মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
৯ আষাঢ় ১৪৩৩

বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটার শান্তর

নাজমুল সাগর
প্রকাশিত
নাজমুল সাগর
প্রকাশিত : ১২ মে, ২০২৪ ১৫:১৩

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিটা প্রথম চার ম্যাচে বেশ ভালোই হয়েছে। সবগুলোতেই জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল শান্তবাহিনী। চট্টগ্রামে প্রথম তিন ম্যাচে জয়টা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের হলেও, ঢাকায় শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বুকে কাঁপুনি তুলে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে; কিন্তু শেষপর্যন্ত আর বাংলাদেশকে হারের তিক্ত স্বাদ দিতে পারেনি রোডেশিয়ান। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে চার জয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন হোয়াইট ওয়াশ। সে লক্ষ্যেই আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে এ ম্যাচটি মাঠে গড়াবে সকাল ১০টায়। খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

নিকট অতীতে বাংলাদেশ এ সময় কোনো ম্যাচ খেলেনি। মূলত বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করেই এমন সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বকাপে একই সময়ে ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের।

চতুর্থ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, সিরিজ জয়ের পর বাকি দুই ম্যাচকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবেই নিচ্ছেন তারা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান নিজেদের অস্ত্রগুলো। মাঠেও দেখা গেল সেটাই। একাদশেও এনেছিল তিন পরিবর্তন। মাহমুদউল্লাহ, সাইফুদ্দিন আর লিটনকে বিশ্রামে পাঠানো হয়েছিল। ওপেনিংয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে সৌম্য সরকারকে। শেষ ম্যাচেও তাই ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ওপেনিং পজিশন নিয়ে বাংলাদেশের সমস্যা বেশ পুরোনো। বিশেষ করে লিটন দাসের অফফর্ম সেই চিন্তাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। তবে চতুর্থ ম্যাচে বেশ আশাজাগানিয়া ওপেনিং জুটির দেখা মিলেছে। ইনফর্ম তানজিদ তামিমের সঙ্গে বেশ গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করেছে সৌম্য সরকার। দুজনে মিলে ১০০ রানের জুটি গড়েছিল। শেষ ম্যাচেও তাদের ওপর আশা থাকবে বিশেষ কিছু করার।

তানজিদ-সৌম্য ফেরার পর ধস নেমেছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে। ৪২ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে ১০ উইকেট। দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও এমন অবস্থা বেশ চিন্তার। শেষ ম্যাচে তাই তাড়া থাকবে ব্যাটারদের রানে ফেরার।

অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল শান্ত প্রশংসা কুড়ালেও তার পারফরম্যান্স বেশ হতাশার। বিশেষ করে তার ধারাবাহিক অফফর্ম বিশ্বকাপে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। শান্তর সামনে তাই চ্যালেঞ্জ থাকবে শেষ ম্যাচে ব্যাটহাতে রানে ফেরার।

প্রত্যেক ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের অগ্রগামিতার দেখা মিলেছে। প্রতি ম্যাচেই তারা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। যার প্রতিফলন দেখা গেছে চতুর্থ ম্যাচে। জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল ম্যাচ। শেষ ওভারে তো বাংলাদেশিদের হৃদয়ে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তারা। তাই এটা বলতে কোনো দ্বিধা থাকার কথা নয়, শেষ ম্যাচে মরণ কামড় দিতে চাইবে সিকান্দার রাজারা।

সে ক্ষেত্রে শেষ ম্যাচটাও হয়তো কঠিনই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। তবে সেটা হলেও প্রস্তুতিতেই মন দেওয়া উচিত বাংলাদেশের।


রেকর্ডের সিংহাসনে মেসি, বিশ্বকাপে একক সর্বোচ্চ গোলদাতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৬ ১০:৪৬
ক্রীড়া ডেস্ক

