জীবনানন্দ দাশের কবিতার এই লাইন কি পড়েছেন লিওনেল মেসি? না পড়ার সম্ভাবনা শতভাগ। পড়া থাকলে হয়তো মায়ামির সৈকতে দাঁড়িয়ে আটলান্টিকের বিস্তৃত জলরাশিতে তাকিয়ে আনমনে লাইনটি আওড়াতেন। খেলতে খেলতে মেসির ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ার দৃশ্য তো নতুন নয়।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফেরা যাক। সেদিন এমএলএসে টরন্টোর বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। এমনকি মাঠ ছাড়ার আগেই স্বভাববিরুদ্ধভাবে পায়ের শিনগার্ডও (পায়ে থাকা সুরক্ষা গার্ড) খুলে ফেলেন। ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত মেসির দিকে তখন যেন তাকানো যাচ্ছিল না। সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছিল বেঞ্চে বসা মেসির ক্লান্ত মুখের একটি ছবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি ভাইরালও হয়েছিল।
এটুকু তবু মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু কোপা আমেরিকা ফাইনালে যা ঘটল, তা হয়তো কারও প্রত্যাশায় ছিল না। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৬৩ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। এমন চোট মোটেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে মেসি একরকম চোটের সঙ্গেই ঘর করছেন। কিন্তু সেদিন মেসিকে বেঞ্চে বসে শিশুর মতো কাঁদতে দেখা গেল। এভাবে ভেঙে পড়তে দেখা তার ভক্ত-সমর্থকদের তো বটেই, সাধারণ দর্শকদের জন্যও ছিল হৃদয় ভাঙার মতো দৃশ্য।
অথচ ফুটবলে মেসির আর কোনো অপূর্ণতা নেই। অধরা নেই কোনো শিরোপাও, জিতেছেন সম্ভাব্য সবকিছু। কাতার বিশ্বকাপের পর অবসরে চলে গেলেও মেসির অর্জনের ভান্ডার থেকে একটি শিশিরকণাও কেউ কেড়ে নিতে পারত না।
মেসি নিজেই বলেছেন, ফুটবলে তার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। তবু কেন সেই কান্না! কে জানে, সেদিন হারের শঙ্কায়, চোটের বেদনায়, নাকি বিদায়ের চোখরাঙানিতে অঝোরে কেঁদেছিলেন মেসি! কান্নার পেছনে কারণটা যা-ই হোক, এই ঘটনা মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনাকে উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসিকে দেখার যে প্রত্যাশা, সেটি জিইয়ে রাখতেই তাকে নিয়ে এত ভাবনা। মেসির চোটের ইতিহাস অন্তত তেমন কিছুই বলছে।
ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ট্রান্সফারমার্কেট জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মেসি চোটে পড়েছেন ছয়বার। এর মধ্যে কোপার ফাইনালে চোটে পড়ে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ছিলেন মাঠের বাইরে। সর্বশেষ এই চোটে সব মিলিয়ে মেসি মাঠের বাইরে ছিলেন ৫৮ দিন। তবে সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে এর চেয়ে বেশি সময়ের জন্য মেসি মাঠের বাইরে ছিলেন মাত্র দুবার। বয়স ও ফিটনেস বিবেচনায় নিলে মেসির সাম্প্রতিক এই চোট দুশ্চিন্তায় ফেলার মতোই।
চোট কাটিয়ে সেপ্টেম্বরে মেসি মাঠে ফিরলেও সব যে ঠিক হয়ে গেছে, তা নয়। তার চোটের সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, যেকোনো সময় আবারও একই বিপদ হাজির হতে পারে। ফলে মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামি-উভয় দলকেই থাকতে হচ্ছে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়।
আর্জেন্টিনা দলের কথাই ধরা যাক। কোপার ফাইনালের পর মেসিকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার ম্যাচে ছিলেন না মেসি। তবে এটাই হয়তো এখন আর্জেন্টিনা দলের জন্য ‘নিও নরমাল’ হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ দলের প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে খেলাতে হবে অধিনায়ককে। মেসির চোট, ক্লান্তি ও বিশ্রাম-এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কাজটি করতে হবে স্কালোনিকে।
