সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩

রোহিতদের ট্যাকটিকস পছন্দ হয়নি গাভাস্কারের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত : ২ অক্টোবর, ২০২৪ ১৭:১০

টি-টোয়েন্টি, নাকি টি-টেন- কোনটি খেলছে ভারত? গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে ভারতের ব্যাটিং দেখে এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই জেগেছে। এমন ব্যাটিং করে দলীয়ভাবে টেস্টে দ্রুততম ৫০, ১০০ ও ১৫০, ২০০ ও ২৫০ রান তোলার রেকর্ড গড়েছে ভারত। শেষ পর্যন্ত ৩৪.৪ ওভারে ৯ উইকেটে ২৮৫ রান তুলে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে তারা। নিয়েছে ৫২ রানের লিড। বৃষ্টির কারণে আড়াই দিনের বেশি সময় খেলা না হওয়ার পর গতকাল চতুর্থ দিনে বল মাঠে গড়ায়। কার্যত সোয়া দুই দিনে নেমে আসা টেস্টে ফল বের করে আনার জন্যই ভারতের অমন ঝোড়ো ব্যাটিং। তা টি-টেনসুলভ ব্যাটিংয়ের জন্য ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা ব্যাটিং লাইনআপে কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। রোহিত তথা ভারত দলের সেই ট্যাকটিকস খুব একটা ভালো লাগেনি কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারের।

উদ্বোধনী জুটিটা ঠিক রেখেছিল ভারত। ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন রোহিত ও যশস্বী জয়সোয়াল। তিন নম্বরেও যথারীতি শুবমান গিলই ব্যাটিংয়ে নামেন। তবে চার নম্বরে বিরাট কোহলিকে না নামিয়ে ভারত ব্যাট করতে পাঠায় ঋষভ পন্তকে। উদ্দেশ্য ছিল, টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং করে পন্ত দ্রুত রানের চাকা ঘোরাবেন।

কিন্তু পন্ত সেটা পারেননি। সাকিব আল হাসানের বলে হাসান মাহমুদকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১১ বলে ৯ রান করেছেন পন্ত। কোনো চার বা ছয় মারতেও পারেননি তিনি। পন্তের আউটের পর পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন কোহলি। সাকিবের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩৫ বলে ৪টি চার ও ১ ছয়ে ৪৭ রান করেছেন তিনি।

দিনের খেলা শেষে জিওসিনেমায় ভারতের ট্যাকটিকসের সমালোচনা করে গাভাস্কার কথাটা বলেছেন এভাবে, ‘কথা হচ্ছে এমন একজনকে নিয়ে, যে কি না চার নম্বরে ব্যাট করে টেস্টে ৯০০০ রান করেছে।’

গতকালের ৪৭ রানের ইনিংসের পর ১১৫ টেস্টে ৪৮.৭৩ গড়ে কোহলির রান হয়েছে ৮৯১৮। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পাঁচ, ছয় বা সাত নম্বরেও ব্যাটিং করেছেন কোহলি। কয়েকটা ম্যাচে তিনি তিন নম্বরেও ব্যাট করেছেন। ২০১১ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া কোহলি চার নম্বরে প্রথম ব্যাটিং করেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর এই পজিশনেই নিয়মিত ব্যাট করে আসছেন কোহলি। জোহানেসবার্গের ওই ইনিংসের পর গতকাল নিয়ে মাত্র ১২টি ইনিংসে কোহলি ৫ নম্বরে ব্যাট করেছেন।


নির্বাচিত

প্রধান কোচ ছাড়াই শুরু হলো অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের নতুন ক্যাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলতি বছর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দল। আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন দলটি সেবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিল। ওই টুর্নামেন্টের পর দীর্ঘ সময় যুব দলের কোনো মাঠের কার্যক্রম বা ম্যাচ দেখা যায়নি। তবে আগামী ২০২৮ যুব বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারই অংশ হিসেবে ৪৬ জন ক্রিকেটার নিয়ে খুলনায় শুরু হয়েছে যুব দলের বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্প।

