বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
৪ আষাঢ় ১৪৩৩

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৬ অক্টোবর, ২০২৪ ১৯:২৭

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়ন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরেছে বাংলাদেশ। ভারত কাপ্তান সূর্যকুমার যাদব টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

ভারতের হয়ে দুই জনের অভিষেক হয়েছে আজ। পেসার মায়াঙ্ক যাদব ও অলরাউন্ডার নিতিশ কুমার প্রথমবার ভারতের জার্সিতে খেলবেন।

এদিকে বাংলাদেশের একাদশেও এসেছে পরিবর্তন। গত ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার, তানজিম সাকিব, তানজিদ হাসান তামিম ও সাকিব আল হাসান। একাদশে ফিরেছেন পারভেজ ইমন, জাকের আলি, মেহেদি মিরাজ ও শরিফুল ইসলাম।

ভারতীয় একাদশ

সাঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, নিতিশ কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া, রিয়ান পরাগ, রিংকু সিং, ওয়শিংটন সুন্দর, বরুণ চক্রবর্তী, আর্শদীপ সিং, মায়াঙ্ক যাদব।

বাংলাদেশের একাদশ

পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।


নির্বাচিত

ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে, প্রথম ম্যাচে ফরাসিদের বড় জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘আই’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স। প্রথমার্ধে ফরাসিদের কিছুটা ছন্দহীন দেখা গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ডময় পারফরম্যান্সে ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। এই ম্যাচের মাধ্যমে একই জাতীয় দলকে টানা চারটি বিশ্বকাপে কোচিং করানোর ইতিহাসে বিশ্বের মাত্র ষষ্ঠ কোচ হিসেবে অনন্য কীর্তি গড়লেন ফরাসি মাস্টারমাইন্ড দেশম।

ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট তারকাখচিত ফ্রান্স দলের জন্য বেশ হতাশাজনক ছিল। এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের বোঝাপড়ার ঘাটতি স্পষ্ট থাকায় প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি ফরাসিরা। অন্যদিকে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল প্রথমার্ধে অপেক্ষাকৃত বেশ সুসংগঠিত ফুটবল খেলেছে। খেলার ২৫তম মিনিটে সেনেগালের নিকোলাস জ্যাকসনের জোরালো শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে নিশ্চিত গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় ফ্রান্স। এছাড়া প্রথমার্ধের অন্তিম সময়ে ইসমাইলা সারও গোল করার একটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করলে গোলশূন্য সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে বক্সে এমবাপ্পেকে সাদিও মানে ট্যাকল করলে পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে ফ্রান্স, তবে ভিএআর (VAR) যাচাইয়ের পর তা নাকচ হয়। তবে বেশিক্ষণ গোলখরা কাটাতে হয়নি ফরাসিদের; ৬৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর ৭৯তম মিনিটে দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ৮২তম মিনিটে আদ্রিয়াঁ রাবিওর লম্বা থ্রু-পাস ধরে চমৎকার গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তরুণ ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা।

খেলার অতিরিক্ত সময়ে যোগ করা ৫ম মিনিটে (৯৫ মিনিট) সেনেগালের হয়ে এক গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ইব্রাহিমা এমবায়ে। তবে তার ঠিক এক মিনিট পরেই যোগ করা ৬ষ্ঠ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক অবিশ্বাস্য ও জাদুকরি শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সের ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। এই ঐতিহাসিক জোড়া গোলের সুবাদে সাবেক তারকা অলিভিয়ে জিরুর ৫৭ গোলের কীর্তি টপকে মোট ৫৮ গোল নিয়ে এখন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট নিজের করে নিলেন এমবাপ্পে। একই সাথে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়ে গিয়ে বিশ্বমঞ্চে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এই ফরাসি তারকা।


নির্বাচিত

অভিষেকেই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখল কেপ ভার্দে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেবারিট এবং ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে তারা। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম এই দেশটি নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই বড় এক প্রত্যাবর্তনের অধ্যায় লিখেছে। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবং একের পর এক ধারালো আক্রমণ চালিয়েও কেপ ভার্দের রক্ষণব্যুহ ও তাদের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অদম্য প্রাচীর ভেদ করতে পারেনি স্প্যানিশরা।

ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টা পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও স্পেনের আক্রমণগুলোতে তেমন কোনো ধার ছিল না, প্রথমার্ধের প্রথম ভাগে তাদের অন-টার্গেট শট ছিল মাত্র একটি। তবে বিরতির ঠিক পূর্বে চড়াও হতে শুরু করে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়েনরা। ফেরান তোরেসের একটি জোরালো শট গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের। এরপর ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবাল এক চমৎকার হেড নিলেও তা অসামান্য দক্ষতায় লুফে নেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তোরেস ও ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তের আরও দুটি নিশ্চিত গোলের আক্রমণ রুখে দিয়ে প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হন ভোজিনিয়া, যিনি ম্যাচজুড়ে মোট ৭টি অসামান্য সেভ করেছেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের গোলের বন্ধ্যাত্ব না কাটায় ম্যাচের ৭১তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালকে। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট না হলেও গোলের খোঁজে এই তরুণ বিস্ময়বালকের ওপর ভরসা রাখতে বাধ্য হন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে ইয়ামালের এই মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসেই এক বিরল ও কালজয়ী রেকর্ডের সৃষ্টি হয়। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার বয়স ছিল ৪০ বছর ২২ দিন এবং ইয়ামালের সাথে তাঁর বয়সের ব্যবধান ছিল ২১ বছর ৪৫ দিন। ফিফা বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বয়সের ব্যবধানের নতুন রেকর্ড।

ইয়ামালকে নামানোর পরও স্প্যানিশ আক্রমণের সমস্ত ঢেউ কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ ডিফেন্সের সামনে এসে আছড়ে পড়ে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গোলশূন্য ড্রয়ের আনন্দে মেতে ওঠে কেপ ভার্দের পুরো শিবির। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে পাওয়া এই ১ পয়েন্ট তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও গৌরবময় দিন হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে, একচেটিয়া আধিপত্যের পরও গোল করতে না পারার এই ব্যর্থতা ও পয়েন্ট হারানো টুর্নামেন্টের আগামী ম্যাচগুলোর জন্য স্পেনের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।


নির্বাচিত

গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতেও খেলা হচ্ছে না নেইমারের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয়রথ শুরুতে হোঁচট খাওয়ার পর এবার দলটির প্রধান তারকা নেইমারকে নিয়ে চরম দুঃসংবাদ পেল ফুটবল বিশ্ব। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর জানা গেছে, কাফ মাংসপেশির চোট কাটিয়ে উঠতে না পারায় নেইমার গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতেও সেলেসাওদের হয়ে মাঠে নামতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী নেইমার গত ১৭ মে তার বর্তমান ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলার সময় গ্রেড-২ ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে সুযোগ পেলেও এখন পর্যন্ত তিনি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। সোমবারও দলের নিয়মিত মহড়ায় তাকে অনুপস্থিত দেখা গেছে। ব্রাজিলের মেডিকেল বিভাগের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়েছে যে, গ্রুপ পর্বে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দুটিতে নেইমারকে ছাড়াই লড়াই করতে হবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।

চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য এখন নেইমারকে নকআউট পর্বের আগে পুরোপুরি ফিট করে তোলা। এ প্রসঙ্গে কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। আমরা চাই সে পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরুক। তার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব তরুণদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

নেইমারের এই অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে হোঁচট খাওয়ার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এখন ব্রাজিলের জন্য অপরিহার্য। সমর্থকদের এখন একটাই প্রার্থনা—দল নকআউট রাউন্ডে পৌঁছাক এবং সেখানে যেন তাদের প্রিয় ‘নাম্বার টেন’ মহাতারকা পুনরায় মাঠে ফিরে হেক্সা মিশনের নেতৃত্ব দিতে পারেন।


