বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দল

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৪৬

দেশের ক্রিকেটে এখনো উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিপিএল। তবে এরই মধ্যে উত্তাপের ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরও। বাংলাদেশ জাতীয় দল প্রস্তুত হচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজের জন্য। বিপিএলের মাঝেই শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। পুরুষ ক্রিকেটে ঠাসা সূচির মধ্যে নারী ক্রিকেটেও আছে বড় ব্যস্ততা।

দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দল। সিরিজের সূচিও প্রকাশ করেছে বিসিবি। ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।

আগামী ১৭ মার্চ ঢাকায় পা রাখবে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। ২০২২-২৫ আইসিসি ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে দুই দলের মাঠের লড়াই। প্রথম ওয়ানডে মাঠে গড়াবে ২১ মার্চ। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে ৩১ মার্চ। সবগুলো ম্যাচ মিরপুর শের-ই-বাংলায় অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে মাত্র একবারই বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অজি মেয়েরা। সেটি ছিল ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ১০ বছর পর আবারও ঢাকার মাঠে দেখা যাবে অ্যালিসা হিলিদের।


উড়ন্ত আফগানদের সুপার এইটের মিশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের। গ্রুপ পর্বের ৪ ম্যাচের ২ ম্যাচ খেলে ফেললেও এখনো খোঁজ করছে প্রথম জয়ের। প্রথম ম্যাচে ইংলিশদের কপাল পুড়েছে বৃষ্টিতে; এরপর অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে এখন গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় আছে ইংল্যান্ড। তাদের পরের রাউন্ডে যাওয়া নির্ভর করছে অনেক সমীকরণের ওপর। সে জন্য ইংলিশদের পরের দুই ম্যাচেই জয়ের কোনো বিকল্প নেই। এমন সমীকরণ মাথায় রেখেই আজ রাত ১টায় ওমানের বিপক্ষে মাঠে নামবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অ্যান্টিগুয়ারার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জিতে আত্মবিশ্বাসী আফগানিস্তান। তৃতীয় জয় এবং সুপার এইট নিশ্চিতের লক্ষ্যে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে মাঠে নামবে আফগানিস্তান। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর সাড়ে ৬টায়। দুটি খেলারই চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

সাদা বলের ক্রিকেটে কঠিন সময় পার করছে ইংল্যান্ড। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও শঙ্কা জেগেছে একই পরিস্থিতির। এখন তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডের আশা বেঁচে আছে নানান যদি ও কিন্তুর ওপর। তবে ওমানের বিপক্ষে হোঁচট খেলে সেই আশার বাতিও নিভে যাবে।

ওমানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের একমাত্র লক্ষ্যই থাকবে জয় ছিনিয়ে নিয়ে অন্তত কাগজে-কলমে হলেও কিছুটা আশা বাঁচিয়ে রাখা। সাম্প্রতিক সময়টা ভালো না গেলেও শক্তি কিংবা নামের বিচারে এগিয়ে থাকবে ইংল্যান্ডই। ক্রিকেটের এ সংস্করণে দুবারের চ্যাম্পিয়ন তারা।

ইংলিশদের কপাল পুড়েছে মূলত প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায়। ম্যাচটি মাঠে গড়ালে আর স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারলে জস বাটলারেরাই এগিয়ে থাকতেন দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ড হারলেও তারা লড়াই করেছিল বেশ। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানের ম্যাচে ইংলিশ ব্যাটাররা করেছিল ১৬৫ রান। ওমানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেবে ইংল্যান্ড- সেটাই প্রত্যাশা করছে ক্রিকেটবিশ্ব।

অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সময় পার করছে আফগানিস্তান। প্রথম দুই ম্যাচেই রীতিমতো প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছে রশিদ খানের দল। প্রথম ম্যাচে উগান্ডাকে হারিয়েছিল ১২৫ রানের বড় ব্যবধানে। প্রথমে ১৮৩ রান করে উগান্ডার ইনিংস গুটিয়ে দিয়েছিল ৫৮ রানেই। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকেও উড়িয়ে দিয়েছিল রশিদ খানরা। জয় পেয়েছিল ৮৪ রানের। এ ম্যাচেও প্রথমে ব্যাট করে ১৫৯ রান করেছিল আফগান ব্যাটাররা। পরে নিউজিল্যান্ডকে গুটিয়ে দিয়েছিল ৭৫ রানেই। রশিদ খানের স্পিন ঘূর্ণি আর ফজলহক ফারুকির পেসে কাবু হয়েছিল কেন উইলয়ামসনরা।

প্রথম ম্যাচে জয় নিয়ে সি-গ্রুপের শীর্ষ দল এখন আফগানরা। আকাশচুম্বী রানরেট তাদের। ইতোমধ্যেই শক্ত করেছে সুপার এইটের অবস্থান। এ ম্যাচে জিতলেই তৃতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করবে আফগানরা।

সুপার এইট নিশ্চিত করার পথে আফগানদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল পাপুয়া নিউগিনি। যারা ইতোমধ্যেই দুটি ম্যাচ খেলে ঘুরপাক খাচ্ছে হারের বৃত্তে। শক্তি কিংবা নামের বিচারেও দুই দলের পার্থক্য যোজন যোজন। বিশ্বের নামকরা লিগগুলোতে হরহামেশাই দেখা যায় আফগান তারকাদের। সেখানে বেশ অনভিজ্ঞ পাপুয়া নিউগিনির ক্রিকেটাররা।

ইতোমধ্যেই প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসী আফগানিস্তান। জয়ের ধারায় অটুট থেকে আগের ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চাইবে আফগানিস্তান। সে ক্ষেত্রে ব্যাটিংয়ে আফগানদের ভরসার নাম রহমানুল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, মোহাম্মদ নবীরা। বোলিংয়ে দায়িত্ব নেবেন অধিনায়ক রশিদ খান, ফজলহক ফারুকিরা।


বোলিং-ব্যাটিং ঝংকার বাংলাদেশকে সুপার এইটে নিতে পারে

আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৪ ২১:৫৫
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আশা জাগালেও ৪ রানে হেরে গেছে। ২ ম্যাচ থেকে দুই পয়েন্ট নিয়ে ডি-গ্রুপের ২ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। আবারও জয়ের ধারায় ফিরতে এবং সুপার এইটে জায়গা শক্ত করতে আগামীকাল মাঠে নামছে টাইগাররা। এবার আর যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত উইকেট নয়, সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