লিওনেল মেসি—নামটি যেন ফুটবলের সকল মহাকাব্যের শেষ কথা। ডালাস স্টেডিয়ামে আজ সোমবার রাতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ের দিনে মেসি কেবল আর্জেন্টিনাকে জেতাননি, বরং নিজেকে নিয়ে গেছেন এমন এক উচ্চতায়, যেখানে পৌঁছানো যেকোনো ফুটবলারের জন্য এক অলীক স্বপ্ন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে এখন এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন অলঙ্কৃত করছেন এই ফুটবল জাদুকর।


ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল কিছুটা বিষাদময়। ৯ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি, যা গ্যালারিজুড়ে এক লহমায় নীরবতা নামিয়ে আনে। এই মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ তিনটি পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডও নিজের নামের পাশে যোগ করেন তিনি। তবে ফুটবল ঈশ্বর যার জন্য রাজকীয় মঞ্চ সাজিয়ে রেখেছেন, তাকে কি আর একটি ব্যর্থতায় আটকে রাখা যায়? ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো পাস বুক দিয়ে নামিয়ে এক জাদুকরী ভলিতে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপান মেসি। এই গোলের মাধ্যমেই ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে ১৭ গোল নিয়ে ইতিহাসের চূড়ায় বসেন তিনি। তবে সেখানেই থামেননি; ম্যাচের ৯৪ মিনিটে জটলার ভেতর থেকে আরও একটি অসাধারণ গোল করে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন। এর মাধ্যমে তিনি পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি মার্তার বিশ্ব রেকর্ডকেও স্পর্শ করেন।


২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচেই মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫—উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল। এই জয়ের ফলে ‘জে’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে লিওনেল স্কালোনির দল। মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের দীর্ঘ দুই দশকের যাত্রা ডালাসে এসে যেন পূর্ণতা পেল। ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই বয়সেও মাঠে তাঁর গোলক্ষুধা যেন যেকোনো তরুণ তুর্কিকেও হার মানায়।


এই ম্যাচে গোল করে মেসি আরও বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী, যা এর আগে জাস্ট ফন্টেইন ও জেয়ারজিনহোর দখলে ছিল। এছাড়াও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০টি ভিন্ন ম্যাচে দলের প্রথম গোলদাতার কৃতিত্বও এখন তাঁর। যদিও পেনাল্টি মিসের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা দলগতভাবে এখন শীর্ষে (৫ বার), তবে ব্যক্তিগত অর্জনে মেসি সব সমালোচনার উর্ধ্বে। এই বিশ্বকাপেই মেসি যেভাবে শুরু করেছেন, তাতে ফুটবল বিশ্ব কেবল এক মহানায়কের শেষ বেলা উপভোগ করছে না, বরং নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে।


এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে বিধ্বস্ত করে নকআউট পর্বে ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রবৃষ্টির কারণে প্রায় ৪ ঘণ্টা দীর্ঘ হওয়া এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এই জয়ের ফলে ‘আই’ গ্রুপ থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল ফরাসিরা। ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে দিনটিকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোল করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করলেন সময়ের সেরা এই ফুটবলার।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলে ফ্রান্স। ফরাসিদের ১৯টি আক্রমণাত্মক শটের বিপরীতে ইরাক মাত্র ৪টি শট নিতে সক্ষম হয়। খেলার ১৪ মিনিটে মাইকেল অলিসের চমৎকার পাস থেকে বাম পায়ের শক্তিশালী শটে দলকে লিড এনে দেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১৫ গোল করে তিনি ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর পাশে বসেন। প্রথমার্ধের ১-০ ব্যবধানে থাকা অবস্থায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় এবং বিরতির পর তীব্র বজ্রপাতের কারণে খেলা ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট স্থগিত থাকে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্বিতীয়োর্ধের খেলায় আবারও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ইরাকি ডিফেন্ডার জায়েদ তাহসিনের একটি ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে উসমান দেম্বেলে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের দিকে। সহজ সুযোগ পেয়ে জালে বল পাঠাতে ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের ১৬তম গোলটি পূর্ণ করেন, যা মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমান। এমবাপ্পের সামনে এখন কেবল লিওনেল মেসি (১৮ গোল) রয়েছেন।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলে নিজেও জালের দেখা পান। মাইকেল অলিসের অ্যাসিস্ট থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে ইরাকের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন পিএসজির এই তারকা। বর্তমানে দুই ম্যাচে ৪ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। আগামী ২৬ জুন গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।


