মিরপুরে প্রথম দিনের উইকেট দুই দলের জন্যই ছিল চরম হতাশার। বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার পরে ৬ উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাও। প্রথম দিনে সফরকারীদের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল ৩০ রানের। স্বীকৃত ছয় ব্যাটারের আউট হওয়ার পরে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই গুটিয়ে দেওয়ার আশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি ঢেলে দেন প্রোটিয়াদের উইকেট রক্ষক ব্যাটার কাইল ভেরেইনে।
ব্যাটিং ব্যর্থতার রাজ্যে ঘুরে দাঁড়ান চিলেকোঠার সেপাই হিসেবে। দুর্দান্ত দুটি জুটি গড়েন মুল্ডার আর ডেন পেটের সঙ্গে। টাইগার বোলারদের ইচ্ছামতো শাসন করেছেন ভেরেইনেরা। মিরাজ-নাঈমদের বিপক্ষে দুর্দান্ত সব সুইপশট খেলেছেন তিনি। তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরিও।
১৮ রানে দিন শুরু করেছিলেন ভেরেইনে। সঙ্গে ছিলেন উইয়ান মুল্ডার। মুল্ডারকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১১৯ রানের জুটি। হাফসেঞ্চুরি করে মুল্ডার ফিরলে একপাশ আগলে রেখে ডেন পেটকে সঙ্গে নিয়ে আবারও পথচলা শুরু করেন তিনি। ১৩৪ বল খেলে ভেরেইনা শতরানে পা রাখেন লাঞ্চের পর। খ্যাপাটে, আবেগময় ও দীর্ঘ উদযাপনে ২৭ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান বুঝিয়ে দেন, এই সেঞ্চুরি তার কাছে বিশেষ কিছু।
সেঞ্চুরির পর ১৪ রান যোগ করতে পারেন তিনি। মিরাজের বলে লাইন মিস করলে বল চলে যায় লিটন দাসের কাছে। তিনি স্টাম্প ভাঙতে ভুল করেননি। ভেরেইনে ফেরত যান স্টাম্পড আউট হয়ে। এর আগে ১৪৪ বল থেকে করেন ১১৪ রান। ইনিংসে ৮ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কাও হাঁকান তিনি। প্রথম ইনিংসে ৩০৮ রানে থামা প্রোটিয়াদের ১১৪ রানই এসেছে ভেরেইনের ব্যাট থেকে।
এই সেঞ্চুরিতে ভেরেইনে নাম লিখিয়েছেন এক মাইলফলকে। বাংলাদেশের মাটিতে সফরকারী কোনো দলের ১০ম উইকেটরক্ষক হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরি পেলেন তিনি। এই কীর্তিটি প্রথম করেন জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ২০০১-০২ মৌসুমে চট্টগ্রামে অপরাজিত ১১৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
ভেরেইনের আগে সর্বশেষ এই কীর্তিটি ছিল লোরকান টাকারের। গত বছর মিরপুরে ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন আইরিশ উইকেটরক্ষক। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্টও বাংলাদেশে এসে টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন।
চলতি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। সোমবার রাতে কোভেন্ট্রি সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙেছে দলটি। ম্যাচ শেষে এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচন করেছেন দলটির ইতালিয়ান কোচ রবার্তো দি জারবি। তাঁর মতে, পয়েন্ট তালিকার তলানিতে নেমে যাওয়ার পর খেলোয়াড়দের নিজেদের ভুল স্বীকার করে দায় নেওয়ার মানসিকতা, খোলামেলা অভ্যন্তরীণ বৈঠক এবং স্পেনের মারবেলায় আয়োজিত বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্পই মূলত দলের সামগ্রিক পরিবেশ আমূল বদলে দিয়েছে।
কোভেন্ট্রির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চরম আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছিল স্পার্সরা। পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার ঠিক আগের দিন খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন দি জারবি। সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যাওয়ার আগে প্রত্যেকে খোলাখুলিভাবে দলের সংকট ও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন। দি জারবির ভাষায়, দলের প্রত্যেকে ব্যক্তিগত দায়িত্ব স্বীকার না করলে সামনে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল; সেই আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমেই খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বাস ফিরে আসে যে প্রিমিয়ার লিগের অন্য দলগুলোর মতো তারাও ম্যাচ জয়ের পূর্ণ সামর্থ্য রাখে।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ রসায়ন মজবুত করতে গত সপ্তাহে খেলোয়াড়দের নিয়ে স্পেনের মারবেলায় একটি নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্প করেন টটেনহ্যাম কোচ। দি জারবি উল্লেখ করেন, দলের ভেতর ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানোই ছিল এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে মাঠে শুধু এগারোজন রোবটের মতো খেললে কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না; বরং সতীর্থদের পাশে ভাইয়ের মতো দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং মাঠের বাইরেও একসঙ্গে পারিবারিক আবহে সময় কাটানো দলটির ইতিবাচক রূপান্তরে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
