বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হৃদয় জয় করলেন বাঙালির হৃদয়

নাজমুল সাগর
প্রকাশিত
নাজমুল সাগর
প্রকাশিত : ৮ মে, ২০২৪ ১২:৩২

হৃদয় বাংলার ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিচ্ছেন আস্তে আস্তে। সময় যত গড়াচ্ছে ততই যেন নিজেকে পরিপক্ব করে গড়ে তুলছেন টাইগারদের তরুণ এ ব্যাটার। চার-ছক্কার ফুলঝুরি ফুটাচ্ছেন বাইশ গজে। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, সেটা কোনো বিষয়ই নয় হৃদয়ের কাছে। তার কাজ সে ঠিকই করে যাচ্ছে।

গত বছরের মার্চে বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল তাওহিদ হৃদয়ের। এরপর থেকেই তিনি জাতীয় দলের প্রায় নিয়মিত সদস্য। ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছেন দলের হয়ে। পরিণত হচ্ছেন ভরসার প্রতীকে। হৃদয় যেভাবে বলকে বাউন্ডারি ছাড়া করেন, তাতে একটা তকমা তাকে দেওয়াই যায় বাংলাদেশের ‘লিটল পাওয়ার হাউস’। এটি বোধহয় বেশি কিংবা ভুল হবে না।

গতকাল চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২৯ রানেই দুই উইকেট হারায় টাইগাররা। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে দলের হাল ধরেছেন। জাকের আলির সঙ্গে ৮৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথ দেখিয়েছেন। ৩ চার আর ২ ছক্কায় ৩৮ বল থেকে করেছেন দলের সর্বোচ্চ ৫৭ রান। জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

শুরুতে দেখেশুনে খেলতে থাকেন হৃদয়। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাতখুলে খেলা শুরু করেছেন তিনি। শুরুর ১০ বল থেকে ১০ রান করা হৃদয় পরে ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ৩৮ বল থেকে করেছেন ৫৭ রান।

এমন ইনিংসের পরে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন নিজের পরিকল্পনার কথা। হৃদয় বলেন, ‘নিজের পরিকল্পনাটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। উইকেট আজ একটু মন্থর ছিল। সে জন্য আমরা একটু সময় নিয়েছি। সঙ্গীকেও (অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যান) সেটাই বলেছি, আগে সেট হয়ে নিই, তারপর পরিকল্পনা কাজে লাগানো যাবে।’

হৃদয় দলে নিজের ভূমিকাটা বেশ ভালো করেই যে জানেন, সেটাও বোঝা গেল তার কথা থেকে। তিনি বলেন, ‘আমি এমন জায়গায় ব্যাট করছি পাওয়ারপ্লেতেও নামা লাগতে পারে, ১৫-১৬ ওভার পরও নামা লাগতে পারে, প্রথম ওভারেও নামা লাগতে পারে। ম্যাচের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাট করি। আজ (গতকাল) দ্রুত ২ উইকেট হারানোয় বড় পার্টনারশিপ দরকার ছিল। আমি আর জাকের ভাই জুটি গড়েছি। চেষ্টা করেছি চাহিদা অনুযায়ী ব্যাট করার।’

দলের জয়ে অবদান রাখতে পারায় খুশি হৃদয় জানালেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রান করলে অবশ্যই ভালো লাগে। একজন ব্যাটার হিসেবে আমার কাজ দলে অবদান রাখা। আমি চেষ্টা করি ফিল্ডিং করে হোক কিংবা রান করে, দলে যেন অবদান রাখতে পারি। যেদিন শুরুতে ব্যাটিং পাব, দলের জন্য যেন ভালো কিছু এনে দিতে পারি।’


বুমরাহকে বিশ্রাম তবে রোহিত-কোহলি আছেন ভারতীয় দলে

আপডেটেড ২০ মে, ২০২৬ ১৭:৪২
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী জুন মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য একমাত্র টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ঘোষিত এই দুই ফরম্যাটেই ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন তরুণ তারকা ব্যাটার শুবমান গিল। টেস্ট স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন হিসেবে ঋষভ পান্তের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন লোকেশ (কেএল) রাহুল। গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারার পর ভারতের জন্য এটিই হবে সাদা পোশাকে প্রথম পরীক্ষা। আগামী ৬ থেকে ১০ জুন নতুন চণ্ডীগড়ে দুই দলের মধ্যকার একমাত্র টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে।