১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অবশেষে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। আগামী ২০২৭ সালের মে মাসের শেষ দিকে এই একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) বাইরে আয়োজিত এই দ্বিপক্ষীয় ম্যাচের সম্ভাব্য সময় চূড়ান্ত হলেও ভেন্যু নির্ধারণের বিষয়টি এখনও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে। তবে লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস অথবা ওভালেই এই একমাত্র টেস্টটি আয়োজন করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি লর্ডসের উইকেট নিয়ে ক্রিকেট মহলে বেশ সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক টেস্ট ম্যাচটি চার দিনে শেষ হলেও সেখানে খেলা হয়েছিল মাত্র ১৬৬ ওভার। এই অতিরিক্ত বোলিং সহায়ক উইকেটের কারণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচটি লর্ডস থেকে ওভালে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ফাইনাল ম্যাচটি যদি ওভালে স্থানান্তরিত হয়, তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই আয়োজন করা হবে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি টেস্ট খেলতে প্রথমে বাংলাদেশ সফরে আসবে ইংল্যান্ড দল, যার ভেন্যু ঢাকা ও চট্টগ্রাম। এরপর মার্চে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহাসিক ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে ইংলিশরা। এরপর মে মাসে নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই টানা নয়টি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে ইংল্যান্ডের। মূলত ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বেন স্টোকসদের জন্য লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দল সবশেষ ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল। দুই ম্যাচের সেই সিরিজে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল এবং বল হাতে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন বাংলাদেশ আবারও ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে, তখন ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক সফরের স্কোয়াড থেকে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বর্তমানে টেস্ট দলে সক্রিয় রয়েছেন উইকেটকিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।


স্পেনের পর উরুগুয়েকেও রুখে দিল লড়াকু কেপ ভার্দে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও এক লড়াকু রূপকথার জন্ম দিয়েছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এবার ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়েকেও রুখে দিয়েছে তারা। মায়ামির ঐতিহ্যবাহী হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘গ্রুপ এইচ’-এর অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয়ার্ধে অসাধারণ এক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয়বঞ্চিত করে গ্রুপ পর্বের নকআউট রেসে নিজেদের ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল কেপ ভার্দে।

খেলার শুরু থেকেই উরুগুয়ে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় কেপ ভার্দে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া কেভীন পিনার এক নিখুঁত ফ্রি-কিক সরাসরি উরুগুয়ের জালে আশ্রয় নেয়। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে কেপ ভার্দে। তবে প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় কোচ মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে। খেলার ৪৪তম মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এবং প্রথমার্ধের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৪৫+৫ মিনিট) আগুস্তিন কানোপিওর দারুণ গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় উরুগুয়ের দল ‘লা সেলেস্তে’।

বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধান ধরে রাখতে এবং জয় সুনিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উরুগুয়ে। তবে উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকারদের আক্রমণগুলোকে চমৎকারভাবে সামলে নেয় কেপ ভার্দের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ। রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি প্রতিআক্রমণ থেকে ম্যাচের ৬১তম মিনিটে উরুগুয়েকে স্তব্ধ করে দেন কেপ ভার্দের হেলিও ভারেলা। তাঁর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত উভয় দলই আরও কিছু আক্রমণ চালালেও দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল হয়নি।

