সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

‘আইপিএল জেতাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং’

রিকি পন্টিং। ফাইল ছবি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২৪ ১৩:৩৫

এবারের আইপিএল নতুন নতুন রেকর্ডের জন্ম দিচ্ছে। শুরুর দিকে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ২৭৭ রান তুলে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। গত পরশু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে নিজেদের সেই রেকর্ড ভেঙে হায়দরাবাদ তুলেছে ৩ উইকেটে ২৮৭ রান। জবাবে বেঙ্গালুরু করেছে ২৬২ রান। দুই দলের সম্মিলিত ৫৪৯ রান যেকোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই সর্বোচ্চ। ওভারপ্রতি এই মৌসুমেই রান উঠছে সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ বোলারদের নিস্তার নেই। অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ও দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ রিকি পন্টিং মনে করেন, এবারের আইপিএল জয়ের মূল চাবিকাঠি হতে পারে এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং।

এবার আইপিএলে এখন পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে ৩১টি। যেখানে রান উঠেছে ওভারপ্রতি ৯.৪৮ করে। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ২০২৩ সালে, ওভারপ্রতি ৮.৯৯ রান করে। গতকাল রাজস্থান কলকাতার ২২৩ রানও তাড়া করেছে, যা আইপিএলে যৌথভাবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তিনটি দলীয় স্কোর এসেছে এ বছর, সর্বোচ্চ পাঁচটির মধ্যে অবশ্য চারটিই এ বছর এসেছে। কেন এমন রান উঠছে- সেই প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইপিএলের ইমপ্যাক্ট-সাব বা ইমপ্যাক্ট-বদলির নিয়ম ভালোভাবে কাজে লাগানোর ফলেই এমন রানপ্রসবা মৌসুম দেখা যাচ্ছে।

গতকাল ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে পন্টিংও তেমন কথাই বলেছেন। পন্টিংয়ের দাবি, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবার শিরোপা এনে দিতে পারে। আর এই কৌশলে ব্যাটসম্যানরা খেলতে পারছেন ইমপ্যাক্ট-সাব নিয়মের কারণে।

পন্টিং বলেছেন, ‘দু-একট বড় সংগ্রহের কারণ সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কলকাতা আমাদের বিপক্ষে ২৬০ (২৭২/৭)-এর মতো করেছিল। আমার মনে হয়, দলগুলো যেভাবে ব্যাটিং করছে এর পেছনে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের বড় প্রভাব আছে। গতকাল (পরশু) দেখেছেন কীভাবে ট্রাভিস হেড ব্যাটিং করেছে। পরের ব্যাটসম্যানদের ওপর আত্মবিশ্বাস না থাকলে এভাবে ব্যাটিং করা যায় না।’

অধিনায়ক হিসেবে দুবার বিশ্বকাপজয়ী পন্টিং ব্যাখ্যা করেন, ‘আইপিএল কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশের মতো টুর্নামেন্টে প্রায়ই সেরা রক্ষণাত্মক বোলিং বিভাগের দলই জিতেছে। তবে এবার নতুন নিয়মে যেভাবে আইপিএল এগোচ্ছে, মনে হচ্ছে যারা বোলারদের ওপর বেশি আক্রমণ করতে চায়, বড় সংগ্রহ তুলতে চায়, তারাই জিতবে। আমার মনে হয়, এবার রক্ষণাত্মক বোলিংয়ের চেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েই আইপিএল জেতার সম্ভাবনা বেশি।’

বিষয়:

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে কুরআন উপহার দিলেন আসিফ আকবর

