বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৪-১ ব্যবধানে সিরিজ বাংলাদেশের

এখনো উন্নতির সুযোগ দেখছেন শান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৩ মে, ২০২৪ ১৬:১০

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নড়বড়ে অবস্থা যেন শেষই হচ্ছে না। দিন পাল্টায়, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরনও পাল্টায়; কিন্তু উন্নতির কিছু দেখা মেলে না। কোনো দিন টপঅর্ডার ব্যর্থ হয়, আবার কোনো দিন শেষ মিডলঅর্ডার থেকে লোয়ারঅর্ডার। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০১ রানের ওপেনিং জুটির পর মাত্র ৪৩ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে ১০ উইকেট। গতকাল আবার দেখা গেল উল্টো চিত্র; ব্যর্থ হলো টপঅর্ডার। মিডলঅর্ডার চেষ্টা করলেও সেটা ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না।

গতকাল সিরিজের শেষ ম্যাচে সিকান্দার রাজা-বেনেটের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হার দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর এতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের চতুর্থ হোয়াইট ওয়াশের কীর্তি আর গড়া হলো না। এ দিন বাংলাদেশকে আফসোস করিয়েছে তাসকিন আহমেদের ইনজুরিও। বোলিংয়ে কিছুটা খাপছাড়াই লেগেছে টাইগারদের।

শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে টপঅর্ডারের ব্যর্থতা আর মিডলঅর্ডারেরর লড়াইয়ে ১৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪৪ বলে ৫৪)। জবাবে সিকান্দার রাজা আর ব্রায়ান বেনেটর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। হাফ সেঞ্চুরি করেন ব্রায়ান বেনেট (৭০) আর সিকান্দার রাজা (৭২)*।

৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বেশ ভুগতে দেখা গেছে বাংলাদেশকে। অধিনায়ক নাজমুল শান্ত তাই এখনো উন্নতির সুযোগ দেখছেন, ‘যেভাবে সিরিজ খেলেছি, তাতে (মনে হয়েছে) অনেক উন্নতির সুযোগ আছে। আমরা ভালো শুরু করিনি। তবে মাঝে ভালো করেছি। বিশ্বকাপে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নেব। প্রস্তুতির জন্য এখনো তিন ম্যাচ বাকি আছে।’

বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজ ছিল প্রস্তুতির মঞ্চ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক জানালেন, সেটা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন, ‘খুব ভালো একটা সিরিজ কেটেছে। সিরিজ জিতলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আমরা এই সিরিজে যা যা দেখতে চেয়েছি, সেটার প্রায় সবই দেখতে পেরেছি। কিছু ক্লোজ ম্যাচ জিতেছি। আজ (গতকাল) মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে। রিশাদ পুরো সিরিজে ভালো বোলিং করেছে। যা যা চেয়েছি, প্রায় সব হয়েছে।’

তবে পুরো সিরিজেই বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ ছিল ব্যাটিং। দু-একজন ছাড়া সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি তারা। সে জন্য অবশ্য অধিনায়ক শান্ত দুষলেন উইকেটকে, ‘এই সিরিজে উইকেট ভালো ছিল না। সাধারণত চট্টগ্রামে খুব ভালো উইকেট থাকে। এবার নতুন বল অনেক কঠিন ছিল সেই কন্ডিশনে। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে আমাদের দুটি ম্যাচে অন অ্যান্ড অফ ব্যাটিং করতে হয়েছে।’


বিশ্বকাপে নামার আগে পেনাল্টিতে লক্ষ্যভেদ মেসির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আইসল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আমেরিকার আলাবামায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচজুড়ে চেনা ছন্দে থাকা আলবিসেলেস্তেরা আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং ড্রিবলিংয়ের শৈল্পিক প্রদর্শনীতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। যদিও বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তারা হাতছাড়া করেছে, তবুও মাঠের আধিপত্য বজায় রেখে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তিনবারের বিশ্বজয়ীরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আইসল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফলশ্রুতিতে ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটেই লিড পায় তারা। তরুণ উদীয়মান তারকা ভ্যালেন্টিন বারকোর এক দর্শনীয় গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমার্ধের বাকি সময় আইসল্যান্ডের রক্ষণভাগ আর্জেন্টিনা ফরোয়ার্ডদের রুখে দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্কালোনির দল একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

খেলার ৭০তম মিনিটে এক তরুণ তুর্কি বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে দেন। তাঁর বাড়ানো চমৎকার এক পাস ধরে আইসল্যান্ডের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন লাওতারো মার্টিনেজ। তাঁকে অবৈধভাবে বাধা দিলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। অধিনায়ক লিওনেল মেসি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে লাওতারো মার্টিনেজ নিজে গোল করে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়টি বিশ্বকাপের মূল আসরে নামার আগে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল লিওনেল মেসির করা শেষ গোল। এই পেনাল্টি গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের মূল আসরে এক অনন্য ইতিহাস গড়ার আগাম সংকেত দিয়ে রাখলেন। কাতার বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে চারটি গোল করে তিনি ইতোমধ্যেই এই তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে আর একটি মাত্র পেনাল্টি গোল করতে পারলেই মেসি ফুটবল ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে এককভাবে চূড়ায় বসবেন। ব্যক্তিগত এই মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি দলকে আরও একটি বিশ্বকাপ জেতানোই এখন এই ফুটবল জাদুকরের প্রধান লক্ষ্য।

