এ মাসেই ইংল্যান্ড সফরে যাবে অস্ট্রেলিয়া। তার আগে নিজেদের কিছুটা ঝালিয়ে নিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে স্কটল্যান্ড সফরে গেছে অজিরা। গতকাল সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই ‘মহাপ্রলয়’ বইয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। রীতিমতো তুলোধুনো করেছে স্কটল্যান্ডের বোলারদের। ট্রাভিস হেড-মিচেল মার্শদের ব্যাটিং তাণ্ডবে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ১৫০ রানের ওপরের ম্যাচও জিতেছে ১০ ওভারের আগেই।
এডিনবরার গ্রেঞ্জ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে স্কটল্যান্ডের দেওয়া ১৫৫ রানের লক্ষ্য ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৯.৪ ওভারেই তাড়া করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সবচেয়ে বেশি বল বাকি রেখে জয়ের রেকর্ড এখন এটাই। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৩২০ স্ট্রাইকরেটে তাণ্ডব চালালেন ট্রাভিস হেড। সেটাও চলল বেশ খানিকটা সময় ধরে। ততক্ষনে ট্রাভিস হেড ২৪ বল থেকেই করে ফেলেছেন ৮০ রান। পরের বলেই আউট হন তিনি। হেডের এমন মহাপ্রলয়ঙ্করী ইনিংসটি গড়া ছিল ৫ ছক্কা ও ১২ চারে। ইনিংসটি খেলার পথে হেড ১৭ বলে ফিফটি পূরণ করেছেন, যা টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যৌথভাবে দ্রুততম। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মার্কাস স্টয়নিসও ১৭ বলে ফিফটি ছুঁয়েছিলেন।
অন্যদিকে হেডকে অনুসরন করেই খেলতে থাকেন মিচেল মার্শ। তার ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ৩৯, ছক্কা ৩টি ও চার ৫টি। জশ ইংলিস অপরাজিত থাকেন ১৩ বলে ২৭ রান করে। একপেশে এই জয়ের পথে পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলটি ৬ ওভারেই তুলেছে ১১৩ রান। আগের সর্বোচ্চ ছিল ১০২ রান; যা গত বছরের ২৬ মার্চ সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রান তাড়ায় তৃতীয় বলেই জেইক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ককে হারায় অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে রানের খাতাই খুলতে পারেননি আলোচিত এই তরুণ সেনসেশন। তবে সেটাকে বিপদের কারণ হতে দেননি ট্রাভিস হেড। এরপরই ঝড় শুরু করেন তিনি।
পাওয়ার-প্লের মধ্যে আর কোনো উইকেটই তুলে নিতে পারেনি স্কটল্যান্ড। এরপর সপ্তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানে স্বাগতিকরা; কিন্তু ততক্ষনে ম্যাচ অজিদের নিয়ন্ত্রণে। স্টয়নিসকে নিয়ে বাকি পথ সহজেই পাড়ি দেন ইংলিস। এর আগে প্রথম ৬ ওভারে ১১৩ রান তুলে ফেলে অজিরা। এর আগে টস জিতে স্কটল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজে নেই তাদের অভিজ্ঞ পেসত্রয়ী জশ হেইজেলউড, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। তাদের অনুপস্থিতিতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ বোলিং করেন জাভিয়ার বার্টলেট, শন অ্যাবটরা। স্কটল্যান্ডের ইনিংসে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের চারজনই পান ভালো শুরু। কিন্তু কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। স্কটল্যান্ডের ইনিংসে কেউ ছুঁতে পারেননি ৩০ রানও। সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে ওপেনার জর্জ মানজির ব্যাট থেকে। তাতে কোনোমতে দেড়শ পার করে দলটি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভারতকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শুভ সূচনা করল দক্ষিণ আফ্রিকা। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে সূর্যকুমার যাদবের দলকে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে প্রোটিয়ারা। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে তোলে। জবাবে ভারতীয় ব্যাটাররা ক্রিজে থিতু হতে পারেননি, পুরো দল মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায়। এই জয়ের ফলে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করে সেমিফাইনালের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল এইডেন মারক্রামের দল।
ম্যাচের শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জাস্প্রিত বুমরাহর দাপুটে বোলিংয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। দ্রুতই বিদায় নেন অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম ও রায়ান রিকেলটন। মাত্র ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া প্রোটিয়াদের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রানের অনবদ্য জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। ব্রেভিস ২৯ বলে ৪৫ রান করে আউট হলেও মিলার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলে ৬৩ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবস মাত্র ২৪ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ১৮৭ রানে পৌঁছায়। ভারতের বোলারদের মধ্যে বুমরাহ ১৫ রানে ৩টি এবং আর্শদিপ সিং ২টি উইকেট শিকার করেন।
