ছোট সংস্করণের ক্রিকেট মহাযজ্ঞের এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া। কেন তারা ফেবারিট; সেটার প্রমাণ দিয়েছে প্রথম দুই ম্যাচেই। ওমানকে হারানোর পর হারিয়েছে গ্রুপের পরাশক্তি ইংল্যান্ডকেও। এখন অস্ট্রেলিয়া আছে হ্যাটট্রিক জয়ের খোঁজে। সেজন্য তাদের সামনে প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল নামিবিয়া। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৬টায় নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে অজিরা। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে। ম্যাচের সরাসরি ধারাবিবরণী প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।
শক্তি-সামর্থ্য, বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিতি কিংবা পরিসংখ্যান কোনো কিছুতেই অস্ট্রেলিয়ার ধারে-কাছেও নেই নামিবিয়া। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের ফারাকটা বেশ বড়; ১২ ধাপ। র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা দল। আর নামিবিয়ার অবস্থান ১৩তম।
মুখোমুখি দেখায়ও পরিসংখ্যান কথা বলছে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই। বিশ্বকাপের মূল পর্বে নামার আগে নামিবিয়ার বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল অজিরা। সেখানে প্রথমে ব্যাট করে নামিবিয়া করেছিল ১১৯ রান। ওয়ার্নার ঝড়ে সেই রান অস্ট্রেলিয়া পার করেছিল মাত্র ১০ ওভারেই। ওয়ানডে ক্রিকেটে একবারের দেখায়ও জয়ের উল্লাস অস্ট্রেলিয়ারই।
এ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বের অন্যতম সেরা। ডেভিড ওয়ার্নার, ট্রাভিস হেড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কাস স্টয়নিস, টিম ডেভিড, অধিনায়ক মিচেল মার্শ, ম্যাথু ওয়েডদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী এবং লম্বা ব্যাটিংলাইন। ডেভিড ওয়ার্নার আছেন নিজের সেরা ছন্দে; প্রথম দুই ম্যাচেই দেখিয়েছেন তার ঝলক। ট্রাভিস হেডও ভয়ংকর রূপ দেখাচ্ছে প্রতি ম্যাচেই।
অন্যদিকে বোলিংয়েও শক্তিশালী অজিরা। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজেলউড, অ্যাডাম জাম্পা, নাথান এলিসদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী বোলিং লাইন আক্রমণ।
অন্যদিকে নামিবিয়ার একটু পরিচিত তারকা বলতে শুধু ডেভিড ভিসাই। বাকিদের অবস্থা অনেকটা আনকোরার মতোই। বিশ্ব ক্রিকেটে নেই তেমন পরিচিতি।
ইতোমধ্যেই প্রথম দুই ম্যাচে জিতে সুবিধা আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকেও হারের তেতো স্বাদ দিয়েছে তারা। তাই তৃতীয় ম্যাচ জিতে হ্যাটট্রিক জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই সুপার এইটে যেতে চাইবে মিচেল মার্শের দল। সেখানে নামিবিয়ার লক্ষ্য থাকবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়া।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ জিতে আসরে দারুণ শুরুর আভাস দিয়েছিল নামিবিয়া। স্বল্প রানের ম্যাচে নির্ধারিত ওভারে ড্র হলে খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে ওমানকে হারিয়ে জয় দিয়ে আসর শুরু করে তারা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই হোচট খায় স্কটল্যান্ডের কাছে। এ ম্যাচে হারানোর কিছুই নেই নামিবিয়ার। তাই একটা মরণ দিতেই চাইবে ডেভিড ভিসারা। সেজন্য বোলিংয়ের সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে দুর্দান্ত ব্যাট করতে হবে নামিবিয়াকে।
তবে এ ম্যাচেও শঙ্কা সেই উইকেট নিয়েই। নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামের উইকেট এখনো বদলাচ্ছে না তার পুরোনো রূপ। রানখরা চলছেই এখানকার উইকেটে। সবশেষ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আরেকবার দেখা গেল সেটাই। ভারতের দেওয়া ১১৯ রানও তাড়া করতে পারেনি পাকিস্তান। উইকেটের অসম বাউন্স ভুগিয়েছে দুই দলের ব্যাটারদেরই। এ ম্যাচেও তেমন কিছুরই শঙ্কা পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আরেকটি লো-স্কোরিং ম্যাচ দেখা যেতে পারে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছে ভারত। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কিউইদের বিধ্বস্ত করার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপা জয়ের নজির গড়ল সূর্যকুমার যাদবের দল। একই সাথে প্রথম দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ডও এখন ভারতের দখলে। এর আগে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুবার করে এই গৌরব অর্জন করলেও এবারের জয়ের মধ্য দিয়ে টিম ইন্ডিয়া সবাইকে ছাড়িয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করল।
