সুপার এইটে এক পা দিয়ে রাখলো বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসকে ২৫ রানে হারিয়ে ৩ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে গেল বাংলার বাঘেরা। ‘ডি’ গ্রুপ থেকে ইতোমধ্যেই ছিটকে গেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে সুপার এইটে কোয়ালিফাই করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তলানিতে থাকা নেপাল কাগজে-কলমে টিকে থাকলেও শক্তিমত্তা বিবেচনায় তাদের সম্ভাবনা অনেকটাই কম। তাই সুপার এইটের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পথে কাঁটা হয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। তাই ডাচদের হারিয়ে সমীকরণ সহজ করল টাইগাররা।
এর আগে, জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজিও গড়ে বাংলাদেশ। ডাচদের ব্যাটিংয়ের একটা পর্যায়ে দারুণ অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। বিপদের সময় ট্রাম্পকার্ড বের করলেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। ১৫তম ওভারে দুই উইকেট শিকার করে ম্যাচের চেহারা বদলে দিলেন তিনি।
শুরুতে নেদারল্যান্ডস শিবিরে আঘাত করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে মাইকেল লিভিটের উইকেট তুলে নেন ডানহাতি এই পেসার। দেখেশুনে খেলে এগোতে থাকা এই ডাচ ব্যাটারকে ১৮ রানের (১৬ বলে) মাথায় তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান তিনি।
পরের ওভারে বোলিংয়ে এসেই ডাচ শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন তানজিম হাসান সাকিব। ডানহাতি এই পেসারকে ফলোথ্রু করে সাজঘরের পথে হাঁটেন আরেক ওপেনার ম্যাক্স ও'ডাইউ (১৬ বলে ১২)। দলীয় ৩২ রানের মাথায় ২ উইকেট হারায় নেদারল্যান্ডস।
১৪ ওভারের খেলা শেষে নেদারল্যান্ডসের বোর্ডে ১০৪ রান। নৈপথ্যে চতুর্থ উইকেটে ৪২ রানের ঝোড়ো জুটি। এই জুটির কারণে দারুণ অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশকে। অবশেষে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দিলেন রিশাদ। ১৫তম ওভারে দুুটি উইকেট তুলে নিলেন তিনি। চতুর্থ বলে ৩১ বলে ৪২ রানের জুটি ভাঙেন। ২২ বলে ৩২ রান করা সাইব্রান্ড এনগেলব্রখটকে তানজিম সাকিবের ক্যাচ বানান তিনি। রিশাদের ওভারের শেষ বল খেলতে গিয়ে স্টাম্পড আউট হন ডি লিডে।
মোস্তাফিজের করা ১৭তম ওভারে ১ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকারও বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্কট এডওয়ার্ডসকে (২৩ বলে ২৫) জাকির আলির ক্যাচ বানান তিনি।
ব্যাক-টু-ব্যাক বোলিংয়ে এসেই আবারও রিশাদের উইকেট শিকার। লোগান ফন বিক (৩ বলে ২) রিশাদের হাতেই ক্যাচ হন। সর্বশেষ টিম প্রিংলেকে ফেরান তাসকিন। এতে ২০ ওভারে ডাচরা তুলতে পারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান।
এর আগে সেন্ট ভিনসেন্টে টস হেরে ব্যাট করে নেমে সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৫৯ রান করে বাংলাদেশ। যদিও শুরুতেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারায় টাইগাররা। ৩ বলে ১ করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আইরিশ স্পিনার আরিয়ান দত্তকে রিভার্স সুইপ খেলে ক্যাচ দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এরপর আরিয়ানের দ্বিতীয় শিকার হন লিটন। সুইপ খেলে স্কয়ার লেগে এনগেলব্রেখটে দুর্দান্ত ক্যাচ হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ২ বলে তিনি করেন ১ রান।
তৃতীয় উইকেটে সাকিবকে নিয়ে ৩২ বলে ৪৮ রানের দারুণ একটি জুটি করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তানজিদ ২৬ বলে ৩৫ রান করে আউট হয়ে গেলে জুটি ভাঙে। পল ফন ম্যাকেরেনের বলে ডি লিডের হাতে ক্যাচ হন তিনি।
এদিন ভালো করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়। তার ব্যাটে যেন বলই আসতেছিল না। ১৫ বল খেললেও রান করতে পেরেছেন মাত্র ৯। শেষ পর্যন্ত টিম প্রিংলের বলে স্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ডানহাতি এই ব্যাটার।
মাহমুদউল্লাহ বেশ ভালোভাবেই পিচে সেট হয়েছিলেন। কয়েকটি দারুণ শটও খেলেছিলেন। তবে ম্যাচটি শেষ করে আাসতে পারেননি। ২ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ২১ বলে ২৫ রান করেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ফন ম্যাকেরেনের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি, ক্যাচ হন এনগেলব্রেখটের হাতে।
দুর্দান্ত ব্যাট করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন সাকিব। ৪৬ বলে ৬৪ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রায় ২ বছর পর সাকিবের ব্যাট থেকে আসে অর্ধশত রানের ইনিংস। কোনো ছক্কা হাকানো ছাড়াই ৯ বাউন্ডারিতে এই রান করেন সাকিব। তার সঙ্গে ৭ বলে ১৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জাকের আলি।
নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২টি করে উইকেট শিকার করেন আরিয়া দত্ত ও পল ফন ম্যাকেরেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট নেন রিশাদ। ২ উইকেট নেন তাসকিন। ম্যাচসেরা হন সাকিব আল হাসান।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির আদালত। পাশাপাশি কর ফাঁকির মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়।
সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তাপিয়াকে আগামী ৫ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। আর্জেন্টিনার কর সংস্থা এআরসিএ তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের অবৈধ ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছে।