১৮৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ভারত। প্রথম ওভারেই ওপেনার ইষাণ কিষাণ আউট হওয়ার পর তিলক ভার্মাও প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরেন। পাওয়ার প্লের মধ্যেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার ফিরে গেলে চরম চাপে পড়ে যায় ভারত। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও ওয়াশিংটন সুন্দর কিছুটা সময় উইকেটে কাটানোর চেষ্টা করলেও কোরবিন বোচের বোলিংয়ে তারা সাজঘরে ফিরতে বাধ্য হন। মিডল অর্ডারে শিবাম দুবে ৪২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালান এবং হার্দিক পান্ডিয়া তাকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে সেই আশাও দ্রুত মিলিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে মার্কো ইয়ানসেন অসাধারণ বোলিং করে একাই চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনে ধস নামান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে কেশব মহারাজ শিকার করেন তিনটি উইকেট। ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই ভারতের ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন বড় ব্যবধানে পরাজয় ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলোর সমীকরণকে বেশ কঠিন করে তুলেছে। অন্যদিকে, টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও মিডল অর্ডারের দৃঢ়তায় দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিল প্রোটিয়ারা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী টটেনহাম হটস্পারকে তাদেরই মাঠে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। গত সপ্তাহে তলানির ক্লাব উলভসের বিপক্ষে ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়া গানাররা এই জয়ে পুনরায় ছন্দে ফিরেছে। নর্থ লন্ডন ডার্বিতে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মিকেল আর্তেতার দল প্রমাণ করেছে তারা শিরোপা জয়ের জন্য মানসিকভাবে কতটা শক্তিশালী। এই জয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা আর্সেনাল দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে এখন ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসা আর্সেনাল প্রথমার্ধেই লিড নেয়। তবে ৩৪ মিনিটে র্যান্ডাল কোলো মুয়ানির গোলে টটেনহাম সমতা ফিরিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু বিরতির পর আর্সেনালের বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে স্পারদের রক্ষণভাগ পুরোপুরি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। গানারদের হয়ে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক হয়েছেন এবেরেচি এজে ও ভিক্তর গিওকেরেস। এই জয়ের মাধ্যমে টটেনহামের বিপক্ষে টানা পঞ্চম জয়ের রেকর্ড গড়ল আর্সেনাল। ১৯৮৯ সালের পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে এটিই তাদের সেরা ধারাবাহিক সাফল্যের কীর্তি।
ম্যাচ শেষে দলের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করে কোচ মিকেল আর্তেতা মন্তব্য করেন তারা আসলে কী দিয়ে তৈরি সেটিই আজ মাঠে প্রমাণ হয়েছে। আর্তেতার মতে গত ৭২ ঘণ্টা দলের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। উলভসের বিপক্ষে ড্রয়ের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ও লজ্জা কাজ করছিল। তবে সেই নেতিবাচক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের এক সুতোয় বেঁধে মাঠে জয় ছিনিয়ে আনা ছিল বড় সাফল্য। এই পারফরম্যান্স আর্তেতাকে গর্বিত করেছে। শিরোপা জয়ের পথে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
লিগের বর্তমান সমীকরণে ২৮ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় অবস্থান করছে আর্সেনাল। এক ম্যাচ কম খেলে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যানসিটি তাদের পরবর্তী ম্যাচ জিতলে ব্যবধান আবারও ২ পয়েন্টে নেমে আসবে। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে হেরে টটেনহাম এখন রেলিগেশন আতঙ্কে ভুগছে। পয়েন্ট টেবিলের অবনমন অঞ্চল থেকে তারা মাত্র ৪ পয়েন্টের দূরত্বে অবস্থান করছে। লিগের শিরোপা লড়াই এখন চূড়ান্ত রোমাঞ্চকর এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। সামনের প্রতিটি ম্যাচই এখন গানারদের জন্য এক একটি ফাইনাল হিসেবে গণ্য হবে।
