শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক ১৪৩৩

জো রুটকে থামানোর পথ খুঁজে পাচ্ছে না শ্রীলঙ্কা

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৭:৩৯

ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রীতিমতো উড়ছেন ইংলিশ ব্যাটার জো রুট। তার ব্যাটে বইছে রান বন্যা। লর্ডসে তো রুটের ব্যাট ছিল সুক্ষ্ম তলোয়ারের মতো। তাকে থামাতে শ্রীলঙ্কার কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসছে না। নানা পরিকল্পনা কিংবা ছক একেও ব্যর্থ লঙ্কান শিবির। রুটের সামনে যে কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসছে না সেটা অকপটে স্বীকার করে নিলেন না। শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দিমুথ কারুনারাত্নে।

ইংল্যান্ড সফরে দুই টেস্ট খেলে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি শ্রীলঙ্কা। তিন ম্যাচের সিরিজে দুই ম্যাচ হেরে হোয়াইটওয়াশের অপেক্ষায় আছে এখন শ্রীলঙ্কা। এর পেছনের অন্যতম নায়ক সেই জো রুট। দুই ম্যাচেই বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন তিনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪২ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬২ রান করেছিলেন। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট ছিল তো পুরোপুরিই রুটময়। জোড়া সেঞ্চুরিতে অনেক রেকর্ডে নিজের নাম লেখান তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি শতরানের রেকর্ডে পেছন ফেলে দেন অ্যালেস্টার কুককে।

চার ইনিংসে ১১৬.৬৬ গড়ে রুটের রান এখন ৩৫০। সিরিজে রানের তালিকায় তার পেছনে থাকা কামিন্দু মেন্ডিসের রান কেবল ২০৩। এ সিরিজেই প্রথম নয়, গত কয়েক বছরে বরাবরই শ্রীলঙ্কাকে পেলে রুট হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। সবশেষ ১১ ইনিংসেই লঙ্কানদের চোখের জল নাকের জল এক করে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন ৫টি। তার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ব্যাটিং গড় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই, ১২ টেস্টে ৬৭.৫৫। সব দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড় তার শ্রীলঙ্কাতেই। সেখানে তার গড় ৬৫.৫০, অথচ নিজ দেশে গড় ৫৫.৬৪। সব মিলিয়ে রুট যে লঙ্কানদের জন্য ভয়ঙ্কর এক মাথাব্যথার নাম, সেটি ফুটে উঠল তৃতীয় টেস্টের আগে কারুনারাত্নের কথায়। তিনি বলেন, ‘জো রুটেক থামাতে বেশ কিছু চেষ্টা আমরা করেছি, কিন্তু সবকটিই ব্যর্থ হয়েছে। এই ম্যাচগুলির টার্নিং পয়েন্ট ছিল জো রুটের ইনিংসগুলোই। এমনকি গলে যখন আমরা খেলেছি, তখনও সে বড় ইনিংস খেলেছে। অন্য ব্যাটাররা এত বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তার রান যতটা সম্ভব কমাতেই হবে আমাদের।’

রুটকে থামানোর সম্ভাব্য একটি পথ বাতলে দিলেন ৯৩ টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যান করুনারাত্নে। তিনি বলেন, ‘তার অতীতের পারফরম্যান্স আরও নিবিড়ভাবে দেখতে হবে আমাদের। খেয়াল করতে হবে কীভাবে সে আউট হয়েছে, ক্রিজে সে কোন ধরনের কাজ করে। এসবের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা গড়তে হবে আমাদের।’ ‘কখনো কখনো আমরা হয়তো তাকে একটু বেশি আক্রমণ করি, সে সেটার ফায়দা নেয়। অনেক ব্যাটসম্যানই মাঝেমধ্যে কম আগ্রাসী হতে পছন্দ করে না। কখনও কখনও ব্যাটসম্যানদের বিরক্ত করে তোলাও একটি কার্যকর কৌশল।’- যোগ করেন করুণারাত্নে।