এ ক্ষেত্রে শুধু মেসির জায়গায় আরেকজনকে খেলানো নয়, কৌশল ও স্টাইলেও নতুনত্ব আনতে হবে আর্জেন্টাইন এই কোচকে। সেটি কেমন হতে পারে, সেই ইঙ্গিত সেপ্টেম্বরের ম্যাচ দুটিতেই দেখা গেছে।
স্কালোনির অধীন আর্জেন্টিনা দলে মেসিকে দেখা গেছে মাঠজুড়ে খেলতে। কখনো মাঝমাঠে খেলা তৈরি করেছেন আবার কখনো ডান প্রান্তে সরে গিয়ে আক্রমণে উঠেছেন। পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়েই খেলেছেন মেসি। তবে কলম্বিয়া ও চিলির বিপক্ষে এই স্বাধীনতা উপভোগ করার সুযোগ ছিল না স্কালোনির। ফলে ‘ডাবল নাইন’ হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজকে খেলাতে হয়েছে তাকে। কৌশলগত এই পরিবর্তনের কারণে মাঠজুড়ে আরও কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছিল স্কালোনিকে।
দায়িত্বের পরিবর্তনের কারণে রদ্রিগো দি পলকেও দেখা গিয়েছিল নতুন ভূমিকায়। ফাইনাল থার্ডে অনেক সময় সূত্রধর হয়ে কাজ করতে দেখা গেছে তাঁকে। মূলত অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সঙ্গে মিলে খেলা তৈরি করার কাজটি করতে হয়েছিল দি পলকেই। এই দুই ম্যাচে অবশ্য মেসির পরিবর্তে আক্ষরিক অর্থে দেখা গিয়েছিল নিকোলসা গঞ্জালেসকে। যদিও একেবারেই ভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হয়েছে তাকে এবং সেটা স্বাভাবিকও।
শুধু মেসিই নয়, স্থায়ীভাবে আনহেল দি মারিয়ার অবসরে যাওয়ার কারণেও দল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে স্কালোনিকে। মেসিকে ছাড়া দলকে সামলানো কতটা কঠিন, সেটা জানাতে গিয়ে স্কালোনি বলেছিলেন, ‘তার (মেসির) ওপর নির্ভর না করাটা একটা দলের জন্য কঠিন। কারণ, সে একজন অসাধারণ ফুটবলার।’ পাশাপাশি অবশ্য মেসিকে ছাড়া পথ চলতে শেখার কথাও বলেছিলেন স্কালোনি। যদিও কাজটা যে কঠিন, সেই প্রমাণ কলম্বিয়ার সঙ্গে হেরে গিয়ে দিয়েছে দলটি। এখন মেসিকে সঙ্গে নিয়ে পরের দুই ম্যাচে স্কালোনির কৌশল কেমন হবে, সেটিও অনেক কিছু পরিষ্কার করে দেবে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ১১ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হওয়ার পর ১৬ অক্টোবর বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা।স্কালোনিকে অবশ্য হার-জিত সরিয়ে রেখেই নতুনভাবে দল নিয়ে ভাবতে হবে। মেসির বয়স ৩৭ পেরিয়ে গেছে। ক্যারিয়ারের শেষের শুরু হয়ে গেছে আরও আগে। ২০২৬ বিশ্বকাপ এ মুহূর্তে মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তবে সে পর্যন্ত টিকে থাকতে হলে মেসির সময় ভাগ করে খেলার কোনো বিকল্প নেই। ক্লান্তি ও চোট-দুটিই সারাক্ষণ ঘাড়ের ওপর হুমকি হয়ে আছে।
যেকোনো সময় কোনো একটা যেন পথ আগলে দাঁড়াবে! এই ভয় ও আতঙ্ক সামনের দিনগুলোতে আর্জেন্টিনা দলে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, সেটাও ভাবার বিষয়।
তবে এটুকু নিশ্চিত যে ম্যাচের গুরুত্ব এবং মঞ্চ বিবেচনা করেই মেসিকে খেলাবেন স্কালোনি। এমনকি প্রয়োজন ছাড়া মেসিকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে না–ও দেখা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই মূলত পোস্ট-মেসি যুগে প্রবেশ করবে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যেও আশার খবর হচ্ছে মেসির দুর্দান্ত ছন্দ। ফিট মেসি মাঠে নামলে এখনো সেই আগের মতোই দাপুটে ও অপ্রতিরোধ্য। অন্তত ১০ মিনিটের জন্য হলেও সেই মেসিকে মাঠে দেখাটাই তো ফুটবলপ্রেমীদের আরাধ্য!
দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারল না মিশর। দারুণ লড়াই করা আফ্রিকার দলটি বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে অনেকটা সময় এগিয়ে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলের কারণে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে ম্যাচ।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মিশর। সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ সালাহ। তার নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে বেলজিয়াম। অন্যদিকে শুরুতে মাঠে ছিলেন না রোমেলু লুকাকু।
ম্যাচের ১৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় মিশর। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে বেলজিয়ামের জালে বল জড়ান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মঞ্চে মিশরকে এনে দেয় গুরুত্বপূর্ণ এগিয়ে থাকা।
গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিশর। বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি বেলজিয়াম। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে আক্রমণের গতি বাড়ায় বেলজিয়াম। ৫৩ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। তার নেওয়া ফ্রি-কিক গিয়ে লাগে পোস্টে। অল্পের জন্য সমতা ফেরানো হয়নি ইউরোপের দলটির।
তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা বেশি দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। বদলি হিসেবে মাঠে নামা লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী সেই গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও এক ভুলে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও বড় দলকে আটকে দিয়ে আলোচনায় সৌদি আরব। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে সমতা করেছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। দারুণ লড়াইয়ে পাওয়া এই এক পয়েন্টে পরের পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়েছে সৌদিদের।
ম্যাচের আগে শক্তির বিচারে এগিয়ে ছিল উরুগুয়ে। তবে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে সৌদি আরব। গোছানো আক্রমণ আর শক্ত রক্ষণে চাপে পড়ে উরুগুয়ে।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে প্রথমে হেড করেন হাসান আল তামবাকতি। কিন্তু বল ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। তার হাত ফসকে বল বেরিয়ে এলে সুযোগ কাজে লাগান আবদুলেলাহ আল-আমরি। কাছ থেকে জালে বল পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
বিরতির পর সমতায় ফিরতে আক্রমণের গতি বাড়ায় উরুগুয়ে। ডারউইন নুনিয়েস, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোদের একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় সৌদি রক্ষণকে। তবে দীর্ঘ সময় দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে রাখে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।
৭০ মিনিট পার হওয়ার পরও পিছিয়ে ছিল উরুগুয়ে। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে আরও একটি বড় অঘটনের জন্ম দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব।
তবে শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে সক্ষম হয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে গোল করেন মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। ধারাবাহিক চাপের ফল হিসেবে পাওয়া সেই গোলে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
শেষ সময়ে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দুই দলকে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে সৌদি আরব।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডস নারী দলের বিপক্ষে ৬ উইকেটের চমৎকার এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। গতকাল অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রানের এক ঝোড়ো ও ঝলমলে ইনিংস খেলে তিনি দলের জয় সহজ করে দেন। ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসে এই টাইগ্রেস ওপেনার তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের রহস্য এবং বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।
নেদারল্যান্ডসের দেওয়া ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করার কৌশল নিয়ে জয়িতা বলেন, “আমরা যেহেতু প্রথমে বোলিং করেছি এবং লক্ষ্যটা যখন ১৪০ রান দেখলাম, তখনই মনে হয়েছিল আমাদের খুব ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে হবে। তাই আমি শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। একজন ওপেনার হিসেবে পাওয়ারপ্লের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মূল লক্ষ্যই ছিল প্রথম ছয় ওভারে যত বেশি সম্ভব রান তুলে নেওয়া এবং উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়া।”
ডাচদের বিপক্ষে এই ইনিংসটি ছিল জয়িতার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। তবে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পেলেও নিজের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এই ব্যাটার, কারণ ফিফটি করার ঠিক পরপরই তিনি সাজঘরে ফিরে যান। ম্যাচে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দ্রুত বিদায়ের পর মাঠে তৈরি হওয়া সাময়িক চাপ প্রসঙ্গে জয়িতা বলেন, “জ্যোতি আপু ক্রিজে এসে দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা চাপ অনুভব করেছিলাম, কারণ তিনি আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটার। তবে আমাদের দলের বাকি ব্যাটিং লাইনআপের ওপর আমার গভীর বিশ্বাস ছিল এবং আমি নিশ্চিত ছিলাম যে কেউ না কেউ দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেবে।”