ডি-গ্রুপে বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডস দুই দলেরই ম্যাচ এবং পয়েন্ট সমান। দুই দলই মাঠে নেমেছে দুটি করে ম্যাচে; সেখানে একটি করে জয় এবং পরাজয় আছে তাদের নামের পাশে। তবে রানরেটে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডস। এ ম্যাচেই খোলাসা হয়ে যাবে সহজ নাকি জটিল সমীকরণে পড়তে হবে বাংলাদেশকে।

কাগজ-কলমে, শক্তি-সামর্থ্যে কিংবা অতীত পরিসংখ্যানে নেদারল্যান্ডসের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশই। আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে নেদারল্যান্ডসের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে বাংলাদেশই। বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম স্থানে। অন্যদিকে তিন ধাপ পিছিয়ে স্কটল্যান্ড আছে ১২তম স্থানে।

ক্রিকেটের ছোট এ সংস্করণে খাতা-কলমের হিসাব কিংবা র‌্যাঙ্কিংই শেষ নয়। ছোট-বড় বলে আলাদাও করা যায় না কোনো দলকে। নিজেদের দিনে যেকোনো কিছুই ঘটাতে পারে যেকোনো দল। তার ওপর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফর্ম একটা দুশ্চিন্তার কারণ। তাই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মুখোমুখি পরিসংখ্যান এগিয়ে রাখছে বাংলাদেশকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডসকে দুইবার হারানোর স্মৃতি আছে টাইগারদের। ২০১৬ সালে ধর্মশালায় এবং ২০২২ সালে হোবার্টে ডাচদের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে চারবারের সাক্ষাতে ডাচদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ জিতেছে টাইগাররা।

ভারতে অনুষ্ঠিত ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে অবশ্য ৮৭ রানের হারের লজ্জা পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওই হারের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিল টাইগাররা। আবারও অন্য এক বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশের। তবে এ ফরম্যাটটা টি-টোয়েন্টি বলেই বাংলাদেশ আশা দেখতে পারে। টাইগাররা সেই হারের প্রতিশোধ নিতেই মুখিয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের পেসার তানজিম হাসান সাকিবও বলেছিলেন তেমনই, ‘নেদারল্যান্ডসের কাছে আমরা যে ম্যাচে হেরেছিলাম, সেটি এখন অতীত। ওটা ছিল ওয়ানডে ফরম্যাট। কিন্তু এটা ক্রিকেটের ভিন্ন ফরম্যাট।’

এ ম্যাচেও বাংলাদেশের যত চিন্তা কিংবা দুশ্চিন্তার কারণ সেই একই। ব্যাটারদের ব্যর্থতা। সেটার সঙ্গে যোগ হয়েছে দলের অন্যতম সেরা তারকা সাকিব আল হাসানের অফফর্ম। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি ফর্ম ফিরে পাবেন বলেই প্রত্যাশা টাইগার শিবিরে। গত দুই ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি সাকিব। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের কারণ হিসেবে ব্যাট হাতে সাকিবের রান না পাওয়াকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তবে সাকিবের অফফর্মের পরও বাংলাদেশ দলে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই দুর্দান্ত বল করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। কমিয়েছেন ব্যাটারদের চাপ। কিন্তু তবুও ব্যর্থতার খোলস থেকে বের হতে পারছেন না বাংলাদেশের টপঅর্ডার ব্যাটাররা। এ ম্যাচেও তেমনটা হলে ২০০৩ সালের লজ্জার স্মৃতি আবারও ফেরত আসতে পারে।

নেদাল্যান্ডসের বিপক্ষে কোনো কারণে পা হড়কালেও বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে সুপার এইটে কোয়ালিফাই করা। সে জন্য অবশ্য হারের ব্যবধানটা কম রাখতে হবে এবং নেপালের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে হবে। এমনসব জটিল সমীকরণে যেতে না চাইলে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।


কানাডার বিপক্ষে জিতে টিকে রইল পাকিস্তান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে এসে অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে পাকিস্তান। এর আগে তারা হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে।

গতকাল মঙ্গলবার কানাডার বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে তারা।

নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে টস জিতে কানাডাকে শুরুতে ব্যাট করতে পাঠান বাবর আজম। প্রথম ইনিংসে সাত উইকেটে ১০৬ রান করে সাদ বিন জাফরের দল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫ বল হাতে রেখেই দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় পাকিস্তান।

দলের হয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ান অপরাজিত সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন। আর বাবর আজম করেন ৩৩ রান।

কানাডার হয়ে দুটি উইকেট নেন ডিলন হেইলিগার। বাকি উইকেটটি নেন জেরেমি গর্ডন।

৫৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে রিজওয়ানের হাতে।


পরাশক্তি ভারতকে প্রতিরোধের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

এবারের বিশ্বকাপের পাঁচটি গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে জমজমাট কিংবা আলোচিত গ্রুপ হলো গ্রুপ ‘এ’। এ গ্রুপেই আছে ভারত এবং পাকিস্তান। নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে অবস্থান করছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে এগিয়ে থেকে টেবিলের সেরা দল ভারত। দুই দলেরই সুপার এইট অনেকটাই নিশ্চিত। কোনো শঙ্কা না রাখতেই আজ মুখোমুখি হচ্ছে এ দুই দল। যুক্তরাষ্ট্রের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাত সাড়ে ৮টায় মাঠে নামবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

আজ দুই দলের লক্ষ্য একটাই; সুপার এইট নিশ্চিত করা। সে জন্য নজর থাকবে গতকাল হওয়া পাকিস্তান-কানাডা ম্যাচের রেজাল্টের দিকেও। যদি পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় কানাডা, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ম্যাচের জয়ী দলের সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে যাবে। কানাডা জিতলে গ্রুপের পরের ম্যাচগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে, কারা সুপার এইটে খেলবে।

এবারের বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছে ভারত। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দারুণ পারফর্ম করছে তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে তো অবিশ্বাস্য এক জয়ই পেয়েছে তারা। ১১৯ রানের পুঁজি নিয়েও বোলারদের জাদুকরী বোলিংয়ে ৬ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রোহিত শর্মার দল। আগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকেও হারিয়েছিল ১৫ ওভারেই।

এমন জয়ের পরও অবশ্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চান না অধিনায়ক রোহিত শর্মা। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখাই মূল লক্ষ্য দলের। তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই ম্যাচে আমরা জিতেছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ জয় পেয়েছি আমরা। তারপরও আমরা নিশ্চিন্তে থাকতে চাই না। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখাই মূল লক্ষ্য আমাদের। জয়ের ছন্দটা ধরে রাখতে চাই। যাতে কোনো ছেদ না পড়ে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয়ের জন্যই মাঠে নামব আমরা।’

এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রথম বিশ্বকাপেই চমক দেখিয়েছে তারা। নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে নতুন শক্তি হিসেবে। প্রথম ম্যাচে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও কানাডাকে হারিয়েছিল বিশাল ব্যবধানে। পরের ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। মূল ম্যাচে ড্র করার পর জিতেছিল সুপার ওভারে।

প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন স্বপ্ন দেখছে সুপার এইটের। তার আগে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অবশ্য ভারতকে হুমকিই দিয়ে রাখলেন অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলা। সে ক্ষেত্রে প্রথম পরীক্ষায় পাকিস্তানকে হারিয়েছি আমরা। এবার আমাদের সামনে দ্বিতীয় পরীক্ষার নাম ভারত। এবারও আমরা একত্রে জ্বলে উঠে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাই। ভারতকে একবিন্দুও ছাড় দেব না। আমাদের নির্ভীক ক্রিকেট অব্যাহত থাকবে।’

এই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। তাই এ ম্যাচ নিয়ে বাড়তি উন্মাদনা কাজ করছে দুই দলের মধ্যেই। যুক্তরাষ্ট্রের দলপতি প্যাটেল বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলব আমরা। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী ও জনপ্রিয় দল তারা। সবাই এ ম্যাচটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’

ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, ‘প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছে যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই চমক দেখিয়েছে তারা। এমন দলের সঙ্গে আমরাও খেলতে মুখিয়ে আছি। তাদের জন্য শুভকামনা থাকল।’

তবে এ ম্যাচেও কাজ করছে সেই একই শঙ্কা। রানখরা কাটবে তো ব্যাটারদের? বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বোলারদের স্বর্গরাজ্যে পরণিত হয়েছে নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এ মাঠে এ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান হয়েছে ১৩৮। প্রথম ম্যাচেই রান ছিল একশর নিচে। ভারত-পাকিস্তান, বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা-দক্ষিণ আফ্রিকা; কোনো ম্যাচেই হাসেনি ব্যাটারদের ব্যাট। বরং ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররা।


ধ্বংসাত্মক ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ের সামনে নিউজিল্যান্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

ক্রিকেটীয় মহাযুদ্ধের আরেকটা দিন দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব। বাইশ গজে হবে ধুন্ধুমার লড়াই; আর সেই আনন্দে মেতে উঠবে গ্যালারি কিংবা টেলিভিশন সেটের সামনে থাকা ক্রিকেটপ্রেমীরা। ক্রিকেটীয় মহাযুদ্ধের বাইরেও আছে এ ম্যাচের তাৎপর্য। কারণ এ ম্যাচটা যে সমীকরণ মেলানোর ম্যাচ। এমন টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম দুই শক্তিশালী দেশ। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টায়। খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

শক্তির বিচারে কেউ কাউকে নাহি ছাড়ি, সমানে সমান অবস্থা। তবে ক্যারিবীয়দের ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় দর্শক সমর্থনে এগিয়ে থাকবে তারাই। পাশাপাশি চেনা কন্ডিশনও একটা বাড়তি সুবিধা দেবে রোভম্যান পাওয়েলের দলকে।

এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই দুটি ম্যাচ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর উগান্ডাকে অলআউট করেছিল মাত্র ৩৯ রানে। তাই প্রথম দুই ম্যাচ জিতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ক্যারিবীয়রা। শুধু ছোট দলকেই নয়, বিশ্বকাপ শুরুর আগে পূর্ণ শক্তির দল ছাড়াই হোয়াইটওয়াশ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। জয়ের ধারায় থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ টুর্নামেন্টের তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে সেরা আট নিশ্চিত করতে চাইবে।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপরীত চিত্র নিউজিল্যান্ডের। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তারা বড় ব্যবধানে হেরে বসেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। রশিদ-নবীর স্পিন বিষে নীল হওয়ার আগে ফারুকীর পেসে পরাস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল কিউইরা। সেই হারের পর শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা নিয়েই।

বরাবরই বলা হচ্ছে ক্যারিবীয় দ্বীপ অঞ্চল স্পিনারদের জন্য সহায়ক হবে বেশ। আর নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মাথাব্যথার কারণও ওই একটাই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কিউই দলপতি তার দলকেও সে ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন বারবার। কিন্তু নিউজল্যান্ড পা হড়কিয়েছে ওই এক জায়গায়ই।

ব্যাটিংয়ে দুই দলের অবস্থাই অনেকটা কাছাকাছি। ব্র্যান্ডন কিং, নিকোলাস পুরান, জনসন চার্লস, শেরফান রাদারফোর্ড, রোভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেলদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপ বেশ ধ্বংসাত্মক। নিজেদের দিনে যেকোনো কিছু করে দিতে পারেন তারা। তবে ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে, কেন উইলিয়ামসন, ড্যারিল মিচেল, গ্ল্যান ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যানদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপকেও পিছিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

স্পিন বোলিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও পেস বোলিংয়ে এগিয়ে নিউজিল্যান্ডই। ট্রেন্ট বোল্ট, লুকি ফার্গুসন, টিম সাউদি, মিচেল ব্রাসওয়েলদের নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণ কাঁপন ধরানোর সক্ষমতা রাখে যেকোনো দলের। সেখানে আলজারি জোসেফ শুধু পেস বোলার হলেও আন্দ্রে রাসেল, রোমারিও শেফার্ডরা পরিচিত অলরাউন্ডার হিসেবেই।

তবে এ ম্যাচে দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে দুই দলের স্পিন শক্তিই। সেখানে কিছুটা এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজই। আকিল হোসেন, গুদাকেস মতি, রোস্টন চেজরা নিজেদের মাটিতে বেশ ভয়ংকর। বিপরীতে মিচেল স্যান্টনার নিয়মিত একাদশে খেললেও বেঞ্চে সময় কাটাতে হয় ইশ শোধিকে। এ ম্যাচে একাদশে দেখা যেতে পারে তাকে।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় শক্তির জায়গা তাদের অলরাউন্ডাররা। জাত অলরাউন্ডার যাকে বলা হয়; সেটাই ক্যারিবীয়রা। আন্দ্রে রাসেল, রোভম্যান পাওয়েল, রোস্টন চেজ, রোমারিও শেফার্ডরা একেকজন যেন দুইজন খেলোয়াড়। তারা যেমন ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ায় তেমনি বোলিংয়ের শক্তিও বাড়ায়।

তাই এ ম্যাচে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে নিউজিল্যান্ডকে। সি-গ্রুপের পয়েন্ট টেবিল যেটা বলছে, এ ম্যাচে হারলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে নিউজিল্যান্ডের।


