বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নড়বড়ে অবস্থা যেন শেষই হচ্ছে না। দিন পাল্টায়, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরনও পাল্টায়; কিন্তু উন্নতির কিছু দেখা মেলে না। কোনো দিন টপঅর্ডার ব্যর্থ হয়, আবার কোনো দিন শেষ মিডলঅর্ডার থেকে লোয়ারঅর্ডার। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০১ রানের ওপেনিং জুটির পর মাত্র ৪৩ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে ১০ উইকেট। গতকাল আবার দেখা গেল উল্টো চিত্র; ব্যর্থ হলো টপঅর্ডার। মিডলঅর্ডার চেষ্টা করলেও সেটা ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না।
গতকাল সিরিজের শেষ ম্যাচে সিকান্দার রাজা-বেনেটের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হার দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আর এতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের চতুর্থ হোয়াইট ওয়াশের কীর্তি আর গড়া হলো না। এ দিন বাংলাদেশকে আফসোস করিয়েছে তাসকিন আহমেদের ইনজুরিও। বোলিংয়ে কিছুটা খাপছাড়াই লেগেছে টাইগারদের।
শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে টপঅর্ডারের ব্যর্থতা আর মিডলঅর্ডারেরর লড়াইয়ে ১৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪৪ বলে ৫৪)। জবাবে সিকান্দার রাজা আর ব্রায়ান বেনেটর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। হাফ সেঞ্চুরি করেন ব্রায়ান বেনেট (৭০) আর সিকান্দার রাজা (৭২)*।
৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বেশ ভুগতে দেখা গেছে বাংলাদেশকে। অধিনায়ক নাজমুল শান্ত তাই এখনো উন্নতির সুযোগ দেখছেন, ‘যেভাবে সিরিজ খেলেছি, তাতে (মনে হয়েছে) অনেক উন্নতির সুযোগ আছে। আমরা ভালো শুরু করিনি। তবে মাঝে ভালো করেছি। বিশ্বকাপে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নেব। প্রস্তুতির জন্য এখনো তিন ম্যাচ বাকি আছে।’
বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজ ছিল প্রস্তুতির মঞ্চ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক জানালেন, সেটা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন, ‘খুব ভালো একটা সিরিজ কেটেছে। সিরিজ জিতলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আমরা এই সিরিজে যা যা দেখতে চেয়েছি, সেটার প্রায় সবই দেখতে পেরেছি। কিছু ক্লোজ ম্যাচ জিতেছি। আজ (গতকাল) মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে। রিশাদ পুরো সিরিজে ভালো বোলিং করেছে। যা যা চেয়েছি, প্রায় সব হয়েছে।’
তবে পুরো সিরিজেই বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ ছিল ব্যাটিং। দু-একজন ছাড়া সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি তারা। সে জন্য অবশ্য অধিনায়ক শান্ত দুষলেন উইকেটকে, ‘এই সিরিজে উইকেট ভালো ছিল না। সাধারণত চট্টগ্রামে খুব ভালো উইকেট থাকে। এবার নতুন বল অনেক কঠিন ছিল সেই কন্ডিশনে। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে আমাদের দুটি ম্যাচে অন অ্যান্ড অফ ব্যাটিং করতে হয়েছে।’
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ঐতিহাসিক জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারী পাকিস্তান তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান সংগ্রহ করেছে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশকে জয় এবং পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে আর মাত্র ৩টি উইকেট তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে, জয়ের জন্য পাকিস্তানের এখনো প্রয়োজন ১২১ রান, যা তাঁদের বর্তমান ব্যাটিং অর্ডারের শেষ দিকের খেলোয়াড়দের জন্য এক পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।
চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে পাকিস্তানের হয়ে লড়াকু প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার উইকেটে থিতু হয়ে ১৩৪ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এই জুটি দীর্ঘক্ষণ অবিচ্ছিন্ন থাকায় এক পর্যায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাত থেকে ফসকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সালমান ও রিজওয়ানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাকিস্তান শিবিরে এক সময় ম্যাচ বাঁচানোর ক্ষীণ আশা তৈরি হলেও দিনের শেষভাগে চিত্রটি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।
টাইগার শিবিরের কাঙ্ক্ষিত সেই ব্রেকথ্রু এনে দেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ৭১ রান করা সালমান আলি আগাকে বোল্ড করে লড়াকু জুটির অবসান ঘটান এই বাঁহাতি স্পিনার। সালমানের বিদায়ের পর পাকিস্তানের বিপদ আরও ঘনীভূত হয় যখন নতুন ব্যাটার হিসেবে নামা হাসান আলিও ক্রিজে টিকতে পারেননি। মাত্র ৬ বল মোকাবিলা করে তাইজুলের করা পরের ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন হাসান। শেষ বিকেলে মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান পুরোপুরি ব্যাকফুটে চলে যায়।
চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮৬ ওভারে ৩১৬ রান। ক্রিজে এখনো এক প্রান্ত আগলে রাখা মোহাম্মদ রিজওয়ান বড় এক বাধা হয়ে থাকলেও যোগ্য সঙ্গীর অভাবে পাকিস্তান চরম চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা শেষ মুহূর্তের জোড়া সাফল্যে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন। আগামীকালের প্রথম সেশনেই দ্রুত বাকি ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করার বিরল রেকর্ড গড়তে চায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দর্শকদেরও এখন গভীর কৌতূহল, শেষ দিনের রোমাঞ্চে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা ইতিহাস গড়তে পারে কি না।
ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ছোট দেশ কুরাসাও ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে। সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই অভিষেক আসরকে সামনে রেখে গত সোমবার কুরাসাও তাদের ২৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। গ্রুপ ‘ই’-তে থাকা কুরাসাওকে লড়তে হবে জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে। প্রথমবার সুযোগ পেলেও একটি লড়াকু দল নিয়ে বিশ্ববাসীকে চমকে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে দেশটি।
কুরাসাওয়ের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় ডাগআউটে দেখা যাবে অভিজ্ঞ ডাচ ট্যাকটিশিয়ান ডিক অ্যাডভোকাটকে। দেশটিকে বিশ্বকাপে তোলার পর গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করলেও সম্প্রতি আবারও কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর ফলে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হওয়ার এক অনন্য রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। অ্যাডভোকাট তাঁর স্কোয়াডে মূলত সেই খেলোয়াড়দেরই অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যাঁরা বাছাইপর্বে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলকে মূল পর্বে নিয়ে এসেছেন। তাঁর অভিজ্ঞ পরিচালনা দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে সঠিক সমন্বয় তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘোষিত স্কোয়াডে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাকুনা ভ্রাতৃদ্বয়। লিয়েন্দ্রো বাকুনা এবং জুনিনহো বাকুনা—এই দুই ভাই দলের মধ্যমাঠ বা মিডফিল্ডের দায়িত্ব সামলাবেন। লিয়েন্দ্রো বাকুনাকে দলের অধিনায়ক মনোনীত করা হয়েছে, অন্যদিকে বাছাইপর্বে তিন গোল করা তাঁর ভাই জুনিনহোও রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। রক্ষণভাগ সুসংহত করতে কোচ আস্থা রেখেছেন জুরিয়েন গারি এবং রোশন ভ্যান ইজমার ওপর। এছাড়া গোলপোস্ট রক্ষার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলা নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক এলোয় রুমকে।
কুরাসাওয়ের আক্রমণভাগ এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বাছাইপর্বে আটটি করে গোল করা জারভেনে কাস্তানির ও কেনজি গোরি দলের গোল স্কোরিংয়ের প্রধান ভরসা। তাঁদের সাথে আক্রমণভাগে যোগ দেবেন অভিজ্ঞ জুর্গেন লোকাডিয়া এবং জের্ল মারগারিথা। এছাড়া ২০২৫ সালে অভিষেক হওয়া তরুণ তারকা তাহিথ চং দ্রুত গতিতে আক্রমণ সাজিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বিশেষ পারদর্শী। এই শক্তিশালী আক্রমণভাগ নিয়েই বড় বড় দলের রক্ষণব্যূহ ভাঙার পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন অ্যাডভোকাট।
২৬ সদস্যের এই পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াডে গোলরক্ষক হিসেবে আরও থাকছেন টাইরিক বোডাক ও ট্রেভর ডোর্নবুশ। রক্ষণভাগে রিশেডলি বাজোয়ার, জশুয়া ব্রেনেট এবং আরমান্দো ওবিস্পোর মতো দক্ষ ডিফেন্ডাররা জায়গা পেয়েছেন। সব মিলিয়ে কুরাসাওয়ের এই স্কোয়াডটি তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক সুষম সমন্বয়। যদিও জার্মানি বা আইভরি কোস্টের মতো পরাশক্তিদের মোকাবিলা করা তাদের জন্য কঠিন হবে, তবুও কুরাসাওয়ের ফুটবলাররা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রমাণ দিতে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের জাত চেনাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এখন কেবল মাঠের লড়াইয়ে এই ছোট দেশটির বড় স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষা।
আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার গ্রুপসঙ্গী হিসেবে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। রাল্ফ রাগনিকের কোচিংয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার আনন্দে ভাসছে ইউরোপীয় দেশ অস্ট্রিয়া। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এবারই প্রথম তারা বৈশ্বিক মঞ্চে সুযোগ পেল। অস্ট্রিয়া ইতোমধ্যে তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রকাশ করেছে। এই দলে বড় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেন জাতীয় দলের আইকন ও অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। অভিজ্ঞ মার্কো আরনাউটোভিচ, মাইকেল গ্রেগোরিটস এবং মার্সেল সাবিৎজারের মতো তারকাদের ওপর ভরসা রেখেই দল সাজিয়েছেন রাগনিক।
অস্ট্রিয়ার ঘোষিত দলে বেশ কিছু চমকপ্রদ অন্তর্ভুক্তি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে গত মার্চে ইংল্যান্ড ও জার্মানি থেকে নাগরিকত্ব ও ফুটবল জাতীয়তা পরিবর্তন করা দুই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার কার্নি চুকুয়েমেকা ও পল ওয়ানারকে চূড়ান্ত দলে রাখা হয়েছে। ১৬ জুন জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। পরবর্তীতে তারা ২২ জুন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে। রাগনিকের এই তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ বিশ্বকাপে বড় কোনো চমক দেখানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অন্যদিকে এশীয় শক্তি জর্ডান তাদের ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। এই দলে সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে যথারীতি জায়গা পেয়েছেন জনপ্রিয় ফরোয়ার্ড মুসা আল তামারি। জর্ডান শিবিরে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক এহসান হাদ্দাদ। দীর্ঘ এক বছর ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর পুনরায় দলে ফিরেছেন তিনি। তবে জর্ডান ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ হলো গত বছর আরব কাপে হাঁটুর চোটে পড়া নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার ইয়াজান আল নাইমাত পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এই প্রাথমিক তালিকায় জায়গা পাননি।
