নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বিপিএলের ১১তম আসর। এর আগে ১০টি আসর অনুষ্ঠিত হলেও দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের মান নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। প্রতি আসরেই বিপিএল নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবস্থাদৃষ্ট এমন যে, বিপিএল মানে যেন ‘বিতর্ক প্রিমিয়ার লিগ’। ক্রিকেটারদের বেতন নিয়ে সমস্যা যেন প্রতি আসরের একটি স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে দেশের পট-পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তন এসেছে বিসিবিতেও। নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদ এবার ঝেড়ে ফেলতে চান পুরনো সব বিতর্ক। উপহার দিতে চান উপভোগ্য একটি বিতর্কহীন বিপিএল। সেজন্য ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে বিসিবি। এবারের বিপিএলে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে টুর্নামেন্টের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোয় এবং সেটি করা হচ্ছে খোদ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরিকল্পনা অনুযায়ী।
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ও বিপিএল সামনে রেখে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সভাপতি ফারুক আহমেদসহ বোর্ডের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সভা করেছেন, যেখানে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় নতুন বিপিএলের একটা প্রেজেন্টেশনও বিসিবির বিপিএল বিভাগ থেকে ক্রীড়া উপদেষ্টাকে দেখানো হয়েছে।
সভা শেষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিবর্তিত সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিপিএলকে কীভাবে মানুষের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করা যায়, সেটাই আমরা চেষ্টা করছি।’
বিপিএলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিপিএলকে একটা টুর্নামেন্ট হিসেবে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে চাই। বিসিবি অবশ্যই বড় ভূমিকাটা রাখবে। তবে আমার মনে হয়েছে, আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু অলিম্পিকের মতো ইভেন্টের ডিজাইনে সাহায্য করতেন, তিনি সর্বশেষ অলিম্পিকেও বড় একটা ভূমিকা রেখেছেন, বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টে আমরা যদি তার সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার না করি, সেটা দুর্ভাগ্যজনক হবে।’
এই চিন্তা থেকেই ক্রীড়া উপদেষ্টা সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেন বিসিবির কর্মকর্তাদের। যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বিপিএলে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর এবং নতুনত্ব আনার তাৎক্ষণিক কিছু ধারণা দেন। সেসব নিয়েই একটা প্রাথমিক প্রেজেন্টেশন দাঁড় করায় বিসিবির বিপিএল বিভাগ। দুই-তিন দিনের মধ্যে এটা নিয়ে আবারও প্রধান উপদেষ্টার সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে বিসিবি ঠিক করবে চূড়ান্ত পরিকল্পনা।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিপিএলকে কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে আরও স্বীকৃত করা যায় এবং কী কী নতুনত্ব যুক্ত করা যায়, তা থেকে বিসিবি আজ একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। দিন দুয়েকের মধ্যে আমরা আবারও বসব। আমরা চাই এবারের বিপিএলটাকে নতুন করে সাজাতে এবং এবারের বিপিএল যেন আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আসে।’
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট। এর আগে টানা তিনবার (২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪) গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও, এবার শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ‘ই’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখল আফ্রিকান হাতিরা। দলের হয়ে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক বনে যান তারকা ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপে।
ম্যাচের শুরু থেকেই নবাগত কুরাসাওর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে আইভরি কোস্ট। খেলার মাত্র ৭ম মিনিটে ১৯ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা ইয়ান দিয়োমান্দের দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে বল পেয়ে জালে জড়ান পেপে। কুরাসাওর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলয় রুম আগের ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৫টি সেভ করে আলোচনায় থাকলেও, এদিন পেপের ক্ষিপ্রতার সামনে অসহায় হয়ে পড়েন। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আইভরি কোস্ট দ্বিতীয় অর্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে এবং ৬৪তম মিনিটে পেপের দর্শনীয় বাঁ পায়ের শটে ২-০ ব্যবধান নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়ে।