আহমেদাবাদের মাঠে টস জিতে ভারতকে আগে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সানজু স্যামসন। কিউই বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ভারত কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯২ রান তুলে নেয়। বিধ্বংসী মেজাজে থাকা অভিষেক শর্মা মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন, যা দলের জন্য বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২১ বলে ৫১ রান করে তিনি আউট হন। এরপর ইশান কিষাণকে নিয়ে তান্ডব বজায় রাখেন সানজু স্যামসন। ৪৬ বলে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ৮৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন তিনি। ইশান কিষাণের ৫৪ এবং শেষ দিকে শিবম দুবের ৮ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায়।
২৫৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষ হতে না হতেই ৩ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা। কিউইদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ফিন অ্যালেন ৯ ও রাচিন রবীন্দ্র ১ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে লড়াকু ফিফটি তুলে নেন টিম সেইফার্ট। তিনি মাত্র ২৬ বলে ৫টি ছক্কায় ৫২ রান করেন, তবে তাঁর বিদায়ে কিউইদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা পুরোপুরি ফিকে হয়ে যায়। দলের হয়ে অধিনায়ক স্যান্টনার সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন, তবে অন্য ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় পুরো দল ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।
নিউজিল্যান্ডের এই ভরাডুবির নেপথ্যে মূল কারিগর ছিলেন ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। তিনি মাত্র ১৫ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন বিধ্বংসী জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে মাতোয়ারা পুরো ভারত। প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপা জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক মানদণ্ড স্থাপন করল ভারত, যেখানে আগেভাগেই চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিবেচিত হওয়া অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোকে এখন তাদের পেছনে থেকেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ঐতিহাসিক জয় ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের শক্তিকে নতুন করে জানান দিল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে তিন ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ২৫৫ রান করেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আর এবারের বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথমটিও ভারতেরই।
এর আগে ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় নিউজিল্যান্ড। আজ সেই আক্ষেপ ঘুচানোর সুযোগ ব্লাক ক্যাপসদের সামনে।
রোববার ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনাল ম্যাচে সাঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ইশান কিশানের ব্যাটিং তাণ্ডবে ৫ উইকেটে ২৫৬ রানের পাহাড় গড়ে ভারত।
দলের হয়ে মাত্র ৪৬ বলে ৫টি চার আর ৮টি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন সাঞ্জু স্যামসন। তিনি দলকে ফাইনালে তুলতে সেমিফাইনালেও খেলেন ৮৯ রানের ইনিংস। তার আগের ম্যাচে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে ৯৭* রানের লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে সেমিফাইনালে তুলে দেন।
আজ ফাইনাল ম্যাচে ইনিংসের শুরুতে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ২১ বলে ৬টি চার আর তিন ছক্কায় ৫২ রান করে ফেরেন অভিষেক শর্মা।
তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ বলে চারটি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৫৪ রান করে ফেরেন ইশান কিশান। ইনিংসের শেষ ওভারে তাণ্ডব চালিয়ে তিন চার আর দুই ছক্কায় ২৪ রান আদায় করে নেন শিবম দুবে। তিনি মাত্র ৮ বল ২৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে নিউজিল্যান্ড। রোববার (৮ মার্চ) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।
ঘরের মাঠে দর্শকদের নিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে উৎসব করতে চায় সূর্যকুমার যাদবের দল। তবে পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে থেকেই ফাইনালে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলতে নামছে কিউইরা।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ মঞ্চে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তিনবারই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের কাছে কখনও অপরাজিত কিউইরা।
ফাইনালের একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি ভারত। সেমিফাইনালের সেই একাদশ নিয়েই শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মাঠে নামছে সূর্যকুমার যাদবের দল। অন্যদিকে এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে নিউজিল্যান্ড। কোল ম্যাকোনকির জায়গায় দলে ঢুকেছেন জ্যাকব ডাফি।
