বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
১০ আষাঢ় ১৪৩৩

মিরাজকেই ভবিষ্যতের সাকিব মনে করেন হাথুরু

ফাইল ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:০৭

দেশের ক্রিকেটে গত কয়েক দিনের আলোচিত নাম মেহেদী হাসান মিরাজ। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন মিরাজ। ব্যাট-বল- দুই বিভাগেই মিরাজ এখন আস্থার নাম। তাই অনেকেই তাকে আগামী দিনের সাকিব আল হাসান মনে করছেন। সেই সুরে সুর মেলালেন প্রধান কোচ হাথুরু সিংহেও। মিরাজকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সাকিব মনে করেন তিনি।

আগামী বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধান কোচ হাথুরু সিংহে। সেখানেই এক প্রশ্নের জবাবে হাথুরু সিংহে এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক ফাঁকে প্রশ্ন করা হয়- সাকিবের ভূমিকা পরবর্তীতে কে নেবেন? এই সময় মেহেদী হাসান মিরাজের কথা জানিয়ে হাথুরু বলেন, ‘আমার কাছে সে গত পাঁচ বা ছয় বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নতি করা ক্রিকেটার। সত্যিকার অর্থেই সে (ভবিষ্যতে) সাকিবের ভূমিকা নেওয়ার জন্য তৈরি। সে তার ব্যাটিং তো বটেই, নিশ্চিত করেই যেটা তার বড় শক্তির জায়গা, সেই বোলিংয়েরও উন্নতি ঘটিয়েছে। এখন সে নিজের ব্যাটিংয়ের উন্নতি ঘটিয়েছে। সে অসাধারণ এককজন ফিল্ডারও।’

ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানালেও টেস্টে দুই দলের পার্থক্যটা স্পষ্ট। লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখনো ঢের পিছিয়ে ভারতের চেয়ে। পরিসংখ্যানও সে কথাই বলে। তাই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ঘুরেফিরে বাংলাদেশের চাপে থাকার প্রশ্নই আসে বারবার। তবে সেই চাপকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ, ‘এই চাপকে সুবিধা হিসেবে দেখছি। আমার মনে হয় এটা আমাদের অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ করে এবং আরও বেশি সামনে তাকানোর সুযোগ করে দেয়। তখন আমরা নিজেদের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা ও অবস্থান সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পারি।’

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৩ দল- ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। কিন্তু নানা ইস্যুতেই তাদের সঙ্গে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ হয় না বাংলাদেশের। তাদের বিপক্ষে পরিসংখ্যানও ভালো নয় বাংলাদেশের। পরিসংখ্যান বা ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, হাথুরুসিংহে মনে করেন, বড় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ যত বেশি টেস্ট খেলবে, ততই অনুপ্রাণিত হবে এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাবে।

টাইগার গুরু বলেন, ‘বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে (টেস্ট) খেলতে পারলে আমরা আরও উৎসাহিত হই। যেমন- ভারতে এসে ভারতের বিপক্ষে খেলা। এখনকার দিনে ক্রিকেটে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সেরাদের বিপক্ষে খেলা সব সময় আপনাকে এই অনুভূতি দেয় যে, আপনি একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন। আমরা এখন সেই চ্যালেঞ্জের দিকেই তাকিয়ে।’


নির্বাচিত

বিশ্ব রেকর্ডের মুকুট মাথায় মেসির নতুন বসন্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জুন, ২০২৬ ১০:৪৮
ক্রীড়া ডেস্ক

২৪ জুন—বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এক বিস্ময় বালক, যার জাদুকরী বাঁ পা পরবর্তীতে ফুটবল খেলার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। তিনি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আজ তিনি জীবনের ৩৯তম বসন্তে পা দিলেন। বয়সের ভারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে আজও তিনি কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে।

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার যেন এক রূপকথার মহাকাব্য। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা জয় করে বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই যাত্রা আজ ইন্টার মায়ামির মাঠেও একইভাবে উজ্জ্বল। বার্সেলোনার জার্সিতে সম্ভাব্য সকল ক্লাব শিরোপা জয় এবং রেকর্ডসংখ্যক আটটি ব্যালন ডি’অর জিতে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। তাঁকে বলা হয় ‘রেকর্ডের বরপুত্র’, কারণ মাঠে নামলেই কোনো না কোনো নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরে তিনি কেবল আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের আক্ষেপই মেটাননি, বরং সর্বকালের সেরা নিয়ে সকল বিতর্কের চিরস্থায়ী অবসান ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে জন্মদিনের ঠিক দুদিন আগে বিশ্বকাপে নিজের ১৮তম গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