২০২৮ সালের আসরের জন্য শক্তিশালী দল গড়ার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে দেশীয় ক্রিকেটে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ সম্পন্ন করেছে বিসিবি এবং পরবর্তীতে ৫০ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেইনিং সেশনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার সেখান থেকে বাছাইকৃত ৪৬ জন ক্রিকেটার নিয়ে গত শনিবার থেকে খুলনায় এই ক্যাম্পের সূচনা হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত। দীর্ঘ দুই সপ্তাহের এই ক্যাম্পে ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পাঁচটি প্রস্তুতিমূলক ওয়ানডে ম্যাচ খেলবেন, যার প্রথম ম্যাচটি আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে।

তবে চলমান এই ক্যাম্পের প্রধান উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কোনো স্থায়ী প্রধান কোচ ছাড়াই অনুশীলন শুরু করতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। গত মাসে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হয়েছে। এরপর নতুন প্রধান কোচ কে হবেন, তা নিয়ে বিসিবিতে নানা আলোচনা চলছে। মাঝখানে দেশীয় কয়েকজন কোচের নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলস্বরূপ, কোনো স্থায়ী প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়া ছাড়াই খুলনার এই কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছে।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান কোচের চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বোর্ড। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিসিবির নীতিনির্ধারকেরা। প্রধান কোচ না থাকলেও ক্রিকেটারদের কারিগরি ও শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে চলমান ক্যাম্পে সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ক্রিকেটার ডলার মাহমুদ, মোহাম্মদ সেলিম ও আরশাদ খান। বিসিবির লক্ষ্য, খুব দ্রুত প্রধান কোচ নিয়োগ দিয়ে নতুন দলকে বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করে তোলা।


নির্বাচিত

তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে সুইডেনের দাপুটে বিশ্বকাপ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এ চমৎকার জয় দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে সুইডেন। মেক্সিকোর মনতেরে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে সুইডিশরা। ম্যাচের শুরু থেকেই তীব্র আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে তারা। খেলার সপ্তম মিনিটেই এক দূরপাল্লার নিখুঁত শটে সুইডেনকে এগিয়ে নেন ইয়াসিন আয়ারি। তবে তিউনিশীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় গোল করার পর কোনো ধরনের উদযাপনে মেতে ওঠেননি এই মিডফিল্ডার।

সুইডেনের প্রথম গোলের পর ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তারকা ফরোয়ার্ড আলেকজান্দার ইসাক। সতীর্থ ভিক্টর ইয়োকেরেসের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক শট নেন ইসাক, যা তিউনিশিয়ার গোলরক্ষকের ব্যর্থতায় সহজেই জালে জড়িয়ে যায়। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তিউনিশিয়া। খেলার ৪৫তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা এক বল চমৎকার হেডের মাধ্যমে সুইডেনের জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-১ করেন ওমর রেকিক। ফলে এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সুইডেন আবারও ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। খেলার ৫৯তম মিনিটে তিউনিশিয়ার অধিনায়ক ইলযাস সিকিরির এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চমৎকার গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ৮৪তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান মাটিয়াস সভানবার্গ। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি রেফারি বাতিল করলেও, ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত সেটিকে গোলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আবারও নিজের ফুটবলীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন ইয়াসিন আয়ারি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দুর্দান্ত বাঁকানো শটে তিউনিশিয়ার জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি নিশ্চিত করেন তিনি। পুরো ম্যাচে সুইডেনের আক্রমণভাগে ভিক্টর ইয়োকেরেস ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট এবং আলেকজান্দার ইসাক ১টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট নিয়ে সুইডেনের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন। এই দাপুটে ও অনবদ্য জয়ের সুবাদে প্রথম ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট ও বেশি গোলের ব্যবধানে গ্রুপ ‘এফ’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিল সুইডেন।


নির্বাচিত

শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তি কোদ দি ভোয়া (আইভরি কোস্ট)। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের একের পর এক আক্রমণ গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসায় যখন ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের জাদুকরি গোলে অত্যন্ত মূল্যবান ৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল আইভরি কোস্ট।

ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরই তুলনামূলক ভালো সুযোগগুলো তৈরি করেছিল। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদুর মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ায় বল পেয়েও তা বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন ইকুয়েডরের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়া। এরপর জন ইয়েবোহ ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে দারুণ এক শট নিলেও তা গোলপোস্টের বারে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য যেন পুরোপুরি ইকুয়েডরের বিপক্ষে ছিল; কিছুক্ষণ পরই পেড্রো ভিটের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে অ্যালান মিন্দার নেওয়া আরেকটি দুর্দান্ত শটও পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের পক্ষে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ইয়ান দিওমান্দে ডান প্রান্তে বেশ চমৎকার খেললেও তাঁর তৈরি করা আক্রমণগুলো থেকে দল সুবিধা নিতে পারেনি। নিকোলাস পেপে এবং এলি ওয়াহির আক্রমণগুলোও ইকুয়েডরের ডিফেন্সের কাছে নতি স্বীকার করে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের একই চিত্র বজায় থাকে। খেলার ৫০তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাসিংয়ের পর ভ্যালেন্সিয়ার নেওয়া শটটি এবার পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। তবে বিরতির পর আইভরি কোস্ট ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিতে শুরু করে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা দিওমান্দে বক্সে ঢুকে দুইবার শট নিলেও তা লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে দিওমান্দের বাড়ানো এক চমৎকার ক্রস থেকে ওয়াহির নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় আইভরি কোস্টও। অন্যপ্রান্তে, প্লাতার ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়াহ ফোফানা এবং জোয়েল অর্ডোনেজ একটি ফ্রি-কিক থেকে হেডের মাধ্যমে বল উচিয়ে মারেন।

অবশেষে ম্যাচের ৯০তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই ডেডলক বা অচলাবস্থা ভাঙতে সক্ষম হয় আইভরি কোস্ট। রাইট-ব্যাক উইলফ্রিড সিঙ্গো ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ড্রিবলিং করে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ক্রস করেন। ডি-বক্সের প্রান্তে বলটি পেয়ে অত্যন্ত নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার শটে পোস্টের ভেতরের কোণা দিয়ে বল জালে জড়ান বদলি ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়ালো। এই নাটকীয় গোলের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকান দলটি, অন্যদিকে পুরো ম্যাচে তিন তিনবার পোস্টে বল লাগার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ইকুয়েডরকে।


নির্বাচিত

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের পয়েন্ট ভাগাভাগি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ের পর ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান ও ইউরোপের জায়ান্ট নেদারল্যান্ডস। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যে চার চারটি গোল হবে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করেননি। ম্যাচে দুই দুইবার এগিয়ে গিয়েও জাপানের লড়াকু মানসিকতার কাছে জয় হাতছাড়া হয়েছে ডাচদের। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে থাকা ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল করে জাপানিদের এক মূল্যবান পয়েন্ট এনে দেন উইঙ্গার দাইচি কামাদা।

প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল মাঠের লড়াইয়ে টানটান উত্তেজনা ছড়ায়। বিশেষ করে খেলার ৩৪তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে উইঙ্গার ডনিয়েল মালেনের নেওয়া এক জোরালো হেড জালের ঠিকানা খুঁজে নিচ্ছিল, কিন্তু গোলপোস্টের নিচে অসাধারণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। প্রথমার্ধে জাপানকে নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে রক্ষা করা তাঁর বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভের মধ্যে এটিই ছিল সেরা। প্রথম ৪৫ মিনিটে সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

তবে বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের চিত্রপট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। খেলার ৫১তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা নিখুঁত এক ক্রসে দর্শনীয় হেডে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নেন ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। পোস্টে লেগে জালে জড়ানো বলটি ছিল দেশের হয়ে কোনো বড় টুর্নামেন্টে তাঁর করা প্রথম গোল। তবে ডাচদের এই আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ছয় মিনিট। পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে ৫৭তম মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা দারুণ এক আক্রমণ থেকে কোনাকুনি শটে গোল করে জাপানকে ১-১ সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা।

খেলার ৫১ থেকে ৬৪ মিনিট—মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে দর্শক দেখল তিনটি দারুণ গোল। ৬৪তম মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড ক্রিসেনসিও সামারভিল। ২-১ গোলে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি জাপান। শেষ দিকে ডাচ রক্ষণভাগের ওপর মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেয় তারা। দাইচি কামাদা গোল করে সমতা ফেরালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নেদারল্যান্ডসকে। ২-২ গোলের এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করল দুই দল।


