সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
২১ আষাঢ় ১৪৩৩

নতুন উপদেষ্টার কাছে শরিফুলের চাওয়া

ফাইল ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৭:১৪

শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পলায়নের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। ইতোমধ্যেই নিজের কাজও শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

কানাডার গ্লোবাল টি-টেয়েন্টি শেষ করে গতকাল মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে এসেছিলেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নতুন উপদেষ্টাকে নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। নতুন উপদেষ্টার কাছে চাওয়া-পাওয়া নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘আসলে সবাই তো চায় ভালো কিছু, আমরাও ভালো কিছু চাইব ইনশাআল্লাহ৷’

এদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘অবশ্যই রাওয়ালপিন্ডিতে আমরা আগে খেলা দেখছি যে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট। আমাদেরও ভালো ব্যাটার আছে, খেলাটা ফাইটিং হবে ইনশাআল্লাহ। ভালো একটা ফাইট ব্যাক দেওয়ার চেষ্টা করব।’

এরপর এই পেসার বললেন, ‘অবশ্য আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন যে দেশের অবস্থা কেমন। আমরাও যাচ্ছি পাকিস্তানে খেলতে। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করব যাতে ভালো কিছু করে জয় ছিনিয়ে আনতে পারি দেশের জন্য।’

শরিফুল কবে পাকিস্তান যাবেন এবং লাল বলে খেলা নিয়ে এই পেসার জানালেন, ‘আমি একটু দেরিতে করতেছি (লাল বলে প্র্যাক্টিস) একটু কষ্ট হবে। তবে চেষ্টা করব, অনেক সময় আছে এখনো। ইনশাল্লাহ সব কিছু ঠিক থাকলে কালকে যাচ্ছি মনে হয়।’


শ্রেষ্ঠত্বের নতুন যুদ্ধে ইউরোপের পাওয়ার হাউজ বনাম আফ্রিকার গৌরব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ জুলাই, ২০২৬ ২৩:১৩
সোহরাব শাহরিয়ার অভি

ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আরও এক জমজমাট ও হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শেষ আটের মেগা লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং আফ্রিকার অন্যতম পরাশক্তি মরক্কো। আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ।

রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দুই দলই সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে এই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ফরাসিরা যেখানে নিজেদের শেষ ষোলোর ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের এক ঘাম ঝরানো ও কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে, সেখানে মরক্কো আরেক স্বাগতিক দেশ কানাডাকে ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সাথে শেষ আটের টিকিট কেটেছে।

প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৭০তম মিনিটে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে ডেডলক ভাঙে ফ্রান্স। মাঝমাঠের প্রধান ভরসা অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়ায় কোচ দিদিয়ের দেশমকে কিছুটা কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ঠিকই, তবে এমবাপ্পে, দেজিরে দুয়ে ও উসমান ডেম্বেলেদের নিয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

অন্যদিকে, কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও নিজেদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে ‘আটলাস লায়ন’ খ্যাত মরক্কো। কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে আজ্জেদিন উনাহির দুর্দান্ত জোড়া গোল এবং সুফিয়ান রাহিমির নিখুঁত ফিনিশিংয়ের পাশাপাশি ব্রাহিম দিয়াজের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স মরক্কো শিবিরকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রেখেছে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ এবং পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমির দারুণ বোঝাপড়া ফ্রান্সের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি গোলপোস্টের নিচে ইয়াসিন বুনোর মতো বাজপাখির উপস্থিতি এমবাপ্পেদের জন্য বড় এক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইউরোপের ট্যাকটিক্যাল ও গোছানো ফুটবল বনাম আফ্রিকার গতি ও কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর ফুটবলের এই ধ্রুপদী লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে শুক্রবার রাতের এই মহারণ পর্যন্ত।

দাপুটে জয়ে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমকের নাম ছিল মরক্কো। প্রথম কোনো আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলা আটলাস লায়নরা এবার সবার আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। দাপুটে পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলে জিতে বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক কানাডাকে বিদায় করেছে হাকিমি-দিয়াজ-উনাহিরা।

হিউস্টনের এনার্জি স্টেডিয়ামে মরক্কো-কানাডা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় বিশ্বকাপের শেষ ষোলো। যেখানে মরক্কোর হয়ে আজ্জেদিন উনাহি জোড়া এবং সুফিয়ান রাহিমি এক গোল করেছেন। আশরাফ হাকিমির দলের দখলে ছিল ৫৩ শতাংশ বল। এ ছাড়া তারা ৫ শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। বিপরীতে ১০ শটের ৩টি লক্ষ্যে ছিল কানাডার। তাদের বেশ কয়েকটি দারুণ আক্রমণ ঠেকিয়েছেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।

গোল না পেলেও মরক্কোর পরের দুটি গোলেই ছিল ব্রাহিম দিয়াজের অবদান। আফ্রিকার প্রথম কোনো ফুটবলার হিসেবে তিনি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় সেই রেকর্ড আরও উন্নীত করার সুযোগ আছে এই রিয়াল মাদ্রিদের তারকার সামনে।

অবশ্য ম্যাচের প্রথমার্ধে কানাডার তীব্র আক্রমণের চাপ সামলাতে হয়েছে মরক্কোকে। তবে বিরতির আগে আগে গোল পায়নি কেউই। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে তারা দারুণ এক পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে এগিয়ে যায়। আক্রমণে আশরাফ হাকিমি বক্সে ক্রস না তুলে বলটি পাস দেন উনাহির দিকে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট ঠেকাতে পারেননি কানাডা গোলরক্ষক ম্যাক্রিমে ক্রুপো।