উরুগুয়ের বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর ড্রয়ের পর ‘গ্রুপ এইচ’-এর সমীকরণ এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে ড্র করার পর এবার কেপ ভার্দের সাথেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় উরুগুয়ের পরের পর্বে যাওয়ার পথ কঠিন হয়ে গেল। এই ড্রয়ের পর দুই ম্যাচ শেষে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে—দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তালিকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছে উরুগুয়ে এবং তিন নম্বরে রয়েছে কেপ ভার্দে। চার পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে স্পেন এবং তলানিতে অবস্থান করছে সৌদি আরব। প্রথম ম্যাচে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে আটকানো এবং এবার উরুগুয়ের বিপক্ষে এই লড়াকু পয়েন্ট অর্জন কেপ ভার্দের জন্য বড় এক প্রাপ্তি।


বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে ইরানের লড়াকু ড্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২২তম স্থানে থাকা ইরানকে কাগজে-কলমে ‘আন্ডারডগ’ বলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে নরওয়ে বা মিসরের মতো শক্তিশালী দলগুলোর চেয়েও র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে তারা। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইরান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মাঠের বাইরে। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক সংঘাতের ছায়া তাদের বিশ্বকাপ অভিযানকে ঘিরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। ফুটবল বিশ্বের অধিকাংশ মনোযোগ যখন মাঠের বাইরে ইরানের রাজনীতি নিয়ে আবর্তিত হচ্ছিল, তখন লস অ্যাঞ্জেলেসের সবুজ গালিচায় ফুটবলের মাধ্যমে মোক্ষম জবাব দিল তারা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করা ইরান আজ রুখে দিয়েছে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে এক অসাধারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করতে সমর্থ হয় তারা। যুদ্ধের ময়দানে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার যে মানসিকতা ইরান দেখিয়েছে, তার প্রতিফলন যেন আজ মাঠের রক্ষণেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দ আজ অতিমানবীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। পুরো ম্যাচে তিনি ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন, যার প্রতিটিই ছিল দেখার মতো।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে বেইরানভান্দ এমন একটি গোল ঠেকিয়ে দেন যা সম্ভবত চলতি বিশ্বকাপের সেরা সেভ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেভিন ডি ব্রুইনা পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর থেকে আড়াআড়ি পাস বাড়িয়েছিলেন ম্যাক্সিম ডি ক্রুইপারের দিকে। ফাঁকা গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডি ক্রুইপারের জন্য গোল করাটা তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় গোলপোস্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচে ২৩টি আক্রমণ শট নিয়েও ইরানের এই লৌহকঠিন রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয় বেলজিয়ামের তারকারা।

ম্যাচটিতে জয় পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল ইরান। বিশেষ করে ৬৬ মিনিটে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউরোপীয় পরাশক্তিরা। এরপর ইরান বেশ কয়েকবার কাউন্টার অ্যাটাকে বেলজিয়ামের বক্সে ত্রাস সৃষ্টি করলেও গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি। এমনকি প্রথমার্ধে একটি দর্শনীয় গোলও করেছিল ইরান, যা দুর্ভাগ্যবশত অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও মানসিক চাপের পাহাড় মাথায় নিয়েও লড়াকু ফুটবল খেলে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে ইরান।


সালাহর জাদুতে ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মিসরের প্রথম জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৬ ১০:১৬
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে মোহাম্মদ সালাহ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেলেও দেশের হয়ে তাঁর একটি বড় আক্ষেপ ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়। আজ সেই আক্ষেপ ঘুচল এবং ইতিহাস গড়ল মিসর। সালাহর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেল তারা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের এই ম্যাচে ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করে জয়ের নায়ক বনে যান ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

১৯৩৪ সালে যাত্রা শুরু করা মিসর এর আগে আরও তিনটি বিশ্বকাপে (১৯৯০, ২০১৮ এবং চলতি আসরের প্রথম ম্যাচ) অংশ নিলেও কখনো জয়ের মুখ দেখেনি। টানা ৯২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজেদের নবম প্রচেষ্টায় ঐতিহাসিক এই জয়টি ছিনিয়ে নিল ‘ফারাও’রা। ম্যাচে ৮৩ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থেকে সালাহ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করেন এবং ৫টি সুযোগ তৈরির পাশাপাশি গোলমুখে সর্বোচ্চ শট নিয়ে দলের আক্রমণের প্রাণভোমরা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন।

