রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

গোল করাই ছিল নেশা জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসার

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৪:৪৩

সিলিসিরা অঞ্চল, পোল্যান্ডের এক ছোট্ট গ্রাম। ১৯৪৪ সালে আবার পোল্যান্ড দখল করে নেয় সোভিয়েত সেনারা। এরপর আর সেখানে মন টেকেনি জোসেফ আর বারবারা দম্পতির। ফ্রান্স ঘুরে আবারও পাড়ি জমান নৃতাত্ত্বিক জার্মানিতে। তাদের সঙ্গে ছিল আট বছরের একটি ছেলে। ফুটবলকে সিরিয়াস প্রফেশন হিসেবে নেওয়ার কোনো লক্ষ্য তার মধ্যে ছিল না। আসলে সে ছিল দ্বিধাগ্রস্ত, যদি ফুটবল নিয়ে বেশিদূর এগোতে না পারে তাহলে তো একূল-ওকূল দুকূলই যাবে। কাজেই ফুটবলের পাশাপাশি সে শিখছিল কারপেন্টারের কাজ। সে একাধারে ফুটবলার একাধারে কারপেন্টার; কিন্তু এভাবে আর কতদিন। দুই নৌকায় পা দিয়ে তো আর বেশিদিন চলা যায় না।

ততদিনে তার স্কোরিং অ্যাবিলিটি সারা ফেলে দিয়েছে জার্মানিতে। অবশেষে দ্বিধাবিভক্ত হওয়া ভাগ্যের রাস্তা থেকে একটা রাস্তা ক্রমেই অদৃশ্য হয়ে গেল। আর সুস্পষ্ট উজ্জ্বল হয়ে রইল ফুটবলার হবার রাস্তাটা। তখন সে বুঝে গিয়েছে, কারপেন্টার নয়, ফুটবলটাই লেখা আছে তার ভাগ্যে। ছেড়ে দিল কারপেন্টারের কাজ। আর একমাত্র পেশা হিসেবে বেছে নিল সকার জগতের চর্মগোলককে। কে জানত, সেদিনের তার এই সিদ্ধান্তটা কালো-লাল-হলুদ পতাকাটাকে করবে উজ্জ্বলতম।

পরে তার পারফরম্যান্সে জার্মানিতে একটা প্রবাদ তৈরি হয়ে গিয়েছিল, ‘ক্লোসা গোল করলে জার্মানি হারে না।’ ২০০২ বিশ্বকাপের আগে ক্লোসার ডাক এসেছিল পোল্যান্ড দলে খেলার। কিন্তু তিনি বলেন, ‘আমি জার্মান পাসপোর্টের মালিক। খেলতে হলে তাই রুডি ফোলারের দলেই খেলব।’ জন্মসূত্র নয়, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়কেই সেদিন বেছে নিয়েছিলেন তিনি। আর জার্মানি পেয়ে গিয়েছিল তাদের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ স্কোরারকে- ‘দ্য সাল্টা ক্লজ’ মিরোস্লাভ ক্লোসা।

একবছর পরেই আলবেনিয়ার বিপক্ষে জার্মানির হয়ে অভিষেক হল তার। গোল করে জেতালেন দলকে। সুযোগ পেয়ে গেলেন ২০০২-এর বিশ্বকাপ দলেও। বিশ্বকাপের পাঁচটা গোলই এসেছিল তার হেড থেকে।

২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে গোল করে ছুঁয়ে ফেলেন ব্রাজিলের রোনালদো ‘দ্য ফেনোমেনন’-এর বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। এরপর সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষেই গোল করে ভেঙে ফেলেন সেই রেকর্ড। ১৬ গোল করে হন উতিহাসে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক।

১৯৯৪ এর সেই ১৬ বছর বয়সি কারপেন্টার আর ২০১৪ এর সেই বিশ্বজয়ী সাল্টাক্লজের মাঝে রয়ে গিয়েছে কুড়িটা বছর। রয়ে গিয়েছে কত কত স্মৃতি। হামবুর্গ থেকে কাইজারস্লাটার্ন কিংবা ব্রেমেন থেকে বায়ার্ন– তার মাথা কথা বলেছে বারবার।


