বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের অনেকদিনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের জার্সিতে হামজার চৌধুরীর খেলা। সে স্বপ্নও পূরণ হওয়ার পথেই ছিল। পথ বিচ্যুত হয়েছে বিষয়টি তেমনও নয়। তবে লম্বা হচ্ছে সেটা বলাই বাহুল্য। আগামী ২-১০ সেপ্টেম্বর ফিফা উইন্ডো। এসময় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশও। বাফুফে জানিয়েছিল, সেপ্টেম্বর উইন্ডোতেই হামজাকে খেলানোর বিষয়ে জোড় প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল তারা; কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের পাশাপাশি অনেক আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় আসন্ন উইন্ডোতে বাংলাদেশের জার্সিতে হামজার খেলার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ হয়ে আসছে।
হামজার বাংলাদেশের হয়ে খেলার অন্যতম শর্ত পাসপোর্ট। সেটা প্রস্তুত হয়েছে সপ্তাহ দুয়েক আগেই। তবে হাইকমিশন থেকে এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহ করেননি হামজা। তাই পরবর্তী ধাপের কর্মকাণ্ডও শুরু করতে পারেনি বাফুফে। হামজা প্রসঙ্গে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বলেন, ‘হামজার পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। হামজার ব্যস্ততায় এখনো পাসপোর্ট রিসিভ করতে পারেনি। পাসপোর্ট রিসিভ করার আগপর্যন্ত আমাদের কিছু করণীয় নেই। পাসপোর্ট গ্রহণের পর আমরা পরবর্তী প্রক্রিয়া ইংল্যান্ড ফুটবল এসোসিয়েশন এফএ এবং ফিফায় আবেদন করব।’
বাফুফের তথ্য মতে, হামজার পাসপোর্ট লন্ডনের হাইকমিশনে রয়েছে। সেই পাসপোর্ট রিসিভ করে বাফুফে বরাবর হামজাকে একটি চিঠি দিতে হবে যে, তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান। ইংল্যান্ড যুব দলের হয়ে খেলায় বাফুফে তখন ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে অনাপত্তিপত্র চাইবে। ইংল্যান্ড অনাপত্তিপত্র প্রদান করলে ফিফা প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটির কাছে ফাইল উত্থাপন করবে বাফুফে। সেই কমিটি লিগ্যাল বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত প্রদান করবে। সেপ্টেম্বর উইন্ডোর আগে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা বেশ কষ্টসাধ্যই মনে করছেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক, ‘আসলে স্বল্প সময়ে এই আনুষ্ঠানিকতা করা একটু চ্যালেঞ্জিংই। বাস্তবিক অর্থে সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে তার খেলার সম্ভাবনা মৃদু।’
চলতি বছরে সেপ্টেম্বরের পর আরও দুটি উইন্ডো রয়েছে। অক্টোবরের ৭-১৫ এবং নভেম্বরের ১২-১৯ পর্যন্ত। সেপ্টেম্বর উইন্ডো না হলেও সামনের উইন্ডোগুলোতে খেলার সম্ভাবনা থাকছে হামজার। সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে বাফুফে হোম ম্যাচ আয়োজন করতে চায়। ভুটান, সিঙ্গাপুরসহ আরও কয়েক দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে বাফুফের। বর্তমান পরিস্থিতিতে হোম ম্যাচ আয়োজন করা কঠিন। এই বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি এই বিষয়ে। রবি-সোমবার নাগাদ মন্ত্রণালয় থেকে উত্তর জানতে পারব।’
অনেক দেশ ফিফা উইন্ডোতে খেলে না নানা সীমাবদ্ধতায়। বাফুফের পরিস্থিতিও একটু নাজুক। এরপরও প্রচেষ্টা আছে ম্যাচ খেলার। কারণ সেপ্টেম্বর উইন্ডোর ফলাফল র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলবে। এই র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ড্র।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এলিমিনেটর ম্যাচে এক অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই দেখল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দর্শকরা। শেষ বলের নাটকীয়তায় রংপুর রাইডার্সকে বিদায় করে দিয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে সিলেট টাইটান্স। জয়ের জন্য শেষ বলে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। এমন স্নায়ুচাপের মুহূর্তে ফাহিম আশরাফের করা বলে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। রংপুরের দেওয়া ১১২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাশরাফি বিন মর্তুজার সিলেট (যদিও দলনেতা হিসেবে মিরাজের নাম উল্লেখ রয়েছে, তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামো অনুযায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে পারে)।
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ১১২ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই বিপাকে পড়ে সিলেট। তবে সেই চাপ সামাল দিয়ে দলের হাল ধরেন ইংলিশ ব্যাটার স্যাম বিলিংস ও অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের দুজনের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৫০ রানের জুটি, যা সিলেটের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। বিলিংস দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন এবং মিরাজ করেন ১৮ রান। এছাড়া পারভেজ হোসেন ইমন ১৮ ও আরিফুল ইসলাম ১৭ রান করে অবদান রাখেন। কিন্তু মাঝপথে তাওফিক খান, আফিফ হোসেন ও মঈন আলিদের দ্রুত বিদায়ে ম্যাচটি কঠিন হয়ে পড়ে সিলেটের জন্য। শেষ পর্যন্ত ক্রিস ওকস ১০ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর রাইডার্স। ইনিংসের শুরুতেই টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ২৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। তারকা ব্যাটার ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয় উভয়েই ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। লিটন দাস ১ ও কাইল মেয়ার্স ৮ রান করে আউট হলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় রংপুরের।