কুরাসাওর জন্য এই ম্যাচটি ছিল নকআউট পর্বে ওঠার শেষ সুযোগ। জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও আইভরি কোস্টের রক্ষণের সামনে তারা বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। হেরে যাওয়ার ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র জনসংখ্যার দেশ হওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়ার সুযোগটি হাতছাড়া করল ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই দেশটি। বিপরীতে, আইভরি কোস্টের জন্য এই জয় ছিল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং জাতীয় গৌরবের নতুন এক অধ্যায়।
জয়ের পর দলের প্রধান তারকা নিকোলাস পেপেকে মাঠ থেকে তুলে নিয়ে বিশ্রাম দেন কোচ, যাতে আগামী ৩০ জুনের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে তিনি পূর্ণ শক্তিতে ফিরতে পারেন। ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর সেই মহালড়াইয়ে আইভরি কোস্টের প্রতিপক্ষ হবে শক্তিশালী ফ্রান্স অথবা নরওয়ে। দীর্ঘ দুই আসর পর বিশ্বকাপে ফিরে আইভরি কোস্টের এমন অনবদ্য পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।
দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট। প্রথমে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হার, এরপর নবাগত কুরাসাওয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। এমন অবস্থায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ইকুয়েডর। অধিকাংশের ধারণা ছিল, এখানেই শেষ হবে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে অসাধারণ লড়াইয়ে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের টিকিট। ২০০৬ সালের পর আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল লাতিন দেশটি।
নিউজার্সির স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় হলুদ জার্সিধারীদের বাঁধভাঙা উল্লাস। ডাগআউট থেকে কোচিং স্টাফরা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন, ফুটবলাররা আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। গ্যালারিজুড়ে হাজারো ইকুয়েডর সমর্থকের উচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। দৃশ্যটা যেন বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দেরই প্রতিচ্ছবি।
অন্যদিকে এই হারেও জার্মানির কোনো ক্ষতি হয়নি। আগের দুই ম্যাচে জয় এবং মুখোমুখি লড়াইয়ের ব্যবধানে তারা আগেই গ্রুপসেরা হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছিল। তবে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে এমন হার জার্মানদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে রইল।
ম্যাচের শুরু থেকেই নাটকীয়তার জন্ম দেয় জার্মানি। দ্বিতীয় মিনিটে আলেকসান্দার পাভলোভিচের বুট ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতের মুখে লাগলেও রেফারি টরি পেনসো কিংবা ভিডিও সহকারী রেফারি কেউই ফাউলের সিদ্ধান্ত দেননি। খেলা চলতে থাকলে পাভলোভিচের পাস থেকে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ বল বাড়ান লিরয় সানের কাছে। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত শটে জার্মানিকে এগিয়ে দেন সানে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার ১৮তম গোল।
তবে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েও একটুও ভেঙে পড়েনি সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দল। নবম মিনিটে মিডফিল্ডে বল কেড়ে নিয়ে পেদ্রো ভিতে পাস বাড়ান নিলসন আঙ্গুলোর দিকে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। বিশ্বকাপে এটি ছিল ইকুয়েডরের প্রথম গোল।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইকুয়েডর। গতি, ছন্দ ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে তারা বারবার জার্মান রক্ষণকে চাপে ফেলে। অন্যদিকে গোল হজমের পর জার্মানিকে অনেকটা সময় রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি একটি পেনাল্টি পায়। কাই হাভার্টজকে ডি-বক্সে ফাউল করা হয়েছে বলে প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতেই লিরয় সানে প্রতিপক্ষকে ফাউল করেছিলেন। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
এরপর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। একের পর এক আক্রমণে তারা জার্মান রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। এননার ভ্যালেন্সিয়া ও মোইসেস কাইসেদো কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি।
অবশেষে ৭৮তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। পেদ্রো ভিতের নেওয়া কর্নার থেকে জন রদ্রিগেসের হেড ফ্লিক পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে আলতো স্পর্শে পরাস্ত করেন গঞ্জালো প্লাতা। তার সেই শীতল মাথার ফিনিশিংয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর। স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৫৫ হাজার দর্শকের বড় একটি অংশ তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে।
