সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

অস্ট্রেলিয়ার ঘূর্ণি বলের ম্যাজিশিয়ান অ্যাডাম জাম্পা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:৩৪

১৯৯২ সালের ৩১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের শেলহার্বার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডাম জাম্পা। অস্ট্রেলিয়ার মতো পেস বান্ধব উইকেটে নিজেকে প্রমাণ করাটা সহজ ছিল না জাম্পার জন্য। তবে জাম্পা সেই চ্যালেঞ্জে দমে যাননি। সব বাধাকে জয় করে তিনি এখন অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের অপরিহার্য অংশ। জাম্পাকে ছাড়া যেন অজিদের ওয়ানডে টি-টোয়েন্টি দল কল্পনাই করা যায় না। সেই জায়গাটা অবশ্য এমনি এমনি পাননি তিনি। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে তৈরি করে নিয়েছেন নিজের জায়গা। হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ভরসার প্রতীক। বিশেষ করে এশিয়ার কন্ডিশনে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ান এই লেগস্পিনার। সে ম্যাচে ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। পরের মাসেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। অস্ট্রেলিয়া দলের অপরিহার্য অংশ হওয়ায় নিয়মিতই দলের সঙ্গে সফরে যেতে হয় জাম্পাকে। যে কারণে খুব বেশি সুযোগ থাকে না পরিবারকে সময় দেওয়ার। জাম্পা তো নববধূকে রেখেই চলে গেছেন দলের সঙ্গে।

২০২১ সালের ঘটনা, সে বছরই জাম্পা বিয়ে করেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী হ্যাটি লেইট পালমারকে। কিন্তু বিয়ের পর মাত্র ৮ দিনই সময় দিতে পেরেছিলেন নিজের স্ত্রীকে। সেই ঘটনা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেন জাম্পা। পরবর্তীতে যেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই পোস্টে জাম্পা লিখেন, ‘বিয়ে করেছি ৬৮ দিন হলো, স্ত্রীর সঙ্গে ছিলাম মাত্র ৮ দিন।’

জাম্পার বিয়ের পরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ সফরে যায় অস্ট্রেলিয়া। যেখানে গিয়েছিলেন জাম্পাও। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করাটা জাম্পার কাছে গর্বের হলেও বিয়ের পর স্ত্রীকে ছেড়ে থাকাটা তার কাছে ছিল কষ্টের। জাম্পা তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেই তার কষ্ট বুঝিয়েছিলেন। যেখানে ছিল তার স্ত্রীর ছবি। আর তার উপরে লেখা ছিল, ‘বিয়ে করেছি ৬৮ দিন, স্ত্রীর সঙ্গে ছিলাম মাত্র ৮ দিন।’ সঙ্গে কান্নার ইমোজি দিয়েছিলেন।

রেকর্ডের ঝুড়িও বেশ সমৃদ্ধ এই অজি তারকার। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপে উইকেট শিকার করে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন স্বদেশি শেন ওয়ার্ন আর হগকে। হয়েছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। অবদান রেখেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ে। এখন পর্যন্ত ৯৯ ওয়ানডে ম্যাচ থেকে শিকার করেছেন ১৬৯ উইকেট। যেখানে নামের পাশে ৫ উইকেট লিখিয়েছেন একবার। আর ৪ উইকেট শিকারের কীর্তি আছে ১১ বার। টি-টোয়েন্টিতে যেই সংখ্যা ৮০ ম্যাচ থেকে ৯২ উইকেট। সমান একবার করে শিকার করেছিলেন পাঁচ উইকেট আর চার উইকেট। ক্যারিয়ারের এখনো লম্বা সময় বাকি এই তারকার। সে সময় হয়তো নিজের নামের সঙ্গে যোগ করবেন আরও কতগুলো রেকর্ড।


ডি মারিয়ার অবসরের কারণ জানালেন স্ত্রী

আপডেটেড ১৫ জুলাই, ২০২৪ ১৫:২২
ক্রীড়া ডেস্ক

২০০৮ সাল থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলে যাচ্ছেন এঞ্জেল ডি মারিয়া। অবশেষে বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে তার। কোপা আমেরিকার ফাইনালের মধ্য দিয়েই আর্জেন্টিনার হয়ে ফুটবল অধ্যায়ের ইতি টানবেন সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে ডি মারিয়ার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। অলিম্পিকের ফাইনাল, কোপা আমেরিকার ফাইনাল, বিশ্বকাপের ফাইনালে তার পা থেকেই এসেছিল গোল। যা আর্জেন্টিনার অন্য কোনো ফুটবলারের পক্ষে করা সম্ভব হয়নি।

বিদায়বেলায় আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলারের স্ত্রী জর্জেলিনা কারডোসো জানালেন ডি মারিয়ার অবসর নেওয়ার কারণ। আর্জেন্টাইন স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘বন্দি’-তে দেওয়া এক টিভি অনুষ্ঠানে কারডোসো বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না, কারণ বলতে গেলেই আমি ব্যথিত হয়ে পড়ব। আমি তাকে ছাড়া জাতীয় দল কল্পনা করতে পারি না। শুধু এঞ্জেল বলে না সে বলেছে, সে এভাবে সামনে থেকেই বিদায় নিতে চায়।’

‘আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি এভাবে বিদায় নিতে পারো না। কারণ তুমি এখনো অনেক ভালো খেলছো, মানুষ তোমাকে ভালোবাসে।’ সে আমাকে বলেছে, ‘না আমি এভাবেই মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে চাই। আমি চাই না কেউ আমার থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এখন অনেক তরুণ ফুটবলার এসেছে, যারা অনেক ভালো করছে। সে জানে কী বলতে হবে এবং সে সঠিক। এটা অনেক ভালো সিদ্ধান্ত এভাবে বিদায় নেওয়া।’

কারডোসো ডি মারিয়া সম্পর্কে আরও বলেন, ‌‘আমার মনে হয়, সে কখনোই বিদায় নিতে চায়নি কিন্তু আমার মনে হয়েছে এখনই বিদায় নেওয়াটাই ভালো। তার এমন বিদায় প্রাপ্য। তার অন্য কোনোভাবে বিদায়ের সুযোগ নেই। তার বিদায়টা অনেক কষ্টকর হবে। আমরা শুধু প্রহর গুনছিলাম। তিনটা বাকি ম্যাচ, দুইটা ম্যাচ বাকি। এখন একটি বাকি। পীড়াদায়ক এটি।’