সাধারণত ফুটবলারদের ক্যারিয়ার যখন ৩০-এর কোঠায় ফুরিয়ে আসে, তখন ৩৯ বছর বয়সেও মেসি নিজেকে আরও ক্ষুরধার প্রমাণ করছেন। বর্তমান ও গত বিশ্বকাপে তিনি যেভাবে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা তরুণ ফুটবলারদের কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত। চলতি আসরে আর্জেন্টিনার প্রথম পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছে তাঁর পা থেকে, যা তাঁর অতুলনীয় প্রভাবকে আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর কেবল সেই ক্লাবই নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের চেহারাই বদলে দিয়েছেন এই কিংবদন্তি।

বারবার ফাইনালে হেরেও হাল না ছেড়ে ফিরে আসার অদম্য মানসিকতা মেসিকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। তাঁর ৩৯তম জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের প্রার্থনা ফুটবলের এই জাদুকর যেন আরও কিছুদিন তাঁর পায়ের কারিশমা দিয়ে দর্শকদের মোহিত রাখেন। পেলে ও ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর নাম। শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি—ফুটবল প্রেমীদের প্রতিটি মুহূর্ত রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য এক বুক কৃতজ্ঞতা। চল্লিশের প্রাক্কালেও ফুটবল বিশ্ব আপনার জাদুর ছোঁয়া উপভোগ করতে চায়।


নির্বাচিত

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের গোলশূন্য ড্রয়ের বিব্রতকর রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জুন, ২০২৬ ১০:৪৮
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলশূন্য ড্র করার এক অনন্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল ইংল্যান্ড। বোস্টনের সর্বশেষ ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের ১৩তম গোলশূন্য ড্র সম্পন্ন করল থ্রি-লায়ন্সরা। ফুটবল বিশ্বের আর কোনো দলের ন্যূনতম ১০টি ম্যাচও গোলশূন্য ড্র হওয়ার নজির নেই। এই তালিকায় ৯টি গোলশূন্য ড্র নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। উরুগুয়ে ৮ বার এবং জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন সমান ৭ বার করে এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে।

ঘানার বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল কিছুটা হতাশ কণ্ঠে সংবাদকর্মীদের জানান, গোল না পাওয়ার কারণটি যেন তারা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে জিজ্ঞেস করেন। টুখেলের মতে, ইংল্যান্ড গোল করার মতো বেশ কিছু পরিষ্কার সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে ১৯টি শট নিয়েও মাত্র ৩টি লক্ষ্যবস্তুতে রাখতে পেরেছে ইংল্যান্ডের তারকাখচিত আক্রমণভাগ। গত ২৪ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ যেখানে ১৯টি বা তার বেশি শট নিয়েও তারা জালের দেখা পায়নি। ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা এবং হ্যারি কেইন কয়েকবার ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারের কঠিন পরীক্ষা নিলেও সফলতা আসেনি।

অন্যদিকে, আফ্রিকান দল ঘানাও ছেড়ে কথা বলেনি। প্রতি-আক্রমণ থেকে তারাও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ সতর্ক থাকায় বিপদ ঘটেনি। ঘানার গোলরক্ষক তিনটি চমৎকার সেভ করে নিজের দলকে রক্ষা করেন। এর আগে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ইংল্যান্ডকে এ ম্যাচে সেই চিরচেনা ছন্দে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ১৯টি শটের বিপরীতে মাত্র ৩টি অন-টার্গেট শট ইংল্যান্ডের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৫৮ সালে ব্রাজিল ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম গোলশূন্য ড্র। সেই ধারায় আজ ইংল্যান্ড ১৩তম বারের মতো ইতিহাস গড়ল। বর্তমানে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ড। তবে ঘানার বিপক্ষে আজ জয় পেলেই তাদের নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যেত। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ঘানা রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে লড়াইয়ের মাধ্যমেই এখন পরের রাউন্ডের ভাগ্য নির্ধারিত হবে টুখেল বাহিনীর।