আপডেটেড ১ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১৩
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ আকবর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার পর মিরপুরে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে তিনি এই সাক্ষাৎ করেন। এই বিশেষ মুহূর্তে আসিফ আকবর প্রতিমন্ত্রীর হাতে উপহার হিসেবে একটি পবিত্র কুরআন তুলে দেন। বিসিবির এই প্রভাবশালী পরিচালক নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকার শেষে আসিফ আকবর জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল এবং ভ্রাতৃত্বের জায়গা থেকেই তিনি প্রতিমন্ত্রীকে এই উপহার দিয়েছেন। সেখানে বিসিবি বা অন্য কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। মূলত ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ের এই দুই ব্যক্তির মধ্যে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং পেশাদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আসিফ আকবর মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে বিসিবি নির্বাচনের মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠিত হয়েছিল। সে সময় বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই বোর্ডকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচনা হয়েছিল। তবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে এ বিষয়ে তাঁকে আর কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। আসিফ আকবর বিশ্বাস করেন, অতীতের মান-অভিমান সরিয়ে রেখে আমিনুল হক বর্তমান দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে আসিফ আকবর প্রত্যাশা করেন যে, আমিনুল হক দেশের প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনের সমস্যাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করার মাধ্যমে ‘কিশোর গ্যাং’ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা যে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকে প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে আমিনুল হকের নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেই বিশ্বাস করেন আসিফ আকবর।


প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের খেলায় বেশি মনোযোগ মনিকাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে দেড় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অনুশীলন শেষ করে টিম হোটেলের পথে এখন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই ব্যস্ততার মাঝেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন দলের অন্যতম সিনিয়র ও নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে অসংখ্য সাফল্যের কারিগর মনিকা এবার চোখ রেখেছেন এশিয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ—এশিয়ান কাপে। প্রথমবারের মতো এই আসরে খেলতে আসা বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও মনিকাদের লক্ষ্য এখন কেবল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া।

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপটি বেশ কঠিন; যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে এশীয় ও বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি চীন এবং উত্তর কোরিয়া। সঙ্গে আছে শক্তিশালী উজবেকিস্তান। তবে বড় প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সিডনির পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এখন মনিকাদের জন্য বড় পরীক্ষা। কখনো কড়া রোদ আবার কখনো হাড়কাঁপানো শীত—এমন বৈরিতার মাঝেও গত এক সপ্তাহ ধরে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন সাবিনা-মনিকারা। মনিকা জানান, তারা এখন এই আবহাওয়ার সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গেছেন এবং দিন দিন দলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া বা চীনের মতো দলগুলো যারা নিয়মিত বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রাখে, তাদের বিপক্ষে লড়াই করা মোটেও সহজ নয়। এ নিয়ে দলের প্রধান কোচ নিয়মিত কৌশলগত সভার আয়োজন করছেন। মনিকা বলেন, “কোচ প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে মিটিং করছেন। মাঠে আমাদের মুভমেন্ট কেমন হবে, কখন কীভাবে দৌড়াতে হবে—সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনা হচ্ছে। আমরা জানি তারা এশিয়ায় সেরা, তাই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত।”

দলের মাঝমাঠ বা মিডফিল্ড সামলানোর মূল দায়িত্ব মনিকা ও মারিয়া মান্ডার কাঁধে। দীর্ঘদিনের এক সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা এই দুই ফুটবলারের বড় শক্তি। মনিকা জানান, মারিয়া যখন আক্রমণে ওঠেন, তখন তাঁকে মাঝমাঠ ধরে রাখতে হয়। প্রতিটি পজিশনেই উত্তর কোরিয়া বা চীনের ফুটবলাররা অত্যন্ত দক্ষ। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার—সব বিভাগেই আলাদাভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ দল। প্রথমবারের মতো এমন বিশ্বমানের শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে যাওয়া মনিকারা পরিস্থিতি বুঝে এবং পরিকল্পনা মেইনটেইন করে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশলের চেয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মনিকা চাকমা। তাঁর ভাষায়, “ওরা অবশ্যই অনেক শক্তিশালী, কিন্তু আমরা আমাদের নিজেদের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার চেয়ে নিজেদের পরিকল্পনার ওপর আমাদের ফোকাস বেশি। আমরা বিদেশের মাটিতে দেশের জন্য আমাদের সেরাটা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করব।” এশিয়ান কাপের এই কঠিন মিশনে নামার আগে দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন এই ফুটবল তারকা।


বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা জয়সুরিয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে টানা তিন ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছে অন্যতম আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ রানের হারটি ছিল লঙ্কানদের জন্য টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ, আর এই পরাজয়ের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে কোচের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন লঙ্কান ক্রিকেট কিংবদন্তি সনৎ জয়সুরিয়া। সুপার এইটে একটি ম্যাচেও জয় না পাওয়ায় বিধ্বস্ত লঙ্কান ড্রেসিংরুমের এই হতাশাজনক পরিস্থিতির মাঝেই তিনি নিজের বিদায়ের ঘোষণাটি দেন। জয়সুরিয়া জানিয়েছেন, তাঁর মনে হয়েছে এখন দলের হাল ধরার জন্য অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে লঙ্কান দলের পূর্ণকালীন কোচের দায়িত্ব সামলানো জয়সুরিয়া আরও জানান, তিনি চেয়েছিলেন একটি বড় সাফল্য দিয়ে বিদায় নিতে। দুই মাস আগে ইংল্যান্ড সিরিজের সময় থেকেই তিনি দীর্ঘ মেয়াদে এই চাকরিতে না থাকার আভাস দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রত্যাশা ছিল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে ভালো কোনো অবস্থানে থেকে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। কিন্তু দলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হওয়ায় তিনি বেশ মর্মাহত। জয়সুরিয়ার মতে, শ্রীলঙ্কায় খেলা হওয়ায় এবার সেমিফাইনালে যাওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল, কিন্তু ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাথিশা পাথিরানার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোট দলকে বেশ ভুগিয়েছে।

যদিও জয়সুরিয়ার চুক্তির মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত রয়েছে, তবে তিনি আর দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নন। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু চূড়ান্ত না হলেও খুব শীঘ্রই তিনি তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তাঁর মতে, বোর্ড যদি নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারে, তবে সেটিই করা উচিত। উল্লেখ্য, আগামী ১৩ মার্চ আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সেই সিরিজের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বিদায় বললেও জয়সুরিয়া অধ্যায়ের শুরুতে লঙ্কানরা বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। দেড় বছর আগে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে আট বা নয় নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কাকে তিনি চতুর্থ স্থানে তুলে এনেছেন। এমনকি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়েও দলের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে তাঁর কোচিংকালে। নিজের এই সফলতার কৃতিত্ব তিনি এককভাবে না নিয়ে তাঁর সহায়ক কোচিং স্টাফদের অসামান্য সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে লঙ্কান ক্রিকেটের এই পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে জয়সুরিয়ার প্রস্থান এক মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।


ম্যানচেস্টার সিটির ঘামঝরানো জয়, আর্সেনালের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে গার্দিওলার দল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপার লড়াই এখন তুঙ্গে। লিডস ইউনাইটেডের মাঠ ইলান রোডে কষ্টার্জিত ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। আন্তোয়ান সেমেনিওর একমাত্র গোলে অর্জিত এই তিন পয়েন্টে শীর্ষ দল আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। ২৮ রাউন্ড শেষে সিটির পয়েন্ট এখন ৫৯, যা টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের (৬১ পয়েন্ট) চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট কম। রোববার চেলসির বিপক্ষে আর্সেনালের হাই-ভোল্টেজ ডার্বির আগে এই জয় গানারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল।

ম্যাচের শুরু থেকেই লিডস ইউনাইটেড সমানে সমান লড়াই চালিয়েছে। রেলিগেশন এড়ানোর মিশনে থাকা ড্যানিয়েল ফারকের দল শেষ ১৫ লিগ ম্যাচে মাত্র তৃতীয়বার হারের মুখ দেখল। ইনজুরির কারণে নিয়মিত গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এদিন স্কোয়াডে না থাকায় সিটির আক্রমণভাগে কিছুটা ধার কম ছিল। হালান্ডের পরিবর্তে রায়ান শেরকিকে খেলিয়ে একটি পরিবর্তন আনেন গার্দিওলা। ম্যাচের শুরুর দিকে লিডসের ডমিনিক কালভার্ট-লেভিন ও ব্রেন্ডেন আরোনসন সিটির রক্ষণভাগে বেশ কয়েকবার আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন। এমনকি ১১তম মিনিটে সিটির মুসলিম খেলোয়াড়দের ইফতারের সুযোগ দিতে রেফারি সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ রাখলে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি হয়।

