মেসি, আর্জেন্টিনা কিংবা ইন্টার মিয়ামি ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ইনজুরি ধেতে কবে ফিরবেন মেসি। কিন্তু সেই প্রশ্নের কোনো উত্তরই পাওয়া যাচ্ছিল না। লিওনেল মেসির ইনজুরি নিয়ে এতোদিন নিশ্চুপ ছিল সবাই। অবশেষে আর্জেন্টাইন তারকার ফেরা নিয়ে মুখ খুললেন মিয়ামি কোচ জেরার্দো টাটা মার্টিনো। তার ফেরার খবর জানালেনও শেষে রেখে দিলেন অনিশ্চয়তা। কোচ জানালেন, মায়ামির মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই মাঠে ফিরবেন মেসি। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও বলতে পারছেন না তিনি।
গত ১৪ জুলাই কোপা আমেরিকার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে অ্যাঙ্কেলে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন মেসি। ডাগআউটে বসে কান্না করতেও দেখা গেছে তাকে। তবে পরে তা রূপ নেয় শিরোপার হাসিতে।
মায়ামি কোচ শুরুতে বলেছিলেন, অন্তত দুটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না মেসি। পরে দেখা যায়, তার চোট আরেকটু গুরুতর। তখন বলা হয়, অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে আর্জেন্টাইন জাদুকরকে। এর মধ্যে মায়ামির ম্যাচ তো বটেই, আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচও খেলতে পারেননি তিনি।
মায়ামি কোচ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা আশার খবর শোনালেন দলের সেরা তারকাকে নিয়ে। মার্টিনো বলেন, ‘সে এখনও দলের সঙ্গে অনুশীলন করছে না। তবে মাঠে ফিরেছে, ট্রেনারদের সঙ্গে শারীরিক কসরত করছে। ভালোভাবেই উন্নতি হচ্ছে তার। মৌসুম শেষের আগেই সে ফিরবে।’ তবে সেই দিন কবে বা আর কত দিন লাগতে পারে, তা নিশ্চিত করতে পারছেন না মার্টিনো। মেসির চোট কিছুটা মানসিকও জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার ট্রেনিংয়ে ফেরার আনুমানিক কোনো দিনক্ষণ আমি জানাতে পারব না। তবে সেটা খুব দূরে নয়। এই চোটের কিছু অংশ আছে শারীরিক, চোটের কিছু অংশ আছে মানসিক। দুটি দিকই কাটিয়ে উঠতে হবে তাকে। সে এখন সেই প্রক্রিয়ার ভেতরই আছে।’
নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও মেসির ফেরার দিনটি যে কাছাকাছিই আছে সেটিই জানালেন মার্টিনো, ‘সে ক্রমেই ভালো থেকে আরও ভালো অনুভব করছে। তিন-চার দিন ধরে সে মাঠের কাজ শুরু করেছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ আমরা বলতে পারব না (ফেরার), কারণ আমরা জানি না। যেটা জানা নেই, সেটা নিয়ে অনুমান করা ঠিক হবে না। তবে দিনটি কাছাকাছিই আছে।’ মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২৫ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে মায়ামি। এই মৌসুমে সব মিলিয়ে আর ৯টি ম্যাচ বাকি আছে তাদের।
২০২৬ বিশ্বকাপের ‘হেক্সা’ মিশনে থাকা ব্রাজিলের সামনে এবার শেষ ষোলোর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই পরিসংখ্যান আর ভবিষ্যদ্বাণীর লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বে।
সুপার কম্পিউটার ও জ্যোতিষী বিড়ালের বাজি:
বিখ্যাত পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’-র সুপার কম্পিউটার ২৫ হাজার বার এই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি সিমুলেশন করে জানিয়েছে, জয়ের সম্ভাবনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ব্রাজিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ, বিপরীতে নরওয়ের সম্ভাবনা মাত্র ২২.৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওরা ৬৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে ফেবারিট।
একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ‘জ্যোতিষী’ বিড়াল মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীতেও। মালিক নাতান পিনহেইরোর রাখা দুটি খাবারের বাটির মধ্যে ব্রাজিলের বাটিটিই বেছে নিয়েছে মিলু। যদিও আগের দিন আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে মিলুর পূর্বাভাস প্রথমবারের মতো ভুল প্রমাণিত হয়েছিল, তবুও ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ায় সমর্থকদের বড় একটি অংশ এখনো বিড়ালটির ওপর আস্থা রাখছে।
ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের লড়াই:
ব্রাজিলের জন্য শেষ ষোলোর মঞ্চটি যেন নিজেদের ঘরবাড়ি। শেষ ১০টি শেষ ষোলোর ম্যাচের ৯টিতেই জিতেছে তারা। তবে তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ। ২০০২ সালের ফাইনালের পর নকআউট পর্বে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে গেলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে সেলেসাওরা; গত ছয়টি নকআউট ম্যাচে ইউরোপীয় দলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
অন্যদিকে, মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস আবার নরওয়ের পক্ষে। এ পর্যন্ত দুই দলের চারবারের দেখায় দুটিতে জয় ও দুটিতে ড্র করেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে শেষবার দেখা হওয়ার সময়ও ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ভাইকিংরা।