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিজের প্রথম ম্যাচের অনুভূতি প্রকাশ করে এই তরুণ ওপেনার বলেন, এটি তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ হওয়ায় দলের জন্য বিশেষ কিছু করার তীব্র তাগিদ অনুভব করছিলেন। তিনি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আনন্দিত। সামনে কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় তাঁর মূল দায়িত্ব হবে পাওয়ারপ্লের ভালো ব্যবহার করা। বড় দলগুলোর বিপক্ষেও একই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে দেশের হয়ে বড় ইনিংস খেলার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান জুয়াইরিয়া জয়িতা।
চলতি বছর অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দল। আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন দলটি সেবার টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়ে দেশে ফিরে এসেছিল। ওই টুর্নামেন্টের পর দীর্ঘ সময় যুব দলের কোনো মাঠের কার্যক্রম বা ম্যাচ দেখা যায়নি। তবে আগামী ২০২৮ যুব বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারই অংশ হিসেবে ৪৬ জন ক্রিকেটার নিয়ে খুলনায় শুরু হয়েছে যুব দলের বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্প।
২০২৮ সালের আসরের জন্য শক্তিশালী দল গড়ার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে দেশীয় ক্রিকেটে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ সম্পন্ন করেছে বিসিবি এবং পরবর্তীতে ৫০ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেইনিং সেশনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার সেখান থেকে বাছাইকৃত ৪৬ জন ক্রিকেটার নিয়ে গত শনিবার থেকে খুলনায় এই ক্যাম্পের সূচনা হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত। দীর্ঘ দুই সপ্তাহের এই ক্যাম্পে ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পাঁচটি প্রস্তুতিমূলক ওয়ানডে ম্যাচ খেলবেন, যার প্রথম ম্যাচটি আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে।
তবে চলমান এই ক্যাম্পের প্রধান উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কোনো স্থায়ী প্রধান কোচ ছাড়াই অনুশীলন শুরু করতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। গত মাসে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি শেষ হয়েছে। এরপর নতুন প্রধান কোচ কে হবেন, তা নিয়ে বিসিবিতে নানা আলোচনা চলছে। মাঝখানে দেশীয় কয়েকজন কোচের নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন উঠলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলস্বরূপ, কোনো স্থায়ী প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়া ছাড়াই খুলনার এই কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান কোচের চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বোর্ড। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ের একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিসিবির নীতিনির্ধারকেরা। প্রধান কোচ না থাকলেও ক্রিকেটারদের কারিগরি ও শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে চলমান ক্যাম্পে সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ক্রিকেটার ডলার মাহমুদ, মোহাম্মদ সেলিম ও আরশাদ খান। বিসিবির লক্ষ্য, খুব দ্রুত প্রধান কোচ নিয়োগ দিয়ে নতুন দলকে বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করে তোলা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এ চমৎকার জয় দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে সুইডেন। মেক্সিকোর মনতেরে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে সুইডিশরা। ম্যাচের শুরু থেকেই তীব্র আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে তারা। খেলার সপ্তম মিনিটেই এক দূরপাল্লার নিখুঁত শটে সুইডেনকে এগিয়ে নেন ইয়াসিন আয়ারি। তবে তিউনিশীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় গোল করার পর কোনো ধরনের উদযাপনে মেতে ওঠেননি এই মিডফিল্ডার।
সুইডেনের প্রথম গোলের পর ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তারকা ফরোয়ার্ড আলেকজান্দার ইসাক। সতীর্থ ভিক্টর ইয়োকেরেসের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক শট নেন ইসাক, যা তিউনিশিয়ার গোলরক্ষকের ব্যর্থতায় সহজেই জালে জড়িয়ে যায়। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তিউনিশিয়া। খেলার ৪৫তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা এক বল চমৎকার হেডের মাধ্যমে সুইডেনের জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-১ করেন ওমর রেকিক। ফলে এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সুইডেন আবারও ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। খেলার ৫৯তম মিনিটে তিউনিশিয়ার অধিনায়ক ইলযাস সিকিরির এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চমৎকার গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ৮৪তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেই গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান মাটিয়াস সভানবার্গ। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি রেফারি বাতিল করলেও, ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত সেটিকে গোলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আবারও নিজের ফুটবলীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন ইয়াসিন আয়ারি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দুর্দান্ত বাঁকানো শটে তিউনিশিয়ার জালে বল পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি নিশ্চিত করেন তিনি। পুরো ম্যাচে সুইডেনের আক্রমণভাগে ভিক্টর ইয়োকেরেস ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট এবং আলেকজান্দার ইসাক ১টি গোল ও ২টি অ্যাসিস্ট নিয়ে সুইডেনের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন। এই দাপুটে ও অনবদ্য জয়ের সুবাদে প্রথম ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট ও বেশি গোলের ব্যবধানে গ্রুপ ‘এফ’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে জায়গা করে নিল সুইডেন।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তি কোদ দি ভোয়া (আইভরি কোস্ট)। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের একের পর এক আক্রমণ গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসায় যখন ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালো। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের জাদুকরি গোলে অত্যন্ত মূল্যবান ৩ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল আইভরি কোস্ট।
ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরই তুলনামূলক ভালো সুযোগগুলো তৈরি করেছিল। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাদুর মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ায় বল পেয়েও তা বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন ইকুয়েডরের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়া। এরপর জন ইয়েবোহ ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে দারুণ এক শট নিলেও তা গোলপোস্টের বারে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য যেন পুরোপুরি ইকুয়েডরের বিপক্ষে ছিল; কিছুক্ষণ পরই পেড্রো ভিটের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে অ্যালান মিন্দার নেওয়া আরেকটি দুর্দান্ত শটও পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের পক্ষে ১৯ বছর বয়সী তরুণ ইয়ান দিওমান্দে ডান প্রান্তে বেশ চমৎকার খেললেও তাঁর তৈরি করা আক্রমণগুলো থেকে দল সুবিধা নিতে পারেনি। নিকোলাস পেপে এবং এলি ওয়াহির আক্রমণগুলোও ইকুয়েডরের ডিফেন্সের কাছে নতি স্বীকার করে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের একই চিত্র বজায় থাকে। খেলার ৫০তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাসিংয়ের পর ভ্যালেন্সিয়ার নেওয়া শটটি এবার পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। তবে বিরতির পর আইভরি কোস্ট ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিতে শুরু করে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা দিওমান্দে বক্সে ঢুকে দুইবার শট নিলেও তা লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে দিওমান্দের বাড়ানো এক চমৎকার ক্রস থেকে ওয়াহির নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় আইভরি কোস্টও। অন্যপ্রান্তে, প্লাতার ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়াহ ফোফানা এবং জোয়েল অর্ডোনেজ একটি ফ্রি-কিক থেকে হেডের মাধ্যমে বল উচিয়ে মারেন।
অবশেষে ম্যাচের ৯০তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই ডেডলক বা অচলাবস্থা ভাঙতে সক্ষম হয় আইভরি কোস্ট। রাইট-ব্যাক উইলফ্রিড সিঙ্গো ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ড্রিবলিং করে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ক্রস করেন। ডি-বক্সের প্রান্তে বলটি পেয়ে অত্যন্ত নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার শটে পোস্টের ভেতরের কোণা দিয়ে বল জালে জড়ান বদলি ফরোয়ার্ড আমাদ দিয়ালো। এই নাটকীয় গোলের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকান দলটি, অন্যদিকে পুরো ম্যাচে তিন তিনবার পোস্টে বল লাগার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো ইকুয়েডরকে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে রোমাঞ্চকর ও শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ের পর ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান ও ইউরোপের জায়ান্ট নেদারল্যান্ডস। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যে চার চারটি গোল হবে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করেননি। ম্যাচে দুই দুইবার এগিয়ে গিয়েও জাপানের লড়াকু মানসিকতার কাছে জয় হাতছাড়া হয়েছে ডাচদের। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে থাকা ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে গোল করে জাপানিদের এক মূল্যবান পয়েন্ট এনে দেন উইঙ্গার দাইচি কামাদা।
