সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন উপদেষ্টার কাছে শরিফুলের চাওয়া

ফাইল ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৭:১৪

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পলায়নের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। ইতোমধ্যেই নিজের কাজও শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

কানাডার গ্লোবাল টি-টেয়েন্টি শেষ করে গতকাল মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নতুন উপদেষ্টাকে নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। নতুন উপদেষ্টার কাছে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘আসলে সবাই তো চায় ভালো কিছু, আমরাও ভালো কিছু চাইব ইনশাআল্লাহ৷’

এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘অবশ্যই রাওয়ালপিন্ডিতে আমরা আগে খেলা দেখছি যে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট। আমাদেরও ভালো ব্যাটার আছে, খেলাটা ফাইটিং হবে ইনশাআল্লাহ। ভালো একটা ফাইট ব্যাক দেওয়ার চেষ্টা করব।’

এরপর এই পেসার বললেন, ‘অবশ্য আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন যে দেশের অবস্থা কেমন। আমরাও যাচ্ছি পাকিস্তানে খেলতে। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করব যাতে ভালো কিছু করে জয় ছিনিয়ে আনতে পারি দেশের জন্য।’

শরিফুল কবে পাকিস্তান যাবেন এবং লাল বলে খেলা নিয়ে এই পেসার জানালেন, ‘আমি একটু দেরিতে করতেছি (লাল বলে প্র্যাক্টিস) একটু কষ্ট হবে। তবে চেষ্টা করব, অনেক সময় আছে এখনো। ইনশাল্লাহ সব কিছু ঠিক থাকলে কালকে যাচ্ছি মনে হয়।’


নির্বাচিত

পুরস্কারের মঞ্চে স্পেনের জয়জয়কার, এমবাপ্পের অনন্য রেকর্ড

ছবি কোলাজ- দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২০ জুলাই, ২০২৬ ১১:২১

কাতার বিশ্বকাপের সেই চিরচেনা দৃশ্যপট এবার বদলে গেল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ২০২২ সালে লুসাইল স্টেডিয়ামে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে হারিয়ে হাসি মুখে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন লিওনেল মেসি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে চিত্রনাট্যটা হলো ভিন্ন। এবার এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট জিতে নতুন ইতিহাস গড়লেও, ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বসেরার মুকুট ফিরে পেল স্পেন।

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল স্পেনের জয়
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পুরো ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের চাপে পিষ্ট আর্জেন্টিনা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল অসীম সাহসিকতায়। কিন্তু ১০৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ফেররান তোরেসের দুর্দান্ত এক গোল স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাসে ভাসায়। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।

মেসির অশ্রু এমবাপ্পের ইতিহাস
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় মাঠেই অঝোরে কাঁদলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে এবার তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে 'সিলভার বুট' নিয়ে। অন্যদিকে, ফ্রান্স সেমিফাইনালে বাদ পড়লেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১০ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে তিনি জিতেছেন 'গোল্ডেন বুট'। বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি এমবাপ্পের আগে আর কেউ করতে পারেননি। এই আসরেই তিনি কিংবদন্তি গার্ড মুলারের (১৯৭০) এক আসরে ১০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। এছাড়া বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে তিনি এখন টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

Kylian Mbappe Golden Boot: শুধুমাত্র সোনার বুটই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে এক  অনন্য ইতিহাস গড়লেন এমবাপে

সেরাদের সেরা রদ্রি
এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার 'গোল্ডেন বল' জিতেছেন স্পেনের মাঝমাঠের জেনারেল রদ্রি। ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মিডফিল্ডার পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন স্পেনের সাফল্যের মূল কারিগর। আসরে মোট ৭২৬ মিনিট খেলে ৬৯২টি নিখুঁত পাস দিয়েছেন তিনি (সাফল্যের হার ৯৪ শতাংশ)।

পুরস্কারে স্পেনের জয়জয়কার
বিশ্বকাপের প্রায় সব প্রধান পুরস্কারই এবার গেছে স্প্যানিশ শিবিরে। স্পেনের রক্ষণকে দুর্ভেদ্য বানিয়ে রাখা গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতেছেন 'গোল্ডেন গ্লাভ'। পুরো আসরে মাত্র ১টি গোল হজম করে ৭টি ক্লিন শিট রেখেছেন তিনি। এছাড়া টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন বিলবাওয়ের এই কিপার।

সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির হাতে। পুরো আসরে তার বাধা টপকে প্রতিপক্ষ মাত্র একবার বল জালে পাঠাতে পেরেছিল।
এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নতুন করে 'চ্যাম্পিয়নশিপ রিং' প্রথা চালু করেছে ফিফা। শিরোপার পাশাপাশি স্পেন দল পেয়েছে ৫ কোটি ডলার প্রাইজমানি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

একনজরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পুরস্কার জয়ীরা:

  • চ্যাম্পিয়ন: স্পেন (পুরস্কার: ৫ কোটি ডলার ও চ্যাম্পিয়নশিপ রিং)
  • রানার্সআপ: আর্জেন্টিনা
  • গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়): রদ্রি (স্পেন)
  • গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা): কিলিয়ান এমবাপ্পে (১০ গোল, ফ্রান্স)
  • সিলভার বুট: লিওনেল মেসি (৮ গোল, আর্জেন্টিনা)
  • ব্রোঞ্জ বুট: জুড বেলিংহাম (৭ গোল, ইংল্যান্ড)
  • গোল্ডেন গ্লাভ (সেরা গোলকিপার): উনাই সিমন (স্পেন)
  • সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়: পাউ কুবারসি (স্পেন)
  • ফাইনাল সেরা: ফেররান তোরেস (স্পেন)
  • ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড: নেদারল্যান্ডস


নির্বাচিত

গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাসে এমবাপ্পে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জালের দেখা না পেলেও অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। স্পেনের এই শিরোপা উল্লাসের রাতে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। তবে ফাইনালের এই মঞ্চে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইয়েও পিছিয়ে পড়েছেন মেসি, আর সেই সুযোগে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের করে নিয়ে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এবারের পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসি মোট ৮টি গোল করলেও ফাইনালে কোনো গোলের দেখা পাননি। অন্যদিকে, ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে আসরজুড়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে মোট ১০টি গোল করে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এমবাপ্পে জোড়া গোল (২টি) করে এই অসামান্য মাইলফলকে পৌঁছান। এর ফলে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন বুট পুরস্কারটি নিজের ঝুলিতে পুরে নেন এই গতিময় ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এই গোল্ডেন বুট জয়ের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার অভাবনীয় বিশ্বরেকর্ড এখন কেবল তাঁরই দখলে। এর আগে ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত খেলে ৮টি গোল করে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জিতে নিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত এমন ধারাবাহিক ও অতিমানবীয় পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যে রেকর্ডের ধারেকাছেও আপাতত আর কেউ নেই।

২০২৬ বিশ্বকাপের এই ১০ গোলের সুবাদে এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে মোট বিশ্বকাপ গোলের সংখ্যা এখন ২২-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার মাধ্যমেই তিনি রেকর্ডের পাতায় লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে যান। বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা যেখানে ২১টি, সেখানে ২২ গোল নিয়ে এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম শীর্ষ গোলদাতায় পরিণত হয়েছেন। দল চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও টুর্নামেন্টজুড়ে গোলবন্যা বইয়ে দিয়ে ব্যক্তিগত এই অসামান্য অর্জনগুলো এমবাপ্পেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি হিসেবে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


নির্বাচিত

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। ২০১০ সালের পর এটি তাদের প্রথম শিরোপা জয়। পুরো ম্যাচজুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলা স্পেন নির্ধারিত সময়ে গোল না পেলেও অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পায়। ১০৬তম মিনিটে (অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ২৭ সেকেন্ডে) পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের দারুণ অ্যাসিস্টে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির মারিও গোটজের পর এবার তোরেস পঞ্চম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য দেখাতে শুরু করে লা রোজারা। প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার বল পজেশন ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজ মিলে বল স্পর্শ করতে পেরেছেন মাত্র ১৭ বার। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠজুড়ে দাপট দেখিয়েছেন এবং ডিফেন্সেও তৃতীয় সেন্টার ব্যাকের ভূমিকা পালন করেছেন। লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল ও ফাবিয়ান রুইজরা বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণে ভীতি ছড়ালেও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তায় জাল অক্ষত থাকে। প্রথমার্ধে স্পেনের ৬৫ শতাংশ বল দখলের বিপরীতে আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি; উল্টো ৪১ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে রক্ষণভাগে আরও চাপ বাড়ে লিওনেল স্কালোনির দলের।

দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি দলে পরিবর্তন এনে নিকো গঞ্জালেজের বদলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামালেও তিনি নেমেই রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখে দলকে মারাত্মক চাপে ফেলেন। স্পেন আক্রমণ আরও শানিত করতে পেদ্রি, ফেরান তোরেস, মিকেল মেরিনো এবং নিকো উইলিয়ামসকে মাঠে নামায়। স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে আর্জেন্টিনা এতটাই কোণঠাসা ছিল যে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট না রাখতে পারার লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখায় তারা। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ দক্ষতায় স্পেনের বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে দলকে টিকিয়ে রাখলেও, নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে (৯০+৩) কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ৯৬ মিনিটের মাথায় বল জালে জড়িয়ে স্পেন উল্লাসে মাতলেও মেরিনো ওতামেন্দিকে ফাউল করায় ভিএআর-এর সাহায্যে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি আর্জেন্টিনার জন্য। ১০৬ মিনিটে দারুণ দলীয় বোঝাপড়ায় তোরেস বল জালে জড়ালে শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্কালোনির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনা নিজেদের রক্ষণ জমাট রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও স্পেনের কৌশলী এবং গতিশীল ফুটবলের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়, আর সেই সুবাদেই বিশ্ব ফুটবল পেয়ে যায় তাদের নতুন চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে।


নির্বাচিত

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের দাপট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং শক্তিশালী স্পেন। রুদ্ধশ্বাস এই ফাইনালের আগে মাঠের বাইরের আয়োজনও ছিল বেশ জমজমাট ও আকর্ষণীয়। দুই দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের দুই মহানায়ক—আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পেস এবং স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা মাঠে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আসেন এবং দর্শকদের সামনে সেটি উঁচিয়ে ধরেন। এরপর হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ মাঠে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। অস্কারজয়ী শিল্পী জেনিফার হাডসনের কণ্ঠে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে আরও পারফর্ম করেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী রবি উইলিয়ামস, নিকোল শেরজিঙ্গার ও লরা পাউসিনি।

ফাইনালের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ ও চাপের ম্যাচে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর দলে কোনো পরিবর্তন আনেননি। সেমিফাইনালের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে স্পেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন। নাহুয়েল মলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও জুলিয়ানো সিমিওনেকে বেঞ্চে বসিয়ে তাঁদের জায়গায় দলে ফিরিয়েছেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, রদ্রিগো দি পল ও নিকো গঞ্জালেজকে। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে দলের সেরা তারকাদের নিয়েই শক্তিশালী একাদশ সাজিয়েছেন বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে স্পেন। একেবারে শুরুর দিকেই দারুণ এক আক্রমণে গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ পেয়েছিল স্প্যানিশরা, কিন্তু লামিন ইয়ামাল গোল করতে ব্যর্থ হন। তাঁর সেই প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত মাঠজুড়ে কেবল স্পেনের দাপট ও পাসের প্রদর্শনীই দেখা গেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, বল পেতেই তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল এবং স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে তারা নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারছিল না।

বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো নিষ্প্রভ ও ছন্নছাড়া মনে হয়েছে। প্রথমার্ধে স্পেন যেখানে ৩টি শট নিয়ে ২টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। এর মধ্যেই মিকেল ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পরবর্তীতে ৪৪ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে তুলে নিয়ে তাঁর জায়গায় নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে নামান কোচ স্কালোনি। পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার ৬৫ শতাংশ বল দখলের কথা থাকলেও, প্রথমার্ধের পুরোটা সময় মাঠের দাপটে স্পেনই এগিয়ে ছিল এবং নিজেদের খুঁজে পেতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো সংগ্রাম করতে দেখা গেছে।


নির্বাচিত

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহরাব শাহরিয়ার অভি

রান তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল মন্থর। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই চড়াও হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। বাঁহাতি ব্যাটার ইমন ফিরলেও তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দেন দলনেতা তাওহীদ হৃদয়। ততক্ষণে জয়ের বন্দরেই অবস্থান করছিল টাইগাররা!

