বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় গেলেন সাকিব

ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ আগস্ট, ২০২৪ ১৫:১৪

মাঠের ক্রিকেটে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না সাকিব আল হাসানের। বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগেও ব্যর্থ ছিলেন। তবে কানাডায় ধীরে ধীরে ফর্মে ফিরছেন টাইগার এই অলরাউন্ডার। ছন্দে আছে তার দলও। কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টিতে হ্যাট্টিক জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলা টাইগার্স মিসিসাগা। ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে আছে তারা।

এদিকে, ক্রিকেটের অবসরে এবার পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গেলেন সাকিব। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির নিজেদের ঘুরে বেড়ানোর ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ফ্যামিলি টাইম।

ছবি: সংগৃহীত

সাকিব আল হাসান একজন বাংলাদেশি ক্রিকেট অলরাউন্ডার। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার অভিষেক হয়। সাকিব বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

সাকিব ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আইসিসির খেলোয়াড়দের র‍্যাংকিং অনুসারে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০ প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্করণে প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এক নম্বর অল-রাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।


এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের লড়াকু অভিষেক: চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে মেয়েদের মুগ্ধতার লড়াই

আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৩২
ক্রীড়া ডেস্ক

নারী এশিয়ান কাপের অভিষেক ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে এক বীরত্বপূর্ণ লড়াই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে মাত্র ২-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। র‍্যাংকিংয়ের দিক থেকে চীন ১৭ নম্বর এবং বাংলাদেশ ১১২ নম্বর অবস্থানে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে সেই বিশাল ব্যবধানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন সাবিনা-ঋতুপর্ণারা। হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে বাংলাদেশের মেয়েরা যে সাহসী ফুটবল খেলেছেন, তা এশিয়ান ফুটবলে নতুন এক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণে মনোযোগী হলেও সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের ১৪ মিনিটে তৈরি হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ঋতুপর্ণা চাকমা প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে এক জোরালো শট নেন। চীনের গোলরক্ষক চেন চেন অবিশ্বাস্য এক সেভে গোলটি রুখে না দিলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। অন্যদিকে, শক্তিশালী চীনকে গোল পেতে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ৪৪ ও ৪৫ মিনিটে ওয়াং শুয়াং এবং ঝাং রুইয়ের গোলে ২-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় চীন। এর আগে ২২ মিনিটে করা চীনের একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তায় বাতিল করেন রেফারি।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে। রক্ষণের খোলস ছেড়ে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে সাবিনারা বল পজেশনে উন্নতি করেন। নিয়মিত গোলরক্ষক রুপনা চাকমার অনুপস্থিতিতে এদিন পোস্ট সামলান মিলি আক্তার। শুরুতে কিছুটা নার্ভাস থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক দারুণ সেভ করে মিলি ব্যবধান আর বাড়তে দেননি। বিশেষ করে লাফিয়ে উঠে একটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে তিনি দর্শকদের প্রশংসা কুড়ান। এছাড়া ৮৫ মিনিটে বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন সুইডিশ প্রবাসী আনিকা রহমান।

ম্যাচে ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহারও ছিল উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের একটি আক্রমণ পেনাল্টি হতে পারত কি না তা ভিএআরে পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন চীন জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেও নৈতিকভাবে জয় হয়েছে বাংলাদেশের। গ্রুপপর্বের অন্য ম্যাচে উজবেকিস্তান যেখানে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি, সেখানে বাংলাদেশের এই লড়াকু পারফরম্যান্স বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এশিয়ান মঞ্চে বাংলাদেশের এই পদার্পণ দেশীয় নারী ফুটবলের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।


বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চরম ব্যর্থতা: নির্বাচক প্যানেল থেকে আলিম দারের পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের রেশ ধরে দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্টের সুপার এইট পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর নৈতিক দায়ভার গ্রহণ করে নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আলিম দার। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘সামা টিভি’ এই খবর নিশ্চিত করেছে। সালমান আলী আঘা এবং শাহিন আফ্রিদিদের ঘিরে পিসিবি যে বড় স্বপ্ন দেখেছিল, তার করুণ সমাপ্তিই মূলত আলিম দারকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পথচলা ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার মতো তুলনামূলক সহজ দলগুলোকে হারালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হেরে চাপের মুখে পড়ে পাকিস্তান। এরপর সুপার এইটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি এবং ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয় সেমিফাইনালের পথ প্রায় বন্ধ করে দেয়। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ৫ রানের জয় পেলেও রানরেটের জটিল সমীকরণে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয় মেন ইন গ্রিনদের।