ডি মারিয়ার বেনফিকা ছেড়ে শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে আসার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে অনেক দিন ধরেই। এই ৩৬ বছর বয়সির স্ত্রী কারডোসো সে সম্পর্কে বলেন, ‘সে সকল সিদ্ধান্তকে পেছনে ফেলে শুধু কোপা আমেরিকা নিয়েই ভাবতে চেয়েছে।’

বিষয়:

স্ত্রী-সন্তানদের পরিত্যাগ করায় কারাদণ্ড প্যাট্রিস এভরারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি প্যাট্রিস এভরাকে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নঁতেরের ফৌজদারি আদালত। এভরার আইনজীবীর বরাত দিয়ে খবরটি দিয়েছে ফ্রান্সের পত্রিকা লা পারিসিয়ান। এই এক বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে এভরাকে আরও দুই০ বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর মানসিক ক্ষতির জন্য চার হাজার এবং আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বাবদ আরও দুই হাজার ইউরো জরিমানাও করা হয়েছে এভরাকে। ২০২১ সালের ১ মে থেকে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিত্যাগ করার অভিযোগে এই শাস্তি পেয়েছেন ফ্রান্স ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার এভরা। এই শাস্তির বিরুদ্ধে অবশ্য আপিল করেছেন ৪৩ বছর বয়সি সাবেক ফুটবলার।

আদালত এভরার শাস্তি ঘোষণার পর একটি সূত্র সরকারি কৌঁসুলি নাথালিয়ে দুবোইসের বক্তব্য লা পারিসিয়ানকে জানিয়েছেন। দুবোইস বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমি আশা করছি যে এর মাধ্যমে এভরার পরিবার অবশেষে বুঝতে পারবে যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। একই সঙ্গে আমরা সবাই বুঝতে পারব যে আমরা হুটহাট আমাদের স্ত্রী আর সন্তানদের পরিত্যাগ করতে পারি না।’ দুবোইস যেন এরপর এভরাকে তার অতীত মনে করিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে এটা বলার চেষ্টা করেছেন যে এভরা অকৃতজ্ঞ একজন মানুষ। দুবোইস বলেছেন, ‘এমনকি তাদের (এভরা ও তার স্ত্রী সান্দ্রা) যখন পরিচয় হয়, তখন তাদের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। এভরার ফুটবল ক্যারিয়ারকে সমর্থন জুগিয়ে যেতে সেই বয়স থেকে তিনি (সান্দ্রা) তার সঙ্গে বিশ্বের নানা প্রান্তে বিচরণ করেছেন।’

এভরার আইনজীবী মে জেরম বুরসিকান তার মক্কেলের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, জনাব প্যাট্রিস এভরা একটি আপিল করেছেন। সেই আপিলে তিনি জানিয়েছেন যে দক্ষিণ ফ্রান্সে স্ত্রীকে একটি ফ্ল্যাট, সুইমিংপুলসহ একটি বাড়ি এবং দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০ লাখ ইউরো দিয়েছেন। এ অর্থ তিনি ফেরত দিতে অস্বীকার করেছেন। আইনি ঝামেলায় পড়া এভরার জন্য অবশ্য এটাই প্রথম নয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সমকামিতা নিয়ে একজনকে অপমান করে প্যারিসের পুলিশি আদালতের মুখোমুখি হয়েছিলেন এভরা। এ কারণেই হয়তো জেল-জরিমানার শাস্তিকে তিনি ভয় পান না। নঁতেরের আদালত তার শাস্তি ঘোষণার পর এভরা ইনস্টাগ্রামে যে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, সেটাতেও এটাই স্পষ্ট হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুই হাতে হাতকড়া লাগিয়ে এবং জেলের পোশাক পরে এভরা বাস্কেটবল খেলছেন। বল বাস্কেটে ফেলে একটি র‌্যাপ গানের সঙ্গে নেচেছেনও। ভিডিওটি দিয়ে এভরা লিখেছেন, ‘এই বাজে খবরটা আমায় বন্ধ করতে দিন; দেখুন, কারাগারে আমি কতটা উপভোগ করেছি।’ এরপর হাসির তিনটি ইমোজি দিয়েছেন এভরা।


প্রতিশোধের ফাইনালে ইতিহাসেরও হাতছানি জোকোভিচের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উইম্বলডনের প্রথম সেমিফাইনালে কার্লোস আলকারাজের জয়ের পরই তৈরি হয় এই সম্ভাবনা। অপেক্ষা ছিল পরেরটিতে নোভাক জোকোভিচেরও জিতে আসার। ইতালির লরেনৎসো মুসেত্তিকে হারিয়ে সেই কাজও ঠিকঠাক সেরে নেন জোকোভিচ। এ দুজনের জয়ে গত বছরের ফাইনালেরই এখন পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে উইম্বলডনে। রোববারের ফাইনালটা জোকোভিচের জন্য প্রতিশোধেরও। গত বছর যে ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর আলকারাজের কাছে হেরে গিয়েছিলেন সার্বিয়ান টেনিস মহাতারকা।

গতকাল রাতে সেন্টার কোর্টে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ মুসেত্তিকে কোনো প্রতিরোধই গড়তে দেননি জোকোভিচ। ৬-৪,৭-৬ (৭ /৬),৬-৪ গেমে জিতে নিশ্চিত করেছেন উইম্বলডনের তার দশম ফাইনাল। সব মিলিয়ে এটি জোকোভিচের ৩৭তম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল। ফাইনালে আলকারাজকে হারাতে পারলে নতুন ইতিহাসও গড়বেন জোকোভিচ। নারী ও পুরুষ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জেতা মার্গারেট কোর্টকে পেছনে ফেলে এককভাবে সর্বোচ্চ শিরোপা জেতা খেলোয়াড় হবেন তিনি। দুজনেরই এখন সমান ২৪টি করে গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। পাশাপাশি জোকোভিচের সামনে সুযোগ উইম্বলডনে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ে কিংবদন্তি রজার ফেদেরারের পাশে বসারও। উইম্বলডনের ৮টি শিরোপা জিতে এখন সবার ওপরে আছেন ফেদেরার, জোকোভিচের উইম্বলডন শিরোপা ৭টি। সেমির লড়াই জিতে ফাইনালের প্রতিপক্ষ আলকারাজকে নিয়ে কথা বলেছেন জোকোভিচ। ফাইনালের আগে আলকারাজের প্রশংসাই বেশি শোনা গেল জোকোভিচের কণ্ঠে, ‘সে সবদিক থেকে ভারসাম্যপূর্ণ খেলোয়াড়ের দারুণ এক উদাহরণ। আলকারাজের দারুণ একটি কোচিং দল আছে এবং তার মূল্যবোধও দারুণ। এ কারণে সে বেশ জনপ্রিয়ও। ২১ বছর বয়সিদের মধ্যে সে আমার দেখা সর্বকালের সেরাদের একজন। ভবিষ্যতে আমরা তার অনেক কীর্তি দেখব। সে আরও অনেক গ্র্যান্ড স্লাম জিতবে।’