হালান্ড বনাম গিমারায়েস:
নরওয়ের প্রধান অস্ত্র বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করা হালান্ড এই ম্যাচে গোল করলেই ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির পর প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচের প্রতিটিতে গোলের বিরল কীর্তি গড়বেন। তাকে বল যোগান দেবেন ফর্মে থাকা অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড।
ব্রাজিল শিবিরে লাইমলাইটে আছেন ব্রুনো গিমারায়েস। চলতি আসরে ৪টি অ্যাসিস্ট করে তিনি কিংবদন্তি পেলের ১৯৭০ সালের (৬টি অ্যাসিস্ট) রেকর্ড ছোঁয়ার পথে রয়েছেন। জাপানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলেও অবদান ছিল গিমারায়েসের। তবে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সাম্প্রতিক ফর্ম কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে; ১৯৯৮ সালের পর চলতি আসরেই তারা গোলমুখে সবচেয়ে কম শট নিয়েছে।
কোয়ার্টার ফাইনালের সমীকরণ:
আজকের ম্যাচে যে দলই জিতবে, সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা স্বাগতিক মেক্সিকো। পেলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা গিমারায়েস আর ছন্দে থাকা মার্টিনেল্লিরা কি পারবেন সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করতে? নাকি হালান্ডের নরওয়ে তৈরি করবে নতুন কোনো রূপকথা—তার উত্তর মিলবে আজ রাতের মাঠের লড়াইয়েই।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে কোচ থমাস টুখেলের দলের জন্য মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক পরিবেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের পাতলা বাতাস ও অক্সিজেনের স্বল্পতা ইংলিশ ফুটবলারদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
উচ্চতার ধকল সামলাতে ‘ভায়াগ্রা’ কৌশল:
উচ্চতাজনিত কারণে অ্যাথলেটদের শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এই প্রতিকূলতা সামলাতে চিকিৎসাগত বিকল্প হিসেবে হ্যারি কেইনদের সামনে ‘ভায়াগ্রা’ (সিলডেনাফিল) ব্যবহারের পথ খোলা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কিংবা বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা ওয়াডার (WADA) নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় এটি না থাকায় ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই। পর্তুগালের ক্রীড়া সাময়িকী ‘আ বোলা’ এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ তাদের প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছে।
ক্রীড়া বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভায়াগ্রার ভূমিকা:
সাধারণত যৌন অক্ষমতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও উঁচুতে খেলার ক্ষেত্রে এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব ভিন্ন। এর মূল উপাদান ‘সিলডেনাফিল’ ফুসফুসের রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে পাতলা বাতাসেও ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহের গতি বাড়ে এবং অ্যাথলেটরা সহজে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, কোনো প্রকার যৌন উদ্দীপনা ছাড়া কেবল শারীরিক পরিশ্রমের সময় এই ওষুধ সেবন করলে কোনো বিব্রতকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে না। এর আগে ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ক্লাব ‘ইউনিয়ন দে সান্তা ফে’ ইকুয়েডরের ২,৮৫০ মিটার উঁচুতে খেলার সময় সফলভাবে এই কৌশল ব্যবহার করেছিল।
আজতেকার অতীত ইতিহাস ও মেক্সিকোর দুর্গ:
শুধুমাত্র উচ্চতাই নয়, আজতেকা স্টেডিয়ামের অতীত ইতিহাসও ইংলিশদের ভীতি বাড়াচ্ছে। ৪০ বছর আগে এই মাঠেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড, যে ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল। চার দশক পর আজতেকার সেই পুরোনো ক্ষত সারানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবেন হ্যারি কেইনরা।
অন্যদিকে, আজতেকা স্টেডিয়াম মেক্সিকোর জন্য এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। এই মাঠে খেলা নিজেদের শেষ ৮৯টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে হেরেছে তারা, যার সর্বশেষটি ছিল ২০১৩ সালে।
সমর্থকদের উৎপাত ও টুখেলের মন্তব্য:
মাঠের লড়াইয়ের আগেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় মেক্সিকান সমর্থকরা। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইংলিশ ফুটবল ফেডারেশন দলের হোটেলের নাম গোপন রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু মেক্সিকান সমর্থকরা ঠিকই হোটেল ও টিম বাস শনাক্ত করে তীব্র হট্টগোল ও দুয়ো দেওয়া শুরু করে।
প্রতিপক্ষের সমর্থকদের এই উৎপাত ও মানসিক চাপ সামলাতে ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল হালকা ছলে রসিকতা করে বলেন, “মেক্সিকান সমর্থকরা যদি আমাদের রাতে ঘুমাতে না দেয়, তবে খেলোয়াড়রা কানে প্লাগ গুঁজে ঘুমাবে!”