নির্বাচিত

রোনালদোর জোড়া গোল ও রেকর্ডের রাতে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে ওড়াল পর্তুগাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তাঁর রেকর্ড গড়া জোড়া গোলের ওপর ভর করে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগাল। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা এই ম্যাচেই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন। এই বড় জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ওঠার পথে বিশাল এক ধাপ ফেলল সাবেক ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই উজবেক রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে পর্তুগাল। ২ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের আক্রমণ প্রতিহত হওয়ার পর ৫ম মিনিটে সহজ সুযোগ মিস করেন রোনালদো। তবে ঠিক পরের মিনিটেই (৬ষ্ঠ মিনিটে) জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো নিচু ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেন সিআরসেভেন (CR7)। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ১৭তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত নিচু শটে গোল করে পর্তুগালের ব্যবধান ২-০ করেন ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস।

প্রথমার্ধের মাঝপথে উজবেকিস্তান বক্সের বাইরে থেকে গাভিয়েনের এক অবিশ্বাস্য শটে গোল করলেও, বিল্ডআপের সময় কানসেলো ফাউলের শিকার হওয়ায় ভিএআর (VAR) যাচাই করে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করেন। এরপর ৩৯তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস ধরে ডান পায়ের চমৎকার আড়াআড়ি শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১০ম গোল পূর্ণ করে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের পক্ষে সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতার নতুন রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। ইনজুরি টাইমে রোনালদোর একটি চিপ গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন উজবেক ডিফেন্ডার খুশানোভ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৫২ ও ৫৪ মিনিটে ফায়জুল্লায়েভ ও শুকুশভের দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ দারুণভাবে নস্যাৎ করে দেয় পর্তুগিজ রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ডিওগো কোস্তা। এরপর ৬০তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে জোয়াও ফেলিক্সের চমৎকার ব্যাক-হিল ড্রপ খেয়ে গোললাইনে থাকা খুসানভের গায়ে লেগে প্রতিহত হতে গেলে, দুর্ভাগ্যবশত উজবেক গোলকিপার আব্দুভোখিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে জড়িয়ে যায়। এর ফলে পর্তুগাল ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর রোনালদো আরও দুইবার হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি পৌঁছালেও উজবেক কিপারের চমৎকার সেভে তা আলোর মুখ দেখেনি।

ম্যাচের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে আক্রমণভাগ আরও গতিময় করেন রাফা লেয়াও। ৮৭তম মিনিটে নেলসন সেমেদোর একটি কাটব্যাক রোনালদোর উদ্দেশ্যে এলেও তা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে লেয়াওয়ের সামনে চলে আসে। সুযোগ হাতছাড়া না করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে পর্তুগালের ৫-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথম ম্যাচের ড্রয়ের ধাক্কা সামলে এই বিধ্বংসী জয়ের ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল রবার্তো মার্তিনেসের শিষ্যরা।


নির্বাচিত

অপ্রতিরোধ্য মেসিকে এমবাপ্পের তাড়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহরাব শাহরিয়ার অভি

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরও একবার দাপুটে পারফরম্যান্স লিওনেল মেসির। জোড়া গোলে গড়েছেন ইতিহাস। সাবেক জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন লিওনেল মেসি।

চূড়ার সেই আসনে অবশ্য নির্বিঘ্নে থাকতে পারছেন না আর্জেন্টাইন তারকা। তাকে তাড়া করে ফিরছেন ফ্রান্স তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। সর্বোচ্চ গোলের এই রেকর্ডে মেসিকে রীতিমতো চোখ রাঙানি দিচ্ছেন এমবাপ্পে।

মেসির উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পরই ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামে ফ্রান্স। ঝড়-বৃষ্টিতে পরিবেশ খারাপ হলেও নিজের পারফরম্যান্সে এমবাপ্পে ছিলেন উজ্জ্বল। তিনিও জোড়া গোল করেছেন ইরাকের বিপক্ষে। এতে রেকর্ড গড়েছেন ফরাসি তারকাও।

বিশ্বকাপে ১৪টি গোল নিয়ে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে গোল করে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নেন ১৫-তে।

ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ইরাকের ভুল কাজে লাগিয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৬তম গোল। এই গোলেই নাম যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লোসার পাশে বসেন এমবাপ্পে।

শুধু ক্লোসার পাশেই নয় লিওনেল মেসিকেও তাড়া করছেন এমবাপ্পে। দুজনের গোলের পার্থক্য এখন দুটি। ফ্রান্সও ইতোমধ্যে নকআউট পর্বে কোয়ালিফাই করেছে। তাই এমবাপ্পের সামনে সুযোগ থাকছে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলার। অবশ্য নকআউটে কোয়ালিফাই করা মেসির সামনেও সুযোগ আছে ব্যবধান আরও বাড়ানোর।

ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মেসিকে নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন এমবাপ্পে। তখনই আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। 'লিও সবসময় গোল করে, সে সবসময়ই করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে, লিও কী করছে সেদিকে যদি আমি মনোযোগ দিই, তাহলে আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।’

এরপর আরও স্পষ্ট করে এমবাপ্পে বলেন, 'আমি সে কী করছে, সেদিকে একদমই তাকাই না। আমি শুধু আমার দলকে সাহায্য করার কথাই ভাবি।’

বর্তমানে ৫ গোল নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি (আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩টি ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২টি)।

অন্যদিকে ৪টি করে গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। এমবাপ্পে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে দুটি করে মোট চার গোল করেছেন (ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে)।

শীর্ষ দুই মহাতারকার পেছনে ৩টি করে গোল নিয়ে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন জার্মানির ডেনিজ উন্দাভ এবং কানাডার জোনাথন ডেভিড। এছাড়া ব্রাজিলের মাতেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ আরও ১৬ জন খেলোয়াড় ২টি করে গোল নিয়ে এই তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

এক নজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষ গোলদাতার তালিকা:

  • লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৫ গোল
  • কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৪ গোল
  • আরলিং হালান্ড (নরওয়ে): ৪ গোল
  • জোনাথন ডেভিড (কানাডা): ৩ গোল
  • ডেনিজ উন্দাভ (জার্মানি): ৩ গোল

সংক্ষেপে মেসির বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান

  • অংশগ্রহণ: ৬টি বিশ্বকাপ (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, ২০২৬)।
  • মোট ম্যাচ: ২৮টি (বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ)।
  • মোট গোল: ১৮টি (আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ)।
  • অ্যাসিস্ট: ৮টি।
  • শিরোপা: ১টি (২০২২)।
  • গোল্ডেন বল (সেরা খেলোয়াড়): ২ বার (২০১৪, ২০২২)।
  • ম্যান অফ দ্য ম্যাচ: ১১বার (বিশ্ব রেকর্ড)।
  • মাঠে কাটানো সময়: ২,৪৮৪ মিনিট (বিশ্ব রেকর্ড)।

সংক্ষেপে এমবাপ্পের বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান:

  • মোট বিশ্বকাপ: ৩টি (২০১৮, ২০২২, ২০২৬)
  • মোট ম্যাচ: ১৬টি
  • মোট গোল: ১৬টি
  • অ্যাসিস্ট: ৩টি
  • শিরোপা: ১টি (২০১৮)
  • গোল্ডেন বুট: ১টি (২০২২)
  • ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:৮বার
  • মাঠে কাটানো সময়:১৩১০ মিনিট


নির্বাচিত

মাঠে নামতে ‘প্রস্তুত’ নেইমার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। দলের প্রধান ট্যাকটিক্যাল সেশনেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। সতীর্থ গাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি জানিয়েছেন, নেইমার বর্তমানে খুব ভালো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় আছেন। ফলে চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচেই এই অভিজ্ঞ তারকার মাঠে নামার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সেলেসাও ভক্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বর্তমানে দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ার পর থেকে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি আর গায়ে জড়াতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নেইমারের সাম্প্রতিক সময়টা বেশ প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। সৌদি আরবের ক্লাব প্রো লিগ ঘুরে ব্রাজিলে ফিরেও চোটের কারণে তাকে ধুঁকতে হয়েছে। তবে গত বছর নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে ক্যারিয়ারে গতি ফেরাতে সচেষ্ট হন তিনি। চলতি বছর সান্তোসের হয়ে ১৫ ম্যাচে ৬টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করলেও গত ফেব্রুয়ারিতে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর কখনই টানা চারটি ম্যাচ খেলতে পারেননি বার্সেলোনার এই সাবেক মহাতারকা।

নানা আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও নেইমারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অবশ্য টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচে (মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়) মাঠের বাইরে বেঞ্চে বসেই দলের খেলা দেখতে হয়েছে তাকে। সোমবার স্কটল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে হওয়া ট্যাকটিক্যাল সেশনে নেইমারের তীব্রতা ও দারুণ পারফরম্যান্স দেখে সতীর্থ মার্তিনেল্লি বলেন, “সে খুবই উঁচু পর্যায়ের পারফরম্যান্স করেছে। আমাদের সাথে থাকার জন্য সে কতটা আগ্রহী, তা আপনারা দেখছেন। তবে সে মূল একাদশে খেলবে কিনা, এই সিদ্ধান্ত কোচের; কিন্তু আমি মনে করি সে এখন দারুণ অবস্থায় আছে।”