কিন্তু শেষ ওভারে দরকার যখন ৫ রান, তখন দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের স্বপ্ন দেখান ব্র্যান্ড ইভান্স। পেতে পারতেন হ্যাটট্রিকও! এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। কিন্তু বলটি ডেড ঘোষণা করেন আম্পায়ার। পরে আর ভুল করেননি মেহেদী। চার হাঁকিয়ে দলকে জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে সংগ্রহ করেছিল ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান। পরে সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে তানজিদ তামিমের ব্যাটে ভর করে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা।

১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। আর পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়া ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান।

তবে পরের উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে তোলেন ৫৫ রান। হৃদয়ের সঙ্গে তানজিদের জুটিটা ৬৩ রানের। ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় টাইগাররা। ইমন ও হৃদয় দুজনই ফিরেছেন ২৪ রান করে। আর আউট হওয়ার আগে ১০ রান করেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ ওভারে ফেরেন মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন।

এদিকে শেখ মেহেদীকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ। ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণের পর তিনি অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। এদিকে ৪ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী।

বুলাওয়েতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দলীয় ৬ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পায় স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রানে থামেন বেনেট।

এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মায়ার্স। তার ইনিংস থামে ৭২ রানে। ৫২ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।

এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কেউই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে যেতে পারেননি। দলনেতা সিকান্দার রাজা ৩, রায়ার্ন বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। আর মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন তিনজন বোলার।


নির্বাচিত

আইসিসির ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞায় পাকিস্তানি অলরাউন্ডার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ডোপিং বিধি ভঙ্গের দায়ে পাকিস্তানের ৩২ বছর বয়সী তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজকে তিন মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে। ডোপ টেস্টে নিষিদ্ধ গাঁজাসংশ্লিষ্ট উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ায় তাঁকে এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার আইসিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচের পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেখানেই মূলত এই নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়।

আইসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত সেই নমুনায় কার্বক্সি-টিএইচসি নামক উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি মূলত গাঁজার মনঃপ্রভাবকারী উপাদান টিএইচসির একটি বিপাকজাত অংশ, যাকে আইসিসির অ্যান্টি-ডোপিং বিধিমালায় 'সাবস্ট্যান্স অব অ্যাবিউজ' বা অপব্যবহারযোগ্য পদার্থ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে নওয়াজ তাঁর বিরুদ্ধে আনা ডোপিং বিধি ভঙ্গের এই অভিযোগটি অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আইসিসির কাছে এটিও প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, ওই নিষিদ্ধ উপাদানটি তিনি কোনো প্রতিযোগিতার সময় কিংবা মাঠে নিজের ক্রীড়া পারফরম্যান্স বৃদ্ধির অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। তাঁর এই স্বীকারোক্তি এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই শাস্তির মাত্রা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নওয়াজকে দেওয়া আইসিসির এই তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা গত ১ মে থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে, কারণ সেদিন থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়ে মাঠের বাইরে ছিলেন। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ইতোমধ্যে তাঁর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রায় আড়াই মাস সফলভাবে কাটিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া তিনি আইসিসি নির্দেশিত একটি বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে সম্মত হওয়ায় তাঁর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসন কর্মসূচির শর্তগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে পারলে তাঁর জন্য নির্ধারিত এই শাস্তির প্রক্রিয়াটি আরও মসৃণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে আইসিসির ডোপিং বিধিমালা অনুযায়ী এই শাস্তির একটি বড় প্রভাব পড়েছে নওয়াজের ব্যক্তিগত রেকর্ডের ওপর। গত ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ থেকে শুরু করে ১ মে পর্যন্ত তিনি যতগুলো ম্যাচ খেলেছেন, সেগুলোর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সব রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে শুরু করে সুপার এইট পর্যন্ত মোট সাতটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন নওয়াজ। টুর্নামেন্ট থেকে পাকিস্তান সুপার এইটে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি ব্যাট হাতে মাত্র ১৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৭টি উইকেট শিকার করেছিলেন, যা এখন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান থেকে মুছে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

