শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
২৭ চৈত্র ১৪৩২

শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করলেন জো রুট

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ আগস্ট, ২০২৪ ১৬:৩১

টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমানে ফর্মের চূড়ায় রয়েছেন ইংলিশ ব্যাটার জো রুট। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে রীতিমতো ক্যারিবীয় বোলারদের শাসন করেছে রুটের ব্যাট। এবার দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে পেলেন ইংলিশ এ ব্যাটার। এক বছরের বেশি সময় পর এই সংস্করণের ব্যাটসম্যানদের তালিকায় শীর্ষে ফিরলেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

গতকাল পুরুষ ক্রিকেটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সেখানে দেখা যায়, চার ধাপ পিছিয়ে গেছেন রুটের সতীর্থ হ্যারি ব্রুক। ফলে আবারও এক ধাপ করে এগিয়েছেন বাবর আজম, ড্যারিল মিচেল, স্টিভেন স্মিথ ও রোহিত শর্মা।

এজবাস্টনে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮৭ রান করেন রুট। এই ইনিংসের সৌজন্যে ৮৭২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে কেন উইলিয়ামসনকে টপকে এক নম্বরে উঠে গেলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। দুইয়ে থাকা উইলিয়ামসনের ঝুলিতে ৮৫৯ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে তিন নম্বরে উঠে আসা ব্রুক এখন ৭৪৯ রেটিং নিয়ে সাতে। রুট, উইলিয়ামসন ছাড়া আর কারও আপাতত ৮০০ রেটিং নেই।

এ নিয়ে ৯ বার আইসিসি টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠলেন রুট। ২০১৫ সালের আগস্টে প্রথমবার এই মুকুট মাথায় তোলেন তিনি। আর এবারের আগে সবশেষ গত বছরের জুনে এক নম্বরে ছিল রুটের নাম। আবারও আরেকটি আগস্টের ঠিক আগে এক নম্বরে গেলেন রুট।

এজবাস্টনে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮ বলে ৫৭ রানের রেকর্ডগড়া ইনিংস খেলে ৪ ধাপ এগিয়ে ৩০ নম্বরে উঠেছেন বেন স্টোকস। প্রথম ইনিংসে ৯৫ রান করা জেমি স্মিথ ৩১ ধাপ লাফিয়ে উঠেছে এসেছেন ৬৪ নম্বরে।

টেস্ট বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবার সেরা বিশে পা রেখেছেন মার্ক উড। প্রথম ইনিংসে ২ উইকেটের পর দ্বিতীয়টিতে ৫ শিকার ধরেন ইংলিশ গতিময় পেসার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেডেন সিলস ৭ ধাপ এগিয়ে ২৬, ইংল্যান্ডের গাস অ্যাটকিনসন ৪ ধাপ এগিয়ে ৪৬ নম্বরে উঠেছেন।

বোলারদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে রবীন্দ্র জাদেজা।

টি-টোয়েন্টির ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বর জায়গা পুনরুদ্ধার করেছেন ইয়াশাসভি জয়সওয়াল। শুবমান গিল ১৬ ধাপ এগিয়ে এখন ক্যারিয়ার সেরা ২১ নম্বরে। শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা ১১ ধাপ এগিয়ে ১৫ ও কুসাল পেরেরা ৪০ ধাপ লাফিয়ে ৬৩ নম্বরে উঠে এসেছেন।

ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে যথারীতি অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। বোলারদের মধ্যে এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছেন আদিল রাশিদ। এ ছাড়া ৮ ধাপ এগিয়ে সেরা দশে ফিরেছেন ভারতের রাভি বিষ্ণই। ৪ ধাপ এগিয়ে ১৯ নম্বরে উঠে এসেছেন আর্শদিপ সিং, ৬ ধাপ এগিয়ে ৪০ নম্বরে ওয়াশিংটন সুন্দার। অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে মার্কাস স্টয়নিস।


বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ দুই ইউরোপিয়ান দল

ফাইল ফটো
আপডেটেড ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৯
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। কোচ লিওনেল স্কালোনি-র দল যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক কলেজ স্টেডিয়ামে এই ম্যাচগুলো খেলবে বলে জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

সূচি অনুযায়ী, ৬ জুন টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে অবস্থিত কাইল ফিল্ড-এ হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ৯ জুন আলাবামার অবার্নে জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়াম-এ আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

এক লাখ দুই হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে কাইল ফিল্ড যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত। আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকেও ম্যাচ দুটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