উচ্চতার প্রাকৃতিক বাধা, ইতিহাসের পুরোনো ভূত এবং স্বাগতিক সমর্থকদের তুমুল উন্মাদনা সব প্রতিকূলতা জয় করে হ্যারি কেইনরা শেষ আটের টিকিট কাটতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন ছিল কানাডার। কিন্তু সেই স্বপ্নে দেয়াল হয়ে দাঁড়াল গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। আজ্জেদিন ওউনাহির জোড়া গোল এবং সুফিয়ান রাহিমির শেষ মুহূর্তের লক্ষ্যভেদে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মরক্কো। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে অবশ্য দাপট ছিল কানাডারই। গোলশূন্য প্রথমার্ধে মরক্কোর সঙ্গে বলের দখল ও আক্রমণে সমানে সমান পাল্লা দেয় স্বাগতিক দেশটি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ না করলে বিরতির আগেই এগিয়ে যেতে পারত কানাডা।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল মরক্কো। ম্যাচের ২২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এবারের আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইসমাইল সাইবারি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সুফিয়ান রাহিমি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘অ্যাটলাস লায়নরা’। ৪৯ মিনিটে (মতান্তরে ৫০ মি.) দুর্দান্ত এক সেট পিস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন আজ্জেদিন ওউনাহি। বক্সের বাইরে ডান দিক থেকে আশরাফ হাকিমির নেওয়া ফ্রি-কিক খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা ওউনাহিকে। মাটি কামড়ানো জোরালো শটে কানাডার রক্ষণ ও সতীর্থ রাহিমির পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। কিন্তু সেই সুযোগে মরক্কো তাদের প্রিয় অস্ত্র ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ম্যাচের ৮২ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের ভেতর দারুণ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ওউনাহি। এই গোলেই কানাডার ম্যাচে ফেরার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে কানাডার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন সুফিয়ান রাহিমি। এবারও বলের যোগানদাতা ছিলেন ব্রাহিম দিয়াজ। মাঝমাঠ থেকে দিয়াজের পাস খুঁজে নেয় ফাঁকায় থাকা রাহিমিকে। গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি তিনি। ফলে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো।
সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা মরক্কো সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে শক্তিশালী ফ্রান্সের। আজ রাতেই শেষ ষোলোর অন্য ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। ওই ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষেই মাঠে নামবে মরক্কো।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে প্রথম জয় পাওয়ার পর নকআউট পর্বেও ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল কানাডার সামনে। তবে মরক্কোর অভিজ্ঞ ফুটবল ও কৌশলের কাছে হার মেনেই বিদায় নিতে হলো তাদের।
ফিলাডেলফিয়ার ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র দাবদাহে লিঙ্কন ফাইনান্সিয়াল ফিল্ডে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এক অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে মূলত রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রায় আটকে দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ১-০ ব্যবধানের এই জয়ে শেষ হাসি হেসে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফরাসিরা। ফিলাডেলফিয়ার উত্তপ্ত আবহাওয়ার পাশাপাশি ম্যাচজুড়ে ছড়িয়েছিল স্নায়বিক উত্তেজনা; একের পর এক কঠিন ট্যাকল, তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতিতে ম্যাচটি বেশ কয়েকবার বিঘ্নিত হয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ের কৌশল ছিল ‘আগে দরজা বন্ধ’ নীতি। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের দখলে বলের নিয়ন্ত্রণ প্রায় ৯০ শতাংশ থাকলেও প্যারাগুয়ের পাঁচ ডিফেন্ডারের গড়া দুর্ভেদ্য রক্ষণ দেয়াল ভেদ করতে এমবাপ্পে-ওলিসেরা ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে কোনো দলই লক্ষ্যভেদী শট নিতে পারেনি, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বিরল এক পরিসংখ্যান। খেলার গতিপথে উত্তাপ ছড়ায় ৩৫ মিনিটে, যখন এমবাপ্পের ওপর করা একটি ট্যাকলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছিল যে, কোচ দিদিয়ের দেশমকে নিজে খেলোয়াড়দের শান্ত করতে মাঠে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
খেলার মোড় ঘুরে যায় ৭০ মিনিটে। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ দেশম ব্র্যাডলি বারকোলার পরিবর্তে দেজিরে দুয়েকে মাঠে নামালে ফরাসি আক্রমণের ধার বাড়ে। বক্সে ঢুকে পড়া দুয়েকে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার দিয়েগো গোমেজ অবৈধভাবে বাধা দিলে রেফারি ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে এমবাপ্পে চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির সমান সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল পূর্ণ করলেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন।