প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল মাঠের লড়াইয়ে টানটান উত্তেজনা ছড়ায়। বিশেষ করে খেলার ৩৪তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে উইঙ্গার ডনিয়েল মালেনের নেওয়া এক জোরালো হেড জালের ঠিকানা খুঁজে নিচ্ছিল, কিন্তু গোলপোস্টের নিচে অসাধারণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি রুখে দেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। প্রথমার্ধে জাপানকে নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে রক্ষা করা তাঁর বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভের মধ্যে এটিই ছিল সেরা। প্রথম ৪৫ মিনিটে সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের চিত্রপট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। খেলার ৫১তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে উড়ে আসা নিখুঁত এক ক্রসে দর্শনীয় হেডে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নেন ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। পোস্টে লেগে জালে জড়ানো বলটি ছিল দেশের হয়ে কোনো বড় টুর্নামেন্টে তাঁর করা প্রথম গোল। তবে ডাচদের এই আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ছয় মিনিট। পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে ৫৭তম মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা দারুণ এক আক্রমণ থেকে কোনাকুনি শটে গোল করে জাপানকে ১-১ সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা।
খেলার ৫১ থেকে ৬৪ মিনিট—মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে দর্শক দেখল তিনটি দারুণ গোল। ৬৪তম মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড ক্রিসেনসিও সামারভিল। ২-১ গোলে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি জাপান। শেষ দিকে ডাচ রক্ষণভাগের ওপর মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেয় তারা। দাইচি কামাদা গোল করে সমতা ফেরালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নেদারল্যান্ডসকে। ২-২ গোলের এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত করল দুই দল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ফিরে এলো সেই ৭–১ স্মৃতি। এক যুগ আগে ব্রাজিলকে বিধ্বস্ত করা জার্মানি এবার একই ব্যবধানে উড়িয়ে দিল বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওকে। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে গোল উৎসবে মেতে উঠে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ৭–১ ব্যবধানে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। মাত্র ৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। শুরুতে মনে হচ্ছিল, অভিষেক ম্যাচে বড় ধরনের ধাক্কাই অপেক্ষা করছে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের জন্য। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যাচে ফিরেছিল তারা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে অংশ নেওয়া কুরাসাও ২১ মিনিটে সমতায় ফেরে। ডান দিক দিয়ে উঠে আসা রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া বক্সে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে পরাস্ত করেন ম্যানুয়েল নয়্যারকে। ঐতিহাসিক সেই গোলের পর গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উল্লাস। গোল উদযাপনে রেসলিং তারকা জন সিনার বিখ্যাত ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ ভঙ্গিও করেন কোমেনেনসিয়া।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করে জার্মানিকে আবারও এগিয়ে দেন নিকো শ্লটারবেক। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফেলিক্স এনমেচাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩–১ করেন কাই হাভার্টজ।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর রূপ নেয় জার্মানি। ৫২ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের বাড়ানো বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। এরপর কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ যেন পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ৬৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউন পঞ্চম গোল করেন। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ডেনিজ উনদাভ। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানির ৭–১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ।
একসময় ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে স্বপ্ন দেখানো কুরাসাও শেষ পর্যন্ত জার্মান আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি। বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে নিজেদের শক্তির জানান দিল জার্মানি।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। পেসার শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটের অসামান্য বোলিং সত্ত্বেও ২২ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার কুপার কনোলির অনবদ্য সেঞ্চুরিতে শেষ মুহূর্তে পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকেরা। এই হারের ফলে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের, যদিও সিরিজ জয়ের ট্রফিটি আগেই নিশ্চিত করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এদিন মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তীব্র সংকটে পড়ে দল। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের চমৎকার জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। ইনিংসের মাঝপথে চোট পেয়ে সাময়িক মাঠ ছাড়লেও পরবর্তীতে পুনরায় ব্যাটিংয়ে ফিরে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। অন্য প্রান্তে তাওহীদ হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের একটি নির্ভরযোগ্য ইনিংস। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দ্রুতগতির অপরাজিত ৫৬ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ৪ ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেওয়া অজি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিশ ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। পরবর্তীতে অ্যালেক্স ক্যারিকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন আহমেদ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন কুপার কনোলি। মাত্র ৫১ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার। পরবর্তীতে ক্যামেরন গ্রিনকে (২৭) সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় সহজ করে দেন তিনি।
