শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলেই সেমিফাইনাল। আর হারলে শেষ চারে যাবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামা ইংল্যান্ড সহজ ম্যাচ জিতল কঠিন করে। ১৪২ রানের টার্গেটে পাওয়ার প্লেতেই ইংল্যান্ডের রান বিনা উইকেটে ৭০। তখন ধরেই নেয়া হয়েছিল হেলায়ই লঙ্কা জয় করতে যাচ্ছে ইংলিশরা। কিন্তু শ্রীলঙ্কানরা যে হারার আগে হারতে রাজি নয়! দুর্দান্ত কামব্যাক করে লঙ্কান বোলাররা ম্যাচকে নিয়ে গেছেন শেষ ওভারে। তবে ২ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে জিতে নিউজিল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
১৪২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে প্রথম ওভার দেখেশুনেই খেলেন দুই ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস ও জস বাটলার। তবে দ্বিতীয় ওভার থেকেই তাণ্ডব শুরু করেন তারা। প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটে আসে ৭০ রান। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হতেই দারুণ ঝলক দেখাতে শুরু করেন লঙ্কান বোলাররা। ৬ থেকে ১৫- এই ৯ ওভারের মধ্যে ৫টি উইকেট হারায় তারা। এ সময়ে আসে মাত্র ৪৩ রান। ৭৫ রানে বাটলার (২৮) ও ৮২ রানে ফেরেন হেলস (৪২)। আর দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ফেরেন হ্যারি ব্রুক, লিয়াম লিভিংস্টোন ও মঈন আলি।
তবে একপ্রান্ত ধরে ছিলেন ওয়ান ডাউনে নামা বেন স্টোকস। শেষ পর্যন্ত স্যাম কারেনকে নিয়ে ১৮ ও ক্রিস ওকসের সঙ্গে ১৫ রানের ছোট কিন্তু কার্যকরী জুটি গড়ে ম্যাচ বের করে আনেন তিনি। ৩৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন স্টোকস।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে শুরুটা অবশ্য দারুণ করে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লেতেই আসে ৫৪ রান। এ সময়ে কুশল মেন্ডিসকে হারালেও দুর্দান্ত ছন্দে ব্যাটিং করেন টুর্নামেন্ট জুড়েই একশ বা তার কম স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা পাথুম নিশাঙ্কা। প্রথম ১০ ওভারে সংগ্রহ ২ উইকেটে ৮০। তবে শেষের ১০ ওভারে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন ইংলিশ বোলাররা। পাথুম নিশাঙ্কা (৪৫ বলে ৬৭) একপ্রান্তে রানের চাকা সচল রাখলেও ব্যর্থ হন অন্যরা। শেষ ১০ ওভারে আসে মাত্র ৬১ রান। হারাতে হয় ৬ উইকেট। এর মধ্যে শেষ ওভারেই বিধ্বংসী পেসে ৩ লঙ্কান ব্যাটসম্যানকে ফেরান মার্ক উড। ফলে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় শ্রীলঙ্কাকে।
ইংল্যান্ডের জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেল গ্রপ ‘১’ থেকে কারা যাচ্ছে সেমিফাইনালে। আগের দিনেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। আর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করলো ইংলিশরা। অস্ট্রেলিয়ার একই (৭) পয়েন্ট থাকলেও রানরেটে (-০.১৭৩) ইংল্যান্ডের (+০.৪৭৩) চেয়ে পিছিয়ে থাকায় সেমির দৌড় থেকে বাদ পড়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৪১/৮ (নিসাঙ্কা ৬৭, রাজাপক্ষে ২২, মেন্ডিস ১৮; উড ৩/২৬, রশিদ ১/১৬)।
ইংল্যান্ড: ১৯.৪ ওভারে ১৪৪/৬ (হেলস ৪৭, স্টোকস ৪২*, বাটলার ২৮; হাসারাঙ্গা ২/২৩, কুমারা ২/২৪, ধনঞ্জয়া ২/২৪)।
ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: আদিল রশিদ।
বৈশ্বিক গেমিং জগতের সবথেকে বড় আসর ই-স্পোর্টস ‘বিশ্বকাপ’ বা ই-স্পোর্টস নেশনস কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী নভেম্বর মাসে সৌদি আরবে এই মেগা ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিওয়াইডিইএসএ) সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম এই ঐতিহাসিক খবরটি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বের ১৫০টি দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এই আসরে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখবে।
এবারের আসরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর বিশাল অংকের প্রাইজমানি। টুর্নামেন্টের মোট পুরস্কার বা প্রাইজপুলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন ই-স্পোর্টস টাইটেল বা গেমিং ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবে। দেশভিত্তিক ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে এটিই এ পর্যন্ত বিশ্বের সবথেকে বড় এবং ব্যয়বহুল আয়োজন। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দেশের গেমিং সেক্টরে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ৫০ জন দক্ষ গেমারের একটি শক্তিশালী দল গঠন করেছে বাংলাদেশ। জাতীয় দল নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং স্বচ্ছ। বিওয়াইডিইএসএ জানিয়েছে, সারা দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন গেমার এই টুর্নামেন্টের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন করেছিলেন। সেখান থেকে কয়েক দফার ট্রায়াল এবং একাধিক ধাপের কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সেরা খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে কোচিং স্টাফরা দাবি করেছেন।
মূল পর্বে খেলার আগে বাংলাদেশকে এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। টিম ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, এশিয়ান লিডার বোর্ডের সেরা দুই বা তিনের মধ্যে থাকতে পারলেই কেবল সৌদি আরবে মূল মঞ্চে খেলার চূড়ান্ত টিকিট মিলবে। বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি বর্তমানে বেশ জোরেশোরে চলছে এবং কোচরা গেমারদের কৌশলগত উন্নতির ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছেন। ইভেন্টের কোচদের মতে, মূল আসর শুরু হতে এখনও দুই মাস সময় বাকি থাকায় প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকবে না এবং গেমাররা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের প্রস্তুত করে তুলছে।