নির্বাচিত

সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়েছে নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে সেনেগালকে টপকে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দেশ নরওয়ে। মাঠের তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে বিজয়ী দলের হয়ে বিশ্বখ্যাত স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড এবং পরাজিত সেনেগালের হয়ে ইসমাইলা সার প্রত্যেকেই জোড়া গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে উঠলেও প্রথম গোলের দেখা মেলে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪৩তম মিনিটে সেনেগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালির রক্ষণভাগের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মার্কাস পেডারসেন। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (এডেড টাইম) আর্লিং হাল্যান্ডের একটি জোরালো শট গোলপোস্টে আঘাত করলে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় ভাইকিংসদের। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নরওয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচটি আরও বেশি গতিময় ও উত্তেজনায় রূপ নেয়। ৪৮তম মিনিটে দলের মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের একটি নিখুঁত থ্রু বল ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন আর্লিং হাল্যান্ড। তবে এর ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই (৫৩ মিনিটে) সাদিও মানের রক্ষণচেরা পাস থেকে গোল করে সেনেগালকে ম্যাচে ফেরান ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার। কিন্তু সেনেগালের এই আনন্দের স্থায়ীত্ব ছিল খুবই অল্প সময়। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে নরওয়েকে ৩-১ ব্যবধানে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন হাল্যান্ড।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া এড়াতে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে সেনেগাল। নরওয়ের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (এডেড টাইম) আবারও গোল পায় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। নিকোলাস জ্যাকসনের অ্যাসিস্টে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের দারুণ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইসমাইলা সার। ব্যবধান ৩-২ হওয়ার পর সমতা ফেরাতে সেনেগাল সব শক্তি দিয়ে আক্রমণ চালালেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা সফলভাবে প্রতিহত করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।


নির্বাচিত

পিছিয়ে পড়েও জর্ডানকে হারাল আলজেরিয়া, বিদায় নিশ্চিত জর্ডানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

খেলার ধারার বিপরীতে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে আলজেরিয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জর্ডানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল তারা। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে দারুণ লড়াই করার পরও এই হারের ফলে বিশ্বকাপ অভিষেকেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানের। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্র্যান্সিসকোয় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আলজেরিয়ার পক্ষে নাদির বেনবুয়ালি ও আমিন গুয়েরি একটি করে গোল করেন এবং জর্ডানের পক্ষে একমাত্র গোলটি আসে নিজার আল-রাশদানের পা থেকে।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়া আলজেরিয়া আজ শুরু থেকেই জর্ডানের ওপর আক্রমণাত্মক ফুটবলে চাপ সৃষ্টি করে। বিপরীতে, প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে হেরে যাওয়া জর্ডান নিজেদের রক্ষণভাগ জমাট রাখার দিকেই বেশি জোর দেয়। তবে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ এক গোলে জর্ডানকে এগিয়ে নেন নিজার আল-রাশদান। প্রথমার্ধে এই ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় আলজেরিয়াকে।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আলজেরিয়ার আক্রমণের ধার আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে জর্ডানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় বেশ কিছুক্ষণ তাদের হতাশ হতে হয়। অবশেষে ৬৯তম মিনিটে আলজেরিয়ার কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি আসে। দলের তারকা ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজের নিখুঁত কর্নার কিকে দারুণ এক হেডের মাধ্যমে বল জালে জড়ান বদলি খেলোয়াড় নাদির বেনবুয়ালি। সমতায় ফেরার পর জর্ডান শিবিরে আরও চাপ সৃষ্টি করে আলজেরিয়া এবং এর ফলশ্রুতিতে ৮২তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর আলগা বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন আমিন গুয়েরি।

এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে ‘জে’ গ্রুপের তিন নম্বরে অবস্থান করছে আলজেরিয়া। সমান ম্যাচে সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে দুই নম্বরে রয়েছে অস্ট্রিয়া। আর টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হবে শক্তিশালী আর্জেন্টিনা এবং একই সময়ে নকআউট পর্বে ওঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া।


নির্বাচিত

মেসির জোড়া গোলে নকআউটে আর্জেন্টিনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

শুরুর পেনাল্টি মিসের ধাক্কা ও তীব্র হতাশা কাটিয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির জোড়া গোলের ওপর ভর করে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ড্যালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২-এর টিকিট কাটল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়ে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