এই দুই ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই খেলবে আর্জেন্টিনা। ৩০ মে’র মধ্যে যে স্কোয়াড বিশ্বকাপের জন্য জমা দেওয়া হবে, সেই দলকেই পরীক্ষামূলকভাবে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কোচ স্কালোনি এই ম্যাচগুলোকে কৌশল নির্ধারণ ও সেরা একাদশ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, হন্ডুরাসের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ ২০২২ সালে মায়ামিতে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। অন্যদিকে আইসল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল-এর বিপক্ষে একমাত্র দেখা ২০১৮ বিশ্বকাপে, যেখানে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি-র পেনাল্টি ঠেকিয়ে আলোচনায় আসেন গোলরক্ষক হানেস পোর হালডোরসন।

২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই সেই অপেক্ষার অবসান হবে।

আসন্ন বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। এবারের আসরের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, জর্ডান ও আলজেরিয়া। ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে স্কালোনির দল।

এদিকে জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি ভেন্যুটির ৮৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হতে যাচ্ছে।

র‌্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে হন্ডুরাস রয়েছে ৬৬তম স্থানে, আর আইসল্যান্ডের অবস্থান ৭৫ নম্বরে।


চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে পঞ্চম বাংলাদেশ হকি দল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

এশিয়ান গেমসের হকি বাছাই পর্বে শেষ পর্যন্ত পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে তারা এই অবস্থান নিশ্চিত করে।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আজ (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগের দিন হংকংকে হারিয়ে অন্তত ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত করে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

এই টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশ তাদের যাত্রা শুরু করেছিল চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবং সেই ম্যাচেও জয় পেয়েছিল। শেষ ম্যাচেও একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তারা প্রতিযোগিতা শেষ করল, যদিও অতীতে এই আসরে বাংলাদেশ নিয়মিত ফাইনাল খেলেছে।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সপ্তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন আশরাফুল। তিন মিনিটের ব্যবধানে সমতা ফেরায় তাইপে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই আবার পেনাল্টি কর্নার কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন আশরাফুল। প্রথমার্ধ শেষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পরপরই ম্যাচে ফেরে প্রতিপক্ষ, দ্রুতই সমতা আনে তারা। তবে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশের। কিছুক্ষণের মধ্যেই মেহরাব হোসেন সামিন গোল করে আবার লিড এনে দেন।

শেষদিকে ম্যাচে চাইনিজ তাইপের দাপট বাড়লেও গোল আদায় করতে পারেনি তারা। একাধিক পেনাল্টি কর্নার পেয়েও সফল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।


বাংলাদেশ সফরের আগে নিউজিল্যান্ডের স্কোয়াডে পরিবর্তন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সীমিত ওভারের সিরিজ সামনে রেখে কিউই দলে এসেছে পরিবর্তন। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন এক পেস অলরাউন্ডার, আরেক পেসার যাচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে।

১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। এর আগে সফরকারী দল তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করলেও শেষ মুহূর্তে এসেছে কিছু রদবদল।

ডান হাতের ইনজুরির কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক। তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে বাঁ-হাতি পেসার বেন লিস্টার। ক্লার্ক বর্তমানে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে ছিলেন, যেখানে ক্যাচ নিতে গিয়ে এই চোট পান। চলতি বছরের শুরুতে ভারত সফরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তার।

নতুন সুযোগ পাওয়া লিস্টারও ‘এ’ দলের সঙ্গে একই সফরে রয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে পথচলা শুরু হয় তার, এবং ইতিমধ্যে সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটেই বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছেন।

অন্যদিকে ওয়ানডে সিরিজে থাকছেন না বেন সিয়ার্স। তিনি পাকিস্তান সুপার লিগে রাওয়ালপিন্ডি দলে যোগ দেবেন এবং পরে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ঢাকায় আসবেন।

একই দলে খেলছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেন। যদিও তাকে সহ কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছিল, তবে দলের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ায় নতুন করে শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ইনজুরিতে পড়া নাসিম শাহ-এর বিকল্প হিসেবেই সিয়ার্সকে নেওয়ার পরিকল্পনা।

এদিকে চোট কাটিয়ে কিউই দলে ফিরেছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। এই তালিকায় আছেন ম্যাট ফিশার, উইল ও’রুর্ক এবং ব্লেয়ার টিকনার। নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার এই সিরিজে থাকছেন না, কারণ তিনি আইপিএলে ব্যস্ত। তার অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেবেন টম ল্যাথাম।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৭ এপ্রিল। পূর্বনির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে ম্যাচগুলো এখন বেলা ১১টায় শুরু হবে। একইভাবে ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলোও বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে, যা আগে সন্ধ্যা ৬টায় হওয়ার কথা ছিল।


