দিনের শুরুটা হলো মেঘে ঢাকা অন্ধকারের মতো। কিন্তু শেষটা হলো ঠিক মেঘ ভেদ করে ওঠা আলোকিত সূর্যের মতো। ব্যাটিং ব্যর্থতায় দিন শুরু করা বাংলাদেশও ম্যাচ শেষ করেছে জয় দিয়ে। লিটন-তামিমদের ব্যর্থতার দিনে নায়ক হয়ে উঠেছেন বোলাররা। তাসকিন-সাকিব কিংবা রিশাদ-মাহাদী; সবাই প্রতিযোগিতায় নেমেছিল কে বেশি ভালো করবে। নিখুঁত লাইন-লেন্থ, গতি-আগ্রাসন, স্পিন ঘূর্ণি; কোনো কিছুরই ঘাটতি ছিল না এ দিন। সেই শক্তি দিয়েই সেন্ট ভিনসেন্ট জয় করেছে টাইগাররা। শুধু ম্যাচ জয়ই নয়, ছয় বছর পরে বাংলাদেশ জিতেছে সিরিজও।
তবে, এর চেয়েও বড় উপলক্ষ আছে টাইগারদের। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এর আগে ওয়ানডে, টেস্ট দুই সংস্করণেই সিরিজ জেতা হয়ে গেছে বাংলাদেশের। অপেক্ষা ছিল ক্রিকেটের ছোট সংস্করণ টি-টোয়েন্টি সিরিজের; এবার সেটাও পূরণ হলো বাংলাদেশের।
বুধবার সেন্ট ভিনসেন্টে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১২৯ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ১৮ ওভার ৩ বলে সব উইকেট হারিয়ে ১০২ রান তুলতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ২৭ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। এতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতে নিল টাইগাররা।
এ ম্যাচে আলাদা করে নজর কেড়েছেন লিটন কুমার দাসও। ব্যাট হাতে তিনি ব্যর্থ এ দিনও। কিন্তু নেতৃত্বে ছিলেন নিখুঁত। বোলিং পরিবর্তন, মাঠ সাজানো, প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা ও চাপে রাখা, পরিস্থিতির দাবি মেটানো, সবকিছুই ছিল নজরকাড়া।
বাংলাদেশের হয়ে ৩.৩ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেছেন তাসকিন আহমেদ। সমান দুটি করে উইকেট পেয়েছেন রিশাদ হোসাইন, তানজিম হাসান সাকিব আর শেখ মেহেদী। একটি উইকেট গেছে হাসান মাহমুদের ঝুলিতে। তবে সবাই নিয়ন্ত্রিত আঁটসাঁট বোলিং করেছেন।
বোলারদের আগে অবশ্য বাংলাদেশকে এই ন্যূনতম পুঁজি এনে দেওয়ার কাজটা করেছেন তিন ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজ, জাকের আলি অনিক আর শামীম হোসেন পাটোয়ারী। আফিফ হোসেনের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া মেহেদী মিরাজ খেলেছেন ২৫ বলে ২৬ রানের কার্যকরী ইনিংস। পাঁচে নামা জাকের আলিও রেখেছেন অবদান; করেছেন ২০ বলে ২১ রান।
তবে শেষ দিকে ফিনিশ করতে নেমে মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি খেলেছেন এক বছর পরে দলে সুযোগ পাওয়া শামীম হোসেন পাটোয়ারী। দুইশর ওপরে স্ট্রাইক রেটে ১৭ বল থেকেই করেছেন ৩৫ রান। সমান দুটি করে চার আর ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। যেটা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রেখেছে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পেয়েছিল স্বাগতিকরা। প্রথম দুই ওভারে তারা তোলে ১৯ রান। কিন্তু এরপর আর টাইগার বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা।
তৃতীয় ওভারে জোড়া আঘাতে শুরুটা করেন তাসকিন আহমেদ। ফেরান ব্র্যান্ডন কিং (৮) আর আন্দ্রে ফ্লেচারকে (০)। ভয়ংকর হওয়ার আগেই জনসন চার্লসকে (১৪) ফেরান শেখ মেহেদী। নিকোলাস পুরানকেও (৫) স্থায়ী হতে দেননি ডানহাতি এই স্পিনার। আগের ম্যাচে ভয়ংকর হওয়া রোভম্যান পাওয়েলকে (৬) ফিরিয়ে শঙ্কা কাটান হাসান মাহমুদ। আর খাতা খোলার আগেই রোমারিও শেফার্ডকে ফেরান তানজিম সাকিব।
এরপর গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন রিশাদ হোসাইন। টাইগারদের গলার কাঁটা রোস্টন চেজকে (৩২) ফেরান তিনি। পরের বলেই গুদাকেশ মোটিকে (০) ফিরিয়ে জাগান হ্যাটট্রিকের আশাও। আলজারি জোসেফকে শূণ্য রানে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের বুকের ধুকধুকানি বাড়ান তানজিম সাকিব। আর ক্যারিবীয়দের আশার শেষ বাতিঘর আকিল হোসাইনকে (৩১) ফিরিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তাসকিন।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে নিজেদের ঘরের মাঠে অপরাজেয় থাকার অনন্য রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করল জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ। বৃহস্পতিবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় নরওয়ের ক্লাব বদো/গ্লিমটকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে ইউরোপের শীর্ষ এই ক্লাব প্রতিযোগিতার লিগ পর্বে নিজেদের মাঠে টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিরল নজির স্থাপন করেছে বাভারিয়ানরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে না পেরে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে আবির্ভূত হয় ভিনসেন্ট কম্পানির দল। খেলার ৪৭তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালার লক্ষ্যভেদে লিড পায় বায়ার্ন। এরপর ৬১তম মিনিটে দৃষ্টিনন্দন হেডে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দূরপাল্লার জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন আলফনসো ডেভিস। ম্যাচের অন্তিম সময়ে একক নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসে; ৮৩তম মিনিটে নিজের প্রথম গোলের দেখা পাওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও জালে বল পাঠিয়ে বায়ার্নের ৫-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবল পরিসংখ্যান সংস্থা স্কোয়াকা জানিয়েছে, এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে ঘরের মাঠে টানা ১৩ বছর অপরাজিত থাকার ধারা অব্যাহত রাখল বায়ার্ন মিউনিখ। নিজেদের দুর্গে দলটি সবশেষ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়েছিল। এরপর থেকে ঘরের মাঠে খেলা ৩৯টি ইউরোপীয় ম্যাচের ৩৭টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি এবং মাত্র দুটিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। লিগ পর্বের প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে এই বড় জয়ের সুবাদে গোল পার্থক্যে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন, যাদের শীর্ষে রয়েছে পিএসজি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে অনন্য এক ইতিহাস গড়েছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং তারকা জো রুট। ব্যাট হাতে নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে উইকেটরক্ষক ছাড়া আউটফিল্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ ক্যাচ তালুবন্দি করার বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই ইংলিশ ক্রিকেটার।
এর মধ্য দিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের ২১৯টি ক্যাচের রেকর্ড ভেঙে দেন। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে পেসার অলি রবিনসনের বলে উদ্বোধনী ব্যাটার আব্দুল্লাহ শফিকের ক্যাচটি লুফে নিয়ে টেস্টে নিজের ক্যাচ সংখ্যা ২২০টিতে উন্নীত করেন রুট। টেস্ট ইতিহাসের সফলতম ফিল্ডারদের তালিকায় এখন স্মিথকে টপকে শীর্ষে রুট, যেখানে ২১০টি ক্যাচ নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন ভারতের রাহুল দ্রাবিড় এবং ২০৫টি ক্যাচ নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়বর্ধনে। এ ছাড়া ২০০ ক্যাচ নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি জ্যাক ক্যালিস।
এদিকে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করা ইংল্যান্ড তৃতীয় টেস্টেও পূর্ণ আধিপত্য বজায় রেখেছে। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের ১৩৩ রানের বিপরীতে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান তুলেছে। ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে তাদের এখনও ২৬৮ রান করতে হবে।
আসন্ন জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে জাপানের কাছে পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। ছেলেদের জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচে জাপানের কাছে ৬-২ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে যুবাদের।
চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল জাপান। খেলার মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এরপর দ্বিতীয় কোয়ার্টারে জাপান আরও দুবার লক্ষ্যভেদ করলে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ দল। বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে মেহেদী একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দেন। তবে আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে ওই একই কোয়ার্টারে একে একে আরও তিনটি গোল করে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিশ্চিত করে ফেলে জাপান। চতুর্থ কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে মুন্না বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করলেও তা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কিছুটা কমিয়েছে।
গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচে কেবল কাজাখস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় সেমিফাইনালের আগেই ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ দল। চলতি এশিয়া কাপের সেরা ছয়টি দলের আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য জুনিয়র বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ নির্ধারিত ছিল, যা বিগত আসরে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার জাপানের জয়ে তারা পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণে চীনের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট পেয়েছে, আর লাল-সবুজদের টুর্নামেন্টের সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার লড়তে হবে চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে।