ঘোষিত টেস্ট দল থেকে প্রধান চমক হিসেবে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে দলের দুই মহাতারকা জাসপ্রিত বুমরাহ এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজাকে। দীর্ঘ মৌসুমের ধকল সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুমরাহ-জাদেজা ছাড়াও গত টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন অক্ষর প্যাটেল ও পেসার আকাশ দীপ। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রথমবারের মতো জাতীয় টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন রাজস্থানের বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার এবং পাঞ্জাবের পেসার গুরনুর ব্রার। এছাড়া বিদর্ভের বাঁহাতি স্পিনার হার্ষ দুবেকেও নির্বাচকরা প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডেও বড় ধরণের রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। নিউজিল্যান্ডের কাছে সবশেষ সিরিজ হারার পর এই সংস্করণের দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে হার্দিক পান্ডিয়া ও ইশান কিশানকে। তবে ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছেন ঋষভ পান্ত, রবীন্দ্র জাদেজা, মোহাম্মদ সিরাজ এবং হার্শিত রানার মতো ক্রিকেটাররা। ওয়ানডে ফরম্যাটে শুবমান গিলের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শ্রেয়াস আইয়ার। অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বিবেচনায় ওয়ানডে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে। ওয়ানডে ম্যাচগুলো যথাক্রমে ১৩, ১৭ ও ২০ জুন ধর্মশালা, লক্ষ্ণৌ এবং চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত হবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে ভারত কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও নির্বাচকরা কোনো ধরণের ঝুঁকি নিতে নারাজ। ২০১৮ সালে দুই দলের মধ্যকার প্রথম টেস্টে ভারত ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল, সেই দাপট বজায় রাখাই এখন গিলের দলের প্রধান লক্ষ্য। নতুন ডাক পাওয়া মানব সুথার ও গুরনুর ব্রারদের জন্য এটি হবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ। অন্যদিকে ওয়ানডেতে পান্ডিয়া ও কিশানের প্রত্যাবর্তন দলের মিডল অর্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে আফগানদের মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করেছে ভারত।

ভারতের পূর্ণাঙ্গ টেস্ট স্কোয়াডে রয়েছেন শুবমান গিল (অধিনায়ক), যশস্বী জয়সওয়াল, কেএল রাহুল (সহ-অধিনায়ক), সাই সুদর্শন, ঋষভ পান্ত, দেবদত্ত পাডিক্কাল, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিধ কৃষ্ণা, মানব সুথার, গুরনুর ব্রার, হার্ষ দুবে এবং ধ্রুব জুরেল। অন্যদিকে ওয়ানডে স্কোয়াডে গিলের সাথে থাকছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার (সহ-অধিনায়ক), কেএল রাহুল, ইশান কিশান, হার্দিক পান্ডিয়া, নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, আর্শদীপ সিং, প্রসিধ কৃষ্ণা, প্রিন্স যাদব, গুরনুর ব্রার এবং হার্ষ দুবে। এখন ক্রীড়া প্রেমীদের নজর জুনের এই টানটান উত্তেজনার সিরিজের দিকে।


রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে দারিদ্র্য জয় করে বিশ্বজয়ের নায়ক হওয়ার গল্প অনেক থাকলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়া ইগর থিয়াগোর জীবনকাহিনি যেন সব রূপকথাকেও হার মানায়। মাত্র ২৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার যখন কোচ কার্লো আনচেলত্তির ২৬ জনের চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিলেন, তখন বিশ্ববাসী দেখল ব্রাসিলিয়ার এক উপশহর থেকে উঠে আসা লড়াকু এক যুবকের অভাবনীয় উত্থান। শৈশবে চরম অনটন, বাবার অকাল মৃত্যু আর রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করা সেই কিশোর আজ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রধান ভরসা হয়ে বিশ্বমঞ্চে পা রাখছেন।

ইগর থিয়াগোর শৈশব কেটেছে ব্রাসিলিয়ার উপশহর গামায় চরম দারিদ্র্যের মাঝে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর তাঁর পরিবার অকুল পাথারে পড়ে। সংসার চালাতে তাঁর মা মারিয়া দিভাকে রাস্তায় ঝাড়ুদারের কাজ করতে হয়েছে। অভাবের তাড়নায় দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন ঘরে থাকা এবং আত্মীয়স্বজনের কাছে অপমানিত হওয়া ছিল তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী। মায়ের এই কষ্ট দূর করার সংকল্প নিয়ে ইগর কিশোর বয়সেই রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন, পাশাপাশি বাজারে ফল বিক্রি এবং লিফলেট বিলির কাজও করেছেন। ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগ থাকলেও বারবার বিভিন্ন ক্লাবের ট্রায়াল থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসে একপর্যায়ে খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি দমে যাননি এবং কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গেছেন।

ইগরের সাফল্যের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে ভেরে ক্লাবের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে ১৩ গোল করার মাধ্যমে। এরপর তিনি ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ক্রুজেইরোতে যোগ দেন, কিন্তু সেখানেও পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে ছিল না। ক্লাবটি আর্থিক সংকটে পড়ে রেলিগেটেড হয়ে গেলে ইগরকে তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হয়। তবে কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও ক্লাবটির মালিকানা নেওয়ার পর ইগরের প্রতিভা চিনতে ভুল করেননি এবং তাকে ৭ লাখ ডলারে বুলগেরিয়ার ক্লাব লুদোগোরেতসে বিক্রি করেন। ইউরোপে পা রাখাই ছিল ইগরের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট; সেখানে ট্রেবল জেতার পর বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগাতে গিয়ে এক মৌসুমে ২৯ গোল করে তিনি সবার নজর কাড়েন।

২০২৪ সালে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেন ইগর। তবে ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর এক বিরল জয়েন্ট ইনফেকশন এবং হাঁটুর চোটের কারণে টানা ২৭৩ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। কিন্তু অদম্য ইগর চোট কাটিয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন। এই মৌসুমে তিনি একাই ২২ গোল করেন, যা কোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের প্রিমিয়ার লিগে করা এক মৌসুমের সর্বোচ্চ গোল। এমনকি আর্লিং হালান্ডকে পেছনে ফেলে তিনি মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও অর্জন করেন। গত মার্চে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে পেনাল্টি থেকে করা গোলটি ছিল তাঁর দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগের এক সার্থক বহিঃপ্রকাশ।

৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার ইগর থিয়াগো বর্তমানে ব্রাজিলের একজন ক্লাসিক ‘নম্বর নাইন’ হিসেবে পরিচিত। এরিয়াল বলে আধিপত্য, শক্তিশালী ফিজিক্যাল প্লে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে আনচেলত্তির কৌশলী পরিকল্পনার প্রধান অংশ করে তুলেছে। যারা একসময় তাঁকে সামর্থ্য নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিল, আজ তারা ইগরের বিশ্বজয়ের অপেক্ষায়। নিজের মেধা আর বিশ্বাসের জোরে রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে আজ বিশ্বকাপের মূল আসরে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া এই তরুণ এখন কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা।


উইম্বলডন থেকে ছিটকে গেলেন দুবারের চ্যাম্পিয়ন আলকারাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব টেনিসের অন্যতম মহাতারকা ও বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় কার্লোস আলকারাজ ইনজুরির কারণে আসন্ন উইম্বলডন টুর্নামেন্ট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফ্রেঞ্চ ওপেন মিস করার পর এবার ঘাসের কোর্টের এই মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যান্ড স্লাম থেকেও তাঁর ছিটকে যাওয়ার খবর টেনিস বিশ্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে। শুধু উইম্বলডনই নয়, এর আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খ্যাত কুইন্স ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশ নিতে পারবেন না দুবারের এই শিরোপাজয়ী তারকা। মূলত শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে না পাওয়ায় এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে আলকারাজ নিজেই তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা ভক্তদের জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে তাঁর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বেশ ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে এবং তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো অনুভব করছেন। তবে দীর্ঘস্থায়ী ইনজুরি কাটিয়ে পুনরায় প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফেরার জন্য তাঁর শরীর এখনো শতভাগ প্রস্তুত নয়। অত্যন্ত প্রিয় দুটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে না পারার বেদনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কোর্টে ফেরার জন্য তিনি এবং তাঁর চিকিৎসক দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আলকারাজের এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির মূলে রয়েছে তাঁর কবজির গুরুতর চোট। গত মাসে বার্সেলোনা ওপেনের প্রথম রাউন্ডে খেলার সময় তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত পান। সেই সময় থেকেই তিনি মাঠের বাইরে রয়েছেন এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট মিস করছেন। এই কবজির চোট আলকারাজের পুরো বছরের পরিকল্পনাই ওলটপালট করে দিয়েছে। বিশেষ করে বছরের এই সময়ে যখন তিনি ঘাসের কোর্টে নিজের আধিপত্য বজায় রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন এই ইনজুরি তাঁর ক্যারিয়ারে বড় এক প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অথচ ২০২৬ সালের শুরুটা আলকারাজ করেছিলেন রাজকীয়ভাবে। বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম’ পূর্ণ করার অনন্য এক রেকর্ড গড়েছিলেন। সেই ফর্ম বজায় রেখে মৌসুমে আরও বড় অর্জনের লক্ষ্য থাকলেও ইনজুরি এখন তাঁর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেনিস বিশ্লেষকদের মতে, আলকারাজের অনুপস্থিতিতে এবারের উইম্বলডনের জৌলুস যেমন কিছুটা কমবে, তেমনি শিরোপার লড়াই এখন অন্যান্য শীর্ষ তারকাদের জন্য অনেক বেশি উন্মুক্ত হয়ে পড়ল।

উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ আলকারাজের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং জানিয়েছে যে, তরুণ এই প্রতিভার অভাব মাঠের লড়াইয়ে স্পষ্টভাবে অনুভূত হবে। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই স্প্যানিশ তারকার কোর্টে প্রত্যাবর্তনের জন্য। আলকারাজের এই বিরতি তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে এবং পূর্ণ সুস্থতা নিয়ে তিনি আবারও টেনিস বিশ্বের শীর্ষে ফিরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের। আপাতত নিবিড় চিকিৎসায় থাকা এই তারকাকে আরও কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।


দীর্ঘ ২২ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রাজত্ব ফিরে পেল আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে লিগের অন্য এক ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি পয়েন্ট হারানোয় এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় গানার্সদের। মিকেল আর্তেতার শিষ্যদের এই অর্জন উত্তর লন্ডনের ক্লাবটির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ তারা সর্বশেষ ২০০৩-০৪ মৌসুমে ‘দ্য ইনভিন্সিবলস’ খ্যাত সেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পুনরায় প্রিমিয়ার লিগের সোনালী ট্রফিটি এমিরেটস স্টেডিয়ামে ফিরছে।

পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, ৩৭ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের সংগ্রহ এখন ৮২ পয়েন্ট। অন্যদিকে, সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে ম্যানচেস্টার সিটি অর্জন করতে পেরেছে ৭৮ পয়েন্ট। লিগে দুই দলেরই এখন মাত্র একটি করে ম্যাচ বাকি রয়েছে। ফলে গাণিতিকভাবেই সিটির পক্ষে আর আর্সেনালকে টপকানো সম্ভব নয়। এই ৪ পয়েন্টের ব্যবধান আর্সেনালকে লিগের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগেই ‘চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে। বিগত কয়েকটি মৌসুমে আর্সেনাল একদম শেষ দিকে এসে হোঁচট খেলেও এবার তারা ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