নির্বাচিত

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬-এর অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সম্মেলনে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১০টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবলের ২০ জন দলনেতা (অধিনায়ক), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৩৫
ক্রীড়া ডেস্ক

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পেশাদার ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনাতেই আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মেগা ক্রীড়া আসর ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’।এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এবিজি স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় এক বর্ণাঢ্য ‘অধিনায়ক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​সম্মেলনে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১০টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবলের ২০ জন দলনেতা (অধিনায়ক), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা, খেলার নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা এবং গ্রুপ বিন্যাসের জন্য আনুষ্ঠানিক লটারি অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার অফিশিয়াল জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন এবং খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ করা হয়।​এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো— প্রথমবারের মতো রাতের ফ্লাডলাইটের আলোয় একই সঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট ও ফুটবলের পৃথক ক্যাটাগরিতে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লড়বে।


​গ্রুপ বিন্যাস:


​ক্রিকেট টুর্নামেন্ট:

​গ্রুপ 'এ': ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

​গ্রুপ 'বি': আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) এবং ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।


​ফুটবল টুর্নামেন্ট:


​গ্রুপ 'এ': নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

​গ্রুপ 'বি': আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স।

​তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করতে ক্রিকেট ও ফুটবলের পৃথক ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্স-আপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি ঘোষণা করা হয়েছে।


​অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির ডিরেক্টর মো. ইমরুল হাসান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া এডভাইজার আব্দুল বারী, এবিজি স্পোর্টস সিটির অ্যাডভাইজার মো. লিয়াকত হোসেন ও মো. নাজমুল আলম ভূঁইয়া, টি স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার (ফুটবল) সালমান হাসান এবং অপারেশন্স ম্যানেজার (ক্রিকেট) ইকরাম হোসেন রাফি।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান বলেন, "এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের যাত্রা শুরু হচ্ছে ফুটবল ও ক্রিকেট দিয়ে। ভবিষ্যতে আরও নানা ইভেন্ট যুক্ত করে এ আয়োজনকে আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চাই, যেখানে তারা নিজেদের মেধা ও সামর্থ্য দেখিয়ে জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার পথ খুঁজে পাবে।"

​বসুন্ধরা গ্রুপের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের অবদান নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা, বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণ এবং নতুন নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়াখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি। এই উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া অবকাঠামো ‘এবিজি স্পোর্টস সিটি’ সেই স্বপ্ন ও অঙ্গীকারেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর সাহেবের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনাতেই শুরু হচ্ছে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬।

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ সময়ের পরিক্রমায় আরও বড় ও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিজস্ব একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নেবে।"


​আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও অংশগ্রহণকারী অধিনায়কদের প্রত্যাশা, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত সংহতি ও নেতৃত্বগুণ বিকশিত হবে এবং এখান থেকেই আগামী দিনের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা উঠে আসবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে যৌথভাবে বাংলাদেশ ও ভারতে

২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বড় বড় বৈশ্বিক আসরের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বড় বড় বৈশ্বিক আসরের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এই চক্রের অধীনে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে বাংলাদেশ ও ভারত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডকে দীর্ঘমেয়াদি এই সূচি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

নতুন এই পরিকল্পনায় সব মিলিয়ে পুরুষদের ১২টি, নারীদের ৭টি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ৫টি বড় টুর্নামেন্ট ও বাছাইপর্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব পেয়েছে পাকিস্তান। ১২টি দল নিয়ে বৈশ্বিক এ আসরটি ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত।

নারীদের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের যৌথ ব্যবস্থাপনায় শুরু হবে ২০ দলের পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টটি ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে পর্দা নামবে ১২ নভেম্বর। এদিকে ১৯০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের মঞ্চে ফিরছে ক্রিকেট। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের পুরুষ ও নারী ক্রিকেট ইভেন্টের বাছাইপর্ব আয়োজিত হবে। নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগে আটটি করে দেশ এই বাছাইয়ে লড়াই করবে, যার চূড়ান্ত ভেন্যু শিগগিরই ঘোষণা করবে আইসিসি।

টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ ২০২৯ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচের দায়িত্ব পেয়েছে ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক লর্ডসসহ দেশটির মাঠে আগামী ৮ থেকে ১২ জুন এই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২০৩০ সালে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে জুনে হওয়ার কথা থাকলেও পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী তা জুলাই ও আগস্ট জুড়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলাজনিত মামলার রায় ২২ ডিসেম্বর

শ্বকাপজয়ী এই মহানায়কের চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছিল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
ক্রীড়া ডেস্ক

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ২০২০ সালে মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত অবহেলাজনিত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় শুনানি শেষে আগামী ২২ ডিসেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন বিচারক।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই মহানায়কের চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির অভিযোগে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার ম্যারাডোনার কন্যা এবং অভিযুক্তদের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই শুনানিপর্বের সমাপ্তি ঘটে।

শুনানির শেষ দিনে আদালতে আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার বাবা তাঁর প্রাপ্য ন্যায়বিচার পাবেন, যেমনটা অন্য যে কারও পাওয়া উচিত।’

অন্যদিকে মামলার মূল অভিযুক্ত ও প্রয়াত তারকার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোলদো লুকে নিজের ওপর আরোপিত দায় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নির্দোষ।’ শুনানিতে লুকের আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন যে ম্যারাডোনার মৃত্যুর কোনো পূর্বাভাস আগে থেকে পাওয়া সম্ভব ছিল না এবং এ মামলায় চিকিৎসক লুকেকে কেবল ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে লুকের পক্ষ থেকে অডিও রেকর্ড, গবেষণাপত্র ও ময়নাতদন্তের ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করা হলে ম্যারাডোনার স্বজনেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

আদালতের শুনানিতে লুকে উল্লেখ করেন, ‘ম্যারাডোনার সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ ছিল বলে আমাকে আক্রমণ করা সহজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘একমাত্র ডিয়েগোই আমাকে রক্ষা করতেন।’ কিংবদন্তির প্রতি নিজের অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর গভীরভাবে যত্ন নিতাম, তাঁকে ভালোবাসতাম। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ ও বন্ধু।’

মস্তিষ্কে একটি জটিল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতার প্রক্রিয়ায় থাকার সময় ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ৬০ বছর বয়সী ম্যারাডোনার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ফুসফুসে পানি জমা এবং হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর প্রমাণ মেলে।

গত এপ্রিলে শুরু হওয়া এই বিচারিক কার্যক্রমে ৭০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্রসিকিউশন সাত আসামির মধ্যে ছয়জনের জন্য ৪ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রার্থনা করেছে, যার মধ্যে ব্যক্তিগত চিকিৎসক লুকের জন্য চাওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ১২ বছরের সাজা।

মামলার মূল আইনি বিতর্কের বিষয় ছিল, অস্ত্রোপচার পরবর্তী পুনর্বাসনের সময় রোগীকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে না রেখে ভাড়া বাড়িতে রাখার সিদ্ধান্তটি চিকিৎসাগত গাফিলতি ছিল কি না। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা যুক্তি তুলে ধরেন যে ওই বাসভবনে প্রয়োজনীয় হাসপাতালের শয্যা, জরুরি ডিফিব্রিলেটর কিংবা তাৎক্ষণিক রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মতো অত্যাবশ্যকীয় ব্যবস্থার অনুপস্থিতি চিকিৎসকদের চরম দায়িত্বহীনতারই প্রমাণ। একাধিক চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন, মৃত্যুর পূর্বে ম্যারাডোনার শরীরে তরল জমা, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং হৃৎস্পন্দনের বিপজ্জনক বৃদ্ধির মতো লক্ষণগুলো স্পষ্ট হলেও পরিচর্যাকারী দল তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।


