মাঠের ক্রিকেটে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না সাকিব আল হাসানের। বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগেও ব্যর্থ ছিলেন। তবে কানাডায় ধীরে ধীরে ফর্মে ফিরছেন টাইগার এই অলরাউন্ডার। ছন্দে আছে তার দলও। কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টিতে হ্যাট্টিক জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলা টাইগার্স মিসিসাগা। ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে আছে তারা।
এদিকে, ক্রিকেটের অবসরে এবার পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গেলেন সাকিব। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির নিজেদের ঘুরে বেড়ানোর ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ফ্যামিলি টাইম।
সাকিব আল হাসান একজন বাংলাদেশি ক্রিকেট অলরাউন্ডার। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার অভিষেক হয়। সাকিব বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
সাকিব ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আইসিসির খেলোয়াড়দের র্যাংকিং অনুসারে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০ প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্করণে প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এক নম্বর অল-রাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
স্প্যানিশ লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা নতুন বছরের শুরুতেই এক দাপুটে জয়ের দেখা পেয়েছে। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত জমজমাট কাতালান ডার্বিতে এস্পানিওলকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা নবম জয়ের স্বাদ নিল হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে ১৯ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে পরিষ্কার ৭ পয়েন্টে এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। যদিও রিয়াল মাদ্রিদ এক ম্যাচ কম খেলেছে, তবে ডার্বি জয়ের এই আত্মবিশ্বাস শিরোপা দৌড়ে বার্সাকে অনেকখানি এগিয়ে রাখল। ম্যাচে জয় নির্ধারণী গোল দুটি করেছেন দানি ওলমো ও রবার্ত লেভানডোভস্কি, তবে পুরো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বার্সার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া।
ম্যাচ শুরুর মাত্র ৪ মিনিটের ঝড়ে এস্পানিওলকে কোণঠাসা করে ফেলে বার্সেলোনা। তরুণ মিডফিল্ডার ফারমিন লোপেজের অসাধারণ দুটি অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে দলকে চালকের আসনে বসান ওলমো এবং লেভানডোভস্কি। তবে এই ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন গোলপোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো জোয়ান গার্সিয়া। প্রায় ছয় বছর যে ক্লাবে কাটিয়েছেন, সেই এস্পানিওলের মাঠেই তিনি দেখালেন পেশাদারিত্বের চরম পরাকাষ্ঠা। ৩৯তম মিনিটে পেরে মিলার একটি নিশ্চিত হেড এক হাতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান তিনি। এরপর ৬৩তম মিনিটে রবার্তো ফার্নান্দেজকে একা পেয়েও গোল করতে দেননি তিনি, সাহসিকতার সাথে শুয়ে পড়ে বল কেড়ে নেন।
এস্পানিওল ম্যাচে বেশ কয়েকবার আক্রমণে গিয়েও গার্সিয়ার অতিমানবীয় নৈপুণ্যের কাছে বারবার পরাস্ত হয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে এস্পানিওল যখন ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছিল, তখন গার্সিয়া একাই রুখে দেন তাদের সব প্রচেষ্টা। লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এই অপ্রতিরোধ্য যাত্রা যেমন ভক্তদের উচ্ছ্বসিত করছে, তেমনি রিয়াল মাদ্রিদের ওপর চাপের পাহাড় তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে দানি ওলমো ও লেভানডোভস্কির গোল আর গার্সিয়ার গোলপোস্টের বীরত্বে বার্সেলোনার বছর শুরু হলো এক রাজকীয় ঢঙে। শিরোপা জয়ের লক্ষে এই জয়টি তাদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য আগামী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্পনসরদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সজাগ অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সম্প্রতি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিসিবি এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিলেটে অনুষ্ঠিত বিসিবির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে, যেখানে ভারত সফরে থাকা সকল বাংলাদেশির নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হবে।