খেলার শুরুটা অবশ্য নিউজিল্যান্ডের অনুকূলেই ছিল। ১৫ মিনিটে ফিন সারম্যানের হেডে এগিয়ে যায় কিউইরা। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি মিসর। দ্বিতীয়ার্ধে খোলনলচে বদলে ফেলে তারা। ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। ঠিক ৯ মিনিট পর জিকোর সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিউজিল্যান্ডের জালে বল পাঠান মোহাম্মদ সালাহ। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি, যা এর আগে আবদেল ফাওজির (২ গোল) দখলে ছিল।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে বদলি খেলোয়াড় ত্রেজেগে আরও একটি দর্শনীয় গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মিসরের। এই জয়ের ফলে ‘জি’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা। অন্যদিকে ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা নিউজিল্যান্ডের জন্য নকআউট পর্বের পথটি বেশ কঠিন হয়ে পড়ল। বিশ্বকাপের আসরে ঐতিহাসিক প্রথম জয়ের পাশাপাশি পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো করল সালাহ ও জিকোরা।


সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে স্পেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা ভুলে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের চেনা রূপে ফিরেছে স্পেন। গ্রুপ ‘এইচ’-এ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশরা। এই দাপুটে জয়ের মধ্য দিয়ে ২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান নিজেদের দখলে নিয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এর আগে আসরের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পয়েন্ট হারিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তবে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ‘টিকিটাকা’ আর আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে তারা। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে আজ শুরুর একাদশে ফিরেই স্পেনের আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। ম্যাচের দশম মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন এই ফরোয়ার্ড।

প্রথম গোলের ধাক্কা সৌদি আরব সামলে ওঠার আগেই শুরু হয় ওয়ারজাবাল ঝড়। ম্যাচের ২১ এবং ২৪ মিনিটে মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে পর পর দুটি চোখধাঁধানো গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন রিয়াল সোসিয়েনদাদের এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরে নেয় স্পেন। এরপর দ্বিতীয়ার্থের শুরুতে ম্যাচের ৪৯ মিনিটে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার একটি জোরালো শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল-তামবাক্তি।

এই আত্মঘাতী গোলের পর ম্যাচের ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর সৌদি আরব রক্ষণভাগ কিছুটা সামলে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্পেনের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে স্পেন আরও একবার বল জালে পাঠালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR)-এর মাধ্যমে সেই গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ফলে ৪-০ ব্যবধানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশরা। এই হারের পর গ্রুপের অন্য তিন দলের পয়েন্ট সমান ১ থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্পেন।


ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চট্টগ্রামে গেলেও ভেন্যু ও ফরম্যাট বদলের সাথে সাথে বদলে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স। ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল স্বাগতিকরা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য মান বাঁচানোর লড়াই। তবে এই ম্যাচেও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু চট্টগ্রামের রানবন্যার উইকেটেও ডট বল আর উইকেট হারানোর মহড়ায় লিপ্ত হন টাইগার ব্যাটাররা। দলের বিপর্যয়ের মুখে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের ৫১ বলে খেলা অপরাজিত ৬১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন রিশাদ হোসেন। অধিনায়ক হৃদয়ের এই লড়াকু ইনিংসের কল্যাণে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জা থেকে কোনোমতে মুক্তি পায় লাল-সবুজের দল।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল চরম বিপর্যয়কর। দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ১ রান করে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। একই ওভারের পঞ্চম বলে স্পেনসার জনসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার সাইফ হাসান (৯ বলে ১ রান)। পাওয়ার প্লে-তে ডট বলের মহড়া দিয়ে ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে নাথান এলিসের শিকার হন পারভেজ হোসেন ইমন। এর ফলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অন্তত ১০ বল খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেটের লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখান ইমন। পঞ্চম ওভার শেষে মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