বিপর্যয়ের মুখে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ। পঞ্চম উইকেটে তারা ৩৪ রানের জুটি গড়ে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করতে সহায়তা করেন। খুশদিল শাহ ১৯ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ২৪ বলে ১৮ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১১ রানের পুঁজি পায় রংপুর। সিলেটের বোলারদের মধ্যে খালেদ আহমেদ দুর্দান্ত বোলিং করে ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ক্রিস ওকস ও নাসুম আহমেদ দুটি করে উইকেট লাভ করেন। এই হারের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল রংপুর রাইডার্স, আর শিরোপার দৌড়ে টিকে রইল সিলেট টাইটান্স।
খেলাধুলাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তুমি নিজেকে বুঝবে-জানবে এবং অধিকতর আত্মবিশ্বাসী এক নতুন নিজেকে খুঁজে পাবে। মনে রাখবে- হার-জিতের বিষয়টিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ফলে তোমার মধ্যে কর্মস্পৃহা ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাবে। আর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি তো আছেই।
২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বনানী ক্যাম্পাসের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সদস্য মিসেস মনিমুন নাহার।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বনানী ক্যাম্পাসের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কর্নেল ড. ই. এম. মোরশেদ আলম (অবঃ)। ক্রীড়ামোদিরা স্ব-স্ব নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য বৈচিত্র্যময় রঙিন পোশাকে ভোর থেকেই মাঠে উপস্থিত হতে থাকেন। মার্চপাস্টের জন্য প্রস্তুত ছিল সুসজ্জিত কিশোর-তরুণ শিক্ষার্থীদের প্যারেড টিম। একই সঙ্গে প্রস্তুত ছিলেন বিভিন্ন গ্রুপের ক্রীড়াবিদরাও।
ঘড়ির কাঁটা সাড়ে দশটা নির্দেশ করতেই প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিউগলের অভ্যর্থনাধ্বনি ও ফুলেল শুভেচ্ছায় আসন গ্রহণ করেন। অতঃপর পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।
প্যারেড কমান্ডার সভাপতির অনুমতিক্রমে ব্যান্ডের তালে তালে শৃঙ্খলাবদ্ধ প্যারেড শুরু করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ডিসপ্লে পরিবেশিত হয়। বক্তব্য পর্বে প্রতিযোগিদের শুভকামনা জানিয়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি’র মূল্যবান বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে মিসেস মনিমুন নাহার ও ইঞ্জিনিয়ার এম. এ. রশিদ ফাউন্ডেশনের সদস্য মিসেস এনামুন নাহার ও আতিনা রশিদ। সর্বশেষ সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কর্নেল ড. ই. এম. মোরশেদ আলম (অবঃ) অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে খেলাধুলা শারিরীক ও মানসিক সুস্থতা প্রদানসহ ক্যারিয়ার তথা জীবন গঠনে কিভাবে ভূমিকা রাখে তা ব্যখ্যা করেন। সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কর্নেল ড. ই. এম. মোরশেদ আলম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং খেলাধুলা কীভাবে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা প্রদানসহ ক্যারিয়ার তথা জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তা ব্যাখ্যা করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শ্রেণি ও বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দৌড় প্রতিযোগিতা এবং ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’-সহ নানা ধরনের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি অভিভাবক ও অতিথিদের জন্যও ছিল বিশেষ ক্রীড়া পর্ব।
অনুষ্ঠানে সাউথ পয়েন্টের মালিবাগ ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ কর্নেল মো. শামসুল আলম, পিএসসি (অব.), বারিধারা ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ এয়ার কমোডর কাজী আব্দুল মঈন (অব.), উত্তরা ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, পিএসসি (অব.), মিরপুর ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম (অব.), শ্যামপুর ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ নাজমুল হক সিকদার এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত উল্লাসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েছে সিলেট টাইটান্স। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ চলাকালে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আবারও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সিলেট টাইটান্স ফ্র্যাঞ্চাইজির উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী। নিজের দলের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অন্য কোনো দলকে গোনার মতো সময় তাদের নেই। তার মতে, সিলেটের মানুষ একাই একশ এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এবার শিরোপা সিলেটে যাবেই।
