আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রানই আসল কথা। তাই ব্যাটাররাও চেষ্টা করেন সেভাবেই খেলার। প্রথম পাওয়ার-প্লের ছয় ওভারে ৩০ গজের বাইরে মাত্র দুই জন ফিল্ডার থাকায়, ব্যাটারদের টার্গেটটা থাকে এ সময়েই। বড় কিছু শট খেলে রান বাড়িয়ে নেওয়ার। তাই এ সময় বল করাটা স্বাভাবিকভাবেই চ্যালেঞ্জিংই হয় বোলারদের জন্য। বাংলাদেশের অফ স্পিনার শেখ মেহেদী হাসানও জানালেন সেরকম কথাই।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ কাজটা নিয়মিতই করতে হয় মেহেদীকে। এখন পর্যন্ত যে ৪৫ ইনিংসে বোলিং করেছেন, ২৭ বারই এক প্রান্ত থেকে উদ্বোধন করেছেন এ ২৯ বছর বয়সি। সফলও হয়েছেন, ক্যারিয়ারে তার ৩৮টি উইকেটের ২০টিই এসেছে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারের মধ্যে। রান আটকাতেও বেশ সফল তিনি; ক্যারিয়ারে ইকোনমি রেট ৬.৩৮ হলেও প্রথম ৬ ওভারে মেহেদী মাত্র ৫.৬৭ করে রান দিয়েছেন।
বিসিবির প্রকাশিত এক ভিডিওতে পাওয়ারপ্লেতে বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেহেদী বলেছেন চ্যালেঞ্জের কথা, ‘উপভোগ করা থেকে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি সেখানে। যেহেতু পাওয়াপ্লেতে (বোলিং), (আর) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট (হচ্ছে) রানের খেলা। এখানে যত কম রানে আটকানো যায় আর কি বোলিং করে। ওই চ্যালেঞ্জটাই বেশি থাকে। উপভোগ (করা) থেকে চ্যালেঞ্জটা বেশি থাকে।’
এরপরও পাওয়ারপ্লের বোলিংটা উপভোগ করতে পারলে সেটি দলের জন্যই ভালো, মনে করিয়ে দিয়ে মেহেদী বলেছেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি থাকে পাওয়ারপ্লেতে। উপভোগ (করার সুযোগ) তো একদমই থাকে না। (এরপরও) সেখানে যদি উপভোগ করতে পারি, তাহলে দলের লাভটাই বেশি হয়।’
২০১৮ সালে অভিষেক হলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলতে প্রায় ২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল মেহেদীকে। মেহেদী ফিরে এসেছেন আবার। তবে ফেরাটা সহজ ছিল না জানিয়ে মেহেদী বলেছেন, এবারের বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত একটা চ্যালেঞ্জও নিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ আছে (বিশ্বকাপে)। প্রথম রাউন্ড শেষ করে পরের রাউন্ডে আগে যাওয়া।’
বলেছেন আরেকটি ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথাও, ‘আমি সাধারণত যেভাবে পারফরম্যান্স করি, ওভাবে করতে চাই না বিশ্বকাপে। এর চেয়ে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই।’
বাংলাদেশ দলের ফিনিশিংয়ের দায়িত্বটা এখন সামলাতে হচ্ছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই। পরীক্ষিত এ পারর্ফমার দলের বিপদে ইনিংস তৈরির দায়িত্ব যেমন সামলাতে পারেন, তেমনি পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষ দলের বোলিং লাইনআপ এলোমেলো করতে পারেন। তাইতো মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংকেই ভালো লাগে মেহেদীর, ‘৭-৮ নম্বরে নিজেকে তৈরি করে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া ছিল, তখন থেকে ফিনিশার হিসেবে রিয়াদ ভাইয়ের ব্যাটিংটা খুব ভালো লাগত। শুধু এরকমই আর কী। সাকিব ভাই আইডল বলতে পারেন। রিয়াদ ভাইয়ের ব্যাটিং ভালো লাগে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শেষ হাসি হাসল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কার সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শাহিবজাদা ফারহানের অনবদ্য সেঞ্চুরি আর বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে একপেশে জয় পায় সালমান আগার দল। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করল পাকিস্তান। এর আগে এই গ্রুপ থেকে ভারত আগেই পরবর্তী রাউন্ডে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছিল। পাকিস্তানের এই দাপুটে জয়ের ফলে কপাল পুড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের; ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই দুই দলসহ নামিবিয়াও টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নামিবিয়ার বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব। ওপেনিং জুটিতে তাঁরা ৩১ বলে ৪০ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। সাইম বিদায় নিলেও ফারহান ছিলেন অবিচল। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক সালমান আগার সঙ্গে ৪২ বলে ৬৭ রানের একটি লড়াকু জুটি গড়েন তিনি। আগা সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হওয়ার পর ফারহান চতুর্থ উইকেটে শাদাব খানকে নিয়ে তান্ডব শুরু করেন। এই জুটিতে মাত্র ৪০ বলে ৮১ রান যোগ হয়, যার বড় অংশই আসে ফারহানের ব্যাট থেকে। ক্যারিয়ারের ৪৩তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এসে প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির দেখা পান এই ওপেনার। ৫৭ বলে সাজানো তাঁর ১০০ রানের ইনিংসটি ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের মূল প্রাণশক্তি। শাদাব খানও ২২ বলে ৩৬ রানের একটি কার্যকরী ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যার ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে পাকিস্তান।
২০০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নামিবিয়া। বিশেষ করে উসমান তারেক ও শাদাব খানের ঘূর্ণি জাদুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে আফ্রিকান দেশটির ব্যাটাররা। নামিবিয়ার কোনো খেলোয়াড়ই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্প এবং ২০ রান আসে আলেকজান্ডার বাসিং ভোলশেঙ্কের ব্যাট থেকে। বাকিরা কেবল আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিলে ১৭.৩ ওভারেই মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়ার ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে লেগ স্পিনার উসমান তারেক মাত্র ৩.৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৪টি এবং শাদাব খান ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করে নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দেন।