মাঠের এই ব্যর্থতার পর ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে প্রতিটি ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে। শুধু ক্রিকেটাররাই নন, ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচিং স্টাফদেরও এখন বোর্ডকে জবাবদিহি করতে হবে। আলিম দারের পদত্যাগের পর নির্বাচক প্যানেলে আরও কোনো রদবদল আসবে কি না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও পিসিবির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ উত্তপ্ত।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে পাকিস্তান ২১২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েও সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে পারেনি। শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামানের ১৭৬ রানের রেকর্ড উদ্বোধনী জুটি ভক্তদের মনে আশা জাগালেও বোলিং ব্যর্থতায় লঙ্কানরা জয়ের খুব কাছে চলে এসেছিল। শেষ ওভারে শাহিন আফ্রিদি ২৪ রান খরচ করলে পরাজয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ৫ রানের সান্ত্বনার জয় পায় পাকিস্তান। এই মিশ্র অভিজ্ঞতার পর আলিম দারের পদত্যাগ পাকিস্তান ক্রিকেটের পুনর্গঠনে বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নাম চূড়ান্ত করেনি বোর্ড।


বার্নাব্যুতে রিয়ালের পরাজয়: গেতাফের কাছে হেরে বার্সার চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আরও একবার হোঁচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গেতাফের কাছে ১-০ গোলের হতাশাজনক হারের তিক্ত স্বাদ পেল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। টানা দ্বিতীয় হারের ফলে শিরোপা দৌড়ে বার্সেলোনার চেয়ে আরও পিছিয়ে পড়ল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২৬ ম্যাচ শেষে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল এখন টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে, আর সমান ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে বার্সেলোনা।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই লিড নিয়ে নেয় গেতাফে। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে মার্তিন সাত্রিয়ানো এক দর্শনীয় ভলিতে রিয়ালের জালে বল জড়ান। তাঁর ওই একমাত্র গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। গত সপ্তাহে ওসাসুনার কাছে হারের পর এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল রিয়াল, কিন্তু গেতাফের জমাট রক্ষণ ভাঙতে তারা ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু আক্রমণ শানালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি রিয়াল।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তৈরি হয় চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। যোগ করা সময়ে (স্টপেজ টাইম) রেফারির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গালি দেওয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রিয়ালের বদলি খেলোয়াড় ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। এর কিছুক্ষণ পরেই গেতাফের আদ্রিয়ান লিসো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে দুই দলই ১০ জনের দলে পরিণত হয়। তবে তাতে ম্যাচের ফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এই জয় গেতাফের জন্য বড় সাফল্য হলেও রিয়ালের লিগ জয়ের পথে বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় শিরোপার দৌড়ে এখন বার্সেলোনা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল।


কাতারে সব ধরনের ফুটবল স্থগিত: অনিশ্চিত দোহায় আর্জেন্টিনা-স্পেন লড়াই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক হামলা এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও। নিরাপত্তা শঙ্কায় কাতারে সব ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্ট ও ম্যাচ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কিউএফএ)। গত ১ মার্চ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিতে কোনো ধরণের ফুটবল ম্যাচ বা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে না।

এই স্থগিতাদেশের ফলে আগামী ২৭ মার্চ দোহার বিখ্যাত লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া হাই-ভোল্টেজ ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার এই মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ের অপেক্ষায় ছিল কোটি ফুটবল ভক্ত। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই ম্যাচটি কবে বা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে কিউএফএ এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তারা শুধু জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।

আঞ্চলিক এই চরম উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএফসি-ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে হওয়ার কথা ছিল মহাদেশীয় ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্লে-অফ ম্যাচ। এএফসি ইতিমধ্যে সেই ম্যাচগুলো স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়া এবং সংঘাতের বিস্তার ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। মূলত খেলোয়াড় এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে কাতারসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় আয়োজনগুলোকে একটি বড় অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।


পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর ঘিরে অনিশ্চয়তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী ৯ মার্চ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ঢাকায় আসার কথা থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতায় এই সফর নিয়ে বড় ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশ দল দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে রয়েছে। এই দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার লক্ষ্য ছিল বিসিবির। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সময়মতো ঢাকায় পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সীমান্ত উত্তেজনার মাঝেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ দেশের আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তান দলের ঢাকাগামী ফ্লাইট এখন বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে। বিদেশি গণমাধ্যমগুলোও এই পরিস্থিতির কারণে সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরেছে।