দলের এই জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা দুই নির্ভরযোগ্য তারকা জেমস ম্যাডিসন এবং দেজান কুলুসেভস্কি। দীর্ঘ ৫৩৬ দিন পর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই দারুণ এক দর্শনীয় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ম্যাডিসন। অন্যদিকে ২০২৫ সালের মে মাসে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ার পর দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে এই ম্যাচ দিয়েই প্রথম মাঠে ফেরেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড কুলুসেভস্কি। এই দুই অভিজ্ঞ ফুটবলারের উপস্থিতি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দলের আক্রমণভাগে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মন্তব্য করেন কোচ।
কোভেন্ট্রি সিটিকে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম জয় তুলে নেওয়ায় প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের ১৬তম স্থানে উঠে এসেছে টটেনহ্যাম। তবে জয়ের স্বস্তি কাটতে না কাটতেই দলটির সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। আগামী শনিবার ঐতিহ্যবাহী লন্ডন ডার্বিতে চেলসির মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে খেলতে নামবে স্পার্সরা। নতুন করে ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ও দলীয় ঐক্য ধরে রেখে চেলসির বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়াই এখন দি জারবির দলের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আগামী ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ২৮ সদস্যের দল জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন রোববার (১৮ অক্টোবর) দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাফের কাছে খেলোয়াড়দের এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠিয়ে দেন তিনি। আসন্ন এই আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে এবার মোট ছয়টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। নির্ধারিত ডেডলাইন রোববার থাকলেও কয়েকটি দলের বাড়তি সময় চাওয়ার প্রেক্ষিতে তালিকা জমার সময়সীমা আরও দুদিন বাড়িয়েছে সাফ কর্তৃপক্ষ।
সাধারণত যেকোনো আন্তর্জাতিক কিংবা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় দলগুলো শুরুতে ৩৫ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা দেয় এবং টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। তবে এবার সাফের নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিটি দেশকে শুরুতে ৫০ জন ফুটবলারকে প্রাথমিক নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হলেও সেখান থেকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যেই নাম কমিয়ে ২৮ জনে চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়।
টুর্নামেন্ট শুরুর বেশ আগেই এমন তালিকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের হেড কোচ থমাস ডুলি। সাফের নিয়ম মেনেই দল দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা সাফের আইন। এখানে আমাদের করার মতো কিছু নেই। আমাকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে তালিকা দিতে বলা হয়েছিল, আমি নিয়ম অনুযায়ী তা দিয়েছি।’
এদিকে টুর্নামেন্টের আগে খেলোয়াড়দের ফর্ম ও চোটের ঝুঁকি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামীকালই মাঠে গড়াবে ঘরোয়া ফেডারেশন কাপের ম্যাচ এবং আগামী শুক্র ও শনিবার লিগে আরও ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এসব ম্যাচে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে কিংবা কেউ ইনজুরির শিকার হলেও জমা দেওয়া ওই ২৮ জনের বাইরে থেকে নতুন কাউকে দলে নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।
স্প্যানিশ লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে মহারণ ‘এল ক্লাসিকো’র ঠিক আগেই বড় জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফরাসি মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ভর করে সেভিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে হোসে মরিনিওর দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগের ম্যাচে রোমার বিপক্ষে ৪-৩ গোলের রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাবর্তনের পর ঘরোয়া লিগের এই দাপুটে জয় ক্লাসিকোর আগে লস ব্লাঙ্কোসদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
বার্নাব্যুতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে স্বাগতিক রিয়াল। খেলার আধঘণ্টার মাথায় ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে দলকে প্রথম লিড এনে দেন তরুণ তুর্কি মিডফিল্ডার আরদা গুলার। এর ঠিক সাত মিনিট পর চমৎকার দলগত প্রচেষ্টার সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপে। ফলে ২-০ ব্যবধানের স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে নিজেদের আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। ডি-বক্সে ফাউল থেকে পেনাল্টি পেলে দর্শনীয় পানেনকা শটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের তৃতীয় ও নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। পরবর্তীতে সেভিয়ার মানু বুয়েনো একটি সান্ত্বনাসূচক গোল শোধ করলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি সফরকারীরা। শেষ দিকে তরুণ ফরোয়ার্ড ইয়ান দিওমান্দে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করলে ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