পাকিস্তানের এই বড় জয় সুপার এইটের কঠিন লড়াইয়ের আগে দলটিকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। গ্রুপ পর্বের শুরুর দিকে হারের শঙ্কায় থাকলেও পাকিস্তান যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পরের ধাপে পৌঁছাল, তা ক্রিকেট বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। শাহিবজাদা ফারহানের দুর্দান্ত ফর্ম এবং শাদাব খানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স পাকিস্তানের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এখন সুপার এইটের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাই হবে হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একসময়ের প্রিয় এই দলের মূল লক্ষ্য। আপাতত এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল রইল।
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়ান্ট বধের মহাকাব্য লিখে চলেছে নরওয়ের অখ্যাত ক্লাব বোডো/গ্লিম্ট। গত জানুয়ারিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া এই ‘পুঁচকে’ দলটি এবার ঘরের মাঠে বিধ্বস্ত করল আসরের গতবারের রানার্সআপ ইন্টার মিলানকে। বুধবার রাতে নরওয়ের আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচে ইতালিয়ান জায়ান্টদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর পথে একধাপ এগিয়ে গেল তারা। মাত্র ৫৫ হাজার মানুষের মৎস্যজীবী শহর বোডো থেকে উঠে আসা এই ক্লাবটি এখন ইউরোপের বড় দলগুলোর জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
নিজেদের চেনা কন্ডিশনে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বোডো/গ্লিম্ট। যদিও বলের দখলে ৫৫ শতাংশ সময় নিয়ে এগিয়ে ছিল ইন্টার মিলান, কিন্তু কার্যকারিতার দিক থেকে স্বাগতিকরাই ছিল অনন্য। খেলার ২০তম মিনিটে মিডফিল্ডার সোন্দ্রে ব্রান্সটাডের দর্শনীয় এক ফিনিশিংয়ে লিড নেয় বোডো। তবে লড়াইয়ে ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি ইতালিয়ান টেবিল টপাররা। ৩০ মিনিটের মাথায় পিও এস্পোসিতোর লক্ষ্যভেদে সমতায় ফেরে ইন্টার। বিরতি পর্যন্ত ১-১ সমতা থাকায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন ইন্টার হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াবে এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে ম্যাচ বের করে নেবে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে দেয় স্বাগতিকরা। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ইন্টারের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয় বোডো/গ্লিম্ট। ৬১ মিনিটে জেন্স পিটার হাউগ এবং ৬৪ মিনিটে ক্যাসপার হগের দ্রুতগতির আক্রমণ ও নিঃস্বার্থ অ্যাসিস্টে করা গোল দুটি ৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আস্পমাইরা স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসায়। পুরো ম্যাচে বোডো মাত্র ৮টি শট নিয়ে তার মধ্যে ৬টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যা তাদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের পরিচয় দেয়। বিপরীতে ১১টি শট নিয়েও ইন্টারের আক্রমণভাগ ছিল লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা লাউতারো মার্টিনেজরা এদিন মাঠ ছাড়েন বড় হারের গ্লানি নিয়ে।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর আগে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে গিয়েও তাদের ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছিল এই নরওয়েজীয় ক্লাবটি। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বোডো/গ্লিম্ট এখন আর কেবল কোনো অঘটন সৃষ্টিকারী দল নয়, বরং তারা কৌশলী ফুটবলের এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এই পরাজয় ইন্টার মিলানের শেষ ষোলোর যাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইন্টারের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ফিরতি লেগের ম্যাচ। সেখানে ঘুরে দাঁড়িয়ে কামব্যাক করতে না পারলে রানার্সআপ ইন্টারকে প্লে-অফ থেকেই বিদায় নিতে হবে। অন্যদিকে, নিজেদের অভিষেক আসরে রূপকথার গল্পটি আরও রাঙাতে এখন সান সিরোর সেই অগ্নিপরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে বোডো/গ্লিম্ট।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জয়ের পথে বড় ধরনের হোঁচট খেল বর্তমান টেবিল টপার আর্সেনাল। দুই গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও রক্ষণভাগের শেষ মুহূর্তের ভুলে তলানির দল উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের (উলভস) বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। বুধবার রাতে উলভসের মাঠ মোলিনাক্সে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর ফলে শিরোপার লড়াই এখন অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও, এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে গানারদের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র পাঁচ পয়েন্টে। সিটি তাদের হাতে থাকা ম্যাচটি জিতলে এই ব্যবধান মাত্র দুইয়ে নেমে আসবে, যা আর্সেনালের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা আর্সেনাল মাত্র পঞ্চম মিনিটেই গোলের দেখা পায়। দলের প্রাণভ্রমরা বুকায়ো সাকার দারুণ এক হেডে লিড নেয় গানাররা। প্রথমার্ধে দাপট বজায় রেখে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। ৫৬ মিনিটে পিয়েরো ইনকাপিয়ে চমৎকার এক নিপুণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে মনে হচ্ছিল আর্সেনাল সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে। তবে জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও খেই হারিয়ে ফেলে লন্ডনের ক্লাবটি। বিশেষ করে এ মৌসুমে মাত্র একটি ম্যাচে জয় পাওয়া উলভস ঘরের মাঠে অভাবনীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয় মোড় নেয়। হুগো বুয়েনো এক দর্শনীয় দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন, যা স্বাগতিক দর্শকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। আর্সেনাল যখন জয়ের প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। উলভসের ফরোয়ার্ড টম এডোজির একটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার সময় আর্সেনাল ডিফেন্ডার রিকার্দো কালাফিওরির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের ফলে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয় গানারদের এবং শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ হয়।