ফাহিম আল চৌধুরী গণমাধ্যমের সামনে বেশ জোরের সঙ্গেই বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমাদের অন্যান্য কোনো দলকে গোনার সময় নেই। আমরা সিলেটের মানুষ, শাহজালালের পুণ্যভূমির মানুষ। আমরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ। তার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি বা কাপ নিয়ে তারা সিলেটেই ফিরবেন। এই অগ্রিম বিজয়োৎসবের অংশ হিসেবে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদেরও দাওয়াত দেন।
সিলেট টাইটান্স যদি ফাইনালে উঠতে পারে, তবে সমর্থকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন ফাহিম। তিনি জানান, দলের সমর্থক ও দর্শকদের খেলা দেখার জন্য প্রয়োজনে ফ্লাইট চার্টার করে মিরপুর স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ইউএস বাংলা ও নভোএয়ারের মতো বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। ফ্লাইটের পাশাপাশি বাস সার্ভিসের মাধ্যমেও বিপুল সংখ্যক দর্শককে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে বিপিএল নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন ফাহিম আল চৌধুরী। তখন তিনি বলেছিলেন, বিপিএলকে গোনার টাইম তার নেই। মঙ্গলবারের আলাপচারিতায় সেই প্রসঙ্গ উঠে এলে তিনি কিছুটা শ্লেষের সুরে বলেন, বিপিএল ভালোই, সবকিছু ঠিক আছে। তবে পরক্ষণেই তিনি মন্তব্য করেন, আসলে তিনি অন্যদের খুশি করার জন্যই এসব ইতিবাচক কথা বলছেন, বাস্তবে নাকি কিছুই ঠিক নেই। তার এমন মন্তব্য টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপনা ও মান নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার পাপুয়া নিউগিনিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে টাইগ্রেসরা। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৩০ রানে পরাজিত করে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এখন গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেলেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা নিশ্চিত হয়ে যাবে।
ম্যাচের শুরুতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস দলকে ৪৯ রানের চমৎকার সূচনা এনে দেন। জুয়াইরিয়া ১১ বলে ১৭ রান করে ফিরে গেলেও দিলারা ক্রিজে থিতু হয়ে ৩৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। মাঝের ওভারে রানের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে গেলেও ১৬তম ওভারে শারমিন আক্তার ব্যক্তিগত ২৮ রানে আউট হওয়ার পর ম্যাচের চিত্র বদলে দেন স্বর্ণা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি।
শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি মিলে ৬২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে দেড়শ রানের কোটা পার করে দেন। বিশেষ করে স্বর্ণা আক্তারের বিধ্বংসী ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। তিনি মাত্র ১৪ বল মোকাবিলা করে ৪টি বিশাল ছক্কা ও ১টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া সোবহানা মোস্তারি ২৪ বলে ৩৪ রান করেন। পাপুয়া নিউগিনির পক্ষে মাইরি টম, হিনাও থমাস ও দিকা লোহিয়া প্রত্যেকে একটি করে উইকেট লাভ করেন।
১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাপুয়া নিউগিনি শুরুটা করেছিল বেশ আক্রমণাত্মকভাবে। মাত্র ৩.১ ওভারে ৩২ রান তুলে তারা বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর তারা কিছুটা ছন্দপতন ঘটায়। এরপর ব্রেন্ডা তাউ এবং সিবোনা জিমি ৫৪ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্রেন্ডা ৩৫ এবং সিবোনা ২৮ রান করে দলকে লড়াইয়ে রাখলেও ১৪তম ওভারে ব্রেন্ডা আউট হওয়ার পর তাদের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
একটা পর্যায়ে ২ উইকেটে ৯৮ রান তোলা পাপুয়া নিউগিনি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানেই থেমে যায়। শেষ দিকে হোলান দরিগা ২১ রান করলেও তা হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। বাংলাদেশের বোলাররা এই ম্যাচে দলীয় নৈপুণ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সুলতানা খাতুন ছাড়া দলের বাকি সব বোলারই অন্তত একটি করে উইকেট শিকার করেছেন, যা দলের বোলিং আক্রমণের ভারসাম্যকেই নির্দেশ করে। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ দল এখন গ্রুপের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাদের পরবর্তী ম্যাচ নামিবিয়ার বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে। এই দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই সুপার সিক্স নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্নও পূরণ হবে বাংলাদেশের।
