বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
১৫ মাঘ ১৪৩২

বিধ্বস্ত ব্রাজিলের একমাত্র আশা নেইমারের ফেরা

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ৯ জুলাই, ২০২৪ ১৬:৪৩

বিবর্ণতায় শেষ হয়েছে ব্রাজিলের কোপা আমেরিকার মিশন। কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরেছে সেলেসাওরা। পুরো টুর্নামেন্টেই নিজেদের হারিয়ে খুঁজেছে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আশার আলো হয়ে উঠতে পারেনি রদ্রিগো, ভিনিসিয়াস, রাফিনিয়ারা। একের পর এক ব্যর্থতায় ভুগিয়েছে দলকে। আক্রমণভাবে একজন যোগ্য নেতার বড্ড অভাব ছিল হলুদ শিবিরে। জোগো বোনিতের দেশটি যেন এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হতে পারে দলের প্রাণ ভোমড়া নেইমার জুনিয়রের দলে ফেরা।

ব্রাজিলের এই দুর্দশার চিত্রটা বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে নেমে নেইমারের ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই আরও বেড়েছে। এরপর হেরেছে উরুগুয়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে। তাইতো কোপা আমেরিকা শুরুর আগে বিজ্ঞাপনের জন্য রোনালদিনিয়োর বলা কথাগুলোই যেন এই ব্রাজিলের জন্য সত্যির খুব কাছাকাছি। বিশ্বকাপ জয়ী বলেছিলেন, দলে নিবেদন ও দৃঢ়তার অভাব রয়েছে, ‘সবকিছুই অনুপস্থিত, তাড়না, উচ্ছ্বাস… তাদের ভালো খেলতে হবে। তাই আমি তাদের কোনো ম্যাচই দেখব না। আমি ব্রাজিলের খেলা বর্জন করব।’

কোস্টারিকা ম‍্যাচের পর গ‍্যালারিতে থাকা দর্শকদের সঙ্গে বাহাসে জড়ালেন দানিলো। অধিনায়ককে ঠাণ্ডা করতে একরকম ছুটে এলেন নেইমার। দৃশ‍্যটা একরকম প্রতীকীও। বিবর্ণ ফুটবলে মাঠে নিদারুণ ভোগান্তিতে থাকা ব্রাজিল যেন মাঠেও দলের সেরা তারকার এমন ভূমিকার অপেক্ষায়।

টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর কোচ দরিভাল জুনিয়র, এন্দ্রিকসহ যারাই গণমাধ‍্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, সবাই বলেছেন বাছাই উতরে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া তাদের মূল লক্ষ‍্য।

ব্রাজিলের সাম্প্রতিক পারফরম‍্যান্স বলছে, এই লক্ষ‍্য পূরণে নেইমারের উপস্থিতি খুবই জরুরি। হাঁটুর চোটে গত বছরের অক্টোবর থেকে মাঠের বাইরে আছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এই সময়ে প্রীতিম্যাচ বাদে খেলা ৬ ম‍্যাচে কেবল ছয় গোল দিতে পেরেছে দলটি। এর চারটিই এক ম‍্যাচে, কোপা আমেরিকায় প‍্যারাগুয়ের বিপক্ষে। জয়ও পেয়েছে কেবল ওই ম‍্যাচেই। তিন ম‍্যাচে কোনো গোলই করতে পারেনি তারা।

আবার যখন ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের লড়াইয়ে নামবে ব্রাজিল তখন তাদের সঙ্গী হবে টানা চার ম‍্যাচে জয়শূন‍্য থাকার তেতো স্মৃতি। ২০০১ সালের পর প্রথমবার বাছাইয়ে টানা তিন ম‍্যাচ হারা দলটি ৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় আছে ষষ্ঠ স্থানে।

ব্রাজিলের হয়ে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১২৮ ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। ১৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর দলটির হয়ে গোল করেছেন তিনি ৭৯টি। নিজের চোট, দলের বিবর্ণ পারফরম‍্যান্স সব মিলিয়ে ক‍্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চ‍্যালেঞ্জের সামনেই হয়তো দাঁড়িয়ে নেইমার।

বিষয়:

অধিনায়ক ব্রুকের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়

আপডেটেড ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:২৪
ক্রীড়া ডেস্ক

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে লঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো টর্নেডো চালিয়ে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল সফরকারী ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের রেকর্ড গড়া বিধ্বংসী সেঞ্চুরি এবং জো রুটের ধ্রুপদী ব্যাটিংয়ে ৫৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ইংলিশরা। গত মঙ্গলবারের এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল হ্যারি ব্রুকের দল, যা ২০২৩ সালের পর বিদেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়। আগের ম্যাচে এই উইকেটকে ‘সবচেয়ে বাজে’ বলে মন্তব্য করলেও, এদিন সেই মাঠেই ব্যাট হাতে লঙ্কানদের শাসন করেন ব্রুক।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। ওপেনার বেন ডাকেট মাত্র ৭ রানে বিদায় নেন এবং মেইকশিফট ওপেনার রেহান আহমেদও ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি। তবে তৃতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। জ্যাকব বেথেল ও জো রুট মিলে ১২৬ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। উইকেটরক্ষক ব্যাটার বেথেল ৭২ বলে ৬৫ রান করে আউট হলে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। এরপরই শুরু হয় ব্রুক-রুট মহাকাব্য। এই দুই ব্যাটার ১১৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৯১ রানের জুটি গড়েন, যার অধিকাংশ রানই আসে ব্রুকের ব্যাট থেকে।