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় আর্সেনাল শিবিরের হতাশাজনক পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ম্যাচ শেষে বুকায়ো সাকা অকপটে স্বীকার করেন যে, প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলার মানের মধ্যে অনেক পার্থক্য ছিল। নিজেদের প্রত্যাশিত মান ধরে রাখতে না পারার কারণেই এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান যে, শিরোপা জয় নিশ্চিত করতে হলে সামনের ম্যাচগুলোতে পারফরম্যান্সে দ্রুত উন্নতি আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এক সময় লিগে নয় পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্সেনাল এখন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটির মতো অভিজ্ঞ দলের ক্রমাগত তাড়া গানারদের পরিকল্পনাকে কিছুটা এলোমেলো করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, রেলিগেশন অঞ্চলের লড়াইয়ে থাকা উলভসের জন্য এই ড্র আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় হাতিয়ার। আর্সেনালের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্টই তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত লিগ শিরোপা জয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আপাতত ২ গোলের লিড হারানোর এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো আর্তেতার শিষ্যদের।
লিওনেল মেসি ও সের্হিও বুসকেতস—ফুটবল বিশ্বের এই দুই মহাতারকার বন্ধুত্ব কেবল মাঠের বাইরেই নয়, বরং মাঠের ভেতরেও এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে এই জুটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ম্যাচ একসঙ্গে খেলার এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। তথ্যমতে, মেসি ও বুসকেতস এখন পর্যন্ত মোট ৬৫৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে একই সঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন, যা সমসাময়িক বা অতীতের যেকোনো ফুটবল জুটির জন্য একটি দুর্লভ মাইলফলক। দীর্ঘ কয়েক দশকের ফুটবল ইতিহাসে এমন বোঝাপড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী পেশাদারিত্ব খুব একটা দেখা যায় না।
এই ৬৫৩টি ম্যাচের একটি বিশাল অংশ এসেছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে। সেখানে তারা দীর্ঘ সময় রাজত্ব করে ৫৬৯টি ম্যাচ একসঙ্গে খেলেছেন। পরবর্তীতে ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে পুনরায় একত্রিত হয়ে তারা আরও ৮৪টি ম্যাচ মাঠে ভাগ করে নিয়েছেন। এই জুটির ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, যখন বার্সেলোনার জার্সিতে বুসকেতসের অভিষেক হয়েছিল। সেই ম্যাচে মেসির পাশাপাশি মাঠে ছিলেন আরেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। মজার বিষয় হলো, আইএফএফএইচএস-এর তালিকার দ্বিতীয় স্থানটিও বুসকেতসের দখলে। পিকে ও বুসকেতস একসঙ্গে খেলেছেন ৬২০টি ম্যাচ, যার মধ্যে ৫৩৩টি বার্সেলোনার হয়ে এবং ৮৭টি স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতে।
পেশাদার ফুটবলে ৬০০-র বেশি ম্যাচ একসঙ্গে খেলার নজির হাতেগোনা কয়েকজনের রয়েছে। সেই তালিকায় সম্প্রতি নাম লিখিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের দুই জার্মান তারকা ম্যানুয়েল নয়্যার ও থমাস মুলার। তারা বায়ার্নের হয়ে এখন পর্যন্ত ৬১১টি ম্যাচ একসঙ্গে খেলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তবে মেসি ও বুসকেতসের ৬৫৩ ম্যাচের এই বিশাল উচ্চতা ছোঁয়া অদূর ভবিষ্যতে যেকোনো ফুটবলার জুটির জন্য প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এই পরিসংখ্যানে কেবল ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলা শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০২৫ মৌসুম শেষে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) থেকে বুসকেতসের অবসরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক জুটির মাঠের লড়াইয়ে হয়তো সাময়িক বিরতি পড়েছে। তবে ফুটবল প্রেমীদের কাছে মেসি-বুসকেতস জুটি মানেই এক জাদুকরী রসায়ন, যা তিকি-তাকা ফুটবলের স্বর্ণযুগ থেকে শুরু হয়ে ফ্লোরিডার ইন্টার মিয়ামি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিদায়ের আগে বুসকেতস মেসির সঙ্গে মিলে যে রেকর্ডটি গড়ে গেছেন, তা আগামী দীর্ঘ সময় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে থাকবে। বর্তমানে মেসি এখনো ফুটবলে সক্রিয় থাকলেও বুসকেতসের বিদায় এই জুটির দীর্ঘ পথচলার এক অবিস্মরণীয় পরিসমাপ্তি টানল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের রদবদল আসতে যাচ্ছে। বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে লিপুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অনিচ্ছার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ খুঁজছে বিসিবি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক এবং অভিজ্ঞ সাবেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনকে এই পদের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ। সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই তিনি দেশের ক্রিকেটের নীতি নির্ধারণী এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তাঁর মেয়াদে দল গঠনে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব আনার চেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে। বিসিবি কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল তাঁর চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়িয়ে নিতে, কিন্তু পারিবারিক কারণে তিনি এই পদে আর দীর্ঘমেয়াদে থাকতে আগ্রহী নন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বিসিবিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। লিপুর এই প্রস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই বিসিবি পরবর্তী যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে হাবিবুল বাশারের দিকে নজর দেয়।