বাকি সময়ে জার্মান কোচ একের পর এক পরিবর্তন এনে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেন। শেষ দিকে গোলরক্ষক নয়্যারকেও মাঝমাঠের কাছাকাছি উঠে এসে আক্রমণে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে তোরেস ও কাইসেদোকে নামিয়ে রক্ষণ আরও শক্ত করেন বেকাসেস। শেষ পর্যন্ত ইকুয়েডরের শৃঙ্খলিত রক্ষণ, দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ এবং কৌশলী ফুটবলের সামনে জার্মানির সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) কৃষি অনুষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে “এগ্রিফেস্টিভ্যাল ২০২৬”। ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে এগ্রিফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করেন। দুপুর ১২ টায় উদ্বোধনের পর কৃষি অনুষদ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কৃষি অনুষদে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন।
পরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কৃষি অনুষদের ব্যবহারিক মাঠ সংলগ্ন সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজ ক্যাম্পাস গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম সংলগ্ন মুক্তমঞ্চ এলাকায় কৃষি অনুষদীয় ডিন ও এগ্রিফেস্টিভ্যাল ২০২৬ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং এগ্রিফেস্টিভ্যাল ২০২৬ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব কৃষিতত্ত্ব ও হাওর বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন এর পরিচালনায় ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। স্টলগুলোতে শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রকল্প, কৃষি প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নানা তথ্য ও প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়। অতিথিরা স্টলগুলো পরিদর্শন করে আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিকৃবি ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম বলেন, কৃষি কেবল একটি পেশা নয়, এটি আমাদের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। এগ্রিফেস্টিভ্যালের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি শিক্ষাকে বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ কৃষিবিদদের দক্ষ, মানবিক ও প্রযুক্তিবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর।
পরে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এগ্রিফেস্টিভ্যাল ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
দিনব্যাপী উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেন। উৎসবটি সিকৃবির প্রাণবন্ত শিক্ষা-সংস্কৃতি ও কৃষি উদ্ভাবনের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
এশিয়ার পরাশক্তি কাতারকে হারিয়ে নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২) খেলার জোর সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানের কারণে সরাসরি পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি বসনিয়া। তবে গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় হওয়ায় এখনও দলটির নকআউট পর্বে ওঠার আশা ভালোভাবেই টিকে আছে, আর এর বিপরীতে টানা তিন হারে বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিশ্চিত হলো কাতারের।
‘বি’ গ্রুপ থেকে শেষ ৩২ এবং চূড়ান্ত অবস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে বুধবার দিবাগত রাতে একই সময়ে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। অন্য ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় স্বাগতিক কানাডা। গ্রুপ পর্ব শেষে কানাডা ও বসনিয়ার পয়েন্ট সমান ৪ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবে সরাসরি নকআউটে গেছে কানাডা। তবে ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের মধ্যে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা আটটি দল নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। সেই হিসেবে ১টি জয় ও ১টি ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট পাওয়া বসনিয়ার পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা বসনিয়া প্রথম লিডের দেখা পায় ২৯তম মিনিটে। ১৮ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার কেরিম আলাইবেগোভিচ বক্সের প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া এক শক্তিশালী ও দর্শনীয় শটে কাতারের জাল কাঁপান। এই গোলটির মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখিয়ে নিলেন কেরিম। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ ৩৪ মিনিটে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ব্যবধান দ্বিগুণ করে কাতারের ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রেকের আত্মঘাতী গোলে।
২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় কাতার। ৪২তম মিনিটে কাতারের অভিজ্ঞ তারকা হাসান আল হাইদোস এক চমৎকার গোলে ব্যবধান ২-১ এ কমিয়ে আনেন। তবে বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে কাতার আর কোনো বিশেষ প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে বসনিয়ার এরমিন মাহমিচ আরও একটি গোল করলে স্কোরলাইন ৩-১ হয়। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট ও স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপের দেশটি।