প্রথমবারের মতো এমন বড় আসরে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। প্রথাগত খেলাধুলার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক স্পোর্টসেও বাংলাদেশের এই শক্তিশালী পদযাত্রা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের আইটি ও গেমিং সক্ষমতা তুলে ধরবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ দল মূল আসরে গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল বয়ে আনতে সক্ষম হবে। ২২০ কোটি টাকার এই বিশাল প্রাইজপুলের লড়াইয়ে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে এখন নিবিড়ভাবে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের মেধাবী গেমাররা।
ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল তাদের প্রধান কোচ মিকেল আর্তেতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী আস্থা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি মৌসুমের ফলাফল যাই হোক না কেন, এই স্প্যানিশ কোচের সাথে বড় অঙ্কের নতুন চুক্তি করতে যাচ্ছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। দলবদল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আর্তেতা ক্লাবের যে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন, তার পুরস্কার হিসেবেই তাকে এই দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তার চুক্তি থাকলেও নতুন চুক্তির মাধ্যমে তাকে আরও বেশ কয়েক বছর এমিরেটসে রেখে দিতে চায় গানার্সরা।
আর্সেনাল বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। লিগ টেবিলের বর্তমানে ৩৫ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে উত্তর লন্ডনের এই ক্লাবটি। যদিও দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে তারা ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আছে, তবে সিটির হাতে একটি অতিরিক্ত ম্যাচ থাকায় শিরোপা লড়াই এখন চূড়ান্ত নাটকীয়তায় রূপ নিয়েছে। লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে আর্তেতার পরিকল্পনা ও কৌশলই এখন শিরোপা নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
কেবল ঘরোয়া লিগেই নয়, বরং ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল। সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ২০০৫-০৬ মৌসুমের পর অর্থাৎ দীর্ঘ ২০ বছর পর ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। বুদাপেস্টে অনুষ্ঠেয় এই গ্র্যান্ড ফাইনালে জয় পেলে আর্তেতার নাম ক্লাবের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একই মৌসুমে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের এমন ‘ডাবল’ অর্জনের সম্ভাবনা ক্লাবটির দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর পথকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
মিকেল আর্তেতা বর্তমানে দলের এই ক্রান্তিলগ্নে পুরোপুরি শিরোপা জয়ের দিকেই মনোনিবেশ করছেন। তবে ক্লাব সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি আর্সেনালের এই বর্তমান প্রজেক্ট এবং ক্লাব সংস্কৃতির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী। নতুন চুক্তির বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচক এবং মৌসুমের ব্যস্ততা শেষে খুব শীঘ্রই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে আগ্রহী। আর্তেতার অধীনে দল যেভাবে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তা ক্লাবের মালিকপক্ষকে গভীরভাবে সন্তুষ্ট করেছে।
আর্সেনালের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন যে শিরোপা জিতুক বা না জিতুক, গত কয়েক বছরে আর্তেতা ক্লাবটিকে একটি বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তাঁর অধীনে খেলোয়াড়দের মানোন্নয়ন এবং দলের ধারাবাহিকতা আগামী বছরগুলোতে বড় অর্জনের পথ প্রশস্ত করবে। মূলত এই স্থায়িত্ব ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বোর্ড কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আর্তেতার সাথে দ্রুত চুক্তি নবায়ন করতে চাইছে। এই সিদ্ধান্তটি আর্সেনাল সমর্থকদের জন্য এক বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে, যারা প্রিয় কোচকে দীর্ঘ সময় ক্লাবের দায়িত্বে দেখতে চান।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ঘরের মাঠে বুধবার এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাঞ্জাব কিংসকে ৩৩ রানে হারিয়েছে প্যাট কামিন্সের দল। আগে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ ৪ উইকেটে ২৩৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে কুপার কনলির রেকর্ডগড়া শতক সত্ত্বেও ২০২ রানেই থামতে হয় পাঞ্জাবকে। এই জয়ের মাধ্যমে হায়দরাবাদ একটি বিশেষ রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছে; নিজেদের মাঠে পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলা ১১টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় পেল তারা। এ ছাড়া ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঘরের মাঠে পাঞ্জাবকে টানা ৯ ম্যাচে হারানোর অনন্য নজির স্থাপন করল অরেঞ্জ আর্মি।