গত সপ্তাহে ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টেনে লাল কার্ড দেখার দায়ে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দলের মূল এই ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে আনল মরিনিওর শিষ্যরা। আগামী রবিবার ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে আগামী বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে জার্মানির ক্লাব আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাদ্রিদের দলটি।
এই জয়ে চলতি লা লিগায় ৯ ম্যাচ শেষে ২১ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল বেতিসকে পেছনে ফেলে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে লিগের ৯ ম্যাচের সবকটিতেই জয় তুলে নিয়ে শীর্ষে একক আধিপত্য ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ফলে কাতালানদের সঙ্গে বর্তমানে পয়েন্টের ব্যবধান ছয়ে নামিয়ে এনে শীর্ষ লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখল রিয়াল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বহুল প্রতীক্ষিত জয়ের খোঁজে মাঠে নেমেও হতাশাজনক ড্র নিয়ে ফিরতে হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। রোববার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠ এল্যান্ড রোডে স্বাগতিক লিডস ইউনাইটেডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। এর ফলে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রেড ডেভিলদের জয়হীন থাকার খরা বেড়ে ৪৯ দিনে পৌঁছাল। সব মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ এবং ঘরোয়া লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়বঞ্চিত রইল তারা।
ম্যাচটিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে শুরুর একাদশেই সুযোগ দেন কোচ ক্যারিক। খেলার শুরুর দিকে লিডসের আও তানাকার প্রচেষ্টা ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনে লামেন্স রুখে দেওয়ার পর ডমিনিক কালভার্ট-লেভিনের একটি হেড পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। শুরুতে একটি সুযোগ হাতছাড়া করার পর ইউরি তিয়েলেমান্সের নিখুঁত নিচু ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেন ব্রায়ান এমবেউমো। চলতি লিগ মৌসুমে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গোল এবং এবারের আসরে এই প্রথমবারের মতো বিরতির আগেই ম্যাচে লিড নিয়ে ড্রেসিংরুমে যায় ইউনাইটেড।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে সমতা ফেরায় স্বাগতিক লিডস ইউনাইটেড। খেলার ৫১তম মিনিটে একটি কর্নার কিক থেকে সতীর্থ মুহারেমোভিচের হেডে বক্সের প্রান্তে বল পান ডমিনিক কালভার্ট-লেভিন। সেখানে এমবেউমোর শারীরিক বাধা অতিক্রম করে এক জোরালো শটে বল জালে পাঠান এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। গোল হজমের পর ব্যাকফুটে চলে যায় ইউনাইটেড এবং গ্যালারির বাড়তি সমর্থনে চাঙ্গা হয়ে আক্রমণ বাড়ায় লিডস।
এরপর তানাকা ও নোয়া ওকাফোরের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে বেঁচে যায় ক্যারিকের দল। ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে ঘরের মাঠে ইউনাইটেডের বিপক্ষে দীর্ঘ ২৪ বছর পর জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল লিডস। কিন্তু গোলমুখের জটলার ভেতর থেকে স্টাচের নেওয়া নিচু শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক লামেন্স, যার ফলে স্বাগতিকদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান আর ঘটেনি।
এই ড্রয়ের ফলে চলতি মৌসুমে সাতটি লিগ ম্যাচে মাত্র একটি জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৩ নম্বরে নেমে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে লিডস ইউনাইটেড।
ইংল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। রোববার স্বাগতিকদের করা ৩০৫ রানের জবাবে পাভান রত্নায়েকে ও জানিথ লিয়ানাগের পাল্টা আক্রমণে লঙ্কানরা জয়ের পথে থাকলেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয় ধসে ২৬৮ রানে অলআউট হয়। চাপের মুখে দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন সম্প্রতি দল ও নেতৃত্ব হারানো ব্যাটার সালমান আলী আগা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল পাকিস্তান; ষষ্ঠ ওভারের মধ্যেই দলীয় মাত্র ৩২ রানে তাদের দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরেন। এরপর ২২তম ওভারের মধ্যে দলীয় স্কোরে ১০০ রান ওঠার আগেই চার উইকেট হারিয়ে দল যখন ধুঁকছিল, তখন ত্রাতা হয়ে ওঠেন সালমান। সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়া এবং টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব হারানো এই ক্রিকেটার ওয়ানডেতে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। মিডল অর্ডারে তরুণ হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কার্যকর দুটি জুটি গড়ে তোলেন এবং মাত্র ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে শতক পূর্ণ করেন।