পরবর্তীতে মিডল অর্ডারে নুরুল হাসান সোহান ৮ বলে ৬ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হন এবং শামীম পাটোয়ারী মাত্র ৩ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসা দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন হৃদয় ও রিশাদ জুটি। রিশাদ ১৪ বলে ১৬ রান করে আউট হওয়ার পর শরিফুল ও তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ৪৪ রান যোগ করেন হৃদয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন স্পেনসার জনসন। এছাড়া নাথান এলিস ও জাম্পা দুটি করে এবং নিখিল চৌধুরী একটি উইকেট লাভ করেন।

১১০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই শরিফুল ইসলামের বল থেকে ৪টি চারে ১৭ রান তুলে ঝোড়ো সূচনা করে অস্ট্রেলিয়া। অজি ওপেনার মিচেল মার্শ একাই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে মাত্র ২৮ বলে ৬০ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। মার্শের এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে মাত্র ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট শিকার করলেও তা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া কোনো অবদান রাখতে পারেনি।


১১ বলে ফিফটির বিশ্বরেকর্ড বৈভবের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন তিনি। মাত্র ১১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে ক্রিকেট ইতিহাসের রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লেখান এই বাঁহাতি বিস্ময়বালক।

ফাইনালে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করেন বৈভব। লঙ্কান বোলিং আক্রমণকে সম্পূর্ণ ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে প্রথম ১১ বলের মধ্যে ১০টি বলেই বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। রেকর্ড গড়ার এই ইনিংসে মাত্র একটি ডট বল খেলেন বৈভব, যার বিপরীতে তার ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ৫টি আকর্ষণীয় ছক্কা।

রেকর্ড ফিফটির পর শতকের দিকেও দারুণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এই তরুণ ওপেনার। তবে মাত্র ৬ রানের আক্ষেপ নিয়ে শতক বঞ্চিত হয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৯৪ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সাহান আরাচ্চিগের বলে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে তার নামের পাশে যোগ হয় মোট ১০টি চার ও ৮টি ছক্কা।

চলতি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে অবশ্য নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বৈভব। এর আগের পাঁচটি ইনিংসে সুপার ওভারসহ ব্যাট করতে নেমে তিনি মাত্র তিনটি ছক্কা হাঁকাতে পেরেছিলেন। তবে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাই ৮টি ছক্কা মেরে নিজের আসল ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই উদীয়মান ক্রিকেটার।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচটিতে মাঠের আচরণ নিয়ে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন বৈভব। সুপার ওভারে ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর লঙ্কান ক্রিকেটার বিশেন হালাম্বাগেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ক্রিকেট মহলে তিনি বেশ সমালোচিত হন। মাঠের সেই বিতর্কের পর ফাইনাল ম্যাচে ব্যাট হাতে লঙ্কান বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে যেন সেই সমালোচনার জবাব দিলেন ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার।


সুইডেনকে ৫-১ ব্যবধানে ওড়াল নেদারল্যান্ডস

আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৬ ১৫:১৮
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুইডেনের রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সুইডিশদের গোলবন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে রোনাল্ড কোম্যানের দল। প্রথমার্ধে তরুণ স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি এবং দ্বিতীয়ার্ধে উইঙ্গার কোডি গাকপোর অনবদ্য জোড়া গোলের সুবাদে ডাচরা এক দাপুটে ফুটবল প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাঠ ছাড়ে।

খেলার শুরু থেকেই সুইডিশ ডিফেন্স লাইনের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ডাচ ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় তারা; লিভারপুল উইঙ্গার কোডি গাকপোর একটি চমৎকার মাপা পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল উৎসবের খাতা খোলেন আয়াক্সের তরুণ স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি। ডাচদের এই শুরুর আক্রমণাত্মক ঝড় বজায় রেখে খেলার ১৭তম মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রবি। এবার ডান প্রান্ত থেকে তাঁকে চমৎকারভাবে বলের জোগান দেন রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিস। প্রথমার্ধে এই ২-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় নেদারল্যান্ডস।