লেভান্তের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বর স্থানটি পুনরুদ্ধার করল বার্সেলোনা। ওসাসুনার কাছে রিয়াল মাদ্রিদের অপ্রত্যাশিত হারের সুযোগটি পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগিয়ে শীর্ষস্থান দখল করল হ্যান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ের ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের চেয়ে এক পয়েন্টে পরিষ্কার ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাল কাতালান জায়ান্টরা। মাঠের প্রতিটি বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে তারা প্রমাণ করল কেন তারা এই আসরের অন্যতম প্রধান শিরোপা দাবিদার।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বার্সেলোনা নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দেয়। মাত্র চার মিনিটের মাথায় তরুণ তুর্কি মার্ক বার্নালের চমৎকার গোলে ন্যু ক্যাম্পে লিড নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও জিরোনার কাছে টানা হারের ধাক্কা সামলে এই শুরুর গোলটি তাদের খেলায় প্রয়োজনীয় ছন্দ ফিরিয়ে আনে। এরপর ৩২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। নেদারল্যান্ডসের এই তারকার জন্য গোলটি ছিল অত্যন্ত বিশেষ এক প্রাপ্তি, কারণ ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম তিনি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জালের দেখা পেলেন।
প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে থেকে বার্সেলোনা ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের দখল ধরে রেখে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় দলটি। অবশেষে ৮১ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন বেঞ্চ থেকে উঠে আসা ফারমিন লোপেজ। ডি-বক্সের বাইরে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত এক জোরালো শট লেভান্তে গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়েই সরাসরি জালে জড়ায়। এই অপ্রতিরোধ্য গোলটি বার্সেলোনার ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ তৈরি করে।
লা লিগায় ২৫ ম্যাচ শেষে এটি বার্সেলোনার ২০তম জয়। বর্তমানে ৬১ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার একক শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের শুরুতে লেভান্তের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে কষ্টার্জিত জয় পেলেও এবার ঘরের মাঠে অনায়াস ও কর্তৃত্বপূর্ণ জয় পেল বার্সা। শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এই জয়টি কাতালান সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী ম্যাচগুলোতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বার্সেলোনা খুব শীঘ্রই শিরোপার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
নটিংহ্যাম ফরেস্টের মাঠ সিটি গ্রাউন্ডে নাটকীয় জয়ের দেখা পেয়েছে লিভারপুল। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তের গোলে অলরেডরা তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচ আর্নে স্লট। তাঁর মতে, চলতি মৌসুমে লিভারপুল যতগুলো ম্যাচ খেলেছে, তার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে নিম্নমানের ফুটবল। জয়ের উল্লাস থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সের বিশাল ঘাটতি নিয়ে তিনি তাঁর খেলোয়াড়দের স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন।
পুরো ম্যাচেই লিভারপুলকে তাদের চেনা ছন্দের বিপরীতে ছায়া হয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে লিভারপুলের ফুটবলাররা ছিলেন পুরোপুরি নিষ্প্রভ। দলের সাবেক অধিনায়ক ও ফুটবল বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘার এই প্রথমার্ধের খেলাকে একটি ‘হরর শো’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নটিংহ্যামের জমাট রক্ষণ আর পাল্টা আক্রমণের সামনে লিভারপুল বারবার খেই হারিয়েছে। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে অলরেডরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালায়, তবে কাঙ্ক্ষিত গোল পাওয়ার জন্য তাদের একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
খেলার শেষ দিকে এসে ম্যাচটি এক নাটকীয় মোড় নেয়। ৮৯তম মিনিটে আর্জেন্টাইন তারকা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বল জালে জড়ালেও ভিএআর রিভিউয়ে সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। গোল বাতিলের হতাশায় যখন ম্যাচটি নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে আসেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এবার তাঁর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় অলরেডদের। এই জয়ে লিভারপুল পূর্ণ তিন পয়েন্ট পেলেও মাঠের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আর্নে স্লট বেশ খোলাখুলিভাবে নিজের দলের দুর্বলতাগুলো স্বীকার করেন। তিনি জানান, পারফরম্যান্সের বিচারে এই তিন পয়েন্ট তাঁর দলের প্রাপ্য ছিল না। মূলত সৌভাগ্যের জোরে লিভারপুল এই জয় পেয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। স্লটের ভাষ্যমতে, একটি ড্র হয়তো এই ম্যাচের জন্য সবচেয়ে ন্যায্য ফলাফল হতো। প্রথমার্ধের বাজে ফুটবল কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা উন্নতি হলেও দলের নির্ধারিত মান অনুযায়ী ফুটবল খেলতে না পারাটা তাঁর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন জয় স্বস্তি দিলেও খেলোয়াড়দের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিয়েছেন লিভারপুল বস।