ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শুরু হতে না হতেই শুরু হয়ে গেছে শীর্ষস্থানের লড়াই। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি আর লিভারপুলের মাঝে চলছে ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতা। এখনো অবশ্য শীর্ষে আছে মোহামেদ সালাহর লিভারপুলই। সিটির কাছে জায়গা হারালেও সেটা মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানেই আবার উদ্ধার করেছে।
লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে গতকাল রাতে প্রিমিয়ার লিগে চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্না স্লটের দল। মোহামেদ সালাহর গোলে লিভারপুল এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা টানেন নিকোলাস জ্যাকসন। পরে স্বাগতিকদের জয়সূচক গোলটি করেন কার্টিস জোন্স। ৮ ম্যাচে ৭ জয় আর ১ হারে ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে লিভারপুল। সমান ম্যাচে ৬ জয় আর ২ ড্রয়ে ২০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে সিটি। এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে মাঠে নামে ম্যানসেচস্টার সিটি। শুরুতেই পিছিয়ে পড়া সিটি শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে। ৩৩ মিনিটে গাভারদিওল সমতা ফেরানোর পরে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৯৫তম মিনিট) জয়সূচক গোলটি করেন স্টোনস। এ জয়ে কিছু সময়ের জন্য পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যায় সিটি। তবে নামতে হয় লিভারপুল চেলসিকে হারানোয়।
লিভারপুল আর চেলসির লড়াইয়ে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কেউ। একটু একটু করে চাপ বাড়ানো লিভারপুল ২৯তম মিনিটে সালাহর সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায়। বক্সে কার্টিস জোন্সকে চেলসির ডিফেন্ডার লিভাই কলউইল ফাউল করলে পেনাল্টিটি পায় স্বাগতিকরা। নিজের সাবেক দল চেলসির বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে ১৪ ম্যাচ খেলে এই নিয়ে পাঁচ গোল করলেন সালাহ। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে তার মোট গোল হলো ১৬২টি। বিরতির আগে বক্সে ইংলিশ মিডফিল্ডার জোন্স গোলরক্ষক রবের্ত সানচেসের বাধায় পড়ে গেলে ফের পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ভিএআর মনিটরে দেখে এবার সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটেই সমতায় ফেরে চেলসি। কাইসাদোর থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সেনেগালের জ্যাকসন। শুরুতে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তুললেও ভিএআরে পাল্টায় সিদ্ধান্ত।
লক্ষ্যে এটাই ছিল চেলসির প্রথম শট। তাদের সমতায় ফেরার স্বস্তি অবশ্য তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। সালাহর ক্রস বক্সে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, দ্বিতীয় ছোঁয়ায় কোনাকুনি শটে লিভারপুলকে ফের এগিয়ে নেন জোন্স। বাকিটা সময় ব্যবধান ধরে রেখে লিগে টানা চতুর্থ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। আট ম্যাচে সাত জয়ে তাদের পয়েন্ট ২১।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুইডেনের রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সুইডিশদের গোলবন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে রোনাল্ড কোম্যানের দল। প্রথমার্ধে তরুণ স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি এবং দ্বিতীয়ার্ধে উইঙ্গার কোডি গাকপোর অনবদ্য জোড়া গোলের সুবাদে ডাচরা এক দাপুটে ফুটবল প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাঠ ছাড়ে।
খেলার শুরু থেকেই সুইডিশ ডিফেন্স লাইনের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ডাচ ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় তারা; লিভারপুল উইঙ্গার কোডি গাকপোর একটি চমৎকার মাপা পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল উৎসবের খাতা খোলেন আয়াক্সের তরুণ স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রবি। ডাচদের এই শুরুর আক্রমণাত্মক ঝড় বজায় রেখে খেলার ১৭তম মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রবি। এবার ডান প্রান্ত থেকে তাঁকে চমৎকারভাবে বলের জোগান দেন রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিস। প্রথমার্ধে এই ২-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় নেদারল্যান্ডস।
বিরতির পর মাঠে নেমে সুইডেনের জালে গোল দেওয়ার ধারা অব্যাহত রাখে অরেঞ্জ আর্মিরা। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতে না হতেই সুইডেনের জালে দলের তৃতীয় গোলটি জড়ান কোডি গাকপো। এরপর ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে সুইডেনের কফিনে চতুর্থ পেরেকটি ঠুকে দেন সেই গাকপোই। নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি ডাচদের ৪-০ গোলের বিশাল লিড এনে দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। চার গোল হজম করে কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে সুইডেনের হয়ে একটি সান্ত্বনাসূচক গোল শোধ করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি ইলাঙ্গা। গোল শোধের পর সুইডিশরা আরও বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও নেদারল্যান্ডসের জমাট ডিফেন্সের সামনে গিয়ে ব্যর্থ হয়।