ফিল্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি ক্যাচ হাতছাড়া এবং ব্যাটারদের মন্থর গতির ব্যাটিংয়ের খেসারত দিয়ে নারী এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ দল। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আসরের সেমিফাইনাল লড়াইয়ে শক্তিশালী ভারতের কাছে ৪০ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে টাইগ্রেসদের।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উদ্বোধনী ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়ে চমৎকার সূচনা এনে দেন বোলার সুলতানা খাতুন। তবে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। ওপেনার শেফালি ভার্মা দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রানের দৃঢ় ইনিংস খেলেন। এছাড়া প্রতিকা রাওয়ালের ২০, রিচা ঘোষের ২১ এবং ইনিংসের শেষদিকে অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌরের অপরাজিত ২৮ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় ভারত। বাংলাদেশের পক্ষে সুলতানা খাতুন ৩০ রানের বিনিময়ে ২টি এবং মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান প্রত্যেকে একটি করে উইকেট লাভ করেন।
জবাবে ১৫০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই রানের গতি বাড়াতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুহায়াইরা ফেরদৌস। দলীয় ২৬ রানে ১৮ বলে ১৪ রান করে জুহায়াইরা বিদায় নেওয়ার পর ২৬ বলে ২১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন দিলারাও। মিডল অর্ডারে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ১৭ বলে ১৯ ও সোবহানা মোস্তারি ২৪ বলে ১৮ রান করে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করলেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে দল চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। শেষদিকে স্বর্ণা আক্তারের ২২ এবং ফাহিমার ১৪ রান কেবল হারের ব্যবধানই সামান্য কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই আটকে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে দিপ্তি শর্মা একাই সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করে দলের জয় ও ফাইনাল নিশ্চিত করেন।
ঘরোয়া লা লিগায় গোলবন্যার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমেও উড়ন্ত সূচনা করেছে বার্সেলোনা। লিগে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতে পাঁচ গোল করার পর ইউরোপীয় মঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচেও ডাচ ক্লাব ফেনুর্দকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে কাতালানরা। শুরু থেকেই আক্রমণভাগে আধিপত্য বজায় রেখে একতরফা ম্যাচ উপহার দেয় হ্যান্সি ফ্লিকের দল।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক বার্সেলোনা। তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের বাড়ানো নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ এক বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। এরপর ম্যাচের ২২তম মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর তৈরি করা আক্রমণ থেকে ঠাণ্ডা মাথায় ফিনিশিং টেনে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদেয়েমি। প্রথমার্ধে ফেনুর্দ আটটি ফাউল করে বার্সার খেলার গতি থামানোর চেষ্টা করলেও স্বাগতিকদের রক্ষণে কোনো ভীতি ছড়াতে পারেনি এবং মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
বিরতির পরও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে বার্সেলোনা। খেলার ৫৭তম মিনিটে মিডফিল্ডার পেদ্রির চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। এরপর ৭৭তম মিনিটে ডি-বক্সের সামনে নিজেই ফাউলের শিকার হয়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে নিচু ও নিখুঁত শটে দুর্দান্ত গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন ইয়ামাল।
ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ধারার বিপরীতে এক গোল শোধ করে কিছুটা ব্যবধান কমায় ফেনুর্দ। বাম দিক থেকে গনসালো বোর্জেসের দ্রুতগতির ক্রস পেয়ে সফরকারীদের হয়ে বল জালে পাঠান স্টেইন। তবে এর মাত্র তিন মিনিট পরই অর্থাৎ ৮৫তম মিনিটে ইয়ামালের বাড়ানো চমৎকার ক্রস থেকে দূরবর্তী পোস্টে দারুণ হেডে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে দলের একাধিক খেলোয়াড়ের সমন্বিত নৈপুণ্যে ৫-১ ব্যবধানের সহজ জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