বিরতির পর মাঠে নেমে সুইডেনের জালে গোল দেওয়ার ধারা অব্যাহত রাখে অরেঞ্জ আর্মিরা। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতে না হতেই সুইডেনের জালে দলের তৃতীয় গোলটি জড়ান কোডি গাকপো। এরপর ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে সুইডেনের কফিনে চতুর্থ পেরেকটি ঠুকে দেন সেই গাকপোই। নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি ডাচদের ৪-০ গোলের বিশাল লিড এনে দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। চার গোল হজম করে কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে সুইডেনের হয়ে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল শোধ করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি ইলাঙ্গা। গোল শোধের পর সুইডিশরা আরও বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও নেদারল্যান্ডসের জমাট ডিফেন্সের সামনে গিয়ে ব্যর্থ হয়।

খেলার একদম শেষ মুহূর্তে আরেকটি চমৎকার গোল আদায় করে নেয় নেদারল্যান্ডস, যার ফলে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় কোম্যানের দলের। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জাপানের সাথে ২-২ গোলে নাটকীয় ড্র করে পয়েন্ট হারানো নেদারল্যান্ডস এই বড় জয়ের মাধ্যমে কেবল ৩ পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং গোল ব্যবধানে নিজেদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানে যাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করে ফেলল। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়ানো সুইডেনকে আজ ডাচদের এই গতিময় ফুটবল আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে পুরো ৯০ মিনিট কেবল চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়েছে।


বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪–০ গোলে উড়িয়ে দিল জাপান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল জাপান ও তিউনিসিয়ার মধ্যকার লড়াইটি। ১৯৩০ সালে মেক্সিকো-ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়ামের হাত ধরে যে মহাযজ্ঞের শুরু হয়েছিল, আজ সেই বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। তেরোটি দল নিয়ে শুরু হওয়া সেই টুর্নামেন্ট এখন ৪৮ দলের এক বিশাল আসরে রূপ নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল এশিয়ান পরাশক্তি জাপান।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর তিউনিসিয়াকে গুছিয়ে ওঠার কোনো সুযোগই দেয়নি নীল সামুরাইরা। খেলার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় দাইচি কামাদা এক দুর্দান্ত শটে দলকে লিড এনে দেন। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৩১তম মিনিটে ফের গোল উৎসবে মেতে ওঠে জাপান। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে লক্ষ্যভেদ করেন আয়াসে উয়েদা। প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ‘এফ’ গ্রুপের দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধেও জাপানের আক্রমণের ধার কমেনি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। ৬৯তম মিনিটে জুনিয়া ইতোর গোলে জয়ের পথ আরও সুগম করে নেয় জাপান। তবে তিউনিসিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন আয়াসে উয়েদা। ৮৩তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করে তিউনিসিয়ার রক্ষণকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেন তিনি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাজারতম ম্যাচ হিসেবে এই লড়াইটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছিল। সেই বিশেষ ক্ষণে জাপানি ফুটবলারদের এমন দৃষ্টিনন্দন ও দাপুটে ফুটবল পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। শেষ পর্যন্ত একতরফা লড়াইয়ে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান।


আইভরি কোস্টকে হারিয়ে টানা দুই জয়ে নকআউটে জার্মানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ম্যাচের প্রথমার্ধে আইভরি কোস্টের দাপটেই যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। শুরুর ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই পিছিয়ে পড়ে ইউরোপের দলটি। তবে ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই আবারও প্রমাণ করল জার্মানরা। বিরতির পর বদলে যাওয়া এক জার্মানি দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ডেনিজ উন্দাভের জোড়া গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় পর্ব।

এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট। ফলে টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সমানতালে লড়াই করলেও প্রথমার্ধে আক্রমণে বেশি ধার দেখায় আইভরি কোস্ট। ৩০তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে জার্মান রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বাম প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণে ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিখুঁত শটে জাল কাঁপান ফ্রাঙ্ক কেসি। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট।