ইনিংসের ৪৭তম ওভারে সালমান বিদায় নেওয়ার পর শেষ দিকে শাহীন শাহ আফ্রিদির ক্যামিও ১৩ রানের ওপর ভর করে এক বল বাকি থাকতে ৩০৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে পেসার ইশান মালিঙ্গা একাই চারটি এবং আসিথা ফার্নান্ডো তিনটি উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৯১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা, যেখানে কামিন্দু মেন্ডিস করেন ৪৪ রান। তবে পঞ্চম উইকেটে পাভান রত্নায়েকে ও জানিথ লিয়ানাগে ১১৯ রানের লড়াকু পার্টনারশিপ গড়ে সফরকারীদের জয়ের স্বপ্ন দেখান। দলীয় সর্বোচ্চ ৭৯ রান করে পাভান বিদায় নিলেও দাসুন শানাকাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবধান দ্রুত কমাতে থাকেন জানিথ। শেষ সাত ওভারে লঙ্কানদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫৫ রান এবং হাতে ছিল ৬টি উইকেট।
তবে ম্যাচের ৪৪তম ওভারে ব্যক্তিগত ৬০ রানে জানিথ আউট হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডার। ৪ উইকেটে ২৫৩ রান তোলা শ্রীলঙ্কা পরবর্তী মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৫টি উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রানে গুটিয়ে যায়। পাকিস্তানের পেসারদের মধ্যে শাহীন শাহ আফ্রিদি সর্বোচ্চ তিনটি এবং নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ দুটি করে উইকেট নিয়ে দলের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করেন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্টের কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে আর্সেনাল। রোববার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠ সিটি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক নটিংহ্যামকে ১-০ গোলে হারিয়েছে গানার্সরা। কাই হ্যাভার্জ, মার্টিন ওডেগার্ড ও বুকায়ো সাকার মতো তারকাদের নিয়ে সাজানো পূর্ণ শক্তির আক্রমণভাগ লম্বা সময় পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেঞ্চ থেকে নেমে দলকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ননি মাদুয়েকে।
ম্যাচজুড়ে ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও নটিংহ্যামের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙতে রীতিমতো ঘাম ছুটে যায় আর্সেনালের। বল দখলে নিরঙ্কুশ এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও পুরো ম্যাচে স্বাগতিকদের গোলপোস্টে কেবল একটিমাত্র শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল তারা। তবে আশ্চর্যজনকভাবে সেই একমাত্র অন-টার্গেট শটটিকেই গোলে পরিণত করে কাঙ্ক্ষিত জয় ছিনিয়ে নেয় লন্ডনের ক্লাবটি।
প্রথমার্ধের অচলাবস্থা কাটাতে বিরতির পরই মাঠে নামানো হয় ননি মাদুয়েকেকে, যিনি সম্প্রতি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার হতাশায় ছিলেন। তবে মাঠে নেমে নিজের জাত চিনিয়ে খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে আর্সেনালকে উল্লাসে ভাসান এই উইঙ্গার। ডেকলান রাইসের বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি এবং তাঁর নেওয়া জোরালো শট নটিংহ্যাম ডিফেন্ডার জেয়ার কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।
মাদুয়েকের এই জয়সূচক গোলটিই পুরো তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়। এই সাফল্যের সুবাদে চলতি প্রিমিয়ার লিগে সাত ম্যাচের মধ্যে নিজেদের ষষ্ঠ জয় তুলে নিল আর্সেনাল। বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে গানার্সরা এবং শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান এখন মাত্র তিনে নেমে এসেছে।
আর্লিং হালান্ডের অনবদ্য জোড়া গোলে ভর করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ইপসউইচ টাউনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর সিটি সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের চোটের শঙ্কা। ম্যাচ শেষ হতেই কিছুটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে টানেলের দিকে যেতে দেখা যায় এই গোলমেশিনকে। তবে মাঠ ছাড়ার আগে দলের এই রুদ্ধশ্বাস জয়ে নিজের জাত ঠিকই চিনিয়েছেন তিনি।