বিসিবি অবশ্য সিরিজটি নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়ানোর বিষয়ে এখনও আশাবাদী। আগামী ১১ মার্চ মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৩ ও ১৫ মার্চ বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সবগুলো ম্যাচই দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়ার সূচি রয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গতকাল রাতেও পিসিবির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। বিসিবি কর্মকর্তারা মনে করছেন, সিরিজ শুরু হতে এখনও কিছুদিন সময় বাকি থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এদিকে সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বর্তমানে ওয়ানডে ফরম্যাটে বিসিএল খেলছেন। এর আগে ‘অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ’ দিয়ে খেলোয়াড়দের খেলার মধ্যে রেখেছিল বিসিবি। পরিসংখ্যান বলছে, গত জুলাইয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশ সফরে এসে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে ফিরেছিল। এবারও ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ খুঁজছে বাংলাদেশ। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আকাশপথের নিরাপত্তা—যার ওপর নির্ভর করছে পাকিস্তান দলের বাংলাদেশে আসা ও সিরিজের ভাগ্য। সব মিলিয়ে ক্রিকেট ভক্তরা এখন গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন এই সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে।


সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়লেন লুঙ্গি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দাপট অব্যাহত রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতকে হারিয়ে আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা প্রোটিয়ারা সুপার এইটের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকেও অনায়াসে হারিয়েছে। অপরাজিত থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে ওঠার এই বিশেষ দিনে ব্যক্তিগত এক দুর্দান্ত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন পেসার লুঙ্গি এনগিদি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তিনি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এনগিদির ঝুলিতে ছিল ৮৯টি উইকেট। এতদিন স্পিনার তাবরাইজ শামসির সাথে যৌথভাবে তালিকার শীর্ষে ছিলেন তিনি। তবে এদিন নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট শিকার করে শামসিকে ছাড়িয়ে এককভাবে সিংহাসন দখল করেন এনগিদি। বর্তমানে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেট সংখ্যা ৯০টি। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য দলের জয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে ৭০ ম্যাচে ৮৯ উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন তাবরাইজ শামসি। ৮২টি উইকেট নিয়ে বর্তমান দলের আরেক সেনানি কাগিসো রাবাদা রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে। এছাড়া প্রোটিয়াদের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৫০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে কিংবদন্তি ডেল স্টেইন (৬৪), ইমরান তাহির (৬১), ওয়েইন পার্নেল (৫৯), আনরিখ নরকিয়া (৫৬) এবং আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োর (৫০)। এই নজির এনগিদির ক্যারিয়ারে এক অনন্য পালক যোগ করার পাশাপাশি তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। সব মিলিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালের মহারণে নামার আগে এনগিদির এই রেকর্ড প্রোটিয়া শিবিরে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে।


সেসকোর গোলমেশিনে ছুটছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

এতদিন ‘সুপার সাব’ হিসেবে মাঠে নেমে চমক দেখাতেন, তবে এবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজের জাত চেনালেন বেঞ্জামিন সেসকো। তরুণ এই স্ট্রাইকারের অনবদ্য নৈপুণ্যে আরও একটি জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ১০ জনের ক্রিস্টাল প্যালেসকে ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রেড ডেভিলরা। এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার লড়াইয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় ম্যাক্সেন্স লাক্রোইক্সের গোলে এগিয়ে গিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেয় ক্রিস্টাল প্যালেস। তবে ম্যাচের ৫৬ মিনিটে সেই লাক্রোইক্সই নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হন। বক্সের ভেতর ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করায় দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষার পর তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। একইসঙ্গে পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড, যেখান থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস।

সমতায় ফেরার ঠিক ৮ মিনিট পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডকে উল্লাসে মাতান বেঞ্জামিন সেসকো। ৬৫তম মিনিটে বুলেট গতির এক হেডে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এটি গত সাত ম্যাচে সেসকোর ষষ্ঠ গোল। এছাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার জয়সূচক গোল করলেন এই স্লোভেনীয় তারকা; এর আগে গত সোমবার এভারটনের বিপক্ষেও তাঁর একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিল ম্যানইউ।