নির্বাচিত

এসি মিলানকে বিধ্বস্ত করে বোর্নমাউথের ইতিহাস গড়া জয়

ইউয়েফা ইউরোপা লিগে ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে ইংলিশ ক্লাব এএফসি বোর্নমাউথ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ইউয়েফা ইউরোপা লিগে ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে ইংলিশ ক্লাব এএফসি বোর্নমাউথ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দলটি।

বৃহস্পতিবার রাতে নিজেদের ঘরের মাঠ ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ ম্যাচে প্রথমার্ধের ৩২ মিনিটের মধ্যেই দুই পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় বোর্নমাউথ। দলের হয়ে গোল দুটি করেন জাস্টিন ক্লাইভার্ট ও মার্কাস টেভারনিয়ার। এর মাঝে বোর্নমাউথের খেলোয়াড়কে আঘাত করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিলানের অধিনায়ক ও গোলরক্ষক মাইক মাইনান। ম্যাচের শেষ ভাগে দূরপাল্লার নজরকাড়া এক ফ্রি-কিকে মিলানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মরক্কোর উইঙ্গার আমিন আদলি।

খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে ছিল স্বাগতিকরা। অষ্টম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস কনি ডি উইন্টারের হাতে লাগলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন ক্লাইভার্ট।

এরপর রায়ান ক্রিস্টি ও ইভানিলসনদের কয়েকটি প্রচেষ্টা মাইনান প্রতিহত করলেও ২৮তম মিনিটে রুবেন আমোরিমের দলকে বড় ধাক্কা দেন এই গোলরক্ষক নিজেই। বোর্নমাউথের জেমস হিলকে মেজাজ হারিয়ে ধাক্কা ও মুখে আঘাত করার দায়ে রেফারি মাইনানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান এবং স্বাগতিকদের অনুকূলে দ্বিতীয় পেনাল্টির নির্দেশ দেন। বদলি হিসেবে নামা মিলানের তরুণ গোলকিপার লোরেনজো তোরিয়ানিকে পরাস্ত করে চমৎকার শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন টেভারনিয়ার।

দ্বিতীয়ার্ধেও ১০ জনের মিলানের ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে বোর্নমাউথ। ক্লাইভার্ট ও ক্রিস্টিরা একাধিক সুযোগ তৈরি করে ব্যবধান বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। অবশেষে ৮৪তম মিনিটে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে রক্ষণ প্রাচীর ফাঁকি দিয়ে নেওয়া চমৎকার এক ফ্রি-কিকে গোল করে দলের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন আমিন আদলি।

বিষয়:

নির্বাচিত

প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব পেল যুক্তরাষ্ট্র

উদ্বোধনী আসরের পর থেকে প্রতি চার বছর অন্তর নিয়মিতভাবে এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পুরুষদের ফুটবলে বৈশ্বিক আসর আয়োজনের সফল অভিজ্ঞতার পর এবার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৮ ফিফা নারী ক্লাব বিশ্বকাপের স্বত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফুটবলের আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফিফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের সেরা ১৯টি নারী ক্লাব দল নিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোন কোন ভেন্যু ও শহরে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উদ্বোধনী আসরের পর থেকে প্রতি চার বছর অন্তর নিয়মিতভাবে এই টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াবে।

ইতিমধ্যেই উদ্বোধনী এই টুর্নামেন্টে সাতটি দল তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। দলগুলো হলো ইংল্যান্ডের আর্সেনাল, স্পেনের বার্সেলোনা, মেক্সিকোর আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের গোথাম এফসি, ব্রাজিলের করিন্থিয়ান্স, চীনের উহান জিয়াংদা এবং উত্তর কোরিয়ার নেগোহ্যাং এফসি।

এর আগে ফিফার সম্প্রসারিত ফরম্যাটে পুরুষদের ক্লাব বিশ্বকাপও এককভাবে আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে পিএসজিকে হারিয়ে চেলসি শিরোপা জিতেছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌথভাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এবং পুরুষদের ক্লাব বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্নের অভিজ্ঞতার আলোকেই পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফিফার নারী ফুটবল বিষয়ক প্রধান সারাই বারেম্যান বলেছেন, ‘ফিফার শীর্ষস্থানীয় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চমৎকার সক্ষমতা, সেখানে নারী ফুটবলের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ এবং উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো– সব মিলিয়ে দেশটিকে সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলেছে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দলে ফিরলেন লিটন ও তাসকিন

টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দলে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। পাশাপাশি দলে জায়গা পেয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ।

আগামী ২৮ অক্টোবর শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ। চোটের কারণে দলে নেই পেসার নাহিদ রানা। বাংলাদেশের লক্ষ্য, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজে দুই ম্যাচেই জয় তুলে নেওয়া। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর, সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশের স্কোয়াড: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাঈম হাসান।

বিষয়:

নির্বাচিত

গুরুতর চোটে কভারাতসখেলিয়ার মৌসুম শেষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড কভিচা কভারাতসখেলিয়া মারাত্মক হাঁটুর চোটে পড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরের তৃতীয় ম্যাচে তাঁর ডান পায়ের অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে গেছে। ফলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের বাকি সময়ে তাঁর আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া এই তারকার ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিএসজি কর্তৃপক্ষ।

বার্সেলোনার বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ের ম্যাচে চোটের কবলে পড়েন কভারাতসখেলিয়া। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে প্রতিপক্ষের জাভি এস্পার্তের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ের সময় ডান হাঁটুতে বড় ধরনের আঘাত পান তিনি। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে পিএসজির চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে শিগগিরই তাঁর ডান হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হবে। এরপর শুরু হবে দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁর ফেরার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না জানালেও চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরতে সাধারণত অন্তত ৯ মাস সময় লাগে।

ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে এমন বড় ধাক্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই জর্জিয়ান তারকা। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে হতাশা ও আবেগ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষ করে আমার সঙ্গেই কেন এমন হলো? আমি এটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।’ তাঁর এই পোস্ট ভক্ত ও ফুটবল মহলে গভীর সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।

কভারাতসখেলিয়ার এই দুঃসময়ে তাঁকে মানসিক শক্তি জোগাতে এগিয়ে এসেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়ে লিখেছেন, ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন লড়াইগুলো প্রায়শই পর্দার আড়ালে ঘটে, যা অনেকেই দেখতে পায় না। তিনি কভারাকে মনে করিয়ে দেন, যে সামর্থ্যের জোরে তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন, এই কঠিন মুহূর্ত যেন সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরাতে না পারে। রোনালদো তাঁকে নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, তাঁর সেরা দিন এবং বড় অর্জনগুলো এখনো সামনেই অপেক্ষা করছে।


নির্বাচিত

আফগানদের কাছে হেরে শূন্য হাতে ফিরল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে শূন্য হাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৪২তম ওভারে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৩ উইকেট হারিয়ে অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। আফগানরা ইনিংসের ১২০ রান তোলার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার যাবতীয় সমীকরণ শেষ হয়ে যায়। এই জয়ে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে রহমত শাহর দল।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগাতে পারেননি টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে দল, যেখানে চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন এবং সাইফ হাসান ছাড়া কেউই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি। পঞ্চম উইকেটে এই দুজন গড়েন ৯৩ রানের জুটি। ইমন ৯৬ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ এবং সাইফ ৮২ বলে ৪১ রান করেন। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫ রান ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের কোটায় পৌঁছাতে না পারায় ১৬০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। আফগানিস্তানের পক্ষে রশিদ খান একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট; এ ছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই নেন দুটি করে উইকেট।

১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই আফগানদের চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দলীয় ৩৯ রানের মাথায় ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬) ও সেদিকউল্লাহ অটলকে (৪) বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রান যোগ করে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন ইব্রাহিম জাদরান ও অধিনায়ক রহমত শাহ। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মিডউইকেটে পেছনের দিকে লাফিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে ইব্রাহিমকে ফেরান শান্ত। তবে এরপর নতুন ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শহীদিকে সঙ্গে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বাকি পথ পাড়ি দেন রহমত।

বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন দুই অপরাজিত আফগান ব্যাটার। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৬৬ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক রহমত শাহ। অন্যদিকে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ সর্বোচ্চ ২টি এবং মুস্তাফিজুর রহমান ১টি উইকেট লাভ করলেও তা দলের পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।


নির্বাচিত

বার্নাব্যুতে রিয়ালের গোল উৎসব, টানা তিন জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের দাপট ধরে রেখে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। পুরো ম্যাচজুড়ে ৬৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১১টি অন-টার্গেট শট নিয়ে আধিপত্য বজায় রাখে হোসে মরিনিয়োর দল। রিয়ালের হয়ে একটি করে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা, আর্দা গুলার, কিলিয়ান এমবাপে ও ইয়ান দিয়োমান্দে। অন্যদিকে ম্যাচের শেষদিকে লাইপজিগের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন টিডিয়াম গোমিস।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে থাকা রিয়াল ১৬তম মিনিটে আর্দা গুলারের দারুণ এক পাসে গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে, যেখানে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এমবাপে। এর কিছুক্ষণ পর খেলার ধারার বিপরীতে ২৮তম মিনিটে লাইপজিগ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও ডি-বক্স থেকে নেওয়া জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। পরের মিনিটে ভিনিসিয়ুসের একটি লক্ষ্যভেদী শট ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন লাইপজিগ গোলরক্ষক মার্টেন ভ্যানডাভোর্ট। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে ওয়ান-অন-ওয়ানে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর শট কোর্তোয়া রুখে দেওয়ার ঠিক পরপরই ডেডলক ভাঙে রিয়াল। ফেদে ভালভার্দের কাটব্যাক পেয়ে নেওয়া গুলারের শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে এলে গোলমুখে ছুটে গিয়ে হালকা টোকায় বল জালে জড়ান বার্নার্দো সিলভা। চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রিয়ালে নাম লেখানোর পর এটিই তাঁর প্রথম গোল।

বিরতির পরও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। জুড বেলিংহ্যামের ক্রসে এমবাপের হেড গোললাইন থেকে আলতো ছোঁয়ায় জালে জড়িয়ে দেন তরুণ তুর্কি আর্দা গুলার। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে দলের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন এমবাপে। ভিনিসিয়ুসের বদলি হিসেবে নামা দিয়োমান্দের পাস ডি-বক্সের সামনে পেয়ে দারুণ এক জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা তিন ম্যাচেই গোলের দেখা পাওয়া এমবাপের চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ১২তম গোল। এর দুই মিনিট পর ৮৫তম মিনিটে গোমিস লাইপজিগের হয়ে এক গোল শোধ করলেও তার রেশ কাটতে না কাটতেই ৮৭তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর বুলেট গতির ভলিতে সাবেক ক্লাবের জালে বল জড়িয়ে ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন দিয়োমান্দে।

এ নিয়ে সবশেষ তিন ম্যাচেই চারটি করে গোল করার পাশাপাশি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ চার ম্যাচে জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। এই ছন্দ আগামী রোববার লা লিগায় বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় নামার আগে মরিনিয়োর দলকে দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগাবে, যেখানে লিগ টেবিলের ৬ পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচাতে মাঠে নামবে তারা। এদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে রিয়াল। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষ তিন অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পিএসজি, অ্যাস্টন ভিলা ও লিভারপুল।


