বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩

নতুন উপদেষ্টার কাছে শরিফুলের চাওয়া

ফাইল ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৭:১৪

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পলায়নের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। ইতোমধ্যেই নিজের কাজও শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

কানাডার গ্লোবাল টি-টেয়েন্টি শেষ করে গতকাল মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নতুন উপদেষ্টাকে নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। নতুন উপদেষ্টার কাছে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘আসলে সবাই তো চায় ভালো কিছু, আমরাও ভালো কিছু চাইব ইনশাআল্লাহ৷’

এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘অবশ্যই রাওয়ালপিন্ডিতে আমরা আগে খেলা দেখছি যে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট। আমাদেরও ভালো ব্যাটার আছে, খেলাটা ফাইটিং হবে ইনশাআল্লাহ। ভালো একটা ফাইট ব্যাক দেওয়ার চেষ্টা করব।’

এরপর এই পেসার বললেন, ‘অবশ্য আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন যে দেশের অবস্থা কেমন। আমরাও যাচ্ছি পাকিস্তানে খেলতে। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করব যাতে ভালো কিছু করে জয় ছিনিয়ে আনতে পারি দেশের জন্য।’

শরিফুল কবে পাকিস্তান যাবেন এবং লাল বলে খেলা নিয়ে এই পেসার জানালেন, ‘আমি একটু দেরিতে করতেছি (লাল বলে প্র্যাক্টিস) একটু কষ্ট হবে। তবে চেষ্টা করব, অনেক সময় আছে এখনো। ইনশাল্লাহ সব কিছু ঠিক থাকলে কালকে যাচ্ছি মনে হয়।’


মাঠে নামতে ‘প্রস্তুত’ নেইমার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। দলের প্রধান ট্যাকটিক্যাল সেশনেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। সতীর্থ গাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি জানিয়েছেন, নেইমার বর্তমানে খুব ভালো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় আছেন। ফলে চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচেই এই অভিজ্ঞ তারকার মাঠে নামার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সেলেসাও ভক্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বর্তমানে দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ার পর থেকে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি আর গায়ে জড়াতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নেইমারের সাম্প্রতিক সময়টা বেশ প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। সৌদি আরবের ক্লাব প্রো লিগ ঘুরে ব্রাজিলে ফিরেও চোটের কারণে তাকে ধুঁকতে হয়েছে। তবে গত বছর নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে ক্যারিয়ারে গতি ফেরাতে সচেষ্ট হন তিনি। চলতি বছর সান্তোসের হয়ে ১৫ ম্যাচে ৬টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করলেও গত ফেব্রুয়ারিতে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর কখনই টানা চারটি ম্যাচ খেলতে পারেননি বার্সেলোনার এই সাবেক মহাতারকা।

নানা আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও নেইমারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অবশ্য টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচে (মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়) মাঠের বাইরে বেঞ্চে বসেই দলের খেলা দেখতে হয়েছে তাকে। সোমবার স্কটল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে হওয়া ট্যাকটিক্যাল সেশনে নেইমারের তীব্রতা ও দারুণ পারফরম্যান্স দেখে সতীর্থ মার্তিনেল্লি বলেন, “সে খুবই উঁচু পর্যায়ের পারফরম্যান্স করেছে। আমাদের সাথে থাকার জন্য সে কতটা আগ্রহী, তা আপনারা দেখছেন। তবে সে মূল একাদশে খেলবে কিনা, এই সিদ্ধান্ত কোচের; কিন্তু আমি মনে করি সে এখন দারুণ অবস্থায় আছে।”


সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়েছে নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে সেনেগালকে টপকে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। মাঠের তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে বিজয়ী দলের হয়ে বিশ্বখ্যাত স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড এবং পরাজিত সেনেগালের হয়ে ইসমাইলা সার প্রত্যেকেই জোড়া গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে উঠলেও প্রথম গোলের দেখা মেলে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪৩তম মিনিটে সেনেগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালির রক্ষণভাগের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মার্কাস পেডারসেন। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (এডেড টাইম) আর্লিং হাল্যান্ডের একটি জোরালো শট গোলপোস্টে আঘাত করলে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় ভাইকিংসদের। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নরওয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচটি আরও বেশি গতিময় ও উত্তেজনায় রূপ নেয়। ৪৮তম মিনিটে দলের মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের একটি নিখুঁত থ্রু বল ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন আর্লিং হাল্যান্ড। তবে এর ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই (৫৩ মিনিটে) সাদিও মানের রক্ষণচেরা পাস থেকে গোল করে সেনেগালকে ম্যাচে ফেরান ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার। কিন্তু সেনেগালের এই আনন্দের স্থায়ীত্ব ছিল খুবই অল্প সময়। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে নরওয়েকে ৩-১ ব্যবধানে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন হাল্যান্ড।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া এড়াতে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে সেনেগাল। নরওয়ের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (এডেড টাইম) আবারও গোল পায় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্টে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের দারুণ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার। ব্যবধান ৩-২ হওয়ার পর সমতা ফেরাতে সেনেগাল সব শক্তি দিয়ে আক্রমণ চালালেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা সফলভাবে প্রতিহত করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।


পিছিয়ে পড়েও জর্ডানকে হারাল আলজেরিয়া, বিদায় নিশ্চিত জর্ডানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

খেলার ধারার বিপরীতে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে আলজেরিয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জর্ডানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল তারা। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে দারুণ লড়াই করার পরও এই হারের ফলে বিশ্বকাপ অভিষেকেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানের। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্র্যান্সিসকোয় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আলজেরিয়ার পক্ষে নাদির বেনবুয়ালি ও আমিন গুয়েরি একটি করে গোল করেন এবং জর্ডানের পক্ষে একমাত্র গোলটি আসে নিজার আল-রাশদানের পা থেকে।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়া আলজেরিয়া আজ শুরু থেকেই জর্ডানের ওপর আক্রমণাত্মক ফুটবলে চাপ সৃষ্টি করে। বিপরীতে, প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে হেরে যাওয়া জর্ডান নিজেদের রক্ষণভাগ জমাট রাখার দিকেই বেশি জোর দেয়। তবে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ এক গোলে জর্ডানকে এগিয়ে নেন নিজার আল-রাশদান। প্রথমার্ধে এই ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় আলজেরিয়াকে।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আলজেরিয়ার আক্রমণের ধার আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে জর্ডানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় বেশ কিছুক্ষণ তাদের হতাশ হতে হয়। অবশেষে ৬৯তম মিনিটে আলজেরিয়ার কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি আসে। দলের তারকা ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজের নিখুঁত কর্নার কিকে দারুণ এক হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়ান বদলি খেলোয়াড় নাদির বেনবুয়ালি। সমতায় ফেরার পর জর্ডান শিবিরে আরও চাপ সৃষ্টি করে আলজেরিয়া এবং এর ফলশ্রুতিতে ৮২তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর আলগা বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন আমিন গুয়েরি।

এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘জে’ গ্রুপের তিন নম্বরে অবস্থান করছে আলজেরিয়া। সমান ম্যাচে সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে দুই নম্বরে রয়েছে অস্ট্রিয়া। আর টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে শক্তিশালী আর্জেন্টিনা এবং একই সময়ে নকআউট পর্বে ওঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া।


মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

শুরুর পেনাল্টি মিসের ধাক্কা ও তীব্র হতাশা কাটিয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির জোড়া গোলের ওপর ভর করে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ড্যালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২-এর টিকিট কাটল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়ে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

ম্যাচের শুরুতেই চরম নাটকীয়তার জন্ম হয়। ৩ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্টিনেজ প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে পশের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেলে মাঠের রেফারি প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি। পরবর্তীতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR)-এর চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। Matches-এর ৮ম মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর সুবর্ণ সুযোগ পান মেসি। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাঁর নেওয়া শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়, যার ফলে পেনাল্টি মিসের হতাশায় ডোবে পুরো আর্জেন্টিনা শিবির।