নির্বাচিত

ব্রাজিলের স্মৃতি ফিরিয়ে কুরাসাওকে ৭–১ গোলে উড়িয়ে দিল জার্মানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ফিরে এলো সেই ৭–১ স্মৃতি। এক যুগ আগে ব্রাজিলকে বিধ্বস্ত করা জার্মানি এবার একই ব্যবধানে উড়িয়ে দিল বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওকে। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে গোল উৎসবে মেতে উঠে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ৭–১ ব্যবধানে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। মাত্র ৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। শুরুতে মনে হচ্ছিল, অভিষেক ম্যাচে বড় ধরনের ধাক্কাই অপেক্ষা করছে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের জন্য। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যাচে ফিরেছিল তারা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া কুরাসাও ২১ মিনিটে সমতায় ফেরে। ডান দিক দিয়ে উঠে আসা রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া বক্সে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে পরাস্ত করেন ম্যানুয়েল নয়্যারকে। ঐতিহাসিক সেই গোলের পর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উল্লাস। গোল উদযাপনে রেসলিং তারকা জন সিনার বিখ্যাত ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ ভঙ্গিও করেন কোমেনেনসিয়া।

কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করে জার্মানিকে আবারও এগিয়ে দেন নিকো শ্লটারবেক। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফেলিক্স এনমেচাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–১ করেন কাই হাভার্টজ।

বিরতির পর আরও ভয়ংকর রূপ নেয় জার্মানি। ৫২ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের বাড়ানো বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। এরপর কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ৬৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউন পঞ্চম গোল করেন। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ডেনিজ উনদাভ। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানির ৭–১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ।

একসময় ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে স্বপ্ন দেখানো কুরাসাও শেষ পর্যন্ত জার্মান আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি। বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে নিজেদের শক্তির জানান দিল জার্মানি।


নির্বাচিত

শরিফুলের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের দিনেও শেষ ওয়ানডেতে হারল বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। পেসার শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের অসামান্য বোলিং সত্ত্বেও ২২ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার কুপার কনোলির অনবদ্য সেঞ্চুরিতে শেষ মুহূর্তে পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকেরা। এই হারের ফলে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের, যদিও সিরিজ জয়ের ট্রফিটি আগেই নিশ্চিত করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এদিন মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তীব্র সংকটে পড়ে দল। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের চমৎকার জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের মাঝপথে চোট পেয়ে সাময়িক মাঠ ছাড়লেও পরবর্তীতে পুনরায় ব্যাটিংয়ে ফিরে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। অন্য প্রান্তে তাওহীদ হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের একটি নির্ভরযোগ্য ইনিংস। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দ্রুতগতির অপরাজিত ৫৬ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ৪ ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেওয়া অজি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিশ ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। পরবর্তীতে অ্যালেক্স ক্যারিকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন আহমেদ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন কুপার কনোলি। মাত্র ৫১ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার। পরবর্তীতে ক্যামেরন গ্রিনকে (২৭) সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় সহজ করে দেন তিনি।

ম্যাচের শেষভাগে অলিভার পিক (২৭) ও জাভিয়ার বার্টলেটকে পর পর দুই বলে আউট করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট বা ‘ফাইফার’ শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন শরিফুল ইসলাম। পরবর্তীতে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন তিনি। তবে অন্য প্রান্তের বোলারদের থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় শরিফুলের এই লড়াকু বোলিং শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়। ৩ বল ও ১ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুলের ৬ উইকেট ছাড়াও তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।


নির্বাচিত

হাইতিকে হারিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে জয় দিয়ে শুরু স্কটল্যান্ডের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে জয় দিয়ে নিজেদের নতুন অভিযান শুরু করেছে স্কটল্যান্ড। ‘গ্রুপ সি’-এর প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কোচ স্টিভ ক্লার্কের দল। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম বৈশ্বিক ফুটবল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা স্কটিশদের জন্য এই প্রত্যাবর্তনের জয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে স্কটল্যান্ড। প্রথমার্ধের শুরুতে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তবে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে দলের জট খোলেন অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। ডান দিক থেকে সতীর্থের পাঠানো চমৎকার এক ক্রস ডি-বক্সের ফাঁকায় পেয়ে যান তিনি। কাছ থেকে নেওয়া তাঁর জোরালো ও নিখুঁত শট হাইতির গোলপোস্টের জাল কাঁপিয়ে দিলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোল হিসেবে প্রমাণিত হয়।

গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্যারিবীয় দল হাইতি। প্রথমার্ধের শেষভাগ এবং দ্বিতীয়ার্ধে তারা অল-আউট ফুটবল খেলে স্কটিশ রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় এবং বেশ কয়েকবার তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। তবে স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে হাইতির প্রতিটি ফরোয়ার্ড আক্রমণ দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন এবং ম্যাচে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানটি সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হন।

এই জয়ের সুবাদে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে গ্রুপ ‘সি’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে গেল স্কটল্যান্ড। এর আগে এই গ্রুপের অপর ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় স্কটিশরা প্রথম ম্যাচ শেষে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত এই গ্রুপে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের কৌশল ও লক্ষ্যের প্রমাণ দিল ক্লার্কের শিষ্যরা, যা তাদের পরবর্তী পর্বের লড়াইয়ে মানসিকভাবে দারুণ উজ্জীবিত রাখবে।


নির্বাচিত

অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন। প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়ে সিরিজ আগেই নিশ্চিত করা বাংলাদেশ আজ সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ওপেনার সৌম্য সরকার মাত্র ২ রান করে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ড্রাইভ করতে গিয়ে বল তার ব্যাটের ইনসাইড এজ হয়ে স্টাম্পে আঘাত হানে। দ্রুত উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। পাওয়ার প্লের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর তানজিদের একটি ছক্কার ওপর ভর করে ৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ২৫ রান। এই জুটি দলের সংগ্রহকে পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছে দিলেও ১০ম ওভারে তানজিদ ব্যক্তিগত ১৯ রানে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ আউট হন।

ম্যাচের ১৫তম ওভারে এসে বাংলাদেশ তাদের তৃতীয় উইকেট হারায়। নাজমুল হোসেন ৫০ বলে ২৪ রান করে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি রিভিউ থেকে বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন তিনি। নাজমুলের বিদায়ের পর তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস জুটি বেঁধে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান একশ ছাড়িয়েছে এবং রানের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০১ রান।

আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। চোটের কারণে অধিনায়ক মিরাজের পরিবর্তে দলে ঢুকেছেন আরেক মেহেদী এবং পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ফেরানো হয়েছে শরীফুল ইসলামকে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার একাদশেও ম্যাথু শর্ট ও নাথান এলিসের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন বেন ডোয়ারশুইস ও অলি পিক। নিয়মিত অধিনায়ক মিরাজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাথায় আঘাত পেলেও বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রান ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে টাইগাররা।


নির্বাচিত

তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুভসূচনা করল অস্ট্রেলিয়া

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নজরকাড়া জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শক্তিশালী তুরস্ককে ২-০ গোলে পরাজিত করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ডি-তে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সকারুরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখেছিল তুরস্ক। ইন্টার মিলানের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হাকান চালহানোগ্লুর নেতৃত্বে মাঝমাঠ থেকে তারা আক্রমণ শাণালেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। প্রথম ২২ মিনিট পর্যন্ত খেলা সমানে সমান চললেও ২৮তম মিনিটে দৃশ্যপট বদলে যায়। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা এক লম্বা পাস বাঁ দিকে নিয়ন্ত্রণে নেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা। তুরস্কের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে দারুণ দক্ষতায় পরাস্ত করে তিনি বল জালে জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন।

পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে তুরস্কের ডিফেন্ডার বার্দাকচির এক দূরপাল্লার শট প্রায় গোল হয়েই গিয়েছিল, কিন্তু গোলরক্ষকের হাতে লেগে বলটি শেষ মুহূর্তে পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গুলের, কাদিওগ্লু ও ইলমাজ ত্রয়ীর সম্মিলিত আক্রমণও অজি রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও তুরস্ক তাদের আক্রমণের ধার বজায় রাখে। হাকান চালহানোগ্লু ও আর্দা গুলেরের নেওয়া একাধিক ফ্রি-কিক অজি গোলরক্ষক বিচ অত্যন্ত নৈপুণ্যের সাথে প্রতিহত করেন। তুরস্ক যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে উঠে এসে কনর মেটকাফ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর তুরস্ক আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তাদের বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু করল। গ্রুপ ডি-তে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে, অন্যদিকে তুরস্কের পরবর্তী লড়াই হবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। সকারুদের এই জয় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দৌড়ে তাদের এক ধাপ এগিয়ে দিল।