ঘরোয়া ফরাসি লিগে প্রথম তিন ম্যাচে জয়হীন থাকার হতাশা কাটিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। নিজেদের ঘরের মাঠ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে স্লোভাকিয়ার ক্লাব স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। পিএসজির জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেকেই নজরকাড়া হ্যাটট্রিক করেছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেস। এছাড়া উসমান দেম্বেলে জোড়া গোল এবং ফাবিয়ান রুইজ একটি গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই ৭২ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ও গোলের লক্ষ্যে ১৪টি শট নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখে টানা দুবারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। খেলার ১৬তম মিনিটে নুনো মেন্দেসের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার পর ফিরতি বলে চমৎকার ফিনিশিংয়ে পিএসজিকে এগিয়ে নেন উসমান দেম্বেলে। এর সাত মিনিট পর অর্থাৎ ২৩তম মিনিটে ম্যাঘনেস অ্যাকলিউচের ক্রস ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে আসলে কাছ থেকে নিখুঁত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করেন দেম্বেলে। এরপর ৩১তম মিনিটে দেম্বেলের পাস থেকেই পিএসজির হয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজের প্রথম গোলটি করে ব্যবধান ৩-০ করেন তোরেস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৪৭তম মিনিটে আবারও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে অ্যাকলিউচ কাটব্যাক করলে প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান তোরেস। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মেন্দেসের একটি প্রচেষ্টা অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও দুই মিনিট পর দেম্বেলের নেওয়া কর্নার থেকে দারুণ দক্ষতায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তোরেস। পাঁচ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের ধারার বিপরীতে ব্রাতিস্লাভার পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন সুলেমান কামারা।
খেলার ৬৪তম মিনিটে কোচ লুইস এনরিকে একযোগে তিনটি পরিবর্তন আনলে পিএসজির খেলার গতি কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। তবে ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হয়ে আসা বল জালে জড়িয়ে দলের ষষ্ঠ ও শেষ গোলটি করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশন অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে শুরু করল প্যারিসের ক্লাবটি।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয় দিয়ে শুভসূচনা করেছে প্রিমিয়ার লিগের দুই শীর্ষ দল আর্সেনাল ও লিভারপুল। ইতালি সফরে গিয়ে নাপোলির বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে গতবারের রানার্সআপ আর্সেনাল; দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। অন্যদিকে নিজেদের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে শুরুর ধাক্কা সামলে দিয়েগো সিমিওনের অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে লিভারপুল।
নাপোলির মাঠে পুরো ম্যাচজুড়েই বলের দখলে আধিপত্য দেখিয়েছে আর্সেনাল। ম্যাচে মোট ২৬টি শটের মধ্যে ৮টি লক্ষ্যে রাখলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতার কারণে দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি তারা। বুকায়ো সাকার বাইসাইকেল কিক ও মিকেল মেরিনোর জোরালো হেড প্রতিহত করে স্বাগতিকদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন নাপোলির গোলরক্ষক অ্যালেক্স মেরেত। অবশেষে ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ওডেগার্ড; ক্রিস্টোস জলিসের পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এরপর ননি মাদুয়েকে ও জলিস ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেন এবং ম্যাচের শেষভাগে নাপোলির হয়ে সমতা ফেরানোর ভালো সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন কেভিন ডি ব্রুইনা।
অন্যদিকে অ্যানফিল্ডে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে স্বাগতিক লিভারপুলকে স্তব্ধ করে দেন অ্যাতলেটিকোর স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্কোস লরেন্তে। ক্লাব ছাড়ার জটিলতায় থাকা হুলিয়ান আলভারেজের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে লরেন্তের করা ১০টি গোলের ৫টিই এলো লিভারপুলের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডের মাটিতে। পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণ বাড়ায় অলরেডসরা; আলেকজান্ডার ইসাকের সুযোগ নষ্ট ও আলভারেজের শট অ্যালিসন বেকার ঠেকানোর পর ৪০তম মিনিটে সমতায় ফেরে লিভারপুল। ব্র্যাডলি বারকোলার শট প্রতিহত হওয়ার পর রোনাল্দ আরাউহোর ব্যাক-হিল থেকে বল পেয়ে জাল খুঁজে নেন ডমিনিক সোবোজলাই।