বিষয়:

লরেনৎসো কি আর্জেন্টিনার ‘বিভীষণ’ হবেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

শাস্ত্রীয় সংগীতে গুরু-শিষ্য পরম্পরার মর্যাদা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আর এই পরম্পরা থেকেই তৈরি হয় ঘরানার। যুগের পর যুগ ধরে আবর্তিত হয় সে ধারা। এই ধারায় শিষ্য হয়তো সাফল্য, অর্জন কিংবা জনপ্রিয়তায় ছাড়িয়ে যেতে পারেন গুরুকেও। কিন্তু গুরু তবু গুরুই থেকে যান। যে কারণে পণ্ডিত রবিশঙ্কর সেতার বাজিয়ে পৃথিবী জয় করলেও তাতে গুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মর্যাদা একটুও কমে না। শাস্ত্রীয় সংগীতের মতো ফুটবলেও গুরু-শিষ্য পরম্পরার অবস্থান আলাদা। এই পরম্পরা কোচ ও খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচদের নিজেদেরও মধ্যে চলে আসছে অনেক বছর ধরে। আর্জেন্টিনার ফুটবলে তেমনি এক ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হোসে পেকারম্যানের হাত ধরে। বলা হয়, আধুনিক আর্জেন্টাইন ফুটবলের যে ধারা, তার অন্যতম পথপ্রদর্শক হলেন পেকারম্যান। আজকের লেখার মূল চরিত্র অবশ্য পেকারম্যান নন। তবে যাকে নিয়ে এই প্রতিবেদন, তিনি পেকারম্যানের দর্শন থেকে বেরিয়ে আসা এক কোচ, নেস্তর লরেনৎসো। গুরু-শিষ্যের জটিল সমীকরণে যিনি আবার ঘটনাচক্রে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি ও লিওনেল মেসির গুরুও বটে।

এ গুরু-শিষ্যই আগামী সোমবার ভোরে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জয়ের দ্বৈরথে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়াবেন। অর্থাৎ লরেনৎসোর সামনে চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে শিষ্যদের হারিয়ে নিজের দেশের বিপক্ষে কলম্বিয়াকে শিরোপা এনে দেওয়ার। এককথায় লরেনৎসোকে হতে হবে রামায়ণের বিভীষণ। রাবণের ছোট ভাই বিভীষণ যুদ্ধক্ষেত্রে ভাইয়ের বদলে রামের পক্ষ নিয়েছিলেন এবং রামের সীতা উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। নিজ দেশের বিরুদ্ধে কলম্বিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়ে একই কাজ করতে হবে লরেনৎসোকেও। তবে বিভীষণ হয়ে শিরোপা জেতার চ্যালেঞ্জটাকে দূরে সরিয়ে রাখলেও লরেনৎসোর এই পর্যন্ত আসাটা অনন্য এক গল্পই বটে। খেলোয়াড় হিসেবে লরেনৎসোর ক্যারিয়ার মোটেই আহামরি ছিল না। জাতীয় দলের হয়ে যা শেষ হয়েছে মাত্র ১৩ ম্যাচেই। তবে এই কটি ম্যাচেই লরেনৎসোর কাছে বলার মতো এমন গল্প আছে, যা হয়তো এক শ ম্যাচ খেলা অনেক কোচের ক্যারিয়ারেও পাওয়া যাবে না। আর্জেন্টিনার ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা দলটির সদস্য ছিলেন লরেনৎসো। শেষ পর্যন্ত জার্মানিকে হারিয়ে শিরোপা জিততে না পারলেও, বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতাটুকুই তো যে কারও আমৃত্যু গল্প করার সম্বল হতে পারে। আর সেই ফাইনালের সতীর্থ যদি হন ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতো কেউ, তবে তা তো সোনায় সোহাগা। ম্যারাডোনাকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে লরেনৎসো বলেছিলেন, ‘সে প্রতিদিন বিশেষ কিছু করে দেখাত।’

সেই লরেনৎসোর সামনে এবার সুযোগ ৩৪ বছরের সেই পুরোনো গল্পকে পেছনে ফেলে নতুন এক গল্প শুরুর। কোপা আমেরিকার ফাইনালে প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কলম্বিয়াকে কোপার শিরোপা এনে দিতে পারলে, সেটি নিশ্চিতভাবেই লরেনৎসোর ক্যারিয়ারে অনবদ্য এক গল্প হয়েই থাকবে। লরেনৎসোর কলম্বিয়া ইতিহাস গড়ার শেষ ধাপটি পেরোতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ের হাতেই থাকল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কলম্বিয়ার ডাগআউটে নিজের পারফরম্যান্সের দিকে ফিরে তাকালে, শান্ত স্বভাবের মানুষটি তৃপ্তির হাসি হাসার অনেক রসদই পাবেন।

২০২২ সালের রেইনালদো রুয়েদাকে সরিয়ে লরেনৎসোকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়, কলম্বিয়ার অনেকেই তাকে সেই পদে দেখতে চাননি। যে তালিকায় দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার কার্লোস ভালদেরামাও ছিলেন। তাদের চাওয়া ছিল মূলত দেশীয় কোনো কোচ। পাশাপাশি কলম্বিয়ানরা তাকে চিনত পেকারম্যানের সহকারী হিসেবে। ফলে এমন কোচ কলম্বিয়ার ফুটবলকে আদৌ সাফল্য এনে দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কাও ছিল কলম্বিয়ানদের। লরেনৎসো অবশ্য নিজের আদর্শ ও দর্শন নিয়ে সব সময় আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এরপরও তার জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে সময় লাগেনি। যার শুরুটা হয় হামেস রদ্রিগেজকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার পর।