সমতাসূচক গোলের খোঁজে কানাডা আক্রমণে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ৮২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে ফেলেন উনাহি। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাহিম দিয়াজ বক্সে ঢুকে বল বাড়ান তার দিকে। উনাহি শক্তিশালী শটে বল জালের ওপরের কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান সুফিয়ান রাহিমি। বক্সের ভেতর থেকে ঠাণ্ডা মাথায় তিনি বল জালে জড়িয়ে কানাডাকে চূড়ান্ত হতাশা উপহার দেন।

মরক্কোর জয়ে গোলরক্ষক ভূমিকা ছিল গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর। বিশেষ করে প্রথমার্ধে তানি ওলুওয়াসেই বক্সের ভেতরে চমৎকার টার্ন নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শট নিলে দারুণ দক্ষতায় সেটি প্রতিহত করেন বুনো। তার সেই সেভ মরক্কোকে গোল হজম করা থেকে রক্ষা করে। প্রথমার্ধে কানাডা একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও গোল করার মতো কার্যকারিতার অভাব ছিল স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যর্থতার মূল্য দিয়েই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

এমবাপ্পের গোলে কোয়ার্টারে ফ্রান্স

শেষ ৩২-এর ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে যে বিষাদের গল্প উপহার দিয়েছিল, ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ফ্রান্সের বিপক্ষেও ঠিক একই ছক কষে নেমেছিল প্যারাগুয়ে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিতে ডিফেন্সে রীতিমতো ‘বাস পার্ক’ করে ৫-৪-১ ফর্মেশন সাজিয়েছিলেন লাতিন দলটির কোচ।

ফরাসিদের ভয়ংকর আক্রমণভাগকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বোতলবন্দী করে রেখেছিল তারা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের ভেতর এক মুহূর্তের অসতর্কতা আর আত্মঘাতী ভুলের চড়া মাশুল দিতে হলো প্যারাগুয়েকে। তাদের সেই দুর্ভেদ্য দেওয়াল টপকে ঘামঝরানো জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স।

শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ‘লে ব্লু’রা। প্রথমার্ধের ডেডলক ভেঙে ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ‘জায়ান্ট কিলার’ মরক্কো, যারা সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের সামনে প্রথমার্ধে বিন্দুমাত্র সুবিধা করতে পারেনি এমবাপ্পে ব্রিগেড।

ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে প্যারাগুয়ের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি ফরাসিরা। ১৯৬৬ সালের পর এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এত দেরিতে প্রথম শটের দেখা পেল ফ্রান্স।

এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন বন্ধ্যাত্বের মুখে পড়েছিল তারা। প্রথমার্ধে এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের করা ২০টি ক্রসের একটিও প্রতিপক্ষের বক্সে বিপদ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ৩১ মিনিটে এমবাপ্পের হেড মিস আর ওসমানের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশায় পুড়তে হয় দেশমকে।

মাঝপথে এমবাপ্পেকে পেছন থেকে কুবেসের টেনে ধরা নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঠেই এক দফা ঠুকাঠুকি লেগে যায়, যা রেফারি এসে শান্ত করেন।

বিরতির পর ম্যাচের ৫২ মিনিটে পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স। প্রথমে মাইক মাইনানের লম্বা পাস ধরে ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে চলে যান এমবাপ্পে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্যারাগুয়ে ডিফেন্ডার কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে বল ক্লিয়ার করেন। সেই কর্নার থেকে উসমান দেম্বেলের শট কাঁপায় পাশের জাল। এর দুই মিনিট পর কোনের এক দূরপাল্লার রকেট গতির শট লাফিয়ে উঠে জালের ওপর দিয়ে পার করে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।

তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরে ৬৬ মিনিটে। প্যারাগুয়ের পেনাল্টি এরিয়ায় বদলি নামা ফরাসি ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়েকে ফাউল করে বসেন দিয়োগো গোমেজ। শুরুতে রেফারি এড়িয়ে গেলেও ভিএআর রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে বাধ্য হন। ৭০ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে পাঠিয়ে ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত ও নিচু শটে ফ্রান্সকে উল্লাসে ভাসান কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ৭ গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ২৭ বছর বয়সি এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির (২০ গোল) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ১৯ গোল করা এমবাপ্পে।

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া প্যারাগুয়ের মাউরিসিওর এক নিচু শট দুর্দান্ত ডাইভে রুখে দেন ফরাসি প্রাচীর মাইক মাইনান। ওদিকে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে এমবাপ্পের পরপর দুটি বুলেট গতির শট অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি প্যারাগুয়ে গোলকিপার গিল। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলের লিড ধরে রেখেই কোয়ার্টারে গেল ফ্রান্স।

অতীত পরিসংখ্যান

ফ্রান্স এবং মরক্কোর মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গভীর সম্পর্ক থাকলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে দল দুটির লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয়। তবে যখনই এই দুই দেশ একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে, মাঠের লড়াইয়ে বেশ উত্তেজনা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দল দুটির অতীত পরিসংখ্যান ও রেকর্ড বরাবরই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের পক্ষে কথা বলে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ (সেমিফাইনাল): ফ্রান্স এবং মরক্কোর মধ্যকার সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল ও ঐতিহাসিক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর, কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। সেই আসরে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কোর রূপকথার দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল ফ্রান্স। থিও হার্নান্দেজ এবং রান্ডাল কোলো মুয়ানির গোলে ২-০ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে ফাইনালে উঠেছিল ফরাসিরা। এই ম্যাচটিই তাদের মধ্যকার একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক অফিশিয়াল ম্যাচ।