ভারতের ইস্পাত কঠিন মানসিকতার কাছে হেরে গেল পাকিস্তান

আপডেটেড ১১ জুন, ২০২৪ ১৩:৫৮
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

বিশ্বের সবচেয়ে ‘আনপ্রেডিক্টেবল টিম পাকিস্তান’ বলে যে মিথ ছিল, সেটার বাস্তবতা মিলল আরেকবার। বাঁচা-মরার ম্যাচে বোলাররা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে ইন্ডিয়ার ব্যাটিংকে ধসিয়ে দিল। জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২০ বল থেকে ১২০ রান। সেই লক্ষ্য পূরণে ১২ ওভার পর্যন্ত ছিল সঠিক পথেই। কিন্তু এরপরই তাদের সেই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ রূপটা দেখাল। শেষদিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সহজ ম্যাচ হাতছাড়া করল। ১২০ রানের লক্ষ্যে ১১৪ রানের বেশি করতে পারল না পাকিস্তান। ৬ রানের হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কা তৈরি হয়ে গেল তাদের।

স্বল্প রানে পাকিস্তানকে আটকে রাখতে ভারতের বোলাররা দেখিয়েছে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা। ম্যাচের ১৬তম ওভারেও স্ক্রিণে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ছিল মোটে ১৪ শতাংশ; কিন্তু সেটাকে ১০০ শতাংশে রূপান্তর করেছে তারা। লড়াই করেছে শেষ পর্যন্ত। ম্যাচের হাল ছেড়ে দেয়নি হার্দিক পান্ডিয়া-জাসপ্রিত বুমরাহরা। এটি ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম রান ডিফেন্ড করে জয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে কম রানতাড়ার হার।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ভারতও সুবিধা করতে পারেনি কোনোক্রমেই। বরং মোহাম্মদ আমির, নাসিম শাহ এবং হারিস রউফদের বোলিং তোপে মাত্র ১১৯ রানেই গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে সূর্যকুমার যাদব কিংবা শিভাম দুবে, মোটাদাগে ব্যর্থ সবাই। খেললেন কেবল ঋষভ পান্ত। তার ৪২ রানটাই ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে বড় প্রাপ্তি। শেষদিকে আর্শদ্বীপ সিং রান করায় ভারতের রান গিয়েছে ১১৯ পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পক্ষেই বাজি ধরার লোক ছিলেন বেশি।

১২০ রানের লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা মোটেই মন্দ হয়নি। প্রথম চার ওভারেই ২১ রান তোলে বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটি। বাবর ফিরলেও কক্ষ পথেই ছিল পাকিস্তান। উসমান খানকে সঙ্গে নিয়ে এগুতে থাকেন রিজওয়ান।

এরপর উসমান খান, ফখর জামান ফিরলেও তখন জ্বলছিল পাকিস্তানের আশার প্রদীপ; কিন্তু ১৫তম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার বলটাই সেটা নিভিয়ে দেন। ওভারে প্রথম বলেই পান্ডিয়ার স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হয়ে ফিরে যান রিজওয়ান। এরপর ইমাদ ওয়াসিম চেয়ে চেয়ে কেবল হার দেখেছে। শেষ ওভারে ১৬ রানের লক্ষ্যে নাসিম শাহের দুই চার কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

ম্যাচ শেষে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা জানিয়েছেন জয়ের মন্ত্র। দলের হার না মানা মানসিকতার কারণে শেষ পর্যন্ত জয়টা এসেছে বলে মনে করেন তিনি, ‘এই দলের মধ্যে শেষ পর্যন্ত হার না মানার মানসিকতা আছে। স্কোরবোর্ডে ১১৯ রান নিয়ে আমরা চেয়েছিলাম শুরুতে ধাক্কা দিতে, সেটা পারিনি। তবে ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে আমরা সংগঠিত হয়েছি এবং বলেছি, (ব্যাটিংয়ে) যা আমাদের সঙ্গে ঘটেছে, সেটা ওদের সঙ্গেও ঘটতে পারে। প্রত্যেকের ছোট ছোট অবদানই দলকে জিতিয়েছে। যে-ই বল করেছে, চেয়েছে পার্থক্য গড়ে দিতে।’

নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আজ রাত সাড়ে ৮টায় কানাডার বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান। এ ম্যাচটিও অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ম্যাচের সরাসরি ধারাবিবরণী প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার। এ ম্যাচে জয় পেলে সুপার এইটে খেলার ক্ষীণ আশা বেঁচে থাকবে পাকিস্তানের।


অস্ট্রেলিয়ার হ্যাটট্রিক জয়ের সুযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

ছোট সংস্করণের ক্রিকেট মহাযজ্ঞের এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া। কেন তারা ফেবারিট; সেটার প্রমাণ দিয়েছে প্রথম দুই ম্যাচেই। ওমানকে হারানোর পর হারিয়েছে গ্রুপের পরাশক্তি ইংল্যান্ডকেও। এখন অস্ট্রেলিয়া আছে হ্যাটট্রিক জয়ের খোঁজে। সেজন্য তাদের সামনে প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল নামিবিয়া। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৬টায় নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে অজিরা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে। ম্যাচের সরাসরি ধারাবিবরণী প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

শক্তি-সামর্থ্য, বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিতি কিংবা পরিসংখ্যান কোনো কিছুতেই অস্ট্রেলিয়ার ধারে-কাছেও নেই নামিবিয়া। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের ফারাকটা বেশ বড়; ১২ ধাপ। র‌্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা দল। আর নামিবিয়ার অবস্থান ১৩তম।

মুখোমুখি দেখায়ও পরিসংখ্যান কথা বলছে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই। বিশ্বকাপের মূল পর্বে নামার আগে নামিবিয়ার বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল অজিরা। সেখানে প্রথমে ব্যাট করে নামিবিয়া করেছিল ১১৯ রান। ওয়ার্নার ঝড়ে সেই রান অস্ট্রেলিয়া পার করেছিল মাত্র ১০ ওভারেই। ওয়ানডে ক্রিকেটে একবারের দেখায়ও জয়ের উল্লাস অস্ট্রেলিয়ারই।

এ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বের অন্যতম সেরা। ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, টিম ডেভিড, অধিনায়ক মিচেল মার্শ, ম্যাথু ওয়েডদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী এবং লম্বা ব্যাটিংলাইন। ডেভিড ওয়ার্নার আছেন নিজের সেরা ছন্দে; প্রথম দুই ম্যাচেই দেখিয়েছেন তার ঝলক। ট্রাভিস হেডও ভয়ংকর রূপ দেখাচ্ছে প্রতি ম্যাচেই।