শেষ দিকে প্যারাগুয়ে গোল শোধে মরিয়া হলেও ফরাসি রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারেনি। উল্টো ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় ফ্রান্স, তবে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল অসীম দক্ষতায় এমবাপ্পের কয়েকটি শক্তিশালী শট রুখে দিয়ে হারের ব্যবধান সীমিত রাখেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও খেলোয়াড়দের মধ্যে রেষারেষি বজায় ছিল। নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে বরং শারীরিক শক্তির লড়াই ও ট্যাকটিক্যাল কৌশলের প্রাধান্য থাকা এই ম্যাচে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আগামী ১০ জুলাই মরক্কোর মুখোমুখি হবে এমবাপ্পের দল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে জিম্বাবুয়ে। সদ্য শেষ হওয়া একমাত্র টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার ওয়ানডে সিরিজের দলে চার ক্রিকেটারকে ফিরিয়েছে স্বাগতিকরা। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান স্বাগতিকরা।
জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে দলে ফিরেছেন ইনোসেন্ট কাইয়া, রায়ান বার্ল, তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন কাইয়া। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ এই সংস্করণে খেলেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ১৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন কাইয়া। ক্যারিয়ারের দুই সেঞ্চুরির দুটোই করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। এর আগে বাংলাদেশ সফরে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়েও ওয়ানডেতে শতকের দেখা পেয়েছিলেন এই ওপেনার।
এদিকে টেস্ট ম্যাচ না খেললেও ওয়ানডে দলে আছেন জিম্বাবুয়ের তারকা অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। এছাড়া রায়ান বার্লও সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে ‘এ’ দলের হয়ে ৫০ ও ২০ রান করায় দলে ফিরেছেন। গত মার্চে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুটি শতক করেছিলেন তিনি
গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল জিম্বাবুয়ে। সেই দল থেকে বাদ পড়েছেন ব্রেন্ডন টেলর, শন উইলিয়ামস, জনাথন ক্যাম্পবেল, টনি মুনিয়োঙ্গা ও ট্রেভর গওয়ান্ডু। এছাড়া মাদকাসক্তির পুনর্বাসন কর্মসূচিতে থাকা শন উইলিয়ামসকেও রাখা হয়নি এই দলে।
আগামী ৬ জুলাই ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। একই ভেন্যুতে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ যথাক্রমে ৯ ও ১১ জুলাই মাঠে গড়াবে।
জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে দল
রিচার্ড এনগারাভা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ক্রেইগ আরভিন, ব্র্যাড ইভান্স, ইনোসেন্ট কাইয়া, ক্লাইভ মাদান্দে (উইকেটকিপার), ওয়েসলি মাধেভেরে, তাদিওয়ানাশে মারুমানি (উইকেটকিপার), ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, আর্নেস্ট মাসুকু, ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান নিয়ামহুরি ও সিকান্দার রাজা।
২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আশানুরূপ পারফর্ম করতে পারেনি বাংলাদেশ যুব দল। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই হতাশাজনক বিদায় নিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল আজিজুল হাকিম তামিমের দলকে। বিশ্বমঞ্চের সেই ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে এবং আগামী যুব বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ইতিমধ্যেই সফলভাবে শেষ হয়েছে ঘরোয়া ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ । এরপর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ৪৫ জন উদীয়মান ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেনিং সেশনও পরিচালনা করা হয়েছে। জুনিয়র টাইগারদের সাবেক লঙ্কান প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হওয়ায়, এবার যুব দলের হাল ধরার জন্য নতুন প্রধান কোচ হিসেবে সাবেক জাতীয় দলের ওপেনার হান্নান সরকারকে নিয়োগ দিয়েছে বোর্ড। নতুন এই কোচের অধীনেই আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে যুবাদের বহুল প্রতীক্ষিত অফিশিয়াল স্কিল ক্যাম্প।
ঢাকার অদূরে সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) টানা ২১ দিনব্যাপী এই নিবিড় ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক অনূর্ধ্ব-১৯ দল গঠনের লক্ষ্যে মোট ৩০ জন প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের স্কিল ক্যাম্প। যেখানে যুব ক্রিকেটাররা কন্ডিশনিংয়ের পাশাপাশি তাদের ব্যাটিং টেকনিক, বোলিং বৈচিত্র্য এবং আধুনিক ফিল্ডিংয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে কোচদের অধীনে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন। মূলত ২০২৮ যুব বিশ্বকাপের জন্য একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ কোর টিম তৈরি করাই এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য।
বিসিবি যুব ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে হান্নান সরকারের কোচিং প্যানেলে একঝাঁক অভিজ্ঞ দেশি কোচকে যুক্ত করেছে। প্রধান কোচ হান্নান সরকার ছাড়াও যুবাদের বোলিংয়ের ধার বাড়াতে পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন সাবেক জাতীয় দলের পেসার ডলার মাহমুদ। এছাড়া তরুণদের ফিল্ডিংয়ে চটপটে করে তুলতে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সেলিম এবং আরশাদ খানরা। এই ক্যাম্পের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