২০০৭ সালের প্রীতি ম্যাচ: কাতার বিশ্বকাপের আগে এই দুই দলের সবশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৭ সালের নভেম্বরে, প্যারিসের স্তাদ দে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল। মরক্কোর হয়ে তারিক সেকতিউই ও ইউসেফ মোখতারি গোল করেছিলেন এবং ফ্রান্সের হয়ে সিডনি গোভু ও সামির নাসরি জালের দেখা পেয়েছিলেন।

অন্যান্য প্রীতি ম্যাচ: ২০০০ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্স ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে মরক্কোকে পরাজিত করেছিল। এছাড়া ১৯৯৯ সালে ফরাসিরা ১-০ গোলে এবং ১৯৮৮ সালে ২-১ গোলে মরক্কোর বিপক্ষে জয়লাভ করে। ১৯৯৮ সালে একটি টুর্নামেন্টে দল দুটির ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে মরক্কো জয় পেয়েছিল, তবে অফিশিয়াল রেকর্ডে সেটিকে ড্র হিসেবেই গণ্য করা হয়।


কেপ ভার্দের গোলে ইনফান্তিনোর ‘হতাশা’, আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে দারুণ এক চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল আসরের নবীন ও অভিষিক্ত দল কেপ ভার্দে। শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের ঘাম ঝরানো জয় নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল। তবে মিয়ামির এই জমজমাট ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কেপ ভার্দের গোলের পর মিয়ামি স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে বসে থাকা ইনফান্তিনোকে দৃশ্যত বেশ হতাশ হতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার প্রতি পরিষ্কার পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে।

মাঠের গ্যালারির রিঅ্যাকশনের পাশাপাশি ম্যাচের এক ফাঁকে দেওয়া ফিফা সভাপতির একটি সাক্ষাৎকারকে ঘিরেও এই বিতর্কের আগুন আরও উসকে ওঠে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যম ‘ডি-স্পোর্টস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো প্রথমে বেফাঁসভাবে বলে বসেন, ‘আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন, কারণ আজ রাতে হৃদয়...’ এরপরই হঠাৎ থেমে গিয়ে নিজের বক্তব্য সংশোধন করে তিনি যোগ করেন, ‘নিরপেক্ষ সমর্থকরাও দুই দলের জন্যই রোমাঞ্চ অনুভব করেছেন।’ তাঁর এই সংশোধিত বক্তব্যের আগের অংশটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের অনেকেই এটিকে আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফা সভাপতির প্রচ্ছন্ন সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমগুলোতে নানা ধরনের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একদল ফুটবল ভক্ত সরাসরি ফিফার মতো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগও দাবি করেন। তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ মূলত সামাজিক মাধ্যমের তাৎক্ষণিক ও আবেগিক প্রতিক্রিয়া; এগুলোর পক্ষে শক্তিশালী বা প্রমাণিত কোনো ভিত্তি নেই।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আসলে প্রসঙ্গের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। ইনফান্তিনোর পূর্ণ বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল মূলত ম্যাচটির অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা এবং নিরপেক্ষ দর্শকদের চরম উত্তেজনার কথা তুলে ধরা, আর্জেন্টিনার প্রতি কোনো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন প্রকাশ করা নয়। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও, লড়াকু ফুটবল ও হার না মানা মানসিকতা দেখিয়ে বিদায়বেলায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছে আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দে।


বরখাস্ত শান মাসুদ, অধিনায়ক বাবর আজম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও বড় ধরণের রদবদল। টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে শান মাসুদকে। তাঁর পরিবর্তে দ্বিতীয়বারের মতো সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বাবর আজমের ওপরই আস্থা রাখল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণার সময় পিসিবি অফিশিয়ালি এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

শান মাসুদের এই বিদায়ের মাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেটে একটি চরম হতাশাজনক ও লজ্জাজনক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। প্রায় তিন বছর আগে টেস্ট দলের দায়িত্ব পাওয়া মাসুদের অধীনে ১৬টি ম্যাচ খেলে ১২টিতেই হেরেছে পাকিস্তান। টেস্ট ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে আর কোনো অধিনায়ক নিজের প্রথম ১৬ টেস্টের মধ্যে ১২টিতে হারেননি। পাকিস্তানের হয়ে মাসুদের চেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া ১০ জন ক্রিকেটার থাকলেও, হারের সংখ্যায় তাঁর ওপরে আছেন কেবল মিসবাহ-উল-হক (৫৬ টেস্টে ১৯ হার)। এছাড়া মাসুদের নেতৃত্বে টানা সাতটি টেস্টে হেরে পাকিস্তান ক্রিকেটের যৌথভাবে সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড স্পর্শ করে দলটি।

মাসুদের অধিনায়কত্বের শুরুটা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ হারে পাকিস্তান, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম টেস্ট সিরিজ হারের লজ্জাজনক ঘটনা। মাসুদের অধীনে পাকিস্তানের একমাত্র সাফল্য ছিল সে বছরই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়। সেটিই ছিল তাঁর অধিনায়কত্বে খেলা সাতটি সিরিজের মধ্যে একমাত্র জয়, বাকি চারটিতেই হেরেছে পাকিস্তান। ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পয়েন্ট টেবিলে একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকে তারা। তবে অধিনায়ক হিসেবে দল ব্যর্থ হলেও ব্যাটার শান মাসুদ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর ব্যাটিং গড় ২৮.৫১ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪.০৬-এ, যার মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি ও সাতটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে।