হাবিবুল বাশার সুমন এর আগেও দীর্ঘ সময় বিসিবির নির্বাচক প্যানেলে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিকেটারদের মান যাচাই এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের পাইপলাইন সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞান থাকায় বোর্ড মনে করছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনিই প্রধান নির্বাচকের পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ থেকে বাশারকে ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত সম্মতি দেননি এবং বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য বোর্ডের কাছে কয়েক দিন সময় চেয়েছেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, হাবিবুল বাশার দায়িত্বটি নিতে মানসিকভাবে আগ্রহী এবং খুব শীঘ্রই তিনি তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বোর্ডকে জানিয়ে দেবেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজী আশরাফ লিপুর উত্তরসূরি হিসেবে হাবিবুল বাশারের অন্তর্ভুক্তি বিসিবির নির্বাচক প্যানেলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে সামনে যখন বড় বড় টুর্নামেন্ট ও সিরিজের ব্যস্ততা রয়েছে, তখন একজন অভিজ্ঞ ও সাবেক অধিনায়ককে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে রাখা দলের জন্য ইতিবাচক হবে। বর্তমানে বিসিবির নীতিনির্ধারকরা বাশারের গ্রিন সিগনালের অপেক্ষায় রয়েছেন। আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়ার পরপরই বোর্ড সভার মাধ্যমে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে এবং চলতি মাসের শেষ দিকেই হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। নতুন প্রধান নির্বাচকের হাত ধরে বাংলাদেশের দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো কৌশল যোগ হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে এক বড় অঘটনের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। বৃষ্টিবিঘ্নিত পাল্লেকেলেতে কপাল পুড়ল সাবেক টি-টোয়েন্টি বিশ্বসেরা দল অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো অজিদের। অন্যদিকে, এই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পাওয়ার সুবাদে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট বা শেষ আট নিশ্চিত করল জিম্বাবুয়ে।
আজ মঙ্গলবার ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল আয়ারল্যান্ডের। কিন্তু ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। কয়েক দফায় বৃষ্টি থামলেও মাঠ খেলার উপযোগী করে তোলার আগেই আবারও বেরসিক বৃষ্টি হানা দেয়। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত টস করাও সম্ভব হয়নি। ফলে আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিসিয়ালরা খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচটি মাঠে না গড়ানোয় জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড—উভয় দলকেই একটি করে পয়েন্ট দেওয়া হয়।
এই এক পয়েন্ট পাওয়ার ফলেই মূলত জিম্বাবুয়ের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। ৩ ম্যাচে দুই জয় এবং আজ পরিত্যক্ত ম্যাচের এক পয়েন্টসহ মোট ৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা সুপার এইটের টিকিট নিশ্চিত করে। জিম্বাবুয়ের হাতে এখনো একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও এই ৫ পয়েন্টই তাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় মূলত তাদের আগের দুই হারের কারণে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় পরাজয়ের পর গতকাল শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে অজিদের সমীকরণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। ৩ ম্যাচে মাত্র এক জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ক্রিকেট বিশ্বের এই পরাশক্তি।
গ্রুপ ‘বি’-র সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিম্বাবুয়ের পাশাপাশি দাপটের সাথে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। এখন পর্যন্ত ৩টি ম্যাচ খেলে সবকটিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে লঙ্কানরা। আয়ারল্যান্ড তাদের সবগুলো অর্থাৎ ৪টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এক জয় এবং এক পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার তৃতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করল। অন্যদিকে, ওমান এখন পর্যন্ত কোনো জয়ের দেখা পায়নি এবং পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই রয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিদায় টুর্নামেন্টে এক নতুন রোমাঞ্চের জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের হারটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য টার্নিং পয়েন্ট। সেই ম্যাচে রোডেশিয়ানদের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল তারা, যার শেষ পরিণতি ঘটল বৃষ্টির বাঁধায়। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন, যা বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের পুনরুত্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই গ্রুপ থেকে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে এখন সুপার এইটের লড়াইয়ে নিজেদের প্রস্তুত করবে।