তাপিয়ার সঙ্গে এএফএর অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া এএফএর খেলোয়াড় ও কর্মচারীদের পেনশন যথাযথভাবে জমা হয়েছে কি না এবং ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর পরিশোধের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। মূলত সংস্থাটি পেনশন ও কর–সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে কি না সেটিই দেখা হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে পুলিশ এএফএর সদর দপ্তরে অভিযান চালায়। এই অভিযান বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এএফএর দাবি, অভিযোগের মূল উৎস একটি ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাদ এবং আর্জেন্টিনা সরকারের সঙ্গে সংযোগিত বিষয়।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলের সরকার পাবলিকলি ট্রেডেড স্পোর্টস কোম্পানিতে রূপান্তরের পক্ষপাতী, কিন্তু এএফএর নিয়ম তা অনুমোদন করে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ সালের জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে। নতুন চুক্তিতে পেসার তাসকিন আহমেদ ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের গ্রেডে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত বছর তাসকিন একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন। ওই গ্রেডে তার মাসিক বেতন ছিল ১০ লাখ টাকা (প্রায় ৮,১৬৯ মার্কিন ডলার)।
এবার তাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। এই গ্রেডে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক যথাক্রমে নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসার মিরাজ ও লিটন দাস আছেন। ‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা মাসে ৮ লাখ টাকা (প্রায় ৬,৫৩৫ মার্কিন ডলার) পাবেন। এ বছর কোনো ক্রিকেটারকে ‘এ প্লাস’ গ্রেডে রাখা হয়নি।
মুশফিকুর রহিম, যিনি ২০২৫ সালে ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন, গত বছর ‘এ’ গ্রেডে ছিলেন। এবার তাকে ‘বি’ গ্রেডে নামানো হয়েছে। এই গ্রেডে তার মাসিক বেতন হবে ৬ লাখ টাকা (প্রায় ৪,৯০১ মার্কিন ডলার)। ‘বি’ গ্রেডে আরও ১০ জন ক্রিকেটার আছেন, যাদের মধ্যে টেস্ট স্পেশালিস্ট মমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম ও সাদমান ইসলাম উল্লেখযোগ্য।
‘সি’ গ্রেড থেকে ‘বি’ গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন তানজিম হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান।
ডি গ্রেডের ক্রিকেটারদের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। গতবার এই গ্রেডে মাত্র দুজন ছিলেন, এবার সাতজন জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফ হাসান ও নুরুল হাসান সোহান উল্লেখযোগ্য।
‘সি’ ও ‘ডি’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা যথাক্রমে মাসে ৪ লাখ (প্রায় ৩,২৬৭ ডলার) ও ২ লাখ টাকা (প্রায় ১,৬৩৩ ডলার) পাবেন।
২০২৬ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা
গ্রেড এ :
নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ
গ্রেড বি:
মুশফিকুর রহিম, মমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা
গ্রেড সি:
সৌম্য সরকার, জাকের আলী, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান, নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ
গ্রেড ডি:
সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তানভীর ইসলাম, নাঈম হাসান, হাসান মুরাদ, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউড অব পিসে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন। গাজা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার করতেই বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা হবে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার দর্শক। একই সঙ্গে সেখানে একটি ফিফা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এ প্রকল্পের আওতায় আরও ৫০টি ছোট ফুটবল মাঠ ও পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ নির্মাণে অর্থায়ন করা হবে।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমাদের শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা সড়ক নয়, মানুষের আশা, আবেগ ও বিশ্বাসও পুনর্গঠন করতে হবে। ফুটবল সেই শক্তিই দেয়।’
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠনের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেন। আরও ৯টি দেশ ৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং পাঁচটি দেশ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশনে সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