নির্বাচিত

ফুটবলে এলো ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ঐতিহ্যবাহী লাল ও হলুদ কার্ডের সনাতন পদ্ধতি পেছনে ফেলে ফুটবল মাঠে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’ ব্যবহারের ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে উরুগুয়ে। দেশটির ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ‘কোপা উরুগুয়ে’-তে নাসিওনাল ও রেন্তিস্তাসের মধ্যকার ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ম্যাচে খেলোয়াড়দের সতর্ক করতে সাধারণ প্লাস্টিকের কার্ডের বদলে মুঠোফোনের মতো দেখতে একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র উঁচিয়ে ধরেন ম্যাচ রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলা। ম্যাচ চলাকালে রেফারিদের প্রশাসনিক কাজ সহজ করা এবং খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাজনিত প্রতিটি সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করাই এই উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্পটির নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘রেফে’ (আরইএফই)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাউরো সাক্কো এবং সহ-পরিচালক দিয়েগো দে লা পেনা জানান, প্রায় তিন বছর আগে বৃষ্টির মধ্যে একটি ম্যাচ দেখার সময় রেফারিদের হাতে লিখে কার্ডের তথ্য নথিভুক্ত করার ভোগান্তি দেখে তাঁদের মাথায় এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ভাবনা আসে। নতুন এই ইলেকট্রনিক কার্ডের মাধ্যমে মাঠে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত সরাসরি সফটওয়্যারে নথিভুক্ত হয়ে যায়, যার সুবাদে ম্যাচ শেষে উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কমেট’-এ দ্রুত ও নিখুঁত ম্যাচ রিপোর্ট জমা দেওয়া সম্ভব হবে। প্রথমবার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রেফারি ভারেলা বলেন, কার্ড দ্রুত উঁচিয়ে ধরার সনাতন আবেগ কিছুটা কমলেও প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে এটি রেফারিদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।

তবে মাঠের বাস্তবতায় ডিভাইসটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু দৃশ্যমানতার চ্যালেঞ্জও পরিলক্ষিত হয়েছে। এর আগে সূর্যের কড়া আলোয় স্ক্রিনের লেখা বা রং অস্পষ্ট থাকায় একটি পরীক্ষামূলক ম্যাচ মাঝপথে স্থগিত করতে হয়েছিল। সদ্য সমাপ্ত ম্যাচেও গ্যালারিতে থাকা সাধারণ দর্শক এবং টেলিভিশনের পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের পক্ষে স্ক্রিনের রং বা সিদ্ধান্ত দূর থেকে পুরোপুরি পরিষ্কার বোঝা কিছুটা কঠিন ছিল। প্রযুক্তিটির সহ-পরিচালক দে লা পেনা জানিয়েছেন, এটি এখনও উন্নয়নের প্রাথমিক ধাপে রয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতে যন্ত্রটির চারপাশে উজ্জ্বল এলইডি আলো যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে মাঠ ও টেলিভিশন—উভয় মাধ্যমেই হলুদ কিংবা লাল রঙের সংকেত সবাই স্পষ্টভাবে দেখতে পান।

উরুগুয়ের ঘরোয়া ফুটবলে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ফুটবলের ইতিবাচক আধুনিকায়ন হিসেবে সাধুবাদ জানালেও অনেকেই সনাতন কার্ডের আবেদন নষ্ট হওয়ার কথা বলে ট্রল ও নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। তবে এসব প্রতিক্রিয়ায় বিচলিত নন উদ্ভাবক মাউরো সাক্কো; তাঁর মতে, যেকোনো নতুন প্রযুক্তি মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়।

ঘরোয়া পর্যায়ে প্রাথমিক ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ডিভাইসটির দৃশ্যমানতা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিক আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সব ত্রুটি দূর করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে এই ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’ প্রযুক্তির প্রস্তাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্ভাবকদের।