বিসিবি কর্মকর্তাদের মতে, যদি একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা এবং তাঁর পেশাদার চুক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা না যায়, তবে পুরো জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিসিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আইসিসিকে পাঠানো চিঠিতে মূলত তিনটি প্রধান বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রথমত, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে আকস্মিক বাদ দেওয়ার নেপথ্য কারণ জানতে চাওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা পরিকল্পনা কী হবে তা জানতে চাওয়া হবে। তৃতীয়ত, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশি সাংবাদিক, অগণিত সমর্থক এবং বাণিজ্যিক পার্টনারদের সুরক্ষায় আইসিসি ও আয়োজক দেশ কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সেই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চাওয়া হবে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টে বাংলাদেশের জন্য ভারতের কন্ডিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তফশিল অনুযায়ী, বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপের অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। একই ভেন্যুতে ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির মুখোমুখি হবে টাইগাররা এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের লড়তে হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান বৈরী রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে—বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে জোরালো দাবি উঠেছে।
এদিকে বিসিবি কেবল আইসিসির কাছে চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না, বরং বিসিসিআইয়ের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির রেকর্ড মূল্যে মোস্তাফিজকে দলভুক্ত করার পরও কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে রিলিজ করে দেওয়ার বিষয়টি বিসিবি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা বিসিসিআইকে একটি আনুষ্ঠানিক ইমেইল পাঠিয়ে জানতে চাইবেন ঠিক কোন পরিস্থিতির কারণে কেকেআর মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছে। ৩০ বছর বয়সী এই কাটার মাস্টারের এর আগে আইপিএলের একাধিক নামী ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলার বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই এই পর্যায়ে এসে তাঁর প্রতি এমন আচরণকে ন্যাক্কারজনক হিসেবে দেখছে বিসিবি। সামগ্রিকভাবে, খেলোয়াড়দের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিসিবি আইনি ও কূটনৈতিক উভয় পথেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ভারতের কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআরকে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে রিলিজ করে দিতে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং মোস্তফা সরোয়ার ফারুকি বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক বার্তায় তাঁরা মোস্তাফিজের প্রতি এমন আচরণকে ন্যাক্কারজনক এবং বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করে একজন পেশাদার ক্রিকেটারকে এভাবে দল থেকে বাদ দেওয়া মোটেও কাম্য নয়। তিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা আইসিসির কাছে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা করে চিঠি লেখে। তাঁর মতে, যেখানে বাংলাদেশের একজন চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার ভারতে গিয়ে খেলার নিরাপত্তা পাচ্ছেন না, সেখানে গোটা জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার প্রস্তাব দেওয়ার জন্যও তিনি বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকিও এই ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, আইপিএলে মোস্তাফিজের সঙ্গে যা হয়েছে তা অত্যন্ত অপমানজনক। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের নাগরিকেরা এর মধ্যে ঘৃণার রাজনীতির প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন এবং গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন। ফারুকি জানান, অনেক সাধারণ মানুষ আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেছেন এবং তিনি এই জনদাবি ও উদ্বেগের বিষয়টি তথ্য উপদেষ্টা মহোদয়কে অবহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, ভারতের মাটিতে আমাদের জাতীয় ক্রিকেট বা ফুটবল দল ভবিষ্যতে কতটা নিরাপদ থাকবে, সেটি এখন গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
মোস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনার পর এমন আকস্মিক বিদায়ে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আইপিএল বয়কটের পাশাপাশি ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। উপদেষ্টাদের এমন সরাসরি অবস্থান এই আন্দোলনকে আরও জোরালো করেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এই মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের ক্রিকেট বা ক্রিকেটারের সম্মান রক্ষায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিশেষ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যদি আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটি হবে বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের একটি বড় ধরনের প্রতিবাদী পদক্ষেপ। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আইনগত ও কৌশলগত দিকগুলো পর্যালোচনা করছে।