‘না, না, না’-রদ্রিগেজের ফেরার খবরে কলম্বিয়ানদের শুরুর প্রতিক্রিয়া ছিল এমন। তবে হাল ছাড়েননি লরেনৎসোও। শুরু করেন রদ্রিগেজকে কলম্বিয়া জাতীয় দলে ফেরানোর মিশন, যা একই সঙ্গে কোচ হিসেবে এবং দল ব্যবস্থাপনায় লরেনৎসোর হার না মানা মনোভাবকেও তুল ধরে। লরেনৎসো যখন দায়িত্ব নেন, রদ্রিগেজ তখন খেলছিলেন কাতারের আল রায়ান ক্লাবে। অর্থাৎ শীর্ষ সারির ফুটবল থেকে রদ্রিগেজ তখন অনেক দূরে। অনেকেই তখন সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এপিটাফও লিখে ফেলেছিল। কিন্তু রদ্রিগেজের সামর্থ্য পেকারম্যানের সহকারী হিসেবে খুব কাছ থেকেই দেখেছিলেন লরেনৎসো। ফলে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন আর্জেন্টাইন এই কোচ।

বিষয়:

পেলের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় ইয়ামাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

‘যদি স্পেনের হয়ে ইউরো ফাইনাল খেলতে চায়, তাহলে তাকে এর আগে যা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে তার চেয়েও বেশি কিছু করে দেখাতে হবে। নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।’-ইউরো সেমিফাইনালের আগে লামিনে ইয়ামাল সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছিলেন ফ্রান্সের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আদ্রিয়ান রাবিও। তার পরের মন্তব্য ছিল, ‘মাঠের মধ্যে একটুও স্বস্তিতে থাকতে দেবো না তাকে। সুতরাং একটুও স্বচ্ছন্দে খেলতে পারবে না সে (লামিনে ইয়ামাল)।’ স্বস্তি না দেওয়া? মিউনিখের আলিয়াঞ্জ এরেনায় ইয়ামালের কাছাকাছিও ঘেঁষতে পারেননি রাবিও। একজন আরেকজন থেকে অনেক দূরে থাকতে হয়েছে। বরং ১৬ বছর বয়সি স্প্যানিশ তারকা বাঁ-পায়ের দারুণ একটি শট অসাধারণভাবে জড়িয়ে দিয়েছিলেন ফ্রান্সের জালে।

ম্যাচ যখন শেষ হয়ে গেলো, খেলা শেষে বাঁশি বাজালো রেফারি, ওই সময় ক্যামেরার সামনে ইয়ামালের হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখা যাচ্ছিল। তিনি তখন বলছিলেন, ‘এবার কিছু বলো, এবার কিছু বলো!’ কথাটা যে রাবিওর উদ্দেশ্যে বলা, তা আর বোঝার বাকি ছিল না। সম্ভবত, নিজে নিজে আর লজ্জিত হতে চাইলেন না ফ্রান্সের অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। একজন স্কুলবয়ের কাছ থেকে যে শিক্ষা তিনি পেলেন, তা হয়তো জীবনে ভুলবেন না। যে স্কুলবয় যেন তার স্কুল থেকে দেওয়া হোমওয়ার্ক শেষ করার জন্যই জার্মানিতে এসেছে। লামিনে ইয়ামাল ইউরোতে এসেছেন যেন রেকর্ডবুক নতুন করে লেখার জন্য। বিস্ময়কর দক্ষতা এবং পরিপক্কতা দিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে শুরু করে দিয়েছেন বিস্ময়বালক ইয়ামাল।

১৪ জুলাই ইউরো ফাইনাল খেলতে নামার আগেরদিন ১৭তম জন্মদিন পালন করছেন ইয়ামাল। পরেরদিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যখন তিনি ফাইনাল খেলতে নামবেন, সাথে সাথেই বিরল একটি রেকর্ড গড়ে ফেলবেন। যে রেকর্ডটি ৬৬ বছর আগে গড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। যে কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের স্বীকৃতি মিলে যাবে ইয়ামালের। ১৯৫৮ সালে, ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলেন পেলে। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যখন ইয়ামাল ইউরোর ফাইনাল খেলতে নামবেন, তখন তার বয়স হবে ১৭ বছর ১ দিন।

এটাই এই তরুণ ফুটবলারকে কিংবদন্তিদের কাতারে নিয়ে এসেছে এবং এটাই তাকে অন্যদের সঙ্গে তুলনায়ও তুলে এনেছে। এত অল্প বয়সে এমন প্রতিভাধর ফুটবলার, অন্যদের বিস্মিতই করে চলেছে। বার্সেলোনার রিজার্ভ টিমের কোচ রাফা মার্কুয়েজ মুন্ডো দেপোর্তিভোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, ‘সে তো এখনও একটি বাচ্চা। তার জন্য সব সহজ করে দাও।’ বার্সেলোনার সদ্য সাবেক কোচ জাভি যখন ইয়ামালকে ক্লাবের জার্সিতে মাঠে নামাচ্ছিলেন, তখন তাকে নতুন ‘লিওনেল মেসি’ বলেই অভিহিত করেছিলেন।

লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে ওঠা হাইফ তখন থেকে মোটেও কমেনি। বরং, দিন দিন বেড়েই চলছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর লামিনে ইয়ামালকে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পেলে, ম্যারাডোনা কিংবা মেসিদের সঙ্গে উচ্চারণ করা হচ্ছে তার নাম। স্পেন ফুটবলার নাচো যেমনটা ফ্রান্সের সঙ্গে ২-১ গোলে জয়ের পর বলছিলেন, ‘আমরা জানি যে, ফ্রান্স দলটিতে অনেকগুলো জিনিয়াস ফুটবলার রয়েছেন। কিন্তু আমাদের দলে তাদের চেয়েও জিনিয়াস রয়েছেন একজন।’

স্পেন কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে তার হাতের অন্যতম সেরা অস্ত্রকে নিয়ে বেশ সতর্ক। এই অস্ত্র তিনি সতর্কতার সঙ্গেই প্রয়োগ করতে চান প্রতিপক্ষের ওপর। তাকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে চান। এ কারণে বলেছেন, ‘তার পা মাটিতে রেখেই তাকে সর্বোত্তমভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে আমাদের।’ লামিনে ইয়ামালের প্রতিভা দেখে বিস্মিত হওয়ার কিছুই নেই। কারণ তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল একাডেমি লা মাসিয়ার ছাত্র। যেখান থেকে বেড়ে উঠেছেন মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তাদের মতো ফুটবলার। ফুটবলে অসাধারণ কিছু শেখার জন্য লা মাসিয়ার চেয়ে ভালো কিছু হয়তো নেই। এমনকি জাভি, যিনি লা মাসিয়া থেকে বের হওয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন মিডফিল্ডার ছিলেন, ইয়ামালের প্রতিভা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে তার ম্যাচ বোঝার দক্ষতা দেখে।