উল্লেখ্য, গাজায় আলাদা কোনো জাতীয় ফুটবল দল না থাকলেও ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফা গাজা ও পশ্চিম তীরকে প্রতিনিধিত্বকারী একীভূত ফিলিস্তিনি দলকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের জয়জয়কার চললেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত এই তরুণ ক্রিকেটার আসরের শুরু থেকেই নিজের ছায়া হয়ে আছেন। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে শূন্য রানে আউট হয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন তিনি। অভিষেক শর্মার এই অফ-ফর্ম ভারতীয় সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও দলগতভাবে ভারত টানা জয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সুপার এইটে পা রেখেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসরের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন অভিষেক। এরপর অসুস্থতার কারণে এক ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকার পর পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফিরলেও রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন এই ওপেনার। ইতিপূর্বে ভারতীয় পেসার আশিষ নেহরা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচার এবং উগান্ডার রজার মুকাসা এই তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন। এছাড়া এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওপেনার হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ডেও তিনি সঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন ইমন ও নেপালের কুশল ভুর্তেলদের। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব, যিনি গত এক বছরে ৬ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন।
অভিষেকের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে ভারত। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শিভাম দুবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় টিম ইন্ডিয়া। দুবে মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা, যারা যথাক্রমে ৩৪ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতেও ছিলেন শিভাম দুবে ও বরুণ চক্রবর্তী। বরুণ ৩টি এবং দুবে ২টি উইকেট শিকার করে ডাচদের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করল ভারত।
এই জয়ের মাধ্যমে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ১২টি ম্যাচ জিতে নতুন এক বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ভারত। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার টানা ৮টি করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছিল সর্বোচ্চ, যা এখন ভারতের দখলে। তবে রেকর্ড গড়লেও এবারের আসরে ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে ভারতের। চলতি বিশ্বকাপে ভারত এ পর্যন্ত ১২ জন ভিন্ন ভিন্ন বোলার ব্যবহার করেছে, যা এক আসরে কোনো দলের জন্য সর্বাধিক। পাশাপাশি ক্যাচ মিসের তালিকায়ও তারা বেশ ওপরের দিকেই রয়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৯টি ক্যাচ ছেড়েছে ভারতীয় ফিল্ডাররা, যা একমাত্র আয়ারল্যান্ডের চেয়ে কম। সুপার এইটের কঠিন লড়াইয়ে নামার আগে ক্যাচ মিসের এই প্রবণতা ও টপ অর্ডারের ব্যর্থতা কাটানোই এখন কোচ ও অধিনায়ক সূর্যকুমারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর থেকে অনেকটা নিভৃতেই বিদায় নিল গতবারের সেমিফাইনালিস্ট আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টের তথাকথিত ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়ে শুরুতেই বড় হোঁচট খায় রশিদ খানের দল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষের কাছে প্রথম দুই ম্যাচেই পরাজয় বরণ করতে হওয়ায় টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলো তাদের জন্য কেবল নিয়মরক্ষার আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটি সুপার ওভার পর্যন্ত লড়াই করে হার মেনে নেওয়া আফগান শিবিরের জন্য ছিল চরম দুর্ভাগ্যজনক। এই অকাল বিদায়ের পর আক্ষেপ আর অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অধিনায়ক রশিদ খান।
রশিদ খানের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ধরনটাই এমন যে এখানে ভুলের কোনো অবকাশ নেই। বড় দলের বিপক্ষে একটি ছোট ভুলও পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং একবার পথ হারালে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দুই জায়ান্টের মোকাবিলা করা তাঁদের জন্য ছিল এক বিশাল শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ। সূচির এই চাপ এবং মাঠের ছোটখাটো ভুলগুলোই শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি ঘটিয়েছে। তবে এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্বসেরা এই লেগ স্পিনার।
আফগান ক্রিকেটে এই বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বড় অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। দলের প্রধান কোচ জনাথন ট্রট তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রশিদের নেতৃত্বে আফগান দলের অভাবনীয় উত্থানে ট্রটের অবদান অনস্বীকার্য ছিল। কোচের বিদায়ে আবেগাপ্লুত রশিদ জানান, ট্রট কেবল মাঠের কৌশল নয়, বরং ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধিতেও কাজ করেছেন। তাঁর এই প্রস্থান আফগান ডাগআউটে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে। সামনের দিনগুলোতে এই শূন্যতা পূরণ করে দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে রশিদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থ হলেও রশিদ খানের ওপর দায়িত্ব এখন বহুগুণ বেড়েছে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং তরুণদের আগলে রাখার চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই নতুন পরিকল্পনা সাজাতে চায় আফগানিস্তান। নেতৃত্বের পরীক্ষা আর বড় মঞ্চে স্নায়ুর চাপ সামলানোর মন্ত্র নিয়ে পুনরায় বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছে আফগানরা। আপাতত বিশ্বকাপের এই অকাল প্রস্থান রশিদদের জন্য এক বড় শিক্ষা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শেষ হাসি হাসল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কার সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শাহিবজাদা ফারহানের অনবদ্য সেঞ্চুরি আর বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে একপেশে জয় পায় সালমান আগার দল। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করল পাকিস্তান। এর আগে এই গ্রুপ থেকে ভারত আগেই পরবর্তী রাউন্ডে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছিল। পাকিস্তানের এই দাপুটে জয়ের ফলে কপাল পুড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের; ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই দুই দলসহ নামিবিয়াও টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নামিবিয়ার বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব। ওপেনিং জুটিতে তাঁরা ৩১ বলে ৪০ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। সাইম বিদায় নিলেও ফারহান ছিলেন অবিচল। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক সালমান আগার সঙ্গে ৪২ বলে ৬৭ রানের একটি লড়াকু জুটি গড়েন তিনি। আগা সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হওয়ার পর ফারহান চতুর্থ উইকেটে শাদাব খানকে নিয়ে তান্ডব শুরু করেন। এই জুটিতে মাত্র ৪০ বলে ৮১ রান যোগ হয়, যার বড় অংশই আসে ফারহানের ব্যাট থেকে। ক্যারিয়ারের ৪৩তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এসে প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির দেখা পান এই ওপেনার। ৫৭ বলে সাজানো তাঁর ১০০ রানের ইনিংসটি ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের মূল প্রাণশক্তি। শাদাব খানও ২২ বলে ৩৬ রানের একটি কার্যকরী ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যার ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে পাকিস্তান।
২০০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নামিবিয়া। বিশেষ করে উসমান তারেক ও শাদাব খানের ঘূর্ণি জাদুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে আফ্রিকান দেশটির ব্যাটাররা। নামিবিয়ার কোনো খেলোয়াড়ই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্প এবং ২০ রান আসে আলেকজান্ডার বাসিং ভোলশেঙ্কের ব্যাট থেকে। বাকিরা কেবল আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিলে ১৭.৩ ওভারেই মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়ার ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে লেগ স্পিনার উসমান তারেক মাত্র ৩.৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৪টি এবং শাদাব খান ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করে নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দেন।
পাকিস্তানের এই বড় জয় সুপার এইটের কঠিন লড়াইয়ের আগে দলটিকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। গ্রুপ পর্বের শুরুর দিকে হারের শঙ্কায় থাকলেও পাকিস্তান যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পরের ধাপে পৌঁছাল, তা ক্রিকেট বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। শাহিবজাদা ফারহানের দুর্দান্ত ফর্ম এবং শাদাব খানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স পাকিস্তানের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এখন সুপার এইটের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাই হবে হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একসময়ের প্রিয় এই দলের মূল লক্ষ্য। আপাতত এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল রইল।
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়ান্ট বধের মহাকাব্য লিখে চলেছে নরওয়ের অখ্যাত ক্লাব বোডো/গ্লিম্ট। গত জানুয়ারিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া এই ‘পুঁচকে’ দলটি এবার ঘরের মাঠে বিধ্বস্ত করল আসরের গতবারের রানার্সআপ ইন্টার মিলানকে। বুধবার রাতে নরওয়ের আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচে ইতালিয়ান জায়ান্টদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর পথে একধাপ এগিয়ে গেল তারা। মাত্র ৫৫ হাজার মানুষের মৎস্যজীবী শহর বোডো থেকে উঠে আসা এই ক্লাবটি এখন ইউরোপের বড় দলগুলোর জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
নিজেদের চেনা কন্ডিশনে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বোডো/গ্লিম্ট। যদিও বলের দখলে ৫৫ শতাংশ সময় নিয়ে এগিয়ে ছিল ইন্টার মিলান, কিন্তু কার্যকারিতার দিক থেকে স্বাগতিকরাই ছিল অনন্য। খেলার ২০তম মিনিটে মিডফিল্ডার সোন্দ্রে ব্রান্সটাডের দর্শনীয় এক ফিনিশিংয়ে লিড নেয় বোডো। তবে লড়াইয়ে ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি ইতালিয়ান টেবিল টপাররা। ৩০ মিনিটের মাথায় পিও এস্পোসিতোর লক্ষ্যভেদে সমতায় ফেরে ইন্টার। বিরতি পর্যন্ত ১-১ সমতা থাকায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন ইন্টার হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াবে এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে ম্যাচ বের করে নেবে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে দেয় স্বাগতিকরা। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ইন্টারের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয় বোডো/গ্লিম্ট। ৬১ মিনিটে জেন্স পিটার হাউগ এবং ৬৪ মিনিটে ক্যাসপার হগের দ্রুতগতির আক্রমণ ও নিঃস্বার্থ অ্যাসিস্টে করা গোল দুটি ৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আস্পমাইরা স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসায়। পুরো ম্যাচে বোডো মাত্র ৮টি শট নিয়ে তার মধ্যে ৬টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যা তাদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের পরিচয় দেয়। বিপরীতে ১১টি শট নিয়েও ইন্টারের আক্রমণভাগ ছিল লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা লাউতারো মার্টিনেজরা এদিন মাঠ ছাড়েন বড় হারের গ্লানি নিয়ে।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর আগে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে গিয়েও তাদের ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছিল এই নরওয়েজীয় ক্লাবটি। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বোডো/গ্লিম্ট এখন আর কেবল কোনো অঘটন সৃষ্টিকারী দল নয়, বরং তারা কৌশলী ফুটবলের এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এই পরাজয় ইন্টার মিলানের শেষ ষোলোর যাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইন্টারের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ফিরতি লেগের ম্যাচ। সেখানে ঘুরে দাঁড়িয়ে কামব্যাক করতে না পারলে রানার্সআপ ইন্টারকে প্লে-অফ থেকেই বিদায় নিতে হবে। অন্যদিকে, নিজেদের অভিষেক আসরে রূপকথার গল্পটি আরও রাঙাতে এখন সান সিরোর সেই অগ্নিপরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে বোডো/গ্লিম্ট।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জয়ের পথে বড় ধরনের হোঁচট খেল বর্তমান টেবিল টপার আর্সেনাল। দুই গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও রক্ষণভাগের শেষ মুহূর্তের ভুলে তলানির দল উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের (উলভস) বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। বুধবার রাতে উলভসের মাঠ মোলিনাক্সে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর ফলে শিরোপার লড়াই এখন অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও, এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে গানারদের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র পাঁচ পয়েন্টে। সিটি তাদের হাতে থাকা ম্যাচটি জিতলে এই ব্যবধান মাত্র দুইয়ে নেমে আসবে, যা আর্সেনালের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা আর্সেনাল মাত্র পঞ্চম মিনিটেই গোলের দেখা পায়। দলের প্রাণভ্রমরা বুকায়ো সাকার দারুণ এক হেডে লিড নেয় গানাররা। প্রথমার্ধে দাপট বজায় রেখে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। ৫৬ মিনিটে পিয়েরো ইনকাপিয়ে চমৎকার এক নিপুণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে মনে হচ্ছিল আর্সেনাল সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে। তবে জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও খেই হারিয়ে ফেলে লন্ডনের ক্লাবটি। বিশেষ করে এ মৌসুমে মাত্র একটি ম্যাচে জয় পাওয়া উলভস ঘরের মাঠে অভাবনীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয় মোড় নেয়। হুগো বুয়েনো এক দর্শনীয় দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন, যা স্বাগতিক দর্শকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। আর্সেনাল যখন জয়ের প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। উলভসের ফরোয়ার্ড টম এডোজির একটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার সময় আর্সেনাল ডিফেন্ডার রিকার্দো কালাফিওরির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের ফলে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয় গানারদের এবং শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ হয়।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় আর্সেনাল শিবিরের হতাশাজনক পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ম্যাচ শেষে বুকায়ো সাকা অকপটে স্বীকার করেন যে, প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলার মানের মধ্যে অনেক পার্থক্য ছিল। নিজেদের প্রত্যাশিত মান ধরে রাখতে না পারার কারণেই এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান যে, শিরোপা জয় নিশ্চিত করতে হলে সামনের ম্যাচগুলোতে পারফরম্যান্সে দ্রুত উন্নতি আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এক সময় লিগে নয় পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্সেনাল এখন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটির মতো অভিজ্ঞ দলের ক্রমাগত তাড়া গানারদের পরিকল্পনাকে কিছুটা এলোমেলো করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, রেলিগেশন অঞ্চলের লড়াইয়ে থাকা উলভসের জন্য এই ড্র আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় হাতিয়ার। আর্সেনালের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্টই তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত লিগ শিরোপা জয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আপাতত ২ গোলের লিড হারানোর এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো আর্তেতার শিষ্যদের।