কাতার আবারও বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে যে লুসাইল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসি তার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণ করে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক মঞ্চেই আবারও নামতে যাচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। আগামী মার্চ মাসে দোহায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘কাতার ফুটবল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-কে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। এই উৎসবে মেসি ছাড়াও স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল এবং মিসরের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকেও মাঠে দেখা যাবে। আগামী ২৭ মার্চ লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ফিনালিসিমা ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ও স্পেন ছাড়াও এই জমজমাট ফুটবল উৎসবে অংশ নেবে সৌদি আরব, মিসর, সার্বিয়া এবং স্বাগতিক কাতার। কাতার ফুটবল ইভেন্টসের লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির (এলওসি) চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আসন্ন আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ফিফা বিশ্বকাপের আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকাদের আতিথেয়তা দিতে এবং বৈশ্বিক ফুটবল সম্প্রদায়কে আবারও স্বাগত জানাতে তারা মুখিয়ে আছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ফেস্টিভ্যাল বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা প্রদানের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং এটি বৈশ্বিক ফুটবলে কাতারের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে দলগুলোর প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার জন্যও এই ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফুটবল উৎসবের পূর্ণাঙ্গ সূচি অনুযায়ী ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মাঠ মাতাবেন তারকারা। ২৬ মার্চ আহমাদ বিন আলি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে মিসর ও সৌদি আরব এবং একই দিনে জাসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে লড়বে কাতার ও সার্বিয়া। উৎসবের মূল আকর্ষণ আর্জেন্টিনা ও স্পেনের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ মার্চ লুসাইল স্টেডিয়ামে। এরপর ৩০ মার্চ লুসাইলে মিসর খেলবে স্পেনের বিপক্ষে এবং জাসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে সৌদি আরব লড়বে সার্বিয়ার সঙ্গে। উৎসবের শেষ দিন ৩১ মার্চ লুসাইল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক কাতার মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
দর্শকদের সুবিধার্থে টিকেট ও ভ্রমণ প্যাকেজের তথ্যও প্রকাশ করেছে আয়োজকরা। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সাধারণ টিকিট বিক্রি শুরু হবে। তবে আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। তারা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ভিজিট কাতার ও কাতার এয়ারওয়েজের অংশীদারত্বে এক্সক্লুসিভ ভ্রমণ প্যাকেজ এবং টিকিট সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। লুসাইল স্টেডিয়ামে আবারও মেসি-ইয়ামালদের পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হতে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব।
দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের বিরতি শেষে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। লিগ পর্বের আর মাত্র দুটি করে ম্যাচ বাকি রয়েছে দলগুলোর। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি শেষ ষোলোতে খেলার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলোকে নকআউট পর্বে যেতে হলে খেলতে হবে প্লে-অফ। আর তলানির ১২টি দল বিদায় নেবে টুর্নামেন্ট থেকে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার প্রতিটি দলের পয়েন্ট এবং পরবর্তী প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে ১০ হাজার বার সিমুলেশনের মাধ্যমে শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনার একটি পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছে।
সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল বর্তমানে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। লিগ পর্বের প্রথম ছয়টি ম্যাচের সবকটিতে জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের শীর্ষে। তাদের শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা শতভাগ এবং লিগ পর্বের শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৯৪ শতাংশ। যদি তারা পরবর্তী ম্যাচে ইন্টার মিলানকে হারাতে পারে এবং শেষ ম্যাচে কাজাখস্তানের কাইরাতকে পরাস্ত করে, তবে তারা পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে যাবে। আর্সেনালের পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে থাকা বায়ার্নের সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটি এবং পিএসজিরও শীর্ষ আটে থাকার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশের ওপরে।