বিরতির পর মাঠে নেমেই লিভারপুলকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার। ক্লাবের সঙ্গে নতুন চুক্তির প্রস্তাব না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করা এই মিডফিল্ডার ৫০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার শটে দলের জয়সূচক গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধে বারকোলা আরও একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন এবং শেষদিকে ইয়েরেমি ফ্রিমপংয়ের করা গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের অভিষেক ম্যাচেই বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর কার্যকর স্পিন আক্রমণ এবং অধিনায়ক ইমরান তাহিরের পাঁচ উইকেটের ওপর ভর করে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স। সেন্ট লুসিয়াকে মাত্র ১১৯ রানে অলআউট করার পর ৯ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা গায়ানা।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বিপাকে পড়ে সেন্ট লুসিয়া। ইনিংসের শুরুতে মাত্র ১৪ রানে ওপেনার টিম সেইফার্টকে হারানোর পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালালেও জন ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন মিরাজ। এরপর স্পিন সহায়ক পিচকে কাজে লাগিয়ে তিনি একে একে ক্যামল স্যাভরি ও চারিথ আসালাঙ্কাকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। সেন্ট লুসিয়ার হয়ে কামিল পুরানের ৩৫ বলে ৪৩ এবং ওবার পিয়েনারের ২৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংস ছাড়া আর কেউ উল্লেখযোগ্য রান পাননি। ফলে ১৮ দশমিক ৫ ওভারে ১১৯ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
বোলিংয়ে গায়ানার অধিনায়ক ৪৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ লেগস্পিনার ইমরান তাহির একাই ৫টি উইকেট শিকার করেন; ৪ ওভারে তিনি খরচ করেন মাত্র ১৭ রান। অন্যদিকে নিজের অভিষেক ম্যাচ রাঙিয়ে তুলতে মিরাজ ৪ ওভারের নিয়ন্ত্রিত স্পেলে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি মূল্যবান উইকেট।
১২০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গায়ানা শুরুতেই কিছু উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মিরাজ এদিন ব্যাটে সুবিধা করতে পারেননি; ৪ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হন তিনি। তবে মিডল অর্ডারে গ্লেন ফিলিপস ও কুইন্টিন স্যাম্পসন উভয়েই ৩৭ রান করে ইনিংস মেরামত করেন এবং দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৮ ম্যাচে ৭ জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সিপিএলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স।
আসন্ন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত সফরের জন্য ২৬ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে দল সাজিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ঘোষিত এই দলে রাফায়েল রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকাদের পাশাপাশি চোটের কারণে বিশ্বকাপ মিস করা এস্তেভাও এবং ওয়েসলিকে পুনরায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে স্কোয়াডে গোলবারের দায়িত্বে এবার কোনো অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে রাখা হয়নি।
দলের এই নতুন রূপরেখা প্রসঙ্গে কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, এই সফরটি মূলত তরুণ খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখার একটি বড় সুযোগ। ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় দলে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চাইছেন তিনি। নতুন খেলোয়াড়রা যেন আগামী দিনে নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের সুযোগ পান, সে কারণেই আসন্ন তিনটি প্রীতি ম্যাচকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে ব্রাজিল টিম ম্যানেজমেন্ট।
