রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১০ ফাল্গুন ১৪৩২

ক্যারিবীয়দের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ব্যাটিং আর দ.আফ্রিকার সংহারপূর্ণ বোলিংয়ের লড়াই

চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত
প্রকাশিত
চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত
প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৪ ২১:৫৩

ক্রিকেটের মারকাটারি সংস্করণ টি-টোয়েন্টি। ব্যাটে-বলের ধুন্ধুমার লড়াইয়ের এবারের বিশ্ব আসরের এখন পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে; স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের মূলমন্ত্র অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ব্যাটিং। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার টানা জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের সংহারপূর্ণ বোলিং। হারতে হারতেও বোলারদের নৈপুণ্যে ম্যাচ জিতেছে প্রোটিয়ারা। তাই সুপার এইটে এ দুই দলের একটা ধুন্ধুমার লড়াই দেখতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় সেই লড়াই দেখা যাবে। বাংলাদেশ বেতার খেলার চলতি ধারাবিবরণী সরাসির সম্প্রচার করবে।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন পর্যন্ত টানা ৬ ম্যাচে অপরাজিত প্রোটিয়ারা। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবগুলোই জয়ের পর সুপার এইটের দুই ম্যাচও জয় দিয়ে রাঙিয়েছে তারা। তাই বেশ আত্মবিশ্বাসী এইডেন মার্করামের দল। সবগুলোতে না জিতলেও বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে ক্যারিবীয়ানরাও। হেরেছে শুধু সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ধাক্কা সামলে পরের ম্যাচেই আবার যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দিয়েছে। ফিরে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস।

দুই দলের লড়াইটা যে সমানে সমান হবে সেটার জানান দিচ্ছে মুখোমুখি পরিসংখ্যান। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ২২ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দলই সমান ১১টি করে ম্যাচ জিতেছে। তবে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চারবারের দেখায় তিনবার জিতেছে তারা। প্রথমবার জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৭, ২০০৯ ও ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে সবশেষ দেখার স্মৃতি পোড়াবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে শক্তির বিচারে দুই দলই সমানে সমান, কেউ কাউকে নাহি ছাড়ে। শাই হোপ, নিকোলাস পুরান, জনসন চার্লস, রোভম্যান পাওয়েল, শেরফান রাদারফোর্ড ও আন্দ্রে রাসেলদের নিয়ে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন যেকোনো দলের জন্যই আতঙ্কের। তবে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই রেজা হেন্ডরিক্স, কুইন্টন ডি কক, হেনরি ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, এইডেন মার্করামদের নিয়ে গড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে থাকবে তাদের অলরাউন্ডার শক্তির জন্য। আন্দ্রে রাসেল, রোভম্যান পাওয়েল, রোস্টন চেজরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তবে বোলিংয়ে এগিয়ে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নরকিয়া, কেশাব মাহারাজরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

দুই দলেরই লড়াইটা এখন সেমিফাইনাল খেলার। সে লক্ষ্যে অবশ্য স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাই। সুপার এইটে ২ ম্যাচ খেলে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট পেয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রকে ১৮ রানে ও ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়েছে তারা। অন্যদিকে দুই ম্যাচ খেলে একটি জয় ক্যারিবীয়দের। টেবিলের শীর্ষে থাকলেও এখনও সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়নি প্রোটিয়াদের। সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে বা গ্রুপের অন্য ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ড হারলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারলেও প্রোটিয়াদের সুযোগ আছে সেমিফাইনাল খেলার। ইংল্যান্ড যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারে তাহলে কোনো সমীকরণ ছাড়াই সেমি খেলবে তারা। আর যদি জেতে তাহলে হিসাব কষতে হবে রান রেটের। রান রেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ইংল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে প্রোটিয়ারা। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান রেট ১.৮১৪, দক্ষিণ আফ্রিকার ০.৬২৫ এবং ইংল্যান্ডের ০.৪১২। তবে রান রেটের হিসাব না কষে টানা সপ্তম জয়ের স্বাদ নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে চায় প্রোটিয়ারা।

দলের অধিনায়ক এইডেন মার্করাম বলেন, ‘টানা ছয় ম্যাচ জিতে আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের লক্ষ্য জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা।’

গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ড হারলে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু নিজ নিজ ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি জিতে যায়, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে রান রেট বিবেচনা করতে হবে অন্য দুই দলকে।