গত জুন মাসে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে লর্ডসের মাঠে কেন্টের হয়ে দুর্দান্ত অভিষেকের পর, এবার ইংল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও নিজের জাত চেনানোর বড় সুযোগ পেলেন বাংলাদেশের ডানহাতি গতি তারকা হাসান মাহমুদ। ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ‘ভাইটালিটি টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট’-এ নাম লিখিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ তিনটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য কেন্ট স্পিটফায়ার্স তাদের স্কোয়াডে এই টাইগার পেসারকে দলে নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
এর মাধ্যমে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি পেসার হিসেবে ভাইটালিটি ব্লাস্টে খেলার এক অনন্য গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন হাসান মাহমুদ। এর আগে ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সাসেক্সের জার্সি গায়ে এই টুর্নামেন্টে মাঠ মাতিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে কেন্ট স্পিটফায়ার্সের সুদীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সাদা বলের ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করবেন হাসান।
ইংল্যান্ডের এই জমজমাট ও গতিময় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন হাসান মাহমুদ। কেন্ট ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই টাইগার স্পিডস্টার জানান, কেন্টের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সময়টা তিনি ভীষণ উপভোগ করেছিলেন এবং দলের প্রয়োজনে আবারও লাল-সবুজ জার্সির বাইরে ইংল্যান্ডে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
হাসান মাহমুদ তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘কাউন্টিতে কেন্টের সাথে কাটানো সময়টা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা ছিল। তাই ভাইটালিটি ব্লাস্টের মতো টুর্নামেন্টে আবারও কেন্টের হয়ে অবদান রাখার সুযোগ যখন আমার সামনে এলো, তখন এক মুহূর্তের জন্যও আমি দ্বিধা করিনি। আমাদের সামনে থাকা এই তিনটি ম্যাচ কেন্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্টকে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে তুলতে আমি বল হাতে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার দক্ষতার ওপর পুনরায় আস্থা রাখার জন্য আমি কেন্ট ম্যানেজমেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
জাতীয় দলের এই পেসার আরও যোগ করেন, ‘ভাইটালিটি ব্লাস্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। এখানে বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটারদের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করার এটি আমার জন্য একটি মস্ত বড় সুযোগ। আমি মনে করি, এই অভিজ্ঞতাটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হয়ে আবারও সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে) শক্তিশালীভাবে ফেরার ক্ষেত্রে আমাকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে।’ হাসান মাহমুদের এই নতুন মিশন ইংলিশ কন্ডিশনে তাঁর বোলিং বৈচিত্র্য ও কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করছেন দেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন মাঠের বাইরে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ভেনেজুয়েলার ১০ বছর বয়সী এক ক্ষুদে ভক্ত, যে ভয়াবহ ভূমিকম্পে পরিবারের সদস্যদের হারানোর পাশাপাশি নিজের একটি পা-ও হারিয়েছে, তার মুখে হাসি ফোটালেন সিআরসেভেন।
আন্দ্রেস মিয়েলেস নামের ওই শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মাঝেও তার একটি ছোট্ট ইচ্ছা ছিল—বিশ্বকাপের স্টিকার অ্যালবামের জন্য প্রিয় ফুটবলার রোনালদোর একটি স্টিকার সংগ্রহ করা। এই খবরটি রোনালদোর কানে পৌঁছানোর পর তিনি মোটেও দেরি করেননি। নিজের স্বাক্ষর করা একটি জার্সি, কাঙ্ক্ষিত স্টিকার এবং সেই সঙ্গে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিক গ্যাবি আরোচার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসে। ভিডিও বার্তায় রোনালদো সরাসরি আন্দ্রেসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হ্যালো আন্দ্রেস, কেমন আছো? জানি তুমি আমার অনেক বড় ভক্ত। তোমাকে অনেক ভালোবাসা পাঠাতে এই ভিডিওটি করছি। সাহস হারিও না বন্ধু, দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো। আমি চাই তুমি একদিন আমার খেলা দেখতে আসো, আমরা একসঙ্গে সময় কাটাব। তোমার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রইলাম।”
ভয়াবহ দুর্যোগে সব হারানো শিশুটি প্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন সারপ্রাইজ পেয়ে অভিভূত। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তার মুখে ফুটে উঠেছে এক চিলতে হাসি। রোনালদোর এই উদারতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে। এর আগেও বহুবার অসহায় ও অসুস্থ শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। মাঠের খেলায় সেরা হওয়ার পাশাপাশি মনের বিশালতায় যে তিনি কেন বিশ্বসেরা, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন সিআরসেভেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ‘শেষ ৩২’ লড়াইয়ের পর্দা নেমেছে। কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার শেষ ম্যাচের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হয়েছে নকআউট পর্বের সেরা ১৬টি দল। এবারের আসরে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিদায় যেমন দর্শকদের স্তব্ধ করেছে, তেমনি প্যারাগুয়ে কিংবা মিসরের মতো দলগুলোর রূপকথার মতো উত্থান নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর মহাযুদ্ধ। যেখানে লড়াই হবে সমানে সমান; হারলেই নিতে হবে বিদায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সূচি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ।