ম্যাচের শুরুতে হায়দরাবাদের দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা যথারীতি ঝোড়ো সূচনা করেন। মাত্র ৩.২ ওভারেই দলের স্কোর ৫০ ছাড়িয়ে যায়। অভিষেক ১৩ বলে ৩৫ এবং হেড ১৯ বলে ৩৮ রান করে সাজঘরে ফিরলেও মাঝপথে রানের গতি সচল রাখেন ইশান কিষাণ ও হেইনরিখ ক্লাসেন। তাঁদের ৮৮ রানের কার্যকর জুটিতে হায়দরাবাদ বড় সংগ্রহের ভিত পায়। ইশান ৩২ বলে ৫৫ এবং ক্লাসেন ৪৩ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৯ রান করেন। শেষ দিকে নীতিশ কুমার রেড্ডির ১৩ বলে ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৩৫ রানের বিশাল পুঁজি পায় স্বাগতিকরা।
২৩৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাঞ্জাব কিংস। দলীয় মাত্র ৪ রানেই দুই ওপেনার প্রভসিমরান সিং ও প্রিয়াংশ আর্যকে হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও মাত্র ৫ রান করে বিদায় নেন। তবে বিপর্যয়ের মাঝে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন অজি তরুণ কুপার কনলি। মাত্র ২২ বছর ২৫৭ দিন বয়সে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আইপিএল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ড গড়েন তিনি। এর আগে ২০১৬ সালে ২৩ বছর ১২২ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন কুইন্টন ডি কক। কনলি শেষ পর্যন্ত ৫৯ বলে ৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১০৭ রানে অপরাজিত থাকলেও দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেননি।
পাঞ্জাব কিংস চলতি মৌসুমে এর আগে ২৬৬ রান তাড়া করে জেতার বিশ্বরেকর্ড গড়লেও কালকের ম্যাচে তারা তাল হারিয়ে ফেলে। ১১৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর কনলি একাই লড়াই চালিয়ে যান। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসটি ছিল ২২ বছর বয়সী কোনো ক্রিকেটারের জন্য পাঞ্জাবের জার্সিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। হায়দরাবাদের পক্ষে প্যাট কামিন্স ও শিভাঙ কুমার ২টি করে উইকেট শিকার করেন। উল্লেখ্য যে, আইপিএলের ইতিহাসে হায়দরাবাদ এখন পর্যন্ত ২২০ রানের বেশি পুঁজি নিয়ে মোট ১১ বার খেলতে নেমে প্রতিটিতেই জয় পাওয়ার ধারা অব্যাহত রেখেছে।
এই পরাজয়ের ফলে পাঞ্জাব কিংসের জন্য প্লে-অফের সমীকরণ কিছুটা জটিল হলেও কুপার কনলির এই পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য সত্ত্বেও যোগ্য সঙ্গীর অভাবে পাঞ্জাব ২০২ রানে সীমাবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, হায়দরাবাদ তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল। এক ভেন্যুতে কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশিবার হারানোর তালিকায় হায়দরাবাদ এখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ঠিক পরেই অবস্থান করছে। কনলির এই সেঞ্চুরিটি তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য একটি বিশাল অর্জন হলেও দলের হারের কারণে শেষ পর্যন্ত তা ম্লান হয়েই থাকল।
স্পেন ও বার্সেলোনার সাবেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছেন। স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি অ্যান্ডোরার মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রেফারির ওপর ক্ষুব্ধ ও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখানোর দায়ে তাঁকে ৬ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, পিকে কেবল ম্যাচ থেকেই নিষিদ্ধ হননি, বরং আগামী দুই মাস ক্লাবের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডেও তিনি অংশ নিতে পারবেন না। মাঠের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পিকের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নিল দেশটির ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১ মে, যখন স্পেনের দ্বিতীয় স্তরের লিগে আলবাসেতের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় পিকের মালিকানাধীন দল অ্যান্ডোরা। ম্যাচ শেষে মাঠের রেফারি আলোনসো ডি এনা ওল্ফের প্রতি উচ্চস্বরে চিৎকার এবং হুমকির ভঙ্গিতে কথা বলেন পিকে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পিকে রেফারিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘অন্য কোনো দেশ হলে তারা তোমাকে ছিঁড়ে ফেলত; তবে অ্যান্ডোরা একটি সভ্য দেশ।’ পিকের এমন মন্তব্যকে অত্যন্ত অপমানজনক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত হিসেবে গণ্য করেছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পিকের পাশাপাশি শাস্তি পেয়েছেন ক্লাবের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও। অ্যান্ডোরা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ফেররান ভিলাসেকাকে ৪ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর জম নগেসকেও পিকের মতোই সমান ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং দুই মাস ক্লাবের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের এমন অপেশাদার আচরণে ক্লাবের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ব্যক্তিগত শাস্তির পাশাপাশি এফসি অ্যান্ডোরা ক্লাবকেও আর্থিক জরিমানা এবং মাঠের শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফেডারেশন ক্লাবটিকে ১৫০০ ইউরো জরিমানা করার পাশাপাশি পরবর্তী দুটি ম্যাচে স্টেডিয়ামের একটি নির্দিষ্ট অংশ দর্শকশূন্য বা ফাঁকা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ক্লাবের নীতিনির্ধারকদের এমন আচরণে সামগ্রিকভাবে পুরো দলকেই এখন চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের পয়েন্ট টেবিলে দশম স্থানে থাকা ক্লাবটির জন্য এই নিষেধাজ্ঞা এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালে পিকে এবং একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মিলে এফসি অ্যান্ডোরার মালিকানা গ্রহণ করেন। পিরিনীয় অঞ্চলের এই ক্ষুদ্র দেশের ক্লাবটি যখন পিকে কিনেছিলেন, তখন তারা ছিল পঞ্চম বিভাগের দল। পিকের তত্ত্বাবধানে ক্লাবটি ধাপে ধাপে উন্নতি করে দ্বিতীয় বিভাগে উঠে আসে। তবে মাঠের সাফল্যের চেয়েও মালিকপক্ষের এমন শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ক্লাবটি এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পিকে বা ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই শাস্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আপিল করা হবে কি না, তা জানা যায়নি।