খেলার একদম শেষ মুহূর্তে আরেকটি চমৎকার গোল আদায় করে নেয় নেদারল্যান্ডস, যার ফলে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় কোম্যানের দলের। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জাপানের সাথে ২-২ গোলে নাটকীয় ড্র করে পয়েন্ট হারানো নেদারল্যান্ডস এই বড় জয়ের মাধ্যমে কেবল ৩ পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং গোল ব্যবধানে নিজেদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানে যাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করে ফেলল। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়ানো সুইডেনকে আজ ডাচদের এই গতিময় ফুটবল আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে পুরো ৯০ মিনিট কেবল চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল জাপান ও তিউনিসিয়ার মধ্যকার লড়াইটি। ১৯৩০ সালে মেক্সিকো-ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়ামের হাত ধরে যে মহাযজ্ঞের শুরু হয়েছিল, আজ সেই বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। তেরোটি দল নিয়ে শুরু হওয়া সেই টুর্নামেন্ট এখন ৪৮ দলের এক বিশাল আসরে রূপ নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল এশিয়ান পরাশক্তি জাপান।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর তিউনিসিয়াকে গুছিয়ে ওঠার কোনো সুযোগই দেয়নি নীল সামুরাইরা। খেলার মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় দাইচি কামাদা এক দুর্দান্ত শটে দলকে লিড এনে দেন। শুরুর এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৩১তম মিনিটে ফের গোল উৎসবে মেতে ওঠে জাপান। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে লক্ষ্যভেদ করেন আয়াসে উয়েদা। প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ‘এফ’ গ্রুপের দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধেও জাপানের আক্রমণের ধার কমেনি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। ৬৯তম মিনিটে জুনিয়া ইতোর গোলে জয়ের পথ আরও সুগম করে নেয় জাপান। তবে তিউনিসিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন আয়াসে উয়েদা। ৮৩তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করে তিউনিসিয়ার রক্ষণকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেন তিনি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাজারতম ম্যাচ হিসেবে এই লড়াইটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছিল। সেই বিশেষ ক্ষণে জাপানি ফুটবলারদের এমন দৃষ্টিনন্দন ও দাপুটে ফুটবল পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। শেষ পর্যন্ত একতরফা লড়াইয়ে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আইভরি কোস্টের দাপটেই যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। শুরুর ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই পিছিয়ে পড়ে ইউরোপের দলটি। তবে ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই আবারও প্রমাণ করল জার্মানরা। বিরতির পর বদলে যাওয়া এক জার্মানি দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ডেনিজ উন্দাভের জোড়া গোলে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে দ্বিতীয় পর্ব।
এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইভরি কোস্ট। ফলে টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সমানতালে লড়াই করলেও প্রথমার্ধে আক্রমণে বেশি ধার দেখায় আইভরি কোস্ট। ৩০তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে জার্মান রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বাম প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণে ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিখুঁত শটে জাল কাঁপান ফ্রাঙ্ক কেসি। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট।
অবশ্য গোল হজমের আগে ও পরে দুবার বল জালে জড়িয়েও হতাশ হতে হয় জার্মানিকে। ২১তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোল করলেও ফাউলের অভিযোগে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় সেটি বাতিল করা হয়। বিরতির ঠিক আগে লেরয় সানের নিচু ক্রস থেকে কাই হাভার্টজ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোলও টেকেনি। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আইভরি কোস্ট।
দ্বিতীয়ার্ধে পুরো চিত্রটাই বদলে দেন জার্মান কোচ নাগেলসমান। ৬১তম মিনিটে একসঙ্গে তিন বদলি নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনেন তিনি, আর সেখান থেকেই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় জার্মানি। ৬৮তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে নাদিয়েম আমিরির বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে দারুণ ভলিতে সমতায় ফেরান বদলি হিসেবে নামা ডেনিজ উন্দাভ।
সমতায় ফেরার পর জার্মানদের চাপ আরও বাড়তে থাকে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের রক্ষণে দেখা দেয় অস্থিরতা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের বড় ভুলের সুযোগ নেন উন্দাভ। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই পূর্ণতা পায় জার্মানির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপের দলটি।