রান রেট নিয়ে চিন্তা না করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনটাই জানিয়েছেন ক্যারিবীয় ওপেনার শাই হোপ, ‘আমাদের রান রেট ভালো আছে। এ জন্য আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে না জিতলে এই রান রেট কাজে আসবে না, যদি অন্য ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইংল্যান্ড জিতে যায়। এ জন্য আমাদের প্রধান কাজ হলো- জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া। এই কাজটি আমাদের আগে করতে হবে।’


মেসির মিয়ামিকে মাটিতে নামিয়ে আনল সনের লস অ্যাঞ্জেলেস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ২০২৬ মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিয়ামি। লিওনেল মেসিকে ঘিরে ভক্তদের যে অসীম উন্মাদনা ছিল, তাকে এক নিমিষেই ম্লান করে দিয়েছে সন হিউং-মিনের দল লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (এলএএফসি)। লস অ্যাঞ্জেলেস মেমোরিয়াল কলিসিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মিয়ামিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিকরা। গ্যালারিতে উপস্থিত ৭৫ হাজার ৬৭৩ জন দর্শকের সিংহভাগই এসেছিলেন মেসির জাদুকরী ফুটবল দেখতে, তবে মাঠের দখল ছিল পুরোপুরি এলএএফসির হাতে। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মিয়ামি ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও লস অ্যাঞ্জেলেসের কৌশল ও গতির কাছে তারা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরীয় তারকা সন হিউং-মিনের নেতৃত্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লস অ্যাঞ্জেলেস। স্বাগতিকদের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ডেভিড মার্টিনেজ, যার নেপথ্য কারিগর ছিলেন স্বয়ং সন। সনের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে মিয়ামি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও লস অ্যাঞ্জেলেসের জমাট রক্ষণ ও মাঝমাঠের দাপটের সামনে মেসি-সুয়ারেজরা কোনো কার্যকরী সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। বিরতির পর ৭৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেনি বুয়াঙ্গা। টিমোথি টিলম্যানের এক লম্বা পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসা মিয়ামি গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার চিপ শটে গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের একদম শেষলগ্নে যোগ করা সময়ে নাথান অরদাজ তৃতীয় গোলটি করলে মিয়ামির বড় পরাজয় নিশ্চিত হয়।

ঐতিহাসিক লস অ্যাঞ্জেলেস মেমোরিয়াল কলিসিয়াম, যা আগে অলিম্পিক ও সুপার বোলের মতো মহতী আসরের সাক্ষী হয়েছে, সেখানে এদিন ছিল এক অভূতপূর্ব পরিবেশ। গ্যালারি ভরা গোলাপি জার্সি পরিহিত মিয়ামি সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও সন ও তাঁর সতীর্থরা মাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। ম্যাচের প্রতিটি ছোঁয়ায় গ্যালারি সরব হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে স্বাগতিকরাই। গোল করা তো দূরে থাক, পুরো ম্যাচে মিয়ামির আক্রমণভাগ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই এমন বিধ্বস্ত হার চ্যাম্পিয়ন মিয়ামিকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলবে। অন্যদিকে, শক্তিশালী মিয়ামিকে উড়িয়ে দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি লিগের বাকি দলগুলোর কাছে এক কড়া বার্তা পৌঁছে দিল যে, এবারের আসরে তারা শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার।


১৬০ বছরের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম: ৩০ বছর পরবর্তী ৫০০ গোলের অনন্য মাইলফলকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বের অদম্য জাদুকর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন যে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে আল হাজেমের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ের রাতে জোড়া গোল করে তিনি এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। আধুনিক ফুটবলের ১৬০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে রোনালদোই প্রথম ফুটবলার, যিনি ৩০ বছর বয়স অতিক্রম করার পর ৫০০ গোলের গণ্ডি স্পর্শ করলেন। আল হাজেমের বিপক্ষে জয়ের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি এই পর্তুগিজ মহাতারকা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এমন এক কীর্তি স্থাপন করেছেন, যা আগে কোনো কিংবদন্তি খেলোয়াড় অর্জন করতে পারেননি।

