শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আরেকদফা পাকিস্তানের সমালোচনায় শহীদ আফ্রিদি

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৫ ২৩:২০

সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ বিপর্যের মধ্যে পড়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেট। পরিবর্তন, রদবদল; কোনো কিছুতেই মিলছে না, কোনো সমাধান। এমন অবস্থায় নিজ দেশের ক্রিকেটের পরিবর্তন আনতে কখনো সমালোচনা আবার কখনো পরিকল্পনা বাতিয়ে দিচ্ছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। সেই তালিকায় আছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। আরেকদফা পিসিবির সমালোচনা করেছেন তিনি।

বর্তমানে নিউজিল্যান্ড সফরে আছে পাকিস্তান দল। এরই মধ্যে পরপর দুটি টি-টোয়েন্টিতে পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান দল। ম্যান ইন গ্রীনদের এমন পারফরম্যান্সে ভীষণ হতাশ শহীদ আফ্রিদি। এমন ব্যর্থতার পেছনে দল নির্বাচনকে দায় দিচ্ছেন তিনি। দেশটির সাবেক অধিনায়কের মতে, কন্ডিশন বিবেচনায় দল গড়তে পারেনি পাকিস্তান।

অভিজ্ঞ বাবর আজম ও নিয়মিত অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বাদ দিয়ে সফরে গিয়ে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ কিছুই করতে পারেনি পাকিস্তান। একটি অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় পাকিস্তান দলের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেন আফ্রিদি। প্রশ্ন তোলেন চলতি সিরিজের দল নির্বাচন নিয়েও।

তিনি বলেন, ‘কেবল ১০-১১ ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের তারা পাঠিয়েছে। যেখানে স্পিনারদের প্রয়োজন ছিল, তারা পেসার বেছে নিয়েছে।’

পাকিস্তান জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের এখন অফ-স্পিন খেলা শেখাচ্ছেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ ইউসুফ। যা দৃষ্টিকটু লাগছে আফ্রিদির কাছে। তার ভাষায়, ‘পাকিস্তান দলের এই পর্যায়ে এটা শেখানো উচিত নয়।’

বাবর, রিজওয়ানদের দলের বাইরে রাখাকে অবশ্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন আফ্রিদি। সাবেক এই অলরাউন্ডারের মতে, চাপ কমানোর জন্য হলেও বিরতি প্রয়োজন যেকোনো ক্রিকেটারের, ‘ক্রিকেটারদের বিরতি দেওয়া প্রয়োজন, হোক সে বাবর আজম কিংবা অন্য কেউ।’

পেসার মোহাম্মদ হাসনাইন ও কিপার ব্যাটসম্যান উসমান খানকে না খেলানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রিদি। পাকিস্তান দলের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি, ‘সবাই আফ্রিদির মতো খেলার চেষ্টা করছে। কেউ প্রতি ম্যাচে ২০০ রান করতে পারে না।’


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তা, বিসিবির নিন্দা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ জুন, ২০২৬ ১১:১৯
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
জানা গেছে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ খেলে বিমানযোগে চট্টগ্রাম পৌঁছান নাঈম। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখানবাজার এলাকায় তার গতিরোধ করা হয়। নাঈম হাসানের অভিযোগ, সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ও পুলিশ সদস্যরা তাকে অটোরিকশা থেকে জোর করে নামিয়ে নিজেদের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, গলা টিপে ধরা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার পর চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগী নাঈম হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, "আমি পুলিশকে ব্যাগ তল্লাশি করার অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আমার গলা চেপে ধরা হয় এবং মারধর করা হয়। স্থানীয়রা আমাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা শোনেনি।"
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, "আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নাঈম হাসান অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ ধরনের আচরণে আমাদের 'জিরো টলারেন্স'। কারণ এর সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তি জড়িত।" তিনি আরও জানান, চোরাচালান সংক্রান্ত একটি তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের ওপর এমন অমানবিক আচরণের ঘটনায় শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। বিসিবি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছে।"

বিসিবি আরও জানিয়েছে, তারা নাঈম হাসান ও তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে চট্টগ্রাম প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের একজন কৃতি অ্যাথলেটের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধের দাবিতে কানাডায় বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা নতুন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে টরন্টো স্টেডিয়ামের কাছে এক দল বিক্ষোভকারী ইসরায়েলের সঙ্গে ফিফার সম্পর্কের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ব্যস্ততম গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বিশ্বকাপের একটি আনুষ্ঠানিক লোগো সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়ে সেখানে ‘ফিফা থেকে ইসরায়েলকে বের করে দাও’ লেখা একটি বিশাল ব্যানার ঝুলিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।