আর্সেনালের এই শিরোপা জয়ের পথটি প্রশস্ত হয়েছে ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট হারানোর মধ্য দিয়ে। বোর্নমাউথের বিপক্ষে সেই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না পেপ গার্দিওলার শিষ্যদের সামনে। কিন্তু প্রথমার্ধেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ দিকে আর্লিং হালান্ড গোল করে দলকে সমতায় ফেরালেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১-১ ব্যবধানে ম্যাচটি ড্র হওয়ার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় যে, প্রিমিয়ার লিগ এবার নতুন এক চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে। সিটির এই হোঁচট আর্সেনাল সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায়।

আগামী রোববার ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে লিগের শেষ ম্যাচটি এখন আর্সেনালের জন্য কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। সেলহার্স্ট পার্কে অনুষ্ঠিতব্য সেই ম্যাচটি কোনো স্নায়ুচাপের লড়াই নয়, বরং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্সেনালের উৎসবের মঞ্চ হয়ে উঠবে। এই ম্যাচের পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে গানার্সদের হাতে প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি তুলে দেওয়া হবে। ঘরোয়া এই সাফল্য উত্তর লন্ডনের ফুটবল প্রেমীদের মাঝে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে, যারা গত কয়েক বছর ধরে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হওয়ার গ্লানি সহ্য করে আসছিলেন।

লিগ শিরোপা জয় করলেও আর্সেনালের মৌসুমটি এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আর্তেতার দল এখন ‘ডাবল’ শিরোপা জয়ের এক বিরল রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ ফাইনালে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)-এর মুখোমুখি হবে তারা। প্রিমিয়ার লিগের এই জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তাদের প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্নে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে। আপাতত পুরো ফুটবল বিশ্ব আর্সেনালের এই নতুন উত্থানকে অভিবাদন জানাচ্ছে।


প্রথমবারের মতো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বরে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মিরপুর এবং সিলেটের মাটিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করার পুরস্কার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে বড় সুখবর এসেছে। টাইগাররা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। এর আগে বাংলাদেশ কখনো এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। মূলত ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সের সুবাদেই আইসিসি রেটিং পয়েন্টে বড় উন্নতি হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

এই ঐতিহাসিক অর্জনের নেপথ্যে ছিল বাংলাদেশ দলের সাহসী কৌশলগত পরিবর্তন। ঐতিহ্যগতভাবে মিরপুরের মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেটের পরিবর্তে এবার পেস বোলিং এবং ব্যাটারদের জন্য অনুকূল পিচ বেছে নেওয়া হয়েছিল। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল এই নতুন চ্যালেঞ্জে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। কোচ ফিল সিমন্সের অধীনে ব্যাটে-বলে সুসংহত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তারা পাকিস্তানকে দুই ম্যাচেই কোণঠাসা করে রাখে। এই আগ্রাসী মানসিকতা ও জয়ের ক্ষুধা শেষ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

আইসিসি-র সর্বশেষ হালনাগাদকৃত র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন টেস্টের দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। টাইগাররা এখন শ্রীলঙ্কার ঠিক নিচেই অবস্থান করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান দল। তারা দুই ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ের অষ্টম স্থানে নেমে গেছে। একইভাবে ক্যারিবিয়ান দল ওয়েস্ট ইন্ডিজও এক ধাপ পিছিয়ে নবম স্থানে চলে গেছে। এই বড় ধরণের রদবদল প্রমাণ করে যে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে বাংলাদেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও শক্তিশালী।

র‌্যাঙ্কিংয়ের নিচের দিকে বড় পরিবর্তন এলেও শীর্ষ পাঁচ দলের অবস্থানে কোনো নড়চড় হয়নি। বর্তমানে ১৩১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তাদের ঠিক পরেই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসায় বাংলাদেশের ঠিক ওপরেই তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এই নতুন সমীকরণ বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।


ইতিহাস গড়ল টাইগাররা: প্রথমবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট ক্রিকেটের এক নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে। মিরপুর টেস্টে জয়ের পর সিলেটেও দাপট বজায় রেখে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পঞ্চম দিনের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলে সফরকারী পাকিস্তান।

ম্যাচের পঞ্চম তথা শেষ দিনের সকালে পাকিস্তান কিছুটা ভীতি ছড়িয়েছিল স্বাগতিক শিবিরে। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ উইকেট, আর পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২১ রান। দিনের শুরুতে উইকেটে থিতু হয়ে বসা মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান লড়াকু ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি ইনিংসের শুরুতেই রিজওয়ানের একটি ক্যাচ সলিপে মেহেদী হাসান মিরাজ মিস করলে পাকিস্তান শিবিরে অলৌকিক জয়ের আশা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই আশাকে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি টাইগার বোলাররা।