নির্বাচিত

১৯ চার ও ৮ ছক্কায় শেবাগপুত্রের তাণ্ডব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ভারতের সাবেক বিধ্বংসী ওপেনার বীরেন্দর শেবাগের বড় ছেলে আর্যবীর শেবাগ ঘরোয়া বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন। বিনু মানকাড় ট্রফি এলিট টুর্নামেন্টে শুক্রবার চণ্ডীগড় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের এক আগ্রাসী ইনিংস উপহার দিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ ব্যাটার। বাবার চেনা বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে খেলা তাঁর এই চমৎকার ইনিংসটি ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো ছিল।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দিল্লি অধিনায়ক আর্যবীর। নিজে ওপেনিংয়ে নেমে অর্ণব বুগ্গার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতেই যোগ করেন ৯৮ রান, যেখানে অর্ণব করেন ৪৭ রান। এরপর তৃতীয় উইকেটে আভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে ৪৮ রান এবং পঞ্চম উইকেটে শান্তনু যাদবকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৮৯ রানের কার্যকর পার্টনারশিপ গড়েন তিনি। ইনিংসে ৪৬তম ওভারে আর্যবীর আউট হওয়ার আগে তাঁর অনবদ্য ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রানের শক্ত পুঁজি দাঁড় করায় দিল্লি।

টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচে অবশ্য বড় ধাক্কা খেয়েছিল দিল্লি দল। কর্ণাটকের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৪১৮ রান তুলতে দেওয়ার পর নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ২২০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল তারা, যেখানে আর্যবীরের ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ৩২ রান। ফলে আগের ম্যাচের সেই ছন্দপতন কাটিয়ে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে নেমেই অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে দলকে পথ দেখালেন তিনি এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে বিশাল ইনিংস উপহার দিয়ে নজর কাড়লেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় দায়িত্ব পাওয়ার আগে সম্প্রতি ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলেও অভিষেক হয়েছিল আর্যবীরের। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে তিনি যথাক্রমে ২৬ বলে ২৮, দলের সর্বোচ্চ ৪৭ এবং শেষ ম্যাচে ৩৪ রানসহ তিন ইনিংসে মোট ১০৯ রান করেছিলেন। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও ওয়েস্ট দিল্লি লায়ন্সের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

বিশ্বক্রিকেটে বীরেন্দর শেবাগ ছিলেন নির্ভীক ব্যাটিং ও প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের এক অনন্য নাম। বাবার সেই বিশাল খ্যাতির ছায়া থেকে বেরিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার পথে রয়েছেন আর্যবীর। বিশ্লেষকদের মতে, বয়সভিত্তিক ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলা এই ১৭৩ রানের ইনিংসটি তাঁর সামনের পথচলায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও পরিণত মানসিকতা জোগাবে।


নির্বাচিত

বছরের শেষ দুই প্রীতি ম্যাচের সূচি চূড়ান্ত করল আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পর নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। চলতি বছরের শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ঘরের মাঠে দুটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নিজেদের মেসি-পরবর্তী অধ্যায় শুরু করবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) নিশ্চিত করেছে, আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে ল্যাটিন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

গত ৬ অক্টোবর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে নিজের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। নিজের শেষ ম্যাচে একটি গোলের পাশাপাশি দুটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছিলেন তিনি। মেসির পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও জাতীয় দল থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। দুই সিনিয়র তারকার বিদায়ের পর দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারকা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো; তাঁর নেতৃত্বেই এবার মাঠে নামবে দল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে আর্জেন্টিনা। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচগুলোতে বড় ব্যবধানে জয় পায় লিওনেল স্কালোনির দল। মেসিকে ছাড়াই কর্দোবায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারানোর পর রিভার প্লেটের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় তারা। তরুণ ও নিয়মিত খেলোয়াড়দের এই সমন্বিত পারফরম্যান্স আক্রমণভাগে নতুন দিনের বার্তা দিচ্ছে।

এদিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে তিনি বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। বেনিন ম্যাচের পর স্কালোনি জানিয়েছেন যে সবকিছু ইতিবাচক থাকলে তিনি কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। জানা গেছে, পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে যাচ্ছে এএফএ। ফলে আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুরু করবেন এই কোচ।

আগামী বছরের মার্চে দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের ২০৩০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আর্জেন্টিনাকে সেই লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে না। শতবর্ষী আসর উপলক্ষে ২০৩০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে যৌথভাবে আয়োজিত হবে; ফলে সহ-আয়োজক হিসেবে স্কালোনির দল সরাসরি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাই আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোকে নিজেদের স্কোয়াডের ভারসাম্য ও তরুণ প্রতিভাদের পরখ করে নেওয়ার মূল সুযোগ হিসেবে দেখছে আর্জেন্টিনা দল।