এই জয়ের সুবাদে ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন দলটির বর্তমান কোচ এনজো মারেস্কা। সিটির সবচেয়ে সফল ও দীর্ঘদিনের সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা যা পারেননি, সেটাই করে দেখালেন মারেস্কা। ক্লাবটির ইতিহাসে এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগের প্রথম সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়ের নজির গড়ল সিটিজেনরা। সামগ্রিকভাবে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসেও এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা; এর আগে ২০০৫-০৬ মৌসুমে চেলসি এবং ২০১৯-২০ মৌসুমে লিভারপুল আসরের শুরুর টানা সাত ম্যাচে জয়ের এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণাত্মক ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। খেলার ১৯তম মিনিটে ফিল ফোডেনের দারুণ ফিনিশিংয়ে প্রথম লিড পায় স্বাগতিকরা। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; স্তব্ধ ইতিহাদকে কাঁপিয়ে দিয়ে মাত্র দুই মিনিট পরই (২১তম মিনিটে) ইপসউইচকে সমতায় ফেরান ডাইজেন মায়েদা। বিরতিতে যাওয়ার আগে ৩৪তম মিনিটে নিজের প্রথম গোল করে সিটিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন হালান্ড। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯তম মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে দেন তিনি।
খেলার শেষভাগে অবশ্য নাটকীয়তার চরম রূপ দেখে ইতিহাদ। নির্ধারিত ৯০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান ৩-২ এ নামিয়ে আনে ইপসউইচ টাউন। এরপর অফিশিয়াল ইনজুরি টাইম হিসেবে ১২ মিনিট যোগ করা হলে পয়েন্ট হারানোর গভীর আতঙ্ক ভর করে সিটির খেলোয়াড়দের মধ্যে। তবে শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় এক গোলের লিড সফলভাবে ধরে রেখে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে মারেস্কার দল।
টানা সাত ম্যাচে শতভাগ জয় তুলে নিয়ে ২১ পয়েন্টের পূর্ণ সংগ্রহসহ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল ম্যানচেস্টার সিটি। টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনাল ছয় ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। সিটির সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমাতে আগামীকাল নটিংহ্যাম ফরেস্টের মাঠে খেলতে নামবে গানার্সরা। আপাতত শীর্ষ দুই দলের মাঝে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে পরিষ্কার ছয় পয়েন্টের।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের করা ৮ উইকেটে ২৭১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ দশমিক ৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলরের সম্মিলিত রানের (১৭৪) সমান স্কোরও তুলতে পারেনি পুরো বাংলাদেশ দল। এই জয়ে জিম্বাবুয়ের পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলেন অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। আগামী বুধবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে দলীয় মাত্র ২৪ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বিপদে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। তবে চতুর্থ উইকেটে অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর ১৫০ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। আরভিন ৯৩ এবং টেলর ৮১ রান করে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন, যার সুবাদে নির্ধারিত ওভারে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় তারা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ তিনটি এবং শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দলীয় ৪৭ রানের মাথায় ১৭ বলে ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অপর ওপেনার সৌম্য সরকার। তানজিদ ব্যক্তিগত ফিফটির খুব কাছে গিয়েও নিয়ামহুরির বলে ক্যাচ তুলে দেন। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৮ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৬ রান করেন তিনি, যা ছিল ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেটে ৬৬ রান তোলা বাংলাদেশ দ্রুতই তৃতীয় উইকেট হারায়, যখন নাজমুল হোসেন শান্ত ৯ বলে মাত্র চার রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
দলীয় ৬৮ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও সাইফ হাসান ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের ২৯ রানের জুটি ভাঙেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা; আম্পায়ার শুরুতে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে ২১ বলে ১৩ রান করা হৃদয়কে বিদায় করেন তিনি। এরপরই ঘটে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়। স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজার টানা দুই ওভারে বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ হাসান। ১২৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়া বাংলাদেশকে আরও বিপদে ফেলে ব্র্যাড ইভান্সের জোড়া আঘাত, যাতে উইকেট হারান নুরুল হাসান সোহান ও শরিফুল ইসলাম।
অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন ৩২ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে নিয়ামহুরির এক ওভারে চারটি চার হাঁকিয়ে গ্যালারি মাতান রিশাদ। তবে ৩৩ বলে ২৩ রান করা রিশাদকে ফিরিয়ে নিজের শততম ওয়ানডে উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সিকান্দার রাজা। শেষ দিকে মুস্তাফিজুর রহমানের একটি ছক্কা ও তাসকিনের চারে স্কোর কিছুটা বাড়লেও ১৭২ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে ৬ দশমিক ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট লাভ করেন পেসার ব্র্যাড ইভান্স।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পরও ক্লাব ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য ফর্ম বজায় রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। তাঁর জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্টের ওপর ভর করে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আটালান্টা ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। আটালান্টার মাঠ মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই স্বাগতিকদের ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেসের দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই মায়ামিকে এগিয়ে দিতে একটি গোলে সরাসরি সহায়তা করেন মেসি, যার সুবাদে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে প্রতিপক্ষকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন এই মহাতারকা। ম্যাচের ৫৬ ও ৬০তম মিনিটে তিনি চলতি লিগে নিজের ২৪তম ও ২৫তম গোলটি করেন। এই দুটি গোলেই বলের জোগান দেন জেরেমি বার্তেরামে এবং দ্বিতীয় গোলের আক্রমণ তৈরিতে ভূমিকা রাখেন লুইস সুয়ারেজ। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করে আটালান্টা কেবল নিজেদের হারের ব্যবধানই কমাতে সক্ষম হয়।
আটালান্টার বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়ে এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তিন মৌসুমে কমপক্ষে ১৫টি অ্যাসিস্ট করার নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন মেসি। এর মাধ্যমে পেশাদার ক্যারিয়ারে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ৯৩৬-এ। চলতি লিগ মৌসুমে ২৫টি গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এককভাবে সবার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ১৫টি অ্যাসিস্ট নিয়ে যৌথভাবে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন হিউং-মিনের সঙ্গে শীর্ষে অবস্থান করছেন এই ফরোয়ার্ড।
গত মৌসুমে ২৯টি গোল করে এমএলএসের গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মায়ামি দলপতি। লিগের ইতিহাসে ভেনেজুয়েলার জোসেফ মার্টিনেজের পর মেসিই দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পৃথক দুই মৌসুমে ন্যূনতম ২৫টি করে গোল করার কীর্তি অর্জন করলেন। চলতি আসরে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ইতিমধ্যে ৪০টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। ২০১৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির হয়ে মেক্সিকান তারকা কার্লোস ভেলার গড়া এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪৯ গোলে অবদানের ঐতিহাসিক রেকর্ড থেকে মেসি আর মাত্র ৯টি অবদান দূরে রয়েছেন, যেখানে মায়ামির হাতে এখনো চারটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।
বয়সকে তুড়ি মেরে মাঠের ফুটবলে নিয়মিত এমন প্রভাব বিস্তারকারী পারফরম্যান্স ইন্টার মায়ামিকে পয়েন্ট তালিকায় দারুণ সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। অধিনায়ক মেসির নেতৃত্বে আক্রমণভাগের এমন ধারাবাহিকতা ক্লাবটিকে চলতি মৌসুমে শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।
ভারতের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ শেষ করে আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে পা রাখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। ঢাকায় পৌঁছানোর আগমুহূর্তেই নিজেদের পূর্বঘোষিত টেস্ট স্কোয়াডে একটি পরিবর্তন এনেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অলরাউন্ডার কিমো পল। তাঁর জায়গায় প্রথমবারের মতো টেস্ট স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আরেক অলরাউন্ডার শামার স্প্রিংগারকে।
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কিমো পল জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্প্রিংগারকে দলে নেওয়া হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী স্প্রিংগার জাতীয় দলের জার্সিতে ৩টি ওয়ানডে ও ১২টি টি-টোয়েন্টি খেললেও টেস্টে এখনো তাঁর অভিষেক হয়নি। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৩ ম্যাচে ৩২ দশমিক ৫৯ গড়ে ১ হাজার ৪৩ রান এবং ৫৮টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপে বার্বাডোজের হয়ে ৪ ম্যাচে ৫০ দশমিক ২০ গড়ে ২৫১ রান ও ৭ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন এই ক্রিকেটার। বোর্ড জানিয়েছে, পলের বিকল্প হিসেবে ওজে শিল্ডস ও নাইয়াল স্মিথের নামও বিবেচনায় ছিল, তবে চোটের কারণে তাঁদের দলে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগেই দলের নিয়মিত পেসার আলজারি জোসেফ চোটের ঝুঁকি ও কাজের চাপ কমাতে সিরিজ থেকে বিরতি নেন, যার বদলি হিসেবে শুরুতে কিমো পলকেই নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দারুণ ফর্মে থাকা সাদা বলের অধিনায়ক শাই হোপকেও এই সফরে বিশ্রাম দিয়েছে ক্যারিবীয়রা, যাঁর জায়গায় ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়ানো ব্যাটার কেভিন উইকহ্যাম সুযোগ পেয়েছেন। এদিকে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারের পর পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ করেছে ক্যারিবীয়রা, যেখানে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।