সফরের চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী, ব্রাজিল তাদের প্রীতি ম্যাচের মিশন শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া থেকে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচে মাঠে নামবে সেলেসাওরা। এর আগে ২০১৭ সালের জুনে মেলবোর্নে এই দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে ব্রাজিল ৪-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে ব্রাজিল দল পাড়ি জমাবে ভারতে। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার বিখ্যাত সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের জাতীয় দলের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবে তারা। ভারতে ব্রাজিলের বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে, যারা এই ম্যাচ ঘিরে ইতোমধ্যে উন্মাদনায় ভাসছে। এর আগে ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে মোহনবাগানের বিপক্ষে একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলেছিলেন।
স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব এলদেনসের মালিকানা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-কে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চুক্তিটি বর্তমানে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং এটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে স্পেনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে এলদেনসের মালিকানায় রয়েছে কলম্বিয়ান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রুপো টিএইচ’। এই বিনিয়োগকারী সংস্থাটির কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ফুটবল ক্লাবেও মালিকানা ও বিনিয়োগ রয়েছে। ৩৯ বছর বয়সী মেসির সঙ্গে চলমান এই চুক্তি সফল হলে ক্লাবটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্বের হাতে যাবে।
সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এলদেনসে হবে স্পেনে মেসির মালিকানাধীন দ্বিতীয় ফুটবল ক্লাব। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে বার্সেলোনা শহরের পঞ্চম বিভাগের দল কর্নেলার মালিকানা কিনেছিলেন তিনি। তবে কর্নেলা আধা-পেশাদার ক্লাব হওয়ায় স্পেনে প্রথম পূর্ণাঙ্গ পেশাদার ক্লাব হিসেবে এলদেনসেই মেসির প্রথম বড় বিনিয়োগ হতে যাচ্ছে। এছাড়া এর আগে বন্ধু ও ইন্টার মায়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে যৌথভাবে উরুগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএমের আংশিক শেয়ার কিনেছিলেন তিনি।
১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাব এলদেনসে তাদের ক্লাব ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়ই স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ দুই বিভাগের বাইরে কাটিয়েছে। ১৯৬৪ সালের পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৩ সালে দলটি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে দলটি অবনমিত হয়ে বর্তমানে স্পেনের তৃতীয় বিভাগে খেলছে। ক্লাবটি এলদা শহরে অবস্থিত ৫ হাজার ৭৭৬ দর্শক ধারণক্ষমতার ‘নুয়েভো পেপিকো আমাত’ স্টেডিয়ামকে নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে রিয়ালের হয়ে গোল দুটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ফেডেরিকো ভালভার্দে। নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমে রিয়ালের ডাগআউটে নতুন মেয়াদে ইউরোপিয়ান অভিযানের দারুণ সূচনা করলেন পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনিয়ো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ। খেলার ১৪তম মিনিটে ইন্টারের রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলকে কাজে লাগিয়ে প্রথম গোল আদায় করে নেয় তারা। ইন্টারের কার্টিস জোন্সের একটি দুর্বল পাসের কারণে ডিফেন্ডার ইয়ান বিসেক চাপে পড়লে বল কেড়ে নিয়ে এমবাপ্পের উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে দেন ব্রাহিম দিয়াজ। বল পেয়েই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ইন্টারের আরেকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগায় রিয়াল। ইন্টারের গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজ বক্সের ভেতরে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেরি করলে উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ফেদে ভালভার্দে দ্রুত গতিতে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। মার্তিনেজ বল বিপদমুক্ত করার আগেই তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ফাঁকা জালে ঠেলে দেন ভালভার্দে। এর ফলে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলের সুবিধাজনক লিড পায় লস ব্লাঙ্কোসরা।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রিস্টিয়ান কিভুর শিষ্যরা। ধারাবাহিক আক্রমণের পর ৭৭তম মিনিটে ব্যবধান কমায় ইন্টার। লাউতারো মার্তিনেজের চমৎকার ক্রস থেকে জোরালো শটে রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন কার্লোস অগাস্টো। ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে ইন্টার একের পর এক আক্রমণ চালালেও কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় তা ভেস্তে যায়। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে হেনরিখ মখিতারিয়ানের নিশ্চিত একটি গোলমুখী শট ফিরিয়ে দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন বেলজিয়ান এই গোলরক্ষক।