নির্বাচিত

দিল্লি ক্যাপিটালসের পেস বোলিং কোচ হলেন চামিন্দা ভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা পেসার চামিন্দা ভাস প্রথমবারের মতো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) কোচিংয়ে যুক্ত হয়েছেন। আসন্ন মৌসুমকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে নিজেদের পেস বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি দল দিল্লি ক্যাপিটালস। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আনুষ্ঠানিক এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দিল্লি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্টে ৩৫৫টি এবং ওয়ানডেতে ৪০০টি উইকেটের মালিক ৫২ বছর বয়সী এই লঙ্কান কিংবদন্তি গত দুই মৌসুমে দিল্লির বোলিং কোচের দায়িত্বে থাকা ভারতের মুনাফ প্যাটেলের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

আসন্ন আইপিএলকে সামনে রেখে মূলত একটি তারকাবহুল ও অভিজ্ঞ কোচিং প্যানেল গড়ে তুলছে দিল্লি ক্যাপিটালস। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আগেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে তাদের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। এর পরপরই দলটির ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ভারতের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পেস বোলিং বিভাগের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো চামিন্দা ভাসের কাঁধে।

পেস আক্রমণের পাশাপাশি স্পিন বোলিং কোচের পদেও অভিজ্ঞ তারকাকে আনার পরিকল্পনা করছে দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজি। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সাবেক তারকা লেগস্পিনার অমিত মিশ্রকে দলটির স্পিন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জোর আলোচনা চলছে। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তিনটি হ্যাটট্রিকের অনন্য রেকর্ডের অধিকারী অমিত মিশ্র গত বছর সব ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। দিল্লিতে দায়িত্ব পেলে কোচ হিসেবে এটিই হবে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক কাজ।

চামিন্দা ভাসের আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি পর্যায়ে কোচিংয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কাজ করে কোচিং ক্যারিয়ারে পা রেখেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৫ মেয়াদে প্রথম দফায় শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের বোলিং কোচ হন তিনি। এছাড়া ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আয়ারল্যান্ড দল এবং পরবর্তীতে আবারও নিজ দেশের জাতীয় দলকে বিভিন্ন মেয়াদে কোচিং করিয়েছেন তিনি। খেলোয়াড় হিসেবেও আইপিএলের অভিজ্ঞতা রয়েছে ভাসের; ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটির উদ্বোধনী আসর থেকে ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ডেকান চার্জার্সের হয়ে তিন মৌসুমে ১৩টি ম্যাচ খেলে ১৮টি উইকেট শিকার করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।


নির্বাচিত

১৪ বলে ফিফটি, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ম্যাকগার্কের ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তরুণ ব্যাটার জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে কাপের ম্যাচে মাত্র ১৪ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার হিসেবে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। শনিবার ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে এই অনন্য নজির স্থাপন করেন ২৪ বছর বয়সী এই ডানহাতি তারকা।

দ্রুততম ফিফটি স্পর্শ করার পরও নিজের মারমুখী রূপ বজায় রেখে মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরির মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন ম্যাকগার্ক। শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১২২ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন এই ইনিংসটিতে ছিল ১০টি চার ও ৯টি ছক্কার মার। ম্যাকগার্কের এমন বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ৩৯৭ রানের পাহাড়সম পুঁজি পায় সাউথ অস্ট্রেলিয়া।

১৪ বলে অর্ধশতক করে মূলত নিজেরই আগের ব্যক্তিগত রেকর্ড ভেঙেছেন এই অজি ব্যাটার। এর আগে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলে দুইবার ১৫ বলে ফিফটি করার নজরকাড়া নজির দেখিয়েছিলেন তিনি। এবার ঘরোয়া ওয়ানডে কাপে সেই বলের সংখ্যা আরও এক কম করে নিজের ব্যক্তিগত সেরা দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড নতুন করে লিখলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার হিসেবে দ্রুততম হলেও বিশ্ব লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি পঞ্চম দ্রুততম অর্ধশতক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন ভারতের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী, যিনি শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে মাত্র ১১ বলে ফিফটি করার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। তবে দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্থাপন করলেন ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক।