পেনাল্টি মিসের পর ২১ ও ৩৩ মিনিটে মেসির দুটি দারুণ প্রচেষ্টা অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা গোললাইন থেকে প্রতিহত করলে প্রথমার্ধের বেশ কিছু সময় অস্বস্তিতে কাটে আলবিসেলেস্তেরা। তবে ৩৮ মিনিটে আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাঁ দিক থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সূত্রপাত করে পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে এক নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান মেসি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল পূর্ণ করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার একক রেকর্ড নিজের করে নেন মেসি।

১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়োর্ধের ৭৪ মিনিটে নিকোলাস গঞ্জালেসের একটি দারুণ হেড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। অস্ট্রিয়াও রক্ষণভাগ ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে (৯৫ মিনিটে) হুলিয়ান আলভারেসের গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে নেওয়া শট অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে, যদিও তখন বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন আগলে দাঁড়িয়েছিলেন।

মেসির প্রথম শটটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসলেও, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ডিফেন্ডার দানসোকে পরাস্ত করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির এই জোড়া গোলের ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানের মহিমান্বিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগেই পরের পর্ব বা নকআউট নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।


রেকর্ডের সিংহাসনে মেসি, বিশ্বকাপে একক সর্বোচ্চ গোলদাতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৬ ১০:৪৬
ক্রীড়া ডেস্ক

লিওনেল মেসি—নামটি যেন ফুটবলের সকল মহাকাব্যের শেষ কথা। ডালাস স্টেডিয়ামে আজ সোমবার রাতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ের দিনে মেসি কেবল আর্জেন্টিনাকে জেতাননি, বরং নিজেকে নিয়ে গেছেন এমন এক উচ্চতায়, যেখানে পৌঁছানো যেকোনো ফুটবলারের জন্য এক অলীক স্বপ্ন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে এখন এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন অলঙ্কৃত করছেন এই ফুটবল জাদুকর।


ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল কিছুটা বিষাদময়। ৯ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি, যা গ্যালারিজুড়ে এক লহমায় নীরবতা নামিয়ে আনে। এই মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ তিনটি পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডও নিজের নামের পাশে যোগ করেন তিনি। তবে ফুটবল ঈশ্বর যার জন্য রাজকীয় মঞ্চ সাজিয়ে রেখেছেন, তাকে কি আর একটি ব্যর্থতায় আটকে রাখা যায়? ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো পাস বুক দিয়ে নামিয়ে এক জাদুকরী ভলিতে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপান মেসি। এই গোলের মাধ্যমেই ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে ১৭ গোল নিয়ে ইতিহাসের চূড়ায় বসেন তিনি। তবে সেখানেই থামেননি; ম্যাচের ৯৪ মিনিটে জটলার ভেতর থেকে আরও একটি অসাধারণ গোল করে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন। এর মাধ্যমে তিনি পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি মার্তার বিশ্ব রেকর্ডকেও স্পর্শ করেন।


২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচেই মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫—উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল। এই জয়ের ফলে ‘জে’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে লিওনেল স্কালোনির দল। মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের দীর্ঘ দুই দশকের যাত্রা ডালাসে এসে যেন পূর্ণতা পেল। ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই বয়সেও মাঠে তাঁর গোলক্ষুধা যেন যেকোনো তরুণ তুর্কিকেও হার মানায়।


এই ম্যাচে গোল করে মেসি আরও বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী, যা এর আগে জাস্ট ফন্টেইন ও জেয়ারজিনহোর দখলে ছিল। এছাড়াও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০টি ভিন্ন ম্যাচে দলের প্রথম গোলদাতার কৃতিত্বও এখন তাঁর। যদিও পেনাল্টি মিসের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা দলগতভাবে এখন শীর্ষে (৫ বার), তবে ব্যক্তিগত অর্জনে মেসি সব সমালোচনার উর্ধ্বে। এই বিশ্বকাপেই মেসি যেভাবে শুরু করেছেন, তাতে ফুটবল বিশ্ব কেবল এক মহানায়কের শেষ বেলা উপভোগ করছে না, বরং নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে।


এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে বিধ্বস্ত করে নকআউট পর্বে ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রবৃষ্টির কারণে প্রায় ৪ ঘণ্টা দীর্ঘ হওয়া এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এই জয়ের ফলে ‘আই’ গ্রুপ থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল ফরাসিরা। ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে দিনটিকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোল করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করলেন সময়ের সেরা এই ফুটবলার।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলে ফ্রান্স। ফরাসিদের ১৯টি আক্রমণাত্মক শটের বিপরীতে ইরাক মাত্র ৪টি শট নিতে সক্ষম হয়। খেলার ১৪ মিনিটে মাইকেল অলিসের চমৎকার পাস থেকে বাম পায়ের শক্তিশালী শটে দলকে লিড এনে দেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১৫ গোল করে তিনি ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর পাশে বসেন। প্রথমার্ধের ১-০ ব্যবধানে থাকা অবস্থায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় এবং বিরতির পর তীব্র বজ্রপাতের কারণে খেলা ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট স্থগিত থাকে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্বিতীয়োর্ধের খেলায় আবারও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ইরাকি ডিফেন্ডার জায়েদ তাহসিনের একটি ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে উসমান দেম্বেলে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের দিকে। সহজ সুযোগ পেয়ে জালে বল পাঠাতে ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের ১৬তম গোলটি পূর্ণ করেন, যা মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমান। এমবাপ্পের সামনে এখন কেবল লিওনেল মেসি (১৮ গোল) রয়েছেন।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলে নিজেও জালের দেখা পান। মাইকেল অলিসের অ্যাসিস্ট থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে ইরাকের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন পিএসজির এই তারকা। বর্তমানে দুই ম্যাচে ৪ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। আগামী ২৬ জুন গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।


১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অবশেষে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। আগামী ২০২৭ সালের মে মাসের শেষ দিকে এই একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) বাইরে আয়োজিত এই দ্বিপক্ষীয় ম্যাচের সম্ভাব্য সময় চূড়ান্ত হলেও ভেন্যু নির্ধারণের বিষয়টি এখনও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে। তবে লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস অথবা ওভালেই এই একমাত্র টেস্টটি আয়োজন করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি লর্ডসের উইকেট নিয়ে ক্রিকেট মহলে বেশ সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক টেস্ট ম্যাচটি চার দিনে শেষ হলেও সেখানে খেলা হয়েছিল মাত্র ১৬৬ ওভার। এই অতিরিক্ত বোলিং সহায়ক উইকেটের কারণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচটি লর্ডস থেকে ওভালে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ফাইনাল ম্যাচটি যদি ওভালে স্থানান্তরিত হয়, তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই আয়োজন করা হবে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি টেস্ট খেলতে প্রথমে বাংলাদেশ সফরে আসবে ইংল্যান্ড দল, যার ভেন্যু ঢাকা ও চট্টগ্রাম। এরপর মার্চে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহাসিক ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে ইংলিশরা। এরপর মে মাসে নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই টানা নয়টি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে ইংল্যান্ডের। মূলত ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বেন স্টোকসদের জন্য লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দল সবশেষ ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল। দুই ম্যাচের সেই সিরিজে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল এবং বল হাতে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন বাংলাদেশ আবারও ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে, তখন ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক সফরের স্কোয়াড থেকে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বর্তমানে টেস্ট দলে সক্রিয় রয়েছেন উইকেটকিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।


স্পেনের পর উরুগুয়েকেও রুখে দিল লড়াকু কেপ ভার্দে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও এক লড়াকু রূপকথার জন্ম দিয়েছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এবার ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়েকেও রুখে দিয়েছে তারা। মায়ামির ঐতিহ্যবাহী হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘গ্রুপ এইচ’-এর অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয়ার্ধে অসাধারণ এক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয়বঞ্চিত করে গ্রুপ পর্বের নকআউট রেসে নিজেদের ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল কেপ ভার্দে।