ওমানে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ নারী হকি দল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অভাবনীয় ও দারুণ আনন্দের সংবাদ বয়ে এনেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ওমানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ এএইচএফ কাপ হকির ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী এই মেগা ফাইনালে শক্তিশালী কাজাখস্তানকে ২-০ গোলের পরিষ্কার ব্যবধানে পরাজিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফুটবলের বিশ্ব আসরের ডামাডোলের মধ্যেই মেয়েদের এই অবিস্মরণীয় আন্তর্জাতিক সাফল্য দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের উৎসবের আনন্দকে যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে হকির সংস্কৃতি বেশ পুরোনো এবং সমৃদ্ধ হলেও নারী হকির প্রচলন খুব বেশি দিনের নয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের মেয়েরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্তিমত্তার দারুণ প্রমাণ দিতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় নারী হকি দল প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল এবং সেখানেও তারা অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। এশিয়ান গেমসের বাছাই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতায় মূল এশিয়ান গেমসে খেলাও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী হকির এই ধারাবাহিক উত্থান দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

সিনিয়র জাতীয় দলের সেই অসামান্য সাফল্যের রেশ ধরেই এএইচএফ কাপ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে দল পাঠানোর সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। ফেডারেশনের এই আস্থার প্রতিদানও মেয়েরা মাঠে দিয়েছে কড়ায়-গণ্ডায়। এই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচেও না হেরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ দল। জানা গেছে, নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই স্কোয়াডে সিনিয়র জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা পুরো দলকে টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে এবং শিরোপা জয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


নির্বাচিত

সেপ্টেম্বরেই চূড়ান্ত হবে ভাগ্য: ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি মূল পর্বে খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন নিয়ে এখন ক্রিকেট অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপে মোট ১০টি দল সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে, যার মধ্যে আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে আগে থেকেই নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে রেখেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষদিকে আইসিসি র‍্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। যেহেতু আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে রয়েছে, তাই র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৯-এ থাকা দলগুলো সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে। এই সমীকরণে সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে বর্তমানে মূল লড়াইটা চলছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে। সর্বশেষ র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ অবস্থান করছে ৯ নম্বরে এবং ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ঠিক পরেই ১০ নম্বরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই সেপ্টেম্বরের আগে নিজেদের এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলেই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে টাইগাররা।

যদি সরাসরি মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে টেস্ট খেলুড়ে একাধিক দলকে কঠিন বাছাইপর্বের বাধা পার হতে হবে। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। বিগত আসরগুলোর মতোই এবারের বাছাইপর্বে মোট ১০টি দল অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারী এই দলগুলোকে শুরুতে দুটি ভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হবে। গ্রুপ পর্বের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে প্রতিটি গ্রুপ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ তিনটি করে দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘সুপার সিক্স’ রাউন্ড। এই বাছাইপর্বের শিরোপাধারী বা চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি টুর্নামেন্টের ১১তম দল হিসেবে মূল বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা পাকা করে নেবে। তবে বাছাইপর্ব খেলা মানেই যে দলগুলো মূল বিশ্বকাপে বা নতুন নিয়মের ‘সুপার সিরিজে’ খেলার সুযোগ পাবে, বিষয়টি তেমন নয়; এর জন্য দলগুলোকে নির্দিষ্ট ধাপ সাফল্যের সঙ্গে অতিক্রম করতে হবে।

