রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

ধ্বংসাত্মক ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ের সামনে নিউজিল্যান্ড

চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত
প্রকাশিত
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত
প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৪ ২২:১৭

ক্রিকেটীয় মহাযুদ্ধের আরেকটা দিন দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব। বাইশ গজে হবে ধুন্ধুমার লড়াই; আর সেই আনন্দে মেতে উঠবে গ্যালারি কিংবা টেলিভিশন সেটের সামনে থাকা ক্রিকেটপ্রেমীরা। ক্রিকেটীয় মহাযুদ্ধের বাইরেও আছে এ ম্যাচের তাৎপর্য। কারণ এ ম্যাচটা যে সমীকরণ মেলানোর ম্যাচ। এমন টানটান উত্তেজনার ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম দুই শক্তিশালী দেশ। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড। ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টায়। খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসরি প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার।

শক্তির বিচারে কেউ কাউকে নাহি ছাড়ি, সমানে সমান অবস্থা। তবে ক্যারিবীয়দের ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় দর্শক সমর্থনে এগিয়ে থাকবে তারাই। পাশাপাশি চেনা কন্ডিশনও একটা বাড়তি সুবিধা দেবে রোভম্যান পাওয়েলের দলকে।

এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই দুটি ম্যাচ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর উগান্ডাকে অলআউট করেছিল মাত্র ৩৯ রানে। তাই প্রথম দুই ম্যাচ জিতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ক্যারিবীয়রা। শুধু ছোট দলকেই নয়, বিশ্বকাপ শুরুর আগে পূর্ণ শক্তির দল ছাড়াই হোয়াইটওয়াশ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। জয়ের ধারায় থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ টুর্নামেন্টের তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে সেরা আট নিশ্চিত করতে চাইবে।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপরীত চিত্র নিউজিল্যান্ডের। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তারা বড় ব্যবধানে হেরে বসেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। রশিদ-নবীর স্পিন বিষে নীল হওয়ার আগে ফারুকীর পেসে পরাস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল কিউইরা। সেই হারের পর শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা নিয়েই।

বরাবরই বলা হচ্ছে ক্যারিবীয় দ্বীপ অঞ্চল স্পিনারদের জন্য সহায়ক হবে বেশ। আর নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মাথাব্যথার কারণও ওই একটাই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কিউই দলপতি তার দলকেও সে ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন বারবার। কিন্তু নিউজল্যান্ড পা হড়কিয়েছে ওই এক জায়গায়ই।

ব্যাটিংয়ে দুই দলের অবস্থাই অনেকটা কাছাকাছি। ব্র্যান্ডন কিং, নিকোলাস পুরান, জনসন চার্লস, শেরফান রাদারফোর্ড, রোভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেলদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপ বেশ ধ্বংসাত্মক। নিজেদের দিনে যেকোনো কিছু করে দিতে পারেন তারা। তবে ফিন অ্যালেন, ডেভন কনওয়ে, কেন উইলিয়ামসন, ড্যারিল মিচেল, গ্ল্যান ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যানদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইনআপকেও পিছিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

স্পিন বোলিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও পেস বোলিংয়ে এগিয়ে নিউজিল্যান্ডই। ট্রেন্ট বোল্ট, লুকি ফার্গুসন, টিম সাউদি, মিচেল ব্রাসওয়েলদের নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণ কাঁপন ধরানোর সক্ষমতা রাখে যেকোনো দলের। সেখানে আলজারি জোসেফ শুধু পেস বোলার হলেও আন্দ্রে রাসেল, রোমারিও শেফার্ডরা পরিচিত অলরাউন্ডার হিসেবেই।

তবে এ ম্যাচে দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে দুই দলের স্পিন শক্তিই। সেখানে কিছুটা এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজই। আকিল হোসেন, গুদাকেস মতি, রোস্টন চেজরা নিজেদের মাটিতে বেশ ভয়ংকর। বিপরীতে মিচেল স্যান্টনার নিয়মিত একাদশে খেললেও বেঞ্চে সময় কাটাতে হয় ইশ শোধিকে। এ ম্যাচে একাদশে দেখা যেতে পারে তাকে।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় শক্তির জায়গা তাদের অলরাউন্ডাররা। জাত অলরাউন্ডার যাকে বলা হয়; সেটাই ক্যারিবীয়রা। আন্দ্রে রাসেল, রোভম্যান পাওয়েল, রোস্টন চেজ, রোমারিও শেফার্ডরা একেকজন যেন দুইজন খেলোয়াড়। তারা যেমন ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ায় তেমনি বোলিংয়ের শক্তিও বাড়ায়।

তাই এ ম্যাচে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে নিউজিল্যান্ডকে। সি-গ্রুপের পয়েন্ট টেবিল যেটা বলছে, এ ম্যাচে হারলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে নিউজিল্যান্ডের।


মেসির ভাবনায় কোপার ফাইনাল ও ডি মারিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

কোপা আমেরিকার ফাইনালে ফেবারিট কোন দল? কলম্বিয়া না আর্জেন্টিনা? বেশির ভাগ ভোট আর্জেন্টিনার পক্ষে যাওয়াই স্বাভাবিক। ঐতিহ্য কিংবা শক্তিতে কলম্বিয়ার সঙ্গে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের তুলনা চলে না। কিন্তু এটাও মনে রাখা জরুরি, কলম্বিয়া ভাগ্যের জোরে কোপার ফাইনালে উঠে আসেনি। ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসি এ কথাটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মনে করেন, কলম্বিয়া যে টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত সেটার নিশ্চয়ই কারণ আছে। আর কারণ আছে বলেই কলম্বিয়া যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে।

