বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে পয়েন্ট টেবিলের হিসাব-নিকাশ। ১০ ম্যাচ খেলে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে রংপুর রাইডার্স। আর ৯ ম্যাচ খেলে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ইতোমধ্যেই প্লে-অফ খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে এই দুই দলের। তারা এখন লড়াই করবে টেবিলের শীর্ষে থাকার। এখন প্রশ্ন হলো- বাকি দুই দল তাহলে কারা?
সোজাসুজি সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কিছুটা কঠিনই বটে। কারণ প্লে-অফের শেষ দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ফরচুন বরিশাল, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আর খুলনা টাইগার্সের মধ্যে। তবে বাকি দুই দলের চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে তামিম ইকবালের বরিশাল। ১০ ম্যাচ খেলে তাদের পয়েন্ট ১২। অবশ্য বাকি দুই ম্যাচে তাদের দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। লড়াই করতে হবে টেবিলের শীর্ষে থাকা দুই দলের বিপক্ষে। যেকোনো এক দলের বিপক্ষে জয় পেলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে বরিশালের। কোনো জয় না পেলেও সুযোগ থাকবে তাদের। তবে সেজন্য হিসাব কষতে হবে জটিল অঙ্কের।
ইতোমধ্যেই লড়াইয়ের জন্য বেশ ভালো প্রস্তুতিই নিয়েছেন তামিমরা। শুরুর ম্যাচগুলোতে আহমেদ শেহজাদ ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি শেষ কয়েক ম্যাচে। তার রিপ্লেস হিসেবে বরিশালের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইংলিশ ওপেনার টম ব্যান্টন। আর বোলিং সমস্যার সমাধানও পেয়ে গেছে তারা। তাই বরিশাল যে প্লে-অফে এক পা দিয়ে রেখেছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এখন বাকি একটি জায়গার জন্য লড়াই করবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স আর খুলনা টাইগার্স। দুই দলের অবস্থানই কাছাকাছি। ১১ ম্যাচ খেলে ৬ জয় চট্টগ্রামের। ১২ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে টেবিলের ৪ নম্বরে। অন্যদিকে ১০ ম্যাচ থেকে ১০ পয়েন্ট নিয়ে খুলনা আছে টেবিলের ৫ নম্বরে। চট্টগ্রাম তাদের শেষ লড়াইটা করবে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে। মূলত এই ম্যাচেই নির্ধারিত হয়ে যাবে চট্টগ্রাম আর খুলনার প্লে-অফের ভাগ্য।
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মাঠে নামবে দল দুটি। এই ম্যাচে জয় পেলে চট্টগ্রামের পয়েন্ট হবে ১২ ম্যাচ থেকে ১৪। তখন খুলনার পয়েন্ট দাঁড়াবে ১১ ম্যাচ থেকে ১০। তখন শেষ ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে জিতলেও তাদের পয়েন্ট হবে ১২। চট্টগ্রামের থেকে ২ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে বিদায় নিতে হবে আসর থেকে।
শেষ ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যেই বেশ আত্মবিশ্বাসী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। শেষ ম্যাচে জয় পেয়েছে খুলনা টাইগার্সও। অন্যদিকে সেই ম্যচের আগেই খুলনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে আইএল টি-টোয়েন্টির ফাইনালে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা নিকোলাস পোরান এবং শ্রীলংকান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা। সেক্ষেত্রে লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে খুলনা টাইগার্সই। গত আসরেও শেষ মুহূর্তে এসে চমক দেখিয়েছিল চট্টগ্রাম চ্যালঞ্জার্স। শুভাগত হোমের দল এবারও চাইবে সেরকম কিছু করতেই।
২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারেনি বাংলাদেশ যুব দল। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই হতাশাজনক বিদায় নিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল আজিজুল হাকিম তামিমের দলকে। বিশ্বমঞ্চের সেই ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে এবং আগামী যুব বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ইতিমধ্যেই সফলভাবে শেষ হয়েছে ঘরোয়া ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ । এরপর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ৪৫ জন উদীয়মান ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেনিং সেশনও পরিচালনা করা হয়েছে। জুনিয়র টাইগারদের সাবেক লঙ্কান প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হওয়ায়, এবার যুব দলের হাল ধরার জন্য নতুন প্রধান কোচ হিসেবে সাবেক জাতীয় দলের ওপেনার হান্নান সরকারকে নিয়োগ দিয়েছে বোর্ড। নতুন এই কোচের অধীনেই আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে যুবাদের বহুল প্রতীক্ষিত অফিশিয়াল স্কিল ক্যাম্প।