নির্বাচিত

শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিল কাতার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় এক চমক দেখাল কাতার। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে গত বিশ্বকাপের আয়োজক দেশটি। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে যখন সুইসরা জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বুয়ালেম খুখির দুর্দান্ত এক হেডে কাতার তাদের প্রথম পয়েন্ট নিশ্চিত করে।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে ব্রিল এমবোলোর পেনাল্টি গোলে লিড নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা ডি-বক্সের ভেতরে রেমো ফ্রেউলারকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন এবং আবুনাদাকে হলুদ কার্ড দেখান। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি এমবোলো। পুরো ম্যাচ জুড়েই সুইজারল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বলের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে তারা মোট ২৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টিই ছিল লক্ষ্যে। তবে গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা শুরুতেই পেনাল্টি দিয়ে ‘ভিলেন’ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করলেও পরবর্তীতে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

সুইজারল্যান্ড যখন জয়ের অপেক্ষায় ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে ছিল, ঠিক তখনই কাতার এক পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে। লেফট ব্যাক হোমাম আহমেদের নিখুঁত এক ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে জাল কাঁপান ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাক বুয়ালেম খুখি। এই গোলের মাধ্যমে কাতার কেবল হারই এড়ায়নি, বরং বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট অর্জনের গৌরবও অর্জন করল। এর আগের বিশ্বকাপে খেলা তিনটি ম্যাচেই হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিল তারা।

একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে কানাডা ও বসনিয়া ড্র করায় বর্তমানে ‘বি’ গ্রুপের চারটি দলেরই পয়েন্ট সমান ১। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পয়েন্টের মুখ দেখায় কাতারই এখন সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, জয়ের খুব কাছে গিয়েও ড্র করায় সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিনকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে একরাশ হতাশা নিয়ে। শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে এভাবে গোল হজম করা সুইসদের জন্য বড় এক শিক্ষা হিসেবে রয়ে গেল।


নির্বাচিত

মরক্কোর কাছে ব্রাজিলের হোঁচট: ভিনিসিয়ুসের গোলে ড্র দিয়ে হেক্সা মিশন শুরু সেলেসাওদের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ভক্তদের মাঝে যে ম্যাচটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা বিরাজ করছিল, সেটি ছিল ব্রাজিল বনাম মরক্কো। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের যথাক্রমে ছয় ও সাত নম্বর অবস্থানে থাকা দুই পরাশক্তির এই লড়াইটি নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গড়ালেও শেষ পর্যন্ত কেউ পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ১-১ গোলে অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়া এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে নিজেদের বহুল আলোচিত ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু করল কার্লো আনচেলত্তির দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কোর ফুটবলারদের আগ্রাসী মনে হয়েছে। ২১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে মরক্কোকে লিড এনে দেন ইসমায়েল সাইবারি। ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো নিখুঁত থ্রু বল ধরে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। তবে সমতায় ফিরতে ব্রাজিলকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ৩২ মিনিটে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে এক বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ঝাঁপিয়েও ভিনির সেই চোখ ধাঁধানো শট রুখতে পারেননি।

সমতায় ফিরলেও ব্রাজিলের পুরো ম্যাচ জুড়ে পারফরম্যান্স ছিল সমর্থকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে। মাঝমাঠে বারবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। চোটের কারণে সুপারস্টার নেইমারকে মাঠের বাইরে দর্শক হয়ে থাকতে হওয়ায় দলের ধার অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, মরক্কো পুরো সময় জুড়েই গোলের জন্য মরিয়া ছিল এবং ম্যাচের শেষ দিকে কয়েক দফায় ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেললেও গোলরক্ষক আলিসন বেকারের অতিমানবীয় কিছু সেভ ব্রাজিলকে নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।

প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজকে তুলে নিয়ে ফাবিনিও ও দানিলোকে মাঠে নামান আনচেলত্তি, কিন্তু তাতেও খেলার ধরনে বিশেষ কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ দিকে রাফিনিয়া ও গিমারায়েস কিছু সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলের কাছে ধাক্কা খেয়ে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এই ড্র ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের পথে প্রথম পদক্ষেপ হলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে কোচ ও সমর্থকদের কপালে।


