আজ বুধবার মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। যেখানে মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স আর ফরচুন বরিশাল। আরেকটু স্পষ্ট করলে তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসান। এই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে দশম আসরের ফাইনালের দ্বিতীয় দল। যে জিতবে, সে-ই ফাইনাল খেলবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে। হেরে যাওয়া দল বাড়ি যাবে বিদায়ের বিউগল শুনতে শুনতে। তাই দুই দলের জন্যই বিপিএলের মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ এটি। অন্যদিকে এই ম্যাচে যে জিতবে, সাকিব-তামিম কথিত দ্বৈরথে সে-ই তো ‘চ্যাম্পিয়ন’!
গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা তামিম ইকবালকে আউট করলেন সাকিব। এরপরই হাত মুষ্টিবদ্ধ কনুই ঝাঁকি দিয়ে উদযাপন করলেন। দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা। ব্যাটিংয়ে নেমেই চড়াও হতে থাকেন সাকিব। মেহেদী মিরাজকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন বদলি ফিল্ডার প্রীতমের কাছে। এবার ক্যামেরা তামিম ইকবালের দিকে, সাকিবের সেই উদযাপন ফিরিয়ে দিলেন তিনি।
সে ম্যাচে শেষ ওভারের তৃতীয় বলে এক উইকেটের জয় পেয়েছিল রংপুর। জমজমাট সেই ম্যাচের আলোচনা ছাপিয়ে, ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সাকিব-তামিমের উদযাপন। আজ বুধবার আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন সাকিব-তামিম। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আরেকবার দেখা যাবে সাকিব-তামিমের এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
এখন প্রশ্ন হলো শক্তির বিচারে কে কতটা এগিয়ে? এখানে অবশ্য একক আধিপত্য দেওয়ার সুযোগ নেই কাউকে। কারণ দুই দলই নিজেদের সেরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে আজ।
তবে শেষ দুই ম্যাচে হেরে কিছুটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকারই কথা রংপুর রাইডার্সের। রংপুরের আরেকটি চিন্তার কারণ হতে পারে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতা। শেষ দুই ম্যাচেই ব্যর্থ ছিল রংপুরের অধিকাংশ ব্যাটার। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তো শঙ্কা জেগেছিল স্বল্প রানে অলআউট হওয়ার। কিন্তু জিমি নিশামের কল্যাণে সেটা আর হয়নি। তাই এই ম্যাচের আগে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে বেশ মনোযোগী হতে হবে।
অন্যদিকে শেষ দুই ম্যাচেই জয় পেয়ে মানসিকভাবে বেশ স্বস্তিতে আছে বরিশাল। বরিশালের বড় শক্তির জায়গা তামিম ইকবালের বড় ইনিংস খেলা আর কেইল মায়ার্সের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। সঙ্গে সাইফুদ্দিনের দুর্দান্ত বোলিং বাড়তি পাওয়া বরিশালের জন্য।
শেষ দুই ম্যাচেই তামিম ইকবাল দারুণ দুটি ইনিংস খেলেছেন। তুলে নিয়েছেন দুটি অর্ধশতক। বরিশালের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তামিমের ব্যাটের। মানে বেশ ইফেক্টিভ ছিল তামিমের ইনিংস দুটি। যেটি পুরো টুর্নামেন্টেই খুব একটা দেখা যায়নি। রংপুরের বিপক্ষেও সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চাইবে তামিম এবং বরিশাল।
অন্যদিকে বিপিএলের মাঝপথ থেকেই আগুনে ব্যাট করছিলেন সাকিব আল হাসান। প্রত্যেক ম্যাচেই সাকিবের স্ট্রাইকরেট ছিল ১৫০-এর ওপরে। কিন্তু শেষ দুই ম্যাচেই হাসেনি সাকিবের ব্যাট। পায়নি রানের দেখা। তাই এ ম্যাচে সাকিবের ওপর থাকবে বাড়তি চাপ। তবে এমন চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা আছে সাকিবের।
সাকিব-তামিমের লড়াইয়ে অবশ্য বাড়তি চোখ থাকবে বরিশালের ডেভিড মিলার আর রংপুরের নিকোলাস পুরানের দিকে। একই তুলনায় নাম আসতে পারে রংপুরের জিমি নিশাম আর বরিশালের কেইল মায়ার্স। দেশিদের মধ্যে চোখ থাকবে বরিশালের মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাইফুদ্দিন, মেহেদী মিরাজ। আর রংপুরের শেখ মাহেদী আর নুরুল হাসান সোহানের দিকে।
সবমিলিয়ে কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। দুই দলের শেষ লড়াইয়ের মতো দর্শকরাও চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকবে এই ম্যাচের দিকে সাকিব-তামিমের আরেকটি জমজমাট লড়াই দেখার জন্য। অবশ্য এই ম্যাচে মাঠে নামবে আরও দুই পাণ্ডব মাহমুউল্লাহ রিয়াদ আর মুশফিকুর রহিম। তাই দেশের ক্রিকেট আজ বিভক্ত হয়ে যাবে দুই দলে। তবে ভালো খেলেই ফাইনালে যেতে হবে হয় সাকিবকে অথবা তামিমকে।
ভারতীয় ক্রিকেট দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিসিআই। আসন্ন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত টি-টোয়েন্টি দলে অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। এই পরিবর্তনের মাঝে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। অন্যদিকে, দল থেকে বাদ পড়েছেন বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। বিসিসিআই-এর এই সাহসী সিদ্ধান্ত ভারতের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট পরিকল্পনায় এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তারুণ্য এবং নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