গত মৌসুমেই ইয়ামাল সম্পর্কে জাভি মন্তব্য করেছিলেন, ‘লামিনের সিদ্ধান্ত সব সময়ই দেখি সঠিক। কোনো ভুল নেই। এ বয়সে একজন তরুণের কাছ থেকে এমন খেলা খুবই বিস্ময়কর। আমি আশা করবো, সে বার্সেলোনায় দীর্ঘদিন থাকবে। শুধু তাই নয়, আমি বিশ্বাস করি- লামিনে ইয়ামাল এমন একজন ফুটবলার, যিনি হবে নতুন একটি যুগের নির্দেশক, পরিচয় বহনকারী।’ দেড় দশকেরও বেশি সময় ফুটবল বিশ্ব শাসন করেছেন মেসি-রোনালদোরা। সময় যেহেতু বহমান, রোনালদো-মেসিদের সময়ও শেষের পথে। তাদের যুগ শেষ হওয়ার পরবর্তী যুগ শাসন করবেন কারা? সে চিন্তা আপাতত নেই, কারণ লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণরা চলে এসেছেন ফুটবল দুনিয়ায়।

বিষয়:

মেসির ভাবনায় কোপার ফাইনাল ও ডি মারিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

কোপা আমেরিকার ফাইনালে ফেবারিট কোন দল? কলম্বিয়া না আর্জেন্টিনা? বেশির ভাগ ভোট আর্জেন্টিনার পক্ষে যাওয়াই স্বাভাবিক। ঐতিহ্য কিংবা শক্তিতে কলম্বিয়ার সঙ্গে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের তুলনা চলে না। কিন্তু এটাও মনে রাখা জরুরি, কলম্বিয়া ভাগ্যের জোরে কোপার ফাইনালে উঠে আসেনি। ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসি এ কথাটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মনে করেন, কলম্বিয়া যে টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত সেটার নিশ্চয়ই কারণ আছে। আর কারণ আছে বলেই কলম্বিয়া যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে।

২০২২ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল কলম্বিয়া। এরপর আর তাদের কেউ হারাতে পারেনি। সাবেক কোচ রেইনালদো রুয়েদার অধীনে তিন ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর বর্তমান আর্জেন্টাইন কোচ নেস্তর লরেঞ্জোর অধীনে ২৫ ম্যাচ অপরাজিত কলম্বিয়া। কোপার ফাইনালে এমন প্রতিপক্ষকে সমীহ না করে উপায় আছে! মেসিও তাই বললেন, ‘এই দলটা (কলম্বিয়া) ভালো। দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। আক্রমণেও দ্রুতগামী ও বৈচিত্র্যময় খেলোয়াড় আছে।’

মায়ামিতে গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে আর্জেন্টিনার টিম হোটেলে এই সাক্ষাৎকার দেন মেসি। সেখানে আর্জেন্টিনার ফাইনাল প্রস্তুতি নিয়ে এই কিংবদন্তি বলেছেন, ‘ফাইনাল ম্যাচ সব সময়ই একটু অন্যরকম হয়। কিন্তু আমরা পুরো টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালের আগেও ভালো বোধ করছি। ম্যাচটা কেমন হবে সেটা নিয়েই আমরা ভাবছি।’ ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে যা যা জেতা সম্ভব তার প্রায়ই সবই জেতা সম্পন্ন করেছেন মেসি। এখন সামনে স্পেনের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্ট জেতানোর সুযোগ মেসিদের সামনে। স্বাভাবিকভাবেই একটু উত্তেজনাবোধ হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু মেসি বললেন শান্ত থাকার কথা, ‘সত্যিটা হলো আমি শান্তই আছি এবং মুহূর্তটির (ফাইনাল) অপেক্ষায় আছি। এখন সবকিছু অনেক বেশি উপভোগ করার চেষ্টা করি। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করি।’

ফাইনালের আগে কেমন বিশ্রাম নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি মেসি? এ প্রসঙ্গে মেসির কাছে দুটি ফাইনালের অভিজ্ঞতা সমন্ধে জানতে চাওয়া হয়েছিল- মারাকানায় ২০২১ কোপার ফাইনাল এবং ২০২২ ফিনালিসিমা। দুটি ম্যাচই জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসি এ নিয়ে বলেছেন, ‘ঘুমটা ভালো হয়েছিল। কোনো অসুবিধা হয়নি। তবে সত্যিটা হলো আমরা দেরিতে ঘুমোতে গিয়েছি। প্রায় সারা রাত কথা বলেছি আমরা। সবাই মিলে পান করেছি, কার্ড খেলেছি। তাই দেরিতে ঘুমোতে গেলেও ঘুমটা ভালো হয়েছিল।’

কোপার ফাইনাল সামনে রেখে মেসি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চাননি। কারণ, এখন সেই লগ্নটি তার সতীর্থ আনহেল ডি মারিয়ার। কোপার ফাইনাল খেলেই আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখবেন ডি মারিয়া। মেসি এ নিয়ে বলেছেন, ‘সে এটা আগেই পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন সবকিছুই উপভোগের চেষ্টা করি, আগে যেসব মুহূর্তকে পাত্তা দিইনি সেগুলোও। সে আগের চেয়ে এখন বেশি আবেগপ্রবণ। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ মুহূর্তে আমরা পাশেই আছি।’

বিষয়:

পাকিস্তানে খেলতে যাবে না ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতি দ্বৈরথ অনেকদিন ধরেই চলে আসছে ক্রিকেট মাঠেও। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ভারতের আপত্তির কারণেই গত এশিয়া কাপ হয়েছিল হাইব্রিড মডেলে। সামনেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। এবার অন্তত কিছুটা আশা ছিল, হয়তো পাকিস্তানে খেলতে যাবে ভারত দল। কিন্তু এবারও পাকিস্তানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভারত অনড় থাকছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

সর্বশেষ এশিয়া কাপেরও আয়োজক ছিল পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত হাইব্রিড মডেলে ভারতের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হয় শ্রীলঙ্কার মাটিতে। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতেও পাকিস্তানে দল পাঠাবে না ভারত, নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে দুবাই বা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে চায় তারা। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি জানানো হবে আইসিসিকে। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আইসিসির কাছে বিসিসিআই সরকারিভাবে জানাবে, যাতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের ম্যাচ দুবাই অথবা শ্রীলঙ্কায় দেওয়া হয়।’