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ২০২৬ মৌসুমের প্রথম ম্যাচে হারের পর আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টার মিয়ামির এই অধিনায়ক রেফারিদের কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্র ধরে এই আলোচনা শুরু হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে এমএলএস কর্তৃপক্ষ মেসি কোনো নিয়ম ভঙ্গ করেননি বলে নিশ্চিত করেছে।
বিতর্কের মূলে ছিল ‘সিনতেসিস দেপোর্তেস’ নামক একটি মাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, হারের পর ক্ষুব্ধ মেসিকে তাঁর সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ একটি কক্ষে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সুয়ারেজের হাত ছাড়িয়ে মেসি ওই কক্ষে প্রবেশ করেন এবং এর কিছুক্ষণ পর আবার ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরে আসেন। এই ভিডিওর ভিত্তিতে অনেকেই দাবি করেন, মেসি রেফারিদের ওপর চড়াও হতে তাঁদের কক্ষে ঢুকেছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে এমএলএস কর্তৃপক্ষ। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমএলএসের এক মুখপাত্র বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ভিডিওতে যে দরজাটি দেখা গেছে সেটি আসলে রেফারিদের কক্ষ ছিল না। মেসি কোনো নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেননি এবং কোনো নিয়মও লঙ্ঘন করেননি। ফলে তাঁকে কোনো ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, এমএলএসে রেফারিদের কক্ষে প্রবেশের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। ২০২৩ সালে একই অভিযোগে ফুটবলার ম্যাট মিয়াজগাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে মেসির ক্ষেত্রে ভিডিওর ভুল ব্যাখ্যার কারণে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে এখন প্রমাণিত। অতীতে মেসি অল-স্টার ম্যাচে অংশ না নেওয়ায় একবার নিষিদ্ধ হয়েছিলেন এবং নিয়ম ভঙ্গের দায়ে জরিমানাও দিয়েছিলেন। এবারের ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলে তাঁকে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতো।
মাঠের লড়াইয়ে মৌসুমের প্রথম ম্যাচটি ইন্টার মিয়ামির জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। পরাজয়ের গ্লানি ও বিতর্ক পেছনে ফেলে আগামী রবিবার নিজেদের মাঠে অরল্যান্ডো সিটির মুখোমুখি হবে মেসির দল। ভক্তরা আশা করছেন, মাঠের বাইরের এই বিতর্ক শেষ হওয়ায় মেসি এখন পুরোপুরি খেলায় মনোযোগ দিতে পারবেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের শুরুতেই বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াল প্রকৃতি। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বহুল প্রতীক্ষিত নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। টসের ঠিক পরেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই দুই দলের খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবং মাঠ খেলার অনুপযুক্ত থাকায় একটি বলও গড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে কোনো ফলাফল ছাড়াই পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য সব ঠিকঠাকই ছিল। নির্ধারিত সময়েই টস সম্পন্ন হয় এবং টস জিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আগা। তবে টসের পর যখন তিনি নিজের পরিকল্পনার কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই কলম্বোর আকাশে বৃষ্টির মেঘ ঘনীভূত হয় এবং ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়। দ্রুততার সাথে গ্রাউন্ড স্টাফরা কাভার দিয়ে পিচ ও আউটফিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঢেকে দিলেও সময়ের সাথে সাথে বৃষ্টির বেগ বাড়তে থাকে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর আবহাওয়া অনুকূলে না আসায় স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৭ মিনিটে ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসন আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