নেতৃত্ব হারানো সূর্যকুমার যাদবের জন্য এই বাদ পড়া বড় এক ধাক্কা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের অভাব এবং সাম্প্রতিক আইপিএলে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণেই তাঁকে নির্বাচকরা স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে সরাসরি অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেন ৩১ বছর বয়সী শ্রেয়াস আইয়ার। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শিরোপা জেতানো এবং বিভিন্ন দলকে ফাইনালে তোলার সফল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই তাঁর ওপর এই বড় আস্থা রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আইয়ার সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন।
স্কোয়াডের সবচেয়ে আলোচিত নাম ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনা এবং ২০২৮ অলিম্পিকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলে ডাক পেয়েছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়লেন। তবে মূল জাতীয় দলে খেলার আগে তিনি ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবেন। নির্বাচকরা মনে করছেন, বড় মঞ্চে নামার আগে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আন্তর্জাতিক চাপের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে।
ভারতের এই নতুন সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ ও ২৮ জুন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে ভারত। ঘোষিত এই শক্তিশালী স্কোয়াডে তিলক ভার্মাকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলে অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষানের মতো তারকাদের পাশাপাশি মোহাম্মদ সিরাজ, অর্শদীপ সিং এবং হর্ষিত রানাদের নিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজানো হয়েছে। এছাড়া নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি ও প্রিন্স যাদব।
ভারতের এই ১৫ সদস্যের নতুন স্কোয়াড মূলত আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিজ্ঞ শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে এই তরুণ দলটি বিদেশের মাটিতে কেমন পারফরম্যান্স করে, তার ওপর নির্ভর করছে ভারতের আগামীর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের স্থিতিশীলতা। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সূর্যকুমারকে বাদ দেওয়া এবং ১৫ বছরের বৈভবকে দলে নেওয়ার মাধ্যমে ভারত একটি নতুন প্রজন্মের দিকে যাত্রা শুরু করল। ভক্তদের নজর এখন বিশেষ করে কনিষ্ঠতম সদস্য বৈভবের দিকে, যার প্রতিভা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ইতিপূর্বেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে বড় ধরনের দুঃসংবাদ পেল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। অনুশীলনের সময় পাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন দলটির ১৮ বছর বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল মিডফিল্ডার লেনার্ট কার্ল। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানো এই তরুণকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম উদীয়মান তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের বিদায় জার্মান শিবিরের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দলের নিয়মিত অনুশীলনের সময় লেনার্ট কার্ল ইনজুরিতে পড়েন। চোট পাওয়ার পরপরই তাঁকে উন্নত পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। যদিও চোটের ধরন সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে কার্ল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপ থেকে তাঁর ছিটকে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, সবচেয়ে বড় এই আসরে অংশ নিতে না পারার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। নিজেকে ফিট রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও জীবনের সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে এই চোট তাঁর স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। তবে তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন এবং সতীর্থদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
জার্মান জাতীয় দলের প্রধান কোচ জুলিয়ান নাগালসম্যান তরুণ এই ফুটবলারের ইনজুরি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আজ দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে নামার কথা রয়েছে জার্মানির। তার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে নাগালসম্যান জানান, লেনার্ট কার্লের চোটের বিষয়টি মোটেও ভালো মনে হচ্ছে না এবং পরিস্থিতি বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসার পর টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে যে কার্লের পরিবর্তে অন্য কাউকে স্কোয়াডে ডাকা হবে কি না। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গুরুতর ইনজুরি বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত স্কোয়াডে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