ভারত একাদশ: অভিষেক শর্মা, স্যাঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষাণ, সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল, বরুণ চক্রবর্তী, অর্শদিপ সিং ও জাস্প্রিত বুমরাহ।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: ফিন অ্যালেন, টিম সাইফার্ট (উইকেটরক্ষক), রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরি, জ্যাকব ডাফি ও লকি ফার্গুসন।
কোপা দেল রের সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হারের ধাক্কা কাটিয়ে লা লিগায় আবারও জয়ের ধারায় ফিরেছে বার্সেলোনা। শনিবার রাতে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠ সান মেমেসে ১-০ গোলের এক ঘামঝরানো জয় পেয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে বিলবাও বার্সা রক্ষণভাগে বারবার আক্রমণের ঢেউ তুললেও শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলটি আসে বর্তমান সময়ের বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালের পা থেকে। এই জয়ে ২৭ ম্যাচে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল কাতালানরা, যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। অবশেষে ৬৮তম মিনিটে তৈরি হয় সেই জাদুকরী মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রি গঞ্জালেসের বাড়ানো নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। অত্যন্ত সুনিপুণভাবে শুটিং অ্যাঙ্গেল তৈরি করে তাঁর চিরচেনা বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। চলতি মৌসুমে সব ধরণের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ১৮ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ তারকার ১৯তম গোল, যা তাঁর ধারাবাহিক ফর্মেরই প্রতিফলন।
আগামী মঙ্গলবার নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ শেষ ষোলোর ম্যাচকে সামনে রেখে এদিন মূল একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। দলের সেরা তারকা রাফিনহা, পেদ্রি ও ফারমিন লোপেজদের ম্যাচের শেষ আধঘণ্টার আগে মাঠে নামাননি তিনি। তাঁদের বদলে শুরুর একাদশে সুযোগ পান মার্কাস র্যাশফোর্ড, মার্ক বার্নাল ও মার্ক কাসাদো। এছাড়াও ইনজুরিতে থাকা জুলেস কুন্দে ও আলেজান্দ্রো বালদের অনুপস্থিতিতে রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব পালন করেন এরিক গার্সিয়া ও জোয়াও কানসেলো।
রিয়াল মাদ্রিদের আগের দিনের জয়ের ফলে দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ১-এ নেমে এসেছিল। তবে ইয়ামালের এই একমাত্র গোলটি বার্সেলোনাকে আবারও ৪ পয়েন্টের স্বস্তিদায়ক লিড এনে দিল। বিলবাও সমতায় ফেরার বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও বার্সার জমাট রক্ষণভাগ এদিন কোনো ভুল করেনি। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মহারণে নামার আগে এই জয়টি বার্সেলোনা শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লা লিগার শিরোপা দৌড় এখন ফ্লিকের দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি। শনিবার রাতে বাল্টিমোরের মাঠে ডিসি ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। এই জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি কেবল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থানই শক্ত করেনি, বরং অধিনায়ক লিওনেল মেসি ব্যক্তিগত এক অনন্য মাইলফলকের একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। এদিন ক্যারিয়ারের ৮৯৯তম গোলটি পূর্ণ করেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এখন ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাঁর ক্যারিয়ারের ঐতিহাসিক ৯০০তম গোলটির জন্য।
লিওনেল মেসিকে ঘিরে দর্শকদের আকাশচুম্বী উন্মাদনার কথা বিবেচনা করে ম্যাচটি ওয়াশিংটনের ছোট ভেন্যু থেকে সরিয়ে বাল্টিমোরের বড় স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয়েছিল। আয়োজকদের সেই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তার প্রমাণ মেলে গ্যালারিতে উপস্থিত ৭২ হাজার ২৬ জন রেকর্ড সংখ্যক দর্শকের ভিড়ে। দর্শকদের এই বিপুল সমাগমকে মায়ামি উপহার দিয়েছে এক দর্শনীয় জয়। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে প্রথম লিড এনে দেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা রদ্রিগো ডি পল। এর মাত্র ১০ মিনিট পরেই অর্থাৎ ২৭ মিনিটে মাতেও সিলভেত্তির পাস ধরে ডিসি ইউনাইটেডের গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ২-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন মেসি। চলতি মৌসুমে তিন ম্যাচ খেলে এটি মেসির তৃতীয় গোল।
মাঠে নামার আগের দিনটি ইন্টার মায়ামির জন্য ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। গত বৃহস্পতিবার পুরো দল হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো কাটানোর রেশ নিয়েই মাঠে নেমে দাপুটে ফুটবল খেলেছে লুইস সুয়ারেজ-মেসিদের দল। যদিও ৭৫তম মিনিটে টাই বারিবো ডিসি ইউনাইটেডের হয়ে একটি গোল শোধ করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত সমতায় ফেরার মতো যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