ঘরোয়া ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ২০২৬-২৭ মৌসুম আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিংবা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও বিসিবি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ডিপিএলের সময়সূচি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাধারণত প্রতি বছর মার্চ বা এপ্রিলের দিকে ডিপিএল শুরু হয়ে থাকে। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে লিগটির পরবর্তী আসর মাঠে গড়াবে, যা শেষ হবে একই বছরের ৭ এপ্রিল। টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো আয়োজনের জন্য ঢাকার পাঁচটি ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়া বা শিডিউল বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত আরও একটি বিকল্প ভেন্যু প্রস্তুত রাখা হবে।
আসন্ন আসরকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য আর্থিক অনুদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। নতুন মৌসুমে বিসিবি থেকে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলকে ২৫ লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে। অতীতে ক্লাবগুলো অংশগ্রহণ বাবদ ১৫ লাখ টাকা করে পেয়ে আসছিল, যা এবার একলাফে ১০ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হলো।
এদিকে ডিপিএল মাঠে গড়ানোর আগেই ঘরোয়া ক্রিকেটের নিচের স্তরের অন্যান্য আসরগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে দলগুলোর কোয়ালিফাইং বা বাছাই পর্বের খেলা। এরপর প্রথম বিভাগ ও প্রথম বিভাগ টি-টোয়েন্টি এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্রতিযোগিতা শেষেই ফেব্রুয়ারিতে ডিপিএল শুরু হবে এবং ডিপিএল সমাপ্তির পর মাঠে গড়াবে তৃতীয় বিভাগের খেলা।
২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয়ের দৌড়ে অনেকের বিবেচনাতেই শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। আগামী মাসে ইংল্যান্ডের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের সেরা ফুটবলার নির্বাচনের জমকালো এই আয়োজন। এই পুরস্কার জিতলে কেইনের সামনে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে প্রথমবার বর্ষসেরা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম এবং ফুটবল ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের গৌরব অর্জন করবেন তিনি। কেইনের পাশাপাশি ইংল্যান্ড দল থেকে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন জুড বেলিংহাম ও ডেকলান রাইস।
তবে কেইনের জন্য ব্যালন ডি’অর জয়ের পথটি একেবারেই সহজ নয়। এই পুরস্কারের অন্যতম শীর্ষ দাবিদার হিসেবে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন কিলিয়ান এমবাপে, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি এবং রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা লিওনেল মেসি। এছাড়া পুরস্কারটির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উসমান দেম্বেলেও রয়েছেন এই লড়াইয়ের সামনের সারিতে।
গত মৌসুমে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন হ্যারি কেইন। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২টি গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে, যার মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের মাত্র ১১ ম্যাচে করেছেন ১৫টি গোল। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় দারুণ ছন্দে ছিলেন তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল; তিনি ২৮ ম্যাচে ১৬টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১২টি গোল। এছাড়া পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতাতে প্রধান ভূমিকা রাখা এবং বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের কারণে দেম্বেলেও জোরালো অবস্থানে রয়েছেন।
ব্যালন ডি’অর নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, পরিসংখ্যানের ধারাবাহিকতা এবং দলীয় ট্রফি জয়ের হিসাব অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়ে থাকে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কেইন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও এমবাপে, ইয়ামাল, দেম্বেলে ও রদ্রির মতো তারকাদের কড়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম নির্ধারিত হবে লন্ডনের মঞ্চে।