নির্বাচিত

আর্শদীপের চোটে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ভুবনেশ্বরকে দলে নিল ভারত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে চোটের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভারতের পেসার আর্শদীপ সিং। তাঁর কাঁধের চোটের কারণে বিকল্প হিসেবে অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমারকে দলে ডেকেছে ভারতের অন্তর্বর্তী নির্বাচক কমিটি। এর আগে গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেও জায়গা পেয়েছিলেন ভুবনেশ্বর।

ভারতের হয়ে সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বরে খেলেছিলেন এই ডানহাতি পেসার। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

হায়দরাবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংয়ের সময় চোট পান আর্শদীপ। রান তাড়ার শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শামার জোসেফের করা বল তাঁর বাইসেপে আঘাত করে। ওই বলটিই ছিল ম্যাচের শেষ বল। চোট পাওয়ার পর মাঠ ছাড়তে হয় ভারতীয় পেসারকে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আর্শদীপের সুস্থ হয়ে ওঠার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পঞ্চম ম্যাচে তাঁর খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন ভুবনেশ্বর। গত সপ্তাহে ফিটনেস পরীক্ষার জন্য বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে যোগ দেন তিনি। এরপর নিউজিল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে বোলিংয়ের চাপ বাড়িয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে ইউপিটি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছিলেন তিনি।

মৌসুমের শুরুতে দল নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ থেকে নিজেকে দূরে রাখার কথা বলেছিলেন ভুবনেশ্বর। তবে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। টানা দুই শিরোপাজয়ী মৌসুমে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর ২০২৬ সালের আইপিএলে ১৬ ম্যাচে ২৮ উইকেট নিয়ে আসরটির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় দ্বিতীয় হন ভুবনেশ্বর। তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছিলেন পার্পল ক্যাপজয়ী কাগিসো রাবাদা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি সিরিজের চারটি ম্যাচেই খেলেছেন আর্শদীপ। এখন পর্যন্ত তাঁর শিকার পাঁচ উইকেট। চোটের কারণে শেষ ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও নিউজিল্যান্ড সফরের স্কোয়াডে রয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। আগামী রোববার দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা তাঁর।

এদিকে নিউজিল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দল নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন ভারতের নির্বাচকেরা। পেসার প্রসিধ কৃষ্ণ ও হর্ষিত রানার চোট দল গঠনের পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি করেছে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই কয়েকজন ক্রিকেটারকে দেশে ফিরিয়ে এনে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের পেস আক্রমণে ভুবনেশ্বরের অন্তর্ভুক্তি অভিজ্ঞতা বাড়াবে। আর্শদীপের পাশাপাশি স্বীকৃত পেসার হিসেবে দলে রয়েছেন মায়াঙ্ক যাদব ও প্রিন্স যাদব। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি ও শিভম দুবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের দল

শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশি, ইশান কিষান (উইকেটকিপার), সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), তিলক ভার্মা, শিভম দুবে, কুলদিপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল, রবি বিষ্ণোই, নীতিশ কুমার রেড্ডি, আর্শদীপ সিং, প্রিন্স যাদব, মায়াঙ্ক যাদব, নামান ধীর ও ভুবনেশ্বর কুমার।


নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পুনম রাউত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের নারী দলের সাবেক তারকা ব্যাটার পুনম রাউত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মুম্বাইয়ের অলিগলি থেকে ভারতীয় জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার দীর্ঘ যাত্রার স্মৃতিচারণ করেছেন ১১২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার। ২০২১ সালের পর জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়া পুনম ভারতের হয়ে ওয়ানডেতে করেছেন ২ হাজার ২৯৯ রান।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন পুনম। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন মুম্বাইয়ের হয়ে। জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও ভারতীয় নারী ক্রিকেটে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। ২০১৭ সালের নারী বিশ্বকাপ ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। ওই আসরে ৩৮১ রান করেন তিনি। ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ভারত হারলেও পুনম খেলেছিলেন ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