এই পরিত্যক্ত ম্যাচের ফলে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড উভয় দলই একটি করে পয়েন্ট পেয়েছে। এতে করে বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের দুই নম্বর গ্রুপের সেমিফাইনালের সমীকরণ এখন আরও বেশি উন্মুক্ত ও জটিল হয়ে দাঁড়াল। কোনো দলই পূর্ণ পয়েন্ট না পাওয়ায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেল। সমীকরণের বিচারে গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলো এখন প্রতিটি দলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশ্বকাপের পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, পাকিস্তান দল এখন কলম্বো ছেড়ে পাল্লেকেলেতে যাবে তাদের পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য। আগামী মঙ্গলবার সেখানে তারা শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড দল কলম্বোতেই অবস্থান করবে এবং এর পরের দিন অর্থাৎ বুধবার স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে। বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট হারানোর আক্ষেপ কাটিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন উভয় দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কলম্বোর ক্রিকেট ভক্তরা একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির দাপটে হতাশ হয়েই তাদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
লা লিগায় টানা নয় ম্যাচ জয়ের পর অবশেষে হারের তিক্ত স্বাদ পেল রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার রাতে এস্তাদিও এল সাদারে স্বাগতিক ওসাসুনার কাছে ২-১ গোলে হেরে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের জন্য। আগের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদকে হারিয়ে এবং জিরোনার কাছে বার্সেলোনার হারের সুযোগ নিয়ে এক নম্বর আসন সুসংহত করলেও, এক ম্যাচ পরই হোঁচট খেল মাদ্রিদ ক্লাবটি। এই হারের ফলে ২৫ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল বর্তমানে শীর্ষে থাকলেও আজ বার্সেলোনা তাদের ম্যাচে লেভান্তেকে হারাতে পারলে রিয়ালকে টপকে পুনরায় শীর্ষস্থান দখল করবে কাতালানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই পাম্পলোনার মাঠে চাপে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধে ওসাসুনার মুহুর্মুহু আক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয় রিয়াল রক্ষণভাগকে। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া শুরুতে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। বিশেষ করে আলভারো কারেরাস ও আন্তে বুদিমিরের নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা রুখে দেন এই বেলজিয়ান তারকা। তবে ৩৯তম মিনিটে ডি-বক্সে বুদিমিরকে ফাউল করে বসেন কোর্তোয়া নিজেই। ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের মাধ্যমে পেনাল্টি পায় ওসাসুনা এবং স্পট কিক থেকে সফল লক্ষ্যভেদে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন বুদিমির। বিরতির ঠিক আগে অরেলিয়েন শুয়োমেনি সমতা ফেরানোর একটি দারুণ সুযোগ পেলেও ওসাসুনা গোলরক্ষক হেরেরা তা প্রতিহত করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল মাদ্রিদ। গত মঙ্গলবার বেনফিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করলেও দলের প্রয়োজনে জ্বলে ওঠেন ৭৩তম মিনিটে। ফেদেরিকো ভালভার্দের চমৎকার একটি কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রিয়ালকে সমতায় ফেরান এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এর আগে ৭০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। সমতা ফেরার পর ম্যাচটি যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই মঞ্চস্থ হয় অন্তিম মুহূর্তের চরম নাটকীয়তা।
ম্যাচের স্টপেজ টাইমে রিয়াল বক্সের বাঁ দিক থেকে রাউল গার্সিয়ার একটি জোরালো শট কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। গ্যালারি উল্লাসে মেতে উঠলেও লাইন্সম্যান অফসাইডের ইশারা করলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য নিস্তব্ধতা নেমে আসে স্টেডিয়ামে। তবে ভিএআর রিভিউয়ে দীর্ঘ পরীক্ষার পর দেখা যায় গোলটি বৈধ ছিল, যার ফলে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত হয় ওসাসুনার। এই নাটকীয় পরাজয় রিয়ালের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ এতে বার্সেলোনার সামনে শীর্ষস্থানে ফেরার পথ উন্মুক্ত হলো। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে আজ রাতের বার্সেলোনা বনাম লেভান্তে ম্যাচের দিকে, যা নির্ধারণ করবে লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ের পরবর্তী গতিপথ।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে শিরোপার দৌড় আরও জমিয়ে তুলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পায় পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে মাত্র ২-এ নিয়ে এসেছে সিটিজেনরা। লিগের এই পর্যায়ে প্রতিটি পয়েন্ট অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে ওঠায় ম্যানচেস্টার সিটির এই জয় আর্সেনাল শিবিরের ওপর বড় ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে ম্যানচেস্টার সিটি। খেলার ১৪ মিনিটেই দলকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন ও’রাইলি। মাঝমাঠ থেকে ওমর মারমুশের বাড়ানো চমৎকার এক বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে নিউক্যাসল গোলরক্ষক নিক পোপকে পরাস্ত করেন তিনি। তবে সিটির এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি নিউক্যাসল। পাল্টা আক্রমণে দ্রুতই সমতায় ফেরে সফরকারীরা। সিটির রক্ষণের এক দুর্বল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে লুইস হল একটি জোরালো শট নেন, যা সিটির এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মাকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়।