প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) আবারও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বুধবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখের ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। তবে প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ৫-৪ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের অগ্রগামিতায় শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে পা রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। টানটান উত্তেজনার এই লড়াইয়ে মাঠের লড়াইয়ে সমতা থাকলেও প্রথম লেগের সেই এক গোলের ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত বায়ার্নের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বায়ার্ন মিউনিখ। খেলার মাত্র ১৩৯ সেকেন্ডের মাথায় পিএসজিকে লিড এনে দেন উসমান দেম্বেলে। খিচা কাভারাস্কেইয়ার চমৎকার এক পাস থেকে বল পেয়ে রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জাল কাঁপান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির একাদশে ফুলব্যাকদের পজিশন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি এদিন বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলে দেম্বেলেকে মার্ক করতে ব্যর্থ হন ইয়োসিপ স্তানিসিচ। এই শুরুর গোলটিই শেষ পর্যন্ত দুই লেগ মিলিয়ে বায়ার্নকে মানসিকভাবে পিছিয়ে দেয়।
পিছিয়ে পড়ার পর বায়ার্ন ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। বিশেষ করে মাইকেল ওলিসের সাথে পিএসজির নুনো মেন্দেসের লড়াই ছিল দেখার মতো। ম্যাচের শুরুতে মেন্দেস হলুদ কার্ড পেলেও ওলিসের একটি নিশ্চিত গোল শরীর দিয়ে ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন। অন্যদিকে জর্জিয়ান তারকা কাভারাস্কেইয়া ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উপামেকানোর বাধা ডিঙিয়ে মাঠ মাতিয়ে রাখলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেননি। পিএসজির অধিনায়ক মার্কিনিওসের নেতৃত্বে রক্ষণভাগ বায়ার্নের ভয়ংকর আক্রমণগুলোকে তাদের নিজেদের মাঠেই সফলভাবে রুখে দিয়ে নজর কাড়ে।
ম্যাচজুড়ে রেফারিং নিয়ে বেশ নাটকীয়তা তৈরি হয় এবং বায়ার্নের খেলোয়াড়েরা দুইবার রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনহেইরোকে ঘিরে ধরে কার্ড ও পেনাল্টির জোরালো দাবি জানান। বিশেষ করে জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন ওঠে, তবে বল সতীর্থের শরীর হয়ে আসায় ফিফার নিয়মানুযায়ী তা নাকচ হয়ে যায়। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে ইনজুরি টাইমে হ্যারি কেইন গোল করে ১-১ সমতা ফেরালেও তা ফাইনালে ওঠার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই হারের মাধ্যমে আরও একবার বড় কোনো ট্রফি জয়ের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো ইংলিশ স্ট্রাইকার কেইনকে।
এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরার মুকুট ধরে রাখার মিশনে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেল পিএসজি। অন্যদিকে ঘরের মাঠে লড়াই করেও ট্র্যাজিক বিদায় নিতে হলো বায়ার্ন মিউনিখকে। প্রথম লেগের গোল উৎসবের পর দ্বিতীয় লেগে কৌশলী ফুটবলে সফল হয়ে ফাইনালের টিকিট কাটল প্যারিসের ক্লাবটি। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিতব্য গ্র্যান্ড ফাইনালের দিকে, যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি মুখোমুখি হবে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের।
আইপিএলে টিকে থাকার লড়াইয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। মঙ্গলবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সাঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৫৬ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই পেরিয়ে যায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের ফলে ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে চেন্নাই, যা তাদের প্লে-অফের দৌড়ে শক্তভাবে টিকিয়ে রাখল।
এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে চেন্নাইয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তারা। মাত্র ৬৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে যখন দলটি ধুঁকছিল, তখন ট্রিস্টান স্টাবস ও সামির রিজভি ইনিংসের হাল ধরেন। স্টাবসের ৩৮ এবং রিজভির ৪০ রানের কার্যকরী ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় দিল্লি। চেন্নাইয়ের বোলারদের মধ্যে নুর আহমেদ সর্বোচ্চ ২টি উইকেট শিকার করেন।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। দলীয় ২৪ রানের মধ্যেই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও ওপেনার উর্ভিল প্যাটেল দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে শঙ্কার সৃষ্টি হয়। তবে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা সাঞ্জু স্যামসন ও কার্তিক শর্মা চমৎকার ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে ইনিংস পুনর্গঠন করেন। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে রান তোলার গতি বাড়িয়ে জয়ের সমীকরণ সহজ করে তোলেন।