হ্যারি ব্রুক এদিন ৬৬ বলে ১৩৬ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১১টি চার ও ৯টি ছক্কার মার। তিনি মাত্র ৫৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির ইয়ন মরগানের রেকর্ডে ভাগ বসান। মজার বিষয় হলো, রুট যখন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তখন ব্রুক ছিলেন হাফসেঞ্চুরিতে, কিন্তু ইনিংসের শেষ ৩৪ বলে ব্রুক একাই তোলেন ৯৮ রান। অন্য প্রান্তে অভিজ্ঞ জো রুট ১০৮ বলে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৫৭ রান।

৩৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুটা করেছিল ঝোড়ো গতিতে। পাওয়ার প্লের প্রথম ১০ ওভারেই ১০৪ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা মাত্র ২৫ বলে ৫০ রান করে বিদায় নেন। তবে দ্রুত রান তুললেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যায় চারিথ আসালাঙ্কার দল। লঙ্কানদের হয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান ২৩ বছর বয়সী পভন রত্ননায়েক। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি ১১৫ বলে ১২১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন। কিন্তু অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় কোনো সমর্থন না পাওয়ায় ৪৬.৪ ওভারে ৩০৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সফল ছিলেন জেমি ওভারটন, লিয়াম ডসন, উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ; তারা প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর ব্রুক-রুটের ব্যাটিং নৈপুণ্যে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা। বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে এই সিরিজ জয় ইংলিশ ক্রিকেটের জন্য এক নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে ঘরের মাঠে লড়াই করেও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে খেই হারিয়ে হতাশ হতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে।


মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা জয়ই জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত: ডি মারিয়া

আপডেটেড ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৫
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম প্রাণপুরুষ এবং বিশ্বকাপজয়ী তারকা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে তার আবেদন এখনও অমলিন। আসন্ন আরেকটি বিশ্বকাপের হাতছানি থাকলেও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায়কে বিদায় জানিয়েছেন এই কিংবদন্তি। সম্প্রতি স্প্যানিশ দৈনিক 'এএস'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি, অবসরের নেপথ্য কারণ এবং সমসাময়িক ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া জানান, জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইচ্ছা মনে সুপ্ত থাকলেও তিনি মনে করেন তার জন্য নির্ধারিত বৃত্তটি পূর্ণ হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের পরপরই অবসরের কথা ভাবলেও সতীর্থদের অনুরোধে তিনি ২০২৪ কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যান। ডি মারিয়ার ভাষায়, জাতীয় দলের হয়ে যা কিছু অর্জন করার ছিল, তার সবই তিনি পেয়েছেন এবং এখন সময় এসেছে নতুন প্রজন্মের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়ার। কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে বিদায় নেওয়াটাকে তিনি একটি সুন্দর সিনেমার সমাপ্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ক্যারিয়ারে কাতার বিশ্বকাপসহ মোট ৩৭টি শিরোপা জিতলেও ডি মারিয়ার কাছে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়টি সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। ২৮ বছরের দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটিয়ে ব্রাজিলের মাটিতে মারাকানা স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল আর্জেন্টিনার জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। সেই ফাইনালে নিজের করা জয়সূচক গোলটিকে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে ডি মারিয়া বলেন, ক্লাব পর্যায়ে অনেক সাফল্য পেলেও দেশের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না জেতার যে মানসিক চাপ ছিল, সেই জয়টি তা চিরতরে ঘুচিয়ে দিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপ জয়কে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগের বড় পুরস্কার হিসেবে দেখেন, তবে প্রতিটি শিরোপাই তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব ফুটবলের দুই ধ্রুবতারা লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পার্থক্য নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। উভয় খেলোয়াড়ের সঙ্গেই দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ পাওয়া ডি মারিয়া বলেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছিলেন কঠোর পরিশ্রম এবং এক নম্বর হওয়ার নেশায় বুঁদ হওয়া একজন অতি-পেশাদার ফুটবলার। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি লকার রুমে আড্ডার মাঝেও মাঠে নেমে নিজের ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিতে পারতেন। রোনালদোর দীর্ঘ সময় ধরে একই মান বজায় রাখার ক্ষমতার প্রশংসা করলেও ডি মারিয়ার মতে, মেসির যুগে জন্মানোর কারণে রোনালদোর জন্য নিজের লক্ষ্য পূরণ অনেক সময় আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বর্তমানে রোজারিও সেন্ট্রালের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড তার ক্যারিয়ারের অর্জিত প্রতিটি সাফল্যকেই কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের ফল বলে মনে করেন। ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলীয় সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ডি মারিয়া বিশ্বাস করেন, তিনি তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন এবং এখন নতুনদের এগিয়ে যাওয়ার সময়। তার এই স্মৃতিচারণা আবারও ফুটবল ভক্তদের মনে করিয়ে দিল আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা, যেখানে তার পা থেকে আসা গোলগুলো বারবার বিশ্বজয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।


চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: এক রাতেই ৩৬ দলের ভাগ্য ও অসংখ্য সমীকরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের লিগ পর্ব এখন রোমাঞ্চকর এক চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্টের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী আজ একটি মাত্র রাতেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে লিগ পর্বের চূড়ান্ত ফলাফল। ৩৬টি দলের এই লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো চিত্র পরিষ্কার হয়নি, বরং ৩০টি দলই আজ মাঠে নামছে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে। ফুটবল বিশ্বের এই মহানাটকের এক রাতের ফলাফলই পারে কোনো মাঝারি সারির দলকে সরাসরি 'সুপার এইটে' তুলে আনতে, আবার কোনো বড় পরাশক্তিকে ঠেলে দিতে পারে ঝূঁকিপূর্ণ প্লে-অফের লড়াইয়ে। এমনকি কোনো কোনো দলের জন্য অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্ট থেকে সরাসরি বিদায়ের করুণ বাস্তবতা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান নিয়ম অনুসারে, লিগ পর্বের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি শেষ ১৬-তে বা রাউন্ড অফ সিক্সটিনে জায়গা করে নেবে। এরপর ৯ থেকে ২৪ নম্বর স্থানে থাকা দলগুলোকে খেলতে হবে দুই লেগের প্লে-অফ ম্যাচ, যেখান থেকে জয়ী দলগুলো মূল পর্বে যোগ দেবে। আর টেবিলের নিচের দিকে থাকা ১২টি দলের জন্য এবারের ইউরোপীয় আসর সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত এই কঠিন সমীকরণে কেবল দুটি দল নিজেদের সেরা আটে থাকা নিশ্চিত করেছে—যাদের মধ্যে রয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল এবং জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে, আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্লাভিয়া প্রাগ, ভিয়ারিয়াল ও কাইরাত আলমাটি ইতোমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে।

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াই আজ মূলত আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর্সেনাল তাদের শেষ ম্যাচে জয় কিংবা ড্র করতে পারলেই টেবিলের এক নম্বর দল হিসেবে লিগ পর্ব শেষ করবে। তবে গানার্সরা যদি হেরে যায় এবং বায়ার্ন মিউনিখ বড় ব্যবধানে জয় পায়, তবেই কেবল বায়ার্নের সুযোগ থাকবে শীর্ষে ওঠার। এদিকে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদও আজ বড় সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। নিজেদের ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সমীকরণ মিলে গেলে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসদের। রিয়াল ছাড়াও লিভারপুল, বার্সেলোনা, পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি এবং ইন্টার মিলানের মতো শক্তিশালী দলগুলো এখনও সরাসরি শেষ ১৬-তে নাম লেখানোর দৌড়ে টিকে আছে।

কেবল শীর্ষে ওঠাই নয়, টেবিলের মাঝের সারিতে থাকা দলগুলোর জন্য লড়াইটি এখন টিকে থাকার। মার্সেই, লেভারকুজেন, নাপোলি এবং বেনফিকার মতো দলগুলো চেষ্টা করছে সেরা ২৪-এর মধ্যে থেকে প্লে-অফ নিশ্চিত করতে। প্রতিটি গোল এবং প্রতিটি পয়েন্ট আজ পুরো টেবিলের চেহারা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। লিগ পর্বের এই শেষ দিনটি কোনো সাধারণ ম্যাচডে নয়, বরং এটি ৩৬টি দলের দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিশ্রমের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই রাতটি হতে যাচ্ছে এক চরম স্নায়ুযুদ্ধের রাত, যেখানে ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে দেবে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের আগামীর গতিপথ। কোনো দলের জন্য আজ হবে আনন্দের উৎসব, আর কারো জন্য হয়তো ঝরবে বিদায়ের অশ্রু।


বিশ্বের ‘সবচেয়ে বাজে’ লিগের তকমা পেল বিপিএল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে দেশের ভেতরে নানা বিতর্ক দীর্ঘদিনের পুরোনো হলেও এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের মানহানির মুখে পড়েছে টুর্নামেন্টটি। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ ক্রিকেট ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’-এর এক সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় বিপিএলকে বিশ্বের সবচেয়ে তলানির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইসিসি স্বীকৃত বিশ্বের ১০টি প্রধান ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ওপর ভিত্তি করে করা এই র‍্যাঙ্কিংয়ে বিপিএলের অবস্থান হয়েছে দশম। ক্রিকেটের মান, ব্যবস্থাপনা এবং গ্রহণযোগ্যতা—সব দিক বিবেচনা করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে যা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

‘দ্য ক্রিকেটার’ তাদের এই র‍্যাঙ্কিং তৈরির ক্ষেত্রে চারটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করেছে। এগুলো হলো—বিনোদনের মান, খেলার গুণগত মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং সামগ্রিক অবস্থান। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশ্বের ১০টি শীর্ষ লিগের মধ্যে চালানো এই তুলনামূলক বিশ্লেষণে বিপিএল তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতেই ১০ নম্বরে অবস্থান করছে। কেবল স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগ ১০ নম্বরে থাকায় বিপিএল এই একটি খাতে নবম স্থানে নাম লেখাতে পেরেছে। তবে সামগ্রিক বিচারে বিশ্বের অন্য সব বড় লিগের তুলনায় বিপিএলকে অনেকটাই পিছিয়ে রাখা হয়েছে।

এই তালিকায় অনুমিতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ব্যয়বহুল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ হিসেবে ভারতের আইপিএল শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন আসর এসএ টি-টোয়েন্টি। ক্রিকেটের মান ও বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার বিচারে আইপিএল এক নম্বরে থাকলেও বিনোদনমূল্যের দিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকান লিগটিকে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে ব্রিটিশ এই ম্যাগাজিন। এছাড়া বিগ ব্যাশ, দ্য হানড্রেড, এমনকি পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটও বিপিএলের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও বিপিএলের চেয়ে সেটির মানকে উন্নত বলে ধরা হয়েছে।