২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ম্যাচ অফিসিয়ালদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর আগামী ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে। এই মেগা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সম্প্রতি রেফারি ও কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ফিফা। ‘ফিফা টিম ওয়ান’ নামক এই তালিকায় বিশ্বের ৫০টি দেশ ও ছয়টি কনফেডারেশন থেকে মোট ১৭০ জন দক্ষ কর্মকর্তাকে নির্বাচন করা হয়েছে।

এবারের আসরে দায়িত্ব পালনের জন্য ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিসিয়ালকে (ভিএআর) মনোনীত করা হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের পথ অনুসরণ করে এবারও ছয়জন নারী ম্যাচ অফিসিয়ালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সম্পর্কে ফিফার রেফারিজ প্রধান পিয়ারলুইগি কোলিনা বলেছেন, ‘ছয়জন নারী ম্যাচ অফিসিয়াল নির্বাচিত হওয়া চার বছর আগে কাতারে শুরু হওয়া একটি ধারাবাহিকতারই অংশ। আমরা নারী রেফারিংকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।’

তালিকায় অভিজ্ঞদের মধ্যে গত বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করা পোল্যান্ডের সিমন মারচিনিয়াক ছাড়াও ইংল্যান্ডের মাইকেল অলিভার ও ফ্রান্সের ক্লেমঁ তুরপাঁ-র মতো পরিচিত মুখেরা রয়েছেন। তবে কঙ্গোর রেফারি জিন-জ্যাকস এনদালা এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। গত জানুয়ারিতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের (আফকন) বিতর্কিত ফাইনাল পরিচালনার জেরে তাকে রাখা হয়নি। ওই ম্যাচের ফল পরিবর্তন এবং সেনেগালের আপিল নিয়ে বর্তমানে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি লড়াই চলছে।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে সর্বোচ্চ ৯ জন করে প্রতিনিধি এই প্যানেলে জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া আয়োজক দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাকে নির্বাচন করা হয়েছে। ফিফার এই বিশাল তালিকায় বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও নতুনদের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।


টি-টোয়েন্টিতে ডট বলের রেকর্ডে এলিট ক্লাবে মোস্তাফিজুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বর্তমানে এক সমীহ জাগানিয়া নাম বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। কাটার আর স্লোয়ারের জাদুতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করতে তার পারদর্শিতা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত। গত বৃহস্পতিবার লাহোর কালান্দার্সের দেওয়া ১০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৬২ বলেই জয় নিশ্চিত করে মোস্তাফিজের দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। চলমান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এই ম্যাচে ২ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৬ রান খরচায় তিনটি ডট বল আদায় করেন এই বাঁহাতি পেসার।

এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ১০ ওভার বল করে মোস্তাফিজ মোট ২১টি ডট বল দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে পঞ্চম পেসার হিসেবে ৩০০০ বা তার বেশি ডট বল দেওয়ার অনন্য এক কীর্তি গড়লেন তিনি। এখন পর্যন্ত ৩২৪টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে বল করে তার ঝুলিতে জমা হয়েছে মোট ৩০০২টি ডট বল। এই তালিকার শীর্ষে থাকা ডোয়াইন ব্রাভো ৫৪৬ ইনিংসে রেকর্ড ৩৬৮১টি ডট বল দিয়েছেন। তালিকায় পরবর্তী তিনটি অবস্থানে রয়েছেন যথাক্রমে মোহাম্মদ আমির (৩৩৪৮), আন্দ্রে রাসেল (৩২১৩) ও সোহেল তানভীর (৩০৪৬)।

উইকেটের পরিসংখ্যানেও মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে মোস্তাফিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন তুঙ্গে। বর্তমানে ৪১৮ উইকেট নিয়ে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন আমির, আর ৪১৬ উইকেট নিয়ে তার ঠিক পরেই রয়েছেন মোস্তাফিজ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী বাঁহাতি বোলার হতে মোস্তাফিজের প্রয়োজন মাত্র ৩ উইকেট। উল্লেখ্য যে, ডোয়াইন ব্রাভো ইতোমধ্যে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন এবং রাসেল ও তানভীর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও কেবল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন। ফলে ডট বলের বিশ্বরেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার জন্য মোস্তাফিজের সামনে এখনো দীর্ঘ সময় ও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বদলে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের সবকটি ম্যাচ ছিল দিবারাত্রির। তবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে খেলার সময়ে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আজ বৃৃহস্পতিবার বিসিবি জানিয়েছে, ওয়ানডে সিরিজের সবকটি ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১১টা থেকে। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দুই দল। এই সিরিজেরও সবকটি ম্যাচ হবে দিনের আলোতে। ম্যাচগুলো শুরু হবে দুপুর দুইটা থেকে।