২০২২ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল কলম্বিয়া। এরপর আর তাদের কেউ হারাতে পারেনি। সাবেক কোচ রেইনালদো রুয়েদার অধীনে তিন ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর বর্তমান আর্জেন্টাইন কোচ নেস্তর লরেঞ্জোর অধীনে ২৫ ম্যাচ অপরাজিত কলম্বিয়া। কোপার ফাইনালে এমন প্রতিপক্ষকে সমীহ না করে উপায় আছে! মেসিও তাই বললেন, ‘এই দলটা (কলম্বিয়া) ভালো। দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। আক্রমণেও দ্রুতগামী ও বৈচিত্র্যময় খেলোয়াড় আছে।’

মায়ামিতে গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে আর্জেন্টিনার টিম হোটেলে এই সাক্ষাৎকার দেন মেসি। সেখানে আর্জেন্টিনার ফাইনাল প্রস্তুতি নিয়ে এই কিংবদন্তি বলেছেন, ‘ফাইনাল ম্যাচ সব সময়ই একটু অন্যরকম হয়। কিন্তু আমরা পুরো টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালের আগেও ভালো বোধ করছি। ম্যাচটা কেমন হবে সেটা নিয়েই আমরা ভাবছি।’ ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে যা যা জেতা সম্ভব তার প্রায়ই সবই জেতা সম্পন্ন করেছেন মেসি। এখন সামনে স্পেনের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকে টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্ট জেতানোর সুযোগ মেসিদের সামনে। স্বাভাবিকভাবেই একটু উত্তেজনাবোধ হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু মেসি বললেন শান্ত থাকার কথা, ‘সত্যিটা হলো আমি শান্তই আছি এবং মুহূর্তটির (ফাইনাল) অপেক্ষায় আছি। এখন সবকিছু অনেক বেশি উপভোগ করার চেষ্টা করি। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করি।’

ফাইনালের আগে কেমন বিশ্রাম নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সি মেসি? এ প্রসঙ্গে মেসির কাছে দুটি ফাইনালের অভিজ্ঞতা সমন্ধে জানতে চাওয়া হয়েছিল- মারাকানায় ২০২১ কোপার ফাইনাল এবং ২০২২ ফিনালিসিমা। দুটি ম্যাচই জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসি এ নিয়ে বলেছেন, ‘ঘুমটা ভালো হয়েছিল। কোনো অসুবিধা হয়নি। তবে সত্যিটা হলো আমরা দেরিতে ঘুমোতে গিয়েছি। প্রায় সারা রাত কথা বলেছি আমরা। সবাই মিলে পান করেছি, কার্ড খেলেছি। তাই দেরিতে ঘুমোতে গেলেও ঘুমটা ভালো হয়েছিল।’

কোপার ফাইনাল সামনে রেখে মেসি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চাননি। কারণ, এখন সেই লগ্নটি তার সতীর্থ আনহেল ডি মারিয়ার। কোপার ফাইনাল খেলেই আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখবেন ডি মারিয়া। মেসি এ নিয়ে বলেছেন, ‘সে এটা আগেই পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে। আমরা এখন সবকিছুই উপভোগের চেষ্টা করি, আগে যেসব মুহূর্তকে পাত্তা দিইনি সেগুলোও। সে আগের চেয়ে এখন বেশি আবেগপ্রবণ। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ মুহূর্তে আমরা পাশেই আছি।’

বিষয়:

পাকিস্তানে খেলতে যাবে না ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতি দ্বৈরথ অনেকদিন ধরেই চলে আসছে ক্রিকেট মাঠেও। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ভারতের আপত্তির কারণেই গত এশিয়া কাপ হয়েছিল হাইব্রিড মডেলে। সামনেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। এবার অন্তত কিছুটা আশা ছিল, হয়তো পাকিস্তানে খেলতে যাবে ভারত দল। কিন্তু এবারও পাকিস্তানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভারত অনড় থাকছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

সর্বশেষ এশিয়া কাপেরও আয়োজক ছিল পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত হাইব্রিড মডেলে ভারতের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হয় শ্রীলঙ্কার মাটিতে। এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতেও পাকিস্তানে দল পাঠাবে না ভারত, নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে দুবাই বা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে চায় তারা। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি জানানো হবে আইসিসিকে। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আইসিসির কাছে বিসিসিআই সরকারিভাবে জানাবে, যাতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের ম্যাচ দুবাই অথবা শ্রীলঙ্কায় দেওয়া হয়।’

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চাচ্ছে, ভারতীয় দল দেশটিতে খেলতে যাক। আইসিসির কাছে পাঠানো খসড়া সূচিতে তিনটি ভেন্যু বেছে নিয়েছে বাবর আজমের দেশ। এর মধ্যে ভারতের ম্যাচ রাখা হয়েছে লাহোরে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে ভ্রমণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো এবং ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি শহরটির অবস্থান হওয়ার দেশটির ক্রিকেট ভক্তদের যাতায়াত সহজ হওয়ার কথা। ওই একই ভেন্যুতে টুর্নামেন্টের ফাইনালও হওয়ার কথা রয়েছে।


২৩ বছর পর বহু আকাঙ্ক্ষিত ফাইনালে কলম্বিয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ম্যাচের হিসাবে টানা ২৮ ম্যাচ আর সময়ের হিসাবে দুই বছর পাঁচ মাস অপরাজিত কলম্বিয়া। এ অবস্থায় থেকেই কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল হামেস রদ্রিগেজরা। সেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে উপলক্ষটাও পেয়ে গেল ম্যাচের প্রথমার্ধেই; কিন্তু ৬ মিনিট পরই খেলো বড় ধাক্কা। লাল কার্ড খেয়ে মাঠ ছাড়ে রক্ষণের অন্যতম ভরসা দানিয়েল মুনিয়োস। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় কলম্বিয়া খেলেছেন ১০ জন নিয়ে। এমন সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিতে আসা উরুগুয়ে। উল্টো কলম্বিয়ার রক্ষণের দৃঢ়তায় একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। আর এতে ২৩ বছরে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে কলম্বিয়া।