বিপিএল কেন এত নিচে অবস্থান করছে, তার কারণও ব্যাখ্যা করেছে ‘দ্য ক্রিকেটার’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপিএল এবং লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) পেছনে প্রধান নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে নিয়মিত আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগ। ম্যাগাজিনটির মতে, বিপিএলের সঙ্গে শুরু থেকেই বিভিন্ন সময়ে ফিক্সিং ও বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ জড়িয়ে আছে, যা এর বিশ্বস্ততা এবং গ্রহণযোগ্যতাকে তলানিতে নিয়ে গেছে। এছাড়া বিদেশি তারকা খেলোয়াড়দের আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারানো এবং আয়োজনের দুর্বলতাও এই র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে।

বিপিএল নিয়ে এমন নেতিবাচক প্রতিবেদন আসার পর দেশের ক্রিকেট মহলে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা এবং টুর্নামেন্টের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিপিএলকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। যদিও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল বরাবরই একে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা লিগ হিসেবে দাবি করে আসছিল, তবে ব্রিটিশ এই ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন সেই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। মূলত দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পেশাদারিত্ব বাড়ানোর মাধ্যমেই কেবল বিপিএলকে এই অপমানজনক অবস্থান থেকে উদ্ধার করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


অজি ওপেনে সাবালেঙ্কার দাপট: ১৮ বছর বয়সী জোভিচকে উড়িয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী এককের কোয়ার্টার ফাইনালে ১৮ বছর বয়সী আমেরিকান উদীয়মান তারকা ইভা জোভিচকে পাত্তাই দিলেন না আরিনা সাবালেঙ্কা। বর্তমান বিশ্বসেরা এই টেনিস তারকা সরাসরি সেটে ৬-৩ ও ৬-০ গেমের বিশাল জয়ে টুর্নামেন্টে সবার আগে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন। মেলবোর্ন পার্কের উত্তপ্ত আবহাওয়ায় শুরু থেকেই নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন এই বেলারুশিয়ান তারকা।

ম্যাচের প্রথম সেট থেকেই জোভিচকে চাপে রাখেন সাবালেঙ্কা। শুরুতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলেন। জোভিচ কিছু সময়ের জন্য লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও অভিজ্ঞ সাবালেঙ্কার শক্তিশালী সার্ভ ও নিখুঁত ফোরহ্যান্ডের সামনে টিকতে পারেননি। দ্বিতীয় সেটে সাবালেঙ্কা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। শুরুতেই প্রতিপক্ষের সার্ভ ব্রেক করে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন। পুরো সেটে জোভিচকে কোনো পয়েন্ট জেতার সুযোগ না দিয়েই ৬-০ ব্যবধানে 'ব্যাগেল' উপহার দিয়ে ম্যাচটি দ্রুততম সময়ে শেষ করেন সাবালেঙ্কা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাবালেঙ্কা তার তরুণ প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি। তিনি বলেন, স্কোরবোর্ডে জয়টি সহজ মনে হলেও মাঠের লড়াই মোটেও সহজ ছিল না। ইভা জোভিচ একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় এবং তার লড়াকু মনোভাব সাবালেঙ্কাকে নিজের সেরাটা দিতে বাধ্য করেছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শিরোপাজয়ী সাবালেঙ্কা এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার পথে রয়েছেন। গত চার বছরের মধ্যে এটি তার তৃতীয় সম্ভাব্য শিরোপা জয়ের সুযোগ। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে তার প্রতিপক্ষ হবেন কোকো গফ অথবা এলিনা স্বিতোলিনা। বর্তমানে যে ছন্দে তিনি রয়েছেন, তাতে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট হিসেবেই তাকে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


রেকর্ড দামে বিক্রি হলো ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন: তিন প্রজন্ম পর প্রকাশ্যে এলো দুর্লভ এই টুপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের একটি ঐতিহাসিক ‘ব্যাগি গ্রিন’ টুপি রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ব্যবহৃত এই বিশেষ টুপিটি অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টের এক নিলামে ৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ব্র্যাডম্যানের ব্যবহৃত কোনো টুপির ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড। এই নিলামটি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট প্রেমী ও সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে কারণ দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে এই মহামূল্যবান স্মারকটি একটি ভারতীয় পরিবারের কাছে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষিত ছিল।

এই বিশেষ ব্যাগি গ্রিনটির ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। ১৯৪৮ সালের সেই সিরিজের সময় ব্র্যাডম্যান টুপিটি ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রীরাঙ্গা ওয়াসুদেব সোহোনিকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। এরপর সোহোনির পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে এটি তালাবদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষণ করে আসছিল। নিলাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘লয়েডস অকশনার্স অ্যান্ড ভ্যালুআরস’-এর চিফ অপারেটিং অফিসার লি হেমস জানিয়েছেন, এই টুপিটি দেখার বিষয়ে সোহোনি পরিবারের নিয়ম ছিল অত্যন্ত কঠোর। পরিবারের কোনো সদস্যের বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলে তাকে কেবল মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য এই অমূল্য রত্নটি দেখার অনুমতি দেওয়া হতো। দীর্ঘ সাড়ে সাত দশক এভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর অবশেষে এটি নিলামের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলো।