এর আগে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ফুটবল ইতিহাসে মাত্র একবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল—২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ইরানকে হারালেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার তাদের সামনে নকআউটে উঠে নতুন এক ইতিহাস গড়ার হাতছানি রয়েছে। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষ করে বসনিয়াকে এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি গ্রুপগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে; অন্যান্য গ্রুপের সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে থাকলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত হবে বসনিয়ার।
বিশ্বকাপে একটি করে জয় ও ড্র নিয়ে আগেই নকআউট পর্বের দ্বারপ্রান্তে ছিল সুইজারল্যান্ড। এবার বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দেশ কানাডাকে তাদেরই মাটিতে ২-১ গোলে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে সুইসরা। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের এই শেষ ম্যাচটিতে পরাজিত হলেও টেবিলের রানার্সআপ বা দ্বিতীয় দল হিসেবে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পা রেখেছে সহ-আয়োজক কানাডা।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও খেলার দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মাথায় সুইজারল্যান্ডকে প্রথম লিড এনে দেন রুবেন ভার্গাস। তাঁর নেওয়া দারুণ একটি শট কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিমে ক্রেপোকে ফাঁকি দিয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। এরপর ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে সুইস ফুটবলার ব্রিল এমবোলোর ক্রস থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বির নেওয়া শট ক্রেপোর হাত ফসকে জালে ঢুকে পড়লে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।
এই ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ তারকা জোহান মানজাম্বি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোচ তাঁকে প্রথম একাদশে রাখেন। বিশ্বকাপে বদলি নেমে দুই গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের কৃতিত্ব অর্জন করা মানজাম্বি ইতোমধ্যে এবারের আসরের অন্যতম উদীয়মান তরুণ তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অন্যদিকে, গ্রুপের শীর্ষে থেকে নিজ দেশে খেলার সুযোগ ধরে রাখার জন্য এই ম্যাচে কানাডার অন্তত একটি জয় বা ড্রয়ের প্রয়োজন ছিল। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে কানাডার পক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামা প্রোমিস ডেভিড একটি গোল শোধ করে ব্যবধান ২-১ করলেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। এই পরাজয়ের কারণে ঘরের মাঠে পরবর্তী ম্যাচ খেলার সুযোগ হাতছাড়া হলো কানাডার; তাদের পরবর্তী নকআউট ম্যাচটি খেলতে যেতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। আগামী রোববার সেখানে তারা গ্রুপ ‘এ’-এর রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে।
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সুইজারল্যান্ড আগামী ২ জুলাই ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামবে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে অন্য যেকোনো গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দলগুলোর একটি। ভ্যাঙ্কুভারের মাঠে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেওয়া এই জয় সুইস শিবিরকে নকআউটের বড় লড়াইয়ের আগে মানসিকভাবে যথেষ্ঠ আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে নকআউট পর্ব (রাউন্ড অব ৩২) নিশ্চিত করেছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের এই ম্যাচে হাইতির কাছে দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ‘অ্যাটলাস লায়ন’রা। আশরাফ হাকিমি ও ইসমাইল সাইবারিদের এই দাপুটে জয়ে ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর রানার্সআপ হিসেবে পরবর্তী পর্ব নিশ্চিত করল মরক্কো। এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউটে গেছে ব্রাজিল।
ম্যাচে মরক্কোর কঠিন পরীক্ষা নিলেও টুর্নামেন্ট থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া হাইতির হারানোর কিছু ছিল না। ৫২ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফেরা দলটি প্রথমবার পয়েন্ট পাওয়ার স্বপ্নে মরক্কোর ওপর মরণকামড় দেয়। ম্যাচের দশম মিনিটেই লেনি জোসেফ নিকটবর্তী পোস্টে এক দুর্দান্ত ব্যাক-হিল ফ্লিকে মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে পরাস্ত করে হাইতিকে এগিয়ে নেন। এর মাধ্যমে ১৯৭৪ আসরের ইমানুয়েল স্যাননের পর, দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপে হাইতির পক্ষে প্রথম গোলদাতা হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়লেন লেনি।
পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া মরক্কো একের পর এক আক্রমণ চালায় এবং ৩৯তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়। বিলাল আল খানুসের ক্রসে হাইতিয়ান গোলরক্ষক জনি প্ল্যাসাইড হাত ছোঁয়ালেও বল পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি; সেই সুযোগে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে সমতায় ফেরান। তবে মরক্কোর এই উল্লাস স্থায়ী হয় মাত্র চার মিনিট। ৪৩তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দুর্দান্ত শটে জালের উপরের কোণা দিয়ে বল জড়িয়ে হাইতিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন উইলসন ইসিডর। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হাকিমির ক্রস থেকে ইসমায়েল সাইবারি গোল করলে ২-২ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমজমাট হলেও মরক্কোর আক্রমণের ধার ছিল প্রবল। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে মরক্কোর পক্ষে প্রথমবার লিড এনে দেন বদলি ফরোয়ার্ড সৌফিয়ান রাহিমি; তাঁর নেওয়া শটটি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। এরপর ৮৯তম মিনিটে আরেক বদলি খেলোয়াড় গেসিম ইয়াসিন লক্ষ্যভেদ করলে সম্ভাব্য অঘটনের সব আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে ৪-২ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর। পুরো ম্যাচ জুড়ে মরক্কোর আধিপত্যের প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানে—৭০ শতাংশ বল পজেশন রাখার পাশাপাশি মরক্কোর নেওয়া ২২টি শটের ১১টিই ছিল লক্ষ্যে, যেখানে হাইতি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মাত্র ২টি শট।
হাইতির এই লড়াকু পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করলেও টানা তিন হারে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে শূন্য হাতেই বিশ্বকাপ শেষ করতে হলো তাদের। অন্যদিকে, গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় এখন নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে (রাউন্ড অব ৩২) অন্য কোনো গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হতে হবে মরক্কোকে। হাইতির কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে এই স্বস্তির জয় নকআউটের বড় লড়াইয়ের আগে আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো গ্রুপ পর্বে তাদের শতভাগ জয়ের দুর্দান্ত রেকর্ড ধরে রেখেছে। মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘এ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে চেক রিপাবলিককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। এই দাপুটে জয়ের ফলে ৩ ম্যাচের সবকটিতেই জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২ নিশ্চিত করল স্বাগতিকরা। অন্যদিকে, মেক্সিকোর কাছে এই হারের মাধ্যমে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো চেক রিপাবলিককে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই গোলমুখ খুলতে পারেনি। আগেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে নিজেদের শুরুর একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে মাঠে নেমেছিল মেক্সিকো। ফলে প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ তৈরি করতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে ইসরায়েল রেয়েসের একটি ওভারহেড কিক গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। এছাড়া হোর্হে সানচেজের একটি জোরাল শট রুখে দিয়ে চেক রিপাবলিককে প্রথমার্ধে সমতায় রাখেন তাদের গোলরক্ষক মাতেজ কোভার।
তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে ঘুরে দাঁড়ায় মেক্সিকো। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে এক ঘণ্টার খেলা পার হওয়ার আগেই মাত্র ৬ মিনিটের এক ঝড়ো ব্যবধানে ব্যাক-টু-ব্যাক দুই গোল করে চালকের আসনে বসে স্বাগতিকরা। মেক্সিকোর পক্ষে গোল তিনটি করেন মাতেও শাভেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস এবং আলভারো ফিদালগো। দল নিরাপদ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মেক্সিকান কোচ এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন; তিনি ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলেরমো ওচোয়াকে বদলি হিসেবে মাঠে নামিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ করে দেন।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (স্টপেজ টাইমে) মেক্সিকো তাদের তৃতীয় গোলটি করলে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয়। পুরো ম্যাচে চেক রিপাবলিকের ডেনিস ভিসিনস্কি একটি ভালো প্রচেষ্টা চালালেও তা গোলবারের পাশ দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ‘এ’ গ্রুপের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মেক্সিকো আগামী ১ জুলাই শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে অন্য যেকোনো গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দলগুলোর একটি।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা এখন রাউন্ড অব ৩২-এর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