গতকাল বুধবার বিসিবির এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে এই সিরিজের সময় পরিবর্তন করার কথা জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন, ওয়ানডে ম্যাচে ১১টা অথবা সাড়ে ১১টা, টি-টোয়েন্টি বেলা ২টা অথবা আড়াইটায় হতে পারে।’


টাইব্রেকারে হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

জাপানের আইচিতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন এশিয়ান গেমসে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পুরুষ হকি দল। বৃহস্পতিবার এক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে হংকংকে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে এই সাফল্য পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ৪-৪ গোলে ড্র থাকায় ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমস বাছাই টুর্নামেন্টে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি প্রথম ছয় দলের মধ্যে থেকে সরাসরি এশিয়ান গেমসে খেলার বিষয়টিও নিশ্চিত করলেন আমিরুল-আশরাফুলরা।

মাঠের লড়াইয়ে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য দেখা যায়। ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বাংলাদেশ ২-০ গোলের দাপুটে লিড নিয়ে শুভ সূচনা করেছিল। পেনাল্টি কর্নার থেকে রকি এবং পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আমিরুল গোল করে দলকে চালকের আসনে বসান। তবে এক মিনিট পরেই পেনাল্টি কর্নার থেকে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় হংকং। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই গোল করে সমতায় ফেরে হংকং। তবে ৪১ মিনিটে আশরাফুলের পেনাল্টি কর্নার গোল বাংলাদেশকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে লিড এনে দেয়।

ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারটি ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে হংকং গোল করে পুনরায় সমতা (৩-৩) আনলে এক মিনিটের ব্যবধানে আবারও গোল করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান আশরাফুল। কিন্তু সেই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল আদায় করে নিয়ে হংকং স্কোরলাইন ৪-৪ এ নিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে বাংলাদেশ জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে তিনটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও গোলমুখে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় ফরোয়ার্ডরা। ফলে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের মাধ্যমেই জয়ী দল নির্ধারণের প্রয়োজন পড়ে।

টাইব্রেকারেও উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম শট নিতে এসে রকি লক্ষ্যভেদ করতে না পারায় একপর্যায়ে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের স্বপ্নে বড় ধাক্কা লাগে। তবে বিপদের মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান বাংলাদেশের গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর। হংকংয়ের দুটি শট অসামান্য দক্ষতায় রুখে দিয়ে তিনি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। বাংলাদেশের পক্ষে জয়, রোকান ও ফাহিম গোল করলেও চতুর্থ শটে গোল করতে না পারায় লড়াই ফের সমতায় ফেরে। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম শটে ফজলে রাব্বি ঠান্ডা মাথায় গোল করলে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে নিয়মিত খেলছে বাংলাদেশ এবং হকি দেশটির অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী ডিসিপ্লিন। যদিও এবারের বাছাই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি এবং হংকংয়ের মতো দলের বিপক্ষে জিততেও অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে, তবুও শেষ পর্যন্ত জাপানের টিকিট নিশ্চিত করতে পারাটাই দেশের হকির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভালো ফলাফল করে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। সব বাধা পেরিয়ে এশিয়ান গেমসের মূল মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করবে জাতীয় দল।


বিশ্বকাপে খেলতে অবসর ভেঙে উরুগুয়ে দলে ফেরার ইঙ্গিত সুয়ারেজের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এবং উরুগুয়ের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুইস সুয়ারেজ আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার জোরালো ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও, আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের হাতছানি ৩৯ বছর বয়সী এই তারকাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি উরুগুয়ের প্রভাবশালী ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘ডায়ারিও ওভেশন’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সুয়ারেজ স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের প্রয়োজনে এবং ফুটবলের প্রতি অদম্য ভালোবাসার টানে তিনি তাঁর অবসরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত।