অবসরের ঘোষণা দিয়ে নিজের ক্রিকেটযাত্রা নিয়ে পুনম লেখেন, ‘মুম্বাইয়ের রাস্তা থেকে ভারতীয় জার্সি পরা পর্যন্ত এই যাত্রা আশীর্বাদের চেয়ে কম কিছু ছিল না। এই সফরে ছিল অনেক ত্যাগ, লড়াই, কখনও না ভোলার মতো জয় এবং কঠিন শিক্ষা; যে মুহূর্তগুলো সারা জীবন আগলে রাখব।’

ভারতের প্রতিনিধিত্ব করাকে শুধু স্বপ্নপূরণ নয়, বরং বিশেষ সৌভাগ্য হিসেবে দেখেন পুনম। তার ভাষায়, দেশের হয়ে খেলার দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধ্যায় শেষ করার মুহূর্তে এই যাত্রায় পাশে থাকা, তার ওপর আস্থা রাখা এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভারতের সাবেক এই ব্যাটার।


নির্বাচিত

ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও পরামর্শ প্রক্রিয়ায় হওয়া ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

গতকাল ফিফা কাউন্সিলের সভায় সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন ইনফান্তিনো। সভায় ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। ফিফার ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রথমেই, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ ও পরামর্শ প্রক্রিয়ায় আমাদের যেসব ভুল হয়েছে, সেজন্য ক্ষমা চেয়েছি। এসব ভুলের কারণে অনেক নেতিবাচক পরিণতি হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে এটি ছিল কেবল এক প্রস্তাব। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান উৎস থেকে পাওয়া সহায়তার বিকল্প হিসেবে নয়। বরং ফিফা যাতে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা।’

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন, কনফেডারেশন ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত নেওয়া হবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭৮ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। সভায় বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইনফান্তিনো। উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর যথাসময়ে লিখিতভাবে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে ফিফার শাসনব্যবস্থার সম্ভাব্য সংস্কার পর্যালোচনায় একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি শাস্তিমূলক কার্যক্রমের পদ্ধতি ও ফিফা শান্তি পুরস্কার নিয়ে পর্যালোচনা করবে সংস্থাটির স্থায়ী কমিটিগুলো।


নির্বাচিত

বিশ্বকাপে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর কঠোর নিয়ম আনছে ফিফা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড এবং তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত হস্তক্ষেপের ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শৃঙ্খলাবিধিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাকে ঘিরে ওঠা সমালোচনার পর লাল কার্ডের শাস্তি কার্যকরের নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ফলে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফিফার তৎকালীন বিধি অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের আপিল করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু নিয়মের বাইরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি ‘দেখে নেওয়ার’ কথাও বলেন তিনি।

ট্রাম্পের ওই হুমকির পর বালোগানের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করে ফিফা। তবে শাস্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে ট্রাম্পের কোনো রাজনৈতিক চাপের সম্পর্ক ছিল না বলে পরে দাবি করেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ঘটনাটি বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক অসন্তোষ ও বিতর্কের জন্ম দেয়। শেষ ১৬-তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামও বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। ম্যাচে হেরে গেলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করার হুঁশিয়ারি দেয় দলটি। তাদের অভিযোগ ছিল, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ বেআইনি।

বিতর্কের প্রায় তিন মাস পর শৃঙ্খলাবিধি সংশোধনে উদ্যোগী হয়েছে ফিফা। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে ভুলভাবে লাল কার্ড না দেখানোর ঘটনা ঘটলেও লাল কার্ডের ক্ষেত্রে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার বিধান বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে শাস্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে তৈরি করা এক ব্রিফিং নথিতে ফিফার কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ‘লাল কার্ড পাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর হবে—তা নিয়ে অস্পষ্টতার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বকাপে বালোগান ইস্যুটি যেভাবে সামলানো হয়েছিল, এই কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিফা মূলত নিজেদের সেই ঐতিহাসিক ভুলই সংশোধন করছে।’