গতকাল কোপা আমেরিকার উত্তাপ ছড়ানো দ্বিতীয় সেমিফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে কলম্বিয়া। প্রথমার্ধে হামেস রদ্রিগেসের চমৎকার কর্নারে দারুণ ক্রসে ব‍্যবধান গড়ে দিয়েছেন হেফারসন লের্মা। বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে উরুগুয়ে ম্যাচে শট নিয়েছে মোট ১১টি। যার মধ্যে লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ২টি। বিপরীতে ৩৮ শতাংশ বল দখলে রাখা কলম্বিয়া পুরো ম্যাচে শট নিয়েছে ১১টি। যার লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ৪টি। আর সেখান থেকেই আদায় করে নিয়েছে একটি গোল। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণের শুরুটা করে উরুগুয়েই কিন্তু সেগুলোতে ধার ছিল না। শট রাখতে পারেনি লক্ষ্যে। উল্টো ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে হজম করে বসে গোল। হামেস রদ্রিগেসের কর্নার থেকে পাওয়া বলে দারুন হেডে বল জালে জড়ান হেফারসন লের্মা।

তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় কলম্বিয়া। উরুগুয়ের কেভিন কাস্তানোর বুকে কনুই মেরে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দানিয়েল মুনিয়োস। এতে দশজনের দলে পরিণত হয় কলম্বিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় কলম্বিয়া ১০জন নিয়ে খেললেও সেই সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারেনি উরুগুয়ে। ডারউইন নুনেজ ও বদলি লুইস সুয়ারেজ বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও ১০ জনের দলের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রুটা পায়নি। সুয়ারেজের একটা শট তো লেগেছে পোস্টে!

কলম্বিয়াও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আর। শেষের দিকে তাদেরও একটা শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়েছে। রক্ষণের দৃঢ়তায় লিড ধরে রেখেই ম্যাচ শেষ করেছে কলম্বিয়া। রেফারি শেষ বাজি বাজানোর পরই গ্যালারি জেগে উঠে হলুদ রংয়ের আভায়। ২১ বছর পরে কলম্বিয়ানরা মেতে ওঠে ফাইনালে ওঠার আনন্দে। ২০০১ সালের পর ফাইনালে উঠল তারা। কলম্বিয়ার এটা তৃতীয় ফাইনাল। উরুগুয়ে এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে কানাডার মুখোমুখি হবে।


ইতিহাস গড়ে আইসিসির মাসসেরা দুই ভারতীয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

১৭ বছরের বিরতি শেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ভারত। ভারতীয়দের এ স্বপ্ন পূরণের পেছনে যে মানুষটার সবচেয়ে বেশি অবদান; তিনি পেসার জসপ্রীত বুমরাহ। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার।

এবার বুমরাহর প্রাপ্তির খাতায় যোগ হলো আরেকটি পুরস্কার। আইসিসির জুন মাসের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার সঙ্গী আরেক ভারতীয় নারী ক্রিকেটার স্মৃতি মান্ধানা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি।

২০২১ সালে মাসসেরার পুরস্কার চালু করে আইসিসি। এবারই প্রথম নারী ও পুরুষ ক্যাটাগরিতে একই দেশের দুই ক্রিকেটার সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটারের তালিকায় ছিলেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা, পেসার জসপ্রীত বুমরাহ ও আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজ। এ ছাড়া নারী ক্রিকেটারদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন ইংল্যান্ডের মায়া বুশিয়ের, শ্রীলঙ্কার ভিশ্মি গুনারাত্নে ও ভারতের স্মৃতি মান্ধানা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা দুর্দান্ত কেটেছে বুমরার। ভারতের শিরোপা জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল এই ডানহাতির। গত মাসের বৈশ্বিক আসরে মাত্র ৮.২৬ গড় ও ওভারপ্রতি ৪.১৭ রান খরচায় ১৫ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ফাইনালে অবিশ্বাস্য বোলিং করে ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট।

এমন পারফরম্যান্সের জন্যই পুরস্কারটা জিতেছেন বুরমরাহ।

পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় বুমরাহ বলেছেন, ‘আমি জুন মাসের জন্য আইসিসি পুরুষদের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে আনন্দিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্মরণীয় কয়েক সপ্তাহ অতিবাহিত করার পর এটি আমার জন্য একটি বিশেষ সম্মান। দল হিসেবে আমাদের উদ্‌যাপন করার জন্য অনেক কিছু আছে এবং ব্যক্তিগতভাবে এ সাফল্য আমাকে আনন্দিত করছে। টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে পারফরম্যান্স করে ট্রফি জিতেছি, সেটি অবিশ্বাস্য। আজীবন এই স্মৃতি আমার স্মরণ থাকবে।’

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা। তিন ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। যে ম্যাচে সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন, সেই ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে আসে ৯০ রানের ইনিংস। সবমিলিয়ে তিন ম্যাচে তার রান ৩৪৩। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই মাসসেরা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।


বেজায় চটেছেন ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিধ্বস্ত ব্রাজিলকে নিয়ে কোপা আমেরিকায় এবার বোধহয় খুব একটা আশা ছিল না সমর্থকদের। তবে এমনভাবে বিদায়ের আশাও তারা করেননি। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হারের পর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছে সেলেসাওরা। ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচ দরিভাল জুনিয়র; বাদ যাচ্ছে না কেউই। সেলেসাওদের গুরু তো অনেকটা ব্যক্তিগত আক্রমণেরই শিকার হয়েছেন। তাই এবার বেজায় চটেছেন ভিনিসিয়াস-রদ্রিগোদের গুরু।

কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকার শুটের আগের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, টাইব্রেকারের আগে ব্রাজিলের ফুটবলাররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। কিন্তু সেই দলীয় বৃত্তে নেই দরিভাল। ব্রাজিলের কোচকে দেখা যায় পেছনে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাচ্ছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটিকে ব্রাজিল কোচের কাছে ‘কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটার’ মতো লেগেছে। এরপর নিজের রাগ ঝেড়েছেন ব্রাজিলের ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো স্পোর্তের’ গত রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

ব্রাজিল কোচের কাছে বিষয়টি হাস্যকর এবং অদ্ভুত লেগেছে। তিনি বলেন, ‘তারা যা করেছে, আমার কাছে পুরোপুরি হাস্যকর লেগেছে। তারা আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করার প্রয়োজনই বোধ করেনি… এমনকি এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না আমি। স্রেফ একটা ছবিকে তারা এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে যেন এটা ভিন গ্রহের কোনো ব্যাপার। দলে আমার নিয়ন্ত্রণ আছে এবং সব গোছানো হচ্ছে, এটা বোঝাতে কি হাতে ক্লিপবোর্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আমাকে?’