৩৮ বছর বয়সেও মেসির এমন বিধ্বংসী ফর্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি খুব শীঘ্রই ইতিহাসের দ্বিতীয় পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ৯০০ গোলের রাজকীয় ক্লাবে নাম লেখাতে যাচ্ছেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর এই অসামান্য কীর্তি গড়ার সুযোগ মেসির সামনে আসবে আগামী বুধবারই। এদিন কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ম্যাচে ন্যাশভিলের মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি। লিগের প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করলেও টানা দুই জয়ে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে মায়ামি। ভক্তদের প্রত্যাশা, বুধবারের ম্যাচেই মেসি তাঁর জাদুকরী ৯০০তম গোলের মাইলফলকটি স্পর্শ করবেন।
দলের প্রধান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি, কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতি মাঠের খেলায় বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি। নরওয়েজীয় স্ট্রাইকারের বিকল্প হিসেবে সুযোগ পেয়ে নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ। তাঁর দুর্দান্ত জোড়া গোলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা অষ্টম বারের মতো এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। সিটি যেন আরও একবার প্রমাণ করল কেন তাঁরা বর্তমান ফুটবলের অন্যতম অপ্রতিরোধ্য শক্তি।
এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডের এই ম্যাচে শুরুর দিকে নিউক্যাসলের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে কিছুটা হিমশিম খেতে হয়েছিল সিটিকে। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলিয়ান তারকা সাভিনহোর সমতাসূচক গোলটি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় মারমুশ শো। চমৎকার ফিনিশিংয়ে একে একে দুটি গোল করে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন তিনি। বিশেষ করে সিটির হয়ে তাঁর করা ১৪টি গোলের অর্ধেকই এসেছে নিউক্যাসলের বিপক্ষে, যা এক অনন্য পরিসংখ্যান। ৭৩ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় কোচ গার্দিওলা তাঁকে জড়িয়ে ধরে বাহবা দেন এবং মারমুশকে একজন ‘শীর্ষ স্ট্রাইকার’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এফএ কাপে ম্যানসিটির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান রীতিমতো বিস্ময়কর। শেষ ২১টি ম্যাচের মধ্যে ১৯টিতেই জয় পেয়েছে তাঁরা। শুধুমাত্র গত দুই বছরের ফাইনালে পরাজিত হওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনো হার নেই। বড় বড় সব পরিবর্তন নিয়ে দল সাজানোর পরও ম্যানসিটি যেভাবে খেলছে, তাতে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলা এখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
সিটির পাশাপাশি এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে অন্য দুই জায়ান্ট আর্সেনাল ও চেলসি। গানাররা প্রায় ৯৭ বছর পর প্রথমবারের মতো ম্যানসফিল্ড টাউনের মুখোমুখি হয়ে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে। এবেরেচি এজের একমাত্র গোলটিই আর্সেনালকে শেষ আটে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে চেলসিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে রেক্সহ্যামের বিপক্ষে। নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়, যেখানে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্লুজরা। সব মিলিয়ে এফএ কাপের নকআউট পর্ব এখন চূড়ান্ত রোমাঞ্চের অপেক্ষায়।
ক্রিকেট বিশ্ব আজ এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ ‘প্লাঙ্কেট শিল্ড’-এ সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে খেলার সময় ফাস্ট বোলার ব্রেট র্যান্ডেল টানা ৫ বলে ৫ উইকেট শিকার করেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ২৫৪ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন কীর্তি এর আগে আর কোনো বোলার করতে পারেননি। ১৭৭২ সালে প্রথম স্বীকৃত প্রথম শ্রেণির ম্যাচ শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই রেকর্ডটি ছিল অধরা।
নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে অনুষ্ঠিত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে চার দিনের এই ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে এই জাদুকরী তাণ্ডব চালান ৩০ বছর বয়সী এই ডানহাতি সিমার। অ্যাসোসিয়েশন অব ক্রিকেট স্ট্যাটিস্টিশিয়ান্স অ্যান্ড হিস্ট্রিয়ান্স-এর রেকর্ড অনুযায়ী, আড়াই শতাব্দী ধরে চলা এই ফরম্যাটে এটিই প্রথম ঘটনা। যদিও গত বছর আয়ারল্যান্ডের কুর্টিস ক্যাম্ফার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টানা পাঁচ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন, তবে লাল বলের আভিজাত্যপূর্ণ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্রেট র্যান্ডেলই এখন এই বিরল রেকর্ডের একক মালিক।