যার কাছ থেকে মাসুদ একসময় দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেই বাবর আজমের কাছেই আবার ফিরে গেছে পিসিবি, যা মূলত দলটিতে যোগ্য বিকল্পের তীব্র অভাবকেই ফুটিয়ে তোলে। ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর থেকে বাবর তিন ফরম্যাটেই রান খরায় ভুগছেন, বিশেষ করে টেস্টে মাসুদের অধীনে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ২৭-এর কিছু বেশি। তবে অধিনায়ক হিসেবে বাবরের আগের রেকর্ড বেশ উজ্জ্বল। তাঁর নেতৃত্বে ২০টি টেস্টের মধ্যে ১০টিতেই জিতেছিল পাকিস্তান। এর মধ্যে রয়েছে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারানো এবং বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব। অধিনায়ক থাকাকালীন ব্যাটার বাবরের ফর্মও ছিল দুর্দান্ত (গড় ৫০-এর ওপরে)। অবশ্য সেই মেয়াদেও ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার মতো বড় লজ্জার ইতিহাস রয়েছে তাঁর।

এক অত্যন্ত ব্যস্ত সূচির মুখে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব নিলেন বাবর আজম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পরপরই ইংল্যান্ডের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান, যা ছয় বছরের মধ্যে সেখানে তাদের প্রথম সফর। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত শীতকালীন মৌসুম পার করতে হবে বাবরদের।

পাকিস্তানের ঘোষিত ১৭ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড:

বাবর আজম (অধিনায়ক), আমির জামাল, আবদুল্লাহ ফজল, আলী উসমান, আজান আওয়াইস, ইমাম-উল-হক, খুররম শাহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটরক্ষক), সাজিদ খান, সালমান আলী আগা, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ এবং উবাইদ শাহ।


ভারতের জার্সিতে বৈভবের অভিষেক, ভাঙল শচীনের রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বপ্নের অভিষেক হলো ১৫ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির একাদশে তাঁকে নিয়েই মাঠে নেমেছিল ভারত। এদিন উদীয়মান এই ক্রিকেটারকে জায়গা করে দিতে একাদশ থেকে বাদ পড়তে হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটার স্যাঞ্জু স্যামসনকে।

মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখলেন বৈভব। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের গড়া ১৬ বছর ২০৫ দিনের অভিষেকের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ফলে ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেকের রেকর্ডটি এখন শুধুই বৈভবের দখলে।

তবে নিজের অভিষেক ম্যাচটি ব্যাট হাতে খুব একটা রাঙাতে পারেননি এই তরুণ। মাত্র ১৭ রান করে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে।

বৈভবের এমন ঐতিহাসিক অভিষেক নিয়ে ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ওর খেলা সবাই দেখেছেন। দারুণ আত্মবিশ্বাসের সাথে সে বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছে। আমরা তাকে কোনো চাপে পড়ে খেলাচ্ছি এমনটি নয়।’

তরুণ এই ক্রিকেটারের মেধার প্রশংসা করে শ্রেয়াস আরও যোগ করেন, ‘সে এই একাদশে পুরোপুরি জায়গা পাওয়ার যোগ্য। সে একদমই চাপ নেয় না। তাকে দলে পেয়ে ভালো লাগছে। নেটে ওর ব্যাটিংই বলে দেয় ও কেমন। বর্তমানে দলে জায়গা পাওয়ার জন্য তুমুল লড়াই চলছে। গত দুই বছরে ভারত এতটাই মেধার দেখা পেয়েছে যা সত্যিই অভাবনীয়।’


ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে হতাহতদের জন্য মেসির প্রার্থনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো বিশ্ব। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭-এর বেশি মাত্রার এই প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১১ হাজার মানুষ। এই বিপর্যয়ের প্রায় দুই সপ্তাহ পর, চলমান বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের শেষে ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় মেসি বলেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলার সব মানুষকে একটি বড় বার্তা পাঠাতে চাই। আমরা জানি তারা বর্তমানে কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যারা চরম কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, যারা তাদের প্রিয়জনদের খুঁজে পাচ্ছেন না এবং কী হবে না হবে, তা নিয়ে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন—আমি তাদের সবার পাশে আছি। এখান থেকে তাদের সবার জন্য অনেক অনেক শক্তি ও প্রার্থনা রইল।’

মেসির এই বার্তার ঠিক আগের দিন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ভেনেজুয়েলার এই মানবিক বিপর্যয় নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে, ভূমিকম্পে পা হারানো আন্দ্রেস মিলেস নামের এক খুদে ভেনেজুয়েলান ভক্তের স্বপ্ন পূরণ করে বিশ্ববাসীর মন জয় করেছেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু আন্দ্রেসের একটিই ছোট্ট ইচ্ছা ছিল—তার বিশ্বকাপ অ্যালবামের জন্য প্রিয় তারকা রোনালদোর একটি অফিশিয়াল স্টিকার পাওয়া। রোনালদো কেবল সেই কাঙ্ক্ষিত স্টিকারটিই পাঠাননি, বরং সেই খুদে ভক্তের জন্য একটি বিশেষ ভিডিও বার্তাও পাঠিয়েছেন এবং তাকে নিজের খেলা দেখার জন্য সরাসরি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় রোনালদো বলেন, ‘এই যে আন্দ্রেস, কেমন আছো? তোমাকে একটি বড় হাগ (আলিঙ্গন) পাঠাতে এই ভিডিওটি তৈরি করছি। আমি জানি তুমি আমার অনেক বড় ভক্ত। আশা করি তুমি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। আমি তোমাকে আমার একটি ম্যাচে আমন্ত্রণ জানাতে চাই, যেন আমরা একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারি। তোমার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি। বন্ধু আমার, শক্ত থেকো।’