ম্যাচের শেষভাগে অলিভার পিক (২৭) ও জাভিয়ার বার্টলেটকে পর পর দুই বলে আউট করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট বা ‘ফাইফার’ শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন শরিফুল ইসলাম। পরবর্তীতে আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন তিনি। তবে অন্য প্রান্তের বোলারদের থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় শরিফুলের এই লড়াকু বোলিং শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়। ৩ বল ও ১ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুলের ৬ উইকেট ছাড়াও তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে জয় দিয়ে নিজেদের নতুন অভিযান শুরু করেছে স্কটল্যান্ড। ‘গ্রুপ সি’-এর প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কোচ স্টিভ ক্লার্কের দল। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম বৈশ্বিক ফুটবল মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা স্কটিশদের জন্য এই প্রত্যাবর্তনের জয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে স্কটল্যান্ড। প্রথমার্ধের শুরুতে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তবে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে দলের জট খোলেন অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। ডান দিক থেকে সতীর্থের পাঠানো চমৎকার এক ক্রস ডি-বক্সের ফাঁকায় পেয়ে যান তিনি। কাছ থেকে নেওয়া তাঁর জোরালো ও নিখুঁত শট হাইতির গোলপোস্টের জাল কাঁপিয়ে দিলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোল হিসেবে প্রমাণিত হয়।
গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্যারিবীয় দল হাইতি। প্রথমার্ধের শেষভাগ এবং দ্বিতীয়ার্ধে তারা অল-আউট ফুটবল খেলে স্কটিশ রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় এবং বেশ কয়েকবার তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। তবে স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে হাইতির প্রতিটি ফরোয়ার্ড আক্রমণ দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন এবং ম্যাচে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানটি সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হন।
এই জয়ের সুবাদে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে গ্রুপ ‘সি’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠে গেল স্কটল্যান্ড। এর আগে এই গ্রুপের অপর ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও মরক্কো ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় স্কটিশরা প্রথম ম্যাচ শেষে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত এই গ্রুপে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের কৌশল ও লক্ষ্যের প্রমাণ দিল ক্লার্কের শিষ্যরা, যা তাদের পরবর্তী পর্বের লড়াইয়ে মানসিকভাবে দারুণ উজ্জীবিত রাখবে।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন। প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়ে সিরিজ আগেই নিশ্চিত করা বাংলাদেশ আজ সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছে।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ওপেনার সৌম্য সরকার মাত্র ২ রান করে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ড্রাইভ করতে গিয়ে বল তার ব্যাটের ইনসাইড এজ হয়ে স্টাম্পে আঘাত হানে। দ্রুত উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। পাওয়ার প্লের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর তানজিদের একটি ছক্কার ওপর ভর করে ৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ২৫ রান। এই জুটি দলের সংগ্রহকে পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছে দিলেও ১০ম ওভারে তানজিদ ব্যক্তিগত ১৯ রানে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ আউট হন।
ম্যাচের ১৫তম ওভারে এসে বাংলাদেশ তাদের তৃতীয় উইকেট হারায়। নাজমুল হোসেন ৫০ বলে ২৪ রান করে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি রিভিউ থেকে বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন তিনি। নাজমুলের বিদায়ের পর তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস জুটি বেঁধে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান একশ ছাড়িয়েছে এবং রানের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০১ রান।