জর্ডানের এই ৩০ জনের প্রাথমিক তালিকায় ৪ জন গোলরক্ষক, ১২ জন ডিফেন্ডার, ৭ জন মিডফিল্ডার এবং ৬ জন ফরোয়ার্ডকে রাখা হয়েছে। তাদের বিশ্বকাপ সূচি অনুযায়ী ১৬ জুন তারা অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি খেলবে। এরপর ২২ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করে গ্রুপ পর্বের চূড়ান্ত ম্যাচে ২৭ জুন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মোকাবিলা করবে তারা। জর্ডান কোচ আশা করছেন, এই প্রাথমিক তালিকা থেকে সেরা ২৬ জনকে বাছাই করে একটি লড়াকু দল গঠন করা সম্ভব হবে যারা বিশ্বমঞ্চে বিশেষ কোনো ছাপ ফেলতে পারবে।
আর্জেন্টিনার এই গ্রুপটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একদিকে অভিজ্ঞ অস্ট্রিয়া দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণে মরিয়া, অন্যদিকে জর্ডান তাদের সাম্প্রতিক মহাদেশীয় সাফল্যের ধারা বিশ্বমঞ্চেও বজায় রাখতে চায়। দুই দেশই তাদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে সুনিপুণ রণকৌশল সাজাচ্ছে যাতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ সুগম করা যায়। মূলত ডেভিড আলাবা ও মুসা আল তমারির মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের ফুটবল প্রেমীরা।
ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পেপ গার্দিওলা। বর্তমান মৌসুম শেষেই তিনি ইতিহাদ স্টেডিয়ামের ডাগআউট ছাড়বেন বলে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য অ্যাথলেটিক নিশ্চিত করেছে। যদিও ক্লাবের সাথে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ছিল, তবুও এক বছর আগেই দায়িত্ব ছাড়ার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ৫৫ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। এর মাধ্যমে সিটির সাথে তাঁর দীর্ঘ ১০ বছরের এক অবিস্মরণীয় সম্পর্কের অবসান হতে যাচ্ছে।
২০১৬ সালে ইংল্যান্ডে আসার পর থেকে গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটিকে সাফল্যের অনন্য শিখরে নিয়ে গেছেন। তাঁর অধীনে ক্লাবটি এ পর্যন্ত ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাসহ মোট ২০টি ট্রফি জিতেছে। এর মধ্যে সিটির ইতিহাসের বহুকাঙ্ক্ষিত প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়টি ছিল অন্যতম বড় অর্জন। চলতি মৌসুমেও সিটির সামনে আরও একটি লিগ শিরোপা জয়ের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বোর্নমাউথ ও অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচে জয় পেলে এবং আর্সেনাল যদি ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে পয়েন্ট হারায়, তবে গার্দিওলা আরও একটি ট্রফি হাতে নিয়েই তাঁর সফলতম অধ্যায়টি শেষ করতে পারবেন।
গার্দিওলার বিদায়ের বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষ কিংবা কোচের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, বিষয়টি এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ব্যাপার এবং সিটি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই তাঁদের বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদার ও স্পন্সরদের সাথে এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এই মহান কোচকে রাজকীয় বিদায় দিতে বিশেষ সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট। যার অংশ হিসেবে ম্যানচেস্টারের রাস্তায় একটি বর্ণাঢ্য বিজয় প্যারেডের আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে হাজারো সমর্থক তাঁদের প্রিয় কোচের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।
গার্দিওলা চলে যাওয়ার পর সিটির শূন্য সিংহাসনে কে বসবেন তা নিয়ে ফুটবল মহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত গার্দিওলার উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে ইতালিয়ান কোচ এনজো মারেসকার নাম। মারেসকা এর আগে পেপের সহকারী হিসেবে সিটিতে কাজ করায় ক্লাবের খেলার ধরণ ও দর্শন সম্পর্কে তাঁর স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে। এর আগে তিনি চেলসির ডাগআউটে দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তবে ক্লাব মালিকদের সাথে মতভেদের কারণে ২০২৬ সালের শুরুতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এখন সিটির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে মারেসকাই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ সন্ধ্যায় এই তালিকা প্রকাশ করেন। নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে নেইমার জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা কাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তির মুখে নেইমারের নাম শোনার পর স্বস্তি ফিরেছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মাঝে।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর সফলভাবে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ঘটল নেইমার জুনিয়রের। ২০২৩ সালের পর চোট ও ক্লাব পরিবর্তনের জটিলতায় ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তিনি খুব বেশি ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। তবে বিশ্বকাপের এই বিশেষ আসরে অংশ নিতে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড গত কয়েক মাস ধরে নিজের ফিটনেসের প্রমাণ দিতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাঁর এই ফেরা ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ করবে বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অন্যদিকে, এবারের দল ঘোষণার বড় চমক ছিল তারকা ফরোয়ার্ড রদ্রিগোর অনুপস্থিতি। তবে চোটের কারণে তাঁর বাদ পড়া অনেকটা নিশ্চিতই ছিল।