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চাচ্ছে, ভারতীয় দল দেশটিতে খেলতে যাক। আইসিসির কাছে পাঠানো খসড়া সূচিতে তিনটি ভেন্যু বেছে নিয়েছে বাবর আজমের দেশ। এর মধ্যে ভারতের ম্যাচ রাখা হয়েছে লাহোরে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ভ্রমণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো এবং ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি শহরটির অবস্থান হওয়ার দেশটির ক্রিকেট ভক্তদের যাতায়াত সহজ হওয়ার কথা। ওই একই ভেন্যুতে টুর্নামেন্টের ফাইনালও হওয়ার কথা রয়েছে।


২৩ বছর পর বহু আকাঙ্ক্ষিত ফাইনালে কলম্বিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ম্যাচের হিসাবে টানা ২৮ ম্যাচ আর সময়ের হিসাবে দুই বছর পাঁচ মাস অপরাজিত কলম্বিয়া। এ অবস্থায় থেকেই কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল হামেস রদ্রিগেজরা। সেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে উপলক্ষটাও পেয়ে গেল ম্যাচের প্রথমার্ধেই; কিন্তু ৬ মিনিট পরই খেলো বড় ধাক্কা। লাল কার্ড খেয়ে মাঠ ছাড়ে রক্ষণের অন্যতম ভরসা দানিয়েল মুনিয়োস। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় কলম্বিয়া খেলেছেন ১০ জন নিয়ে। এমন সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিতে আসা উরুগুয়ে। উল্টো কলম্বিয়ার রক্ষণের দৃঢ়তায় একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। আর এতে ২৩ বছরে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে কলম্বিয়া।

গতকাল কোপা আমেরিকার উত্তাপ ছড়ানো দ্বিতীয় সেমিফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে কলম্বিয়া। প্রথমার্ধে হামেস রদ্রিগেসের চমৎকার কর্নারে দারুণ ক্রসে ব‍্যবধান গড়ে দিয়েছেন হেফারসন লের্মা। বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে উরুগুয়ে ম্যাচে শট নিয়েছে মোট ১১টি। যার মধ্যে লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ২টি। বিপরীতে ৩৮ শতাংশ বল দখলে রাখা কলম্বিয়া পুরো ম্যাচে শট নিয়েছে ১১টি। যার লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ৪টি। আর সেখান থেকেই আদায় করে নিয়েছে একটি গোল। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণের শুরুটা করে উরুগুয়েই কিন্তু সেগুলোতে ধার ছিল না। শট রাখতে পারেনি লক্ষ্যে। উল্টো ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে হজম করে বসে গোল। হামেস রদ্রিগেসের কর্নার থেকে পাওয়া বলে দারুন হেডে বল জালে জড়ান হেফারসন লের্মা।

তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় কলম্বিয়া। উরুগুয়ের কেভিন কাস্তানোর বুকে কনুই মেরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দানিয়েল মুনিয়োস। এতে দশজনের দলে পরিণত হয় কলম্বিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় কলম্বিয়া ১০জন নিয়ে খেললেও সেই সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারেনি উরুগুয়ে। ডারউইন নুনেজ ও বদলি লুইস সুয়ারেজ বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও ১০ জনের দলের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রুটা পায়নি। সুয়ারেজের একটা শট তো লেগেছে পোস্টে!

কলম্বিয়াও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আর। শেষের দিকে তাদেরও একটা শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়েছে। রক্ষণের দৃঢ়তায় লিড ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করেছে কলম্বিয়া। রেফারি শেষ বাজি বাজানোর পরই গ্যালারি জেগে উঠে হলুদ রংয়ের আভায়। ২১ বছর পরে কলম্বিয়ানরা মেতে ওঠে ফাইনালে ওঠার আনন্দে। ২০০১ সালের পর ফাইনালে উঠল তারা। কলম্বিয়ার এটা তৃতীয় ফাইনাল। উরুগুয়ে এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে কানাডার মুখোমুখি হবে।


ইতিহাস গড়ে আইসিসির মাসসেরা দুই ভারতীয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

১৭ বছরের বিরতি শেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। ভারতীয়দের এ স্বপ্ন পূরণের পেছনে যে মানুষটার সবচেয়ে বেশি অবদান; তিনি পেসার জসপ্রীত বুমরাহ। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার।

এবার বুমরাহর প্রাপ্তির খাতায় যোগ হলো আরেকটি পুরস্কার। আইসিসির জুন মাসের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার সঙ্গী আরেক ভারতীয় নারী ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি।

২০২১ সালে মাসসেরার পুরস্কার চালু করে আইসিসি। এবারই প্রথম নারী ও পুরুষ ক্যাটাগরিতে একই দেশের দুই ক্রিকেটার সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের তালিকায় ছিলেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা, পেসার জসপ্রীত বুমরাহ ও আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজ। এ ছাড়া নারী ক্রিকেটারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন ইংল্যান্ডের মায়া বুশিয়ের, শ্রীলঙ্কার ভিশ্মি গুনারাত্নে ও ভারতের স্মৃতি মান্ধানা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা দুর্দান্ত কেটেছে বুমরার। ভারতের শিরোপা জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল এই ডানহাতির। গত মাসের বৈশ্বিক আসরে মাত্র ৮.২৬ গড় ও ওভারপ্রতি ৪.১৭ রান খরচায় ১৫ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ফাইনালে অবিশ্বাস্য বোলিং করে ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট।

এমন পারফরম্যান্সের জন্যই পুরস্কারটা জিতেছেন বুরমরাহ।

পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় বুমরাহ বলেছেন, ‘আমি জুন মাসের জন্য আইসিসি পুরুষদের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে আনন্দিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্মরণীয় কয়েক সপ্তাহ অতিবাহিত করার পর এটি আমার জন্য একটি বিশেষ সম্মান। দল হিসেবে আমাদের উদ্‌যাপন করার জন্য অনেক কিছু আছে এবং ব্যক্তিগতভাবে এ সাফল্য আমাকে আনন্দিত করছে। টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে পারফরম্যান্স করে ট্রফি জিতেছি, সেটি অবিশ্বাস্য। আজীবন এই স্মৃতি আমার স্মরণ থাকবে।’

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। তিন ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। যে ম্যাচে সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন, সেই ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে আসে ৯০ রানের ইনিংস। সবমিলিয়ে তিন ম্যাচে তার রান ৩৪৩। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই মাসসেরা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।