এই বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা ফিফার নেতৃত্বের কাছে একটি অত্যন্ত জোরালো ও সরাসরি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র ফয়সাল ইব্রাহিম ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নৃশংস কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ফিফাকে এতে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত করেন। তিনি জানান, অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিয়মিত ম্যাচ আয়োজন করলেও ফিফা শুধু চোখ বন্ধ করেই রাখেনি, বরং সক্রিয়ভাবে সেসব ম্যাচ সম্প্রচারও করে যাচ্ছে। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের আরেকটি অন্যতম দাবি ছিল ২০২৪ সালের শেষের দিকে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কর্তৃক আটককৃত বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়ার দ্রুত মুক্তি।

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ববর্তী এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত মার্চ মাসে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে (পশ্চিম তীর) খেলা চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে তারা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরের অমীমাংসিত আইনি অবস্থার কথা উল্লেখ করে ফিফা তখন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ফিফার এমন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক স্তরে ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ মানবাধিকার কর্মীদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার ফলে সেখানে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ ও অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরাও ইতিমধ্যেই ফিফা ও উয়েফার কাছে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন। এমতাবস্থায়, চলমান বিশ্বকাপের মঞ্চকে কেন্দ্র করে টরন্টোর রাস্তায় এই বিক্ষোভ ফিফার ওপর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছে।


নির্বাচিত

প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উড়ন্ত সূচনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

সহ-স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠে দারুণ জয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ডি’-এর প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনী করে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে তারা। ফোলারিন বালোগানের জোড়া গোল, একটি আত্মঘাতী গোল এবং শেষ মুহূর্তে জিওভানি রেইনার দৃষ্টিনন্দন ফিনিশিংয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করেছে প্রধান কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা।

সোফি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে স্বাগতিকেরা। খেলার মাত্র সপ্তম মিনিটেই সেই আধিপত্যের প্রতিফলন ঘটে, যখন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিংয়ের পর ওয়েস্টন ম্যাককেনির কাটব্যাক ঠেকাতে গিয়ে বল নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। এর মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম আত্মঘাতী গোলের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন তিনি। ম্যাচের ২৮ মিনিটে পুলিসিকের পাস থেকে বালোগান বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে ভিএআরে (VAR) তা বাতিল হয়। তবে তিন মিনিট পরেই অর্থাৎ ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের রক্ষণচেরা পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন বালোগান। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে (৪৫+৫ মিনিট) মালিক টিলম্যানের থ্রু-পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন বালোগান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হয়। ৫০তম মিনিটে প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড মিগুয়েল আলমিরনকে ফাউল করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টিম রিমকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো স্পর্শ ছাড়াই আলমিরন ডাইভ দিয়েছিলেন; ফলে রিমের কার্ড বাতিল করে ডাইভিংয়ের দায়ে উল্টো আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে ব্যবধান কিছুটা কমায় প্যারাগুয়ে। গোলরক্ষকের লম্বা পাস থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে এনসিসোর বাড়ানো বল ধরে বদলি খেলোয়াড় মাউরিসিও চমৎকার এক কোনাকুনি শটে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন।

তবে ম্যাচে প্যারাগুয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা বেশি দূর এগোতে দেয়নি স্বাগতিকেরা। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে অতিরিক্ত সময়ে ফ্রিম্যানের নিখুঁত পাস থেকে ডি-বক্সের প্রান্তে বল নিয়ন্ত্রণে নেন জিওভানি রেইনা। এরপর দারুণ এক বাঁকানো শটে প্যারাগুয়ের জালে বল জড়িয়ে দলের ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ঘরের মাঠে অনবদ্য এই জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের শুরুতেই গ্রুপ পর্বের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করল পচেত্তিনোর দল।