একজন পেশাদার মানুষকে নিয়ে মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়ার কথা বলেছেন দরিভাল জুনিয়র। তিনি বলেন, ‘দুঃখিত… এটা যারা করেছে, তা পুরোপুরি অযৌক্তিক। সামান্য একটি ছবি নিয়ে তারা এভাবে বিতর্ক ছড়িয়েছে। পেশাদার একজন মানুষকে জিজ্ঞেস না করেই স্রেফ একটি ছবিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা… দুঃখিত, এটা পুরোপুরি অবিবেচকের মতো কাজ। যারা এটা নিয়ে এত কথা বলেছে, তাদের উচিত একজন পেশাদার মানুষকে নিয়ে মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া।’

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বৃত্তে না থাকার ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেই কথার প্রতিধ্বনি এবারও শোনা গেল ‘গ্লোবো স্পোর্তের’ প্রতিবেদনে। ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘যত পেনাল্টি কিকে আমি অংশ নিয়েছি, কোনোবারই বৃত্তে প্রবেশ করিনি। সবকিছু প্রস্তুতি নিয়েই করা হয়েছে। এখানে বলার কিছু নেই। যতক্ষণ না ভিন্ন কোনো কিছু, অসুবিধা দেখছি, কিছু করিনি। ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত আমরা জানতাম কে পেনাল্টি নেবে।’


অবসর ভেঙে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে চান ওয়ার্নার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নিয়ে ফেলেছেন। গত বছর ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পরই ৫০ ওভারের খেলাকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর এ বছরের জানুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলে এ অজি ওপেনার। আর টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানিয়েছেন সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে।

কিন্তু শেষ হয়েও যেন শেষ হওয়ার নয় ডেভিড ওয়ার্নারের গল্প। তাই অবসর ভেঙে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন তিনি। তবে সেটা শুধু আগামী বছর হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্যই। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার আগ্রহের কথা আগেও জানিয়েছিলেন তিনি। নতুন করে আবারও সেই আগ্রহের কথা জানালেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে আবার ফিরতে চান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরে ওয়ার্নার বলেছেন, আপাতত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন, ‘দীর্ঘ পরিসরে এতদিন ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতাটা অবিশ্বাস্য। অস্ট্রেলিয়াই ছিল আমার দল। আমার ক্যারিয়ারের বড় অংশই ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। সেখানে খেলতে পারাটা ছিল গর্বের।’

ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে ওয়ার্নার তারপর একপর্যায়ে বলেছেন, ‘কিছু সময়ের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চাই। পাশাপাশি সুযোগ পেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও খেলতে চাই আমি।’

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফর করবে। তারপর নভেম্বর যাবে পাকিস্তান সফরে। সেখানে টপ-অর্ডারের জন্য নতুন প্রজন্মের প্রতিভার দিকেই তাকিয়ে থাকবে অজিরা। সেক্ষেত্রে ওই দুই সিরিজে জেইক ফ্রেজার-ম্যাগার্কের সম্ভাবনা আছে ওয়ার্নারের জায়গা নেওয়ার। তাই ওয়ার্নারের এমন চাওয়া শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

তবে ওয়ার্নারের আশা যে একেবারেই শেষ নয়, তেমনটা জানা গিয়েছিল প্যাট কামিন্সের কথায়। গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক কথা বলেছিলেন ওয়ার্নারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে। ওয়ার্নার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে থাকতে পারেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে কামিন্স বলেছিলেন, ‘এখন সময় অন্যদের ওয়ানডেতে সুযোগ দেওয়ার, তবে সে যেহেতু ক্রিকেট চালিয়ে যাবে, একদম জরুরি পরিস্থিতিতে তার কথা তো চিন্তা করতেই পারি। তবে ডেভিডকে (ওয়ার্নার) বিশ্বের কোথাও না কোথাও রান করে যেতে হবে। তাই আপনি বলতে পারেন না এটাই শেষ।’

ওয়ানডেকে বিদায় বলা ওয়ার্নারের সংগ্রহ ৬ হাজার ৯৩২ রান। গড় ৪৫.৩০। আছে ২২টি সেঞ্চুরি। অজিদের হয়ে এই ফরম্যাটে সর্বকালের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় রিকি পন্টিংয়ের পরেই তার অবস্থান। ওয়ানডেতে পন্টিংয়ের সেঞ্চুরি ৩০টি।

বিষয়:

কান্না লুকানোর পথ খুঁজছেন জেমস অ্যান্ডারসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল সাগর

টেস্ট ক্রিকেটের এক জীবন্ত ইতিহাস ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন। ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শুধু টেস্ট ক্রিকেটেই শিকার ৭০০ উইকেট; এমন অর্জন নেই আর কোনো পেসারের। শুধুই কি তাই! ৭০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা বিশ্বের তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি। ইংলিশদের হয়ে সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছেন ১৮৭ ম্যাচে। তার চেয়ে বেশি ম্যাচ আছে কেবলই শচীন টেন্ডুলকারের। কিন্তু যার শুরু আছে, তার শেষটাও তো আছে। সেই বিন্দুতেই চলে এসেছেন অ্যান্ডারসন।