বেজায় চটেছেন ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিধ্বস্ত ব্রাজিলকে নিয়ে কোপা আমেরিকায় এবার বোধহয় খুব একটা আশা ছিল না সমর্থকদের। তবে এমনভাবে বিদায়ের আশাও তারা করেননি। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হারের পর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছে সেলেসাওরা। ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচ দরিভাল জুনিয়র; বাদ যাচ্ছে না কেউই। সেলেসাওদের গুরু তো অনেকটা ব্যক্তিগত আক্রমণেরই শিকার হয়েছেন। তাই এবার বেজায় চটেছেন ভিনিসিয়াস-রদ্রিগোদের গুরু।

কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকার শুটের আগের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, টাইব্রেকারের আগে ব্রাজিলের ফুটবলাররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। কিন্তু সেই দলীয় বৃত্তে নেই দরিভাল। ব্রাজিলের কোচকে দেখা যায় পেছনে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাচ্ছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটিকে ব্রাজিল কোচের কাছে ‘কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটার’ মতো লেগেছে। এরপর নিজের রাগ ঝেড়েছেন ব্রাজিলের ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো স্পোর্তের’ গত রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

ব্রাজিল কোচের কাছে বিষয়টি হাস্যকর এবং অদ্ভুত লেগেছে। তিনি বলেন, ‘তারা যা করেছে, আমার কাছে পুরোপুরি হাস্যকর লেগেছে। তারা আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করার প্রয়োজনই বোধ করেনি… এমনকি এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না আমি। স্রেফ একটা ছবিকে তারা এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে যেন এটা ভিন গ্রহের কোনো ব্যাপার। দলে আমার নিয়ন্ত্রণ আছে এবং সব গোছানো হচ্ছে, এটা বোঝাতে কি হাতে ক্লিপবোর্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আমাকে?’

একজন পেশাদার মানুষকে নিয়ে মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়ার কথা বলেছেন দরিভাল জুনিয়র। তিনি বলেন, ‘দুঃখিত… এটা যারা করেছে, তা পুরোপুরি অযৌক্তিক। সামান্য একটি ছবি নিয়ে তারা এভাবে বিতর্ক ছড়িয়েছে। পেশাদার একজন মানুষকে জিজ্ঞেস না করেই স্রেফ একটি ছবিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা… দুঃখিত, এটা পুরোপুরি অবিবেচকের মতো কাজ। যারা এটা নিয়ে এত কথা বলেছে, তাদের উচিত একজন পেশাদার মানুষকে নিয়ে মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া।’

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বৃত্তে না থাকার ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেই কথার প্রতিধ্বনি এবারও শোনা গেল ‘গ্লোবো স্পোর্তের’ প্রতিবেদনে। ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘যত পেনাল্টি কিকে আমি অংশ নিয়েছি, কোনোবারই বৃত্তে প্রবেশ করিনি। সবকিছু প্রস্তুতি নিয়েই করা হয়েছে। এখানে বলার কিছু নেই। যতক্ষণ না ভিন্ন কোনো কিছু, অসুবিধা দেখছি, কিছু করিনি। ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত আমরা জানতাম কে পেনাল্টি নেবে।’


অবসর ভেঙে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে চান ওয়ার্নার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নিয়ে ফেলেছেন। গত বছর ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পরই ৫০ ওভারের খেলাকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর এ বছরের জানুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলে এ অজি ওপেনার। আর টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানিয়েছেন সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে।

কিন্তু শেষ হয়েও যেন শেষ হওয়ার নয় ডেভিড ওয়ার্নারের গল্প। তাই অবসর ভেঙে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন তিনি। তবে সেটা শুধু আগামী বছর হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্যই। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার আগ্রহের কথা আগেও জানিয়েছিলেন তিনি। নতুন করে আবারও সেই আগ্রহের কথা জানালেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে আবার ফিরতে চান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরে ওয়ার্নার বলেছেন, আপাতত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন, ‘দীর্ঘ পরিসরে এতদিন ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাটা অবিশ্বাস্য। অস্ট্রেলিয়াই ছিল আমার দল। আমার ক্যারিয়ারের বড় অংশই ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। সেখানে খেলতে পারাটা ছিল গর্বের।’

ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে ওয়ার্নার তারপর একপর্যায়ে বলেছেন, ‘কিছু সময়ের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চাই। পাশাপাশি সুযোগ পেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও খেলতে চাই আমি।’

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফর করবে। তারপর নভেম্বর যাবে পাকিস্তান সফরে। সেখানে টপ-অর্ডারের জন্য নতুন প্রজন্মের প্রতিভার দিকেই তাকিয়ে থাকবে অজিরা। সেক্ষেত্রে ওই দুই সিরিজে জেইক ফ্রেজার-ম্যাগার্কের সম্ভাবনা আছে ওয়ার্নারের জায়গা নেওয়ার। তাই ওয়ার্নারের এমন চাওয়া শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

তবে ওয়ার্নারের আশা যে একেবারেই শেষ নয়, তেমনটা জানা গিয়েছিল প্যাট কামিন্সের কথায়। গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক কথা বলেছিলেন ওয়ার্নারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে। ওয়ার্নার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে থাকতে পারেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে কামিন্স বলেছিলেন, ‘এখন সময় অন্যদের ওয়ানডেতে সুযোগ দেওয়ার, তবে সে যেহেতু ক্রিকেট চালিয়ে যাবে, একদম জরুরি পরিস্থিতিতে তার কথা তো চিন্তা করতেই পারি। তবে ডেভিডকে (ওয়ার্নার) বিশ্বের কোথাও না কোথাও রান করে যেতে হবে। তাই আপনি বলতে পারেন না এটাই শেষ।’

ওয়ানডেকে বিদায় বলা ওয়ার্নারের সংগ্রহ ৬ হাজার ৯৩২ রান। গড় ৪৫.৩০। আছে ২২টি সেঞ্চুরি। অজিদের হয়ে এই ফরম্যাটে সর্বকালের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় রিকি পন্টিংয়ের পরেই তার অবস্থান। ওয়ানডেতে পন্টিংয়ের সেঞ্চুরি ৩০টি।

বিষয়:

কান্না লুকানোর পথ খুঁজছেন জেমস অ্যান্ডারসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল সাগর