সাঞ্জু স্যামসন এদিন একাই দিল্লির বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। তিনি মাত্র ৫২ বলে ৮৭ রানের এক অপরাজিত ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৭টি চার ও ৬টি বিশাল ছক্কার মার। অন্য প্রান্তে কার্তিক শর্মা ৪১ রানে অপরাজিত থেকে স্যামসনকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তাঁদের মধ্যকার অবিচ্ছিন্ন ১১৪ রানের জুটিতে ভর করে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চেন্নাই। এই দাপুটে পারফরম্যান্স চেন্নাই শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফুটবল মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি নিজের আভিজাত্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য সবসময়ই আলোচনায় থাকেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এরই ধারাবাহিকতায় নিজের সংগ্রহে আরও একটি দুর্লভ ও অতি মূল্যবান গাড়ি যোগ করেছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি একটি বিশেষভাবে কাস্টমাইজ করা 'মার্সিডিজ-এএমজি জি৬৩ ক্যাব্রিওলেট' মডেলের গাড়ি কিনেছেন। এই বিশেষ গাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ কোটি টাকারও বেশি।
রোনালদোর এই নতুন গাড়িটি অত্যন্ত দুর্লভ, কারণ পুরো বিশ্বে এই মডেলের মাত্র ২০টি গাড়ি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান ‘রিফাইন্ড মার্কেস’ রোনালদোর ব্যক্তিগত রুচি ও পছন্দ অনুযায়ী এটি তৈরি করেছে। এই এসইউভিটির অন্যতম প্রধান কারিগরি বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘সফট-টপ কনভার্টেবল’ ডিজাইন এবং পেছনের দরজাগুলো সাধারণ গাড়ির বিপরীতে উল্টো দিকে খোলে। এই বিশেষ নকশা গাড়িটিকে বিশ্বের অন্যান্য বিলাসবহুল বাহনের তুলনায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
গাড়িটির বাহ্যিক রূপ সজ্জায় রোনালদোর বর্তমান ক্লাব আল নাসরের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা গেছে। পুরো গাড়িটি ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী হলুদ ও নীল রঙে রাঙানো হয়েছে। আভিজাত্য বাড়াতে এবং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করতে দরজার পাশে বসানো হয়েছে তাঁর আইকনিক পরিচয় ‘সিআর৭’ লেখা বিশেষ প্লেট। সৌদি আরবের ফুটবল এবং সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের এক নতুন প্রতীক হিসেবেই এই শৌখিন বাহনটিকে দেখছেন অনেকে।
গাড়ির প্রতি রোনালদোর দুর্বলতা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এবং তাঁর ব্যক্তিগত গ্যারেজে ইতিমধ্যে রয়েছে বিশ্বের নামী সব ব্র্যান্ডের সমাহার। বুগাত্তি, ফেরারি এবং ল্যাম্বরগিনির মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও শক্তিশালী ইঞ্জিনের অনেকগুলো গাড়ি তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। নতুন এই মার্সিডিজটি যুক্ত হওয়ার ফলে তাঁর সেই সমৃদ্ধ সংগ্রহ আরও শক্তিশালী হলো। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল তাঁর সম্পদের প্রদর্শন নয়, বরং নিজের ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থানের প্রতি একটি বিশেষ উদযাপন।
বর্তমানে আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। তাঁর দল এখন লিগের শিরোপা জয়ের দৌড়ে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মাঠের ভেতরে নিয়মিত গোল করে যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করছেন, তেমনি মাঠের বাইরেও এমন রাজকীয় সব চমক দিয়ে খবরের শিরোনামে থাকছেন তিনি। নতুন এই শৌখিন গাড়ির সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর কোটি কোটি ভক্তের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে আবারও নতুন গুঞ্জনের ডালপালা মেলেছে। বর্তমানে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে খেলা এই তারকা ফুটবলার সম্প্রতি আর্জেন্টিনা সফরে গেলে সেখানে তাঁর বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কোপা সুদামেরিকানায় সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নেইমার বুয়েনস এইরেসে গিয়েছিলেন, কিন্তু মাঠের খেলার চেয়েও তাঁর ক্লাবের বাইরের কার্যক্রম সমর্থকদের বিশেষ নজর কেড়েছে।
আর্জেন্টিনায় অবস্থানকালে নেইমার বোকা জুনিয়র্সের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ‘লা বোম্বোনেরা’ এবং ক্লাবের ট্রেনিং কমপ্লেক্স ‘কাসা আমারিয়া’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে বোকা জুনিয়র্সের প্রেসিডেন্ট এবং ফুটবল কিংবদন্তি হোয়ান রোমান রিকুয়েলমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। রিকুয়েলমে নেইমারকে ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী নীল-হলুদ জার্সি উপহার দেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই উন্মাদনা প্রশমিত করতে বোকা জুনিয়র্স কর্তৃপক্ষ একে নিছক একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করেছে। ক্লাব সূত্র জানিয়েছে, নেইমারের ট্রান্সফার বা দলবদল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা আলোচনা এখনো হয়নি। তবে সমর্থকদের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে নিজেদের হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধারে বোকা জুনিয়র্স যে বড় পরিকল্পনা করছে, তাতে নেইমারের মতো বিশ্বসেরা তারকাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি মোটেও অসম্ভব নয়।