ম্যাচে সমতা ফিরলেও দমে যায়নি পেপ গার্দিওলার দল। দলের প্রধান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এদিন জালের দেখা না পেলেও পুরো মাঠ জুড়ে অনবদ্য ফুটবল খেলেছেন। দলের প্রয়োজনে নিজের রক্ষণভাগ সামলাতে একদম নিচে নেমে এসে শট ঠেকিয়েছেন এবং বল ক্লিয়ার করেছেন তিনি। হালান্ডের এই পরিশ্রমের সুফল পায় সিটি ম্যাচের শেষ দিকে। তাঁর এক মাপা ক্রস থেকেই ও’রাইলি ম্যাচে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন। প্রিমিয়ার লিগের ক্যারিয়ারে এটিই ও’রাইলির প্রথম জোড়া গোলের কৃতিত্ব। দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসল গোল পরিশোধের চেষ্টা চালালেও সিটি রক্ষণাত্মক কৌশলে মনোযোগ দিয়ে লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
এই জয়ের পর ২৭ ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটির সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। আজ রোববারের উত্তর লন্ডন ডার্বিতে টটেনহ্যাম হটস্পারের মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। ম্যানচেস্টার সিটি এখন অধীর আগ্রহে সেই ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি টটেনহ্যামের মাঠে আর্সেনাল কোনো পয়েন্ট হারায়, তবে শিরোপা লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটি আরও সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসবে। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী এই রোমাঞ্চকর লড়াই এখন ফুটবল প্রেমীদের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ২০২৬ মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিয়ামি। লিওনেল মেসিকে ঘিরে ভক্তদের যে অসীম উন্মাদনা ছিল, তাকে এক নিমিষেই ম্লান করে দিয়েছে সন হিউং-মিনের দল লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (এলএএফসি)। লস অ্যাঞ্জেলেস মেমোরিয়াল কলিসিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মিয়ামিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিকরা। গ্যালারিতে উপস্থিত ৭৫ হাজার ৬৭৩ জন দর্শকের সিংহভাগই এসেছিলেন মেসির জাদুকরী ফুটবল দেখতে, তবে মাঠের দখল ছিল পুরোপুরি এলএএফসির হাতে। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মিয়ামি ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও লস অ্যাঞ্জেলেসের কৌশল ও গতির কাছে তারা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরীয় তারকা সন হিউং-মিনের নেতৃত্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে লস অ্যাঞ্জেলেস। স্বাগতিকদের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ডেভিড মার্টিনেজ, যার নেপথ্য কারিগর ছিলেন স্বয়ং সন। সনের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে মিয়ামি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও লস অ্যাঞ্জেলেসের জমাট রক্ষণ ও মাঝমাঠের দাপটের সামনে মেসি-সুয়ারেজরা কোনো কার্যকরী সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। বিরতির পর ৭৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেনি বুয়াঙ্গা। টিমোথি টিলম্যানের এক লম্বা পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্স ছেড়ে বেরিয়ে আসা মিয়ামি গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার চিপ শটে গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের একদম শেষলগ্নে যোগ করা সময়ে নাথান অরদাজ তৃতীয় গোলটি করলে মিয়ামির বড় পরাজয় নিশ্চিত হয়।
ঐতিহাসিক লস অ্যাঞ্জেলেস মেমোরিয়াল কলিসিয়াম, যা আগে অলিম্পিক ও সুপার বোলের মতো মহতী আসরের সাক্ষী হয়েছে, সেখানে এদিন ছিল এক অভূতপূর্ব পরিবেশ। গ্যালারি ভরা গোলাপি জার্সি পরিহিত মিয়ামি সমর্থকদের উপস্থিতি থাকলেও সন ও তাঁর সতীর্থরা মাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। ম্যাচের প্রতিটি ছোঁয়ায় গ্যালারি সরব হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে স্বাগতিকরাই। গোল করা তো দূরে থাক, পুরো ম্যাচে মিয়ামির আক্রমণভাগ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই এমন বিধ্বস্ত হার চ্যাম্পিয়ন মিয়ামিকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলবে। অন্যদিকে, শক্তিশালী মিয়ামিকে উড়িয়ে দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি লিগের বাকি দলগুলোর কাছে এক কড়া বার্তা পৌঁছে দিল যে, এবারের আসরে তারা শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার।