এই জয়ের ফলে ২৮ ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে অ্যাস্টন ভিলাকে পেছনে ফেলে তিনে উঠে এল ইউনাইটেড। এর আগে শুক্রবার উলভসের বিপক্ষে অ্যাস্টন ভিলার হার ম্যানইউর জন্য পথটি সহজ করে দিয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর মাইকেল ক্যারিকের অধীনে সাত ম্যাচের মধ্যে এটি ইউনাইটেডের ষষ্ঠ জয়। ক্যারিকের জাদুকরী ছোঁয়ায় দলটির আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে এবং সামনের দিনগুলোতে তারা এই ছন্দ ধরে রেখে শীর্ষ চার নিশ্চিত করতে চায়। সব মিলিয়ে সেসকোর গোলক্ষুধা আর ক্যারিকের রণকৌশলে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ভক্তরা।


দুই চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে চমক দেখালেও সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিল জিম্বাবুয়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বড় চমক ছিল জিম্বাবুয়ে। গ্রুপপর্বে অসামান্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তারা ওমান এবং সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। তবে গ্রুপপর্বের সেই দাপুটে ফর্ম সুপার এইটে ধরে রাখতে পারেনি সিকান্দার রাজার দল। টানা তিন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে সেমিফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো জিম্বাবুয়েকে।

দিল্লির অরুণ জেটলি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল জিম্বাবুয়ে। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। দলের পক্ষে একা হাতে লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তিনি মাত্র ৪৩ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে বিধ্বংসী ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন। তবে রাজার এই একার লড়াই জিম্বাবুয়েকে লড়াকু পুঁজি এনে দিলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়া ব্যাটার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস মাত্র ১৮ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কার অসামান্য প্রদর্শনীতে ৪২ রান করে জয়ের কাজ সহজ করে দেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩ বল হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এই জয়ের ফলে সুপার এইটে টানা তিন ম্যাচ জিতে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখল প্রোটিয়ারা।

জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও এই আসরটি তাদের ক্রিকেটের জন্য এক বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে। গ্রুপপর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে উঠেছিল তারা। বড় দলগুলোকে হারানোর সাহস দেখিয়ে সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন দলটি বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের নতুন শক্তির জানান দিয়েছে। জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও আজ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হলো জিম্বাবুয়েকে। সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল রোমাঞ্চ ও গর্বের এক সংমিশ্রণ।


ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিদায় করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ১৯৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে সেমিফাইনালের সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়লেও, পরবর্তী দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিলো রোহিত শর্মার দল।

ইডেন গার্ডেন্সে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রোস্টন চেজ, যা তিনি মাত্র ২৫ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে সংগ্রহ করেন। এছাড়া জেসন হোল্ডার ২২ বলে ৩৭ এবং অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল ১৯ বলে ৩৪ রান করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন। শেষ দিকে শিমরন হেটমায়ারের ১২ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস ভারতকে ১৯৬ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।

জবাব দিতে নেমে ১২০ বলে ১৯৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং শুরু করে ভারত ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন। তিনি মাত্র ৫০ বলে ১২টি চার এবং ৪টি ছক্কার অসামান্য প্রদর্শনীতে ৯৭ রানের এক ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তাঁর এই বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতের জয়কে সহজ করে তোলে। মিডল অর্ডারে তিলক ভার্মা ১৫ বলে ২৭ রান করে স্যামসনকে যোগ্য সঙ্গ দেন, যার ফলে ১৯.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অপ্রতিরোধ্য ছিল ভারত। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে সুপার এইটে উঠেছিল তারা। তবে সুপার এইটে প্রথম ম্যাচে হারের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৫৬ রানের রেকর্ড গড়া জয় ভারতকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়টি ছিল ভারতের জন্য অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে জয়ী দলই সেমিফাইনালের টিকিট পেত। চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় খেলে সেই লক্ষ্য পূরণ করে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। অন্যদিকে, বড় স্কোর গড়েও হারতে হওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।