বিরতির ঠিক আগে প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায় ম্যানসিটি। রায়ান আইত-নৌরির দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে মাত্র চার গজ দূর থেকে জালের দেখা পান আন্তোয়ান সেমেনিও। গত জানুয়ারিতে বোর্নমাউথ থেকে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। এই এক গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে সিটিজেনরা। দ্বিতীয়ার্ধে লিডস ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা এবং ডিফেন্ডার ম্যাথেউস নুনেস দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে স্বাগতিকদের গোলবঞ্চিত করেন।

ম্যাচের শেষ দিকে লিডস মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালে গ্যালারিতে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বদলি নামা জাকা বিজলের একটি হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে লিডস সমর্থকদের হতাশা বাড়ে। অন্যদিকে ম্যানসিটি তাদের রক্ষণভাগ সামলে রেখে মৌসুমের ১৮তম জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ম্যাচ শেষে গোলদাতা সেমেনিও বলেন, শিরোপা ধরে রাখতে হলে প্রতিটি ম্যাচ জেতা ছাড়া বিকল্প নেই এবং তাঁরা সেটিই করে যাচ্ছেন। আর্সেনালের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড় এখন রোমাঞ্চকর এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।


ফ্লিকের শততম ম্যাচে ইয়ামালের প্রথম হ্যাটট্রিক, ভিয়ারিয়ালকে উড়িয়ে দিল বার্সা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বার্সেলোনার ডাগআউটে কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের শততম ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকল এক অনবদ্য জয়ে। ন্যু ক্যাম্পে ভিয়ারিয়ালকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে কাতালানরা। জার্মান কোচের এই মাইলফলকের দিনে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড গড়েছেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। এই জয়ে ঘরের মাঠে লিগ জয়ের শতভাগ রেকর্ড ধরে রাখল বার্সা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও ভিয়ারিয়াল পাল্টা আক্রমণে স্বাগতিক রক্ষণে ভীতি ছড়াচ্ছিল। তবে ২৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ইয়ামাল। ফারমিন লোপেজের বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে টানা তিন ম্যাচের গোলখরা কাটান তিনি। এর ঠিক ৯ মিনিট পর ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে এক অসাধারণ একক নৈপুণ্যে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। টাচলাইন থেকে বল নিয়ে কারডোনা ও মোলেইরোকে পরাস্ত করে ১৪ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে স্কোর ২-০ করেন তিনি। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও সে যাত্রায় ব্যর্থ হন এই কিশোর তারকা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ভিয়ারিয়াল। পাপা গুয়ে কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ কমিয়ে আনলে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরে আসে। তবে বার্সেলোনা দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। ৬৯ মিনিটে পেদ্রির অসামান্য এক অ্যাসিস্টে বল জালে পাঠিয়ে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ইয়ামাল। এর মাধ্যমে চলতি মৌসুমে লিগে নিজের গোলসংখ্যা ১৩-তে নিয়ে গেলেন তিনি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে রবার্ট লেভানডোভস্কি ভিয়ারিয়ালের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। অফসাইডের সংশয় থাকলেও ভিএআরের মাধ্যমে গোলটি বহাল থাকে।

এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে বার্সেলোনা। সোমবার রিয়াল মাদ্রিদ গেতাফের মুখোমুখি হয়ে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পাবে। ম্যাচ শেষে কোচ হ্যান্সি ফ্লিক তাঁর শততম ম্যাচ সম্পর্কে বলেন, এই মাইলফলকে পৌঁছানো তাঁর জন্য এক বিশাল সম্মানের বিষয়। ইয়ামালের মতো তরুণ প্রতিভার অসাধারণ পারফরম্যান্স ফ্লিকের এই বিশেষ দিনটিকে বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য আরও বেশি আনন্দদায়ক করে তুলেছে। সব মিলিয়ে কাতালানরা এখন লা লিগার শিরোপা দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।


সান্ত্বনার জয় পেয়েও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় পাকিস্তানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেলেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো পাকিস্তানকে। সেমিফাইনালের সমীকরণে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে লঙ্কানদের ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখার কঠিন শর্ত ছিল পাকিস্তানের সামনে। কিন্তু লঙ্কান ব্যাটাররা মাঝপথেই সেই রান পার করে ফেলায় মাঠেই নিশ্চিত হয়ে যায় পাকিস্তানের বিদায়। শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সমান অবস্থানে থাকলেও নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় বিদায় নিতে হলো রিজওয়ান-শাহিনদের। অন্যদিকে সুপার এইটে সবকটি ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে বিশ্বকাপ শেষ করল লঙ্কানরা।

টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে পাকিস্তান ২১২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান মিলে ১৭৬ রানের এক বিধ্বংসী জুটি গড়ে লঙ্কান বোলারদের ওপর চড়াও হন। ফারহান তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি এবং ফখর করেন ৮৪ রান। তবে এই বিধ্বংসী জুটি ভাঙার পরই পাকিস্তান নাটকীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। মাত্র ৩৪ রানের ব্যবধানে ৮টি উইকেট হারিয়ে ফেলায় পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে আর বড় কোনো রান যোগ হয়নি। লঙ্কান বোলাররা শেষ দিকে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে এসে পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের লাগাম টেনে ধরেন।

২১৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পাথুম নিশাঙ্কা ও কামিল মিশরা দ্রুত সাজঘরে ফিরলে দলের হাল ধরেন চারিথ আসালঙ্কা ও পবন রথনায়েকে। পবন ৫৮ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে রাখার চেষ্টা করেন। তবে লঙ্কানদের ইনিংস যখন ১৪৭ রান স্পর্শ করে, তখনই পাকিস্তানের সেমিফাইনাল স্বপ্ন ধুলোয় মিশে যায়। এরপর লড়াইটি কেবল জয়ের জন্য সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এক প্রান্ত আগলে রেখে অধিনায়ক দাসুন শানাকা ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয় শ্রীলঙ্কার।

শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। শাহিন আফ্রিদির করা সেই ওভারের প্রথম চার বলে শানাকা ১টি চার ও টানা ৩টি ছক্কা মেরে ম্যাচটি পাকিস্তানের হাত থেকে প্রায় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। শেষ দুই বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান, কিন্তু শাহিন বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে টানা দুটি ডট বল দিয়ে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন। শানাকা মাত্র ৩১ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। লঙ্কানরা ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রানে থামলে পাকিস্তান পায় ৫ রানের এক শ্বাসরুদ্ধকর জয়। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করলেও সেমিফাইনালের সমীকরণে বাদ পড়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের।


৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান, রঞ্জি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন জম্মু-কাশ্মির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ‘রঞ্জি ট্রফি’-তে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জম্মু-কাশ্মির। ফাইনালে কর্ণাটককে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দলটি। এই জয়ের মাধ্যমে প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর অপেক্ষার অবসান ঘটল।

গতকাল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে খেলা জম্মু-কাশ্মিরের তারকা ক্রিকেটার পারভেজ রসুল একটি কলামে লিখেছিলেন, “এটা আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। আমাদেরকে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ডাকতে প্রায় সাত দশক লাগছে, অবশেষে অপেক্ষার অবসান।” আজ শনিবার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ধরা দিল বাস্তবের মাটিতে।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো রঞ্জি ট্রফিতে অংশ নেওয়া শুরু করে জম্মু-কাশ্মির। গত কয়েক দশকে টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণ অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার মতো থাকলেও এবার পরশ দোগরার নেতৃত্বে দলটি পুরো পাঁচ দিন আধিপত্য বিস্তার করে শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে।

ফাইনালে প্রথম ইনিংসে জম্মু-কাশ্মির ৫৮৪ রানের এক সুবিশাল পাহাড় গড়ে তোলে। বড় কোনো ব্যক্তিগত শতক না থাকলেও পরশ দোগরা ও শুভাম পুন্ডিরের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং সাহিল লোত্রার হার না মানা অর্ধশতক দলকে মজবুত অবস্থানে নিয়ে যায়। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে আকিব নবির বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে কর্ণাটক। মায়াঙ্ক আগারওয়াল ১৬০ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেললেও পুরো দল মাত্র ২৯৩ রানেই গুটিয়ে যায়।