বিশ্বরাজনীতির অত্যন্ত সংবেদনশীল দুটি কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরমাণু বিষয়ক আলোচনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি বৈঠকের দিকে গভীর নজর রাখছেন। এই আলোচনাগুলোর গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৩ সেন্ট বা ০.৩৪ শতাংশ কমে ৬৮ ডলার ৪২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে মার্কিন বাজার আদর্শ ডব্লিউটিআই-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১.০৮ শতাংশ বেড়ে ৬৩ ডলার ৫৭ সেন্টে পৌঁছেছে।
জ্বালানি তেলের বাজারের এই মিশ্র প্রবণতার নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ‘প্রেসিডেন্টস ডে’র ছুটি থাকায় মার্কিন বাজারে তেলের কোনো আনুষ্ঠানিক দর নির্ধারিত ছিল না, যার ফলে মঙ্গলবারের দরের সঙ্গে আগের পরিস্থিতির একটি সমন্বয় ঘটেছে। পাশাপাশি এশিয়ার বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে লেনদেনের পরিমাণ গত কয়েকদিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। এই আঞ্চলিক ছুটির আমেজ বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরিতে বাধা দিয়েছে। তবে বাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে জেনেভায় চলমান আলোচনার টেবিলে কী সিদ্ধান্ত আসে তার ওপর।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের উন্নয়ন বিশ্ববাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হয়, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় কোনো ঝুঁকি থাকবে না। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অন্যদিকে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কোনো একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান এলে রাশিয়ার ওপর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। এর ফলে রুশ জ্বালানি তেল পুনরায় বিশ্ববাজারে সহজলভ্য হবে এবং সরবরাহে গতি আসবে, যা জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী করতে সহায়ক হবে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসএস ওয়েলথস্ট্রিট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে চাহিদা ও সরবরাহের প্রথাগত সূত্রের চেয়ে কূটনৈতিক সংকেতগুলো দাম নির্ধারণে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণেই জ্বালানি তেলের দাম এখনো একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় আটকে আছে। তিনি আরও বলেন যে, আলোচনার টেবিলে কোনো অচলাবস্থা তৈরি হলে অথবা নেতিবাচক সংকেত পাওয়া গেলে দাম যেকোনো সময় বড় ধরনের ওঠানামার শিকার হতে পারে।
জেনেভায় বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরমাণু বিরোধ নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরোক্ষ সংলাপ শুরু হয়েছে। এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ অংশ নিচ্ছেন, যেখানে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনার শুরুতেই ইরান সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনকে যেকোনো ধরনের অবাস্তব দাবি জানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এদিকে, সোমবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শুরু করা সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও আরব দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, জেনেভা সংলাপের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই এখন বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ ভাগ্য ঝুলে আছে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগে বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে রিয়ালের এই গুরুত্বপূর্ণ জয়টি ফুটবলীয় রোমাঞ্চ ছাপিয়ে বর্ণবাদের এক কলঙ্কিত অধ্যায়ে ম্লান হয়ে গেছে। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রতি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ এবং তার প্রতিবাদে সতীর্থদের নিয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে রেফারিকে বেশ হিমশিম খেতে হয় এবং এর রেশ ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত গ্যালারিতেও বজায় ছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল মূলত গোলরক্ষকদের লড়াই। তিন সপ্তাহ আগে লিগ পর্বে রিয়ালকে রুখে দেওয়া বেনফিকা গোলরক্ষক আন্তোলি ত্রুবিন এদিনও প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে রিয়ালকে গোলবঞ্চিত রাখেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে একক প্রচেষ্টায় দ্রুত ডি-বক্সের দিকে এগিয়ে যান তিনি। আপাতদৃষ্টিতে গোল হওয়ার মতো খুব একটা সুযোগ না থাকলেও দূরপাল্লা থেকে নেওয়া তাঁর এক অবিশ্বাস্য বাঁকানো শট ত্রুবিনের নাগালের অনেক ওপর দিয়ে গিয়ে গোলপোস্টের উপরের কোণায় আছড়ে পড়ে। এই দর্শনীয় গোলের পর স্বাগতিক দর্শকদের সামনে গিয়ে কিছুটা আক্রমণাত্মকভাবে উদযাপন করার দায়ে ভিনিসিয়ুসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
ম্যাচের আসল নাটকীয়তা ও বিতর্ক শুরু হয় এর কিছুক্ষণ পর। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় প্রেস্তিয়ান্নি ভিনিসিয়ুসের উদ্দেশ্যে একটি মন্তব্য করেন, যাকে বর্ণবাদী বলে দাবি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে ভিনিসিয়ুস তাৎক্ষণিক রেফারিকে বিষয়টি জানান এবং প্রতিবাদস্বরূপ রিয়ালের সকল খেলোয়াড়কে নিয়ে মাঠের বাইরে নিজের ডাগআউটের দিকে চলে যান। পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে পড়লে রেফারি খেলা স্থগিত রাখতে বাধ্য হন। এই ১০ মিনিটের অচলাবস্থার মাঝে সাইডলাইনে তর্কে জড়ানোর কারণে বেনফিকার কোচিং স্টাফের একজন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয় এবং আলাদা একটি ঘটনায় বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহোকেও লাল কার্ড দেখান রেফারি। এ সময় রিয়ালের আরেক তারকা কিলিয়ান এমবাপেকেও বেশ বিচলিত ও অসন্তুষ্ট দেখা যায়।