এবারের বিশ্বকাপ দলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া এবং মার্তিনেল্লির মতো পরীক্ষিত তারকাদের পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছেন প্রতিভাবান তরুণ এন্দ্রিক, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিক ও রায়ানের মতো নতুন মুখ। গোলরক্ষক হিসেবে আলিসন, এদেরসন ও ওয়েভারটনের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে। রক্ষণভাগে মার্কুইনহোস, দানিলো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার ও মাগালিয়ায়েসের মতো নির্ভরযোগ্যদের রাখা হয়েছে। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, ফ্যাবিনিয়ো এবং লুকাস পাকেতার মতো কৌশলী ফুটবলাররা।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে অবস্থান করছে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের মূল মিশন। প্রথম ম্যাচেই আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মোকাবিলা করতে হবে। গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। প্রতিটি বিশ্বকাপের মতো এবারও একমাত্র দেশ হিসেবে সব আসরে অংশগ্রহণের রেকর্ড ধরে রেখেই মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। নতুন উদ্যম এবং শক্তিশালী এই বহর নিয়ে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে এখন থেকেই নিবিড় প্রস্তুতি শুরু করবে ব্রাজিল দল।
ঢাকা টেস্টে দাপুটে জয়ের পর সিলেট টেস্টেও জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। লড়াকু ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারী পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের এক বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ, যার ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে। দিনের শেষ বিকেলে মাত্র দুই ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে পাকিস্তান। কোনো রান সংগ্রহ না করেই আজান আওয়াইজ ও আব্দুল্লাহ ফজল অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। হাতে আরও দুই দিন এবং ১০টি উইকেট থাকলেও সফরকারীদের জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া হবে অত্যন্ত দুরূহ।
বাংলাদেশের এই বড় লিড পাওয়ার নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি করার মাধ্যমে তৃতীয় দিনটি নিজের করে নেন। ইনিংসের শুরুতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ১৫ রানে ফিরলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মুশফিক ও লিটন দাসের ১২৩ রানের জুটি সেই চাপ কাটিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়। লিটন ৬৯ রান করে আউট হলেও মুশফিক হাল ছাড়েননি। পরবর্তীতে তাইজুল ইসলামকে সাথে নিয়ে তিনি আরও ৭৭ রানের একটি কার্যকর জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে মুশফিক সাজঘরে ফিরলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের যবনিকা ঘটে। এর আগে ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের ৫২ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের ভিত শক্ত করতে সাহায্য করেছিল।
সিলেটের মাঠের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে পাকিস্তানের জন্য এই লক্ষ্য তাড়া করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হয়। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া পাঁচটি টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সফলভাবে রান তাড়া করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবার। গত বছর জিম্বাবুয়ে ১৭৪ রান তাড়া করে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন উইকেটে জয় পেয়েছিল। ইতিহাস বলছে, এই মাঠে চতুর্থ ইনিংসে লক্ষ্য ৩০০ রান অতিক্রম করলেই ব্যাটিং দলকে বড় ব্যবধানে হারের মুখ দেখতে হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের নিজের রেকর্ডও এই ভেন্যুতে খুব একটা ভালো নয়। অতীতে ৩২১, ৩৩২ কিংবা শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৫১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে টাইগারদের।
সমগ্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৩৫০ রানের বেশি তাড়া করে জেতার নজিরও অত্যন্ত বিরল। বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে, যারা ২০২১ সালে ৩৯৫ রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। পাকিস্তানের বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপ এবং মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে ৪৩৭ রান তাড়া করে জেতা হবে এক বিরল বিশ্বরেকর্ড। যদিও সিলেটের উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, তবুও চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে বাংলাদেশি স্পিনার ও পেসারদের মোকাবিলা করে এই রান তোলা পাকিস্তানের জন্য চরম অগ্নিপরীক্ষার শামিল হবে।