বিশ্বকাপের টিকিটের বাজারে বড় ধস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’ বা শেষ ষোলোর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলো মাঠে গড়ানোর আগেই টিকিটের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরণের ধস নেমেছে। ফুটবলপ্রেমীদের নজরকাড়া ও বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম হঠাৎ করেই বেশ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এর মধ্যে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং বেলজিয়ামের মধ্যকার হাইপ তৈরি করা ম্যাচটির টিকিটের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৩০ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। যদিও শেষ মুহূর্তে টিকিটের চাহিদা কিছুটা বাড়ায় একদম শেষ সময়ে এসে ফিফা বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতে পেরেছে।

আন্তর্জাতিক টিকিটের মূল্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘টিকিটডাটা ডটকম’ এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিয়াটলে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য গত ১ জুনে প্রায় ৪ হাজার মার্কিন ডলারে (প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা) উঠেছিল। তবে ব্ল্যাক মার্কেট ও ওপেন মার্কেটে টিকিটের চাহিদা কমায় কয়েক দিনের ব্যবধানে তা নাটকীয়ভাবে নেমে আসে ১ হাজার ৫৪৯ ডলারে। পরবর্তীতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর টিকিটের বাজারে পুনরায় কিছুটা গতি ফেরে।

গত শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের অফিশিয়াল মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৮৩৬ ডলার। তবে টিকিট বাজারের সেই ঊর্ধ্বগতি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। গতকাল শনিবার বিকেলে টিকিটের দাম আবার হুড়মুড় করে নেমে আসে ১ হাজার ৪২৩ ডলারে, যা আগের তিন দিনের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কম। তবে শনিবার সন্ধ্যার পর শেষ মুহূর্তের টিকিট ক্রেতাদের চাপে দাম সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৬৩৫ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়।

টিকিটের বাজারে এত বড় ধস নামার পরও শেষ ষোলোর মোট আটটি ম্যাচের মধ্যে টিকিটের চড়া মূল্যের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এই যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচটি। এই মুহূর্তে বৈশ্বিক বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিট; যেখানে খেলা দেখার জন্য একটি সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার ৫৭৪ মার্কিন ডলার। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচের টিকিটের দামে এত বড় পতন বেশ অপ্রত্যাশিত। কারণ বেলজিয়াম ফুটবল দলের মূল বেস ক্যাম্পটি সিয়াটলের খুব কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত এবং সিয়াটলের মাঠে এটি বেলজিয়ামের তৃতীয় ম্যাচ। ফলে এই ম্যাচে গ্যালারি ভর্তি রেকর্ড দর্শক উপস্থিতি হবে বলেই আগে থেকে ধারণা করা হচ্ছিল।

অন্যদিকে, শেষ ষোলোর অন্য মেগা ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও চড়া মূল্যের রেকর্ড ছুঁতে পারছে না। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য এখন ১ হাজার ৫৯৯ ডলার। ল্যাটিন পরাশক্তি ব্রাজিল বনাম নরওয়ে ম্যাচের টিকিট ১ হাজার ৫৩৭ ডলার এবং ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যকার মহোৎসবের টিকিট শুরু হচ্ছে মাত্র ১,৩৬৭ ডলার থেকে। অর্থাৎ, প্রাথমিক গ্রুপ পর্বের মতো নকআউট পর্বেও দর্শকদের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সেই চিরচেনা চড়া বা আকাশচুম্বী আগ্রহ না থাকায় টিকিটের অতিরিক্ত প্রিমিয়াম বা চড়া দাম আদায় করতে পারছে না ফিফা। এছাড়া গতকাল শনিবার মরক্কোর কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া স্বাগতিক কানাডার সেই ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্যও শেষ ৭২ ঘণ্টায় প্রায় ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল।


ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কে জিতবে, জানাল বিড়াল ও সুপার কম্পিউটার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪২
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের ‘হেক্সা’ মিশনে থাকা ব্রাজিলের সামনে এবার শেষ ষোলোর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই পরিসংখ্যান আর ভবিষ্যদ্বাণীর লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বে।

সুপার কম্পিউটার ও জ্যোতিষী বিড়ালের বাজি:
বিখ্যাত পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’-র সুপার কম্পিউটার ২৫ হাজার বার এই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি সিমুলেশন করে জানিয়েছে, জয়ের সম্ভাবনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ব্রাজিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ, বিপরীতে নরওয়ের সম্ভাবনা মাত্র ২২.৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওরা ৬৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে ফেবারিট।

একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ‘জ্যোতিষী’ বিড়াল মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীতেও। মালিক নাতান পিনহেইরোর রাখা দুটি খাবারের বাটির মধ্যে ব্রাজিলের বাটিটিই বেছে নিয়েছে মিলু। যদিও আগের দিন আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে মিলুর পূর্বাভাস প্রথমবারের মতো ভুল প্রমাণিত হয়েছিল, তবুও ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ায় সমর্থকদের বড় একটি অংশ এখনো বিড়ালটির ওপর আস্থা রাখছে।

ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের লড়াই:
ব্রাজিলের জন্য শেষ ষোলোর মঞ্চটি যেন নিজেদের ঘরবাড়ি। শেষ ১০টি শেষ ষোলোর ম্যাচের ৯টিতেই জিতেছে তারা। তবে তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ। ২০০২ সালের ফাইনালের পর নকআউট পর্বে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে গেলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে সেলেসাওরা; গত ছয়টি নকআউট ম্যাচে ইউরোপীয় দলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

অন্যদিকে, মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস আবার নরওয়ের পক্ষে। এ পর্যন্ত দুই দলের চারবারের দেখায় দুটিতে জয় ও দুটিতে ড্র করেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষবার দেখা হওয়ার সময়ও ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ভাইকিংরা।