নিলামে বিক্রি হওয়া এই টুপিটি অত্যন্ত চমৎকার অবস্থায় রয়েছে। টুপির ভেতরের অংশে ‘ডিজে ব্র্যাডম্যান’ এবং ‘এসডব্লিউ সোহোনি’—উভয় ক্রিকেটারের নামই হাতে লেখা রয়েছে। যদিও ক্রেতা তার পরিচয় গোপন রেখেছেন, তবে জানা গেছে যে ঐতিহাসিক এই স্মারকটি প্রদর্শনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার একটি জাদুঘরে রাখা হবে। এর আগে ২০২০ সালে ব্র্যাডম্যানের ১৯২৮ সালের অভিষেক সিরিজের একটি ব্যাগি গ্রিন সাড়ে চার লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল, যা এতদিন পর্যন্ত তার দামি টুপির তালিকায় শীর্ষে ছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে পোকা খাওয়া ও কিছুটা নষ্ট হয়ে যাওয়া তার অন্য একটি টুপি ৩ লাখ ১১ হাজার ডলারে বিক্রি হয়।

ক্রিকেট বিশ্বের সর্বকালের সেরা ব্যাটার হিসেবে স্বীকৃত ডন ব্র্যাডম্যান ১৯২৮ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে মাত্র ৫২টি টেস্ট খেলে ৯৯.৯৪ গড়ে ২৯টি সেঞ্চুরি করেছিলেন। তার অসামান্য অর্জনের কারণেই তার ব্যবহৃত যেকোনো সামগ্রীর প্রতি সংগ্রাহকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকে। তবে ব্যাগি গ্রিন টুপির ক্ষেত্রে সামগ্রিক বিশ্বরেকর্ডটি এখনও প্রয়াত শেন ওয়ার্নের দখলে। ২০১৯-২০ সালের অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের জন্য ওয়ার্নের একমাত্র ব্যাগি গ্রিনটি ১০ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তবে ব্র্যাডম্যানের ব্যক্তিগত সংগ্রহের নিরিখে আজকের এই নিলামটি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।


সালাহর সঙ্গী হলো লজ্জার এক রেকর্ড, ২০১২ সালের দুঃস্মৃতিতে ডুবছে লিভারপুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সফল ক্লাব লিভারপুল বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাঠের পারফরম্যান্সে ছন্দহীনতার পাশাপাশি ক্লাবটির প্রাণভোমরা মোহামেদ সালাহর নামের পাশে যুক্ত হয়েছে এক বিব্রতকর রেকর্ড। পরিসংখ্যান বলছে, প্রিমিয়ার লিগে সালাহ শুরুর একাদশে থাকা শেষ আটটি ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে অলরেডসরা। ক্লাবের ইতিহাসে এমন ভয়াবহ পরিসংখ্যান এর আগে কেবল ২০১২ সালে দেখা গিয়েছিল। মাঠের ফুটবলে দলের এই টানা ব্যর্থতা সমর্থকদের মনে এক যুগ আগের সেই দুঃসহ স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে আনছে।

আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে ব্যক্তিগতভাবে ভালো ছন্দে থাকলেও শিরোপা তো দূরের কথা, কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি সালাহর মিসর। মহাদেশীয় সেই লড়াই শেষে গত সপ্তাহে লিভারপুল শিবিরে যোগ দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ফেরার পর চ্যাম্পিয়নস লিগে মার্সেইয়ের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয়ে তিনি শুরুর একাদশে থাকলেও প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। বোর্নমাউথের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোচ তার ওপর আস্থা রেখেছিলেন, কিন্তু রোমাঞ্চকর সেই লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় লিভারপুলকে। এই হারের মাধ্যমেই সালাহর ব্যক্তিগত রেকর্ডে যুক্ত হলো এক লজ্জাজনক অধ্যায়।

লিভারপুলের ইতিহাসে এর আগে ২০১২ সালে ডার্ক কুইটের সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সে বছর ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে কুইট শুরুর একাদশে থাকা ম্যাচগুলোতে লিভারপুল ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট হারিয়েছিল। সেই দুঃসময়ে কেনি ডালগ্লিশের কোচিংয়ে লিভারপুল লিগ শেষ করেছিল অষ্টম স্থানে থেকে এবং মৌসুম শেষে কুইট ক্লাব ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে সালাহ শুরুর একাদশে থাকা ম্যাচগুলোতে ক্রিস্টাল প্যালেস, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ব্রেন্টফোর্ড, ম্যানচেস্টার সিটি, নটিংহাম ফরেস্ট এবং সর্বশেষ বোর্নমাউথের বিপক্ষে হার অলরেডদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