জয়ের পাশাপাশি এই ম্যাচে জার্মানি দেখিয়েছে তাদের মানসিক দৃঢ়তাও। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া, দুই গোল বাতিল হওয়া, প্রতিপক্ষের চাপ সামলানো, সবকিছুর পরও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের ছন্দে ফিরে এসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া নাগেলসমানের দলের সামর্থ্যেরই প্রমাণ। আর সেই শক্তিতেই বিশ্বমঞ্চে দ্বিতীয় পর্বের টিকিট কেটে ফেলল জার্মানরা।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার মরণপণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল প্যারাগুয়ে ও তুরস্ক। প্রথম ম্যাচে উভয় দলই পরাজয়ের স্বাদ পাওয়ায় এই ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। মাঠের সেই উত্তেজনাকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১০ জনের দল নিয়ে ১-০ গোলের নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে, এই হারের ফলে আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল তুরস্কের।
ম্যাচের শুরুতেই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে এক অভাবনীয় মুহূর্ত। খেলার মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক দর্শনীয় শটে তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরকান চেকিরকে পরাস্ত করে গোল উৎসবের সূচনা করেন প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালার্জা। এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের এক নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র ঘণ্টা চারেক আগে ইসমাইল সাইবারির গড়া রেকর্ডটি একদিনও স্থায়ী হতে দেননি গালার্জা। পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া তুরস্কের একটি প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে আক্ষেপে পোড়ে তুর্কি সমর্থকরা। মের্ত মুলদুরের নেওয়া সেই হেডটি প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু ভাগ্য এদিন তুরস্কের সহায় ছিল না।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে এবং প্যারাগুয়ের কোচিং স্টাফের একজনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে সবচেয়ে বড় নাটকীয়তার সৃষ্টি হয় প্যারাগুয়ের স্ট্রাইকার পিত্তাকে ফাউল করার পর। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। সেই জটলার মধ্যেই মুখ ঢেকে তুরস্কের এক খেলোয়াড়কে কিছু মন্তব্য করেন প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন। ভিএআর (VAR) পরীক্ষা শেষে রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। মুখ ঢেকে কথা বলার বিপরীতে ফিফার প্রবর্তিত নতুন কঠোর নিয়মে এটিই বিশ্বকাপের প্রথম লাল কার্ডের ঘটনা। বিরতির বাঁশি বাজার পরেও দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে দেখা যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে এক জন কম নিয়েও প্যারাগুয়ে তাদের রক্ষণ ও আক্রমণ ধরে রাখার চেষ্টা করে। এনসিসো ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও ম্যাচের শেষ বাঁশি পর্যন্ত লিড ধরে রাখে দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটি। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মেরিহ দেমিরালের একটি হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সমতায় ফেরার শেষ আশাটুকুও মিলিয়ে যায় তুরস্কের। মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হতাশ দেমিরাল। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে, আর বিদায়ের বিষাদ নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয় তুরস্ককে।
বিগত দুই ম্যাচ ধরে যার অভাব তীব্রভাবে অনুভব করছে ব্রাজিল ফুটবল দল ও পুরো বিশ্বকাপ আসর, সেই নেইমারের মাঠে ফেরার সময় অবশেষে ঘনিয়ে এসেছে। ইনজুরি জয় করে ব্রাজিলের এই প্রাণভোমরা সবুজ গালিচায় ফিরতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয়ের পর দলের প্রধান তারকা নেইমারের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানান ব্রাজিলীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেইমারকে একাদশে দেখা যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ইতালীয় মাস্টারমাইন্ড আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন শনিবার এককভাবে ঘাম ঝরাবেন নেইমার। এরপর সোমবার থেকে মূল দলের সাথে পুরোদমে অনুশীলনে যোগ দেবেন তিনি এবং স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য নিজেকে ফিট করে তুলবেন। মূলত ডান পায়ের কাফ পেশির চোটের কারণে প্রায় মাসখানেক ফুটবলের বাইরে রয়েছেন এই ব্রাজিলীয় মহাতারকা। সান্তোসের জার্সি গায়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ঘরোয়া লিগের ম্যাচে তিনি এই ইনজুরিতে পড়েছিলেন। এরপর থেকেই নিবিড় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ কারণেই ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে দলের সঙ্গী হতে পারেননি তিনি; বরং নিউ জার্সিতে দলের ক্যাম্পেই অবস্থান করছিলেন।