আলাবামার এই দাপুটে পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে আর্জেন্টিনা দল বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে দারুণ অবস্থানে রয়েছে। স্কালোনির রণকৌশল এবং তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মেলবন্ধন দলটিকে আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন কেবল বিশ্বমঞ্চে বল মাঠে গড়ার অপেক্ষা। সমর্থকরা আশা করছেন, প্রস্তুতির এই তুঙ্গস্পর্শী ফর্ম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের মূল পর্বেও ধরে রাখতে পারবে এবং ভক্তদের আরও একটি স্মরণীয় টুর্নামেন্ট উপহার দেবে।


কার্ডিফ থেকে মিরপুর: আশরাফুলের ২১ বছরের অমর কাব্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে জয় মানেই এক মহাকাব্যিক মুহূর্ত। দীর্ঘ ২১ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত মঙ্গলবার মিরপুরে অজিদের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ের অন্যতম এক বিশেষ দিক হলো মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৫ সালে কার্ডিফে যখন বাংলাদেশ প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, তখন মাঠে ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করে জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। আর এবার ২১ বছর পর যখন বাংলাদেশ আবারও অজিদের হারাল, তখন ডাগআউটে তিনি জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দেশের দুটি ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী হতে পারা আশরাফুলের ক্যারিয়ারে এক বিরল ও গর্বের পালক যোগ করেছে।

মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ আগে ব্যাট করতে নেমে ২৮৪ রানের এক চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। দীর্ঘ চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৮৬ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলে দলের ভিত মজবুত করেন। জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেকদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান করার পর বৃষ্টি নামলে আর খেলা সম্ভব হয়নি। ফলে ডিএল মেথড বা বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয়ী হয় বাংলাদেশ। এই দাপুটে পারফরম্যান্স টাইগারদের জন্য এক নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।

অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করলে দেখা যায়, ২০০৫ সালের ১৮ জুন কার্ডিফে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল। সেদিন প্রতিপক্ষের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আশরাফুলের অনবদ্য ১০০ রান এবং অধিনায়ক বাশারের ৪৭ রানের ওপর ভর করে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। শেষ দিকে আফতাব আহমেদের ঝড়ো ক্যামিও ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেছিল। সেদিনের সেই রূপকথার নায়ক আজ ডাগআউটে থেকে তাঁর উত্তরসূরিদের পরামর্শ দিচ্ছেন, যা বর্তমান দলের ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় মানসিক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।

এই বিরল অভিজ্ঞতার পর নিজের আবেগ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তিনি তাঁর খেলোয়াড় জীবনের সেই সোনালী স্মৃতি এবং বর্তমানের কোচ হিসেবে প্রাপ্তিকে জীবনের এক চমৎকার পরিক্রমা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ভূমিকা ভিন্ন হলেও দেশের জন্য গর্বের অনুভূতিটি ঠিক আগের মতোই অমলিন আছে। বর্তমান দলের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ও লড়াই করার মানসিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। এই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের পথচলার আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় বলে তিনি মনে করেন।

এই ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন ক্রিকেট প্রেমীদের স্বপ্ন আরও বড় হয়ে উঠেছে। ব্যাটিং কোচ হিসেবে আশরাফুল এখন তাঁর শিষ্যদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জেতার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন বাকি ম্যাচগুলোতেও ক্রিকেটাররা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন। ২০০৫ সালে কার্ডিফে শুরু হওয়া সেই বিজয়ের রেশ ২১ বছর পর মিরপুরে নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। কোচ এবং সাবেক এই মহাতারকার নির্দেশনায় বাংলাদেশ দল এখন অজিদের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ জয়ের এক অনন্য ইতিহাসের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।


টাইগার ডেরায় ফুটবল উন্মাদনা: কে কোন দলের সমর্থক?