ম্যাচের শুরুতেই চরম নাটকীয়তার জন্ম হয়। ৩ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্টিনেজ প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে পশের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেলে মাঠের রেফারি প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি। পরবর্তীতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR)-এর চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। Matches-এর ৮ম মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর সুবর্ণ সুযোগ পান মেসি। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তাঁর নেওয়া শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়, যার ফলে পেনাল্টি মিসের হতাশায় ডোবে পুরো আর্জেন্টিনা শিবির।

পেনাল্টি মিসের পর ২১ ও ৩৩ মিনিটে মেসির দুটি দারুণ প্রচেষ্টা অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা গোললাইন থেকে প্রতিহত করলে প্রথমার্ধের বেশ কিছু সময় অস্বস্তিতে কাটে আলবিসেলেস্তেরা। তবে ৩৮ মিনিটে আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বাঁ দিক থেকে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সূত্রপাত করে পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে এক নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান মেসি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল পূর্ণ করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার একক রেকর্ড নিজের করে নেন মেসি।

১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়োর্ধের ৭৪ মিনিটে নিকোলাস গঞ্জালেসের একটি দারুণ হেড পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। অস্ট্রিয়াও রক্ষণভাগ ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে (৯৫ মিনিটে) হুলিয়ান আলভারেসের গতিময় কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে নেওয়া শট অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক শ্লাগার ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় মেসির পায়ে, যদিও তখন বেশ কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন আগলে দাঁড়িয়েছিলেন।

মেসির প্রথম শটটি সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসলেও, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ডিফেন্ডার দানসোকে পরাস্ত করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির এই জোড়া গোলের ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানের মহিমান্বিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগেই পরের পর্ব বা নকআউট নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।


নির্বাচিত

রেকর্ডের সিংহাসনে মেসি, বিশ্বকাপে একক সর্বোচ্চ গোলদাতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ জুন, ২০২৬ ১০:৪৬
ক্রীড়া ডেস্ক

লিওনেল মেসি—নামটি যেন ফুটবলের সকল মহাকাব্যের শেষ কথা। ডালাস স্টেডিয়ামে আজ সোমবার রাতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ের দিনে মেসি কেবল আর্জেন্টিনাকে জেতাননি, বরং নিজেকে নিয়ে গেছেন এমন এক উচ্চতায়, যেখানে পৌঁছানো যেকোনো ফুটবলারের জন্য এক অলীক স্বপ্ন। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে এখন এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন অলঙ্কৃত করছেন এই ফুটবল জাদুকর।


ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল কিছুটা বিষাদময়। ৯ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি, যা গ্যালারিজুড়ে এক লহমায় নীরবতা নামিয়ে আনে। এই মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ তিনটি পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডও নিজের নামের পাশে যোগ করেন তিনি। তবে ফুটবল ঈশ্বর যার জন্য রাজকীয় মঞ্চ সাজিয়ে রেখেছেন, তাকে কি আর একটি ব্যর্থতায় আটকে রাখা যায়? ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো পাস বুক দিয়ে নামিয়ে এক জাদুকরী ভলিতে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপান মেসি। এই গোলের মাধ্যমেই ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে ১৭ গোল নিয়ে ইতিহাসের চূড়ায় বসেন তিনি। তবে সেখানেই থামেননি; ম্যাচের ৯৪ মিনিটে জটলার ভেতর থেকে আরও একটি অসাধারণ গোল করে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন। এর মাধ্যমে তিনি পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি মার্তার বিশ্ব রেকর্ডকেও স্পর্শ করেন।


২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচেই মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫—উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল। এই জয়ের ফলে ‘জে’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে লিওনেল স্কালোনির দল। মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের দীর্ঘ দুই দশকের যাত্রা ডালাসে এসে যেন পূর্ণতা পেল। ২০০৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই বয়সেও মাঠে তাঁর গোলক্ষুধা যেন যেকোনো তরুণ তুর্কিকেও হার মানায়।


এই ম্যাচে গোল করে মেসি আরও বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী, যা এর আগে জাস্ট ফন্টেইন ও জেয়ারজিনহোর দখলে ছিল। এছাড়াও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০টি ভিন্ন ম্যাচে দলের প্রথম গোলদাতার কৃতিত্বও এখন তাঁর। যদিও পেনাল্টি মিসের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা দলগতভাবে এখন শীর্ষে (৫ বার), তবে ব্যক্তিগত অর্জনে মেসি সব সমালোচনার উর্ধ্বে। এই বিশ্বকাপেই মেসি যেভাবে শুরু করেছেন, তাতে ফুটবল বিশ্ব কেবল এক মহানায়কের শেষ বেলা উপভোগ করছে না, বরং নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে।