বয়সটা ৪১-৪২ ছুঁই ছুঁই। যে সময়টাতে অন্যদের শুনতে হয় কবে বিদায় নিবেন? সেখানে অ্যান্ডারসনকে শুনতে হয়, আর কিছুদিন চালিয়ে যাওয়া যেত না? কিংবদন্তি অ্যান্ডারসনের সফলতা এখানেই। ক্যারিয়ারের চুড়ায় থেকেই সমাপ্তিটা টানতে চান তিনি। তাই সে জন্য বেছে নিলেন, ঠিক যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানটাই। ২১ বছর আগে টেস্টে অভিষেক হওয়া লর্ডসের মাঠেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ফুলস্টপ দেবেন অ্যান্ডারসন।

তার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন আবেগ, ভালোবাসা আর সমাপ্তির গল্প। গত এপ্রিলে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের বড় তিন ‘কর্তা’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পরেই অবসরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি বলব না যে অবাক হওয়ার মতো ঘটনা ছিল এটি। তারা যখন আমাকে ম্যানচেস্টারের এক হোটেলে কথা বলতে ডাকল, আমি মনে করিনি যে এটা সাধারণ কোনো বিষয়। এমন কিছু যে হতে যাচ্ছে, সেটি ধারণা করেছিলাম। বরং তারাই আমাকে শান্ত থাকতে দেখে অবাক হয়েছিল।’

কীভাবে এতটা ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে পারলেন তা নিয়ে অ্যান্ডারসন নিজেও অবাক, ‘আমার মনে হয় আমি নিজেও নিজের আচরণে অবাক হয়েছিলাম। আমি আবেগাপ্লুত হইনি, রেগে যাইনি, এমনকি কিছুই করিনি।’

তবে অ্যান্ডারসন সে সময়টাতে শান্ত থাকলেও শেষ দিনটা যে সেরকম হবে না- সেটা জানেন তিনি নিজেও, ‘আমি নিশ্চিত এই সপ্তাহে আবেগে পরিবর্তন আসবেই, তবে আমি এখন চেষ্টা করছি কীভাবে কান্না সামলানো যায়, সে বিষয়ে মনোযোগী হতে।’

অ্যান্ডারসন আগেই এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টটা খেলেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন তিনি। সিরিজের বাকি টেস্টগুলোতে ইংল্যান্ডের পেসারদের মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন তিনি। তবে আপাতত শেষ ম্যাচটি জেতাই মূল লক্ষ্য তার। তিনি বলেন, ‘আমি এখন শুধু আর একটি ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। এই সপ্তাহে অল্প কিছু অবদান রাখতে পারলেই আমি খুশি থাকব। ১ উইকেট নিয়ে কিংবা সংখ্যাটা যা-ই হোক না কেন, আমি সামান্য অবদান রেখে হলেও ম্যাচটি জিততে চাই।’

টেস্ট ক্রিকেট ছাড়লেও অ্যান্ডারসন এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন কি না।

বিষয়:

কোপার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফুটবলে কানাডার চাইতে যোজন যোজন এগিয়ে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মাঠের পারফরমেন্সে তা আরও একবার প্রমাণ করেছে মেসিরা। কানাডার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছেন লিওনেল মেসিরা।

পুরো ম্যাচে দাপটের সঙ্গে খেলেছে আর্জেন্টিনা। যদিও ম্যাচে আক্রমণের খাতা খোলে কানাডাই। পাঁচ মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন জ্যাকব শাফেলবার্গ। দুই মিনিট পরে আবারও সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।

১২ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে বল পান মেসি। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেয়া মেসির শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

আর্জেন্টিনাকে ম্যাচের ২২ মিনিটে আনন্দের উপলক্ষ আনে দেন হুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো মার্তিনেজের লম্বা থ্রু বল সুবিধাজনক অবস্থায় পেয়ে যান আলভারেজ। ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল জলে জড়াতে ভুল করেননি এই আর্জেন্টাইন । তার ডানপায়ের জোরালো শট কেনাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিমির পায়ের ফাঁক গলে গলে জড়ায়।

প্রথমার্ধের শেষদিকে আরও দুটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের চেষ্টা করলেও স্কোরেলাইনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

টুর্নামেন্টে প্রথম গোলের খোঁজে থাকা মেসি প্রথমার্ধে লক্ষ্য মিস করলেও অবশেষে দ্বিতীয়ার্থে পেয়ে যান গোল। ৫১ মিনিটে থ্রো থেকে পাওয়া বলে মেসি বক্সের কাছে সতীর্থকে পাস দিয়েছিলেন। তার পর কানাডা ডিফেন্ডার সেটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুলক্রমে পেনাল্টি এড়িয়ায় দাঁড়ানো এনজোর কাছে গেলে তার শটেই গোলমুখে দাঁড়ানো মেসি আলতো টোকায় জালে পাঠান বল।

ম্যাচে ফেরার জন্য দারুণ চেষ্টা চালিয়েছে কানাডা। প্রথমার্ধে রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টা করলেও এবার উপরে এসেছিল তারা। বেশ কিছু আক্রমণ করেছিল তারা। তবে সফলতা আসেনি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও একের পর এক আক্রমণ করে কানাডা রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে। ৬১ মিনিটে ডি মারিয়ার অ্যাসিস্ট থেকে আলভারেজের একটি শট রুখে কানাডার গোলরক্ষক মেক্সিম ক্রিপাউ। এরপর টানা ২টি আক্রমণ চালায় কানাডা। তবে ব্যর্থই থাকে তারা। ৮৯ ও ৯০ মিনিটেও গোলচেষ্টা চালিয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটি। তবে সফলতার মুখ দেখেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

এবার নতুন রেকর্ডের হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে। দুই মহাদেশীয় আসর আর এক বিশ্বকাপ টানা জয়ের কীর্তি এর আগে আছে কেবল স্পেনের। ২০০৮ সালের ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০১২ সালের ইউরো জয় করেছিল স্পেন। এবার সেই সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে। আগামীকালের উরুগুয়ে ও কলম্বিয়া ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে ফাইনালে নামবে লিওনেল মেসির দল।