আগামী ২৯ জুন (সোমবার) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনে শেষ ৩২-এর ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। তবে এখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের প্রতিপক্ষ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ব্রাজিল রাউন্ড অব ৩২-এ মুখোমুখি হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের।
বর্তমানে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শেষ হওয়া ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচগুলোর পর।
গ্রুপের শেষ রাউন্ডে একই সময়ে মাঠে নামবে নেদারল্যান্ডস ও তিউনিসিয়া, অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে জাপান ও সুইডেন।
দুই ম্যাচ শেষে ‘এফ’ গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণ হবে। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস ও জাপান সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দুই স্থানে রয়েছে। গোল ব্যবধানেও দুই দল সমান (+৪), তবে বেশি গোল করায় এগিয়ে রয়েছে ডাচরা। অন্যদিকে সুইডেনের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। তিউনিসিয়া ইতোমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত করেছে।
সুইডেনের সমীকরণ
সুইডেন যদি ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে চায়, তাহলে তাদের জাপানকে হারাতে হবে। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসকে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জিততে হবে। সেক্ষেত্রে ডাচরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে এবং সুইডেন রানার্সআপ হিসেবে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে।
জাপানের সমীকরণ
জাপান যদি সুইডেনকে হারায় এবং নেদারল্যান্ডস ড্র করে বা হেরে যায়, তাহলে জাপান গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। তখন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস।
নেদারল্যান্ডসের সমীকরণ
নেদারল্যান্ডস জিতলে এবং জাপান ড্র করলে, জাপান রানার্সআপ হয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে। তবে দুই দলই একই ধরনের ফল করলে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানের হিসাব সামনে আসবে।
নেদারল্যান্ডস ও জাপান প্রথম ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করেছিল। ফলে হেড-টু-হেডে কোনো দলই এগিয়ে নয়। পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান সমান থাকলে মোট গোলসংখ্যা বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে সেই হিসেবে নেদারল্যান্ডস ৭ গোল করে জাপানের ৬ গোলের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
সম্ভাব্য সমীকরণ এক নজরে
এখন দেখার বিষয়, ‘এফ’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের নাটকীয়তা শেষে ব্রাজিলের সামনে দাঁড়ায় কোন প্রতিপক্ষ।
মেক্সিকোর মন্টারি স্টেডিয়ামে তলানিতে থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে এক নতুন রূপকথা লিখেছে। এই স্মরণীয় জয়ের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বা শেষ ৩২-এ নিজেদের স্থান নিশ্চিত করল আফ্রিকান দেশটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই শক্তির বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়া মাঠের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করলেও গোল পেতে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াকু ফুটবলের সামনে কোরিয়ানদের সব আক্রমণই ভেস্তে যায়। দলের পক্ষে ম্যাচের একমাত্র ও মহামূল্যবান জয়সূচক গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন আফ্রিকান গোলরক্ষক রোয়েন উইলিয়ামস। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি কোরিয়ান স্ট্রাইকারদের সামনে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, যার অসামান্য নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়।
এই রোমাঞ্চকর ফলাফলের পর দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে এবং পরবর্তী রাউন্ডে তারা শক্তিশালী কানাডার মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, আগে একটি ম্যাচ জেতায় ৩ পয়েন্ট থাকলেও গ্রুপের তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর বা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে।
নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রকে আবার মাঠে পেতে ব্রাজিলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৭৮১ দিন। চোটজর্জর সময় পেরিয়ে তার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অবশ্য মাঠের আলোটা কাড়লেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহা। তাদের গোলেই স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল সেলেসাওরা। মাত্র সপ্তম মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাককেনার ভুলে পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি তিনি। স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গুইমারেসের বাড়ানো দারুণ ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনি। চলতি বিশ্বকাপে সেটি ছিল তার চতুর্থ গোল।