শেষ ষোলোর সূচি ও ম্যাচ বিশ্লেষণ (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী):
১. কানাডা বনাম মরক্কো (৪ জুলাই, রাত ১১:০০টা, হিউস্টন)
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে জয় পাওয়া কানাডার সামনে এবার বড় বাধা মরক্কো। নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে বিদায় করা মরক্কো এখন টগবগে আত্মবিশ্বাসে রয়েছে।
২. প্যারাগুয়ে বনাম ফ্রান্স (৫ জুলাই, রাত ৩:০০টা, ফিলাডেলফিয়া)
জার্মানিকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক দেখানো প্যারাগুয়ে এবার মুখোমুখি হবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের। প্যারাগুয়ের রূপকথা কি বজায় থাকবে নাকি অভিজ্ঞ ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে, সেটাই দেখার বিষয়।
৩. ব্রাজিল বনাম নরওয়ে (৬ জুলাই, রাত ২:০০টা, নিউ ইয়র্ক)
জাপানকে হারিয়ে আসা ব্রাজিলের সামনে এবার আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। পরিসংখ্যান বলছে, নরওয়েকে এখনো হারাতে পারেনি সেলেসাওরা। ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের পথে এটি হতে পারে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
৪. মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড (৬ জুলাই, সকাল ৬:০০টা, মেক্সিকো সিটি)
স্বাগতিক মেক্সিকো এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে কোনো গোল হজম করেনি। অন্যদিকে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড আক্রমণভাগে অপ্রতিরোধ্য। মেক্সিকোর ঘরের মাঠে এই লড়াইটি হবে দেখার মতো।
৫. পর্তুগাল বনাম স্পেন (৭ জুলাই, রাত ১:০০টা, ডালাস)
ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগাল ও স্পেনের লড়াইকে বলা হচ্ছে শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ। রোনালদোর পর্তুগাল কি পারবে ফেভারিট স্পেনের তিকিতাকা ফুটবল রুখে দিতে?
৬. যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম (৭ জুলাই, সকাল ৬:০০টা, সিয়াটল)
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ শক্তিশালী বেলজিয়াম। তবে লাল কার্ডের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান, যা স্বাগতিকদের চিন্তার কারণ হতে পারে।
৭. আর্জেন্টিনা বনাম মিসর (৭ জুলাই, রাত ১০:০০টা, আটলান্টা)
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয়ের পর আর্জেন্টিনার সামনে এবার মোহাম্মদ সালাহর মিসর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ওঠা মিসর সালাহর জাদুতে ভর করে অঘটন ঘটাতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
৮. সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া (৮ জুলাই, রাত ২:০০টা, ভ্যাঙ্কুভার)
আলজেরিয়াকে বিদায় করা সুইজারল্যান্ড এবং ঘানাকে হারিয়ে আসা কলম্বিয়ার লড়াই দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলোর ধাপ। এই ম্যাচের বিজয়ী দলই কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ টিকিটটি পাবে।
শেষ ষোলোর এই আটটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ৮ জুলাই থাকবে বিরতি। এরপর ৯ জুলাই থেকে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের চূড়ান্ত লড়াই। ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন উত্তর আমেরিকার মাঠগুলোতে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই এখন 'বাঁচো-মরার' লড়াই।
আট বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে কলম্বিয়া যেন আবারও ২০১৪ সালের সেই রোমাঞ্চকর পথেই হাঁটছে। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকালে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কলম্বিয়ার পরবর্তী প্রতিপক্ষ এখন সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য বড় এক ধাক্কা খেতে হয়েছিল কলম্বিয়াকে। খেলার মাত্র ৭ম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ফরোয়ার্ড জন করডোবা। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লুইস সুয়ারেস। তবে এই বিপর্যয়কে খুব দ্রুতই সাফল্যে রূপান্তর করে দলটি। বদলি নামা সুয়ারেসের চমৎকার এক ক্রস থেকে ১৪তম মিনিটেই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জন আরিয়াস।
প্রথমার্ধ জুড়ে কলম্বিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও ঘানার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ব্যবধান আর বাড়েনি। বিরতির পর ৫৭ মিনিটে লুইস দিয়াস বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর দিয়াস আরও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলে আরিয়াসের করা সেই একমাত্র গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে জয় পেলে ২০১৪ সালের মতো আবারও শেষ আট নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে কলম্বিয়ার সামনে। তারা কি পারবে আলজেরিয়াকে হারিয়ে আসা সুইসদের বিপক্ষে সেই জয়রথ ধরে রাখতে? এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল ভক্তরা।