নির্বাচিত

রাজনৈতিক চাপের পাহাড় মাড়িয়ে বিশ্বকাপে ইরানের লড়াকু ড্র

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নজিরবিহীন ভ্রমণ জটিলতার মধ্য দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইরান। মেক্সিকো সীমান্ত থেকে বাসে করে এসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ খেলে আবার রাতেই ফিরে যাওয়ার মতো অমানবিক নিয়মের মাঝেও লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ছিল চরম অনিশ্চয়তায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ফিফা ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করলেও দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে তারা মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলন ঘাঁটি গেড়েছে এবং প্রতিটি ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। এই বৈরী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে অধিনায়ক মেহদি তারেমি বলেছিলেন, তারা কোনো স্বাভাবিক উৎসবমুখর আমেজ অনুভব করতে পারছেন না।
মাঠের লড়াইয়েও শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইরান। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ক্রিস উডের পাস থেকে এলিজাহ জাস্ট চমৎকার এক ভলিতে কিউইদের এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে জেগে ওঠে ইরান এবং ৩২তম মিনিটে রেজাইয়ানের এক শৈল্পিক চিপ শটে সমতায় ফেরে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৫৪ মিনিটে আবারও ক্রিস উডের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নিউজিল্যান্ডকে লিড এনে দেন এলিজাহ জাস্ট। এবারও ইরানের সমতায় ফিরতে সময় লেগেছে মাত্র ১২ মিনিট; রেজাইয়ানের লম্বা পাস থেকে নিখুঁত এক হেডে গোল করে ম্যাচ ২-২ করেন মোহেবি।
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ইরানের চেয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গেলেও অভিজ্ঞতার অভাবে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে ফেরা কিউইদের জন্য এই ড্রও বড় এক অর্জন। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ ও জার্সি বদলের দৃশ্য দর্শকদের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা ইরানি কোচ আমির ঘালেনোয়ি এবং মাঠে হাজার হাজার প্রবাসী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে পতাকা হাতে খেলোয়াড়দের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ—সব মিলিয়ে ইরানের এই ড্র ফুটবলের চেয়েও যেন বড় এক লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে থাকল।


নির্বাচিত

আত্মঘাতী গোলে জয়ের স্বপ্ন ভাঙল মিশরের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ জুন, ২০২৬ ১০:৩৭
ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারল না মিশর। দারুণ লড়াই করা আফ্রিকার দলটি বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে অনেকটা সময় এগিয়ে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলের কারণে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে ম্যাচ।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মিশর। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ সালাহ। তার নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে বেলজিয়াম। অন্যদিকে শুরুতে মাঠে ছিলেন না রোমেলু লুকাকু।

ম্যাচের ১৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় মিশর। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে বেলজিয়ামের জালে বল জড়ান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মঞ্চে মিশরকে এনে দেয় গুরুত্বপূর্ণ এগিয়ে থাকা।

গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি বেলজিয়াম। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে আক্রমণের গতি বাড়ায় বেলজিয়াম। ৫৩ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। তার নেওয়া ফ্রি-কিক গিয়ে লাগে পোস্টে। অল্পের জন্য সমতা ফেরানো হয়নি ইউরোপের দলটির।

তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা বেশি দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। বদলি হিসেবে মাঠে নামা লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও এক ভুলে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে।


নির্বাচিত

উরুগুয়েকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে চমক দেখাল সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও বড় দলকে আটকে দিয়ে আলোচনায় সৌদি আরব। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে সমতা করেছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। দারুণ লড়াইয়ে পাওয়া এই এক পয়েন্টে পরের পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়েছে সৌদিদের।

ম্যাচের আগে শক্তির বিচারে এগিয়ে ছিল উরুগুয়ে। তবে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে সৌদি আরব। গোছানো আক্রমণ আর শক্ত রক্ষণে চাপে পড়ে উরুগুয়ে।