প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়া স্কটল্যান্ড বিরতির পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণও চালায় তারা। তবে ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার হয়ে ওঠেন তাদের সবচেয়ে বড় বাধা। গোললাইন থেকে একাধিক বল ফিরিয়ে স্কটিশদের হতাশ করেন তিনি। উল্টো ৬০তম মিনিটে আবারও গোল হজম করে বসে স্কটল্যান্ড। ব্রুনো গুইমারেসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনহা। গোলের পর স্বভাবসুলভ সার্ফার ভঙ্গির উদযাপনে মেতে ওঠেন তিনি, যোগ দেন লুকাস পাকেতাও।
অনেক দিন ধরে নির্ভরযোগ্য নাম্বার নাইন খুঁজতে থাকা ব্রাজিলের জন্য কুনহা যেন হয়ে উঠছেন সেই কাঙ্ক্ষিত সমাধান। আগের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত ব্রাজিলের। তবে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর নেইমারের প্রত্যাবর্তন, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় এবং গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে ওঠা, সব মিলিয়ে সন্তুষ্ট থাকারই কথা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণ সামলে অ্যালিসনের দুর্দান্ত সেভগুলো ব্রাজিলকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। স্কটিশ তারকা স্কট ম্যাকটোমিনের একাধিক প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছেন তিনি।
পরিসংখ্যানেও ছিল ব্রাজিলের আধিপত্য। প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় আনচেলত্তির দল। ম্যাচে তারা মোট ২১টি শট নেয়, যার ৮টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে স্কটল্যান্ড ৯টি শটের ৫টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করেছে ব্রাজিল। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে বিদায় নিয়েছে স্কটল্যান্ড।
তবে এই জয়ের আরেকটি বড় গল্প ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের একমাত্র গোল, হাইতির বিপক্ষে আরেকটি গোল, আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল, সব মিলিয়ে তিন ম্যাচ শেষে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে একটি বিশেষ পরিসংখ্যান আছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে যে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার গোল করেছেন, শেষ পর্যন্ত তার হাতেই উঠেছে বিশ্বকাপের ট্রফি। ১৯৭০ সালে জাইরজিনিও, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদো নাজারিও ও রিভালদো এই কীর্তি গড়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে প্রতিবারই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। সেই ইতিহাসই এবার নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে চার গোল করা মাত্র চতুর্থ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবেও ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন তিনি। তার আগে এই কীর্তি ছিল জাইরজিনিও, রোনালদো এবং নেইমারের। ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাইরজিনিও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং ইংল্যান্ড ও রোমানিয়ার বিপক্ষে একটি করে গোল করেছিলেন। ২০০২ সালে রোনালদো তুরস্ক ও চীনের বিপক্ষে একটি করে এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি গোল করেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে নেইমার ক্রোয়েশিয়া ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে দুটি করে গোল করলেও মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল পাননি।
এখন ভিনিসিয়ুসের সামনে আরও বড় মঞ্চ। গ্রুপ পর্বে চার গোল করলেও জাইরজিনিও সেই বিশ্বকাপ শেষ করেছিলেন সাত গোল নিয়ে, আর ২০০২ সালে আট গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন রোনালদো। ফলে নকআউট পর্বে নিজের এই দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখতে পারলে শুধু কিংবদন্তিদের পাশে নাম লেখানোই নয়, গোলসংখ্যায় তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ আছে ভিনিসিয়ুসের সামনে।
নেইমারের প্রত্যাবর্তনের আনন্দ, কুনহার গোলের ধারাবাহিকতা, অ্যালিসনের নির্ভরতা আর ভিনিসিয়ুসের টানা গোল, সব মিলিয়ে ব্রাজিলের শিবিরে এখন নতুন আশার আলো। ইতিহাস যদি আবারও একই পথে হাঁটে, তবে ভিনিসিয়ুসের এই ধারাবাহিকতা সেলেসাওদের ‘হেক্সা’ স্বপ্নকে আরও জোরালো করেই তুলছে।
ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘কে’ গ্রুপের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে প্রথম দল হিসেবে এই গ্রুপ থেকে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল কলম্বিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর জমাট রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙতে পারেনি লাতিন আমেরিকার দলটি। উল্টো ম্যাচের ৮ম মিনিটে দানিয়েল মুনিয়োজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ডদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। অবশেষে ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানিয়েল মুনিয়োজ। ডান প্রান্ত থেকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের চমৎকার এক বিল্ড-আপে রক্ষণভাগ চিরে বক্সের ভেতর মাপা ক্রস বাড়িয়েছিলেন দলের এক উইঙ্গার। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের খুব কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার।
মুনিয়োজের গোলের পর ম্যাচের ৮০ মিনিটে তারকা ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজ আরও একটি দর্শনীয় গোল করলেও সেটিও অফসাইডের ফাঁদে পড়ে বাতিল হয়ে যায়। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া। ২ ম্যাচে ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের টেবিলের শীর্ষে এখন কলম্বিয়া। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পর্তুগাল দ্বিতীয়, ১ পয়েন্ট নিয়ে কঙ্গো তৃতীয় এবং কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টেবিলের তলানিতে রয়েছে উজবেকিস্তান।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে এক অদ্ভুত ও রসাত্মক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। খাতায়-কলমে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ইংলিশরা এই ম্যাচে আফ্রিকার দলটিকে হারাতে পারেনি, এমনকি দলের প্রধান তারকা হ্যারি কেইনও ছিলেন সম্পূর্ণ গোলহীন। থ্রি লায়ন্সদের এমন নিষ্ক্রিয়তার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ক্রীড়া মহলে আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী কালো জাদু বা ‘জুজু’ চর্চা নিয়ে তুমুল আলোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’-এর কাছে ম্যাচ শুরুর আগে দেওয়া ঘানার এক তান্ত্রিক ওঝা নানা কিয়াঙ্কু বোন্সামের একটি অদ্ভুত দাবি। তিনি ম্যাচ শুরুর আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের ওপর তিনি এমন এক বিশেষ কালো জাদুর অভিশাপ দিয়েছেন, যার প্রভাবে কেইন এই ম্যাচে কোনোভাবেই গোলের দেখা পাবেন না। পরবর্তীতে ম্যাচের মাঠে হ্যারি কেইনের একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করার ঘটনা এই দাবিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল করে তোলে।
ম্যাচটিতে ইংল্যান্ড একের পর এক আক্রমণ করলেও ঘানার জমাট রক্ষণভাগের কারণে গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের শেষভাগে নিকো ও’রেইলির একটি নিশ্চিত হেড গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হওয়ার পর সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে একদম শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে। হ্যারি কেইন গোলপোস্টের একদম সামনে অত্যন্ত সহজ ও ফাঁকা এক সুযোগ পেয়েও বল অবিশ্বাস্যভাবে পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে মারেন। কেইনের মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের এমন সহজ মিসের পর গ্যালারিতে ঘানার সমর্থকদের সাদা পাউডার ছিটিয়ে প্রার্থনা করার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিমের বন্যা বয়ে যায় এবং সমর্থকরা রসিকতা করে বলতে থাকেন যে ঘানার ওঝার কালো জাদু সত্যিই কাজ করেছে। ম্যাচ শেষে এই অতিপ্রাকৃতিক ও অদ্ভুত আবহকে অবশ্য হাসিমুখে এবং রসিকতার ছলেই মেনে নিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলাররা। দলের তারকা মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে বলেন, “আমরা শট, হেডার, সেট-পিস—সব কিছু দিয়েই চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনোটিই আজ জালে জড়ায়নি। কে জানে, হয়তো ঘানার কালো জাদুই আজ মাঠে কাজ করছিল!”
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আমেরিকান সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোদ ফিফা প্রধান।
সাক্ষাৎকারে জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প)-এর সঙ্গে থাকব, ফাইনাল উপভোগ করব এবং অবশ্যই একসঙ্গে বিজয়ীর হাতে ট্রফি তুলে দেব। আমরা সব সময়ই একসঙ্গে আছি।” তাঁর এই বক্তব্যের একটি অংশ পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত খেলাধুলা প্রীতির কথা সবার জানা থাকলেও এই টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচেই তাঁকে এখন পর্যন্ত মাঠে দেখা যায়নি। ফলে ফাইনালের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা ছিল। ইনফ্যান্তিনোর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। এর আগেও এই দুই ব্যক্তিত্বকে বড় কোনো আসরের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে একসাথে দেখা গেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাঁরা যৌথভাবে পুরস্কার প্রদান করেছিলেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেননি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া যজ্ঞের সমাপনী দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরব উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।