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ জুন, ২০২৬ ১৭:২৮
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনার পারদ এখন তুঙ্গে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্দা উঠছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপের। বাংলাদেশে ফুটবল মানেই এক অদ্ভুত আবেগ, আর এই আবহের বাইরে নন দেশের শীর্ষ ক্রিকেট তারকারাও। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল দল এই বিশ্বমঞ্চে নেই, তবুও পছন্দের দলের সমর্থনে টাইগারদের ডেরায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটারদের মধ্যে এখন চলছে নানা তর্ক আর রসিকতাপূর্ণ স্লেজিং।

ব্রাজিল সমর্থকদের শিবিরে রয়েছেন দেশের প্রভাবশালী অনেক ক্রিকেটার। বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এবং ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সরাসরি হলুদ জার্সিধারীদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তাঁদের সঙ্গী হিসেবে এই শিবিরে আরও আছেন গতি তারকা তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। এছাড়া তরুণ তুর্কি তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, এনামুল হক বিজয়, সাব্বির রহমান এবং সাইফ হাসানও সেলেসাওদের নান্দনিক ফুটবলে মুগ্ধ। এমনকি জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও ব্রাজিল ভক্তদের কাতারেই রয়েছেন।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার আকাশী-নীল সমর্থকদের তালিকাটিও বেশ ভারী এবং প্রভাবশালী। সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিম—দেশের ক্রিকেটের এই ‘পঞ্চপাণ্ডব’ই মূলত মেসির আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত। তাঁদের দেখানো পথেই নীল-সাদা শিবিরকে সমর্থন দিচ্ছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস এবং টেস্ট কাপ্তান নাজমুল হোসেন শান্ত। এই বিশাল সমর্থক গোষ্ঠীতে আরও রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুমিনুল হক, নুরুল হাসান সোহান এবং সাবেক তারকা আব্দুর রাজ্জাক ও শাহরিয়ার নাফিস।

গতানুগতিক এই দুই দলের বাইরেও পছন্দের তালিকায় রয়েছে কিছু ভিন্ন নাম। মূলত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতি ভালোবাসার টানে পর্তুগালকে সমর্থন করছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। তরুণ পেসার নাহিদ রানাও রোনালদোর একনিষ্ঠ ভক্ত। যদিও রানা সুনির্দিষ্ট কোনো দলের কট্টর সমর্থক নন, তবে মাঠে রোনালদোর নৈপুণ্য দেখাটাই তাঁর কাছে বড় পাওয়া। এমন ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থনে বিভক্ত হয়ে পড়ায় মিরপুরের ইনডোর থেকে শুরু করে জিমনেসিয়ামের প্রতিটি কোণ এখন ফুটবল আলোচনায় মুখর।

জাতীয় দলের অনুশীলনের ফাঁকে এখন ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলের কৌশল এবং দলের শক্তিমত্তা নিয়ে তর্কেই বেশি সময় কাটছে ক্রিকেটারদের। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই কথার লড়াই ড্রেসিংরুমের পরিবেশকে বেশ চাঙা করে তুলেছে। কে হাসবে শেষ হাসি, কার হাতে উঠবে সোনালী ট্রফি—সেই উত্তর পেতে হয়তো আরও কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপাতত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রিয় দলের জার্সি গায়ে তর্কে জড়ানো আর স্লেজিংয়ের আমেজেই বুঁদ হয়ে আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকারা।


৩২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ: আমূল বদলে যাওয়া এক ফুটবল মহাযজ্ঞ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১০ জুন, ২০২৬ ১৬:৩২
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ৩২ বছর পর ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ পুনরায় ফিরছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এর আগে ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এটি আয়োজন করলেও এবার তাদের সঙ্গী হয়েছে কানাডা ও মেক্সিকো। তবে কেবল আয়োজক দেশই নয়, গত তিন দশকে টুর্নামেন্টের আকার ও ধরনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ১৯৯৪ সালের আসরটি মাত্র ২৪টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হলেও এবার প্রথমবারের মতো রেকর্ড ৪৮টি দেশ এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে যাচ্ছে। ফলে ম্যাচের সংখ্যা ৫২ থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এবং অত্যন্ত বিস্তৃত এক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৩২ বছরের এই ব্যবধানে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য ও তীব্রতা উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক দিক এবং টিকিটের দামে। ১৯৯৪ সালে প্রথম রাউন্ডের টিকিটের দাম ছিল মাত্র ২৫ থেকে ৭৫ ডলার এবং ফাইনালের সর্বোচ্চ টিকিটের মূল্য ছিল ৪৭৫ ডলার। অথচ ২০২৬ সালে এসে সেই চিত্র আকাশচুম্বী হয়েছে; প্রথম রাউন্ডের টিকিট মূল্য শুরু হয়েছে ১৪০ ডলার থেকে যা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৩৫ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়েছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ টিকিটের দাম বর্তমানে ১০ হাজার ৯৯০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি চালু হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে, যা আগে কখনোই দেখা যায়নি। টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মাঝে তীব্র সমালোচনা থাকলেও চাহিদার কোনো কমতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