ঢাকার অদূরে সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) টানা ২১ দিনব্যাপী এই নিবিড় ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক অনূর্ধ্ব-১৯ দল গঠনের লক্ষ্যে মোট ৩০ জন প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের স্কিল ক্যাম্প। যেখানে যুব ক্রিকেটাররা কন্ডিশনিংয়ের পাশাপাশি তাদের ব্যাটিং টেকনিক, বোলিং বৈচিত্র্য এবং আধুনিক ফিল্ডিংয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে কোচদের অধীনে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন। মূলত ২০২৮ যুব বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ কোর টিম তৈরি করাই এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য।
বিসিবি যুব ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে হান্নান সরকারের কোচিং প্যানেলে একঝাঁক অভিজ্ঞ দেশি কোচকে যুক্ত করেছে। প্রধান কোচ হান্নান সরকার ছাড়াও যুবাদের বোলিংয়ের ধার বাড়াতে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন সাবেক জাতীয় দলের পেসার ডলার মাহমুদ। এছাড়া তরুণদের ফিল্ডিংয়ে চটপটে করে তুলতে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সেলিম এবং আরশাদ খানরা। এই ক্যাম্পের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
গত জুন মাসে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে লর্ডসের মাঠে কেন্টের হয়ে দুর্দান্ত অভিষেকের পর, এবার ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও নিজের জাত চেনানোর বড় সুযোগ পেলেন বাংলাদেশের ডানহাতি গতি তারকা হাসান মাহমুদ। ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘ভাইটালিটি টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট’-এ নাম লিখিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ তিনটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য কেন্ট স্পিটফায়ার্স তাদের স্কোয়াডে এই টাইগার পেসারকে দলে নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
এর মাধ্যমে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি পেসার হিসেবে ভাইটালিটি ব্লাস্টে খেলার এক অনন্য গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন হাসান মাহমুদ। এর আগে ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সাসেক্সের জার্সি গায়ে এই টুর্নামেন্টে মাঠ মাতিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে কেন্ট স্পিটফায়ার্সের সুদীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সাদা বলের ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করবেন হাসান।
ইংল্যান্ডের এই জমজমাট ও গতিময় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন হাসান মাহমুদ। কেন্ট ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই টাইগার স্পিডস্টার জানান, কেন্টের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সময়টা তিনি ভীষণ উপভোগ করেছিলেন এবং দলের প্রয়োজনে আবারও লাল-সবুজ জার্সির বাইরে ইংল্যান্ডে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
হাসান মাহমুদ তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘কাউন্টিতে কেন্টের সাথে কাটানো সময়টা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা ছিল। তাই ভাইটালিটি ব্লাস্টের মতো টুর্নামেন্টে আবারও কেন্টের হয়ে অবদান রাখার সুযোগ যখন আমার সামনে এলো, তখন এক মুহূর্তের জন্যও আমি দ্বিধা করিনি। আমাদের সামনে থাকা এই তিনটি ম্যাচ কেন্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্টকে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তুলতে আমি বল হাতে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার দক্ষতার ওপর পুনরায় আস্থা রাখার জন্য আমি কেন্ট ম্যানেজমেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
জাতীয় দলের এই পেসার আরও যোগ করেন, ‘ভাইটালিটি ব্লাস্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। এখানে বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটারদের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করার এটি আমার জন্য একটি মস্ত বড় সুযোগ। আমি মনে করি, এই অভিজ্ঞতাটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হয়ে আবারও সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে) শক্তিশালীভাবে ফেরার ক্ষেত্রে আমাকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে।’ হাসান মাহমুদের এই নতুন মিশন ইংলিশ কন্ডিশনে তাঁর বোলিং বৈচিত্র্য ও কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করছেন দেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন মাঠের বাইরে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ভেনেজুয়েলার ১০ বছর বয়সী এক ক্ষুদে ভক্ত, যে ভয়াবহ ভূমিকম্পে পরিবারের সদস্যদের হারানোর পাশাপাশি নিজের একটি পা-ও হারিয়েছে, তার মুখে হাসি ফোটালেন সিআরসেভেন।