ফুটবল বিশ্বের অদম্য জাদুকর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন যে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা। সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে আল হাজেমের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ের রাতে জোড়া গোল করে তিনি এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। আধুনিক ফুটবলের ১৬০ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে রোনালদোই প্রথম ফুটবলার, যিনি ৩০ বছর বয়স অতিক্রম করার পর ৫০০ গোলের গণ্ডি স্পর্শ করলেন। আল হাজেমের বিপক্ষে জয়ের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি এই পর্তুগিজ মহাতারকা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এমন এক কীর্তি স্থাপন করেছেন, যা আগে কোনো কিংবদন্তি খেলোয়াড় অর্জন করতে পারেননি।
এই অভাবনীয় রেকর্ডটি ফুটবল বোদ্ধাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সাধারণত একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার ৩০ বছরের পর পড়তির দিকে থাকে, কিন্তু রোনালদোর ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৩০ বছর পরবর্তী সময়ে তিনি এখন পর্যন্ত ৫০১টি গোল করেছেন, যা তাঁর ফিটনেস এবং মাঠের শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য প্রমাণ। এই জোড়া গোলের পর তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬৫-তে। ঐতিহাসিক ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে সিআর সেভেনের প্রয়োজন আর মাত্র ৩৫টি গোল। যেভাবে তিনি প্রতি ম্যাচে নিজেকে নতুন করে তুলে ধরছেন, তাতে খুব দ্রুতই যে তিনি এই চার সংখ্যার জাদুকরী তালিকায় নাম লেখাবেন, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রোনালদোর এই দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলায় তিনি রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং স্পোর্টিং সিপির মতো বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোতে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে এসেছেন। বর্তমানে আল নাসরের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দাপিয়ে বেড়ালেও আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে গুঞ্জন উঠেছে যে তিনি হয়তো আগামী গ্রীষ্মে পুনরায় ইউরোপীয় ফুটবলে ফিরে যেতে পারেন। বিশেষ করে তাঁর শৈশবের ক্লাব স্পোর্টিং লিসবন তাঁকে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী বলে শোনা যাচ্ছে। তবে রোনালদো বর্তমানে আল নাসরের হয়ে সৌদি লিগ শিরোপা জয়ের মিশনেই পুরো মনোযোগ ধরে রেখেছেন। পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার স্বপ্নও তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, যা তাঁর ফুটবলীয় তৃষ্ণা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিরই বহিঃপ্রকাশ। সব মিলিয়ে, ১৬০ বছরের রেকর্ড ভেঙে রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি বিশ্ব ফুটবলের এক চিরকালীন আইকন।
ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ৩৪ বছর বয়সেও পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার কথা এখনো ভাবছেন না। তবে চোটের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে করতে ক্লান্তি বেড়েছে, এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য এখন তার প্রধান প্রেরণা।
অ্যান্টেরিওর ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) চোটের কারণে প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে নেইমারকে। বয়সের সঙ্গে চোটের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে খেলার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়েছে।
ব্রাজিলের ‘কাজেটিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘ভবিষ্যৎ আমার জন্য কী নিয়ে আসছে, তা আমি জানি না। ডিসেম্বরেই অবসর নিতে চাইতে পারি। আমি দিন ধরে ধরে এগোচ্ছি। এই বছরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোসের জন্য নয়, ব্রাজিল জাতীয় দল এবং আমার নিজের জন্যও।’
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেননি নেইমার। শৈশবের ক্লাব সান্তোস–এ ফিরে এসেও দ্রুত মাঠে নামার তাড়াহুড়ো করেননি। তিনি জানিয়েছেন, ‘এই মৌসুমে শতভাগ ফিট হয়ে ফিরতে চেয়েছিলাম, দেখেই কিছু ম্যাচে বিশ্রামে ছিলাম। প্রতিদিনের বাস্তবতা অনেকেই বোঝে না। সান্তোস এ বিষয়ে দারুণ পরিকল্পনা করেছে। আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে মাঠে ফিরতে পেরে আমি খুশি ও স্বস্তি বোধ করছি।’