লেনার্ট কার্লের ক্যারিয়ার গ্রাফ ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। গত মার্চে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার পর মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেই কোচের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন এবং শুরুর একাদশেও নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছিলেন। আগামী ১৪ জুন নবাগত দেশ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জার্মানি তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। কার্লের অনুপস্থিতি জার্মানির মধ্যমাঠের পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে কোচকে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
কার্লের ইনজুরির পাশাপাশি অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে নিয়েও কিছুটা চিন্তায় রয়েছে জার্মানি। পায়ের পেশির চোটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম। ২০২৪ ইউরো কাপের পর অবসর নিলেও বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তাঁকে পুনরায় দলে ফেরানো হয়েছে। কোচ কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নয়্যারকে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলাতে পারেন। নয়্যারের অনুপস্থিতিতে বর্তমানে অলিভার বম্যান দলের প্রথম পছন্দ হিসেবে তৈরি রয়েছেন। সব মিলিয়ে মূল পর্ব শুরুর আগে ইনজুরি সমস্যা জার্মানির অন্দরমহলে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ে নিজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুনরায় আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। বর্তমানে তিনি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের একমাত্র টেস্ট ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইসিসির এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ক্রিকেট দল ভারতের ম্যাচগুলোতে শরফুদ্দৌলার সরব উপস্থিতি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বড় ম্যাচে স্নায়ুচাপ সামলে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানের সক্ষমতাই তাঁকে আন্তর্জাতিক আঙিনায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে শরফুদ্দৌলার আম্পায়ারিং নতুন কিছু নয়। এর আগে তিনি মর্যাদাপূর্ণ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, ভারত-ইংল্যান্ড ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ এবং ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলো সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। আইসিসির নিরপেক্ষ আম্পায়ার নীতি অনুযায়ী, শীর্ষ পর্যায়ের দলগুলোর লড়াইয়ে নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে তাঁর ওপর বারবার আস্থা রাখছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশেষ করে মাঠের খেলায় কোনো বিতর্কের সুযোগ না রেখে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সঠিক সমন্বয়ে তিনি নিজের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।
শরফুদ্দৌলার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল ২০২৪ সালের বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে টিভি আম্পায়ার হিসেবে তাঁর একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ভারতের ব্যাটার যশস্বী জয়সওয়ালের একটি আউটের আবেদনে আল্ট্রা-এজ বা স্নিকো প্রযুক্তিতে কোনো স্পষ্ট সংকেত না থাকলেও বলের গতিপথ ও ব্যাট-বলের অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি আউটের সিদ্ধান্ত দেন। যদিও শুরুতে এটি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে প্রখ্যাত ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেসহ অন্যান্য বিশ্লেষকরা তাঁর এই প্রখর দূরদৃষ্টির প্রশংসা করেন এবং বিষয়টিকে আম্পায়ারিংয়ের একটি উঁচু মানদণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন।
টেস্ট ক্রিকেটের আভিজাত্যের লড়াই ‘অ্যাশেজ’-এর মতো বড় মঞ্চেও প্রথম বাংলাদেশি আম্পায়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন শরফুদ্দৌলা সৈকত। সবশেষ ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে তিনি টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলতি টেস্টে তাঁকে মূল মাঠের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে নিয়মিতভাবে ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর ম্যাচ পরিচালনা করা তাঁর পেশাদারিত্বের এক বড় স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল হচ্ছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের আম্পায়ারদের জন্যও তিনি অনন্য এক মাইলফলক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এলিট প্যানেলের সদস্যরা নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে যেকোনো দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। শরফুদ্দৌলা সৈকতের এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ কেবল খেলোয়াড় তৈরিতেই নয়, বরং খেলা পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিশ্বমানের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। আম্পায়ারিংয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর নির্ভুলতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ তাঁকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ম্যাচ কর্মকর্তাদের তালিকায় স্থান দিয়েছে। ভারতের চলমান টেস্ট ম্যাচেও তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্রিকেট মহলে বিশেষ কৌতূহল ও গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম জয়ের দেখা পেয়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শুক্রবার রাতে সান মারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক স্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও জার্মানি ও স্পেনের মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সান মারিনোকে তাদেরই মাঠে হারানো বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক বিশাল অর্জন। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে মাঠে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের আনন্দ-উল্লাস এবং গ্যালারিতে থাকা হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির জয়ধ্বনি এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, যিনি দলের পক্ষে দুটি গোলই করেন। খেলার শুরুটা স্বাগতিকদের দাপটে কিছুটা নড়বড়ে হলেও ১৯তম মিনিটে প্রথম লিড পায় বাংলাদেশ। তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিন বল বাড়ালে চমৎকার এক হেডে জালে জড়ান তপু। তবে এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; ৩৩ মিনিটে তপুর একটি রক্ষণভাগীয় ভুল কাজে লাগিয়ে সান মারিনোর ফরোয়ার্ড নিকোলাস গোল করে সমতা ফেরান। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ঝাপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি। প্রথমার্ধের খেলা শেষে দুই দলই ১-১ সমতায় বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি পরিবর্তন করতে কোচ থমাস ডুলি বেশ কয়েকটি কৌশলী পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামানো হয় প্রবাসী ফুটবলার সামিত সোম ও জায়ান আহমেদকে, যার ফলে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের একটি জোরালো শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে রক্ষণভাগের বিশ্বনাথ ঘোষকে রাইট উইংয়ে খেলানোর সিদ্ধান্তটি ছিল ডুলির এক তুরুপের তাস। শেষ পর্যন্ত ৮৬ মিনিটে হামজার ফ্রি-কিক ও বিশ্বনাথের ভলি থেকে আসা বল তপুর মাথায় লেগে জালে জড়ালে ২-১ এ এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে সান মারিনো সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মিতুল মারমা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা প্রতিহত করেন। ইনজুরি টাইমে একটি বল গোললাইন প্রায় অতিক্রম করলেও মিতুলের তৎপরতায় তা জালে প্রবেশ করতে পারেনি। নির্ধারিত সময় শেষে জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। ইতালির রোম ও ভেনিসসহ বিভিন্ন শহর থেকে আসা হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে সান মারিনোর স্টেডিয়ামটি যেন ঢাকার এক টুকরো খণ্ড হয়ে উঠেছিল, যা খেলোয়াড়দের ঘরের মাঠে খেলার মতো মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।
বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক বিজয় ফুটবল বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। এর আগে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে এবং ২০০১ সালে ভারতে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করলেও জয়ের মুখ দেখা হয়নি টাইগারদের। দীর্ঘ ২৫ বছরের সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপ জয় করে ফিরছে জামাল ভূঁইয়ার দল। এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণের এক বলিষ্ঠ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সেই বহুল আলোচিত প্লাস্টিকের লম্বা বাঁশি বা ভুভুজেলার কথা ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অমলিন। শৈশবে মেলা থেকে কেনা সাধারণ বাঁশির মতো দেখতে এই যন্ত্রটি ফুঁ দিয়ে দর্শকরা আনন্দ পেলেও এর তীব্র শব্দে খেলোয়াড়, কোচ এবং রেফারিদের মনোযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতো। এমনকি ভুভুজেলার গগনবিদারী শব্দের কারণে মাঠের ফুটবলাররা রেফারির ফাউলের বাঁশি পর্যন্ত শুনতে না পেরে খেলা চালিয়ে যেতেন। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ভুভুজেলাকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে ফিফা।
ফিফার নতুন স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী কেবল ভুভুজেলা নয়, শব্দদূষণ তৈরি করতে পারে এমন সব ধরণের যন্ত্রই গ্যালারিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গ্যালারি থেকে লেজার রশ্মি নিক্ষেপ করার মতো যন্ত্রের প্রবেশও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মূলত খেলার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