স্প্যানিশ জায়ান্টদের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন। রেকর্ড শিরোপাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে সপ্তম স্থানে থাকলেও তাদের শীর্ষ আটে থাকার সম্ভাবনা ৫৮.৩ শতাংশ। তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো মোনাকো এবং বেনফিকার বিপক্ষে। অন্যদিকে বার্সেলোনার জন্য পথটা বেশ কঠিন। বর্তমানে শীর্ষ আট থেকে দুই পয়েন্ট দূরে থাকা বার্সার সরাসরি কোয়ালিফাই করার চেয়ে প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনাই বেশি। সুপারকম্পিউটারের মতে, বার্সেলোনার শীর্ষ আটে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কাই ৫১.৩ শতাংশ। তবে স্লাভিয়া প্রাগ এবং কোপেনহেগেনের বিপক্ষে জয় পেলে তাদের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে লিভারপুল বর্তমানে শীর্ষ আটের বাইরে থাকলেও তাদের ফিকশ্চার বা সূচি অনুযায়ী সরাসরি নকআউটে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রায় ৬৩ শতাংশ। তবে গতবারের রানার্সআপ ইন্টার মিলান বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও তাদের সামনে আর্সেনাল ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের প্লে-অফ খেলতে হতে পারে। মধ্যম সারির দলগুলোর মধ্যে জুভেন্টাস, লেভারকুসেন ও মোনাকোর মতো দলগুলোর শীর্ষ আটে ওঠার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, তবে তাদের প্লে-অফ খেলা মোটামুটি নিশ্চিত।
টেবিলের তলানিতে থাকা দলগুলোর জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কাইরাত এবং ভিয়ারিয়াল উভয়েই মাত্র এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। সুপারকম্পিউটারের ১০ হাজার সিমুলেশনে কাইরাতের প্লে-অফে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যায়নি। আর ভিয়ারিয়ালের সম্ভাবনা মাত্র ০.১ শতাংশ। অলৌকিক কিছু না ঘটলে আয়াক্স, স্লাভিয়া প্রাগ কিংবা অ্যাথলেটিক ক্লাবের মতো দলগুলোর ইউরোপিয়ান যাত্রা লিগ পর্বেই শেষ হতে যাচ্ছে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান নাটকীয়তার মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান আসন্ন বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া আইসিসির এই মেগা ইভেন্ট তারা বয়কট করবে না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র রিভস্পোর্টজকে নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানো না হলেও পাকিস্তান ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করবে না।
পিসিবির ওই সূত্রটি জানিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে সরে আসা পাকিস্তানের অবস্থান নয়। তারা কোনো কারণেই দল প্রত্যাহার করবে না। আইসিসির সূচি অনুযায়ী পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলবে, তাই ভারতের ভেন্যু সংক্রান্ত জটিলতা তাদের সরাসরি প্রভাবিত করছে না। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার জন্যই অনেকে বয়কটের কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছে ওই সূত্র। এর আগে পাকিস্তানি গণমাধ্যমের একাংশ জানিয়েছিল যে বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের প্রস্তুতি স্থগিত করা হয়েছে এবং টুর্নামেন্টে অংশ না নিলে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পিসিবি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করল।
নিজেদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা উদ্বেগকে যৌক্তিক ও বৈধ হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে। জানা গেছে, চলমান এই সংকটের মধ্যে কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে আনার পর বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে তারা ভারতে খেলতে চায় না। যদিও আইসিসির নিরাপত্তা দল ভারতের ভেন্যুগুলোকে নিরাপদ ঘোষণা করেছে, তবুও বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনার কারণে বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
সংকট নিরসনে বিসিবি আইসিসির কাছে গ্রুপ অদলবদলের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রস্তাবে বাংলাদেশকে গ্রুপ বি-তে স্থানান্তর করে আয়ারল্যান্ডকে গ্রুপ সি-তে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল, যাতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ পায়। তবে জানা গেছে, আয়ারল্যান্ডকে আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে তাদের গ্রুপ পরিবর্তনে বাধ্য করা হবে না। ফলে ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ হওয়ার সূচি বহাল থাকছে। আইসিসি সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় ২১ জানুয়ারি দুবাই সময় বিকেল ৫টার মধ্যে বিসিবিকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। টুর্নামেন্টে অংশ না নিলে বাংলাদেশকে পয়েন্ট হারানোসহ বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে খেলার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আপত্তি জানিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের জোর দাবি তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে বিসিবির আলোচনা চললেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। এর মধ্যেই ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো দাবি করেছে যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বিসিবিকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে এই সময়সীমার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
সোমবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন ডেডলাইন বা সময়সীমা সংক্রান্ত খবরটি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, গত শনিবার ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় আইসিসির একজন প্রতিনিধির সঙ্গে বিসিবির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের বিকল্প ভেন্যুর জন্য জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। আমজাদ হোসেনের ভাষ্যমতে, আইসিসির প্রতিনিধিরা বিসিবির বক্তব্য ও উদ্বেগের বিষয়গুলো শুনেছেন এবং জানিয়েছেন যে তারা বিষয়টি আইসিসির সদর দপ্তরে অবহিত করবেন।
বিসিবি পরিচালক আরও স্পষ্ট করেন যে, আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর মতো কোনো সময়সীমা তাদের দেওয়া হয়নি। আইসিসি কেবল জানিয়েছে যে তারা আলোচনার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে বিসিবিকে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। ফলে ভেন্যু পরিবর্তন হবে কি না বা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, তা জানতে আইসিসির আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে।
লা লিগায় নিজেদের দাপুটে বিচরণ বজায় রাখলেও রিয়াল অ্যারেনায় এসে বড়সড় হোঁচট খেল লিগ লিডার বার্সেলোনা। টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর অবশেষে হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হলো কাতালান জায়ান্টদের। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে ১০ জনের রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও ভাগ্য সহায় না হওয়ায় এবং ভিএআর সিদ্ধান্তে একাধিক গোল বাতিল হওয়ায় হতাশাজনক এক রাত পার করল বার্সা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়, তবে ভাগ্য যেন এদিন তাদের বিপক্ষে ছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে সোসিয়েদাদ অধিনায়ক মাইকেল ওয়ারজাবাল গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার আগে বার্সেলোনার তিনটি গোল বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়ে যায়। এমনকি রেফারির দেওয়া একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তও ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় অফসাইডের কারণে বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সার দুর্ভাগ্য অব্যাহত থাকে, যেখানে তিনবার তাদের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক আলেহান্দ্রো রেমিরো দানি ওলমো ও রবার্ট লেভানডোভস্কির নিশ্চিত কয়েকটি গোল ঠেকিয়ে দিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
ম্যাচের নাটকীয়তা শুরু হয় একেবারে প্রথম মিনিটেই। সোসিয়েদাদ বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর বার্সেলোনা খেলায় নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে ফের্মিন লোপেসের গোলটি বিল্ড-আপের সময় ফাউলের কারণে এবং ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও লামিন ইয়ামালের গোলগুলো অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এতসব নাটকীয়তার মাঝেই ম্যাচের ৩২ মিনিটে গুয়েদেসের ক্রস থেকে দারুণ ভলিতে গোল করে সোসিয়েদাদকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ওয়ারজাবাল। বিরতির ঠিক আগে ইয়ামালকে ফাউল করায় রেফারি পেনাল্টি দিলেও ভিএআরে দেখা যায় ইয়ামাল অফসাইডে ছিলেন, ফলে সেই সুযোগটিও হাতছাড়া হয় বার্সার।
দ্বিতীয়ার্ধের ৭০ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মার্কাস র্যাশফোর্ড লামিন ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে গোল করে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান। কিন্তু কাতালানদের এই স্বস্তি এক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। কিক-অফের কয়েক সেকেন্ড পরেই বার্সার রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে যান গনসালো গুয়েদেস। তার জোরালো শট জালে জড়ালে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় সোসিয়েদাদ। ম্যাচের শেষ দিকে ৮৮ মিনিটে পেদ্রিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সোসিয়েদাদের কার্লোস সোলার। তবে ১০ জনের দল নিয়ে অতিরিক্ত ৯ মিনিট দাঁতে দাঁত চেপে রক্ষণ সামলে স্মরণীয় এক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এই হারের ফলে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে জমে উঠল নাটকীয়তা। হ্যান্সি ফ্লিকের দল গত ১২ ম্যাচে এই প্রথম হারের মুখ দেখল। এতে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বার্সেলোনার পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১-এ। অন্যদিকে, শক্তিশালী বার্সেলোনাকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল সোসিয়েদাদ। লিগের চলতি মৌসুমে এটি বার্সেলোনার তৃতীয় পরাজয়।
আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে নাটকীয়তা আর বিতর্কের এক অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী দেখল ফুটবল বিশ্ব। রাবাতের ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোর হাজারো সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দিয়ে ১-০ গোলের ব্যবধানে শিরোপা জয় করেছে সেনেগাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সেনেগাল দল মাঠ ছেড়ে চলে গেলে প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে মাঠে ফিরে এসেও স্নায়ুচাপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় মরক্কো, যার ফলে অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে শিরোপা হাতছাড়া করতে হয় তাদের।
ম্যাচের মূল নাটকীয়তা শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি টাইমের অষ্টম মিনিটে। কঙ্গোলিস ম্যাচ রেফারি জ্য-জ্যকস এনদালা ভিএআর পরীক্ষা করে মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেনেগালিজ ডিফেন্ডার এল হাদজি মালিক দিওফ বক্সের ভেতর ব্রাহিম দিয়াজকে ফাউল করলে এই সিদ্ধান্ত আসে। রেফারি পেনাল্টি দেওয়ার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনেগাল শিবির। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে উঠে যান এবং গ্যালারিতে থাকা সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে মাঠে বস্তু ছুড়তে শুরু করেন। প্রায় ২০ মিনিটের অচলাবস্থার পর পুনরায় খেলা শুরু হলে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি শট নিতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘ বিরতিতে হয়তো তার মনোযোগ বিঘ্নিত হয়েছিল। দিয়াজ একটি দুর্বল পানেনকা শট নিলে সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্দির পক্ষে তা লুফে নেওয়া খুব সহজ হয়ে যায়।
পেনাল্টি মিসের পর মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে ওঠে সেনেগাল এবং অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয়। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে সাদিও মানের তৈরি করা মুভ থেকে বল পান ইদ্রিসা গানা গুয়েই। তার বাড়ানো পাসে চমৎকার ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপান ভিয়ারিয়ালের মিডফিল্ডার পাপে গুয়েই। তার এই একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় এবং গ্যালারির অর্ধলক্ষাধিক দর্শককে নিস্তব্ধ করে দেয়। এর আগে নির্ধারিত সময়ে ইসমাইল সারের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হয়েছিল। মরক্কো ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে, কিন্তু নায়েফ আগুয়ার্দের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে তাদের সব আশা শেষ হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে জয়ের নায়ক পাপে গুয়েই বলেন, তারা জয়ের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন এবং এটি তাদের প্রাপ্য ছিল। অন্যদিকে মরক্কোর কোচ প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানালেও ফাইনালের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, আফ্রিকান ফুটবলের যে ভাবমূর্তি এই ম্যাচে ফুটে উঠেছে, বিশেষ করে পেনাল্টি পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ, তা হতাশাজনক। এই জয়ের মাধ্যমে ২০২২ সালের পর আবারও আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করল সেনেগাল, যা গত তিন বছরে তাদের তৃতীয় শিরোপা। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ৫০ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল মরক্কো।
সেভেন এ সাইড ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ব্রাজিল। কিংস ওয়ার্ল্ড কাপ নেশন্সের জমজমাট ফাইনালে চিলিকে ৬-২ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা ঘরে তুলেছে স্বাগতিকরা। রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সাও পাওলোর অ্যালিয়েঞ্জ পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি চিলি। এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি আসরেই চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ব্রাজিল।
ফাইনাল ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সাও পাওলোর গ্যালারিতে উপস্থিত ৪১ হাজার ৩১৬ জন দর্শক ব্রাজিলের দাপুটে পারফরম্যান্স উপভোগ করেন। ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকরা চিলির ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। তাদের আক্রমণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, খেলা শুরুর মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এই ঝটিকা লিড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্বাগতিকদের হাতে এনে দেয়।
ম্যাচের মাঝপথে চিলি ঘুরে দাঁড়ানোর কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিল। ব্রাজিলের চতুর্থ গোলটি আসার আগে তারা পরপর দুটি গোল শোধ করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্রাজিলের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে চিলির সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। পরবর্তীতে ব্রাজিল আবারও প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয় এবং আরও তিনবার বল জালে জড়িয়ে ৬-২ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে।