২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠ মন্টেভিডিওতে সপরিবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিয়েছিলেন এই ‘গোলমেশিন’। ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৪৩ ম্যাচে রেকর্ড ৬৯টি গোল করে তিনি নিজেকে উরুগুয়ে ফুটবলের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সে সময় তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দিতে এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতার কথা চিন্তা করে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুয়ারেজ মনে করছেন, তিনি এখনো যথেষ্ট সক্রিয় এবং জাতীয় দলের প্রয়োজনে ‘না’ বলার ক্ষমতা তাঁর নেই। তাঁর মতে, বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন কোনো ফুটবলারই দেশের ডাক উপেক্ষা করতে পারেন না।

সুয়ারেজের এই প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছাকে কেবল আবেগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি এখনো উজ্জ্বল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির হয়ে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি অস্টিন এফসির বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন তাঁর গোল করার সহজাত ক্ষমতা এখনো স্তিমিত হয়নি। তাঁর বর্তমান কোচ ও সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ হাভিয়ের মাশ্চেরানো সুয়ারেজের সাম্প্রতিক ফর্মের ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে, দলের আক্রমণভাগে তিনি এখনো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন।

আগামী ১১ জুন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর। উরুগুয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন, কেপ ভার্দে এবং সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে। মজার বিষয় হলো, উরুগুয়ের গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মায়ামিতে, যেখানে সুয়ারেজ বর্তমানে ক্লাব ফুটবল খেলছেন। ফলে চেনা পরিবেশে উরুগুয়ের হয়ে শেষবার বিশ্বমঞ্চে লড়াই করার স্বপ্ন সুয়ারেজকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

অবসর ভেঙে সুয়ারেজের ফেরার এই সম্ভাবনা উরুগুয়ের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। যদিও কোচ মার্সেলো বিয়েলসা অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকারকে শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করবেন কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। তবে সুয়ারেজ নিজে যেভাবে ফুটবলের প্রতি তাঁর চিরচেনা জেদ আর উদ্দীপনা প্রকাশ করেছেন, তাতে করে ২০২৬ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের নীল জার্সিতে আরও একবার ‘এল পিস্তোলেরো’র গোল উদযাপন দেখার আশা জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশন এবং কোচিং স্টাফ অভিজ্ঞ এই যোদ্ধার ফিরে আসার আহ্বানে সাড়া দেন কি না।


ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বে প্রিমিয়ার লিগের জয়জয়কার: আগামী চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ইংল্যান্ডের ৫টি দল নিশ্চিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আবারও নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। উয়েফার অতিরিক্ত ‘ইউরোপিয়ান পারফরম্যান্স স্পট’ (ইপিএস) অর্জন করার ফলে আগামী মৌসুমেও ইংল্যান্ড থেকে অন্তত পাঁচটি দল এই আসরে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। গত মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্তিং সিপির বিপক্ষে আর্সেনালের ১-০ ব্যবধানের জয়টি এই ঐতিহাসিক অর্জন নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে উয়েফার চলতি মৌসুমের কোয়েফিশিয়েন্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দুই লিগের মধ্যে ইংল্যান্ডের অবস্থান গাণিতিকভাবে নিশ্চিত হয়ে গেল।

উল্লেখ্য যে, এটি টানা দ্বিতীয় বছর যখন প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি অতিরিক্ত স্থান পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করল। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ এবং কনফারেন্স লিগে সম্মিলিতভাবে যে দুটি দেশ সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে, তাদের একটি করে বোনাস স্পট উপহার দেয় উয়েফা। চলতি মৌসুমে ইংলিশ ক্লাবগুলো শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য দাপট দেখিয়ে আসছে। এই তিন আসরে অংশ নেওয়া ইংল্যান্ডের ৯টি দলের প্রতিটিই সফলভাবে গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করেছে এবং বর্তমানে ৫টি দল নিজ নিজ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে লড়ছে। চলতি আসরেও প্রিমিয়ার লিগ থেকে লিভারপুল, আর্সেনাল, ম্যানসিটি, চেলসি এবং নিউক্যাসেল সরাসরি অংশ নিয়েছিল; এছাড়া ইউরোপা লিগ জেতার সুবাদে টটেনহ্যাম ষষ্ঠ দল হিসেবে খেলার গৌরব অর্জন করে।