নির্বাচিত

উদ্বোধনী ম্যাচেই ইংল্যান্ডের রেকর্ড, পাত্তাই পেল না শ্রীলঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার আড়ালে বেশ নিভৃতেই শুরু হয়েছে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে বিশ্ব ক্রিকেটে শোরগোল ফেলে দিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড নারী দল। বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে লঙ্কান মেয়েদের কোনো পাত্তাই দেয়নি ইংলিশরা। শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে ১ উইকেটে ২১৯ রানের পাহাড় গড়ে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে আসরে শুভ সূচনা করেছে ইংল্যান্ড।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১ উইকেটে ২১৯ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো দলের জন্য সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালের আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ২১৩ রানের রেকর্ডটিও ছিল ইংলিশ মেয়েদের দখলে। আজ নিজেদের সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তারা। ইংল্যান্ডের এই রেকর্ড রান পাহাড়ের মূল কারিগর ছিলেন দুই ওপেনার অ্যামি জোন্স ও ড্যানি ওয়াট। জোন্স ৫৩ রান করে আউট হলেও, অন্যপ্রান্তে অপরাজিত ১০৫ রানের বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরি ইনিংস খেলেন ম্যাচসেরা ড্যানি ওয়াট। এছাড়া অধিনায়ক নাটালি সিভার ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে বড় পুঁজি এনে দিতে সহায়তা করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে একমাত্র উইকেটটি নেন মাদারা।

রেকর্ড রান তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা নারী দল। ইংলিশ বোলাদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের মুখে লঙ্কান ব্যাটাররা কোনো বড় জুটি গড়তে পারেননি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন নিলাকশিকা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান আসে সামারাবিক্রমার ব্যাট থেকে। বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ১৩২ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে মাত্র ২২ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন ফ্রেইয়া কেম্প। এছাড়া সোফি একলেস্টোন ও চার্লি ডিন দুটি করে উইকেট নিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

প্রথম ম্যাচেই ৮৭ রানের বিশাল জয় এবং টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে ট্রফি জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রথম দিনেই প্রমাণ করেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ফুটবল বিশ্বকাপের মাতাল হাওয়ার মাঝেও ইংলিশ মেয়েদের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রতি ক্রীড়াপ্রেমীদের নতুন করে আকর্ষিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

মিরাজকে নিয়েই শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপরই হাসপাতালে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে। হাসপাতাল থেকে অবশ্য আজ শুক্রবার বাসায় ফিরেছেন মাথায় আঘাত পাওয়া মিরাজ। আর তাকে নিয়েই শেষ ওয়ানডের জন্য দল ঘোষণা করেছে বিসিবি।

গতকাল মাথায় আঘাত নিয়েই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মিরাজ। সতর্কতার স্বার্থে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। দুইবার স্ক্যান করানো হলেও সেখানে খারাপ কিছু ধরা পড়েনি। ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকার পর বাসায় ফিরেছেন মিরাজ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল।

বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘মিরাজ বাসায় ফিরেছে। ১২ ঘণ্টার মতো পর্যবেক্ষণে ছিল। তার মাথায় একটা বাউন্সারে আঘাত লেগেছিল, তারপর একটু বমি হয়। যেটা কিছুটা চিন্তার ছিল। এরপরও সে খেলা চালিয়ে যায়। খেলার পর দ্রুতই বিসিবির ডাক্তার, ফিজিওরা সিদ্ধান্ত নেন তাকে এভারকেয়ারে পাঠানো হবে।’

দুই ম্যাচ জিতে ইতোমধ্যে ২-০ তে ঐতিহাসিক সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য তাদের।

তৃতীয় ওয়ানডের জন্য বাংলাদেশের দল-

মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানা।


নির্বাচিত

নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় ধরনের ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য তারকা নেইমার জুনিয়রকে ছাড়াই প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামতে হচ্ছে সেলেসাওদের। পেশির চোট কাটিয়ে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হতে না পারায় বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোর ৪টার এই ম্যাচে নেইমারের খেলা হচ্ছে না। তবে স্বস্তির খবর হলো, বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে থাকা নেইমার দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং আগামী সপ্তাহেই তাঁর দলীয় অনুশীলনে ফেরার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের মাঠে ফেরার গুরুত্ব এবং তাঁর অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নেইমার মাঠে ফেরার জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং ড্রেসিংরুম ও মাঠ—উভয় জায়গায় তাঁর অনস্বীকার্য কারিগরি দক্ষতা ও নেতৃত্ব দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ মরক্কোকে নিয়ে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আনচেলত্তি। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টদের সমীহ করে তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে কোনো দলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই এবং মরক্কো প্রতিটি বিভাগেই মানসম্পন্ন খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি দল।