মাঠের লড়াই এবং নিয়মের ক্ষেত্রেও ৩২ বছরের ব্যবধানে বৈপ্লবিক আধুনিকায়ন হয়েছে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে মাত্র দুইজন বদলি খেলোয়াড় ব্যবহারের অনুমতি ছিল, যা বর্তমানে বাড়িয়ে পাঁচজন করা হয়েছে। এমনকি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ষষ্ঠ বদলি এবং মাথায় আঘাত পাওয়া খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ‘কনকাশন সাব’ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে পানি পানের বিরতিতে। ১৯৯৪ সালে তীব্র গরমের মধ্যে বিরতি ছাড়াই খেলা চললেও এবার প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের জন্য ‘কুলিং ব্রেক’ রাখা হয়েছে। জার্সি ব্যবস্থাপনায় ১৯৯৪ আসর থেকেই প্রথম খেলোয়াড়দের নাম লেখার প্রথা চালু হয়েছিল, যা বর্তমানে ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

আয়োজনের ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত বিস্তৃতি এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার ও বিলাসবহুল। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি ভেন্যুতে খেলা হলেও এবার তিন দেশ মিলিয়ে মোট ১৬টি স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ১১টি। মজার বিষয় হলো, ১৯৯৪ সালের আসরে থাকা ভেন্যুগুলোর কোনোটিই এবার মূল তালিকায় নেই। এবার ব্যবহৃত ১১টি মার্কিন ভেন্যুই মূলত ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম, যেখানে দর্শকদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত বিলাসবহুল স্যুট ও প্রিমিয়াম আসনের সুবিধা। মাঠের আয়তনও এবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যা আগে কিছুটা নমনীয় ছিল। এছাড়া দর্শক উপস্থিতির ক্ষেত্রেও এবার ৬০ থেকে ৭০ লাখের এক নতুন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছে ফিফা।

টুর্নামেন্ট পরিচালনার ধরনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। ১৯৯৪ সালে স্থানীয় আয়োজক কমিটির অধীনে বিশ্বকাপ পরিচালিত হলেও এবার সরাসরি ফিফা কেন্দ্রীয়ভাবে সব নিয়ন্ত্রণ করছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবারের আয়োজনকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। স্থানীয় আয়োজক কমিটির পরিবর্তে ফিফার এমন সরাসরি তদারকি প্রমাণ করে যে ফুটবল এখন কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি বিশাল এক বৈশ্বিক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক শক্তি। ৩২ বছরের ব্যবধানে একটি টুর্নামেন্ট কীভাবে নিজের পরিধি এবং প্রভাব বিস্তার করেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে তারই এক জাজ্বল্যমান ইতিহাস।


সেরে উঠছেন নেইমার, বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্বস্তিতে ব্রাজিল শিবির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক দুইদিন আগে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল শিবিরে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। পায়ের পেশির চোট কাটিয়ে দ্রুত সেরে উঠছেন সেলেসাওদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) সোমবার (৮ জুন) রাতে নিশ্চিত করেছে, নেইমারের চোটের জায়গায় ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।

গত মাসের শেষদিকে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট পান ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গ্রেড-২ মাসল টিয়ার বা মাংসপেশি ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়লে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান তিনি।

চোটের কারণে পানামা ও মিশরের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। তবে তাকে ছাড়াই ম্যাচ দু’টিতে যথাক্রমে ৬-২ ও ২-১ গোলে জয় পায় ব্রাজিল।

নেইমারের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সোমবার পুনরায় স্ক্যান করা হলে মেডিকেল টিম বেশ আশাবাদী রিপোর্ট হাতে পায়। সিবিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন পরীক্ষায় নেইমারের চিকিৎসার ভালো অগ্রগতি দেখা গেছে, যা তাদের প্রত্যাশার ভেতরেই আছে।

মেডিকেল স্টাফদের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি পুনর্বাসন এবং শারীরিক ফিটনেস ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে এসিএল চোটে পড়ার পর থেকে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ও পিএসজির এই সাবেক তারকা।

তবে নতুন এই রিপোর্টের পর ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দ্রুতই অনুশীলনে ফিরবেন এবং প্রথম ম্যাচের স্কোয়াডেই অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আগামী ১৩ই জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে ব্রাজিল।

‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার যদি মাঠে নামেন, তবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ আসরের পর এটি হবে তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ।


৬৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বয়সটা ৩৯ ছুঁইছুঁই হলেও ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে কোনো ভাটা পড়েনি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে চলেছেন এই মহাতারকা। এবার তিনি আলবিসেলেস্তেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রায় সাত দশকের পুরনো একটি রেকর্ড ভেঙে নিজের করে নিয়েছেন। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার অনন্য রেকর্ডটি এখন তার দখলে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের হয়ে স্পট কিক থেকে দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমেই ঐতিহাসিক এই রেকর্ডের পাতায় নাম লেখান মেসি।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৯৯তম ম্যাচ খেলতে এদিন অবশ্য শুরুর একাদশে ছিলেন না তিনি। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যখন তিনি মাঠে নামেন, গ্যালারিতে তখন করতালির রোল পড়ে যায়। মাঠে নামার ঠিক ৫৩ সেকেন্ডের মাথায় নিজের চেনা ফুটবল শৈলী দেখান এলএমটেন।