প্রিমিয়ার লিগে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টিকিট পাওয়ার জন্য এখন দলগুলোর মধ্যে লড়াই আরও জমে উঠেছে। চতুর্থ স্থানের পাশাপাশি এখন পঞ্চম স্থানটির জন্যও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। পয়েন্ট টেবিলের বর্তমানে যা অবস্থা, তাতে পঞ্চম হয়ে ইউরোপের শীর্ষ মঞ্চে যাওয়ার দৌড়টি এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত। বর্তমানে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে লিভারপুল। তবে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে চেলসি; যারা মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ব্রেন্টফোর্ড ও এভারটনও মাত্র ৩ পয়েন্টের ব্যবধানে লিভারপুলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের প্রিমিয়ার লিগের মধ্যভাগ থেকে শীর্ষভাগ পর্যন্ত লড়াই এতটাই তীব্র যে, ১৩তম অবস্থানে থাকা দলের সাথে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের ব্যবধান মাত্র ৭ পয়েন্ট। ফলে লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে যেকোনো নাটকীয় রদবদল ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় মঞ্চে ইংলিশ দলগুলোর এই ধারাবাহিক সাফল্য কেবল প্রিমিয়ার লিগের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত গুরুত্বই বাড়ায়নি, বরং ক্লাবগুলোর জন্য এক বিশাল আর্থিক আয়ের পথও প্রশস্ত করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী মৌসুমে ইংল্যান্ডের কোন পাঁচটি শক্তিশালী দল ইউরোপের রাজসিংহাসন দখলের লড়াইয়ে নামার সুযোগ পায়।


২ দশক পর বার্সেলোনার মাঠে জিতল অ্যাতলেটিকো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে দাপুটে ফুটবল খেলেও পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি সময় একজন কম নিয়ে খেলার সুযোগ পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে ২-০ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। এই জয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বড় ধরণের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। অন্যদিকে, অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় ঘরের মাঠে বড় ধাক্কা খেলেন হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।

ম্যাচটি অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ এবং তাদের অভিজ্ঞ কোচ দিয়েগো সিমিওনের জন্য এক বিশেষ মাইলফলক হয়ে থাকবে। ২০০৬ সালের পর থেকে কখনোই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে হারাতে পারেনি অ্যাতলেটিকো। দীর্ঘ ১৯ বার চেষ্টার পর এই প্রথম বার্সার দুর্গে জয়ের দেখা পেলেন সিমিওনে। মাঠের লড়াইয়ে বার্সেলোনা ৫৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রেখে মোট ১৮টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭টিই ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে অ্যাতলেটিকো মাত্র ৫টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রেখেই দুই গোল আদায় করে নেয়। ফিনিশিংয়ের এই নিখুঁত দক্ষতাই মূলত দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল বার্সেলোনা। দ্বিতীয় মিনিটেই মার্কাস রাশফোর্ড একটি সুবর্ণ সুযোগ পেলেও তাঁর শট সরাসরি অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষকের হাতে জমা হয়। এরপর তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল এবং রাশফোর্ড বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়ালেও গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৪৩তম মিনিটে, যখন বার্সার তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করেন। রেফারি শুরুতে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর সরাসরি লাল কার্ডের নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিরতির ঠিক আগেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় বার্সেলোনা।

১০ জনের বার্সেলোনার ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে দেরি করেনি মাদ্রিদ ক্লাবটি। কুবারসির করা ফাউলের সুবাদে বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে জাদুকরী এক গোল করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। এই গোলের মাধ্যমে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মৌসুমে নিজের নবম গোল পূর্ণ করেন এবং ক্লাবের হয়ে এই প্রতিযোগিতার এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে পাওয়া এই গোলটি ম্যাচের চিত্রপট পুরোপুরি বদলে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম নিয়ে খেললেও সমতায় ফিরতে মরিয়া ছিল বার্সেলোনা। ৫০ মিনিটের পর ইয়ামালের বাড়ানো চমৎকার এক থ্রু বল নিয়ে গোলরক্ষককে কাটালেও রাশফোর্ডের শট পাশের জালে লাগে। এরপর ইয়ামালের কর্নার থেকে গাভির দুর্দান্ত হেডে জুলস কুন্দে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে গোলবঞ্চিত হয় কাতালানরা। তবে ৭০ মিনিটে ধারার বিপরীতে এক পাল্টাপাল্টি আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অ্যাতলেটিকো। বদলি হিসেবে নামা আলেক্সান্ডার সরলথ সতীর্থের ক্রস থেকে দর্শনীয় এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন। শেষ দিকে বার্সা আর কোনো কার্যকর আক্রমণ গড়তে না পারায় ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।