দীর্ঘ বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও মাঠের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়নি। ভিনিসিয়ুসের পায়ে বল গেলেই পুরো স্টেডিয়ামে গগনবিদারী দুয়ো ধ্বনি শোনা যাচ্ছিল, যা খেলোয়াড়দের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে যখন উত্তেজিত বেনফিকা সমর্থকরা রিয়াল খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে পানির বোতল ও বিভিন্ন বস্তু বৃষ্টির মতো ছুড়তে শুরু করে। এমন বৈরী ও ভীতিকর পরিস্থিতির মাঝেই ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী বুধবার রিয়ালের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে লিসবনের এই জয় রিয়াল শিবিরে লিড এনে দিলেও বর্ণবাদের এই নতুন ঘটনা এবং গ্যালারির বিশৃঙ্খলা ইউরোপীয় ফুটবলে আবারও বড় এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় বেনফিকার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ এক যুগের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ঐতিহাসিক এক জয়ের দেখা পেল নেপাল। গত কয়েক আসরে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছিল তাদের। তবে গতকাল মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের মাঠে স্কটল্যান্ডকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে হিমালয়ের দেশটি। যদিও এই জয়ের আগেই নেপালের এবারের বিশ্বকাপ সফর শেষ হওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, তবে ১২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে এই জয় দলটির জন্য এক বড় মানসিক প্রশান্তি ও মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা স্কটল্যান্ড বেশ শক্তিশালী সংগ্রহই দাঁড় করিয়েছিল। মাইকেল জোন্সের ৪৫ বলে ৭১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে তারা। স্কটিশদের উদ্বোধনী জুটিতে জর্জ মানসির সঙ্গে ৮০ রান যোগ করে বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন জোন্স। পরবর্তীতে ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেনের সঙ্গে আরও ৫২ রানের জুটি গড়েন তিনি। এক পর্যায়ে ১ উইকেটে ১৩২ রান তুলে ফেলা স্কটল্যান্ডকে চেপে ধরেন নেপালি বোলাররা। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপে নেপালের সবশেষ জয় পাওয়া দলের একমাত্র সদস্য অভিজ্ঞ পেসার সোমপাল কামি বল হাতে জাদু দেখান। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচ করে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া নন্দন যাদব পান দুটি উইকেট। শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় স্কটল্যান্ডের ইনিংস ১৭০ রানেই থমকে যায়।
১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেপাল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং শুরু করে। কুশল ভুর্টেল ও আসিফ শেখের উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ার প্লেতেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৬ রান তোলে তারা। তবে দশম ওভারে ৭৪ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর কিছুটা চাপে পড়ে নেপাল। কুশল ভুর্টেল ৪৩ ও আসিফ শেখ ৩৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অধিনায়ক রোহিত পাউডেলও ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। মাইকেল লিস্কের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে নেপাল যখন কিছুটা দিশেহারা, তখন ক্রিজে আসেন দলের বর্তমান সময়ের সেরা তারকা দীপেন্দ্র সিং আইরি।
খেলার শেষ ৩৬ বলে যখন ৭১ রানের কঠিন সমীকরণ ছিল, তখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন আইরি। মাত্র ২৩ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে ৫০ রানের এক অপরাজিত টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। পুরো ইনিংসে মাত্র দুটি ডট বল খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেপালের হাতে নিয়ে আসেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন তরুণ গুলশান ঝা, যিনি ১৭ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থেকে জয়সূচক রানটি নেন। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেট জুটির ওপর ভর করে ৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নেপাল। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন দীপেন্দ্র সিং আইরি। এই জয়ের মাধ্যমে নেপাল কেবল তাদের ১২ বছরের জয়খরাই কাটায়নি, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যের এক শক্তিশালী বার্তা দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। মঙ্গলবার রাতে স্বদেশি ক্লাব এএস মোনাকোর বিপক্ষে শুরুতে দুই গোল হজম করে খাদের কিনারে চলে গেলেও, শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের এক রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লুইস এনরিকের দল। নাটকীয়তায় ঠাসা এই ম্যাচে পিএসজির জয়ের নায়ক ২০ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে, যিনি বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে দলের ভাগ্য বদলে দেন। এই জয়ের ফলে আগামী সপ্তাহে নিজেদের মাঠে ফিরতি লেগের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকল ফরাসি জায়ান্টরা।
মোনাকোর ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুটা পিএসজির জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। খেলা শুরুর মাত্র ৫৫ সেকেন্ডের মাথায় মাঝমাঠে পিএসজির রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে আলেকজান্ডার গোলোভিন একটি নিখুঁত ক্রস বাড়ান, যা থেকে চমৎকার হেডে মোনাকোকে এগিয়ে দেন ফোলারিন বালোগুন। গোল হজম করে পিএসজি কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়লে ১৮ মিনিটের মাথায় আবারও হানা দেন বালোগুন। সতীর্থের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে মোনাকোকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়ে পিএসজি শিবিরে স্তব্ধতা নামিয়ে আনেন তিনি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পিএসজি যখন মরিয়া হয়ে পথ খুঁজছিল, ঠিক তখনই ২৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে।