তার বাড়িয়ে দেওয়া এক চমৎকার থ্রু বল ধরে বক্সে শট নিতে গিয়েছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার তাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান মেসি, যা দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেয়।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে করা এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার আকাশী-নীল জার্সিতে মেসির ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল। আর এই গোলের মুহূর্তেই তিনি ভেঙে দেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার অ্যাঞ্জেল লাব্রুনার রেকর্ড। এর আগে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডটি ছিল লাব্রুনার দখলে।

১৯৫৭ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে যখন তিনি গোল করেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন। দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা সেই ঐতিহাসিক রেকর্ডটি ভেঙে আজ নতুন ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি।


বাড়ি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা পেলেন ঋতুপর্ণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তারকা ঋতুপর্ণা চাকমাকে বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঋতুপর্ণার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

দীর্ঘদিন ধরেই ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। দুইবারের সাফজয়ী এই ফুটবলারের জন্য বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগের কথা আগেও বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। তবে জমি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছিল। এবার জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক অনুদান পাওয়ায় তার অপেক্ষা শেষ হওয়ার পথ তৈরি হলো।

ঋতুপর্ণা চাকমা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে এসে জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দেশের ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি।

এর আগেও ঋতুপর্ণা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল বিএনপি। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে তখনকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধিদল রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মগাছড়িতে ঋতুপর্ণার বাড়িতে যায়। সে সময় পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যে পার্বত্য অঞ্চলের ফুটবলারদের অবদান বিশেষভাবে আলোচিত। ঋতুপর্ণা সেই ধারার অন্যতম প্রতিনিধি। মাঠে দেশের জন্য অবদান রাখা এই ফুটবলারের পারিবারিক বাস্তবতা ও বাড়ি নির্মাণের দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়েও আগেই আলোচনা হয়েছে।


অবশেষে ২১ বছর পর ‘ক্যাঙ্গারু বধ’ টাইগারদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে হরাল বাংলাদেশ। এ যেন টাইগারদের ‘ক্যাঙ্গারু-বধ’। ২১ বছর পর এ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট, টি-টোয়েন্টিতে জিতলেও ওয়ানডেতে জয় পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে মিরপুরে মঙ্গলবার দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা শেষে নিজের মাঠে জয় পেল বাংলাদেশ।

তুলনামূলক খর্বশক্তির অজিদের বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পরশু মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। ১৪ জুন হবে তৃতীয় ওয়ানডে।

২৮৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। দারুণ এক ডেলিভারিতে অজি ওপেনার ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পর আঘাত হানলেন মোস্তাফিজুর রহমানও। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে মারনাস লাবুশেনের বিপক্ষে এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন মোস্তাফিজ করলেও আম্পায়ার সাড়া দেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ রিভিউ নিয়ে লাবুশেনকে (১) আউট করেছেন।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য ৬ রানেই হারাতে পারত তৃতীয় উইকেট। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে মোস্তাফিজকে কাট করতে যান কনোলি। এজ হওয়া বল প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ হাসান তামিমের হাত ফসকে চলে যায় বাউন্ডারিতে। কনোলির রান তখন কেবল ১।

তৃতীয় উইকেটে ৫৩ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন ইংলিস-কুপার কনোলি। অজিদের ইনিংসের পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ইংলিসকে ফেরান রানা। ১১তম ওভারের প্রথম বলে রানার ঘণ্টায় ১৪৭.৯ কিলোমিটার গতির ডেলিভারি কাট করতে যান অজি অধিনায়ক জশ ইংলিস। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় লিটনের হাতে। ইংলিসের সঙ্গে রানার ঝগড়া লাগার মতো যখন অবস্থা, তখন অধিনায়ক মিরাজসহ আরও অনেকেই এগিয়ে আসেন। ফলে ঝগড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

ইংলিসের বিদায়ের পর আরও একটি বড় জুটি গড়তে অবদান রাখেন কনোলি। চতুর্থ উইকেটে ৫৫ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি-কনোলি। ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে কনোলিকে (৩৫) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

কনোলি ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর হয়ে যায় ১৯.২ ওভারে ৪ উইকেটে ৯১ রান। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অজিরা চোখে শর্ষেফুল দেখতে থাকে। বিশেষ করে রানার গতি ও বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে অ্যালেক্স ক্যারি (৪৭), লিয়াম স্কট (২) ও হ্যাভিয়ের বার্টলেট (১) ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। রানার উইকেটের ফাঁকে উইকেটের দেখা পেয়েছেন মোস্তাফিজ-সৈকতও। রেনশকে (২) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন সৈকত। নাথান এলিসকে (৮) ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ। ক্যাচ ধরেন সৈকত।