স্প্যানিশ ফুটবল তারকা জেরার্ড পিকের প্রতিষ্ঠিত কিংস লিগ ফরম্যাটের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো কিংস ওয়ার্ল্ড কাপ নেশন্স টুর্নামেন্ট শুরু হয়। সাতজন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা এই বিশেষ ফরম্যাটের ফুটবলে ব্রাজিল শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসছে। গত আসরেও ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারিয়ে তারা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার ঘরের মাঠে চিলিকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মাধ্যমে এই ফরম্যাটে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল সেলেসাওরা।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ঢাকা ক্যাপিটালসের জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের গ্রুপ বা লিগ পর্বের। দীর্ঘ ৩০ ম্যাচের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে এখন সবার দৃষ্টি প্লে-অফ পর্বের দিকে। আগামীকাল মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচ। টুর্নামেন্টের এই চূড়ান্ত পর্বের সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি ফাইনালে সময়ের পরিবর্তনের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট অর্জন করে তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। শেষ ম্যাচে পরাজিত হলেও ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ফলে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম। এই ম্যাচে বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে এবং পরাজিত দলের জন্য দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলার পথ খোলা থাকবে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের সমান ১২ পয়েন্ট অর্জন করলেও নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় তৃতীয় স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রংপুর রাইডার্সকে। তাই তাদের ফাইনালে ওঠার লড়াইটা এলিমিনেটর ম্যাচ দিয়ে শুরু করতে হবে। এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুরের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা সিলেট টাইটান্স। আগামীকাল দুপুর ১টায় এই ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী এলিমিনেটরে পরাজিত দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে এবং বিজয়ী দল আগামী বুধবার ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে প্রথম কোয়ালিফায়ারের পরাজিত দলের মুখোমুখি হবে।
লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। প্লে-অফের সব সমীকরণ শেষে আগামী ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল। তবে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। দর্শকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে পূর্বনির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা এগিয়ে এনে ফাইনাল ম্যাচটি সন্ধ্যা ৬টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মিরপুরের ২২ গজে শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৬-এর লিগ পর্বের রোমাঞ্চকর সমাপ্তি শেষে প্লে-অফের চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) পয়েন্ট টেবিলের সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী কোয়ালিফায়ার ও এলিমিনেটর ম্যাচের সমীকরণ নিশ্চিত হয়েছে। লিগ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ১২ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটের ব্যবধানে চট্টগ্রাম রয়্যালস দ্বিতীয় এবং রংপুর রাইডার্স তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এছাড়া ১০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে সিলেট টাইটান্স।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে মুখোমুখি হবে টেবিলের শীর্ষ দুই দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। এই ম্যাচে জয়ী দল সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেবে এবং পরাজিত দলের সামনে থাকবে ফাইনালে ওঠার আরও একটি সুযোগ। একই দিনে অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর ১টায় এলিমিনেটর ম্যাচে লড়বে রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্স। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াইয়ে এই ম্যাচে পরাজিত দল সরাসরি বিদায় নেবে এবং জয়ী দল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দলের মুখোমুখি হবে।
প্লে-অফের পরবর্তী ধাপে ২১ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর টুর্নামেন্টের সবথেকে বড় আকর্ষণ তথা মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায়। লিগ পর্বের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে এখন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামবে এই চার দল, যা নিয়ে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা কাজ করছে। নকআউট পর্বের এই সূচি প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিপিএল ২০২৬-এর শিরোপা নির্ধারণী মহোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হলো।