এই অভাবনীয় রেকর্ডটি ফুটবল বোদ্ধাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সাধারণত একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার ৩০ বছরের পর পড়তির দিকে থাকে, কিন্তু রোনালদোর ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৩০ বছর পরবর্তী সময়ে তিনি এখন পর্যন্ত ৫০১টি গোল করেছেন, যা তাঁর ফিটনেস এবং মাঠের শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য প্রমাণ। এই জোড়া গোলের পর তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬৫-তে। ঐতিহাসিক ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে সিআর সেভেনের প্রয়োজন আর মাত্র ৩৫টি গোল। যেভাবে তিনি প্রতি ম্যাচে নিজেকে নতুন করে তুলে ধরছেন, তাতে খুব দ্রুতই যে তিনি এই চার সংখ্যার জাদুকরী তালিকায় নাম লেখাবেন, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রোনালদোর এই দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলায় তিনি রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং স্পোর্টিং সিপির মতো বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোতে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে এসেছেন। বর্তমানে আল নাসরের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দাপিয়ে বেড়ালেও আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে গুঞ্জন উঠেছে যে তিনি হয়তো আগামী গ্রীষ্মে পুনরায় ইউরোপীয় ফুটবলে ফিরে যেতে পারেন। বিশেষ করে তাঁর শৈশবের ক্লাব স্পোর্টিং লিসবন তাঁকে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে। তবে রোনালদো বর্তমানে আল নাসরের হয়ে সৌদি লিগ শিরোপা জয়ের মিশনেই পুরো মনোযোগ ধরে রেখেছেন। পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার স্বপ্নও তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, যা তাঁর ফুটবলীয় তৃষ্ণা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিরই বহিঃপ্রকাশ। সব মিলিয়ে, ১৬০ বছরের রেকর্ড ভেঙে রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি বিশ্ব ফুটবলের এক চিরকালীন আইকন।


ডিসেম্বরেই অবসর নিতে চাইতে পারি: নেইমার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ৩৪ বছর বয়সেও পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা এখনো ভাবছেন না। তবে চোটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে করতে ক্লান্তি বেড়েছে, এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য এখন তার প্রধান প্রেরণা।

অ্যান্টেরিওর ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) চোটের কারণে প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে নেইমারকে। বয়সের সঙ্গে চোটের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে খেলার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়েছে।

ব্রাজিলের ‘কাজেটিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘ভবিষ্যৎ আমার জন্য কী নিয়ে আসছে, তা আমি জানি না। ডিসেম্বরেই অবসর নিতে চাইতে পারি। আমি দিন ধরে ধরে এগোচ্ছি। এই বছরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোসের জন্য নয়, ব্রাজিল জাতীয় দল এবং আমার নিজের জন্যও।’

২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেননি নেইমার। শৈশবের ক্লাব সান্তোস–এ ফিরে এসেও দ্রুত মাঠে নামার তাড়াহুড়ো করেননি। তিনি জানিয়েছেন, ‘এই মৌসুমে শতভাগ ফিট হয়ে ফিরতে চেয়েছিলাম, দেখেই কিছু ম্যাচে বিশ্রামে ছিলাম। প্রতিদিনের বাস্তবতা অনেকেই বোঝে না। সান্তোস এ বিষয়ে দারুণ পরিকল্পনা করেছে। আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফিরতে পেরে আমি খুশি ও স্বস্তি বোধ করছি।’

ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার জায়গা এখনো নিশ্চিত নয়। বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে শতভাগ ফিট হয়ে যোগ্যতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।

২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্লেবারসন মনে করেন, নেইমারকে বিশ্বকাপে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘ফিটনেসে পিছিয়ে থাকলেও তার প্রতিভা অসাধারণ। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর সে নিজের সামর্থ্য দেখাতে পারবে। ব্রাজিলে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, কিন্তু নেইমারের মতো জাদুকরী কিছু করার ক্ষমতা আর কারও নেই।’

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে খেলবে। আগামী ১৩ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়াম–এ মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করবে। গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। মূলত বিশ্বকাপ জয়ের পরই নেইমার তার ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।


বিশ্বকাপে খেলতে না পারায় ২ জন ক্রিকেটার কোমাতে চলে গিয়েছিল: কোচ সালাউদ্দিন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ছাড়া চলমান এই আসর নিয়ে আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে গণমাধ্যমের সামনে নিজের গভীর ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিসিবির সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হওয়াকে কেন্দ্র করে দলের পরিবেশ ও ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, 'কলকাতা শ্রীলঙ্কাতে খেলা দেখার পরে মনে হলো যে উইকেটটা হয়তো আমাদের জন্য অনেক দারুণ হতো। আমরা হয়তো এই উইকেটে ভালো করতে পারতাম। খেলা যেরকম মান হচ্ছে সে অনুযায়ী আমার কাছে মনে হচ্ছে যে এখানে আমাদের ভালো করার অনেক সুযোগ ছিল।'

বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করে তিনি আক্ষেপের সুরে আরও বলেন, 'এখন আফসোস করে তো লাভ নাই। টি-টোয়েন্টি দল হিসেবে আমাদের দলটা অনেক গোছানো ছিল এবং এই বিশ্বকাপটা ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় যে উইকেটটাও আমাদের ফেভারে ছিল। সবদিক দিয়ে আমার মনে হয় যে আমাদের ভালো করার সুযোগ ছিল।' বিশ্বকাপে খেলতে না পারার ধাক্কা সামলাতে না পেরে ক্রিকেটারদের চরম মানসিক বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমি তো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় প্রায় কোমাতে চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। যে সে মাঠে আসছে এবং এসে আবার রান করেছে।'

এদিকে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কার ছিল, তা নিয়ে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই বর্ষীয়ান কোচ। শুরুতে এটি সরকারের সিদ্ধান্ত বলা হলেও পরে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের ওপর দায় চাপানোয় বিস্ময় প্রকাশ করে সালাউদ্দিন বলেন, 'উনি (আসিফ নজরুল) খাড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবে আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কীভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাবো। উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে আমরা আসলে এটা মানতে পারতেছি না।' মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থেকে বঞ্চিত হওয়ায় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচও নিজের চরম অসন্তুষ্টির কথা ব্যক্ত করেছেন।


টি-টোয়েন্টিতে রোহিত-সূর্যকুমারকে টপকে সিকান্দার রাজার রেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে গ্রুপ ‘বি’-তে সুপার এইটে যাওয়ার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা এগিয়ে ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সমস্ত হিসাব পাল্টে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে আগেই হারানোর পর গত বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে উঠেছে।

দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচ সেরা হয়েছেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে গড়ে তোলেন নতুন রেকর্ড।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২০তম ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়ে তিনি আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এই নজির গড়েছেন। এতে পিছনে ফেলেছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে, যিনি ১৭ বার এই খেতাব জিতেছিলেন। টেস্ট খেলে না এমন দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র মালয়েশিয়ার বিরানদীপ সিং এর উপরে আছেন সিকান্দার, যিনি ২২ বার ম্যাচ সেরার খেতাব পেয়েছেন।

শুধু তাই নয়, রোহিত শর্মার রেকর্ডও ভেঙেছেন সিকান্দার। ৩৭ বছর বয়সে রোহিত ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন। সিকান্দার রাজা তা টপকে ৩৯ বছর ৩০১ দিন বয়সে ম্যাচ সেরা হয়েছেন। এবার সুপার এইটে বাকি দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া তার এবং জিম্বাবুয়ে দলের মূল লক্ষ্য।


আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৪
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির আদালত। পাশাপাশি কর ফাঁকির মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়।

সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তাপিয়াকে আগামী ৫ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। আর্জেন্টিনার কর সংস্থা এআরসিএ তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের অবৈধ ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছে।

তাপিয়ার সঙ্গে এএফএর অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া এএফএর খেলোয়াড় ও কর্মচারীদের পেনশন যথাযথভাবে জমা হয়েছে কি না এবং ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর পরিশোধের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। মূলত সংস্থাটি পেনশন ও কর–সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে কি না সেটিই দেখা হচ্ছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে পুলিশ এএফএর সদর দপ্তরে অভিযান চালায়। এই অভিযান বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। এএফএর দাবি, অভিযোগের মূল উৎস একটি ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাদ এবং আর্জেন্টিনা সরকারের সঙ্গে সংযোগিত বিষয়।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলের সরকার পাবলিকলি ট্রেডেড স্পোর্টস কোম্পানিতে রূপান্তরের পক্ষপাতী, কিন্তু এএফএর নিয়ম তা অনুমোদন করে না।


বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি প্রকাশ, তাসকিন- মুশফিকের গ্রেড পরিবর্তন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ সালের জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে। নতুন চুক্তিতে পেসার তাসকিন আহমেদ ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের গ্রেডে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গত বছর তাসকিন একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন। ওই গ্রেডে তার মাসিক বেতন ছিল ১০ লাখ টাকা (প্রায় ৮,১৬৯ মার্কিন ডলার)।

এবার তাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। এই গ্রেডে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক যথাক্রমে নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসার মিরাজ ও লিটন দাস আছেন। ‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা মাসে ৮ লাখ টাকা (প্রায় ৬,৫৩৫ মার্কিন ডলার) পাবেন। এ বছর কোনো ক্রিকেটারকে ‘এ প্লাস’ গ্রেডে রাখা হয়নি।

মুশফিকুর রহিম, যিনি ২০২৫ সালে ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন, গত বছর ‘এ’ গ্রেডে ছিলেন। এবার তাকে ‘বি’ গ্রেডে নামানো হয়েছে। এই গ্রেডে তার মাসিক বেতন হবে ৬ লাখ টাকা (প্রায় ৪,৯০১ মার্কিন ডলার)। ‘বি’ গ্রেডে আরও ১০ জন ক্রিকেটার আছেন, যাদের মধ্যে টেস্ট স্পেশালিস্ট মমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম ও সাদমান ইসলাম উল্লেখযোগ্য।

‘সি’ গ্রেড থেকে ‘বি’ গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন তানজিম হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান।

ডি গ্রেডের ক্রিকেটারদের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। গতবার এই গ্রেডে মাত্র দুজন ছিলেন, এবার সাতজন জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফ হাসান ও নুরুল হাসান সোহান উল্লেখযোগ্য।

‘সি’ ও ‘ডি’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা যথাক্রমে মাসে ৪ লাখ (প্রায় ৩,২৬৭ ডলার) ও ২ লাখ টাকা (প্রায় ১,৬৩৩ ডলার) পাবেন।

২০২৬ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা

গ্রেড এ :

নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ

গ্রেড বি:

মুশফিকুর রহিম, মমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা

গ্রেড সি:

সৌম্য সরকার, জাকের আলী, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান, নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ

গ্রেড ডি:

সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তানভীর ইসলাম, নাঈম হাসান, হাসান মুরাদ, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান।


গাজায় ৫০ মিলিয়ন ডলারে ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ করবে ফিফা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউড অব পিসে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন। গাজা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার করতেই বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা হবে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার দর্শক। একই সঙ্গে সেখানে একটি ফিফা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এ প্রকল্পের আওতায় আরও ৫০টি ছোট ফুটবল মাঠ ও পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ নির্মাণে অর্থায়ন করা হবে।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমাদের শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা সড়ক নয়, মানুষের আশা, আবেগ ও বিশ্বাসও পুনর্গঠন করতে হবে। ফুটবল সেই শক্তিই দেয়।’

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠনের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেন। আরও ৯টি দেশ ৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং পাঁচটি দেশ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশনে সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজায় আলাদা কোনো জাতীয় ফুটবল দল না থাকলেও ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফা গাজা ও পশ্চিম তীরকে প্রতিনিধিত্বকারী একীভূত ফিলিস্তিনি দলকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।


বিব্রতকর রেকর্ডে অভিষেক শর্মা, জয়ের ধারায় ভারতের নতুন বিশ্ব রেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের জয়জয়কার চললেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত এই তরুণ ক্রিকেটার আসরের শুরু থেকেই নিজের ছায়া হয়ে আছেন। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে শূন্য রানে আউট হয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন তিনি। অভিষেক শর্মার এই অফ-ফর্ম ভারতীয় সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও দলগতভাবে ভারত টানা জয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সুপার এইটে পা রেখেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসরের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন অভিষেক। এরপর অসুস্থতার কারণে এক ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকার পর পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফিরলেও রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন এই ওপেনার। ইতিপূর্বে ভারতীয় পেসার আশিষ নেহরা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচার এবং উগান্ডার রজার মুকাসা এই তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন। এছাড়া এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওপেনার হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ডেও তিনি সঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন ইমন ও নেপালের কুশল ভুর্তেলদের। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব, যিনি গত এক বছরে ৬ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন।

অভিষেকের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে ভারত। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শিভাম দুবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় টিম ইন্ডিয়া। দুবে মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা, যারা যথাক্রমে ৩৪ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতেও ছিলেন শিভাম দুবে ও বরুণ চক্রবর্তী। বরুণ ৩টি এবং দুবে ২টি উইকেট শিকার করে ডাচদের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করল ভারত।

এই জয়ের মাধ্যমে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ১২টি ম্যাচ জিতে নতুন এক বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ভারত। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার টানা ৮টি করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছিল সর্বোচ্চ, যা এখন ভারতের দখলে। তবে রেকর্ড গড়লেও এবারের আসরে ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে ভারতের। চলতি বিশ্বকাপে ভারত এ পর্যন্ত ১২ জন ভিন্ন ভিন্ন বোলার ব্যবহার করেছে, যা এক আসরে কোনো দলের জন্য সর্বাধিক। পাশাপাশি ক্যাচ মিসের তালিকায়ও তারা বেশ ওপরের দিকেই রয়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৯টি ক্যাচ ছেড়েছে ভারতীয় ফিল্ডাররা, যা একমাত্র আয়ারল্যান্ডের চেয়ে কম। সুপার এইটের কঠিন লড়াইয়ে নামার আগে ক্যাচ মিসের এই প্রবণতা ও টপ অর্ডারের ব্যর্থতা কাটানোই এখন কোচ ও অধিনায়ক সূর্যকুমারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


টি-টোয়েন্টিতে ভুল করলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন: রশিদ খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর থেকে অনেকটা নিভৃতেই বিদায় নিল গতবারের সেমিফাইনালিস্ট আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টের তথাকথিত ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়ে শুরুতেই বড় হোঁচট খায় রশিদ খানের দল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষের কাছে প্রথম দুই ম্যাচেই পরাজয় বরণ করতে হওয়ায় টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলো তাদের জন্য কেবল নিয়মরক্ষার আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটি সুপার ওভার পর্যন্ত লড়াই করে হার মেনে নেওয়া আফগান শিবিরের জন্য ছিল চরম দুর্ভাগ্যজনক। এই অকাল বিদায়ের পর আক্ষেপ আর অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অধিনায়ক রশিদ খান।

রশিদ খানের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ধরনটাই এমন যে এখানে ভুলের কোনো অবকাশ নেই। বড় দলের বিপক্ষে একটি ছোট ভুলও পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং একবার পথ হারালে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দুই জায়ান্টের মোকাবিলা করা তাঁদের জন্য ছিল এক বিশাল শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ। সূচির এই চাপ এবং মাঠের ছোটখাটো ভুলগুলোই শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি ঘটিয়েছে। তবে এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্বসেরা এই লেগ স্পিনার।

আফগান ক্রিকেটে এই বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বড় অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। দলের প্রধান কোচ জনাথন ট্রট তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রশিদের নেতৃত্বে আফগান দলের অভাবনীয় উত্থানে ট্রটের অবদান অনস্বীকার্য ছিল। কোচের বিদায়ে আবেগাপ্লুত রশিদ জানান, ট্রট কেবল মাঠের কৌশল নয়, বরং ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধিতেও কাজ করেছেন। তাঁর এই প্রস্থান আফগান ডাগআউটে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে। সামনের দিনগুলোতে এই শূন্যতা পূরণ করে দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে রশিদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থ হলেও রশিদ খানের ওপর দায়িত্ব এখন বহুগুণ বেড়েছে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং তরুণদের আগলে রাখার চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই নতুন পরিকল্পনা সাজাতে চায় আফগানিস্তান। নেতৃত্বের পরীক্ষা আর বড় মঞ্চে স্নায়ুর চাপ সামলানোর মন্ত্র নিয়ে পুনরায় বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছে আফগানরা। আপাতত বিশ্বকাপের এই অকাল প্রস্থান রশিদদের জন্য এক বড় শিক্ষা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।


নামিবিয়াকে উড়িয়ে সুপার এইটে পাকিস্তান

আপডেটেড ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:১৯
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শেষ হাসি হাসল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। শ্রীলঙ্কার সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শাহিবজাদা ফারহানের অনবদ্য সেঞ্চুরি আর বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে একপেশে জয় পায় সালমান আগার দল। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করল পাকিস্তান। এর আগে এই গ্রুপ থেকে ভারত আগেই পরবর্তী রাউন্ডে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছিল। পাকিস্তানের এই দাপুটে জয়ের ফলে কপাল পুড়ল যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের; ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই দুই দলসহ নামিবিয়াও টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নামিবিয়ার বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব। ওপেনিং জুটিতে তাঁরা ৩১ বলে ৪০ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। সাইম বিদায় নিলেও ফারহান ছিলেন অবিচল। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক সালমান আগার সঙ্গে ৪২ বলে ৬৭ রানের একটি লড়াকু জুটি গড়েন তিনি। আগা সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হওয়ার পর ফারহান চতুর্থ উইকেটে শাদাব খানকে নিয়ে তান্ডব শুরু করেন। এই জুটিতে মাত্র ৪০ বলে ৮১ রান যোগ হয়, যার বড় অংশই আসে ফারহানের ব্যাট থেকে। ক্যারিয়ারের ৪৩তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এসে প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির দেখা পান এই ওপেনার। ৫৭ বলে সাজানো তাঁর ১০০ রানের ইনিংসটি ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের মূল প্রাণশক্তি। শাদাব খানও ২২ বলে ৩৬ রানের একটি কার্যকরী ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যার ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে পাকিস্তান।

২০০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে নামিবিয়া। বিশেষ করে উসমান তারেক ও শাদাব খানের ঘূর্ণি জাদুতে দিশেহারা হয়ে পড়ে আফ্রিকান দেশটির ব্যাটাররা। নামিবিয়ার কোনো খেলোয়াড়ই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ওপেনার লরেন স্টিনক্যাম্প এবং ২০ রান আসে আলেকজান্ডার বাসিং ভোলশেঙ্কের ব্যাট থেকে। বাকিরা কেবল আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিলে ১৭.৩ ওভারেই মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়ার ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে লেগ স্পিনার উসমান তারেক মাত্র ৩.৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৪টি এবং শাদাব খান ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করে নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দেন।

পাকিস্তানের এই বড় জয় সুপার এইটের কঠিন লড়াইয়ের আগে দলটিকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। গ্রুপ পর্বের শুরুর দিকে হারের শঙ্কায় থাকলেও পাকিস্তান যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পরের ধাপে পৌঁছাল, তা ক্রিকেট বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। শাহিবজাদা ফারহানের দুর্দান্ত ফর্ম এবং শাদাব খানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স পাকিস্তানের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এখন সুপার এইটের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাই হবে হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একসময়ের প্রিয় এই দলের মূল লক্ষ্য। আপাতত এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল রইল।


ম্যানসিটির পর এবার ইন্টার মিলানকে বিধ্বস্ত করল বোডো/গ্লিম্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়ান্ট বধের মহাকাব্য লিখে চলেছে নরওয়ের অখ্যাত ক্লাব বোডো/গ্লিম্ট। গত জানুয়ারিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়া এই ‘পুঁচকে’ দলটি এবার ঘরের মাঠে বিধ্বস্ত করল আসরের গতবারের রানার্সআপ ইন্টার মিলানকে। বুধবার রাতে নরওয়ের আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচে ইতালিয়ান জায়ান্টদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর পথে একধাপ এগিয়ে গেল তারা। মাত্র ৫৫ হাজার মানুষের মৎস্যজীবী শহর বোডো থেকে উঠে আসা এই ক্লাবটি এখন ইউরোপের বড় দলগুলোর জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

নিজেদের চেনা কন্ডিশনে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বোডো/গ্লিম্ট। যদিও বলের দখলে ৫৫ শতাংশ সময় নিয়ে এগিয়ে ছিল ইন্টার মিলান, কিন্তু কার্যকারিতার দিক থেকে স্বাগতিকরাই ছিল অনন্য। খেলার ২০তম মিনিটে মিডফিল্ডার সোন্দ্রে ব্রান্সটাডের দর্শনীয় এক ফিনিশিংয়ে লিড নেয় বোডো। তবে লড়াইয়ে ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি ইতালিয়ান টেবিল টপাররা। ৩০ মিনিটের মাথায় পিও এস্পোসিতোর লক্ষ্যভেদে সমতায় ফেরে ইন্টার। বিরতি পর্যন্ত ১-১ সমতা থাকায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন ইন্টার হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াবে এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে ম্যাচ বের করে নেবে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে দেয় স্বাগতিকরা। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ইন্টারের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয় বোডো/গ্লিম্ট। ৬১ মিনিটে জেন্স পিটার হাউগ এবং ৬৪ মিনিটে ক্যাসপার হগের দ্রুতগতির আক্রমণ ও নিঃস্বার্থ অ্যাসিস্টে করা গোল দুটি ৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আস্পমাইরা স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসায়। পুরো ম্যাচে বোডো মাত্র ৮টি শট নিয়ে তার মধ্যে ৬টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যা তাদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের পরিচয় দেয়। বিপরীতে ১১টি শট নিয়েও ইন্টারের আক্রমণভাগ ছিল লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা লাউতারো মার্টিনেজরা এদিন মাঠ ছাড়েন বড় হারের গ্লানি নিয়ে।