সালাহর এই ব্যর্থতার চক্রের মাঝে একমাত্র জয়টি এসেছিল অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে। উল্লেখ্য যে, সেই ম্যাচটিতেই সালাহ চলতি মৌসুমে তার সর্বশেষ লিগ গোলটি করেছিলেন। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে লিভারপুলের অবস্থান অনেকটাই নড়বড়ে। ২৩ ম্যাচ শেষে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের ছয় নম্বরে অবস্থান করছে। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে এখন তারা ১৪ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে, অন্যদিকে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকা তো বটেই, বরং ২০১২ সালের মতো বিপর্যয় এড়ানোই এখন লিভারপুলের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়: অনির্বাণ ভট্টাচার্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দুই বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের একটি রহস্যময় পোস্ট ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল চলছিল। ‘পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়’— এমন একটি বার্তার পোস্টার শেয়ার করার পর থেকেই অনুরাগী ও নেটিজেনদের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে টালিউডের অন্দরমহলে অনির্বাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্ক এবং তাকে বয়কটের ডাক দেওয়ার গুঞ্জনের মাঝেই এমন মন্তব্য আসায় অনেকেই একে অভিনেতার চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে ধরে নিয়েছিলেন। তবে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা নিজেই।

আসলে এই বিস্ফোরক উক্তিটি কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং অনির্বাণের গানের দল ‘হুলিগানইজম’-এর নতুন একটি মিউজিক ভিডিওর শিরোনাম। গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই গানটি মুক্তি পেয়েছে। ‘পৃথিবীটা ভালো লোকেদের নয়’ শিরোনামের এই গানটির চিত্রায়ণ সম্পন্ন হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে বর্ধমান ও কলকাতার বিভিন্ন লোকেশনে। সমসাময়িক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে গানটি মুক্তি পাওয়ার পর অনির্বাণ এর পেছনের মূল দর্শনটি তুলে ধরেছেন। তার মতে, বর্তমান পৃথিবীতে ক্ষমতা আর টাকার দাপটই শেষ কথা। যাদের এই সম্পদ নেই, তারা কেবল বোকাই বনে যাচ্ছেন। এই কঠিন বাস্তবতা এবং টাকার জালে ফেঁসে যাওয়ার জীবনসংগীতই ফুটে উঠেছে তাদের এই নতুন সৃষ্টিতে।

সম্প্রতি টালিউডের তারকা অভিনেতা দেব এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলির একটি নতুন প্রজেক্টে অনির্বাণের থাকা না-থাকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা নাটকীয়তা ও আলোচনা চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই এমন একটি পোস্ট আসায় অনেকেই এর সাথে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্পর্ক খুঁজে পাচ্ছিলেন। তবে অনির্বাণ বিষয়টিকে স্রেফ ‘কাকতালীয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তাদের ডিজিটাল প্রচারণার দলটি অনেক আগে থেকেই এই দিনটি নির্ধারণ করে রেখেছিল। ফলে বর্তমান গুঞ্জনের সঙ্গে প্রচারণার সময়ের মিল পাওয়া গেলেও এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল না। ‘হুলিগানইজম’-এর এই নতুন গানটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক মহলে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলছে, যা একই সঙ্গে অনির্বাণের বহুমুখী প্রতিভার আবারও প্রমাণ দিচ্ছে। মূলত ক্ষমতার অসম লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের বোকা বনে যাওয়ার গল্পই এই গানের মাধ্যমে বলতে চেয়েছেন শিল্পী।


বার্সেলোনার ‘বিস্ময় বালক’কে দলে ভেড়াল পিএসজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনে ফের উত্তাপ ছড়িয়ে বার্সেলোনার অন্যতম উজ্জ্বল উদীয়মান প্রতিভা দ্রো ফের্নান্দেজকে নিজেদের ডেরায় ভিড়িয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। মাত্র ৮২ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে ১৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের ফরাসি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার খবরটি কাতালুনিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত সোমবার পিএসজি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ একে ‘অপ্রীতিকর বিস্ময়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বার্সা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা অভিযোগ করেছেন যে, এই কিশোর ফুটবলার ক্লাবের সঙ্গে করা তার মৌখিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন।

প্যারিসের ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে দ্রো ফের্নান্দেজ ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং তাকে ২৭ নম্বর জার্সিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পিএসজির অফিশিয়াল মিডিয়ায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তরুণ তুর্কি তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, পিএসজির মতো ঐতিহাসিক ক্লাবে যোগ দিতে পেরে তিনি এবং তার পরিবার অত্যন্ত গর্বিত। শৈশব থেকেই এই ক্লাবটিকে অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিএসজিতে অনেক কিংবদন্তি ফুটবলার খেলেছেন এবং তিনি এখন এই জার্সিতে নিজের সেরাটা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ও রোমাঞ্চিত।

এই দলবদলটি বার্সেলোনা এবং পিএসজির মধ্যকার আগে থেকেই বিদ্যমান তিক্ত সম্পর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। লা মিনে ইয়ামালের পর লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে আসা ফের্নান্দেজকে নিয়ে বার্সেলোনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছিল। ক্লাবের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে হঠাৎ করে হারিয়ে ফেলা কাতালানদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতালুনিয়া রেডিওর সঙ্গে আলাপকালে লাপোর্তা স্পষ্টভাবেই তার হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ফের্নান্দেজের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর একটি নতুন চুক্তিতে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষই মৌখিকভাবে একমত হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে খেলোয়াড়ের এজেন্ট সেই অবস্থান থেকে সরে এসে চুক্তি ভঙ্গের সিদ্ধান্ত জানায়।