আগামী ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাসের কাঁধে নেতৃত্বের গুরুভার তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সহকারী বা ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাইফ হাসান। সম্প্রতি আইপিএল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাপক আলোচনায় থাকা বাঁহাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েই এই ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজানো হয়েছে। বিসিবি গতকালেই আইসিসির কাছে প্রাথমিক তালিকা জমা দিলেও আজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তা সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেট ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করল।
এবারের বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে ব্যাটিং বিভাগকে শক্তিশালী করতে লিটন ও সাইফের পাশাপাশি ওপেনিংয়ে রাখা হয়েছে প্রতিভাবান তানজিদ হাসান তামিমকে। এশিয়া কাপে দলের মিডল অর্ডারের নড়বড়ে পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে চার নম্বর পজিশনের জন্য পারভেজ হোসেন ইমনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের সাথে মিডল অর্ডারের শক্তি যোগাতে থাকছেন তাওহীদ হৃদয়, শামীম পাটোয়ারী এবং অভিজ্ঞ নুরুল হাসান সোহান। স্পিন আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান এবং নাসুম আহমেদ। অন্যদিকে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলের ভারসাম্য রক্ষা করবেন তানজিম হাসান সাকিব ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দলের মূল পেস আক্রমণ সামলানোর দায়িত্ব থাকছে মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ এবং শরিফুল ইসলামের ওপর।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপকে ঘিরে মাঠের বাইরের পরিস্থিতি কিছুটা জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দলে ভেড়ানোর পরও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ায় বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের এক ধরনের শীতলতা তৈরি হয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিসিবি খেলোয়াড়দের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সজাগ রয়েছে এবং আইসিসিকে চিঠি দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে চাইছে। ভারত সফরের সময় দলের সদস্যদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও ক্রিকেটীয় পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন বিসিবির প্রধান উদ্বেগের বিষয়। সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মাঝেই বাংলাদেশ দল তাদের বিশ্বজয়ের নতুন মিশন শুরু করতে যাচ্ছে।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের পরবর্তী ১২ মাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া সব জল্পনা ও সংশয়ের অবসান ঘটেছে। নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড, যা তাঁকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ক্লাবটিতে রাখবে। এই চুক্তি নবায়নের ফলে আগামী গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপের আগে নেইমারের পেশাদার ক্যারিয়ার নিয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া গেল। এখন ফুটবল বিশ্বের বড় প্রশ্ন হলো, বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগে ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেয়ে জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্কোয়াডে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে পারেন কি না। মূলত হাঁটুর গুরুতর চোটের পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া নেইমারের স্বরূপে ফিরতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হলেও তিনি এখন বিশ্বকাপের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন।
মার্চ মাসে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। চোট কাটিয়ে পূর্ণ ফিট হয়ে যদি নেইমার এই দুটি ম্যাচের দলে জায়গা করে নিতে পারেন, তবে তা হবে বিশ্বের এই দামী ফুটবলারের ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। দীর্ঘদিন ধরে নেইমারের ক্লাব ছাড়ার বিষয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে ইন্টার মায়ামিতে পুনরায় মিলিত হওয়ার খবরটি ফুটবল প্রেমীদের মাঝে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাকে গুজব হিসেবে প্রমাণ করে নেইমার তাঁর শৈশবের ক্লাবেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো শারীরিক সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
সান্তোস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নাটকীয় ভিডিওর মাধ্যমে নেইমারের চুক্তি নবায়নের বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিশাল এক স্টেডিয়ামের স্ক্রিনে নেইমারের চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১০ জুন থেকে পরিবর্তন করে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত নভেম্বর মাসে নেইমার তাঁর মেনিস্কাসে আঘাত পেয়েছিলেন, কিন্তু ক্লাবের দুঃসময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ব্যথা সহ্য করেই তিনি সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে মাঠে লড়াই চালিয়ে গেছেন। যদিও চোটের কারণে তাঁর স্বাভাবিক গতি কিছুটা কমেছে, তবে মাঠের লড়াইয়ে তাঁর অদম্য সংকল্প এবং জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁকে এখনও ফুটবলের অন্যতম সেরা আকর্ষণে পরিণত করে রেখেছে।