র্যান্ডেলের এই অভাবনীয় স্পেলটি শুরু হয় তাঁর দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে হেনরি কুপারকে বোল্ড করার মাধ্যমে। এরপর নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে প্রথম বলেই তিনি সাজঘরে ফেরান নিউজিল্যান্ডের সাবেক টেস্ট ব্যাটার জিত রাভালকে। পরবর্তী তিন বলে আরও তিন উইকেট নিয়ে তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান। মূলত অলরাউন্ডার ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ককে বোল্ড করার মাধ্যমেই তিনি তাঁর ঐতিহাসিক পঞ্চম উইকেট এবং বিশ্বরেকর্ডটি পূর্ণ করেন।
র্যান্ডেলের বোলিংয়ের তোপে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পুরো ব্যাটিং লাইনআপ। তিনি এখানেই ক্ষান্ত হননি; পরের ওভারে আরও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে দেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস প্রথমে ব্যাট করে ৩৭৩ রান সংগ্রহ করেছিল। ৩৮ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটিই র্যান্ডেলের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। মাত্র ২৫ রান খরচ করে ৭ উইকেট শিকার করে তিনি এখন সারা বিশ্বের ক্রিকেট প্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। ৯ বছরের পরিশ্রমের পর এমন একটি রাজকীয় পারফরম্যান্স তাঁকে রাতারাতি কিংবদন্তিদের কাতারে পৌঁছে দিল।
নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপপর্বের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ ম্যাচে আগামীকাল সোমবার উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় রচনার হাতছানি দিচ্ছে। র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে উজবেকিস্তান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও, এই ম্যাচটি জিতলে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে জয়ের স্বাদ পাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই একটি জয় কেবল ইতিহাসই গড়বে না, বরং কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পাশাপাশি অলিম্পিক ও বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নকেও বাঁচিয়ে রাখবে।
ম্যাচের আগের দিন আজ পার্থ স্টেডিয়ামের কনফারেন্স কক্ষে কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন অধিনায়ক আফিদা খন্দকার। মাঠের রক্ষণে যেভাবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সুকৌশলে সামলান, সংবাদ সম্মেলনেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন ঠিক ততটাই মিতবাক ও পেশাদার ভঙ্গিতে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে কোনো বাড়তি চাপ না নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘কাল আমাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচ। আমরা সবাই চেষ্টা করব আমাদের সেরাটা দেওয়ার। এখানে আসলে আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা প্রথমবারের মতো এই আসরে কোয়ালিফাই করে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি, এটিই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়।’
বাংলাদেশ ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এই অর্জনের মাহাত্ম্য অনেক। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ পুরুষ দল এশিয়ান কাপে খেললেও কোনো জয়ের দেখা পায়নি। এরপর দীর্ঘ ৪৬ বছরেও তারা এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে ফেরার সুযোগ পায়নি। সেখানে নারী ফুটবল দল ২০২৬ সালে প্রথমবার এশিয়ান মঞ্চে পা রেখেই বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছে। অধিনায়ক আফিদা মনে করেন, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়া অসম্ভব কিছু নয় এবং দলের প্রতিটি সদস্য মাঠের লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত।
সংবাদ সম্মেলনে আফিদার কথা বলার ধরন অনেকটা তারকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের মতো কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ সপ্রতিভ উত্তর দেন। আফিদা জানান, তিনি কাউকে অনুকরণ করেন না, তবে তিনি বিশ্বাস করেন ‘কথার চেয়ে কাজ করা ভালো’। তাঁর মতে, অনেক কথা বলার চেয়ে মাঠে পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করাটাই আসল সার্থকতা। জয় ভিন্ন অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় এই ম্যাচটি বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য ‘ডু অর ডাই’ বা বাঁচা-মরার লড়াই। ড্র বা হার মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়, তাই সর্বশক্তি দিয়ে লড়তে মুখিয়ে আছেন সাবিনা-আফিদারা। দেশবাসীর দোয়া নিয়ে পার্থের মাঠে নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশ নারী দল।