মরক্কোর শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয় পেতে ব্রাজিল তাদের সেট-পিস কৌশলের ওপর আলাদা গুরুত্ব আরোপ করেছে। কোচ আনচেলত্তি মনে করিয়ে দেন যে, আধুনিক ফুটবলের প্রায় ৩০ শতাংশ গোলই আসে সেট-পিস থেকে। ব্রাজিলের স্কোয়াডে নিখুঁত কর্নার নেওয়ার মতো স্পেশালিস্ট ও দক্ষ হেডার থাকার কারণে এই ম্যাচে সেই সুযোগটি সম্পূর্ণ কাজে লাগাতে চায় দল। এছাড়া মাঠের খেলায় ফুটবলারদের স্বাভাবিক ছন্দ ও গোল উদযাপনের চিরাচরিত নাচ নিয়েও নিজের ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন ব্রাজিলীয় কোচ।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের চাপ ও ভয় সামলানো প্রসঙ্গে কিছুটা দার্শনিক ঢঙে কোচের বক্তব্য ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। তিনি মনে করেন, ভয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা মানুষকে সতর্ক রাখতে সাহায্য করে এবং ম্যাচ নিয়ে মনে কিছুটা উদ্বেগ থাকা খেলোয়াড়দের মাঠে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে উদ্বুদ্ধ করে। তাছাড়া, এবারের টুর্নামেন্টে স্পেনকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার মনে করলেও কোনো একক দলকে ফেবারিট মানতে নারাজ এই ইতালিয়ান কোচ। তাঁর মতে, এবারের আসরটি হবে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ, যেখানে অনেক দলেরই শেষ পর্যন্ত লড়াই করার এবং শিরোপা জেতার সমান সুযোগ রয়েছে।


নির্বাচিত

পয়েন্ট ভাগাভাগি করে বিশ্বকাপ শুরু কানাডা ও বসনিয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম হোম ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছেড়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক কানাডা। টরন্টোর স্টেডিয়ামে হাজার হাজার চেনা দর্শকের উপস্থিতিতে জয় দিয়ে মাঠ রাঙাতে না পারলেও, প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর চমৎকার এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে স্বাগতিকেরা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার হয়ে জোভো লুকিচ প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও, শেষ দিকে কাইল লারিনের গোলে ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জেসি মার্শের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও বল দখলের লড়াইয়ে কানাডা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, তবে ট্যাকটিক্যাল কাউন্টার অ্যাটাকে কানাডিয়ান ডিফেন্সকে বেশ ভালোই ব্যস্ত রেখেছিল বসনিয়ার ফরোয়ার্ডরা। খেলার ১৭তম মিনিটে কানাডার তারকা ফরোয়ার্ড জোনাথান ডেভিডের একটি সহজ সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয় স্বাগতিকদের। এর ঠিক তিন মিনিট পর অর্থাৎ ২১তম মিনিটে বসনিয়ার একটি নিচু ও নিখুঁত কর্নার কিক থেকে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় কানাডার রক্ষণভাগ। সেই সুযোগে ওত পেতে থাকা ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচ নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং ১-০-তে দলকে বিরতিতে নিয়ে যান।

এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে অল-আউট অ্যাটাকে যায় কানাডা। বিশেষ করে ম্যাচের গতি ও আক্রমণের ধার বাড়াতে ৬০তম মিনিটে কোচ জেসি মার্শ আক্রমণভাগে একাধিক কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। অবশেষে ম্যাচের কাঙ্ক্ষিত ৭৭তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত; ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক আক্রমণ থেকে বল পান বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। বসনিয়ার ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে নিখুঁত এক কোনাকুনি শটে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি তিনি, যা পুরো টরন্টো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।

ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরার পর শেষ দিকে জয়সূচক গোলের জন্য দুই দলই বেশ কয়েকটি তীব্র আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চালায়। তবে শেষ মূহূর্তে বসনিয়ার রক্ষণভাগ এবং কানাডার গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল হয়নি। ফলে গ্রুপ ‘বি’র এই গুরুত্বপূর্ণ প্রথম লড়াইয়ে ১-১ গোলের সমতা ও পয়েন্ট ভাগাভাগির মধ্য দিয়েই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ শেষ করে দুই দল।