খেলার শুরু থেকেই উরুগুয়ে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় কেপ ভার্দে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া কেভীন পিনার এক নিখুঁত ফ্রি-কিক সরাসরি উরুগুয়ের জালে আশ্রয় নেয়। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে কেপ ভার্দে। তবে প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় কোচ মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে। খেলার ৪৪তম মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এবং প্রথমার্ধের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৪৫+৫ মিনিট) আগুস্তিন কানোপিওর দারুণ গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় উরুগুয়ের দল ‘লা সেলেস্তে’।

বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধান ধরে রাখতে এবং জয় সুনিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উরুগুয়ে। তবে উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকারদের আক্রমণগুলোকে চমৎকারভাবে সামলে নেয় কেপ ভার্দের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ। রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি প্রতিআক্রমণ থেকে ম্যাচের ৬১তম মিনিটে উরুগুয়েকে স্তব্ধ করে দেন কেপ ভার্দের হেলিও ভারেলা। তাঁর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত উভয় দলই আরও কিছু আক্রমণ চালালেও দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল হয়নি।

উরুগুয়ের বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর ড্রয়ের পর ‘গ্রুপ এইচ’-এর সমীকরণ এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে ড্র করার পর এবার কেপ ভার্দের সাথেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় উরুগুয়ের পরের পর্বে যাওয়ার পথ কঠিন হয়ে গেল। এই ড্রয়ের পর দুই ম্যাচ শেষে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে—দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তালিকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছে উরুগুয়ে এবং তিন নম্বরে রয়েছে কেপ ভার্দে। চার পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে স্পেন এবং তলানিতে অবস্থান করছে সৌদি আরব। প্রথম ম্যাচে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে আটকানো এবং এবার উরুগুয়ের বিপক্ষে এই লড়াকু পয়েন্ট অর্জন কেপ ভার্দের জন্য বড় এক প্রাপ্তি।


বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে ইরানের লড়াকু ড্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২২তম স্থানে থাকা ইরানকে কাগজে-কলমে ‘আন্ডারডগ’ বলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে নরওয়ে বা মিসরের মতো শক্তিশালী দলগুলোর চেয়েও র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে তারা। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইরান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মাঠের বাইরে। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক সংঘাতের ছায়া তাদের বিশ্বকাপ অভিযানকে ঘিরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। ফুটবল বিশ্বের অধিকাংশ মনোযোগ যখন মাঠের বাইরে ইরানের রাজনীতি নিয়ে আবর্তিত হচ্ছিল, তখন লস অ্যাঞ্জেলেসের সবুজ গালিচায় ফুটবলের মাধ্যমে মোক্ষম জবাব দিল তারা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করা ইরান আজ রুখে দিয়েছে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে এক অসাধারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করতে সমর্থ হয় তারা। যুদ্ধের ময়দানে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার যে মানসিকতা ইরান দেখিয়েছে, তার প্রতিফলন যেন আজ মাঠের রক্ষণেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দ আজ অতিমানবীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। পুরো ম্যাচে তিনি ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন, যার প্রতিটিই ছিল দেখার মতো।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে বেইরানভান্দ এমন একটি গোল ঠেকিয়ে দেন যা সম্ভবত চলতি বিশ্বকাপের সেরা সেভ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেভিন ডি ব্রুইনা পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর থেকে আড়াআড়ি পাস বাড়িয়েছিলেন ম্যাক্সিম ডি ক্রুইপারের দিকে। ফাঁকা গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডি ক্রুইপারের জন্য গোল করাটা তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় গোলপোস্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচে ২৩টি আক্রমণ শট নিয়েও ইরানের এই লৌহকঠিন রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয় বেলজিয়ামের তারকারা।

ম্যাচটিতে জয় পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল ইরান। বিশেষ করে ৬৬ মিনিটে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউরোপীয় পরাশক্তিরা। এরপর ইরান বেশ কয়েকবার কাউন্টার অ্যাটাকে বেলজিয়ামের বক্সে ত্রাস সৃষ্টি করলেও গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি। এমনকি প্রথমার্ধে একটি দর্শনীয় গোলও করেছিল ইরান, যা দুর্ভাগ্যবশত অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও মানসিক চাপের পাহাড় মাথায় নিয়েও লড়াকু ফুটবল খেলে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে ইরান।