ঘরের মাঠে এই হার বার্সেলোনার সেমিফাইনালের স্বপ্নকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদের মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। দুই গোলের এই বড় ব্যবধান ঘুচিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানো বার্সার জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ভেন্যুতে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার স্মৃতি যখন এখনো তাজা। আপাতত দিয়েগো সিমিওনের দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকলেও মঙ্গলবার রাতে স্প্যানিশ ফুটবলের এই দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা শেষ চারে জায়গা করে নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।


ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে পিএসজির দাপট: পার্ক দ্য প্রিন্সেসে অসহায় আত্মসমর্পণ লিভারপুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে লিভারপুল। ঘরের মাঠ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে অলরেডদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ২-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। মাঠের পারফরম্যান্সে লিভারপুলের খেলোয়াড়রা এতটাই বিবর্ণ ছিলেন যে পুরো ম্যাচে তারা পিএসজির গোলমুখে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে থাকল ফরাসি জায়ান্টরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই লিভারপুলকে চাপে রাখার কৌশল নেয় পিএসজি। মাত্র ১১ মিনিটের মাথায় কাঙ্ক্ষিত লিড পায় স্বাগতিকরা। উসমান দেম্বেলে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢোকার চেষ্টায় বাধাগ্রস্ত হলেও আলগা বল পেয়ে যান দেজিরে দুয়ে। নিখুঁত ও উঁচু শটে বল জালে জড়িয়ে গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের উল্লাসে ভাসান তিনি। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় লিভারপুলের গোলরক্ষক জিওরজি মামারদাশভিলি ছিলেন ব্যস্ততম খেলোয়াড়। ৩০ মিনিটের পর থেকে খিচা কাভারৎস্খেলিয়া এবং দুয়ের একাধিক নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় নস্যাৎ করে দিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি এই গোলরক্ষক। উসমান দেম্বেলে একটি সহজ সুযোগ পেয়ে সরাসরি গোলরক্ষক বরাবর শট নিলে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লিভারপুল কিছুটা গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও পিএসজির রক্ষণভাগ ভাঙা সম্ভব হয়নি। সফরকারীদের পক্ষে প্রথম শটটি নেন হুগো একিতিকে, যা পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে পিএসজি তাদের আক্রমণের ধার বজায় রাখে। ৬৫ মিনিটে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের একটি দৃষ্টিনন্দন রক্ষণচেরা পাস থেকে বল পান কাভারৎস্খেলিয়া। তিনি অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে একজন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। খেলার শেষ দিকে ইব্রাহিমা কোনাতে বক্সে ফাউল করলে রেফারি শুরুতে পেনাল্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবে ভিএআর পরীক্ষার পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হলে বড় ব্যবধানের লজ্জা থেকে রক্ষা পায় লিভারপুল।

পরিসংখ্যান বলছে, পিএসজি ম্যাচে ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল এবং গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১৮টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে লিভারপুল মাত্র ৩টি শট নিলেও তার একটিও পিএসজি গোলরক্ষকের পরীক্ষা নিতে পারেনি। কোচ আর্নে স্লটের অধীনে লিভারপুল বর্তমানে এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা তৃতীয় হার। এর আগে তারা প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের কাছে এবং এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।

পিএসজির এই জয় তাদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে বড় ধরণের মানসিক সুবিধা দেবে। অন্যদিকে লিভারপুলকে যদি শেষ চারে পৌঁছাতে হয়, তবে আগামী মঙ্গলবার নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে অসাধ্য সাধন করতে হবে। ফিরতি লেগে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হবে অলরেডদের। ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগই এখন লিভারপুলের জন্য টিকে থাকার একমাত্র বড় মঞ্চ, যেখানে তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন দেখার বিষয় ফিরতি লেগে ঘরের মাঠের চেনা পরিবেশে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না ইউরোপের এই অন্যতম সফল দলটি।


ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে নতুন চুক্তি হ্যারি ম্যাগুয়েরের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের অন্যতম সেনানী হ্যারি ম্যাগুয়ের ওল্ড ট্রাফোর্ডেই থাকছেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে নিয়েছেন। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত রেড ডেভিলদের জার্সিতেই দেখা যাবে এই অভিজ্ঞ ইংলিশ ডিফেন্ডারকে। ম্যাগুয়েরের এই থেকে যাওয়ার বিষয়টি ক্লাবের রক্ষণভাগ নিয়ে চলমান দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ইউনাইটেড কোচ এরিক টেন হেগ মূলত দলের রক্ষণভাগকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী রাখতেই ম্যাগুয়েরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছেন। চলতি মৌসুমে চোট সমস্যার কারণে যখন দলের মূল ডিফেন্ডাররা বারবার মাঠের বাইরে চলে যাচ্ছেন, তখন ম্যাগুয়ের নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে পুনরায় প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা কোচকে মুগ্ধ করেছে। টেন হেগ মনে করেন, তরুণ খেলোয়াড়দের দিকনির্দেশনা দিতে এবং দলের কঠিন সময়ে ড্রেসিংরুমে মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে ম্যাগুয়েরের মতো সিনিয়র খেলোয়াড় অপরিহার্য।

