে বসে খেলা দেখব আমি।’

বাবাকে করা প্রতিজ্ঞা আর নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষী মনোভাব প্রকাশের মঞ্চ বেছে নিলেন, বার্মিংহামের এজবাস্টন। সাড়ে ৯ ঘণ্টার দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ী ইনিংসে বিনির্মাণ করলেন ২৭৪ রানের দৃষ্টিনন্দন এক ইনিংস। যা এখনো কোনো সফরকারী ব্যাটসম্যানের বিলেত-অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবে টিকে আছে। বিশ্বক্রিকেট প্রথমবারের মতো চিনলো তাকে, জানলো তার সক্ষমতা ও শক্তি সম্পর্কে। সম্বোধন করতে শুরু করল তাকে ‘জেড’ নামে।

এশিয়া মহাদেশে এই জহির আব্বাসই একমাত্র ব্যাটসম্যান যার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০টি সেঞ্চুরি আছে।

ওয়ানডেতেও তিনি ছিলেন বড় তারকা। তিনিই প্রথম ওয়ানডে ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা তিন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেটা ছিল ১৯৮২ সালের ঘটনা। ওই সময় টানা সাতটি আন্তর্জাতিক ইনিংসের ছয়টিতেই তিনি সেঞ্চুরি করেন। এর মধ্যে একটা ছিল ডাবল সেঞ্চুরি। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে তিনি টানা ২১৫ দিন ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ে ছিলেন শীর্ষে। ওয়ানডে ব্যাটিংয়ে তার সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট ৯৩১। এর চেয়ে ওপরে কেবল একজনই যেতে পেরেছেন। তিনি হলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস।

১৯৮৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। তবে ২০১৫ সালে আইসিসির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।

পুরো নাম- সৈয়দ জহির আব্বাস কিরমানী।

জন্ম- ২৪ জুলাই ১৯৪৭ সাল।

জন্মস্থান- শিয়ালকোট, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে পাকিস্তান)।

রাশি: সিংহ।

প্রিয় খেলা: ক্রিকেট।

প্রিয় খাবার: বিরিয়ানি।

প্রিয় পানীয়: ফলের জুস।

প্রিয় রং: কালো।

প্রিয় ক্রিকেটার: রোহিত শর্মা।

প্রিয় ক্রিকেট দল: পাকিস্তান।

প্রিয় সতীর্থ: ইমরান খান।

প্রিয় গাড়ি: অডি।

প্রিয় শখ: ভ্রমণ।

প্রিয় জুতার ব্র‌্যান্ড: অ্যাডিডাস।


দ্য গ্রেট ওয়াল মুশফিকের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে ফাইনালে বরিশাল

আপডেটেড ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০১
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রংপুর রাইডার্স আর ফরচুন বরিশাল। এমন মহারণের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কোনো কমতি ছিল না খেলোয়াড় থেকে শুরু করে দর্শক মনে। এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল দুই দলের দুই তারকার জন্য। বরিশালের তামিম ইকবাল আর রংপুরের সাকিব আল হাসান।

এ ম্যাচে টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কিন্তু রংপুরকে নিয়ে যে ভয়টা ছিল, ব্যাটিংয়ে নামার পর সেটারই যেন বাস্তব প্রতিচ্ছবি আঁকলেন। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১৮ রান তুলতেই রংপুর হারিয়েছে ৩ উইকেট। যে তালিকায় নাম ছিল ইনফর্ম সাকিব আল হাসানেরও। ব্যর্থদের তালিকায় নাম ছিল নিকোলাস পোরানেরও।

রংপুরের ব্যাটিং লাইনে গতকালও আশা দেখিয়েছিলেন জিমি নিশাম। কিন্তু সেটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি তিনি। ২২ বল থেকে ২৮ রান করেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। এরপর আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। সবাই ছিলেন আসা-যাওয়ার মধ্যে। যেমনটা দেখা গিয়েছিল রংপুরের শেষ দুই ম্যাচে।

তবে এ দিন বিশ্বস্ত সৈনিকের মতো রংপুরকে রক্ষা করেন শামীম পাটোয়ারী। তাণ্ডব চালাতে থাকেন বরিশালের বোলারদের ওপর। মাত্র ২০ বল থেকে তুলে নেন অর্ধশতক। যেটি এবারের আসরের যৌথভাবে দ্রুততম অর্ধশতক। ১৯তম ওভারে ২ চার আর ৩ ছক্কায় শামীম সংগ্রহ করেন ২৬ রান। অন্তত লড়াই করতে হলে যে ইনিংস খেলা প্রয়োজন ছিল কোনো একজনের, সেটি খেলেন শামীম।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বরিশালের যে দুজন বোলারের ওপর আশা ছিল, তারা উভয়ই সেটা পূরণ করেছেন। শুরুতেই কিপটে বোলিংয়ে চেপে ধরেন কেইল মায়ার্স। পরের ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। সাকিব আর মাহেদীকে ফিরিয়ে শুরু করেন ধ্বংসলীলা। এরপর রনি তালুকদারকে ফিরিয়ে সেই ধ্বংসলীলায় যোগ দেন মায়ার্সও। এই দুইজন মিলেই ভেঙে দেন রংপুরের কোমর।

এরপর রংপুরের ঢেউয়ের সাগরে তুফান ওঠান জেমস ফুলার। শুরুটা করেন জিমি নিশামকে দিয়ে আর শেষ করেন রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে দিয়ে। ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে তার শিকার ৩ উইকেট। তবে বরিশালের সেই ডেথ ওভারের সমস্যা গতকালও ভুগিয়েছে তাদের। শেষ ৪ ওভারেই তারা খরচ করেছে ৬০ রান। বেশি খরুচে ছিল ওবেদ ম্যাককয়।

গত ২ ম্যাচে রান পাওয়া তামিমের ব্যাট ছিল এ দিন নিশ্চুপ। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া মিরাজও কিছুই করতে পারেননি। ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য সরকারও। ছোট একটি ঝড় তুলে ফারুকীর বলে মাহেদী হাসান আর রনি তালুকদারের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে গেছেন কেইল মায়ার্স। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন মুশফিকুর রহিম। উইকেট কামড়ে পড়েছিলেন তিনি। দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। তার ৪৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করেই রংপুরকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বরিশাল। দ্বিতীয় দল হিসেবে চলে গেল ফাইনালে।

মুশফিকুর রহিম ‘মি. ডিপেন্ডেবল’! কেন মুশফিককে এ নামে ডাকা হয়, সেটা তিনি প্রমাণ করলেন রংপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। মাঝারি রানের লক্ষ্য তাড়ায়ও খুব একটা ভালো শুরু করতে পারেনি বরিশাল। যখন দায়িত্ব নিতে পারেনি বাকিরা, তখন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে সে দায়িত্বটা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল মুশফিকুর রহিম অথবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ৪ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সেটিই করেছেন মুশফিক। গুরুত্ব বুঝিয়েছেন অভিজ্ঞতার।

এ ম্যাচের মাধ্যমেই শেষ হলো সাকিব-তামিম লড়াই। তবে শেষ দিনে সফল ছিলেন না সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালের কেউই। ব্যাট হাতে সাকিব করেছেন ১ রান। আর তামিম করেছেন ১০ রান। বল হাতেও উইকেটশূন্য ছিলেন সাকিব। ছিলেন খরুচেও। ১ ওভার ৩ বলে দিয়েছেন ১৭ রান।


banner close