আগামী দুই দিন ম্যাচের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। বাংলাদেশ চাইবে দ্রুত পাকিস্তানের উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থেকে ম্যাচটি অন্তত ড্র করা অথবা অভাবনীয় ব্যাটিং চমক দেখিয়ে জয়ের ইতিহাস গড়া। শান্তর দল যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে জয়ের পাল্লা বাংলাদেশের দিকেই বেশি ভারী বলে মনে হচ্ছে। তবে ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা হওয়ায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক স্বর্ণালী অধ্যায় যোগ করলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টের অভিজাত ফরম্যাটে শততম ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জনের পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৬ হাজার রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। আজ সোমবার (১৮ মে) পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে লড়াকু এক ইনিংস খেলার পথেই তিনি এই ইতিহাস গড়েন। বাংলাদেশের আর কোনো ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৬ হাজার রান করার রেকর্ড নেই, যা মুশফিককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে প্রত্যাশিত রান না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের জাত চিনিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখান তিনি। ম্যাচের তৃতীয় দিনের চা-বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মুশফিক ৯০ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং এই লড়াকু ইনিংসটি খেলার পথেই তিনি কাঙ্ক্ষিত ১৬ হাজার রানের গণ্ডি অতিক্রম করেন। তাঁর এই দুর্দান্ত ফর্মে ভর করে বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় ইনিংসে একটি বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় মুশফিকুর রহিম এখন পর্যন্ত মোট ৪৭৮টি ম্যাচ খেলেছেন। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁর সর্বমোট রান সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১১-তে। এই বিশাল সংগ্রহ গড়ার পথে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২টি সেঞ্চুরি এবং ৮৫টি হাফ-সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন। তাঁর ব্যাটিং গড় প্রায় ৩৫-এর কাছাকাছি। শুরু থেকেই দলের ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটার দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের আসনে আসীন রেখেছেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় মুশফিকের ঠিক পরেই রয়েছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ৩৮৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তামিমের সংগ্রহ ১৫ হাজার ১৯২ রান, যার মধ্যে ২৫টি সেঞ্চুরি ও ৯৪টি ফিফটি রয়েছে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, যাঁর বর্তমান রান সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৩০। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১১ হাজার ৪৭ রান এবং লিটন কুমার দাস ৮ হাজার ৮৪১ রান নিয়ে শীর্ষ পাঁচের তালিকায় অবস্থান করছেন। সতীর্থদের চেয়ে রানের দিক থেকে মুশফিকের এই বড় ব্যবধান তাঁর শ্রম ও নিষ্ঠারই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য যে, সিলেট টেস্টে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর লড়াই চলছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭৮ রান সংগ্রহ করলে জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ বর্তমানে মুশফিকের ব্যাটে ভর করে বড় লিডের স্বপ্ন দেখছে। মুশফিকের এই ব্যক্তিগত অর্জন কেবল তাঁর নিজের জন্য নয়, বরং পুরো দলের মনোবল বাড়াতে এবং সিরিজের ফল নির্ধারণী এই ম্যাচে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
সৌদি প্রো লিগের এবারের মৌসুম এক রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের শেষ দিনে নির্ধারিত হবে কোন দলের মাথায় উঠবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। বর্তমানে টেবিলের শীর্ষে থাকা আল নাসরের সংগ্রহ ৮৩ পয়েন্ট এবং ঠিক ২ পয়েন্ট পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে শক্তিশালী আল হিলাল। শেষ ম্যাচে আল নাসর জয় পেলেই চ্যাম্পিয়ন হবে, অন্যথায় পুরো মৌসুমে কোনো ম্যাচ না হারা আল হিলালের সামনে সুযোগ থাকবে শেষ মুহূর্তে ট্রফিটি ছিনিয়ে নেওয়ার। এমন চরম উত্তেজনার মাঝেই লিগ কর্তৃপক্ষ ২০২৫-২৬ মৌসুমের মর্যাদাপূর্ণ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের চূড়ান্ত ৫ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।
বর্ষসেরার এই দৌড়ে প্রত্যাশিতভাবেই সবচেয়ে আলোচিত নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ২০২৩ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি দলটির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। এবারের মৌসুমে ব্যক্তিগতভাবে ২৬টি গোল করার পাশাপাশি সৌদি প্রো লিগের আধুনিক ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোলের বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই পর্তুগিজ তারকা। পুরো মৌসুমে মোট সাতবার ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা রোনালদো এবার ব্যক্তিগত স্বীকৃতির পাশাপাশি ক্লাবের হয়ে প্রথম বড় কোনো ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। মূলত এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ফাইনালে গাম্বা ওসাকার কাছে হারের বেদনা ভুলে ঘরোয়া লিগ জয়ই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
রোনালদোর পাশাপাশি এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তাঁর ক্লাব সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স। আল নাসরের হয়ে নিজের অভিষেক মৌসুমেই মিডফিল্ডার হিসেবে তিনটি হ্যাটট্রিক করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ১২টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকার পাশাপাশি গোল কন্ট্রিবিউশনেও তিনি যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে আল আহলির হয়ে মাঠে নামা ইংলিশ স্ট্রাইকার ইভান টনি এবারের লিগে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ৩১ ম্যাচে ৩২টি গোল করে তিনি গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন। মৌসুমজুড়ে চারটি হ্যাটট্রিক এবং নয়বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া টনি রোনালদোর জন্য বর্ষসেরার দৌড়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