নির্বাচিত

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-মরক্কো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ রোববার, কেমন ছিল দুই দলের পরিসংখ্যান

ব্রাজিল-মরক্কো ফুটবল ম্যাচ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে আগে থেকেই ‘মাস্ট ওয়াচ’ ম্যাচের তকমা পেয়েছে বিশ্বকাপ গ্রুপপর্বের ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার লড়াই। দুই দলের সাম্প্রতিক মাঠের পারফরম্যান্স কিংবা তাদের বর্তমান ফিফা র‌্যাঙ্কিং—সবই যেন একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের রসদ জোগাচ্ছে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল যেখানে ছয় নম্বরে অবস্থান করছে, ঠিক তার পরের অবস্থানে অর্থাৎ সপ্তম স্থানে রয়েছে মরক্কো। বৈশ্বিক এই মহোৎসবে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৪ জুন) ভোর ৪টায় নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই দুই পরাশক্তি একে অপরের মুখোমুখি হবে।

বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর সাম্প্রতিক উত্থান সত্যিই চোখে পড়ার মতো, যার কারণে এই দলকে অনেকে ‘আফ্রিকান নতুন ব্রাজিল’ নামেও ডাকছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সাথে মরক্কোর দেখা হওয়াটা এবারই প্রথম নয়। এর আগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে মোট তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। হেড-টু-হেড বা মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে আছে ব্রাজিল। পূর্বের তিন ম্যাচের মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে দুটিতে এবং একটিতে জয় পেয়েছে আটলাস লায়ন্স খ্যাত মরক্কো।

দুই দেশের মধ্যে প্রথম লড়াইটি হয়েছিল আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে, ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে বেলেমে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে। সেবার মারিও জাগালোর অধীনে থাকা ব্রাজিল ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে দেনিলসনের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। এর প্রায় এক বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৬ জুন ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বোর্দোয়াতে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হয় তারা, যা ছিল দুই দলের মধ্যকার একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। প্রথমার্ধে আইকনিক স্ট্রাইকার রোনালদোর গোলের পর রিভালদো ও বেবেতোর লক্ষ্যভেদে সেলেসাওরা ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

ব্রাজিলের বিপক্ষে টানা দুই হারের প্রতিশোধ নিতে মরক্কোকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ২৫ বছর।

২০২৩ সালের ২৫ মার্চ টাঙ্গিয়ারে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে সোফিয়ানে বাউফলের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় মরক্কানরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সেলেসাও মিডফিল্ডার কাসেমিরো গোল করে ব্রাজিলের পক্ষে সমতা ফেরালেও শেষ রক্ষা হয়নি। খেলার ৭৯তম মিনিটে আবদেলহামিদ সাবিরির করা দর্শনীয় গোলে মরক্কো ২-১ ব্যবধানের এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়। অতীতের এই রোমাঞ্চকর পরিসংখ্যানকে সঙ্গী করেই আবারও বিশ্বমঞ্চে একে অপরকে টেক্কা দিতে নামছে এই দুই ফুটবল পরাশক্তি।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তা, বিসিবির নিন্দা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ জুন, ২০২৬ ১১:১৯
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
জানা গেছে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ খেলে বিমানযোগে চট্টগ্রাম পৌঁছান নাঈম। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখানবাজার এলাকায় তার গতিরোধ করা হয়। নাঈম হাসানের অভিযোগ, সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে অটোরিকশা থেকে জোর করে নামিয়ে নিজেদের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, গলা টিপে ধরা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার পর চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগী নাঈম হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, "আমি পুলিশকে ব্যাগ তল্লাশি করার অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আমার গলা চেপে ধরা হয় এবং মারধর করা হয়। স্থানীয়রা আমাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা শোনেনি।"
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, "আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নাঈম হাসান অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ ধরনের আচরণে আমাদের 'জিরো টলারেন্স'। কারণ এর সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তি জড়িত।" তিনি আরও জানান, চোরাচালান সংক্রান্ত একটি তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের ওপর এমন অমানবিক আচরণের ঘটনায় শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। বিসিবি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছে।"

বিসিবি আরও জানিয়েছে, তারা নাঈম হাসান ও তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে চট্টগ্রাম প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের একজন কৃতি অ্যাথলেটের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

banner close