আন্দ্রেস মিয়েলেস নামের ওই শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মাঝেও তার একটি ছোট্ট ইচ্ছা ছিল—বিশ্বকাপের স্টিকার অ্যালবামের জন্য প্রিয় ফুটবলার রোনালদোর একটি স্টিকার সংগ্রহ করা। এই খবরটি রোনালদোর কানে পৌঁছানোর পর তিনি মোটেও দেরি করেননি। নিজের স্বাক্ষর করা একটি জার্সি, কাঙ্ক্ষিত স্টিকার এবং সেই সঙ্গে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিক গ্যাবি আরোচার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসে। ভিডিও বার্তায় রোনালদো সরাসরি আন্দ্রেসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হ্যালো আন্দ্রেস, কেমন আছো? জানি তুমি আমার অনেক বড় ভক্ত। তোমাকে অনেক ভালোবাসা পাঠাতে এই ভিডিওটি করছি। সাহস হারিও না বন্ধু, দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো। আমি চাই তুমি একদিন আমার খেলা দেখতে আসো, আমরা একসঙ্গে সময় কাটাব। তোমার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রইলাম।”
ভয়াবহ দুর্যোগে সব হারানো শিশুটি প্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন সারপ্রাইজ পেয়ে অভিভূত। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তার মুখে ফুটে উঠেছে এক চিলতে হাসি। রোনালদোর এই উদারতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে। এর আগেও বহুবার অসহায় ও অসুস্থ শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। মাঠের খেলায় সেরা হওয়ার পাশাপাশি মনের বিশালতায় যে তিনি কেন বিশ্বসেরা, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন সিআরসেভেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ‘শেষ ৩২’ লড়াইয়ের পর্দা নেমেছে। কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার শেষ ম্যাচের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হয়েছে নকআউট পর্বের সেরা ১৬টি দল। এবারের আসরে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিদায় যেমন দর্শকদের স্তব্ধ করেছে, তেমনি প্যারাগুয়ে কিংবা মিসরের মতো দলগুলোর রূপকথার মতো উত্থান নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর মহাযুদ্ধ। যেখানে লড়াই হবে সমানে সমান; হারলেই নিতে হবে বিদায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সূচি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ।
শেষ ষোলোর সূচি ও ম্যাচ বিশ্লেষণ (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী):
১. কানাডা বনাম মরক্কো (৪ জুলাই, রাত ১১:০০টা, হিউস্টন)
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে জয় পাওয়া কানাডার সামনে এবার বড় বাধা মরক্কো। নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে বিদায় করা মরক্কো এখন টগবগে আত্মবিশ্বাসে রয়েছে।
২. প্যারাগুয়ে বনাম ফ্রান্স (৫ জুলাই, রাত ৩:০০টা, ফিলাডেলফিয়া)
জার্মানিকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক দেখানো প্যারাগুয়ে এবার মুখোমুখি হবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের। প্যারাগুয়ের রূপকথা কি বজায় থাকবে নাকি অভিজ্ঞ ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে, সেটাই দেখার বিষয়।
৩. ব্রাজিল বনাম নরওয়ে (৬ জুলাই, রাত ২:০০টা, নিউ ইয়র্ক)
জাপানকে হারিয়ে আসা ব্রাজিলের সামনে এবার আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, নরওয়েকে এখনো হারাতে পারেনি সেলেসাওরা। ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের পথে এটি হতে পারে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
৪. মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড (৬ জুলাই, সকাল ৬:০০টা, মেক্সিকো সিটি)
স্বাগতিক মেক্সিকো এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে কোনো গোল হজম করেনি। অন্যদিকে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড আক্রমণভাগে অপ্রতিরোধ্য। মেক্সিকোর ঘরের মাঠে এই লড়াইটি হবে দেখার মতো।
৫. পর্তুগাল বনাম স্পেন (৭ জুলাই, রাত ১:০০টা, ডালাস)
ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল ও স্পেনের লড়াইকে বলা হচ্ছে শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ। রোনালদোর পর্তুগাল কি পারবে ফেভারিট স্পেনের তিকিতাকা ফুটবল রুখে দিতে?