নির্বাচিত

চ্যাম্পিয়নস লিগ: বায়ার্ন ও আর্সেনালের রোমাঞ্চকর ড্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউরোপীয় দুই পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। ঘরের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের ৮১ মিনিট পর্যন্ত বায়ার্ন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শেষদিকের গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয় তারা। এই ড্রয়ের ফলে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে গত আসরের রানার্সআপ আর্সেনাল। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন নেমে গেছে ১৪তম স্থানে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় সফরকারী আর্সেনাল। খেলা শুরুর দশম মিনিটে পাস দেওয়ার চেষ্টায় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা। তবে সেই অস্বস্তি কাটিয়ে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায় গানাররা। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের বাড়ানো লম্বা পাস ধরে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে কোণাকুণি শটে বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন এবেরেচি এজে। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় গোলের সিদ্ধান্ত আসে। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে বায়ার্ন সময় নেয় মাত্র দশ মিনিট। ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে হ্যারি কেইনের বাড়ানো লম্বা থ্রু পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান পায়ের নিয়ন্ত্রিত শটে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করেন কানাডিয়ান ডিফেন্ডার আলফোনসো ডেভিস।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬১তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বক্সে আর্সেনালের ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বারের উঁচিয়ে রাখা হাতে কেইনের শট লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ক্যারিয়ারের ৫৮তম গোলটি করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। আর্সেনালের বিপক্ষে এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ২৩তম ম্যাচে ১৬তম গোল। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রতি মৌসুমেই ক্লাবটির বিপক্ষে গোল পাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি, যার বেশিরভাগই ছিল টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলার সময়। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন কেইন। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা ১১ ম্যাচে গোল করে সর্বোচ্চ রেকর্ডের একক মালিক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যা স্পর্শ করতে কেইনের প্রয়োজন আর মাত্র একটি ম্যাচ।

কেইনের এমন ব্যক্তিগত অর্জনের দিনে বায়ার্ন যখন পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ ডেকলান রাইস। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ভিক্টর গিয়োকেরেসের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় ওয়ান-টু পাসে বল নিয়ে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে বায়ার্নের জালে জড়ান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তাঁর এই সমতাসূচক গোলেই শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় দুই জায়ান্টের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই।


নির্বাচিত

নিকো পাজের নৈপুণ্যে ইউনাইটেডকে হারাল কোমো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক আসর খেলতে আসা ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কোমোর ঘরের মাঠ জিউসেপ্পে সিনিগালিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন আর্জেন্টিনার তরুণ তারকা নিকো পাজ। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে জোড়া গোল করার পাশাপাশি একটি গোলেও সরাসরি অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে নবম স্থানে উঠে এসেছে কোমো, আর টানা ব্যর্থতায় ২০তম স্থানে নেমে গেছে এরিক টেন হাগের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে কোমো। খেলা শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ এক বাঁকানো শটে দলকে এগিয়ে নেন পাজ। সে সময় ইউনাইটেড ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ার সামনে থাকলেও তিনি শটটি প্রতিহত করতে পারেননি এবং পরাস্ত হন গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। প্রথমার্ধে এই ব্যবধান বজায় রেখে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৪৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। পাজের বাড়ানো নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ল্যামেন্সের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান আনাস্তাসিওস দুভিকাস। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর টানা তিন ম্যাচে তৃতীয় গোল।

এরপর একক দক্ষতায় ব্যবধান ৩-০ করেন ম্যাচসেরা পাজ। ডান পাশের টাচলাইনের কাছে ইউনাইটেডের কার্লোস বালেবার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে প্রায় ৩০ মিটারের বেশি পথ কোণাকুণি এগিয়ে গিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান এই আর্জেন্টাইন। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় কাইকি ব্রুনোর বাড়ানো ক্রসে হেডের মাধ্যমে কোমোর হয়ে চতুর্থ গোলটি আদায় করেন সেন্টারব্যাক জ্যাকোবো রামোন। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে আমাদ দিয়ালোর ক্রস থেকে জশুয়া জির্কজি ইউনাইটেডের পক্ষে একটি গোল পরিশোধ করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।

ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে জড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত সপ্তাহে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে প্রথম মিনিটেই গোল হজম করেছিল তারা। ফলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার টানা দুই ম্যাচে শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে গোল হজম করা প্রথম ইংলিশ ক্লাব হওয়ার বিব্রতকর নজির গড়েছে ইউনাইটেড। এ ছাড়া টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বশেষ ১১টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে তারা। বিপরীতে, জাতীয় দলে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে মাঠে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন নিকো পাজ।