বালোগান-কাণ্ডের বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংস্থাটির টুর্নামেন্টের মালিকানাসংক্রান্ত শেয়ার বেসরকারি খাতের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেক প্রতিনিধি বাণিজ্যিক উদ্যোগটিতে সমর্থন দিলে উপহার হিসেবে প্রত্যেককে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ইউরোপের মঞ্চে সিসের ইতিহাস, মিলানের দাপুটে জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এসি মিলানের জার্সিতে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার মঞ্চে দীর্ঘকাল ধরে চলা গোলখরা অবশেষে ঘুচেছে। অতীতে বহু প্রথিতযশা তারকা এই ক্লাবের হয়ে খেললেও যা অর্জন করতে পারেননি, মাত্র ১৯ বছর বয়সে সেই কীর্তি করে দেখিয়েছেন তরুণ ফরোয়ার্ড আলফাদজো সিসে। সিসে কেবল মিলানের দীর্ঘ অপেক্ষারই অবসান ঘটাননি, একই সঙ্গে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব প্রতিযোগিতাগুলোর ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ইতালিয়ান ফুটবলার হিসেবে এক ম্যাচে তিন গোল করার অনন্য রেকর্ডও নিজের নামের পাশে যুক্ত করেছেন।

ইউরোপা লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে অস্ট্রিয়ার ক্লাব রেড বুল সালজবুর্গকে তাদেরই ঘরের মাঠে চার গোল ব্যবধানে পরাজিত করেছে এসি মিলান। ম্যাচের শুরুর দিকে অসাধারণ দক্ষতায় পরপর গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সিসে। পরবর্তীতে দলের পক্ষে বাকি গোলটি আসে। ম্যাচের শেষভাগে লাল কার্ড দেখে দল দশ জনে পরিণত হলেও বড় ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইতালিয়ান জায়ান্টরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে সতীর্থের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে গোল করে মিলানকে এগিয়ে দেন সিসে। এরপর চমৎকার পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বিরতির পর ক্রসে আবারও হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন তিনি। ঐতিহাসিক এই গোলটি করার মাধ্যমে ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় সর্বকনিষ্ঠ ইতালিয়ান হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন এই খেলোয়াড়।

ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সামগ্রিক সাফল্যকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন তরুণ তারকা সিসে। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘মিলানের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া? সত্যি বলতে, সেটা আমার কাছে গৌণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জয় পাওয়া। আমরা জিতেছি, তাই খুশি।’ সিসের এই চোখ জুড়ানো পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মিলান কোচ রুবেন আমোরিমও। তার মতে, নিজের যোগ্যতার জোরেই মাঠে খেলার সুযোগ আদায় করে নিচ্ছেন এই তরুণ। তবে হ্যাটট্রিকের পরও শিষ্যের খেলায় আরও উন্নতির অনেক সুযোগ দেখছেন এই কোচ।

চলতি ফুটবল মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা সিসের এই পারফরম্যান্স তার ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইউরোপা লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে পরাজিত হয়ে হোঁচট খেয়েছিল মিলান। তবে সেই ধাক্কা সফলভাবে কাটিয়ে উঠে পরবর্তী ম্যাচেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেল সাতবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।


নির্বাচিত

অবসরের আগে আবারও লাল-সবুজের জার্সিতে খেলতে চান জাহানারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে আবারও বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামতে চান সাবেক অধিনায়ক ও পেসার জাহানারা আলম। জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার আগ্রহের কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দল থেকে নিজের নেওয়া বিরতির ইতি টেনে ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আবারও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চান জাহানারা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এরপর মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় ২০২৫ সালের শুরুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্রিকেট থেকে বিরতি নেন এই পেসার। পরে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান তিনি। এরপর থেকে জাতীয় দল কিংবা বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

জাতীয় দলে ফিরে মাঠ থেকেই পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে জাহানারার। এ বিষয়ে বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘হ্যাঁ, সে (জাহানারা) আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং জোর দিয়ে বলেছিল যে সে ফিরে আসতে চায় ও খেলতে চায়।’

জাহানারার অবসরের ইচ্ছা ও দলীয় কোন্দল নিয়ে তাঁর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেছেন বাবু। তাঁর ভাষ্য, ‘সে বলেছে, আমি জাতীয় দলে খেলে অবসর নিতে চাই, আর সে কারণেই আমি নিজেকে এতটা ফিট রেখেছি। আমি কোনো ধরনের দলীয় কোন্দলে বিশ্বাসী নই। অনেকের সঙ্গে অনেকের ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে এসব একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ একাধিক অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন জাহানারা। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে জাহানারার উত্থাপিত চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় বোর্ড। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির আওতাধীন ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