ফরাসি লিগ আঁ-তে শিরোপা জয়ের পথটি পিএসজির জন্য আরও কঠিন ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠল। শুক্রবার রাতে নিজেদের ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে মোনাকোর কাছে ১-৩ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা লুইস এনরিকের দলের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন হুমকির মুখে পড়েছে। আগামী রবিবার টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা লেন্স যদি তলানির দল মেটজকে পরাজিত করতে পারে, তবে পিএসজির সাথে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ১-এ নেমে আসবে।
এদিনের ম্যাচে পিএসজি সমর্থকদের জন্য একমাত্র ইতিবাচক দিক ছিল গত মৌসুমের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা উসমান দেেম্বেলের প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকার পর এদিন তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। দেম্বেলে নামার পর পিএসজির আক্রমণভাগে কিছুটা গতি ফিরলেও দলের হার এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের শুরু থেকেই মোনাকো অত্যন্ত সুসংগঠিত ফুটবল খেলেছে এবং পিএসজির রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে মোনাকোকে প্রথম লিড এনে দেন মাঘনেস আকলিউশ। পিএসজি মিডফিল্ডার ওয়ারেন জাইর-এমেরির একটি রক্ষনাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। প্রথমার্ধে ১-০ তে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি পিএসজি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি হিসেবে নামা আলেক্সান্ডার গোলোভিন। ম্যাচের ৭১ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার একটি ডিফ্লেক্টেড শট জালে জড়ালে পিএসজি শিবিরে প্রাণ ফিরে আসে। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৭৩ মিনিটে আমেরিকান ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক দুর্দান্ত স্ট্রাইক মোনাকোর ৩-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের ফলে ২৫ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে মোনাকো। অন্যদিকে পিএসজি সমান ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে এখনো শীর্ষে থাকলেও শিরোপা দৌড়ে এখন প্রবল চাপের মুখে। লেন্স ২৪ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকায় চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই এখন নতুন মোড় নিল। চলতি মৌসুমে লিগে এটি পিএসজির চতুর্থ পরাজয়। আগামী বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ঘরের মাঠে চেলসিকে আতিথ্য দেবে পিএসজি। তার ঠিক আগে এমন ছন্দহীন পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবেই কোচ লুইস এনরিকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সব মিলিয়ে এখন নিজেদের পুরনো দাপট ফিরে পাওয়ার বড় এক চ্যালেঞ্জের মুখে প্যারিসের ক্লাবটি।
আগামী ১১ মার্চ থেকে মিরপুরের মাঠে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজকে সামনে রেখে ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ শুক্রবার বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজের টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, সাধারণ দর্শকদের কথা বিবেচনা করে টিকিটের সর্বনিম্ন দাম রাখা হয়েছে মাত্র ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা।
বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী, দর্শকরা মাঠের টিকিট ঘরে বসেই অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারবেন। বিসিবি টিকেট ডট কম ডট বিডি (bcbticket.com.bd) ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে। গ্যালারির সাধারণ আসনগুলোর মধ্যে ইস্টার্ন গ্যালারির টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২০০ টাকা। এছাড়া নর্দান গ্যালারি এবং শহীদ আবু সাইদ স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা।
যাঁরা একটু আরামদায়ক পরিবেশে খেলা উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য ক্লাব হাউজের শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড এবং শহীদ মুশতাক স্ট্যান্ডের প্রতিটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৬০০ টাকা। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি সাউথ এবং ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি নর্থ (মিডিয়া ব্লক)-এর টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জ সাউথের টিকিটের দাম ১২০০ টাকা এবং মাঠের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রিমিয়াম আসন গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২ হাজার টাকা।