আইসিসি এবার বিশ্বকাপের কাঠামোতে বেশ কিছু অভিনব পরিবর্তন এনেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ‘সুপার সিরিজ’। বাছাইপর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি বিশ্বকাপে গেলেও, রানার্সআপ অর্থাৎ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী দলগুলোকে নিয়ে টুর্নামেন্টের ঠিক আগেই ৩ দলের একটি বিশেষ ‘সুপার সিরিজ’ আয়োজন করবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই তিন দলের মধ্যকার লড়াইটি হবে বিশ্বকাপের সর্বশেষ বা ১২তম দল হিসেবে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা। সুপার সিরিজের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা সেরা দলটিকে নিয়ে মোট ১২ দলের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ আসর। আইসিসির এই নতুন কাঠামোর ফলে বাছাইপর্বে অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়ন হতে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোও বিশ্বকাপে যাওয়ার আরও একটি রোমাঞ্চকর সুযোগ পাবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২০২৭ বিশ্বকাপে ১৪টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে খেলানোর কথা থাকলেও, সম্প্রতি আইসিসি এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাছাইপর্ব ও সুপার সিরিজ পেরিয়ে আসা দলগুলোকে নিয়ে মোট ১২ দলের মূল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। মূল আসরে এই ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে বিভক্ত করা হবে। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল এবং বাকি দলগুলোর মধ্য থেকে সামগ্রিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা পরবর্তী সেরা একটি দল—সব মিলিয়ে মোট ৭টি দল জায়গা করে নেবে ‘সুপার সেভেন’ রাউন্ডে। এরপর সুপার সেভেনের দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হবে এবং এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল মর্যাদাপূর্ণ সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। আইসিসির এই নতুন ও পরিবর্তিত ফরম্যাট টুর্নামেন্টকে যেমন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে, তেমনি দর্শকদের জন্যও উপহার দেবে বাড়তি উন্মাদনা।


নির্বাচিত

২৭ ফেডারেশনে নতুন কমিটি, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও লেগেছে পরিবর্তনের বড় হাওয়া। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের ঠিক এক দিন আগে ২৭টি ক্রীড়া সংগঠনের (২৬টি ফেডারেশন ও ১টি মহিলা ক্রীড়া সংস্থা) নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। নবনিযুক্ত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কমিটি পুনর্গঠনের পর থেকেই অন্যান্য ফেডারেশনের পরিবর্তনের বিষয়টি জোর আলোচনায় ছিল। অবশেষে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত হওয়া এই কমিটিগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, নতুন এই কমিটিগুলোকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

নতুন ঘোষিত এই কমিটিগুলোতে বেশ কিছু চমকপ্রদ ও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদকে দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বা সেক্রেটারি করা হয়েছে; তবে বর্তমানে তিনিই একমাত্র সক্রিয় গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ায় এই পদে আসীন থেকে তাঁর পক্ষে আর জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না, যা দাবার সংকট আরও বাড়াতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, আরচ্যারি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ল্ড আরচ্যারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপলকে এবার এই ফেডারেশনের সভাপতি করা হয়েছে এবং সেক্রেটারি হয়েছেন সাবেক আরচ্যার তানভীর আহমেদ। এছাড়া সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেকের ছেলে, সাবেক ক্রিকেটার ও সংগঠক ইসতিয়াক সাদেককে হকি ফেডারেশনের এবং বিদায়ী কমিটির বিস্তর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মাহমুদুল ইসলাম রানাকে পুনরায় তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য ফেডারেশনের শীর্ষ পদগুলোতেও সাবেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এবং শুটিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম। সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না একই সঙ্গে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন। পাশাপাশি ভারোত্তোলনে এস এম কাজল, ব্যাডমিন্টনে হাসিবুর রহমান শাকিল, টেবিল টেনিসে সাইদুল হক সাদী, সাইক্লিংয়ে পারভেজ হাসান এবং জুডোতে নয়না চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যা নিরসনে সুপারিশ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের গঠন করা ২০ সদস্যের বিশেষ কমিটির সদস্য আলী ইমাম তপন (অ্যাথলেটিকস), নিয়াজ মোর্শেদ (দাবা) এবং সজলকে (সাঁতার) খোদ ফেডারেশনগুলোরই সাধারণ সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে।