চাপের মুখে বাংলাদেশের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে ২৮ রানে বোল্ড করে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের আরও একটি ‘ফাইফার’ বা পাঁচ উইকেট শিকার পূর্ণ করেন। সাজিদের বিদায়ের পর পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। এক প্রান্ত আগলে রাখা রিজওয়ান শতকের খুব কাছে পৌঁছে গেলেও ৯৪ রানে শরিফুল ইসলামের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ১৬৬ বলে ১০টি চারের সাহায্যে সাজানো রিজওয়ানের এই দায়িত্বশীল ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়। এরপর খুররাম শেহজাদকে আউট করে পাকিস্তানের শেষ উইকেটটি তুলে নেন তাইজুল, ফলে ৩৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস।

পুরো ম্যাচজুড়ে তাইজুল ইসলামের পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রানের বিনিময়ে তিনি একাই শিকার করেন ৬টি উইকেট। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা, যিনি দুই উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের টপ অর্ডারে ধস নামিয়েছিলেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট লাভ করেন। এর আগে প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ১৩৭ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস বাংলাদেশকে বড় রানের পাহাড় গড়তে সাহায্য করেছিল। ব্যাটে-বলের এই সুষম সমন্বয়েই বাংলাদেশ ঐতিহাসিক এই জয় নিশ্চিত করে।

সিলেট টেস্টের এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহের পর পাকিস্তানকে ২৩২ রানে আটকে দিয়ে ৪৬ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় টাইগাররা। শক্তিশালী পাকিস্তান দলকে তাঁদেরই চেনা কন্ডিশনে এবং নিজেদের মাটিতে এভাবে পর্যুদস্ত করা বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই আধিপত্য এবং হোয়াইটওয়াশের সাফল্য এখন ক্রীড়া মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।


পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে বাংলাদেশের ইতিহাস

আপডেটেড ২০ মে, ২০২৬ ১২:০৩
ক্রীড়া ডেস্ক

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে পরাজিত করে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করল পাকিস্তানকে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচ জেতার এক অনন্য ও গৌরবময় কীর্তি গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৬টি উইকেট শিকার করেন।

ম্যাচের শেষ দিকে পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৯৪ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে দলের আশা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শরীফুল ইসলামের বলে মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে শতক থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতেই বিদায় নিতে হয় তাঁকে। এছাড়া শান মাসুদ ৭১ এবং সালমান আগা ৭১ রান করেন। রিজওয়ান ও সাজিদের বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি ভেঙে বাংলাদেশের জয় ত্বরান্বিত করেন তাইজুল। মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবরো এবং কুমার ধর্মসেনার তত্ত্বাবধানে চলা এই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান সংগ্রহ করে বড় লিড নিশ্চিত করে। দলের হয়ে রেকর্ড সৃষ্টিকারী ১৩৭ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। এই ইনিংসের মাধ্যমেই তিনি মুমিনুল হককে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪টি সেঞ্চুরির মালিক হন। একই ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের অনবদ্য সেঞ্চুরি করা লিটন দাস দ্বিতীয় ইনিংসেও ৬৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে খুররম শাহজাদ ৪টি এবং সাজিদ খান ৩টি উইকেট শিকার করলেও তা বাংলাদেশের জয়রথ থামাতে যথেষ্ট ছিল না। অভিষেক টেস্টে তানজিদ হাসান প্রথম ইনিংসে ২৬ রান করে আশার আলো দেখালেও তাঁর আউট হওয়ার ধরণকে অনেকে “আত্মহত্যা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম দুই ইনিংসেই পাকিস্তানের টপ অর্ডারকে শুরুতেই বিপদে ফেলে বাংলাদেশের জয় সুগম করেন। সিলেটের প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত টাইগারদের এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করল।


পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশের সুবাস: ৩ উইকেট দূরে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১৯ মে, ২০২৬ ১৭:৫৯
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ঐতিহাসিক জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারী পাকিস্তান তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান সংগ্রহ করেছে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশকে জয় এবং পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে আর মাত্র ৩টি উইকেট তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে, জয়ের জন্য পাকিস্তানের এখনো প্রয়োজন ১২১ রান, যা তাঁদের বর্তমান ব্যাটিং অর্ডারের শেষ দিকের খেলোয়াড়দের জন্য এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।

চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে পাকিস্তানের হয়ে লড়াকু প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার উইকেটে থিতু হয়ে ১৩৪ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এই জুটি দীর্ঘক্ষণ অবিচ্ছিন্ন থাকায় এক পর্যায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাত থেকে ফসকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সালমান ও রিজওয়ানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাকিস্তান শিবিরে এক সময় ম্যাচ বাঁচানোর ক্ষীণ আশা তৈরি হলেও দিনের শেষভাগে চিত্রটি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।

টাইগার শিবিরের কাঙ্ক্ষিত সেই ব্রেকথ্রু এনে দেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ৭১ রান করা সালমান আলি আগাকে বোল্ড করে লড়াকু জুটির অবসান ঘটান এই বাঁহাতি স্পিনার। সালমানের বিদায়ের পর পাকিস্তানের বিপদ আরও ঘনীভূত হয় যখন নতুন ব্যাটার হিসেবে নামা হাসান আলিও ক্রিজে টিকতে পারেননি। মাত্র ৬ বল মোকাবিলা করে তাইজুলের করা পরের ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন হাসান। শেষ বিকেলে মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান পুরোপুরি ব্যাকফুটে চলে যায়।

চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮৬ ওভারে ৩১৬ রান। ক্রিজে এখনো এক প্রান্ত আগলে রাখা মোহাম্মদ রিজওয়ান বড় এক বাধা হয়ে থাকলেও যোগ্য সঙ্গীর অভাবে পাকিস্তান চরম চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা শেষ মুহূর্তের জোড়া সাফল্যে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন। আগামীকালের প্রথম সেশনেই দ্রুত বাকি ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করার বিরল রেকর্ড গড়তে চায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দর্শকদেরও এখন গভীর কৌতূহল, শেষ দিনের রোমাঞ্চে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা ইতিহাস গড়তে পারে কি না।


দুই ভাইকে নিয়ে কুরাসাওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ছোট দেশ কুরাসাও ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে। সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই অভিষেক আসরকে সামনে রেখে গত সোমবার কুরাসাও তাদের ২৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। গ্রুপ ‘ই’-তে থাকা কুরাসাওকে লড়তে হবে জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে। প্রথমবার সুযোগ পেলেও একটি লড়াকু দল নিয়ে বিশ্ববাসীকে চমকে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে দেশটি।

কুরাসাওয়ের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় ডাগআউটে দেখা যাবে অভিজ্ঞ ডাচ ট্যাকটিশিয়ান ডিক অ্যাডভোকাটকে। দেশটিকে বিশ্বকাপে তোলার পর গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করলেও সম্প্রতি আবারও কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর ফলে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হওয়ার এক অনন্য রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। অ্যাডভোকাট তাঁর স্কোয়াডে মূলত সেই খেলোয়াড়দেরই অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যাঁরা বাছাইপর্বে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলকে মূল পর্বে নিয়ে এসেছেন। তাঁর অভিজ্ঞ পরিচালনা দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে সঠিক সমন্বয় তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘোষিত স্কোয়াডে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাকুনা ভ্রাতৃদ্বয়। লিয়েন্দ্রো বাকুনা এবং জুনিনহো বাকুনা—এই দুই ভাই দলের মধ্যমাঠ বা মিডফিল্ডের দায়িত্ব সামলাবেন। লিয়েন্দ্রো বাকুনাকে দলের অধিনায়ক মনোনীত করা হয়েছে, অন্যদিকে বাছাইপর্বে তিন গোল করা তাঁর ভাই জুনিনহোও রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। রক্ষণভাগ সুসংহত করতে কোচ আস্থা রেখেছেন জুরিয়েন গারি এবং রোশন ভ্যান ইজমার ওপর। এছাড়া গোলপোস্ট রক্ষার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলা নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক এলোয় রুমকে।

কুরাসাওয়ের আক্রমণভাগ এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বাছাইপর্বে আটটি করে গোল করা জারভেনে কাস্তানির ও কেনজি গোরি দলের গোল স্কোরিংয়ের প্রধান ভরসা। তাঁদের সাথে আক্রমণভাগে যোগ দেবেন অভিজ্ঞ জুর্গেন লোকাডিয়া এবং জের্ল মারগারিথা। এছাড়া ২০২৫ সালে অভিষেক হওয়া তরুণ তারকা তাহিথ চং দ্রুত গতিতে আক্রমণ সাজিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বিশেষ পারদর্শী। এই শক্তিশালী আক্রমণভাগ নিয়েই বড় বড় দলের রক্ষণব্যূহ ভাঙার পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন অ্যাডভোকাট।

২৬ সদস্যের এই পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াডে গোলরক্ষক হিসেবে আরও থাকছেন টাইরিক বোডাক ও ট্রেভর ডোর্নবুশ। রক্ষণভাগে রিশেডলি বাজোয়ার, জশুয়া ব্রেনেট এবং আরমান্দো ওবিস্পোর মতো দক্ষ ডিফেন্ডাররা জায়গা পেয়েছেন। সব মিলিয়ে কুরাসাওয়ের এই স্কোয়াডটি তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক সুষম সমন্বয়। যদিও জার্মানি বা আইভরি কোস্টের মতো পরাশক্তিদের মোকাবিলা করা তাদের জন্য কঠিন হবে, তবুও কুরাসাওয়ের ফুটবলাররা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রমাণ দিতে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের জাত চেনাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এখন কেবল মাঠের লড়াইয়ে এই ছোট দেশটির বড় স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষা।


আর্জেন্টিনার গ্রুপসঙ্গী জর্ডান ও অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার গ্রুপসঙ্গী হিসেবে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। রাল্ফ রাগনিকের কোচিংয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার আনন্দে ভাসছে ইউরোপীয় দেশ অস্ট্রিয়া। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এবারই প্রথম তারা বৈশ্বিক মঞ্চে সুযোগ পেল। অস্ট্রিয়া ইতোমধ্যে তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রকাশ করেছে। এই দলে বড় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেন জাতীয় দলের আইকন ও অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। অভিজ্ঞ মার্কো আরনাউটোভিচ, মাইকেল গ্রেগোরিটস এবং মার্সেল সাবিৎজারের মতো তারকাদের ওপর ভরসা রেখেই দল সাজিয়েছেন রাগনিক।