সিরিজের তিনটি ওয়ানডে ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আগামী ১১ মার্চ প্রথম ওয়ানডের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মাঠের লড়াই। এরপর ১৩ এবং ১৫ মার্চ সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সবগুলো ম্যাচই দিবা-রাত্রির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মাঠের লড়াই শুরুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন অগণিত ভক্ত।
এই সিরিজের জন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দলই তাদের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার স্কোয়াডে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাদেরও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান দল ঢাকায় আসছে তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে। রিজওয়ান, হারিস রউফ এবং সালমান আলী আঘার মতো ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে পাকিস্তান দলও বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ ও শক্তির পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
টানা দুই ম্যাচে হারের বৃত্তে বন্দি থাকার পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগার রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে আলভারো আলবেলোয়ার শিষ্যরা। অনেকটা ভাগ্যগুণে পাওয়া এই জয় রিয়াল শিবিরে স্বস্তি ফেরালেও পুরো ম্যাচে লস ব্লাঙ্কোসদের পারফরম্যান্স ছিল বেশ ছন্নছাড়া। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় একদম শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ফেদে ভালভার্দের করা এক নাটকীয় গোলে।
ইনজুরি জরাগ্রস্ত রিয়াল মাদ্রিদ এদিন ৪-৩-৩ ফরমেশনে মাঠে নামে। নিয়মিত বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে ছাড়াই আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রাহিম দিয়াজ ও আর্দা গুলারকে নিয়ে দল সাজান কোচ। ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে খুব একটা ধার দেখাতে পারেনি সফরকারীরা। বরং পাল্টা আক্রমণে বারবার রিয়াল রক্ষণকে ব্যস্ত করে তুলেছিল সেল্টা ভিগো। রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া এদিন দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে ওঠে। ১১তম মিনিটে রিয়ালকে লিড এনে দেন ফরাসি মিডফিল্ডার অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি। ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের ছোট কর্নার থেকে আর্দা গুলারের পাস পেয়ে এক জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। তবে রিয়ালের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৫তম মিনিটে সেল্টার উইলিয়ট সোয়েডবার্গের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সমতা ফেরান বোরজা ইগলেসিয়াস। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সোয়েডবার্গের আরেকটি জোরালো শট কোর্তোয়া অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দিলে সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুদল।
দ্বিতীয়ার্ধেও রিয়ালের খেলায় ছন্দের অভাব স্পষ্ট ছিল। উল্টো ৮৭তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়ে তারা, যখন সেল্টা তারকা ইয়াগো আসপাসের শট রিয়ালের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন ফেদে ভালভার্দে। যোগ করা সময়ের (৯০+৫ মিনিট) শেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া একটি শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়ায়। এই লক্ষ্যভেদে উল্লাসে মেতে ওঠে রিয়াল শিবির।
পুরো ম্যাচে ১৪টি শট নিলেও মাত্র ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ের ফলে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বর্তমানে ২৭ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। আগামী ম্যাচগুলোতে রিয়াল তাঁদের এই জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাত্র দু’দিন আগেই উলভারহ্যাম্পটনের কাছে হেরে হোঁচট খেয়েছিল লিভারপুল। তবে এফএ কাপের লড়াইয়ে সেই হারের প্রতিশোধ নিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল আর্নে স্লটের শিষ্যরা। উলভসকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে অলরেডরা। দলের এই জয়ে প্রধান কারিগর ছিলেন স্কটিশ ডিফেন্ডার অ্যান্ডি রবার্টসন, যিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি দলের সেরা তারকা মোহামেদ সালাহকে দিয়েও একটি গোল করিয়েছেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য ও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে বিরতির পর ৫১ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন রবার্টসন। পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে এক শক্তিশালী নিচু শটে জালে বল পাঠিয়ে লিভারপুলকে লিড এনে দেন তিনি। এর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় আবারও দৃশ্যপটে রবার্টসন; তাঁর নিখুঁত এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত গোল করেন মোহামেদ সালাহ। লিড পাওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লিভারপুল এবং ৭৪ মিনিটে কার্টিস জোন্স দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন। একদম শেষ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে উলভসের পক্ষে হোয়াং হি-চান একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করলেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