হালান্ড বনাম গিমারায়েস:
নরওয়ের প্রধান অস্ত্র বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করা হালান্ড এই ম্যাচে গোল করলেই ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির পর প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচের প্রতিটিতে গোলের বিরল কীর্তি গড়বেন। তাকে বল যোগান দেবেন ফর্মে থাকা অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড।

ব্রাজিল শিবিরে লাইমলাইটে আছেন ব্রুনো গিমারায়েস। চলতি আসরে ৪টি অ্যাসিস্ট করে তিনি কিংবদন্তি পেলের ১৯৭০ সালের (৬টি অ্যাসিস্ট) রেকর্ড ছোঁয়ার পথে রয়েছেন। জাপানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলেও অবদান ছিল গিমারায়েসের। তবে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সাম্প্রতিক ফর্ম কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে; ১৯৯৮ সালের পর চলতি আসরেই তারা গোলমুখে সবচেয়ে কম শট নিয়েছে।

কোয়ার্টার ফাইনালের সমীকরণ:
আজকের ম্যাচে যে দলই জিতবে, সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা স্বাগতিক মেক্সিকো। পেলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা গিমারায়েস আর ছন্দে থাকা মার্টিনেল্লিরা কি পারবেন সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করতে? নাকি হালান্ডের নরওয়ে তৈরি করবে নতুন কোনো রূপকথা—তার উত্তর মিলবে আজ রাতের মাঠের লড়াইয়েই।


যে কারণে মেক্সিকোর বিপক্ষে ‘ভায়াগ্রা’ হতে পারে ইংল্যান্ডের সহায়ক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে কোচ থমাস টুখেলের দলের জন্য মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক পরিবেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের পাতলা বাতাস ও অক্সিজেনের স্বল্পতা ইংলিশ ফুটবলারদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

উচ্চতার ধকল সামলাতে ‘ভায়াগ্রা’ কৌশল:
উচ্চতাজনিত কারণে অ্যাথলেটদের শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এই প্রতিকূলতা সামলাতে চিকিৎসাগত বিকল্প হিসেবে হ্যারি কেইনদের সামনে ‘ভায়াগ্রা’ (সিলডেনাফিল) ব্যবহারের পথ খোলা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কিংবা বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা ওয়াডার (WADA) নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় এটি না থাকায় ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই। পর্তুগালের ক্রীড়া সাময়িকী ‘আ বোলা’ এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ তাদের প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছে।

ক্রীড়া বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভায়াগ্রার ভূমিকা:
সাধারণত যৌন অক্ষমতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও উঁচুতে খেলার ক্ষেত্রে এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ভিন্ন। এর মূল উপাদান ‘সিলডেনাফিল’ ফুসফুসের রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে পাতলা বাতাসেও ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহের গতি বাড়ে এবং অ্যাথলেটরা সহজে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, কোনো প্রকার যৌন উদ্দীপনা ছাড়া কেবল শারীরিক পরিশ্রমের সময় এই ওষুধ সেবন করলে কোনো বিব্রতকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে না। এর আগে ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ক্লাব ‘ইউনিয়ন দে সান্তা ফে’ ইকুয়েডরের ২,৮৫০ মিটার উঁচুতে খেলার সময় সফলভাবে এই কৌশল ব্যবহার করেছিল।

আজতেকার অতীত ইতিহাস ও মেক্সিকোর দুর্গ:
শুধুমাত্র উচ্চতাই নয়, আজতেকা স্টেডিয়ামের অতীত ইতিহাসও ইংলিশদের ভীতি বাড়াচ্ছে। ৪০ বছর আগে এই মাঠেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড, যে ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল। চার দশক পর আজতেকার সেই পুরোনো ক্ষত সারানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবেন হ্যারি কেইনরা।

অন্যদিকে, আজতেকা স্টেডিয়াম মেক্সিকোর জন্য এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। এই মাঠে খেলা নিজেদের শেষ ৮৯টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে হেরেছে তারা, যার সর্বশেষটি ছিল ২০১৩ সালে।

সমর্থকদের উৎপাত টুখেলের মন্তব্য:
মাঠের লড়াইয়ের আগেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় মেক্সিকান সমর্থকরা। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইংলিশ ফুটবল ফেডারেশন দলের হোটেলের নাম গোপন রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু মেক্সিকান সমর্থকরা ঠিকই হোটেল ও টিম বাস শনাক্ত করে তীব্র হট্টগোল ও দুয়ো দেওয়া শুরু করে।

প্রতিপক্ষের সমর্থকদের এই উৎপাত ও মানসিক চাপ সামলাতে ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল হালকা ছলে রসিকতা করে বলেন, “মেক্সিকান সমর্থকরা যদি আমাদের রাতে ঘুমাতে না দেয়, তবে খেলোয়াড়রা কানে প্লাগ গুঁজে ঘুমাবে!”

উচ্চতার প্রাকৃতিক বাধা, ইতিহাসের পুরোনো ভূত এবং স্বাগতিক সমর্থকদের তুমুল উন্মাদনা সব প্রতিকূলতা জয় করে হ্যারি কেইনরা শেষ আটের টিকিট কাটতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