প্রথমার্ধের শেষদিকে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে প্রথমে হেড করেন হাসান আল তামবাকতি। কিন্তু বল ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। তার হাত ফসকে বল বেরিয়ে এলে সুযোগ কাজে লাগান আবদুলেলাহ আল-আমরি। কাছ থেকে জালে বল পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

বিরতির পর সমতায় ফিরতে আক্রমণের গতি বাড়ায় উরুগুয়ে। ডারউইন নুনিয়েস, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোদের একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় সৌদি রক্ষণকে। তবে দীর্ঘ সময় দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে রাখে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।

৭০ মিনিট পার হওয়ার পরও পিছিয়ে ছিল উরুগুয়ে। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে আরও একটি বড় অঘটনের জন্ম দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব।

তবে শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে সক্ষম হয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে গোল করেন মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। ধারাবাহিক চাপের ফল হিসেবে পাওয়া সেই গোলে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

শেষ সময়ে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে সৌদি আরব।


নির্বাচিত

বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঝোড়ো ইনিংস খেলার রহস্য জানালেন জয়িতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডস নারী দলের বিপক্ষে ৬ উইকেটের চমৎকার এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। গতকাল অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রানের এক ঝোড়ো ও ঝলমলে ইনিংস খেলে তিনি দলের জয় সহজ করে দেন। ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসে এই টাইগ্রেস ওপেনার তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের রহস্য এবং বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।

নেদারল্যান্ডসের দেওয়া ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করার কৌশল নিয়ে জয়িতা বলেন, “আমরা যেহেতু প্রথমে বোলিং করেছি এবং লক্ষ্যটা যখন ১৪০ রান দেখলাম, তখনই মনে হয়েছিল আমাদের খুব ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে হবে। তাই আমি শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। একজন ওপেনার হিসেবে পাওয়ারপ্লের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মূল লক্ষ্যই ছিল প্রথম ছয় ওভারে যত বেশি সম্ভব রান তুলে নেওয়া এবং উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়া।”

ডাচদের বিপক্ষে এই ইনিংসটি ছিল জয়িতার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। তবে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পেলেও নিজের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এই ব্যাটার, কারণ ফিফটি করার ঠিক পরপরই তিনি সাজঘরে ফিরে যান। ম্যাচে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দ্রুত বিদায়ের পর মাঠে তৈরি হওয়া সাময়িক চাপ প্রসঙ্গে জয়িতা বলেন, “জ্যোতি আপু ক্রিজে এসে দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা চাপ অনুভব করেছিলাম, কারণ তিনি আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটার। তবে আমাদের দলের বাকি ব্যাটিং লাইনআপের ওপর আমার গভীর বিশ্বাস ছিল এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে কেউ না কেউ দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেবে।”

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিজের প্রথম ম্যাচের অনুভূতি প্রকাশ করে এই তরুণ ওপেনার বলেন, এটি তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ হওয়ায় দলের জন্য বিশেষ কিছু করার তীব্র তাগিদ অনুভব করছিলেন। তিনি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আনন্দিত। সামনে কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় তাঁর মূল দায়িত্ব হবে পাওয়ারপ্লের ভালো ব্যবহার করা। বড় দলগুলোর বিপক্ষেও একই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে দেশের হয়ে বড় ইনিংস খেলার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান জুয়াইরিয়া জয়িতা।


নির্বাচিত

প্রধান কোচ ছাড়াই শুরু হলো অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের নতুন ক্যাম্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলতি বছর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দল। আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন দলটি সেবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিল। ওই টুর্নামেন্টের পর দীর্ঘ সময় যুব দলের কোনো মাঠের কার্যক্রম বা ম্যাচ দেখা যায়নি। তবে আগামী ২০২৮ যুব বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারই অংশ হিসেবে ৪৬ জন ক্রিকেটার নিয়ে খুলনায় শুরু হয়েছে যুব দলের বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্প।