ঘোষিত এই ২৭টি ফেডারেশনের বেশিরভাগই অলিম্পিক ডিসিপ্লিনের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আর্চারি, উশু, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, রেসলিং, কাবাডি, কারাতে, ক্যারম, খো খো, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, টেনিস, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ান্দো, দাবা, ফেন্সিং, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, ভারোত্তোলন, রাগবি, রোইং, শুটিং, সাইক্লিং, সুইমিং, হকি ও হ্যান্ডবল। তবে সব জায়গায় রাতারাতি পরিবর্তন আসেনি; অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেওয়া আগের কমিটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে স্ব স্ব পদে বহালও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি ও সেক্রেটারি এবং জিমন্যাস্টিকস, বক্সিং ও উশু ফেডারেশনের অন্যান্য পদে পরিবর্তন আনা হলেও সাধারণ সম্পাদক পদটি পুরোপুরি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অনিশ্চিত নাহিদ রানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের আগেই টাইগার শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে তরুণ গতিময় পেসার নাহিদ রানার চোট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পাওয়া চোটে তাঁর অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানানো না হলেও, নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী এই মহাগুরুত্বপূর্ণ সফরে তাঁর না থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বল হাতে নিজের কোটার সব ওভার পূর্ণ করতে পারেননি নাহিদ রানা। মাত্র ২.৩ ওভার বোলিং করার পরই চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ডানহাতি এই পেসার। পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি মূলত সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়েছেন। জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন যে রানা বর্তমানে দলের মেডিকেল টিমের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, সাইড স্ট্রেইনের এই চোট বেশ গুরুতর হওয়ায় বেশ লম্বা সময়ের জন্যই মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তরুণ এই গতিতারকাকে।

অস্ট্রেলিয়ার মতো পেস-বান্ধব ও কঠিন কন্ডিশনে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য পাঁচজন স্পেশালিস্ট পেসার নিয়ে স্কোয়াড সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। কিন্তু সিরিজের ঠিক আগে পেসারদের এমন চোট টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম আগে থেকেই ইনজুরির কারণে দলের বাইরে রয়েছেন। এবার সেই চোটের তালিকায় নাহিদ রানার নাম যুক্ত হওয়ায় টাইগারদের পেস আক্রমণভাগ নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ ও পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে।

নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে কপাল খুলতে পারে আরেক তরুণ পেসার মুশফিক হাসানের। বর্তমানে বাংলাদেশ 'এ' দলের অনুশীলন ক্যাম্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রতিভাবান পেসারকে রানার বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। মুশফিকের পাশাপাশি এই সফরের স্কোয়াডে পেস আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকতে পারেন অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ। তাঁর সঙ্গে স্কোয়াডে আরও জায়গা পেতে পারেন ডানহাতি পেসার খালেদ আহমেদ, ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা এবাদত হোসেন এবং হাসান মাহমুদ। সব মিলিয়ে চোটের ধাক্কা সামলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী পেস ইউনিট নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লড়াইয়ের ছক কষছে বাংলাদেশ।


নির্বাচিত

বিশ্বকাপ ফাইনাল: শিরোপা কার হাতে উঠবে জানাল এআই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৬
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে আজ রাতে। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পেন। এই হাইভোল্টেজ ফাইনাল ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে, তখন মাইক্রোসফট-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘কপিলট’ এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে। কপিলটের গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবার আর্জেন্টিনার শিরোপা অক্ষুণ্ণ রাখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে স্পেন।

কপিলটের দেওয়া সম্ভাব্য ফলাফল অনুযায়ী, ফাইনালে স্পেন ২-১ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই ম্যাচের গোলদাতাদের নাম ও সময় নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। তাদের মতে, স্পেনের হয়ে ২৪তম মিনিটে তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল এবং ৭৮তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবাল লক্ষ্যভেদ করবেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার পক্ষে একমাত্র গোলটি আসতে পারে ৫৭তম মিনিটে, যা অধিনায়ক লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে সফলভাবে সম্পন্ন করবেন।

ম্যাচের জয়-পরাজয় ছাড়াও সম্ভাব্য ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি-র নাম উল্লেখ করেছে কপিলট। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং খেলার ছন্দ নির্ধারণে রদ্রি-র অসাধারণ পারফরম্যান্সই স্পেনকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারে। যদিও ফুটবল মাঠের বাস্তবতা অনেক সময়ই গাণিতিক হিসাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেয়, তবুও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই পূর্বাভাস ফুটবল ভক্তদের মাঝে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার হাসি চওড়া হয়।


নির্বাচিত

স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ের আগে সতীর্থদের জন্য মেসির আবেগপ্রবণ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে স্পেনের মোকাবিলা করার ঠিক আগমুহূর্তে সতীর্থদের প্রতি এক বিশেষ ও আবেগঘন বার্তা প্রদান করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দলের সকল খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের একটি সম্মিলিত ছবি শেয়ার করে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চূড়ান্ত বিজয়ের চেয়েও এই দীর্ঘ পথচলায় একটি পরিবারের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করাটাই তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