১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পা-ক্যামেরন গ্রিন খেলতে থাকেন হারের ব্যবধান কমাতে। দুজনে ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটি গড়ার পর বজ্রপাতের কারণে ম্যাচ বন্ধ রাখা হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে আম্পায়াররা ম্যাচ বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর কিছুক্ষণ পর নামে বৃষ্টি।

এর আগে মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিার অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি একই সঙ্গে দলটির উইকেটরক্ষকও। আগে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে করে ২৮৪ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এটা তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসও। ৭০ বলের ইনিংসে ৭ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন।

ফিফটি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তও। তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৪ রান। শান্ত করেছেন ৬৭ রান। অজি পেসার নাথান এলিস ১০ ওভারে ৩৮ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এক ওভার মেডেন দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের স্কোর ২৮৪ রান হওয়ার পেছনে অস্ট্রেলিয়ার পিচ্ছিল হাতেরও অবদান রয়েছে। ২৪ রানেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেট পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এলিসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হাতছাড়া করেন লাবুশেন। ৯ রানে বেঁচে যাওয়া শান্ত আউট হয়েছেন ৬৭ রানে।


অলরাউন্ড নৈপুণ্যে প্রত্যাবর্তন রাঙালেন মোসাদ্দেক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ১৪০৪ দিন পর জাতীয় দলের ওয়ানডে একাদশে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্য এই ম্যাচটি ছিল নিজেকে নতুন করে চেনার এবং দলে নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণের এক বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় তিনি কেবল উত্তীর্ণই হননি, বরং দীর্ঘ চার বছরের বিরতির কোনো ছাপও নিজের খেলায় পড়তে দেননি।

ব্যাট হাতে যখন বাংলাদেশ দল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল, তখন অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে দলের হাল ধরেন মোসাদ্দেক। শুরুতে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর ইনিংসের শেষ দিকে আগ্রাসী রূপ ধারণ করে তিনি ৮৬ রানের একটি অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি বাংলাদেশকে একটি লড়াকু পুঁজিতে পৌঁছে দিতে প্রধান ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে স্লগ ওভারে লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে তিনি যেভাবে ইনিংসটি টেনে নিয়েছেন, তা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও সমান কার্যকর ছিলেন এই অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার। নিজের নির্ধারিত ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচ করে তিনি শিকার করেন ২ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে রান আটকে রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দিয়ে তিনি দলের ভারসাম্য বজায় রাখেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর বুদ্ধিদীপ্ত ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে মোসাদ্দেক প্রমাণ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকলেও তাঁর ধার কমেনি।

উল্লেখ্য, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো খেলেও জাতীয় দলে ব্রাত্য ছিলেন মোসাদ্দেক। তাঁর দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নির্বাচক মহলে বেশ কিছু বিতর্ক ছিল। সাবেক নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপুর একটি মন্তব্য ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যেখানে মোসাদ্দেককে অন্য অলরাউন্ডারদের ছায়া হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে হতাশা ও আক্ষেপকে দূরে সরিয়ে ডিপিএল ও বিসিএলে টানা পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের নজরে ফেরেন তিনি। আজকের এই অলরাউন্ড নৈপুণ্য মূলত তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর ধৈর্যরই সার্থক প্রতিফলন।

২০২২ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন মোসাদ্দেক। চার বছরের ব্যবধানে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তিনি যখন পুনরায় লাল-সবুজ জার্সিতে নামলেন, তখন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিলেন। দলের একজন সিনিয়র সদস্য হিসেবে কঠিন মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তাঁকে পুনরায় বাংলাদেশের অপরিহার্য সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। তাঁর এই সফল প্রত্যাবর্তন আসন্ন সিরিজগুলোতে বাংলাদেশ দলের রণকৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।


২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের বিচিত্র প্রস্তুতি

ছবি: এআই নির্মিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ২৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের হাত ধরে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতে নরওয়ে দল ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এক বিচিত্র কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারা। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি মাথায় রেখে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের সাথে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী উড়িয়ে নিয়ে এসেছে।

আমেরিকার স্থানীয় খাবারের ওপর শতভাগ ভরসা না করে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাবারের ওপরই আস্থা রাখছে নরওয়েজিয়ানরা। তাদের এই অদ্ভুত রসদের তালিকায় রয়েছে ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ। মূলত মেগা টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদেশের মাটিতেও পরিচিত স্বাদের খাবার বজায় রাখাই এই বিশাল আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। ফুটবলারদের ডায়েট চার্টকে নিখুঁত রাখতে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এই নজিরবিহীন ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