ম্যাচ শেষে রবার্টসন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “গত মঙ্গলবার লিগের ম্যাচে হারার পর আমরা মানসিকভাবে বেশ চাপে ছিলাম। আজকের লক্ষ্যই ছিল সেই ভুলগুলো শুধরে নেওয়া এবং এফএ কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে টিকে থাকা।” রবার্টসন আরও যোগ করেন যে, লিভারপুলের মতো বড় দল সবসময়ই সব ধরণের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখে এবং আজকের এই জয়ের মাধ্যমে তাঁরা সেই পথেই এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। রবার্টসনের অলরাউন্ড নৈপুণ্য ও সালাহর ফিনিশিং লিভারপুল সমর্থকদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে।
আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। লিভারপুল এখন অন্য সাতটি প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় রয়েছে যারা আগামী কয়েক দিনে নির্ধারিত হবে। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগ ও ঘরোয়া কাপ টুর্নামেন্টগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আর্নে স্লটের মূল চ্যালেঞ্জ। রবার্টসনের মতে, লিভারপুল যদি আজকের মতো সাবলীল ফুটবল খেলতে পারে, তবে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই তাঁরা এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়াবেন। অলরেড ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের দিকে।
রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে বড় ধরণের দুঃসংবাদ দিল তাঁর ক্লাব আল নাসর। পর্তুগিজ এই মহাতারকার হ্যামস্ট্রিং চোট যতটা সাধারণ ভাবা হয়েছিল, বাস্তবতা তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। আল নাসর কোচ জর্জে জেসুস গত শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন যে, রোনালদোর ইনজুরি প্রত্যাশার চেয়েও ‘গুরুতর’। এই খবরের পর রোনালদোর অগণিত ভক্ত এবং পর্তুগাল জাতীয় দল—উভয় শিবিরেই এখন গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে। আল ফায়হার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের সেই ম্যাচে খেলার একপর্যায়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি বোধ করেন রোনালদো এবং তাঁকে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থান করছেন। আল নাসর কোচ জেসুস শনিবার নিওম এসসির বিপক্ষে হোম ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “কিছু বিশেষ পরীক্ষানিরীক্ষার পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, ক্রিশ্চিয়ানোর পেশির চোট বেশ গভীর। অন্য খেলোয়াড়রা যেভাবে ইনজুরিতে পড়লে বিশেষায়িত চিকিৎসার সাহায্য নেয়, সেও এখন মাদ্রিদে গিয়ে ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের অধীনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”
রোনালদোর এই চোটের সময়কাল বা তিনি কবে নাগাদ মাঠে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তবে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন আশা করছে, চলতি মাসের শেষ দিকে জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোর আগেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। আগামী ২৮ মার্চ আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে এবং ৩১ মার্চ আটলান্টায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে পর্তুগালের। বিশ্বকাপের আগে দলের প্রধান তারকার এমন শারীরিক অবস্থা কোচিং স্টাফদের পরিকল্পনায় বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে সৌদি প্রো লিগে ২১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রোনালদো। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আল আহলির ইংলিশ ফরোয়ার্ড ইভান টনি (২৪ গোল)। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আল নাসর লিগের শীর্ষস্থানটিও হারিয়েছে; তাঁদের এক পয়েন্টে পেছনে ফেলে এখন চূড়ায় অবস্থান করছে আল আহলি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে রোনালদোর এই ইনজুরি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সবাই এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাঁর রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের।