ইউরোর দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নের বর্তমান অবস্থা দুই রকম। দুরন্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরা স্পেন ভাসছে প্রশংসার স্রোতে। বিবর্ণতায় বন্দি ফ্রান্স বিদ্ধ হচ্ছে সমালোচনার তীরে। এই দুই দল মুখোমুখি এবার। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে পিছু নেওয়া মলিনতার খোলস ছেড়ে তাই আড়মোড়া ভেঙে বেরিয়ে, সমালোচকদের মুখে ছিপি দিয়ে বার্লিনের ফাইনালে ওঠাই এখন একমাত্র লক্ষ্য দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের। মিউনিখে আগামী মঙ্গলবার প্রথম সেমি-ফাইনালে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। স্পেনের সামনে হাতছানি এককভাবে ইউরোর সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। আর ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে মুকুট ফিরে পেতে মরিয়া ফ্রান্স।
শুধু মরিয়া হলেই হবে না, জিততে হলে চাই মাঠের পারফরম্যান্স এবং গোল। চলতি আসরে এখনও ‘ওপেন-প্লে’ থেকে গোল পায়নি ফরাসিরা। আক্রমণভাগের মূল তারকা ও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে ধুঁকছেন; এ পর্যন্ত একবারই জালের দেখা তিনি পেয়েছেন পোল্যান্ড ম্যাচে, সেটাও পেনাল্টি থেকে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে স্পেনের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে ফ্রান্স। তবে স্পেনকে নিয়ে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই বলেই মনে করছেন স্পেনে দীর্ঘদিন ধরে খেলে আসছেন ফ্রান্সের অ্যান্টোনিও গ্রিজম্যান। স্পেনের খেলোয়াড়দেরও মোটামুটি ভালোই জানাশোনা আছে তার। গ্রিজম্যান বলেন, ‘স্পেন অবশ্যই অনেক ভালো দল। কিন্তু তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোনো দলকে নিয়েই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং নিজেদের সবটুকু দিয়ে যাবো ফাইনালে ওঠার জন্য।’
স্প্যানিশ দৈনিক ক্রীড়া সংবাদপত্র ‘মুন্ডো দেপোর্তিভো-তে লেখা সংবাদে গ্রিজম্যান আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে একটি ম্যাচই বাকি আছে ফাইনালে ওঠার জন্য। চার দলের ভেতর একটা হওয়া এমনিতেই অবিশ্বাস্য সাফল্য। আমরা দল হিসেবে উপভোগ করতে চাই। কারণ, আমরা জানি আমরা পারবো।’ তবে এই গ্রিজমানের পারফরম্যান্স নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। সেই প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছেন দলের সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও। তবে ফরাসি মিডফিল্ডার ইউসুফ ফোফানা সংবাদ সম্মেলনে বললেন, দুই সতীর্থের সামর্থ্য নিয়ে একটুও সন্দিহান নন তিনি। ফোফানা বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এগুলোকে (সমালোচনা) থোড়াই কেয়ার করি। আমরা সেমি-ফাইনালিস্ট। অঁতোয়ান ও এমবাপের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, সেমি-ফাইনালে ওঠাও অনেক কিছু।’ ২০১২ সালের পর ইউরোতে আর মুখোমুখি হয়নি দুই দল। ২০১২ সালে শেষবারের মোকাবিলায় ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় করে দিয়েছিল লা রোহারা।
এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে এক্সেটার সিটির বিপক্ষে এক অবিশ্বাস্য ও একপেশে ম্যাচে ১০-১ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাবটি তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের পুরনো রেকর্ডে পুনরায় ভাগ বসাল। তবে পুরো ম্যাচের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন চলতি সপ্তাহের শুরুতে দলে যোগ দেওয়া ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড আন্তোনে সেমেনিও। ২৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গার সিটির জার্সিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ইতিহাদে আসা এই তারকা প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে পেতে মরিয়া ছিল সিটি কর্তৃপক্ষ। চলতি মৌসুমে লিগে ১০ গোল ও তিনটি অ্যাসিস্টের রেকর্ড নিয়ে আসা সেমেনিও প্রথম ম্যাচেই আস্থার প্রতিদান দিলেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসা সিটির হয়ে ৪৯ মিনিটে পঞ্চম গোলটি করেন ডিফেন্ডার রিকো লুইস, যেটিতে নিখুঁত ক্রস দিয়ে সরাসরি সহায়তা করেন সেমেনিও। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পরই তিনি নিজেই বল জালে জড়িয়ে নিজের অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সেমেনিওর আচরণ ও পেশাদারিত্বে মুগ্ধ দলের কোচিং স্টাফরা। প্রধান কোচ পেপ গার্দিওলা এক ম্যাচের জন্য টাচলাইনে নিষিদ্ধ থাকায় এই ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করা সহকারী কোচ পেপ লিন্ডার্স নতুন এই রিক্রুটের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান যে, সেমেনিও অত্যন্ত বিনয়ী এবং খুব দ্রুত দলের খেলার কৌশলের সাথে মানিয়ে নিয়েছেন। লিন্ডার্স আরও বলেন, সেমেনিও আক্রমণভাগে যে ধরণের ক্ষিপ্রতা ও তেজ যোগ করেছেন, তা দলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।
দলের অন্যান্য সদস্যরাও সেমেনিওর অন্তর্ভুক্তিতে বেশ উচ্ছ্বসিত। ডিফেন্ডার রিকো লুইস ক্লাবের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, বড় বড় ক্লাবগুলো কেন সেমেনিওকে পেতে চেয়েছিল, তা আজ তিনি মাঠেই প্রমাণ করেছেন। লুইসের মতে, সেমেনিওর বিচক্ষণতা এবং প্রতিপক্ষকে তাড়া করার মানসিকতা সিটির খেলার ধারার সাথে একদম মানানসই। মূলত ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি দলীয় সমন্বয়েও সেমেনিও দারুণ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। সিটির এই বিশাল জয় এবং সেমেনিওর রাজকীয় অভিষেক আগামী দিনগুলোতে এফএ কাপের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে দলটিকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। নতুন বছরের শুরুতেই এমন বিধ্বংসী ম্যানচেস্টার সিটি এখন যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) বর্তমান আসরে প্রথম দল হিসেবে প্লেঅফ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে রিশাদ হোসেনের দল হোবার্ট হারিকেন্স। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় এই মাইলফলক স্পর্শ করে দলটি। সিডনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্বাগতিকরা টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামলেও মাত্র ৫ ওভার খেলার পরই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে আম্পায়াররা ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দুই দলের মধ্যে পয়েন্ট ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত নেন। এই এক পয়েন্টের সুবাদেই হোবার্টের প্লেঅফে ওঠার গাণিতিক সমীকরণটি চূড়ান্ত হয়ে যায়।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, ৯ ম্যাচ শেষে হোবার্ট হারিকেন্সের সংগ্রহ এখন ১৩ পয়েন্ট। টুর্নামেন্টের ৫, ৬, ৭ ও ৮ নম্বরে থাকা দলগুলোর পক্ষে আর কোনোভাবেই হোবার্টকে ধরা সম্ভব নয়। কারণ ৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে থাকা ব্রিসবেন হিটের হাতে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি আছে, যা জিতলেও তারা সর্বোচ্চ ১২ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে। একই অবস্থা অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ও মেলবোর্ন রেনেগেডসেরও। ফলে হোবার্ট এখন নির্ভার হয়ে পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা করতে পারছে। এমনকি পরবর্তী ম্যাচে ব্রিসবেন হিটকে হারাতে পারলে তারা টেবিল টপার বা পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ করার সুযোগ পাবে।
হোবার্ট হারিকেন্সের এই সফলতার পেছনে বাংলাদেশের তরুণ লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি এখন পর্যন্ত এই আসরে ১১টি উইকেট শিকার করে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার গৌরব ধরে রেখেছেন। শুধু দলের মধ্যেই নয়, এবারের পুরো বিগ ব্যাশে স্পিনারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকও তিনি। ২০.৮১ গড় এবং ৭.৬৩ ইকোনমি রেটে রিশাদ প্রতিটি ম্যাচেই তাঁর সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো পেস সহায়ক কন্ডিশনে একজন বিদেশি স্পিনার হিসেবে তাঁর এই ধারাবাহিকতা ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছে।
রিশাদকে হোবার্টের ডেরায় ভেড়ানোর পেছনে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিং বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিশাদের আক্রমণাত্মক বোলিং শৈলী পন্টিংকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, তাঁর সুপারিশেই এই টাইগার স্পিনারকে দলে নেওয়া হয়। সতীর্থ হার্ডহিটার ব্যাটার টিম ডেভিডও রিশাদের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে, ছোট সীমানার মাঠেও রিশাদ অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বল করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে বিগ ব্যাশে অভিষেক হওয়া রিশাদ ইতিমধ্যেই উইকেট শিকারের সংখ্যায় সাকিবকেও ছাড়িয়ে গেছেন। মূলত রিশাদের এই অসাধারণ ফর্মই হোবার্ট হারিকেন্সকে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৬-এর আসর থেকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় নিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম বিধ্বংসী ওপেনার এবং বর্তমানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক অ্যাডাম রসিংটন। চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই টপ অর্ডার ব্যাটার আঙুলের গুরুতর চোটের কারণে আসরের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন। গত শুক্রবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় লঙ্কান বোলার বিনুরা ফার্নান্দোর একটি দ্রুতগতির বল সরাসরি তাঁর হাতে লাগলে তিনি মারাত্মক চোট পান। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ ছাড়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্যান প্রতিবেদনে দেখা গেছে তাঁর চোট পাওয়া আঙুলে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁকে অন্তত দুই সপ্তাহের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়ায় বিপিএলের এই আসরে তাঁর আর ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আগে থেকেই রসিংটনের সেই আঙুলে কিছুটা সমস্যা ছিল, যা বর্তমান আঘাতের ফলে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। কোনো ধরনের শারীরিক ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল খান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, দলের অন্যতম সেরা এই পারফর্মারকে হারানো তাঁদের জন্য একটি বড় শূন্যতা। এবারের আসরে রসিংটন ছিলেন চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলে তিনি তিনটি হাফ সেঞ্চুরি এবং ৬৪ দশমিক ৫ অবিশ্বাস্য গড়ে মোট ২৫৮ রান সংগ্রহ করেছেন। টুর্নামেন্টের অন্যান্য ব্যাটারদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেও তিনি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছিলেন।
বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালসের জন্য রসিংটনের এই অনুপস্থিতি শিরোপা জয়ের মিশনে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাতটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়ে দলটি এখন অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটারের প্রস্থান টিম ম্যানেজমেন্টকে নতুন পরিকল্পনায় বাধ্য করছে। ইতিমধ্যে রসিংটনের যোগ্য বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো বিদেশি ব্যাটারকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম কর্তৃপক্ষ। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বগুলো সামনে রেখে ওপেনিং স্লটে এমন একজন খেলোয়াড়কে খুঁজে বের করা এখন চট্টগ্রামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভক্ত-সমর্থকরাও তাঁদের প্রিয় এই হার্ড-হিটিং ব্যাটারের এমন আকস্মিক বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলাকালীন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিদেশি ক্রিকেটার রহমানউল্লাহ গুরবাজের সঙ্গে বিসিবি অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের (আকু) আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির সিইও আতিক ফাহাদ। গতকাল শুক্রবার দলের টিম হোটেলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি আকু এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বিরুদ্ধে অপেশাদারিত্বের অভিযোগ আনেন। আতিক ফাহাদ জানান, শুক্রবার সকালে যখন আফগান তারকা গুরবাজ তাঁর রুমে ঘুমাচ্ছিলেন, তখন আকুর কয়েকজন সদস্য কোনো পূর্ব ঘোষণা বা অনুমতি ছাড়াই তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে দলের ম্যানেজমেন্ট বা খেলোয়াড় কাউকেই আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি, যা একজন পেশাদার ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মানের ওপর আঘাত বলে মনে করছে ঢাকা ক্যাপিটালস।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আতিক ফাহাদ বলেন, সকাল সাতটা থেকে আটটার দিকে যখন গুরবাজ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন দরজায় নক করেই আকুর সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রায় পনেরো মিনিট ধরে এক ধরণের সংশয়ের মধ্যে ছিলেন গুরবাজ, কারণ হঠাৎ করে এমন তল্লাশির কারণ তিনি বুঝতে পারছিলেন না। এরপর আকুর সদস্যরা তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এই ঘটনায় গুরবাজ অত্যন্ত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয় যে, নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো জিজ্ঞাসাবাদের আগে অবশ্যই টিম ম্যানেজারকে জানাতে হয় এবং খেলোয়াড়ের সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করতে হয়।
ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আরও উল্লেখ করেন যে, একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়কে এভাবে বিনা নোটিশে রুমে ঢুকে হেনস্তা করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিমালারও পরিপন্থী। গুরবাজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি জানান, এই ধরণের পরিস্থিতি বজায় থাকলে ভবিষ্যতে তিনি আর বিপিএলে খেলতে আগ্রহী হবেন না বলে সরাসরি জানিয়েছেন। বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন ভীতিকর বা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হলে টুর্নামেন্টের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আতিক। তিনি মনে করেন, শৃঙ্খলা রক্ষার নামে এমন আচরণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং এ বিষয়ে বিপিএল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে ঢাকা ক্যাপিটালস। বর্তমানে এই ঘটনাটি বিপিএলের অন্দরমহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ব্রাজিলের ফুটবল ট্রান্সফার মার্কেটে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ক্লাব ক্রুজেইরো। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের ইতিহাসে সবথেকে দামী চুক্তির মাধ্যমে তারা দলে ভিড়িয়েছে অভিজ্ঞ ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার গার্সন সান্তোসকে। বেলো হরিজোন্তের এই ক্লাবটি রাশিয়ার জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে গার্সনকে আনতে খরচ করছে মোট ৩ কোটি ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২৭ কোটি টাকার সমান। এই চুক্তির মাধ্যমে গার্সন এখন দক্ষিণ আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ফুটবলে সবথেকে দামী খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল তরুণ ফুটবলার ভিতর রকির দখলে, যাঁকে ২ কোটি ৫৫ লাখ ইউরোতে কিনেছিল পালমেইরাস।
চুক্তির বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ক্রুজেইরো জেনিতকে ২ কোটি ৭০ লাখ ইউরো সরাসরি পরিশোধ করবে এবং বাকি ৩০ লাখ ইউরো পারফরম্যান্স ভিত্তিক ‘অ্যাড অন’ হিসেবে প্রদান করা হবে। ২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে ক্লাবটি চার বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মজার বিষয় হলো, মাত্র ছয় মাস আগেই রাশিয়ার এই ক্লাবটি গার্সনকে আড়াই কোটি ইউরোতে ফ্লামেঙ্গো থেকে কিনে নিয়েছিল। তবে নিজ দেশে ফেরার প্রবল ইচ্ছা এবং ক্রুজেইরোর আকর্ষণীয় প্রস্তাবের কারণে তিনি পুনরায় ব্রাজিলের লিগেই ফিরে এলেন। ২০২১ সালে ব্রাজিলের জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
দক্ষিণ আমেরিকান ক্লাব ফুটবলে গার্সন এক অত্যন্ত সুপরিচিত এবং সফল নাম। তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ফ্লামেঙ্গোর হয়ে তিনি ২০১৯ এবং ২০২৫ সালে দুইবার মর্যাদাপূর্ণ কোপা লিবার্তাদোরেস শিরোপা জয় করেছেন। এছাড়াও তিনি তিনবার ব্রাসিলেইরো এবং ব্রাজিলিয়ান সুপার কাপ জেতার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। অভিজ্ঞ এই ফুটবলারকে দলে নিয়ে ক্রুজেইরো এখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের পর এই প্রথমবার দলটি কোপা লিবার্তাদোরেস খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং সমর্থকরা আশা করছেন, গার্সনের জাদুকরী মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ আর জয়ের মানসিকতা ক্রুজেইরোকে আবারও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে বসাতে সাহায্য করবে। ৪২৭ কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগ মূলত সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারেরই একটি অংশ।
স্প্যানিশ সুপার কাপের মহারণে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে বইছে স্বস্তির হাওয়া। চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা ফরাসি মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপে দলের সাথে যোগ দিতে ইতিমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। জেদ্দায় পা রেখেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ‘সালাম আলাইকুম সৌদি আরব’ লিখে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। আগামীকাল রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটির মাঠে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। গত ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুর লিগামেন্টে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে থাকা এমবাপের এই উপস্থিতি এল ক্লাসিকোকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
এমবাপের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও ফিটনেস নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। গত বছর এক পঞ্জিকাবর্ষে রেকর্ড ৫৯টি গোল করে এবং লা লিগার গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থেকে তিনি অসাধারণ ছন্দে ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে রিয়ালের সর্বশেষ লা লিগা ম্যাচ এবং সুপার কাপের সেমিফাইনালে তিনি দর্শক হয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। শুক্রবার স্পেনে শেষ পর্যায়ের ট্রেনিং সেশন শেষ করেই তিনি দলের সাথে সৌদি আরবের বিমান ধরেন। রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ জাবি আলোনসো এমবাপের ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ফাইনালের আগে প্রতিটি সদস্যের মতো এই ফরোয়ার্ডকেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং দলের প্রয়োজনে তাঁকে মাঠে নামানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে বার্সেলোনার বর্তমান ফর্ম রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতালানরা তাদের সর্বশেষ ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১৩টিতেই জয়লাভ করেছে এবং সুপার কাপের সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে রিয়ালকে প্রচ্ছন্ন এক হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। যদিও গত অক্টোবরে এমবাপের একমাত্র গোলেই বার্সাকে হারিয়েছিল রিয়াল, তবে এবারের লড়াইটি একেবারেই ভিন্ন আবহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, টানা চতুর্থবারের মতো স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে দেখা যাচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে, যার মধ্যে বিগত তিনটি আসরে বার্সেলোনা দুইবার শিরোপা জিতেছে। এখন দেখার বিষয়, এমবাপে তাঁর জাদুকরী ফিটনেস ফিরে পেয়ে জেদ্দার মাঠে আবারও রিয়ালের জয়ের নায়ক হতে পারেন কি না। রিয়াল সমর্থকরা আশা করছেন, তাঁদের প্রিয় তারকার উপস্থিতি মাঠের লড়াইয়ে বাড়তি শক্তি যোগাবে। তবে কোচ জাবি আলোনসো এমবাপের দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ারের কথা মাথায় রেখে তাঁকে শুরুর একাদশে রাখবেন নাকি বদলি হিসেবে নামাবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে জেদ্দার আকাশ এখন এল ক্লাসিকোর রোমাঞ্চে মুখর হওয়ার অপেক্ষায়।
ভারতের গ্রেটার নয়ডায় চলমান জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব বা ফাইনালের ঠিক আগের রাতে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের হোটেল থেকে বের করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দিনের খেলা শেষ করে যখন বক্সাররা ক্লান্ত শরীরে তাঁদের জন্য বরাদ্দকৃত হোটেল ও লজে ফিরে আসেন, তখন তাঁরা দেখেন যে তাঁদের ব্যাগপত্র ঘরের বাইরে বের করে রাখা হয়েছে। গ্রেটার নয়ডার গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সময় ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল। এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় কাটাতে হয়েছে জাতীয় স্তরের এই অ্যাথলেটদের।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে মূলত তেলেঙ্গানা, কেরালা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, গোয়া, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও ছত্তিশগড় রাজ্যের দলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নয়ডার বিভিন্ন লজ ও হোটেলে খেলোয়াড়দের থাকার যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, বুকিংয়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ তাঁদের সবাইকে দ্রুত ঘর খালি করার নির্দেশ দেয়। অনেক বক্সার ও কোচ অভিযোগ করেছেন যে, গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদেরকে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, যা তাঁদের জন্য ছিল চরম অবমাননাকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। ফেডারেশনের দাবি, সমস্যার কথা জানার পরপরই তারা বিকল্প ব্যবস্থা করেছে এবং খেলোয়াড়দের বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ফেডারেশনের এই ব্যাখ্যামূলক মন্তব্যে শান্ত হতে পারছেন না ভুক্তভোগী কোচ ও খেলোয়াড়রা। একটি দলের কোচ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, শুক্রবার সারা দিনে প্রায় ৪০টি সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, ফলে খেলোয়াড়রা এমনিতেই শারীরিকভাবে অত্যন্ত পরিশ্রান্ত ছিলেন। আজ শনিবার তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে লড়ার কথা, অথচ পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবারের বদলে তাঁদেরকে পোহাতে হয়েছে অসহনীয় দুর্ভোগ। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মতে, এই সংকটের মূলে ছিল প্রতিযোগিতার সময়সূচির পরিবর্তন। শুরুতে এই চ্যাম্পিয়নশিপ ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল এবং সেভাবেই হোটেল বুকিং করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারিখ পরিবর্তন করে ৪ থেকে ১০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও হোটেল বুকিংয়ের সময় সমন্বয় না করায় এই বিশাল বিপর্যয় দেখা দেয়। এমন অপেশাদার আচরণে ভারতের ক্রীড়া মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।
৫০ বছরের দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটানোর লক্ষ্য নিয়ে ঘরের মাঠে দাপুটে ফুটবল খেলছে মরক্কো। গত শুক্রবার রাবাতের প্রিন্স মৌলে আব্দেল্লা স্টেডিয়ামে ৬৪ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ক্যামেরুনকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। এই জয়ের প্রধান কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ। ম্যাচের ২৬তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে আয়ুব এল কাবির হেড হয়ে বল আসে দিয়াজের কাছে, যা তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জালে জড়িয়ে দেন। এই এক গোলের মাধ্যমেই আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের (আফকন) ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করলেন এই প্রতিভাবান উইঙ্গার।
ব্রাহিম দিয়াজের এই গোলটি তাঁকে মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি প্রথম মরক্কান খেলোয়াড় হিসেবে আফকনের এক আসরে পাঁচটি গোল করার রেকর্ড গড়লেন। শুধু তাই নয়, গত ৫৭ বছরের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ফুটবলার যিনি এই টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচটি ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর আগে ১৯৭৬ সালে মরক্কান কিংবদন্তি আহমেদ ফারাসের করা টানা ৩ ম্যাচে গোলের রেকর্ডটিও দিয়াজ এই আসরেই ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর এমন অতিমানবীয় ফর্ম এখন পুরো মরক্কোকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে শিরোপা জয়ের।
আফ্রিকার শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল হিসেবে মরক্কো বর্তমানে এক দুর্দান্ত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার পর এবার নিজ দেশে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ২০০৪ সালের ফাইনালে তিউনিসিয়ার কাছে পরাজয়ের পর এই প্রথম তারা আফকনের শেষ চারে জায়গা করে নিল। এর আগে ১৯৮৮ সালে স্বাগতিক হিসেবে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও, এবার ক্যামেরুনকে হারিয়ে তারা সেই পুরনো গ্লানি মুছে দিয়েছে। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে আলজেরিয়া কিংবা নাইজেরিয়ার মধ্যে যেকোনো একটি দল। ভক্তদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর দিয়াজের জাদুকরী ফর্মের ওপর ভর করেই ফাইনালের মঞ্চে পা রাখতে চাইছে আশরাফ হাকিমির দল।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় এই সমবেদনা জানান তিনি।
চিঠিতে ফিফা সভাপতি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।
শোকবার্তায় ইনফান্তিনো আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন ফেডারেশন ও ক্লাবের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল ভারতের কোনো ভেন্যুতে খেলবে না বলে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ভারতের ভেন্যুতে খেলতে যাওয়া নিয়ে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এটিই সর্বশেষ এবং স্পষ্ট বক্তব্য।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন যে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী এবং দেশটির সঙ্গে সব সময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে এটাই সরকারের কাম্য। তবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও দেশের স্বার্থে এবং প্রয়োজনে ‘চোখে চোখ রেখে’ কথা বলার মানসিকতা সরকারের রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে যখন কোনো দেশের আচরণে বাংলাদেশের জন্য মর্যাদাহানিকর কিছু ঘটে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার দেশের আছে। নিজের দেশের মর্যাদা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গাম্ভীর্য তুলে ধরা প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকেই ভারত সফরের বিষয়ে এই প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
একই সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক দলের আনা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান যে কোনো প্রার্থী বা দল যদি যথাযথ প্রমাণসহ কোনো রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনে, তবে তা নির্বাচন কমিশন খতিয়ে দেখবে। সরকারের হাতে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেগুলোও সরাসরি কমিশনের কাছে পাঠানো হবে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কয়েক মাস বাকি থাকলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য স্কোয়াড নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার ঝড় উঠেছে। চূড়ান্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আরও কিছুদিন বাকি থাকলেও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় খবর হলো, এই তালিকার মধ্যে ২০ জন ফুটবলারের জায়গা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে এবং বাকি ৬টি পদের জন্য শেষ মুহূর্তের যাচাই-বাছাই ও প্রতিযোগিতা চলছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর পছন্দের এবং পরীক্ষিত খেলোয়াড়দের ওপরই মূলত আস্থা রাখছেন, যা আসন্ন টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’-তে অবস্থান করছে এবং তাদের সবকটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আলবিসেলেস্তেরা আগামী ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাঁদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর ২২ জুন ডালাসে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে দলটি এবং ২৭ জুন একই ভেন্যুতে জর্ডানের বিপক্ষে লড়বে তারা। এই গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে স্কালোনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন যেখানে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যেরও এক অসাধারণ সমন্বয় থাকছে।
ইতিমধ্যে যে ২০ জন খেলোয়াড়ের জায়গা নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে গোলরক্ষক হিসেবে প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও জেরোনিমো রুল্লি। রক্ষণভাগ সামলানোর গুরুদায়িত্ব থাকছে নাহুয়েল মোলিনা, গঞ্জালো মন্টিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং নিকোলাস তালিয়াফিকোর কাঁধে। মধ্যমাঠ বা মিডফিল্ডে স্কালোনির ভরসার নামগুলো হলো রদ্রিগো ডি পল, লিয়েন্ড্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং জিওভানি লো সেলসো। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদে জুলিয়ানো সিমেওনে ও তরুণ তুর্কি নিকোলাস পাজও নিশ্চিতদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
আক্রমণভাগের নেতৃত্বে বরাবরের মতোই থাকছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। ফুটবল বিশ্ব নিশ্চিত যে মেসি খেলতে চাইলে তিনি স্কোয়াডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই থাকবেন। তাঁর সহযোগী হিসেবে নিশ্চিতদের তালিকায় রয়েছেন লাউতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেস ও থিয়াগো আলমাদা। তবে স্কোয়াডের বাকি ৬টি শূন্য পদের জন্য লড়াইটা বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে ওয়াল্টার বেনিতেজ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও রক্ষণভাগে হুয়ান ফয়েথ, লিওনার্দো বালের্দি, ফাকুন্দো মেদিনা এবং মারকোস সেনেসি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। অভিজ্ঞতার বিচারে মারকোস আকুনিয়া দৌড়ে থাকলেও তরুণ ভালেন্তিন বার্কো তাঁর কড়া প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। মিডফিল্ডের বাকি জায়গাগুলোর জন্য এজাকুয়েল পালাসিওস এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো শেষ মুহূর্তের বিবেচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, বেশ কিছু পরিচিত মুখকে হয়তো আসন্ন বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। চোট এবং ফর্মের ধারাবাহিকতার অভাবে পাউলো দিবালা বর্তমানে জাতীয় দলের ভাবনায় নেই বললেই চলে। একই কারণে মাতিয়াস সুলে, আলান ভারেলা ও ফাকুন্দো কাম্বেসেসও আলোচনার বাইরে রয়েছেন। এছাড়া তরুণ প্রতিভা ক্লোদিও এচেভেরি, ভ্যালেন্তিন কার্বোনি ও ভ্যালেন্তিন গোমেসদের নিজেদের প্রমাণ করতে আরও সময়ের প্রয়োজন বলে মনে করছেন নির্বাচকরা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আলেহান্দ্রো গারনাচো এবং অভিজ্ঞ আনহেল কোরেয়ার ভাগ্য এখনও ঝুলে রয়েছে, কারণ তাঁদের ধারাবাহিকতার অভাব স্কালোনিকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলছে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও সময় থাকায় চূড়ান্ত স্কোয়াডে যে কোনো সময় নাটকীয় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মূলত শিরোপা অক্ষুণ্ণ রাখাই এখন আর্জেন্টিনার প্রধান লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের অন্যতম ধ্রুপদী তারকা উসমান খাজার বিদায়ী টেস্ট রাঙিয়ে এক দাপুটে জয় তুলে নিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে প্যাট কামিন্সের দল। ১৫ বছর আগে এই মাঠেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল খাজার এবং নিজের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিও তিনি সেই চেনা আঙিনাতেই খেললেন। যদিও বিদায়ী ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় কোনো ইনিংস উপহার দিতে পারেননি আট হাজার রানের মালিক এই ব্যাটার, তবে অস্ট্রেলিয়ার ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় তাঁর বিদায়ে এক বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে। সিরিজের ফলাফল আগে থেকেই অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে থাকলেও, সিডনি টেস্টটি পঞ্চম দিন পর্যন্ত গড়ানোয় দর্শক ও আয়োজকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ছিল।
সিডনি টেস্টের চতুর্থ দিনেই ইংল্যান্ডের হার একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪২ রানে অলআউট হলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৬০ রান। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান জ্যাকব বেথেল এদিন আরও ১২ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ১৫৪ রানে বিদায় নেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান ব্যু ওয়েবস্টার ও মিচেল স্টার্ক, যারা প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হওয়ার পর জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্ড দ্রুত ৬২ রান তুলে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন। তবে মাঝপথে মাত্র ৫৯ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসলে ম্যাচের আমেজ কিছুটা রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত মার্নাস লাবুশেনের ৩৭ এবং ক্যামেরন গ্রিনের অপরাজিত ২২ রানের ওপর ভর করে অজিরা ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