অন্যদিকে বোলিংয়েও শক্তিশালী অজিরা। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজেলউড, অ্যাডাম জাম্পা, নাথান এলিসদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী বোলিং লাইন আক্রমণ।

অন্যদিকে নামিবিয়ার একটু পরিচিত তারকা বলতে শুধু ডেভিড ভিসাই। বাকিদের অবস্থা অনেকটা আনকোরার মতোই। বিশ্ব ক্রিকেটে নেই তেমন পরিচিতি।

ইতোমধ্যেই প্রথম দুই ম্যাচে জিতে সুবিধা আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকেও হারের তেতো স্বাদ দিয়েছে তারা। তাই তৃতীয় ম্যাচ জিতে হ্যাটট্রিক জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই সুপার এইটে যেতে চাইবে মিচেল মার্শের দল। সেখানে নামিবিয়ার লক্ষ্য থাকবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়া।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ জিতে আসরে দারুণ শুরুর আভাস দিয়েছিল নামিবিয়া। স্বল্প রানের ম্যাচে নির্ধারিত ওভারে ড্র হলে খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে ওমানকে হারিয়ে জয় দিয়ে আসর শুরু করে তারা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই হোচট খায় স্কটল্যান্ডের কাছে। এ ম্যাচে হারানোর কিছুই নেই নামিবিয়ার। তাই একটা মরণ দিতেই চাইবে ডেভিড ভিসারা। সেজন্য বোলিংয়ের সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে দুর্দান্ত ব্যাট করতে হবে নামিবিয়াকে।

তবে এ ম্যাচেও শঙ্কা সেই উইকেট নিয়েই। নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামের উইকেট এখনো বদলাচ্ছে না তার পুরোনো রূপ। রানখরা চলছেই এখানকার উইকেটে। সবশেষ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আরেকবার দেখা গেল সেটাই। ভারতের দেওয়া ১১৯ রানও তাড়া করতে পারেনি পাকিস্তান। উইকেটের অসম বাউন্স ভুগিয়েছে দুই দলের ব্যাটারদেরই। এ ম্যাচেও তেমন কিছুরই শঙ্কা পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আরেকটি লো-স্কোরিং ম্যাচ দেখা যেতে পারে।


জিততে গিয়েও হেরে গেল বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দারুণ বোলিং করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কম রানে আটকে দিয়েও লাভ হলো না বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ রানে হেরে গেল টাইগাররা। বোলারদের বোলিং কারিশমায় ইনিংসের শুরুতে একে একে উইকেট বিলাতে থাকেন প্রটিয়া ব্যাটাররা। টেনেটুনে ১১৩ রানের লজ্জাজনক পুঁজি পায় তারা।

জবাবে ব্যাট করতে নামেন টাইগাররা। তাদের সঙ্গে আশা বাঁধে সারা বাংলাদেশ। আজ আবার জিতবে। বাংলা ব্যাটারদের ছন্দময় আসা যাওয়ায় তিলেতিলে সে আশা ক্ষীণ হয়ে আসে।

শেষ ২ বলে দরকার ৬ রান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ স্ট্রাইকে। টানটান উত্তেজনা। কেশভ মহারাজের হাই ফুলটস বলে মাহমুদউল্লাহ সজোরে হাঁকালেনও। ছক্কা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু লংঅন বাউন্ডারিতে দৌড়ে এসে দারুণ এক ক্যাচ নেন এইডেন মার্করাম। হেরে যায় বাংলাদেশ।

তানজিদ হাসান তামিম ২ বাউন্ডারিতে বল সমান ৯ রান করে কাগিসো রাবাদার বেরিয়ে যাওয়া বলে ড্রাইভ খেলে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হন। এরপর পাওয়ার প্লে দেখেশুনে কাটিয়ে দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর লিটন দাস। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান তোলে বাংলাদেশ।

কিন্তু এরপর টানা দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে টাইগাররা। সপ্তম ওভারে এসে লিটন বাজে শট খেলে আউট হয়েছেন। কেশভ মহারাজের ঘূর্ণিতে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ তুলে দেন তিনি, ১৩ বলে করেন ৯।

পরের ওভারে অ্যানরিখ নরকিয়াকে হুক করতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ৪ বলে করেন ৩ রান।

অধিনায়ক শান্ত দায়িত্ব নিয়ে খেলছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন। নরকিয়ার শিকার হওয়ার আগে ২৩ বল খেলে এক ছক্কায় ১৪ রান করেন তিনি।

এর আগে তানজিম হাসান সাকিব-তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৩ রান তুলতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা। হেনরিখ ক্লাসেন ৪৪ বলে ৪৬ আর ডেভিড মিলার ৩৮ বল খেলে ২৯ রান না করলে আরও খারাপ অবস্থা হতো প্রোটিয়াদের।

২৩ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে টেনে তোলেন এই দুজন। পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তারা যোগ করেন বল সমান ৭৯।

তানজিম সাকিব ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট। তাসকিন সমান ওভারে ১৯ রানে নেন ২টি। রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।


বিদায়ের শঙ্কায় ইংল্যান্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

শেষবার টি-টোয়েন্টিতে দুইশ বা তার বেশি রান দেখা গিয়েছিল আইপিএলে। সে রানের লক্ষ্য প্রতিপক্ষ দল পেরিয়েও যাচ্ছিল অনায়াসেই। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরু থেকেই রানখরা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের পর আর তেমন রানই দেখা যায়নি। টি-টোয়েন্টি যে চার-ছক্কার খেলা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখে সেটা ভুলতেই বসেছিল দর্শকরা। অবশেষে রানের দেখা মিলল দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ম্যাচে। প্রথমবার এবারের আসরের রান ছাড়াল দুইশ। তবে দর্শকরা খুশিতে মাতলেও একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইংল্যান্ড। অজিদের কাছে ৩৬ রানে হেরেছে জস বাটলারের দল। এ হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

তবে দিনটা খুশিরই বটে অস্ট্রেলিয়ার জন্য। গ্রুপের শক্ত প্রতিপক্ষকে হারিয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই জয়ে রাঙিয়েছে মিচেল মার্শের দল। তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

খুনে ব্যাটিংয়ে সুর বেঁধে দিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেড। পরের ব্যাটসম্যানরাও রাখলেন দারুণ অবদান। তাতে ইনিংসে কোনো ফিফটি ছাড়াই এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে দুইশ রানের পুঁজি গড়ল অস্ট্রেলিয়া। পরে অ্যাডাম জ্যাম্পা, প্যাট কামিন্সদের চমৎকার বোলিংয়ে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না ইংল্যান্ড। আর এতে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়হীন থাকল বিশ্বকাপের সবচেয়ে ফেভারিট দলটি।

টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নার আর ট্রাভিস হেডের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। বড় রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পেলেও ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানে থামে ইংল্যান্ড। ৩৬ রানের জয়ে সুপার এইটে এক পা দিয়ে রাখল অজিরা।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ঝড় তোলে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ট্রাভিস হেড। মাত্র ৫ ওভারে ৭০ রান তোলে এই জুটি। অজি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন মঈন আলি। তার শিকার ১৬ বলে ২ চার ও ৪ ছয়ে ৩৯ রান করা ওয়ার্নার। পরের ওভারে হেডকে বোল্ড করে আরেকটি ধাক্কা দেন জোফরা আর্চার। ১৮ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ৩৪ রান করেন এই ওপেনার।

এই ঝড়ের ধারা অব্যাহত না রাখতে পারলেও মন্দ করেননি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। রানরেট দশের ওপরে রেখেই বল-ব্যাট করে গেছেন শেষ পর্যন্ত। ম্যাক্সওয়েল, অধিনায়ক মিচেল মার্শ, মার্কাস স্টয়নিচরা দলে অবদান রাখেন ব্যাট হাতে। ২০ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০১ রান।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় ইংল্যান্ডও। দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার আক্রমণাত্মক শুরু করেছিলেন। তাদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে প্রথম পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান সংগ্রহ করে ইংলিশরা। ২৩ বলে ৩৭ রান করে সল্ট সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। মূলত ইংল্যান্ড ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় এর পরই। কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি।

তিনে নেমে দ্রুতই ফিরে যান উইল জ্যাক (১০)। জনি বেয়ারস্টো এ দিন উইকেটে এসে রীতিমতো নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ক্যাচ বানিয়ে মুক্তি দিয়েছেন জশ হ্যাজেলউড। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৭ রান। এরপর মঈন আলি-হ্যারি ব্রুকরা ভালো শুরু পেয়েছেন। তবে কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। মঈনের ২৫, ব্রুকের ২০ আর লিভিংস্টোনের ১৫ রান শুধুই ব্যবধান কমিয়েছে।

এক পয়েন্ট নিয়ে বি-গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলে এখন তিন নম্বরে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড। সমান দুই ম্যাচ খেলে তিন পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে স্কটল্যান্ড। মূলত ইংল্যান্ডের কপাল পুড়েছে বৃষ্টির কারণে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায়। এখন ইংলিশদের দাঁড়াতে হচ্ছে কঠিন সমীকরণের সামনে। শেষ ম্যাচ জিতেও তাকিয়ে থাকতে হবে স্কটল্যান্ডের হারার দিকে।


দুরমুশ ব্যাটিং-বোলিংয়ের জন্ম দিতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

শক্তি-সামর্থ্য, অতীত পরিসংখ্যান কিংবা সাম্প্রতিক ফর্ম সবকিছুতেই এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টিতে এর আগে কখনোই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয়ের ইতিহাস নেই টাইগারদের। এবার সেটাই ভাঙতে চায় বাংলাদেশ। তবে সে জন্য টাইগারদের মাঠে কতটা আত্মনিয়োগ করতে হবে; সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। জ্বলে উঠতে হবে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই। তাহলেই নতুন এক ইতিহাস লিখতে পারবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের ডি-গ্রুপে আজ রাত সাড়ে ৮টায় দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বিতর্কিত নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জিতে ইতোমধ্যেই সুপার এইটে এক পা দিয়ে রেখেছে প্রোটিয়ারা। তাই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই আছে তারা। প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের হারানোর পরে দ্বিতীয় ম্যাচে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। তবে ডাচদের সঙ্গে তাদের দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা।

তবে জয়ের ধারায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে, যেটা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে।

মুখোমুখি দেখায় বাংলাদেশের বলার মতো তেমন সাফল্যা নেই। টি-টোয়েন্টিতে এ পর্যন্ত আটবার দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই জয়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনি টাইগাররা।

শক্তির বিচারেও বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এইডেন মার্করাম, হেনরি ক্লাসেন, কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবসদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বসেরা। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বিশেষ করে টপঅর্ডার ব্যাটাররা।

ব্যাটিংয়ে যোজন দূরত্বে এগিয়ে থাকলেও বোলিংয়ে বাংলাদেশকে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নরকিয়া, অটনিল বার্টম্যান, জেরাল্ড কোয়েৎজি, মার্কো জানসেন, তাবরিজ শামসি, কেশাব মাহারাজদের নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণ যেমন ভয়ংকর। তেমনি তাসকিন আহমেদ, তানজিম সাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান, সাকিব আল হাসান, রিশাদ হোসাইনদের নিয়ে গড়া বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণও কাঁপন ধরানোর সক্ষমতা রাখে।

ফিল্ডিংয়েও দুই দলের অবস্থান কাছাকাছিই। বিশেষ করে সর্বশেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মাঠে যেভাবে তাদের অ্যাপ্রোচ দেখিয়েছে; এরপর আর সেটাকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগই নেই।

এ ম্যাচে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে মাঠের কন্ডিশন। নিউইয়র্কের নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট শুরু থেকেই বিরূপ আচরণ করছে। স্লো উইকেটে রান খরায় ভুগছেন ব্যাটাররা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচেও মাত্র ১২ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল প্রোটিয়ারা। আইসিসি ভালো উইকেট বানানোর কথা বললেও কার্যত সেটার দেখা মিলছে না। তবে এ কন্ডিশন বাংলাদেশকে সাহায্যই করবে। স্লো-উইকেটে মুস্তাফিজুর রহমান কতটা ভয়ংকর সেটা প্রমাণিত। সাকিব-রিশাদরাও হয়ে উঠবেন আতঙ্কের নাম।

স্লো-উইকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই রিশাদ দেখিয়েছেন তিনি কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন। এবারের বিশ্বকাপে বল সবচেয়ে বেশি টার্ন করিয়েছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের জন্যও কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারেন কেশাব মাহারাজ, তাবরিজ শামসিরা।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জিততে হলে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে বোলারদের। অতিমানবীয় একটি বা দুটি স্পেলে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে হবে মুস্তাফিজ-রিশাদদের। সেই সঙ্গে সেরা ছন্দে ফিরতে হবে ব্যাটারদের।


বিশ্বকাপে এই প্রথম বাংলাদেশি লেগ স্পিনার হিসেবে ধ্রুব বোলিং রিশাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসাইন। তার ক্যারিয়ারে তো বটেই, বাংলাদেশেরই প্রথম কোনো লেগস্পিনার হিসেবে গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বমঞ্চে মাঠে নেমেছিলেন রিশাদ। আর্বিভাবেই একজন লেগস্পিনারের সক্ষমতার জানান দিয়েছেন তিনি। তিন উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা নিজের করে নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে রিশাদ জানিয়েছেন নিজের শক্তিতে অটল থেকেই সফল তিনি।

ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ উইকেটের স্বস্তির জয়ে বাংলাদেশ যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভসূচনা পেয়েছে, তাতে বল হাতে বড় অবদান রিশাদ হোসাইনের। একজন ভালো লেগস্পিনারের জন্য বাংলাদেশের যে দীর্ঘদিনের হাহাকার, তা অনেকটাই দূর করেছেন তিনি।

গতকাল ২২ রানে ৩ উইকেট দেখলে স্বাভাবিকই মনে হবে। তবে বিশেষ কিছু বলবেন, যখন ম্যাচের রান আর উইকেট শিকারের সময়টা লক্ষ্য করবেন। ১৫তম ওভারে বল করতে এসে লঙ্কানদের মিডল অর্ডারে ধস নামিয়েছেন তিনি। এমন পারফর্ম করে বোঝাতে চাইলেন, লেগস্পিনার নিয়ে বাংলাদেশকে আর চিন্তা করতে হবে না; তিনি ‘লম্বা রেসের ঘোড়া’ হতেই এসেছেন।

ইনিংসের ১৫তম ওভারে নিজের শেষ স্পেল করতে এসে দুই সেট ব্যাটসম্যান আসালাঙ্কা-ধনাঞ্জয়ার সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছেন রিশাদ। ২ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। লঙ্কানদের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন কার্যত সেখানেই শেষ। ইনিংসের ১৫তম ওভারের প্রথম বলেই রিশাদের শিকার চারিথা আসালাঙ্কা আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। পরের ওভারে এসেই ফেরালেন আরেক থিতু ব্যাটার ধনাঞ্জনায় ডি সিলভাকে।

দলের জয়ে বল হাতে দারুণ অবদান রাখতে পারা ও ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে খুশি রিশাদ। জানালেন নিজের তৃপ্তির কথা, ‘প্রথম ম্যাচেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতে পেরেছি। সবকিছু মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ।’

ম্যাচ শেষে পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে রিশাদ জানালেন তার পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন, ‘বিশেষ কিছু করার চেষ্টা নয়। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এবং নিজের শক্তির জায়গায় অটল থাকতে চেয়েছি।’

রিশাদ যখন নিজের দ্বিতীয় স্পেলটা করতে আসেন, তখন উইকেটে থিতু হওয়া দুই ব্যাটসম্যান। স্বাভাবিকভাবেই হাত খুলে খেলার চেষ্টা করবেন তারা। সে সময় কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগেছেন কি না, এমন প্রশ্নে রিশাদের উত্তর, ‘আমি কখনো ভয় নিয়ে বোলিং করি না। চেষ্টা ছিল যখনই বোলিংয়ে আসব, তখনই যেন দলকে উইকেট এনে দিতে পারি এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারি।’


শাবাশ বাংলাদেশ

আপডেটেড ৮ জুন, ২০২৪ ২২:১৩
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

এশিয়ার সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের নাম এখন বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা। দুই দলের ম্যাচ এলেই দর্শকদের মাঝে অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করে। বাইশ গজেও চলে তুমুল লড়াই। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে তেমনই আরেকটি দিন ছিল গতকাল। তবে সেই লড়াইয়ের শেষ হাসিটা হেসেছে বাংলাদেশই।

সব ভয়, শঙ্কাকে দূরে ঠেলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের হৃদয় জয় করা ব্যাটিং, মুস্তাফিজুর রহমান আর রিশাদ হোসাইনের বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের ভিত দাঁড়ায়। সাকিব-লিটনের আউট সেটাকে কঠিন করলেও কোনো অঘটন ঘটতে দেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জয় নিয়ে বীরের বেশেই মাঠ ছেড়েছেন সাইলেন্ট কিলার।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে শুরুতে ব্যাট করে ১২৪ রানে থামে লঙ্কানদের ইনিংস। ভালো শুরুর পরও টাইগার বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি লঙ্কানরা। স্বল্প রানের লক্ষ্য এক ওভার আর দুই উইকেট বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এ জয় লঙ্কানদের বিশ্বকাপ যাত্রাকে সংক্ষিপ্ত করার ইঙ্গিত দিল।

১২৫ রানের সহজ টার্গেটে নেমেও বাংলাদেশের টপঅর্ডার ব্যাটাররা ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন আরেকবার। রান না করেই বিদায় নিলেন সৌম্য সরকার। একই পথের পথিক তানজিদ তামিমও (৩)। অধিনায়ক শান্তও (৭) নিলেন তাদের পিছু। দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর তাওহীদ হৃদয় এসে হৃদয় জয় করে নিলেন। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে হ্যাটট্রিক ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের কন্ট্রোল নিয়ে নিলেন। হৃদয় অবশ্য পরের বলেও ছক্কা হাঁকাতে চেয়েছিলেন কিন্তু এবার পরাস্ত হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন। তার আগে ২০ বল থেকে ২০০ স্ট্রাইক রেটে খেলেছেন ৪০ রানের ইনিংস। হৃদয়ের ইনিংসটি সাজানো ছিল চার ছক্কা আর এক চারে।

হৃদয় ফিরলে দায়িত্ব নিতে পারেননি লিটন, সাকিব ও রিশাদরা। ৪ ওভারের মধ্যে এই তিন ব্যাটার ফিরলে আবারও কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই চাপ আরও বাড়ায় তাসকিন আহমেদের আউট। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছিলেন ব্যতিক্রম। নাছোড়বান্দা মাঠ ছেড়েছেন জয় নিয়েই। ১৩ বলে ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। মাহমুদউল্লাহর এই ইনিংস দেখতে সাদামাটা হলেও এর মাহাত্ম্য ছিল ম্যাচ জয়ের মতো।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে কঠিন বার্তাই দিচ্ছিলেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা। বিশেষ করে পাথুম নিশাঙ্কা ভয়ংকর হয়ে উঠছিলেন। এককথায় বললে ৮ ওভার পর্যন্ত ম্যাচটা ছিল শ্রীলঙ্কার হাতেই। এরপরই টাইগারদের থাবায় কুপোকাত হয়ে পড়েন লঙ্কান সিংহরা। ৯ম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান নিশাঙ্কাকে ফেরানোর পর তারা আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতেই পারেনি। শান্তর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৮ বল থেকে ৪৭ রান করেন নিশাঙ্কা।