দর্শকদের পোশাকের বিষয়েও এবার বিশেষ ও কড়াকড়ি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শরীরে কেবল রঙ করা বা ট্যাটু আঁকাকে পূর্ণাঙ্গ পোশাক হিসেবে গণ্য করা হবে না। গ্যালারিতে বা খেলার মাঠে নগ্ন হয়ে দৌড়ানো, অশালীনভাবে শরীর প্রদর্শন কিংবা পোশাক খুলে শরীরের সংবেদনশীল অংশ দেখানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেডিয়ামের ভেতরে ব্যক্তিগত পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের ওপরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফিফা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ কোনোভাবে ভেতরে প্রবেশ করার পর নিয়ম ভঙ্গ করেন এবং কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হবে। ফুটবলের বিশ্ব আসরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠ ও গ্যালারির নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা নিয়মিত নজরদারি চালাবেন।
আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে বাংলাদেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠার অবসান হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, দেশের তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল এই মহাযজ্ঞের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি-এর পাশাপাশি বেসরকারি চ্যানেল সময় টেলিভিশন এবং ক্রীড়াভিত্তিক চ্যানেল টি-স্পোর্টস যৌথভাবে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে ফিফার কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করেছে। একটি গণমাধ্যম সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড’ বাংলাদেশের বাজারের জন্য বিশ্বকাপের সম্প্রচার অধিকার কিনেছিল। তবে স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি করতে না পারায় টুর্নামেন্ট শুরুর দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে তারা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়, যার ফলে সম্প্রচার নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই জটিলতা নিরসনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল ও টেলিকম অপারেটরগুলোর সাথে যোগাযোগ করে এই সংকট কাটাতে সক্ষম হন। বিটিভির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সম্প্রচারের জন্য তাদের নিজস্ব কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না; বরং সংশ্লিষ্ট অংশীদাররা এই ব্যয়ভার বহন করছে।
টেলিভিশন পর্দার পাশাপাশি এবার ডিজিটাল মাধ্যমেও দর্শকরা নির্বিঘ্নে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন। শীর্ষ মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’ এবং গ্রামীণফোনের ‘বায়োস্কোপ’-এর মাধ্যমে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারে সরাসরি খেলা দেখার সুযোগ থাকবে। এর ফলে দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সব স্তরের দর্শকই ঘরে বসে কিংবা চলাফেরার মধ্যে ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা উপভোগ করতে পারবেন। ফিফার সাথে চুক্তির সব আইনি ও প্রক্রিয়াগত আনুষ্ঠানিকতা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে চ্যানেলগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে আগামীকাল (৬ জুন) মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই শক্তিশালী দল বাংলাদেশ ও ভারত। বুধবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্বাগতিক ভারত ফাইনাল নিশ্চিত করায় দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারও ফাইনালে লড়বে এই দুই দেশ। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের আসরে শিরোপার লড়াইয়ে এই দুই দেশ একে অপরের মোকাবিলা করেছিল।
ভারতের গোয়ায় চলমান সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের এই আসরটি টুর্নামেন্টের অষ্টম সংস্করণ। গত দুই আসরে নেপালকে পরাজিত করে বাংলাদেশ টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলেও, সাফের প্রথম পাঁচ আসরে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল ভারতের। সেই সময় ২০১৬ সালের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে এবারের আসরে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ দল গ্রুপ পর্বেও ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে পিটার বাটলারের শিষ্যরা ৩-০ গোলে পরাজিত হয়। তবে মালদ্বীপ সবকটি ম্যাচে হারায় ভারতের সাথে বাংলাদেশও শেষ চারে জায়গা করে নেয়।
ফাইনালে ওঠার পথে প্রথম সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সানফিদা ননগ্রুমের ৫৮ মিনিটের একমাত্র গোলে ভুটানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। দীর্ঘ এক দশকের বিরতি ভেঙে ৬ জুন জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে নামবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে নয়টায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিকেএসপিতে ম্যাচটি খেলার কথা থাকলেও ব্রাদার্সের ক্রিকেটাররা মাঠে গিয়েও অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে নিয়ম অনুযায়ী অগ্রণী ব্যাংককে ওয়াকওভার প্রদান করা হয়েছে।