২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর মানবতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে মিশর। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নেওয়ার পর মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এই গৌরবময় বিজয় উৎসর্গ করেছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি। তাঁর এই আবেগঘন বার্তার পর গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপের মাঝেও মিশরের জয় নিয়ে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের বাঁধভাঙা উল্লাস। শুক্রবার ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ‘দ্য ফারাওস’রা।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে স্নায়ুযুদ্ধে জয়ী হয় মিশর। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ হোসাম হাসান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয় আমি মিশরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।” মাঠের ভেতর মিশর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে তাঁর উদযাপন এবং ফুটবলারদের দলগতভাবে সিজদাহ দেওয়ার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।
মিশরের এই জয় গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য কেবল একটি ফুটবলীয় জয় ছিল না, বরং যুদ্ধের বিভীষিকার মাঝে এক চিলতে সুখের বার্তা হয়ে এসেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশে অস্থায়ী পর্দায় শত শত ফিলিস্তিনি উৎকণ্ঠা নিয়ে খেলা দেখছেন। মিশরের জয়ের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি আর তাঁবুর ভেতর থেকে হাজারো মানুষ বেরিয়ে এসে বিজয় উল্লাস শুরু করেন। গাজার এক বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও মিশরের জয় আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। শিশুরা মুখে মিশরের পতাকা এঁকে এই বিজয় উদযাপন করেছে।”
এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিশর। ফুটবলের বড় মঞ্চে এমন অভাবনীয় সাফল্য এবং সেই জয়কে নিপীড়িত মানুষের প্রতি উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে মিশর প্রমাণ করল যে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি জাতীয় ও মানবিক ঐক্যের শক্তিশালী মাধ্যম। ফিলিস্তিনের প্রতি হোসাম হাসানের এই মমত্ববোধ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য ও মহাকাব্যিক ধ্রুপদী লড়াই। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের স্নায়ুক্ষয়ী যুদ্ধে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে প্রায় স্তব্ধ করে দিয়েছিল র্যাঙ্কিংয়ে ৬৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা পুঁচকে কেপ ভার্দে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে আর্জেন্টিনা শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও, ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা অদম্য কেপ ভার্দে।
ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই
ম্যাচের আগে যে দলটিকে নিয়ে বাজি ধরার লোক খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর, সেই কেপ ভার্দেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হৃৎস্পন্দন প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। মাঠের লড়াই দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি এটি কোনো ‘মিস ম্যাচ’। বরং লুসাইলের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ছায়া যেন ভর করেছিল মায়ামিতেও। শক্তিশালী গোলিয়াথ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘ডেভিড’ হয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে আটলান্টিক মহাসাগরের বুক থেকে উঠে আসা এই দলটি।
মেসির রেকর্ড ও ভোজিনিয়ার অতিমানবীয় প্রাচীর
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দূরপাল্লার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক চিপে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে মেসির সপ্তম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২০তম গোল। একই সঙ্গে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে রেকর্ডগড়া মেসিকেও এদিন ছায়ায় ঢেকে দিয়েছিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। প্রথমার্ধে ১টি গোল হজম করলেও বাকি সময়টায় তিনি যেন চীনের মহাপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ওয়ান-টু-ওয়ানে মেসিকে একাধিকবার হতভম্ব করা ছাড়াও মেসির অবিশ্বাস্য দুটি ফ্রি-কিক এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসের দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৮টি দুর্দান্ত সেভ করে ভোজিনহা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন বিল শ্যাঙ্কলির সেই অমর উক্তি—'ফুটবল জীবন-মরণের চেয়েও বেশি কিছু'।
কেপ ভার্দের বীরোচিত প্রত্যাবর্তন
প্রথমার্ধে ১-০ তে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাক থেকে দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেন ডেরয় দুয়ার্তে। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই (৯২ মিনিট) কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগে বাঁ পায়ের জোরালো শটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে আবারও লিড এনে দেন। কিন্তু কেপ ভার্দে দমে যাওয়ার পাত্র ছিল না। ১০৩ মিনিটে সিডনি কাবরালের এক জাদুকরী গোল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার হয়ে রইল। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের যে বাঁকানো শটে তিনি বল জালে জড়ালেন, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ তা কেবল চেয়ে চেয়েই দেখেছেন।
ভাগ্য ও রোমেরোর জয়সূচক গোল