অস্ট্রিয়ার ঘোষিত দলে বেশ কিছু চমকপ্রদ অন্তর্ভুক্তি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে গত মার্চে ইংল্যান্ড ও জার্মানি থেকে নাগরিকত্ব ও ফুটবল জাতীয়তা পরিবর্তন করা দুই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার কার্নি চুকুয়েমেকা ও পল ওয়ানারকে চূড়ান্ত দলে রাখা হয়েছে। ১৬ জুন জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। পরবর্তীতে তারা ২২ জুন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে। রাগনিকের এই তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ বিশ্বকাপে বড় কোনো চমক দেখানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অন্যদিকে এশীয় শক্তি জর্ডান তাদের ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। এই দলে সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে যথারীতি জায়গা পেয়েছেন জনপ্রিয় ফরোয়ার্ড মুসা আল তামারি। জর্ডান শিবিরে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক এহসান হাদ্দাদ। দীর্ঘ এক বছর ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর পুনরায় দলে ফিরেছেন তিনি। তবে জর্ডান ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ হলো গত বছর আরব কাপে হাঁটুর চোটে পড়া নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার ইয়াজান আল নাইমাত পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এই প্রাথমিক তালিকায় জায়গা পাননি।

জর্ডানের এই ৩০ জনের প্রাথমিক তালিকায় ৪ জন গোলরক্ষক, ১২ জন ডিফেন্ডার, ৭ জন মিডফিল্ডার এবং ৬ জন ফরোয়ার্ডকে রাখা হয়েছে। তাদের বিশ্বকাপ সূচি অনুযায়ী ১৬ জুন তারা অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি খেলবে। এরপর ২২ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করে গ্রুপ পর্বের চূড়ান্ত ম্যাচে ২৭ জুন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মোকাবিলা করবে তারা। জর্ডান কোচ আশা করছেন, এই প্রাথমিক তালিকা থেকে সেরা ২৬ জনকে বাছাই করে একটি লড়াকু দল গঠন করা সম্ভব হবে যারা বিশ্বমঞ্চে বিশেষ কোনো ছাপ ফেলতে পারবে।

আর্জেন্টিনার এই গ্রুপটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিকে অভিজ্ঞ অস্ট্রিয়া দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণে মরিয়া, অন্যদিকে জর্ডান তাদের সাম্প্রতিক মহাদেশীয় সাফল্যের ধারা বিশ্বমঞ্চেও বজায় রাখতে চায়। দুই দেশই তাদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে সুনিপুণ রণকৌশল সাজাচ্ছে যাতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ সুগম করা যায়। মূলত ডেভিড আলাবা ও মুসা আল তমারির মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের ফুটবল প্রেমীরা।


ম্যানচেস্টার সিটিতে পেপ গার্দিওলা যুগের অবসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পেপ গার্দিওলা। বর্তমান মৌসুম শেষেই তিনি ইতিহাদ স্টেডিয়ামের ডাগআউট ছাড়বেন বলে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য অ্যাথলেটিক নিশ্চিত করেছে। যদিও ক্লাবের সাথে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ছিল, তবুও এক বছর আগেই দায়িত্ব ছাড়ার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ৫৫ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। এর মাধ্যমে সিটির সাথে তাঁর দীর্ঘ ১০ বছরের এক অবিস্মরণীয় সম্পর্কের অবসান হতে যাচ্ছে।

২০১৬ সালে ইংল্যান্ডে আসার পর থেকে গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটিকে সাফল্যের অনন্য শিখরে নিয়ে গেছেন। তাঁর অধীনে ক্লাবটি এ পর্যন্ত ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাসহ মোট ২০টি ট্রফি জিতেছে। এর মধ্যে সিটির ইতিহাসের বহুকাঙ্ক্ষিত প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়টি ছিল অন্যতম বড় অর্জন। চলতি মৌসুমেও সিটির সামনে আরও একটি লিগ শিরোপা জয়ের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বোর্নমাউথ ও অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচে জয় পেলে এবং আর্সেনাল যদি ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে পয়েন্ট হারায়, তবে গার্দিওলা আরও একটি ট্রফি হাতে নিয়েই তাঁর সফলতম অধ্যায়টি শেষ করতে পারবেন।

গার্দিওলার বিদায়ের বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষ কিংবা কোচের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, বিষয়টি এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ব্যাপার এবং সিটি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই তাঁদের বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদার ও স্পন্সরদের সাথে এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এই মহান কোচকে রাজকীয় বিদায় দিতে বিশেষ সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট। যার অংশ হিসেবে ম্যানচেস্টারের রাস্তায় একটি বর্ণাঢ্য বিজয় প্যারেডের আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে হাজারো সমর্থক তাঁদের প্রিয় কোচের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।

গার্দিওলা চলে যাওয়ার পর সিটির শূন্য সিংহাসনে কে বসবেন তা নিয়ে ফুটবল মহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে ইতালিয়ান কোচ এনজো মারেসকার নাম। মারেসকা এর আগে পেপের সহকারী হিসেবে সিটিতে কাজ করায় ক্লাবের খেলার ধরণ ও দর্শন সম্পর্কে তাঁর স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। এর আগে তিনি চেলসির ডাগআউটে দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তবে ক্লাব মালিকদের সাথে মতভেদের কারণে ২০২৬ সালের শুরুতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এখন সিটির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে মারেসকাই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নেইমারকে রেখেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ সন্ধ্যায় এই তালিকা প্রকাশ করেন। নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে নেইমার জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা কাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তির মুখে নেইমারের নাম শোনার পর স্বস্তি ফিরেছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মাঝে।