নতুন বছরের শুরুতেই ক্রীড়াবিশ্বের দুই মহাতারকা—ফুটবলের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং ক্রিকেটের রানমেশিন শুভমান গিল এক ফ্রেমে ধরা পড়েছেন। স্পোর্টস ব্র্যান্ড নাইকির একটি বিশেষ ইভেন্টে এই দুই তারকার সাক্ষাৎ হয়, যেখানে দুজনেই সাদা পোশাকে বেশ সাবলীল ভঙ্গিতে হাজির ছিলেন। তাঁদের কুশল বিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার হালান্ড শুভমান গিলকে এক জোড়া অটোগ্রাফ সংবলিত বুট উপহার দিয়ে চমকে দেন। নরওয়েজিয়ান তারকার কাছ থেকে এমন বিশেষ উপহার পেয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক গিলকে বেশ আবেগাপ্লুত হতে দেখা গেছে।
এটি এই দুই তারকার প্রথম সাক্ষাৎ নয়; এর আগে ২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার ডার্বির এফএ কাপ ফাইনাল দেখার সময়ও তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছিল। সেই সময় গিল বিরাট কোহলির সঙ্গে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন এবং ম্যানচেস্টার সিটির ট্রেবল জয়ের উদযাপনের সময় হালান্ড ও কেভিন ডি ব্রুইনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন। শুভমান গিলের জন্য বিগত ২০২৫ বছরটি ছিল ব্যাপক উত্থান-পতনের। একদিকে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হিসেবে বছর শেষ করেছেন এবং রোহিত শর্মার পর টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব লাভ করেছেন। অন্যদিকে, বছরের শেষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া তাঁর জন্য ছিল এক বড় ধরনের ব্যক্তিগত হতাশা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগ পর্যন্ত গিল সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁকে ছাড়াই স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। তবে এই ধাক্কা সামলে উঠে তিনি নতুন উদ্যমে ২০২৬ সালের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। আপাতত তিনি পাঞ্জাবের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে অংশগ্রহণ করবেন এবং নিজের ফর্ম ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন। এরপর আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে আবারও জাতীয় দলে ফিরবেন এই প্রতিভাবান ব্যাটার। হালান্ডের সঙ্গে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ গিলের জন্য নতুন বছরের শুরুতে এক বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করছেন তাঁর ভক্তরা
আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৬ আসর শুরু হওয়ার আগেই বড় ধরনের দুঃসংবাদের কবলে পড়েছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান এবং তাঁর নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে কেকেআর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেয় বা রিলিজ করে দেয়। শনিবার বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে রেকর্ড দামে দল পাওয়া সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই এবারের আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন এই বাঁহাতি পেসার।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন যে, বর্তমান সামগ্রিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বোর্ড এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত নানা সংবেদনশীল ঘটনাবলি এবং দুই দেশের মধ্যকার পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাদের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কারণ সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে ক্রিকেট মহলে ধারণা করা হচ্ছে যে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনই এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ। এর ফলে কেকেআরের বোলিং পরিকল্পনায় বড় ধরনের রদবদল ঘটাতে হবে।
নিলামে চড়া মূল্যে দল পাওয়ার পর মোস্তাফিজকে নিয়ে কেকেআর সমর্থকদের মধ্যে যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা স্তিমিত হয়ে পড়ল। তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কেকেআর যদি মোস্তাফিজের পরিবর্তে অন্য কোনো বিদেশি খেলোয়াড়কে দলে নিতে চায়, তবে বোর্ড সেই বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার পূর্ণ অনুমতি প্রদান করবে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আইপিএলের রোমাঞ্চেও কিছুটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের পর কেকেআর কর্তৃপক্ষ তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কাকে দলে ভেড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড। দলের নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব বরাবরের মতোই ন্যস্ত করা হয়েছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজার ওপর। এবারের স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার, যিনি দীর্ঘ সাত বছরের বিরতি কাটিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন। গত অক্টোবরে প্রত্যাবর্তনের পর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে বল হাতে নিজেকে প্রমাণ করার পুরস্কারস্বরূপ তিনি মেগা ইভেন্টের এই স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ক্রেমারের পাশাপাশি অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটার ব্রেন্ডন টেইলরকেও দলে রাখা হয়েছে, যাঁর অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৪৪-এর বেশি স্ট্রাইকরেট দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