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে সেই ‘নিষ্ঠুর মুহূর্ত’। ১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দে ডিফেন্ডার বোর্জেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এই আত্মঘাতী গোলেই শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের। শেষ মুহূর্তেও হাল ছাড়েনি আফ্রিকা মহাদেশের দেশটি। ১১৯ মিনিটে গিলসন বেঞ্চিমোলের নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন এমি মার্তিনেজ।
পরাজয়ের মাঝেও বীরের মর্যাদা
ম্যাচ শেষে স্কোরলাইনে আর্জেন্টিনা জয়ী হলেও নৈতিক জয় যেন কেপ ভার্দেরই। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের আটকে দেওয়া দলটি আজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের যেভাবে তটস্থ করে রেখেছিল, তাতে পরাজিত হয়েও তারা কুড়িয়ে নিয়েছে বিনম্র শ্রদ্ধা ও সম্মান। আর্জেন্টাইনদের বুনো উদ্যাপনই বলে দিচ্ছিল, এই জয় পেতে তাদের কতটা ঘাম ঝরাতে হয়েছে।
বিখ্যাত লেখক এদুয়ার্দো গালিয়ানোর ভাষায়, 'যখন সুন্দর ফুটবল হয়, আমি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই।' আজ মায়ামির মাঠে কেপ ভার্দে সেই সুন্দর ফুটবলই উপহার দিয়েছে। লড়াই শেষে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল শেষ ষোলোর পথে, যেখানে আগামী ৭ জুলাই তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাস গড়া মোহাম্মদ সালাহর মিশর। তবে এই ১২০ মিনিটের লড়াই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় 'কেপ-ফিয়ার' রোমাঞ্চ হিসেবেই অম্লান হয়ে থাকবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার জুনিয়র। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে পুরো সময় বেঞ্চে বসেই সতীর্থদের জয় দেখেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ফলে শেষ ষোলোর নরওয়ে ম্যাচে নেইমারকে প্রথম একাদশে দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
সম্প্রতি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম *ফোলহা দে এস. পাওলো*কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত আবেগ নয়, দলের প্রয়োজনই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আনচেলত্তি বলেন, "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেইমার এখন খেলতে পারে। তবে সে কতক্ষণ খেলবে, সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। ম্যাচের ছন্দ ও সময় কীভাবে সামলাতে হয়, সে খুব ভালো জানে। যখন আমি মনে করব দল তাকে প্রয়োজন, তখনই তাকে মাঠে নামাব।"
কাফ ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো ফিট কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রাজিল কোচের উত্তর ছিল আত্মবিশ্বাসী।
"হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে," বলেন আনচেলত্তি।
তবে বেঞ্চে বসে থাকতে যে নেইমার সন্তুষ্ট নন, সেটিও স্বীকার করেছেন পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী এই কোচ।
"সে অবশ্যই খুশি নয়। কোনো ফুটবলারই বেঞ্চে বসে সুখী থাকতে পারে না। কিন্তু সে দারুণ আচরণ করছে, খুব ভালো অনুশীলন করছে। সে ভদ্র, শ্রদ্ধাশীল এবং সতীর্থদের কাছে খুবই প্রিয়। সে দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়, কারণ তার সামর্থ্য যেমন আছে, তেমনি বিনয়ও আছে," বলেন আনচেলত্তি।
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি তার সঙ্গে খুবই সন্তুষ্ট। অবশ্যই সে খেলতে চায়, যেমন সবসময় চেয়েছে। সে মুখে হয়তো বলবে না যে খেলতে চায়, কিন্তু সেটা বোঝাই যায়। একজন ফুটবলার কখনো বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না।"
সাক্ষাৎকারে জাতীয় দল নিয়ে নিজের ফুটবল দর্শনও তুলে ধরেন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, জাতীয় দলে কেবল তারকাখ্যাতি নয়, দলের জন্য অবদান রাখার মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, "তারকা খেলোয়াড় দর্শকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু জাতীয় দলে আমরা তারকা খুঁজি না। আমরা এমন উচ্চমানের খেলোয়াড় চাই, যারা দলকে জিততে সাহায্য করবে।"
জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে কাসেমিরোকে তুলে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ব্রাজিল কোচ। সেই বদল নিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরেছিল।
আনচেলত্তি বলেন, "আমরা যদি জাপানের কাছে হেরে যেতাম, তাহলে সবাই বলত আমি ভুল করেছি। যদি কাসেমিরোকে না তুলতাম কিংবা মার্তিনেল্লিকে না নামাতাম, দোষটা আমারই হতো। আমি সেটা খুব ভালোভাবেই বুঝি। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করি। এটা শতভাগ নিশ্চিত যে আমি জিনিয়াস নই, আবার শতভাগ নিশ্চিত যে আমি বোকাও নই।"
নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ নিয়েও সতর্ক ব্রাজিল কোচ। তাঁর মতে, নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।
তিনি বলেন, "বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। এখানে শুধু কৌশল বা প্রযুক্তিগত দিক নয়, মানসিক শক্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ে খুব ভালো দল। তাদের দলে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড আছে। তাই ম্যাচটি কঠিন হবে। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ভালো ফুটবল খেলতে পারব।"
চলমান বিশ্বকাপে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনহা ও মার্তিনেল্লিদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ছন্দে রয়েছে ব্রাজিল। তবে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর মহারণে নেইমারকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন সেলেসাও সমর্থকদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।