লিওনেল মেসি ও সের্হিও বুসকেতস—ফুটবল বিশ্বের এই দুই মহাতারকার বন্ধুত্ব কেবল মাঠের বাইরেই নয়, বরং মাঠের ভেতরেও এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে এই জুটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ম্যাচ একসঙ্গে খেলার এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। তথ্যমতে, মেসি ও বুসকেতস এখন পর্যন্ত মোট ৬৫৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে একই সঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন, যা সমসাময়িক বা অতীতের যেকোনো ফুটবল জুটির জন্য একটি দুর্লভ মাইলফলক। দীর্ঘ কয়েক দশকের ফুটবল ইতিহাসে এমন বোঝাপড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী পেশাদারিত্ব খুব একটা দেখা যায় না।
এই ৬৫৩টি ম্যাচের একটি বিশাল অংশ এসেছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে। সেখানে তারা দীর্ঘ সময় রাজত্ব করে ৫৬৯টি ম্যাচ একসঙ্গে খেলেছেন। পরবর্তীতে ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে পুনরায় একত্রিত হয়ে তারা আরও ৮৪টি ম্যাচ মাঠে ভাগ করে নিয়েছেন। এই জুটির ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, যখন বার্সেলোনার জার্সিতে বুসকেতসের অভিষেক হয়েছিল। সেই ম্যাচে মেসির পাশাপাশি মাঠে ছিলেন আরেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। মজার বিষয় হলো, আইএফএফএইচএস-এর তালিকার দ্বিতীয় স্থানটিও বুসকেতসের দখলে। পিকে ও বুসকেতস একসঙ্গে খেলেছেন ৬২০টি ম্যাচ, যার মধ্যে ৫৩৩টি বার্সেলোনার হয়ে এবং ৮৭টি স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতে।
পেশাদার ফুটবলে ৬০০-র বেশি ম্যাচ একসঙ্গে খেলার নজির হাতেগোনা কয়েকজনের রয়েছে। সেই তালিকায় সম্প্রতি নাম লিখিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের দুই জার্মান তারকা ম্যানুয়েল নয়্যার ও থমাস মুলার। তারা বায়ার্নের হয়ে এখন পর্যন্ত ৬১১টি ম্যাচ একসঙ্গে খেলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তবে মেসি ও বুসকেতসের ৬৫৩ ম্যাচের এই বিশাল উচ্চতা ছোঁয়া অদূর ভবিষ্যতে যেকোনো ফুটবলার জুটির জন্য প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এই পরিসংখ্যানে কেবল ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলা শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০২৫ মৌসুম শেষে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) থেকে বুসকেতসের অবসরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক জুটির মাঠের লড়াইয়ে হয়তো সাময়িক বিরতি পড়েছে। তবে ফুটবল প্রেমীদের কাছে মেসি-বুসকেতস জুটি মানেই এক জাদুকরী রসায়ন, যা তিকি-তাকা ফুটবলের স্বর্ণযুগ থেকে শুরু হয়ে ফ্লোরিডার ইন্টার মিয়ামি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিদায়ের আগে বুসকেতস মেসির সঙ্গে মিলে যে রেকর্ডটি গড়ে গেছেন, তা আগামী দীর্ঘ সময় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে থাকবে। বর্তমানে মেসি এখনো ফুটবলে সক্রিয় থাকলেও বুসকেতসের বিদায় এই জুটির দীর্ঘ পথচলার এক অবিস্মরণীয় পরিসমাপ্তি টানল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের রদবদল আসতে যাচ্ছে। বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে লিপুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অনিচ্ছার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ খুঁজছে বিসিবি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক এবং অভিজ্ঞ সাবেক নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনকে এই পদের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ। সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই তিনি দেশের ক্রিকেটের নীতি নির্ধারণী এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই বছরের চুক্তিতে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তাঁর মেয়াদে দল গঠনে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব আনার চেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে। বিসিবি কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল তাঁর চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়িয়ে নিতে, কিন্তু পারিবারিক কারণে তিনি এই পদে আর দীর্ঘমেয়াদে থাকতে আগ্রহী নন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বিসিবিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। লিপুর এই প্রস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই বিসিবি পরবর্তী যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে হাবিবুল বাশারের দিকে নজর দেয়।
হাবিবুল বাশার সুমন এর আগেও দীর্ঘ সময় বিসিবির নির্বাচক প্যানেলে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিকেটারদের মান যাচাই এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের পাইপলাইন সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞান থাকায় বোর্ড মনে করছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনিই প্রধান নির্বাচকের পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ থেকে বাশারকে ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত সম্মতি দেননি এবং বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য বোর্ডের কাছে কয়েক দিন সময় চেয়েছেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, হাবিবুল বাশার দায়িত্বটি নিতে মানসিকভাবে আগ্রহী এবং খুব শীঘ্রই তিনি তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বোর্ডকে জানিয়ে দেবেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজী আশরাফ লিপুর উত্তরসূরি হিসেবে হাবিবুল বাশারের অন্তর্ভুক্তি বিসিবির নির্বাচক প্যানেলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে সামনে যখন বড় বড় টুর্নামেন্ট ও সিরিজের