২০২৮ সালের আসরের জন্য শক্তিশালী দল গড়ার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে দেশীয় ক্রিকেটে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ সম্পন্ন করেছে বিসিবি এবং পরবর্তীতে ৫০ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেইনিং সেশনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার সেখান থেকে বাছাইকৃত ৪৬ জন ক্রিকেটার নিয়ে গত শনিবার থেকে খুলনায় এই ক্যাম্পের সূচনা হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত। দীর্ঘ দুই সপ্তাহের এই ক্যাম্পে ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পাঁচটি প্রস্তুতিমূলক ওয়ানডে ম্যাচ খেলবেন, যার প্রথম ম্যাচটি আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে।

তবে চলমান এই ক্যাম্পের প্রধান উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কোনো স্থায়ী প্রধান কোচ ছাড়াই অনুশীলন শুরু করতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। গত মাসে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হয়েছে। এরপর নতুন প্রধান কোচ কে হবেন, তা নিয়ে বিসিবিতে নানা আলোচনা চলছে। মাঝখানে দেশীয় কয়েকজন কোচের নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলস্বরূপ, কোনো স্থায়ী প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়া ছাড়াই খুলনার এই কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছে।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান কোচের চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বোর্ড। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিসিবির নীতিনির্ধারকেরা। প্রধান কোচ না থাকলেও ক্রিকেটারদের কারিগরি ও শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে চলমান ক্যাম্পে সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ক্রিকেটার ডলার মাহমুদ, মোহাম্মদ সেলিম ও আরশাদ খান। বিসিবির লক্ষ্য, খুব দ্রুত প্রধান কোচ নিয়োগ দিয়ে নতুন দলকে বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করে তোলা।


নির্বাচিত

তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে সুইডেনের দাপুটে বিশ্বকাপ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এ চমৎকার জয় দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে সুইডেন। মেক্সিকোর মনতেরে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে সুইডিশরা। ম্যাচের শুরু থেকেই তীব্র আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে তারা। খেলার সপ্তম মিনিটেই এক দূরপাল্লার নিখুঁত শটে সুইডেনকে এগিয়ে নেন ইয়াসিন আয়ারি। তবে তিউনিশীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় গোল করার পর কোনো ধরনের উদযাপনে মেতে ওঠেননি এই মিডফিল্ডার।

সুইডেনের প্রথম গোলের পর ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তারকা ফরোয়ার্ড আলেকজান্দার ইসাক। সতীর্থ ভিক্টর ইয়োকেরেসের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক শট নেন ইসাক, যা তিউনিশিয়ার গোলরক্ষকের ব্যর্থতায় সহজেই জালে জড়িয়ে যায়। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তিউনিশিয়া। খেলার ৪৫তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা এক বল চমৎকার হেডের মাধ্যমে সুইডেনের জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-১ করেন ওমর রেকিক। ফলে এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সুইডেন আবারও ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। খেলার ৫৯তম মিনিটে তিউনিশিয়ার অধিনায়ক ইলযাস সিকিরির এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চমৎকার গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ৮৪তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান মাটিয়াস সভানবার্গ। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি রেফারি বাতিল করলেও, ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত সেটিকে গোলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আবারও নিজের ফুটবলীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন ইয়াসিন আয়ারি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দুর্দান্ত বাঁকানো শটে তিউনিশিয়ার জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি নিশ্চিত করেন তিনি। পুরো ম্যাচে সুইডেনের আক্রমণভাগে ভিক্টর ইয়োকেরেস ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট এবং আলেকজান্দার ইসাক ১টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট নিয়ে সুইডেনের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন। এই দাপুটে ও অনবদ্য জয়ের সুবাদে প্রথম ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট ও বেশি গোলের ব্যবধানে গ্রুপ ‘এফ’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিল সুইডেন।


নির্বাচিত

শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তি কোদ দি ভোয়া (আইভরি কোস্ট)। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের একের পর এক আক্রমণ গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসায় যখন ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের জাদুকরি গোলে অত্যন্ত মূল্যবান ৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল আইভরি কোস্ট।

ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরই তুলনামূলক ভালো সুযোগগুলো তৈরি করেছিল। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদুর মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ায় বল পেয়েও তা বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন ইকুয়েডরের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়া। এরপর জন ইয়েবোহ ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে দারুণ এক শট নিলেও তা গোলপোস্টের বারে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য যেন পুরোপুরি ইকুয়েডরের বিপক্ষে ছিল; কিছুক্ষণ পরই পেড্রো ভিটের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে অ্যালান মিন্দার নেওয়া আরেকটি দুর্দান্ত শটও পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের পক্ষে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ইয়ান দিওমান্দে ডান প্রান্তে বেশ চমৎকার খেললেও তাঁর তৈরি করা আক্রমণগুলো থেকে দল সুবিধা নিতে পারেনি। নিকোলাস পেপে এবং এলি ওয়াহির আক্রমণগুলোও ইকুয়েডরের ডিফেন্সের কাছে নতি স্বীকার করে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের একই চিত্র বজায় থাকে। খেলার ৫০তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাসিংয়ের পর ভ্যালেন্সিয়ার নেওয়া শটটি এবার পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। তবে বিরতির পর আইভরি কোস্ট ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিতে শুরু করে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা দিওমান্দে বক্সে ঢুকে দুইবার শট নিলেও তা লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে দিওমান্দের বাড়ানো এক চমৎকার ক্রস থেকে ওয়াহির নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় আইভরি কোস্টও। অন্যপ্রান্তে, প্লাতার ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়াহ ফোফানা এবং জোয়েল অর্ডোনেজ একটি ফ্রি-কিক থেকে হেডের মাধ্যমে বল উচিয়ে মারেন।

অবশেষে ম্যাচের ৯০তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই ডেডলক বা অচলাবস্থা ভাঙতে সক্ষম হয় আইভরি কোস্ট। রাইট-ব্যাক উইলফ্রিড সিঙ্গো ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ড্রিবলিং করে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ক্রস করেন। ডি-বক্সের প্রান্তে বলটি পেয়ে অত্যন্ত নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার শটে পোস্টের ভেতরের কোণা দিয়ে বল জালে জড়ান বদলি ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়ালো। এই নাটকীয় গোলের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকান দলটি, অন্যদিকে পুরো ম্যাচে তিন তিনবার পোস্টে বল লাগার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ইকুয়েডরকে।


নির্বাচিত

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের পয়েন্ট ভাগাভাগি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ের পর ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান ও ইউরোপের জায়ান্ট নেদারল্যান্ডস। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যে চার চারটি গোল হবে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করেননি। ম্যাচে দুই দুইবার এগিয়ে গিয়েও জাপানের লড়াকু মানসিকতার কাছে জয় হাতছাড়া হয়েছে ডাচদের। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে থাকা ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল করে জাপানিদের এক মূল্যবান পয়েন্ট এনে দেন উইঙ্গার দাইচি কামাদা।

প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল মাঠের লড়াইয়ে টানটান উত্তেজনা ছড়ায়। বিশেষ করে খেলার ৩৪তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে উইঙ্গার ডনিয়েল মালেনের নেওয়া এক জোরালো হেড জালের ঠিকানা খুঁজে নিচ্ছিল, কিন্তু গোলপোস্টের নিচে অসাধারণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। প্রথমার্ধে জাপানকে নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে রক্ষা করা তাঁর বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভের মধ্যে এটিই ছিল সেরা। প্রথম ৪৫ মিনিটে সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

তবে বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের চিত্রপট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। খেলার ৫১তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা নিখুঁত এক ক্রসে দর্শনীয় হেডে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নেন ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। পোস্টে লেগে জালে জড়ানো বলটি ছিল দেশের হয়ে কোনো বড় টুর্নামেন্টে তাঁর করা প্রথম গোল। তবে ডাচদের এই আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ছয় মিনিট। পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে ৫৭তম মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা দারুণ এক আক্রমণ থেকে কোনাকুনি শটে গোল করে জাপানকে ১-১ সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা।