ক্রিকেটারদের অভিযোগ, চুক্তিকালীন প্রতিশ্রুতির বিপরীতে তাদের পারিশ্রমিকের বড় একটি অংশ এখনও বকেয়া রয়েছে। একটি গণমাধ্যমকে দলটির একাধিক খেলোয়াড় জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তারা মোট পারিশ্রমিকের মাত্র ২০ শতাংশ অর্থ হাতে পেয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বেই ৫০ শতাংশ পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল রাতে এ বিষয়ে ক্লাবকে চূড়ান্তভাবে অবহিত করা হলেও আজ ম্যাচের আগে পাওনা না মেটানোয় ক্রিকেটাররা সম্মিলিতভাবে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
মাঠের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ম্যাচ রেফারি এনায়েত হোসেন চৌধুরী তামিম বলেন, ‘তারা খেলোয়াড় তালিকাও দেয়নি, টসেও আসেনি। অগ্রণী ব্যাংকের অধিনায়ক ও আমি অপেক্ষা করছিলাম। আমরা আধঘণ্টার মতো অপেক্ষা করেছি। পরে তাদের অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা আসেনি।’
এদিকে সিসিডিএম-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্লাব বা ক্রিকেটারদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ পারিশ্রমিক সংক্রান্ত এই জটিলতা নিয়ে আগেভাগে কোনো পক্ষই তাদের কিছু জানায়নি। অন্যথায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারত। বিষয়টি পুরোপুরি ক্লাব ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত চুক্তির বিষয় বলে তারা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমেন খানের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য যে, মাঠের খেলায়ও বেশ নাজুক অবস্থানে রয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন; চলতি লিগে ৯ ম্যাচে মাত্র ১ জয় পাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি এখন অবনমনের তীব্র শঙ্কায় রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। পেস বোলিং কোচ শন টেইট আর দলের সাথে কাজ করতে আগ্রহী নন বলে বেশ কিছু দিন ধরে গুঞ্জন চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে টেইটের পাশাপাশি থাকছেন না মুশতাক আহমেদ ও জেমস প্যামেন্টও। কোচিং স্টাফের এই শূন্যতা পূরণ করতে ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি কাটাতে আবারও জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দেশি কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজেও দলের সাথে থাকবেন।
জানা গেছে, আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক ক্রিকেটার তালহা জুবায়ের। জিম্বাবুয়ে সিরিজেও তিনি এই দায়িত্বে বহাল থাকবেন। এদিকে, সোহেল ইসলাম এইচপি দলের প্রধান কোচ হিসেবে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এইচপি দলের লাল বলের ম্যাচগুলো পর্যবেক্ষণ করতে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কয়েক দিন সিলেটে অবস্থান করবেন। সেখানে তার সাথে থাকবেন নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক ও মিজানুর রহমান বাবুল।
অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই সাদা বলের দ্বৈরথ শুরু হবে আগামী ৯ জুন। সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ ৯, ১১ ও ১৪ জুন ঢাকার শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে দুই দল চট্টগ্রামে যাবে। সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে কোচিং প্যানেলে এই পরিবর্তন আসন্ন সিরিজগুলোতে দলের পারফরম্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লাহোরের স্পিন সহায়ক উইকেটে সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে পাকিস্তান। ১৫৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে তীব্র চাপের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত শাদাব খান ও আবদুল সামাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। শাহিন আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দলটি এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজ জয়ের উল্লাসে মেতেছে।
রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান এক সময় ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়েছিল। সেই সংকটময় মুহূর্তে দলের হাল ধরেন শাদাব খান ও আবদুল সামাদ। শাদাব ২৯ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন এবং সামাদ ১৮ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সপ্তম উইকেটে তাদের ৪৯ রানের অনবদ্য জুটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। এর আগে বাবর আজম ৪০ রানের এক দৃঢ় ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন। পাকিস্তান ৪১.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া, তবে প্রথম ওভারেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে অজি শিবিরের শুরুটা নড়বড়ে করে দেন শাহিন আফ্রিদি। পরবর্তীতে জশ ইংলিস ৬৫ রান এবং মারনাস লাবুশেন ১৯ রান করে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। ৯৮ রানে ২ উইকেট থেকে নাটকীয় ব্যাটিং ধসে পড়ে দলটি এবং মাত্র ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। পাকিস্তানের মাটিতে এটিই অজিদের সর্বনিম্ন ওয়ানডে সংগ্রহ। বল হাতে শাহিন আফ্রিদি ৩টি এবং আবরার আহমেদ ও শাদাব খান ২টি করে উইকেট শিকার করেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের মাধ্যমে এই লো-স্কোরিং ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে সিরিজ নিজেদের করে নিল পাকিস্তান।
আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে চলাচলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তিন সপ্তাহ আগে দেওয়া নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন থেকে টুর্নামেন্টের কোনো ভেন্যুতেই দর্শকরা কোনো ধরনের পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি আগে অনুমোদিত থাকা খালি ও স্বচ্ছ পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতলগুলোও এখন নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলত গ্যালারি থেকে মাঠে বস্তু ছুড়ে মারার ফলে খেলোয়াড় বা দর্শকদের আহত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের ই-মেইলের মাধ্যমে এই হালনাগাদ আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করেছে। নতুন এই নিয়মের ফলে দর্শকরা আর বাইরে থেকে খালি বোতল নিয়ে এসে স্টেডিয়ামের ভেতরের পানির ফোয়ারা বা ডিসপেনসার থেকে পানি ভর্তি করার সুযোগ পাবেন না। ফিফা জানিয়েছে, অনেক ভেন্যুতে আগে থেকেই এই নিয়ম কার্যকর ছিল এবং এখন তারা পুরো টুর্নামেন্টের সব স্টেডিয়ামে একটি অভিন্ন ও সুসংহত নিরাপত্তা নীতি প্রয়োগ করতে চায়। তবে এই সিদ্ধান্ত পরিবেশবাদী এবং সাধারণ দর্শকদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে চড়া দামে পানি কেনার বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে।
চড়া দামের পাশাপাশি তীব্র তাপপ্রবাহের সময় দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে বোতলজাত পানির দাম ছিল ৪ থেকে ৬ ডলার, যা নিয়ে সমর্থকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ২৬টি ম্যাচ এমন আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হবে যেখানে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা জনিত ‘ডব্লিউবিজিটি’ সূচক ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করবে। কানসাস সিটি, মায়ামি ও নিউইয়র্কের মতো শহরগুলোতে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে দর্শকদের শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বোতল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই নীতিতে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফিফা। চিকিৎসাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় কোনো তরল অথবা শিশুদের জন্য বিশেষ পানীয় বা খাবার বহন করা যাবে। তবে সেক্ষেত্রে দর্শকদের ইংরেজি, ফরাসি বা স্প্যানিশ ভাষায় স্বীকৃত চিকিৎসকের সনদ প্রদর্শন করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাপজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ফিফা প্রতিটি আয়োজক শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। দর্শকদের আরামদায়ক পরিবেশ দিতে স্টেডিয়ামের আশেপাশে এবং ভেতরে মিস্টিং স্টেশন, শক্তিশালী ফ্যান এবং কুলিং টেন্ট বা শীতলীকরণ তাঁবুর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ফিফা আশ্বস্ত করেছে যে, স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানির মূল্য অন্যান্য বড় ক্রীড়া ইভেন্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হবে। এছাড়া পানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পানির পর্যাপ্ত যোগান নিশ্চিত করা হবে। মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বিশ্বকাপ উপহার দেওয়াই ফিফার এই কড়াকড়ির মূল উদ্দেশ্য। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা স্টেডিয়ামে আসার আগে এই নতুন নির্দেশিকাগুলো ভালোভাবে দেখে নেন, যাতে প্রবেশপথে কোনো ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হতে না হয়।
আগামী জুনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য হাইভোল্টেজ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বড় ধরনের চমক রেখেছে নির্বাচক কমিটি। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়ে সাজানো এই দলে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ঘরোয়া কন্ডিশনের সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইতিবাচক ফলাফল অর্জনই এখন টাইগারদের মূল লক্ষ্য।