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। চোটের কারণে অধিনায়ক মিরাজের পরিবর্তে দলে ঢুকেছেন আরেক মেহেদী এবং পেসার নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ফেরানো হয়েছে শরীফুল ইসলামকে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার একাদশেও ম্যাথু শর্ট ও নাথান এলিসের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন বেন ডোয়ারশুইস ও অলি পিক। নিয়মিত অধিনায়ক মিরাজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাথায় আঘাত পেলেও বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রান ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে টাইগাররা।
ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নজরকাড়া জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শক্তিশালী তুরস্ককে ২-০ গোলে পরাজিত করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ডি-তে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সকারুরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখেছিল তুরস্ক। ইন্টার মিলানের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হাকান চালহানোগ্লুর নেতৃত্বে মাঝমাঠ থেকে তারা আক্রমণ শাণালেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। প্রথম ২২ মিনিট পর্যন্ত খেলা সমানে সমান চললেও ২৮তম মিনিটে দৃশ্যপট বদলে যায়। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা এক লম্বা পাস বাঁ দিকে নিয়ন্ত্রণে নেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা। তুরস্কের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে দারুণ দক্ষতায় পরাস্ত করে তিনি বল জালে জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে তুরস্কের ডিফেন্ডার বার্দাকচির এক দূরপাল্লার শট প্রায় গোল হয়েই গিয়েছিল, কিন্তু গোলরক্ষকের হাতে লেগে বলটি শেষ মুহূর্তে পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গুলের, কাদিওগ্লু ও ইলমাজ ত্রয়ীর সম্মিলিত আক্রমণও অজি রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও তুরস্ক তাদের আক্রমণের ধার বজায় রাখে। হাকান চালহানোগ্লু ও আর্দা গুলেরের নেওয়া একাধিক ফ্রি-কিক অজি গোলরক্ষক বিচ অত্যন্ত নৈপুণ্যের সাথে প্রতিহত করেন। তুরস্ক যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে উঠে এসে কনর মেটকাফ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর তুরস্ক আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তাদের বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু করল। গ্রুপ ডি-তে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে, অন্যদিকে তুরস্কের পরবর্তী লড়াই হবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। সকারুদের এই জয় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দৌড়ে তাদের এক ধাপ এগিয়ে দিল।
ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় এক চমক দেখাল কাতার। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে গত বিশ্বকাপের আয়োজক দেশটি। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে যখন সুইসরা জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বুয়ালেম খুখির দুর্দান্ত এক হেডে কাতার তাদের প্রথম পয়েন্ট নিশ্চিত করে।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে ব্রিল এমবোলোর পেনাল্টি গোলে লিড নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড। কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা ডি-বক্সের ভেতরে রেমো ফ্রেউলারকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন এবং আবুনাদাকে হলুদ কার্ড দেখান। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি এমবোলো। পুরো ম্যাচ জুড়েই সুইজারল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বলের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে তারা মোট ২৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টিই ছিল লক্ষ্যে। তবে গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা শুরুতেই পেনাল্টি দিয়ে ‘ভিলেন’ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করলেও পরবর্তীতে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
সুইজারল্যান্ড যখন জয়ের অপেক্ষায় ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে ছিল, ঠিক তখনই কাতার এক পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে। লেফট ব্যাক হোমাম আহমেদের নিখুঁত এক ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে জাল কাঁপান ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাক বুয়ালেম খুখি। এই গোলের মাধ্যমে কাতার কেবল হারই এড়ায়নি, বরং বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট অর্জনের গৌরবও অর্জন করল। এর আগের বিশ্বকাপে খেলা তিনটি ম্যাচেই হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিল তারা।
একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে কানাডা ও বসনিয়া ড্র করায় বর্তমানে ‘বি’ গ্রুপের চারটি দলেরই পয়েন্ট সমান ১। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পয়েন্টের মুখ দেখায় কাতারই এখন সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, জয়ের খুব কাছে গিয়েও ড্র করায় সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিনকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে একরাশ হতাশা নিয়ে। শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে এভাবে গোল হজম করা সুইসদের জন্য বড় এক শিক্ষা হিসেবে রয়ে গেল।