এই জল্পনার পেছনে নেইমারের ঘনিষ্ঠ ফুটবলারদের ভূমিকাও বেশ জোরালো বলে মনে করা হচ্ছে। নেইমারের পিএসজি সতীর্থ ও আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ইতিপূর্বে নেইমারের সাথে আবারও একই ক্লাবে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া এই সফরকালে নেইমারের সাথে আন্দ্রে হেরেরার সাক্ষাৎ এবং লা বোম্বোনেরার পরিবেশের প্রতি নেইমারের ব্যক্তিগত মুগ্ধতা আলোচনার পালে হাওয়া দিয়েছে। বোকা সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে নেইমারকে বরণ করে নেওয়ার দাবি তুলছেন।
বোকা জুনিয়র্স কেবল নেইমারকেই নয়, বরং দলবদলের বাজারে পাওলো দিবালার মতো বড় তারকাদের দিকেও নজর রাখছে বলে শোনা যাচ্ছে। ক্লাবটির মূল লক্ষ্য হলো শক্তিশালী স্কোয়াড গঠনের মাধ্যমে আবারও কোপা লিবার্তোদোরেস জয় করে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা হওয়া। নেইমার বা দিবালার মতো তারকারা যদি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টাইন এই ক্লাবটিতে যোগ দেন, তবে তা দক্ষিণ আমেরিকান ক্লাব ফুটবলে এক নতুন বাণিজ্যিক ও ক্রীড়া যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার থেকে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইকে সামনে রেখে আজ টিকিটের আকর্ষণীয় মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড কর্তৃপক্ষ এবার টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখার চেষ্টা করেছে, যাতে গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।
বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী, মাত্র ৫০ টাকা খরচ করেই দর্শকরা গ্যালারিতে বসে সরাসরি খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এই সর্বনিম্ন দামের টিকিট মূলত ছাউনিবিহীন পূর্ব গ্যালারির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই গ্যালারির টিকিটের দাম ছিল ১০০ টাকা, যা এবার বিশেষ বিবেচনায় অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি সাধারণ দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানো এবং মাঠে দর্শক সমাগম নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাঠের অন্যান্য গ্যালারির মধ্যে নর্দার্ন গ্যালারি এবং শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের (সাউদার্ন গ্যালারি) টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭৫ টাকা। যারা একটু উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে খেলা দেখতে চান, তাদের জন্য দুই প্রান্তের ক্লাব হাউজ তথা শহীদ মুশতাক ও শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ২০০ টাকা করে। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করতে চাইলে দর্শকদের ৩০০ টাকা গুনতে হবে এবং স্টেডিয়ামের সবচেয়ে অভিজাত অংশ গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের দাম রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা।
বিসিবি ইতিমধ্যে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনেই টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসে বিসিবির নির্ধারিত পোর্টাল থেকে তাঁদের পছন্দের গ্যালারির টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট লড়াই ঘিরে সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা কাজ করছে। বিশেষ করে বাবর আজম ও শাহীন আফ্রিদিদের মতো বিশ্বসেরা তারকাদের বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্তদের লড়াই দেখতে মিরপুরে উপচে পড়া ভিড় হবে বলে আশা করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
উত্তর লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক রাতের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের কঠিন লড়াইয়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। গত সপ্তাহে স্পেনের মাটিতে প্রথম লেগের খেলা ১-১ ড্র হওয়ায় দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে পা রাখল মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম গানাররা ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের চূড়ান্ত টিকিট কাটল।
ম্যাচের দিন বৃষ্টির বাগড়া থাকলেও এমিরেটস স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে হাজারো সমর্থকের উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। প্রথমার্ধের ৪৫তম মিনিটে বুকায়ো সাকার করা গোলটিই শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। সাকার এই জাদুকরী লক্ষ্যভেদ পুরো স্টেডিয়ামকে এক আগ্নেয়গিরির মতো আনন্দ উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়। বিরতির পর দিয়েগো সিমিওনের অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ সমতায় ফিরে ম্যাচ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও আর্সেনালের জমাট রক্ষণভাগ ছিল অটুট। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয় সিমিওনের দলের বিদায় এবং আর্সেনালের জয়যাত্রা।
ম্যাচ শেষে জয়ের নায়ক বুকায়ো সাকা মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। কোচ মিকেল আর্তেতার মুখেও ছিল বিজয়ের চওড়া হাসি; তিনি সমর্থকদের হাত নেড়ে অভিবাদন জানান এবং খেলোয়াড়দের সাথে এই স্মরণীয় রাতটি উদযাপন করেন। ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে সাকা জানান, এই মুহূর্তটির গুরুত্ব তাঁদের এবং ক্লাবের সমর্থকদের কাছে অপরিসীম। দীর্ঘ দুই দশকের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ফাইনালে পৌঁছাতে পারা দলের প্রতিটি সদস্যের কঠোর পরিশ্রমের ফসল বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্টেডিয়ামের লাউডস্পিকারে তখন গানার সমর্থকদের উৎসবের স্লোগান আর নাচে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়।