নির্বাচিত

এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে বিধ্বস্ত করে নকআউট পর্বে ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রবৃষ্টির কারণে প্রায় ৪ ঘণ্টা দীর্ঘ হওয়া এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এই জয়ের ফলে ‘আই’ গ্রুপ থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল ফরাসিরা। ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করে দিনটিকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোল করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করলেন সময়ের সেরা এই ফুটবলার।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলে ফ্রান্স। ফরাসিদের ১৯টি আক্রমণাত্মক শটের বিপরীতে ইরাক মাত্র ৪টি শট নিতে সক্ষম হয়। খেলার ১৪ মিনিটে মাইকেল অলিসের চমৎকার পাস থেকে বাম পায়ের শক্তিশালী শটে দলকে লিড এনে দেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১৫ গোল করে তিনি ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর পাশে বসেন। প্রথমার্ধের ১-০ ব্যবধানে থাকা অবস্থায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় এবং বিরতির পর তীব্র বজ্রপাতের কারণে খেলা ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট স্থগিত থাকে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্বিতীয়োর্ধের খেলায় আবারও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ইরাকি ডিফেন্ডার জায়েদ তাহসিনের একটি ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে উসমান দেম্বেলে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের দিকে। সহজ সুযোগ পেয়ে জালে বল পাঠাতে ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের ১৬তম গোলটি পূর্ণ করেন, যা মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমান। এমবাপ্পের সামনে এখন কেবল লিওনেল মেসি (১৮ গোল) রয়েছেন।

ম্যাচের ৬৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলে নিজেও জালের দেখা পান। মাইকেল অলিসের অ্যাসিস্ট থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে ইরাকের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন পিএসজির এই তারকা। বর্তমানে দুই ম্যাচে ৪ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। আগামী ২৬ জুন গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।


নির্বাচিত

১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ১৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অবশেষে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। আগামী ২০২৭ সালের মে মাসের শেষ দিকে এই একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) বাইরে আয়োজিত এই দ্বিপক্ষীয় ম্যাচের সম্ভাব্য সময় চূড়ান্ত হলেও ভেন্যু নির্ধারণের বিষয়টি এখনও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে। তবে লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস অথবা ওভালেই এই একমাত্র টেস্টটি আয়োজন করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি লর্ডসের উইকেট নিয়ে ক্রিকেট মহলে বেশ সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক টেস্ট ম্যাচটি চার দিনে শেষ হলেও সেখানে খেলা হয়েছিল মাত্র ১৬৬ ওভার। এই অতিরিক্ত বোলিং সহায়ক উইকেটের কারণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচটি লর্ডস থেকে ওভালে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ফাইনাল ম্যাচটি যদি ওভালে স্থানান্তরিত হয়, তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই আয়োজন করা হবে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি টেস্ট খেলতে প্রথমে বাংলাদেশ সফরে আসবে ইংল্যান্ড দল, যার ভেন্যু ঢাকা ও চট্টগ্রাম। এরপর মার্চে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহাসিক ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে ইংলিশরা। এরপর মে মাসে নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই টানা নয়টি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে ইংল্যান্ডের। মূলত ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বেন স্টোকসদের জন্য লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দল সবশেষ ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল। দুই ম্যাচের সেই সিরিজে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল এবং বল হাতে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর যখন বাংলাদেশ আবারও ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে, তখন ২০১০ সালের সেই ঐতিহাসিক সফরের স্কোয়াড থেকে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বর্তমানে টেস্ট দলে সক্রিয় রয়েছেন উইকেটকিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।


নির্বাচিত

স্পেনের পর উরুগুয়েকেও রুখে দিল লড়াকু কেপ ভার্দে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও এক লড়াকু রূপকথার জন্ম দিয়েছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এবার ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়েকেও রুখে দিয়েছে তারা। মায়ামির ঐতিহ্যবাহী হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘গ্রুপ এইচ’-এর অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয়ার্ধে অসাধারণ এক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয়বঞ্চিত করে গ্রুপ পর্বের নকআউট রেসে নিজেদের ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল কেপ ভার্দে।