এরপর রিশাদ, তাসকিনদের বলে আসা-যাওয়ার মিছিল ধরে শ্রীলঙ্কান ব্যাটাররা। মাঝখানে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা আর চারিথা আসালাঙ্কা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে আসালাঙ্কা (১৯) আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার (০) উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন রিশাদ। পরের ওভারে রিশাদের শিকার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা (২১)। রিশাদের লেগে পিচ করে অফস্টাম্পে টার্ন করে হাসারাঙ্গার ব্যাট ছুঁয়ে সৌম্যর হাতে যাওয়া বলটি চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন।

এ ম্যাচে ফিজও দেখিয়েছেন তার ক্যারিশমা। গুরুত্বপূর্ণ সময় নিশাঙ্কাকে ফেরানো ছাড়াও শিকার করেছেন আরও দুই উইকেট। কামিন্দু মেন্ডিস (৪) আর মাহিশ থিকসানা (০)। রান খরচেও সবচেয়ে কিপ্টে ছিলেন তিনি। ৪ ওভারে দিয়েছেন মোটে ১৭ রান।

পরের বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ১০ জুন মাঠে গড়াবে সেই ম্যাচ।


তুমুল আগ্রহের ভারত-পাকিস্তান লড়াই কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের একটি টিকিট বিক্রি হয়েছে ১২ লাখ টাকায়। এতটুকু থেকেই অনুমান করে নেওয়া যায় এশিয়ার এই দুই দলের ম্যাচ নিয়ে দর্শকরা কতটা উৎসুক। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন, তা দেখতে দর্শকের কোনো কমতি থাকে না। ম্যাচের টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা শেষ হয়ে যায়। পুরো বিশ্বেরই হাইভোল্টেজ ম্যাচ বলা হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচকে।

দর্শক উত্তেজনা ছাড়িয়ে মাঠের খেলায়ও উত্তেজনার কোনো কমতি থাকে না। বাইশ গজে চলে ক্রিকেটীয় মহাযুদ্ধ। ম্যাচের প্রতি পরতে পরতে চলে সাসপেনশন। হার মানায় যেকোনো থ্রিলার সিনেমাকেও। বিশ্বমঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। কাল রাত সাড়ে ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে ভারত-পাকিস্তান। খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপ দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া স্টেডিয়াম মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে ব্যাটারদের জন্য। প্রথম দুই ম্যাচে রান খরার পর আইসিসি উপলব্ধি করতে পেরেছে বিষয়টি। এরপর তৃতীয় ম্যাচে কিছুটা রান এসেছে। সেটাই এখন আশার খবর।

ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলেছে দুই দলই। প্রথম ম্যাচে ভারত আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে স্বপ্নের মতো শুরু করেছে। তবে শুরুটা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সুপার ওভারে হেরে বসেছে বাবর আজমের দল। এখন সুপার এইটে খেলা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের।

প্রথম ম্যাচ জেতায় ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছে রোহিত শর্মার ভারত। কিন্তু বাবর আজমদের চিন্তা এখন দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে। ‍সুপার এইটে কোয়ালিফাই করতে ভারতের বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প নেই পাকিস্তানের। তাই স্বাভাবিকভাবেই এ ম্যাচে কিছুটা চাপে থাকবে ম্যান ইন গ্রিনরা। তবে পাকিস্তান চাপকে শক্তিতে পরিণত করে ভারতকে মরণকামড় দিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম পরাশক্তি ভারত। যতজন বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে তাদের প্রত্যেকের তালিকাতেই একটি পরিচিত নাম ছিল ভারত। তবে পাকিস্তানকে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। তারাও শক্তিশালী দল নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে উড়াল দিয়েছে।

আইসিসির র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ভারত; সব বিভাগেই আছে দারুণ ছন্দে। তাদের বর্তমান বোলিং লাইনও বিশ্বের অন্যতম সেরা। আর ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলার মতো রোহিত, কোহলি, রিশভ পন্থ, সুরিয়া কুমার ইয়াদাভ, শিভম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়ার মতো তারকারা রয়েছেন দলে।

বোলিং শক্তিতে কেউ কাউকে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। দুই দলের বোলিং শক্তি অনেকটাই কাছাকাছি। ভারত দলে বুমরাহ, সিরাজ, আর্শদিপদের সঙ্গে আছেন জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ জাদবের মতো স্পিনার। সেখানে পাকিস্তানে মোহাম্মদ আমির, শাহিন আফ্রিদি, হারিস রউফ, নাসিম শাহদের সঙ্গে আছেন শাদাব খান, ইমাদ ওয়াসিম, আবরার আহমেদদের মতো স্পিনাররা।

দুই দলের ব্যাটিং তুলনা করলেও কিছুটা এগিয়ে থাকবে ভারতই। বাবর-রিজওয়ানরা নিয়মিত রান পেলেও প্রশ্ন রয়েছে স্ট্রাইক রেট নিয়ে। তবে সেটা পুষিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে ফখর জামান, ইফেতেখার আহমেদ, আজম খানদের। তিন ডিপার্টমেন্টের মধ্যে ফিল্ডিংয়েই পাকিস্তানের চেয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ভারত। ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তান অনেকটা সাধারণ মানের।

টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। ভারতের জয় ৮টিতে ও পাকিস্তানের জয় ৩ ম্যাচে। ১টি ম্যাচ টাই হয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাতবার দেখা হয়েছে দুই দলের। এখানে ভারতের জয় ৬টিতে আর পাকিস্তানের জয় একটিতে।

তবে ভারতের বিপক্ষে প্রায় প্রতিবারই পাকিস্তান আনকোরা কোনো বোলারকে নামিয়ে দেয়। যিনি হয়ে ওঠেন বোলিংয়ের ট্রাম্প কার্ড। এ ম্যাচেও এমন কিছু দেখা যেতেই পারে। সে ক্ষেত্রে নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামের স্লো পিচের কথা মাথায় রেখে নামানো হতে পারে লেগস্পিনার আবরার আহমেদকে।

সব আলোচনার মূল হলো পাকিস্তানকে জিতলে এ ম্যাচে জ্বলে উঠতে হবে বোলারদের। বিশেষ করে মোহাম্মদ আমির, শাহিন আফ্রিদি কিংবা নাসিম শাহদের কোনো একজনকে করতে হবে অতিমানবীয় একটি বা দুটি স্পেল।

তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে হতাশার খবর দিয়েছে নিউইয়র্কের আবহাওয়া অধিদপ্তর। পুরো দিনজুড়েই নিউইয়র্কে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ৫১ শতাংশ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মানে, খেলা শুরুর আধঘণ্টার মধ্যেই বৃষ্টি নামতে পারে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫-৫০ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।


banner close