খেলোয়াড়দের জন্য মানসম্মত খাবার তৈরির লক্ষ্যে দলের সাথে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন নরওয়ের দুই প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পী অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন এর আগে ২০২০ সালের অলিম্পিকেও নরওয়ে দলের খাবারের দায়িত্বে ছিলেন। এই দুই অভিজ্ঞ শেফ দলের দীর্ঘদিনের প্রধান শেফের সঙ্গে মিলে হাল্যান্ড ও ওডেগার্ডদের শারীরিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা তৈরি করছেন। তাঁরা মনে করেন, সঠিক ডায়েটই পারে মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের ক্লান্তিহীন পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে।

নরওয়ে থেকে সুদূর আমেরিকায় প্রায় আধ টন মাছ ও অন্যান্য খাবার পরিবহন করা ছিল এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড জানান যে, খাঁটি নরওয়েজিয়ান উপাদানের গুণগত মানের ওপর তাদের অবিচল বিশ্বাসের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন যে, খাবারে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণের উৎস, এমনকি কোন কৃষক সেটি চাষ করেছেন কিংবা কোন জেলে মাছটি ধরেছেন—সে সম্পর্কেও তাঁরা নিশ্চিত থাকতে চান। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে দেশের সেরা উপকরণ দিয়ে ফুটবলারদের সেবা করতে পারাটা তাঁদের কাছে এক বড় প্রাপ্তি।

নরওয়ের এমন নিখুঁত ও পেশাদার প্রস্তুতি ফুটবল মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ডায়েটের প্রতি এই গভীর মনোযোগ খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে। আর্লিং হাল্যান্ডের মতো গোলমেশিন এবং ওডেগার্ডের মতো মাঝমাঠের কারিগরদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নিতেই এই সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে নরওয়ে কেবল তাদের ফুটবল দিয়েই নয়, বরং তাদের জীবনযাত্রা ও উন্নত ব্যবস্থাপনা দিয়েও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে প্রস্তুত।


হেক্সা মিশনের আগে আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের হেক্সা মিশন বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে বর্তমানে নিউ জার্সির বেস ক্যাম্পে অবস্থান করছে ব্রাজিল দল। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস তাঁর দলের প্রতি ফুটবল বিশ্বের 'প্রাপ্য সম্মান' দাবি করেছেন। ২০০২ সালের পর দীর্ঘ সময় শিরোপা খরা থাকলেও তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অন্য কোনো দলের জার্সিতে পাঁচটি তারকা নেই। গিমারায়েসের মতে, বর্তমান ব্রাজিল দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনহার মতো বিশ্বসেরা প্রতিভারা রয়েছেন যারা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, তাই মাঠের লড়াই শুরুর আগে তাঁদের ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে থাকা সেলেসাওরা অত্যন্ত দাপটের সাথে তাদের প্রস্তুতি পর্ব শেষ করেছে। রিও ডি জেনিরোতে পানামাকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করার পর ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে মিসরের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় দলটির আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রেখেছে। মিসরের বিপক্ষে জয়সূচক প্রথম গোলটি করা গিমারায়েস জানান, দুটি প্রীতি ম্যাচেই জয় পাওয়া এবং দলের ছন্দ বজায় রাখা তাঁদের প্রস্তুতির ইতিবাচক দিক। যদিও বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে পঞ্চম স্থানে শেষ করায় অনেক সমালোচনা হয়েছিল, তবে মূল আসরে একটি জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে সব সমালোচনার জবাব দিতে মুখিয়ে আছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও আলোচিত তারকা নেইমারকে নিয়ে এখনো এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে খেলছেন এবং ২০২৩ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেননি। কোচ আনচেলত্তি ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করলেও নেইমার বর্তমানে পায়ের পেশীর সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকবেন, যার ফলে গ্রুপ পর্বের প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে তাঁর খেলা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। নেইমারের এই ইনজুরি ব্রাজিল ভক্তদের মনে কিছুটা চিন্তার উদ্রেক করলেও দলের অন্যান্য সদস্যরা তা পুষিয়ে নিতে প্রস্তুত।

ইনজুরির কারণে ব্রাজিল ইতোমধ্যে তাদের মূল স্কোয়াডে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। ইতালিয়ান ক্লাব রোমার হয়ে খেলা ফুলব্যাক ওয়েসলি উরুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে ২৬ বছর বয়সী আটালান্টা মিডফিল্ডার এডারসনকে, যিনি বিশ্বকাপের পরপরই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। গ্রুপ 'সি'-তে থাকা ব্রাজিল আগামী শনিবার নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের মূল অভিযান শুরু করবে। এই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

ব্রুনো গিমারায়েসের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে দলের সামগ্রিক সংহতি ও লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ়তা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বকাপে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। ওয়েসলির বিদায়ে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি নতুন সদস্যদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই এখন তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে মাঠে নেমে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরায় প্রমাণ করাই এখন সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য। আনচেলত্তির রণকৌশল এবং তরুণ তুর্কিদের গতিশীল ফুটবল এবার ব্রাজিলকে হেক্সা জয়ের পথে কতটুকু নিয়ে যায়, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের দেখার বিষয়।