এর আগে হ্যারি ম্যাগুয়েরের ক্লাব ছাড়া নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল তিনি হয়তো ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড কিংবা অন্য কোনো বড় ক্লাবে পাড়ি জমাতে পারেন। তবে ইউনাইটেডের সাথে তাঁর এই নতুন চুক্তি সব ধরণের জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। গত মৌসুমে নিজের ফর্ম এবং ইনজুরি নিয়ে বেশ কিছু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও, যখনই সুযোগ পেয়েছেন তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। ইউনাইটেড ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ কিংবা উদীয়মান তরুণ ডিফেন্ডারদের সঠিক বিকাশে ম্যাগুয়েরের সান্নিধ্য বড় ভূমিকা পালন করবে।

চলতি মৌসুমে শিরোপার দৌড় থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে তারা বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। লিগের ৩১ রাউন্ড শেষে ৫৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে ক্লাবটি। বর্তমানে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে আর্সেনাল এবং ৬১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। আগামী দিনগুলোতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে এবং ট্রফি খরা কাটাতে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ধরে রাখার এই কৌশল ইউনাইটেডের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ম্যাগুয়েরের সাথে এই দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান রক্ষণের গভীরতা বৃদ্ধি করবে।


২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্রাজিলেই থাকছেন আনচেলত্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আমূল পরিবর্তন এনে কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে যাচ্ছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচের ওপর পুনরায় আস্থা প্রকাশ করেছে বিশ্বের সফলতম ফুটবল ফেডারেশনটি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ তো বটেই, ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত সেলেসাওদের ডাগআউট সামলাবেন আনচেলত্তি। ইএসপিএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ আলোচনার পর দুই পক্ষই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং ইতিমধ্যেই চুক্তির আনুষ্ঠানিক খসড়া আনচেলত্তির কাছে পাঠানো হয়েছে।

এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক আর্থিক মাইলফলক স্থাপিত হতে যাচ্ছে। আনচেলত্তির জন্য বার্ষিক ১০ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১৩০ কোটি টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসের যেকোনো কোচের জন্য এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। কেবল প্রধান কোচই নন, আনচেলত্তির বিশেষ অনুরোধে তাঁর কারিগরি দলকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহকারী কোচ পল ক্লেমেন্ট, ফিটনেস কোচ মিনো ফোলকো এবং পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট সিমোন মোন্তানারোর বেতনও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূলত একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী কোচিং প্যানেল গঠনের লক্ষ্যেই সিবিএফ এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইনি জটিলতা এড়াতে এবং স্থানীয় শ্রম আইনের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিটিকে মূলত দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি দুই বছরের জন্য কার্যকর হবে এবং পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ২৪ মাসের জন্য নবায়নযোগ্য হবে। এর ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপের পুরো চক্র জুড়েই তাঁর অধীনে থাকবে ব্রাজিল দল। গত মার্চ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচের সময় সিবিএফ প্রেসিডেন্ট সামির সাউদের সাথে আনচেলত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকেই তিনি মৌখিকভাবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সম্মতি প্রদান করেন, যা এখন আনুষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক রূপ পেতে যাচ্ছে।

অভিজ্ঞ এই কোচ বর্তমানে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অবকাশ যাপন করছেন। জানা গেছে, সেখান থেকেই তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আনচেলত্তির কৌশলী নেতৃত্বের ওপর বড় ধরণের বাজি ধরছে সিবিএফ। ২০২৬ ও ২০৩০—টানা দুটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি তাঁর হাতে সঁপে দেওয়ার মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবল এখন দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে। ফুটবল প্রেমীরা আশা করছেন, আনচেলত্তির এই দীর্ঘ মেয়াদে ব্রাজিল তাঁদের বহু প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপার দেখা পাবে। সব মিলিয়ে এই চুক্তি ব্রাজিল ফুটবলের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


banner close