খেলার ৫১ থেকে ৬৪ মিনিট—মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে দর্শক দেখল তিনটি দারুণ গোল। ৬৪তম মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড ক্রিসেনসিও সামারভিল। ২-১ গোলে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি জাপান। শেষ দিকে ডাচ রক্ষণভাগের ওপর মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেয় তারা। দাইচি কামাদা গোল করে সমতা ফেরালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নেদারল্যান্ডসকে। ২-২ গোলের এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করল দুই দল।


নির্বাচিত

ব্রাজিলের স্মৃতি ফিরিয়ে কুরাসাওকে ৭–১ গোলে উড়িয়ে দিল জার্মানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ফিরে এলো সেই ৭–১ স্মৃতি। এক যুগ আগে ব্রাজিলকে বিধ্বস্ত করা জার্মানি এবার একই ব্যবধানে উড়িয়ে দিল বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওকে। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে গোল উৎসবে মেতে উঠে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ৭–১ ব্যবধানে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। মাত্র ৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। শুরুতে মনে হচ্ছিল, অভিষেক ম্যাচে বড় ধরনের ধাক্কাই অপেক্ষা করছে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের জন্য। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যাচে ফিরেছিল তারা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া কুরাসাও ২১ মিনিটে সমতায় ফেরে। ডান দিক দিয়ে উঠে আসা রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া বক্সে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে পরাস্ত করেন ম্যানুয়েল নয়্যারকে। ঐতিহাসিক সেই গোলের পর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উল্লাস। গোল উদযাপনে রেসলিং তারকা জন সিনার বিখ্যাত ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ ভঙ্গিও করেন কোমেনেনসিয়া।

কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করে জার্মানিকে আবারও এগিয়ে দেন নিকো শ্লটারবেক। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফেলিক্স এনমেচাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–১ করেন কাই হাভার্টজ।

বিরতির পর আরও ভয়ংকর রূপ নেয় জার্মানি। ৫২ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের বাড়ানো বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। এরপর কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ৬৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউন পঞ্চম গোল করেন। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ডেনিজ উনদাভ। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানির ৭–১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ।

একসময় ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে স্বপ্ন দেখানো কুরাসাও শেষ পর্যন্ত জার্মান আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি। বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে নিজেদের শক্তির জানান দিল জার্মানি।


নির্বাচিত

শরিফুলের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের দিনেও শেষ ওয়ানডেতে হারল বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। পেসার শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের অসামান্য বোলিং সত্ত্বেও ২২ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার কুপার কনোলির অনবদ্য সেঞ্চুরিতে শেষ মুহূর্তে পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকেরা। এই হারের ফলে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের, যদিও সিরিজ জয়ের ট্রফিটি আগেই নিশ্চিত করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এদিন মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তীব্র সংকটে পড়ে দল। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের চমৎকার জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের মাঝপথে চোট পেয়ে সাময়িক মাঠ ছাড়লেও পরবর্তীতে পুনরায় ব্যাটিংয়ে ফিরে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। অন্য প্রান্তে তাওহীদ হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের একটি নির্ভরযোগ্য ইনিংস। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দ্রুতগতির অপরাজিত ৫৬ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ৪ ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেওয়া অজি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিশ ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। পরবর্তীতে অ্যালেক্স ক্যারিকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন আহমেদ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন কুপার কনোলি। মাত্র ৫১ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার। পরবর্তীতে ক্যামেরন গ্রিনকে (২৭) সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় সহজ করে দেন তিনি।

ম্যাচের শেষভাগে অলিভার পিক (২৭) ও জাভিয়ার বার্টলেটকে পর পর দুই বলে আউট করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট বা ‘ফাইফার’ শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন শরিফুল ইসলাম। পরবর্তীতে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন তিনি। তবে অন্য প্রান্তের বোলারদের থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় শরিফুলের এই লড়াকু বোলিং শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়। ৩ বল ও ১ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুলের ৬ উইকেট ছাড়াও তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।


নির্বাচিত

banner close