ম্যাচটি ফলাফল ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আবেগের জায়গা থেকে ছিল উসমান খাজার জন্য অত্যন্ত বিশেষ। ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি ব্যাটার যখন শেষবারের মতো ক্রিজে প্রবেশ করছিলেন, তখন দুই দলের খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে তিনি রাজকীয় ‘গার্ড অব অনার’ লাভ করেন। ম্যাচে তিনি প্রথম ইনিংসে ১৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রান করে আউট হন। আউট হয়ে ফেরার সময় তিনি সিডনির সবুজ ঘাসে মাথা নত করে সিজদা দেন, যা উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে এই মহান ক্রিকেটারকে বিদায়ী অভিবাদন জানায়। খাজা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৮৮টি টেস্ট, ৪০টি ওয়ানডে এবং ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে ১৮টি সেঞ্চুরি ও একটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ তাঁর মোট রান সংখ্যা ৮০২৪।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার হাতে অ্যাশেজ ট্রফি তুলে দেওয়ার সময় গ্যালারি থেকে দর্শকদের মাঠে ঢোকার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়, যা উৎসবের আবহকে আরও রঙিন করে তোলে। এবারের অ্যাশেজ সিরিজটি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ আধিপত্যের সাক্ষী হয়ে থাকবে, কারণ মেলবোর্নের চতুর্থ টেস্টটি ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই তারা জয়লাভ করেছে। চতুর্থ টেস্টে জয় পেয়ে ইংল্যান্ড হোয়াইটওয়াশ এড়াতে সক্ষম হলেও সিডনিতে এসে তারা আর নিজেদের প্রতিরোধ ধরে রাখতে পারেনি। সিরিজ শেষে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দলের সমন্বিত পারফরম্যান্স এবং উসমান খাজার অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে খাজার প্রস্থান আর অজিদের জয়ের গৌরবে শেষ হলো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মর্যাদার এই লড়াই।
সৌদি আরবের মাটিতে চলমান স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে বার্সেলোনা। কোচ হানসি ফ্লিকের অধীনে থাকা বার্সা বর্তমানে অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছে; সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৮ ম্যাচে জয় পেয়ে মরুদেশের এই আসরে পা রেখেছিল তারা। সাবেক বার্সা কোচ এর্নেস্তো ভালভের্দের অধীনে বিলবাও বর্তমানে বেশ বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় থাকা দলটির বিরুদ্ধে বার্সেলোনার জয়টা অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে প্রথমার্ধেই মাত্র ১৬ মিনিটের এক বিধ্বংসী ঝড়ে বিলবাওকে যেভাবে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে কাতালানরা, তা ছিল ফুটবল ভক্তদের কল্পনারও বাইরে। ম্যাচের ২২ থেকে ৩৮ মিনিটের মধ্যেই তারা চারবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলে।
এদিনের ম্যাচের সবচেয়ে বড় চমক ছিল তরুণ প্রতিভা রুনি বার্দাগি। দলের নিয়মিত তারকা ও বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে বেঞ্চে রেখে মাঠে নামা রুনি পুরো ম্যাচে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি রাফিনিয়ার দুটি গোলের জোগান দিয়ে ম্যাচের অন্যতম কুশীলব হয়ে ওঠেন। ম্যাচের ২২ মিনিটে রুনির আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ফেরমিন লোপেজ হয়ে ফেররান তরেসের কাছে পৌঁছালে প্রথম গোলের দেখা পায় বার্সা। ৩৩ মিনিটে একক নৈপুণ্যে রুনি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং ৩৮ মিনিটে রাফিনিয়াকে দিয়ে তৃতীয় গোলটি করান। বিরতির পরও দাপট বজায় রেখে ৫১ মিনিটে রাফিনিয়া তাঁর ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করলে বিলবাওয়ের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
অপ্রতিরোধ্য এই জয়ের পর বার্সেলোনা এখন ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে তা নির্ধারিত হবে আজ রাতের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পর, যেখানে মাদ্রিদ ডার্বিতে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। মাদ্রিদ ডার্বিতে জয়ী দলের বিপক্ষে আগামী ১২ জানুয়ারি সৌদি আরবের মাটিতে ফাইনাল লড়বে বার্সেলোনা। বর্তমানে বার্সা শিবিরের যে তুখোড় ফর্ম লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে ফুটবল বিশ্লেষকরা তাঁদেরকেই শিরোপার দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রাখছেন। ইয়ামাল না থাকা সত্ত্বেও দলের এমন দাপুটে পারফরম্যান্স বার্সার বেঞ্চের শক্তিরই প্রমাণ দিচ্ছে। এখন ফুটবল বিশ্ব একটি ক্ল্যাসিক এল-ক্ল্যাসিকো ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।