ব্যস্ততা রয়েছে, তখন একজন অভিজ্ঞ ও সাবেক অধিনায়ককে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে রাখা দলের জন্য ইতিবাচক হবে। বর্তমানে বিসিবির নীতিনির্ধারকরা বাশারের গ্রিন সিগনালের অপেক্ষায় রয়েছেন। আনুষ্ঠানিক সম্মতি পাওয়ার পরপরই বোর্ড সভার মাধ্যমে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে এবং চলতি মাসের শেষ দিকেই হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে। নতুন প্রধান নির্বাচকের হাত ধরে বাংলাদেশের দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো কৌশল যোগ হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে এক বড় অঘটনের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। বৃষ্টিবিঘ্নিত পাল্লেকেলেতে কপাল পুড়ল সাবেক টি-টোয়েন্টি বিশ্বসেরা দল অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো অজিদের। অন্যদিকে, এই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পাওয়ার সুবাদে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট বা শেষ আট নিশ্চিত করল জিম্বাবুয়ে।
আজ মঙ্গলবার ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল আয়ারল্যান্ডের। কিন্তু ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। কয়েক দফায় বৃষ্টি থামলেও মাঠ খেলার উপযোগী করে তোলার আগেই আবারও বেরসিক বৃষ্টি হানা দেয়। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত টস করাও সম্ভব হয়নি। ফলে আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিসিয়ালরা খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচটি মাঠে না গড়ানোয় জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড—উভয় দলকেই একটি করে পয়েন্ট দেওয়া হয়।
এই এক পয়েন্ট পাওয়ার ফলেই মূলত জিম্বাবুয়ের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। ৩ ম্যাচে দুই জয় এবং আজ পরিত্যক্ত ম্যাচের এক পয়েন্টসহ মোট ৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা সুপার এইটের টিকিট নিশ্চিত করে। জিম্বাবুয়ের হাতে এখনো একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও এই ৫ পয়েন্টই তাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় মূলত তাদের আগের দুই হারের কারণে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় পরাজয়ের পর গতকাল শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে অজিদের সমীকরণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। ৩ ম্যাচে মাত্র এক জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ক্রিকেট বিশ্বের এই পরাশক্তি।
গ্রুপ ‘বি’-র সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিম্বাবুয়ের পাশাপাশি দাপটের সাথে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। এখন পর্যন্ত ৩টি ম্যাচ খেলে সবকটিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে লঙ্কানরা। আয়ারল্যান্ড তাদের সবগুলো অর্থাৎ ৪টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। এক জয় এবং এক পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার তৃতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করল। অন্যদিকে, ওমান এখন পর্যন্ত কোনো জয়ের দেখা পায়নি এবং পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই রয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিদায় টুর্নামেন্টে এক নতুন রোমাঞ্চের জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের হারটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য টার্নিং পয়েন্ট। সেই ম্যাচে রোডেশিয়ানদের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েছিল তারা, যার শেষ পরিণতি ঘটল বৃষ্টির বাঁধায়। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন, যা বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের পুনরুত্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই গ্রুপ থেকে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে এখন সুপার এইটের লড়াইয়ে নিজেদের প্রস্তুত করবে।
বিশ্বরাজনীতির অত্যন্ত সংবেদনশীল দুটি কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরমাণু বিষয়ক আলোচনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি বৈঠকের দিকে গভীর নজর রাখছেন। এই আলোচনাগুলোর গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৩ সেন্ট বা ০.৩৪ শতাংশ কমে ৬৮ ডলার ৪২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে মার্কিন বাজার আদর্শ ডব্লিউটিআই-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১.০৮ শতাংশ বেড়ে ৬৩ ডলার ৫৭ সেন্টে পৌঁছেছে।
জ্বালানি তেলের বাজারের এই মিশ্র প্রবণতার নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে ‘প্রেসিডেন্টস ডে’র ছুটি থাকায় মার্কিন বাজারে তেলের কোনো আনুষ্ঠানিক দর নির্ধারিত ছিল না, যার ফলে মঙ্গলবারের দরের সঙ্গে আগের পরিস্থিতির একটি সমন্বয় ঘটেছে। পাশাপাশি এশিয়ার বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে লেনদেনের পরিমাণ গত কয়েকদিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। এই আঞ্চলিক ছুটির আমেজ বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরিতে বাধা দিয়েছে। তবে বাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে জেনেভায় চলমান আলোচনার টেবিলে কী সিদ্ধান্ত আসে তার ওপর।