হাইতির বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রাক্কালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নেইমারের কঠোর অনুশীলনের কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, নিউ জার্সির দ্য রিজ হোটেল ও কলাম্বিয়া পার্ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিজের ফিটনেস পুনরুদ্ধারে নিরলস কাজ করছেন তিনি। ফিটনেস কোচ ক্রিশ্চিয়ানো নুনেস ও মিনো ফুলকোর তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন দুই ধাপে চলছে তার এই কসরত। তবে তার ফেরা নিয়ে কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করেই তাকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা কোচের। বর্তমানে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে সেলেসাওরা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করতে পারলেই পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হবে তাদের, আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে ফিরতে পারেন নেইমার।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছেন মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে চলতি আসরের দ্রুততম গোলের রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন এই মরক্কান তারকা। তার গোলে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মরক্কো।
শনিবার ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ফক্সবোরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পরপরই আক্রমণে যায় মরক্কো। মাত্র ৭১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সাইবারি। রেফারির শুরুর বাঁশির ১৪ সেকেন্ড পর বল পায় মরক্কো, এরপর দ্রুত আক্রমণ গড়ে স্কটিশ রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে তারা। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো উড়ন্ত বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে পরাস্ত করেন সাইবারি।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলদাতা হয়ে গেলেন মরক্কোর এই আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড়। একই সঙ্গে আফ্রিকার দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মিশরের মোহাম্মদ সালাহ প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও দলের হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন সাইবারি। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ২১ মিনিটে দারুণ এক ভলিতে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচ ১-১ সমতায় শেষ হয়। এবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতেই গোল করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দিলেন এই তারকা।
প্রথমার্ধে মরক্কো শুধু গোলেই এগিয়ে ছিল না, খেলায়ও ছিল পরিষ্কার আধিপত্য। বল দখলে তাদের ছিল ৬২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ। ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা মরক্কো স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপপর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। সাইবারির দুরন্ত ফর্ম সেই লক্ষ্য পূরণে বড় ভরসা হয়ে উঠছে মরক্কোর জন্য।
তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ ইনজুরিতে থাকলেও থেমে থাকেনি যুক্তরাষ্ট্র। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্বাগতিকদের অন্যতম এই দলটি টানা দ্বিতীয় জয়ে নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। শনিবার অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অব থার্টি টুতে জায়গা করে নিয়েছে মার্কিনরা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম আসরের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ১৯৯৪ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে তারা সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে পরের পর্বে উঠেছিল। তবে সেবার শেষ ষোলোতেই বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলের কাছে হেরে।
এবার অবশ্য শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। বাঁ দিক দিয়ে ফোলারিন বালোগুনের দারুণ এক আক্রমণ থেকে আসে গোলটি। বালোগুন রিকার্ডো পেপির উদ্দেশে বল বাড়ালেও, তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্গেসের গায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে। আত্মঘাতী সেই গোলেই লিড পায় যুক্তরাষ্ট্র।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মার্কিনরা। ৪৩ মিনিটে সেটপিস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে সার্জিনো ডেস্টের ডিফ্লেক্টেড শট হেডে জালে পাঠান ২১ বছর বয়সী অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। পরে ভিডিও রিভিউয়ে গোলটি নিশ্চিত করা হয়। বিশ্বকাপ মঞ্চে এটি ছিল ফ্রিম্যানের প্রথম গোল, আর সেটিই যুক্তরাষ্ট্রকে আরও স্বস্তি এনে দেয়।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে স্বাগতিকরা। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে তারা শুধু নকআউট নিশ্চিত করেনি, গ্রুপপর্বেও শক্ত বার্তা দিয়েছে। এর আগে আরেক স্বাগতিক মেক্সিকোও প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সবার আগে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছিল। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল যুক্তরাষ্ট্রও।
পুলিসিচকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের এই সাফল্য দলটির গভীরতা, আত্মবিশ্বাস এবং সামগ্রিক শক্তিরই প্রমাণ। সামনে নকআউট পর্বে তাদের আসল পরীক্ষা অপেক্ষা করছে, তবে আপাতত টানা দুই জয়ে দারুণ স্বস্তিতে মার্কিন শিবির।
মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনায় পড়েছিল ব্রাজিল। তবে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নেমে সেই সমালোচনার জবাবই দিল সেলেসাওরা। ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোল আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলের সুবাদে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। ২৩ মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ম্যাথিউস কুনহা। গুইমারেসের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেওয়া শট হাইতির গোলরক্ষক পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। ফিরতি বলে সহজেই জালে বল পাঠান কুনহা।
এর ১৩ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাস পেয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কুনহা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের তালিকায় নাম লেখান ভিনিসিয়ুস নিজেও। পাকেতার বাড়ানো বল ধরে গতিতে বক্সে ঢুকে দারুণ প্লেসিং শটে হাইতির জালে বল জড়ান তিনি। তাতেই বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় জয়ের আশা জেগেছিল ব্রাজিল সমর্থকদের। তবে একাধিক সুযোগ নষ্ট, দুটি গোল বাতিল এবং পোস্টে বল লাগায় ব্যবধান আর বাড়েনি। তা সত্ত্বেও জয় পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি সেলেসাওদের। যদিও স্কোরলাইন একতরফা, দ্বিতীয়ার্ধে হাইতিও বেশ কয়েকবার ব্রাজিলের রক্ষণে চাপ তৈরি করে। ব্রাজিলের গোলরক্ষক কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ ঠেকিয়েছেন, একটি গোললাইন সেভও করতে হয়েছে দলটিকে।
দুই ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের পয়েন্ট এখন ৪। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোলব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে তারা। মরক্কোও দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পেয়েছে, তবে গোলব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষও স্কটল্যান্ড, ফলে গ্রুপসেরার লড়াই জমে উঠছে আরও।
এই জয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তিও গড়েছে ব্রাজিল। হাইতির বিপক্ষে তিন গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে তারা। এখন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ২৪১, যা জার্মানির ২৩৯ গোলকে ছাড়িয়ে গেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনার গোলসংখ্যা ১৫৫।
সমালোচনার জবাব, গ্রুপের শীর্ষস্থান এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের গোলের রেকর্ড পুনর্দখল, সব মিলিয়ে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য স্বস্তি আর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ম্যাচ হয়ে থাকল।
জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ঘোষণা করেছেন যে, চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ২০২৪ ইউরোর পর একবার অবসর নিলেও কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অনুরোধে দলে ফিরেছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই তারকা। তবে এবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দুই বছর পর হতে যাওয়া পরবর্তী ইউরোতে খেলার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।
নয়্যার জানান, জাতীয় দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ আর নিতে চান না; বরং দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচগুলো তিনি স্রেফ উপভোগ করতে চান। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে বায়ার্ন মিউনিখের এই মহানায়কের এখন একমাত্র লক্ষ্য—দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে এক রাজকীয় বিদায় নেওয়া। সম্প্রতি জাতীয় দলে ফিরেই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন এই বিশ্বস্ত দেয়াল।
অস্ট্রেলিয়ার রান পাহাড় তাড়া করতে গিয়ে দারুণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৯৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮৯ রান তুলতে সক্ষম হয় তাওহিদ হৃদয়ের দল।
এদিন টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার ম্যাট রেনশর বিধ্বংসী এক ইনিংসের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে অজিরা। রেনশ ৫২ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। এছাড়া মাঝপথে টিম ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করে সবচেয়ে সফল ছিলেন। তবে অন্য বোলাররা ছিলেন বেশ খরুচে, বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের করা শেষ ওভার থেকে ১৮ রান তুলে নেয় অজিরা।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। তানজিদ ১৫ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফিরলে সাইফ ইনিংসের হাল ধরেন। তিনি ব্যক্তিগত ৪২ রান করে বিদায় নেওয়ার আগে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে জুটি গড়েন। পারভেজ ৩৬ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে আউট হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা আলগা হয়ে যায়। এর আগে সৌম্য সরকার ১৫ রান করে অ্যাডাম জাম্পার শিকার হন।