তালিকার বাকি দুজন হলেন আল কাদসিয়াহর হুলিয়ান কিনোনেস এবং আল হিলালের রুবেন নেভেস। কিনোনেস এবার লিগে ৩০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার মাধ্যমে তাঁর ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন এবং আসরের সর্বোচ্চ ১৩ বার ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে আল হিলালের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রুবেন নেভেসও এই লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই। তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লিগে এক মৌসুমে ২,০০০-এর বেশি সফল পাস দেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। মূলত এই পাঁচ তারকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই এবারের সৌদি প্রো লিগকে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
শিরোপা লড়াই ও বর্ষসেরা নির্বাচনের এই দ্বিমুখী রোমাঞ্চ এখন ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী বৃহস্পতিবারের চূড়ান্ত লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে যেমন চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারিত হবে, তেমনি এই পাঁচজনের মধ্য থেকে একজনের হাতে উঠবে মর্যাদাপূর্ণ বর্ষসেরার ট্রফি। আল নাসর ও আল হিলালের দ্বৈরথ এবং রোনালদো বনাম ইভান টনির ব্যক্তিগত লড়াই সৌদি ফুটবলে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। এখন ফুটবল ভক্তদের অপেক্ষা কেবল মৌসুমের চূড়ান্ত ফলাফল এবং শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় ওঠে তা দেখার জন্য।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইন্টার মায়ামি তাদের নতুন ভেন্যু ‘নু স্টেডিয়ামে’ প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে। গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে লিওনেল মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যে পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সকে ২-০ গোল ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা। এই নতুন স্টেডিয়ামে যাত্রা শুরু করার পর টানা চার ম্যাচ জয়হীন ছিল মায়ামি। তিনটি ড্র এবং একটি হারের পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত এই জয় আসায় মায়ামি সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও আধঘণ্টা পর গোলের খাতা খোলে মায়ামি। খেলার ৩১তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কিছুটা দূর থেকে লুইস সুয়ারেজকে পাস দেন মেসি। উরুগুয়ান এই তারকা বলটি বক্সে বাড়ালে সতীর্থ সেগোভিয়ার পা ঘুরে পুনরায় মেসির কাছে আসে। জুতসই বল পেয়ে নিজের ট্রেডমার্ক বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে জালে জড়ান মেসি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রতিষ্ঠিত করে টাটা মার্টিনোর শিষ্যরা।
বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে মায়ামি ভক্তরা আবারও মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স প্রত্যক্ষ করেন। লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে চমৎকারভাবে বল আদান-প্রদান করে ডি-বক্সের ভেতরে ঢোকেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার। ড্রিবলিংয়ের দারুণ মুন্সিয়ানায় টিম্বার্সের দুজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে তিনি নিখুঁত এক পাস দেন জার্মান বার্তেরামেকে। মেক্সিকান এই ফরোয়ার্ড বল পেয়ে সহজেই গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। বিরতির আগেই দুই গোলের লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি। বিশেষ করে স্টপেজ টাইমে তাঁর নেওয়া একটি চমৎকার ফ্রি-কিক টিম্বার্সের মানব দেয়াল টপকে জালের দিকে ছুটছিল। তবে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক জেমস পান্তেমিস এক অসাধারণ সেভের মাধ্যমে মেসিকে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বিতীয় এবং মৌসুমের ১৩তম গোল থেকে বঞ্চিত করেন। পান্তেমিসের সেই রুখে দেওয়ার কারণে ব্যবধান আর বাড়েনি, তবে ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে হেরনরা।
ইন্টার মায়ামির জন্য এই জয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি তাঁদের নতুন ভেন্যুর জয়খরা কাটাতে সাহায্য করেছে। আগামী বিশ্বকাপের বিরতিতে যাওয়ার আগে মায়ামির আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে সেই ম্যাচটি খেলার পর লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো ডি পল জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে আর্জেন্টিনার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। মায়ামি কোচ আশা করছেন, এই জয়ের ধারা পরবর্তী ম্যাচেও বজায় থাকবে।
আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই সফরে দুই দল সমান তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হবে। বিসিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি আয়োজনের জন্য বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
সিরিজের লক্ষ্যে আগামী ৬ জুন বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের। ঢাকায় অবতরণের পরদিন অর্থাৎ ৭ জুন মিরপুরে প্রথম দিনের মতো অনুশীলনে নামবে সফরকারীরা। একই সময়ে বাংলাদেশ দলও মিরপুরে নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালনা করবে। দুই দলই মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের সক্ষমতা ঝালিয়ে নিতে মিরপুরের কন্ডিশনকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে।