৬. যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম (৭ জুলাই, সকাল ৬:০০টা, সিয়াটল)
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ শক্তিশালী বেলজিয়াম। তবে লাল কার্ডের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান, যা স্বাগতিকদের চিন্তার কারণ হতে পারে।
৭. আর্জেন্টিনা বনাম মিসর (৭ জুলাই, রাত ১০:০০টা, আটলান্টা)
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে এবার মোহাম্মদ সালাহর মিসর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠা মিসর সালাহর জাদুতে ভর করে অঘটন ঘটাতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
৮. সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া (৮ জুলাই, রাত ২:০০টা, ভ্যাঙ্কুভার)
আলজেরিয়াকে বিদায় করা সুইজারল্যান্ড এবং ঘানাকে হারিয়ে আসা কলম্বিয়ার লড়াই দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলোর ধাপ। এই ম্যাচের বিজয়ী দলই কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ টিকিটটি পাবে।
শেষ ষোলোর এই আটটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ৮ জুলাই থাকবে বিরতি। এরপর ৯ জুলাই থেকে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের চূড়ান্ত লড়াই। ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন উত্তর আমেরিকার মাঠগুলোতে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই এখন 'বাঁচো-মরার' লড়াই।
আট বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে কলম্বিয়া যেন আবারও ২০১৪ সালের সেই রোমাঞ্চকর পথেই হাঁটছে। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কলম্বিয়ার পরবর্তী প্রতিপক্ষ এখন সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য বড় এক ধাক্কা খেতে হয়েছিল কলম্বিয়াকে। খেলার মাত্র ৭ম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ফরোয়ার্ড জন করডোবা। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লুইস সুয়ারেস। তবে এই বিপর্যয়কে খুব দ্রুতই সাফল্যে রূপান্তর করে দলটি। বদলি নামা সুয়ারেসের চমৎকার এক ক্রস থেকে ১৪তম মিনিটেই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জন আরিয়াস।
প্রথমার্ধ জুড়ে কলম্বিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও ঘানার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ব্যবধান আর বাড়েনি। বিরতির পর ৫৭ মিনিটে লুইস দিয়াস বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর দিয়াস আরও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলে আরিয়াসের করা সেই একমাত্র গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে জয় পেলে ২০১৪ সালের মতো আবারও শেষ আট নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে কলম্বিয়ার সামনে। তারা কি পারবে আলজেরিয়াকে হারিয়ে আসা সুইসদের বিপক্ষে সেই জয়রথ ধরে রাখতে? এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল ভক্তরা।
২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে মিশর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নেওয়ার পর মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এই গৌরবময় বিজয় উৎসর্গ করেছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি। তাঁর এই আবেগঘন বার্তার পর গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপের মাঝেও মিশরের জয় নিয়ে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের বাঁধভাঙা উল্লাস। শুক্রবার ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ‘দ্য ফারাওস’রা।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে স্নায়ুযুদ্ধে জয়ী হয় মিশর। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ হোসাম হাসান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয় আমি মিশরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।” মাঠের ভেতর মিশর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে তাঁর উদযাপন এবং ফুটবলারদের দলগতভাবে সিজদাহ দেওয়ার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।
মিশরের এই জয় গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য কেবল একটি ফুটবলীয় জয় ছিল না, বরং যুদ্ধের বিভীষিকার মাঝে এক চিলতে সুখের বার্তা হয়ে এসেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশে অস্থায়ী পর্দায় শত শত ফিলিস্তিনি উৎকণ্ঠা নিয়ে খেলা দেখছেন। মিশরের জয়ের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি আর তাঁবুর ভেতর থেকে হাজারো মানুষ বেরিয়ে এসে বিজয় উল্লাস শুরু করেন। গাজার এক বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও মিশরের জয় আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। শিশুরা মুখে মিশরের পতাকা এঁকে এই বিজয় উদযাপন করেছে।”
এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিশর। ফুটবলের বড় মঞ্চে এমন অভাবনীয় সাফল্য এবং সেই জয়কে নিপীড়িত মানুষের প্রতি উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে মিশর প্রমাণ করল যে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি জাতীয় ও মানবিক ঐক্যের শক্তিশালী মাধ্যম। ফিলিস্তিনের প্রতি হোসাম হাসানের এই মমত্ববোধ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য ও মহাকাব্যিক ধ্রুপদী লড়াই। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের স্নায়ুক্ষয়ী যুদ্ধে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে প্রায় স্তব্ধ করে দিয়েছিল র্যাঙ্কিংয়ে ৬৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা পুঁচকে কেপ ভার্দে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে আর্জেন্টিনা শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও, ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা অদম্য কেপ ভার্দে।
ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই
ম্যাচের আগে যে দলটিকে নিয়ে বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর, সেই কেপ ভার্দেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হৃৎস্পন্দন প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। মাঠের লড়াই দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি এটি কোনো ‘মিস ম্যাচ’। বরং লুসাইলের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ছায়া যেন ভর করেছিল মায়ামিতেও। শক্তিশালী গোলিয়াথ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘ডেভিড’ হয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে আটলান্টিক মহাসাগরের বুক থেকে উঠে আসা এই দলটি।
মেসির রেকর্ড ও ভোজিনিয়ার অতিমানবীয় প্রাচীর
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দূরপাল্লার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক চিপে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে মেসির সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২০তম গোল। একই সঙ্গে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে রেকর্ডগড়া মেসিকেও এদিন ছায়ায় ঢেকে দিয়েছিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। প্রথমার্ধে ১টি গোল হজম করলেও বাকি সময়টায় তিনি যেন চীনের মহাপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ওয়ান-টু-ওয়ানে মেসিকে একাধিকবার হতভম্ব করা ছাড়াও মেসির অবিশ্বাস্য দুটি ফ্রি-কিক এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসের দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৮টি দুর্দান্ত সেভ করে ভোজিনহা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন বিল শ্যাঙ্কলির সেই অমর উক্তি—'ফুটবল জীবন-মরণের চেয়েও বেশি কিছু'।
কেপ ভার্দের বীরোচিত প্রত্যাবর্তন
প্রথমার্ধে ১-০ তে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাক থেকে দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেন ডেরয় দুয়ার্তে। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই (৯২ মিনিট) কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগে বাঁ পায়ের জোরালো শটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে আবারও লিড এনে দেন। কিন্তু কেপ ভার্দে দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না। ১০৩ মিনিটে সিডনি কাবরালের এক জাদুকরী গোল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার হয়ে রইল। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের যে বাঁকানো শটে তিনি বল জালে জড়ালেন, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ তা কেবল চেয়ে চেয়েই দেখেছেন।
ভাগ্য ও রোমেরোর জয়সূচক গোল
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে সেই ‘নিষ্ঠুর মুহূর্ত’। ১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দে ডিফেন্ডার বোর্জেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই আত্মঘাতী গোলেই শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের। শেষ মুহূর্তেও হাল ছাড়েনি আফ্রিকা মহাদেশের দেশটি। ১১৯ মিনিটে গিলসন বেঞ্চিমোলের নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন এমি মার্তিনেজ।
পরাজয়ের মাঝেও বীরের মর্যাদা
ম্যাচ শেষে স্কোরলাইনে আর্জেন্টিনা জয়ী হলেও নৈতিক জয় যেন কেপ ভার্দেরই। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের আটকে দেওয়া দলটি আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের যেভাবে তটস্থ করে রেখেছিল, তাতে পরাজিত হয়েও তারা কুড়িয়ে নিয়েছে বিনম্র শ্রদ্ধা ও সম্মান। আর্জেন্টাইনদের বুনো উদ্যাপনই বলে দিচ্ছিল, এই জয় পেতে তাদের কতটা ঘাম ঝরাতে হয়েছে।
বিখ্যাত লেখক এদুয়ার্দো গালিয়ানোর ভাষায়, 'যখন সুন্দর ফুটবল হয়, আমি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই।' আজ মায়ামির মাঠে কেপ ভার্দে সেই সুন্দর ফুটবলই উপহার দিয়েছে। লড়াই শেষে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল শেষ ষোলোর পথে, যেখানে আগামী ৭ জুলাই তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাস গড়া মোহাম্মদ সালাহর মিশর। তবে এই ১২০ মিনিটের লড়াই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় 'কেপ-ফিয়ার' রোমাঞ্চ হিসেবেই অম্লান হয়ে থাকবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার জুনিয়র। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে পুরো সময় বেঞ্চে বসেই সতীর্থদের জয় দেখেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ফলে শেষ ষোলোর নরওয়ে ম্যাচে নেইমারকে প্রথম একাদশে দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