খেলার শুরু থেকেই উরুগুয়ে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় কেপ ভার্দে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া কেভীন পিনার এক নিখুঁত ফ্রি-কিক সরাসরি উরুগুয়ের জালে আশ্রয় নেয়। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে কেপ ভার্দে। তবে প্রথমার্ধের শেষভাগে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় কোচ মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে। খেলার ৪৪তম মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এবং প্রথমার্ধের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৪৫+৫ মিনিট) আগুস্তিন কানোপিওর দারুণ গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় উরুগুয়ের দল ‘লা সেলেস্তে’।

বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধান ধরে রাখতে এবং জয় সুনিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উরুগুয়ে। তবে উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকারদের আক্রমণগুলোকে চমৎকারভাবে সামলে নেয় কেপ ভার্দের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ। রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি প্রতিআক্রমণ থেকে ম্যাচের ৬১তম মিনিটে উরুগুয়েকে স্তব্ধ করে দেন কেপ ভার্দের হেলিও ভারেলা। তাঁর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত উভয় দলই আরও কিছু আক্রমণ চালালেও দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল হয়নি।

উরুগুয়ের বিপক্ষে এই রোমাঞ্চকর ড্রয়ের পর ‘গ্রুপ এইচ’-এর সমীকরণ এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে ড্র করার পর এবার কেপ ভার্দের সাথেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় উরুগুয়ের পরের পর্বে যাওয়ার পথ কঠিন হয়ে গেল। এই ড্রয়ের পর দুই ম্যাচ শেষে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে—দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তালিকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছে উরুগুয়ে এবং তিন নম্বরে রয়েছে কেপ ভার্দে। চার পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে স্পেন এবং তলানিতে অবস্থান করছে সৌদি আরব। প্রথম ম্যাচে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে আটকানো এবং এবার উরুগুয়ের বিপক্ষে এই লড়াকু পয়েন্ট অর্জন কেপ ভার্দের জন্য বড় এক প্রাপ্তি।


নির্বাচিত

বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে ইরানের লড়াকু ড্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২২তম স্থানে থাকা ইরানকে কাগজে-কলমে ‘আন্ডারডগ’ বলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে নরওয়ে বা মিসরের মতো শক্তিশালী দলগুলোর চেয়েও র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে তারা। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইরান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মাঠের বাইরে। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক সংঘাতের ছায়া তাদের বিশ্বকাপ অভিযানকে ঘিরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। ফুটবল বিশ্বের অধিকাংশ মনোযোগ যখন মাঠের বাইরে ইরানের রাজনীতি নিয়ে আবর্তিত হচ্ছিল, তখন লস অ্যাঞ্জেলেসের সবুজ গালিচায় ফুটবলের মাধ্যমে মোক্ষম জবাব দিল তারা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করা ইরান আজ রুখে দিয়েছে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে এক অসাধারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করতে সমর্থ হয় তারা। যুদ্ধের ময়দানে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার যে মানসিকতা ইরান দেখিয়েছে, তার প্রতিফলন যেন আজ মাঠের রক্ষণেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে গোলরক্ষক আলীরেজা বেইরানভান্দ আজ অতিমানবীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। পুরো ম্যাচে তিনি ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন, যার প্রতিটিই ছিল দেখার মতো।

ম্যাচের ৬০ মিনিটে বেইরানভান্দ এমন একটি গোল ঠেকিয়ে দেন যা সম্ভবত চলতি বিশ্বকাপের সেরা সেভ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেভিন ডি ব্রুইনা পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর থেকে আড়াআড়ি পাস বাড়িয়েছিলেন ম্যাক্সিম ডি ক্রুইপারের দিকে। ফাঁকা গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডি ক্রুইপারের জন্য গোল করাটা তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় গোলপোস্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচে ২৩টি আক্রমণ শট নিয়েও ইরানের এই লৌহকঠিন রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয় বেলজিয়ামের তারকারা।

ম্যাচটিতে জয় পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল ইরান। বিশেষ করে ৬৬ মিনিটে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার নাথান এনগয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউরোপীয় পরাশক্তিরা। এরপর ইরান বেশ কয়েকবার কাউন্টার অ্যাটাকে বেলজিয়ামের বক্সে ত্রাস সৃষ্টি করলেও গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি। এমনকি প্রথমার্ধে একটি দর্শনীয় গোলও করেছিল ইরান, যা দুর্ভাগ্যবশত অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও মানসিক চাপের পাহাড় মাথায় নিয়েও লড়াকু ফুটবল খেলে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে ইরান।


নির্বাচিত

banner close