প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের বিশাল লিড নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামে জম্মু-কাশ্মির। শেষ দুই দিন তারা কর্ণাটকের বোলারদের ওপর রীতিমতো শাসন চালিয়েছে। বিশেষ করে সাহিল লোত্রা তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের অভিষেক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে লিড ৬০০ রান পার করে দেন। ৪ উইকেটে ৩৪২ রানে ইনিংস ঘোষণার পর কর্ণাটক আর রান তাড়া করতে নামেনি। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচটি ড্র ঘোষিত হলেও প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে জম্মু-কাশ্মিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা করল হিমালয় কন্যা জম্মু-কাশ্মির।


আইসিসির মাসসেরার পুরস্কার জিতলেন মোস্তারি

ছবি: আইসিসি
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৪০
ক্রীড়া ডেস্ক

গত মাসে অনুষ্ঠিত নারী টি-২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন দল সাত ম্যাচের একটিতেও হারেনি। এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিডলঅর্ডার ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি।

২৪ বছর বয়সী মোস্তারি আসরে সাত ম্যাচে করেন ২৬২ রান, তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১৪৫.৫৫। অন্তত ১৫০ রান করা ব্যাটারদের মধ্যে তার স্ট্রাইকরেট সর্বোচ্চ। তিনি বাছাইপর্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। শুধু জানুয়ারি মাসেই তার সংগ্রহ ২২৯ রান। এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আইসিসির জানুয়ারি মাসের সেরা তিন খেলোয়াড়ের তালিকা থেকে পুরস্কার জিতেছেন। সেরা হওয়ার দৌড়ে তিনি পেছনে ফেলেন আয়ারল্যান্ডের গ্যাবি লুইস ও যুক্তরাষ্ট্রের তারা নরিসকে।

বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ রান করেন লুইস, ২৭৬ রান। তার দলও জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে তারা নরিস ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। বাঁহাতি এই পেসার ছয় ম্যাচে ১৫ উইকেট নিলেও তার দল বিশ্বকাপে উঠতে পারেনি। বাকি দুটি জায়গা পেয়েছে নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড।

১২ দল নিয়ে মূল পর্ব শুরু হবে ১২ জুন থেকে, ফাইনাল ৫ জুলাই। বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড ছাড়া অংশ নেবে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

পুরুষ বিভাগেও আইসিসির মাসসেরার ঘোষণা এসেছে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন ড্যারেল মিচেল, জো রুট ও সূর্যকুমার যাদব। শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জিতেছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার ড্যারেল মিচেল। ভারতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই সেঞ্চুরিতে তিনি ৩৫২ রান করেন। টি-টোয়েন্টি সিরিজে তার সংগ্রহ ছিল ১২৫ রান। জো রুট শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪২ রান করে সিরিজসেরা হন। সূর্যকুমার যাদব নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে ২৪২ রান করেন।


হোয়াইট হাউসের সংবর্ধনা পেতে যাচ্ছে ইন্টার মায়ামি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে হোয়াইট হাউসের রাজকীয় সংবর্ধনা পেতে যাচ্ছে ইন্টার মায়ামি। গত ডিসেম্বরে ভ্যানকুভার হোয়াইটক্যাপসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা জয়ের ঐতিহাসিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবে ক্লাবটিকে এই বিরল সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ৫ মার্চ ওয়াশিংটনে এই বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিজয়ী ক্রীড়া দলগুলোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য। এর আগে ২০২৩ সালের শিরোপাধারী দল কলম্বাস ক্রুও গত বছরের জুন মাসে একই ধরনের সম্মান লাভ করেছিল।

এই অনুষ্ঠানে ক্লাবটির প্রাণভোমরা এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির উপস্থিতি নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। যদিও মায়ামি কর্তৃপক্ষ বা মেসির প্রতিনিধিরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি, তবে আন্তর্জাতিক একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমের সূত্র দাবি করেছে যে পুরো দলই এই সফরে অংশ নিতে যাচ্ছে।

সংবর্ধনার ঠিক দুই দিন পর ওয়াশিংটন ডিসিতেই স্বাগতিক ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে মায়ামির একটি নির্ধারিত ম্যাচ রয়েছে। ফলে দলের সঙ্গে মেসির সেখানে উপস্থিত থাকার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। যদি তিনি এই সফরে যোগ দেন, তবে এটিই হবে আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্য প্রথম হোয়াইট হাউস সফর। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু সময় সংগতির অভাবে তিনি তখন উপস্থিত হতে পারেননি।