জিম্বাবুয়ের পেস বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দেবেন রিচার্ড এনগারাবা এবং ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ব্লেসিং মুজারাবানি। এনগারাবা সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পেলেও টি-টোয়েন্টিতে তিনি রাজার অধীনে মুজারাবানির সাথে মিলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের পরীক্ষা নেবেন। ব্যাটিংয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ক্লাইভ মাদান্দেকে রাখা হয়েছে, যিনি গত মৌসুমে ৭৬ গড় এবং ১৩৮ স্ট্রাইকরেটে রান তুলে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজের স্কোয়াড থেকে একমাত্র বাদ পড়েছেন বাঁ-হাতি স্পিনার নিউম্যান নিয়ামহুরি। স্পিন বিভাগে অধিনায়ক রাজার সাথে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা এবং অভিজ্ঞ ক্রেমার মিলে এক বৈচিত্র্যময় আক্রমণ গড়ে তুলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই আসরটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে। জিম্বাবুয়ে টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে অবস্থান করছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও ওমানের মতো শক্তিশালী দলগুলো। জিম্বাবুয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে বিধায় লঙ্কান কন্ডিশন মাথায় রেখেই রাজা-টেইলরদের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ এই দল সাজিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এই সমন্বয় জিম্বাবুয়েকে এবারের আসরে বড় কোনো চমক দেখানোর সুযোগ করে দিতে পারে।
নতুন বছর ২০২৬-এর শুরুটা মোটেও সুখকর হলো না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল আল নাসরের জন্য। সৌদি প্রো লিগে আল আহলির বিপক্ষে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। এই পরাজয়টি আল নাসরের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে তাদের টানা ১১ ম্যাচের অপরাজেয় থাকার গৌরবময় যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটল। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে সমানে সমান লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে আল আহলি, আর রোনালদোদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে হারের গ্লানি নিয়ে। মূলত রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে আল নাসরকে।
ম্যাচে আল নাসরের পরাজয়ের পেছনে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি বড় সুযোগ নষ্ট হওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে যখন আল নাসর ৩-২ গোলে পিছিয়ে থেকে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছিল, ঠিক তখনই একটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে দলটি। সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্সের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে রোনালদো প্রায় একা গোলরক্ষকের সামনে চলে গিয়েছিলেন। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। তাঁর পা থেকে বলটি অস্বস্তিকরভাবে লাফিয়ে ওঠায় নেওয়া শটটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল ও লক্ষ্যভ্রষ্ট। সমতা ফেরানোর এই সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করায় দলের হার নিশ্চিত হয়ে যায়।
আল আহলির কাছে এই হারের আগে থেকেই কিছুটা সতর্ক সংকেত পাচ্ছিল আল নাসর। এর আগের ম্যাচেও তারা আল ইত্তিফাকের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে কোনোমতে নিজেদের অপরাজেয় রেকর্ড ধরে রাখতে পেরেছিল। তবে এবারের হারের ফলে লিগ টেবিলের সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও আল নাসরের আধিপত্য এখন বড় হুমকির মুখে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলাল মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। আগামী রবিবার দামাকের বিপক্ষে ম্যাচে আল হিলাল জয় পেলেই আল নাসরকে সরিয়ে তারা লিগ টেবিলের চূড়ায় আরোহণ করবে। ফলে লিগের আগামী ম্যাচগুলো এখন রোনালদোদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে চট্টগ্রামের দুই ওপেনার অ্যাডাম রশিংটন এবং মোহাম্মদ নাঈম শেখের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে কোনো উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সাগরপাড়ের দলটি। ১২৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের দুই ব্যাটার শুরু থেকেই ঢাকার বোলারদের ওপর চড়াও হন। তারা মাত্র ১২.