বিগত ছয় মাসে দ্রো ফের্নান্দেজের পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছিল। বার্সার মূল দলের সঙ্গে তার মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ছিল ঈর্ষণীয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রাক-মৌসুম সফরে সিনিয়র স্কোয়াডে থাকার পর গত সেপ্টেম্বরে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচে তার লা লিগায় অভিষেক হয়। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ী ম্যাচে একটি গোল করতেও সহায়তা করেন তিনি। বার্সেলোনার হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেললেও মাঠের কর্তৃত্বে তিনি নিজেকে অপরিহার্য প্রমাণের পথে ছিলেন। ফলে এমন একজন ‘রত্ন’কে মাঝপথেই প্যারিসের ক্লাবের কাছে হারিয়ে ফেলা বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ব্যর্থতা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।


শেষ ওভারে টানা ৩ ছক্কায় আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ইতালির ঐতিহাসিক জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৬ রান, হাতে আছে মাত্র ৬টি বল। এমন শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তে আইরিশ বোলার ব্যারি ম্যাককার্থির ওপর চড়াও হলেন ইতালির ব্যাটার গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট। পর পর তিন বলে হাঁকালেন বিশাল তিন ছক্কা। আর তাতেই আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল ইতালি। সোমবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের এই ঐতিহাসিক জয় পায় তারা। এটিই কোনো টেস্ট খেলুড়ে বা পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে ইতালির প্রথম আন্তর্জাতিক জয়।

যদিও এর আগের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ আগেই ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছিল আয়ারল্যান্ড, তবে শেষ ম্যাচটি ইতালির জন্য ছিল নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের মঞ্চ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পল স্টার্লিংয়ের তিনটি ছক্কা ও দুটি চারে সাজানো ৪৫ রানের ইনিংসে ভালো শুরু পায় আইরিশরা। তবে মাঝপথে মার্ক অ্যাডায়ার ও বেন ক্যালিটজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ইতালির বোলারদের দাপটে শেষদিকে ধস নামে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে। ১৯.৪ ওভারে ১৫৪ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ইতালির হয়ে বল হাতে ক্রিশান কালুগামাগে সর্বোচ্চ ৩টি এবং গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট ও জেজে স্মাটস ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না ইতালির। টপ অর্ডারে ওয়েইন ম্যাডসেন ৩৯ রান করে ফিরলে ১১১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। জয়ের সমীকরণ তখন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়—২৩ বলে প্রয়োজন ৪৪ রান। সেই কঠিন মুহূর্তে দলের হাল ধরেন গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট ও মার্কাস ক্যাম্পোপিয়ানো। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৪৬ রানের জুটিতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ইতালি। বিশেষ করে স্টুয়ার্টের ১৯ বলে ৩৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজটি মূলত আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ ছিল। বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে আয়ারল্যান্ড লড়বে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া ইতালি ‘সি’ গ্রুপে মুখোমুখি হবে পরাশক্তি ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেপালের। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডের মতো বড় দলকে হারিয়ে ইতালি যে বার্তা দিল, তা নিশ্চিতভাবেই তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


ব্রাজিলের বিস্ময়বালক এনদ্রিকের হ্যাটট্রিক: রিয়ালের আক্ষেপ বাড়িয়ে লিওঁকে জেতালেন বড় ব্যবধানে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফরাসি লিগ ওয়ানে রোববার রাতে নিজের জাত চেনালেন ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময়বালক এনদ্রিক। মেত্‌জের মাঠে অলিম্পিক লিওঁর ৫–২ গোলের বিশাল জয়ে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের মূল নায়কের আসনে বসলেন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে খেলতে আসা এই তরুণ ফরোয়ার্ড। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পেলেও লিওঁর জার্সিতে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে চলেছেন তিনি। মাত্র ৩ ম্যাচেই ৪ গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই সেলেসাও তারকা।

ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হন এনদ্রিক। খেলার ১১তম মিনিটে অধিনায়ক কোরেন্তাঁ তোলিসোর বাড়ানো ক্রসে বাঁ পায়ের নিখুঁত ফ্লিকে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সতীর্থ টাইলার মর্টনের পাস থেকে বল পেয়ে ডান দিক দিয়ে ক্ষিপ্রগতিতে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। সেখানে বল নিয়ন্ত্রণে এনে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক জোনাথন ফিশারের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে নিজেই পেনাল্টি আদায় করে নেন এবং স্পটকিক থেকে গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় হ্যাটট্রিকটি পূরণ করেন। গোলরক্ষক ফিশার এনদ্রিকের পোস্টের খুব কাছ থেকে নেওয়া একটি হেড ও একটি নিচু শট না ঠেকালে তাঁর গোলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

এনদ্রিকের হ্যাটট্রিকের দিনে লিওঁর পক্ষে বাকি দুটি গোল করেন ডাচ কিংবদন্তি প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের ছেলে ডিফেন্ডার রুবেন ক্লুইভার্ট এবং মিডফিল্ডার টাইলার মর্টন। এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে লিগ টেবিলে নিজেদের চতুর্থ স্থান ধরে রেখেছে লিওঁ। অন্যদিকে, লিগ ওয়ানের অপর এক ম্যাচে নঁতের বিপক্ষে ৪–১ গোলের বড় জয় পেয়েছে নিস। দলটির হয়ে জোড়া গোল করেছেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ-আলি চো এবং একটি করে গোল করেছেন সোফিয়ান দিয়োপ ও টম লুশে। নিসের কোচ হিসেবে ক্লদ পুয়েল দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ ম্যাচে এটি তাদের অন্যতম বড় সাফল্য, যা দলটিকে টানা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করেছে।


লামিনে ইয়ামালের জাদুকরী গোল: রিয়ালকে হটিয়ে আবারও লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