দীর্ঘ আড়াই বছর পর সফলভাবে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটল নেইমার জুনিয়রের। ২০২৩ সালের পর চোট ও ক্লাব পরিবর্তনের জটিলতায় ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তিনি খুব বেশি ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। তবে বিশ্বকাপের এই বিশেষ আসরে অংশ নিতে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত কয়েক মাস ধরে নিজের ফিটনেসের প্রমাণ দিতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাঁর এই ফেরা ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ করবে বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অন্যদিকে, এবারের দল ঘোষণার বড় চমক ছিল তারকা ফরোয়ার্ড রদ্রিগোর অনুপস্থিতি। তবে চোটের কারণে তাঁর বাদ পড়া অনেকটা নিশ্চিতই ছিল।

এবারের বিশ্বকাপ দলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া এবং মার্তিনেল্লির মতো পরীক্ষিত তারকাদের পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছেন প্রতিভাবান তরুণ এন্দ্রিক, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিক ও রায়ানের মতো নতুন মুখ। গোলরক্ষক হিসেবে আলিসন, এদেরসন ও ওয়েভারটনের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে। রক্ষণভাগে মার্কুইনহোস, দানিলো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার ও মাগালিয়ায়েসের মতো নির্ভরযোগ্যদের রাখা হয়েছে। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, ফ্যাবিনিয়ো এবং লুকাস পাকেতার মতো কৌশলী ফুটবলাররা।

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে অবস্থান করছে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মূল মিশন। প্রথম ম্যাচেই আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মোকাবিলা করতে হবে। গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। প্রতিটি বিশ্বকাপের মতো এবারও একমাত্র দেশ হিসেবে সব আসরে অংশগ্রহণের রেকর্ড ধরে রেখেই মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। নতুন উদ্যম এবং শক্তিশালী এই বহর নিয়ে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে এখন থেকেই নিবিড় প্রস্তুতি শুরু করবে ব্রাজিল দল।


সিলেট টেস্ট জিততে পাকিস্তানের পাহাড়সম লক্ষ্য ৪৩৭, জয়ের সুবাসে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ঢাকা টেস্টে দাপুটে জয়ের পর সিলেট টেস্টেও জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। লড়াকু ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারী পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের এক বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ, যার ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে। দিনের শেষ বিকেলে মাত্র দুই ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে পাকিস্তান। কোনো রান সংগ্রহ না করেই আজান আওয়াইজ ও আব্দুল্লাহ ফজল অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। হাতে আরও দুই দিন এবং ১০টি উইকেট থাকলেও সফরকারীদের জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া হবে অত্যন্ত দুরূহ।

বাংলাদেশের এই বড় লিড পাওয়ার নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি করার মাধ্যমে তৃতীয় দিনটি নিজের করে নেন। ইনিংসের শুরুতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ১৫ রানে ফিরলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মুশফিক ও লিটন দাসের ১২৩ রানের জুটি সেই চাপ কাটিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়। লিটন ৬৯ রান করে আউট হলেও মুশফিক হাল ছাড়েননি। পরবর্তীতে তাইজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে তিনি আরও ৭৭ রানের একটি কার্যকর জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে মুশফিক সাজঘরে ফিরলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের যবনিকা ঘটে। এর আগে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের ৫২ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের ভিত শক্ত করতে সাহায্য করেছিল।

সিলেটের মাঠের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে পাকিস্তানের জন্য এই লক্ষ্য তাড়া করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হয়। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া পাঁচটি টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সফলভাবে রান তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। গত বছর জিম্বাবুয়ে ১৭৪ রান তাড়া করে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন উইকেটে জয় পেয়েছিল। ইতিহাস বলছে, এই মাঠে চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য ৩০০ রান অতিক্রম করলেই ব্যাটিং দলকে বড় ব্যবধানে হারের মুখ দেখতে হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের নিজের রেকর্ডও এই ভেন্যুতে খুব একটা ভালো নয়। অতীতে ৩২১, ৩৩২ কিংবা শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৫১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে টাইগারদের।

সমগ্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৩৫০ রানের বেশি তাড়া করে জেতার নজিরও অত্যন্ত বিরল। বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে, যারা ২০২১ সালে ৩৯৫ রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। পাকিস্তানের বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপ এবং মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে ৪৩৭ রান তাড়া করে জেতা হবে এক বিরল বিশ্বরেকর্ড। যদিও সিলেটের উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তবুও চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে বাংলাদেশি স্পিনার ও পেসারদের মোকাবিলা করে এই রান তোলা পাকিস্তানের জন্য চরম অগ্নিপরীক্ষার শামিল হবে।

আগামী দুই দিন ম্যাচের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। বাংলাদেশ চাইবে দ্রুত পাকিস্তানের উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থেকে ম্যাচটি অন্তত ড্র করা অথবা অভাবনীয় ব্যাটিং চমক দেখিয়ে জয়ের ইতিহাস গড়া। শান্তর দল যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে জয়ের পাল্লা বাংলাদেশের দিকেই বেশি ভারী বলে মনে হচ্ছে। তবে ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা হওয়ায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


banner close