৪ ওভারে অর্থাৎ ৪৪ বল হাতে রেখেই দলকে জয় উপহার দেন। রশিংটন ৩৬ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এবং নাঈম শেখ ৪০ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে টস জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ঢাকা ক্যাপিটালসকে প্রথমে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান। ব্যাটিংয়ে নেমে চট্টগ্রামের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ঢাকা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। পাওয়ার প্লের মধ্যেই পেসার শরিফুল ইসলাম ঢাকার দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও জুবাইদ আকবরীকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। এরপর মধ্যম সারির ব্যাটাররাও ব্যর্থতার পরিচয় দেন; উসমান খান ২১ রান করলেও মিঠুন, শামীম ও সাব্বিররা দ্রুত বিদায় নেন। দলের বিপর্যয় রোধে অষ্টম উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও নাসির হোসেন ৪৮ রানের একটি কার্যকরী জুটি গড়েন, যার সুবাদে ঢাকা ১০০ রানের কোটা পার করতে সক্ষম হয়। সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ ৩৩ রান এবং নাসির ১৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ঢাকা ১২২ রানে অলআউট হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন স্পিনার তানভীর ইসলাম। তিনি ৪ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান খরচায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া পেসার শরিফুল ইসলাম ১৮ রানে ৩টি এবং শেখ মেহেদী হাসান দুটি উইকেট নেন। চট্টগ্রামের বোলারদের এই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর ওপেনারদের দাপুটে ব্যাটিং ঢাকাকে ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি। চট্টগ্রামের এই বিশাল জয় তাদের পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের শুরুতে বড় ধাক্কা খেল ঢাকা ক্যাপিটালস।
অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাটার উসমান খাজা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে নিজের সতীর্থদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই ওপেনার। চলমান অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টটিই হবে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্তিম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আগামী সপ্তাহে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ৮৮তম টেস্টটি খেলতে মাঠে নামবেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে এই মাঠেই তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট জীবন শুরু হয়েছিল, আর এখান থেকেই তিনি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন।
২০১১ সালে কিংবদন্তি রিকি পন্টিং চোট পাওয়ায় প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছিলেন উসমান খাজা। গত ১৫ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অজিদের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ছয় হাজারেরও বেশি রান সংগ্রহ করেছেন। সিডনিতে বড় হওয়া খাজা অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সময় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পাশেই কুক রোডে তিনি থাকতেন। ছোটবেলায় যখন তিনি মাইকেল স্ল্যাটারকে লাল রঙের একটি ফেরারিতে চড়ে যেতে দেখতেন, তখন থেকেই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বুনতেন। অত্যন্ত অভাব-অনটনের মাঝে বড় হওয়া খাজা এক সময় কল্পনাও করেননি যে সৃষ্টিকর্তা তাঁকে একদিন এমন বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার উপহার দেবেন।
উসমান খাজা কেবল একজন সফল ব্যাটারই নন, বরং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ইতিহাসে তাঁর একটি বিশেষ পরিচয় রয়েছে। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া খাজা অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের জার্সিতে খেলা প্রথম পাকিস্তান-বংশোদ্ভূত এবং প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার। নিজের গায়ের রঙ ও ধর্মীয় পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন গর্বিত মুসলিম ছেলে হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর জন্য ছিল বিশাল এক প্রাপ্তি। সিডনি টেস্টের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি রাঙাতে চান। তাঁর এই প্রস্থানে বিশ্ব ক্রিকেট থেকে একজন আদর্শ ও পরিশ্রমী খেলোয়াড়ের বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠল।
সিলেটে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর মুহূর্তের সাক্ষী হলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচ টাই হওয়ার পর তা সুপার ওভারে গড়ায়। রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্সের মধ্যকার এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় রাজশাহী। নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দলই সমান ১৫৯ রান সংগ্রহ করায় ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায়। ইনিংসের শেষ বলে রংপুরের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ এক রান নিতে ব্যর্থ হলে ম্যাচটি ড্র হয়, যা গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের উত্তেজনার চরমে পৌঁছে দেয়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সাহিবজাদা ফারহান সর্বোচ্চ ৬৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৪১ রান। রংপুরের বোলার ফাহিম আশরাফ চমৎকার বোলিং করে তিন উইকেট শিকার করেন। জবাবে ১৫৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে রংপুর রাইডার্সও ৬ উইকেটে ১৫৯ রানে থমকে যায়। দাভিদ মালান ৬৩ রানে অপরাজিত থাকলেও দলকে সরাসরি জয় উপহার দিতে পারেননি। তাওহিদ হৃদয়ের ৫৩ রানের ইনিংসটি হারের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে। রাজশাহীর বোলার এসএম মেহরব হাসান ও রিপন মন্ডল প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নিয়ে রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান।
সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে রংপুর মাত্র ৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। রাজশাহীর তরুণ বোলার রিপন মন্ডল অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং করে রংপুরের ব্যাটারদের হাত খুলে খেলতে দেননি। মাত্র ৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর তানজিদ হাসান তামিম রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। মোস্তাফিজুর রহমানের করা প্রথম তিন বলেই তানজিদ যথাক্রমে চার, দুই ও চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে রিপন মন্ডল ম্যাচসেরার পুরস্কার লাভ করেন।
অবিশ্বাস্য এই জয়ের পর রাজশাহী ওয়ারিয়র্স টিম ম্যানেজমেন্ট খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোনাস ঘোষণা করেছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে অবদান রাখা খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সাপোর্ট স্টাফসহ প্রত্যেক সদস্যকে ১৫ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদান করা হবে। এছাড়াও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ম্যাচসেরা রিপন মন্ডলকে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসএম মেহরব হাসান ও সাহিবজাদা ফারহানকে ৫০ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদান করা হয়েছে। এই জয়ের ফলে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলে রাজশাহী নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম জায়ান্ট ক্লাব চেলসি তাদের প্রধান কোচ এনজো মারেস্কার সঙ্গে দীর্ঘ দেড় বছরের পথচলা শেষ করেছে। গত বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের এই ইতালিয়ান কোচকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেয়। মারেস্কার বিদায়টি ফুটবল বিশ্বে বেশ নাটকীয়তার সৃষ্টি করেছে, কারণ মাত্র দুই মাস আগে গত নভেম্বরেও তিনি প্রিমিয়ার লিগের মাসসেরা কোচের পুরস্কার জয় করেছিলেন। তবে শেষ সাতটি লিগ ম্যাচে চেলসি মাত্র একটিতে জয় পাওয়ায় এবং শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে পড়ায় ক্লাব মালিকরা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। মারেস্কার অধীনে চেলসি বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে এবং শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে তারা ১৫ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছে।
২০২৪ সালে লেস্টার সিটিকে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব দেখিয়ে চেলসির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মারেস্কা। ব্লুজদের হয়ে তাঁর প্রথম মৌসুমটি বেশ নজরকাড়া ছিল; তিনি তরুণ ও ব্যয়বহুল দলটিকে লিগের চতুর্থ স্থানে রেখে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করান। তাঁর কোচিংয়ে চেলসি ইউরোপীয় কনফারেন্স লিগের শিরোপাসহ ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফিও নিজেদের ক্যাবিনেটে যোগ করতে সক্ষম হয়। তবে গত ডিসেম্বর মাস থেকে দলটির পারফরম্যান্সে ব্যাপক অবনতি ঘটে। মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি মারেস্কার কিছু রহস্যময় মন্তব্য এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি তাঁর বিদায়কে ত্বরান্বিত করেছে। বিশেষ করে এভারটনের বিপক্ষে জয়ের পর তিনি সেই সময়টাকে তাঁর কোচিং জীবনের ‘সবচেয়ে খারাপ ৪৮ ঘণ্টা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, যা বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়।
মারেস্কার অধীনে চেলসির শেষ ম্যাচটি ছিল বোর্নমাউথের বিপক্ষে, যেখানে ঘরের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ২-২ গোলে ড্র করে তারা। সেই ম্যাচে দলের প্রধান তারকা কোল পালমারকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সময় গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা চিৎকার করে মারেস্কার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং ম্যাচ শেষে তাঁকে কড়া দুয়ো দেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, সামনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ চারটি প্রতিযোগিতায় এখনও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাকি রয়েছে, তাই দলকে সঠিক পথে ফেরাতেই এই পরিবর্তন জরুরি ছিল। আগামী রবিবার শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে কে ডাগআউটে দাঁড়াবেন, তা এখনও পরিষ্কার করেনি চেলসি। ২০২৯ সাল পর্যন্ত মারেস্কার সঙ্গে চুক্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার দায়ে অসময়েই তাঁকে ক্লাব ছাড়তে হলো।