বিধ্বস্ত ব্রাজিলের একমাত্র আশা নেইমারের ফেরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিবর্ণতায় শেষ হয়েছে ব্রাজিলের কোপা আমেরিকার মিশন। কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরেছে সেলেসাওরা। পুরো টুর্নামেন্টেই নিজেদের হারিয়ে খুঁজেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আশার আলো হয়ে উঠতে পারেনি রদ্রিগো, ভিনিসিয়াস, রাফিনিয়ারা। একের পর এক ব্যর্থতায় ভুগিয়েছে দলকে। আক্রমণভাবে একজন যোগ্য নেতার বড্ড অভাব ছিল হলুদ শিবিরে। জোগো বোনিতের দেশটি যেন এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হতে পারে দলের প্রাণ ভোমড়া নেইমার জুনিয়রের দলে ফেরা।

ব্রাজিলের এই দুর্দশার চিত্রটা বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে নেমে নেইমারের ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই আরও বেড়েছে। এরপর হেরেছে উরুগুয়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। তাইতো কোপা আমেরিকা শুরুর আগে বিজ্ঞাপনের জন্য রোনালদিনিয়োর বলা কথাগুলোই যেন এই ব্রাজিলের জন্য সত্যির খুব কাছাকাছি। বিশ্বকাপ জয়ী বলেছিলেন, দলে নিবেদন ও দৃঢ়তার অভাব রয়েছে, ‘সবকিছুই অনুপস্থিত, তাড়না, উচ্ছ্বাস… তাদের ভালো খেলতে হবে। তাই আমি তাদের কোনো ম্যাচই দেখব না। আমি ব্রাজিলের খেলা বর্জন করব।’

কোস্টারিকা ম‍্যাচের পর গ‍্যালারিতে থাকা দর্শকদের সঙ্গে বাহাসে জড়ালেন দানিলো। অধিনায়ককে ঠাণ্ডা করতে একরকম ছুটে এলেন নেইমার। দৃশ‍্যটা একরকম প্রতীকীও। বিবর্ণ ফুটবলে মাঠে নিদারুণ ভোগান্তিতে থাকা ব্রাজিল যেন মাঠেও দলের সেরা তারকার এমন ভূমিকার অপেক্ষায়।

টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর কোচ দরিভাল জুনিয়র, এন্দ্রিকসহ যারাই গণমাধ‍্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, সবাই বলেছেন বাছাই উতরে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া তাদের মূল লক্ষ‍্য।

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম‍্যান্স বলছে, এই লক্ষ‍্য পূরণে নেইমারের উপস্থিতি খুবই জরুরি। হাঁটুর চোটে গত বছরের অক্টোবর থেকে মাঠের বাইরে আছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এই সময়ে প্রীতিম্যাচ বাদে খেলা ৬ ম‍্যাচে কেবল ছয় গোল দিতে পেরেছে দলটি। এর চারটিই এক ম‍্যাচে, কোপা আমেরিকায় প‍্যারাগুয়ের বিপক্ষে। জয়ও পেয়েছে কেবল ওই ম‍্যাচেই। তিন ম‍্যাচে কোনো গোলই করতে পারেনি তারা।

আবার যখন ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের লড়াইয়ে নামবে ব্রাজিল তখন তাদের সঙ্গী হবে টানা চার ম‍্যাচে জয়শূন‍্য থাকার তেতো স্মৃতি। ২০০১ সালের পর প্রথমবার বাছাইয়ে টানা তিন ম‍্যাচ হারা দলটি ৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় আছে ষষ্ঠ স্থানে।

ব্রাজিলের হয়ে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১২৮ ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। ১৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর দলটির হয়ে গোল করেছেন তিনি ৭৯টি। নিজের চোট, দলের বিবর্ণ পারফরম‍্যান্স সব মিলিয়ে ক‍্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চ‍্যালেঞ্জের সামনেই হয়তো দাঁড়িয়ে নেইমার।

বিষয়:

উড়তে থাকা স্পেনকে ভয় পাচ্ছে না গ্রিজমানরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোর দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নের বর্তমান অবস্থা দুই রকম। দুরন্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরা স্পেন ভাসছে প্রশংসার স্রোতে। বিবর্ণতায় বন্দি ফ্রান্স বিদ্ধ হচ্ছে সমালোচনার তীরে। এই দুই দল মুখোমুখি এবার। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে পিছু নেওয়া মলিনতার খোলস ছেড়ে তাই আড়মোড়া ভেঙে বেরিয়ে, সমালোচকদের মুখে ছিপি দিয়ে বার্লিনের ফাইনালে ওঠাই এখন একমাত্র লক্ষ্য দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের। মিউনিখে আগামী মঙ্গলবার প্রথম সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। স্পেনের সামনে হাতছানি এককভাবে ইউরোর সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। আর ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে মুকুট ফিরে পেতে মরিয়া ফ্রান্স।

শুধু মরিয়া হলেই হবে না, জিততে হলে চাই মাঠের পারফরম্যান্স এবং গোল। চলতি আসরে এখনও ‘ওপেন-প্লে’ থেকে গোল পায়নি ফরাসিরা। আক্রমণভাগের মূল তারকা ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ধুঁকছেন; এ পর্যন্ত একবারই জালের দেখা তিনি পেয়েছেন পোল্যান্ড ম্যাচে, সেটাও পেনাল্টি থেকে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে স্পেনের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে ফ্রান্স। তবে স্পেনকে নিয়ে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই বলেই মনে করছেন স্পেনে দীর্ঘদিন ধরে খেলে আসছেন ফ্রান্সের অ্যান্টোনিও গ্রিজম্যান। স্পেনের খেলোয়াড়দেরও মোটামুটি ভালোই জানাশোনা আছে তার। গ্রিজম্যান বলেন, ‘স্পেন অবশ্যই অনেক ভালো দল। কিন্তু তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোনো দলকে নিয়েই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং নিজেদের সবটুকু দিয়ে যাবো ফাইনালে ওঠার জন্য।’