সালাহর জাদুতে ৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মিসরের প্রথম জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৬ ১০:১৬
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে মোহাম্মদ সালাহ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেলেও দেশের হয়ে তাঁর একটি বড় আক্ষেপ ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়। আজ সেই আক্ষেপ ঘুচল এবং ইতিহাস গড়ল মিসর। সালাহর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেল তারা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের এই ম্যাচে ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করে জয়ের নায়ক বনে যান ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

১৯৩৪ সালে যাত্রা শুরু করা মিসর এর আগে আরও তিনটি বিশ্বকাপে (১৯৯০, ২০১৮ এবং চলতি আসরের প্রথম ম্যাচ) অংশ নিলেও কখনো জয়ের মুখ দেখেনি। টানা ৯২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজেদের নবম প্রচেষ্টায় ঐতিহাসিক এই জয়টি ছিনিয়ে নিল ‘ফারাও’রা। ম্যাচে ৮৩ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থেকে সালাহ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করেন এবং ৫টি সুযোগ তৈরির পাশাপাশি গোলমুখে সর্বোচ্চ শট নিয়ে দলের আক্রমণের প্রাণভোমরা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন।

খেলার শুরুটা অবশ্য নিউজিল্যান্ডের অনুকূলেই ছিল। ১৫ মিনিটে ফিন সারম্যানের হেডে এগিয়ে যায় কিউইরা। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি মিসর। দ্বিতীয়ার্ধে খোলনলচে বদলে ফেলে তারা। ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। ঠিক ৯ মিনিট পর জিকোর সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিউজিল্যান্ডের জালে বল পাঠান মোহাম্মদ সালাহ। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি, যা এর আগে আবদেল ফাওজির (২ গোল) দখলে ছিল।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে সালাহর কর্নার থেকে বদলি খেলোয়াড় ত্রেজেগে আরও একটি দর্শনীয় গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মিসরের। এই জয়ের ফলে ‘জি’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা। অন্যদিকে ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা নিউজিল্যান্ডের জন্য নকআউট পর্বের পথটি বেশ কঠিন হয়ে পড়ল। বিশ্বকাপের আসরে ঐতিহাসিক প্রথম জয়ের পাশাপাশি পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো করল সালাহ ও জিকোরা।


সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে স্পেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা ভুলে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের চেনা রূপে ফিরেছে স্পেন। গ্রুপ ‘এইচ’-এ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশরা। এই দাপুটে জয়ের মধ্য দিয়ে ২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান নিজেদের দখলে নিয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এর আগে আসরের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পয়েন্ট হারিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তবে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ‘টিকিটাকা’ আর আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে তারা। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে আজ শুরুর একাদশে ফিরেই স্পেনের আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। ম্যাচের দশম মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন এই ফরোয়ার্ড।

প্রথম গোলের ধাক্কা সৌদি আরব সামলে ওঠার আগেই শুরু হয় ওয়ারজাবাল ঝড়। ম্যাচের ২১ এবং ২৪ মিনিটে মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে পর পর দুটি চোখধাঁধানো গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন রিয়াল সোসিয়েনদাদের এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরে নেয় স্পেন। এরপর দ্বিতীয়ার্থের শুরুতে ম্যাচের ৪৯ মিনিটে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার একটি জোরালো শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল-তামবাক্তি।

এই আত্মঘাতী গোলের পর ম্যাচের ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর সৌদি আরব রক্ষণভাগ কিছুটা সামলে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ স্পেনের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে স্পেন আরও একবার বল জালে পাঠালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR)-এর মাধ্যমে সেই গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ফলে ৪-০ ব্যবধানের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশরা। এই হারের পর গ্রুপের অন্য তিন দলের পয়েন্ট সমান ১ থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্পেন।


ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চট্টগ্রামে গেলেও ভেন্যু ও ফরম্যাট বদলের সাথে সাথে বদলে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স। ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল স্বাগতিকরা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য মান বাঁচানোর লড়াই। তবে এই ম্যাচেও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু চট্টগ্রামের রানবন্যার উইকেটেও ডট বল আর উইকেট হারানোর মহড়ায় লিপ্ত হন টাইগার ব্যাটাররা। দলের বিপর্যয়ের মুখে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের ৫১ বলে খেলা অপরাজিত ৬১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন রিশাদ হোসেন। অধিনায়ক হৃদয়ের এই লড়াকু ইনিংসের কল্যাণে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জা থেকে কোনোমতে মুক্তি পায় লাল-সবুজের দল।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল চরম বিপর্যয়কর। দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ১ রান করে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। একই ওভারের পঞ্চম বলে স্পেনসার জনসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার সাইফ হাসান (৯ বলে ১ রান)। পাওয়ার প্লে-তে ডট বলের মহড়া দিয়ে ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে নাথান এলিসের শিকার হন পারভেজ হোসেন ইমন। এর ফলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অন্তত ১০ বল খেলা ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেটের লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখান ইমন। পঞ্চম ওভার শেষে মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

পরবর্তীতে মিডল অর্ডারে নুরুল হাসান সোহান ৮ বলে ৬ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হন এবং শামীম পাটোয়ারী মাত্র ৩ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসা দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন হৃদয় ও রিশাদ জুটি। রিশাদ ১৪ বলে ১৬ রান করে আউট হওয়ার পর শরিফুল ও তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ৪৪ রান যোগ করেন হৃদয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন স্পেনসার জনসন। এছাড়া নাথান এলিস ও জাম্পা দুটি করে এবং নিখিল চৌধুরী একটি উইকেট লাভ করেন।

১১০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই শরিফুল ইসলামের বল থেকে ৪টি চারে ১৭ রান তুলে ঝোড়ো সূচনা করে অস্ট্রেলিয়া। অজি ওপেনার মিচেল মার্শ একাই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে মাত্র ২৮ বলে ৬০ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। মার্শের এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে মাত্র ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট শিকার করলেও তা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া কোনো অবদান রাখতে পারেনি।


১১ বলে ফিফটির বিশ্বরেকর্ড বৈভবের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন তিনি। মাত্র ১১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে ক্রিকেট ইতিহাসের রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লেখান এই বাঁহাতি বিস্ময়বালক।

ফাইনালে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করেন বৈভব। লঙ্কান বোলিং আক্রমণকে সম্পূর্ণ ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে প্রথম ১১ বলের মধ্যে ১০টি বলেই বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। রেকর্ড গড়ার এই ইনিংসে মাত্র একটি ডট বল খেলেন বৈভব, যার বিপরীতে তার ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ৫টি আকর্ষণীয় ছক্কা।

রেকর্ড ফিফটির পর শতকের দিকেও দারুণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এই তরুণ ওপেনার। তবে মাত্র ৬ রানের আক্ষেপ নিয়ে শতক বঞ্চিত হয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৯৪ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সাহান আরাচ্চিগের বলে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। মাঠ ছাড়ার আগে তার নামের পাশে যোগ হয় মোট ১০টি চার ও ৮টি ছক্কা।

চলতি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে অবশ্য নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বৈভব। এর আগের পাঁচটি ইনিংসে সুপার ওভারসহ ব্যাট করতে নেমে তিনি মাত্র তিনটি ছক্কা হাঁকাতে পেরেছিলেন। তবে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাই ৮টি ছক্কা মেরে নিজের আসল ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই উদীয়মান ক্রিকেটার।

উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচটিতে মাঠের আচরণ নিয়ে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন বৈভব। সুপার ওভারে ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর লঙ্কান ক্রিকেটার বিশেন হালাম্বাগেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ক্রিকেট মহলে তিনি বেশ সমালোচিত হন। মাঠের সেই বিতর্কের পর ফাইনাল ম্যাচে ব্যাট হাতে লঙ্কান বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে যেন সেই সমালোচনার জবাব দিলেন ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার।


banner close