টেস্ট ক্রিকেটের এক জীবন্ত ইতিহাস ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন। ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শুধু টেস্ট ক্রিকেটেই শিকার ৭০০ উইকেট; এমন অর্জন নেই আর কোনো পেসারের। শুধুই কি তাই! ৭০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা বিশ্বের তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি। ইংলিশদের হয়ে সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছেন ১৮৭ ম্যাচে। তার চেয়ে বেশি ম্যাচ আছে কেবলই শচীন টেন্ডুলকারের। কিন্তু যার শুরু আছে, তার শেষটাও তো আছে। সেই বিন্দুতেই চলে এসেছেন অ্যান্ডারসন।

বয়সটা ৪১-৪২ ছুঁই ছুঁই। যে সময়টাতে অন্যদের শুনতে হয় কবে বিদায় নিবেন? সেখানে অ্যান্ডারসনকে শুনতে হয়, আর কিছুদিন চালিয়ে যাওয়া যেত না? কিংবদন্তি অ্যান্ডারসনের সফলতা এখানেই। ক্যারিয়ারের চুড়ায় থেকেই সমাপ্তিটা টানতে চান তিনি। তাই সে জন্য বেছে নিলেন, ঠিক যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানটাই। ২১ বছর আগে টেস্টে অভিষেক হওয়া লর্ডসের মাঠেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ফুলস্টপ দেবেন অ্যান্ডারসন।

তার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন আবেগ, ভালোবাসা আর সমাপ্তির গল্প। গত এপ্রিলে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের বড় তিন ‘কর্তা’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পরেই অবসরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি বলব না যে অবাক হওয়ার মতো ঘটনা ছিল এটি। তারা যখন আমাকে ম্যানচেস্টারের এক হোটেলে কথা বলতে ডাকল, আমি মনে করিনি যে এটা সাধারণ কোনো বিষয়। এমন কিছু যে হতে যাচ্ছে, সেটি ধারণা করেছিলাম। বরং তারাই আমাকে শান্ত থাকতে দেখে অবাক হয়েছিল।’

কীভাবে এতটা ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে পারলেন তা নিয়ে অ্যান্ডারসন নিজেও অবাক, ‘আমার মনে হয় আমি নিজেও নিজের আচরণে অবাক হয়েছিলাম। আমি আবেগাপ্লুত হইনি, রেগে যাইনি, এমনকি কিছুই করিনি।’

তবে অ্যান্ডারসন সে সময়টাতে শান্ত থাকলেও শেষ দিনটা যে সেরকম হবে না- সেটা জানেন তিনি নিজেও, ‘আমি নিশ্চিত এই সপ্তাহে আবেগে পরিবর্তন আসবেই, তবে আমি এখন চেষ্টা করছি কীভাবে কান্না সামলানো যায়, সে বিষয়ে মনোযোগী হতে।’

অ্যান্ডারসন আগেই এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টটা খেলেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন তিনি। সিরিজের বাকি টেস্টগুলোতে ইংল্যান্ডের পেসারদের মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন তিনি। তবে আপাতত শেষ ম্যাচটি জেতাই মূল লক্ষ্য তার। তিনি বলেন, ‘আমি এখন শুধু আর একটি ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। এই সপ্তাহে অল্প কিছু অবদান রাখতে পারলেই আমি খুশি থাকব। ১ উইকেট নিয়ে কিংবা সংখ্যাটা যা-ই হোক না কেন, আমি সামান্য অবদান রেখে হলেও ম্যাচটি জিততে চাই।’

টেস্ট ক্রিকেট ছাড়লেও অ্যান্ডারসন এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন কি না।

বিষয়:

কোপার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফুটবলে কানাডার চাইতে যোজন যোজন এগিয়ে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মাঠের পারফরমেন্সে তা আরও একবার প্রমাণ করেছে মেসিরা। কানাডার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছেন লিওনেল মেসিরা।

পুরো ম্যাচে দাপটের সঙ্গে খেলেছে আর্জেন্টিনা। যদিও ম্যাচে আক্রমণের খাতা খোলে কানাডাই। পাঁচ মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন জ্যাকব শাফেলবার্গ। দুই মিনিট পরে আবারও সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।

১২ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে বল পান মেসি। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেয়া মেসির শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

আর্জেন্টিনাকে ম্যাচের ২২ মিনিটে আনন্দের উপলক্ষ আনে দেন হুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো মার্তিনেজের লম্বা থ্রু বল সুবিধাজনক অবস্থায় পেয়ে যান আলভারেজ। ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল জলে জড়াতে ভুল করেননি এই আর্জেন্টাইন । তার ডানপায়ের জোরালো শট কেনাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিমির পায়ের ফাঁক গলে গলে জড়ায়।

প্রথমার্ধের শেষদিকে আরও দুটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের চেষ্টা করলেও স্কোরেলাইনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

টুর্নামেন্টে প্রথম গোলের খোঁজে থাকা মেসি প্রথমার্ধে লক্ষ্য মিস করলেও অবশেষে দ্বিতীয়ার্থে পেয়ে যান গোল। ৫১ মিনিটে থ্রো থেকে পাওয়া বলে মেসি বক্সের কাছে সতীর্থকে পাস দিয়েছিলেন। তার পর কানাডা ডিফেন্ডার সেটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুলক্রমে পেনাল্টি এড়িয়ায় দাঁড়ানো এনজোর কাছে গেলে তার শটেই গোলমুখে দাঁড়ানো মেসি আলতো টোকায় জালে পাঠান বল।

ম্যাচে ফেরার জন্য দারুণ চেষ্টা চালিয়েছে কানাডা। প্রথমার্ধে রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টা করলেও এবার উপরে এসেছিল তারা। বেশ কিছু আক্রমণ করেছিল তারা। তবে সফলতা আসেনি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও একের পর এক আক্রমণ করে কানাডা রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে। ৬১ মিনিটে ডি মারিয়ার অ্যাসিস্ট থেকে আলভারেজের একটি শট রুখে কানাডার গোলরক্ষক মেক্সিম ক্রিপাউ। এরপর টানা ২টি আক্রমণ চালায় কানাডা। তবে ব্যর্থই থাকে তারা। ৮৯ ও ৯০ মিনিটেও গোলচেষ্টা চালিয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। তবে সফলতার মুখ দেখেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

এবার নতুন রেকর্ডের হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে। দুই মহাদেশীয় আসর আর এক বিশ্বকাপ টানা জয়ের কীর্তি এর আগে আছে কেবল স্পেনের। ২০০৮ সালের ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০১২ সালের ইউরো জয় করেছিল স্পেন। এবার সেই সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে। আগামীকালের উরুগুয়ে ও কলম্বিয়া ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে ফাইনালে নামবে লিওনেল মেসির দল।


banner close