স্প্যানিশ দৈনিক ক্রীড়া সংবাদপত্র ‘মুন্ডো দেপোর্তিভো-তে লেখা সংবাদে গ্রিজম্যান আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে একটি ম্যাচই বাকি আছে ফাইনালে ওঠার জন্য। চার দলের ভেতর একটা হওয়া এমনিতেই অবিশ্বাস্য সাফল্য। আমরা দল হিসেবে উপভোগ করতে চাই। কারণ, আমরা জানি আমরা পারবো।’ তবে এই গ্রিজমানের পারফরম্যান্স নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। সেই প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছেন দলের সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও। তবে ফরাসি মিডফিল্ডার ইউসুফ ফোফানা সংবাদ সম্মেলনে বললেন, দুই সতীর্থের সামর্থ্য নিয়ে একটুও সন্দিহান নন তিনি। ফোফানা বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এগুলোকে (সমালোচনা) থোড়াই কেয়ার করি। আমরা সেমি-ফাইনালিস্ট। অঁতোয়ান ও এমবাপের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, সেমি-ফাইনালে ওঠাও অনেক কিছু।’ ২০১২ সালের পর ইউরোতে আর মুখোমুখি হয়নি দুই দল। ২০১২ সালে শেষবারের মোকাবিলায় ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় করে দিয়েছিল লা রোহারা।


মেসিদের হুমকি কানাডার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া প্রতিবেদক

এবারের কোপা আমেরিকার অন্যতম ফেবারিট বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্ব থেকেই জয়ের ধারায় থাকা দলটি এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনালে খেলা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা। আগামীকাল ১০ জুলাই (বুধবার) নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।

শক্তি-সামর্থ, দুই দলের ইতিহাস, র‌্যাঙ্কিং, সাম্প্রতিক ফর্ম; সবদিক দিয়েই কানাডার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে আলবিসেলেস্তেরা। তবে সেমিফাইনালের আগে লিওনেল মেসিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন কানাডার তারকা ডিফেন্ডার আলফোন্সো ডেভিড। কোচ জেসি মার্শও সুর মিলিয়েছেন সেই কথাতেই।

কোপার এবারের আসরই শুরু হয়েছিল এই দুই দলের ম্যাচ দিয়ে। সে ম্যাচে আকাশি-নীলরা ২-০ ব্যবধানে জিতলেও লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিলো না কানাডা। আবারও সেমিফাইনালে মুখোমুখি দুই দল। আলফোন্সো ডেভিড মনে করছেন, আগের চেয়ে এবার তাদের আর্জেন্টিনাকে হারানোর সুযোগ বেশিই থাকবে।

ক্লাব ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখে খেলা ডেভিস বলছেন, ‘আমাদের সব উজাড় করে দিতে হবে। আমরা তাদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে খেলেছি, আমরা ভালো খেলেছিলাম। কিন্তু আমরা যে জয়টা চেয়েছিলাম, তা পাইনি। এই ম্যাচে আমরা জানি কী অপেক্ষা করছে। জিতলে আমরা এগিয়ে যাব, আর হারলে আমাদের বাড়ি যেতে হবে। আমরা আগের চেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত এখন, আমরা তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী লড়াই আশা করছি।’ সাধারণত বড় দলগুলোর বিপক্ষে তুলনামুলক ছোট দলগুলো লো-ব্লক ডিফেন্সে খেলে। তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কানাডা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবেন বলেই জানিয়েছেন ডেভিস। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। আমরা পিছিয়ে থেকে শুধু রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলব না। আমরাও আক্রমণ করব। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলব। আর্জেন্টিনাকে হারানোর চেষ্টা করব।’

কানাডার কোচ জেসি মার্শও মনে করেন, সেরাটা দিতে পারলে তারা ফাইনালের স্বপ্ন দেখতেই পারেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের উন্নতি নিয়ে রোমাঞ্চিত এবং আরও একবার (আর্জেন্টিনাকে হারানোর) সুযোগ আদায় করে নিয়েছি। আমরা এটা সেভাবে দেখছি। আমরা ইতিবাচক থাকব। আমরা আক্রমণাত্মক হব। আমরা স্রেফ বসে থাকব না এবং ডিফেন্ড করার চেষ্টা করব না। আমরা যেভাবে খেলছি, সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব এবং তারপর দেখব ধারাটা বজায় রাখা যায় কি না।’ টানা চার ম্যাচ জিতলেও কোপায় খুব একটা স্বস্তিতে নেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একটিও গোল করতে পারেননি মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে তারা। টাইব্রেকারে মেসি পেনাল্টি মিস করেছেন। তাই কানাডার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার লড়াই খুব একটা সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।


টেস্টের আভিজাত্যের প্রস্তাবনা প্যাট কামিন্সের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফ্র্যাঞ্জাইজি ক্রিকেট। প্রায় প্রতিটি দেশেই এখন আয়োজন হচ্ছে টি-টোয়েন্টি লিগ। যে কারণে গুরুত্ব হারাতে বসেছে ক্রিকেটের আভিজাত্যপূর্ণ সংস্করণ লাল বলের টেস্ট ক্রিকেট। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে অনেক দেশের ক্রিকেটাররাই টেস্ট ক্রিকেটকে বাদ দিয়ে বেছে নিচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট। যে কারণে বোর্ডগুলোও পাচ্ছে না দলের সেরা ক্রিকেটারদের। গত বছর ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট এসএটোয়েন্টির জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা নিউজিল্যান্ডে অনভিজ্ঞ দল পাঠিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।

টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচাতে অনেক আগে থেকেই কথা বলছেন সাবেক তারকারা। এবার টেস্ট ক্রিকেটের আভিজাত্য ফেরাতে নতুন প্রস্তাব দিলেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। লন্ডনের লর্ডসে চলমান এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কানেক্টস সিম্পোজিয়ামে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় সেই প্রস্তাব দেন তিনি। লাল বলের ক্রিকেটের গুরুত্ব বাড়াতে টেস্ট ক্রিকেট আর আইপিএলের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দের (উইন্ডো) প্রস্তাব দিয়েছেন প্যাট কামিন্স। তার প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে এক বোর্ড কর্মকর্তা বলেছেন, একই দিনে চারটি ভিন্ন অঞ্চলে টেস্ট আয়োজন করলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক টেস্ট খেলা যাবে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্যও আলাদা সময় বের করা যাবে।

সর্বশেষ আইপিএলে ২০ কোটি রুপি দাম পাওয়া কামিন্স মনে করছেন, আর্থিক কারণে অনেকের কাছে জাতীয় দলের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট অগ্রাধিকার পায়, ‘কিছু দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আবেদনের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট বেশি লোভনীয়। আমি যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে চাই, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অর্ধেক বা তিন ভাগের এক ভাগ ম্যাচই আমি মিস করে ফেলব।’

এ সমস্যা এড়াতে টেস্ট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টির জন্য সময় নির্দিষ্ট করা দরকার জানিয়ে কামিন্স বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ক্রিকেট হয় নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই সময় আমরা যেভাবে টেস্ট খেলি, সেভাবে কেউই খেলে না। আমরা যদি আইপিএলের জন্য নির্দিষ্ট একটা উইন্ডো পেতাম, টেস্টের জন্যও একটা উইন্ডো পেতাম, তাহলে খেলোয়াড়দের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হয়ে যেত।’ প্যাট কামিন্সের প্রস্তাব বাস্তবায়নের উপায় পাওয়া গেছে সেই অনুষ্ঠানেই।

অজি অধিনায়কের প্রস্তাবনাকে সমর্থন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সিইও জনি গ্রেভ একটি সমাধান বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা এভাবে হতে পারে যে সিডনি বা ওয়েলিংটনে একটা টেস্ট শুরু হলো। এরপর একটা শুরু হলো কলকাতা বা ঢাকায়। পরেরটি লর্ডসে বা নিউল্যান্ডসে। আর সবশেষ কেনিংটন ওভাল। তাহলে আটটা টেস্ট দল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চারটা টেস্টে অংশ নিয়ে ফেলবে।’


ব্রাজিলের ফুটবলের ভবিষ্যৎ প্রথম পরীক্ষায় ফেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বয়স এখনো ১৮ পূর্ণ হয়নি। ব্রাজিলের ফুটবলের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে তাকে। পেলে, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনিও, নেইমার... ব্রাজিলের ফুটবলের যুগে যুগে প্রতিভাবানদের যে লম্বা তালিকা, সেই তালিকার পরবর্তী আকর্ষণীয় নাম এনদ্রিক। কিন্তু কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রথম পরীক্ষাতেই ‘ফেল’ করেছেন তিনি! ব্রাজিলের জার্সিতে এটা ছিল এনদ্রিকের দশম ম্যাচ। এর আগে খেলা ৯ ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন বদলি হিসেবে। সব মিলিয়ে খেলেছেন ১১৮ মিনিট। উরুগুয়ের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিষেধাজ্ঞার কারণে না থাকায় এনদ্রিককে শুরুর একাদশে খেলান কোচ দরিভাল জুনিয়র। পুরো ৯০ মিনিট খেলেও ম্যাচে কোনো প্রভাবই রাখতে পারেননি এনদ্রিক।

ব্রাজিলের ফুটবলের ভবিষ্যৎ আজ মাঠে ছিলেন কি না, সেটাই যেন বোঝা যাচ্ছিল না। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ৩ গোল করা এনদ্রিক উরুগুয়ের বিপক্ষে লক্ষ্যভেদ তো করতেই পারেননি, মনে রাখার মতো কোনো মুভও নেই তাঁর। উরুগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হেরে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছে ব্রাজিল। এই ম্যাচে নিজেদের হারিয়ে খোঁজা ব্রাজিল দলে এনদ্রিক যেন ছিলেন বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ হয়ে। পুরো ম্যাচে তিনি গোলে একটি মাত্র শট নিতে পেরেছেন, সতীর্থদের দিতে পেরেছেন একটি পাস।

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি করে ফেলেছেন পালমেইরাসের স্ট্রাইকার। ২১ জুলাই ১৮ বছর পূর্ণ হলেই স্পেনের ক্লাবটির জার্সিতে খেলতে পারবেন। রিয়ালের জার্সি গায়ে তোলার আগে যুক্তরাষ্ট্রে আজ ভুলে যাওয়ার মতো একটি সন্ধ্যাই কাটালেন এনদ্রিক। সতীর্থদের উদ্দেশে পুরো ম্যাচে এনদ্রিক ৫টি পাস দিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটিই লক্ষ্যে পৌঁছেছে। সেটাও তিনি দিয়েছিলেন ম্যাচ শুরু করার কিক থেকে। আর ম্যাচে একমাত্র যে শটটি তিনি গোলে নিতে পেরেছেন, সেটিও ৮৩ মিনিটে। যে শট ঠেকাতে উরুগুয়ের গোলকিপার রোচেতের কোনো সমস্যাই পড়তে হয়নি। ম্যাচে মাত্র ২৪ বারই বল স্পর্শ করতে পেরেছেন এনদ্রিক। যার মধ্যে ১৫ বারই তিনি বল হারিয়েছেন। ১৪টি দ্বৈরথের মধ্যে মাত্র ৪টিই জিততে পেরেছেন। তাকে যে খুব বেশি ফাউল করেছেন উরুগুয়ের খেলোয়াড়রা, তাও নয়। পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি ফাউলই আদায় করে নিতে পেরেছেন। সব মিলিয়ে এনদ্রিকের জন্য ভুলে যাওয়ার মতো একটি ম্যাচই ছিল এটি।

বিষয়:

banner close