নির্বাচিত

বিশ্বকাপ রাঙাতে সম্পূর্ণ ফিট এমিলিয়ানো মার্তিনেস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দলটির আস্থার অন্যতম স্তম্ভ, গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস আঙুলের চোট সারিয়ে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় চিকিৎসকরা তাকে মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত বলে ছাড়পত্র দিয়েছেন।

গত কয়েক দিন ধরে এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের চোট নিয়ে আলবিসেলেস্তে শিবিরে এক ধরনের উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। তবে চিকিৎসকদের ইতিবাচক বার্তার পর সেই শঙ্কার মেঘ কেটে গেছে। দলের চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও তাকে ম্যাচ খেলার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ বছর বয়সী এই অতন্দ্র প্রহরী প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সময়ের মধ্যে চোট কাটিয়ে উঠেছেন। ফলে বিশ্বমঞ্চের শুরু থেকেই তাকে শুরুর একাদশে পাওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী কোচ লিওনেল স্কালোনি ও তার সহকারীরা।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে মার্তিনেসের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বিশেষ করে নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার অতিমানবীয় সেভ এবং টাইব্রেকারের নৈপুণ্য দলকে ট্রফি জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে শেষ মুহূর্তের সেই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসে আজও অমলিন।

বিশ্বকাপের মতো মেগা আসরের আগে মার্তিনেসের সুস্থতা আর্জেন্টাইন শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। গোলপোস্টের নিচে প্রধান ভরসাকে ফিরে পাওয়ায় স্কালোনির দল এখন অনেকটাই নির্ভার হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে পারছে।


নির্বাচিত

মরক্কোর বিশ্বকাপ মিশনে ইনজুরির হানা, ব্রাজিল ম্যাচের আগে ছিটকে গেলেন দুই তারকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো শিবির। চোটের কারণে নিজেদের স্কোয়াডে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটি। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উইঙ্গার আবদে এজালজুলি এবং রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী নায়েফ অগার্ড ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।

রিয়াল বেটিসের ফরোয়ার্ড এজালজুলি গত সপ্তাহে নরওয়ের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে গিয়ে হাঁটুর চোটে পড়েন। ফিফার হালনাগাদ করা খেলোয়াড় তালিকা অনুযায়ী, তার পরিবর্তে মরক্কো দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এ্যাঙ্গার্সের ফুটবলার আমিনে সাবাইকে।

অন্যদিকে, মার্সেইর সেন্টার-ব্যাক নায়েফ অগার্ডের ঊরুর অস্ত্রোপচার হয়েছিল গত মার্চ মাসে, এরপর থেকে তিনি আর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরতে পারেননি। আসন্ন আসরে তাকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিতেই এই ডিফেন্ডারকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেছে মরক্কো। অগার্ডের শূন্যস্থান পূরণে দলে ডাক পেয়েছেন মারওয়ানে সাদানে।

দলের এই পরিবর্তন নিয়ে মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি তার দুই সতীর্থের ছিটকে যাওয়ার ঘটনায় আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিএসজি তারকা হাকিমি লিখেছেন, ‘ফুটবল অনেক সময় নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রথম দিন থেকে তুমি দলকে যা দিয়েছো তার জন্য ধন্যবাদ। আমরা সবাই তোমাদের জন্য লড়াই করবো। আমরা তোমাদের ভালোবাসি।’

আগামী শনিবার দিবাগত রাতে নিউ জার্সিতে গ্রুপ-সি’র হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে মরক্কো।


নির্বাচিত

১৬ বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের শিরোপা পুনরুদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অন্তিম রাউন্ডের লড়াই শুক্রবার মাঠে গড়িয়েছিল। শিরোপার দৌড়ে টিকে ছিল তিনটি শক্তিশালী দল, যেখানে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ ছিল বেশ কঠিন। শিরোপা জিততে তাদের নিজেদের জয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পরাজয়। বৃষ্টির বাগড়া দেওয়া দিনে নাটকীয়ভাবে নিজেদের ম্যাচে জয় তুলে নেয় মোহামেডান, আর অন্যদিকে হেরে যায় প্রাইম ব্যাংক।

এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় অর্থাৎ ১৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করল মোহামেডান। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি এর আগে সর্বশেষ ২০০৯-১০ মৌসুমে শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল। সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে এটি তাদের দশম শিরোপা জয়।

বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে লিগের শেষ দিনে আবাহনী লিমিটেডের মুখোমুখি হয়ে নির্ধারিত ওভারে ৪০৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে মোহামেডান। জবাবে আবাহনী ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান সংগ্রহ করার পর বজ্রপাত ও প্রবল বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি আর চালানো সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে মোহামেডানকে ৬৩ রানে জয়ী ঘোষণা করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।

একই সময়ে পাশের মাঠে ঢাকা লেপার্ডসের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামে শিরোপাপ্রত্যাশী অন্য দল প্রাইম ব্যাংক। তারা প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান সংগ্রহ করে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লেপার্ডস ২৯.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪২ রান তোলার পর আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে পড়লে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষার পর ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে লেপার্ডসকে ৮ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

লিগের ১১টি ম্যাচ শেষে ৯টি জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করে মোহামেডান। অন্যদিকে সমান ৮টি করে জয় নিয়ে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ের (হেড টু হেড) সমীকরণে এগিয়ে থাকায় রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে আবাহনী।

দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘১৬ বছর পর!! হ্যাঁ, দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আমার খুব ইচ্ছে ছিল এখন দলের সঙ্গে থাকার। আমি ওদের খুব মিস করছি, মিস করছি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উদযাপন আর অবশ্যই মিস করছি ট্রফিটা। দলের অধিনায়ক হিসেবে আমি ওদের জন্য অত্যন্ত গর্বিত, ওদের জন্য অনেক আনন্দিত এবং আনন্দের এই মুহূর্তে আমিও দূর থেকে ওদের সাথেই চোখে জল ফেলছি। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সকল ভক্ত-সমর্থকদের অনেক অনেক অভিনন্দন.. ।‘

এদিকে ক্লাবের এই অনন্য অর্জনে মোহামেডান তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেজে এক বার্তায় জানিয়েছে, ‘অত্যন্ত আনন্দ ও উল্লাসের সাথে জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ২০২৫-২০২৬ সিজনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডকে পরাজিত করে একটি গৌরবময় চ্যাম্পিয়নশিপ জয় অর্জন করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা, সমর্থক ও সম্মানিত সদস্যদের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।’


নির্বাচিত

ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, অ্যালিসন হতে চান ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বাধিকবার অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়ার চেয়ে নিজ দেশ ব্রাজিলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন দলটির অতন্দ্র প্রহরী অ্যালিসন বেকার। নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগে এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে ট্রফিজয়ী দলের অংশ হওয়াটাই তার কাছে বড় স্বপ্ন।

এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও সেলেসাওদের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন লিভারপুলের এই ৩৩ বছর বয়সী তারকা। যেখানে তিনি ব্রাজিলের বর্তমান অবস্থা ও লক্ষ্য নিয়ে আলোকপাত করেন।

চলমান বিশ্বকাপ নিয়ে করা বিভিন্ন জরিপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স কিংবা স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে রাখা হলেও ব্রাজিলকে নিয়ে আলোচনা কিছুটা স্তিমিত। এই বিষয়টি নিয়ে অ্যালিসন বলেন, ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হওয়া কোনো নিশ্চয়তা নয়। বরং এটি দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। আসল বিষয় হলো, প্রথম ম্যাচের সময় আপনি কতটা প্রস্তুত। আমরা প্রস্তুত।

চোটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরে থাকলেও বিশ্বকাপের আগে নিজেকে সম্পূর্ণ ফিট দাবি করেছেন এই গোলরক্ষক। আগামী ১৪ জুন নিউজার্সির মাঠে মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বসেরারা।

ব্রাজিলের গোলরক্ষক হিসেবে তিনটি বা তার বেশি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে রেকর্ডের পাতায় নাম লেখানোর হাতছানি রয়েছে তার সামনে। তবে রেকর্ড নিয়ে নির্লিপ্ত অ্যালিসন তার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি বরং আরেকটি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হতে চাই।’

বাছাইপর্বের বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন তিনি। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে থেকে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করা ব্রাজিল বর্তমানে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন উদ্দীপনায় খেলছে। কোচের প্রশংসা করে অ্যালিসন জানান, শেষ বাছাইপর্ব আমাদের জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু আনচেলত্তি আসার পরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। তার উপস্থিতি দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।

আসন্ন টুর্নামেন্টে রক্ষণভাগকে আরও সুসংহত করতে কোচ আনচেলত্তি বিশেষ কাজ করছেন বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে অ্যালিসন বলেন, কিছু গোল আমরা এড়াতে পারতাম। এসব বিষয় নিয়েই কাজ করছি। বিশ্বকাপ ছোট পরিসরের টুর্নামেন্ট। আমরা জানি, আমাদের দলে এমন মানের খেলোয়াড় রয়েছে যারা সুযোগ তৈরি করতে এবং গোল করতে সক্ষম।


নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন কেন উইলিয়ামসন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসের সফলতম ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন ১৬ বছরের এক দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলার ইতি টেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। কিউইদের হয়ে সর্বাধিক রানের মালিক হিসেবেই তিনি তার ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি ঘটালেন।

৩৫ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটার নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে সর্বমোট ৩৭৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৯,৩৪৬ রান, যার মধ্যে ৪৮টি সেঞ্চুরি এবং ৬টি ডাবল সেঞ্চুরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মাঠে ব্যাটের জাদুই নয়, দল পরিচালনায়ও উইলিয়ামসন ছিলেন অবিস্মরণীয়। ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কিউইরা দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল ও তিনটি সেমিফাইনাল খেলার পাশাপাশি ২০২১ সালে প্রথম আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করে।

বিদায়বেলায় উইলিয়ামসন জানান, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম। গত কয়েক দিনে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে এখনই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি আমার সবসময়ই প্রবল আবেগ ও ক্ষুধা ছিল। নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে নিজের শর্তেই বিদায় নিতে পারছি। এই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী। এখানে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে এবং তারা বিশেষ কিছু অর্জনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

ব্ল্যাকক্যাপসদের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার তার বিদায়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘কেন (উইলিয়ামসন) শুধু একজন অসাধারণ ক্রিকেটারই নন, তিনি একজন অসাধারণ মানুষও। তার পরিসংখ্যানই তার দক্ষতার প্রমাণ দেয়, তবে দলের সংস্কৃতি ও মানদণ্ড গড়ে তুলতে তার অবদানই হবে তার প্রকৃত উত্তরাধিকার।’

উইলিয়ামসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার রিচার্ড হ্যাডলি মন্তব্য করেন, ‘তিনি ছিলেন একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় ও অনুকরণীয় নেতা। নিজের খেলাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে তিনি সবসময় কঠোর পরিশ্রম করেছেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের অন্যতম স্থপতি তিনি।’

ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় উইলিয়ামসন ২০১৫ সালে আইসিসি ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার এবং ২০১৯ সালে আইসিসি টেস্ট ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সম্মানজনক পদক ‘স্যার রিচার্ড হ্যাডলি মেডেল’ তিনি রেকর্ড চারবার নিজের করে নিয়েছেন।

অবসরের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান টেস্ট সিরিজে উইলিয়ামসনকে আর খেলতে দেখা যাবে না। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড শিগগিরই তার স্থলাভিষিক্ত খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করবে।


নির্বাচিত

না ফেরার দেশে ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ব্রিতো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ক্রীড়া ডেস্ক

ব্রাজিল ফুটবলের সোনালি যুগের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ব্রিতো। মৃত্যুকালে এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডারের বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই মহান ফুটবলারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ব্রাজিলের রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ব্রিতো ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৬১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ১৯৬৬ এবং ১৯৭০—টানা দুটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশেষ করে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে উইলসন পিয়াজার সঙ্গে মিলে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ, যা ব্রাজিলকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্বকাপ ছাড়াও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৯৭১ সালে কোপা রোকা এবং ১৯৭২ সালে তাসা ইন্ডিপেনদেন্সিয়া শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি।
ব্রিতোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিবিএফ সভাপতি সামির জাউদ। শোকবার্তায় তিনি বলেন, “ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে ব্রিতো আমাদের ছেড়ে গেলেন। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ জয়ে তার অবদান ফুটবল বিশ্ব চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। তার লড়াকু মানসিকতা ও নিবেদন নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
ব্রাজিল ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষী ছিলেন ব্রিতো। তার প্রয়াণে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার ফুটবলীয় দক্ষতা ও বীরত্বের কথা স্মরণে রাখবে।


নির্বাচিত

banner close