ঘোষিত এই ওয়ানডে স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর আবারও জাতীয় দলের ওয়ানডে ফরম্যাটে ডাক পেলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের হয়ে ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন মোসাদ্দেক। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক নৈপুণ্য প্রদর্শনের পুরস্কার হিসেবে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নির্বাচকদের আস্থায় ফিরলেন এই ক্রিকেটার। তাঁর অন্তর্ভুক্তি দলের মিডল অর্ডারে বাড়তি গভীরতা ও শক্তি যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলে নতুনদের আগমনের পাশাপাশি বাদ পড়েছেন গত নিউজিল্যান্ড সিরিজে থাকা আফিফ হোসেন এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। বিশেষ করে অফফর্মের কারণে নির্বাচকদের রাডারের বাইরে চলে গেছেন আফিফ হোসেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতার অভাব থাকায় অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাঁকে বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে স্কোয়াডে সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস এবং নাজমুল হোসেন শান্তর মতো নিয়মিত মুখদের ওপরই মূল ভরসা রাখা হয়েছে। পেস বোলিং বিভাগে তাসকিন-মুস্তাফিজের পাশাপাশি তরুণ নাহিদ রানার অন্তর্ভুক্তি পেস আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে আগামীকাল ৪ জুন থেকে। মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগাররা নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্পে অংশ নেবেন। সিরিজের মূল লড়াই শুরু হবে আগামী ৯ জুন প্রথম ওয়ানডের মাধ্যমে। পরবর্তী দুটি ওয়ানডে ম্যাচ যথাক্রমে ১১ এবং ১৪ জুন একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল চট্টগ্রামে পাড়ি জমাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য। সেখানে ১৭, ১৯ এবং ২১ জুন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য চূড়ান্ত হওয়া ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দলে রয়েছেন—মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, কাজী নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। অভিজ্ঞ এবং তরুণ তুর্কিদের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে লড়াই জমিয়ে তুলবে বলে প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেট ভক্ত ও বিশ্লেষকরা।
আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে কঠোর গোপনীয়তার পথ বেছে নিয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। তুরস্কের আনতালিয়া রিসোর্টে আগামীকাল মালির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা। তবে এই ম্যাচটি নিয়ে ইরানি ফুটবল ফেডারেশন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দলের প্রধান কোচের বিশেষ কিছু কৌশলগত পরিকল্পনা ও গেম-প্ল্যান গোপন রাখার স্বার্থে ম্যাচটি সম্পূর্ণ রুদ্ধদ্বার বা ‘ক্লোজ ডোর’ স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানি ফুটবল ফেডারেশন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, জাতীয় দলের জন্য মালির বিপক্ষে এই ম্যাচটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও টেকনিক্যাল প্রস্তুতি শেষবারের মতো যাচাই করে নিতে চান কোচ। কৌশলগত কারণে এই ম্যাচে কোনো দর্শক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং কোনো দেশি বা বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীও মাঠে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এর মাধ্যমে কোচ তাঁর চূড়ান্ত একাদশ ও খেলার ধরন সম্পর্কে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে কোনো ধারণা দিতে চাচ্ছেন না।
বর্তমান প্রতিকূল যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র ঢিল দিচ্ছে না। তুরস্কের আনতালিয়াতে দুটি পৃথক অনুশীলন ক্যাম্পের মাধ্যমে দলটি ইতোমধ্যে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ সম্পন্ন করেছে। এই সফরের প্রথম দিকে তারা নাইজেরিয়ার কাছে পরাজিত হলেও পরবর্তী দুই ম্যাচে কোস্টারিকা ও গাম্বিয়ার বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে। মালির বিপক্ষে এই শেষ পরীক্ষাটি জয় দিয়ে শেষ করে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে উত্তর আমেরিকার পথে যাত্রা করতে চায় ‘টিম মেলি’।
নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইরানি ফেডারেশন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে বুঝিয়ে তাদের বিশ্বকাপের বেস ক্যাম্প বা মূল ঘাঁটি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত আমেরিকার অ্যারিজোনার পরিবর্তে দলটির নতুন আবাসন ও অনুশীলনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরে। মালির বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে আগামী শনিবার দলটি সরাসরি মেক্সিকোর উদ্দেশ্যে রওনা হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানকে বেশ কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। মেক্সিকোর ক্যাম্প থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে তারা নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ও সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচে সিয়াটলে তারা মোহামেদ সালাহর মিশরের মুখোমুখি হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও ফুটবলারদের একাগ্রতা ধরে রাখা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করাই এখন ইরানি দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। রুদ্ধদ্বার এই প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল ও খেলোয়াড়দের ফর্ম এখন ফুটবল প্রেমীদের কাছে এক কৌতূহলী রহস্য হয়ে থাকল।