মেসির জাদুকরী জোড়া গোলে ২-০ তে পিছিয়ে থেকেও ইন্টার মিয়ামির রোমাঞ্চকর জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) বহুল আলোচিত ‘ফ্লোরিডা ডার্বি’তে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন দেখাল ইন্টার মিয়ামি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অধিনায়ক লিওনেল মেসির অসাধারণ জোড়া গোলের ওপর ভর করে ৪-২ ব্যবধানে অরল্যান্ডো সিটিকে পরাজিত করেছে তারা। গত সপ্তাহে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে হারের পর এই জয়টি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মিয়ামির জন্য কেবল একটি জয় নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় বার্তা। রোববারের এই ম্যাচে মেসির জাদুকরী নৈপুণ্য গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে রোমাঞ্চিত করেছে।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইন্টার মিয়ামির জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে অরল্যান্ডো সিটি। ১৮ মিনিটে মিয়ামির মিডফিল্ডের ভুলে বল পেয়ে মার্কো পাসালিচ দারুণ এক নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন। এর মাত্র ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্তিন ওদেখা। ফলে মাত্র ২৪ মিনিটের মাথায় ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে চরম চাপে পড়ে যায় মিয়ামি। রদ্রিগো দে পল এবং মেসির বেশ কয়েকটি আক্রমণ প্রথমার্ধে অরল্যান্ডোর গোলরক্ষক নসাৎ করে দিলে সমতায় ফেরার লড়াইটি বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মিয়ামিকে লক্ষ্য করা যায়। ৪৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা মাতেও সিলভেতি প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে এক জোরালো শটে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন, যা মিয়ামিকে ম্যাচে ফেরার প্রাণশক্তি জোগায়। এর কিছুক্ষণ পর ৫৭ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে নিজের চিরচেনা বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি। ২-২ স্কোরলাইনে আসার পর দুদলের লড়াই আরও জমে ওঠে।

ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে ৮৫ মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে আসেন মেসি। তাঁর চমৎকার এক পাস থেকে কোণাকুণি শটে গোল করে মিয়ামিকে প্রথমবারের মতো লিড এনে দেন তেলাসকো সেগোভিয়া। আর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ৯০ মিনিটে অরল্যান্ডোর পরাজয় নিশ্চিত করেন মেসি নিজেই। দূর থেকে নেওয়া তাঁর একটি নিখুঁত নিচু ফ্রি-কিক গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি জালে জড়ালে ৪-২ ব্যবধানের বিশাল জয় পায় ইন্টার মিয়ামি। মেসির এই জোড়া গোল এবং পুরো ম্যাচে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব মিয়ামিকে পয়েন্ট তালিকার সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে কুরআন উপহার দিলেন আসিফ আকবর

আপডেটেড ১ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১৩
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ আকবর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার পর মিরপুরে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে তিনি এই সাক্ষাৎ করেন। এই বিশেষ মুহূর্তে আসিফ আকবর প্রতিমন্ত্রীর হাতে উপহার হিসেবে একটি পবিত্র কুরআন তুলে দেন। বিসিবির এই প্রভাবশালী পরিচালক নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকার শেষে আসিফ আকবর জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল এবং ভ্রাতৃত্বের জায়গা থেকেই তিনি প্রতিমন্ত্রীকে এই উপহার দিয়েছেন। সেখানে বিসিবি বা অন্য কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। মূলত ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ পর্যায়ের এই দুই ব্যক্তির মধ্যে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং পেশাদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আসিফ আকবর মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে বিসিবি নির্বাচনের মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠিত হয়েছিল। সে সময় বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই বোর্ডকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচনা হয়েছিল। তবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে এ বিষয়ে তাঁকে আর কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। আসিফ আকবর বিশ্বাস করেন, অতীতের মান-অভিমান সরিয়ে রেখে আমিনুল হক বর্তমান দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে আসিফ আকবর প্রত্যাশা করেন যে, আমিনুল হক দেশের প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনের সমস্যাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করার মাধ্যমে ‘কিশোর গ্যাং’ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা যে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকে প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে আমিনুল হকের নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলেই বিশ্বাস করেন আসিফ আকবর।


প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের খেলায় বেশি মনোযোগ মনিকাদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে দেড় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অনুশীলন শেষ করে টিম হোটেলের পথে এখন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই ব্যস্ততার মাঝেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন দলের অন্যতম সিনিয়র ও নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে অসংখ্য সাফল্যের কারিগর মনিকা এবার চোখ রেখেছেন এশিয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ—এশিয়ান কাপে। প্রথমবারের মতো এই আসরে খেলতে আসা বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও মনিকাদের লক্ষ্য এখন কেবল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া।

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপটি বেশ কঠিন; যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে এশীয় ও বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি চীন এবং উত্তর কোরিয়া। সঙ্গে আছে শক্তিশালী উজবেকিস্তান। তবে বড় প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সিডনির পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এখন মনিকাদের জন্য বড় পরীক্ষা। কখনো কড়া রোদ আবার কখনো হাড়কাঁপানো শীত—এমন বৈরিতার মাঝেও গত এক সপ্তাহ ধরে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন সাবিনা-মনিকারা। মনিকা জানান, তারা এখন এই আবহাওয়ার সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গেছেন এবং দিন দিন দলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া বা চীনের মতো দলগুলো যারা নিয়মিত বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রাখে, তাদের বিপক্ষে লড়াই করা মোটেও সহজ নয়। এ নিয়ে দলের প্রধান কোচ নিয়মিত কৌশলগত সভার আয়োজন করছেন। মনিকা বলেন, “কোচ প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে মিটিং করছেন। মাঠে আমাদের মুভমেন্ট কেমন হবে, কখন কীভাবে দৌড়াতে হবে—সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনা হচ্ছে। আমরা জানি তারা এশিয়ায় সেরা, তাই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত।”