লা লিগায় আগের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে হোঁচট খাওয়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে আবারও লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচে দানি ওলমো ও রাফিনহা গোল পেলেও ১৮ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের চোখ ধাঁধানো একটি গোল ছিল ম্যাচের মূল আকর্ষণ।

ম্যাচের প্রথমার্ধটা অবশ্য বার্সেলোনার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। সেপ্টেম্বর থেকে জয়ের দেখা না পাওয়া ওভিয়েদো প্রথম ৪৫ মিনিট স্বাগতিকদের ভালোই পরীক্ষা নেয়। ওভিয়েদোর ইলিয়াস চাইরা ও হাইসেম হাসান বার্সা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে কয়েকবার কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেন। প্রথমার্ধে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ; যোগ করা সময়ে রাফিনহার একটি শট ছাড়া প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক অ্যারন এসকান্দেলকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।

তবে বিরতির পর পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানি ওলমো। লামিনে ইয়ামালের চাপে ওভিয়েদোর কোয়াসি সিবো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে ওলমোর পায়ে তুলে দেন। ১৬ গজ দূর থেকে কোণাকুণি শটে বল জালে জড়িয়ে বার্সাকে লিড এনে দেন ওলমো। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ছন্দে থাকা রাফিনহা। ওভিয়েদো ডিফেন্ডার ডেভিড কোস্টাসের অত্যন্ত দুর্বল একটি ব্যাকপাসের সুযোগ নিয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার চিপ শটে স্কোরলাইন ২-০ করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ম্যাচের সেরা মুহূর্তটি আসে ৭৩তম মিনিটে। দানি ওলমোর ক্রস পেনাল্টি এরিয়ার প্রান্তে পেয়ে অ্যাক্রোবেটিক শটে বল জালে জড়ান লামিনে ইয়ামাল। গোলরক্ষক এসকান্দেলকে পরাস্ত করে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ানো এই গোলটি দর্শকদের মুগ্ধ করে। বড়দিনের পর এটি ছিল ইয়ামালের দ্বিতীয় গোল। রবার্ট লেভানডোভস্কি ও ওলমো আরও কিছু সুযোগ পেলেও ব্যবধান আর বাড়েনি।

এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল বার্সেলোনা। গতকাল রিয়াল মাদ্রিদ তাদের ম্যাচে জিতে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠেছিল। তবে ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ৩-০ গোলের এই জয়ে ২১ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধার করল বার্সা। হ্যান্সি ফ্লিকের দল এখন রিয়ালের চেয়ে এক পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল।


এমিরেটসে ৫ গোলের রোমাঞ্চ: আর্সেনালকে স্তব্ধ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাটকীয় জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে বড়সড় ধাক্কা খেল আর্সেনাল। নিজেদের দুর্গ হিসেবে খ্যাত এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ৩-২ গোলের নাটকীয় ব্যবধানে হেরেছে গানাররা। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটির পর এবার লিগ লিডার আর্সেনালকে হারিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিল রেড ডেভিলরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে আর্সেনালকে হারিয়েছে ইউনাইটেড, যা মিকেল আর্তেতার দলের ২২ বছরের শিরোপা খরা ঘোচানোর স্বপ্নে বড় আঘাত।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে ওঠে। ২৯তম মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় লিড নেয় স্বাগতিক আর্সেনাল। বুকায়ো সাকার চিপ থেকে মার্টিন ওডেগার্ডের নেওয়া ভলি ঠেকাতে গিয়ে নিজের জালেই বল জড়িয়ে দেন ইউনাইটেড ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে আর্সেনালের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। আট মিনিট পরেই আর্সেনাল মিডফিল্ডার মার্টিন জুবিমেন্দির হাস্যকর এক ভুল ব্যাকপাসের সুযোগ কাজে লাগান ইউনাইটেডের ব্রায়ান এমবিউমো। তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান।

বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে (৫০ মিনিট) প্যাট্রিক ডরগুর ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক হাফ-ভলি শটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। গোলটি নিয়ে ভিএআর চেক করা হলেও রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে ওঠেন আর্সেনাল বস মিকেল আর্তেতা। ম্যাচের মোড় ঘোরাতে তিনি একসাথে চারজন খেলোয়াড় বদল করেন। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে মিকেল মেরিনো কর্নার থেকে জটলার ভেতর গোল করে আর্সেনালকে ২-২ সমতায় ফিরিয়ে ম্যাচে প্রাণ সঞ্চার করেন। তখন মনে হচ্ছিল অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়বে গানাররা।

কিন্তু এমিরেটসের দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে দেন ম্যানইউর বদলি খেলোয়াড় ম্যাথিউস কুনহা। সমতায় ফেরার মাত্র তিন মিনিট পরেই (৮৭ মিনিট) ২০ গজ দূর থেকে তার নেওয়া বাঁকানো দর্শনীয় শটটি আর্সেনালের জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে এটিই আর্সেনালের প্রথম হার।

এই হারের ফলে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে উঠল। ২৩ ম্যাচ শেষে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে আর্সেনাল এখনো শীর্ষে থাকলেও তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলা; উভয় দলেরই সংগ্রহ ৪৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, টানা দুই জয়ে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মাইকেল ক্যারিকের অধীনে টানা দুই বিগ ম্যাচে জয় ইউনাইটেড শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।


banner close