সতীর্থদের উদ্দেশ্যে মেসি লিখেছেন, “এই বছরগুলোর সবচেয়ে সুন্দর বিষয় শুধু শিরোপা নয়, বরং পুরো যাত্রাটা। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিন কাটানো, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা। আমার সব সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং যারা প্রতিদিন এই দলটিকে একটি পরিবারের মতো ধরে রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আগামীকাল (আজ রাতে) যা-ই হোক না কেন, এই দল এমন এক ইতিহাস লিখেছে, যা কখনো মুছে যাবে না। ভামোস আর্জেন্টিনা!” বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে, যেখানে মেসির দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট দলের জয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।

ফুটবল প্রেমী ও বিশ্লেষকদের মাঝে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে যে, স্পেনের বিরুদ্ধে আজকের এই লড়াইটিই হতে পারে বিশ্বমঞ্চে মেসির শেষ পদচারণা। এমনকি এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে তাঁর সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের যবনিকাপাত ঘটার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা অবসর নিয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য না করে মেসি জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমানে কেবল বর্তমান নিয়েই ভাবছেন এবং দেশের মানুষকে আবারও আনন্দ উপহার দিতে পারাটাই তাঁর নিকট সবচেয়ে মূল্যবান প্রাপ্তি।

যদিও টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে বর্তমানে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এগিয়ে রয়েছেন, তবুও মেসির একমাত্র লক্ষ্য এখন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি স্বর্ণালী অধ্যায় যুক্ত করা। ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়েও দলের সাফল্য এবং শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতেই মেসি আজ রাতে জীবনমরণ লড়াইয়ে মাঠে নামবেন।


নির্বাচিত

মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মায়ামির মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এক নাটকীয় ইতিহাসের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া ফ্রান্সকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার গুরুদায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্সেই বিশ্বকাপের গোলদাতার ইতিহাস আজ নতুন করে লেখা হয়েছে। লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে এখন বিশ্বকাপের আসরে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এই ফরাসি স্ট্রাইকার।

দ্বিতীয় ভাগের খেলা শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় মাইকেল ওলিসের চমৎকার পাস থেকে গোল করে ফরাসি শিবিরে প্রাণ সঞ্চার করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমেই তিনি লিওনেল মেসির ২১ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড সেখানেই বিরতি নেননি। কিছুক্ষণ পর ওলিসের আরেকটি নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইংলিশ গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন। এর ফলে ব্যবধান ৪-৩-এ নেমে আসার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের ২২তম গোলটি উদযাপন করেন তিনি।

এই জোড়া গোলের সুবাদে আটটি ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসিকে হটিয়ে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ গোলদাতার রাজসিংহাসন দখল করলেন এমবাপ্পে। এর পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় চলমান আসরে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তিনি মেসিকে পেছনে ফেলেছেন। বর্তমানে আসরে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১০টি, যেখানে মেসির রয়েছে ৮টি গোল।

২০১৮ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নিজের প্রতিভা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন এমবাপ্পে। সেবার আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি ৪টি গোল করে ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দেন তিনি। চার বছর পর কাতারের ফাইনালে মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিক করেও অবশ্য আর্জেন্টিনার জাদুকর মেসিকে রুখতে পারেননি তিনি। টাইব্রেকারে হৃদয়বিদারক পরাজয়ের পর মেসিকে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে দেখেছিলেন তিনি।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে জাতীয় দলের জার্সিতে ক্লাবের মতো সাফল্য না পাওয়ায় মেসিকে নানা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে নিজের শেষ লগ্নে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন তিনি। ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের সেই ক্ষত মুছে দিয়ে ২০২২ সালে কাতার জয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন এই মহাতারকা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি বর্তমানে তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। তবে এমবাপ্পের গড়া এই নতুন ইতিহাস কতদিন অটুট থাকে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আগামী রবিবার যখন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিতে মাঠে নামবেন মেসি, তখন এমবাপ্পের ২২ গোলের রেকর্ড পুনরায় নিজের করে নেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ থাকবে এই আর্জেন্টাইন জাদুকরের সামনে।


নির্বাচিত

banner close