সফরের মূল লড়াই শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে। আগামী ৯ জুন মিরপুর স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। এরপর সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ দুটি যথাক্রমে ১১ জুন এবং ১৪ জুন একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচই সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনের আলো ও গরমের বিষয় বিবেচনা করে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে বোর্ড।
ঢাকার লড়াই শেষ করে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য চট্টগ্রামে পাড়ি জমাবে উভয় দল। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ জুন প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর ১৯ জুন দ্বিতীয় এবং ২১ জুন সিরিজের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের প্রতিটি ম্যাচই দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে বলে বিসিবি নিশ্চিত করেছে।
এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। সীমিত ওভারের এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। বিসিবি বর্তমানে সিরিজের সফল আয়োজনের লক্ষে মাঠের প্রস্তুতি এবং অন্যান্য লজিস্টিক কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে একটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দর্শকরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি ছিল পুরোপুরি স্বাগতিকদের দখলে। দিনের শুরুতেই বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে অল্পতে গুটিয়ে দিয়ে ৪৬ রানের মূল্যবান লিড পায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭৮ রানের জবাবে পাকিস্তান সবকটি উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করতে পারে ২৩২ রান। এরপর দিনের শেষ সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেট হারালেও স্কোরবোর্ডে ১১০ রান তুলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রানে, যা টাইগারদের ম্যাচে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে।
দিনের শুরুতে বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে বড় চাপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। মিডল অর্ডারে বাবর আজম একাই লড়াই চালিয়ে ৬৮ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেললেও নাহিদ রানার বলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাজঘরে ফিরতে হয়। এরপর সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানরা উইকেটে থিতু হওয়ার আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে ১৮৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে দ্রুত অলআউটের শঙ্কায় পড়লে শেষ দিকে সাজিদ খানের ২৮ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও ইনিংসটি পাকিস্তানকে দুইশ পার করতে সাহায্য করে।
প্রথম ইনিংসের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে হারায়। ব্যক্তিগত ৪ রানে তিনি বিদায় নিলে দলের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে সেই চাপ দারুণভাবে সামাল দেন মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক। বিশেষ করে জয় আজ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করেছেন। শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এই ওপেনার মাত্র ৬১ বলে তাঁর ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করেন। ফিফটির পরপরই ৫২ রান করে তিনি আউট হলেও বাংলাদেশের লিড দেড়শ পার করতে তাঁর ইনিংসটি বড় ভূমিকা রেখেছে।
দিনের একেবারে শেষ মুহূর্তে মুমিনুল হকের বিদায় বাংলাদেশের জন্য কিছুটা হতাশাজনক ছিল। ব্যক্তিগত ৩০ রান করে মুমিনুল আউট হওয়ার পরপরই আম্পায়াররা দ্বিতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। বর্তমানে লিড ১৫৬ রানে পৌঁছালেও ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে তৃতীয় দিনের সকালে বড় জুটির প্রয়োজন টাইগারদের। পাকিস্তানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপক্ষে অধিনায়ক শান্ত ও পরবর্তী ব্যাটাররা কতটা বড় লক্ষ্য দিতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে সিরিজের শেষ টেস্টের ফলাফল। সব মিলিয়ে সিলেট টেস্ট এখন বাংলাদেশের অনুকূলে থাকলেও বাকি দিনগুলো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চেলসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে এফএ কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবারের এই হাইভোল্টেজ ফাইনালে কষ্টার্জিত জয়ের মাধ্যমে ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল বা তিন শিরোপা জয়ের আশা এখনো বাঁচিয়ে রাখল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। গত দুই আসরের ফাইনালে যথাক্রমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিল তারা। তবে এবার ব্লুদের হারিয়ে ক্লাব ইতিহাসে অষ্টম বারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি নিজেদের করে নিল সিটিজেনরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণভাগ জমাট রেখে ম্যানসিটির শক্তিশালী আক্রমণভাগকে রুখে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় চেলসি। প্রথমার্ধের ২৭ মিনিটে আর্লিং হালান্ড একবার চেলসির জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়। বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে হালান্ডের আরও একটি জোরালো প্রচেষ্টা দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ। গোলের জন্য সিটিকে ম্যাচের ৭২ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বার্নার্ডো সিলভার পাস থেকে বল পেয়ে হালান্ড খুঁজে নেন আন্তোয়ান সেমেনিওকে। চেলসি ডিফেন্ডার লেভি কলউইলের বাধা এড়িয়ে দুর্দান্ত এক কোনাকুনি শটে গোল করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন ঘানাইয়ান এই ফরোয়ার্ড।
এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন পেপ গার্দিওলা। ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর ২০তম শিরোপা জয় এবং এফএ কাপের মঞ্চে তাঁর তৃতীয় সাফল্য। ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে চেলসি। সিটির গোলবক্সের ভেতর থেকে এনজো ফার্নান্দেজের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার সেরা সুযোগটি হাতছাড়া হয় ব্লুদের। শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগ অক্ষত রেখে মাঠ ছাড়ে ম্যানসিটি।
গত মার্চে লিগ কাপ জয়ের পর এফএ কাপের এই সাফল্য ম্যানসিটির সামনে এখন প্রিমিয়ার লিগ জয়ের হাতছানি দিচ্ছে। লিগ টেবিলে বর্তমানে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা। লিগে এখনো সিটির দুটি ম্যাচ বাকি। মঙ্গলবার বোর্নমাউথের বিপক্ষে জয় পেলে তারা শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। গার্দিওলার সম্ভাব্য বিদায়ী মৌসুমে অন্তত দুটি ঘরোয়া শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেছে, তবে প্রিমিয়ার লিগ জিততে পারলে সেটি হবে ক্লাবটির জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।
এফএ কাপ জয়ের পর সিটিজেনদের সব মনোযোগ এখন লিগ শিরোপার দিকে। আর্সেনাল কোনো কারণে হোঁচট খেলে এবং সিটি তাদের বাকি দুটি ম্যাচ জিততে পারলে ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল জয়ের দুর্লভ কৃতিত্ব অর্জন করবে তারা। মাঠের ফুটবলে এই আধিপত্য এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল কেন ম্যানচেস্টার সিটিকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব হিসেবে গণ্য করা হয়। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন লিগ শিরোপার চূড়ান্ত লড়াই দেখার জন্য।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে রেকর্ড ও রোমাঞ্চের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচে। গত শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ছয়টি হাফসেঞ্চুরির অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড দেখা গেছে। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক কলকাতা। প্রথমে ব্যাট করে কলকাতা ২ উইকেটে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়, যার জবাবে গুজরাট টাইটান্স ২১৮ রান করতে সক্ষম হয়। দুই দল মিলিয়ে এই ম্যাচে মোট ৪৬৫ রান সংগৃহীত হয়।
ম্যাচটিতে হাফসেঞ্চুরির এই বিরল নজির শুরু হয় কলকাতার ব্যাটারদের হাত ধরে। দলটির পক্ষে ফিন অ্যালেন ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করেন, এছাড়া অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী ৪৪ বলে ৮২ এবং ক্যামেরন গ্রিন ২৮ বলে ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাটের হয়েও তিন ব্যাটার পঞ্চাশোর্ধ্ব রান সংগ্রহ করেন। অধিনায়ক শুভমান গিল ৪৯ বলে ৮৫, জস বাটলার ৩৫ বলে ৫৭ এবং সাই সুদর্শন ২৮ বলে ৫৩ রান করেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগে কখনো কোনো ম্যাচে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি ছাড়াই ছয়টি হাফসেঞ্চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেনি, যা এই ম্যাচটিকে ইতিহাসের পাতায় আলাদা স্থান করে দিয়েছে।
ব্যাটিংয়ের এই মহোৎসবের দিনে বল হাতে চরম বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ-স্পিনার রশিদ খান। গুজরাটের এই আফগান তারকা তাঁর নির্ধারিত ৪ ওভারে উইকেটশূন্য থেকে খরচ করেন ৫৭ রান, যা আইপিএলে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং স্পেল। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাই সুদর্শন। তিনি মাত্র ৭৮ ইনিংসে ৩০০০ টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে শন মার্শকে (৮৫ ইনিংস) পেছনে ফেলে দিয়েছেন। পাশাপাশি শুভমান গিল অধিনায়ক হিসেবে টানা দ্বিতীয় আসরে ৫০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিদের মতো কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এই ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁদের ক্লাব ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের পাশাপাশি ইনিংসে ২২টি ছক্কা হাঁকিয়েছে, যা আইপিএলে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিপরীতে গুজরাট টাইটান্সের ফিল্ডাররা চারটি ক্যাচ মিস করে বিব্রতকর এক রেকর্ডের ভাগীদার হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই আসরের ৬০তম ম্যাচেই টুর্নামেন্টে মোট ৫২ বার দুইশোর্ধ্ব দলীয় ইনিংস হওয়ার রেকর্ড স্পর্শ হয়েছে, যা ২০২৫ সালের গত আসরের সর্বোচ্চ রেকর্ডের সমান। টুর্নামেন্টে এখনও ১৪টি ম্যাচ বাকি থাকায় এই সংখ্যা যে বড় ব্যবধানে বাড়বে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
ইডেন গার্ডেনের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের আগ্রাসী মনোভাব ও বোলারদের কঠিন চ্যালেঞ্জের বিষয়টি পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। কলকাতার সুনীল নারিন বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট নিয়ে গুজরাটের জয়ের পথ কঠিন করে তোলেন। এই জয়ের ফলে কলকাতা পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে, আর গুজরাটকে তাঁদের বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের ত্রুটিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি করে দিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি কেবল একটি প্রতিযোগিতাই ছিল না, বরং ছিল রেকর্ডের এক অভাবনীয় প্রদর্শনী।