ভারত সফর শেষ করেই বাংলাদেশে এসে শুরুতে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেবে সফরকারীরা। এরপর আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। পরবর্তীতে ৫ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি।
শামার স্প্রিংগারের অন্তর্ভুক্তির পর অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রোস্টন চেজের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। দলের অন্য সদস্যরা হলেন—জশুয়া বিশপ, জন ক্যাম্পবেল, তেজনারায়ণ চন্দরপল, জশুয়া ডি সিলভা, জাস্টিন গ্রিভস, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু, শামার জোসেফ, ব্রেন্ডন কিং, কেমার রোচ, জেইডেন সিলস ও কেভিন উইকহ্যাম।
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে হার দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশের ক্লাব ফর্টিজ এফসি। শনিবার রাতে কুয়েতের ক্লাব আল-কাদসিয়ার কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। কুয়েতের মোহাম্মদ আল-হামাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্বাগতিকদের আক্রমণের তোড়ে শুরু থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে প্রথম লিড নেয় স্বাগতিক কাদসিয়া। নিজেদের ডি-বক্সের ভেতরে ফর্টিজের খেলোয়াড় ফাউল করে বসলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড হামজা খাব্বা। পিছিয়ে পড়ার পর ফর্টিজের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা চমৎকার কয়েকটি নিশ্চিত আক্রমণ প্রতিহত করে ব্যবধান বাড়তে না দিলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফর্টিজ।
বিরতির পর ফিরে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ৭১তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে ফর্টিজ। প্রথম গোলের নায়ক হামজা খাব্বার বাড়ানো পাস ধরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরেক মরক্কান ফরোয়ার্ড আইয়ুব লাখদার। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা ইনজুরি সময়ে আবদুল্লাহ গোল করলে কাদসিয়ার ৩-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয়।
এর আগে প্রাথমিক প্লে-অফ পর্বে নিজেদের মাঠে কিরগিজস্তানের দল মুরাস ইউনাইটেডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল ফর্টিজ এফসি। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের ‘সি’ গ্রুপে ফর্টিজের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো ভারতের এফসি গোয়া এবং তাজিকিস্তানের রেগার তাদাজ তুরসুনজোদা। আগামী ২০ অক্টোবর গ্রুপ পর্বের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের ক্লাব এফসি গোয়ার মুখোমুখি হবে ফর্টিজ।
ঐতিহ্যবাহী লাল ও হলুদ কার্ডের সনাতন পদ্ধতি পেছনে ফেলে ফুটবল মাঠে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’ ব্যবহারের ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে উরুগুয়ে। দেশটির ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ‘কোপা উরুগুয়ে’-তে নাসিওনাল ও রেন্তিস্তাসের মধ্যকার ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ম্যাচে খেলোয়াড়দের সতর্ক করতে সাধারণ প্লাস্টিকের কার্ডের বদলে মুঠোফোনের মতো দেখতে একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র উঁচিয়ে ধরেন ম্যাচ রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলা। ম্যাচ চলাকালে রেফারিদের প্রশাসনিক কাজ সহজ করা এবং খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাজনিত প্রতিটি সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করাই এই উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পটির নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘রেফে’ (আরইএফই)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাউরো সাক্কো এবং সহ-পরিচালক দিয়েগো দে লা পেনা জানান, প্রায় তিন বছর আগে বৃষ্টির মধ্যে একটি ম্যাচ দেখার সময় রেফারিদের হাতে লিখে কার্ডের তথ্য নথিভুক্ত করার ভোগান্তি দেখে তাঁদের মাথায় এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ভাবনা আসে। নতুন এই ইলেকট্রনিক কার্ডের মাধ্যমে মাঠে নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত সরাসরি সফটওয়্যারে নথিভুক্ত হয়ে যায়, যার সুবাদে ম্যাচ শেষে উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কমেট’-এ দ্রুত ও নিখুঁত ম্যাচ রিপোর্ট জমা দেওয়া সম্ভব হবে। প্রথমবার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রেফারি ভারেলা বলেন, কার্ড দ্রুত উঁচিয়ে ধরার সনাতন আবেগ কিছুটা কমলেও প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে এটি রেফারিদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