২০২০ সালে মেজর লিগ সকারে অভিষেকের পর এটিই মায়ামির প্রথম লিগ শিরোপা জয়। মূলত ২০২৩ সালে মেসির যোগদানের পর থেকেই ক্লাবটির সাফল্যের গ্রাফ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে এবং তারা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়।

বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক আবহে এই সফরটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। সম্প্রতি অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ হকি দলের হোয়াইট হাউস সফর নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমন একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইন্টার মায়ামির এই বিশেষ সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।


রিয়ালের বিপক্ষে বর্ণবাদী আচরণের দায়ে পাঁচ সমর্থককের বহিষ্কার করল বেনফিকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের দায়ে নিজেদের পাঁচ সমর্থককে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেনফিকা। ক্লাবটি জানিয়েছে, যথাযথ তদন্ত শেষে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের স্থায়ীভাবেও বহিষ্কার করা হতে পারে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি লিসবনের স্টেডিয়াম অব লাইটে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে থাকা কয়েকজন সমর্থকের পক্ষ থেকে বানরসুলভ অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বেনফিকা এক বিবৃতিতে জানায়, “ম্যাচের পর গ্যালারিতে বর্ণবাদী ও অনুপযুক্ত আচরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়। ক্লাবের মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এমন আচরণ আমরা মেনে নেই না।“

চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ পর্বের প্রথম লেগের ওই ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে প্রায় ১০ মিনিট খেলা স্থগিত রাখতে হয়। রিয়ালের ফরওয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তার প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ তুললে দায়িত্বরত রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে বর্ণবাদবিরোধী বিশেষ প্রটোকল কার্যকর করেন।

এই বিতর্কে বেনফিকার খেলোয়াড় জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির নাম জড়ালেও তিনি তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে এই আর্জেন্টাইন উইঙ্গার মূলত “মানহানির শিকার” হয়েছেন। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ইউয়েফা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রেস্তিয়ান্নিকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে, যার ফলে বুধবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগের লড়াইয়ে তিনি মাঠে নামতে পারেননি।

মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ওই ফিরতি ম্যাচে বেনফিকার তিন হাজারেরও বেশি সমর্থক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও বৈরী পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে; ম্যাচের শুরুতেই ভিনিসিয়ুসের নাম ঘোষণার সময় এবং তিনি বল স্পর্শ করলেই গ্যালারি থেকে অবিরত দুয়ো ও শিস ধ্বনি ভেসে আসে।

মাঠের লড়াইয়ে লিসবনে ১-০ গোলে জেতার পর নিজেদের ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানের জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হয়ে তারা টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে।


২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি সত্ত্বেও ইউরোপীয় দলগুলোর আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য গত ডিসেম্বরে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরে ৪৮টি দলের জন্য সর্বমোট ৭২৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। তবে মোট বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লেও অংশগ্রহণকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নজিরবিহীন আর্থিক লোকসানের ভয় কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও পিএমিডিয়ার এক যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, আসরে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি দেশের প্রাপ্ত অর্থের অঙ্ক কার্যত বাড়েনি। অন্যদিকে আনুষঙ্গিক খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় অন্তত ১০টি দেশ এই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে ফিফাকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আগামী বিশ্বকাপে প্রতিটি দেশ অংশগ্রহণ বাবদ ৯ মিলিয়ন এবং প্রস্তুতির খরচ হিসেবে ১.৫ মিলিয়ন ডলার পাবে। অর্থাৎ কোনো ম্যাচ না জিতে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিলেও একটি দল অন্তত ১০.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে, যা কাতার বিশ্বকাপেও একই ছিল। তবে ফিফা এবার দলগুলোর জন্য দৈনিক ভাতার পরিমাণ ৮৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর ফলে কোনো দল সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেললে গত আসরের তুলনায় তাদের প্রায় পাঁচ লাখ ডলার কম আয় হবে।