আর্সেনালের জন্য চলতি সময়টি যেন স্বপ্নের মতো কাটছে। একদিকে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটি এভারটনের মাঠে ড্র করে পয়েন্ট হারানোয় গানারদের সামনে দীর্ঘ ২২ বছর পর লিগ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। লিগের বাকি মাত্র তিনটি ম্যাচ জিতলেই তারা লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে। এর সাথে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠায় এখন তাদের সামনে ঐতিহাসিক 'ডাবল' শিরোপা জয়ের হাতছানি। কৌশলী পরিকল্পনা আর মাঠের লড়াকু ফুটবল আর্তেতার দলকে এখন ইউরোপের অন্যতম অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করেছে।
আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিতব্য গ্র্যান্ড ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে আর্সেনাল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা পিএসজির মধ্যকার জয়ী দল। ২০০৬ সালে বার্সেলোনার কাছে ফাইনালে হারের সেই স্মৃতি মুছে ফেলে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরার মুকুট উত্তর লন্ডনে নিয়ে আসাই এখন গানারদের একমাত্র লক্ষ্য। দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই অর্জন আর্সেনালের ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করল। এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর ৩০ মের সেই মহারণের দিকে।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে পাহাড়সম রান তাড়া করে আইপিএলে এক অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে লখনউয়ের হয়ে নিকোলাস পুরান মাত্র ২১ বলে ৬৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যা দলটিকে ৫ উইকেটে ২২৮ রানের বিশাল সংগ্রহ এনে দেয়। পেসারদের জন্য প্রতিকূল এই পিচে লখনউ বড় সংগ্রহের ভিত পেলেও মুম্বাইয়ের ব্যাটারদের তাণ্ডবে শেষ পর্যন্ত সেই রানও জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
ইনজুরির কারণে গত পাঁচটি ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকার পর এই ম্যাচেই দলে ফেরেন মুম্বাইয়ের সাবেক অধিনায়ক রোহিত শর্মা। আর ফিরেই তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। রোহিত এবং রায়ান রিকেলটন মিলে মাত্র ৬৫ বলে ১৪৩ রানের এক চোখধাঁধানো জুটি গড়ে ম্যাচটিকে লখনউয়ের নাগালের বাইরে নিয়ে যান। রোহিত ৪৪ বলে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৬টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কা।
রোহিতকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার রায়ান রিকেলটন খেলেন ২৫৯ স্ট্রাইক রেটের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস। তিনি মাত্র ৩২ বলে ৬টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ৮৩ রান করেন। শেষ দিকে নামান ধীরের ১২ বলে ২৩ এবং উইল জ্যাকসের ৪ বলে ১০ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে আট বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মুম্বাই। এটি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংগ্রহ তাড়া করে জেতার নতুন রেকর্ড এবং আইপিএল ইতিহাসের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রান তাড়া।
বড় স্কোরের এই ম্যাচে মুম্বাইয়ের বোলারদের অবদানও ছিল অনস্বীকার্য। প্রায় ৪৬০ রানের এই ম্যাচে শেষ দিকের ৭ ওভারে মুম্বাইয়ের বোলাররা দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন। জসপ্রীত বুমরাহ, দীপক চাহার এবং গজনফারদের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে লখনউয়ের রানের গতি শেষ দিকে থমকে যায়। মাঝের ও ডেথ ওভারে মাত্র ৪২ রান খরচ করার বিষয়টিই শেষ পর্যন্ত জয়ের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। ওয়াংখেড়েতে চলতি মৌসুমে এটিই মুম্বাইয়ের প্রথম জয়।
তিন ম্যাচ পর আইপিএলের ১৯তম আসরে এটি মুম্বাইয়ের তৃতীয় জয়। তবে এই রোমাঞ্চকর জয়ের পরও পয়েন্ট টেবিলের খুব একটা উন্নতি হয়নি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। বর্তমানে ৯ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নবম স্থানে অবস্থান করছে দলটি। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে রোহিতের এই ফর্ম এবং বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে লিগের বাকি ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনাল ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। মেত্রোপলিতানোতে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের লড়াই ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় দুই দলের সামনেই ফাইনালের পথ সমানভাবে উন্মুক্ত রয়েছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারও ইউরোপসেরার মঞ্চের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার স্বপ্ন দেখছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। ২০১৬ সালের সেই হৃদয়ভাঙা হারের স্মৃতি মুছে এবার নতুন ইতিহাস গড়তে বদ্ধপরিকর দলের প্রধান তারকা আন্তোয়ান গ্রিজম্যান।
আজ রাতে লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। গ্রিজম্যান মনে করেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের মতো বড় সুযোগ সব সময় আসে না, তাই এটি কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ২০১৬ সালের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার সেই পুরোনো আক্ষেপ এবার মেটাতে চান। যদিও তিনি ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ ও ইউরোপা লিগের স্বাদ পেয়েছেন, তবুও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফিটি এখনো তাঁর কাছে এক অপূর্ণ স্বপ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