সম্প্রতি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম *ফোলহা দে এস. পাওলো*কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত আবেগ নয়, দলের প্রয়োজনই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আনচেলত্তি বলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেইমার এখন খেলতে পারে। তবে সে কতক্ষণ খেলবে, সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ম্যাচের ছন্দ ও সময় কীভাবে সামলাতে হয়, সে খুব ভালো জানে। যখন আমি মনে করব দল তাকে প্রয়োজন, তখনই তাকে মাঠে নামাব।"
কাফ ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো ফিট কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রাজিল কোচের উত্তর ছিল আত্মবিশ্বাসী।
"হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে," বলেন আনচেলত্তি।
তবে বেঞ্চে বসে থাকতে যে নেইমার সন্তুষ্ট নন, সেটিও স্বীকার করেছেন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী এই কোচ।
"সে অবশ্যই খুশি নয়। কোনো ফুটবলারই বেঞ্চে বসে সুখী থাকতে পারে না। কিন্তু সে দারুণ আচরণ করছে, খুব ভালো অনুশীলন করছে। সে ভদ্র, শ্রদ্ধাশীল এবং সতীর্থদের কাছে খুবই প্রিয়। সে দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়, কারণ তার সামর্থ্য যেমন আছে, তেমনি বিনয়ও আছে," বলেন আনচেলত্তি।
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি তার সঙ্গে খুবই সন্তুষ্ট। অবশ্যই সে খেলতে চায়, যেমন সবসময় চেয়েছে। সে মুখে হয়তো বলবে না যে খেলতে চায়, কিন্তু সেটা বোঝাই যায়। একজন ফুটবলার কখনো বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।"
সাক্ষাৎকারে জাতীয় দল নিয়ে নিজের ফুটবল দর্শনও তুলে ধরেন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, জাতীয় দলে কেবল তারকাখ্যাতি নয়, দলের জন্য অবদান রাখার মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, "তারকা খেলোয়াড় দর্শকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু জাতীয় দলে আমরা তারকা খুঁজি না। আমরা এমন উচ্চমানের খেলোয়াড় চাই, যারা দলকে জিততে সাহায্য করবে।"
জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে কাসেমিরোকে তুলে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ব্রাজিল কোচ। সেই বদল নিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরেছিল।
আনচেলত্তি বলেন, "আমরা যদি জাপানের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে সবাই বলত আমি ভুল করেছি। যদি কাসেমিরোকে না তুলতাম কিংবা মার্তিনেল্লিকে না নামাতাম, দোষটা আমারই হতো। আমি সেটা খুব ভালোভাবেই বুঝি। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করি। এটা শতভাগ নিশ্চিত যে আমি জিনিয়াস নই, আবার শতভাগ নিশ্চিত যে আমি বোকাও নই।"
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ নিয়েও সতর্ক ব্রাজিল কোচ। তাঁর মতে, নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।
তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। এখানে শুধু কৌশল বা প্রযুক্তিগত দিক নয়, মানসিক শক্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ে খুব ভালো দল। তাদের দলে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড আছে। তাই ম্যাচটি কঠিন হবে। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ভালো ফুটবল খেলতে পারব।"
চলমান বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনহা ও মার্তিনেল্লিদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ছন্দে রয়েছে ব্রাজিল। তবে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহারণে নেইমারকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন সেলেসাও সমর্থকদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।
বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে জার্মানির নাটকীয় বিদায়ের পর জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জুলিয়ান নাগেলসমান। যদিও জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড এবং স্কাই জার্মানির প্রতিবেদনে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্রাঙ্কফুর্টে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এক জরুরি বৈঠক শেষে ৩৮ বছর বয়সী এই কোচ দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর এটি ছিল জার্মানির টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ বিপর্যয়। এই চরম ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নিয়েই নাগেলসমান পদত্যাগ করলেন। জানা গেছে, ২০২৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত তাঁর চুক্তির মেয়াদ থাকলেও, নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে দায়িত্ব ছাড়ার কারণে তিনি প্রায় ৭০ লাখ ইউরো ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