নির্বাচিত

লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ‘দেলুপি’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

উত্তর আমেরিকার মর্যাদাপূর্ণ তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্যের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’। যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম পরিচালিত এই সিনেমাটি। এর আগে মাত্র তিন দিন আগেই তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন অভিনেতা চিরনজিৎ বিশ্বাস।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নতুন অর্জনের খবরটি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা তাওকীর নিজেই। তিনি জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় উৎসবের মূল মঞ্চে ‘দেলুপি’র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। তবে আনুষঙ্গিক কারণে বাংলাদেশ থেকে চলচ্চিত্রের কলাকুশলীদের কেউ সশরীরে লন্ডনে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি উপভোগ করার এবং আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে দেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিচালক।

লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জায়গা পাওয়ার আগেও বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে প্রশংসিত হয়েছে ‘দেলুপি’। ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ আসর নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল সিনেমাটি। এছাড়া ইতালির কারাভান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পরও এর স্বতন্ত্র গল্প ও বাস্তবসম্মত দৃশ্যভাষার জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচকদের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিল চলচ্চিত্রটি।

প্রযোজনা সংস্থা ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘দেলুপি’র কাহিনি গড়ে উঠেছে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেখানে নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এবং তার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের নানা দিক এতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে কোনো পেশাদার অভিনয়শিল্পীর বদলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় মানুষরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

চলচ্চিত্রটিতে চিরনজিৎ বিশ্বাস ছাড়াও অভিনয় করেছেন অদিতি রায়, রুদ্র রায় ও জাকির হোসেনসহ খুলনার স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সংকট, নদীকেন্দ্রিক জনপদের লড়াই এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের নির্মোহ চিত্রায়ণের মাধ্যমে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমাকে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও লিভারপুলের রোমাঞ্চকর জয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে রোমাঞ্চে ঠাসা এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে অলরেডরা। প্রথম আধঘণ্টার মধ্যে দুই গোল হজম করে চরম চাপে পড়লেও মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোড়া গোল এবং ১৮ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড রিও এনগুমোহার চমৎকার নৈপুণ্যে নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।

অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরুটা লিভারপুলের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। খেলার মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের একটি দুর্বল হেডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের জালে বল পাঠান ভিয়ারিয়ালের জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর ২৯তম মিনিটে সার্জি কারদোনা লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় সফরকারী স্প্যানিশ ক্লাবটি, যার ফলে চরম বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক শিবির।

তবে দুই গোল হজম করে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে লিভারপুল। খেলার ৩৬তম মিনিটে কস্তাস সিমিকাসের কর্নার কিক থেকে দর্শনীয় এক হেডে ব্যবধান ২-১ করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা ইনজুরি সময়ে তরুণ রিও এনগুমোহারের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাউহো। বিরতিতে যাওয়ার আগেই সমতায় ফিরতে পেরে ড্রেসিংরুমে মানসিক স্বস্তি পায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় লিভারপুল। ৬৫তম মিনিটে এনগুমোহার অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়ে বাড়ানো পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন মিনিট পর (৬৮তম মিনিটে) ফ্লোরিয়ান ভির্টজের চমৎকার এক গোলে স্কোরলাইন ৪-২ করে লিভারপুল; চলতি মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে এটিই ছিল ভির্টজের প্রথম গোল।

ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। ৮৭তম মিনিটে আয়োসে পেরেসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-৩ এ নামিয়ে আনেন ভিয়ারিয়ালের তানি ওলুওয়াসেই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও লিভারপুল রক্ষণভাগকে আর পরাস্ত করতে পারেনি। পুরো ম্যাচে নজর কেড়েছেন ১৮ বছর বয়সী এনগুমোহা; দুটি গোলে সরাসরি সহায়তা করার পাশাপাশি ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগে প্রতিনিয়ত ভীতি ছড়িয়ে দলের এই স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের মূল কারিগর হয়ে ওঠেন তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close