বাংলাদেশের হয়ে ৫২টি ওয়ানডে ও ৮৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন জাহানারা। দেশের নারী ক্রিকেটের অন্যতম অভিজ্ঞ এই পেসার বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার আগ্রহ জানানোয় এখন বিসিবির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।


নির্বাচিত

হামজার বিতর্কিত লাল কার্ড, রেফারির ওপর ক্ষুব্ধ কোচ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে পোর্টসমাউথের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। খেলার ৮৯তম মিনিট পর্যন্ত ২-২ গোলে সমতায় থেকেও শেষ মুহূর্তের গোলে পরাজয় বরণ করতে হয় দলটিকে। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার হামজা দেওয়ান চৌধুরীর বিতর্কিত লাল কার্ড। রেফারিংয়ের এমন সিদ্ধান্ত এবং শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত পেনাল্টি বঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শেফিল্ডের প্রধান কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার।

ম্যাচে পোর্টসমাউথ ৪১ ও ৫৪তম মিনিটে টানা দুই গোল করে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায়। তবে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রতিরোধ গড়ে শেফিল্ড; ৫৯তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর পর ৬৭তম মিনিটে গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরায় তারা। এরপর লড়াই জমে উঠলেও ৮৯তম মিনিটে পোর্টসমাউথ জয়সূচক তৃতীয় গোলটি করে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দেয়। এছাড়া ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়কে জার্সি টেনে ফেলে দেওয়া হলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি না বাজানোয় তীব্র হতাশা তৈরি হয়।

এর আগে প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল হামজা চৌধুরীকে। পোর্টসমাউথের খেলোয়াড় রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইন বল নিয়ে হামজার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে যান। সেই ঘটনায় রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড ফাউলের বাঁশি বাজান এবং হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে বহিষ্কার করেন। শেফিল্ড কোচের দাবি, শুরুতে রেফারি কার্ড না দেখানোর ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে সিদ্ধান্ত বদলে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ক্রিস ওয়াইল্ডার বলেন, ওই তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের স্পর্শ এড়ানো হামজার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, এমন পরিস্থিতিতে হামজা আসলে কোথায় যাবে তা কারও পক্ষেই বোঝা সম্ভব নয়। নিষেধাজ্ঞার ভয়ে সংযত হয়ে কথা বলতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, শেষ মুহূর্তে নিজেদের খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে প্রায় খুলে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও পেনাল্টি না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।


নির্বাচিত

নিরাপত্তা শঙ্কায় সৌদি লিগে রোনালদোদের ম্যাচ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি প্রো লিগের (এসপিএল) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল আল নাসরের ম্যাচটিও। মঙ্গলবার সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বিশ্রামের সময় নিশ্চিত করতে এবং লজিস্টিকগত জটিলতা এড়াতেই নবম রাউন্ডের এই ম্যাচগুলো ক্যালেন্ডারে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা দল আল হিলাল বনাম আল রিয়াদ এবং আল ইত্তিহাদ বনাম আল শাবাবের মধ্যকার ম্যাচ দুটি আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আল আহলি এবং রোনালদোর আল নাসরের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনেক পিছিয়ে নিয়ে ২০২৭ সালের ৬ মার্চ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে লিগ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, নবম রাউন্ডের অন্যান্য ম্যাচগুলোতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং সেগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে রিয়াদে হুথিদের হামলা চলাকালেই এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের ম্যাচ খেলেছিল আল নাসর। সেদিন সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় খেলা শুরু হতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়েছিল। তবে নানা শঙ্কার মধ্যেও নিরাপদে ম্যাচটি শেষ হয় এবং ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রোনালদোর দল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সৌদি আরবের ঘরোয়া ফুটবলের সূচিতেও সরাসরি আঘাত হানল এই নিরাপত্তা সংকট।

সম্প্রতি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত মারাত্মক রূপ নিয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও কৌশলগত জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে নিয়মিত দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে বিদ্রোহীরা। বিশেষ করে সম্প্রতি রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের এক হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে চরম সতর্কতা জারি রয়েছে, যা ২০১৫ সালে সংঘাত শুরুর পর সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হওয়া অন্যতম ভয়াবহ হামলা।


নির্বাচিত

banner close