তবে মাঠের বাস্তবতায় ডিভাইসটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু দৃশ্যমানতার চ্যালেঞ্জও পরিলক্ষিত হয়েছে। এর আগে সূর্যের কড়া আলোয় স্ক্রিনের লেখা বা রং অস্পষ্ট থাকায় একটি পরীক্ষামূলক ম্যাচ মাঝপথে স্থগিত করতে হয়েছিল। সদ্য সমাপ্ত ম্যাচেও গ্যালারিতে থাকা সাধারণ দর্শক এবং টেলিভিশনের পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের পক্ষে স্ক্রিনের রং বা সিদ্ধান্ত দূর থেকে পুরোপুরি পরিষ্কার বোঝা কিছুটা কঠিন ছিল। প্রযুক্তিটির সহ-পরিচালক দে লা পেনা জানিয়েছেন, এটি এখনও উন্নয়নের প্রাথমিক ধাপে রয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতে যন্ত্রটির চারপাশে উজ্জ্বল এলইডি আলো যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে মাঠ ও টেলিভিশন—উভয় মাধ্যমেই হলুদ কিংবা লাল রঙের সংকেত সবাই স্পষ্টভাবে দেখতে পান।
উরুগুয়ের ঘরোয়া ফুটবলে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ফুটবলের ইতিবাচক আধুনিকায়ন হিসেবে সাধুবাদ জানালেও অনেকেই সনাতন কার্ডের আবেদন নষ্ট হওয়ার কথা বলে ট্রল ও নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। তবে এসব প্রতিক্রিয়ায় বিচলিত নন উদ্ভাবক মাউরো সাক্কো; তাঁর মতে, যেকোনো নতুন প্রযুক্তি মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠিত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়।
ঘরোয়া পর্যায়ে প্রাথমিক ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ডিভাইসটির দৃশ্যমানতা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিক আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সব ত্রুটি দূর করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে এই ‘ইলেকট্রনিক কার্ড’ প্রযুক্তির প্রস্তাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্ভাবকদের।
ভারতের সাবেক বিধ্বংসী ওপেনার বীরেন্দর শেবাগের বড় ছেলে আর্যবীর শেবাগ ঘরোয়া বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন। বিনু মানকাড় ট্রফি এলিট টুর্নামেন্টে শুক্রবার চণ্ডীগড় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে ১৪৩ বলে ১৭৩ রানের এক আগ্রাসী ইনিংস উপহার দিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ ব্যাটার। বাবার চেনা বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে খেলা তাঁর এই চমৎকার ইনিংসটি ১৯টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো ছিল।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দিল্লি অধিনায়ক আর্যবীর। নিজে ওপেনিংয়ে নেমে অর্ণব বুগ্গার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতেই যোগ করেন ৯৮ রান, যেখানে অর্ণব করেন ৪৭ রান। এরপর তৃতীয় উইকেটে আভিরাজ সিংয়ের সঙ্গে ৪৮ রান এবং পঞ্চম উইকেটে শান্তনু যাদবকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৮৯ রানের কার্যকর পার্টনারশিপ গড়েন তিনি। ইনিংসে ৪৬তম ওভারে আর্যবীর আউট হওয়ার আগে তাঁর অনবদ্য ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৯ রানের শক্ত পুঁজি দাঁড় করায় দিল্লি।
টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচে অবশ্য বড় ধাক্কা খেয়েছিল দিল্লি দল। কর্ণাটকের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৪১৮ রান তুলতে দেওয়ার পর নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ২২০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল তারা, যেখানে আর্যবীরের ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ৩২ রান। ফলে আগের ম্যাচের সেই ছন্দপতন কাটিয়ে চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে নেমেই অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে দলকে পথ দেখালেন তিনি এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে বিশাল ইনিংস উপহার দিয়ে নজর কাড়লেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় দায়িত্ব পাওয়ার আগে সম্প্রতি ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলেও অভিষেক হয়েছিল আর্যবীরের। গত সেপ্টেম্বরে রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে তিনি যথাক্রমে ২৬ বলে ২৮, দলের সর্বোচ্চ ৪৭ এবং শেষ ম্যাচে ৩৪ রানসহ তিন ইনিংসে মোট ১০৯ রান করেছিলেন। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও ওয়েস্ট দিল্লি লায়ন্সের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বিশ্বক্রিকেটে বীরেন্দর শেবাগ ছিলেন নির্ভীক ব্যাটিং ও প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের এক অনন্য নাম। বাবার সেই বিশাল খ্যাতির ছায়া থেকে বেরিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার পথে রয়েছেন আর্যবীর। বিশ্লেষকদের মতে, বয়সভিত্তিক ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলা এই ১৭৩ রানের ইনিংসটি তাঁর সামনের পথচলায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও পরিণত মানসিকতা জোগাবে।