কানাডার স্বপ্নভঙ্গ, সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন ছিল কানাডার। কিন্তু সেই স্বপ্নে দেয়াল হয়ে দাঁড়াল গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। আজ্জেদিন ওউনাহির জোড়া গোল এবং সুফিয়ান রাহিমির শেষ মুহূর্তের লক্ষ্যভেদে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মরক্কো। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে অবশ্য দাপট ছিল কানাডারই। গোলশূন্য প্রথমার্ধে মরক্কোর সঙ্গে বলের দখল ও আক্রমণে সমানে সমান পাল্লা দেয় স্বাগতিক দেশটি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ না করলে বিরতির আগেই এগিয়ে যেতে পারত কানাডা।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল মরক্কো। ম্যাচের ২২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এবারের আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইসমাইল সাইবারি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সুফিয়ান রাহিমি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘অ্যাটলাস লায়নরা’। ৪৯ মিনিটে (মতান্তরে ৫০ মি.) দুর্দান্ত এক সেট পিস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন আজ্জেদিন ওউনাহি। বক্সের বাইরে ডান দিক থেকে আশরাফ হাকিমির নেওয়া ফ্রি-কিক খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা ওউনাহিকে। মাটি কামড়ানো জোরালো শটে কানাডার রক্ষণ ও সতীর্থ রাহিমির পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।

পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। কিন্তু সেই সুযোগে মরক্কো তাদের প্রিয় অস্ত্র ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ম্যাচের ৮২ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের ভেতর দারুণ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ওউনাহি। এই গোলেই কানাডার ম্যাচে ফেরার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে কানাডার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন সুফিয়ান রাহিমি। এবারও বলের যোগানদাতা ছিলেন ব্রাহিম দিয়াজ। মাঝমাঠ থেকে দিয়াজের পাস খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা রাহিমিকে। গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি তিনি। ফলে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।

সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা মরক্কো সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে শক্তিশালী ফ্রান্সের। আজ রাতেই শেষ ষোলোর অন্য ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। ওই ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষেই মাঠে নামবে মরক্কো।

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে প্রথম জয় পাওয়ার পর নকআউট পর্বেও ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল কানাডার সামনে। তবে মরক্কোর অভিজ্ঞ ফুটবল ও কৌশলের কাছে হার মেনেই বিদায় নিতে হলো তাদের।


উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিলাডেলফিয়ার ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র দাবদাহে লিঙ্কন ফাইনান্সিয়াল ফিল্ডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এক অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে মূলত রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রায় আটকে দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ১-০ ব্যবধানের এই জয়ে শেষ হাসি হেসে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। ফিলাডেলফিয়ার উত্তপ্ত আবহাওয়ার পাশাপাশি ম্যাচজুড়ে ছড়িয়েছিল স্নায়বিক উত্তেজনা; একের পর এক কঠিন ট্যাকল, তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতিতে ম্যাচটি বেশ কয়েকবার বিঘ্নিত হয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ের কৌশল ছিল ‘আগে দরজা বন্ধ’ নীতি। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের দখলে বলের নিয়ন্ত্রণ প্রায় ৯০ শতাংশ থাকলেও প্যারাগুয়ের পাঁচ ডিফেন্ডারের গড়া দুর্ভেদ্য রক্ষণ দেয়াল ভেদ করতে এমবাপ্পে-ওলিসেরা ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে কোনো দলই লক্ষ্যভেদী শট নিতে পারেনি, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বিরল এক পরিসংখ্যান। খেলার গতিপথে উত্তাপ ছড়ায় ৩৫ মিনিটে, যখন এমবাপ্পের ওপর করা একটি ট্যাকলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছিল যে, কোচ দিদিয়ের দেশমকে নিজে খেলোয়াড়দের শান্ত করতে মাঠে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

খেলার মোড় ঘুরে যায় ৭০ মিনিটে। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ দেশম ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে দেজিরে দুয়েকে মাঠে নামালে ফরাসি আক্রমণের ধার বাড়ে। বক্সে ঢুকে পড়া দুয়েকে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার দিয়েগো গোমেজ অবৈধভাবে বাধা দিলে রেফারি ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে এমবাপ্পে চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সমান সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল পূর্ণ করলেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন।

শেষ দিকে প্যারাগুয়ে গোল শোধে মরিয়া হলেও ফরাসি রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারেনি। উল্টো ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় ফ্রান্স, তবে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল অসীম দক্ষতায় এমবাপ্পের কয়েকটি শক্তিশালী শট রুখে দিয়ে হারের ব্যবধান সীমিত রাখেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও খেলোয়াড়দের মধ্যে রেষারেষি বজায় ছিল। নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে বরং শারীরিক শক্তির লড়াই ও ট্যাকটিক্যাল কৌশলের প্রাধান্য থাকা এই ম্যাচে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আগামী ১০ জুলাই মরক্কোর মুখোমুখি হবে এমবাপ্পের দল।


বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে দল ঘোষণা জিম্বাবুয়ের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে জিম্বাবুয়ে। সদ্য শেষ হওয়া একমাত্র টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার ওয়ানডে সিরিজের দলে চার ক্রিকেটারকে ফিরিয়েছে স্বাগতিকরা। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান স্বাগতিকরা।

জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে দলে ফিরেছেন ইনোসেন্ট কাইয়া, রায়ান বার্ল, তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন কাইয়া। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন কাইয়া। ক্যারিয়ারের দুই সেঞ্চুরির দুটোই করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। এর আগে বাংলাদেশ সফরে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়েও ওয়ানডেতে শতকের দেখা পেয়েছিলেন এই ওপেনার।

এদিকে টেস্ট ম্যাচ না খেললেও ওয়ানডে দলে আছেন জিম্বাবুয়ের তারকা অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। এছাড়া রায়ান বার্লও সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে ‘এ’ দলের হয়ে ৫০ ও ২০ রান করায় দলে ফিরেছেন। গত মার্চে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুটি শতক করেছিলেন তিনি

গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল জিম্বাবুয়ে। সেই দল থেকে বাদ পড়েছেন ব্রেন্ডন টেলর, শন উইলিয়ামস, জনাথন ক্যাম্পবেল, টনি মুনিয়োঙ্গা ও ট্রেভর গওয়ান্ডু। এছাড়া মাদকাসক্তির পুনর্বাসন কর্মসূচিতে থাকা শন উইলিয়ামসকেও রাখা হয়নি এই দলে।

আগামী ৬ জুলাই ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। একই ভেন্যুতে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ যথাক্রমে ৯ ও ১১ জুলাই মাঠে গড়াবে।

জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে দল

রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্র্যাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাদান্দে (উইকেটকিপার), ওয়েসলি মাধেভেরে, তাদিওয়ানাশে মারুমানি (উইকেটকিপার), ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, আর্নেস্ট মাসুকু, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান নিয়ামহুরি ও সিকান্দার রাজা।


যুব বিশ্বকাপের লক্ষ্যে ৩০ ক্রিকেটার নিয়ে শুরু হচ্ছে ক্যাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৫
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারেনি বাংলাদেশ যুব দল। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই হতাশাজনক বিদায় নিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল আজিজুল হাকিম তামিমের দলকে। বিশ্বমঞ্চের সেই ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে এবং আগামী যুব বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ইতিমধ্যেই সফলভাবে শেষ হয়েছে ঘরোয়া ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ । এরপর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ৪৫ জন উদীয়মান ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেনিং সেশনও পরিচালনা করা হয়েছে। জুনিয়র টাইগারদের সাবেক লঙ্কান প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হওয়ায়, এবার যুব দলের হাল ধরার জন্য নতুন প্রধান কোচ হিসেবে সাবেক জাতীয় দলের ওপেনার হান্নান সরকারকে নিয়োগ দিয়েছে বোর্ড। নতুন এই কোচের অধীনেই আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে যুবাদের বহুল প্রতীক্ষিত অফিশিয়াল স্কিল ক্যাম্প।

ঢাকার অদূরে সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) টানা ২১ দিনব্যাপী এই নিবিড় ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক অনূর্ধ্ব-১৯ দল গঠনের লক্ষ্যে মোট ৩০ জন প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের স্কিল ক্যাম্প। যেখানে যুব ক্রিকেটাররা কন্ডিশনিংয়ের পাশাপাশি তাদের ব্যাটিং টেকনিক, বোলিং বৈচিত্র্য এবং আধুনিক ফিল্ডিংয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে কোচদের অধীনে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন। মূলত ২০২৮ যুব বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ কোর টিম তৈরি করাই এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য।

বিসিবি যুব ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে হান্নান সরকারের কোচিং প্যানেলে একঝাঁক অভিজ্ঞ দেশি কোচকে যুক্ত করেছে। প্রধান কোচ হান্নান সরকার ছাড়াও যুবাদের বোলিংয়ের ধার বাড়াতে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন সাবেক জাতীয় দলের পেসার ডলার মাহমুদ। এছাড়া তরুণদের ফিল্ডিংয়ে চটপটে করে তুলতে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সেলিম এবং আরশাদ খানরা। এই ক্যাম্পের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।


মোস্তাফিজের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ভাইটালিটি ব্লাস্টে হাসান মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

গত জুন মাসে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে লর্ডসের মাঠে কেন্টের হয়ে দুর্দান্ত অভিষেকের পর, এবার ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও নিজের জাত চেনানোর বড় সুযোগ পেলেন বাংলাদেশের ডানহাতি গতি তারকা হাসান মাহমুদ। ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘ভাইটালিটি টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট’-এ নাম লিখিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ তিনটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য কেন্ট স্পিটফায়ার্স তাদের স্কোয়াডে এই টাইগার পেসারকে দলে নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

এর মাধ্যমে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি পেসার হিসেবে ভাইটালিটি ব্লাস্টে খেলার এক অনন্য গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন হাসান মাহমুদ। এর আগে ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সাসেক্সের জার্সি গায়ে এই টুর্নামেন্টে মাঠ মাতিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে কেন্ট স্পিটফায়ার্সের সুদীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সাদা বলের ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করবেন হাসান।

ইংল্যান্ডের এই জমজমাট ও গতিময় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন হাসান মাহমুদ। কেন্ট ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই টাইগার স্পিডস্টার জানান, কেন্টের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সময়টা তিনি ভীষণ উপভোগ করেছিলেন এবং দলের প্রয়োজনে আবারও লাল-সবুজ জার্সির বাইরে ইংল্যান্ডে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

হাসান মাহমুদ তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘কাউন্টিতে কেন্টের সাথে কাটানো সময়টা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা ছিল। তাই ভাইটালিটি ব্লাস্টের মতো টুর্নামেন্টে আবারও কেন্টের হয়ে অবদান রাখার সুযোগ যখন আমার সামনে এলো, তখন এক মুহূর্তের জন্যও আমি দ্বিধা করিনি। আমাদের সামনে থাকা এই তিনটি ম্যাচ কেন্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্টকে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তুলতে আমি বল হাতে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার দক্ষতার ওপর পুনরায় আস্থা রাখার জন্য আমি কেন্ট ম্যানেজমেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

জাতীয় দলের এই পেসার আরও যোগ করেন, ‘ভাইটালিটি ব্লাস্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। এখানে বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটারদের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করার এটি আমার জন্য একটি মস্ত বড় সুযোগ। আমি মনে করি, এই অভিজ্ঞতাটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হয়ে আবারও সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে) শক্তিশালীভাবে ফেরার ক্ষেত্রে আমাকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে।’ হাসান মাহমুদের এই নতুন মিশন ইংলিশ কন্ডিশনে তাঁর বোলিং বৈচিত্র্য ও কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করছেন দেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।


banner close