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর আগে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে গিয়েও তাদের ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছিল এই নরওয়েজীয় ক্লাবটি। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বোডো/গ্লিম্ট এখন আর কেবল কোনো অঘটন সৃষ্টিকারী দল নয়, বরং তারা কৌশলী ফুটবলের এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এই পরাজয় ইন্টার মিলানের শেষ ষোলোর যাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইন্টারের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ফিরতি লেগের ম্যাচ। সেখানে ঘুরে দাঁড়িয়ে কামব্যাক করতে না পারলে রানার্সআপ ইন্টারকে প্লে-অফ থেকেই বিদায় নিতে হবে। অন্যদিকে, নিজেদের অভিষেক আসরে রূপকথার গল্পটি আরও রাঙাতে এখন সান সিরোর সেই অগ্নিপরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে বোডো/গ্লিম্ট।


২ গোলের লিড হারিয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি আর্সেনালের: শিরোপা দৌড়ে জমে উঠল সিটি-গানার লড়াই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জয়ের পথে বড় ধরনের হোঁচট খেল বর্তমান টেবিল টপার আর্সেনাল। দুই গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও রক্ষণভাগের শেষ মুহূর্তের ভুলে তলানির দল উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের (উলভস) বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। বুধবার রাতে উলভসের মাঠ মোলিনাক্সে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর ফলে শিরোপার লড়াই এখন অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও, এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে গানারদের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র পাঁচ পয়েন্টে। সিটি তাদের হাতে থাকা ম্যাচটি জিতলে এই ব্যবধান মাত্র দুইয়ে নেমে আসবে, যা আর্সেনালের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা আর্সেনাল মাত্র পঞ্চম মিনিটেই গোলের দেখা পায়। দলের প্রাণভ্রমরা বুকায়ো সাকার দারুণ এক হেডে লিড নেয় গানাররা। প্রথমার্ধে দাপট বজায় রেখে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। ৫৬ মিনিটে পিয়েরো ইনকাপিয়ে চমৎকার এক নিপুণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে মনে হচ্ছিল আর্সেনাল সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে। তবে জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও খেই হারিয়ে ফেলে লন্ডনের ক্লাবটি। বিশেষ করে এ মৌসুমে মাত্র একটি ম্যাচে জয় পাওয়া উলভস ঘরের মাঠে অভাবনীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয় মোড় নেয়। হুগো বুয়েনো এক দর্শনীয় দূরপাল্লার বাঁকানো শটে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন, যা স্বাগতিক দর্শকদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। আর্সেনাল যখন জয়ের প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। উলভসের ফরোয়ার্ড টম এডোজির একটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার সময় আর্সেনাল ডিফেন্ডার রিকার্দো কালাফিওরির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের ফলে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয় গানারদের এবং শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ হয়।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় আর্সেনাল শিবিরের হতাশাজনক পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ম্যাচ শেষে বুকায়ো সাকা অকপটে স্বীকার করেন যে, প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে দলের খেলার মানের মধ্যে অনেক পার্থক্য ছিল। নিজেদের প্রত্যাশিত মান ধরে রাখতে না পারার কারণেই এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান যে, শিরোপা জয় নিশ্চিত করতে হলে সামনের ম্যাচগুলোতে পারফরম্যান্সে দ্রুত উন্নতি আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এক সময় লিগে নয় পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্সেনাল এখন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটির মতো অভিজ্ঞ দলের ক্রমাগত তাড়া গানারদের পরিকল্পনাকে কিছুটা এলোমেলো করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, রেলিগেশন অঞ্চলের লড়াইয়ে থাকা উলভসের জন্য এই ড্র আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় হাতিয়ার। আর্সেনালের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পয়েন্টই তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত লিগ শিরোপা জয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আপাতত ২ গোলের লিড হারানোর এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো আর্তেতার শিষ্যদের।


banner close