চমকপ্রদ তথ্য হলো, চলতি মৌসুমের মাঝপথে গ্রিজম্যানের ক্লাব ছাড়ার এক জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গত মার্চে মেজর লিগ সকারের ক্লাব অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মাদ্রিদেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, তাঁর মনে হয়েছিল এই দলের সাথে বড় কোনো অর্জনের সুযোগ এখনো বাকি আছে। দলের সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা থাকায় তিনি মৌসুমের মাঝপথে ক্যারিয়ারের নতুন গন্তব্যে পাড়ি জমাননি।
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে গ্রিজম্যান নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও শান্ত মনে করছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ১০ বছর আগে ফাইনাল খেলার সময় তিনি প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন, যার ফলে খেলা উপভোগ করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন এবং মাঠে আনন্দ নিয়ে ফুটবল খেলছেন। এমিরেটসের প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি ধীরস্থির থেকে নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে ফাইনালের টিকিট পাইয়ে দিতে আত্মবিশ্বাসী।
ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়ের জন্য বর্তমানে মাত্র দুটি ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। আজকের গুরুত্বপূর্ণ বাধা পার হতে পারলে ফাইনালে তারা পিএসজি কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে। গ্রিজম্যানের মতে, প্রতিটি পেশাদার ফুটবলারের মতোই শৈশব থেকে তিনিও এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন লালন করছেন। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা এবং দলগত সংহতি বজায় রাখতে পারলে এবার তাঁদের সেই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট হারানোর দিনে বড় এক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল আর্সেনাল। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে স্বাগতিক এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করে দুই পয়েন্ট হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। হারের মুখ থেকে যোগ করা সময়ের অন্তিম মুহূর্তে জেরেমি ডকুর গোলে রক্ষা পেলেও, শিরোপা জয়ের সমীকরণ এখন গানারদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে। এই ড্রয়ের ফলে লিগের বাকি তিনটি ম্যাচ জিতলেই দীর্ঘ ২২ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে আর্সেনালের সামনে।
লিগ টেবিলের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, ৩৫ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে আর্সেনাল। অন্যদিকে, এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭১ পয়েন্টে। গানারদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা সিটি এখন এক ম্যাচ হাতে পেলেও আর্সেনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করা তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভারটনের এই অদম্য লড়াই মূলত আর্সেনালকে লিগ জয়ের লড়াইয়ে এক বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে। এখন থেকে নিজেদের হাতে থাকা ম্যাচগুলো জিততে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হবে মিকেল আর্তেতার দল।
ম্যাচের শুরুটা ম্যানসিটির জন্য ইতিবাচক ছিল এবং ৪৩ মিনিটে জেরেমি ডকুর অসাধারণ এক বাঁকানো শটে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট আমূল বদলে দেয় এভারটন। ১৪ মিনিটের এক বিধ্বংসী ঝড়ে তিনবার সিটির জাল কাঁপায় স্বাগতিকরা। ৬৮ মিনিটে মার্ক গুয়েহির মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে থিয়েরনো বারি সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে জেক ও’ব্রায়ানের শক্তিশালী হেড এবং ৮১ মিনিটে বারির ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলে ৩-১ ব্যবধানে লিড নিয়ে সিটিকে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেয় এভারটন।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। দলের প্রধান তারকা আর্লিং হালান্ড দ্রুত একটি গোল শোধ করে ব্যবধান ৩-২ এ কমিয়ে এনে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। যখন মনে হচ্ছিল এভারটন কোচ ডেভিড ময়েস প্রথমবারের মতো গার্দিওলার বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন ডকু। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করে সিটির হার এড়ান এই বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড। নাটকীয় এই ড্রয়ে ১ পয়েন্ট পেলেও মাঠ ছাড়ার সময় সিটিজেনদের চোখেমুখে ছিল হতাশার ছাপ।
সামগ্রিকভাবে, সিটির রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং মার্ক গুয়েহির মতো নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারের ভুল এই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এভারটনের বিপক্ষে এই হোঁচট ম্যানসিটির শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এক বিশাল বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে আর্সেনাল এখন অনেকখানি নির্ভার হয়ে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর পরিকল্পনা সাজাতে পারবে। ফুটবল বিশ্বের সব নজর এখন প্রিমিয়ার লিগের শেষ কয়েকটা ম্যাচের দিকে, যেখানে সামান্যতম ভুলও ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে। মূলত এভারটনের এই সাহসী পারফরম্যান্সই লিগের শিরোপা লড়াইকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।