দেম্বেলের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় তরুণ প্রতিভা দেজিরে দুয়েকে, আর এই পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ২৯ মিনিটে বার্কোলার পাস থেকে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোল করে ব্যবধান কমান দুয়ে। এর আগে ভিতিনিয়া পেনাল্টি মিস না করলে হয়তো সমতা আগেই আসত। তবে ৪১ মিনিটে দুয়ের নেওয়া এক জোরালো শট মোনাকো গোলরক্ষক প্রতিহত করলে ফিরতি বলে গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান আশরাফ হাকিমি। প্রথমার্ধের নাটকীয়তা শেষে সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মোনাকোর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে আলেকজান্ডার গোলোভিনের লাল কার্ড। ৪৮ মিনিটে ভিতিনিয়াকে ফাউল করার দায়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে, যার ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগায় পিএসজি। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে তারা মোনাকোর রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। অবশেষে ৬৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোলটি পায় পিএসজি। ওয়ারেন জাইরে এমেরির পাস থেকে বক্সে বল পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন দেজিরে দুয়ে।
ম্যাচজুড়ে ৭৩ শতাংশ বলের দখল এবং ২৯টি শট নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল পিএসজি, যার মধ্যে ১২টিই ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে মোনাকো মাত্র ৭টি শট নিলেও তার ৪টিই ছিল বিপজ্জনক। সরাসরি শেষ ষোলোতে উঠতে ব্যর্থ হওয়া পিএসজির জন্য এই জয়টি ছিল আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের বড় মাধ্যম। বিশেষ করে দেম্বেলের চোটের দিনে দুয়ের এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্স কোচ লুইস এনরিকেকে স্বস্তি দেবে। এখন ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে এই লিড ধরে রাখতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হবে প্যারিসের ক্লাবটির।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে টুর্নামেন্টের ভাগ্য এখন সুপার এইট বা শেষ আটের দোরগোড়ায়। নাটকীয়তায় ভরা এই আসরে ইতিমধ্যে সাতটি দল তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে এবং বাকি একটি স্থানের জন্য লড়াই চলছে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে। এবারের আসরের সবচেয়ে বড় অঘটন হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২১ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিদায়কে। গ্রুপ ‘বি’ থেকে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়ায় অজিদের খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগির সুবাদে জিম্বাবুইয়ানরা এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
আইসিসি কর্তৃক আগে থেকেই নির্ধারিত ‘বাছাই’ ও ‘অবাছাই’ পদ্ধতির কারণে দলগুলোর অবস্থান এবং গ্রুপিং ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে দলগুলোর অবস্থান যাই হোক না কেন, পূর্বনির্ধারিত সিডিং বা বাছাই তালিকার ভিত্তিতেই তাদের সুপার এইটের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, এক নম্বর গ্রুপে লড়বে ভারত (এ১), জিম্বাবুয়ে (বি১-অস্ট্রেলিয়ার স্থলে), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সি১) এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (ডি১)। অন্যদিকে, দুই নম্বর গ্রুপে জায়গা পেয়েছে শ্রীলঙ্কা (বি২), ইংল্যান্ড (সি২) ও নিউজিল্যান্ড (ডি২)। এই গ্রুপের চতুর্থ দল হিসেবে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় পেলে যুক্ত হবে পাকিস্তান (এ২), অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র বা গাণিতিক সমীকরণে টিকে থাকা নেদারল্যান্ডস এই সুযোগ পাবে।
সুপার এইটের লড়াই পদ্ধতি অনুযায়ী, দুই গ্রুপের দলগুলো নিজেদের মধ্যে একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে এবং প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হবে। ফাইনালের পথে পা বাড়াতে এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষ দল খেলবে দুই নম্বর গ্রুপের রানার্সআপের সঙ্গে, আর দুই নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল মোকাবিলা করবে এক নম্বর গ্রুপের রানার্সআপকে। এবারের টুর্নামেন্টে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোর দুর্দান্ত ফর্ম সাবেক পরাশক্তিদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সামনের লড়াইগুলোকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসন্ন এই মহাযুদ্ধের সময়সূচিও এখন ক্রীড়াপ্রেমীদের হাতের নাগালে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় নিউজিল্যান্ড ও গ্রুপ ‘এ’-র দ্বিতীয় দলের মধ্যকার লড়াইয়ের মাধ্যমে শুরু হবে এই পর্ব। পরদিন পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড এবং আহমেদাবাদে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড ও ২৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার খেলা রয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২৬ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং চেন্নাইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে। লড়াকু এই পর্বের শেষ দিনে অর্থাৎ ১ মার্চ দিল্লিতে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম জিম্বাবুয়ে এবং সবশেষে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধ্রুপদী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে সেমিফাইনালের চার সেনাপতি। সব মিলিয়ে কলম্বো থেকে আমেদাবাদ—পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন সুপার এইটের চূড়ান্ত উত্তাপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মুসলিম খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ডের ফুটবল কর্তৃপক্ষ। বরাবরের মতো এবারও দেশটির শীর্ষ দুই ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘প্রিমিয়ার লিগ’ ও ‘ইংলিশ ফুটবল লিগে’ (ইএফএল) ম্যাচ চলাকালীন ইফতারের জন্য সংক্ষিপ্ত বিরতির সুযোগ দেওয়া হবে। এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে রোজা রাখা ফুটবলাররা মাঠের ভেতরেই তরল পানীয় বা সম্পূরক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত ইফতার সম্পন্ন করে পুনরায় খেলায় মনোনিবেশ করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যে রমজান মাসে সূর্যাস্তের সময় সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে হয়ে থাকে। এই সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মূলত শনিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট এবং রোববার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচগুলোতে ইফতারের সময়ের সম্ভাবনা বেশি। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট দুই ক্লাবের অধিনায়ক এবং ম্যাচ রেফারিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নেবেন যে কোনো খেলোয়াড় বা অফিশিয়ালের বিরতি প্রয়োজন আছে কি না। যদি প্রয়োজন থাকে, তবে খেলার মাঝখানে কোনো একটি স্বাভাবিক বিরতি—যেমন গোল কিক, ফ্রি-কিক কিংবা থ্রো-ইনের সময় খুঁজে নিয়ে এই সুযোগটি করে দেওয়া হবে।
তবে এই বিরতির ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইফতারের জন্য খেলাকে মাঝপথে জোরপূর্বক থামিয়ে দেওয়া হবে না, বরং খেলার স্বাভাবিক গতির মধ্যেই সুযোগটি তৈরি করা হবে। এছাড়া, এই সংক্ষিপ্ত বিরতিকে কোনোভাবেই দলীয় ‘ড্রিঙ্কস ব্রেক’ কিংবা কোচেদের ‘কৌশলগত টাইম-আউট’ হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হবে রোজাদার খেলোয়াড়দের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করা।
ইংলিশ ফুটবলে এই মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থাটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ২০২১ সালে। সে বছরের এপ্রিলে লিস্টার সিটি এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের মধ্যকার ম্যাচে প্রথমবারের মতো ইফতারের জন্য খেলা সাময়িক বিরতি দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতি বছরই রমজান মাসে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ এই নীতি বজায় রেখে আসছে, যা বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থেকে মুসলমানরা তাঁদের ধর্মীয় আনুগত্য প্রকাশ করেন। আধুনিক ফুটবলের তীব্র শারীরিক পরিশ্রমের মাঝেও মুসলিম খেলোয়াড়রা যেভাবে রোজা পালন করেন, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রিমিয়ার লিগের এই উদ্যোগ বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোহাম্মদ সালাহ, রিয়াদ মাহরেজের মতো বিশ্বসেরা তারকারা অতীতেও মাঠের এই সহযোগিতার জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এ বছরও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় খেলোয়াড়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে বড় ধরনের হোঁচট খেল বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ থাকলেও জিরোনার মাঠে ২-১ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে কাতালান জায়ান্টদের। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের পেনাল্টি মিস এবং রক্ষণভাগের শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় বার্সাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে খালি হাতে। এই পরাজয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে রিয়াল মাদ্রিদের আধিপত্য আরও সুসংহত হলো। গত বৃহস্পতিবার কোপা দেল রে-তে হারের পর এটি বার্সেলোনার টানা দ্বিতীয় পরাজয়, যা দলটির আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
জিরোনার ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই কাতালান ডার্বিতে শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরা ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা শুরু থেকেই সপ্রতিভ ছিলেন এবং ইয়ামালের সাথে মিলে বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তবে জিরোনার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক পাওলো গাজানিগা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বার্সার আক্রমণগুলো নস্যাৎ করে দেন। উল্টো পাল্টা আক্রমণে বার্সার রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ডেলি ব্লাইন্ড দানি ওলমোকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় বার্সা। কিন্তু সমর্থকদের হতাশ করে লামিনে ইয়ামালের নেওয়া স্পট কিকটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে, ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বার্সার আক্রমণের ধার আরও বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলশ্রুতিতে ৫৯ মিনিটে তারা গোলের দেখা পায়। জুলেস কুন্দের একটি নিখুঁত ক্রস থেকে বক্সে থাকা তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি চমৎকার হেডের সাহায্যে বল জালে পাঠালে লিড নেয় সফরকারী শিবির। তবে বার্সেলোনার এই লিড স্থায়ী হয়েছিল মাত্র দুই মিনিট। ৬১ মিনিটে ভ্লাদিস্লাভ ভানাতের বাড়ানো নিচু পাস থেকে থমাস লেমার সহজেই জিরোনার হয়ে সমতা ফেরান। এরপর ম্যাচে লিড নেওয়ার জন্য উভয় দলই মরিয়া হয়ে ওঠে। বার্সা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া বেশ কিছু অসামান্য ডাবল সেভ করে দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে জিরোনার বেলত্রান একটি নিচু কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন। যদিও বার্সা খেলোয়াড়রা গোলের শুরুতে কুন্দেকে ফাউল করার দাবি তুলেছিলেন, তবে রেফারি তা আমলে না নিয়ে গোলটি বহাল রাখেন। শেষ দিকে রবার্ট লেভানডোভস্কি একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে ইয়ামালকে ফাউল করার দায়ে জিরোনার জোয়েল রোকা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও স্কোরলাইনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এই হারের ফলে ২৪ ম্যাচ শেষে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই থাকল বার্সা, যেখানে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানটি এখন রিয়ালের দখলে। বার্সেলোনার এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা শিরোপা জয়ের পথকে আরও কঠিন করে তুলল।