নাগেলসমানের বিদায়ের পর জার্মানির পরবর্তী কোচ হিসেবে সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে সাবেক লিভারপুল ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপের নাম। বর্তমানে তিনি রেড বুল গ্রুপের গ্লোবাল হেড অব সকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, তাঁর চুক্তিতে জার্মান জাতীয় দলের হয়ে কাজ করার একটি বিশেষ শর্ত (রিলিজ ক্লজ) রয়েছে বলে গণমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকটে থাকা জার্মান ফুটবলের ঐতিহ্য ফেরাতে ক্লপই হতে পারেন যোগ্য উত্তরসূরি।
২০২৩ সালে হ্যানসি ফ্লিকের পরিবর্তে দায়িত্ব নেওয়া নাগেলসমান শুরুতে দলের পারফরম্যান্সে গতি আনলেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তাঁর পরিকল্পনা সফল হয়নি। তাঁর অধীনে জার্মানি নতুনত্বের ছোঁয়া পেলেও প্যারাগুয়ের মতো আন্ডারডগ দলের কাছে হার সমর্থক ও কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিতর্কিত বিদায়কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের (১ বিলিয়ন) ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং ইরানি দলের প্রতি পরিকল্পিত বৈষম্যের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করেছেন ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক লতফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই প্রভাষক এবং ওবামা প্রশাসনের উপদেষ্টা ফিফা ও এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে এই মামলায় অভিযুক্ত করেছেন।
মামলার নথিতে গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ইরান বনাম মিশর ম্যাচের উদাহরণ টানা হয়েছে। ওই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানের একটি গোল ভিএআর-এর মাধ্যমে অফসাইড দেখিয়ে বাতিল করা হয়। আফ্রাসিয়াবির দাবি, ওই গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ ভুল এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। এই ঘটনার ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯১ মিলিয়ন ইরানি সমর্থক চরম মানসিক যাতনা ও ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মাঠের ঘটনার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরানি ফুটবল দলের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ আনা হয়েছে। আফ্রাসিয়াবি জানান, ইরানি খেলোয়াড়দের রাতে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, প্রশিক্ষণ শিবির আকস্মিকভাবে স্থানান্তর করা এবং দলের ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা ছিল ফিফার চরম ‘দ্বৈত নীতি ও বৈষম্যের’ বহিঃপ্রকাশ। এই বিরূপ পরিস্থিতির কারণে দলটির পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং সমর্থকরা অপমানিত বোধ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
লতফুল্লাহ কাভেহ আফ্রাসিয়াবি ঘোষণা করেছেন যে, মামলায় জয়ী হলে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের অর্থের সিংহভাগ ইরানের যুব ক্রীড়া ও ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। বৈশ্বিক ফুটবল অঙ্গনে ফিফার মতো একটি শক্তিশালী সংস্থার বিরুদ্ধে এত বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ মামলা এক নজিরবিহীন ঘটনা। এ বিষয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলেও ফিফা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য করেনি।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের হয়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে এবার তাঁর নকআউট পর্বের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গোলটির চেয়েও বেশি আলোচিত হচ্ছে শট নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তের একটি দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ দাবি করছেন, পেনাল্টি নেওয়ার আগে রোনালদো দুবার আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেছেন।
শুক্রবার টরন্টোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে পর্তুগাল যখন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল, তখন সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে পেনাল্টি পায় তারা। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা স্পট-কিক নেওয়ার আগে নিজেকে একাগ্র করতে বিড়বিড় করে কিছু বলছিলেন। ভিডিওটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে অনেক ভক্ত দাবি করেছেন, রোনালদোর ঠোঁটের নাড়াচাড়া ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি) শব্দের সাথে হুবহু মিলে যায়। একজন এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সফলভাবে পেনাল্টি নেওয়ার আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে দেখা গেছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রোনালদোকে বিভিন্ন সময় ইসলামিক সংস্কৃতি ও শিষ্টাচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে দেখা গেছে। এর আগেও সৌদি প্রো লিগে খেলার সময় গোল উদযাপনে ‘সিজদা’ দেওয়া বা ম্যাচ চলাকালীন আরবি শব্দের ব্যবহারের গুঞ্জন উঠেছিল। তবে পেনাল্টি নেওয়ার সময় তিনি প্রকৃতপক্ষেই ‘বিসমিল্লাহ’ বলেছিলেন কি না, সে বিষয়ে রোনালদো বা পর্তুগাল ফুটবল দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুটবল বিশ্বে রোনালদোর এই সম্ভাব্য আচরণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক মুসলিম ভক্ত এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং একে তাঁর সাংস্কৃতিক অভিযোজনের অংশ হিসেবে বর্ণনা করছেন। অন্যদিকে, অনেক বিশ্লেষক মনে করেন এটি স্রেফ ভক্তদের আবেগপ্রসূত জল্পনা হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও ভিডিওটি বর্তমানে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ট্রেন্ডিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে অনায়াস পরাজিত করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই জয়টি সুইসদের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক, কারণ দীর্ঘ ৮৮ বছর পর তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জেতার স্বাদ পেল। এর আগে ১৯৩৮ বিশ্বকাপে তারা শেষ নকআউট ম্যাচ জিতেছিল। এই জয়ের ফলে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলার গৌরব অর্জন করল ইউরোপের এই দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সুইজারল্যান্ড। ১০ম মিনিটে ব্রিল এম্বোলোর গোলে লিড নেয় তারা। এই গোলের মূল কারিগর ছিলেন জোহান মানজাম্বি, যাঁর একক প্রচেষ্টায় তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে এম্বোলো সহজেই বল জালে জড়ান। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও চমক দেখায় সুইসরা। মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় ড্যান এনডোয়ে বক্সের প্রান্ত থেকে এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। ম্যাচের ৮১ মিনিটে আরও একটি সহজ সুযোগ আসলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন রেইডার।
আলজেরিয়া ম্যাচের শুরুতে ইতিবাচক ফুটবল খেললেও দুই গোল হজম করার পর তারা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণের সামনে বারবারই খেই হারিয়েছে আফ্রিকার এই দলটি। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড কেবল ম্যাচটিই জেতেনি, বরং তাদের দীর্ঘদিনের নকআউট পর্বের খরা ঘুচিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখল। নকআউট পর্বে এর আগে ১৯৩৮ সালে তারা জার্মানিকে হারিয়েছিল, তারপর থেকে নকআউট ম্যাচ জয় ছিল তাদের জন্য অধরা।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া বা ঘানা ম্যাচের জয়ী দল। ভ্যাঙ্কুভারে সুইস সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস প্রমাণ করে এই জয় তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দাপুটে এই পারফরম্যান্সের পর কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন এখন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে সুইজারল্যান্ডের জন্য।
২০২৬ বিশ্বকাপ যেন গোলদাতাদের পাশাপাশি গোলরক্ষকদেরও শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। লিওনেল মেসি বা কিলিয়ান এমবাপেদের গোল করার প্রতিযোগিতার মধ্যেই গোল ঠেকানোর এক অনন্য বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে জাল অক্ষত রেখে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সর্বোচ্চ সময় গোল হজম না করার (ক্লিন শিট) নতুন রেকর্ড এখন এই স্প্যানিশ তারকার দখলে। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গার রেকর্ড ভেঙে দিয়ে সিমন এখন ফুটবল বিশ্বের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে উনাই সিমন এখন পর্যন্ত টানা ৫১৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেননি। এর আগে ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির ওয়াল্টার জেঙ্গা টানা ৫১৭ মিনিট অপরাজিত থেকে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই অসাধ্য সাধন করে সিমন এখন তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন (৫০০ মিনিট)। সিমনের এই অজেয় যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের ৫১ মিনিটের পর থেকে। এরপর মরক্কোর বিপক্ষে ১২০ মিনিট এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পুরো সময় জুড়ে তাঁর জালে কোনো বল জড়াতে পারেনি প্রতিপক্ষ।
এই কীর্তির মাধ্যমে স্পেনের জাতীয় দলেও নতুন ইতিহাস লিখেছেন সিমন। এর আগে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ৪৭৭ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি ইকার কাসিয়াসের দখলে, যা তিনি ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ মিলিয়ে গড়েছিলেন। সিমন এখন কাসিয়াসকেও ছাড়িয়ে গেছেন। স্পেনের আক্রমণভাগ যেমন এবারের বিশ্বকাপে আলো ছড়াচ্ছে, তেমনি রক্ষণভাগের এই দৃঢ়তা তাদের শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
উনাই সিমনের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স স্পেনের বিশ্বকাপ মিশনের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। রক্ষণের শেষ প্রহরী হিসেবে তাঁর এই রেকর্ড কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং স্পেনের ফুটবল ঐতিহ্যের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করেছে। বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সিমন তাঁর এই ক্লিন শিটের সময়সীমা কতদূর নিয়ে যেতে পারেন, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।