অবশ্য গোল হজমের আগে ও পরে দুবার বল জালে জড়িয়েও হতাশ হতে হয় জার্মানিকে। ২১তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোল করলেও ফাউলের অভিযোগে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় সেটি বাতিল করা হয়। বিরতির ঠিক আগে লেরয় সানের নিচু ক্রস থেকে কাই হাভার্টজ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলও টেকেনি। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আইভরি কোস্ট।

দ্বিতীয়ার্ধে পুরো চিত্রটাই বদলে দেন জার্মান কোচ নাগেলসমান। ৬১তম মিনিটে একসঙ্গে তিন বদলি নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনেন তিনি, আর সেখান থেকেই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় জার্মানি। ৬৮তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে নাদিয়েম আমিরির বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে দারুণ ভলিতে সমতায় ফেরান বদলি হিসেবে নামা ডেনিজ উন্দাভ।

সমতায় ফেরার পর জার্মানদের চাপ আরও বাড়তে থাকে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের রক্ষণে দেখা দেয় অস্থিরতা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের বড় ভুলের সুযোগ নেন উন্দাভ। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই পূর্ণতা পায় জার্মানির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপের দলটি।

জয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচে জার্মানি দেখিয়েছে তাদের মানসিক দৃঢ়তাও। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া, দুই গোল বাতিল হওয়া, প্রতিপক্ষের চাপ সামলানো, সবকিছুর পরও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের ছন্দে ফিরে এসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া নাগেলসমানের দলের সামর্থ্যেরই প্রমাণ। আর সেই শক্তিতেই বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয় পর্বের টিকিট কেটে ফেলল জার্মানরা।


১০ জনের লড়াকু প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে তুরস্কের বিদায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার মরণপণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক। প্রথম ম্যাচে উভয় দলই পরাজয়ের স্বাদ পাওয়ায় এই ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। মাঠের সেই উত্তেজনাকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১০ জনের দল নিয়ে ১-০ গোলের নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে, এই হারের ফলে আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল তুরস্কের।

ম্যাচের শুরুতেই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে এক অভাবনীয় মুহূর্ত। খেলার মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দর্শনীয় শটে তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরকান চেকিরকে পরাস্ত করে গোল উৎসবের সূচনা করেন প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালার্জা। এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের এক নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র ঘণ্টা চারেক আগে ইসমাইল সাইবারির গড়া রেকর্ডটি একদিনও স্থায়ী হতে দেননি গালার্জা। পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া তুরস্কের একটি প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে আক্ষেপে পোড়ে তুর্কি সমর্থকরা। মের্ত মুলদুরের নেওয়া সেই হেডটি প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু ভাগ্য এদিন তুরস্কের সহায় ছিল না।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে এবং প্যারাগুয়ের কোচিং স্টাফের একজনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে সবচেয়ে বড় নাটকীয়তার সৃষ্টি হয় প্যারাগুয়ের স্ট্রাইকার পিত্তাকে ফাউল করার পর। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। সেই জটলার মধ্যেই মুখ ঢেকে তুরস্কের এক খেলোয়াড়কে কিছু মন্তব্য করেন প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন। ভিএআর (VAR) পরীক্ষা শেষে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। মুখ ঢেকে কথা বলার বিপরীতে ফিফার প্রবর্তিত নতুন কঠোর নিয়মে এটিই বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ডের ঘটনা। বিরতির বাঁশি বাজার পরেও দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে দেখা যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে এক জন কম নিয়েও প্যারাগুয়ে তাদের রক্ষণ ও আক্রমণ ধরে রাখার চেষ্টা করে। এনসিসো ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও ম্যাচের শেষ বাঁশি পর্যন্ত লিড ধরে রাখে দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটি। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মেরিহ দেমিরালের একটি হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সমতায় ফেরার শেষ আশাটুকুও মিলিয়ে যায় তুরস্কের। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হতাশ দেমিরাল। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে, আর বিদায়ের বিষাদ নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয় তুরস্ককে।


banner close