লর্ডস টেস্ট জয়ের পরই নাইটক্লাব বিতর্কে ইংলিশ অধিনায়ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে নাটকীয় জয়ের পর যখন ইংল্যান্ড শিবিরের ফুরফুরে মেজাজে থাকার কথা, ঠিক তখনই নতুন এক বিতর্কে জড়িয়েছেন দলটির অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন। সোমবার ভোরে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত হওয়ার অভিযোগে এই দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, টিম প্রোটোকল বা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ইসিবি জানিয়েছে যে তারা এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে কাজ করছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাইটক্লাবে অবস্থানকালে লন্ডনের সারাসেন্স একাডেমি রাগবি ইউনিয়নের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্টোকস ও অ্যাটকিনসনের এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কেবল ইসিবি নয়, বরং সংশ্লিষ্ট রাগবি ক্লাব ‘প্রেম রাগবি’-ও তাদের পক্ষ থেকে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে। ঠিক কী কারণে বা কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল তা এখনও জনসমক্ষে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। সারাসেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য নাইটক্লাব বা আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড সফরের সময় ওয়েলিংটনের একটি নাইটক্লাবে মধ্যরাতে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন হ্যারি ব্রুক। সে সময় ব্রুক দাবি করেছিলেন যে তিনি একাই ছিলেন, তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে তাঁর সঙ্গে সতীর্থ জ্যাকব বেথেল ও জশ টাং-ও উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনায় ব্রুককে ৩০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করার পাশাপাশি অন্যদের সতর্ক করেছিল ইসিবি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ চলাকালীন কুইন্সল্যান্ডের নুসা সমুদ্র সৈকতে ক্রিকেটারদের মদ্যপান সংক্রান্ত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ইসিবিকে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিল।

বেন স্টোকসের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও এ ধরনের ঘটনার তিক্ত অতীত রয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিস্টলের একটি নাইটক্লাবের বাইরে মারামারির ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও পরবর্তীতে তিনি আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর পুনরায় এমন বিতর্কে জড়ানো দলের শৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বারবার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গত শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে ক্রিকেটারদের জন্য রাতে বাইরে বের হওয়ার ওপর ‘কারফিউ’ জারি করেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট, যা বর্তমান সিরিজেও কার্যকর ছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য দেখালেও মাঠের বাইরের এই বিতর্ক এখন ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে।


সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে বিষধর সাপের আতঙ্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল আসর শুরুর আগে প্রতিটি দলই যখন নিজেদের কৌশল আর শারীরিক ফিটনেস নিয়ে ব্যস্ত, তখন সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে এক অদ্ভুত ও ভীতিকর পরিস্থিতি। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে অবস্থিত দলটির ট্রেনিং সেন্টারের আশপাশ জুড়ে সাপের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মাঠের বাইরের এই ‘অস্বাভাবিক প্রতিপক্ষ’ এখন সুইসদের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুইজারল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ব্যবহৃত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের একটি মানচিত্র প্রকাশ করার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। ওই মানচিত্রে দেখা যায়, ট্রেনিং ফিল্ড, জিমনেসিয়াম এবং লকার রুমের ঠিক পাশেই একটি বিশাল এলাকা লাল রঙে চিহ্নিত করে ‘সাপের এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়াতে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। গত শুক্রবার দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, ‘সাপ থেকে সাবধান’।

সান ডিয়েগো অঞ্চলটি মূলত বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, এই কাউন্টিতে প্রায় এক ডজন প্রজাতির সাপ বসবাস করে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই এলাকার আনাচে-কানাচে এবং ঝোপঝাড়ে প্রায়ই অত্যন্ত বিষধর ‘র‌্যাটলস্নেক’-এর দেখা পাওয়া যায়। অনুশীলনের সময় বা চলাচলের পথে এমন প্রাণীর উপস্থিতি ফুটবলারদের মানসিক একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুইস ফুটবল দল তাদের গ্রুপ পর্বের সব খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ট্রেনিং সেন্টারেই অবস্থান করবে। সাপের এই ভীতিকর পরিস্থিতির পাশাপাশি তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার তীব্র তাপদাহের সঙ্গেও লড়াই করতে হচ্ছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বিষধর সাপের বিষয়টিই এখন দলের অন্দরে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে কতটা ভালো পারফর্ম করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিশ্বকাপের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড। এরপর গ্রুপ পর্বের পরবর্তী দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে বসনিয়া ও স্বাগতিক কানাডা। ফুটবলাররা মাঠের অনুশীলনে ঘাম ঝরালেও ক্যাম্পের চারপাশের এই প্রাকৃতিক ঝুঁকি তাঁদের স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ যদিও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে, তবুও বিষধর প্রাণীর ভয় পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা খেলোয়াড়দের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।


banner close