দলের মাঝমাঠ বা মিডফিল্ড সামলানোর মূল দায়িত্ব মনিকা ও মারিয়া মান্ডার কাঁধে। দীর্ঘদিনের এক সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা এই দুই ফুটবলারের বড় শক্তি। মনিকা জানান, মারিয়া যখন আক্রমণে ওঠেন, তখন তাঁকে মাঝমাঠ ধরে রাখতে হয়। প্রতিটি পজিশনেই উত্তর কোরিয়া বা চীনের ফুটবলাররা অত্যন্ত দক্ষ। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার—সব বিভাগেই আলাদাভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ দল। প্রথমবারের মতো এমন বিশ্বমানের শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে যাওয়া মনিকারা পরিস্থিতি বুঝে এবং পরিকল্পনা মেইনটেইন করে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশলের চেয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মনিকা চাকমা। তাঁর ভাষায়, “ওরা অবশ্যই অনেক শক্তিশালী, কিন্তু আমরা আমাদের নিজেদের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার চেয়ে নিজেদের পরিকল্পনার ওপর আমাদের ফোকাস বেশি। আমরা বিদেশের মাটিতে দেশের জন্য আমাদের সেরাটা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করব।” এশিয়ান কাপের এই কঠিন মিশনে নামার আগে দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন এই ফুটবল তারকা।


বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা জয়সুরিয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে টানা তিন ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছে অন্যতম আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ রানের হারটি ছিল লঙ্কানদের জন্য টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ, আর এই পরাজয়ের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে কোচের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন লঙ্কান ক্রিকেট কিংবদন্তি সনৎ জয়সুরিয়া। সুপার এইটে একটি ম্যাচেও জয় না পাওয়ায় বিধ্বস্ত লঙ্কান ড্রেসিংরুমের এই হতাশাজনক পরিস্থিতির মাঝেই তিনি নিজের বিদায়ের ঘোষণাটি দেন। জয়সুরিয়া জানিয়েছেন, তাঁর মনে হয়েছে এখন দলের হাল ধরার জন্য অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে লঙ্কান দলের পূর্ণকালীন কোচের দায়িত্ব সামলানো জয়সুরিয়া আরও জানান, তিনি চেয়েছিলেন একটি বড় সাফল্য দিয়ে বিদায় নিতে। দুই মাস আগে ইংল্যান্ড সিরিজের সময় থেকেই তিনি দীর্ঘ মেয়াদে এই চাকরিতে না থাকার আভাস দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রত্যাশা ছিল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে ভালো কোনো অবস্থানে থেকে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। কিন্তু দলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হওয়ায় তিনি বেশ মর্মাহত। জয়সুরিয়ার মতে, শ্রীলঙ্কায় খেলা হওয়ায় এবার সেমিফাইনালে যাওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল, কিন্তু ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাথিশা পাথিরানার মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোট দলকে বেশ ভুগিয়েছে।

যদিও জয়সুরিয়ার চুক্তির মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত রয়েছে, তবে তিনি আর দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নন। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু চূড়ান্ত না হলেও খুব শীঘ্রই তিনি তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তাঁর মতে, বোর্ড যদি নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে পারে, তবে সেটিই করা উচিত। উল্লেখ্য, আগামী ১৩ মার্চ আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সেই সিরিজের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বিদায় বললেও জয়সুরিয়া অধ্যায়ের শুরুতে লঙ্কানরা বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। দেড় বছর আগে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে আট বা নয় নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কাকে তিনি চতুর্থ স্থানে তুলে এনেছেন। এমনকি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়েও দলের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে তাঁর কোচিংকালে। নিজের এই সফলতার কৃতিত্ব তিনি এককভাবে না নিয়ে তাঁর সহায়ক কোচিং স্টাফদের অসামান্য সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে লঙ্কান ক্রিকেটের এই পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে জয়সুরিয়ার প্রস্থান এক মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।


banner close