এর পাশাপাশি মুদ্রার বিনিময় হারের তারতম্যের কারণে ডলারের বিপরীতে দলগুলোর প্রকৃত আয়ের মান আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনটি দেশ মিলিয়ে বিশাল ভৌগোলিক পরিসরে বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়ায় যাতায়াত ও আবাসনের পেছনে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উচ্চ করের হার দলগুলোর ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি করবে।

ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ফুটবল ফেডারেশন আয়-ব্যয়ের আগাম হিসাব কষে দেখেছে যে, ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে টুর্নামেন্ট থেকে সবারই লভ্যাংশ কমে যাবে। এমনকি গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া দেশগুলোকে এই আসর শেষে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতির সম্মুখীন হতে হতে পারে।


চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র: টানা পঞ্চমবার মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানসিটি

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪৬
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি। ২০২৫–২৬ মৌসুমের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দল দুটিকে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের নিওনে আজ এই ড্র অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

টানা পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে ফুটবলপ্রেমীরা এই হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছেন। এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিটি মৌসুমেই বিভিন্ন ধাপে দল দুটি লড়াই করেছে। রিয়াল-সিটি লড়াই ছাড়াও এবারের ড্রতে আরও কয়েকটি বড় ম্যাচ নিশ্চিত হয়েছে, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পিএসজি ও চেলসি পরস্পরকে মোকাবিলা করবে।

এবারের ড্র অনুযায়ী ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালের পথটি কিছুটা সহজ বলে মনে করা হচ্ছে। তারা লেভারকুসেনকে হারাতে পারলে পরবর্তী রাউন্ডে স্পোর্তিং বা বোডো/গ্লিমটের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে বার্সেলোনার শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে নিউক্যাসল।

প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপগুলোর সমীকরণও বেশ আকর্ষণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়াল ও সিটির মধ্যকার জয়ী দলকে সেমিফাইনালের পথে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা আতালান্তার বাধা পার করতে হতে পারে। একইভাবে পিএসজি বা চেলসির মধ্যে যারা জয়ী হবে, তাদের মোকাবিলা করতে হতে পারে লিভারপুল কিংবা গালাতাসারাইয়ের সাথে।

ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়ে নেওয়া কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচগুলো আগামী ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণী দ্বিতীয় লেগের ম্যাচগুলো মাঠে গড়াবে ১৭ ও ১৮ মার্চ।


স্পেনের দল আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনেছেন রোনালদো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

স্প্যানিশ লিগ ছেড়েছেন অনেক আগেই, কিন্তু স্পেনের ফুটবলে তাঁর উপস্থিতি থাকছেই। এবার আর খেলোয়াড় হিসেবে নয়, মালিক হিসেবে। দ্বিতীয় বিভাগের দল আলমেরিয়ার ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই পর্তুগিজ তারকা। নিজস্ব বিনিয়োগ কোম্পানির মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।

৫ ফেব্রুয়ারি ৪১ বছরে পা দিয়েছেন রোনালদো। আগেই জানিয়েছিলেন, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলে একটি ক্লাবের মালিক হতে চান। বুট তুলে রাখার আগেই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেন তিনি। বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে রোনালদো বলেন, মাঠের বাইরেও ফুটবলে অবদান রাখার ইচ্ছা তাঁর অনেক দিনের। আলমেরিয়াকে তিনি শক্ত ভিত্তিসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময় ক্লাব হিসেবে দেখছেন। নতুন বিকাশপর্বে ক্লাবকে সহায়তা করতে চান বলেও জানিয়েছেন।

২০২৫ সালের মে মাসে একটি সৌদি বিনিয়োগ গোষ্ঠী আলমেরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয়। নতুন অংশীদার হিসেবে রোনালদোকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ আল খেরেইজি। তিনি বলেন, মাঠে যেমন রোনালদো সেরাদের একজন, তেমনি স্প্যানিশ ফুটবল কাঠামো সম্পর্কেও তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। ক্লাব ও যুব একাডেমিকে ঘিরে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, রোনালদো সেটির সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছেন।

২০২৪ সালের এপ্রিলে লা-লিগা থেকে অবনমিত হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যায় আলমেরিয়া। তবে চলতি মৌসুমে দলটি ছন্দে আছে। ২৭ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে থেকে আবার শীর্ষ লিগে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।


banner close