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের উন্নয়ন বিশ্ববাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হয়, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় কোনো ঝুঁকি থাকবে না। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অন্যদিকে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কোনো একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান এলে রাশিয়ার ওপর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। এর ফলে রুশ জ্বালানি তেল পুনরায় বিশ্ববাজারে সহজলভ্য হবে এবং সরবরাহে গতি আসবে, যা জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী করতে সহায়ক হবে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসএস ওয়েলথস্ট্রিট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে চাহিদা ও সরবরাহের প্রথাগত সূত্রের চেয়ে কূটনৈতিক সংকেতগুলো দাম নির্ধারণে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণেই জ্বালানি তেলের দাম এখনো একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় আটকে আছে। তিনি আরও বলেন যে, আলোচনার টেবিলে কোনো অচলাবস্থা তৈরি হলে অথবা নেতিবাচক সংকেত পাওয়া গেলে দাম যেকোনো সময় বড় ধরনের ওঠানামার শিকার হতে পারে।
জেনেভায় বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরমাণু বিরোধ নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরোক্ষ সংলাপ শুরু হয়েছে। এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ অংশ নিচ্ছেন, যেখানে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনার শুরুতেই ইরান সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনকে যেকোনো ধরনের অবাস্তব দাবি জানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এদিকে, সোমবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শুরু করা সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও আরব দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, জেনেভা সংলাপের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই এখন বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ ভাগ্য ঝুলে আছে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগে বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে রিয়ালের এই গুরুত্বপূর্ণ জয়টি ফুটবলীয় রোমাঞ্চ ছাপিয়ে বর্ণবাদের এক কলঙ্কিত অধ্যায়ে ম্লান হয়ে গেছে। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রতি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ এবং তার প্রতিবাদে সতীর্থদের নিয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে রেফারিকে বেশ হিমশিম খেতে হয় এবং এর রেশ ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত গ্যালারিতেও বজায় ছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল মূলত গোলরক্ষকদের লড়াই। তিন সপ্তাহ আগে লিগ পর্বে রিয়ালকে রুখে দেওয়া বেনফিকা গোলরক্ষক আন্তোলি ত্রুবিন এদিনও প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে রিয়ালকে গোলবঞ্চিত রাখেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে একক প্রচেষ্টায় দ্রুত ডি-বক্সের দিকে এগিয়ে যান তিনি। আপাতদৃষ্টিতে গোল হওয়ার মতো খুব একটা সুযোগ না থাকলেও দূরপাল্লা থেকে নেওয়া তাঁর এক অবিশ্বাস্য বাঁকানো শট ত্রুবিনের নাগালের অনেক ওপর দিয়ে গিয়ে গোলপোস্টের উপরের কোণায় আছড়ে পড়ে। এই দর্শনীয় গোলের পর স্বাগতিক দর্শকদের সামনে গিয়ে কিছুটা আক্রমণাত্মকভাবে উদযাপন করার দায়ে ভিনিসিয়ুসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
ম্যাচের আসল নাটকীয়তা ও বিতর্ক শুরু হয় এর কিছুক্ষণ পর। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় প্রেস্তিয়ান্নি ভিনিসিয়ুসের উদ্দেশ্যে একটি মন্তব্য করেন, যাকে বর্ণবাদী বলে দাবি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে ভিনিসিয়ুস তাৎক্ষণিক রেফারিকে বিষয়টি জানান এবং প্রতিবাদস্বরূপ রিয়ালের সকল খেলোয়াড়কে নিয়ে মাঠের বাইরে নিজের ডাগআউটের দিকে চলে যান। পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে পড়লে রেফারি খেলা স্থগিত রাখতে বাধ্য হন। এই ১০ মিনিটের অচলাবস্থার মাঝে সাইডলাইনে তর্কে জড়ানোর কারণে বেনফিকার কোচিং স্টাফের একজন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয় এবং আলাদা একটি ঘটনায় বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহোকেও লাল কার্ড দেখান রেফারি। এ সময় রিয়ালের আরেক তারকা কিলিয়ান এমবাপেকেও বেশ বিচলিত ও অসন্তুষ্ট দেখা যায়।
দীর্ঘ বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও মাঠের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়নি। ভিনিসিয়ুসের পায়ে বল গেলেই পুরো স্টেডিয়ামে গগনবিদারী দুয়ো ধ্বনি শোনা যাচ্ছিল, যা খেলোয়াড়দের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে যখন উত্তেজিত বেনফিকা সমর্থকরা রিয়াল খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে পানির বোতল ও বিভিন্ন বস্তু বৃষ্টির মতো ছুড়তে শুরু করে। এমন বৈরী ও ভীতিকর পরিস্থিতির মাঝেই ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী বুধবার রিয়ালের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে লিসবনের এই জয় রিয়াল শিবিরে লিড এনে দিলেও বর্ণবাদের এই নতুন ঘটনা এবং গ্যালারির বিশৃঙ্খলা ইউরোপীয় ফুটবলে আবারও বড় এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় বেনফিকার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।