ম্যাচের শেষ ৪ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪৪ রান। উইকেটে ছিলেন তাওহিদ হৃদয় ও শামীম পাটোয়ারী। তবে ১৭তম ওভারে অজি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২ রান আসে এবং শামীম কোনো রান না করেই আউট হলে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ মুহূর্তের লড়াই সত্ত্বেও ১৮৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। উল্লেখ্য, সিরিজে টিকে থাকার লক্ষ্যে এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে দুটি পরিবর্তন এনেছিল; শরীফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসানের জায়গায় খেলানো হয়েছিল নাহিদ রানা ও নাসুম আহমেদকে। তবে এই পরিবর্তনগুলো শেষ পর্যন্ত হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ৪ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে মেক্সিকানরা শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দিল।
স্তাদিও গোয়াডালাজামায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও বিরতির পরপরই কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় মেক্সিকো। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে লুইস রোমো দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। তবে এই গোলের নেপথ্যে বড় দায় ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কিম সিউং জিও’র এক মারাত্মক ভুল। ডি-বক্সের ভেতর আসা একটি উচু বল লাফিয়ে ধরতে গিয়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে বলটি তার হাত থেকে ফসকে যায়। সামনে থাকা রোমো সুযোগটি লুফে নিয়ে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি।
পিছিয়ে পড়ার পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে সন হিউং মিনদের দল। অন্তত দুবার তারা নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মেক্সিকোর ২৬ বছর বয়সী তরুণ গোলরক্ষক রাউল র্যাঞ্জেলের অসামান্য দৃঢ়তায় সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি। মেক্সিকোর রক্ষণভাগও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোরিয়ান আক্রমণভাগকে রুখে দিতে সক্ষম হয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯টি আসরে অংশ নেওয়া মেক্সিকো গত কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। তবে এবার এক আসরের বিরতি দিয়ে আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল তারা। এর আগে টানা সাতটি আসরে নকআউট খেলার গৌরবময় রেকর্ড ছিল মেক্সিকোর। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে কাতারকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে টুর্নামেন্টের সহ-স্বাগতিক কানাডা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কাতারের রক্ষণভাগকে এক প্রকার গুঁড়িয়ে দিয়ে ৬-০ ব্যবধানের বিশাল জয় পায় কানাডিয়ানরা। জোনাথন ডেভিডের চমৎকার হ্যাটট্রিক এবং কাতারের দুই ফুটবলারের লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনা ম্যাচটিকে একপেশে করে তোলে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে কানাডা। লারিনের গোলে লিড নেওয়ার পর জোনাথন ডেভিড ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। কাতারের জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে পড়ে যখন ৩০ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। বিরতির ঠিক আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডেভিড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫৩ মিনিটে আসিম মাদিবো সরাসরি লাল কার্ড পেলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। এর পরপরই ৬৪ মিনিটে নাথান সালিবা ফ্রি-কিক থেকে জালের দেখা পান।
৭৫ মিনিটে কাতারের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে কানাডার ৬-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন জোনাথন ডেভিড। লিওনেল মেসির পর এবারের আসরে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে কানাডা নকআউট পর্বের দৌড়ে টিকে রইল, অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে কাতারের বিশ্বকাপ মিশন এখন খাদের কিনারায়।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শুরুতে দুই দলের মধ্যে সমানতালে লড়াই হলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সুইসরা। এই জয়ে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা।
প্রথমার্ধে উভয় দলই কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তুললেও গোলের দেখা মেলেনি। বিরতির পর খেলার চিত্র বদলে যায়। সুইজারল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং মিডফিল্ডে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার নেতৃত্ব ও বদলি খেলোয়াড়দের কার্যকর অবদান দলকে এগিয়ে নেয়।
ম্যাচের শেষ দিকে সুইসদের লাগাতার আক্রমণের মুখে বসনিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন লাল কার্ড দেখে একজন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় বসনিয়া। সংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক গোল করে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।
দাপুটে এই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল সুইসরা।