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার জায়গা এখনো নিশ্চিত নয়। বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে শতভাগ ফিট হয়ে যোগ্যতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।
২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্লেবারসন মনে করেন, নেইমারকে বিশ্বকাপে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘ফিটনেসে পিছিয়ে থাকলেও তার প্রতিভা অসাধারণ। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর সে নিজের সামর্থ্য দেখাতে পারবে। ব্রাজিলে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, কিন্তু নেইমারের মতো জাদুকরী কিছু করার ক্ষমতা আর কারও নেই।’
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে খেলবে। আগামী ১৩ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়াম–এ মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করবে। গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। মূলত বিশ্বকাপ জয়ের পরই নেইমার তার ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ছাড়া চলমান এই আসর নিয়ে আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে গণমাধ্যমের সামনে নিজের গভীর ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিসিবির সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হওয়াকে কেন্দ্র করে দলের পরিবেশ ও ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, 'কলকাতা শ্রীলঙ্কাতে খেলা দেখার পরে মনে হলো যে উইকেটটা হয়তো আমাদের জন্য অনেক দারুণ হতো। আমরা হয়তো এই উইকেটে ভালো করতে পারতাম। খেলা যেরকম মান হচ্ছে সে অনুযায়ী আমার কাছে মনে হচ্ছে যে এখানে আমাদের ভালো করার অনেক সুযোগ ছিল।'
বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করে তিনি আক্ষেপের সুরে আরও বলেন, 'এখন আফসোস করে তো লাভ নাই। টি-টোয়েন্টি দল হিসেবে আমাদের দলটা অনেক গোছানো ছিল এবং এই বিশ্বকাপটা ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় যে উইকেটটাও আমাদের ফেভারে ছিল। সবদিক দিয়ে আমার মনে হয় যে আমাদের ভালো করার সুযোগ ছিল।' বিশ্বকাপে খেলতে না পারার ধাক্কা সামলাতে না পেরে ক্রিকেটারদের চরম মানসিক বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমি তো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় প্রায় কোমাতে চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। যে সে মাঠে আসছে এবং এসে আবার রান করেছে।'
এদিকে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কার ছিল, তা নিয়ে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই বর্ষীয়ান কোচ। শুরুতে এটি সরকারের সিদ্ধান্ত বলা হলেও পরে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের ওপর দায় চাপানোয় বিস্ময় প্রকাশ করে সালাউদ্দিন বলেন, 'উনি (আসিফ নজরুল) খাড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবে আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কীভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাবো। উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে আমরা আসলে এটা মানতে পারতেছি না।' মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থেকে বঞ্চিত হওয়ায় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচও নিজের চরম অসন্তুষ্টির কথা ব্যক্ত করেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে গ্রুপ ‘বি’-তে সুপার এইটে যাওয়ার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা এগিয়ে ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সমস্ত হিসাব পাল্টে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে আগেই হারানোর পর গত বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে উঠেছে।
দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচ সেরা হয়েছেন। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে গড়ে তোলেন নতুন রেকর্ড।
টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২০তম ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়ে তিনি আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এই নজির গড়েছেন। এতে পিছনে ফেলেছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে, যিনি ১৭ বার এই খেতাব জিতেছিলেন। টেস্ট খেলে না এমন দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র মালয়েশিয়ার বিরানদীপ সিং এর উপরে আছেন সিকান্দার, যিনি ২২ বার ম্যাচ সেরার খেতাব পেয়েছেন।
শুধু তাই নয়, রোহিত শর্মার রেকর্ডও ভেঙেছেন সিকান্দার। ৩৭ বছর বয়সে রোহিত ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন। সিকান্দার রাজা তা টপকে ৩৯ বছর ৩০১ দিন বয়সে ম্যাচ সেরা হয়েছেন। এবার সুপার এইটে বাকি দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া তার এবং জিম্বাবুয়ে দলের মূল লক্ষ্য।